প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, জার্মানির মিউনিখে তার ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি আজ তাঁর মিউনিখ সফরের বিষয়ে রাজধানীর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।
তাঁর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ নিচে দেয়া হলো:
“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম। শুভ সকাল। গত ১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত ৬০তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন মূলতঃ রাষ্ট্র/সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, সরকারি এবং বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিগণের অংশগ্রহণ করেন। এটি সমকালীন ও ভবিষ্যত নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্চ-পর্যায়ের নিয়মিত আলোচনার একটি শীর্ষস্থানীয় ফোরাম হিসেবে বিবেচিত। এ বছরের ফোরামে ৩৫-জনেরও বেশী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান অংশগ্রহণ করেছেন।
বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দিতা এবং আঞ্চলিক সংঘাত, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নিউক্লিয়ার নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু নিরাপত্তা, তথ্য নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা, অভিবাসন, সাপ্লাই চেইন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মহামারি ইত্যাদি বিষয়ে এবারের ফোরামে আলোচনা করা হয়।
সফরের প্রথম দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি ‘ফ্রম পকেট টু প্লানেট: স্কেলিং আপ ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করি। এই আলোচনায় আমার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত মান্যবর জন কেরি, বারবাডোসের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মিয়া আমোর মটলে, এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোসা জামির।
প্যানেলটিতে উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে আমি বক্তব্য প্রদান করি। বক্তব্যের শুরুতেই আমি গাজা ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহ, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং নিরস্ত্র মানুষের, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের, অমানবিক হত্যার কবল থেকে মুক্ত করে সকল প্রকার যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার জোর আহ্বান জানাই। আর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা-নিষেধাজ্ঞার বিরূপ প্রভাব যে যুদ্ধক্ষেত্র থেকেও বহুদূর পর্যন্ত অনুভূত হয়, এ বিষয়ে আমি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। এ প্রসঙ্গে আমি অর্থহীন অস্ত্র-প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় রসদ ও অর্থায়ন সহজলভ্য ও কার্যকর করার জন্য সকলকে অনুরোধ করি। মানবতার অস্তিত্বের সংটকালে ক্ষুদ্র স্বার্থ যে শুধু অনর্থই বয়ে আনে - এই রূঢ় বাস্তবতা আমি সকলের সামনে তুলে ধরি। আর তাই, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানাই।
আমি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার জন্য বিশ্বের সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বহুবিধ নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ও জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের পরিমাণ বৃদ্ধি, প্রতিশ্রুত অর্থের বাস্তবিক হস্তান্তর, ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিতকরার উপর আমি বিশেষভাবে জোর দেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় আমি ধনী দেশসমূহের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই।
এদিন আমার হোটেল স্যুইটে উইমেন পলিটিক্যাল লিডার্স (ডব্লিউপিএল)-এর সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মিসেস সিলভানা খক্ মেহরিন আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান এবং গত দেড় দশকে বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য আমাকে ডব্লিউপিএল-জি ট্রাইলব্লাজের এওয়ার্ড ২০২৩ গ্রহণের জন্য তিনি আমাকে আগামী ২০ মার্চ ২০২৪ তারিখ এথেন্সে অনুষ্ঠিতব্য ডব্লিউপিএল সামিট-এ অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। আলোচনায় আমি আমাদের সরকারের- বিশেষ করে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত নীতিসমূহের বিষয়ে আলোকপাত করলে এ বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বাংলাদেশের নীতি ও কার্যক্রমসমূহ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
একইদিন আমি কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোহাম্মদ বিন্ আব্দুলরাহ্মান আল-সানি-র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জ্ঞাপনের পাশাপাশি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, এলএনজি সরবারহ প্রভৃতির পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই ও দ্রুত সমাধানে কাতারের অব্যাহত সমর্থনের ব্যাপারে তিনি আশ্বস্ত করেন। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সহিংসতা বন্ধে একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও আমরা আলোচনা করি।
এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন নীতি ও অংশীদারিত্ব বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মান্যবর আক্সেল ভন ট্রটসেনবার্গ। বাংলাদেশে ও বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের অংশীদারিত্বের প্রেক্ষাপটে আমি মধ্যম আয়ের দেশভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবদানের আলোকে বর্তমান অর্থবছরে বাজেট সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংক হতে অঙ্গীকারকৃত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দ্রুত ছাড়ের আহ্বান জানাই। পাশাপাশি আমি জোরপূর্বক স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে এবং এই সমস্যার বিরূপ প্রভাবে আক্রান্ত দেশ হিসেবে বাংলাদশকে প্রদত্ত ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন সহায়তার জন্যও তাকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয় ও উচ্চ-আয়ের দেশের পর্যায়ে উত্তীর্ণ হবার কাঙ্ক্ষিত পথে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেন।
