প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বাংলাদেশের বিশাল সামুদ্রিক এলাকা থেকে ‘সামুদ্রিক সম্পদ’ আহরণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা যে সামুদ্রিক এলাকাগুলো অর্জন করেছি সেখান থেকে আমাদের সামুদ্রিক সম্পদ আহরণ করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি ব্লু ইকোনমির ঘোষণা বাস্তবায়িত হবে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আমাদের বিশাল সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবহার করতে হবে।’
শেখ হাসিনা আজ সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ‘দ্য টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট, ১৯৭৪’ আইন প্রণয়নের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
তিনি বলেন, “আমাদের সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের ক্ষেত্রে আমরা সতর্ক থাকব এবং আমাদের পররাষ্ট্র নীতি ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’ অনুসরণ করে সমুদ্রপথে ব্যবসা ও বাণিজ্য চালিয়ে যাব।”
সরকারপ্রধান বলেন, “আমরা ২০১২ এবং ২০১৪ সালে মিয়ানমার ও ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তি করেছি। ‘টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস এন্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট ১৯৭৪’ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই ক্রমধারা বজায় থাকবে বলে আমি মনে করি।”
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার অক্লান্ত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমুদ্র বিজয় করে এবং আমরা বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করতে সক্ষম হই।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সমুদ্রে যে সম্ভাবনাময় সুবিশাল একটি অর্থনৈতিক এলাকা পেলাম তা আমাদের দেশের অর্থনীতিতে অনেক অবদান রাখবে। কাজেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শিতা এবং বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ জাতীয় উন্নয়নের সূচকে আজ বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি আজকের এই দিনে যে সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই সেমিনার সামুদ্রিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার এবং সমুদ্রকে নিরাপদ ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে ‘টেরিটোরিয়াল ওয়াটারস এন্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট ১৯৭৪’ এর মূলনীতি দেশের সমুদ্র কেন্দ্রিক সকল সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গোপসাগর হচ্ছে ভারত মহাসাগরের একটা অংশ। প্রাচীনকাল থেকে এই অঞ্চল দিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য চলমান।’
তিনি বলেন, ‘ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল দেশগুলো বাংলাদেশ এবং আমাদের প্রতিবেশী দেশ -একটা কথা আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে এই অঞ্চলটা কিন্তু খুব নিরাপদ। এখানে কারো সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্ব নেই এবং সেই প্রাচীনকাল থেকে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য এ অঞ্চলটা খুব গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। এই সামুদ্রিক পথ আমাদের সকল দেশ সমানভাবে ব্যবহার করছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চলছে। কোনরকম দ্বন্দ্ব এই অঞ্চলে তৈরি হয়নি।’
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা সব সময় এটাই চাইবো যে আমাদের এই অঞ্চলকে ঘিরে যে ব্যবসা-বাণিজ্য চলে সেটা যেন কখনো সংঘাতপূর্ণ না হয় বা এখানে কোনো দ্বন্দ্বের সৃষ্টি না হয়। এটা যেভাবে শান্তিপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ হিসেবে চলমান রয়েছে সেভাবেই যেন সামনের দিনগুলোতেও চলমান থাকে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের অঞ্চল যেটুকু আমরা অর্জন করেছি সেখানে সমুদ্র সম্পদ আহরণ করা এবং আমাদের অর্থনীতিতে অর্থাৎ যে ‘ব্লু ইকোনমি’ আমরা ঘোষণা দিয়েছি সেখানে তা অত্যন্ত কার্যকর হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। ইতোমধ্যে আমরা একটি ইনস্টিটিউশনও তৈরি করেছি গবেষণার জন্য। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। কাজেই ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, এবং কারো সঙ্গে যে বৈরিতা নয়’ এই নীতিই আমরা মেনে চলবো। এই পররাষ্ট্র নীতি ধারণ করেই সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখেই আমাদের সমুদ্র সম্পদ আহরণ ও আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য যেন সব সময় চলমান থাকে সে ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট সজাগ থাকবো।”
