বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
৮ মাঘ ১৪৩২

মিউনিখ সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১১:৫৭
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১১:৫৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, জার্মানির মিউনিখে তার ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আজ তাঁর মিউনিখ সফরের বিষয়ে রাজধানীর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।

তাঁর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ নিচে দেয়া হলো:

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

আসসালামু আলাইকুম। শুভ সকাল। গত ১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত ৬০তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন মূলতঃ রাষ্ট্র/সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, সরকারি এবং বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিগণের অংশগ্রহণ করেন। এটি সমকালীন ও ভবিষ্যত নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্চ-পর্যায়ের নিয়মিত আলোচনার একটি শীর্ষস্থানীয় ফোরাম হিসেবে বিবেচিত। এ বছরের ফোরামে ৩৫-জনেরও বেশী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান অংশগ্রহণ করেছেন।

বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দিতা এবং আঞ্চলিক সংঘাত, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নিউক্লিয়ার নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু নিরাপত্তা, তথ্য নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা, অভিবাসন, সাপ্লাই চেইন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মহামারি ইত্যাদি বিষয়ে এবারের ফোরামে আলোচনা করা হয়।

সফরের প্রথম দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি ‘ফ্রম পকেট টু প্লানেট: স্কেলিং আপ ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করি। এই আলোচনায় আমার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত মান্যবর জন কেরি, বারবাডোসের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মিয়া আমোর মটলে, এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোসা জামির।

প্যানেলটিতে উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে আমি বক্তব্য প্রদান করি। বক্তব্যের শুরুতেই আমি গাজা ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহ, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং নিরস্ত্র মানুষের, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের, অমানবিক হত্যার কবল থেকে মুক্ত করে সকল প্রকার যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার জোর আহ্বান জানাই। আর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা-নিষেধাজ্ঞার বিরূপ প্রভাব যে যুদ্ধক্ষেত্র থেকেও বহুদূর পর্যন্ত অনুভূত হয়, এ বিষয়ে আমি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। এ প্রসঙ্গে আমি অর্থহীন অস্ত্র-প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় রসদ ও অর্থায়ন সহজলভ্য ও কার্যকর করার জন্য সকলকে অনুরোধ করি। মানবতার অস্তিত্বের সংটকালে ক্ষুদ্র স্বার্থ যে শুধু অনর্থই বয়ে আনে - এই রূঢ় বাস্তবতা আমি সকলের সামনে তুলে ধরি। আর তাই, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানাই।

আমি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার জন্য বিশ্বের সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বহুবিধ নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ও জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের পরিমাণ বৃদ্ধি, প্রতিশ্রুত অর্থের বাস্তবিক হস্তান্তর, ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিতকরার উপর আমি বিশেষভাবে জোর দেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় আমি ধনী দেশসমূহের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই।

এদিন আমার হোটেল স্যুইটে উইমেন পলিটিক্যাল লিডার্স (ডব্লিউপিএল)-এর সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মিসেস সিলভানা খক্ মেহরিন আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান এবং গত দেড় দশকে বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য আমাকে ডব্লিউপিএল-জি ট্রাইলব্লাজের এওয়ার্ড ২০২৩ গ্রহণের জন্য তিনি আমাকে আগামী ২০ মার্চ ২০২৪ তারিখ এথেন্সে অনুষ্ঠিতব্য ডব্লিউপিএল সামিট-এ অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। আলোচনায় আমি আমাদের সরকারের- বিশেষ করে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত নীতিসমূহের বিষয়ে আলোকপাত করলে এ বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বাংলাদেশের নীতি ও কার্যক্রমসমূহ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একইদিন আমি কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোহাম্মদ বিন্ আব্দুলরাহ্মান আল-সানি-র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জ্ঞাপনের পাশাপাশি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, এলএনজি সরবারহ প্রভৃতির পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই ও দ্রুত সমাধানে কাতারের অব্যাহত সমর্থনের ব্যাপারে তিনি আশ্বস্ত করেন। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সহিংসতা বন্ধে একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও আমরা আলোচনা করি।

এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন নীতি ও অংশীদারিত্ব বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মান্যবর আক্সেল ভন ট্রটসেনবার্গ। বাংলাদেশে ও বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের অংশীদারিত্বের প্রেক্ষাপটে আমি মধ্যম আয়ের দেশভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবদানের আলোকে বর্তমান অর্থবছরে বাজেট সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংক হতে অঙ্গীকারকৃত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দ্রুত ছাড়ের আহ্বান জানাই। পাশাপাশি আমি জোরপূর্বক স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে এবং এই সমস্যার বিরূপ প্রভাবে আক্রান্ত দেশ হিসেবে বাংলাদশকে প্রদত্ত ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন সহায়তার জন্যও তাকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয় ও উচ্চ-আয়ের দেশের পর্যায়ে উত্তীর্ণ হবার কাঙ্ক্ষিত পথে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেন।