একই দিনে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মান্যবর ডক্টর টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসাস আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে-বিশেষ করে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আসন্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশে আমাকে আমন্ত্রণ জানান এবং বিশ্বের বাকি দেশসমূহকে বাংলাদেশের কম্যুনিটি ক্লিনিক মডেল অনুসরণ করার বিষয়ে অনুপ্রাণিত করার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন।
আলোচনাকালে আমি বর্তমান সরকারের সেকেন্ডারি ও টার্শিয়ারি স্বাস্থ্যসেবা, টীকা উৎপাদন, এন্টি-মাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ, নার্সিং ও অন্যান্য স্বাস্থ্যখাতে মানব সম্পদ উন্নয়ন ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের কথা উল্লেখ করে এতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তা আশা করি। এ বিষয়ে মহাপরিচালক আমাকে আশ্বস্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক অতিমারি চুক্তি-এর দ্রুত সমাপনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমর্থন কামনা করেন।
এইদিন আমার সঙ্গে আরও সাক্ষাৎ করেন মেটা-জি গ্লোবাল এফেয়ার্স এর প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী স্যার নিক্ ক্লেগ্। তিনিও আমাকে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতের উন্নয়ন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্র সুবিস্তারে সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রংসা করেন তিনি। আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনে আমাদের সফলতা তুলে ধরি এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ ও তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে মেটা-এর সহযোগিতা আশা করি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে বিভিন্ন মেটা প্ল্যাটফর্ম যেমন ফেইসবুক, হোয়াটস্অ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম প্রভৃতির ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারির সুউচ্চ সংখ্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি বাংলাদেশে মেটা-এর একটি কার্যালয় স্থাপনের পরামর্শ দিই।
প্রথম দিন আমি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মেটে ফ্রেডরিক্সেন-এর সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমাকে ও আমাদের নবগঠিত সরকারকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানোর জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আলোচনাকালে বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আইসিটি খাতে ড্যানিশ কোম্পানিসমূহের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের পাশাপাশি তিনি বিরাজমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকারের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকার বিষয়েও আমাকে আশ্বস্ত করেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মার্ক রুটে আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। আলোচনাকালে আমরা দু’জনই বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতসমূহে জ্ঞান-প্রযুক্তি-উদ্ভাবন বিস্তারে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও গভীরতর করার বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।
একইদিন সকালে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী মান্যবর ডক্টর এস. জয়শংকর। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। সাক্ষাৎকালে আমরা উভয়ই দুই বন্ধু-রাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং দু’দেশের বাণিজ্য নিজস্ব মুদ্রায় পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত পোষণ করি। তিনি আগামী এপ্রিল/মে মাসে ভারতীয় সাধারণ নির্বাচন পরবর্তীকালে দু’দেশের নতুন সরকারের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত পঞ্চ-বার্ষিক সহযোগিতা বিষয়ক রোডম্যাপ প্রণয়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে আমরা মায়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিষয়েও পারস্পরিক মতবিনিময় করি।
এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাইট অনারেবল্ লর্ড ক্যামেরন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রেরিত শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এসময় আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান চলাচল অংশীদারিত্ব, অভিবাসন, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ এবং মায়ানমার ও লোহিত সাগরে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করি।
একই দিনে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন জার্মান আর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রী মান্যবর সভেনিয়া শুলৎজা। আলোচনাকালে আমরা ইইউ-এর জিএসপি+ বাণিজ্য সুবিধাসহ পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জার্মান বিনিয়োগ এবং সার্বিক জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বর্ধিতকরণের বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।
এইদিন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ভ্লাদিমীর জেলেন্স্কি আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে আমরা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং গম, ভোজ্যতেল ও অন্যান্য কৃষিপণ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করি। আমি তাঁকে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের দ্রুত সমাধানের কার্যকর উপায় অন্বেষণের অনুরোধ করি। এছাড়াও আমরা গাজা উপত্যকায় সংঘাতের বিষয়ে মতবিনিময় করি।
