সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
২২ চৈত্র ১৪৩২

মিউনিখ সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১১:৫৭
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১১:৫৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, জার্মানির মিউনিখে তার ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আজ তাঁর মিউনিখ সফরের বিষয়ে রাজধানীর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।

তাঁর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ নিচে দেয়া হলো:

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

আসসালামু আলাইকুম। শুভ সকাল। গত ১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত ৬০তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন মূলতঃ রাষ্ট্র/সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, সরকারি এবং বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিগণের অংশগ্রহণ করেন। এটি সমকালীন ও ভবিষ্যত নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্চ-পর্যায়ের নিয়মিত আলোচনার একটি শীর্ষস্থানীয় ফোরাম হিসেবে বিবেচিত। এ বছরের ফোরামে ৩৫-জনেরও বেশী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান অংশগ্রহণ করেছেন।

বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দিতা এবং আঞ্চলিক সংঘাত, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নিউক্লিয়ার নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু নিরাপত্তা, তথ্য নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা, অভিবাসন, সাপ্লাই চেইন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মহামারি ইত্যাদি বিষয়ে এবারের ফোরামে আলোচনা করা হয়।

সফরের প্রথম দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি ‘ফ্রম পকেট টু প্লানেট: স্কেলিং আপ ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করি। এই আলোচনায় আমার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত মান্যবর জন কেরি, বারবাডোসের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মিয়া আমোর মটলে, এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোসা জামির।

প্যানেলটিতে উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে আমি বক্তব্য প্রদান করি। বক্তব্যের শুরুতেই আমি গাজা ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহ, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং নিরস্ত্র মানুষের, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের, অমানবিক হত্যার কবল থেকে মুক্ত করে সকল প্রকার যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার জোর আহ্বান জানাই। আর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা-নিষেধাজ্ঞার বিরূপ প্রভাব যে যুদ্ধক্ষেত্র থেকেও বহুদূর পর্যন্ত অনুভূত হয়, এ বিষয়ে আমি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। এ প্রসঙ্গে আমি অর্থহীন অস্ত্র-প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় রসদ ও অর্থায়ন সহজলভ্য ও কার্যকর করার জন্য সকলকে অনুরোধ করি। মানবতার অস্তিত্বের সংটকালে ক্ষুদ্র স্বার্থ যে শুধু অনর্থই বয়ে আনে - এই রূঢ় বাস্তবতা আমি সকলের সামনে তুলে ধরি। আর তাই, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানাই।

আমি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার জন্য বিশ্বের সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বহুবিধ নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ও জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের পরিমাণ বৃদ্ধি, প্রতিশ্রুত অর্থের বাস্তবিক হস্তান্তর, ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিতকরার উপর আমি বিশেষভাবে জোর দেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় আমি ধনী দেশসমূহের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই।

এদিন আমার হোটেল স্যুইটে উইমেন পলিটিক্যাল লিডার্স (ডব্লিউপিএল)-এর সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মিসেস সিলভানা খক্ মেহরিন আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান এবং গত দেড় দশকে বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য আমাকে ডব্লিউপিএল-জি ট্রাইলব্লাজের এওয়ার্ড ২০২৩ গ্রহণের জন্য তিনি আমাকে আগামী ২০ মার্চ ২০২৪ তারিখ এথেন্সে অনুষ্ঠিতব্য ডব্লিউপিএল সামিট-এ অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। আলোচনায় আমি আমাদের সরকারের- বিশেষ করে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত নীতিসমূহের বিষয়ে আলোকপাত করলে এ বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বাংলাদেশের নীতি ও কার্যক্রমসমূহ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একইদিন আমি কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোহাম্মদ বিন্ আব্দুলরাহ্মান আল-সানি-র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জ্ঞাপনের পাশাপাশি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, এলএনজি সরবারহ প্রভৃতির পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই ও দ্রুত সমাধানে কাতারের অব্যাহত সমর্থনের ব্যাপারে তিনি আশ্বস্ত করেন। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সহিংসতা বন্ধে একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও আমরা আলোচনা করি।

এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন নীতি ও অংশীদারিত্ব বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মান্যবর আক্সেল ভন ট্রটসেনবার্গ। বাংলাদেশে ও বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের অংশীদারিত্বের প্রেক্ষাপটে আমি মধ্যম আয়ের দেশভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবদানের আলোকে বর্তমান অর্থবছরে বাজেট সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংক হতে অঙ্গীকারকৃত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দ্রুত ছাড়ের আহ্বান জানাই। পাশাপাশি আমি জোরপূর্বক স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে এবং এই সমস্যার বিরূপ প্রভাবে আক্রান্ত দেশ হিসেবে বাংলাদশকে প্রদত্ত ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন সহায়তার জন্যও তাকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয় ও উচ্চ-আয়ের দেশের পর্যায়ে উত্তীর্ণ হবার কাঙ্ক্ষিত পথে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেন।

