রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ‘এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ’ বইটির ইংরেজি সংস্করণ ‘Bangladesh will Go a Long Way’ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আজ দুপুরে বঙ্গভবনে আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ও প্রকাশক ওসমান গনি এবং বইটির সম্পাদনা সমন্বয়ক পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন ও গবেষক ড. এম আবদুল আলীম রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বইটি হস্তান্তর করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গ্রন্থের ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশ করায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
বইটির মাধ্যমে পাঠক সমাজ বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ, আওয়ামী লীগের ইতিহাস, শেখ হাসিনার নেতৃত্ব, পদ্মা সেতুর কাল্পনিক দুর্নীতি, সমসাময়িক রাজনীতি, আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা ও দিন বদলের পালাসহ বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্পর্কে জানতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপ্রধান জানান, পাঠকপ্রিয়তা পেলে তাঁর এ প্রচেষ্টা সার্থক হবে এবং ভবিষ্যতে লেখালেখির জন্য আরও আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা পাবেন।
বিভিন্ন তথ্যবহুল প্রবন্ধ সমৃদ্ধ ২৩২ পৃষ্ঠার এই বইটিতে বিধৃত হয়েছে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের শৈশব থেকে শুরু করে পুরো জীবনের কথা; তাঁর সংগ্রাম, রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, জেলজীবন, কর্মজীবন, সংসার-জীবন, চিন্তাদর্শ তথা সবকিছুর পরিচয়।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এস এম সালাহ উদ্দিন ইসলাম, প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন, সচিব সংযুক্ত মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান এবং অনুবাদক অধ্যাপক দুলাল আল মনসুর উপস্থিত ছিলেন।
এই বইতে ১৯৯৯ সাল থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত মো. সাহাবুদ্দিনের লেখা একুশটি কলাম ও স্মৃতিচারণমূলক লেখা, তিনটি সাক্ষাৎকার এবং তাঁর জীবন সম্পর্কিত একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে।
এছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তাঁর দুষ্প্রাপ্য ও ঐতিহাসিক কিছু আলোকচিত্র বইটিতে যুক্ত করা হয়েছে।
আগামী প্রকাশনীর সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মো. ওসমান গনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি এই বইতে তাঁর স্মৃতিমূলক লেখা যেমন- বঙ্গবন্ধুর আশীর্বাদ, রাজনৈতিক কর্মকান্ড, বঙ্গবন্ধুর সাহচর্য, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও দেশকে এগিয়ে নিতে তাঁর চিন্তাধারা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।’
প্রকাশক ড. এম আবদুল আলীম বলেন, ‘বইটি বিভিন্ন সময় প্রকাশিত প্রবন্ধ ও লেখার হুবহু সংকলন।’
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিজীবন, তার সমকালীন রাজনৈতিক ঘটনাবলী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে উন্নয়ন কর্মকান্ড সেগুলোর একটা ব্যাপক ভিত্তিক পরিচয় উঠে এসেছে।’
মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গবন্ধুর প্রত্যক্ষ আহ্বানে ১৯৬৬ সালে ছাত্র-রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং তাঁর স্নেহের পরশ লাভ করেন।
১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত অনেকবার তাঁর সান্নিধ্য লাভ করেন। ১৯৭২ সালে পাবনার নগরবাড়ি ঘাট জনসভা এবং পাবনা স্টেডিয়ামের জনসভায় পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বক্তব্য শুনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁকে বুকে জড়িয়ে আশীর্বাদ করেন এবং হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় নিয়ে আসেন।
জেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সভাপতি এবং পাবনা জেলা বাকশালের যুগ্ম-সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হিসেবে মাঠ পর্যায়ের রাজনীতিতে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন।
এছাড়া বইটিতে রয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে গৃহীত নানা পদক্ষেপ, ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন, করোনাসঙ্কট মোকাবেলা, পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেল নির্মাণ, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়ন, স্মার্ট বাংলাদেশ কর্মসূচিসহ বহুবিধ উন্নয়ন কর্মকান্ড এবং রাষ্ট্রনেতা হিসেবে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠার বিষয় নিয়ে লেখা সাতটি কলাম।
গ্রন্থের পরিশিষ্টে যুক্ত করা হয়েছে মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর জীবন, ছাত্র-রাজনীতি, আন্দোলন-সংগ্রাম, কারাভোগ, মুক্তিযুদ্ধ, কর্মজীবন এবং রাজনৈতিক চিন্তাদর্শ সম্পর্কে গবেষক-প্রাবন্ধিক অধ্যাপক ড. এম আবদুল আলীমের একটি অনুসন্ধানমূলক ও তথ্যসমৃদ্ধ দীর্ঘ গবেষণা-প্রবন্ধ।
