বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
৪ চৈত্র ১৪৩২

মিউনিখ সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১১:৫৭
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১১:৫৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, জার্মানির মিউনিখে তার ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আজ তাঁর মিউনিখ সফরের বিষয়ে রাজধানীর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।

তাঁর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ নিচে দেয়া হলো:

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

আসসালামু আলাইকুম। শুভ সকাল। গত ১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত ৬০তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন মূলতঃ রাষ্ট্র/সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, সরকারি এবং বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিগণের অংশগ্রহণ করেন। এটি সমকালীন ও ভবিষ্যত নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্চ-পর্যায়ের নিয়মিত আলোচনার একটি শীর্ষস্থানীয় ফোরাম হিসেবে বিবেচিত। এ বছরের ফোরামে ৩৫-জনেরও বেশী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান অংশগ্রহণ করেছেন।

বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দিতা এবং আঞ্চলিক সংঘাত, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নিউক্লিয়ার নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু নিরাপত্তা, তথ্য নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা, অভিবাসন, সাপ্লাই চেইন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মহামারি ইত্যাদি বিষয়ে এবারের ফোরামে আলোচনা করা হয়।

সফরের প্রথম দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি ‘ফ্রম পকেট টু প্লানেট: স্কেলিং আপ ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করি। এই আলোচনায় আমার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত মান্যবর জন কেরি, বারবাডোসের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মিয়া আমোর মটলে, এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোসা জামির।

প্যানেলটিতে উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে আমি বক্তব্য প্রদান করি। বক্তব্যের শুরুতেই আমি গাজা ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহ, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং নিরস্ত্র মানুষের, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের, অমানবিক হত্যার কবল থেকে মুক্ত করে সকল প্রকার যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার জোর আহ্বান জানাই। আর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা-নিষেধাজ্ঞার বিরূপ প্রভাব যে যুদ্ধক্ষেত্র থেকেও বহুদূর পর্যন্ত অনুভূত হয়, এ বিষয়ে আমি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। এ প্রসঙ্গে আমি অর্থহীন অস্ত্র-প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় রসদ ও অর্থায়ন সহজলভ্য ও কার্যকর করার জন্য সকলকে অনুরোধ করি। মানবতার অস্তিত্বের সংটকালে ক্ষুদ্র স্বার্থ যে শুধু অনর্থই বয়ে আনে - এই রূঢ় বাস্তবতা আমি সকলের সামনে তুলে ধরি। আর তাই, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানাই।

আমি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার জন্য বিশ্বের সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বহুবিধ নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ও জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের পরিমাণ বৃদ্ধি, প্রতিশ্রুত অর্থের বাস্তবিক হস্তান্তর, ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিতকরার উপর আমি বিশেষভাবে জোর দেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় আমি ধনী দেশসমূহের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই।

এদিন আমার হোটেল স্যুইটে উইমেন পলিটিক্যাল লিডার্স (ডব্লিউপিএল)-এর সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মিসেস সিলভানা খক্ মেহরিন আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান এবং গত দেড় দশকে বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য আমাকে ডব্লিউপিএল-জি ট্রাইলব্লাজের এওয়ার্ড ২০২৩ গ্রহণের জন্য তিনি আমাকে আগামী ২০ মার্চ ২০২৪ তারিখ এথেন্সে অনুষ্ঠিতব্য ডব্লিউপিএল সামিট-এ অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। আলোচনায় আমি আমাদের সরকারের- বিশেষ করে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত নীতিসমূহের বিষয়ে আলোকপাত করলে এ বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বাংলাদেশের নীতি ও কার্যক্রমসমূহ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একইদিন আমি কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোহাম্মদ বিন্ আব্দুলরাহ্মান আল-সানি-র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জ্ঞাপনের পাশাপাশি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, এলএনজি সরবারহ প্রভৃতির পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই ও দ্রুত সমাধানে কাতারের অব্যাহত সমর্থনের ব্যাপারে তিনি আশ্বস্ত করেন। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সহিংসতা বন্ধে একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও আমরা আলোচনা করি।

এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন নীতি ও অংশীদারিত্ব বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মান্যবর আক্সেল ভন ট্রটসেনবার্গ। বাংলাদেশে ও বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের অংশীদারিত্বের প্রেক্ষাপটে আমি মধ্যম আয়ের দেশভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবদানের আলোকে বর্তমান অর্থবছরে বাজেট সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংক হতে অঙ্গীকারকৃত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দ্রুত ছাড়ের আহ্বান জানাই। পাশাপাশি আমি জোরপূর্বক স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে এবং এই সমস্যার বিরূপ প্রভাবে আক্রান্ত দেশ হিসেবে বাংলাদশকে প্রদত্ত ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন সহায়তার জন্যও তাকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয় ও উচ্চ-আয়ের দেশের পর্যায়ে উত্তীর্ণ হবার কাঙ্ক্ষিত পথে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেন।

