প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, জার্মানির মিউনিখে তার ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি আজ তাঁর মিউনিখ সফরের বিষয়ে রাজধানীর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।
তাঁর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ নিচে দেয়া হলো:
“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম। শুভ সকাল। গত ১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত ৬০তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন মূলতঃ রাষ্ট্র/সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, সরকারি এবং বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিগণের অংশগ্রহণ করেন। এটি সমকালীন ও ভবিষ্যত নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্চ-পর্যায়ের নিয়মিত আলোচনার একটি শীর্ষস্থানীয় ফোরাম হিসেবে বিবেচিত। এ বছরের ফোরামে ৩৫-জনেরও বেশী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান অংশগ্রহণ করেছেন।
বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দিতা এবং আঞ্চলিক সংঘাত, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নিউক্লিয়ার নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু নিরাপত্তা, তথ্য নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা, অভিবাসন, সাপ্লাই চেইন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মহামারি ইত্যাদি বিষয়ে এবারের ফোরামে আলোচনা করা হয়।
সফরের প্রথম দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি ‘ফ্রম পকেট টু প্লানেট: স্কেলিং আপ ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করি। এই আলোচনায় আমার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত মান্যবর জন কেরি, বারবাডোসের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মিয়া আমোর মটলে, এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোসা জামির।
প্যানেলটিতে উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে আমি বক্তব্য প্রদান করি। বক্তব্যের শুরুতেই আমি গাজা ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহ, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং নিরস্ত্র মানুষের, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের, অমানবিক হত্যার কবল থেকে মুক্ত করে সকল প্রকার যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার জোর আহ্বান জানাই। আর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা-নিষেধাজ্ঞার বিরূপ প্রভাব যে যুদ্ধক্ষেত্র থেকেও বহুদূর পর্যন্ত অনুভূত হয়, এ বিষয়ে আমি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। এ প্রসঙ্গে আমি অর্থহীন অস্ত্র-প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় রসদ ও অর্থায়ন সহজলভ্য ও কার্যকর করার জন্য সকলকে অনুরোধ করি। মানবতার অস্তিত্বের সংটকালে ক্ষুদ্র স্বার্থ যে শুধু অনর্থই বয়ে আনে - এই রূঢ় বাস্তবতা আমি সকলের সামনে তুলে ধরি। আর তাই, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানাই।
আমি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার জন্য বিশ্বের সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বহুবিধ নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ও জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের পরিমাণ বৃদ্ধি, প্রতিশ্রুত অর্থের বাস্তবিক হস্তান্তর, ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিতকরার উপর আমি বিশেষভাবে জোর দেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় আমি ধনী দেশসমূহের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই।
এদিন আমার হোটেল স্যুইটে উইমেন পলিটিক্যাল লিডার্স (ডব্লিউপিএল)-এর সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মিসেস সিলভানা খক্ মেহরিন আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান এবং গত দেড় দশকে বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য আমাকে ডব্লিউপিএল-জি ট্রাইলব্লাজের এওয়ার্ড ২০২৩ গ্রহণের জন্য তিনি আমাকে আগামী ২০ মার্চ ২০২৪ তারিখ এথেন্সে অনুষ্ঠিতব্য ডব্লিউপিএল সামিট-এ অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। আলোচনায় আমি আমাদের সরকারের- বিশেষ করে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত নীতিসমূহের বিষয়ে আলোকপাত করলে এ বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বাংলাদেশের নীতি ও কার্যক্রমসমূহ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
একইদিন আমি কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোহাম্মদ বিন্ আব্দুলরাহ্মান আল-সানি-র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জ্ঞাপনের পাশাপাশি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, এলএনজি সরবারহ প্রভৃতির পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই ও দ্রুত সমাধানে কাতারের অব্যাহত সমর্থনের ব্যাপারে তিনি আশ্বস্ত করেন। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সহিংসতা বন্ধে একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও আমরা আলোচনা করি।
এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন নীতি ও অংশীদারিত্ব বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মান্যবর আক্সেল ভন ট্রটসেনবার্গ। বাংলাদেশে ও বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের অংশীদারিত্বের প্রেক্ষাপটে আমি মধ্যম আয়ের দেশভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবদানের আলোকে বর্তমান অর্থবছরে বাজেট সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংক হতে অঙ্গীকারকৃত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দ্রুত ছাড়ের আহ্বান জানাই। পাশাপাশি আমি জোরপূর্বক স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে এবং এই সমস্যার বিরূপ প্রভাবে আক্রান্ত দেশ হিসেবে বাংলাদশকে প্রদত্ত ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন সহায়তার জন্যও তাকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয় ও উচ্চ-আয়ের দেশের পর্যায়ে উত্তীর্ণ হবার কাঙ্ক্ষিত পথে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেন।
একই দিনে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মান্যবর ডক্টর টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসাস আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে-বিশেষ করে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আসন্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশে আমাকে আমন্ত্রণ জানান এবং বিশ্বের বাকি দেশসমূহকে বাংলাদেশের কম্যুনিটি ক্লিনিক মডেল অনুসরণ করার বিষয়ে অনুপ্রাণিত করার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন।
আলোচনাকালে আমি বর্তমান সরকারের সেকেন্ডারি ও টার্শিয়ারি স্বাস্থ্যসেবা, টীকা উৎপাদন, এন্টি-মাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ, নার্সিং ও অন্যান্য স্বাস্থ্যখাতে মানব সম্পদ উন্নয়ন ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের কথা উল্লেখ করে এতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তা আশা করি। এ বিষয়ে মহাপরিচালক আমাকে আশ্বস্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক অতিমারি চুক্তি-এর দ্রুত সমাপনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমর্থন কামনা করেন।
এইদিন আমার সঙ্গে আরও সাক্ষাৎ করেন মেটা-জি গ্লোবাল এফেয়ার্স এর প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী স্যার নিক্ ক্লেগ্। তিনিও আমাকে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতের উন্নয়ন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্র সুবিস্তারে সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রংসা করেন তিনি। আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনে আমাদের সফলতা তুলে ধরি এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ ও তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে মেটা-এর সহযোগিতা আশা করি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে বিভিন্ন মেটা প্ল্যাটফর্ম যেমন ফেইসবুক, হোয়াটস্অ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম প্রভৃতির ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারির সুউচ্চ সংখ্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি বাংলাদেশে মেটা-এর একটি কার্যালয় স্থাপনের পরামর্শ দিই।
প্রথম দিন আমি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মেটে ফ্রেডরিক্সেন-এর সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমাকে ও আমাদের নবগঠিত সরকারকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানোর জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আলোচনাকালে বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আইসিটি খাতে ড্যানিশ কোম্পানিসমূহের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের পাশাপাশি তিনি বিরাজমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকারের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকার বিষয়েও আমাকে আশ্বস্ত করেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মার্ক রুটে আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। আলোচনাকালে আমরা দু’জনই বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতসমূহে জ্ঞান-প্রযুক্তি-উদ্ভাবন বিস্তারে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও গভীরতর করার বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।
একইদিন সকালে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী মান্যবর ডক্টর এস. জয়শংকর। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। সাক্ষাৎকালে আমরা উভয়ই দুই বন্ধু-রাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং দু’দেশের বাণিজ্য নিজস্ব মুদ্রায় পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত পোষণ করি। তিনি আগামী এপ্রিল/মে মাসে ভারতীয় সাধারণ নির্বাচন পরবর্তীকালে দু’দেশের নতুন সরকারের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত পঞ্চ-বার্ষিক সহযোগিতা বিষয়ক রোডম্যাপ প্রণয়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে আমরা মায়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিষয়েও পারস্পরিক মতবিনিময় করি।
এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাইট অনারেবল্ লর্ড ক্যামেরন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রেরিত শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এসময় আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান চলাচল অংশীদারিত্ব, অভিবাসন, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ এবং মায়ানমার ও লোহিত সাগরে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করি।
একই দিনে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন জার্মান আর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রী মান্যবর সভেনিয়া শুলৎজা। আলোচনাকালে আমরা ইইউ-এর জিএসপি+ বাণিজ্য সুবিধাসহ পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জার্মান বিনিয়োগ এবং সার্বিক জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বর্ধিতকরণের বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।