ঢাকায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সিভিল এভিয়েশন একাডেমির উদ্যোগে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) প্রণীত ট্রেনিং ইনস্ট্রাক্টরস কোর্সের (টিআইসি) সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) বেবিচকের সদর দপ্তরের অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বেবিচকের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নিয়োজিত ২৪ জন কর্মকর্তা সফলভাবে টিআইসি কোর্স সম্পন্ন করে সনদ গ্রহণ করেন। আয়োজকেরা জানান, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষক তৈরির মাধ্যমে দেশের এভিয়েশন খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালক প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী ‘ওভারভিউ অব এভিয়েশন ট্রেনিং’ শীর্ষক উপস্থাপনায় আইকাওর গ্লোবাল এভিয়েশন ট্রেনিং (জিএটি), ট্রেইনএয়ার প্লাস প্রোগ্রাম, প্রশিক্ষণের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথি ছিলেন বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা, কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়নসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনবল প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সিভিল এভিয়েশন একাডেমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, একাডেমি বর্তমানে ‘রুলস অব দ্য এয়ার’ এবং ‘এরোড্রোম অপারেশনস ফর এটিসিওস’ নামে দুটি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কোর্স উন্নয়নের কাজ করছে। এসব কোর্স ভবিষ্যতে বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট, এভিয়েশন সিকিউরিটি, এরোড্রোম অপারেশনস ও রেসকিউ অ্যান্ড ফায়ার ফাইটিংসহ বিভিন্ন খাতে প্রশিক্ষণ চাহিদা মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সিমুলেশন, মাঠপর্যায়ের অনুশীলন ও পারফরম্যান্স মূল্যায়নের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের প্রশিক্ষণ নিরাপত্তা ও দক্ষতা বাড়াবে।
সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালক প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী বলেন, কোর্স সম্পন্নকারী কর্মকর্তারা এখন আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষক হিসেবে সক্ষমতা-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ পরিচালনা করতে পারবেন। জব টাস্ক অ্যানালাইসিস ও ট্রেনিং নিড অ্যাসেসমেন্টের ভিত্তিতে একাডেমিকে আঞ্চলিক উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে বেবিচকের সদস্য, পরিচালক, উপপরিচালক, সহকারী পরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও নাগরিকবান্ধব করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন করেছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ভূমি ভবনে একটি বাটন প্রেসের মাধ্যমে দেশব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। এই মেলা আগামী ২১ মে পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় অনুষ্ঠিত হবে। এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ভূমি এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’।
উদ্বোধনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী ভূমি ভবনের বিভিন্ন স্টল ও সেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কল সেন্টার, নাগরিক সেবা কেন্দ্র এবং ডে-কেয়ার সেন্টারের কার্যক্রম সরেজমিনে দেখেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকদের কাছে নতুন ডিজিটাল ভূমি সেবাসমূহকে পরিচিত করানো, তাঁদের এ সম্পর্কে সচেতন করা এবং প্রান্তিক পর্যায়েও সেবাগুলো পৌঁছে দেওয়া।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতীতে ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে দীর্ঘসূত্রতা, হয়রানি ও দুর্নীতির নেতিবাচক ধারণা প্রচলিত ছিল, বর্তমান সরকার অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে তা দূর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই মেলার মাধ্যমে নাগরিকরা ঘরে বসেই ই-নামজারি, খতিয়ান সংগ্রহ এবং অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা সম্পর্কে সরাসরি জানতে ও গ্রহণ করতে পারবেন। উদ্বোধনের পর ভূমি মন্ত্রণালয়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম তাঁর সংক্ষিপ্ত ওয়াশিংটন সফরে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী গবেষণা সংস্থার নেতৃবৃন্দের সাথে অত্যন্ত ব্যস্ত ও ফলপ্রসূ সময় অতিবাহিত করেছেন। সোমবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের (ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট) উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) এবং আটলান্টিক কাউন্সিলের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে পৃথকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি মার্কিন ব্যুরো অব সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স (এসসিএ)-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সারেন।
বৈঠকগুলোতে শামা ওবায়েদ বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি ও সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘নিরপেক্ষ সুষ্ঠু ও সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে। দীর্ঘ বছর পর বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বে পেয়েছে।’ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসা এই সরকারের উন্নয়ন নীতি এবং বিদেশ নীতি সম্পর্কে তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হয়েছে। পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে সম্পর্ক ক্রমশ জোরদার হচ্ছে।’
সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান বা নীতির ব্যাখ্যা দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষাই তাঁদের মূল অগ্রাধিকার। এ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘বিএনপি সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার নীতি খুব পরিষ্কার। যে কোনো কিছুতে প্রথমে এবং সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ। বাংলাদেশের মানুষের কাছে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। এই অবস্থান থেকে বিএনপি সরকার কখনও সরে যাবে না।’ তাঁর এই সফরের মধ্য দিয়ে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার ব্যবসায়িক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার উদ্দেশে চালু হওয়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচি ‘মিড-ডে মিল’ আজ গভীর প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে। যে উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল শিশুদের সুস্বাস্থ্য, ক্লাসে মনোযোগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা, সেই উদ্যোগই এখন ঢাকা পড়ে গেছে অনিয়মের চাদরে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক দুর্নীতি, নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ আর প্রকাশ্য অর্থ লুটপাটের অভিযোগে তীব্রভাবে বিতর্কিত হয়ে উঠেছে এই প্রকল্প। পুষ্টির আড়ালে চলা এই বিশৃঙ্খলার আদ্যোপান্ত নিয়ে দৈনিক বাংলার বিশেষ প্রতিবেদন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কতিপয় অসাধু ঠিকাদারের (খাবার সরবরাহকারী) কারণে ভালো এই উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। এর বাইরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা প্রশাসনেরও গাফিলতি রয়েছে। স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা ডিম, রুটি ও অন্য খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। কোথাও পচা বা অখাদ্য ডিম, কোথাও শক্ত ও নিম্নমানের রুটি, আবার কোথাও নির্ধারিত পুষ্টিমান না মেনে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
বর্তমানে ১৫০ উপজেলায় বাস্তবায়িত এই কর্মসূচির তিন বছরের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ ১ হাজার ৯২ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছর থেকে আরও ৩৪৮ উপজেলায় এটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এতে মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।
দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ ১৮ হাজারের বেশি। এর মধ্যে সরকারি ৬৫ হাজার ৫৬৭টি। মোট শিক্ষার্থী ২ কোটি ১ লাখের বেশি। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ে ১ কোটি ৬ লাখের বেশি। ২০২৪ সালে ঝরে পড়ার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশে, যা ২০২৩ সালে ছিল ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ।
সময়োপযোগী উদ্যোগ: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি শুধু উপস্থিতি বাড়ায় না, শেখার ফলাফল উন্নত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য তিনি সরকারকে সাধুবাদ জানান। তবে খাবারের মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। যেহেতু স্থানীয় পর্যায়ে পণ্য কিনতে হয়, তাই কোনো সিন্ডিকেটের কবলে যেন না পড়ে, তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। তদারকির ক্ষেত্রে মায়েদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। এই কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণ করা উচিত।
মান নিয়ে অভিযোগ: সরকারি দামে বরাদ্দ বেশি হলেও কোথাও কোথাও ১৪-১৫ টাকায় বানরুটি কেনা হয়। ডিম অনেক আগে থেকেই সেদ্ধ করে রাখা হয়। আবার কলা কাঁচা বা পচাও থাকে।
তালতলী (বরগুনা) : তালতলী উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের শিশু শিক্ষার্থীদের পচা ডিম ও রুটি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার বিরুদ্ধে। এতে শিশু শিক্ষার্থীর মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া এবং শিক্ষায় অগ্রগতি মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ ওই সংস্থা ডিম, রুটি ও কলা সরবরাহ শুরু করেন। কিন্তু শুরুতেই কাঁচা কলা, পচা ডিম ও রুটি সরবরাহের অভিযোগ ওঠে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুদিনের রুটি একসঙ্গে বিদ্যালয়ে দিয়ে যান। মেয়াদ থাকলেও ওই রুটি পচা। এছাড়া কাটা ডিম সরবরাহ করলেও ওই ডিমের মধ্য থেকে অধিকাংশ ডিম পচা। সিদ্ধ করার সময় পচা ডিম ধরা না পরলেও শিশুরা যখন খেতে শুরু করে তখন দুর্গন্ধ বেড়িয়ে আসে। তখন এগুলো খাওয়ার উপযোগী থাকে না।
সরদারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইয়াসিন ও মারিয়া জানান, ডিম ও রুটি পচা। খাওয়ার উপযোগী না, তাই ফেলে দিয়েছি।
তারা আরও বলেন, আমরা তো ডিম, রুটি ও কলা সরকারের কাছে খেতে চাইনি। যখন দিয়েছে তা পচা হবে কেনো?
ছাতনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, পচা ডিম ও রুটি না খেয়ে ফেলে দিয়েছি।
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) : স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্কুলে পৌঁছানো হয়েছিল পচা ও কাঁচা কলা। ফলে উপজেলার অধিকাংশ স্কুল এসব কলা ফিরিয়ে দিয়েছে। মার্চ মাসে পচা ও কাঁচা কলার ছবি–ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়। ফলে প্রায় বিদ্যালয়ে বিস্কুট পেলেও সেদিন কলা পায়নি শিক্ষার্থীরা। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, ৮-১০টি স্কুলে এ সমস্যা হয়েছে।
এদিকে, নরসিংদীতে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে মিড-ডে মিলের খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। গত ২৫ এপ্রিল নরসিংদী শহরের বাসাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন তিনি। ওই সময় বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের খাবারের মান পর্যবেক্ষণ করেন এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ঘুরে দেখেন। খাবারের মান নিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি সতর্ক করেন, মানোন্নয়ন না হলে কার্যাদেশ বাতিল করা হতে পারে।
পরিদর্শনের সময় শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা বানরুটিতে অস্বাভাবিক গন্ধ সন্দেহ হওয়ায় দুটি নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
তখন সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী জানান, সারাদেশে মিড-ডে মিলের মান পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যাতে শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবারে কোনো ত্রুটি না থাকে এবং তারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে উৎসাহিত হয়।
একইদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের চাতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল খেয়ে আবার ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও শিক্ষা কর্মকর্তা। অভিভাবকদের অভিযোগ, সম্প্রতি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে বেশ কয়েকবার শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে।
বাপ্পি রায়হান নামের এক অভিভাবক জানান, তার সন্তান ২২ এপ্রিল বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল খেয়ে অসুস্থ হওয়ার পর থেকে বাড়িতে রয়েছে। একই খাবার খেয়ে পরে আরও ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে বলে শুনেছি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিনের মতো ২৫ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে তাদের পাউরুটি, দুধ, কলা ও ডিম বিতরণ করা হয়। এগুলো খাওয়ার কিছুক্ষণ পর একে একে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের বমি, তীব্র পেটব্যথা, মাথা ঘোরা ও চোখে জ্বালাপোড়া শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে স্কুলে গিয়ে দেখি- চারদিকে শুধু শিশুদের আহাজারি। কেউ বারবার বমি করছে, কেউ তীব্র পেটব্যথায় মাটিতে গড়াগড়ি করছে। কারও মাথা ঘোরায় ঠিক মতো দাঁড়াতে পারছে না। পুরো বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
চাতরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহা. মেফতাহুদ্দৌলা বলেন, গাক-এর দেওয়া খাবার খাওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে। ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের সবারই পেটে ব্যথা ও বমি হয়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসেন খান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এতে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এরও আগে ৮ এপ্রিল মাদারীপুর সদর উপজেলায় এই খাবার খেয়ে উপজেলার ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কিছু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। ১৭ শিক্ষার্থীকে দ্রুত মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা মনে করেন, বর্তমান পদ্ধতিতে ঝুঁকি রয়েছে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে স্থানীয় পর্যায়ে তদারকি জোরদার করা গেলে মান নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। এ ছাড়া অভিযোগের কারণে বানরুটি, কলা ও ডিম পরিবর্তনের বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা বলছে, প্রথম দিকে সব খাবার দেওয়া হতো, এখন খাবার কম দেওয়া হয়। বিশেষ করে শুধু বানরুটি যেদিন দেওয়া হয়, সেদিন খেতে কষ্ট হয়।
কঠোর অবস্থানে সরকার: মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে গতকাল সোমবার মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিড-ডে মিল কার্যক্রম বাস্তবায়নে অত্যন্ত কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এ বিষয়ে কোনো অনিয়ম, গাফিলতি বা মানহীনতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকারমূলক দায়িত্ব।
