মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

মিউনিখ সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১১:৫৭
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১১:৫৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, জার্মানির মিউনিখে তার ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আজ তাঁর মিউনিখ সফরের বিষয়ে রাজধানীর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।

তাঁর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ নিচে দেয়া হলো:

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

আসসালামু আলাইকুম। শুভ সকাল। গত ১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত ৬০তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন মূলতঃ রাষ্ট্র/সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, সরকারি এবং বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিগণের অংশগ্রহণ করেন। এটি সমকালীন ও ভবিষ্যত নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্চ-পর্যায়ের নিয়মিত আলোচনার একটি শীর্ষস্থানীয় ফোরাম হিসেবে বিবেচিত। এ বছরের ফোরামে ৩৫-জনেরও বেশী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান অংশগ্রহণ করেছেন।

বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দিতা এবং আঞ্চলিক সংঘাত, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নিউক্লিয়ার নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু নিরাপত্তা, তথ্য নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা, অভিবাসন, সাপ্লাই চেইন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মহামারি ইত্যাদি বিষয়ে এবারের ফোরামে আলোচনা করা হয়।

সফরের প্রথম দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি ‘ফ্রম পকেট টু প্লানেট: স্কেলিং আপ ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করি। এই আলোচনায় আমার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত মান্যবর জন কেরি, বারবাডোসের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মিয়া আমোর মটলে, এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোসা জামির।

প্যানেলটিতে উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে আমি বক্তব্য প্রদান করি। বক্তব্যের শুরুতেই আমি গাজা ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহ, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং নিরস্ত্র মানুষের, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের, অমানবিক হত্যার কবল থেকে মুক্ত করে সকল প্রকার যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার জোর আহ্বান জানাই। আর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা-নিষেধাজ্ঞার বিরূপ প্রভাব যে যুদ্ধক্ষেত্র থেকেও বহুদূর পর্যন্ত অনুভূত হয়, এ বিষয়ে আমি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। এ প্রসঙ্গে আমি অর্থহীন অস্ত্র-প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় রসদ ও অর্থায়ন সহজলভ্য ও কার্যকর করার জন্য সকলকে অনুরোধ করি। মানবতার অস্তিত্বের সংটকালে ক্ষুদ্র স্বার্থ যে শুধু অনর্থই বয়ে আনে - এই রূঢ় বাস্তবতা আমি সকলের সামনে তুলে ধরি। আর তাই, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানাই।

আমি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার জন্য বিশ্বের সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বহুবিধ নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ও জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের পরিমাণ বৃদ্ধি, প্রতিশ্রুত অর্থের বাস্তবিক হস্তান্তর, ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিতকরার উপর আমি বিশেষভাবে জোর দেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় আমি ধনী দেশসমূহের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই।

এদিন আমার হোটেল স্যুইটে উইমেন পলিটিক্যাল লিডার্স (ডব্লিউপিএল)-এর সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মিসেস সিলভানা খক্ মেহরিন আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান এবং গত দেড় দশকে বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য আমাকে ডব্লিউপিএল-জি ট্রাইলব্লাজের এওয়ার্ড ২০২৩ গ্রহণের জন্য তিনি আমাকে আগামী ২০ মার্চ ২০২৪ তারিখ এথেন্সে অনুষ্ঠিতব্য ডব্লিউপিএল সামিট-এ অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। আলোচনায় আমি আমাদের সরকারের- বিশেষ করে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত নীতিসমূহের বিষয়ে আলোকপাত করলে এ বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বাংলাদেশের নীতি ও কার্যক্রমসমূহ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একইদিন আমি কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোহাম্মদ বিন্ আব্দুলরাহ্মান আল-সানি-র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জ্ঞাপনের পাশাপাশি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, এলএনজি সরবারহ প্রভৃতির পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই ও দ্রুত সমাধানে কাতারের অব্যাহত সমর্থনের ব্যাপারে তিনি আশ্বস্ত করেন। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সহিংসতা বন্ধে একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও আমরা আলোচনা করি।

এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন নীতি ও অংশীদারিত্ব বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মান্যবর আক্সেল ভন ট্রটসেনবার্গ। বাংলাদেশে ও বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের অংশীদারিত্বের প্রেক্ষাপটে আমি মধ্যম আয়ের দেশভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবদানের আলোকে বর্তমান অর্থবছরে বাজেট সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংক হতে অঙ্গীকারকৃত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দ্রুত ছাড়ের আহ্বান জানাই। পাশাপাশি আমি জোরপূর্বক স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে এবং এই সমস্যার বিরূপ প্রভাবে আক্রান্ত দেশ হিসেবে বাংলাদশকে প্রদত্ত ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন সহায়তার জন্যও তাকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয় ও উচ্চ-আয়ের দেশের পর্যায়ে উত্তীর্ণ হবার কাঙ্ক্ষিত পথে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেন।

