বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে এক ধাপ পিছিয়ে ১০২ নম্বর নেমেছে বাংলাদেশের অবস্থান। লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রকাশিত সূচকে এ তথ্য উঠে এসেছে। ১৯ বছরের নথির ভিত্তিতে প্রতি বছর হেনলি পাসপোর্ট সূচক প্রকাশিত হয়। নথির ভিত্তিতে ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট নিয়ে এই সূচক তৈরি করা হয়।
এ সূচক তৈরির সময় পৃথিবীর ২২৭টি গন্তব্যে যেতে পারার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। যে দেশের পাসপোর্টধারীরা বিনা ভিসায় সব থেকে বেশি দেশে যাতায়াত করতে পারে, সে দেশের পাসপোর্ট তত শক্তিশালী। বর্তমানে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা অগ্রিম ভিসা ছাড়া ৪২ দেশে ভ্রমণ করতে পারেন।
ভিসা ছাড়া বাংলাদেশিরা যেতে পারবেন যেসব দেশে
অগ্রিম ভিসা না নিয়েও বিশ্বের ৪২টি দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা। এরপর দেশটিতে প্রবেশের আগে বিমানবন্দরে, নৌবন্দর কিংবা স্থলবন্দরে নিয়ে নেওয়া যাবে দেশগুলোর ভিসা। এই দেশগুলো হলো- ভুটান, কম্বোডিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পূর্ব তিমুর, বলিভিয়া, বুরুন্ডি, কেপ ভার্দে, কমোরো দ্বীপপুঞ্জ, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, লেসোথো, মাদাগাস্কার, মৌরিতানিয়া, মোজাম্বিক, রুয়ান্ডা, সেশেলস, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, গাম্বিয়া, টোগো, কেনিয়া, বাহামা ও বার্বাডোস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, ডমিনিকা, গ্রানাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, মন্টসেরাত, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাউন, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, কুক আইল্যান্ড, ফিজি, মাইক্রোনেশিয়া, নুউয়ে, সামোয়া, টুভালু, ভানুয়াতু এবং কিরিবাতিতে।
নতুন সূচকে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে ছয়টি দেশের পাসপোর্ট। এই ৬টি দেশ হচ্ছে: ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, সিঙ্গাপুর ও স্পেন। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা ১৯৪ দেশে আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারবেন।
এদিকে নতুন সূচকে কিছুটা দুর্বল হয়েছে ভারতের পাসপোর্ট। তালিকায় ৮৫তম স্থান পেয়েছে ভারতের পাসপোর্ট। অন্যদিকে, আগের বছরের মতো এবারও ১০৬তম স্থানে রয়েছে পাকিস্তানি পাসপোর্ট।
তবে, দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ মালদ্বীপ কিন্তু আগের মতোই সূচকে ৫৮তম স্থানে রয়েছে। মালদ্বীপের পাসপোর্টধারীরা পৃথিবীর ৯৬ দেশে ভিসা ছাড়া যাতায়াত করতে পারবেন।
বাংলাদেশ পুলিশের ১৬ জন ডিআইজি ও একজন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।
রোববার (৩ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তারা বিধি অনুযায়ী অবসর সুবিধা পাবেন। জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।
এমপি হিসেবে এনসিপির নুসরাতের গেজেট প্রকাশ না করার আবেদন মনিরার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম ও মনিরা শারমিন
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের গেজেট প্রকাশ না করার আবেদন জানানো হয়েছে। রোববার (৩ মে) রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া এক চিঠিতে এই আবেদন জানিয়েছেন দলটির আরেক নেত্রী মনিরা শারমিন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া চিঠিতে মনিরা শারমিন উল্লেখ করেন, তার দায়ের করা রিট পিটিশনের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নুসরাত তাবাসসুমকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা উচিত হবে না। অন্যথায় তিনি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন।
চিঠিতে তিনি বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর তার মনোনয়নপত্র প্রথমে বাতিল করা হয় এবং পরে আপিলও খারিজ হয়ে যায়। এ অবস্থায় তিনি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন, যার শুনানির দিন নির্ধারিত রয়েছে ৪ মে। তাই আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের অপেক্ষা করা উচিত বলে তিনি মনে করেন।
অন্যদিকে, নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র প্রথমে গ্রহণ না করা হলেও আদালতের নির্দেশে তা বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, মনিরা শারমিনের রিটের রায় অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আদালত যদি তার পক্ষে রায় দেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট আসনে ভোটগ্রহণ হতে পারে। আর রিট খারিজ হলে নুসরাত তাবাসসুমই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য হিসেবে চূড়ান্ত হবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের ৪৯ প্রার্থী এরই মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও এই আসনটি নিয়ে আইনি জটিলতা এখনো কাটেনি।
ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এখন থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা সিসি ক্যামেরার ভিডিও ও স্থিরচিত্রের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা হচ্ছে। ডিএমপির ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই অপরাধগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিক ও চালকদের ঠিকানায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে (অটো জেনারেটেড) নোটিশ পাঠানো শুরু হয়েছে। মূলত ঢাকা শহরের যানজট নিরসন এবং সড়ক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই এই ডিজিটাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনারের সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্বয়ংক্রিয় নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ বা হাজিরা না দিলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা নোটিশ পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে উপস্থিত হবেন না, তাদের বিরুদ্ধে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে আদালতের সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কার্যক্রম সম্প্রতি শুরু হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতেই এই বিচারিক প্রক্রিয়া কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। বর্তমানে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল ও ক্রসিংগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্বলিত উন্নতমানের সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এই ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে লাল বাতি অমান্য করা, স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, যত্রতত্র যাত্রী উঠানো-নামানো এবং লেফট লেন ব্লক করার মতো অপরাধে ডিজিটাল প্রসিকিউশন বা মামলা করা হচ্ছে। এছাড়া রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধেও এই পদ্ধতিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে সিসি ক্যামেরার মামলার নাম ব্যবহার করে আর্থিক জালিয়াতি বা প্রতারণার বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, স্বয়ংক্রিয় নোটিশের বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে জরিমানা পরিশোধের নামে আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কোনো অসাধু চক্র যদি সিসি ক্যামেরা মামলার নাম দিয়ে অর্থ দাবির চেষ্টা করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা অথবা ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেবল বৈধ সরকারি পন্থায় এবং ট্রাফিক বিভাগে সশরীরে হাজির হয়েই জরিমানা পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
ডিএমপির এই নতুন উদ্যোগটি নগরবাসীর যাতায়াতে স্বস্তি ফেরাতে এবং উন্নত নাগরিক সেবা দিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের সরাসরি উপস্থিতি ছাড়াও দিনরাত ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল নজরদারি নিশ্চিত হবে, যা চালকদের আইন মানতে বাধ্য করবে। প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়াকে বেগবান করায় ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে এক নতুন যুগের সূচনা হলো। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ মহানগরীর সড়ক ব্যবস্থাকে আরও শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে পর্যায়ক্রমে পুরো শহরকে এই উন্নত নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৬ মে চাঁদপুর যাচ্ছেন। রোববার (৩মে) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যাহ সেলিম।
খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে সম্ভাব্য বিভিন্ন ভেন্যু পরিদর্শন করেছেন সংসদ সদস্যসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে প্রস্তুতি সভা, প্রচার কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতার আগমনকে ঘিরে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, সফরকালে তারেক রহমান খাল খনন প্রকল্প, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন। এছাড়া তিনি সুধী সমাবেশ ও একটি বিশাল জনসভায় যোগ দেবেন।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১৬ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাঁদপুর আসবেন। তিনি খাল খননসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ৬৮০ জন বাসিন্দার জন্য এই ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট সলিম উল্যাহ সেলিম বলেন, জনসভার স্থান চাঁদপুর স্টেডিয়ামে হওয়ার জন্য আমরা প্রস্তাবনা কেন্দ্র পাঠিয়েছি। যাছাই-বাছাই জনসভার স্থান নির্ধারত করা হবে। তবে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক জেলার শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এর আগে ২০০৪ সালে তারেক রহমান চাঁদপুর সফরে এসেছিলেন।
৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়েই সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (৩ মে) দুপুরে রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে চারদিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল অর্থনীতির সময় দায়িত্ব নিয়েছে বর্তমান সরকার। আড়াই মাসে কিছুটা পরিস্থিতিরি উন্নতি হলেও তা এখনও সন্তোষজনক না। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের রেখে যাওয়া ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়েই সরকার কাজ শুরু করেছে।”
ডিসিদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক সামাজিক অবস্থা আপনারা জানেন। তাই দেশকে বন্যা ও খরা থেকে বাঁচাতে ভূমিকা রাখবেন। সততা, মেধা ও দক্ষতাই সরকাররে নীতি। এসব দেখেই পদন্নতি বা বদলি করবে সরকার, এটাই বিএনপির নীতি।”
জুলাই সনদের প্রতিটি দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান সরকার প্রধান।
এর আগে, আজ সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
ডিসি সম্মেলনে যোগ দিতে সকাল ১০ টা ২০ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ সচিবালয়ের নিজ দফতর থেকে হেঁটে ওসমানী মিলনায়তনে আসেন তারেক রহমান। এ সময় রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
হামের উপসর্গ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এছাড়াও একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এক হাজার ১৭০টি শিশু ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১৫টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।
চলতি বছর এ পর্যন্ত হামে ৪৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২৩১টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা গেছে মোট ৩৮ হাজার ৩০১টি শিশুর মধ্যে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৬ হাজার ১০০ শিশু। তাদের মধ্যে ৫ হাজার ১৪৬ জনের হাম শনাক্ত হয়। আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগীর সংখ্যা ২২ হাজার ৬৫০।
জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সরঞ্জামকে ডাকাতির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব অস্ত্র–সরঞ্জামসহ দুজনকে আটকের পর এ তথ্য জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সংস্থাটি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দুটি হাতকড়া গত ৫ আগস্ট থানা থেকে লুট হওয়া। তবে কোন থানার সেটি নির্দিষ্ট করতে পারেনি তারা।
গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ডেমরার মেন্দিপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। গ্রেপ্তাররা হলেন—চক্রের ‘হোতা’ মো. আলামিন ওরফে মোটা আলামিন ও তাঁর সহযোগী মো. রায়হান।
শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, দুজনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, একটি মাইক্রোবাস, ভুয়া নম্বরপ্লেট, র্যাবের জ্যাকেট, হাতকড়া, ওয়াকিটকি, স্টিকারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দুটি হাতকড়া গত ৫ আগস্ট থানা থেকে লুট হওয়া।
র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরে হ্যান্ডকাপ, ওয়াকিটকি ও পিস্তল দেখিয়ে দীর্ঘদিন ডাকাতি করে আসছিল চক্রটি। তারা যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাস থামিয়ে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে আসছিল। কখনো র্যাব, পুলিশ আবার কখনো যৌথবাহিনীর পরিচয়ে অভিযানের নামে ডাকাতি করত তারা।
কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, ‘আলামিন এই চক্রের অন্যতম নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি, চুরি ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। ২০২৩ সালে কেরানীগঞ্জে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে র্যাব পরিচয়ে ৭১ লাখ টাকা লুটের ঘটনায়ও সে আসামি।’
র্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, ২০২৫ সালের মে মাসে ডাকাতি মামলায় র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হলেও জামিনে বেরিয়ে আবারও অপরাধে জড়ায় আলামিন। তার বিরুদ্ধে ঢাকার খিলগাঁও, কেরানীগঞ্জ, মুগদা, টাঙ্গাইল জেলা সদর থানা এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ডাকাতি, চুরি এবং অস্ত্র মামলাসহ মোট ৮টি মামলার তথ্য পেয়েছে র্যাব।
গ্রেপ্তার রায়হান পেশায় চালক হলেও ডাকাত দলের ‘গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী’ হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। তিনি ডাকাতির জন্য যানবাহন সরবরাহ, রুট নির্ধারণ এবং পালানোর পরিকল্পনায় ভূমিকা রাখতেন বলে জানায় র্যাব।
