প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, জার্মানির মিউনিখে তার ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি আজ তাঁর মিউনিখ সফরের বিষয়ে রাজধানীর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।
তাঁর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ নিচে দেয়া হলো:
“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম। শুভ সকাল। গত ১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত ৬০তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন মূলতঃ রাষ্ট্র/সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, সরকারি এবং বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিগণের অংশগ্রহণ করেন। এটি সমকালীন ও ভবিষ্যত নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্চ-পর্যায়ের নিয়মিত আলোচনার একটি শীর্ষস্থানীয় ফোরাম হিসেবে বিবেচিত। এ বছরের ফোরামে ৩৫-জনেরও বেশী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান অংশগ্রহণ করেছেন।
বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দিতা এবং আঞ্চলিক সংঘাত, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নিউক্লিয়ার নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু নিরাপত্তা, তথ্য নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা, অভিবাসন, সাপ্লাই চেইন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মহামারি ইত্যাদি বিষয়ে এবারের ফোরামে আলোচনা করা হয়।
সফরের প্রথম দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি ‘ফ্রম পকেট টু প্লানেট: স্কেলিং আপ ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করি। এই আলোচনায় আমার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত মান্যবর জন কেরি, বারবাডোসের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মিয়া আমোর মটলে, এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোসা জামির।
প্যানেলটিতে উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে আমি বক্তব্য প্রদান করি। বক্তব্যের শুরুতেই আমি গাজা ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহ, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং নিরস্ত্র মানুষের, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের, অমানবিক হত্যার কবল থেকে মুক্ত করে সকল প্রকার যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার জোর আহ্বান জানাই। আর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা-নিষেধাজ্ঞার বিরূপ প্রভাব যে যুদ্ধক্ষেত্র থেকেও বহুদূর পর্যন্ত অনুভূত হয়, এ বিষয়ে আমি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। এ প্রসঙ্গে আমি অর্থহীন অস্ত্র-প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় রসদ ও অর্থায়ন সহজলভ্য ও কার্যকর করার জন্য সকলকে অনুরোধ করি। মানবতার অস্তিত্বের সংটকালে ক্ষুদ্র স্বার্থ যে শুধু অনর্থই বয়ে আনে - এই রূঢ় বাস্তবতা আমি সকলের সামনে তুলে ধরি। আর তাই, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানাই।
আমি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার জন্য বিশ্বের সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বহুবিধ নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ও জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের পরিমাণ বৃদ্ধি, প্রতিশ্রুত অর্থের বাস্তবিক হস্তান্তর, ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিতকরার উপর আমি বিশেষভাবে জোর দেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় আমি ধনী দেশসমূহের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই।
এদিন আমার হোটেল স্যুইটে উইমেন পলিটিক্যাল লিডার্স (ডব্লিউপিএল)-এর সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মিসেস সিলভানা খক্ মেহরিন আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান এবং গত দেড় দশকে বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য আমাকে ডব্লিউপিএল-জি ট্রাইলব্লাজের এওয়ার্ড ২০২৩ গ্রহণের জন্য তিনি আমাকে আগামী ২০ মার্চ ২০২৪ তারিখ এথেন্সে অনুষ্ঠিতব্য ডব্লিউপিএল সামিট-এ অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। আলোচনায় আমি আমাদের সরকারের- বিশেষ করে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত নীতিসমূহের বিষয়ে আলোকপাত করলে এ বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বাংলাদেশের নীতি ও কার্যক্রমসমূহ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
একইদিন আমি কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোহাম্মদ বিন্ আব্দুলরাহ্মান আল-সানি-র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জ্ঞাপনের পাশাপাশি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, এলএনজি সরবারহ প্রভৃতির পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই ও দ্রুত সমাধানে কাতারের অব্যাহত সমর্থনের ব্যাপারে তিনি আশ্বস্ত করেন। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সহিংসতা বন্ধে একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও আমরা আলোচনা করি।
এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন নীতি ও অংশীদারিত্ব বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মান্যবর আক্সেল ভন ট্রটসেনবার্গ। বাংলাদেশে ও বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের অংশীদারিত্বের প্রেক্ষাপটে আমি মধ্যম আয়ের দেশভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবদানের আলোকে বর্তমান অর্থবছরে বাজেট সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংক হতে অঙ্গীকারকৃত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দ্রুত ছাড়ের আহ্বান জানাই। পাশাপাশি আমি জোরপূর্বক স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে এবং এই সমস্যার বিরূপ প্রভাবে আক্রান্ত দেশ হিসেবে বাংলাদশকে প্রদত্ত ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন সহায়তার জন্যও তাকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয় ও উচ্চ-আয়ের দেশের পর্যায়ে উত্তীর্ণ হবার কাঙ্ক্ষিত পথে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেন।
একই দিনে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মান্যবর ডক্টর টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসাস আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে-বিশেষ করে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আসন্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশে আমাকে আমন্ত্রণ জানান এবং বিশ্বের বাকি দেশসমূহকে বাংলাদেশের কম্যুনিটি ক্লিনিক মডেল অনুসরণ করার বিষয়ে অনুপ্রাণিত করার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন।
আলোচনাকালে আমি বর্তমান সরকারের সেকেন্ডারি ও টার্শিয়ারি স্বাস্থ্যসেবা, টীকা উৎপাদন, এন্টি-মাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ, নার্সিং ও অন্যান্য স্বাস্থ্যখাতে মানব সম্পদ উন্নয়ন ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের কথা উল্লেখ করে এতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তা আশা করি। এ বিষয়ে মহাপরিচালক আমাকে আশ্বস্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক অতিমারি চুক্তি-এর দ্রুত সমাপনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমর্থন কামনা করেন।
এইদিন আমার সঙ্গে আরও সাক্ষাৎ করেন মেটা-জি গ্লোবাল এফেয়ার্স এর প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী স্যার নিক্ ক্লেগ্। তিনিও আমাকে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতের উন্নয়ন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্র সুবিস্তারে সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রংসা করেন তিনি। আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনে আমাদের সফলতা তুলে ধরি এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ ও তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে মেটা-এর সহযোগিতা আশা করি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে বিভিন্ন মেটা প্ল্যাটফর্ম যেমন ফেইসবুক, হোয়াটস্অ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম প্রভৃতির ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারির সুউচ্চ সংখ্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি বাংলাদেশে মেটা-এর একটি কার্যালয় স্থাপনের পরামর্শ দিই।
প্রথম দিন আমি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মেটে ফ্রেডরিক্সেন-এর সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমাকে ও আমাদের নবগঠিত সরকারকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানোর জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আলোচনাকালে বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আইসিটি খাতে ড্যানিশ কোম্পানিসমূহের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের পাশাপাশি তিনি বিরাজমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকারের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকার বিষয়েও আমাকে আশ্বস্ত করেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মার্ক রুটে আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। আলোচনাকালে আমরা দু’জনই বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতসমূহে জ্ঞান-প্রযুক্তি-উদ্ভাবন বিস্তারে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও গভীরতর করার বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।
একইদিন সকালে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী মান্যবর ডক্টর এস. জয়শংকর। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। সাক্ষাৎকালে আমরা উভয়ই দুই বন্ধু-রাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং দু’দেশের বাণিজ্য নিজস্ব মুদ্রায় পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত পোষণ করি। তিনি আগামী এপ্রিল/মে মাসে ভারতীয় সাধারণ নির্বাচন পরবর্তীকালে দু’দেশের নতুন সরকারের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত পঞ্চ-বার্ষিক সহযোগিতা বিষয়ক রোডম্যাপ প্রণয়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে আমরা মায়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিষয়েও পারস্পরিক মতবিনিময় করি।
এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাইট অনারেবল্ লর্ড ক্যামেরন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রেরিত শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এসময় আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান চলাচল অংশীদারিত্ব, অভিবাসন, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ এবং মায়ানমার ও লোহিত সাগরে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করি।