একই দিনে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মান্যবর ডক্টর টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসাস আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে-বিশেষ করে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আসন্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশে আমাকে আমন্ত্রণ জানান এবং বিশ্বের বাকি দেশসমূহকে বাংলাদেশের কম্যুনিটি ক্লিনিক মডেল অনুসরণ করার বিষয়ে অনুপ্রাণিত করার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন।

আলোচনাকালে আমি বর্তমান সরকারের সেকেন্ডারি ও টার্শিয়ারি স্বাস্থ্যসেবা, টীকা উৎপাদন, এন্টি-মাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ, নার্সিং ও অন্যান্য স্বাস্থ্যখাতে মানব সম্পদ উন্নয়ন ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের কথা উল্লেখ করে এতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তা আশা করি। এ বিষয়ে মহাপরিচালক আমাকে আশ্বস্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক অতিমারি চুক্তি-এর দ্রুত সমাপনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমর্থন কামনা করেন।

এইদিন আমার সঙ্গে আরও সাক্ষাৎ করেন মেটা-জি গ্লোবাল এফেয়ার্স এর প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী স্যার নিক্ ক্লেগ্। তিনিও আমাকে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতের উন্নয়ন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্র সুবিস্তারে সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রংসা করেন তিনি। আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনে আমাদের সফলতা তুলে ধরি এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ ও তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে মেটা-এর সহযোগিতা আশা করি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে বিভিন্ন মেটা প্ল্যাটফর্ম যেমন ফেইসবুক, হোয়াটস্অ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম প্রভৃতির ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারির সুউচ্চ সংখ্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি বাংলাদেশে মেটা-এর একটি কার্যালয় স্থাপনের পরামর্শ দিই।

প্রথম দিন আমি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মেটে ফ্রেডরিক্সেন-এর সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমাকে ও আমাদের নবগঠিত সরকারকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানোর জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আলোচনাকালে বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আইসিটি খাতে ড্যানিশ কোম্পানিসমূহের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের পাশাপাশি তিনি বিরাজমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকারের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকার বিষয়েও আমাকে আশ্বস্ত করেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মার্ক রুটে আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। আলোচনাকালে আমরা দু’জনই বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতসমূহে জ্ঞান-প্রযুক্তি-উদ্ভাবন বিস্তারে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও গভীরতর করার বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।

একইদিন সকালে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী মান্যবর ডক্টর এস. জয়শংকর। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। সাক্ষাৎকালে আমরা উভয়ই দুই বন্ধু-রাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং দু’দেশের বাণিজ্য নিজস্ব মুদ্রায় পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত পোষণ করি। তিনি আগামী এপ্রিল/মে মাসে ভারতীয় সাধারণ নির্বাচন পরবর্তীকালে দু’দেশের নতুন সরকারের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত পঞ্চ-বার্ষিক সহযোগিতা বিষয়ক রোডম্যাপ প্রণয়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে আমরা মায়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিষয়েও পারস্পরিক মতবিনিময় করি।

এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাইট অনারেবল্ লর্ড ক্যামেরন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রেরিত শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এসময় আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান চলাচল অংশীদারিত্ব, অভিবাসন, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ এবং মায়ানমার ও লোহিত সাগরে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করি।

একই দিনে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন জার্মান আর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রী মান্যবর সভেনিয়া শুলৎজা। আলোচনাকালে আমরা ইইউ-এর জিএসপি+ বাণিজ্য সুবিধাসহ পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জার্মান বিনিয়োগ এবং সার্বিক জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বর্ধিতকরণের বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।

এইদিন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ভ্লাদিমীর জেলেন্স্কি আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে আমরা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং গম, ভোজ্যতেল ও অন্যান্য কৃষিপণ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করি। আমি তাঁকে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের দ্রুত সমাধানের কার্যকর উপায় অন্বেষণের অনুরোধ করি। এছাড়াও আমরা গাজা উপত্যকায় সংঘাতের বিষয়ে মতবিনিময় করি।