একই দিনে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মান্যবর ডক্টর টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসাস আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে-বিশেষ করে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আসন্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশে আমাকে আমন্ত্রণ জানান এবং বিশ্বের বাকি দেশসমূহকে বাংলাদেশের কম্যুনিটি ক্লিনিক মডেল অনুসরণ করার বিষয়ে অনুপ্রাণিত করার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন।

আলোচনাকালে আমি বর্তমান সরকারের সেকেন্ডারি ও টার্শিয়ারি স্বাস্থ্যসেবা, টীকা উৎপাদন, এন্টি-মাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ, নার্সিং ও অন্যান্য স্বাস্থ্যখাতে মানব সম্পদ উন্নয়ন ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের কথা উল্লেখ করে এতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তা আশা করি। এ বিষয়ে মহাপরিচালক আমাকে আশ্বস্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক অতিমারি চুক্তি-এর দ্রুত সমাপনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমর্থন কামনা করেন।

এইদিন আমার সঙ্গে আরও সাক্ষাৎ করেন মেটা-জি গ্লোবাল এফেয়ার্স এর প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী স্যার নিক্ ক্লেগ্। তিনিও আমাকে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতের উন্নয়ন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্র সুবিস্তারে সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রংসা করেন তিনি। আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনে আমাদের সফলতা তুলে ধরি এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ ও তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে মেটা-এর সহযোগিতা আশা করি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে বিভিন্ন মেটা প্ল্যাটফর্ম যেমন ফেইসবুক, হোয়াটস্অ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম প্রভৃতির ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারির সুউচ্চ সংখ্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি বাংলাদেশে মেটা-এর একটি কার্যালয় স্থাপনের পরামর্শ দিই।

প্রথম দিন আমি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মেটে ফ্রেডরিক্সেন-এর সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমাকে ও আমাদের নবগঠিত সরকারকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানোর জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আলোচনাকালে বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আইসিটি খাতে ড্যানিশ কোম্পানিসমূহের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের পাশাপাশি তিনি বিরাজমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকারের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকার বিষয়েও আমাকে আশ্বস্ত করেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মার্ক রুটে আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। আলোচনাকালে আমরা দু’জনই বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতসমূহে জ্ঞান-প্রযুক্তি-উদ্ভাবন বিস্তারে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও গভীরতর করার বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।

একইদিন সকালে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী মান্যবর ডক্টর এস. জয়শংকর। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। সাক্ষাৎকালে আমরা উভয়ই দুই বন্ধু-রাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং দু’দেশের বাণিজ্য নিজস্ব মুদ্রায় পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত পোষণ করি। তিনি আগামী এপ্রিল/মে মাসে ভারতীয় সাধারণ নির্বাচন পরবর্তীকালে দু’দেশের নতুন সরকারের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত পঞ্চ-বার্ষিক সহযোগিতা বিষয়ক রোডম্যাপ প্রণয়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে আমরা মায়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিষয়েও পারস্পরিক মতবিনিময় করি।

এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাইট অনারেবল্ লর্ড ক্যামেরন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রেরিত শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এসময় আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান চলাচল অংশীদারিত্ব, অভিবাসন, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ এবং মায়ানমার ও লোহিত সাগরে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করি।

একই দিনে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন জার্মান আর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রী মান্যবর সভেনিয়া শুলৎজা। আলোচনাকালে আমরা ইইউ-এর জিএসপি+ বাণিজ্য সুবিধাসহ পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জার্মান বিনিয়োগ এবং সার্বিক জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বর্ধিতকরণের বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।

এইদিন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ভ্লাদিমীর জেলেন্স্কি আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে আমরা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং গম, ভোজ্যতেল ও অন্যান্য কৃষিপণ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করি। আমি তাঁকে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের দ্রুত সমাধানের কার্যকর উপায় অন্বেষণের অনুরোধ করি। এছাড়াও আমরা গাজা উপত্যকায় সংঘাতের বিষয়ে মতবিনিময় করি।

এরপর আমি আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ইল্হাম আলিইয়্যেভ-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমরা পরস্পর পরস্পরকে পঞ্চমবারের মতো পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানাই। আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করি। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে নেতৃত্বদানের জন্য আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি আমাকে ধন্যবাদ দেন এবং এবছর নভেম্বরে বাকু-তে অনুষ্ঠিতব্য কপ২৯-এ যোগদানের জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানান। আলোচনাকালে আমরা উভয়ই জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা প্রভৃতি বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি।

এদিন আমি জার্মান চ্যান্সেলর মান্যবর ওলাফ শোলজ্-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বৈঠককালে আমরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও হাইড্রোজেন প্রযুক্তি এবং দক্ষ অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করি। এছাড়াও, আমরা ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গে মতবিনিময় করি এবং এসকল সংঘাত দ্রুত অবসানের বিষয়ে কার্যকর উপায় অন্বেষণের জন্য আমি তাঁকে অনুরোধ করি।

এছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি জার্মান আওয়ামী লীগ আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনা সভায় যোগদান করি এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি আমি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করি।

মিউনিখে আমার এই ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। দেশের আকার নয় বরং নীতির শক্তিতেই যে মানবতার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক মুক্তি, এবারের সম্মেলনে আমি এই বার্তাই বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছি। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমূহের মাধ্যমে বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাথে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আরও দৃঢ় হয়েছে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে।

আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”


বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিকদের পরিবার প্রত্যাহার করছে ভারত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় কূটনীতিকদের পরিবারকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত সরকার। একই সঙ্গে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ভারতীয় কূটনীতিকদের জন্য বাংলাদেশকে নন-ফ্যামিলি পোস্টিং বা পরিবার ছাড়া কর্মস্থল হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত নির্বাচনের প্রাক্কালে কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নয়াদিল্লি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে চরমপন্থি ও উগ্রপন্থি বিভিন্ন গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে হুমকির মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি বেশ কিছুদিন ধরেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সক্রিয় বিবেচনায় ছিল। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে শেষ পর্যন্ত পরিবার ও নির্ভরশীল সদস্যদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হলো।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সতর্কতামূলক এই ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন এবং চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী ও সিলেটে অবস্থিত চারটি সহকারী হাইকমিশনে কর্মরত কর্মকর্তাদের পরিবার ও নির্ভরশীলদের দ্রুত ভারতে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে পরিবার সরিয়ে নেওয়া হলেও কূটনৈতিক মিশনগুলোর কার্যক্রমে কোনো ভাটা পড়বে না। সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ঢাকাসহ সব কটি মিশন খোলা থাকবে এবং কূটনীতিকরা পূর্ণ জনবল নিয়ে তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে যাবেন।

নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশে বর্তমানে কতজন ভারতীয় কূটনীতিক কর্মরত রয়েছেন বা তাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা কত, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া কূটনীতিকদের পরিবার ঠিক কবে নাগাদ ভারত অভিমুখে রওনা হবেন, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি। তবে নির্বাচনকালীন সময়ে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এই প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


জাতি হাসিনা আমলের নৃশংস দিনগুলোতে ফিরতে চায় না: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেটেড ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ২৩:৫৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতি হাসিনা আমলের নৃশংস দিনগুলোতে আর ফিতে যেতে চায় না। এই জাদুঘর জুলাই শহীদদের রক্ত তাজা থাকতেই করা সম্ভব হয়েছে, এটা গোটা পৃথিবীর এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজনৈতিক দলের নেতা ও হাসিনা আমলে গুমের শিকাররদের নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করে এ কথা বলেন তিনি।বিকেল ৩টার দিকে জাদুঘরে পৌঁছান এবং জাদুঘরে থাকা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পেছনের ইতিহাস ও শেখ হাসিনার ১৬ বছরের দুঃশাসনের চিত্রগুলো ঘুরে দেখেন প্রধান উপদেষ্

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা চাইনা ভবিষ্যতে কোথাও যেন আর এমন জাদুঘর তৈরির প্রয়োজন হোক। যদি আমাদের জাতি কখনো কোনো কারণে দিশেহারা হয় তবে এই জাদুঘরে পথ খুঁজে পাবে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের উচিত হবে এখানে এসে একটি দিন কাটানো, শিক্ষার্থীরা দল বেঁধে এই জাদুঘরে আসবেন। এই জাদুঘরে একটা দিন কাটালে মানুষ জানতে পারবে কী নৃশংসতার মধ্য দিয়ে এ জাতিকে যেতে হয়েছে। এখানে যে আয়নাঘরগুলো তৈরি হয়েছে সেখানে কিছু সময়, কয়েক ঘণ্টা অথবা একটা দিন কেউ যদি থাকতে চায় সে যেন থাকতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আয়নাঘরে বসে পরিদর্শনকারীরা উপলব্ধি করতে পারে কী নৃশংসতার মধ্যে বন্দিরা ছিল! এ ধরনের নৃশংস ঘটনা না হওয়ার পক্ষে কীভাবে আমরা সবাই এক থাকতে পারি সেটা মনের মধ্যে আনতে হবে। এই একটা মতে আমরা সবাই এক থাকব যে এই ধরনের নৃশংস দিনগুলোতে এ জাতি আর ফিরে যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘নৃশংস একটা কাণ্ড হচ্ছিল। তরুণরা, ছাত্ররা এটার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, প্রতিহত করেছে। তাদের কোনো অস্ত্রশস্ত্র ছিল না, কিছু ছিল না। সাধারণ মানুষও যে এমন নির্ভয়ে, সাহসিকতার সঙ্গে অস্ত্রের মুখে দাঁড়াতে পারে-- এটাই আমাদের শিক্ষা।’

