মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক ১৪৩৩

মিউনিখ সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১১:৫৭
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১১:৫৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, জার্মানির মিউনিখে তার ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আজ তাঁর মিউনিখ সফরের বিষয়ে রাজধানীর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।

তাঁর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ নিচে দেয়া হলো:

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

আসসালামু আলাইকুম। শুভ সকাল। গত ১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত ৬০তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন মূলতঃ রাষ্ট্র/সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, সরকারি এবং বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিগণের অংশগ্রহণ করেন। এটি সমকালীন ও ভবিষ্যত নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্চ-পর্যায়ের নিয়মিত আলোচনার একটি শীর্ষস্থানীয় ফোরাম হিসেবে বিবেচিত। এ বছরের ফোরামে ৩৫-জনেরও বেশী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান অংশগ্রহণ করেছেন।

বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দিতা এবং আঞ্চলিক সংঘাত, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নিউক্লিয়ার নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু নিরাপত্তা, তথ্য নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা, অভিবাসন, সাপ্লাই চেইন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মহামারি ইত্যাদি বিষয়ে এবারের ফোরামে আলোচনা করা হয়।

সফরের প্রথম দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি ‘ফ্রম পকেট টু প্লানেট: স্কেলিং আপ ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করি। এই আলোচনায় আমার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত মান্যবর জন কেরি, বারবাডোসের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মিয়া আমোর মটলে, এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোসা জামির।

প্যানেলটিতে উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে আমি বক্তব্য প্রদান করি। বক্তব্যের শুরুতেই আমি গাজা ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহ, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং নিরস্ত্র মানুষের, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের, অমানবিক হত্যার কবল থেকে মুক্ত করে সকল প্রকার যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার জোর আহ্বান জানাই। আর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা-নিষেধাজ্ঞার বিরূপ প্রভাব যে যুদ্ধক্ষেত্র থেকেও বহুদূর পর্যন্ত অনুভূত হয়, এ বিষয়ে আমি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। এ প্রসঙ্গে আমি অর্থহীন অস্ত্র-প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় রসদ ও অর্থায়ন সহজলভ্য ও কার্যকর করার জন্য সকলকে অনুরোধ করি। মানবতার অস্তিত্বের সংটকালে ক্ষুদ্র স্বার্থ যে শুধু অনর্থই বয়ে আনে - এই রূঢ় বাস্তবতা আমি সকলের সামনে তুলে ধরি। আর তাই, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানাই।

আমি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার জন্য বিশ্বের সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বহুবিধ নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ও জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের পরিমাণ বৃদ্ধি, প্রতিশ্রুত অর্থের বাস্তবিক হস্তান্তর, ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিতকরার উপর আমি বিশেষভাবে জোর দেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় আমি ধনী দেশসমূহের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই।

এদিন আমার হোটেল স্যুইটে উইমেন পলিটিক্যাল লিডার্স (ডব্লিউপিএল)-এর সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মিসেস সিলভানা খক্ মেহরিন আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান এবং গত দেড় দশকে বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য আমাকে ডব্লিউপিএল-জি ট্রাইলব্লাজের এওয়ার্ড ২০২৩ গ্রহণের জন্য তিনি আমাকে আগামী ২০ মার্চ ২০২৪ তারিখ এথেন্সে অনুষ্ঠিতব্য ডব্লিউপিএল সামিট-এ অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। আলোচনায় আমি আমাদের সরকারের- বিশেষ করে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত নীতিসমূহের বিষয়ে আলোকপাত করলে এ বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বাংলাদেশের নীতি ও কার্যক্রমসমূহ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একইদিন আমি কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোহাম্মদ বিন্ আব্দুলরাহ্মান আল-সানি-র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জ্ঞাপনের পাশাপাশি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, এলএনজি সরবারহ প্রভৃতির পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই ও দ্রুত সমাধানে কাতারের অব্যাহত সমর্থনের ব্যাপারে তিনি আশ্বস্ত করেন। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সহিংসতা বন্ধে একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও আমরা আলোচনা করি।

এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন নীতি ও অংশীদারিত্ব বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মান্যবর আক্সেল ভন ট্রটসেনবার্গ। বাংলাদেশে ও বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের অংশীদারিত্বের প্রেক্ষাপটে আমি মধ্যম আয়ের দেশভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবদানের আলোকে বর্তমান অর্থবছরে বাজেট সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংক হতে অঙ্গীকারকৃত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দ্রুত ছাড়ের আহ্বান জানাই। পাশাপাশি আমি জোরপূর্বক স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে এবং এই সমস্যার বিরূপ প্রভাবে আক্রান্ত দেশ হিসেবে বাংলাদশকে প্রদত্ত ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন সহায়তার জন্যও তাকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয় ও উচ্চ-আয়ের দেশের পর্যায়ে উত্তীর্ণ হবার কাঙ্ক্ষিত পথে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেন।

একই দিনে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মান্যবর ডক্টর টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসাস আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে-বিশেষ করে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আসন্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশে আমাকে আমন্ত্রণ জানান এবং বিশ্বের বাকি দেশসমূহকে বাংলাদেশের কম্যুনিটি ক্লিনিক মডেল অনুসরণ করার বিষয়ে অনুপ্রাণিত করার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন।

আলোচনাকালে আমি বর্তমান সরকারের সেকেন্ডারি ও টার্শিয়ারি স্বাস্থ্যসেবা, টীকা উৎপাদন, এন্টি-মাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ, নার্সিং ও অন্যান্য স্বাস্থ্যখাতে মানব সম্পদ উন্নয়ন ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের কথা উল্লেখ করে এতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তা আশা করি। এ বিষয়ে মহাপরিচালক আমাকে আশ্বস্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক অতিমারি চুক্তি-এর দ্রুত সমাপনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমর্থন কামনা করেন।

এইদিন আমার সঙ্গে আরও সাক্ষাৎ করেন মেটা-জি গ্লোবাল এফেয়ার্স এর প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী স্যার নিক্ ক্লেগ্। তিনিও আমাকে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতের উন্নয়ন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্র সুবিস্তারে সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রংসা করেন তিনি। আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনে আমাদের সফলতা তুলে ধরি এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ ও তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে মেটা-এর সহযোগিতা আশা করি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে বিভিন্ন মেটা প্ল্যাটফর্ম যেমন ফেইসবুক, হোয়াটস্অ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম প্রভৃতির ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারির সুউচ্চ সংখ্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি বাংলাদেশে মেটা-এর একটি কার্যালয় স্থাপনের পরামর্শ দিই।

প্রথম দিন আমি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মেটে ফ্রেডরিক্সেন-এর সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমাকে ও আমাদের নবগঠিত সরকারকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানোর জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আলোচনাকালে বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আইসিটি খাতে ড্যানিশ কোম্পানিসমূহের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের পাশাপাশি তিনি বিরাজমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকারের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকার বিষয়েও আমাকে আশ্বস্ত করেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মার্ক রুটে আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। আলোচনাকালে আমরা দু’জনই বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতসমূহে জ্ঞান-প্রযুক্তি-উদ্ভাবন বিস্তারে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও গভীরতর করার বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।

একইদিন সকালে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী মান্যবর ডক্টর এস. জয়শংকর। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। সাক্ষাৎকালে আমরা উভয়ই দুই বন্ধু-রাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং দু’দেশের বাণিজ্য নিজস্ব মুদ্রায় পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত পোষণ করি। তিনি আগামী এপ্রিল/মে মাসে ভারতীয় সাধারণ নির্বাচন পরবর্তীকালে দু’দেশের নতুন সরকারের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত পঞ্চ-বার্ষিক সহযোগিতা বিষয়ক রোডম্যাপ প্রণয়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে আমরা মায়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিষয়েও পারস্পরিক মতবিনিময় করি।

এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাইট অনারেবল্ লর্ড ক্যামেরন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রেরিত শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এসময় আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান চলাচল অংশীদারিত্ব, অভিবাসন, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ এবং মায়ানমার ও লোহিত সাগরে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করি।

একই দিনে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন জার্মান আর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রী মান্যবর সভেনিয়া শুলৎজা। আলোচনাকালে আমরা ইইউ-এর জিএসপি+ বাণিজ্য সুবিধাসহ পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জার্মান বিনিয়োগ এবং সার্বিক জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বর্ধিতকরণের বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।