একই দিনে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মান্যবর ডক্টর টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসাস আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে-বিশেষ করে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আসন্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশে আমাকে আমন্ত্রণ জানান এবং বিশ্বের বাকি দেশসমূহকে বাংলাদেশের কম্যুনিটি ক্লিনিক মডেল অনুসরণ করার বিষয়ে অনুপ্রাণিত করার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন।

আলোচনাকালে আমি বর্তমান সরকারের সেকেন্ডারি ও টার্শিয়ারি স্বাস্থ্যসেবা, টীকা উৎপাদন, এন্টি-মাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ, নার্সিং ও অন্যান্য স্বাস্থ্যখাতে মানব সম্পদ উন্নয়ন ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের কথা উল্লেখ করে এতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তা আশা করি। এ বিষয়ে মহাপরিচালক আমাকে আশ্বস্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক অতিমারি চুক্তি-এর দ্রুত সমাপনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমর্থন কামনা করেন।

এইদিন আমার সঙ্গে আরও সাক্ষাৎ করেন মেটা-জি গ্লোবাল এফেয়ার্স এর প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী স্যার নিক্ ক্লেগ্। তিনিও আমাকে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতের উন্নয়ন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্র সুবিস্তারে সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রংসা করেন তিনি। আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনে আমাদের সফলতা তুলে ধরি এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ ও তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে মেটা-এর সহযোগিতা আশা করি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে বিভিন্ন মেটা প্ল্যাটফর্ম যেমন ফেইসবুক, হোয়াটস্অ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম প্রভৃতির ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারির সুউচ্চ সংখ্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি বাংলাদেশে মেটা-এর একটি কার্যালয় স্থাপনের পরামর্শ দিই।

প্রথম দিন আমি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মেটে ফ্রেডরিক্সেন-এর সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমাকে ও আমাদের নবগঠিত সরকারকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানোর জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আলোচনাকালে বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আইসিটি খাতে ড্যানিশ কোম্পানিসমূহের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের পাশাপাশি তিনি বিরাজমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকারের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকার বিষয়েও আমাকে আশ্বস্ত করেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মার্ক রুটে আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। আলোচনাকালে আমরা দু’জনই বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতসমূহে জ্ঞান-প্রযুক্তি-উদ্ভাবন বিস্তারে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও গভীরতর করার বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।

একইদিন সকালে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী মান্যবর ডক্টর এস. জয়শংকর। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। সাক্ষাৎকালে আমরা উভয়ই দুই বন্ধু-রাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং দু’দেশের বাণিজ্য নিজস্ব মুদ্রায় পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত পোষণ করি। তিনি আগামী এপ্রিল/মে মাসে ভারতীয় সাধারণ নির্বাচন পরবর্তীকালে দু’দেশের নতুন সরকারের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত পঞ্চ-বার্ষিক সহযোগিতা বিষয়ক রোডম্যাপ প্রণয়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে আমরা মায়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিষয়েও পারস্পরিক মতবিনিময় করি।

এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাইট অনারেবল্ লর্ড ক্যামেরন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রেরিত শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এসময় আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান চলাচল অংশীদারিত্ব, অভিবাসন, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ এবং মায়ানমার ও লোহিত সাগরে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করি।

একই দিনে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন জার্মান আর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রী মান্যবর সভেনিয়া শুলৎজা। আলোচনাকালে আমরা ইইউ-এর জিএসপি+ বাণিজ্য সুবিধাসহ পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জার্মান বিনিয়োগ এবং সার্বিক জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বর্ধিতকরণের বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।

এইদিন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ভ্লাদিমীর জেলেন্স্কি আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে আমরা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং গম, ভোজ্যতেল ও অন্যান্য কৃষিপণ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করি। আমি তাঁকে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের দ্রুত সমাধানের কার্যকর উপায় অন্বেষণের অনুরোধ করি। এছাড়াও আমরা গাজা উপত্যকায় সংঘাতের বিষয়ে মতবিনিময় করি।

এরপর আমি আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ইল্হাম আলিইয়্যেভ-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমরা পরস্পর পরস্পরকে পঞ্চমবারের মতো পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানাই। আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করি। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে নেতৃত্বদানের জন্য আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি আমাকে ধন্যবাদ দেন এবং এবছর নভেম্বরে বাকু-তে অনুষ্ঠিতব্য কপ২৯-এ যোগদানের জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানান। আলোচনাকালে আমরা উভয়ই জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা প্রভৃতি বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি।