এইদিন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ভ্লাদিমীর জেলেন্স্কি আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে আমরা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং গম, ভোজ্যতেল ও অন্যান্য কৃষিপণ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করি। আমি তাঁকে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের দ্রুত সমাধানের কার্যকর উপায় অন্বেষণের অনুরোধ করি। এছাড়াও আমরা গাজা উপত্যকায় সংঘাতের বিষয়ে মতবিনিময় করি।
এরপর আমি আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ইল্হাম আলিইয়্যেভ-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমরা পরস্পর পরস্পরকে পঞ্চমবারের মতো পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানাই। আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করি। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে নেতৃত্বদানের জন্য আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি আমাকে ধন্যবাদ দেন এবং এবছর নভেম্বরে বাকু-তে অনুষ্ঠিতব্য কপ২৯-এ যোগদানের জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানান। আলোচনাকালে আমরা উভয়ই জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা প্রভৃতি বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি।
এদিন আমি জার্মান চ্যান্সেলর মান্যবর ওলাফ শোলজ্-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বৈঠককালে আমরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও হাইড্রোজেন প্রযুক্তি এবং দক্ষ অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করি। এছাড়াও, আমরা ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গে মতবিনিময় করি এবং এসকল সংঘাত দ্রুত অবসানের বিষয়ে কার্যকর উপায় অন্বেষণের জন্য আমি তাঁকে অনুরোধ করি।
এছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি জার্মান আওয়ামী লীগ আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনা সভায় যোগদান করি এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি আমি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করি।
মিউনিখে আমার এই ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। দেশের আকার নয় বরং নীতির শক্তিতেই যে মানবতার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক মুক্তি, এবারের সম্মেলনে আমি এই বার্তাই বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছি। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমূহের মাধ্যমে বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাথে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আরও দৃঢ় হয়েছে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে।
আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”
আলোচিত রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতোই কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়াও দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে দেশের সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রামিসা হত্যার বিচারের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচার দ্রুত করতে পারবো। বিচার করবে আদালত, আমরা সব সহযোগিতা করবো।”
তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি আরও জানান যে, ঘটনার পর নিহতের মায়ের ব্যবহৃত যে মোবাইল ফোনটি নিখোঁজ ছিল, তা সন্দেহভাজন অভিযুক্ত তুহিনের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামের তিন তরুণকে ইতোমধ্যে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের ১৩ বছর বয়সী সন্তান অপ্রতীম। নিখোঁজের এক দিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের গভীর এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে রবিবার সকাল সোয়া ১১টায় কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে অপ্রতীমকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এর আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নিয়ে কিশোর অপ্রতীমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অনতিবিলম্বে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন শেষে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে ঢাকা ও বেইজিংয়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর সফলভাবে বাস্তবায়নে রাষ্ট্রদূতের বিশেষ উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইয়াও ওয়েনের কার্যকালেই বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ‘শেয়ার্ড কমিউনিটি’ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে এবং একই সময়ে প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের ‘টু প্লাস টু’ সহযোগিতাসহ বেশ কিছু কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সূচনা হয়েছে।
বিদায়ী বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে তিন বছর নয় মাস দায়িত্ব পালন করা তাঁর জন্য অত্যন্ত সম্মান ও গর্বের একটি অভিজ্ঞতা। এ সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তিনি একে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবময় মুহূর্ত বলে অভিহিত করেন। রাষ্ট্রদূত প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশের সার্বিক অগ্রগতি ও উন্নয়ন অভিযাত্রায় চীনের অংশীদারত্ব এবং সহযোগিতা আগামীতেও সমানভাবে বজায় থাকবে।