এরপর আমি আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ইল্হাম আলিইয়্যেভ-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমরা পরস্পর পরস্পরকে পঞ্চমবারের মতো পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানাই। আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করি। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে নেতৃত্বদানের জন্য আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি আমাকে ধন্যবাদ দেন এবং এবছর নভেম্বরে বাকু-তে অনুষ্ঠিতব্য কপ২৯-এ যোগদানের জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানান। আলোচনাকালে আমরা উভয়ই জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা প্রভৃতি বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি।
এদিন আমি জার্মান চ্যান্সেলর মান্যবর ওলাফ শোলজ্-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বৈঠককালে আমরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও হাইড্রোজেন প্রযুক্তি এবং দক্ষ অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করি। এছাড়াও, আমরা ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গে মতবিনিময় করি এবং এসকল সংঘাত দ্রুত অবসানের বিষয়ে কার্যকর উপায় অন্বেষণের জন্য আমি তাঁকে অনুরোধ করি।
এছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি জার্মান আওয়ামী লীগ আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনা সভায় যোগদান করি এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি আমি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করি।
মিউনিখে আমার এই ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। দেশের আকার নয় বরং নীতির শক্তিতেই যে মানবতার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক মুক্তি, এবারের সম্মেলনে আমি এই বার্তাই বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছি। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমূহের মাধ্যমে বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাথে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আরও দৃঢ় হয়েছে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে।
আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”
পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের ৫৬ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার ৭ জন এবং বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ৪৯ জন পুলিশ পরিদর্শক রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বাক্ষর করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর ৪৫ ধারার বিশেষ বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে এই কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো হয়েছে। এএসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন র্যাব সদর দপ্তরের নূরে আলম সিদ্দিকী, ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের সহকারী কমিশনার মো. নুরুল মোত্তাকিন, খাগড়াছড়ির কাজী ওয়াজেদ আলী, পটুয়াখালীর মো. সৈয়দুজ্জামান, র্যাব-২-এর মো. গোলাম কিবরীয়া, ঢাকার আরআরএফের মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং সিরাজগঞ্জের মো. রবিউল ইসলাম।
অন্যদিকে, ৪৯ জন পুলিশ পরিদর্শকের ক্ষেত্রে জানানো হয়েছে যে, তাঁদের চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় একই আইনের ক্ষমতাবলে তাঁদের অবসরে দেওয়া হলো। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বাধ্যতামূলক অবসরে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিধিমোতাবেক তাঁদের সকল অবসরকালীন ও আর্থিক সুবিধা প্রাপ্য হবেন। প্রশাসনের গতিশীলতা আনয়ন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই জনস্বার্থে এই গণহারে অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কোনো নিয়ম রক্ষার নির্বাচন নয়। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনে বিএনপি ও দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের পর গণমাধ্যমকে ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, সরকারের মন্ত্রী, জাতীয় সংসদের হুইপবৃন্দ এবং সংসদ সদস্যগণ উপস্তিত ছিলেন।
চিফ হুইপ জানান, আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং আজ তার মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সমর্থক হিসেবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় স্বাক্ষর করেছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
চিফ হুইপ বলেন, ‘গণতন্ত্রের বিউটি বা সৌন্দর্য হলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিরোধী দলীয় জোট থেকে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে। আমরা একে স্বাগত জানাই।’
তিনি বলেন, এটি কোনো ‘নিয়ম রক্ষার নির্বাচন’ নয়। সংবিধান এবং আরপিও অনুযায়ী একটি নির্বাচন যেভাবে হওয়ার কথা, ঠিক সেভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনের পর একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সংসদ দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, সরকার ‘জুলাই সনদের’ প্রতিটি অক্ষর, দাড়ি, কমা ও সেমিকোলন বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংবিধান নতুন করে লেখার প্রয়োজন নেই; প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমেই সংবিধান সংস্কার করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা একটি কমাও যদি পরিবর্তন করি, সেটাই হবে সংস্কার। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী সংবিধান নিশ্চিত করতে আমরা সকলের মতামত নিয়েই কাজ করতে চাই।’