প্রতিমন্ত্রী বৈঠকে পাঁচ দফা নির্দেশনা দেন। তিনি জানান, মিড-ডে মিল কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনুমোদিত নমুনা অনুযায়ী নির্ধারিত প্যাকেজিং কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য হবে না। সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পণ্য সরবরাহকারী চালক এবং জাতীয় পরিচয়পত্রধারী ব্যক্তি একই হতে হবে এবং সরবরাহের সময় বাধ্যতামূলকভাবে পরিচয় যাচাই করা হবে।
তিনি যোগ করেন, কোনো অবস্থাতেই সাব-কন্ট্রাক্ট বা উপঠিকাদারি দেওয়া যাবে না এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে স্বাক্ষরিত অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে। মিড-ডে মিল কার্যক্রমের মান ও গুণগতমান নিশ্চিত করতে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রতি মাসে দুইবার আকস্মিকভাবে কারখানা পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খাদ্য নিরাপত্তা ও সেবার মান তদারকিতে বিদ্যালয় পর্যায়ে মায়েদের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের অভিভাবক কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির একজন সদস্য এবং তিনজন অভিভাবক মা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, মিড-ডে মিলের প্রজেক্ট ডিরেক্টরসহ অন্য কর্মকর্তারা।
এর আগে মিড-ডে মিলের খাবার গ্রহণ ও বিতরণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি, শৈথিল্য বা অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বলা হয়েছে, বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পচা বানরুটি, নষ্ট ডিম, ছোট ও পচা কলা বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে মানসম্মত খাদ্য সরবরাহে ঘাটতির কারণে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়াসহ কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে খাদ্যের মান নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ পাওয়ামাত্রই দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। খাবারের মান রক্ষায় আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।
প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন দৈনিক বাংলার তালতলী(বরগুনা), আনোয়ারা (চট্টগ্রাম), নরসিংদী, মাদারীপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি।
আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে।
সভা শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট পাস করা হয়েছে। আমরা আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিয়েছি। অনেক পর নির্বাচিত সরকার এডিপি পাস করেছে এবার এডিপি বাস্তবায়ন বাড়বে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, তিন লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের হারও বাড়বে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের উন্নয়ন বাজেট সাজানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের চলমান প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ছয় হাজার আট কোটি টাকা। তবে এবারের এডিপির সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে অস্বাভাবিক থোক বরাদ্দ, যা মোট উন্নয়ন বাজেটের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি।
পরিকল্পনা কমিশনের কার্যপত্র অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের এডিপির মোট আকার ধরা হয়েছে তিন লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন বা জিওবি অংশ এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পের জন্য আরও আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকা যুক্ত হলে মোট উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় তিন লাখ আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকারও বেশি।
এডিপিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা মিলিয়ে প্রায় এক লাখ ১৮ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সরাসরি প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ রয়েছে প্রায় এক লাখ ৮১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ উন্নয়ন বাজেটের একটি বড় অংশ এখনো নির্দিষ্ট প্রকল্পের বাইরে থাকছে, যা নিয়ে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
কার্যপত্রে দেখা যায়, বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা খাতে রাখা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৭ কোটি টাকা এবং সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতে আরো ১৭ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে ৫৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এ ধরনের অনির্দিষ্ট বরাদ্দ এবার অনেক বেশি। কিন্তু একই বিভাগের জন্য থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি। একইভাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্পে বরাদ্দ পাঁচ হাজার ৪৮ কোটি টাকা হলেও থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগেও তিন হাজার ৭৯ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
খাতভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি পাচ্ছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫০ হাজার ৯২ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা বা ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা এবং গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধা খাতে ২০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি পাচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, যার বরাদ্দ ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগও বড় বরাদ্দ পাচ্ছে।
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবারের এডিপিতে বিশেষ বরাদ্দও রাখা হয়েছে। সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতের ১৭ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় কৃষক কার্ডের জন্য রাখা হয়েছে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ের দায়িত্ব পালনকারীদের সম্মানী বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে আরও এক হাজার ১০০ কোটি টাকা।
আগামী অর্থবছরের এডিপিতে মোট এক হাজার ১২১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৯৪৯টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১০৭টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৪৩টি প্রকল্প রয়েছে। পাশাপাশি এক হাজার ২৭৭টি নতুন অননুমোদিত প্রকল্পও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো পর্যায়ক্রমে অনুমোদনের জন্য বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে আগামী জুনের মধ্যে ২২৩টি প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে এত বড় উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার হয়েছে মাত্র ৩৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। জিওবি অর্থায়নে বাস্তবায়ন হার ৩৩ শতাংশের সামান্য বেশি এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ব্যবহার হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এই বাস্তবতায় আরো বড় এডিপি বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এক মাসের ব্যবধানে সরকারি বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম লিটারে ১৯ টাকা হারে বাড়িয়েছে সরকার। এর আগে গত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝিতেও পণ্যটির দাম লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা হারে বাড়ানো হয়েছিল। সব মিলিয়ে দুই মাসের ব্যবধানে ফার্নেস অয়েলের দাম বেড়েছে ৬১ শতাংশ।
সোমবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিইআরসি ফার্নেস অয়েলের মূল্য সমন্বয় করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সোমবার রাত ১২টা থেকে নতুন এ দর কার্যকর হয়।
এতে বলা হয়, গত ১৩ এপ্রিল থেকে ১২ মে পর্যন্ত প্রকাশিত ফার্নেস অয়েলের প্লাটস রেটের গড় এবং মে মাসে মাসে আমদানি করা ক্রুড অয়েলের এফওবি মূল্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, বিপিসির সরবরাহ করা ফার্নেস অয়েলের মূল্যহার সমন্বয় করা হলো।
বর্তমানে দেশে মোট ১৩৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৫৬টি ফার্নেস তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে যেগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৫ হাজার ৫৪১ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সরকারি ১৫টি এবং বেসরকারি ৪১টি। বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে ফার্নেস তেল আমদানি করে থাকে।
এক দশক পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বহুল আলোচিত মামলার তদন্ত শেষ হয়নি এখনো। বারবার সময় নিয়েও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি সিআইডি। এ নিয়ে মামলাটির প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ মোট ৯৫ বার পেছাল।
ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জশিতা ইসলামের আদালতে সোমবার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে এদিনও মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। পরে আদালত আগামী ২ জুলাই নতুন দিন ঠিক করে দেয় বলে জানান প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান।
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সুইফট কোড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। ওই অর্থ ফিলিপাইনে স্থানান্তর করা হয়।
তৎকালীন সময়ে দেশের ভেতরের একটি চক্রের সহায়তায় অর্থ পাচার হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
পরে একই বছরের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মামলা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের ওই মামলায় সরাসরি কাউকে আসামি করা হয়নি।
মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। তবে দীর্ঘ সময় ধরে একাধিকবার সময় নিয়েও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি সংস্থাটি।
চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে ফিলিপাইনের তিনটি ক্যাসিনোতে স্থানীয় মুদ্রায় অর্থ পৌঁছে যায়। এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে ফিলিপাইন সরকার বাংলাদেশকে ফেরত দিলেও বাকি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার এখনো উদ্ধার হয়নি।