মুক্তিযোদ্ধা ও মাঠপর্যায়ের রাজনীতিবিদ মো. সাহাবুদ্দিন ১৯৪৯ সালের ১০ ডিসেম্বর পাবনা শহরের শিবরামপুরের জুবিলী ট্যাংক পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর ডাকনাম চুপ্পু। পিতা শরফুদ্দিন আনছারী, মাতা খায়রুন্নেসা।
তিনি ১৯৭৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে এলএলবি ও বিসিএস (বিচার) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
এডওয়ার্ড কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, পাবনা জেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সভাপতি, জেলা বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বাকশাল এর যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ছেষট্টির ৬-দফা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
তিনি পাবনা জেলার আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেন। ঐ সময় সামরিক স্বৈরশাসকদের রোষানলে পড়ে তিন বছর জেল খাটেন এবং ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হন যার ক্ষত চিহ্ন এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন দৈনিক বাংলার বাণীর সাংবাদিক ছিলেন। কর্মজীবনে জেলা ও দায়রা জজ, দুদকের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক এবং বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিযুক্ত সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পরপর দুবার বিসিএস (বিচার) অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব নির্বাচিত হন।
চাকুরি থেকে অবসরের পর হাইকোর্টে আইন পেশায় নিযুক্ত হন। পরবর্তীকালে ২০০১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা তদন্তে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দুদক কমিশনার হিসেবে পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিরুদ্ধে উঠা তথাকথিত দুর্নীতির ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় দৃঢ়তার পরিচয় দেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
একজন অসাম্প্রদায়িক, মানবতাবতাবাদী, বিনয়ী ও দৃঢ়চেতা মানুষ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অতন্দ্র প্রহরী। ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতি হাসিনা আমলের নৃশংস দিনগুলোতে আর ফিতে যেতে চায় না। এই জাদুঘর জুলাই শহীদদের রক্ত তাজা থাকতেই করা সম্ভব হয়েছে, এটা গোটা পৃথিবীর এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজনৈতিক দলের নেতা ও হাসিনা আমলে গুমের শিকাররদের নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে এ কথা বলেন তিনি।বিকেল ৩টার দিকে জাদুঘরে পৌঁছান এবং জাদুঘরে থাকা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনের ইতিহাস ও শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসনের চিত্রগুলো ঘুরে দেখেন প্রধান উপদেষ্
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা চাইনা ভবিষ্যতে কোথাও যেন আর এমন জাদুঘর তৈরির প্রয়োজন হোক। যদি আমাদের জাতি কখনো কোনো কারণে দিশেহারা হয় তবে এই জাদুঘরে পথ খুঁজে পাবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের উচিত হবে এখানে এসে একটি দিন কাটানো, শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে এই জাদুঘরে আসবেন। এই জাদুঘরে একটা দিন কাটালে মানুষ জানতে পারবে কী নৃশংসতার মধ্য দিয়ে এ জাতিকে যেতে হয়েছে। এখানে যে আয়নাঘরগুলো তৈরি হয়েছে সেখানে কিছু সময়, কয়েক ঘণ্টা অথবা একটা দিন কেউ যদি থাকতে চায় সে যেন থাকতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আয়নাঘরে বসে পরিদর্শনকারীরা উপলব্ধি করতে পারে কী নৃশংসতার মধ্যে বন্দিরা ছিল! এ ধরনের নৃশংস ঘটনা না হওয়ার পক্ষে কীভাবে আমরা সবাই এক থাকতে পারি সেটা মনের মধ্যে আনতে হবে। এই একটা মতে আমরা সবাই এক থাকব যে এই ধরনের নৃশংস দিনগুলোতে এ জাতি আর ফিরে যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘নৃশংস একটা কাণ্ড হচ্ছিল। তরুণরা, ছাত্ররা এটার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, প্রতিহত করেছে। তাদের কোনো অস্ত্রশস্ত্র ছিল না, কিছু ছিল না। সাধারণ মানুষও যে এমন নির্ভয়ে, সাহসিকতার সঙ্গে অস্ত্রের মুখে দাঁড়াতে পারে-- এটাই আমাদের শিক্ষা।’
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘অল্প সময়ে এই জাদুঘরের কাজ এই পর্যায়ে এসেছে এটা একটা রেকর্ড। এটা সম্ভব হয়েছে অনেক ছেলে-মেয়ের অক্লান্ত পরিশ্রমে। আট মাস ধরে বিনা পারিশ্রমিকে এখানে কাজ করেছেন অনেকে। তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আরও বেশ কিছু সেকশনের কাজ আগামী কিছুদিনের মধ্যেই শেষ হবে। এবং নির্বাচনের আগেই সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। জুলাই জাদুঘর ইতিহাসের চিহ্ন বহন করে দাঁড়িয়ে থাকবে। বাংলাদেশের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের রাজনীতির আকর হয়ে থাকবে এটা। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ডিসকোর্স-শিক্ষা-গবেষণায়, শিল্প-সাহিত্য চর্চায়ও এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