এদিন আমি জার্মান চ্যান্সেলর মান্যবর ওলাফ শোলজ্-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বৈঠককালে আমরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও হাইড্রোজেন প্রযুক্তি এবং দক্ষ অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করি। এছাড়াও, আমরা ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গে মতবিনিময় করি এবং এসকল সংঘাত দ্রুত অবসানের বিষয়ে কার্যকর উপায় অন্বেষণের জন্য আমি তাঁকে অনুরোধ করি।

এছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি জার্মান আওয়ামী লীগ আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনা সভায় যোগদান করি এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি আমি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করি।

মিউনিখে আমার এই ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। দেশের আকার নয় বরং নীতির শক্তিতেই যে মানবতার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক মুক্তি, এবারের সম্মেলনে আমি এই বার্তাই বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছি। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমূহের মাধ্যমে বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাথে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আরও দৃঢ় হয়েছে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে।

আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”


নির্বাচিত

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর: বিষাদ আর অমীমাংসিত হাহাকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সংঘটিত ভয়ংকর বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলো আজ। গত বছরের ২১ জুলাই দুপুরে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয়ে আনন্দমুখর ক্যাম্পাস মুহূর্তেই মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। ওই ঘটনায় বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট, শিক্ষক ও ২৮ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ৩৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়। দগ্ধ ও আহতদের দীর্ঘসময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। শারীরিক ক্ষত কিছুটা সারলেও অনেকের মনে সেই বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতি এখনো অমলিন। বিশেষ করে গুরুতর দগ্ধ এক শিক্ষার্থীর ৩৬ বার অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ চিকিৎসাসফল সুস্থতা এই বিষাদময় ঘটনার মাঝে কিছুটা আশার আলো হয়ে আছে। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে বিকৃত হয়ে যাওয়া বেশ কিছু মৃতদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষারও প্রয়োজন হয়েছিল।

ঘটনার পর গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিশন প্রধান উপদেষ্টার কাছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, উড্ডয়নজনিত ত্রুটির কারণেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছিল। প্রতিবেদনে জননিরাপত্তার খাতিরে বিমানবাহিনীর প্রাথমিক উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ঢাকার বাইরে স্থানান্তরের জোর সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি ভবন নির্মাণে রাজউকের বিধিমালা লঙ্ঘনের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে আসে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিঁড়ি না থাকায় ওই দিন হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে বলে পর্যবেক্ষণে জানানো হয়। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে এবং নিরাপদ উড্ডয়ন নিশ্চিতে বেশ কিছু অবকাঠামোগত সংস্কারের তাগিদও দেওয়া হয় ওই প্রতিবেদনে।

এই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডির এক বছর স্মরণে মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষ দুই দিনের বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রথম দিনে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও কবর জিয়ারত সম্পন্ন হয়েছে। আজ ট্র্যাজেডির দিনটিতে প্রতিষ্ঠানের সকল শাখায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের অংশগ্রহণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। শোক ও শ্রদ্ধায় দিনটি পালন করতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এক বছর পেরিয়ে গেলেও নিহতদের স্বজন এবং আহতদের মনে সেই দুপুরের আর্তনাদ আজও করুণ সুর হয়ে বাজছে।


নির্বাচিত

৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। গত রোববার (১৯ জুলাই) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, লাইসেন্স বাতিল হওয়া এসব রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদন ও লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, ২০১৩, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন ২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর বিভিন্ন ধারায় আদালতে অভিযোগপত্রও দাখিল হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে সেগুলো হলো— ইউনিক ইস্টার্ন (প্রা.) লিমিটেড, অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ, এম/এস শাহীন ট্রাভেলস, ইরভিং এন্টারপ্রাইজ, হায়দরি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল, জাহরাত অ্যাসোসিয়েটস, ফোর সাইট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, এম/এস বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল, আকাশ ভ্রমণ লিমিটেড, এম/এস কিউ.কে. কুইক এক্সপ্রেস লিমিটেড, ইউনাইটেড এক্সপোর্ট লিমিটেড, জিএমজি ট্রেডিং (প্রা.) লিমিটেড, সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল, দ্য সুপার ইস্টার্ন লিমিটেড, এলিগ্যান্টস ওভারসিজ লিমিটেড, এম/এস ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল, মিডওয়ে ওভারসিজ লিমিটেড, মদিনা ওভারসিজ, আল-খামিস ইন্টারন্যাশনাল, নিউ এজ ইন্টারন্যাশনাল, দাহমাশি করপোরেশন লিমিটেড, গ্যালাক্সি করপোরেশন, সুলতান ওভারসিজ, প্রভাতী ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানিসপাওয়ার করপোরেশন, আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল, আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, দরবার গ্লোবাল ওভারসিজ, নাতাশা ওভারসিজ, অপরাজিতা ওভারসিজ, ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, স্ট্যানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, জান্নাত ওভারসিজ, বিএম ট্রাভেলস লিমিটেড, বিএনএস ওভারসিজ লিমিটেড, রুবেল বাংলাদেশ লিমিটেড, অরবিটালস ইন্টারন্যাশনাল, ট্রান্স এশিয়া ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিসেস লিমিটেড, আল ফারাহ হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড কনসালট্যান্সি, এম/এস স্নিগ্ধা ওভারসিজ লিমিটেড, ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল, থানেক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, জিজি আলফালাহ ম্যানেজমেন্ট, ইম্পেরিয়াল রিসোর্সেস লিমিটেড, পি.আর. ওভারসিজ লিমিটেড, এম/এস এমইএফ গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেড এবং অনন্য অপূর্ব রিক্রুটিং এজেন্সি।