একই দিনে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মান্যবর ডক্টর টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসাস আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে-বিশেষ করে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আসন্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশে আমাকে আমন্ত্রণ জানান এবং বিশ্বের বাকি দেশসমূহকে বাংলাদেশের কম্যুনিটি ক্লিনিক মডেল অনুসরণ করার বিষয়ে অনুপ্রাণিত করার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন।

আলোচনাকালে আমি বর্তমান সরকারের সেকেন্ডারি ও টার্শিয়ারি স্বাস্থ্যসেবা, টীকা উৎপাদন, এন্টি-মাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ, নার্সিং ও অন্যান্য স্বাস্থ্যখাতে মানব সম্পদ উন্নয়ন ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের কথা উল্লেখ করে এতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তা আশা করি। এ বিষয়ে মহাপরিচালক আমাকে আশ্বস্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক অতিমারি চুক্তি-এর দ্রুত সমাপনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমর্থন কামনা করেন।

এইদিন আমার সঙ্গে আরও সাক্ষাৎ করেন মেটা-জি গ্লোবাল এফেয়ার্স এর প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী স্যার নিক্ ক্লেগ্। তিনিও আমাকে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতের উন্নয়ন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্র সুবিস্তারে সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রংসা করেন তিনি। আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনে আমাদের সফলতা তুলে ধরি এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ ও তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে মেটা-এর সহযোগিতা আশা করি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে বিভিন্ন মেটা প্ল্যাটফর্ম যেমন ফেইসবুক, হোয়াটস্অ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম প্রভৃতির ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারির সুউচ্চ সংখ্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি বাংলাদেশে মেটা-এর একটি কার্যালয় স্থাপনের পরামর্শ দিই।

প্রথম দিন আমি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মেটে ফ্রেডরিক্সেন-এর সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমাকে ও আমাদের নবগঠিত সরকারকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানোর জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আলোচনাকালে বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আইসিটি খাতে ড্যানিশ কোম্পানিসমূহের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের পাশাপাশি তিনি বিরাজমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকারের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকার বিষয়েও আমাকে আশ্বস্ত করেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মার্ক রুটে আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। আলোচনাকালে আমরা দু’জনই বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতসমূহে জ্ঞান-প্রযুক্তি-উদ্ভাবন বিস্তারে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও গভীরতর করার বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।

একইদিন সকালে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী মান্যবর ডক্টর এস. জয়শংকর। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। সাক্ষাৎকালে আমরা উভয়ই দুই বন্ধু-রাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং দু’দেশের বাণিজ্য নিজস্ব মুদ্রায় পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত পোষণ করি। তিনি আগামী এপ্রিল/মে মাসে ভারতীয় সাধারণ নির্বাচন পরবর্তীকালে দু’দেশের নতুন সরকারের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত পঞ্চ-বার্ষিক সহযোগিতা বিষয়ক রোডম্যাপ প্রণয়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে আমরা মায়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিষয়েও পারস্পরিক মতবিনিময় করি।

এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাইট অনারেবল্ লর্ড ক্যামেরন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রেরিত শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এসময় আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান চলাচল অংশীদারিত্ব, অভিবাসন, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ এবং মায়ানমার ও লোহিত সাগরে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করি।

একই দিনে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন জার্মান আর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রী মান্যবর সভেনিয়া শুলৎজা। আলোচনাকালে আমরা ইইউ-এর জিএসপি+ বাণিজ্য সুবিধাসহ পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জার্মান বিনিয়োগ এবং সার্বিক জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বর্ধিতকরণের বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।

এইদিন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ভ্লাদিমীর জেলেন্স্কি আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে আমরা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং গম, ভোজ্যতেল ও অন্যান্য কৃষিপণ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করি। আমি তাঁকে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের দ্রুত সমাধানের কার্যকর উপায় অন্বেষণের অনুরোধ করি। এছাড়াও আমরা গাজা উপত্যকায় সংঘাতের বিষয়ে মতবিনিময় করি।

এরপর আমি আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ইল্হাম আলিইয়্যেভ-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমরা পরস্পর পরস্পরকে পঞ্চমবারের মতো পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানাই। আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করি। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে নেতৃত্বদানের জন্য আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি আমাকে ধন্যবাদ দেন এবং এবছর নভেম্বরে বাকু-তে অনুষ্ঠিতব্য কপ২৯-এ যোগদানের জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানান। আলোচনাকালে আমরা উভয়ই জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা প্রভৃতি বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি।

এদিন আমি জার্মান চ্যান্সেলর মান্যবর ওলাফ শোলজ্-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বৈঠককালে আমরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও হাইড্রোজেন প্রযুক্তি এবং দক্ষ অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করি। এছাড়াও, আমরা ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গে মতবিনিময় করি এবং এসকল সংঘাত দ্রুত অবসানের বিষয়ে কার্যকর উপায় অন্বেষণের জন্য আমি তাঁকে অনুরোধ করি।

এছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি জার্মান আওয়ামী লীগ আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনা সভায় যোগদান করি এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি আমি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করি।