চিফ হুইপ বলেন, সংবিধান সংস্কার কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়; বরং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি কার্যকর, টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী সাংবিধানিক কাঠামো নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আমেরিকান বিনিয়োগকারীদের সরকারি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন এক্সিলারেট এনার্জির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছয় মাসের এই দূরদর্শী সরকার চায়, মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক এবং তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করুক। আমরা আপনাদের পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানাই।’
বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সরকার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, ব্যবসাবান্ধব বাজেট এবং উদার অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ব্যবসাবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো বেসরকারি খাতনির্ভর একটি নিয়মভিত্তিক ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত অর্থনীতি গড়ে তোলা। আমরা চাই, এই রূপান্তরে মার্কিন ব্যবসাগুলো আমাদের অংশীদার হোক।’
জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, অর্থ, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন ও লজিস্টিকস খাতে মার্কিন ব্যবসার জন্য বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সহজীকরণ, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নতি, মুনাফা প্রত্যাবাসন সহজ করা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশনে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অবকাঠামো, বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তারও উন্নতি করছি। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছি।’
সফররত মার্কিন ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমার বার্তা খুবই সহজ। সরকার বাংলাদেশে তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের বিষয়ে শুনতে, সাড়া দিতে এবং সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আপনারা পুরো সরকারকেই আপনাদের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করুন। আমরা আপনাদের কথা শুনতে, সাড়া দিতে এবং সহযোগিতা করতে এখানে আছি।’
সরাসরি বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ, সরকারি–বেসরকারি অংশীদারত্ব ও পরামর্শক সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ও পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়।’
তারেক রহমান বলেন, সরকার দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের রপ্তানি–আমদানি সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করছে। একই সঙ্গে দুই দেশের অভিন্ন বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অগ্রাধিকার খাতে লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা এবং দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’ মার্কিন বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য শুধু বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা নয়; বরং একটি দীর্ঘস্থায়ী ও পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি নিজেও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য সঠিক নীতি ও অনুকূল পরিবেশের গুরুত্ব তিনি বোঝেন।
সফররত ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমার বার্তা খুবই সহজ। সরকার বাংলাদেশে তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের বিষয়ে শুনতে, সাড়া দিতে এবং সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আপনারা পুরো সরকারকেই আপনাদের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করুন। আমরা আপনাদের কথা শুনতে, সাড়া দিতে এবং সহযোগিতা করতে এখানে আছি।’
মার্কিন কোম্পানিগুলোকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ ও দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে সহায়তা করবে।’ তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা একসঙ্গে প্রবৃদ্ধি অর্জন করি এবং একটি সমৃদ্ধ, প্রতিযোগিতামূলক ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’
প্রতিনিধিদলটি এর আগে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ নিয়ে কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এসব বৈঠক বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকার ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা সম্পর্কে সফররত ব্যবসায়ী নেতাদের আরও স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে বলে আশা করছেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের সবার সফল সফর কামনা করছি। আর এ জন্য আমার সরকার সব ধরনের সম্ভাব্য সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।’
ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন মাস্টারকার্ডের গ্লোবাল পাবলিক পলিসি ও ইন্দো–প্যাসিফিক পলিসি অপারেশনসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রবি অরোরা, মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা, মেটার দক্ষিণ এশিয়ার পাবলিক পলিসি পরিচালক চা ইউয়েন টিং, মেটা বাংলাদেশের হেড অব পাবলিক পলিসি রুজান সারওয়ার, ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক নির্বাহী পরিচালক কেভিন রোপকে, ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের বাংলাদেশ কান্ট্রি টিম লিড খবিবুর রহমান, ভিসার ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান আনন্দ বিজয় ঝা এবং ভিসার বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ।