নির্বাচিত

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিমসটেকের সক্রিয় ভূমিকা চায় ঢাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও জোরদারে বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘থ্রি ডিকেডস অব বিমসটেক: অ্যাডভান্সিং রিজিওনাল কো-অপারেশন ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।’ শামা বলেন, এ ক্ষেত্রে বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও সমৃদ্ধ বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তুলতে এবং বিমসটেকের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আঞ্চলিক প্রতিশ্রুতিকে অধিক বাস্তবায়ন, কার্যকর সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার মাধ্যমে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বর্তমান বিমসটেক চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সংহতি, আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ব্লু ইকোনমি এবং জনগণকেন্দ্রিক আঞ্চলিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্থার অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা হবে।

শামা আশা প্রকাশ করেন, সেমিনার থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশের নেতৃত্বকে আরও কার্যকর করবে এবং সংস্থার ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সহায়ক হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বিমসটেকের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত ইন্দ্রমণি পাণ্ডে নারীর উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন, বিদ্যুৎ গ্রিড আন্তঃসংযোগ এবং জ্বালানি খাতে কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন চলমান প্রকল্প ও উদ্যোগ তুলে ধরেন।

তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাইবার নিরাপত্তা, সামুদ্রিক ও মানব নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, পর্যটন, ভিসা সহজীকরণ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বিমসটেকের সহযোগিতার বিষয়েও আলোকপাত করেন।

বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদুজ্জামান এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসির পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম প্যানেল উপস্থাপনা করেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস)-এর সভাপতি মেজর জেনারেল এ এন এম মুনীরুজ্জামান (অব.) অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। মূল প্রবন্ধ ও প্যানেল আলোচনায় গত তিন দশকে বিমসটেকের অগ্রযাত্রা পর্যালোচনা করা হয় এবং আঞ্চলিক জোটটির সামনে থাকা সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ মূল্যায়ন করা হয়।

আলোচনায় বিমসটেকের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অংশগ্রহণকারীরা আঞ্চলিক সংহতি জোরদার এবং বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা, সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে বাস্তবমুখী ও কর্মভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

আলোচনায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, সংযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে বিমসটেককে আরও কার্যকর করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব এবং তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণী সংলাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

সেমিনারে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারণী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নামল ২.২২ শতাংশে

* শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ০.২৮ শতাংশে নেমেছে * কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ১.৭৪ শতাংশে * সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৫২ শতাংশ
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে ২.২২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ছিল ৪.৫৩ শতাংশ। সোমবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপির এই তথ্য তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রান্তিকভিত্তিক প্রবৃদ্ধির হিসাবে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ৪.৯৬ শতাংশ ও ৩.০৩ শতাংশ। এর বিপরীতে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৩.৯১ শতাংশ ও ৩.৫৩ শতাংশ।

চলতি মূল্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপির মোট আকার দাঁড়িয়েছে ১৫,৩৯১ বিলিয়ন টাকা। এর আগের অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই প্রান্তিকে চলতি মূল্যে জিডিপির আকার ছিল ১৪,১৯২ বিলিয়ন টাকা।

কৃষি খাত: বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে স্থির মূল্যে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ১.৭৪ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪.৬১ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ২.১১ ও ৩.৬৮ শতাংশ; যেখানে আগের অর্থবছরে একই সময়ে ছিল মাইনাস ০.১২ ও ১.৯০ শতাংশ।

শিল্প খাত: ২০২৫–২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়ে মাইনাস ০.২৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০২৪–২৫ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩.৩৩ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৬.৮২ ও ১.২৭ শতাংশ; আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ৪.৮০ ও ৫.৭৮ শতাংশ।

সেবা খাত: সেবা খাতে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩.৫২ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৭.৩২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ৪.৫১ ও ৪.৪৫ শতাংশ হারে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪.৪৯ ও ৫.৮৪ শতাংশ।