এরপর আমি আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ইল্হাম আলিইয়্যেভ-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমরা পরস্পর পরস্পরকে পঞ্চমবারের মতো পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানাই। আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করি। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে নেতৃত্বদানের জন্য আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি আমাকে ধন্যবাদ দেন এবং এবছর নভেম্বরে বাকু-তে অনুষ্ঠিতব্য কপ২৯-এ যোগদানের জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানান। আলোচনাকালে আমরা উভয়ই জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা প্রভৃতি বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি।

এদিন আমি জার্মান চ্যান্সেলর মান্যবর ওলাফ শোলজ্-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বৈঠককালে আমরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও হাইড্রোজেন প্রযুক্তি এবং দক্ষ অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করি। এছাড়াও, আমরা ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গে মতবিনিময় করি এবং এসকল সংঘাত দ্রুত অবসানের বিষয়ে কার্যকর উপায় অন্বেষণের জন্য আমি তাঁকে অনুরোধ করি।

এছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি জার্মান আওয়ামী লীগ আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনা সভায় যোগদান করি এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি আমি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করি।

মিউনিখে আমার এই ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। দেশের আকার নয় বরং নীতির শক্তিতেই যে মানবতার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক মুক্তি, এবারের সম্মেলনে আমি এই বার্তাই বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছি। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমূহের মাধ্যমে বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাথে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আরও দৃঢ় হয়েছে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে।

আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”


ঈদযাত্রা শুরু, বাস-ট্রেনে বাড়ছে যাত্রীচাপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। সেহরির পর থেকেই ঢাকার প্রধান বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে।

মহাখালী, কল্যাণপুর ও গাবতলী থেকে অধিকাংশ বাস নির্ধারিত সময় মেনেই ছেড়ে যাচ্ছে। তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার ঈদে টিকিট বিক্রি আশানুরূপ নয়। জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে যাত্রী পরিবহনে। যদিও তাদের আশা, সন্ধ্যার পর যাত্রীর চাপ আরো বাড়বে।

অন্যদিকে যাত্রীদের ভাষ্য, অতীতের মতো টিকিট পেতে তেমন বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি। অনলাইনে সহজেই ন্যায্য দামে টিকিট পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিক যাত্রার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৫০ থেকে ১০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।

এদিকে ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনেও বেড়েছে যাত্রীচাপ। বুধবার সকালে বিভিন্ন রুটের ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। যাত্রীরা জানিয়েছেন, নির্বিঘ্নেই ট্রেনে যাতায়াত করছেন তারা।

রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, শিডিউল বিপর্যয় এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা।

তবে যাত্রীচাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই নিয়ম ভেঙে ট্রেনের ছাদে ওঠার চেষ্টাও করছেন। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারির কথা জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।


যমুনায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদের দিন কূটনীতিক, শিক্ষাবিদসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সেদিন সকাল ১০টায় এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শুরু হবে।

বুধবার (১৮ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। এরপর সকাল ১০টায় যমুনাতে যাবেন। সেখানে কূটনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

তিনি বলেন, পরে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ, আলেম-ওলামা, শিল্পী-সাহিত্যিক, উচ্চ পদস্থ সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের পর সেখানেই উঠবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গণপূর্ত অধিদফতর জানিয়েছে, এ উপলক্ষে বড় ধরনের কোনো সংস্কার নয়, মূলত রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলছে।

গত আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহ্যগত সরকারি বাসভবন হিসেবে গণভবনের ব্যবহার বন্ধ রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য জাতীয় সংসদ ভবন ও আগারগাঁও এলাকায় বাসভবন নির্ধারণের চিন্তা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

এ অবস্থায় যমুনাকেই সরকার প্রধানের বাসভবন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী গুলশান থেকে সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাতায়াত করছেন। তবে যমুনা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন থেকে এসব স্থানের দূরত্ব তুলনামূলক কম হওয়ায় এটি সুবিধাজনক বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানান, ভেতরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রং করা, হাইজিনিক ওয়াশসহ ছোটখাটো সংস্কার কাজ চলছে।

সিলিংয়ের কিছু পুরনো অংশেও মেরামত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বড় কোনো সংস্কারের প্রয়োজন নেই এবং দুই সপ্তাহের মধ্যেই সব কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

এরই মধ্যে যমুনায় দুই দফায় ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে দেশি-বিদেশি কয়েকশ অতিথি উপস্থিত ছিলেন।

ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শেষে যমুনাকেই প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন হিসেবে ব্যবহার শুরু হবে বলে জানা গেছে।

ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শেরে বাংলানগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করবেন।