এইদিন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ভ্লাদিমীর জেলেন্স্কি আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে আমরা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং গম, ভোজ্যতেল ও অন্যান্য কৃষিপণ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করি। আমি তাঁকে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের দ্রুত সমাধানের কার্যকর উপায় অন্বেষণের অনুরোধ করি। এছাড়াও আমরা গাজা উপত্যকায় সংঘাতের বিষয়ে মতবিনিময় করি।

এরপর আমি আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ইল্হাম আলিইয়্যেভ-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমরা পরস্পর পরস্পরকে পঞ্চমবারের মতো পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানাই। আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করি। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে নেতৃত্বদানের জন্য আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি আমাকে ধন্যবাদ দেন এবং এবছর নভেম্বরে বাকু-তে অনুষ্ঠিতব্য কপ২৯-এ যোগদানের জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানান। আলোচনাকালে আমরা উভয়ই জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা প্রভৃতি বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি।

এদিন আমি জার্মান চ্যান্সেলর মান্যবর ওলাফ শোলজ্-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বৈঠককালে আমরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও হাইড্রোজেন প্রযুক্তি এবং দক্ষ অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করি। এছাড়াও, আমরা ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গে মতবিনিময় করি এবং এসকল সংঘাত দ্রুত অবসানের বিষয়ে কার্যকর উপায় অন্বেষণের জন্য আমি তাঁকে অনুরোধ করি।

এছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি জার্মান আওয়ামী লীগ আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনা সভায় যোগদান করি এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি আমি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করি।

মিউনিখে আমার এই ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। দেশের আকার নয় বরং নীতির শক্তিতেই যে মানবতার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক মুক্তি, এবারের সম্মেলনে আমি এই বার্তাই বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছি। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমূহের মাধ্যমে বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাথে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আরও দৃঢ় হয়েছে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে।

আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”


নির্বাচিত

আকামার মেয়াদ শেষ হলেও প্রবাসীরা সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবেন: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট বিপর্যয়ে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছাতে না পারলে এবং পরবর্তী সময়ে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীরা পুনরায় দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। তিনি জানান কর্মীরা পরে সৌদি আরবে যেতে পারলে ইলেকট্রনিক সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এন্ট্রি সম্পন্ন হবে এবং তারা প্রবেশের অনুমতি পাবেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটন রোডের নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, সরকার ও রিক্রুটিং এজেন্সি একসঙ্গে কাজ করলে জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমাতে হবে। ৩ লাখ টাকায় যেখানে যাওয়া সম্ভব, সেখানে ৭-৮ লাখ টাকা নেওয়া অনুচিত। ব্যবসা হালাল উপায়ে পরিচালনা করতে হবে এবং কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় থেকে বিরত থাকতে হবে, যাতে সেই অর্থ তুলতে তুলতেই কর্মীদের সময় পার হয়ে না যায়।

তিনি আরও জানান, কর্মীদের বিদেশ গমনের প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও ভিসার বৈধতা দ্রুত যাচাইয়ে বিএমইটিতে আধুনিক প্রযুক্তি চালুর কাজ চলছে। পাশাপাশি যেকোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য উন্মুক্ত ইমেইল সেবা চালু ও প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী গন্তব্য দেশের আইনকানুন যথাযথভাবে মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণায় সরকারের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক সৌদি আরবে কারাবন্দী বাংলাদেশিদের আগামী রমজানে বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়ে সৌদি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পাশাপাশি যেকোনো দ্বিপক্ষীয় সমস্যা যৌথ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে অভিবাসন ব্যয় কমানোর আহ্বান জানান।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া বলেন, সৌদি আরবে নিজ দেশের নাগরিকদের পর সবচেয়ে বেশি বসবাস করেন বাংলাদেশের কর্মীরা। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক আগামীতে শ্রম খাতে আরও জোরদার ও সমৃদ্ধ হবে।