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘অল্প সময়ে এই জাদুঘরের কাজ এই পর্যায়ে এসেছে এটা একটা রেকর্ড। এটা সম্ভব হয়েছে অনেক ছেলে-মেয়ের অক্লান্ত পরিশ্রমে। আট মাস ধরে বিনা পারিশ্রমিকে এখানে কাজ করেছেন অনেকে। তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আরও বেশ কিছু সেকশনের কাজ আগামী কিছুদিনের মধ্যেই শেষ হবে। এবং নির্বাচনের আগেই সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। জুলাই জাদুঘর ইতিহাসের চিহ্ন বহন করে দাঁড়িয়ে থাকবে। বাংলাদেশের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের রাজনীতির আকর হয়ে থাকবে এটা। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ডিসকোর্স-শিক্ষা-গবেষণায়, শিল্প-সাহিত্য চর্চায়ও এই জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

এ সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোর্শেদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম।

গুমের শিকার পরিবারেরগুলোর সংগঠন মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা তুলি ও গুম থেকে ফেরত ভিকটিম ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান, জুলাই অভ‍্যুত্থানে সম্মুখসারীতে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আব্দুল্লাহ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নেতৃত্বে জাদুঘরের কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব, মেরিনা তাবাসসুম খান, জুলাই জাদুঘরের গবেষকসহ দায়িত্বশীল অন্যান্যরা আগতদের পুরো জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে অভ্যুত্থানের ছবি, বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন, শহীদদের পোশাক, চিঠিপত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, সে সময়কার পত্রিকার কাটিং, অডিও-ভিডিওসহ নানা উপকরণ সংরক্ষণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্যও সেখানে সংরক্ষিত রয়েছে।

জাদুঘরে পরিদর্শনে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন, যেখানে ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গুম, রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত দমন-পীড়ন, বিরোধীদের ওপর হামলা এবং চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়। প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।


জুলাই যোদ্ধাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে গণভোটে 'হ্যাঁ' রায়ের আহ্বান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই অভ্যুত্থানের শহিদ ও যোদ্ধাদের স্বপ্ন পূরণ এবং একটি বৈষম্যহীন ও আমূল পরিবর্তিত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে আসন্ন গণভোটে জনগণের 'হ্যাঁ' রায়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজবাড়ী ইয়াসিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক উদ্বুদ্ধকরণ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। উপদেষ্টা মনে করেন, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন নিশ্চিত এবং প্রশাসনকে সব ধরনের দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে গণভোটে ইতিবাচক রায় দেওয়া বর্তমান সময়ের অপরিহার্য দাবি।

উপদেষ্টা তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে এবং সর্বদলীয় ঐক্যের ভিত্তিতে একটি 'জুলাই সনদ' গ্রহণ করা হয়েছে, যা আগামী দিনের সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। তিনি জানান, সরকার গঠিত ১১টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে ৬টি সরাসরি নির্বাচনের সাথে যুক্ত এবং এই সংস্কারগুলো স্থায়ী রূপ দিতেই হ্যাঁ-না ভোটের আয়োজন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে গুণগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, “জুলাই যোদ্ধাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং পরিবর্তিত বাংলাদেশ চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে।” এছাড়া তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “দেশকে বৈষম্যহীন করতে, গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে, ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে, আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে এবং প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে রায় দিতে হবে।”

সংবিধানের যথেচ্ছ পরিবর্তন রোধ এবং সংসদীয় ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনার লক্ষে উপদেষ্টা জনগণের ম্যান্ডেট প্রত্যাশা করেন। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “ইচ্ছে মতো সংবিধান পরিবর্তন না চাইলে, ক্ষমতার ভারসাম্য চাইলে, নিম্ম কক্ষ ও উচ্চ কক্ষের সমন্বয়ে সংসদ চাইলে, একজনকে দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী না চাইলে, দন্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির বাদীর মতামত ব্যতীত ক্ষমা না চাইলে, নারীর ক্ষমতায়ন চাইলে গণভোটে হ্যাঁ’ র পক্ষে রায় দিতে হবে।” মূলত ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এই গণভোটের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উক্ত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধ ও জনহিতকর রাষ্ট্র ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ভোটারদের সচেতন করতে তথ্য মন্ত্রণালয় ‘ভোটের গাড়ি’, ‘ভোটের রিকশা’, উঠান বৈঠক ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর মতো নানামুখী প্রচারণা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ এবং জুলাই যোদ্ধা আবদুল্লাহ আল মামুনও বক্তব্য রাখেন। এর আগে উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষ্যে আয়োজিত একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালির শুভ উদ্বোধন করেন।


শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দর এলাকায় হর্ন বাজালে জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলোতে শব্দদূষণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আগামী ২৫ জানুয়ারি থেকে এসব নির্ধারিত ‘নীরব এলাকা’য় হর্ন বাজালে চালকদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। মূলত গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই বিমানবন্দর এবং এর উত্তর ও দক্ষিণে দেড় কিলোমিটার এলাকাসহ উত্তরার স্কলাস্টিকা স্কুল থেকে হোটেল লা মেরিডিয়ান পর্যন্ত অংশকে ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। এছাড়া গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকাও এই বিশেষ জোনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে হর্ন বাজানোর অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। ডিএমপি স্পষ্ট করেছে যে, ২৫ জানুয়ারি থেকে বিমানবন্দরের সড়ক ও পার্কিং এলাকায় কোনো প্রকার আইন লঙ্ঘিত হলে পরিবেশ অধিদপ্তর, বিআরটিএ, সিভিল এভিয়েশন এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তি প্রদান করা হবে। ম্যাজিস্ট্রেটদের উপস্থিতিতে পরিচালিত এই অভিযানে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রয়োজনে কারাদণ্ডও কার্যকর হতে পারে। শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫-এর যথাযথ পরিপালন নিশ্চিত করতে বিমানবন্দর এলাকায় যাতায়াতকারী গাড়িচালকদের হর্ন না বাজানোর জন্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। মূলত জনস্বাস্থ্যে শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব হ্রাস করতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই হার্ডলাইন ঘোষণা করেছে।


ভারত ভিসা না দেওয়ায় বাংলাদেশ থেকেও ভিসা দেওয়া হচ্ছে না : নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শনকালে দ্বিপাক্ষিক ভিসা জটিলতা ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোকপাত করেছেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি জানান যে, ভারত বর্তমানে বিভিন্ন কারণে ভিসা প্রদান সীমিত রাখায় বাংলাদেশ থেকেও একইভাবে কম ভিসা দেওয়া হচ্ছে, তবে শীঘ্রই এই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে তিনি আশাবাদী। উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, “ভারত নানা কারণে ভিসা দিচ্ছে না। সেই হিসেবে আমাদের এখান থেকেও বেশি ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। এগুলো ঠিকঠাক হয়ে যাবে। নতুন সরকারের সময় ডিউরেশনটা আরো ভালো হবে।” তিনি দেশজুড়ে ইমিগ্রেশন ও যাত্রী যাতায়াত হ্রাসের চিত্র তুলে ধরে জানান যে, বেনাপোলসহ প্রধান বন্দরগুলোতে যাত্রী সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের বেসরকারি অপারেটরের মেয়াদ শেষ হলে সরকার নতুন করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়া আঞ্চলিক ও উপ-মহাদেশীয় সম্পর্কের জটিলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, ভৌগোলিক কারণে অন্য দেশের ওপর দিয়ে না গিয়ে সরাসরি চীনে সড়ক পথ তৈরি করা বর্তমান বাস্তবতায় সম্ভব নয়। নৌ-মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ২০টি স্থলবন্দর পরিদর্শন ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তাঁর এই সফর। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার পোর্টগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে যে নকশা করছে, পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এসে সে অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নিতে পারবে।

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও চলমান সংস্কার প্রসঙ্গে সাখাওয়াত হোসেন অত্যন্ত কঠোর ও দূরদর্শী মন্তব্য প্রদান করেন। তিনি মনে করেন, অতীতের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে হলে বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়াকে সফল করা অপরিহার্য। এই বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যেন অতীতের মতো কোনো কর্মকাণ্ড না চলে, সেগুলো থেকে যদি পরিত্রাণ পেতে চান, তাহলে হ্যাঁ ভোটে সিল মারতে হবে।” জীবনের বিনিময়ে অর্জিত এই পরিবর্তনের সুযোগ হেলায় না হারানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তাঁর ভাষায়, “আর যদি হ্যাঁ ভোটে সিল না দিই, তাহলে এত রক্তের বিনিময়ে আমাদের সামনে যে সুযোগ এসেছে, আমরা সেই সুযোগ হারাব। আমরা যদি এ ধরনের সংস্কারগুলো না করি, তাহলে আগের অবস্থায় ফিরে যাব। এটা অটোমেটিক্যালি হবে।” তাঁর এই সফরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


পদ্মা সেতুর টোল আদায়ে তিন হাজার কোটি টাকার মাইলফলক অর্জন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পদ্মা সেতু টোল আদায়ের ক্ষেত্রে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধনের পর থেকে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) পর্যন্ত এই সেতুটি থেকে সংগৃহীত মোট রাজস্বের পরিমাণ ৩,০০০ কোটি (তিন হাজার কোটি) টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ স্থাপনকারী এই অবকাঠামোটি কেবল যাতায়াতের সময় সাশ্রয় করছে না, বরং কৃষি, মৎস্য ও শিল্পজাত পণ্য পরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জাতীয় অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ হিসেবে স্বীকৃত এই সেতুটি চালুর পর থেকে যানবাহন পারাপার ও রাজস্ব আদায়ের হার ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে এই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জনাব মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান-এর বিশেষ দিকনির্দেশনা এবং সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ-এর সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান এই অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সহজতর করতে সেতুর দুই প্রান্তে (মাওয়া ও জাজিরা) স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক 'Electronic Toll Collection (ETC)' পদ্ধতি। এছাড়া 'Radio Frequency Identification (RFID)' কার্ডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায়ের ব্যবস্থা কার্যকর করায় যানবাহনকে এখন টোল প্লাজায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। মূলত জনগণের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলেই এই সাফল্য অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