রাজধানীর মিরপুরের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৮৩টি ল্যাপটপ গায়েব হয়েছে বলে জানা গেছে। গত শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শনিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা বোরকা পরা এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দায়িত্বরত আনসার সদস্য আনোয়ারুল হঠাৎ নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুনের ধোঁয়া দেখে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আইয়ুব আলীকে খবর দেন। আইয়ুব আলী ঘটনাটি মোবাইলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার অফিস সহকারী এমাম হোসেনকে জানালে তিনি ৯৯৯ এ ফোন করে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এক পর্যায়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ অন্য কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন। তারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখেন ঘটনার দিন রাত ২টার দিকে বোরকা পরা এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার অস্থায়ী স্টোররুমের তালা কৌশলে খুলে কিছু মালামাল ও ল্যাপটপ নিয়ে যাচ্ছে। অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তি ৫ বার ওই কক্ষটিতে প্রবেশ করে। যাওয়ার সময় তিনি কক্ষটিতে আগুন ধরিয়ে সটকে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করে দেখা যায়, ৭৩৫টি ল্যাপটপের মধ্যে ৪৫০টি ভালো অবস্থায়, ৩৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত, ২৯টি অধিক মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১৪০টি সম্পূর্ণ পোড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকি ৮৩টি ল্যাপটপ পাওয়া যায়নি।
বিএনপি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় গেলেও দেশের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করে চলছে বলে দাবি করেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব সময় বলছেন—সবার আগে বাংলাদেশ। এটা বলেই তিনি শুরু করেছেন, বাংলাদেশে এসে প্রথম দিনই বলেছেন ‘‘সবার আগে বাংলাদেশ’’। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি, সেই চুক্তিটা দেখাচ্ছে যে সরকার “সবার আগে যুক্তরাষ্ট্র” এই নীতি অনুযায়ী চলছে।’
বিএনপি সরকারের আড়াই মাসের কাজের মূল্যায়নে শনিবার গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি আয়োজিত এক সভায় এ কথা বলেন আনু মুহাম্মদ।
শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় সভাপ্রধান ছিলেন তিনি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি এবং তার ধারাবাহিকতায় বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িং থেকে ১৪ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি দিকে ইঙ্গিত করে দুটি সরকারেরই সমালোচনা করেন আনু মুহাম্মদ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, ‘এই চুক্তি স্বাক্ষরের অনেক আগে থেকে এর বাস্তবায়ন শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এলএনজি আমদানির চুক্তি হলো। পত্রপত্রিকায় খবর এসেছিল, এলএনজি আমদানির বিষয়ে পেট্রোবাংলা কিছু জানে না। এই চুক্তি করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী। তখন বিমান কেনার ব্যাপারেও একটা বোঝাপড়া হয়েছিল, যা বিমান জানত না। এখন নির্বাচিত সরকারের সময়ও একই ঘটনাই ঘটছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তিকে ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী অবিশ্বাস্য চুক্তি’ আখ্যা দেন তিনি। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তি সইয়ে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পাশাপাশি উৎসাহী ছিলেন তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
খলিলুর রহমানকে বিএনপির সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা এবং বিডায় আশিক চৌধুরীকে রেখে দেওয়া নিয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘এই চুক্তির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। অথচ তাদের রেখে দিয়ে আরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে ৬ মে থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে পারে নয়াদিল্লি। এমনটা হলে ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তিতে দীর্ঘ সময়ের অচলাবস্থার অবসান ঘটবে।
শনিবার (০২ এপ্রিল) দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের এক প্রশাসনিক কর্তার বরাতে এমনটা জানা গেছে ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্তা জানান, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি মাসেই চালু হতে পারে পর্যটক ভিসা। তবে এই ব্যাপারে শেষ সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর।