নির্বাচিত

বাজার থেকে ৮ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইসক্রিম থেকে প্রসাধনী- জনপ্রিয় চার প্রতিষ্ঠানের আটটি পণ্যে মিলেছে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় কোনো পণ্যে মিলেছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, কোনো পণ্যে অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, আবার কোনো পণ্যে পাওয়া গেছে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণের ঘাটতি। এমন পরিস্থিতিতে এসব পণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একইসঙ্গে লাইসেন্স ও অনুমোদন নতুন করে ঠিক না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) বিএসটিআইয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিএসটিআই জানিয়েছে, ফ্রেশ গার্ডেন অ্যাগ্রো রিসোর্সেসের ‘আমের আচার’-এ অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিকর প্রিজারভেটিভ পাওয়া গেছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। সাধারণ মানুষের পছন্দের ব্র্যান্ড কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিখ্যাত ‘বেলিসিমো’ ব্র্যান্ডের ‘রোটোন্ডো হ্যাজেলনাট কোটেড চকলেট’ আইসক্রিমে দুধের চর্বিহীন কঠিন অংশ বা টোটাল মিল্ক সলিড নন ফ্যাটের পরিমাণ দেশের নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে ভীতিজনক তথ্য মিলেছে প্রসাধন পণ্যে। অলিভ বাংলাদেশ লিমিটেডের ‘লাবণ্য’ ব্র্যান্ডের স্কিন লোশন, ফেসওয়াশ ও শ্যাম্পুতে মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এই ক্ষতিকর জীবাণু পাওয়া গেছে লাবণ্য ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশন, এলোভেরা স্কিন লোশন, ফেসওয়াশ মোরিংগা+মাচা, ফোমিং মিল্ক ও তুলসী ফেসওয়াশ এবং অ্যালোভেরা ভেরিয়েন্টের শ্যাম্পুতে।

এছাড়া ডেকো ফুডস লিমিটেডের ‘ডেকো ফ্রুট ফান্ডা’ ব্র্যান্ডের ম্যাংগো ও অরেঞ্জ স্বাদের সফট ড্রিংক পাউডারে আবার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া গেছে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অনেক কম।

ভোক্তা ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিএসটিআই দেশের সব ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের বাজার থেকে এসব পণ্য অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে।

এই নির্দেশ ঠিকঠাক পালন করা হচ্ছে কি না তা মাঠ পর্যায়ে কঠোরভাবে তদারকি করা হবে এবং কোনোরকম গাফিলতি বা আইন অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

ক্রেতাদের বিশেষভাবে সতর্ক করে বিএসটিআই-এর মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক জানান, যে কোনো পণ্য কেনার আগে অবশ্যই বিএসটিআই লোগো, লাইসেন্স নাম্বার, উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ভালো করে দেখে নিতে হবে। পণ্যের মান নিয়ে কোনো সন্দেহ বা জালিয়াতির প্রমাণ পেলে দ্রুত বিএসটিআই কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য তিনি অনুরোধ করেছেন।


নির্বাচিত

রেলের সংকট কাটাতে ভারত থেকে আসছে ২০০ নতুন কোচ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রেলের কোচ সংকট কাটাতে ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ আমদানি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ৯১৫ কোটি রুপি মূল্যের একটি চুক্তির আওতায় ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সব কোচ বাংলাদেশে পৌঁছাবে। চলতি মাসের শেষ কিংবা আগামী মাসের শুরুতে প্রথম চালান আসতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

ভারতের কাপুরথালার রেল কোচ ফ্যাক্টরিতে আধুনিক এলএইচবি (লিংক-হফম্যান-বুশ) প্রযুক্তিতে কোচগুলো তৈরি হচ্ছে। এগুলোর সরবরাহ করছে ভারতীয় রেলওয়ের রপ্তানি সংস্থা রাইটস লিমিটেড। চার ধরনের নকশার অনুমোদন পাওয়ার পর ইতোমধ্যে উৎপাদন শুরু হয়েছে।

রাইটস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহুল মিথাল জানিয়েছেন, শিগগিরই ২০টি কোচের প্রথম চালান বাংলাদেশে পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে ১২০টি ব্রডগেজ এলএইচবি কোচ, ৩৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সরবরাহ করেছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সরকার রেলব্যবস্থা আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে আরও ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ, ৪৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ৫০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে।

ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের জুন থেকে ধাপে ধাপে নতুন কোচগুলো বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এতে কোচ সংকট অনেকটাই কমবে এবং যাত্রীসেবার মান ও সক্ষমতা বাড়বে।

বাংলাদেশ রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কোচ যুক্ত হলে আন্তঃনগর ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন রুট চালুর সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মধ্যে রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।

এদিকে, এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে আগামী সেপ্টেম্বরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হতে পারে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ট্রেনটির চলাচল স্থগিত করা হয়েছিল।