মিউনিখে আমার এই ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। দেশের আকার নয় বরং নীতির শক্তিতেই যে মানবতার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক মুক্তি, এবারের সম্মেলনে আমি এই বার্তাই বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছি। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমূহের মাধ্যমে বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাথে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আরও দৃঢ় হয়েছে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে।

আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”


ইউনূস আমলের বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে টেনে তোলাই নতুন সরকারের লক্ষ্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাইয়ুম আহমেদ

দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল-নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূসের হাত ধরে এবার ঘুরে দাঁড়াবে দেশের অর্থনীতি; ফিরবে শান্তি, স্বস্তি। কিন্তু সে প্রত্যাশার ছিঁটেফোটাও পূরণ হয়নি; উপরন্তু তার দেড় বছরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, উচ্চ সুদহার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামেনি, বাড়েনি উৎপাদন এমনকি নতুন কর্মসংস্থানও। ফলে প্রবৃদ্ধি নামে তলানিতে। এতে সার্বিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে দেশের অর্থনীতি। এই দুর্বল অর্থনীতিকে সবল করার লক্ষ্য নিয়েই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮,৮৩,০০০ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার। এই বাজেটে গুরুত্ব পাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জ্বালানিসংকট, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি—এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই দিতে হবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট। ভর্তুকি, উন্নয়ন ব্যয় ও ক্রমবর্ধমান দায়দেনার চাপের মধ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই হবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর জন্য সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
তারা আরো বলছেন, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ মৌলিক প্রায় সবখানেই অন্তর্বর্তী সরকারের নানা ঘাপলা ধরা পড়ছে। ঘটনা না ঘটলে বা ফাঁস না হলে তা এত স্পষ্ট না-ও হতে পারত। নতুন বাজেট প্রণয়ন করতে গিয়ে অর্থনীতির দৈন্যদশায় অনেকটাই পথহারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা; যা টেনে আনতে প্রাণান্ত অবস্থা! এই অবস্থার মধ্যেও পূর্ববর্তী ঋণের চাপের সঙ্গে বর্তমান জ্বালানি সংকট যোগ হয়ে নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। অর্থনীতির রক্ত চলাচল ঠিক রাখাই এখন কঠিন। তবে সরকারের আশা ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির সূচনা করা। এ বিষয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর আবদুল বায়েস বলেন, ইউনূস একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল বিপর্যস্ত অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। অথচ তার সময়ে অর্থনীতি আরও মুখ থুবড়ে পড়েছে। সব সূচকই ছিল নিম্নমুখী। ব্যবসাবাণিজ্যে ছিল আস্থার সংকট। শিল্প-কারখানাগুলোর উৎপাদন ছিল নিম্নমুখী। না ছিল কোনো নতুন উদ্যোগ, না এসেছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ। উল্টো দেশে বেকারত্ব ও গরিব মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংকের হিসাবে প্রায় ৩০ লাখ নতুন দরিদ্র হয়েছে ড. ইউনূসের আমলে।
ব্যক্তি খাতের গড় বিনিয়োগ চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন : ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতের গড় বিনিয়োগ হার ছিল জিডিপির ২৪ শতাংশ। ২০২৫ সালের জুনে তা কমে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে আসে। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এক বছরে প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট পতনের ঘটনাটি ছিল গত চার দশকের মধ্যে নজিরবিহীন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে পারে আট লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকা বেশি।
এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ছয় লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা ধরা হলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে দুই লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। এই ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে দুই লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ২ শতাংশ) সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হবে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে আসবে এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত বাজেট কাঠামো অনুযায়ী মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হতে পারে প্রায় ছয় লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব খাত থেকে আয়ের লক্ষ্য পাঁচ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৮.৪ শতাংশ) এবং এনবিআর থেকে কর আদায়ের লক্ষ্য প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার হতে পারে প্রায় দুই লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা বেশি। তবে এবার প্রকল্প বাছাইয়ে কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এই বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে ১ কোটি কর্মসংস্থান, ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি তৈরি এবং ফ্যামিলি, হেলথ ও কৃষক কার্ডসহ জনবান্ধব অঙ্গীকার পূরণের লক্ষ্য। একইসাথে বিনিয়োগবান্ধব করনীতি গ্রহণেও থাকবে বাড়তি গুরুত্ব। এছাড়া বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তি দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়ানোর আলোচনা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অত্যন্ত দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে বর্তমান সরকারকে। একদিকে অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে হবে, অন্যদিকে জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চাপও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন করে অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করেছে।
তিনি স্পষ্ট করেছেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির দিকে এগোতে চায়। অর্থনীতিতে চাপ মোকাবিলায় টাকা ছাপানোর মতো স্বল্পমেয়াদি সমাধানের পথে সরকার হাঁটতে চায় না। বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে টেকসই পথে ফেরানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের দুর্বলতা বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় অনেক সময় সম্ভব হয় না, ফলে উন্নয়ন ব্যয় ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় চাপ তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের পূর্ববর্তী ঋণ এবং বর্তমান জ্বালানি সমস্যার কারণে নতুন করে ঋণ করে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূল্যস্ফীতি বর্তমানে যে পর্যায়ে রয়েছে, আগামীতে তার থেকেও বাড়তে পারে।
তবে বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট হতে যাচ্ছে। এমন এক সময়ে এই বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে, যখন দেশের অর্থনীতি অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আহরণের ধীরগতি, বাজেট বাস্তবায়নে দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, নিম্ন বিনিয়োগ এবং সীমিত কর্মসংস্থানের মতো নানা সমস্যার সম্মুখীন। পাশাপাশি আর্থিক খাতের অস্থিরতা এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধির শ্লথগতিও অর্থনীতির জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে আগামী সময়ে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে উত্তরণের বিষয়টিও একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে রয়েছে। ফলে এই পরিস্থিতিতে নীতিনির্ধারকদের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
ড. ফাহমিদা খাতুনের মতে, নতুন সরকারের জন্য এই বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এর মাধ্যমে তারা নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সূচনা করতে পারে এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে কার্যকর নেতৃত্ব প্রদর্শন করতে পারে। তবে এসব লক্ষ্য অর্জনে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সুসংগঠিত রাজস্ব কাঠামো গড়ে তোলা অপরিহার্য।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ১৮ মাসের মধ্যে নতুন করে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করতে চায়। এক কোটির অর্ধেকও যদি হয়, তাহলে কিন্তু বিনিয়োগটা বাড়াতে হবে। আর বিনিয়োগটা হতে হবে কর্মসংস্থানবান্ধব। এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি পেতে গেলে কিন্তু আমাদের প্রবৃদ্ধির হার হতে হবে প্রায় ৮ শতাংশ, মানে প্রতি বছর প্রায় ৮ শতাংশ করে প্রবৃদ্ধি হতে হবে। এই মুহূর্তে আছে প্রায় ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। যদিও নাজুক অবস্থায় রয়েছে আর্থিক খাত। অভ্যন্তরীণ আয়ে নেই তেমন সুখবর। অর্থবছরের ছয় মাসে লক্ষ্যের তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। বিশাল ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে নতুন বাজেটে দিক নির্দেশনা দরকার।
অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, মূল্যস্ফীতি বহুদিন ধরে উচ্চপর্যায়ে রয়ে গেছে। মূল্যস্ফীতির কারণে স্বল্প আয় ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী নিষ্পেষিত। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকে যদি আকৃষ্ট করা না যায় তাহলে উৎপাদন বাড়বে না, প্রবৃদ্ধি বাড়বে না এবং কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে না। আর্থিক খাত যদি সক্ষম না হয়, তাহলে বিনিয়োগ বা ঋণ প্রবাহ, বেসরকারি খাতে উৎপাদন, কোনোটিতেই কিন্তু সফলতা আসবে না।