ওই কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং এ নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও কাজ করছে। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর ওই কমিটির নেতৃত্বে। তিনি দ্রুত সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পক্ষে মত দিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের প্রতিবেদনের ওপরও সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করছে।
এ সম্ভাবনার খবরে কলকাতার পার্ক স্ট্রিট ও ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, বাংলাদেশি পর্যটক ফিরে এলে আবারও ব্যবসা ঘুরে দাঁড়াবে।
এর আগে ৭ এপ্রিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারত সফর করেন। সফরে ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করার বিষয়ে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন।
চার দিন ব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন-২০২৬ শুরু হবে আগামীকাল রবিবার (৩ মে) থেকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মেলন উদ্বোধন করবেন।
এবারের সম্মেলনে ৩৪টি কার্য অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৩ মে থেকে ৬ মে ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে এ সম্মেলনের অধিবেশনগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজনের সার্বিক বিষয় নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাছিমুল গনি।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম এই ডিসি সম্মেলন এবার অধিক গুরুত্ব পাবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানিয়েছেন, সরকার কৃচ্ছতা সাধনের অংশ হিসেবে এবছর সম্মেলনে ৭১ লাখ টাকা বাজেট ধরা হয়েছে, যা গত বছরও এক কোটির বেশি খরচ হয়েছিলো।
এবারের সম্মেলনে এক হাজার ৭২৯টি বিষয়ে প্রস্তাবনা থাকলেও ৪৯৮টি প্রস্তাবনা কার্য তালিকায় স্থান পেয়েছে বলে জানান তিনি।
চার দিনের নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতির ও স্পিকারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের সঙ্গে একাধিক সেশন ও সাক্ষাৎ অনুষ্ঠান থাকবে।
আর পাঁচটা দিনের থেকে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের আজকের চিত্রটা একেবারেই আলাদা। সুনসান স্টেডিয়াম যেন হঠাৎই জেগে উঠেছে। কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারি, মাঠে খুদে ক্রীড়াবিদদের চমকপ্রদ ক্রীড়া প্রদর্শনী; নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্ক পাহাড়া আর সংবাদকর্মীদের অবিরাম ব্যস্ততা। সব আয়োজন এক উপলক্ষ্য ঘিরে—নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা।
আজ বিকেল ৫টা ৮ মিনিটে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিভা অন্বেষণের এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সারা দেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলোতেও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন খুদে ক্রীড়াবিদরা।
শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণে ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল নতুন কুঁড়ির। বাংলাদেশ টেলিভিশনের আশির দশকের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক প্রতিভা উঠে এসে শিল্প অঙ্গনে। বহু বছর পর সেই পরিচিত নাম আবার ফিরে এসেছে, তবে এবার মঞ্চ নয়, সবুজ মাঠ-গালিচায়। যাত্রা শুরু হলো নতুন এক স্বপ্ন- ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’এর।
আগামী দিনের তারকাদের উৎসাহ জানাতে ঢাকা থেকে ছুটে এসেছেন বিভিন্ন বিভাগের দেশসেরা ৩২ জন খেলোয়াড়। একেকজন একেক খেলার প্রতিনিধি–কেউ খেলেন ক্রিকেট, কেউবা ফুটবল কিংবা কাবাডি। আজ সবাই এক প্ল্যাটফর্মে। আগামীর তারকা খুঁজে বের করতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ‘ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর’ হয়ে এসেছেন তারা।
সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় ইশতেহারে রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন সরকার সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে দেশসেরা খেলোয়াড়দের মাঝে ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছেন অ্যাথলেটরা।
আজ সিলেটে গণমাধ্যমকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক যেমনটা বলছিলেন, নির্বাচনের আগেই ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রী স্পোর্টসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। দেশ গড়ার পরিকল্পনার অন্যতম অংশ ছিল স্পোর্টস। ইশতেহার বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। সরকার ইতিমধ্যে ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়াভাতা চালু করেছে।