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চট্টগ্রামমুখী লেন ৪ দিন বন্ধ থাকবে

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় অবস্থিত সেতুর জরুরি মেরামত কাজের কারণে আগামী ২২ মার্চ থেকে চারদিন চট্টগ্রামমুখী লেন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানিয়েছে, ২২ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত এই লেন দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারবে না।

এরপর ২৬ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত এক লেন দিয়ে সীমিত আকারে যান চলাচল চালু রাখা হবে।

সওজের ফেনী কার্যালয় থেকে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মেরামতকাজ চলাকালে যান চলাচলের জন্য কয়েকটি বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হবে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বিকল্প পথের বেশিরভাগই শহরের অভ্যন্তরীণ এবং ভারী যানবাহনের জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। ফলে শহরের ভেতরে যানজট ও দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের আগে ও পরে এই মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত রুট। বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করায় এই সময়ে লেন বন্ধ থাকলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।

এদিকে সড়ক বিভাগের দাবি, ঈদ পরবর্তী সময়ে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম থাকে এবং ভারী যান চলাচলও সীমিত থাকে। তাই এই সময়টিকেই মেরামতের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা জানান, ২০২৪ সালের বন্যায় সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দ্রুত মেরামত জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাময়িক কিছু চাপ থাকলেও বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না।


গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম

গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক রয়েছে উল্লেখ সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সব বাস কাউন্টার থেকে নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের যাত্রীদের ভোগান্তি বা অভিযোগ আমরা পাইনি। রাস্তায় কোনো ধরনের যানজট নেই।

বুধবার (১৮ মার্চ) গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের যাত্রীদের ভোগান্তি বা অভিযোগ আমরা পাইনি। কোনো ধরনের যানযট নেই। যে দুই-তিনটি অভিযোগ আসছে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, রাজধানী থেকে সময়মতো বাস ছেড়ে যাচ্ছে এবং যাত্রীরা স্বস্তিতেই যাত্রা করছেন।

এ সময় যমুনা সেতুতে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় ৩২ হাজারের বেশি যান পারাপার হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল নিয়ে সংকট হওয়ার গুঞ্জনের মধ্য মন্ত্রী বলেন, গণপরিবহনে কোনো ধরনের তেলের সংকট নেই, পর্যাপ্ত দেওয়া হচ্ছে।


ঈদের দিনে বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আগামী শুক্র বা শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

এ দুদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বুধবার (১৮ মার্চ) আবহাওয়া অফিসের ৫ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

একই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

এছাড়া আগামী ২১ মার্চ (শনিবার) রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

একই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এসময় সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।


কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাকিব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর শাহবাগ থানাধীন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় গত রোববার রাতে সংঘটিত রাকিবুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে দুপুরে একটি সংবাদ সম্মেলনের কর্মসূচি ছিল, তবে পরবর্তীতে অনিবার্য কারণবশত সেই ব্রিফিং স্থগিত করা হয়। বোরহানুদ্দীন পোস্টগ্র্যাজুয়েট কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল গত রোববার রাত সোয়া ৯টার দিকে শহীদ মিনারের সিঁড়িতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলির শিকার হয়ে নিহত হন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা যায় যে, সেদিন কয়েকজন যুবক আকস্মিকভাবে এসে প্রথমে রাকিবুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং পরে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন একজনকে চাপাতিসহ আটক করে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এই হত্যাকাণ্ডটি মূলত প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বের জেরে সুপরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে।
এই নৃশংস হামলায় সাত থেকে আটজন অংশ নিয়েছিলেন এবং ঘাতকদের একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে বিশেষভাবে ভাড়া করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল। নিহত রাকিবুলের গ্রামের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলায় এবং তাঁর পিতা তারিকুল ইসলাম খোকন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের একজন কর্মচারী।


প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সংসদে দায়িত্বে থাকবেন দুই মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সংসদ বিষয়ক কার্যাবলি কীভাবে সম্পাদিত হবে তা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রধানমন্ত্রী, ২৫ জন মন্ত্রী এবং দুইজন প্রতিমন্ত্রীর বিকল্প হিসেবে সংসদে কোন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করবেন তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী এবং তাদের বিকল্প—উভয়েই কোনো কারণে সংসদে অনুপস্থিত থাকলে কীভাবে কার্যক্রম সম্পাদিত হবে, সেটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‌‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং বিকল্প দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর যুগপৎ অনুপস্থিতিতে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং তার অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রশ্নোত্তর প্রদান এবং সংসদ সম্পর্কিত কার্যাবলি সম্পাদন করবেন।’