মার্চে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৭১ শতাংশে

খাদ্যবহির্ভূত খাতে বেড়েছে ০.০৮ শতাংশ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৬ সালের মার্চে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৭১ শতাংশে। এর আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে এই হার ছিল ৯.১৩ শতাংশ। আগের বছরের মার্চে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.৩৫ শতাংশ।

রোববার (৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৮.২৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৯.৩০ শতাংশ। তবে গত বছরের মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৯৩ শতাংশ। অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে এবছরের মার্চে দাঁড়িয়েছে ৯.০৯ শতাংশে, যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৯.০১ শতাংশ। তবে এই খাতে ২০২৫ সালের মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল তুলনামূলক বেশি, ৯.৭০ শতাংশ।

গ্রামীণ এলাকায় পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি মার্চে দাঁড়িয়েছে ৮.৭২ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারির ৯.২১ শতাংশ থেকে কম। তবে গত বছরের একই সময়ে, অর্থাৎ মার্চ ২০২৫-এ এটি ছিল বেশি—৯.৪১ শতাংশ।

গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৯.০৭ শতাংশ থেকে ৮.০২ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি সামান্য বেড়ে ৯.৩৪ শতাংশ থেকে ৯.৩৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

আগের বছরের মার্চ মাসে গ্রামাঞ্চলে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল যথাক্রমে ৮.৮১ শতাংশ এবং ৯.৯৭ শতাংশ।

শহরাঞ্চলেও মূল্যস্ফীতিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৬৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯.০৭ শতাংশ।

শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯.৮৭ শতাংশ থেকে কমে ৮.৭৮ শতাংশে নেমেছে, তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৮.৫৭ শতাংশ থেকে ৮.৬২ শতাংশ হয়েছে।

আগের বছরের জানুয়ারিতে শহরাঞ্চলে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল যথাক্রমে ৯.১৮ শতাংশ এবং ৯.৯৫ শতাংশ।

বিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে স্বল্প আয়ের দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের গড় মজুরি সামান্য বেড়ে ৮.০৯ শতাংশ হয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৮.০৬ শতাংশ।

যদিও মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৩ শতাংশ থেকে ৮.৭১ শতাংশে নেমেছে, তবুও শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত আয় এখনো পিছিয়ে রয়েছে। ফলে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ৫০ মাস ধরে প্রকৃত আয় হ্রাসের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১১.৬৬ শতাংশে পৌঁছায়, যেখানে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৭.৯৩ শতাংশ—ফলে ৩.৭৩ শতাংশ পয়েন্টের একটি বড় ব্যবধান তৈরি হয়। বর্তমানে সেই ব্যবধান কমে ০.৬২ শতাংশ পয়েন্টে নেমে এসেছে।


সব ধর্মাবলম্বীদের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সুখী, সমৃদ্ধ বেটার বাংলাদেশ গড়তে সব ধর্মাবলম্বীদের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা সব ধর্মের মানুষকে এক চোখে দেখি এবং সবাইকে ভালোবাসি একই রকমভাবে। আমরা বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার, দেশটা সবার। রোববার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ইস্টার সানডে উপলক্ষে এক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান ইস্টার সানডে উপলক্ষে একটি প্রতিনিধি দল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। তাদের সাথে প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা এবং মতবিনিময় করেছেন। প্রধানমন্ত্রী খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সাফল্য কামনা করেছেন।

ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ ইন বাংলাদেশ সভাপতি ফিলিপ পি. অধিকারীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন।

মতবিনিময়ের এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছেন, আমরা সব ধর্মের মানুষকে এক চোখে দেখি এবং সবাইকে ভালোবাসি একই রকমভাবে। আমরা বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার, দেশটা সবার। আসুন দেশটাকে গড়ার লক্ষ্যে সব ধর্মের মানুষ, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সবাইকে সুখী, সমৃদ্ধ একটা বেটার বাংলাদেশ গড়তে একযোগে কাজ করতে হবে, এই লক্ষ্য নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই।

প্রধানমন্ত্রী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে সব ধর্মের মানুষ ভোট দিয়েছে এরকম মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, একটা কথা প্রচলিত ছিল যে, অন্য ধর্মের মানুষজন বিএনপিকে ভোট দেয় না। এটা এবারের নির্বাচনে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপিকে সব ধরনের মানুষ ভোট দিয়ে জয়ী করেছে।

বিগত সরকারের আমলে দেশের অবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছে তখন দেশের ভঙ্গুর দশা ছিলো। অর্থনৈতিক খাতে ভঙ্গুর অবস্থা, যোগাযোগ খাতে ভঙ্গুর দশাসহ বিভিন্ন সেক্টরে যে অবস্থা বিরাজ করছিল, মনে হয়েছে একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের দায়িত্ব নিয়েছি।

ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দেশে জ্বালানি সংকট পরিস্থিতি মোকাবিলার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রেভারেন্ড অসীম বাড়ৈ এবং ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ ইন বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার খ্রীস্টেফার মি. অধিকারী।

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের পক্ষ থেকে নারী প্রতিনিধি, ইস্টার সানডে সরকারি ছুটি ঘোষণা দাবি তুলে নেতৃবৃন্দ তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সহযোগিতা এবং তাদের সহযাত্রী হিসেবে কাজ করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।

প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে নেতৃবৃন্দ জানান, তার জন্য আমাদের ৭ হাজার চার্চে প্রার্থনা হয়েছে, এখন আপনার (তারেক রহমান) সরকারের জন্য প্রার্থনা হয় প্রতিদিন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে খ্রিষ্টান ধর্মালম্বীদের দাবিসমূহ বিবেচনা করে দেখবেন বলে জানান। পরে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ইন্টার সানডে উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীকে ক্রেস্ট উপহার দেওয়া হয়।


১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় শুরু জরুরি টিকাদান

আপডেটেড ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০০:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

হাম মোকাবিলায় দেশে জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় একযোগে এই কর্মসূচি শুরু হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এদিন সকালে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী পাবনা সদরে, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ঝালকাঠির নলছিটিতে এবং স্বাস্থ্যসচিব গাজীপুরে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুরা হাম-রুবেলার টিকা পাবে। কেউ আগে পেয়ে থাকলেও চলমান ক্যাম্পেইনে টিকা নিতে পারবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হামের পরিস্থিতি বর্তমানে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। মূলত যেসব এলাকায় সম্প্রতি হামের প্রকোপ বেশি দেখা গেছে, সেসব ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

বিশেষ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত এলাকাগুলো হলো—বরগুনা জেলার বরগুনা পৌরসভা ও সদর, পাবনার পাবনা পৌরসভা ও সদর, চাঁদপুরের চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর, কক্সবাজারের মহেশখালী, গাজীপুরের গাজীপুর সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, পাবনার ঈশ্বরদী, নেত্রকোনার আটপাড়া, ময়মনসিংহের ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, পাবনার আটঘরিয়া, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ, নওগাঁর পোরশা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, যশোরের যশোর পৌরসভা ও সদর, নাটোরের নাটোর পৌরসভা ও সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং, কক্সবাজারের রামু, চাঁদপুরের হাইমচর, ময়মনসিংহের তারাকান্দা, মাদারীপুরের মাদারীপুর পৌরসভা ও সদর, বরিশালের বাকেরগঞ্জ, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জের মুন্সিগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, পাবনার বেড়া, ঝালকাঠির নলছিটি, শরীয়তপুরের জাজিরা এবং মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর।

যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই সময়ে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে।

টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি আক্রান্ত বা জ্বর আছে—এমন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু টিকাই দেওয়া হবে, অতিরিক্ত কোনো ওষুধ দেওয়া হবে না। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে টিকা দেওয়া হবে। আগের টিকাদান কেন্দ্রগুলো ছাড়াও স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত স্থান, স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রাথমিকভাবে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যক্রম শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। জুলাই মাসের মধ্যে এটি নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চালু থাকবে।

শিশু হামের ভ্যাকসিন পেয়েছে কি, টিকা-কার্ড দেখে জানবেন যেভাবে: এসব এলাকায় পাঁচ বছরের কম বয়সি সব শিশুকে টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে জ্বর বা অন্য কোনো অসুস্থতা থাকলে এখন টিকা দেওয়া হবে না। পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর তাদের টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া রোগের জটিলতা কমাতে হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন সব রোগীকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।


তিন মাসে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার সাড়ে ৩ হাজার অপরাধী: র‌্যাব মহাপরিচালক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত প্রায় সাড়ে ৩ হাজার অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ।

রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

ডিজি বলেন, গত তিন মাসে অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব ৩৩১টি অস্ত্র উদ্ধার ও ১০৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়াও গত তিন মাসে হত্যা সংক্রান্ত মামলায় ৪৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রায় ১৭৫ জন, ছিনতাইকারী ৬১ জন, ডাকাত ১০৬ জন, মানবপাচারকারী ২৬ জনসহ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং পর্নোগ্রাফি মামলায় ৩ হাজার ৪৭৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের বিষয়ে ডিজি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান পরিচালনার সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় র‌্যাব সদস্য নিহতের ঘটনায় ২৯ জনকে অভিযুক্ত করে র‌্যাব একটি মামলা দায়ের করে। এরপর গত ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযান পরিচালনার করে র‌্যাব এবং পুলিশ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে।


সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর, সংসদে বিল পাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর করে সংসদে পাস হয়েছে সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল- ২০২৬।

রোববার (৫ এপ্রিল) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল, ২০২৬ সংসদে উত্থাপন করার পরে তা পাস হয়।

‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাগুলোতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল, ২০২৬’ শীর্ষক বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

এই বিলের আওতায় সিভিল সার্ভিসের সব ক্যাডারের চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২, সিভিল সার্ভিসের আওতা বহির্ভূত অন্যান্য সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, স্ব শাসিত সংস্থাসমূহে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২ এবং প্রতিরক্ষা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চাকরিতে স্ব স্ব বিধিমালা বহাল থাকবে।


অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করবে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটেড ৫ এপ্রিল, ২০২৬ ২৩:৪৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনস। সাক্ষাৎকালে তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের অফিসে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাষ্ট্রদূত এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে দুটি ছবি এবং হোয়াইট হাউসের একটি রেপ্লিকা তুলে দেন। একটি ছবিতে রয়েছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার এবং অপর ছবিতে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়র।

সাক্ষাতে তাদের আলোচনার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জা‌নিয়েছে, উভয়পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তাসহ পারস্পরিক স্বার্থের দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এসময়ে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

এদিকে এই সাক্ষাতের বিষয়ে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণে আমাদের অভিন্ন লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।’


১৭৬ দেশে দেড় কোটি প্রবাসী কর্মরত : প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমানে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে ১ কোটি ৫০ লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছে। এ সকল বাংলাদেশির মর্যাদা, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। রোববার (৫ এপ্রিল) সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আমির হামজার (কুষ্টিয়া-৩) টেবিলে উপস্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী জানান, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে প্রবাসীদের কল্যাণমূলক বিষয়টি চরমভাবে অবহেলিত ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর তাদের কল্যাণে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

গৃহীত পদক্ষেপসমূহ নিম্নরূপ : সংসদে মন্ত্রী জানান, প্রবাসী কর্মীদের প্রশাসনিক, আইনগত এবং কল্যাণমূলক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ২৭টি দেশে বাংলাদেশ মিশনসমূহের বিদ্যমান ৩০টি শ্রম কল্যাণ উইংয়ের বিভিন্ন খাতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড হতে প্রতি অর্থ-বছরে অর্থ বরাদ্দসহ সুষ্ঠুভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ ও লজিস্টিক সাপোর্ট প্রদান করা হয়।

তিনি জানান, প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশিদের মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ আদায় এবং প্রবাসী কর্মীদের আইনগত সহায়তা প্রদানের আইন সহকারীর মাধ্যমে আইনি সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এ সেবা নিশ্চিতকরণে ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে ১১ মিশনের শ্রম কল্যাণ ল’ ফার্ম/প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতায় কর্মীর দেশে আসতে সমস্যা হলে দূতাবাস/হাইকমিশন হতে ট্রাভেল পাশের ব্যবস্থা গ্রহণ; শ্রম কল্যাণ উইং কর্তৃক সংশ্লিষ্ট দেশের বিভিন্ন জেলখানা, ডিটেনশন সেন্টার/ক্যাম্প পরিদর্শন করে আটক কর্মীদের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদান এবং কারামুক্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

মন্ত্রী জানান, দেশের তিনটি প্রধান বিমানবন্দরে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের স্থাপিত প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে প্রবাস থেকে আগত কর্মীদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং দাফন ও পরিবহন খরচ বাবদ তাৎক্ষণিকভাবে ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করা হচ্ছে।

এছাড়া আহত, অসুস্থ বা মৃত প্রবাসী কর্মী পরিবহনের জন্য পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স (এর মধ্যে বর্তমান সরকারের আমলে দুটি ফ্রিজিং) বিনামূল্যে সেবা প্রদান করছে। বিদেশ থেকে গুরুতর আহত বা অসুস্থ হয়ে ফেরত আসা কর্মীদের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রবাস ফেরত আহত ও অসুস্থ কর্মীদের চিকিৎসা সহায়তার সর্বোচ্চ পরিমাণ বর্তমান সরকারের সময়ে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সময়ে ১ লাখ টাকা ছিল।

তিনি জানান, প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের জন্য এইচএসসি/সমমান এবং গ্রাজুয়েশন পর্যায়ে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিবন্ধী সন্তানদের মাসিক ভাতা বর্তমান সরকারের সময়ে ১০০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা করা হয়েছে। প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী কর্মীর পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে।

রেইস প্রকল্পের মাধ্যমে ২ লাখ ৫৩ হাজার বিদেশ ফেরত কর্মীকে পুনঃএকত্রীকরণ ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি আয়বর্ধক বিশেষ প্রশিক্ষণ, রেফারেল এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষা, পুনর্বাসন এবং পরিবারের আর্থিক সহায়তায় সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।


সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধন হবে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবিধান কখনো ‘সংস্কার’ হয় না, বরং এটি রহিত, স্থগিত বা ‘সংশোধন’ হয় বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের অভিপ্রায়কে আমরা সম্মান জানাতে চাই। ২৪-এর জুলাই জাতীয় সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্রের নির্যাসকে আমরা সংবিধানে ধারণ করার অঙ্গীকার করেছি। এটি চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে মনে রাখতে হবে, ৭১-এর স্বাধীনতার সাথে অন্য কিছুর তুলনা চলে না।

রোববার জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তিনি সংবিধান সংশোধনের জন্য সকল দলের সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেন।

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অনেক ‘লেজিসলেটিভ ফ্রড’ বা আইনি প্রতারণা করা হয়েছে। হাইকোর্ট ইতোমধ্যে এর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। বাকি অংশগুলো এই সার্বভৌম সংসদই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাতিল বা সংশোধন করবে। বিশেষ করে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে যে ভুল ইতিহাস ও তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষণা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা বিলুপ্ত করা প্রয়োজন।

এ সময় তিনি আরও যোগ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট থেকে প্রোভিশনাল হেড অফ স্টেট হিসেবে ঘোষণা দেন। এটিই প্রকৃত ইতিহাস যা আমরা সংবিধানে ফিরিয়ে আনতে চাই।

আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস সংবিধানের মূলনীতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সংবিধানে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ নীতিটি পুনর্বহাল করতে চাই। এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকার নির্মূল করেছে। জুলাই সনদে এটি থাকার কথা থাকলেও কোনো কোনো দলের আপত্তির কারণে রাখা হয়নি। তবে আমরা এটি ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং সেই ক্ষমতা প্রয়োগ হয় এই সংসদের মাধ্যমে। আমরা ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ প্রবর্তনের ম্যান্ডেট পেয়েছি, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব করবে।

বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন সরকারি দল, বিরোধী দল এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা মিলে বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে বসে আলোচনা করি। সংবিধান কীভাবে সংশোধিত হবে, তা এই সংসদেই নির্ধারিত হবে। বাইরে থেকে আমদানি করা কোনো প্রেসক্রিপশনে নয় বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


এবার বৈশাখী শোভাযাত্রা হবে ইউনেস্কোকে জানিয়ে দেব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলা নববর্ষে পহেলা বৈশাখে যে শোভাযাত্রাটি হবে, তা আর আনন্দ বা মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে হবে না, এবার সেটি ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে উদযাপিত হবে বলে জানিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার মঙ্গল শোভাযাত্রাকে আনন্দ শোভযাত্রা করেছে। আনন্দ আর মঙ্গলের পার্থক্য নেই। আপাত দৃষ্টিতে এসব নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার কিছু নেই। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব পালন করছে। আমরা এটার নাম দিয়েছি বৈশাখী শোভাযাত্রা। আমারা ইউনেস্কো কে জানিয়ে দেব- এটার নাম হবে এখন বৈশাখী শোভাযাত্রা।