আলোচনা সভায় বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা তাকামুল পরীক্ষা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ফি কমানো, বিএমইটির জনশক্তি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার দাবি জানান।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে প্রতিরক্ষা সম্মেলনে আমন্ত্রণ আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্সের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী ও সম্মেলনের (আইডিইএক্স ২০২৭) ১৮তম সংস্করণে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী, দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম। একই সময়ে অনুষ্ঠেয় নেভাল ডিফেন্স অ্যান্ড মেরিটাইম সিকিউরিটি এক্সিবিশনের (এনএভিডিইএক্স ২০২৭) অষ্টম সংস্করণেও অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাস এ তথ্য জানায়। দুটি ইভেন্ট আগামী বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ২৫ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আবুধাবি ন্যাশনাল এক্সিবিশন সেন্টারে (এডিএনইসি) অনুষ্ঠিত হবে।

স্থল, নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সর্বশেষ অগ্রগতি ও উদ্ভাবন উপস্থাপনের জন্য আইডেক্স এবং এনএভিডিইএক্স একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ। এই প্রদর্শনীতে বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো একত্রিত হয়।

ক্রাউন প্রিন্স বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করবে এবং প্রদর্শনীর সাফল্যে অর্থবহ অবদান রাখবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে তার সর্বোচ্চ বিবেচনা ও গভীর কৃতজ্ঞতার আশ্বাস জ্ঞাপন করেন।


নির্বাচিত

দেশে সারের সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত আছে: কৃষিমন্ত্রী

ছবি: কৃষিমন্ত্রী হাজি আমিনুর রশিদ ইয়াসিন।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কৃষিমন্ত্রী হাজি আমিনুর রশিদ ইয়াসিন বলেছেন, ‘দেশে সারের কোনো সংকট ছিল না এবং বর্তমানেও কোনো সংকট নেই। দেশে বর্তমানে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।’

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘একটি অসাধু চক্র সারের কৃত্রিম সংকট দেখানোর অপচেষ্টা করেছে। তবে এই চেষ্টা করে কোনো লাভ নেই। বর্তমানে দেশে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টন সার মজুত রয়েছে।’

সারের ডিলারশিপ বিতরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ডিলারশিপ দেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। ডিলারশিপ দেওয়ার পর ৯০ দিনের মধ্যে কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা পাওয়া গেলে তা পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে এবং বিষয়গুলো নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।

আমদানিনির্ভর পণ্যের তালিকা কমে আসছে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে এমন কিছু পণ্য ছিল, যা প্রতি বছরই আমদানি করতে হয়েছে। তবে এ বছর ব্যতিক্রম ঘটেছে এবং এখন পর্যন্ত সেগুলো আমদানি করার প্রয়োজন পড়েনি।’


নির্বাচিত

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সব কার্যালয় ধূমপানমুক্ত ঘোষণা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অধীন সব কার্যালয় শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসুরক্ষায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ও কর্তৃপক্ষের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. শফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আগত অতিথিদের পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সব কার্যালয় শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত জাতীয় নির্দেশিকা অনুসরণ করে এসব কার্যালয়ে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা হবে।’

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তামাকের ধোঁয়ায় প্রায় সাত হাজার ধরনের রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫০টি মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এবং মারাত্মক রোগ ও মৃত্যুর কারণ হতে পারে।’

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকের কারণে প্রায় দুই লাখ মানুষ মারা যান। আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্রে ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সরকারি কার্যালয়ে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ অধূমপায়ী নারী-পুরুষ পরোক্ষ ধূমপানজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। তাদের মধ্যে ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপান করেন। এ ছাড়া প্রায় চার কোটি মানুষ ধূমপান না করেও পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। এ ক্ষতি থেকে মানুষকে সুরক্ষায় সব জনসমাগমস্থল শতভাগ ধূমপানমুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষতি থেকে মানুষকে রক্ষায় সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন-২০২৬-এর বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের দাবিও জানান বক্তারা।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইন কর্মকর্তা ফেরদৌস আরাফাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্তৃপক্ষের সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, অতিরিক্ত পরিচালক কাউছারুল ইসলাম সিকদার, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতের সহকারী চিকিৎসক ডা. নায়লা পারভিন এবং আহ্ছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সদস্যসহ বিভিন্ন বিভাগের পরিচালকরা।