বৈঠকে বক্তব্য দেন বোয়িংয়ের দক্ষিণ এশিয়া ও ভারতের প্রেসিডেন্ট এবং বোয়িং গ্লোবালের ভাইস প্রেসিডেন্ট সলিল গুপ্তে, শেভরন বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রেসিডেন্ট শু শিয়ং, মেটলাইফের বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, নেপাল ও ভিয়েতনাম অঞ্চলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এলেনা বুতারোভা, উবারের এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলের পাবলিক পলিসি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট রিলেশনস বিভাগের প্রধান পিয়া ব্রুনার এবং ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাহী পরিচালক সিদ্ধান্ত মেহরা।
এ ছাড়া প্রতিনিধিদলে ছিলেন ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ডিরেক্টর প্যাট্রিক পিটস, ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক পরিচালক উদয়া অরুণ, ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের পরিচালক দেবী চ্যাটার্জি ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সিকিউরিটি কনসালট্যান্ট শেমেই লেভি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব–২ মো. মেহেদুল ইসলাম, উপপ্রেস সচিব–১ জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের মনোনীত স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. আইরিন জুবাইদা খান। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রীর নিজ দপ্তরে তারা সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান ও অর্জনসমূহ যথাযথভাবে উপস্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগদান উপলক্ষে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের কার্যক্রম ও প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কর্মসূচি যথাযথভাবে তুলে ধরার বিষয়টি আলোচনায় স্থান পায়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সফরের মিডিয়া ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরা এবং বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপনের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
ড. আইরিন খান বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার ক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেন। এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
সাক্ষাৎকালে উভয়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়াকে বড়ো চ্যালেঞ্জ ও উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেন।
এ ধরনের অপপ্রচার মোকাবিলায় কার্যকর যোগাযোগ কৌশল, দ্রুত তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা, সঠিক তথ্য তুলে ধরা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে করণীয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। তথ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের গৃহীত কার্যক্রমসমূহ তুলে ধরেন।
তিনি অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কার্যকর মোকাবিলায় সরকার, গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিলের পর তিনি বলেন, ‘একটা সংবিধান একদিনের জন্য পরিবর্তন হয় না। অনেক দিনের জন্য পরিবর্তন হবে। আমরা সংবিধান নতুন করে লিখব না। আমরা একটা কমাও যদি পরিবর্তন করি, সেটাই হবে সংবিধানের সংস্কার। একটা কমা পরিবর্তন করলে যদি সংস্কারই হয়, প্রত্যেকটা শব্দই সংস্কার আমরা যদি পরিবর্তন করি। আর কাজটাই হবে সংশোধনের কাজ। সেই সংশোধনের জন্য সকলকে আহ্বান করেছি। সংশোধনের জন্য আমরা সবাই বসব।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে বিএনপির পক্ষে তিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, গণভোটের সাথে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। পর্যায়ক্রমে সংসদের মধ্যে গণভোট প্রতিফলিত হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটা আলাদা বিষয়। নিয়ম রক্ষার কথাটি সঠিক নয়।
তিনি বলেন, ‘তাদেরকে স্বাগত জানাই, অভিনন্দন জানাই। যে তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান না করে অংশগ্রহণ করছে। এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। সুতরাং এটা কোনোমতেই নিয়ম রক্ষার নির্বাচন নয়। এটা সংবিধান এবং আরপিও সমন্বয়ে যেটা হওয়া উচিত সেটি হচ্ছে।’
চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, আমাদের দলের পক্ষ থেকে আজকে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সমর্থক স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় জোট থেকে মনোনীত হয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আগামী ২০ আগস্ট নির্বাচিত করতে চাই।
চিফ হুইপ বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দার্য হল আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি, নির্বাচন করছি। ১৭ বছর আন্দোলন করে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ গঠন করেছি। সংসদে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০ আগস্ট আমাদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে। বাংলাদেশের স্থান এবং গুরুত্ব সবার আগে দিয়ে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। জমা পড়া আবেদনগুলোর মধ্যে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের দুটি এবং বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি মনোনয়নপত্র রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সচিব জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী ঘোষিত তফসিলের ধারাবাহিকতায় নির্ধারিত সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে এসব মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন, ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের দুটি ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটিসহ মোট তিনটি মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনের হস্তগত হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ইসিতে জমা দেন জোটের প্রতিনিধিরা। পরবর্তীতে বেলা আড়াইটার দিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন তাদের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