একই দিনে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন জার্মান আর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রী মান্যবর সভেনিয়া শুলৎজা। আলোচনাকালে আমরা ইইউ-এর জিএসপি+ বাণিজ্য সুবিধাসহ পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জার্মান বিনিয়োগ এবং সার্বিক জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বর্ধিতকরণের বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।
এইদিন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ভ্লাদিমীর জেলেন্স্কি আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে আমরা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং গম, ভোজ্যতেল ও অন্যান্য কৃষিপণ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করি। আমি তাঁকে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের দ্রুত সমাধানের কার্যকর উপায় অন্বেষণের অনুরোধ করি। এছাড়াও আমরা গাজা উপত্যকায় সংঘাতের বিষয়ে মতবিনিময় করি।
এরপর আমি আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ইল্হাম আলিইয়্যেভ-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমরা পরস্পর পরস্পরকে পঞ্চমবারের মতো পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানাই। আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করি। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে নেতৃত্বদানের জন্য আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি আমাকে ধন্যবাদ দেন এবং এবছর নভেম্বরে বাকু-তে অনুষ্ঠিতব্য কপ২৯-এ যোগদানের জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানান। আলোচনাকালে আমরা উভয়ই জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা প্রভৃতি বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি।
এদিন আমি জার্মান চ্যান্সেলর মান্যবর ওলাফ শোলজ্-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বৈঠককালে আমরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও হাইড্রোজেন প্রযুক্তি এবং দক্ষ অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করি। এছাড়াও, আমরা ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গে মতবিনিময় করি এবং এসকল সংঘাত দ্রুত অবসানের বিষয়ে কার্যকর উপায় অন্বেষণের জন্য আমি তাঁকে অনুরোধ করি।
এছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি জার্মান আওয়ামী লীগ আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনা সভায় যোগদান করি এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি আমি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করি।
মিউনিখে আমার এই ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। দেশের আকার নয় বরং নীতির শক্তিতেই যে মানবতার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক মুক্তি, এবারের সম্মেলনে আমি এই বার্তাই বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছি। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমূহের মাধ্যমে বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাথে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আরও দৃঢ় হয়েছে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে।
আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শেওড়াপাড়া এলাকায় কাফরুল পশ্চিম থানার উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে যাওয়ার সময় তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হন।
দলীয় সূত্র জানায়, অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তার উপস্থিত থাকার কথা ছিল এবং তিনি রওনাও দিয়েছিলেন। তবে পথিমধ্যে হঠাৎ বমি করেন এবং দুর্বল হয়ে পড়েন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-র ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা বলেন, “আজকের ইফতার মাহফিলে জামায়াত আমিরের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তিনি যাত্রাও করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ পথিমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়ায় প্রোগ্রামস্থলে আসতে পারেননি। আমরা সবাই তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করছি।”
ঢাকা মহানগর উত্তর আমির সেলিম উদ্দিন বলেন, তারা আমিরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন।
সচিবালয়ের কর্মচারী খন্দকার শামীমের নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে অপহরণের ঘটনায় তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্দেশনার এক ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে স্কুলছাত্রটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, অপহৃত ছাত্র খিলগাঁওয়ের ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি আইডিয়াল স্কুল-এর নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুপুর আড়াইটার দিকে স্কুল ছুটির পর চার থেকে পাঁচজন দুর্বৃত্ত তাকে আটক করে জোড়পুকুর এলাকার একটি নির্মাণাধীন সাততলা ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারধর করে বাবার মোবাইল নম্বর নিয়ে অপহরণকারীরা ফোন করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
ছেলের অপহরণের খবর পেয়ে খন্দকার শামীম প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে বিষয়টি জানান। প্রধানমন্ত্রী ঘটনাটি শুনেই সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত উদ্ধারের নির্দেশ দেন।