নির্বাচিত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, প্রজ্ঞাপন জারি

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আহসান হাবিব। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের পূর্ণ সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আহসান হাবিব।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উচ্চতর নিয়োগ-১ শাখা থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে, তিনি এই পদে ভারপ্রাপ্ত সচিব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত সচিব ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আহসান হাবিবকে রাষ্ট্রপতির ১০% কোটায় সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পদে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া, অবসরে যাওয়ার পূর্বে তিনি নিজ ক্যাডারে প্রত্যাবর্তন করবেন।

জনস্বার্থে জারীকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আহসান হাবিব বিসিএস ১৫তম ব্যাচের কর ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকার করে ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি কর প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেছেন। তিনি কর অঞ্চল-১/২/৩/৭/৮/১৫, ঢাকা, কর অঞ্চল-খুলনা, কর অঞ্চল-রংপুর, কর আপিল অঞ্চল-খুলনা, কর আপিল অঞ্চল-রাজশাহী ও কেন্দ্রীয় কর জরিপ অঞ্চলসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

এ ছাড়া, তিনি সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) এবং কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।


নির্বাচিত

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান
জাপানের হোটেল ইম্পেরিয়ালে জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:১৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জাপানকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে হোটেল ইম্পেরিয়ালে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। এ সময় জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হারা শোহেই এবং সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এসব কথা জানান।

সাক্ষাতের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ২০২৬ সালের জুলাইয়ে জাইকা প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের সময় ঢাকায় অনুষ্ঠিত ফলপ্রসূ বৈঠকের কথা স্মরণ করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা ও জাইকার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা পূরণে জাপানের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা জরুরি।’

বৈঠকে জাপানের সহায়তায় চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন দ্রুত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন অগ্রাধিকার বিবেচনায় জাপানের কাছ থেকে সহজ শর্তে ঋণসহায়তা অব্যাহত রাখা এবং কারিগরি সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- ‘বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদারত্ব’ (বাংলাদেশ-জাপান স্কিলস পার্টনারশিপ) গড়ে তোলা, একটি ‘প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী’ (টেকনোলজিক্যাল ভিলেজ অ্যান্ড ইনোভেশন সিটি) প্রতিষ্ঠা এবং কৃষি আধুনিকীকরণ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে জাপানি সহযোগিতা বাড়ানো।

এ ছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় গত বছরের মতো দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজেট সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। জবাবে জাইকার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সমৃদ্ধি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং দুই দেশের অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

এ ছাড়া ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দীকী, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ বাংলাদেশ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদের সময়সীমা নিয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি

মোটরযানের কাগজপত্র হালনাগাদের সময়সীমা বাড়াল বিআরটিএ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মোটরযানের বিভিন্ন কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। জরিমানা ছাড়াই মূল কর ও ফি পরিশোধ করে এসব কাগজপত্র আপডেটের সুযোগ দিয়েছে সংস্থাটি। সোমবার এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিআরটিএর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকার সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র (যেমন ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন ও রুট পারমিট) এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়া মূল কর ও ফি পরিশোধ করে হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত শেষবারের মতো বর্ধিত করেছে।

এই পরিস্থিতিতে, সংশ্লিষ্ট সকলকে জরিমানা ব্যতীত নির্ধারিত তারিখের মধ্যে নিজেদের মোটরযানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার জন্য সংস্থাটির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

জাপান ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন
জেবিসিসিইসি সভাপতি ও মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

জাপানের স্থানীয় সময় আজ বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে জাপান বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির (জেবিসিসিইসি) সভাপতি ও মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে মাসুমি কাকিনোকির নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।একই সঙ্গে মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানান।

এ সময় মাসুমি কাকিনোকি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উন্নত উৎপাদনশিল্পসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে এসব খাতে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে জাপানের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্কার, বিনিয়োগসংক্রান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদারের মাধ্যমে জাপানি ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে।

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মাসায়ুকি ওমোতোর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, সার ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে টোকিও রয়েছেন। তিনি একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