ঘটনার তিন বছর পর ২০১৯ সালে অর্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরে আরসিবিসি মামলাটি খারিজের আবেদন করে।
২০২২ সালের এপ্রিলে আদালত বাংলাদেশ ব্যাংকের মামলা খারিজ করে দেয়। রায়ে বলা হয়, ওই আদালতের এ মামলায় পর্যাপ্ত এখতিয়ার নেই।
এরপর বাংলাদেশ বাংকের পক্ষ থেকে নিউইয়র্কের ‘এখতিয়ারভুক্ত’ আদালতে মামলা করা হয় বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল।
র্যাবকে এলিট ফোর্স হিসেবে পরিচালনার জন্য নতুন আইন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আগামী দিনে সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি। সেই আইনের অধীনে একটি এলিট ফোর্স থাকবে, যারা নতুন প্রত্যাশা অনুযায়ী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। নতুন বাহিনীটি র্যাবের বর্তমান কাঠামোর সংস্কার হতে পারে, আবার নতুন নামেও গঠিত হতে পারে। এ বিষয়ে সরকার এখনো চিন্তাভাবনা করছে। তবে যেকোনো ক্ষেত্রেই বাহিনীর জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলায় সদরদপ্তরে র্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এ কথা জানিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, অথরিটি থাকবে, রেসপন্সিবিলিটিও থাকবে। একই সঙ্গে সেই বাহিনীর ট্রান্সপারেন্সি ও অ্যাকাউন্টিবিলিটি নিশ্চিত করা হবে আইনের মাধ্যমে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, কয়েকজন কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিষ্ঠান হিসেবে র্যাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তির দায় পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপানো উচিত নয়। অতীতের রাজনৈতিক শাসনামলে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহৃত হওয়ায় সেগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করছি আগামী দিনে মানবাধিকার সমুন্নত রেখে র্যাব তার সকল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। একই সঙ্গে র্যাবের জন্য একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার অধীনে একটি এলিট ফোর্স হিসেবে একটি বাহিনী পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, র্যাবের নাম পরিবর্তন করা হবে কিনা সরকার সেটি বিবেচনা করছে। এছাড়া এলিট ফোর্স পরিচালনায় নতুন আইন হবে কি না কিনা— তা এখনো সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তবে যেকোনো এলিট ফোর্সের ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা হবে।
চলতি অর্থবছরের নবম মাস মার্চে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি কমেছে ২ হাজার ১৩৫ কোটি ৮ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। কিন্তু অর্থবছরের শেষ মাসগুলোতে বড় ধরনের পতন হয়েছে। ফলে নতুন বিক্রির তুলনায় আগের সঞ্চয়পত্রের আসল ও সুদ পরিশোধে সরকারকে বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে।
জানুয়ারিতে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি আগের আসল-সুদ পরিশোধের তুলনায় ১ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেশি ছিল। তবে ফেব্রুয়ারি থেকে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে নেতিবাচক ধারা দেখা যায়। একক মাস হিসেবে শুধু ফেব্রুয়ারিতে আসল ও সুদ বাবদ অতিরিক্ত ১ হাজার ১৬৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও সঞ্চয়পত্র বিক্রি নেতিবাচক ছিল। ওই সময়ে অতিরিক্ত ৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছিল।
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি সহায়তায় আরও ৩৫ কোটি ডলার অর্থায়ন অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক। গত শুক্রবার এ অর্থায়ন অনুমোদন দেওয়া হয়। এটি বিশ্বব্যাংকের ‘এনার্জি সেক্টর সিকিউরিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’-এর অতিরিক্ত অর্থায়নের অংশ।
বিশ্বব্যাংক বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরবরাহ ঝুঁকি ও মূল্য অস্থিরতা বেড়েছে। এতে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত জ্বালানি ও সার সরবরাহে আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে, যার সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পকারখানার জ্বালানি চাহিদা পূরণে আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। নতুন এই অর্থায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলাকে এলএনজি আমদানির অর্থ পরিশোধে সহায়তা করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই সহায়তা পেট্রোবাংলাকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সংগ্রহে সহায়তা করবে। ফলে ব্যয়বহুল স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্থিতিশীল ও সাশ্রয়ী হবে।