এ সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম।
গুমের শিকার পরিবারেরগুলোর সংগঠন মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা তুলি ও গুম থেকে ফেরত ভিকটিম ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, জুলাই অভ্যুত্থানে সম্মুখসারীতে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আব্দুল্লাহ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে জাদুঘরের কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব, মেরিনা তাবাসসুম খান, জুলাই জাদুঘরের গবেষকসহ দায়িত্বশীল অন্যান্যরা আগতদের পুরো জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে অভ্যুত্থানের ছবি, বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন, শহীদদের পোশাক, চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, সে সময়কার পত্রিকার কাটিং, অডিও-ভিডিওসহ নানা উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে।
জাদুঘরে পরিদর্শনে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন, যেখানে ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গুম, রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত দমন-পীড়ন, বিরোধীদের ওপর হামলা এবং চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদ ও যোদ্ধাদের স্বপ্ন পূরণ এবং একটি বৈষম্যহীন ও আমূল পরিবর্তিত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে আসন্ন গণভোটে জনগণের 'হ্যাঁ' রায়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজবাড়ী ইয়াসিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক উদ্বুদ্ধকরণ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। উপদেষ্টা মনে করেন, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন নিশ্চিত এবং প্রশাসনকে সব ধরনের দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে গণভোটে ইতিবাচক রায় দেওয়া বর্তমান সময়ের অপরিহার্য দাবি।
উপদেষ্টা তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে এবং সর্বদলীয় ঐক্যের ভিত্তিতে একটি 'জুলাই সনদ' গ্রহণ করা হয়েছে, যা আগামী দিনের সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। তিনি জানান, সরকার গঠিত ১১টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে ৬টি সরাসরি নির্বাচনের সাথে যুক্ত এবং এই সংস্কারগুলো স্থায়ী রূপ দিতেই হ্যাঁ-না ভোটের আয়োজন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে গুণগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং পরিবর্তিত বাংলাদেশ চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে।” এছাড়া তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “দেশকে বৈষম্যহীন করতে, গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে, ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে, আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে এবং প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রায় দিতে হবে।”
সংবিধানের যথেচ্ছ পরিবর্তন রোধ এবং সংসদীয় ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনার লক্ষে উপদেষ্টা জনগণের ম্যান্ডেট প্রত্যাশা করেন। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “ইচ্ছে মতো সংবিধান পরিবর্তন না চাইলে, ক্ষমতার ভারসাম্য চাইলে, নিম্ম কক্ষ ও উচ্চ কক্ষের সমন্বয়ে সংসদ চাইলে, একজনকে দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী না চাইলে, দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বাদীর মতামত ব্যতীত ক্ষমা না চাইলে, নারীর ক্ষমতায়ন চাইলে গণভোটে হ্যাঁ’ র পক্ষে রায় দিতে হবে।” মূলত ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এই গণভোটের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উক্ত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধ ও জনহিতকর রাষ্ট্র ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটারদের সচেতন করতে তথ্য মন্ত্রণালয় ‘ভোটের গাড়ি’, ‘ভোটের রিকশা’, উঠান বৈঠক ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর মতো নানামুখী প্রচারণা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ এবং জুলাই যোদ্ধা আবদুল্লাহ আল মামুনও বক্তব্য রাখেন। এর আগে উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষ্যে আয়োজিত একটি বর্ণাঢ্য র্যালির শুভ উদ্বোধন করেন।