চীনা রাষ্ট্রদূত আরও অবহিত করেন যে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের (আইডিসিপিসি) মন্ত্রী চলতি বছরের শেষ ভাগে বাংলাদেশ সফরের গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও ঐতিহাসিক সংযোগের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত জানান, উক্ত মন্ত্রীর পিতা অতীতে বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করেছিলেন।
বৈঠক শেষে আগামী দিনে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুসংহত ও সম্প্রসারিত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। দায়িত্ব পালনকালে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে ধন্যবাদ জানান এবং তাঁর ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক কর্মজীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
দেশের চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক সাড়ে ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
বিজিএফসিএল কর্মকর্তারা জানান, উদ্বোধনের পরপরই তিতাস-২৮ নম্বর কূপটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। কূপটি থেকে দৈনিক ১২ থেকে ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর এবং শেষ হয় চলতি বছরের ১৯ জুন। কূপটির গভীরতা প্রায় ৩ হাজার ৬০১ মিটার বা ১৩ হাজার ফুট। কূপসহ তিতাস-২৮, ২৯, ৩০ ও কামতা-২ নম্বর কূপ খননে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমদানির পাশাপাশি দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়িয়েই চলমান সংকট মোকাবিলা করতে হবে। দেশের শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতার চাপ কমাতে সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, তিতাস-২৮ থেকে জাতীয় গ্রিডে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ায় শিল্পকারখানার উৎপাদন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর এবং বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ১১ নম্বর কূপের কাজও এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হিসাবে, এসব কূপের কাজ শেষ হলে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে পাঁচটি কূপ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
এর মধ্যে তিতাস-২৯ নম্বর কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট, তিতাস-৩০ থেকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং তিতাস-৩১ থেকে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাখরাবাদ-১১ নম্বর কূপ সফল হলে সেখান থেকে প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।
বিজিএফসিএলের গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব জানান, তিতাস-৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপের খননকাজ ১৯ এপ্রিল শুরু হয়েছে। কূপটির লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা ৫ হাজার ৬০০ মিটার। কোনো ভূতাত্ত্বিক জটিলতা না হলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এর কাজ শেষ করার আশা রয়েছে। সফল হলে কূপটি থেকে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে বর্তমানে আনুমানিক দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিতাস-৩১ অনুসন্ধানমূলক কূপ হওয়ায় সেখানে নতুন গ্যাসের মজুত পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত মজুতের সম্ভাবনার কথা বলা হলেও খনন ও পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হক, অতিরিক্ত সচিব মো. রফিকুল আলমসহ মন্ত্রণালয় ও বিজিএফসিএলের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে অভিন্ন সিলেবাসে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিন্ন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ এবং সনদায়ন ব্যবস্থা চালু করা গেলে দেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বীকৃতি বাড়বে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির তৃতীয় সভায় সভাপতিত্বকালে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক এ কথা জানিয়েছেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনএসডিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও যথাযথ সমন্বয়ের অভাবে এসব প্রশিক্ষণ ও সনদ অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসব সনদের বিপরীতে আমাদের তরুণ প্রজন্ম কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি পাচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এনএসডিএ’র গভর্নিং বডিকে অল্প সময়ের মধ্যে একটি ছোট কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।
তিনি অভিন্ন সিলেবাসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় এনএসডিএ’র প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল ও কার্যাবলি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
এছাড়া জাতীয় দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত নীতি ও কৌশলপত্র, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, খাতভিত্তিক দক্ষতার চাহিদা বিশ্লেষণ এবং স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, সনদায়ন এবং সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আরও ছিলেন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, এনএসডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শীর্ষক এ প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে বাড়তি বেতন পাবেন।
গত ৩০ জুন যে মূল বেতন আহরিত বা প্রাপ্য ছিল, তার সঙ্গে এই বাড়তি অর্থ যুক্ত করে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বেতন দেওয়া হবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতনকাঠামোয় বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাড়তি মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে বেতন পাবেন।
এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামোয় বাড়তি বেতনের শতভাগ কার্যকর হবে। যেহেতু নতুন বেতনকাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে, তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বকেয়া বেতনও পাবেন।
এছাড়া ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় অন্যান্য সব ভাতা পাওয়া শুরু করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একইভাবে পেনশন সুবিধাভোগীরাও নতুন বেতনকাঠামোর সব সুবিধা পাবেন।
নতুন বেতনকাঠামোয় ১ম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১১৫ শতাংশ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আনুপাতিকহারে বিভিন্ন ধরনের ভাতাও বাড়বে।
গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পরই আজ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরে কমিটি এ-সংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত করে।
অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো চালু করা হলো।
২০২৯ সাল নাগাদ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেন উন্নীতকরণ কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার শশই এলাকায় মহাসড়কের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
সেতুমন্ত্রী জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। ছয় লেন প্রকল্পটি অনেক আগে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সাড়ে ৪ বছর হয়ে গেলেও অগ্রগতি সন্তোষজনক ছিল না। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত ৬ মাসে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ এখন প্রায় ৫৬ শতাংশের কাছাকাছি। আশা করছি দুই মাসের মধ্যে শতভাগ ভূমি অধিগ্রহণ হয়ে যাবে। ভৌত কাজের অগ্রগতিও প্রায় ২৭ শতাংশ।’
তিনি আরও জানান, ‘এ প্রকল্পের কাজে যেখানে বিচ্যুতি আছে, সেগুলো অতিক্রম করে আমরা এই সড়কটি বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছি। সড়কের ১৩টি প্যাকেজের মধ্যে ৫টি প্যাকেজের কাজের অগ্রগতি অসন্তোষজনক। বাকি ৮টি প্যাকেজের কাজ সন্তোষজনক। আমরা ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে মহাসড়কটি দরপত্র অনুসারে নির্মাণ কাজ শেষ করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে চাই।’
শেখ রবিউল আলম জানান, ‘বর্তামানে কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক। তবে কিছুটা জনদুর্ভোগ হচ্ছে, যেহেতু ৪ বছর কাজের তেমন অগ্রগতি ছিল না। বিগত সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার খুব বেশি মনযোগী ছিল না এই প্রকল্প নিয়ে। ভূমি অধিগ্রহণ বড় সমস্যা ছিল, সেটা থেকে উত্তরণ হতে চলেছি আমরা। ভৌত কাজ যেখানে সন্তোষজনক নয়, সেটা কীভাবে আরও জোরালো করা যায় সেই চেষ্টা করছি আমরা।’
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়াশরুমের কমোডের ট্যাংকের ভেতর ৪ কেজি ২০৪ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ পেস্ট মিলেছে। মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা পলিথিন মোড়ানো আটটি ডিমসদৃশ প্যাকেটে থেকে পাওয়া স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা।
শনিবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দরের কাস্টমস হলের ১ নম্বর বেল্টসংলগ্ন ওয়াশরুমে অভিযান চালিয়ে এসব পেস্ট উদ্ধার করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
কাস্টমস গোয়েন্দা এক বিবৃতিতে জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওয়াশরুমের একটি হাই কমোডের ট্যাংকে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সেখানে পলিথিনে মোড়ানো আটটি ডিমসদৃশ প্যাকেট দেখতে পাওয়া যায়। প্যাকেটগুলো ছিল মালিকবিহীন। পরে বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্যাকেটগুলো উদ্ধার করে কাস্টমস হলের ইনভেন্ট্রি টেবিলে খোলা হয়। প্যাকেট খুলে প্রাথমিকভাবে ৪ দশমিক ২০৪ কেজি স্বর্ণসদৃশ পেস্ট পাওয়া যায়।
কাস্টমস গোয়েন্দা জানায়, উদ্ধার করা পেস্টের প্রকৃত স্বর্ণের পরিমাণ ও বিশুদ্ধতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এজন্য রেজিস্টার্ড স্বর্ণকারের মাধ্যমে পেস্ট থেকে স্বর্ণ পৃথক করার কার্যক্রম চলছে। পৃথকীকরণ শেষে স্বর্ণের প্রকৃত ওজন ও বিশুদ্ধতা নির্ধারণ করা হবে। প্রাথমিক হিসাবে উদ্ধারকৃত স্বর্ণেরবাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা হতে পারে।
মালিকবিহীন অবস্থায় বিমানবন্দরের ওয়াশরুমের কমোডের ট্যাংকের ভেতরে এত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণসদৃশ পেস্টের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
দেশে সাশ্রয়ী মূল্যে স্মার্টফোন উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এখন থেকে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যেই স্মার্টফোন পাওয়া যাবে। এর ফলে কৃষকসহ সাধারণ মানুষের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ আরও সহজ হবে।
শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ২.০’ শীর্ষক গ্রুপ ডায়ালগে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কম দামে স্মার্টফোন পাওয়ার ফলে কৃষক ও সাধারণ মানুষ সহজেই প্রযুক্তির সুবিধা নিতে পারবেন। তারা মোবাইলের মাধ্যমে আবহাওয়া, সারের প্রয়োজনীয় মাত্রা ও কৃষিপণ্যের বাজারদর সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার কার্ড এবং ইমাম-পুরোহিতদের ভাতা ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে চালু করায় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক মূলধারায় আনতে শক্তিশালী ইন্টারনেট, ‘এক নাগরিক এক ওয়ালেট’ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আমির খসরু বলেন, ডিজিটাল ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি পরস্পরের পরিপূরক। ডিজিটাল অর্থনীতির গতি বাড়াতে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট অপরিহার্য। শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ব্যবহার টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