পদ্মা সেতুর টোল আদায়ের এই গৌরবময় মাইলফলক অর্জনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি এই সাফল্যের অংশীদার হিসেবে গাড়ির মালিক, চালক, শ্রমিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার সাথে জড়িত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। জনগণের অব্যাহত সহযোগিতা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার সংমিশ্রণে পদ্মা সেতু আগামীতে জাতীয় সমৃদ্ধির পথে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


আন্দোলনের সময় রামপুরায় ২৫ মার্চের মতো হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়: চিফ প্রসিকিউটর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর রামপুরা এলাকায় সংঘটিত সহিংসতাকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের বর্বরতার সঙ্গে তুলনা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রামপুরায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ২৮ জন নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচারিক কার্যক্রমে সূচনা বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালে বলেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর রামপুরা এলাকায় ২৫ মার্চের কালরাতের মতো হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। এটা ছিল হটস্পট। বাসাবাড়িতে ঢুকে গুলি করে লোকজনকে হত্যা করা হয়েছিল। ইতিহাসে এটি নজিরবিহীন। এর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।” তিনি রামপুরার ওই ঘটনাকে ইতিহাসের একটি নজিরবিহীন নিষ্ঠুরতা হিসেবে অভিহিত করে এর সুষ্ঠু বিচারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ শুনানি চলাকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম এবং মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম মুন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে এই মামলার অন্য দুই প্রধান আসামি পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। চিফ প্রসিকিউটরের প্রারম্ভিক বক্তব্যের পরপরই আদালত এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেন, যেখানে প্রথম সাক্ষী হিসেবে বিশ্বজিৎ রাজবংশী জবানবন্দি প্রদান করেন। বিশ্বজিতের পিতা গঙ্গাচরণ রাজবংশী রামপুরায় আন্দোলন চলাকালে বিজিবির গুলিতে নিহত হয়েছিলেন এবং প্রথম দিনের সাক্ষ্যে সেই বিয়োগান্তক ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা উঠে আসে।

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য গ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর আদালত আসামিপক্ষ কর্তৃক সাক্ষীকে জেরা করার জন্য আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেছেন। রামপুরা এলাকায় যেভাবে সাধারণ মানুষের বাসাবাড়িতে ঢুকে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল, তাকে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে পরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ হিসেবে দাবি করা হয়েছে। মূলত এই এলাকায় আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা এবং প্রাণহানির ব্যাপকতা বিচারিক কার্যক্রমে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করছেন।


বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে আমেরিকা থেকে ফেরত পাঠানো হলো আরও ৩৬ বাংলাদেশিকে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় একটি বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে আরও ৩৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানো এই দলে একজন নারীও রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ব্র্যাক মাইগ্রেশন। ২০২৫ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মোট ২৯৩ জন বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যাবাসিত হলেন।

মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করায় বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের একাধিক দফায় নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

ফেরত পাঠানো এসব ব্যক্তিদের অধিকাংশেরই বিদেশ যাত্রার প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। তারা প্রথমে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে বৈধভাবে ব্রাজিলে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাদের শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে। ব্র্যাকের তথ্য অনুযায়ী, ফেরত আসা এই ব্যক্তিরা জনপ্রতি ৪০ থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করেছিলেন। প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২১ জন নোয়াখালীর এবং বাকিরা লক্ষ্মীপুর, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরীফুল হাসান এই সামগ্রিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দফায় যাঁরা ফেরত এসেছেন, তাঁদের অনেকেই প্রথমে ব্রাজিল গিয়ে সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যান। প্রশ্ন হলো, সরকার যখন ব্রাজিলে কর্মী পাঠানোর অনুমোদন দেয়, তখন তাঁরা সত্যিই ব্রাজিলে কাজ করতে যাচ্ছেন, নাকি সেটিকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছেন—সেটি খতিয়ে দেখা উচিত। এই যে একেকজন ৪০ থেকে ৫৫ লাখ টাকা খরচ করে শূন্য হাতে ফিরে আসছেন, এই দায় কার? যেসব এজেন্সি এই কর্মীদের পাঠিয়েছে এবং যাঁরা এই অনুমোদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন, তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।’