সরকারের অনুমতি পেলে পুলিশ ক্রসফায়ারেও পিছপা হবে না: আইজিপি

পুলিশ লাঠিপেটা করলে বলা হয় ‘ফ্যাসিস্ট পুলিশ’, আবার নীরব থাকলে বলা হয়, ‘দুর্বল পুলিশ’
কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইনশৃঙ্খলা সুসংহত রাখা ও অপরাধীদের কঠোর দমনে সরকারের সুস্পষ্ট অনুমতি থাকলে পুলিশ প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন ফকির। সোমবার সকালে রাজধানীর চকবাজারস্থ শাহজাহান ইমাম টাওয়ারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শরিয়াহভিত্তিক সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে বাহিনীর প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে আইজিপি উল্লেখ করেন, পুলিশ লাঠিপেটা করলে বলা হয় ‘ফ্যাসিস্ট পুলিশ’, আবার নীরব থাকলে বলা হয়, ‘দুর্বল পুলিশ’। তাই সমাজব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে পুলিশকে কার্যকর কাজের পরিবেশ ও সক্ষমতা দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আইন ও সংবিধান অনুসরণের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে সত্যতা যাচাই না করে গুজবে কান দেওয়া অনুচিত।

বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার বিষয়ে পুলিশপ্রধান স্পষ্ট করেন যে কোনো পুলিশ সদস্যের অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না। পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার এবং মাদক কারবারে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাথে পুলিশের কিছু সদস্যের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষিতে অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতার আওতায় গত দুই মাসে ২৭ জন সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। নিজের ঘর আগে পরিষ্কার করার নীতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কথায় কথায় পুলিশের ওপর দায় চাপানো কিংবা বাহিনীকে অকার্যকর করার কোনো অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়ে আইজিপি বলেন, কে আসবে বা না আসবে তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আলাদা কোনো ভাবনা নেই। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের আইন ও সংবিধান যেভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দেবে, পুলিশ ঠিক সেভাবেই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নির্দেশনা সাপেক্ষে সর্বোচ্চ কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে ক্রসফায়ার বাস্তবায়নেও পুলিশ দ্বিধা করবে না বলে তিনি কঠোর বার্তা দেন।

অনুষ্ঠানে ‘ব্যাংকিং খাতে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার তাগিদ’ প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও সুদের কুফলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জানান, প্রকৃত ইসলামিক ব্যাংকিং হতে হবে সম্পূর্ণ সুদ ও ঘুষমুক্ত, যা নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও কার্যকর অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। অতীতে ব্যাংক দখল ও গ্রাহকদের সাথে প্রতারণার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি ও নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিষয়:

নির্বাচিত

ঢাকার উন্নয়ন ও নাগরিক স্বস্তিতে সমন্বিত সহযোগিতার আহ্বান সড়কমন্ত্রীর

রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার পরিকল্পিত উন্নয়ন, সার্বিক শৃঙ্খলা এবং নাগরিক স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সোমবার রাজধানীর কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে স্থানীয় উন্নয়ন বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

সভায় মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষের এই জনবহুল শহরে সিটি করপোরেশনের সীমিত জনবল ও অবকাঠামো নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন নাগরিক সেবা প্রদান করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। তদুপরি পূর্ববর্তী সরকারের আমলে হওয়া নানামুখী আর্থিক অনিয়ম ও উন্নয়ন তহবিলের অপব্যবহারের ফলে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রাধিকার নির্বাচনে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা এলাকার রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হবে না, বরং সড়কের গুরুত্ব ও জনস্বার্থই হবে মূল বিবেচ্য বিষয়।

একই সভায় অংশ নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম জানান, দক্ষিণ ঢাকার প্রধানতম নাগরিক সংকটের নাম জলাবদ্ধতা। এর সাথে নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সড়ক ও ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে রাখা হকারদের কারণে সাধারণ পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে খুব দ্রুত বিশেষ প্রশাসনিক কর্মসূচি কার্যকর করা হবে।

প্রশাসক কড়া বার্তা দিয়ে জানান, ব্যস্ততম রাজপথে কোনো অবস্থাতেই অবৈধ হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি ও কাঠামোর আওতায় পুনর্বাসনের সুযোগ থাকবে, যার সফল দৃষ্টান্ত মতিঝিলের নৈশকালীন মার্কেট। এ সময় নাগরিক সেবা বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শতভাগ দায়বদ্ধতার সাথে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, দায়িত্ব পালনে যেকোনো ধরনের শৈথিল্য দেখা গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