আগামী ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আখতার আহমেদ। এই কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে একজন কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন।
১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই পর্ব সমাপ্ত হওয়ার পর চূড়ান্ত পরিস্থিতি ও বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা অর্থাৎ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে বিএনপির পক্ষে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল তার মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।
এরআগে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনয়নের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে সেই প্রস্তাব অনুমোদন করেন।
বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের বৈঠক কক্ষে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গত ৯ আগস্ট রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
এর আগে গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’-এর ৫(৩) ধারা অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এই সময়সূচি চূড়ান্ত করেছেন।
তিনি জানান, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আখতার আহমেদ বলেন, ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
সূত্র : বাসস
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ (বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট) দুপুরে বিএনপির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। ইতোমধ্যে তিনি দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়। তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
তফসিল অনুযায়ী, ভোট গ্রহণ হবে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে। আজ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এখন পর্যন্ত ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট।
দেশের কৃষি ও শিল্প খাতের চাহিদা মেটাতে সৌদি আরব ও মরক্কো থেকে মোট ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। তিন পৃথক লটের এই সার কিনতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯০৩ কোটি টাকা (৯০২ কোটি ৭৩ লাখ ৯১ হাজার ৯৯০ টাকা)।
বুধবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সার আমদানির এই তিন প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করা হয়।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে প্রথম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রস্তাবিত এই ইউরিয়া আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২০৯ কোটি ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৮৬০ টাকা, যেখানে প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম পড়ছে ৪২১.৬৭ মার্কিন ডলার।
অবশিষ্ট ৭০ হাজার মেট্রিক টন সার আনা হচ্ছে মরক্কো থেকে জিটুজি (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায়। চুক্তি অনুযায়ী মরক্কোর ওসিপি নিউট্রিক্রপস এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যবর্তী তৃতীয় লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন পাওয়া গেছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের এই প্রস্তাবে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৪১ কোটি ৯১ লাখ ১৬ হাজার ৫২০ টাকা, যেখানে প্রতি মেট্রিক টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৯১.৬৭ মার্কিন ডলার।
একই চুক্তির আওতায় চতুর্থ লটে আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন লাভ করে, যার ক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে ২৫১ কোটি ৭৬ লাখ ৩৫ হাজার ৬১০ টাকা এবং প্রতি মেট্রিক টনের দাম রাখা হয়েছে ৬৭৭.৩৩ মার্কিন ডলার।
পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এমপি বলেছেন, বিএনপির নেতৃত্বে ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শরিক দলের মধ্যে বাম ঐক্যের অসামান্য ভূমিকা ছিলো। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী দল গুলোর মধ্যে ঐক্য প্রয়োজন।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে স্বাধীনতা বিরোধীদের গণতন্ত্র নস্যাতের হুমকি মোকাবেলায় দেশপ্রেমিক যুগপৎ আন্দোলনে রাজনৈতিক দলসমূহের করণীয় বিষয়ে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদউদ্দিন চৌধুরী বিরোধী দলের উদ্দেশ্য বলেন, সরকার দায়িত্ব নিয়েছে এখনো ছয় মাসও হয়নি। একটি সরকারকে মূল্যায়নের জন্য সময় দিতে হয়, তারা এখনি সরকার উৎখাত করে ক্ষমতায় বসতে চায়।
তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বরে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দেশে আসার পথ যারা তৈরি করতে চায় এর দায়-দায়িত্ব তাদের নিতে হবে। এদেশের জনগণ রাজপথে থেকে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেছে। সামনের দিনে রাজপথ থেকেই যেকোন ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ও সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক খান মো. নুরে আলম।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। ছবি: মন্ত্রণালয়
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ঢাকায় সফররত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অতুল কেশাপের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হয়। এ সময় তারা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় অতিক্রম করছে এবং নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।’