বাংলাদেশ পুলিশ-এর রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরপরই অভিযান শুরু হয়। যে নম্বর থেকে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল, সেটির সূত্র ধরে যোগাযোগ করা হয়। টাকা পাঠানোর কথা বলে অপহরণকারীদের কাছ থেকে আরেকটি নম্বর চাওয়া হলে তারা সময়ক্ষেপণ ও দরকষাকষির চেষ্টা করে। এ সময় প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পরে খিলগাঁওয়ের জোড়পুকুর এলাকার ওই নির্মাণাধীন ভবনে অভিযান চালিয়ে শিক্ষার্থীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, দ্রুত নির্দেশনার কারণেই স্বল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীর প্রাণ রক্ষা সম্ভব হয়েছে। পলাতক অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাবেক অবসরপ্রাপ্ত সচিব সরওয়ার আলম আবারও রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। চুক্তিভিত্তিক এ নিয়োগ এক বছরের জন্য দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর ধারা ৪৯ অনুযায়ী অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি, আধা-সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক ত্যাগের শর্তে তিনি নিয়োগ পেয়েছেন। যোগদানের তারিখ থেকেই তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কার্যকর হবে।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুই বছরের জন্য চুক্তিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পান সরওয়ার আলম। তাকে সচিব পদমর্যাদায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। এবার নতুন করে তিনি দায়িত্ব পেলেন।
সরওয়ার আলম বিসিএস ৮৫ ব্যাচের তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উপ-প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-এ সচিব (জনসংযোগ) হিসেবে কাজ করেছেন এবং বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ-এর নির্বাহী পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) ছিলেন।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-এর পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) পদে থাকা অবস্থায় তিনি অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যান।
মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ ২০ পাচারকারীকে পৃথক ২ অভিযানে আটক করেছে কোস্টগার্ড।
মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ মঙ্গলবার মধ্যরাত ১ টায় অপারেশন সমুদ্র প্রহরায় নিয়োজিত কোস্ট গার্ড জাহাজ কামরুজ্জামান কর্তৃক সেন্টমার্টিন ছেঁড়াদ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ১টি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত প্রায় ৫ লক্ষ টাকা মূল্যের ১০০০ বস্তা সিমেন্ট ও পাচার কাজে ব্যবহৃত ফিশিং বোটসহ ১০ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।
অপরদিকে, রাত ৩ টায় অপারেশন কোরাল দ্বীপে নিয়োজিত কোস্ট গার্ড জাহাজ অপূর্ব বাংলা কর্তৃক সেন্টমার্টিন ছেঁড়াদ্বীপের দক্ষিণ- পশ্চিম সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ১টি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত প্রায় ৩ লক্ষ টাকা মূল্যের ৬০০ বস্তা সিমেন্ট ও পাচার কাজে ব্যবহৃত ফিশিং বোটসহ ১০ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।
জব্দকৃত সিমেন্ট, পাচারকাজে ব্যবহৃত বোট ও আটককৃত পাচারকারীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পাচার ও চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর গত ৫ আগস্টের পর থেকে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলায় ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে নিরীহ মানুষকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর করা এসব হয়রানিমূলক মামলার বিষয় সরকার গুরুত্বসহকারে দেখছে। যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত তথ্য বের করা হবে। দেশে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কেউ যাতে অকারণে ভোগান্তির শিকার না হন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া রাজনৈতিক হয়রানিমূলক আরও ১ হাজার ২০২টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে এক দফায় ১ হাজার ৬১৬টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে হত্যা, মাদক, অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধের মামলাগুলো এই সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে। কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
মামলা প্রত্যাহারের পুরো প্রক্রিয়ায় যেন কোনো অপব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, প্রত্যাহারযোগ্য মামলাগুলো সত্যিকার অর্থেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল কি না, তা সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হবে। এ লক্ষ্যে একটি বিশেষ যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হবে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নবনিযুক্ত প্রশাসক হিসেবে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুস সালাম।
স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৪ এর ধারা ২৫ক এর উপধারা (১) এর অনুবৃত্তিক্রমে সরকার গত ২২ ফেব্রুয়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জনাব মোঃ আব্দুস সালামকে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডিএসসিসি’র পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে। উক্ত অধ্যাদেশের ধারা ২৫ক এর উপধারা (৩) অনুযায়ী তিনি মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।
আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে নবনিযুক্ত প্রশাসক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিকট যোগদানপত্র পেশ করেন।