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলোতে শব্দদূষণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আগামী ২৫ জানুয়ারি থেকে এসব নির্ধারিত ‘নীরব এলাকা’য় হর্ন বাজালে চালকদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। মূলত গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই বিমানবন্দর এবং এর উত্তর ও দক্ষিণে দেড় কিলোমিটার এলাকাসহ উত্তরার স্কলাস্টিকা স্কুল থেকে হোটেল লা মেরিডিয়ান পর্যন্ত অংশকে ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এছাড়া গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকাও এই বিশেষ জোনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে হর্ন বাজানোর অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ডিএমপি স্পষ্ট করেছে যে, ২৫ জানুয়ারি থেকে বিমানবন্দরের সড়ক ও পার্কিং এলাকায় কোনো প্রকার আইন লঙ্ঘিত হলে পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআরটিএ, সিভিল এভিয়েশন এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তি প্রদান করা হবে। ম্যাজিস্ট্রেটদের উপস্থিতিতে পরিচালিত এই অভিযানে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রয়োজনে কারাদণ্ডও কার্যকর হতে পারে। শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫-এর যথাযথ পরিপালন নিশ্চিত করতে বিমানবন্দর এলাকায় যাতায়াতকারী গাড়িচালকদের হর্ন না বাজানোর জন্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। মূলত জনস্বাস্থ্যে শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাস করতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই হার্ডলাইন ঘোষণা করেছে।
নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শনকালে দ্বিপাক্ষিক ভিসা জটিলতা ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোকপাত করেছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান যে, ভারত বর্তমানে বিভিন্ন কারণে ভিসা প্রদান সীমিত রাখায় বাংলাদেশ থেকেও একইভাবে কম ভিসা দেওয়া হচ্ছে, তবে শীঘ্রই এই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে তিনি আশাবাদী। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, “ভারত নানা কারণে ভিসা দিচ্ছে না। সেই হিসেবে আমাদের এখান থেকেও বেশি ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। এগুলো ঠিকঠাক হয়ে যাবে। নতুন সরকারের সময় ডিউরেশনটা আরো ভালো হবে।” তিনি দেশজুড়ে ইমিগ্রেশন ও যাত্রী যাতায়াত হ্রাসের চিত্র তুলে ধরে জানান যে, বেনাপোলসহ প্রধান বন্দরগুলোতে যাত্রী সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের বেসরকারি অপারেটরের মেয়াদ শেষ হলে সরকার নতুন করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়া আঞ্চলিক ও উপ-মহাদেশীয় সম্পর্কের জটিলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, ভৌগোলিক কারণে অন্য দেশের ওপর দিয়ে না গিয়ে সরাসরি চীনে সড়ক পথ তৈরি করা বর্তমান বাস্তবতায় সম্ভব নয়। নৌ-মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ২০টি স্থলবন্দর পরিদর্শন ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তাঁর এই সফর। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার পোর্টগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে যে নকশা করছে, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এসে সে অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নিতে পারবে।
দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও চলমান সংস্কার প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন অত্যন্ত কঠোর ও দূরদর্শী মন্তব্য প্রদান করেন। তিনি মনে করেন, অতীতের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে হলে বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়াকে সফল করা অপরিহার্য। এই বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যেন অতীতের মতো কোনো কর্মকাণ্ড না চলে, সেগুলো থেকে যদি পরিত্রাণ পেতে চান, তাহলে হ্যাঁ ভোটে সিল মারতে হবে।” জীবনের বিনিময়ে অর্জিত এই পরিবর্তনের সুযোগ হেলায় না হারানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তাঁর ভাষায়, “আর যদি হ্যাঁ ভোটে সিল না দিই, তাহলে এত রক্তের বিনিময়ে আমাদের সামনে যে সুযোগ এসেছে, আমরা সেই সুযোগ হারাব। আমরা যদি এ ধরনের সংস্কারগুলো না করি, তাহলে আগের অবস্থায় ফিরে যাব। এটা অটোমেটিক্যালি হবে।” তাঁর এই সফরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পদ্মা সেতু টোল আদায়ের ক্ষেত্রে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধনের পর থেকে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) পর্যন্ত এই সেতুটি থেকে সংগৃহীত মোট রাজস্বের পরিমাণ ৩,০০০ কোটি (তিন হাজার কোটি) টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ স্থাপনকারী এই অবকাঠামোটি কেবল যাতায়াতের সময় সাশ্রয় করছে না, বরং কৃষি, মৎস্য ও শিল্পজাত পণ্য পরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জাতীয় অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ হিসেবে স্বীকৃত এই সেতুটি চালুর পর থেকে যানবাহন পারাপার ও রাজস্ব আদায়ের হার ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে এই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জনাব মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান-এর বিশেষ দিকনির্দেশনা এবং সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ-এর সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান এই অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সহজতর করতে সেতুর দুই প্রান্তে (মাওয়া ও জাজিরা) স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক 'Electronic Toll Collection (ETC)' পদ্ধতি। এছাড়া 'Radio Frequency Identification (RFID)' কার্ডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায়ের ব্যবস্থা কার্যকর করায় যানবাহনকে এখন টোল প্লাজায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। মূলত জনগণের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলেই এই সাফল্য অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।