উদ্বোধনী ভেন্যু হিসেবে ঢাকার পরিবর্তে সিলেটকে বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে খোদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনা। এ প্রসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা থেকে আমরা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস শুরু করব কি না এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম। উনি বললেন, ‘আমাকে ঢাকায় রাইখো না। ঢাকার বাহিরে নিয়ে যাও। সবসময় ঢাকা থেকে শুরু করা হয়। আমি চাই এটা ঢাকার বাহিরে থেকে শুরু হোক।’ তারই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা সিলেট থেকে শুরু করছি।”
প্রসঙ্গত, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের নিয়ে মোট ৮টি জনপ্রিয় ইভেন্টে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। খেলাগুলো প্রথমে শুরু হবে উপজেলা পর্যায়ে। সেখান থেকে বিজয়ীরা জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় হয়ে সবশেষে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেবে। ১৩-২২শে মে’র মধ্যে শেষ হবে আঞ্চলিক পর্বের খেলা।
পুরো বাংলাদেশকে ১০টি শক্তিশালী অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। সেগুলো হলো ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। এসব অঞ্চলের মধ্যে বিভিন্ন জেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি পর্যায়ে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক ও বাস্তবায়ন কমিটি পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করছে, যাতে কোনো মেধা অবমূল্যায়িত না হয়।
ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টনের প্রতিটি পর্যায়ে নকআউট পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। দাবায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সুইস লিগ পদ্ধতিতে খেলা হবে। ব্যক্তিগত ইভেন্ট অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্টের ক্ষেত্রে প্রাথমিক বাছাই (হিট/নকআউট) এবং ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণ করা হবে। প্রতিযোগিতায় একজন খেলোয়াড় সর্বোচ্চ দুটি খেলায় অংশ নিতে পারবে।
রেজিষ্ট্রেশনের জন্য খুব অল্প সময় থাকা সত্ত্বেও সারা দেশ থেকে গত ১২-২৬ এপ্রিল ডেডলাইন পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতায় আট ইভেন্টের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৯৩ জন প্রতিযোগী। এরমধ্যে ছেলে ১ লাখ ২০ হাজার ৯৪৯ জন, মেয়ে ৪৬ হাজার ৭৪৪ জন। ঢাকা অঞ্চল থেকে সবচেয়ে বেশি ২৫ হাজার ৩৮৭ জন প্রতিযোগী রেজিস্ট্রেশন করেছেন। সবচেয়ে কম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে ময়মনসিংহ অঞ্চলে। সেখানে ৭ হাজার ৯৬৬ জন রেজিস্ট্রেশন করেছেন।
সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনীত সংসদ সদস্যদের শপথ রোববার (৩ মে) অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার (২ মে) এই তথ্য জানিয়েছে সংসদ সচিবালয়।
জানা গেছে, রোববার (৩ মে) রাত ৯টায় এই শপথ অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী সংরক্ষিত আসনের জন্য বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ৩৬ জন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট থেকে মনোনীত হয়েছে ১৩ জন এবং স্বতন্ত্র থেকে ১ জন মনোনীত হয়েছেন।
বিএনপি জোটের বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোসা. ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুন রায় চৌধুরী, জীবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবিবা, মোছা. সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার (ঠাকুর), শামীম আরা বেগম স্বপ্না, মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, মোছা. সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, মোছা. সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মার্মা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।
জামায়াতের মনোনীত প্রার্থীরা হলেন—মহিলা জামায়াত সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, মানবসম্পদ ও আইন বিভাগের সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবিকুন নাহার মুন্নি, নাজমুন্নাহার নিলু এবং প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ। অঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধিত্বে চট্টগ্রাম থেকে মেরিনা সুলতানা, সিলেট থেকে মাহফুজা খানম এবং বগুড়া থেকে সাজেদা সামাদ রয়েছেন। এছাড়া জুলাই শহীদ জারিফ আব্দুল্লাহর মা রোকেয়া বেগমকেও জামায়াতের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের তালিকায় রাখা হয়েছে।
অপরদিকে জামায়াতের ছেড়ে দেওয়া তিনটি আসনে এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু, জাগপা সভাপতি তাসমিয়া প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবা করিমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন নুসরাত তাবাসসুম।