বুধবার, ৬ মে ২০২৬
২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

মিউনিখ সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১১:৫৭
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১১:৫৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, জার্মানির মিউনিখে তার ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আজ তাঁর মিউনিখ সফরের বিষয়ে রাজধানীর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।

তাঁর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ নিচে দেয়া হলো:

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

আসসালামু আলাইকুম। শুভ সকাল। গত ১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত ৬০তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন মূলতঃ রাষ্ট্র/সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, সরকারি এবং বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিগণের অংশগ্রহণ করেন। এটি সমকালীন ও ভবিষ্যত নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্চ-পর্যায়ের নিয়মিত আলোচনার একটি শীর্ষস্থানীয় ফোরাম হিসেবে বিবেচিত। এ বছরের ফোরামে ৩৫-জনেরও বেশী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান অংশগ্রহণ করেছেন।

বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দিতা এবং আঞ্চলিক সংঘাত, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নিউক্লিয়ার নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু নিরাপত্তা, তথ্য নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা, অভিবাসন, সাপ্লাই চেইন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মহামারি ইত্যাদি বিষয়ে এবারের ফোরামে আলোচনা করা হয়।

সফরের প্রথম দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি ‘ফ্রম পকেট টু প্লানেট: স্কেলিং আপ ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করি। এই আলোচনায় আমার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত মান্যবর জন কেরি, বারবাডোসের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মিয়া আমোর মটলে, এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোসা জামির।

প্যানেলটিতে উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে আমি বক্তব্য প্রদান করি। বক্তব্যের শুরুতেই আমি গাজা ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহ, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং নিরস্ত্র মানুষের, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের, অমানবিক হত্যার কবল থেকে মুক্ত করে সকল প্রকার যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার জোর আহ্বান জানাই। আর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা-নিষেধাজ্ঞার বিরূপ প্রভাব যে যুদ্ধক্ষেত্র থেকেও বহুদূর পর্যন্ত অনুভূত হয়, এ বিষয়ে আমি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। এ প্রসঙ্গে আমি অর্থহীন অস্ত্র-প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় রসদ ও অর্থায়ন সহজলভ্য ও কার্যকর করার জন্য সকলকে অনুরোধ করি। মানবতার অস্তিত্বের সংটকালে ক্ষুদ্র স্বার্থ যে শুধু অনর্থই বয়ে আনে - এই রূঢ় বাস্তবতা আমি সকলের সামনে তুলে ধরি। আর তাই, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানাই।

আমি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার জন্য বিশ্বের সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বহুবিধ নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ও জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের পরিমাণ বৃদ্ধি, প্রতিশ্রুত অর্থের বাস্তবিক হস্তান্তর, ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিতকরার উপর আমি বিশেষভাবে জোর দেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় আমি ধনী দেশসমূহের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই।

এদিন আমার হোটেল স্যুইটে উইমেন পলিটিক্যাল লিডার্স (ডব্লিউপিএল)-এর সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মিসেস সিলভানা খক্ মেহরিন আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান এবং গত দেড় দশকে বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য আমাকে ডব্লিউপিএল-জি ট্রাইলব্লাজের এওয়ার্ড ২০২৩ গ্রহণের জন্য তিনি আমাকে আগামী ২০ মার্চ ২০২৪ তারিখ এথেন্সে অনুষ্ঠিতব্য ডব্লিউপিএল সামিট-এ অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। আলোচনায় আমি আমাদের সরকারের- বিশেষ করে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত নীতিসমূহের বিষয়ে আলোকপাত করলে এ বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বাংলাদেশের নীতি ও কার্যক্রমসমূহ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একইদিন আমি কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোহাম্মদ বিন্ আব্দুলরাহ্মান আল-সানি-র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জ্ঞাপনের পাশাপাশি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, এলএনজি সরবারহ প্রভৃতির পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই ও দ্রুত সমাধানে কাতারের অব্যাহত সমর্থনের ব্যাপারে তিনি আশ্বস্ত করেন। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সহিংসতা বন্ধে একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও আমরা আলোচনা করি।

এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন নীতি ও অংশীদারিত্ব বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মান্যবর আক্সেল ভন ট্রটসেনবার্গ। বাংলাদেশে ও বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের অংশীদারিত্বের প্রেক্ষাপটে আমি মধ্যম আয়ের দেশভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবদানের আলোকে বর্তমান অর্থবছরে বাজেট সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংক হতে অঙ্গীকারকৃত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দ্রুত ছাড়ের আহ্বান জানাই। পাশাপাশি আমি জোরপূর্বক স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে এবং এই সমস্যার বিরূপ প্রভাবে আক্রান্ত দেশ হিসেবে বাংলাদশকে প্রদত্ত ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন সহায়তার জন্যও তাকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয় ও উচ্চ-আয়ের দেশের পর্যায়ে উত্তীর্ণ হবার কাঙ্ক্ষিত পথে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেন।

একই দিনে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মান্যবর ডক্টর টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসাস আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে-বিশেষ করে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আসন্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশে আমাকে আমন্ত্রণ জানান এবং বিশ্বের বাকি দেশসমূহকে বাংলাদেশের কম্যুনিটি ক্লিনিক মডেল অনুসরণ করার বিষয়ে অনুপ্রাণিত করার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন।

আলোচনাকালে আমি বর্তমান সরকারের সেকেন্ডারি ও টার্শিয়ারি স্বাস্থ্যসেবা, টীকা উৎপাদন, এন্টি-মাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ, নার্সিং ও অন্যান্য স্বাস্থ্যখাতে মানব সম্পদ উন্নয়ন ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের কথা উল্লেখ করে এতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তা আশা করি। এ বিষয়ে মহাপরিচালক আমাকে আশ্বস্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক অতিমারি চুক্তি-এর দ্রুত সমাপনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমর্থন কামনা করেন।

এইদিন আমার সঙ্গে আরও সাক্ষাৎ করেন মেটা-জি গ্লোবাল এফেয়ার্স এর প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী স্যার নিক্ ক্লেগ্। তিনিও আমাকে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতের উন্নয়ন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্র সুবিস্তারে সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রংসা করেন তিনি। আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনে আমাদের সফলতা তুলে ধরি এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ ও তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে মেটা-এর সহযোগিতা আশা করি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে বিভিন্ন মেটা প্ল্যাটফর্ম যেমন ফেইসবুক, হোয়াটস্অ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম প্রভৃতির ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারির সুউচ্চ সংখ্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি বাংলাদেশে মেটা-এর একটি কার্যালয় স্থাপনের পরামর্শ দিই।

প্রথম দিন আমি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মেটে ফ্রেডরিক্সেন-এর সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমাকে ও আমাদের নবগঠিত সরকারকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানোর জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আলোচনাকালে বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আইসিটি খাতে ড্যানিশ কোম্পানিসমূহের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের পাশাপাশি তিনি বিরাজমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকারের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকার বিষয়েও আমাকে আশ্বস্ত করেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মার্ক রুটে আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। আলোচনাকালে আমরা দু’জনই বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতসমূহে জ্ঞান-প্রযুক্তি-উদ্ভাবন বিস্তারে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও গভীরতর করার বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।

একইদিন সকালে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী মান্যবর ডক্টর এস. জয়শংকর। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। সাক্ষাৎকালে আমরা উভয়ই দুই বন্ধু-রাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং দু’দেশের বাণিজ্য নিজস্ব মুদ্রায় পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত পোষণ করি। তিনি আগামী এপ্রিল/মে মাসে ভারতীয় সাধারণ নির্বাচন পরবর্তীকালে দু’দেশের নতুন সরকারের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত পঞ্চ-বার্ষিক সহযোগিতা বিষয়ক রোডম্যাপ প্রণয়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে আমরা মায়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিষয়েও পারস্পরিক মতবিনিময় করি।

এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাইট অনারেবল্ লর্ড ক্যামেরন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রেরিত শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এসময় আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান চলাচল অংশীদারিত্ব, অভিবাসন, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ এবং মায়ানমার ও লোহিত সাগরে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করি।

একই দিনে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন জার্মান আর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রী মান্যবর সভেনিয়া শুলৎজা। আলোচনাকালে আমরা ইইউ-এর জিএসপি+ বাণিজ্য সুবিধাসহ পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জার্মান বিনিয়োগ এবং সার্বিক জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বর্ধিতকরণের বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।

এইদিন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ভ্লাদিমীর জেলেন্স্কি আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে আমরা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং গম, ভোজ্যতেল ও অন্যান্য কৃষিপণ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করি। আমি তাঁকে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের দ্রুত সমাধানের কার্যকর উপায় অন্বেষণের অনুরোধ করি। এছাড়াও আমরা গাজা উপত্যকায় সংঘাতের বিষয়ে মতবিনিময় করি।

এরপর আমি আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ইল্হাম আলিইয়্যেভ-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমরা পরস্পর পরস্পরকে পঞ্চমবারের মতো পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানাই। আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করি। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে নেতৃত্বদানের জন্য আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি আমাকে ধন্যবাদ দেন এবং এবছর নভেম্বরে বাকু-তে অনুষ্ঠিতব্য কপ২৯-এ যোগদানের জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানান। আলোচনাকালে আমরা উভয়ই জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা প্রভৃতি বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি।

এদিন আমি জার্মান চ্যান্সেলর মান্যবর ওলাফ শোলজ্-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বৈঠককালে আমরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও হাইড্রোজেন প্রযুক্তি এবং দক্ষ অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করি। এছাড়াও, আমরা ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গে মতবিনিময় করি এবং এসকল সংঘাত দ্রুত অবসানের বিষয়ে কার্যকর উপায় অন্বেষণের জন্য আমি তাঁকে অনুরোধ করি।

এছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি জার্মান আওয়ামী লীগ আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনা সভায় যোগদান করি এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি আমি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করি।

মিউনিখে আমার এই ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। দেশের আকার নয় বরং নীতির শক্তিতেই যে মানবতার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক মুক্তি, এবারের সম্মেলনে আমি এই বার্তাই বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছি। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমূহের মাধ্যমে বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাথে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আরও দৃঢ় হয়েছে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে।

আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া চুক্তির সুফল কাজে লাগিয়ে অর্থনীতি এগিয়ে নিতে চায় সরকার: অর্থ উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তির সুফল কাজে লাগিয়ে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ কথা বলেন।

বুধবার (৬ মে) সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সরকার এই চুক্তি বাতিলের পথে না গিয়ে এর প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই এগোতে চায়। একই সঙ্গে এই কাঠামোর অধীনেই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তবে জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কোনো বিষয় থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ সব সময় খোলা থাকবে বলেও জানান তিনি।

ড. তিতুমীর বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা কাজে লাগানো হবে। বিশেষ করে ওষুধ শিল্পে রপ্তানি বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কোনো একক রাষ্ট্রের সঙ্গে একচেটিয়া সম্পর্কের পক্ষপাতী নয়; বরং সবার সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।’

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ সব বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।


বাংলাদেশ হবে বিশ্বের সেরা এডুকেশন হাব: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যতম সেরা এডুকেশন হাবে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা, ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে যৌথ কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মেধা, সম্পদ এবং প্রয়োজনীয় কর্মসূচি রয়েছে যা এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তিনি আরও বলেন, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজগুলোকে বাংলাদেশে আকৃষ্ট করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এক সময়ের মতো আবারও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হবে এদেশের শিক্ষাঙ্গন।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা প্রসারে নিরলস প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, টেকসই সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অংশীজনদের মতামত অত্যন্ত জরুরি এবং সরকার দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং স্কলারশিপ ব্যবস্থার পর্যালোচনার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর মামুন আহমেদ।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির সভাপতি মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে এই সভায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন।