অর্থায়ন কাঠামোর আওতায় আইডিএ পেমেন্ট গ্যারান্টি-সমর্থিত একটি অর্থায়ন সুবিধা থাকবে। এর মাধ্যমে স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট ও স্বল্পমেয়াদি ঋণসুবিধার মাধ্যমে এলএনজি আমদানির অর্থপ্রদানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান ডিভিশনাল ডিরেক্টর জিন পেসমে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে এলএনজির দাম বেড়েছে এবং সরবরাহে বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য এটি বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করছে। এই সহায়তা বাংলাদেশকে স্থিতিশীল এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিতে সহায়তা করবে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প কার্যক্রম ও কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার ও বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ওলায়িঙ্কা এডেবিরি বলেন, অন্যান্য জ্বালানির তুলনায় গ্যাস অপেক্ষাকৃত কম দূষণকারী ও সাশ্রয়ী জ্বালানি। নিরবচ্ছিন্ন এলএনজি সরবরাহ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ভিত্তি শক্তিশালী করবে এবং ব্যয়বহুল তরল জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আর্থিক সাশ্রয়ও করবে।
এর আগে, বাংলাদেশে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ৩৫ কোটি ডলারের মূল প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ১৮ জুন অনুমোদন দেয় বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। প্রকল্পটির মেয়াদ চলবে ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ঈদে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে টানা ১৩ দিন দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ এ বিষয়ে গত ১৩ মে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো।
সরকারের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঈদের দিনসহ ঈদের আগের সাত দিন এবং পরের পাঁচ দিন ফিলিং স্টেশনগুলো ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে হবে।
এদিকে, রোজার ঈদের মতো এবারও এ ঈদে দীর্ঘ ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। সরকারের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি থাকবে। তবে ঈদের ছুটির আগে ২৩ ও ২৪ মে সরকারি অফিস খোলা থাকবে বলে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার সংবাদপত্রে পাঁচ দিন ছুটি থাকবে। আজ সোমবার সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এ তথ্য জানিয়েছে।
নোয়াবের সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরীর সই করা ছুটির নোটিশে বলা হয়, নোয়াবের নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে, সংবাদপত্রে ২৬ থেকে ৩০ মে ঈদুল আজহার ছুটি উদ্যাপন করা হবে। সে হিসাবে ২৭ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সংবাদপত্র প্রকাশিত হবে না।
এর আগে, দেশের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হবে।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় দেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ জানালেন, দেশের আকাশে এরই মধ্যে দেখা গেছে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ। ফলে আগামী ২৮ মে সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।
এর আগেও, গতকাল সৌদি আরবে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায়। এ ছাড়া তুরস্ক, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইসহ কয়েকটি দেশ এরই মধ্যে জিলহজ মাসের শুরু এবং ঘোষণা করেছে ঈদুল আজহার তারিখ। এসব দেশে ঈদুল আজহা পালিত হবে ২৭ মে। ইসলামি চন্দ্রবর্ষের শেষ মাস জিলহজের ১০ তারিখে পালিত হয় ঈদুল আজহা।
এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিন দেশের তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। আগামী ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এসব ব্যাংকের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা ছুটি পাবেন। পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী শনিবার দেশের তফসিলি ব্যাংকের সব শাখা ও উপশাখা খোলা থাকবে।
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠিয়ে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় এক-এগারোর আলোচিত সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ গ্রেপ্তার দেখানোর এ আদেশ দিয়েছেন।
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আজ কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন। দুদকের আইনজীবী মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএসের একটি বাড়ি থেকে গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৪ মার্চ পল্টন থানার মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে, ২৯ মার্চ দ্বিতীয় দফায় ছয় দিনের এবং ৪ এপ্রিল তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর মিরপুর থানার দেলোয়ার হত্যা মামলায় রিমান্ডের পর ৪ মে মিরপুর থানার বিপ্লব শেখ হত্যা মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়।
বিভিন্ন মামলায় মোট আট দফা রিমান্ডে নেওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ১১ মে অর্থ পাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে।