প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, জার্মানির মিউনিখে তার ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি আজ তাঁর মিউনিখ সফরের বিষয়ে রাজধানীর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।
তাঁর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ নিচে দেয়া হলো:
“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম। শুভ সকাল। গত ১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত ৬০তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন মূলতঃ রাষ্ট্র/সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, সরকারি এবং বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিগণের অংশগ্রহণ করেন। এটি সমকালীন ও ভবিষ্যত নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্চ-পর্যায়ের নিয়মিত আলোচনার একটি শীর্ষস্থানীয় ফোরাম হিসেবে বিবেচিত। এ বছরের ফোরামে ৩৫-জনেরও বেশী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান অংশগ্রহণ করেছেন।
বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দিতা এবং আঞ্চলিক সংঘাত, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নিউক্লিয়ার নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু নিরাপত্তা, তথ্য নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা, অভিবাসন, সাপ্লাই চেইন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মহামারি ইত্যাদি বিষয়ে এবারের ফোরামে আলোচনা করা হয়।
সফরের প্রথম দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি ‘ফ্রম পকেট টু প্লানেট: স্কেলিং আপ ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করি। এই আলোচনায় আমার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত মান্যবর জন কেরি, বারবাডোসের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মিয়া আমোর মটলে, এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোসা জামির।
প্যানেলটিতে উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে আমি বক্তব্য প্রদান করি। বক্তব্যের শুরুতেই আমি গাজা ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহ, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং নিরস্ত্র মানুষের, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের, অমানবিক হত্যার কবল থেকে মুক্ত করে সকল প্রকার যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার জোর আহ্বান জানাই। আর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা-নিষেধাজ্ঞার বিরূপ প্রভাব যে যুদ্ধক্ষেত্র থেকেও বহুদূর পর্যন্ত অনুভূত হয়, এ বিষয়ে আমি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। এ প্রসঙ্গে আমি অর্থহীন অস্ত্র-প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় রসদ ও অর্থায়ন সহজলভ্য ও কার্যকর করার জন্য সকলকে অনুরোধ করি। মানবতার অস্তিত্বের সংটকালে ক্ষুদ্র স্বার্থ যে শুধু অনর্থই বয়ে আনে - এই রূঢ় বাস্তবতা আমি সকলের সামনে তুলে ধরি। আর তাই, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানাই।
আমি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার জন্য বিশ্বের সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বহুবিধ নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ও জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের পরিমাণ বৃদ্ধি, প্রতিশ্রুত অর্থের বাস্তবিক হস্তান্তর, ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিতকরার উপর আমি বিশেষভাবে জোর দেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় আমি ধনী দেশসমূহের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই।
এদিন আমার হোটেল স্যুইটে উইমেন পলিটিক্যাল লিডার্স (ডব্লিউপিএল)-এর সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মিসেস সিলভানা খক্ মেহরিন আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান এবং গত দেড় দশকে বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য আমাকে ডব্লিউপিএল-জি ট্রাইলব্লাজের এওয়ার্ড ২০২৩ গ্রহণের জন্য তিনি আমাকে আগামী ২০ মার্চ ২০২৪ তারিখ এথেন্সে অনুষ্ঠিতব্য ডব্লিউপিএল সামিট-এ অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। আলোচনায় আমি আমাদের সরকারের- বিশেষ করে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত নীতিসমূহের বিষয়ে আলোকপাত করলে এ বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বাংলাদেশের নীতি ও কার্যক্রমসমূহ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
একইদিন আমি কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোহাম্মদ বিন্ আব্দুলরাহ্মান আল-সানি-র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জ্ঞাপনের পাশাপাশি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, এলএনজি সরবারহ প্রভৃতির পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই ও দ্রুত সমাধানে কাতারের অব্যাহত সমর্থনের ব্যাপারে তিনি আশ্বস্ত করেন। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সহিংসতা বন্ধে একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও আমরা আলোচনা করি।
এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন নীতি ও অংশীদারিত্ব বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মান্যবর আক্সেল ভন ট্রটসেনবার্গ। বাংলাদেশে ও বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের অংশীদারিত্বের প্রেক্ষাপটে আমি মধ্যম আয়ের দেশভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবদানের আলোকে বর্তমান অর্থবছরে বাজেট সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংক হতে অঙ্গীকারকৃত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দ্রুত ছাড়ের আহ্বান জানাই। পাশাপাশি আমি জোরপূর্বক স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে এবং এই সমস্যার বিরূপ প্রভাবে আক্রান্ত দেশ হিসেবে বাংলাদশকে প্রদত্ত ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন সহায়তার জন্যও তাকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয় ও উচ্চ-আয়ের দেশের পর্যায়ে উত্তীর্ণ হবার কাঙ্ক্ষিত পথে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেন।
একই দিনে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মান্যবর ডক্টর টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসাস আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে-বিশেষ করে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আসন্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশে আমাকে আমন্ত্রণ জানান এবং বিশ্বের বাকি দেশসমূহকে বাংলাদেশের কম্যুনিটি ক্লিনিক মডেল অনুসরণ করার বিষয়ে অনুপ্রাণিত করার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন।
আলোচনাকালে আমি বর্তমান সরকারের সেকেন্ডারি ও টার্শিয়ারি স্বাস্থ্যসেবা, টীকা উৎপাদন, এন্টি-মাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ, নার্সিং ও অন্যান্য স্বাস্থ্যখাতে মানব সম্পদ উন্নয়ন ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের কথা উল্লেখ করে এতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তা আশা করি। এ বিষয়ে মহাপরিচালক আমাকে আশ্বস্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক অতিমারি চুক্তি-এর দ্রুত সমাপনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমর্থন কামনা করেন।
এইদিন আমার সঙ্গে আরও সাক্ষাৎ করেন মেটা-জি গ্লোবাল এফেয়ার্স এর প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী স্যার নিক্ ক্লেগ্। তিনিও আমাকে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতের উন্নয়ন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্র সুবিস্তারে সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রংসা করেন তিনি। আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনে আমাদের সফলতা তুলে ধরি এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ ও তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে মেটা-এর সহযোগিতা আশা করি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে বিভিন্ন মেটা প্ল্যাটফর্ম যেমন ফেইসবুক, হোয়াটস্অ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম প্রভৃতির ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারির সুউচ্চ সংখ্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি বাংলাদেশে মেটা-এর একটি কার্যালয় স্থাপনের পরামর্শ দিই।
প্রথম দিন আমি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মেটে ফ্রেডরিক্সেন-এর সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমাকে ও আমাদের নবগঠিত সরকারকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানোর জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আলোচনাকালে বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আইসিটি খাতে ড্যানিশ কোম্পানিসমূহের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের পাশাপাশি তিনি বিরাজমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকারের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকার বিষয়েও আমাকে আশ্বস্ত করেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মার্ক রুটে আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। আলোচনাকালে আমরা দু’জনই বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতসমূহে জ্ঞান-প্রযুক্তি-উদ্ভাবন বিস্তারে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও গভীরতর করার বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।
একইদিন সকালে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী মান্যবর ডক্টর এস. জয়শংকর। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। সাক্ষাৎকালে আমরা উভয়ই দুই বন্ধু-রাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং দু’দেশের বাণিজ্য নিজস্ব মুদ্রায় পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত পোষণ করি। তিনি আগামী এপ্রিল/মে মাসে ভারতীয় সাধারণ নির্বাচন পরবর্তীকালে দু’দেশের নতুন সরকারের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত পঞ্চ-বার্ষিক সহযোগিতা বিষয়ক রোডম্যাপ প্রণয়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে আমরা মায়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিষয়েও পারস্পরিক মতবিনিময় করি।
এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাইট অনারেবল্ লর্ড ক্যামেরন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রেরিত শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এসময় আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান চলাচল অংশীদারিত্ব, অভিবাসন, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ এবং মায়ানমার ও লোহিত সাগরে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করি।
একই দিনে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন জার্মান আর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রী মান্যবর সভেনিয়া শুলৎজা। আলোচনাকালে আমরা ইইউ-এর জিএসপি+ বাণিজ্য সুবিধাসহ পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জার্মান বিনিয়োগ এবং সার্বিক জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বর্ধিতকরণের বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।
এইদিন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ভ্লাদিমীর জেলেন্স্কি আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে আমরা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং গম, ভোজ্যতেল ও অন্যান্য কৃষিপণ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করি। আমি তাঁকে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের দ্রুত সমাধানের কার্যকর উপায় অন্বেষণের অনুরোধ করি। এছাড়াও আমরা গাজা উপত্যকায় সংঘাতের বিষয়ে মতবিনিময় করি।
এরপর আমি আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ইল্হাম আলিইয়্যেভ-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমরা পরস্পর পরস্পরকে পঞ্চমবারের মতো পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানাই। আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করি। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে নেতৃত্বদানের জন্য আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি আমাকে ধন্যবাদ দেন এবং এবছর নভেম্বরে বাকু-তে অনুষ্ঠিতব্য কপ২৯-এ যোগদানের জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানান। আলোচনাকালে আমরা উভয়ই জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা প্রভৃতি বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি।
এদিন আমি জার্মান চ্যান্সেলর মান্যবর ওলাফ শোলজ্-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বৈঠককালে আমরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও হাইড্রোজেন প্রযুক্তি এবং দক্ষ অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করি। এছাড়াও, আমরা ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গে মতবিনিময় করি এবং এসকল সংঘাত দ্রুত অবসানের বিষয়ে কার্যকর উপায় অন্বেষণের জন্য আমি তাঁকে অনুরোধ করি।
এছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি জার্মান আওয়ামী লীগ আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনা সভায় যোগদান করি এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি আমি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করি।
মিউনিখে আমার এই ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। দেশের আকার নয় বরং নীতির শক্তিতেই যে মানবতার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক মুক্তি, এবারের সম্মেলনে আমি এই বার্তাই বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছি। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমূহের মাধ্যমে বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাথে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আরও দৃঢ় হয়েছে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে।
আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”
বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে শতভাগ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার মতে, প্রতিবেশী দেশ ভারতেও শতভাগ ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন সম্ভব হয় না এবং সেখানে নিয়মিতভাবেই নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে; তবে ফলাফল ঘোষণার পর সবাই তা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মেনে নেয়। সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপ মিলনায়তনে ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) ও অধিকারের যৌথ আয়োজনে ‘২০২৬ সালের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা: গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথের ওপর প্রভাব’ শীর্ষক এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে শিষ্টাচার ও সহনশীলতার ওপর জোর দিয়ে এই বিএনপি নেতা বলেন, সরকার ও বিরোধী দল উভয়কেই রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সময় ভাষা, শব্দচয়ন এবং বাক্যবিন্যাসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। রাজনৈতিক নেতাদের উসকানিমূলক বা আক্রমণাত্মক ভাষার কারণে সাধারণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে সহজেই সহিংসতার মানসিকতা তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। রিজভী মনে করেন, একটি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যত কঠোর আইনই প্রণয়ন করা হোক না কেন, মানুষের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন না ঘটলে সেসব আইনি উদ্যোগ কখনোই পুরোপুরি কার্যকর হবে না।
দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সাংগঠনিক ব্যবস্থার বিষয়টি উল্লেখ করে রিজভী জানান, গত ৫ আগস্টের পর থেকে সাম্প্রতিক সময়ে দলের নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগে অনেক নেতা-কর্মীকে দল ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন থেকে বহিষ্কার, অব্যাহতি এবং শোকজ করা হয়েছে। তিনি বিষয়টিকে দলের একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, অতীতে কোনো বিরোধী দলের কার্যালয় ভাঙচুর বা প্রতিহত করলে ‘রংবাজ’ বা ‘মাসলম্যান’দের প্রশংসা করা হতো। কিন্তু বর্তমানে বিএনপি দলীয় কোনো মাস্তান, সন্ত্রাসী বা দখলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিচ্ছে না এবং এমন কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতাই প্রমাণ করে যে দলটি সঠিক পথে রয়েছে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করা বিরোধী দলের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তবে সেই সমালোচনা অবশ্যই গঠনমূলক, পারস্পরিকভাবে উপকারী এবং ভবিষ্যৎমুখী হতে হবে, যা গণতন্ত্রের পথচলাকে আরও মসৃণ করবে এবং রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পূর্ণ বিকাশ ঘটাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রের সুস্থ চর্চার জন্য অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজেদের অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। একতরফাভাবে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষকে দায়ী না করে সরকার ও বিরোধী দল উভয় পক্ষের ভূমিকাই বিবেচনা করতে হবে, কারণ তার ভাষায়, ‘এক হাতে তালি বাজে না।’
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মাগুরা দাখিল মাদ্রাসায় এবার দাখিল পরীক্ষায় এক নজিরবিহীন ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৭ জন শিক্ষক কর্মরত থাকার পরও চলতি বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১৯ জন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। অর্থাৎ, এবারের দাখিল পরীক্ষায় মাদ্রাসাটির পাসের হার একেবারেই শূন্য। বিপুলসংখ্যক শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও একজন শিক্ষার্থীরও উত্তীর্ণ হতে না পারার এই ঘটনা স্থানীয় জনমনে ব্যাপক বিস্ময় ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
মাদ্রাসাটির অতীত ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করলে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটি ২০০১ সালে এমপিওভুক্তির সুযোগ পায়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৭ জন শিক্ষক এবং চারজন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। এমপিওভুক্ত হওয়ার পর দুই দশকের বেশি সময় পার হলেও প্রতিষ্ঠানটিতে এখনো পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষসহ নানাবিধ অবকাঠামোগত সংকট রয়ে গেছে। প্রত্যন্ত চলনবিল এলাকায় এবং উপজেলা সদর থেকে প্রায় আট-নয় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষক মাদ্রাসার আশপাশে না থেকে ভাঙ্গুড়া উপজেলা সদরে বসবাস করেন। যাতায়াতের এই দূরত্বের অজুহাতে শিক্ষকরা নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হন না বলে স্থানীয়রা গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
শিক্ষকদের এই নিয়মিত অনুপস্থিতি এবং পাঠদানে চরম গাফিলতির কারণেই মূলত দীর্ঘ এক দশক ধরে প্রতিষ্ঠানটির দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে ধারাবাহিকভাবে এমন বিপর্যয় ঘটছে বলে দাবি করেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহিম আক্ষেপ করে জানান, শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানে এসে ঠিকমতো পড়ান না, শুধু মাস শেষে বেতন তোলেন; যার কারণে এলাকার সচেতন অভিভাবকরা এখন আর তাদের সন্তানদের এই মাদ্রাসায় ভর্তি করাতে চান না। তবে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ওঠা এই গাফিলতির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার না করলেও ফলাফলের এই চরম বিপর্যয়ের দায় শিক্ষার্থীদের কাঁধেই চাপিয়েছেন মাদ্রাসার সুপার জাকির হোসাইন। তার দাবি, গ্রামের ছেলেরা পড়াশোনায় মনোযোগী না হওয়ার কারণেই মূলত সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন করুণ দশা ও ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরেও এসেছে। এ প্রসঙ্গে ভাঙ্গুড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান জানিয়েছেন, কেন এমন ফলাফল বিপর্যয় ঘটল, সে বিষয়টি তারা গভীরভাবে খতিয়ে দেখবেন। তবে শিক্ষাবিদ ও সচেতন মহলের মতে, কেবল শিক্ষার্থীদের ওপর দায় চাপিয়ে শিক্ষকদের পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পরও দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চলে আসা এই শিক্ষার্থী সংকট ও ফলাফলের ধারাবাহিক বিপর্যয় ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে কঠোর ও কার্যকর তদন্ত সাপেক্ষে পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীদের অবয়বে ভাস্কর্যসহ অন্যান্য সকল ভাস্কর্য স্থাপনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটি এই পদক্ষেপকে ইসলামি শরিয়তের সুস্পষ্ট বিধানের চরম লঙ্ঘন এবং আলেম সমাজের আত্মত্যাগের সঙ্গে উপহাস হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতের আমির মাওলানা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী এবং মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান এ বিষয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে জাদুঘর থেকে এসব ভাস্কর্য উচ্ছেদ ও অপসারণের জোর দাবি জানান।
বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, ইসলামের বিধান অনুযায়ী যেকোনো মানুষের ভাস্কর্য নির্মাণ সম্পূর্ণ হারাম ও অবৈধ। কারও রাজনৈতিক পরিচয় বা অবদান যত বড়ই হোক না কেন, শরিয়তের বিধানকে তোয়াক্কা না করে মনগড়া কিছু করার অধিকার কারও নেই। তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যে আলেম সমাজ অতীতে ভাস্কর্য ও মূর্তি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে নিজেদের জীবন দিয়েছেন এবং কারা নির্যাতন ভোগ করেছেন, আজ স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে তাদেরই অবয়বে ভাস্কর্য নির্মাণ করা হচ্ছে। এই ঘটনাকে তারা একটি চরম মর্মান্তিক ও নজিরবিহীন বৈপরীত্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে, এটি কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক বিপ্লব এবং বীর শহীদদের মহান ত্যাগের কথা জাতি আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে বলে স্বীকার করলেও, হেফাজত নেতারা জোর দিয়ে বলেন যে, স্মৃতিরক্ষার নামে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও ইসলামি মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়। ভাস্কর্য নির্মাণের মতো অশুভ সংস্কৃতি পরিহার করে ইতিহাসকে চিরস্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য তারা শরিয়তসম্মত দুটি সুনির্দিষ্ট বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রথম প্রস্তাবটি হলো, আন্দোলনের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে জাদুঘরে ভাস্কর্যের পরিবর্তে লিখিত ইতিহাস, প্রামাণ্য দলিলপত্র এবং বিপ্লবী নথিসমূহ সংরক্ষণ করে তা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা।
দ্বিতীয় প্রস্তাব হিসেবে তারা দাবি করেছেন যে, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের মর্মান্তিক ঘটনা, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলনে চালানো গণহত্যাসহ ইসলামের জন্য আলেম ও তৌহিদি জনতার আত্মত্যাগ এবং ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস জাতীয় পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা স্মরণ করিয়ে দেন যে, মহানবী (সা.)-এর সাহাবিদের কোনো ভাস্কর্য ছিল না, তবুও তাদের আদর্শ আজও সারা বিশ্বে আলো ছড়াচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোনো প্রকার কালক্ষেপণ না করে জুলাই জাদুঘর থেকে এসব ভাস্কর্য অনতিবিলম্বে অপসারণের আহ্বান জানানো হয়েছে; অন্যথায় আলেম সমাজ নিজেদের নীতি ও আকিদা রক্ষার্থে নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশের প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘৭১ ও ২৪-এ যারা দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য লড়াই করা, যেখানে মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে এবং সবাই শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।’
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশ স্কাউটসের শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ এ কথা জানান।
তিনি জানান, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল দেশে একটি পরিবর্তন আনা। এমন একটি পরিবর্তন, যার মধ্য দিয়ে মানুষের মৌলিক চাহিদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষ অন্তত শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।’
শহীদদের আত্মত্যাগের ঋণ শোধ করার ক্ষমতা কারও নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা শহীদ হয়েছেন, তারা একটি মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য লড়াই করতে গিয়ে তাদের জীবন দিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে হলে শুধু তাদের স্মরণ করলেই হবে না; তাদের মধ্যে থেকে আমরা যারা বেঁচে আছি, আমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ জায়গা থেকে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।'
বাংলাদেশ স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে দেশের জন্য এবং দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।'
তিনি বলেন, 'মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রাণ-প্রকৃতির পাশে থাকার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার পাশাপাশি অন্যদেরও এ কাজে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশ স্কাউটসের ১০ শহীদ পরিবারের হাতে আর্থিক অনুদানের চেক ও সম্মাননা পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
উপ-প্রেস সচিব জানান, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি নাসিমুল গণি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের অবদান ও আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে জাতীয় পাঠ্যক্রমে তাদের ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানের মধ্যে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর নৌবাহিনী সদর দপ্তরে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নবনিযুক্ত প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এনবিপি, এনপিপি, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল, পিএইচডি এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ এসজিপি, বিএএম, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি।
অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান। এ সময় দুই বাহিনীর পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং কৌশলগত নিরাপত্তায় সমন্বিতভাবে কাজ করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা জোরদার, পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদান, কারিগরি ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থে দুই বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দেশের স্থিতিশীলতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদারের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাক্ষাৎ শেষে দুই বাহিনীর পারস্পরিক সুদৃঢ় বন্ধন ও সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে স্মারক উপহার ও ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়।
এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে দুই বাহিনীর যৌথ কার্যক্রম, পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তঃবাহিনী সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি আসবাবপত্র তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার এক আনুষ্ঠানিক শোক বার্তায় তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি তাঁর আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং তাঁদের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রী এই হৃদয়বিদারক ঘটনার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন এবং তিনি নিয়মিতভাবে এর আপডেট গ্রহণ করছেন। তিনি পর্যায়ক্রমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে একটি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নিহতদের মরদেহ দ্রুততম সময়ে স্বদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সকল প্রকার আর্থিক ও প্রশাসনিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন। মরদেহের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে এবং তাঁদের পরিবারকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় এই বিধ্বংসী আগুনের ঘটনা ঘটে, যেখানে কর্মরত ১৬ জন প্রবাসী বাংলাদেশি প্রাণ হারান। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক প্রয়াণে সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ইসলামী ব্যাংক পিএলসি থেকে অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং শিল্পপতি এস আলমসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। সম্প্রতি ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ করপোরেট শাখার সহকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইয়াসীন আলী ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি দায়ের করেন।
দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণভার গ্রহণ করার পর ‘সুপ্রভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড’ নামক একটি অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা জালিয়াতির মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ কোটি টাকা করা হয়। পরবর্তীতে এই বিশাল অংকের অর্থ নিয়মবহির্ভূতভাবে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ওই সময়ে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত মো. সাহাবুদ্দিন এবং ব্যাংকের সাবেক তিন ব্যবস্থাপনা পরিচালক—মনিরুল মাওলা, আব্দুল হামিদ মিয়া ও মাহবুব উল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই অবৈধ ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। তাঁরা অনৈতিকভাবে ঋণ অনুমোদন দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অ্যাননটেক্স গ্রুপের ইউনুস বাদলের সহযোগী এই প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নিয়মবহির্ভূতভাবে ঋণ বরাদ্দ পাইয়ে দিতে ব্যবসায়ী এস আলম মূল প্রভাব বিস্তারকারী ভূমিকা পালন করেছেন। চারটি স্বতন্ত্র নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত তদন্তে এই ঋণ অনুমোদন ও অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সরকার বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতিসহ সব ক্ষেত্র ধ্বংস করে গিয়েছে ফ্যাসিবাদী সরকার। এবার তা পুনর্গঠনের পালা। সেই লক্ষ্যেই কাজ অব্যাহত আছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি, দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রা পথে অবশ্যই এসডিজির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এসডিজি ভিলেজ পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় তিনটি এসডিজি গ্রামের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনটি গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ হিসেবে উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। গ্রামগুলো হলো— রাঙামাটি কাপ্তাইয়ের মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনা দাকোপ উপজেলার পানখালী ও দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনও এক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের পক্ষে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘কাউকে পেছনে ফেলে নয়’ এই মূলনীতির সঙ্গে বর্তমান সরকারের জননীতিরও মিল রয়েছে। সব শ্রেণি-পেশা তথা জনগণের স্বার্থ নিশ্চিতকরার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নীতি হলো, ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ যেভাবে মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্টগোল-এমডিজি বাস্তবায়নে সাফল্যের পরিচয় দিয়েছিল, একইভাবে সাস্টেইন্যাবল ডেভেলপমেন্ট গোল-এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ যথাযথভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে চলছে।
অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন– এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের অভিপ্রায়ে দেশের তিনটি গ্রামকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এসডিজি ভিলেজ’ পাইলট প্রকল্প হিসেবে উদ্বোধন করেছেন। আজ সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই বিশেষ প্রকল্পের শুভ সূচনা করেন। রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি গ্রাম, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী গ্রাম এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর গ্রামকে এই মডেল প্রকল্পের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
‘দেশের টেকসই উন্নয়নে অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ’ শীর্ষক বৃহৎ প্রকল্পের অধীনে এই উদ্যোগটি পরিচালিত হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো এসডিজির মোট ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা তৃণমূল পর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বাচিত গ্রামগুলোতে পর্যায়ক্রমে দারিদ্র্য বিমোচন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষিজমির নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হবে। এছাড়া মানসম্মত শিক্ষার প্রসার, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরে জানানো হয় যে, এসডিজি ভিলেজগুলোতে প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানীয় জল নিশ্চিত করার পাশাপাশি আধুনিক স্যানিটেশন সুবিধার ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটানো হবে। সরকারের এই যুগান্তকারী ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত হতে পেরে সংশ্লিষ্ট তিন গ্রামের বাসিন্দারা গভীর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাঁদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাত করেছেন। গত জুনে দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হাইকমিশনার জানান যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও সেদেশের জনগণ বাংলাদেশের সাথে একটি চমৎকার ও টেকসই সুসম্পর্ক বজায় রাখার প্রত্যাশা করেন। আলোচনায় ইতিবাচক আগামীর ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতের জনগণ চায় দুদেশের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক, আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীও চান সুন্দর সম্পর্ক। ভবিষ্যতে ভালো কিছু হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে আলোচনাকে অত্যন্ত আন্তরিক ও ফলপ্রসূ অভিহিত করে দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে অনেক ইস্যু থাকবে, তবে সবই সমাধানযোগ্য।’ বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান। জবাবে হাইকমিশনার ঢাকায় গত দুই মাস দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে নিবিড় আলোচনা সম্পন্ন হয়।
আলোচনাকালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া দ্রুত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সাথে উত্থাপন করা হয়েছে। একই সাথে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও ভারতের প্রতি পূর্বের অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিতে একটি অনুকূল ও উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
এই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে হাইকমিশনার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথেও পৃথক বৈঠক করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আজ সোমবার (১০ আগস্ট) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠকটি শুরু হয়। প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকটি এখনও চলমান রয়েছে।
বৈঠকের সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ধারণা করছে যে, বৈঠকে সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনা, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনার এক অনুষ্ঠানে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনার মাধ্যমে সকল অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে আজকের এই সাক্ষাৎটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। আজ সোমবার (১০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক শোক বিবৃতিতে এই সমবেদনা জানানো হয়।
বিবৃতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী নিহত প্রবাসীদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তাঁরা উল্লেখ করেন যে, এই অপূরণীয় ক্ষতি ও কঠিন সময়ে সরকার শোকগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকবে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত মরদেহ দেশে পাঠানোর বিষয়ে দূতাবাস সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার (৯ আগস্ট) রিয়াদের সেই সোফা কারখানায় এই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাণ হারানো ১৬ জন বাংলাদেশির সবার বাড়ি দেশের নওগাঁ ও নাটোর জেলায়। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে ওই এলাকাগুলোতে বর্তমানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের (এমপি) গোপন ব্যালটে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্য দিয়ে ৩৫ বছর পর আবারও ফিরছে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন।
১৯৯১ সালের পর এটিই প্রথম নির্বাচন যেখানে দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একক কোনো প্রার্থীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হচ্ছে না, বরং সংসদ সদস্যদের সরাসরি গোপন ব্যালটে ভোটদানের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যরাই এই নির্বাচনের ভোটার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় গণতন্ত্র চর্চায় এটি একটি বড় ইতিবাচক দিক।
বিএনপির প্রার্থী: মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন দিচ্ছে বিএনপি। তিনি বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। গতকাল রোববার বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে তাকে চূড়ান্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ১২ আগস্ট এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
এর আগে গত ১ আগস্ট বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল জানান, দলের প্রার্থী চয়ন ও নির্বাচনের বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। গতকাল চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী: ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধী দলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এর আগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বেলা সাড়ে ১১টায় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
যেভাবে ভোটগ্রহণ: জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার বা রিটার্নিং কর্মকর্তার উপস্থিতিতে একটি নির্ধারিত ‘পোলিং বুথ’ স্থাপন করা হবে। গোপন ব্যালট পেপারে সংসদ সদস্যরা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ফেলবেন। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা করে তাৎক্ষণিকভাবে ফল প্রকাশ করা হবে। এছাড়া শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যেই ৬টি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রথম রাষ্ট্রপতি