রোববার রাজধানীর সচিবালয়ে বাংলা নববর্ষ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বিভাজন বা সংঘাত চাই না। আমরা পহেলা বৈশাখের উদযাপন নাম নিয়ে সংকট তৈরি করতে চাই না। আমাদের সিদ্ধান্ত হলো আনন্দ বা মঙ্গল শোভাযাত্রা নয়। এটার নাম হবে বৈশাখী শোভাযাত্রা।

তিনি আরও বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের সংস্কৃতির ঐতিহাসিক ঐতিহ্য। নানা আয়োজনে অতীত থেকেই এটা দেশে পালন করা হচ্ছে। হাজার বছরের পুরনো পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা নিয়ে নানা মত-দ্বিমত রয়েছে। এরশাদের সময়ে এটা আনন্দনযাত্রা, আবার পতিত আওয়ামী লীগের সময়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়েছে।


এলডিসি উত্তরণে দেশ এখনো পুরো প্রস্তুত নয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠলেও এখনো সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর মতো পূর্ণ প্রস্তুতি নেই বলে জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ দেনার চাপ, উচ্চ সুদের হারে ঋণ গ্রহণের ঝুঁকি এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

রোববার শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বহুপক্ষীয় পরামর্শসভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের উত্তরণ প্রস্তুতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সংস্থা UN-OHRLLS একটি স্বতন্ত্র মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে, যার মূল বিষয়গুলো এই সভায় উপস্থাপন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়বে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়াবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং বাংলাদেশ এখনো তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘদিন এই চাপ বহন করা সরকারের জন্য সম্ভব নয়।

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার জনগণের ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে চায় না। কিন্তু সরকারি তহবিল থেকে ধারাবাহিক ব্যয় চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব জনগণের ওপরই পড়বে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। যেন জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা যায় এবং অন্যদিকে অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত হয়।’

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই নিম্নমুখী। সরকার এখন অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, কিন্তু জ্বালানি খাতে ভর্তুকি, বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভরতার কারণে চাপ আরো বাড়ছে।’

সংকট উত্তরণে সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সংস্কার ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হবে।’ এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘বর্তমানে উত্তরণ প্রক্রিয়া কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে উত্তরণ একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হয়ে উঠবে।’

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মিজ রাবাব ফাতিমা এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।


হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ১২ মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গত এক দিনে আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

রোববার (৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা বিভাগে একজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি উপসর্গ নিয়ে খুলনা বিভাগে ৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জন মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৫৪ জন। একই সময়ে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭৪ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে দেশে মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৯২৯ জনে পৌঁছেছে। এ সময় পর্যন্ত সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৭০ জন।

এদিকে একই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৩৮০ জন রোগী।


সরকারি চাকরিতে প্রবেশসীমা ৩২ বছর করে সংসদে বিল পাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাসহ সব ক্ষেত্রে সরাসরি নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ (বত্রিশ) বছর নির্ধারণ করতে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

রোববার (০৫ এপ্রিল) বিকেলে ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাগুলোতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল, ২০২৬’ শীর্ষক বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

বিলের মূল বিধানগুলোতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) সব ক্যাডার এবং বিসিএস বহির্ভূত সব সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৩২ বছর। স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর যেসব পদে নিয়োগের বয়সসীমা আগে ৩০ বা অনূর্ধ্ব ৩২ ছিল, সেখানেও এখন থেকে বয়সসীমা ৩২ বছর হবে।

অপরিবর্তিত উচ্চতর বয়সসীমায় যেসব পদের নিয়োগ বিধিমালায় বয়সসীমা এর আগে ৩২ বছরের বেশি (যেমন : ৩৫, ৪০ বা ৪৫ বছর) নির্ধারিত আছে, সেই ক্ষেত্রে আগের উচ্চতর বয়সসীমাটিই বহাল থাকবে। অর্থাৎ এই আইনের ফলে কারও সুযোগ কমবে না। এছাড়া প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব বিদ্যমান বিধিমালা অপরিবর্তিত থাকবে।

বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষিত বেকার যুবকদের দেশ গঠনে আরও বেশি সুযোগ করে দিতে এবং শ্রমবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে এই বয়সসীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে জারি করাত এ সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ রহিত করে সেগুলোকে স্থায়ী আইনি রূপ দিতেই এই নতুন বিলটি আনা হয়েছে।

বিলের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে অধ্যাদেশ জারির ফলে কিছু কারিগরি জটিলতা তৈরি হয়েছিল, যেখানে কিছু বিশেষায়িত পদে উচ্চতর বয়সসীমা কমে গিয়েছিল। বর্তমান বিলের মাধ্যমে সেই অস্পষ্টতা দূর করা হয়েছে এবং ৩২ বছরের বেশি বয়সসীমা নির্ধারণ করা পদগুলোর বিদ্যমান নিয়ম বহাল রাখা হয়েছে।


banner close