পদ্মা সেতুর টোল আদায়ের এই গৌরবময় মাইলফলক অর্জনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি এই সাফল্যের অংশীদার হিসেবে গাড়ির মালিক, চালক, শ্রমিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার সাথে জড়িত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। জনগণের অব্যাহত সহযোগিতা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার সংমিশ্রণে পদ্মা সেতু আগামীতে জাতীয় সমৃদ্ধির পথে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর রামপুরা এলাকায় সংঘটিত সহিংসতাকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের বর্বরতার সঙ্গে তুলনা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রামপুরায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ২৮ জন নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারিক কার্যক্রমে সূচনা বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে বলেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর রামপুরা এলাকায় ২৫ মার্চের কালরাতের মতো হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। এটা ছিল হটস্পট। বাসাবাড়িতে ঢুকে গুলি করে লোকজনকে হত্যা করা হয়েছিল। ইতিহাসে এটি নজিরবিহীন। এর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।” তিনি রামপুরার ওই ঘটনাকে ইতিহাসের একটি নজিরবিহীন নিষ্ঠুরতা হিসেবে অভিহিত করে এর সুষ্ঠু বিচারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ শুনানি চলাকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম এবং মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম মুন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে এই মামলার অন্য দুই প্রধান আসামি পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। চিফ প্রসিকিউটরের প্রারম্ভিক বক্তব্যের পরপরই আদালত এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেন, যেখানে প্রথম সাক্ষী হিসেবে বিশ্বজিৎ রাজবংশী জবানবন্দি প্রদান করেন। বিশ্বজিতের পিতা গঙ্গাচরণ রাজবংশী রামপুরায় আন্দোলন চলাকালে বিজিবির গুলিতে নিহত হয়েছিলেন এবং প্রথম দিনের সাক্ষ্যে সেই বিয়োগান্তক ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা উঠে আসে।
ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর আদালত আসামিপক্ষ কর্তৃক সাক্ষীকে জেরা করার জন্য আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেছেন। রামপুরা এলাকায় যেভাবে সাধারণ মানুষের বাসাবাড়িতে ঢুকে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল, তাকে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ হিসেবে দাবি করা হয়েছে। মূলত এই এলাকায় আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা এবং প্রাণহানির ব্যাপকতা বিচারিক কার্যক্রমে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় একটি বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে আরও ৩৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানো এই দলে একজন নারীও রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ব্র্যাক মাইগ্রেশন। ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ২৯৩ জন বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যাবাসিত হলেন।
মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের একাধিক দফায় নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
ফেরত পাঠানো এসব ব্যক্তিদের অধিকাংশেরই বিদেশ যাত্রার প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। তারা প্রথমে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে বৈধভাবে ব্রাজিলে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাদের শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে। ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, ফেরত আসা এই ব্যক্তিরা জনপ্রতি ৪০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করেছিলেন। প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২১ জন নোয়াখালীর এবং বাকিরা লক্ষ্মীপুর, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরীফুল হাসান এই সামগ্রিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দফায় যাঁরা ফেরত এসেছেন, তাঁদের অনেকেই প্রথমে ব্রাজিল গিয়ে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান। প্রশ্ন হলো, সরকার যখন ব্রাজিলে কর্মী পাঠানোর অনুমোদন দেয়, তখন তাঁরা সত্যিই ব্রাজিলে কাজ করতে যাচ্ছেন, নাকি সেটিকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছেন—সেটি খতিয়ে দেখা উচিত। এই যে একেকজন ৪০ থেকে ৫৫ লাখ টাকা খরচ করে শূন্য হাতে ফিরে আসছেন, এই দায় কার? যেসব এজেন্সি এই কর্মীদের পাঠিয়েছে এবং যাঁরা এই অনুমোদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন, তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।’