ঈদুল ফিতরের তারিখ নির্ধারণে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা আহ্বান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের তারিখ চূড়ান্তকরণ এবং শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনার লক্ষ্যে আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৬ টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা আহ্বান করা হয়েছে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রাপ্ত সংবাদ বিশ্লেষণ করে এই বৈঠকের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা হবে মুসলিম উম্মাহর সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসবটি কবে উদযাপিত হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা যেন তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।

চাঁদ দেখার তথ্য সরাসরি জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটিকে জানানোর জন্য ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ ও ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ নম্বরগুলো সচল রাখা হবে। এছাড়াও নাগরিকগণ সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক অথবা নিজ নিজ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও চাঁদ দেখার সংবাদ প্রদান করতে পারবেন।


নারী অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৮ মার্চ, ২০২৬ ১১:০৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত নারীর অবস্থা বিষয়ক কমিশনের ৭০তম অধিবেশনে (সিএসডব্লিউ৭০) অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নারীর সমঅধিকার ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশের অবিচল অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) প্রদত্ত ভাষণে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বেইজিং ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনা এবং ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন সূচকের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ পূর্ণ দায়বদ্ধ এবং নারী ও কন্যাশিশুর জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, আর্থ-সামাজিক অবস্থান বা পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নারী ও কন্যাশিশুর জন্য ন্যায়বিচারের পথ উন্মুক্ত থাকতে হবে, যাতে তারা কোনো প্রকার ভয় বা বাধা ছাড়াই আইনি সুরক্ষা ভোগ করতে পারে।

বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি জানান যে, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা অভিযানগুলোতে বাংলাদেশি নারীদের অবদান অত্যন্ত গৌরবজনক ও লক্ষণীয়। তবে বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত এবং ডিজিটাল বিভাজন বিশেষ করে গ্রামীণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনপদের নারীদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

এসব প্রতিকূলতা মোকাবিলায় ড. রহমান নারী নেতৃত্বের মাধ্যমে বিচারিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানবপাচার প্রতিরোধে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্তরে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। উল্লেখ্য, ৯ থেকে ১৯ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত নিউ ইয়র্কে চলমান এই ৭০তম অধিবেশনটির মূল প্রতিপাদ্য হলো সকল নারী ও কন্যাশিশুর জন্য ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।


যমুনা সেতুতে যানবাহন পারাপারে রেকর্ড, ৪৮ ঘণ্টায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা টোল আদায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে যমুনা সেতুতে যানবাহনের ব্যাপক চাপ লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে গত ৪৮ ঘণ্টায় ৮২ হাজার ৬০১টি গাড়ি পারাপারের বিপরীতে মোট ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত সময়ে এই টোল আদায় করা হয়।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪৬ হাজার ৯৬৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং একদিনেই ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা টোল সংগৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ২৭ হাজার ৪৯৮টি যানবাহন থেকে এক কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৫০ টাকা এবং ঢাকাগামী ১৯ হাজার ৪৪৫টি যানবাহন থেকে এক কোটি ৬৬ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকা আদায় করা হয়।

মহাসড়কের পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিশ জানায়, সোমবার বিকাল থেকে সরকারি ছুটি হওয়ার পর মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। তবে স্বস্তির খবর হলো, বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল পর্যন্ত মহাসড়কের কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়নি। বিশেষ করে গাজীপুর থেকে টাঙ্গাইল এলেঙ্গা পর্যন্ত চারলেন সুবিধা পাওয়ায় যাত্রীরা কোনো বাধা ছাড়াই যাতায়াত করতে পারছেন। যদিও এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার যানজটের আশঙ্কা করলেও এখন পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়নি এবং চালক ও যাত্রীরা নির্বিঘ্নেই গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন।


ফেব্রুয়ারিতে দুদকের জালে ১৪২ কোটি ৭৭ লাখ টাকার সম্পদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা প্রায় দেড়শ কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ আদালতের আদেশে ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

২০২৪ সালে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর দুদকের অনুসন্ধান ও মামলায় গতি আসে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মী ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ব্যবস্থা নেয় দুদক। চলমান বিভিন্ন অনুসন্ধান ও মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব সম্পদ আদালতের নির্দেশনায় ক্রোক বা অবরুদ্ধ করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় কমিশন।

দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, গত এক বছরে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে, যা অতীতে এত অল্প সময়ে হয়নি। ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা সম্পদের ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি বিভাগ এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে।

সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আদালতের ২০টি আদেশে ৭২ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ৬০১ টাকার স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়। একই সময়ে আদালতের ১৫টি আদেশে ৭০ কোটি ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৮০৯ টাকার অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এই সময়ে মোট ১৪২ কোটি ৭৭ লাখ ২৬ হাজার ৪১০ টাকার সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

ক্রোক করা স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৫৬ দশমিক ৫৮ একর জমি, যার মূল্য প্রায় ৩০ কোটি ৫৯ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এছাড়া, ১৪টি ভবন, ২৮টি ফ্ল্যাট, ১২টি প্লট, একটি বাড়ি, দুটি টিনশেড ঘর, দুটি দোকান এবং ছয়টি গাড়ি রয়েছে। এসব সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭২ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে একটি খেলার মাঠ ও একটি স্কুলের মূল্য এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

অন্যদিকে, অবরুদ্ধ করা অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১৪৪টি ব্যাংক হিসাব, যেখানে জমা রয়েছে প্রায় ৫৯ কোটি ৯২ লাখ ১০ হাজার টাকা। এছাড়া, বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ, সঞ্চয়পত্র, পে-অর্ডার, শেয়ার, এফডিআর, বিও হিসাব, প্রাইজবন্ড ও বিমা পলিসিসহ নানা আর্থিক সম্পদ রয়েছে।

সব মিলিয়ে অবরুদ্ধ করা অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য প্রায় ৭০ কোটি ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৮০৯ টাকা বলে জানিয়েছে দুদক।


ঈদযাত্রা পরিদর্শন, আইন না জানাও একটা অপরাধ: আইজিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইন না জানাও একটা অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘প্রতিবছর ঈদযাত্রায় ঘরমুখী মানুষের অনেক সমস্যা হয়। বিশেষ করে সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। আবার দেখা যায়, অনেকে ঈদের আগের দিন রওনা দেয়, বাড়িতে পৌঁছে সঠিকভাবে ঈদটাও করতে পারে না। এ জন্য এ বছর আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে আমাদের যাত্রীদের ঈদযাত্রায় যেন হয়রানি, টিকিটের মূল্য বেশি নেওয়া, সড়কে যানজট না হওয়া তা নিশ্চিত করার জন্য সব মহাসড়কে ব্যবস্থাপনা যাতে উন্নত করা যায়, সে জন্য গুরুত্বসহকারে কাজ করছি। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেছেন।’

আলী হোসেন ফকির আরও বলেন, ‘বড় বড় বাজার ও মোড়গুলোতে প্রচুর পরিমাণের যানজট সারা বছর লেগেই থাকে। সেগুলো দূর করার জন্য সেখানে পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ওই এলাকায় যাতে যানজট না হয়, তার নির্দেশ দিয়েছি। এ ছাড়া পরিবহন মালিক সমিতির লোকজনকে অনুরোধ করেছি, যাতে পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যারা চালক ও সহযোগী হিসেবে থাকেন, তারা অনেক সময় ট্রাফিক আইনটাও জানেন না। ট্রাফিক আইন মেনে চলেন না। এতে যানজট তৈরি হয়, এসব ক্ষেত্রে একটু মেধা খাটালেই এটা থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি। এ জন্য তাদের অনুরোধ করেছি, তাদের মোটিভেশন ও ট্রাফিক আইন শিক্ষা দেওয়ার জন্য।’

গাবতলী বাস টার্মিনালে আইনশৃঙ্খলার তৎপরতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘এখানে মাদকসেবী, ছিনতাইকারী রয়েছে। সব ধরনের লোকই আছে। এ জন্য সারাদেশে ও পুলিশের সকল ইউনিটকে বলে দিয়েছি যেন ডিউটিতে থাকে। কোনো ধরনের হুমকি নাই। তারপরও জনগণকে বলতে চাই, বাংলাদেশ পুলিশ তৎপর রয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, অন্যায় কোনো কিছুর সঙ্গে আপস করা হবে না।’ ‎

রাজধানীতে নানা স্থানে অবৈধ বাস কাউন্টারের বিষয়ে ‎আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘আইজিপি হিসেবে যোগদানের পরই বলেছি, ঢাকা শহরের ভেতরে দূরপাল্লার কোনো বাস কাউন্টার থাকতে পারবে না। এটা দূর করার জন্য আমাদের সবার প্রচেষ্টা দরকার। আইনের মাধ্যমে আমরা এসব দূর করব।’‎