পরবর্তীতে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, মশক নিধন এবং ঢাকাকে একটি পরিবেশবান্ধব 'সবুজ শহর' হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা এবং এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা জমাদানের নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়া প্রশাসক মহোদয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাথেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করে নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন।
দুপুর ২টায় নবনিযুক্ত প্রশাসক শেরেবাংলা নগরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজার জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকেলে নগর ভবনে পৌঁছালে ডিএসসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিবসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রশাসক মহোদয়কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "সেবা প্রদানের মাধ্যমে নগরবাসীর আস্থা অর্জনই হবে আমার প্রধান কাজ। ঢাকা মহানগরীতে সমস্যা অনেক, আমি জনগণের সহযোগী হিসেবে এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করতে চাই। পরিচ্ছন্ন ঢাকা, মশক নিধনসহ বাসযোগ্য নগরী গড়তে সিটি কর্পোরেশনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সচেতনতা প্রয়োজন।"
তিনি আরও বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর বিশ্বাস রেখে দায়িত্ব দিয়েছেন, এখন কাজের মধ্য দিয়ে আমাকে নগরবাসীর আস্থা অর্জন করতে হবে। আমরা নগরবাসীর অভাব ও অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে পূরণ করার চেষ্টা করব। যেসব বড় সমস্যা আমাদের এখতিয়ারের বাইরে, সেগুলো আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরব।"
নবনিযুক্ত প্রশাসক জনাব আব্দুস সালাম সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে আমরা একটি জনবান্ধব ও জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন চীনের রাষ্ট্রদূতইয়াও ওয়েন।
আজ মঙ্গলবার সকালেসচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে তাদের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
সাক্ষাৎকালে চীনের রাষ্ট্রদূত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেন।
এর আগে গতকাল সোমবার তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইয়াও ওয়েন। ওই সাক্ষাতে তিনি তারেক রহমানকে অভিবাদন জানান।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, চীন বাংলাদেশের বড় উন্নয়ন সহযোগী এবং ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদেশে কর্মরত অবস্থায় মৃত প্রবাসী কর্মীদের মরদেহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সহজ করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন। মূলত বিমানবন্দরে মরদেহ পৌঁছানোর পর বিদ্যমান আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে দ্রুততম সময়ে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর নিশ্চিত করাই এখন মন্ত্রণালয়ের প্রধান লক্ষ্য। প্রবাসীদের মরদেহ বিমানবন্দর থেকে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার সুবিধার্থে এদিন ‘ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড’-এর দুটি নতুন ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, এর আগে মরদেহের পরিবহনে তিনটি গাড়ি নিয়োজিত ছিল, যার সঙ্গে আজ আরও দুটি আধুনিক যান যুক্ত হলো। এই বর্ধিত সক্ষমতার ফলে দেশের যেকোনো প্রান্তে মরদেহ দ্রুত ও নিরাপদভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে প্রবাসীদের মরদেহ বিমানবন্দর থেকে গ্রহণের সময় দাফন ও তাৎক্ষণিক খরচের জন্য পরিবারের হাতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়। এর বাইরে যারা জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সঠিক রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে প্রবাসে কাজ করতে গিয়েছেন, তাঁদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবারকে ১৩ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এই সুযোগ-সুবিধাগুলো যেন প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবার সহজে পায়, সে বিষয়ে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সরকারি সেবার প্রসারে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, মৃত প্রবাসীদের সম্মানের সঙ্গে শেষ বিদায় জানাতে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স ও বিশেষায়িত ব্যবস্থাপনার এই কার্যক্রম কেবল ঢাকা কেন্দ্রিক সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের সব জেলাতেই এই উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। প্রবাসীদের রক্তঘাম করা রেমিট্যান্সে দেশের অর্থনীতি সচল থাকে, তাই তাঁদের শেষ সময়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করাকে নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখছে সরকার। প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিএমইটি রেজিস্ট্রেশনের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মিশনে মৃত ব্যক্তিদের আইনি সহায়তার পরিধিও বাড়ানো হচ্ছে। মূলত প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই নতুন প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার।