‘ওয়ান ভিলেজ, ওয়ান প্রোডাক্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক উৎপাদক ও কারিগরদের চিহ্নিত করে তাদের ডিজিটাল পেমেন্ট ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে উদ্ভাবনের গতি ধরে রাখতে সাইবার নিরাপত্তা ও নীতিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেসরকারি খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি বলেন, ‘সম্ভাবনাময় স্থানীয় উদ্যোক্তা ও পণ্যকে কাজে লাগিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ ধারণাটি বাস্তবায়নে ব্যাংক, উদ্যোক্তা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’
বেসরকারি খাতের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের কার্যকর বাস্তবায়নের বিষয়ে শনিবার রংপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে রংপুর অঞ্চলের অংশীজনদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর কার্যালয় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাংকার, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, কৃষক প্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, অন্যান্য অংশীজন এবং সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।
অংশগ্রহণকারীরা বেসরকারি খাতের উন্নয়ন, উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন, স্থানীয় উৎপাদন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের কার্যকর বাস্তবায়নের বিষয়ে তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন।
সভায় ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ ধারণার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে সম্ভাবনাময় স্থানীয় পণ্য ও উদ্যোক্তা চিহ্নিতকরণ, উৎপাদন বৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়গুলোর ওপর আলোকপাত করা হয়।
এছাড়া, ব্যাপকভাবে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছানোর মতো উচ্চ সম্ভাবনাময় স্থানীয় পণ্যগুলোর ব্র্যান্ডিং ও বিপণন এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
বিবি গভর্নর বেসরকারি খাতের উন্নয়নের জন্য ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের কার্যকর বাস্তবায়নের পাশাপাশি ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ ধারণাটি বাস্তবায়নে সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি গ্রাহক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের জন্য ১৬২৩৬ হটলাইন নম্বরটি ব্যবহারের পরামর্শও দেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা যাতে প্রকৃত ও যোগ্য উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে, তিনি উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, অর্থায়নের সুযোগ সহজতর করা এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
মতবিনিময় সভায় রংপুর অঞ্চলে হিমাগার স্থাপন, নবায়নযোগ্য শক্তির উন্নয়ন, রপ্তানিমুখী কৃষি ও শিল্পপণ্যের প্রসার এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো উদ্যোগগুলোকে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপটির খনন ও আনুষঙ্গিক উন্নয়নকাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। নতুন এই কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ১১ থেকে ১৬ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে কূপটি উদ্বোধন করা হয়।
বিজিএফসিএল এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জাতীয় গ্রিডে জ্বালানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে ৫টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তিতাস-২৮ নম্বর কূপটি খনন করা হয়েছে। চীনের প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানকিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের (সিসিডিসি) সঙ্গে চুক্তির আওতায় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর এর খননকাজ শুরু হয়েছিল। প্রায় ছয় মাসের ধারাবাহিক কর্মযজ্ঞের পর ২০২৬ সালের ১১ জুন খনন কার্যক্রম সমাপ্ত হয়।
প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিতাস-২৮ নম্বর কূপটির গভীরতা ৩ হাজার ৬০১ মিটার (এমডি) বা ৩ হাজার ৪৭১ মিটার (টিভিডি)। খনন পরবর্তী কমপ্লিশন কাজের পর ডিএসটি (ড্রিল স্টেম টেস্ট) এবং প্রোডাকশন টেস্টিং সম্পন্ন করে দৈনিক সর্বোচ্চ ১৬ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজিএফসিএলের মতে, নতুন এ কূপটি থেকে উত্তোলিত গ্যাস যুক্ত হলে দেশে চলমান জ্বালানি ঘাটতি কিছুটা লাঘব হবে, যা বিশেষ করে শিল্প কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় মহাপরিকল্পনার আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে আরও ১১টি কূপ খনন করে দৈনিক প্রায় ২০৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সঞ্চালন লাইনে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে অভিন্ন সিলেবাসে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিন্ন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ এবং সনদায়ন ব্যবস্থা চালু করা গেলে দেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বীকৃতি বাড়বে।