টিকিটের মূল্য বেশি নেওয়ার পরও অভিযোগ না করার বিষয়ে আইজিপি বলেন, ‘এটা আমাদের সমস্যা। আইন না জানাও একটা অপরাধ। জানার দায়িত্ব নিজের। প্রচলিত দেশের আইন জানা একজন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব। প্রধান দায়িত্ব আপনাকে আইন জানতে হবে। আপনি জানেন না, এসে বলবেন, আমি এটা জানতাম না, এই অজুহাত মানব না। প্রচলিত আইন জানাও আমাদের দায়িত্ব।’


ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ঢল, নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতা

* কমলাপুর স্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়  *সদরঘাট ফিরছে সেই পুরোনো ব্যস্ততায় * বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের ভিড় * ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ছিল গাড়ির চাপ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা সাত দিনের ছুটি মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে শুরু হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২১ মার্চ দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। স্বস্তি-অস্বস্তি নিয়ে ইতোমধ্যে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। ঈদের ছুটিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যারা থাকেন, তারা এখন নিজ নিজ জেলায় অর্থাৎ বাড়িতে ফিরছেন। বাস, ট্রেন, লঞ্চ সবক্ষেত্রে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকে গাবতলী, মহাখালী এবং যাত্রাবাড়ী বাস স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। সেই সাথে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন স্টেশনে ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে।

এদিকে রাজধানী অনেকটা ফাঁকা হতে শুরু করেছে। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে যাতায়াতকারী যাত্রীরা ভিড় করছেন। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত লঞ্চঘাটে চাপ বেড়েছে, আশপাশের সড়কগুলোতেও যানজট দেখা দিয়েছে।

ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ধরে আগেই পাঁচ দিনের ছুটির তারিখ নির্ধারণ করে রেখেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সেই অনুসারে ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটি নির্ধারণ করা ছিল। এর মধ্যে ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন সাধারণ ছুটি। এ ছাড়া ঈদের আগে ১৯ ও ২০ মার্চ এবং ঈদের পরে ২২ ও ২৩ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারণ করা ছিল। তবে পূর্বঘোষিত ছুটির পাশাপাশি ১৮ মার্চও নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করে সরকার। আর ১৭ মার্চ শবে কদরের ছুটি মিলিয়ে সরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের ছুটি পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পদ্মা সেতুর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ নির্বিঘ্নে তাদের গন্তব্যে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কে যানবাহনের ব্যাপক চাপ থাকলেও কোথাও কোনো যানজট সৃষ্টি হয়নি। পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় বড় যানবাহনের জন্য সাতটি ও মোটরসাইকেলের জন্য তিনটি আলাদা টোল কাউন্টার চালু থাকায় দ্রুত সময়ের মধ্যে টোল আদায় সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে টোল প্লাজায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি ছাড়াই চালকরা সেতু পার হতে পারছেন। কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই এবারের ঈদযাত্রা সম্পন্ন করতে পেরে সাধারণ যাত্রীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

যাতায়াতে ভোগান্তি না থাকলেও অনেক যাত্রী অভিযোগ করেন, ঈদের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন পরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। মহাসড়ক যানজটমুক্ত থাকলেও ভাড়ার ক্ষেত্রে এমন নৈরাজ্য তাদের ঈদ আনন্দ কিছুটা ম্লান করছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মেনহাজুল আলম বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জেলা পুলিশের প্রায় ৫০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং যাত্রী হয়রানি রোধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি।

ঈদযাত্রায় কমলাপুরে উপচেপড়া ভিড় : কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। গতকাল সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার উদ্দেশে যাত্রীরা স্টেশনে ভিড় করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে চালু হওয়া বিশেষ ট্রেনের পাশাপাশি নিয়মিত ট্রেনগুলোতেও তীব্র যাত্রীচাপ রয়েছে। নির্ধারিত ট্রেনে উঠতে অনেক যাত্রী আগেভাগেই স্টেশনে এসে অপেক্ষা করছেন। টিকিটধারীদের পাশাপাশি অনেকে স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়েও যাত্রা করছেন।

যাত্রীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত চাপের কারণে ট্রেনের সময়সূচি কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে এবং প্ল্যাটফর্মে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সব ধরনের ভোগান্তি সত্ত্বেও প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে মানুষ ছুটছেন বাড়ির পথে। ফলে কমলাপুর স্টেশনজুড়ে এখন ঘরে ফেরার উচ্ছ্বাসই চোখে পড়ছে।

সদরঘাটে ফিরছে সেই পুরোনো ব্যস্ততা :