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত ও মারধরের ঘটনায় প্রাথমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এই অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কর্তব্যরত চার পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লোজড বা পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অপেশাদার আচরণের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতেই এই ত্বরিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নিয়মিত মাদকবিরোধী তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশের একটি দল। সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ সদস্যরা ওই শিক্ষার্থীর ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় রমনা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন এবং প্রাথমিক সত্যতা মেলায় চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার মো. মাসুদ আলম জানান, তল্লাশি চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার জেরে কিছুটা বাড়াবাড়ি হয়েছিল। এর ফলে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘটনার সময় দায়িত্ব পালনকারী ওই চার সদস্যকে মাঠ পর্যায়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযোগের গুরুত্ব অনুযায়ী পরবর্তী স্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সুশৃঙ্খল বাহিনীর সদস্য হিসেবে জনসাধারণের সঙ্গে সংবেদনশীল ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করতে ডিএমপি কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বা তৎসংলগ্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের এমন আচরণের ঘটনা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ঢাবি কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মতো উন্মুক্ত স্থানে মাদকবিরোধী অভিযানের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তা যেন সাধারণ মানুষের হয়রানির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকে নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার করার মাধ্যমে বাহিনীর স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর পুনরায় সচল হয়েছে ঢাকা-আগরতলা-কলকাতা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবা। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কমলাপুর বাস ডিপো থেকে ‘রয়্যাল মৈত্রী’র একটি বাস পরীক্ষামূলকভাবে যাত্রা শুরু করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় প্রবেশ করে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং দীর্ঘদিনের ভিসা জটিলতার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি বন্ধ ছিল। মৈত্রী ও পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন এক আবহে এই বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগকে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা-আগরতলা-কলকাতা বাস সার্ভিসের মহাব্যবস্থাপক ওয়ারিছ আলম ডিএস জানান, বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে সপ্তাহে দুই দিন এই রুটে বাস চলাচল করবে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হলে এবং যাত্রীদের চাহিদা বৃদ্ধি পেলে নিয়মিতভাবে সপ্তাহে তিন দিন এই পরিষেবা চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এই বাস সার্ভিস চালু হওয়ায় উত্তর-পূর্ব ভারতের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই লাঘব হবে। সাধারণত আগরতলা থেকে ট্রেনে গুয়াহাটি হয়ে কলকাতায় পৌঁছাতে প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়, যা বেশ সময়সাপেক্ষ। তবে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ঢাকা হয়ে সরাসরি বাসে এই দূরত্ব কমে মাত্র ৫০০ কিলোমিটারে নেমে আসে, যা যাতায়াতের সময় ও খরচ উভয়ই সাশ্রয় করবে।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের এই নতুন গতির প্রশংসা করেছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। এছাড়া রাজ্য সরকারের পরিবহণ মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী আগরতলায় গণমাধ্যমকে জানান, এই বাস পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়া ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার মৈত্রী ও দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতার প্রতীক। তিনি মনে করেন, যাতায়াতের এই মাধ্যমটি কেবল দুই দেশের জনগণকে কাছে আনবে না, বরং পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারেও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য উভয় দেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ থাকা অপরিহার্য এবং এই সংযোগ সেই পথকে আরও সুগম করবে।
ত্রিপুরার পরিবহণ মন্ত্রীর মতে, ভারত সবসময়ই বাংলাদেশকে একটি পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে বিবেচনা করে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ যেকোনো অস্থিরতা ভারতের জনগণের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিগত সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা পরিলক্ষিত হলেও বাংলাদেশের নতুন সরকার গঠনের পর পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে সেই বরফ গলতে শুরু করেছে। দুই দেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে বর্তমানে উভয় পক্ষই অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক অবস্থান গ্রহণ করেছে। এই বাস পরিষেবার সফল প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
