শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
৬ চৈত্র ১৪৩২

মিউনিখ সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১১:৫৭
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১১:৫৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, জার্মানির মিউনিখে তার ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আজ তাঁর মিউনিখ সফরের বিষয়ে রাজধানীর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।

তাঁর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ নিচে দেয়া হলো:

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

আসসালামু আলাইকুম। শুভ সকাল। গত ১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত ৬০তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন মূলতঃ রাষ্ট্র/সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, সরকারি এবং বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিগণের অংশগ্রহণ করেন। এটি সমকালীন ও ভবিষ্যত নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্চ-পর্যায়ের নিয়মিত আলোচনার একটি শীর্ষস্থানীয় ফোরাম হিসেবে বিবেচিত। এ বছরের ফোরামে ৩৫-জনেরও বেশী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান অংশগ্রহণ করেছেন।

বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দিতা এবং আঞ্চলিক সংঘাত, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নিউক্লিয়ার নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু নিরাপত্তা, তথ্য নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা, অভিবাসন, সাপ্লাই চেইন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মহামারি ইত্যাদি বিষয়ে এবারের ফোরামে আলোচনা করা হয়।

সফরের প্রথম দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি ‘ফ্রম পকেট টু প্লানেট: স্কেলিং আপ ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করি। এই আলোচনায় আমার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত মান্যবর জন কেরি, বারবাডোসের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মিয়া আমোর মটলে, এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোসা জামির।

প্যানেলটিতে উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে আমি বক্তব্য প্রদান করি। বক্তব্যের শুরুতেই আমি গাজা ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহ, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং নিরস্ত্র মানুষের, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের, অমানবিক হত্যার কবল থেকে মুক্ত করে সকল প্রকার যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার জোর আহ্বান জানাই। আর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা-নিষেধাজ্ঞার বিরূপ প্রভাব যে যুদ্ধক্ষেত্র থেকেও বহুদূর পর্যন্ত অনুভূত হয়, এ বিষয়ে আমি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। এ প্রসঙ্গে আমি অর্থহীন অস্ত্র-প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় রসদ ও অর্থায়ন সহজলভ্য ও কার্যকর করার জন্য সকলকে অনুরোধ করি। মানবতার অস্তিত্বের সংটকালে ক্ষুদ্র স্বার্থ যে শুধু অনর্থই বয়ে আনে - এই রূঢ় বাস্তবতা আমি সকলের সামনে তুলে ধরি। আর তাই, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানাই।

আমি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার জন্য বিশ্বের সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বহুবিধ নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ও জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের পরিমাণ বৃদ্ধি, প্রতিশ্রুত অর্থের বাস্তবিক হস্তান্তর, ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিতকরার উপর আমি বিশেষভাবে জোর দেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় আমি ধনী দেশসমূহের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই।

এদিন আমার হোটেল স্যুইটে উইমেন পলিটিক্যাল লিডার্স (ডব্লিউপিএল)-এর সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মিসেস সিলভানা খক্ মেহরিন আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান এবং গত দেড় দশকে বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য আমাকে ডব্লিউপিএল-জি ট্রাইলব্লাজের এওয়ার্ড ২০২৩ গ্রহণের জন্য তিনি আমাকে আগামী ২০ মার্চ ২০২৪ তারিখ এথেন্সে অনুষ্ঠিতব্য ডব্লিউপিএল সামিট-এ অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। আলোচনায় আমি আমাদের সরকারের- বিশেষ করে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত নীতিসমূহের বিষয়ে আলোকপাত করলে এ বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বাংলাদেশের নীতি ও কার্যক্রমসমূহ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একইদিন আমি কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোহাম্মদ বিন্ আব্দুলরাহ্মান আল-সানি-র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জ্ঞাপনের পাশাপাশি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, এলএনজি সরবারহ প্রভৃতির পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই ও দ্রুত সমাধানে কাতারের অব্যাহত সমর্থনের ব্যাপারে তিনি আশ্বস্ত করেন। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সহিংসতা বন্ধে একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও আমরা আলোচনা করি।

এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন নীতি ও অংশীদারিত্ব বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মান্যবর আক্সেল ভন ট্রটসেনবার্গ। বাংলাদেশে ও বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের অংশীদারিত্বের প্রেক্ষাপটে আমি মধ্যম আয়ের দেশভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবদানের আলোকে বর্তমান অর্থবছরে বাজেট সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংক হতে অঙ্গীকারকৃত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দ্রুত ছাড়ের আহ্বান জানাই। পাশাপাশি আমি জোরপূর্বক স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে এবং এই সমস্যার বিরূপ প্রভাবে আক্রান্ত দেশ হিসেবে বাংলাদশকে প্রদত্ত ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন সহায়তার জন্যও তাকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয় ও উচ্চ-আয়ের দেশের পর্যায়ে উত্তীর্ণ হবার কাঙ্ক্ষিত পথে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেন।

একই দিনে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মান্যবর ডক্টর টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসাস আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে-বিশেষ করে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আসন্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশে আমাকে আমন্ত্রণ জানান এবং বিশ্বের বাকি দেশসমূহকে বাংলাদেশের কম্যুনিটি ক্লিনিক মডেল অনুসরণ করার বিষয়ে অনুপ্রাণিত করার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন।

আলোচনাকালে আমি বর্তমান সরকারের সেকেন্ডারি ও টার্শিয়ারি স্বাস্থ্যসেবা, টীকা উৎপাদন, এন্টি-মাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ, নার্সিং ও অন্যান্য স্বাস্থ্যখাতে মানব সম্পদ উন্নয়ন ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের কথা উল্লেখ করে এতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তা আশা করি। এ বিষয়ে মহাপরিচালক আমাকে আশ্বস্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক অতিমারি চুক্তি-এর দ্রুত সমাপনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমর্থন কামনা করেন।

এইদিন আমার সঙ্গে আরও সাক্ষাৎ করেন মেটা-জি গ্লোবাল এফেয়ার্স এর প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী স্যার নিক্ ক্লেগ্। তিনিও আমাকে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতের উন্নয়ন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্র সুবিস্তারে সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রংসা করেন তিনি। আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনে আমাদের সফলতা তুলে ধরি এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ ও তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে মেটা-এর সহযোগিতা আশা করি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে বিভিন্ন মেটা প্ল্যাটফর্ম যেমন ফেইসবুক, হোয়াটস্অ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম প্রভৃতির ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারির সুউচ্চ সংখ্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি বাংলাদেশে মেটা-এর একটি কার্যালয় স্থাপনের পরামর্শ দিই।

প্রথম দিন আমি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মেটে ফ্রেডরিক্সেন-এর সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমাকে ও আমাদের নবগঠিত সরকারকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানোর জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আলোচনাকালে বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আইসিটি খাতে ড্যানিশ কোম্পানিসমূহের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের পাশাপাশি তিনি বিরাজমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকারের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকার বিষয়েও আমাকে আশ্বস্ত করেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মার্ক রুটে আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। আলোচনাকালে আমরা দু’জনই বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতসমূহে জ্ঞান-প্রযুক্তি-উদ্ভাবন বিস্তারে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও গভীরতর করার বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।

একইদিন সকালে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী মান্যবর ডক্টর এস. জয়শংকর। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। সাক্ষাৎকালে আমরা উভয়ই দুই বন্ধু-রাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং দু’দেশের বাণিজ্য নিজস্ব মুদ্রায় পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত পোষণ করি। তিনি আগামী এপ্রিল/মে মাসে ভারতীয় সাধারণ নির্বাচন পরবর্তীকালে দু’দেশের নতুন সরকারের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত পঞ্চ-বার্ষিক সহযোগিতা বিষয়ক রোডম্যাপ প্রণয়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে আমরা মায়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিষয়েও পারস্পরিক মতবিনিময় করি।

এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাইট অনারেবল্ লর্ড ক্যামেরন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রেরিত শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এসময় আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান চলাচল অংশীদারিত্ব, অভিবাসন, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ এবং মায়ানমার ও লোহিত সাগরে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করি।

একই দিনে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন জার্মান আর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রী মান্যবর সভেনিয়া শুলৎজা। আলোচনাকালে আমরা ইইউ-এর জিএসপি+ বাণিজ্য সুবিধাসহ পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জার্মান বিনিয়োগ এবং সার্বিক জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বর্ধিতকরণের বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।