বর্তমানে বাংলাদেশে মিটারগেজ, ব্রডগেজ ও ডুয়ালগেজ মিলিয়ে ৩ হাজার ৪০০ কিলোমিটারের বেশি রেললাইন রয়েছে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন রোলিং স্টক যুক্ত করার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন রাশেদ খাঁন

রাশেদ খাঁন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. রাশেদ খাঁন। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মো. রাশেদ খাঁনকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা অথবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল পর্যন্ত অথবা প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিসাপেক্ষে যেটি আগে ঘটে, সে সময় পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) হিসেবে সচিব পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করবেন।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলি সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।


নির্বাচিত

থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা করবে জাপানি কনসোর্টিয়াম, চুক্তি সেপ্টেম্বর নাগাদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার জন্য জাপানিজ কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহে কিংবা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (পরিচালন ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহ্‌বুব খান।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে বেবিচক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।

চুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট করে আবু সাঈদ মেহ্‌বুব খান বলেন, ‘চুক্তির আলোকে জাপানিজরা শুধু থার্ড টার্মিনালই পরিচালনা করবে। তাদের প্রথম এবং দ্বিতীয় টার্মিনাল পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই।’

এ সময় বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন। টার্মিনালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের চেষ্টা চলছে।’

তিনি আরও জানান, বিমানবন্দরের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বরেই এটি উদ্বোধন করতে চান তারা। তবে তার আগেই জাপানি কোম্পানির সাথে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করা হবে এবং এরপরই উদ্বোধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

একই সাথে তিনি জানান, বিমানবন্দরের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকায় ড্রোন ওড়ানো বন্ধে তারা কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন। তবে এই এলাকায় ড্রোন ওড়ানোর আগে সংশ্লিষ্ট সকলকে নীতিমালা ও নিয়মকানুনগুলো ভালোভাবে পড়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।


নির্বাচিত

জনগণের করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে: ইসমাইল জবিউল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রের প্রতিটি কর্মঘণ্টা এবং জনগণের করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘সরকারি কার্যক্রমে সময়, অর্থ ও জনশক্তির দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে জনসেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করাই হতে হবে প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য।’

সোমবার (২০ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির সহ-আয়োজনে রাজধানীর বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনাদের প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণের আগে এর প্রয়োজনীয়তা ও জনকল্যাণে এর প্রভাব বিবেচনা করতে হবে। এখন সময় এসেছে প্রতিটি সভা, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার মূল্যায়ন করার। আমরা কত টাকা ব্যয় করলাম, কত কর্মঘণ্টা বিনিয়োগ করলাম এবং তার বিনিময়ে জনসেবার মান কতটুকু উন্নত হলো- এই হিসাবও প্রশাসনের অংশ হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা, ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের পরিবর্তন, জলবায়ু সংকট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও দক্ষ প্রশাসন, বিচক্ষণ কূটনীতি এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সিভিল সার্ভিসের মাধ্যমে এর প্রভাব অনেকাংশে মোকাবিলা করা সম্ভব।’ এজন্য সরকারি কর্মকর্তাদের সর্বদা সজাগ, দূরদর্শী ও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি সকলকে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মানুবর্তিতা, দেশপ্রেম অনুসরণ করে কাজ করার আহ্বান জানান। এ ছাড়া, কর্মকর্তাদের তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে ডেলিগেশন অব ফাইন্যান্সিয়াল পাওয়ার অনুযায়ী নথিতে সিদ্ধান্ত প্রদানের নির্দেশনা দেন।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে প্রশাসন। ইশতেহারের সফল বাস্তবায়নের সুফল আপনার পরিবার, আপনার সন্তান এবং দেশের প্রতিটি নাগরিক ভোগ করবে। আজ আমাদের সামনে একটি আধুনিক, দক্ষ ও জনমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলার ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে।’

কর্মশালায় টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারকে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন সূচক (ট্র্যাকার) প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ সরকারি প্রতিশ্রুতিগুলোকে পরিমাপযোগ্য সূচকে রূপান্তর করে নীতি বাস্তবায়ন ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করেছে।’ বাংলাদেশেও এ ধরনের কার্যকর ট্র্যাকার তৈরিতে প্রয়োজনে দক্ষ আইটি বিশেষজ্ঞ ও ডেটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের জনপ্রশাসন হবে উপাত্তভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতা, গতি ও জবাবদিহিতা আরও বাড়ানো সম্ভব। মানুষের সঙ্গে প্রযুক্তির কার্যকর সংযোগ যত বাড়বে, প্রশাসনিক কার্যক্রম তত বেশি দক্ষ ও ফলপ্রসূ হবে।’