আজ শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির তৃতীয় সভায় সভাপতিত্বকালে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক এ কথা জানিয়েছেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনএসডিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও যথাযথ সমন্বয়ের অভাবে এসব প্রশিক্ষণ ও সনদ অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসব সনদের বিপরীতে আমাদের তরুণ প্রজন্ম কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি পাচ্ছে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এনএসডিএ’র গভর্নিং বডিকে অল্প সময়ের মধ্যে একটি ছোট কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।
তিনি অভিন্ন সিলেবাসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় এনএসডিএ’র প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল ও কার্যাবলি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
এছাড়া জাতীয় দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত নীতি ও কৌশলপত্র, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, খাতভিত্তিক দক্ষতার চাহিদা বিশ্লেষণ এবং স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, সনদায়ন এবং সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আরও ছিলেন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, এনএসডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সূত্র: বাসস
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সাশ্রয়ী, ন্যায্য ও ঝুঁকি-সংবেদনশীল অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর ব্যাপক সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আয়োজিত ‘লিডিং এসডিজি অ্যাকশন’— শীর্ষক লিডার্স ডায়ালগে তিনি এ আহ্বান জানান।
এ সময় ড. তিতুমীর বলেন, ‘আমাদের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি হতে হবে সম্মিলিত ও ভবিষ্যৎমুখী। আমাদের এমন একটি বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যা শুধু উন্নয়নে অর্থায়নই করবে না, বরং উন্নয়নকে টেকসই করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশও সৃষ্টি করবে।’
বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে পাঁচটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন তিনি।
অগ্রাধিকারগুলো হলো — সংকট মোকাবিলায় প্রতিক্রিয়াশীল পদ্ধতির পরিবর্তে ঝুঁকি আগাম শনাক্ত ও প্রশমনে সক্ষম আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঝুঁকিপ্রবণ দেশগুলোর কণ্ঠস্বর জোরদার করা, দীর্ঘমেয়াদি, স্বল্পব্যয়ী ও ন্যায্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা, জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সমন্বয় বাড়ানো এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে নমনীয় সহায়তা ও অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা অব্যাহত রাখা।
তৃণমূল পর্যায়ে এসডিজি বাস্তবায়নের উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের ‘এসডিজি ভিলেজ’ উদ্যোগ তুলে ধরেন ড. তিতুমীর।
তিনি বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদা ও অগ্রাধিকারকে কেন্দ্র করে এ উদ্যোগের আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল সেবা ও জলবায়ু সহনশীলতাকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সংলাপে আরও অংশ নেন— ইউরোপীয় কমিশনের নির্বাহী ভাইস-প্রেসিডেন্ট তেরেসা রিবেরা, বেনিনের অর্থমন্ত্রী আরিস্তিদ মেদেনু ও পানামার সামাজিক উন্নয়নমন্ত্রী বিয়াত্রিস কার্লেস দে আরাঙ্গো।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাউথ আফ্রিকান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের শেরউইন ব্রাইস-পিস। সূত্র: বাসস
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন ও ভাতার আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এই নির্দেশনাকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতনকাঠামোর বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং দশম থেকে বিংশতম গ্রেডের চাকরিজীবীরা ৫০ শতাংশ হারে সুবিধা পাবেন, যা গত ৩০ জুন আহরিত বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে। পরবর্তী ধাপে, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে ৭০ শতাংশ এবং দশম থেকে বিংশ গ্রেডে ৭৫ শতাংশ হারে বর্ধিত মূল বেতন দেওয়া হবে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনবৃদ্ধির শতভাগ কার্যকর হবে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কাঠামোটি কার্যকর ধরা হওয়ায় চাকরিজীবীরা তাদের বকেয়া পাওনাও বুঝে পাবেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা পাওয়া শুরু করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই প্রক্রিয়ায় পেনশনভোগীরাও নতুন বেতনকাঠামোর যাবতীয় সুবিধার আওতায় আসবেন।
নতুন এই কাঠামোতে প্রথম থেকে দশম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত এবং একাদশ থেকে বিংশ গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। এর সঙ্গে আনুপাতিক হারে অন্যান্য ভাতাও সমন্বয় করা হবে।
এর আগে গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামোটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। এই বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের রূপরেখা ও সুপারিশ চূড়ান্ত করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণার প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। সেই কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন দাখিল করে।