প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে কবির বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বহুমাত্রিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো হলে দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হবে।
বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা এবং সম্ভাবনাময় খাতগুলোর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দুই পক্ষ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে।
এছাড়া শিল্প ও অবকাঠামো, জ্বালানি, প্রযুক্তি, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে মার্কিন বিনিয়োগ ও সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও মতবিনিময় হয়।
কেশাপ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ব্যবসায়িক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের আগ্রহের কথাও জানান।
দুই পক্ষই দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশি ও মার্কিন ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পৃক্ততা ও অংশীদারত্ব গভীর করার গুরুত্বের ওপর জোর দেয়।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মনজুর আলম প্রধানকে বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রশাসন-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়।
সিনিয়র সহকারী সচিব মিল্টন রায় সই করা আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিপিসির দাপ্তরিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের সুবিধার্থে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মনজুর আলম প্রধানকে তার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে বিপিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আদেশে আরো উল্লেখ করা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।
এর আগে, গত ২ আগস্ট জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জিয়াউল হককে বিপিসির চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
এরপর গত ৬ আগস্ট জিয়াউল হককে পদোন্নতি দিয়ে একই বিভাগের সচিব করা হয়। ফলে বিপিসির চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য হয়ে যায়।
এর আগে গত ২৬ জুলাই বিপিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমানকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে থাইল্যান্ড। দেশটির বিভিন্ন খাতে কর্মী সংকট মোকাবেলায় দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে থাইল্যান্ডের একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় উঠে আসে। মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে স্বচ্ছ ও কম খরচে কর্মী নিয়োগ, কর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, ভিসা এবং মানবপাচারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৪তম বার্ষিকী উদযাপন একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরিতে থাইল্যান্ডের উদ্যোগকে বাংলাদেশ গভীরভাবে প্রশংসা করে।
নৈতিক ও দায়িত্বশীল শ্রমিক নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, নিয়োগের প্রাথমিক ব্যয় নিয়োগকর্তাকে বহন করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় ভাষায় প্রমিত কর্মসংস্থান চুক্তি, ন্যায্য মজুরি, আবাসন, চিকিৎসা বীমা ও কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকতে হবে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, থাইল্যান্ডের দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন রয়েছে, আর বাংলাদেশের রয়েছে বিপুল জনশক্তি। তিনি সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার জন্য থাই প্রতিনিধি দলকে আহ্বান জানান।
মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, থাইল্যান্ডে ‘ব্লু কলার’ চাকরির পাশাপাশি ‘হোয়াইট কলার’ চাকরির জন্যও বাংলাদেশে উপযুক্ত কর্মী রয়েছে। সাংস্কৃতিক ও আবহাওয়াগত দিক বিবেচনায় থাইল্যান্ড বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উপযুক্ত গন্তব্য হতে পারে। তবে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া, কম খরচে কর্মী পাঠানো এবং কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করতে দুই দেশকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।
থাইল্যান্ডের শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান নিতরুত্তি সুথিনন বলেন, থাইল্যান্ড বর্তমানে কর্মী নিয়োগের জন্য চারটি দেশের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। তবে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার কারণে দেশটির নির্মাণ, হালাল ফ্যাক্টরি ও কৃষি খাতে কর্মী নেওয়া বন্ধ রয়েছে। ফলে সৃষ্ট কর্মী সংকট মোকাবিলায় পঞ্চম দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী থাইল্যান্ড।
তবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান, থাইল্যান্ডকে অন্য দেশে যাওয়ার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার এবং মানবপাচারের মতো বিষয় নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান থাই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
থাই প্রতিনিধি দলের প্রস্তাব স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, থাইল্যান্ডের উত্থাপিত উদ্বেগগুলো দ্রুত সমাধান করে অচিরেই দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন।
বৈঠকে থাইল্যান্ডের শ্রম বিষয়ক সিনেট স্ট্যান্ডিং কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান চিনাচট সেনস্যাঙ্ক, শ্রম বিষয়ক ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ড. পিরাসিথ কুনলার্তারিপনসহ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক, যুগ্মসচিব দেবজিৎ সিংহসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং এম এম এইচ গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক মো. মেহেদী সারওয়ার উপস্থিত ছিলেন।