তিনি কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান। কারণ, একজন সুস্থ, সৎ ও ভারসাম্যপূর্ণ কর্মকর্তাই জনগণকে সর্বোত্তম সেবা দিতে পারেন।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং একাডেমির প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে হস্তান্তরে ভারতকে বাংলাদেশের চিঠি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি বিশ্বস্ত সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সম্প্রতি ভারতের কাছে এই প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানো হয়েছে এবং চিঠির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক তাকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের অনুলিপিও সংযুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তৎকালীন পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। বিচারকগণ রায়ে উল্লেখ করেন যে, তারা ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ (ঊর্ধ্বতন কমান্ডের দায়) নীতির আওতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী। পরবর্তীতে প্রকাশিত ৪৫৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের রাষ্ট্রীয় অনুকূলে থাকা সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ফিরিয়ে আনতে এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএলও মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আইএলও মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হোংবোর সাক্ষাৎ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর মহাপরিচালক গিলবার্ট এফ. হোংবো। সোমবার (২০ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার শুরুতে মহাপরিচালক হোংবো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর দায়িত্বভার গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রশংসা করে বলেন, “জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।” এই ইতিবাচক প্রেক্ষাপটে আইএলও বাংলাদেশের সাথে বিদ্যমান দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে এবং শ্রম খাতের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকারের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইএলও-র নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার জন্য সংস্থাটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি দেশের শ্রম বাজারের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে জানান, “শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।” বৈঠকে মহাপরিচালক হোংবো বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতার একটি অনন্য স্বীকৃতি হিসেবে অভিহিত করেন। একই সাথে তিনি বর্তমান প্রশাসনের সাম্প্রতিক বিভিন্ন সফলতারও ভূয়সী প্রশংসা করেন।

মতবিনিময় সভায় উভয় পক্ষ শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারের পরিবর্তনের সাথে সংগতি রেখে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর বিশেষ জোর দেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়ন, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা এবং অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারের আধুনিকায়নে আইএলও এবং সরকারের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া শ্রম আইন সংস্কার এবং অভিবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী একটি শ্রমিকবান্ধব, নিরাপদ এবং টেকসই কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের দৃঢ় সংকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। আইএলও মহাপরিচালকও বাংলাদেশের এই উন্নয়ন অভিযাত্রায় একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার এবং আইএলও-র পদস্থ কর্মকর্তারা।


নির্বাচিত

কাঁচামাল সংকটে ২০ দিন ধরে বন্ধ একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি সার কারখানা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের কৃষি খাতে সারের নিরবচ্ছিন্ন জোগান সচল রাখতে এই শিল্প ইউনিটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই অচলাবস্থা বজায় থাকলে দেশের অভ্যন্তরীণ সার সরবরাহ চেইন ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামাল সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তীব্র ফসফরিক অ্যাসিড সংকটে পড়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ (ডিএপিএফসিএল)। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ এই কারখানায় গত ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

দেশের কৃষি খাতে সারের নিরবচ্ছিন্ন জোগান সচল রাখতে এই শিল্প ইউনিটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই অচলাবস্থা বজায় থাকলে দেশের অভ্যন্তরীণ সার সরবরাহ চেইন ও কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারখানা ও বিসিআইসি সূত্র জানায়, ডিএপি সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ফসফরিক অ্যাসিড আমদানির লক্ষ্যে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ই-জিপির মাধ্যমে ২০ হাজার টন অ্যাসিড সরবরাহের দরপত্র আহ্বান করে। আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ায় কার্যাদেশ পায় দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আর কে এন্টারপ্রাইজ’।

চুক্তি অনুযায়ী, গত জুন মাসের মধ্যেই এই কাঁচামাল সরবরাহ করার বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক শিপিং ও লজিস্টিকস খাত চরমভাবে ব্যাহত হওয়ায় জর্ডানসহ বিশ্বের প্রধান উৎসগুলো থেকে সময়মতো ফসফরিক অ্যাসিড আমদানি করা সম্ভব হয়নি। কারখানায় থাকা আপৎকালীন মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

সংকট কাটাতে বিসিআইসি গত ৮ ও ২৩ জুন নতুন করে আরও দুটি দরপত্র আহ্বান করলেও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে কোনো প্রতিষ্ঠান তাতে অংশ নেয়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পরবর্তীতে আবারও দুটি নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যা যথাক্রমে আগামী ৮ আগস্ট এবং ৯ সেপ্টেম্বর খোলা হবে।

কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দৈনিক ৫০০ টন ডিএপি সার উৎপাদন সক্ষমতার এই কারখানায় প্রতিদিন গড়ে ৬০০ টন ফসফরিক অ্যাসিড এবং ২০০ টনের বেশি অ্যামোনিয়া গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কারখানায় সর্বোচ্চ ২০ হাজার মেট্রিক টন অ্যাসিড মজুতের ধারণক্ষমতা রয়েছে।

ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক বলেন, কাঁচামালের আন্তর্জাতিক সরবরাহ লাইনে বিঘ্ন ঘটায় নির্দিষ্ট মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে সার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তবে কারখানার প্রশাসনিক ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানটি যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে না পারলেও তাদের সঙ্গে চুক্তি এখনো বহাল রয়েছে। ফসফরিক অ্যাসিডের চালান পৌঁছানো মাত্রই দ্রুততম সময়ে উৎপাদন পুনরায় চালু করা হবে।

দেশে সারের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৬৯ লাখ টন, যার প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। এর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি ইউরিয়া এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিএডিসি নন-ইউরিয়া (টিএসপি, এমওপি, ডিএপি) সার আমদানি করে থাকে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন কারখানাগুলোতে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৭৯১ টন সার উৎপাদিত হয়েছিল।


নির্বাচিত

জাবেদের ফ্ল্যাটে মিলল ৩০০ কোট, ৫৩২ টাই ও ৮ বিলাসবহুল গাড়ির চাবি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের রাজধানীর গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে আদালতের নির্দেশে অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযান শেষে ওই দুই ফ্ল্যাটে থাকা মালামালের তালিকা (ইনভেন্টরি) তৈরির কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি। প্রথম দিনের ইনভেন্টরিতেই ৩০০টি কোট, ৫৩২টি টাই, রোলেক্সের ঘড়ির বক্স, মার্সিডিজ বেঞ্জসহ ৮টি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি, মুক্তার গহনা, ঝাড়বাতিসহ বিপুল পরিমাণ বিলাসবহুল সামগ্রীর তথ্য উঠে এসেছে। উদ্ধার হয়েছে একটি রোলেক্স ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ডও, যে ঘড়ির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২১ লাখ টাকা।

রোববার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গুলশান-২-এর ৬৬ নম্বর সড়কে অবস্থিত ফ্ল্যাট দুটিতে প্রবেশ করেন দুদক কর্মকর্তারা। এ সময় তাদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যরাও ছিলেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম জানান, আদালতের অনুমতি নিয়ে দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি যৌথ দল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাট দুটিতে থাকা মালামালের ইনভেন্টরি তৈরির কাজ করছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ফ্ল্যাট দুটি দুদকের নিযুক্ত রিসিভারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

দুদকের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, প্রথম দিনের অভিযানে দুই ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ৩০০টি কোট, ৫৩২টি টাই, রোলেক্সের চারটিসহ মোট আটটি ঘড়ির বক্স, তিন সেট মুক্তার গহনা, চারটি ঝাড়বাতি, বেড, সোফা এবং প্রায় ১০০ সেট কামিজের তালিকা করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, মবারও ইনভেন্টরির কাজ চলবে। এরপর সব মালামালের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রায় সাড়ে সাত হাজার বর্গফুট আয়তনের দুটি ফ্ল্যাট আদালতের ক্রোক আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দখলে নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গুলশান থানা পুলিশের উপস্থিতিতে বন্ধ ফ্ল্যাট দুটির তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। দুদকের দাবি, ফ্ল্যাটে মার্সিডিজ বেঞ্জসহ আটটি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি এবং দুর্নীতির নানান আলামত পাওয়া গেছে। তবে অনেক মূল্যবান মালামাল আগেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।

অভিযানের সময় একটি বিলাসবহুল রোলেক্স ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ডও উদ্ধার করা হয়। কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ঘড়িটি ১৮ ক্যারেট হোয়াইট গোল্ডের রোলেক্স সেলিনি (মডেল-৫০৫১৯)। এটি ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি লন্ডনের বিখ্যাত ডিপার্টমেন্টাল স্টোর হ্যার্ডস থেকে কেনা হয়। ওয়ারেন্টি কার্ডে ঘড়ির মালিক হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নাম, মডেল নম্বর এবং সিরিয়াল নম্বর উল্লেখ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক ঘড়ির বাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, একই মডেলের ব্যবহৃত ঘড়ির বর্তমান বাজারমূল্য ১৩ থেকে ১৭ হাজার মার্কিন ডলারের মধ্যে। আর নতুন বা অব্যবহৃত ঘড়ির দাম প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য ২১ লাখ টাকার কাছাকাছি।

দুদক জানিয়েছে, ফ্ল্যাট দুটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে সংস্থাটির সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পত্তিগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। সংস্থাটির দাবি, তার বিরুদ্ধে বিশ্বের নয়টি দেশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া ৩০টি মামলায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য-প্রমাণও সংগ্রহ করা হয়েছে।

এর আগে আদালত যুক্তরাজ্যে তার নামে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আট দেশে থাকা ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে থাকা দুটি কোম্পানিতে করা বিনিয়োগও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে থাকা এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের মোট মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়।


নির্বাচিত

banner close