এইদিন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ভ্লাদিমীর জেলেন্স্কি আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে আমরা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং গম, ভোজ্যতেল ও অন্যান্য কৃষিপণ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করি। আমি তাঁকে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের দ্রুত সমাধানের কার্যকর উপায় অন্বেষণের অনুরোধ করি। এছাড়াও আমরা গাজা উপত্যকায় সংঘাতের বিষয়ে মতবিনিময় করি।

এরপর আমি আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ইল্হাম আলিইয়্যেভ-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমরা পরস্পর পরস্পরকে পঞ্চমবারের মতো পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানাই। আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করি। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে নেতৃত্বদানের জন্য আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি আমাকে ধন্যবাদ দেন এবং এবছর নভেম্বরে বাকু-তে অনুষ্ঠিতব্য কপ২৯-এ যোগদানের জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানান। আলোচনাকালে আমরা উভয়ই জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা প্রভৃতি বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি।

এদিন আমি জার্মান চ্যান্সেলর মান্যবর ওলাফ শোলজ্-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বৈঠককালে আমরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও হাইড্রোজেন প্রযুক্তি এবং দক্ষ অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করি। এছাড়াও, আমরা ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গে মতবিনিময় করি এবং এসকল সংঘাত দ্রুত অবসানের বিষয়ে কার্যকর উপায় অন্বেষণের জন্য আমি তাঁকে অনুরোধ করি।

এছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি জার্মান আওয়ামী লীগ আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনা সভায় যোগদান করি এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি আমি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করি।

মিউনিখে আমার এই ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। দেশের আকার নয় বরং নীতির শক্তিতেই যে মানবতার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক মুক্তি, এবারের সম্মেলনে আমি এই বার্তাই বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছি। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমূহের মাধ্যমে বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাথে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আরও দৃঢ় হয়েছে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে।

আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”


ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহের নিরাপত্তায় ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঐতিহাসিক কিশোরগঞ্জ শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এই সর্ববৃহৎ ঈদ জামাতের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নেত্রকোণা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী এক বার্তার মাধ্যমে বিজিবির এই কঠোর অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেন। বিজিবি সূত্রে জানানো হয়, সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় তারা সর্বদা পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করে।

ঈদগাহ ময়দান ও এর সংলগ্ন এলাকায় জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য বাহিনীর সাথে সমন্বিতভাবে বিজিবি সদস্যরা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে। জননিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের নির্দিষ্ট প্রবেশপথ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে এবং কোনো ধরনের ব্যাগ, ধারালো অস্ত্র বা সন্দেহজনক সামগ্রী বহন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই ঈদ জামাত সম্পন্ন হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


ঈদের দিনে বন্ধ থাকবে মেট্রোরেল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটির মধ্যে ঢাকার মেট্রোরেল চলাচল নিয়ে সময়সূচি জানিয়েছে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড।

প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের দিন মেট্রোরেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

তবে ঈদের পরদিন থেকে আগের মতো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মেট্রোরেল চলাচল পুনরায় শুরু হবে।

এদিকে দেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামী শনিবার (২১ মার্চ) সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে কক্সবাজারে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।


কখন কোথায় ঈদের জামাত

আপডেটেড ২০ মার্চ, ২০২৬ ২৩:২৬
অনলাইন ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীতে এ বছর মোট ১ হাজার ৭৭১টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ১২১টি ঈদগাহ ও ১ হাজার ৫৯৯টি মসজিদে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঈদের জামাতকে ঘিরে সমন্বিত ও সুদৃঢ় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ-এর ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বেশিরভাগ স্থানে ঈদের জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হবে।

রাজধানীর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। এ জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বা অন্য কোনো কারণে এ আয়োজন সম্ভব না হলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ সকাল ৯টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান জামাতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক ইমামতি করবেন এবং বিকল্প হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী প্রস্তুত থাকবেন। জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির জন্য নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যার মধ্যে সাড়ে তিন হাজার নারী মুসল্লির জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ, ওজু ও নামাজের ব্যবস্থা এবং মুসল্লিদের জন্য মেডিকেল টিমের সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়েছে।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বরাবরের মতো এবারও পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এসব জামাত যথাক্রমে সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও বেলা পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ঈদের নামাজ আদায় করা হবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ২৫ হাজার মুসল্লি অংশ নিতে পারবেন। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়ও সকাল ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে এবং তা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সংসদ সদস্য, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সাধারণ মুসল্লিরাও এতে অংশ নিতে পারবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআয় দুটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে—প্রথমটি সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয়টি সকাল ৯টায়। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা যেমন লক্ষ্মীবাজার, গেন্ডারিয়া, মুগদা, মহাখালী, মান্ডা, লালবাগসহ বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নামাজের আয়োজন করা হয়েছে।

রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রামে জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল পৌনে ৯টায়। একই দিনে জেলা স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ-এ ১৯৯তম ঈদ জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। এ জামাতকে কেন্দ্র করে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠে সকাল ৯টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে তিন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বগুড়ার কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থানে সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ধাপে ধাপে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নারীদের অংশগ্রহণের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সারাদেশে ঈদের জামাতকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে ধর্মীয় এই উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়।


দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলমানদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশে ও প্রবাসে বসবাসকারী সব বাংলাদেশি এবং সারা বিশ্বের মুসলমানদের ঈদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদ উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।

লিখিত বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মুমিন মুসলমানগণ সব অন্যায়, অবিচার ও পাপাচার হতে মুক্ত হয়ে উত্তম চারিত্রিক গুণাবলি অর্জন ও পারলৌকিক মুক্তির প্রয়াস পায়। ঈদের দিনে ধনী-গরিব-নির্বিশেষে সবাই এক কাতারে শামিল হন এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও সৌহার্দ্যময় রাষ্ট্র গঠনে পবিত্র ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য অপরিসীম। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শুভসূচনা ঘটেছে। একটি ন্যায়ভিত্তিক, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের অভিযাত্রায় আমরা এগিয়ে চলেছি। এই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের অভিযাত্রায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের শিক্ষা সবার মাঝে নতুন উদ্যম ও অনুপ্রেরণা জোগাবে—এ প্রত্যাশা করি।’

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটের অনাকাঙ্ক্ষিত অভিঘাত বাংলাদেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে এবং এ সময় সমাজের বিত্তবান ও সচ্ছল শ্রেণিকে দরিদ্র ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর পাশে আরও দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ঈদের অনাবিল আনন্দে সবার জীবন ভরে উঠুক এবং ঈদের সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি ছড়িয়ে যাক সবার ঘরে ঘরে।

প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ, মুসলিম উম্মাহ ও বিশ্বের সব মানুষের সুখ, শান্তি, কল্যাণ ও উত্তরোত্তর উন্নতির জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন রাষ্ট্রপতি এবং বলেন, মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন, আমিন।


ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শুক্রবার সন্ধ্যায় বিটিভিতে প্রচারিত এক বিশেষ টেলিভিশন বার্তায় দেশবাসীসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী । রমজানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ঈদুল ফিতরের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সিয়াম সাধনার মাস রমজানের শিক্ষা অন্তরে ধারণ করে আনন্দ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর এসেছে মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশ্বজনীন ঐক্য, সংহতি, সহমর্মিতা ও অনাবিল আনন্দের বার্তা নিয়ে।" ত্যাগ ও সংযমের শিক্ষা দিয়ে পবিত্র রমজান বিদায় নেওয়ার পর এই আনন্দের মাহেন্দ্রক্ষণে প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণের প্রতি ঈদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।

উৎসবের শুভকামনা জানিয়ে তিনি বলেন, "ঈদের আনন্দ পৌঁছে যাক প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি পরিবারে এবং প্রতিটি মানুষের কাছে।" রমজানের মহান আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে আরও বলেন, "আসুন, আমরা রমজানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হই এবং একে অপরের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিই।"


সম্প্রীতির বন্ধনে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই হোক ঈদের অঙ্গীকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাম্য ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই হোক আমাদের এবারের ঈদের অঙ্গীকার।

তিনি ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুক্রবার নিজ নির্বাচনী এলাকা কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনসহ সমগ্র দেশবাসীকে শুভেচ্ছা বার্তায় এ আহ্বান জানান।

তিনি দেশবাসীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করেন এবং সবাই যেন নিরাপদে ও আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারে- সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