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন করা হয়েছিল সম্পূর্ণ এক ভিন্ন পরিস্থিতিতে। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার ঐতিহাসিক ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র’ জারি করে শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষণা করে। তিনি তখন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকায় উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কোনো সংসদীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নন, বরং ঘোষণাপত্রের মাধ্যমেই নিযুক্ত হয়েছিলেন। ঘোষণাপত্রটি ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ করা হলেও এর কার্যকারিতা ২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে ধরা হয়।
স্বাধীনতার পর থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি বারবার পরিবর্তিত হয়েছে—কখনো সরাসরি জনভোট, কখনো সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট, আবার কখনো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কিংবা সামরিক ও রাজনৈতিক পালাবদলের মাধ্যমে।
১৯৭২–১৯৭৪: ১৯৭২ সালের অস্থায়ী সংবিধান আদেশের মাধ্যমে সংসদীয় ব্যবস্থা চালু হলে শেখ মুজিব প্রধানমন্ত্রী হন এবং ১২ জানুয়ারি বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। ১৯৭২ সালের সংবিধান ১৬ ডিসেম্বর কার্যকর হওয়ার পর ১৯৭৩ সালের ১০ এপ্রিল সংসদ সদস্যদের ভোটে তিনি পুনর্নির্বাচিত হন। তিনি পদত্যাগ করলে তৎকালীন স্পিকার মোহাম্মদ মুহম্মদুল্লাহ ১৯৭৪ সালের ২৭ জানুয়ারি একমাত্র প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পূর্ণ রাষ্ট্রপতি হন।
১৯৭৫ (একদলীয় শাসন ও সামরিক পটপরিবর্তন): ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থা চালু করা হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি হন। ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমদ নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ৬ নভেম্বর বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন এবং সামরিক আইন জারি করেন। ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ তিনি পদ ছাড়লে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হন।
১৯৭৮ ও ১৯৮১ (সরাসরি জনভোট): ৩ জুন ১৯৭৮ বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার সাধারণ ভোটাররা সরাসরি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন, যেখানে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের প্রার্থী জিয়াউর রহমান জয়ী হন (তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জেনারেল এম এ জি ওসমানী)। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর ১৫ নভেম্বর পুনরায় সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বিএনপির আবদুস সাত্তার নির্বাচিত হন।
১৯৮২–১৯৯০ (এরশাদ শাসন আমল): ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে ২৭ মার্চ বিচারপতি এ এফ এম আহসানউদ্দিন চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতির পদে বসান। ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ এরশাদ নিজেই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর প্রধান বিরোধী দলগুলোর বর্জনের মুখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এরশাদ জয়ী হন (এটিই ছিল শেষ সরাসরি জনভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন)। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণআন্দোলনের মুখে এরশাদ পদত্যাগ করলে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন।
১৯৯১ (সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তন ও সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা): ১৯৯১ সালের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ পুনরায় সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় ফিরে যায় (সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হন)। ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ সদস্যদের ভোটে আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে পরাজিত করে বিএনপি মনোনীত আবদুর রহমান বিশ্বাস জয়ী হন।
১৯৯৬–২০২৩ (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুগ): ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ আমলে সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বিএনপি বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে রাষ্ট্রপতি করে। ২০০২ সালে তার পদত্যাগের পর অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহমেদ একমাত্র বৈধ প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ জিল্লুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে এবং তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালে জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর আবদুল হামিদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালে দ্বিতীয় মেয়াদেও একইভাবে দায়িত্ব পান। ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মো. সাহাবুদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব নেন।
২০২৬ (সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট): জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদে থাকলেও ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। ফলে সংবিধানের ৫ ৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং আগামী ২০ আগস্ট হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এ নির্বাচন।