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালে বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে ১ হাজার ৩২০ জন বাংলাদেশি ব্রাজিলে গেলেও তাদের মধ্যে ৯৫১ জনই ছিলেন নোয়াখালী জেলার, যাদের একটি বড় অংশ মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিষয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে শরীফুল হাসান বলেন, ‘২০২৫ সালে জনশক্তি ব্যুরোর ছাড়পত্র নিয়ে মোট ১ হাজার ৩২০ জন বাংলাদেশি ব্রাজিলে যান, এর মধ্যে নোয়াখালী জেলারই ৯৫১ জন। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁদের একটি বড় অংশ মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। নতুন করে ব্রাজিলে কর্মী পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার আগে সরকারকে আরও সতর্ক হওয়া উচিত।’ মার্কিন আইন অনুযায়ী বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের আশ্রয়ের আবেদন ব্যর্থ হলে চার্টার্ড বা সামরিক ফ্লাইটে করে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়, যা সাম্প্রতিক সময়ে আরও দ্রুততর হয়েছে।


জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধী নির্মূলে র‍্যাব মহাপরিচালকের হুঁশিয়ারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় নিহত র‍্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেনের জানাজা শেষে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় র‍্যাব-৭ এর সদর দপ্তরে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মহাপরিচালক জানান যে, জঙ্গল সলিমপুর বর্তমানে অপরাধীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে এবং খুব দ্রুতই সেখানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ অস্ত্রধারী ও দখলদারদের নির্মূল করা হবে।

নিহত কর্মকর্তার স্মৃতিচারণ ও বিচার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, “সুবেদার মোতালেব শহীদ হয়েছেন। এজন্য যারা দায়ী, তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব। বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে যেন তাদের শাস্তি নিশ্চিত হয়, সেটি আমরা যেকোনো মূল্যে নিশ্চিত করব। আপনাদের কথা দিতে চাই, এই ঘটনা একটি মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন। বিচারের রায় না হওয়া পর্যন্ত র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন পুরো বিষয়টি মনিটরিং করবে এবং রায় কার্যকর হওয়া পর্যন্ত আমরা এটি মনিটর করব। আমরা সবসময় আপনাদের পাশে আছি এবং আমাদের দায়িত্ব পালন করে যাব।” একইসঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে তিনি আরও বলেন, “শহীদ মোতালেবের পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তার স্ত্রী স্বামী হারিয়েছেন, সন্তানরা পিতা হারিয়েছে। আমরা সেই পিতা বা স্বামীকে ফিরিয়ে দিতে পারব না। তবে আমরা নিশ্চিত করতে চাই, এই পরিবারের দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করেছি এবং মোতালেবের পরিবারের পাশে থাকব।”

ঘটনার প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় ইয়াসিন নামক এক তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীর উপস্থিতির খবর পেয়ে অভিযানে যায় র‍্যাবের একটি দল। সেখানে ইয়াসিন গ্রুপের অনুসারীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে র‍্যাব সদস্যদের অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিজিবি থেকে প্রেষণে আসা নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। এই বর্বরোচিত হামলায় র‍্যাবের আরও তিন সদস্য ও একজন তথ্যদাতা গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মূলত জননিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর ওপর এমন জঘন্য হামলার সুষ্ঠু বিচার ও অপরাধীদের সমূলে বিনাশে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে র‍্যাব।


রেশম উন্নয়ন বোর্ডে নতুন মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে ডাটা অ্যান্ড পার্সোনালাইজেশন সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আদেশ কার্যকর করা হয় এবং একইসঙ্গে তার চাকরি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

প্রশাসনিক এই রদবদলের ধারাবাহিকতায় পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে মো. আসাদুজ্জামানকেও নতুন দায়িত্ব প্রদান করেছে সরকার। ইতিপূর্বে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বদলির আদেশাধীন থাকলেও বর্তমানে তাকে 'বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন সচিবালয়ের ৭টি আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ' শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে তার বর্তমান চাকরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। মূলত প্রশাসনিক গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এই পদায়ন ও বদলির আদেশ জারি করেছে।


গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান মুক্তিযোদ্ধা সংসদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সূচিত নতুন যাত্রায় রাষ্ট্রে জনগণের প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘জুলাই সনদ’-এর পক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান সংগঠনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে জুলাই সনদের গুরুত্ব এবং আসন্ন গণভোটের তাৎপর্য তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার যে অভূতপূর্ব অভ্যুত্থান ঘটেছিল, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই অভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে ইতিহাস সৃষ্টিতে সাধারণ মানুষই প্রধান চালিকাশক্তি। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের জনগণ তাদের এই অবদানের স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত ছিল। তবে এবারের গণ-অভ্যুত্থান অতীতের সব জঞ্জাল ও বাধা অতিক্রম করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রে জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নঈম জাহাঙ্গীর দেশবাসীকে দায়িত্বশীল ও সচেতন ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান। তিনি ‘জুলাই সনদ ২০২৫’-কে জাতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, এই সনদ কেবল একটি দলিল নয়, বরং এটি অধিকার, ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি রক্ষাকবচ। পাশাপাশি, দেশে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধ এবং একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই সনদ প্রণীত হয়েছে। সনদের বাস্তবায়নের মাধ্যমেই মহান মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য অর্জন আরও সহজতর হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক আরও উল্লেখ করেন, আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করা মানে ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং দেশের উন্নয়নের পথে অগ্রসর হওয়া। এটি দেশকে গণতান্ত্রিক পন্থায় ঐক্যবদ্ধ করার একটি সুবর্ণ সুযোগ। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, গণভোটটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, স্বতঃস্ফূর্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে জুলাই সনদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নাগরিক দায়িত্ব পালন করার এবং একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।