শুভেচ্ছা বার্তায় মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর আনন্দ ও উৎসবের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য শিক্ষা দেয়।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ঈদের এই আনন্দ ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জীবনে অনাবিল সুখ ও শান্তি বয়ে আনবে।


দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (২০ মার্চ) দেওয়া এক বাণীতে ঈদের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবিক, উন্নত ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদুল ফিতর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুটি ধর্মীয় উৎসবের একটি। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযমের পর পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের জীবনে আনন্দ, শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে।’

পবিত্র রমজান মাস সংযম, ত্যাগ, খেদমত ও আত্মশুদ্ধির অনন্য শিক্ষা দেয় জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই এক মাসের সাধনা আমাদের আত্মসংযমী হতে এবং অন্যের কষ্ট অনুভব করতে শেখায়। এর মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব জাগ্রত হয়। রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে প্রতিফলিত করাই ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদ আমাদের ধনী-গরিব, ছোট-বড় সব ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই আনন্দের দিনে আমরা যেন সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াই এবং সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিই এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করুক এই প্রত্যাশা করি। আসুন, আমরা ঈদের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি মানবিক, উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিতভাবে কাজ করি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা ঈদের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি মানবিক, উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিতভাবে কাজ করি। আমি মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে প্রার্থনা করি- তিনি যেন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ, রহমত ও বরকত আমাদের সবার জীবনে বর্ষিত করেন।মহান আল্লাহ আমাদের দেশ ও জাতিকে শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যান এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ নিশ্চিত করুন।’


হজযাত্রীদের সেবায় ৬৬ সদস্যের প্রশাসনিক সহায়তাকারী দল গঠন

আপডেটেড ২০ মার্চ, ২০২৬ ১৪:২৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছর হজ উপলক্ষে সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সেবায় ৬৬ সদস্যের প্রশাসনিক সহায়তাকারী দল গঠন করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২২’(সংশোধিত)-এর বিধি ২৫ অনুযায়ী এ দল গঠন করে তাদের সৌদি আরব গমনাগমনে সরকারের সম্মতি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছে মন্ত্রণালয়।

হজযাত্রীদের সেবায় গঠিত এ দলে গাড়িচালক, অফিস সহায়ক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, গানম্যান, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, কম্পিউটার অপারেটর ও ফটোকপি অপারেটরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

দলে মোট ৯ জন গাড়িচালক রয়েছেন। তারা হলেন—মন্ত্রীর দপ্তরের মো. আলমগীর ও আক্তারুজ্জামান সরকার, সচিবের দপ্তরের মো. সাইদুল ইসলাম ও মো. টিটু মিয়া বেপারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (প্রেষণে হজ অনুবিভাগ) মো. মাসুদুর রহমান ও গোলাম মাওলা, হজ অফিসের মো. সালাহ উদ্দিন, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়ের মো. হাসান আলী এবং প্রশাসন শাখার মো. আবদুস সবুর বিশ্বাস।

এছাড়া দলে ২৫ জন অফিস সহায়ক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে আইন শাখার সম্রাট, সচিবের দপ্তরের মো. আনোয়ার হোসেন ও মো. সোহাগ, হজ-২ শাখার মো. রাশেদুল ইসলাম, সমন্বয় শাখার ইলিয়াছ আহমেদ ও মোছা. হাফিজা আক্তার, বাজেট ও অনুদান অনুবিভাগের মো. কামরুল হোসেন, প্রশাসন অনুবিভাগের তানিয়া আক্তার ও সাইয়্যিদা মারজিয়া রুবিনা, অনুদান শাখার পারুলী আক্তারী ও মনিরুল ইসলাম, উন্নয়ন অধিশাখার মো. নুরুল হুদা, হজ-১ শাখার মো. আশরাফুল ইসলাম, উপদেষ্টার দপ্তরের মো. অলিউল্লাহ, মো. আরমান হোসেন ও মাসুম বিল্লাল, হজ অনুবিভাগের কাজী জুয়েল মিয়া, পরিকল্পনা-১ শাখার সাদ্দাম বিশ্বাস, প্রশাসন-১ শাখার মনির হোসেন, আইসিটি শাখার মুহাম্মদ রাশেদ মিয়াজি, হজ অধিশাখার সারোয়ার মাহমুদ, বাজেট শাখার শারমিন সুলতানা, হজ-৩ শাখার মো. আলমগীর হোসেন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংযুক্ত মো. টিপু সুলতান ও হজ অফিস ঢাকার হাবিবুর রহমান রয়েছেন।