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে ১ হাজার ৩২০ জন বাংলাদেশি ব্রাজিলে গেলেও তাদের মধ্যে ৯৫১ জনই ছিলেন নোয়াখালী জেলার, যাদের একটি বড় অংশ মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিষয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে শরীফুল হাসান বলেন, ‘২০২৫ সালে জনশক্তি ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে মোট ১ হাজার ৩২০ জন বাংলাদেশি ব্রাজিলে যান, এর মধ্যে নোয়াখালী জেলারই ৯৫১ জন। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁদের একটি বড় অংশ মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। নতুন করে ব্রাজিলে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার আগে সরকারকে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।’ মার্কিন আইন অনুযায়ী বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের আশ্রয়ের আবেদন ব্যর্থ হলে চার্টার্ড বা সামরিক ফ্লাইটে করে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ে আরও দ্রুততর হয়েছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় নিহত র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেনের জানাজা শেষে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় র্যাব-৭ এর সদর দপ্তরে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহাপরিচালক জানান যে, জঙ্গল সলিমপুর বর্তমানে অপরাধীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে এবং খুব দ্রুতই সেখানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ অস্ত্রধারী ও দখলদারদের নির্মূল করা হবে।
নিহত কর্মকর্তার স্মৃতিচারণ ও বিচার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে র্যাব মহাপরিচালক বলেন, “সুবেদার মোতালেব শহীদ হয়েছেন। এজন্য যারা দায়ী, তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব। বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে যেন তাদের শাস্তি নিশ্চিত হয়, সেটি আমরা যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করব। আপনাদের কথা দিতে চাই, এই ঘটনা একটি মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন। বিচারের রায় না হওয়া পর্যন্ত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন পুরো বিষয়টি মনিটরিং করবে এবং রায় কার্যকর হওয়া পর্যন্ত আমরা এটি মনিটর করব। আমরা সবসময় আপনাদের পাশে আছি এবং আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাব।” একইসঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে তিনি আরও বলেন, “শহীদ মোতালেবের পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তার স্ত্রী স্বামী হারিয়েছেন, সন্তানরা পিতা হারিয়েছে। আমরা সেই পিতা বা স্বামীকে ফিরিয়ে দিতে পারব না। তবে আমরা নিশ্চিত করতে চাই, এই পরিবারের দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করেছি এবং মোতালেবের পরিবারের পাশে থাকব।”
ঘটনার প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ইয়াসিন নামক এক তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীর উপস্থিতির খবর পেয়ে অভিযানে যায় র্যাবের একটি দল। সেখানে ইয়াসিন গ্রুপের অনুসারীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে র্যাব সদস্যদের অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিজিবি থেকে প্রেষণে আসা নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। এই বর্বরোচিত হামলায় র্যাবের আরও তিন সদস্য ও একজন তথ্যদাতা গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মূলত জননিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর ওপর এমন জঘন্য হামলার সুষ্ঠু বিচার ও অপরাধীদের সমূলে বিনাশে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে র্যাব।
বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে ডাটা অ্যান্ড পার্সোনালাইজেশন সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আদেশ কার্যকর করা হয় এবং একইসঙ্গে তার চাকরি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
প্রশাসনিক এই রদবদলের ধারাবাহিকতায় পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে মো. আসাদুজ্জামানকেও নতুন দায়িত্ব প্রদান করেছে সরকার। ইতিপূর্বে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলির আদেশাধীন থাকলেও বর্তমানে তাকে 'বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের ৭টি আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ' শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তার বর্তমান চাকরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। মূলত প্রশাসনিক গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই পদায়ন ও বদলির আদেশ জারি করেছে।
ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সূচিত নতুন যাত্রায় রাষ্ট্রে জনগণের প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘জুলাই সনদ’-এর পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান সংগঠনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে জুলাই সনদের গুরুত্ব এবং আসন্ন গণভোটের তাৎপর্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার যে অভূতপূর্ব অভ্যুত্থান ঘটেছিল, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে ইতিহাস সৃষ্টিতে সাধারণ মানুষই প্রধান চালিকাশক্তি। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের জনগণ তাদের এই অবদানের স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত ছিল। তবে এবারের গণ-অভ্যুত্থান অতীতের সব জঞ্জাল ও বাধা অতিক্রম করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রে জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নঈম জাহাঙ্গীর দেশবাসীকে দায়িত্বশীল ও সচেতন ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান। তিনি ‘জুলাই সনদ ২০২৫’-কে জাতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, এই সনদ কেবল একটি দলিল নয়, বরং এটি অধিকার, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি রক্ষাকবচ। পাশাপাশি, দেশে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধ এবং একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই সনদ প্রণীত হয়েছে। সনদের বাস্তবায়নের মাধ্যমেই মহান মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন আরও সহজতর হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক আরও উল্লেখ করেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করা মানে ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং দেশের উন্নয়নের পথে অগ্রসর হওয়া। এটি দেশকে গণতান্ত্রিক পন্থায় ঐক্যবদ্ধ করার একটি সুবর্ণ সুযোগ। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, গণভোটটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, স্বতঃস্ফূর্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে জুলাই সনদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নাগরিক দায়িত্ব পালন করার এবং একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা দুটি পৃথক বিভাগকে পুনরায় একীভূত করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগকে একত্রীকরণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে নতুন করে পুনর্গঠন করা হবে।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। নিকারের সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন এবং মন্ত্রণালয়ের কাঠামোগত পরিবর্তনের কারণগুলো বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, অতীতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে বিভাজন করার মূল উদ্দেশ্য ছিল দাপ্তরিক কাজ ও সেবার মান সহজ এবং গতিশীল করা। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে, এই দ্বিমুখী কাঠামো আশানুরূপ ফলাফল বয়ে আনতে পারেনি।
প্রেস সচিব ব্যাখ্যা করেন যে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, নার্সিং ইনস্টিটিউট ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি পরিচালনার দায়িত্ব আলাদা বিভাগের অধীনে ন্যস্ত করায় প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছিল। বিভাজনের ফলে স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা উভয় খাতেই মানের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে বলে সরকার পর্যবেক্ষণ করেছে। তাই মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে পুনরায় গতিশীলতা ও আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী বিভাগ দুটিকে একত্রীকরণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকার আশা করছে, এই পুনর্গঠনের ফলে স্বাস্থ্যখাতের প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে।
স্বাস্থ্যখাতের এই বড় পরিবর্তনের পাশাপাশি নিকারের সভায় আরেকটি মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাংলা নাম পরিবর্তন করে এখন থেকে নারী ও শিশু মন্ত্রণালয় করা হয়েছে। তবে প্রেস সচিব নিশ্চিত করেছেন যে, নাম পরিবর্তন হলেও মন্ত্রণালয়টির ইংরেজি নাম মিনিস্ট্রি অব উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন অ্যাফেয়ার্স অপরিবর্তিত থাকবে। প্রশাসনিক কার্যক্রমে আধুনিকতা ও জেন্ডার সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করতেই এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে চারটি নতুন থানা স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, গাজীপুরে ‘পূর্বাচল উত্তর’, নারায়ণগঞ্জে ‘পূর্বাচল দক্ষিণ’ এবং কক্সবাজারের মহেশখালীতে ‘মাতারবাড়ী’ নামে তিনটি নতুন থানা স্থাপন করা হবে। এছাড়া নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলাকে প্রশাসনিকভাবে ভেঙে সেখানে আরও একটি নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে কমিটি।
মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় নিকারের ১১৯তম সভা অনুষ্ঠিত হয়, যা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে এই কমিটির প্রথম সভা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টাসহ সরকারের মোট ছয়জন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ১৪ জন সচিব ও সিনিয়র সচিব বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মোট ১১টি প্রস্তাব সভায় উত্থাপন করা হয় এবং সবকটিই অনুমোদিত হয়।
সভায় সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোতে বেশ কিছু বড় ধরনের সংস্কার আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশেষ করে রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং গতিশীলতা নিশ্চিত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ এবং ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ নামে দুটি পৃথক প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এ বিষয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আগেই ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছিল। স্বাস্থ্য খাতের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে ‘স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ’ এবং ‘স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ’-কে একীভূত করে পুনরায় একটি একক ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়’ হিসেবে পুনর্গঠন করার প্রস্তাবেও সায় দিয়েছে নিকার।
এছাড়া মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন ও জেলার মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়েও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে বাংলায় ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে, তবে মন্ত্রণালয়টির ইংরেজি নাম ‘মিনিস্ট্রি অব উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন অ্যাফেয়ার্স’ অপরিবর্তিত থাকবে। অন্যদিকে পরিবেশগত বৈশ্বিক ঐতিহ্য, পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় নিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলী জেলা সাতক্ষীরাকে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলায় উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের সময় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ওপর হামলার ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ওই এলাকায় যৌথ অভিযান বা কম্বাইন্ড অপারেশন চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই তথ্য জানান। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভা শেষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রেস সচিব স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, এই হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং কোনোভাবেই বাহিনীর মনোবল ভাঙতে দেওয়া যাবে না।
সলিমপুরের ঘটনার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত সোমবার সন্ধ্যায় জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত এবং আরও তিনজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। র্যাব-৭ এর তথ্যানুযায়ী, একটি আভিযানিক দল সেখানে পৌঁছালে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অপরাধীদের ধরতে সরকার এখন সেখানে সমন্বিত অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনিক সংস্কার ও আসন্ন নির্বাচন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রেস সচিব জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তার বাসভবন যমুনায় নিকারের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে দুটি পৃথক প্রশাসনিক বিভাগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে চারটি নতুন থানার অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। একইসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা লুট হওয়া অস্ত্রগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে উদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্টদের তাগাদা দিয়েছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রেস সচিব বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি জানান, নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৬ হাজার ৫৫২টি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। অবশিষ্ট ২১ হাজার ৯৪৬টি কেন্দ্রকে আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে কমপক্ষে ৬টি করে ক্যামেরা বসানো হবে। যেসব কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, এমন ২৯৯টি কেন্দ্রে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে ক্যামেরা সচল রাখা হবে। বাকি কেন্দ্রগুলোতেও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে নজরদারির ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।