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের জনস্রোত ঈদের আগে আজই ছিল শেষ কর্মদিবস। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে যাত্রীদের চাপ ব্যাপক।

লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে যাত্রীরা বরিশাল, ভোলা, চাঁদপুর, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাওয়ার জন্য ঘাটে আসছেন। ঘাটে কুলি-মজুরদের উপস্থিতিও আগের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি ফেরা মানুষের সংখ্যাই বেশি দেখা গেছে। ঈদের আগে ভিড় এড়াতে অনেকে আগেভাগেই যাত্রা শুরু করছেন। সাধারণ সময়ে বরিশাল রুটে এক বা দুটি লঞ্চ চলাচল করলেও বর্তমানে যাত্রীর চাহিদা বাড়ায় চারটি লঞ্চ ছাড়ছে।

লঞ্চ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে ঢাকা-বরিশাল রুটে ডেকের ভাড়া ৩০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন এক হাজার ২০০ টাকা এবং ডাবল কেবিনের ভাড়া ২ হাজার ৪০০ টাকা।

এছাড়া বিভিন্ন ভিআইপি কেবিনের ভাড়া ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। ঢাকা থেকে মুলাদি ও ভাসানচর রুটে ডেকের ভাড়া ৪০০ টাকা এবং কেবিন ভাড়া এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা। অন্যদিকে চাঁদপুর রুটে ডেকের ভাড়া ২০০ টাকা এবং কেবিন ভাড়া ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে বরিশাল যাচ্ছিলেন সাইফুল হক। বেলা বাড়লে ভিড় বাড়বে বলে আগেভাগেই তিনি মিরপুর থেকে এসেছেন তারা। তিনি বলেন, ভিড় এড়াতেই আগেভাগে বাড়ির পথে রওনা হয়েছি। ভাড়াও আগের মতোই রয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌকর্তৃপক্ষের পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন বলেন, এবারে ঈদ উপলক্ষে আমরা যাত্রীদের সুবিধার কথা ভেবেছি। নতুন ট্রলি সরবরাহ করেছি মালামাল বহনের জন্য। যাত্রীদের ভিড় অনেকটা বেড়েছে।

বাস টার্মিনালে যাত্রীদের ভিড় : মহাখালী বাস টার্মিনালে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। এদিকে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে দুপুর পর্যন্ত যাত্রীদের তেমন ভিড় দেখা যায়নি। সায়েদাবাদ ও ধোলাইরপাড় বাস টার্মিনালে যাত্রীর চাপ বেশ বেড়েছে। সায়েদাবাদ থেকে সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে বাস ছেড়ে যায়।

তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিকেলের পর থেকে যাত্রীদের চাপ বাড়তে পারে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৭, ১৮ ও ১৯ মার্চের অগ্রিম টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। তবে যাত্রীদের জন্য বিশেষ গাড়ির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এদিকে, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঘরমুখো যাত্রায় ঢাকা–মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতেও যানবাহনের চাপ ছিল অনেক। এক্সপ্রেসওয়েতে যাত্রীবাহী বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী যানবাহনের সংখ্যা বাড়তে দেখা গেছে। তবে এখন পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গণপরিবহন সংকট, যাত্রীদের ভোগান্তি

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোথাও কোনো যানজট নেই। তবে মহাসড়কে গণপরিবহনের সংকট দেখা দেওয়ায় ঘরমুখো মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মহাসড়কের এলেঙ্গাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঘরমুখো মানুষের চাপ রয়েছে।

অনেকেই বাস বা গণপরিবহন না পেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপে বাড়ি যাচ্ছেন। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সরেজমিনে মহাসড়কের নগরজালফৈ বাইপাস, রাবনা বাইপাস ও এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ঘরমুখো মানুষের ভিড় দেখা গেছে। এসময় দেখা যায়, কেউ কেউ আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা যাবত গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষা করছেন। ভ্যাপসা গরম ও ধুলোবালিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ঘরমুখো মানুষদের।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ির চাপ : ঈদযাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ১০৪ কিলোমিটার অংশে এখনো পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ১০টার পর থেকে মহাসড়কে যানজট না থাকলেও পরিবহনের চাপ বেড়েছে। এবারের ঈদ যাত্রায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন চালক ও যাত্রীরা। তারা বলছেন বিগত সময়ে ব্যস্ততম এই মহাসড়কে তীব্র যানজটের কবলে পড়ে ঘরমুখো মানুষদের দুর্ভোগে পড়লেও এবার সেই ভোগান্তি নেই। এদিকে এবারে যানজট মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ।


banner close