নির্বাচিত

টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের সংসদীয় মৈত্রী লীগের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী জাপানি কোম্পানিগুলো
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাপান সফরে থাকা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক সৌজন্য বৈঠকে মিলিত হয়েছে জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সোমবার জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ৩টার দিকে টোকিওতে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্বে ছিলেন মৈত্রী লীগের সভাপতি এবং জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক সংহত করতে ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্য তারো আসোর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ২০০৬ সালে জাপান সফরের প্রেক্ষাপট টেনে বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে তারো আসোর সঙ্গে বৈঠকের স্মৃতিচারণ করেন। অন্যদিকে তারো আসোও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর অতীত সাক্ষাতের বিষয়টিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তারো আসো সর্বদাই বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব গভীর করতে অত্যন্ত গঠনমূলক অবদান রেখেছেন।

বৈঠকে দুই দেশের নীতিনির্ধারকেরা রাজনৈতিক সম্প্রীতি, বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব এবং জনসাধারণের পারস্পরিক মেলবন্ধন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তারো আসো উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের একটি বড় অংশই সম্ভাবনাময় তরুণ জনগোষ্ঠী এবং বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সেখানে বিদেশি পুঁজির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। এই বাস্তবতায় জাপানি বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে বিনিয়োগ করতে ব্যাপক আগ্রহী বলে জানান তিনি।

জাপানি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে সরকার প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। বৈঠকে শিক্ষা এবং কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) কার্যকর বাস্তবায়নে তারো আসোর ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি শিল্পে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে জাপানের অবিচল সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান।

উক্ত সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, গবেষণা কর্মকর্তা মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। অন্যদিকে জাপানি প্রতিনিধিদলে তারো আসোর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দেশটির সাবেক মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন এলডিপির চেয়ারম্যান ইয়াসুতোশি নিশিমুরা, ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিসহ দেশটির সংসদের জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতাবৃন্দ।

বিষয়:

নির্বাচিত

সাগরের নিম্নচাপ রূপ নিতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্নব’-এ, ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

গতিপ্রকৃতি অপরিবর্তিত থাকলে এটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বঙ্গোপসাগরে বিদ্যমান গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হচ্ছে এবং এটি আজই রূপ নিতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্নব’-এ। এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন সমুদ্র বেশ অশান্ত হয়ে উঠেছে এবং বিস্তীর্ণ উপকূল জুড়ে বিরাজ করছে মেঘলা ও গুমোট আবহাওয়া।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি ক্রমাগত পশ্চিম দিকে এগিয়ে একই এলাকায় ঘনীভূত রয়েছে। এর গতিপ্রকৃতি অপরিবর্তিত থাকলে এটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে, গত মধ্যরাতে সিস্টেমটির অবস্থান ছিল পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটার পরিধির মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া আকারে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে কেন্দ্র সংলগ্ন সাগর অত্যন্ত উত্তাল রয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করতে বলা হয়েছে। একই সাথে সাগরে থাকা সব মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার সকালে তথ্যগুলো গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুবা সুখী।

বিষয়:

নির্বাচিত

সদর দপ্তরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক

পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য সুসংহত রাখা এবং জাতীয় বনজ সম্পদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্যকর অবদান রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য
পুলিশ সদর দপ্তর চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া বিশেষ জাতীয় উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। সোমবার সকালে রাজধানীর ফুলবাড়িয়ায় অবস্থিত পুলিশ সদর দপ্তর চত্বরে একটি চারাগাছ রোপণের মাধ্যমে তিনি এ অভিযানের সূচনা করেন।

উদ্বোধনী আয়োজনে পুলিশ সদর দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী পুলিশের প্রতিটি প্রশাসনিক ইউনিট, আঞ্চলিক পুলিশ ব্যারাক, বিভিন্ন আবাসিক এলাকা এবং কার্যালয় প্রাঙ্গণের ফাঁকা স্থানে পরিকল্পিতভাবে ফলদ, বনজ, ভেষজ এবং নান্দনিক সৌন্দর্যবর্ধক বিভিন্ন জাতের গাছের চারা রোপণ করা হবে।

পরিবেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য সুসংহত রাখা এবং জাতীয় বনজ সম্পদ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্যকর অবদান রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও দেশব্যাপী সবুজায়ন ও বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করতে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

banner close