আগামী হজ মৌসুম থেকে খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে রিলিজিয়াস রিপোর্টার্স ফোরাম (আরআরএফ) নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন তিনি।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, এবার হজের সার্বিক প্রক্রিয়া এরইমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে হজযাত্রীদের আর্থিক চাপ কমাতে সম্ভাব্য সব দিক পর্যালোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, আমি এখানে আসার আগেই এবারের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আগামী হজ থেকে যাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়, সে চেষ্টা থাকবে।
সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সবসময় সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতা পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করবো, জনগণের খেদমত করবো।
ধর্মমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে আরআরএফ সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়ার নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল, অর্থ সম্পাদক রকিবুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে চ্যানেল আইয়ের রিপোর্টার আকতার হাবিব, দপ্তর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য শামসুল ইসলাম, উবায়দুল্লাহ বাদল, মহসিনুল করিম, আহমেদ জামাল, কামরুজ্জামান বাবলু প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এই বিশেষ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন। সরকারের এই যুগান্তকারী সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিটি প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহজলভ্য করতে একটি বিশেষ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তদারকিতে এই প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
সারা দেশের প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের কাছে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বর্তমান সরকার। মূলত হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষদের সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসতেই এই বৃহৎ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, এই বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই পদ্ধতিতে প্রতিটি কার্ডের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং কোনো ধরণের অনিয়ম বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য থাকবে না।
ফ্যামিলি কার্ডের এই কার্যক্রমটি দেশের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় প্রথম ধাপে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকার বনানীর কড়াইল বস্তি, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন এবং বগুড়া সদরসহ মোট ১৩টি এলাকার নির্বাচিত ওয়ার্ডে এই সুবিধা প্রদান করা হবে। প্রতিটি পরিবারে নারীর ক্ষমতায়ন এবং আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনাই এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। উদ্বোধনী কার্যক্রম সফল করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করছে।
প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতিপূর্বেই অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১০ মার্চের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সিং বা সরাসরি উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের শুভ সূচনা করবেন। সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। এর ফলে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী সরাসরি খাদ্য ও নিত্যপণ্য সহায়তার আওতায় আসবে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সাথে এই কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির তারিখ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে আগামী ৩ মার্চ থেকে অনলাইনে এই টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু হবে। রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফিরতি যাত্রার অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করা যাবে ২৩ মার্চ থেকে। প্রতিবারের মতো এবারও যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং ভিড় এড়াতে শতভাগ টিকিট অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খল রাখতে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের টিকিট দুই ভিন্ন সময়ে বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী সকল আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট প্রতিদিন সকালে অনলাইনে উন্মুক্ত করা হবে। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলের টিকিট পাওয়া যাবে প্রতিদিন দুপুর থেকে। সার্ভারের ওপর বাড়তি চাপ কমানোর লক্ষ্যেই মূলত এই সময় বিভাজন করা হয়েছে। সাধারণ যাত্রীরা যাতে সহজে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন, সেটিই এখন রেলওয়ে প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
যাত্রী সেবা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে নিয়মিত ট্রেনের পাশাপাশি ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই ৫ জোড়া অর্থাৎ মোট ২০টি স্পেশাল ট্রেন ঈদের বিশেষ সূচি অনুযায়ী নির্ধারিত গন্তব্যগুলোতে চলাচল করবে। ঈদযাত্রায় ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখতে এবং নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে রেলওয়ের কারিগরি ও প্রশাসনিক বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিয়মিত সূচি অনুযায়ী ট্রেন পরিচালনা এবং স্টেশনে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এবারের ঈদযাত্রা সাধারণ মানুষের জন্য উৎসবমুখর ও নিরাপদ হবে।