দলে দুইজন গানম্যান (বন্দুকধারী) রয়েছেন। তারা হলেন— সচিবের দপ্তরের মো. আব্দুল হাকিম এবং মন্ত্রীর দপ্তরের মো. আবুল কাশেম।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতি বছর হজযাত্রীদের সেবায় প্রশাসনিক দল, প্রশাসনিক সহায়তাকারী দল ও কারিগরি দল গঠন করে সরকারি ব্যয়ে সদস্যদের সৌদি আরবে পাঠিয়ে থাকে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এ বছরের হজ ফ্লাইট শুরু হবে ১৮ এপ্রিল থেকে।

তবে প্রতি বছরই বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ে এ ধরনের দল পাঠানো হলেও অনেক সময় সদস্যদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ হজযাত্রীদের সেবার পরিবর্তে ব্যক্তিগত কাজে বা ভ্রমণে ব্যস্ত থাকেন।

প্রায় প্রতিবছরই হজের সময় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সহায়তাকারী দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে।


আজ জুমাতুল বিদা, বিদায় নিচ্ছে রমজানও

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার হিসেবে আজ সারাদেশে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পবিত্র জুমাতুল বিদা পালিত হচ্ছে।

মাহে রমজানের শেষ জুমার দিনটি মুসলিম বিশ্বে জুমাতুল বিদা নামে পরিচিত। এই দিনের মধ্য দিয়েই বিদায়ের প্রহর গুনছে ১৪৪৭ হিজরি সনের মহিমান্বিত মাস রমজান।

শুক্রবার (২০ মার্চ) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ সারাদেশের বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা জুমার নামাজে অংশ নিচ্ছেন। নামাজের আগে খতিব ও আলেমগণ জুমাতুল বিদার তাৎপর্য তুলে ধরে খুতবা দিচ্ছেন।

জুমার নামাজ শেষে মসজিদগুলোতে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একইসঙ্গে পবিত্র রমজান মাসকে বিদায় জানিয়ে মুসল্লিরা বিশেষ দোয়া করছেন।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জুমাতুল বিদার সবচেয়ে বড় জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

মুসলমানদের কাছে সারা বছরের মধ্যে রমজান মাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জুমাতুল বিদার মাধ্যমে কার্যত রোজাকে বিদায় জানানো হয়। এ ছাড়া আজ শুক্রবার রমজানের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে।

এর পরদিন শনিবার সারা দেশে একযোগে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন দেশবাসী।


নেই যানজট, ঈদের আগের দিন যমুনা মহাসড়কে ফিরেছে স্বস্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদের আনন্দ পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরেছেন কয়েক কোটি মানুষ। আগামীকাল শনিবার সারা দেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

গত কয়েকদিন ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনাসেতু মহাসড়কে যানবাহনের অনেক চাপ ছিল। ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার রাস্তা পর্যন্ত যানজট ছিল। গাড়ি চলেছে থেমে থেমে, দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরেফেরা মানুষেরা।

কিন্তু আজ শুক্রবার ঈদুল ফিতরের ঠিক আগের দিনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নেই কোনো যানজট, গতি ফিরেছে রাস্তায়। স্বস্তিতে ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ।

গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে ৪৫ হাজার ৬১০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ২৭ লাখ ৪৬ হাজার ৮৫০ টাকা।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ হাজার ৬১০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাগামী ১৩ হাজার ৭১৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ ২১ হাজার ৬৫০ টাকা। অপরদিকে উত্তরবঙ্গগামী ৩১ হাজার ৮৯৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ২০ লাখ ২৫ হাজার ২শ টাকা।

সেতু কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, গত ৫ দিনে সেতুর ওপর দিয়ে মোট ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১৫ কোটি ৩২ লাখ ৯০ হাজার ৭০০ টাকা।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, গতকাল সেতুর ওপর বারবার গাড়ি বিকল হয়েছে। বিকল হওয়া গাড়িগুলো সরিয়ে নিতে একটু সময় লাগায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। গতকাল রাত সাড়ে ৮ টার পর থেকে যানবাহনের চাপ কমে যায়। আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত মহাসড়কে স্বাভাবিক গতিতেই যানবাহন চলাচল করছে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুহাম্মদ শরীফ বলেন, গতকাল রাত থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কমে যায়। এতে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে মানুষ। আজ সকাল পর্যন্ত মহাসড়কে স্বাভাবিক গতিতেই যানবাহন চলাচল করেছে।


ইরান থেকে আজারবাইজান হয়ে দেশে ফিরছেন ১৮৬ বাংলাদেশি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান থেকে ১৮৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে স্বদেশে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে সীমান্ত দিয়ে আজারবাইজানে নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার তারা আজারবাইজানে পৌঁছেছেন এবং আজ শুক্রবারের মধ্যেই তাদের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বাকুর হায়দার আলিয়েভ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে করে আটকে পড়া এই নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। এই পুরো কার্যক্রম তদারকি করতে তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হক বর্তমানে বাকুতে অবস্থান করছেন এবং তাকে সহায়তা করার জন্য ঢাকা থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই জন কর্মকর্তাও সেখানে গিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, গত বছরের জুনেও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির সময় একইভাবে ইরান সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তান হয়ে অনেক বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।


পদ্মা-যমুনা সেতুতে টোল ও যানবাহনে নতুন রেকর্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু দিয়ে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক যানবাহন পারাপার এবং সর্বোচ্চ টোল আদায়ের নতুন মাইলফলক অতিক্রম করা হয়েছে।

শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে এ বছর যাতায়াতের প্রথম তিন দিনে ১ লাখ ৯ হাজার ২৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮০২টি। ২০২৬ সালের প্রথম তিন দিনে মোট টোল আদায় হয়েছে ১২ কোটি ৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ১২ কোটি ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা।

একইভাবে যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ এক দিনে সর্বোচ্চ ৫১ হাজার ৩৮৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার ৩৬৮টি। ২০২৬ সালে এক দিনে সর্বোচ্চ টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ৩ কোটি ৪৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০ টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের তুলনায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও এ বছর বড় কোনো দুর্ঘটনা বা বড় ধরনের যানজট পরিলক্ষিত হয়নি। এই পরিসংখ্যান দেশের সড়ক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় সেতু কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা ও দক্ষতার প্রতিফলন।

এবার ঈদ উপলক্ষে সেতু বিভাগের পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু এলাকায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে টোল কালেক্টরদের প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনবল নিয়োগ, সার্বক্ষণিক টোল লেন চালু রাখা, মোটরসাইকেল লেন বৃদ্ধি, নন-স্টপ ইটিসি চালু, মাওয়া বাস-বে উন্মুক্তকরণ, সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক মনিটরিং জোরদার, উচ্চপর্যায়ের সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম গঠন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, যাত্রীদের জরুরি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, এলেঙ্গা বাস-বে উন্মুক্তকরণ, সেতুর প্রতি ৫০০ মিটার পরপর নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, কর্ণফুলী টানেল থেকে আনা একটি ভারী রেকারসহ মোট তিনটি রেকারের মাধ্যমে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, ইমার্জেন্সি টোল লেন চালু এবং ইফতার সামগ্রী বিতরণ।


ঈদের দিন সারা দেশে বৃষ্টির শঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনা শেষে শনিবার সারাদেশে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে যাচ্ছে, তবে উৎসবের এই দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শুক্রবার সকালে আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক এই আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, "ঈদের দিন সারাদেশে বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে। কোথাও হয়তো কম হবে আবার কোথায় বেশি তবে সারাদেশেই বৃষ্টির সম্ভবনা আছে। এছাড়াও এই বৃষ্টির সাধারণত ১ ঘণ্টার বেশি সময় স্থায়ী হবে না।" আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের দিন সকালে ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে এবং বেলা বাড়ার সাথে সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এর বিস্তার ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে ড. ওমর ফারুক আরও বলেন, "দেশের ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে সকালে বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে। তবে একটু বেলা বাড়ার সাথে সাথে চট্টগ্রাম, বরিশাল এবং সিলেটের দিকে বৃষ্টি হবে।" বৃষ্টির পাশাপাশি দেশের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতসহ বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

এছাড়া পরবর্তী ৫ দিনের পূর্বাভাসে ২১ মার্চ দেশের আটটি বিভাগের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে উপকূলীয় ও উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিশেষ সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে।


banner close