স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ একীভূত করার অনুমোদন দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা দুটি পৃথক বিভাগকে পুনরায় একীভূত করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগকে একত্রীকরণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে নতুন করে পুনর্গঠন করা হবে।

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। নিকারের সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন এবং মন্ত্রণালয়ের কাঠামোগত পরিবর্তনের কারণগুলো বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, অতীতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে বিভাজন করার মূল উদ্দেশ্য ছিল দাপ্তরিক কাজ ও সেবার মান সহজ এবং গতিশীল করা। কিন্তু দীর্ঘ সময়ের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে, এই দ্বিমুখী কাঠামো আশানুরূপ ফলাফল বয়ে আনতে পারেনি।

প্রেস সচিব ব্যাখ্যা করেন যে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, নার্সিং ইনস্টিটিউট ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি পরিচালনার দায়িত্ব আলাদা বিভাগের অধীনে ন্যস্ত করায় প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছিল। বিভাজনের ফলে স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা উভয় খাতেই মানের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে বলে সরকার পর্যবেক্ষণ করেছে। তাই মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে পুনরায় গতিশীলতা ও আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী বিভাগ দুটিকে একত্রীকরণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকার আশা করছে, এই পুনর্গঠনের ফলে স্বাস্থ্যখাতের প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে।

স্বাস্থ্যখাতের এই বড় পরিবর্তনের পাশাপাশি নিকারের সভায় আরেকটি মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাংলা নাম পরিবর্তন করে এখন থেকে নারী ও শিশু মন্ত্রণালয় করা হয়েছে। তবে প্রেস সচিব নিশ্চিত করেছেন যে, নাম পরিবর্তন হলেও মন্ত্রণালয়টির ইংরেজি নাম মিনিস্ট্রি অব উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন অ্যাফেয়ার্স অপরিবর্তিত থাকবে। প্রশাসনিক কার্যক্রমে আধুনিকতা ও জেন্ডার সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করতেই এই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।


নতুন ৪ থানার অনুমতি দিলো অন্তর্বর্তী সরকার

আপডেটেড ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৫:৩০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে চারটি নতুন থানা স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, গাজীপুরে ‘পূর্বাচল উত্তর’, নারায়ণগঞ্জে ‘পূর্বাচল দক্ষিণ’ এবং কক্সবাজারের মহেশখালীতে ‘মাতারবাড়ী’ নামে তিনটি নতুন থানা স্থাপন করা হবে। এছাড়া নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলাকে প্রশাসনিকভাবে ভেঙে সেখানে আরও একটি নতুন থানা স্থাপনের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে কমিটি।

মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় নিকারের ১১৯তম সভা অনুষ্ঠিত হয়, যা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে এই কমিটির প্রথম সভা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টাসহ সরকারের মোট ছয়জন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ১৪ জন সচিব ও সিনিয়র সচিব বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত মোট ১১টি প্রস্তাব সভায় উত্থাপন করা হয় এবং সবকটিই অনুমোদিত হয়।

সভায় সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোতে বেশ কিছু বড় ধরনের সংস্কার আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশেষ করে রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং গতিশীলতা নিশ্চিত করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ এবং ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ নামে দুটি পৃথক প্রশাসনিক বিভাগ গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এ বিষয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে আগেই ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছিল। স্বাস্থ্য খাতের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে ‘স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ’ এবং ‘স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ’-কে একীভূত করে পুনরায় একটি একক ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়’ হিসেবে পুনর্গঠন করার প্রস্তাবেও সায় দিয়েছে নিকার।

এছাড়া মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন ও জেলার মর্যাদা বৃদ্ধির বিষয়েও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে বাংলায় ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে, তবে মন্ত্রণালয়টির ইংরেজি নাম ‘মিনিস্ট্রি অব উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন অ্যাফেয়ার্স’ অপরিবর্তিত থাকবে। অন্যদিকে পরিবেশগত বৈশ্বিক ঐতিহ্য, পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা বিবেচনায় নিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলী জেলা সাতক্ষীরাকে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলায় উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার।


banner close