জুনের মধ্যে সব সেনা ফিরবেন ব্যারাকে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী জুন মাসের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে থাকা সব সেনা সদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার আইন-শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৬ জুন থেকে সেনা সদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার শুরু হবে।

শুরুতে দূরবর্তী জেলা থেকে সেনা সদস্যদের ব্যারাকে ফেরানো হবে। পরবর্তীকালে ধাপে ধাপে বিভাগীয় শহর এবং বড় জেলা থেকে তুলে আনা হবে। জুন মাসের মধ্যেই সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে মাঠ পর্যায় থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কারফিউ জারি করে সেনা নামিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার।

প্রবল আন্দোলনে ওই বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পুলিশ বাহিনী ভেঙে পড়ায় সেনাবাহিনী মাঠেই থেকে যায়। অন্তর্বর্তী সরকার ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতাও দেয়।

গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘নির্বাচনের পর সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা আর বহাল নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি মূলত স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে আছে।

তারা নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।’

সেনাবাহিনী নিজস্ব ক্ষমতায় গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারত, কিন্তু বর্তমানে তারা এসব কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ডা. জাহেদ উর রহমান।


চাঁদপুর ও ফেনী সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ৬ মে, ২০২৬ ১৮:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১৬ মে চাঁদপুর এবং ২৫ মে ফেনী সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (৬ মে) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

তিনি বলেন, ১৬ মে চাঁদপুর এবং ২৫ মে ফেনী যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। এতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ চলছে।

পদ্মা ব্যারেজ সম্পর্কে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। একনেকে উপস্থাপন হবে। পদ্মা ব্যারেজ বাংলাদেশের জন্য খুবই প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক নিয়ে তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। ১৮০ দিনে কী কী কাজ সম্পন্ন হবে সে বিষয়েও কথা হয়েছে।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, আমরা আগামী পাঁচ বছরব্যাপী সারা বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। সে অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে কয়েকটি জেলায় গিয়ে খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন। আমাদের মন্ত্রী এমপিরা সবাই যার যার এলাকায় এই কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। যেহেতু বর্ষাকাল প্রায় চলে এসেছে। হয়তোবা আমরা এই মে মাস পর্যন্ত এই কর্মসূচি কন্টিনিউ (চলমান) রাখতে পারবো। বর্ষা শেষে আবার আগামী নভেম্বর ডিসেম্বর জানুয়ারির দিকে আমরা এই খাল খনন কর্মসূচি কন্টিনিউ করব।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমের আগে মে মাসে প্রধানমন্ত্রী দুইটি জেলায় যাচ্ছেন সেটা হলো চাঁদপুর এবং ফেনী। ফেনীতে যাবেন ২৫ মে এবং চাঁদপুর যাচ্ছেন ১৬ মে।’


গণমাধ্যমে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, “সরকার জনগণকে অবাধ ও সঠিক তথ্য সরবরাহের নিশ্চয়তা দিতে এবং অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দিতে বদ্ধপরিকর। গণমাধ্যমে প্রকৃত পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা গেলেই এই খাতের বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়ে যাবে।”

সচিবালয়ে বুধবার (৬ মে) দুপুরে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সাক্ষাতে প্রতিনিধি দলটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মন্ত্রীর কাছে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, “আমাদের পলিসি হচ্ছে এনালগ কিন্তু চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ডিজিটাল। ডিজিটাল যুগের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রচলিত নীতিমালার আধুনিকায়ন প্রয়োজন। সরকার কোনো কিছু চাপিয়ে না দিয়ে বরং ‘ফেসিলিটেটর’ বা সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চায়।”

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে একটি ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন করা হবে। তবে এক্ষেত্রে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে সুস্থ ঐকমত্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, অংশীজনদের গঠনমূলক পরামর্শ এই কমিশনকে কার্যকর করতে সহায়ক হবে।

সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় বিজেসি চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ, সদস্য সচিব ইলিয়াস হোসেন এবং ট্রাস্টি সদস্য রেজোয়ানুল হক, তালাত মামুন ও নূর সাফা জুলহাজ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধি দলের নেতারা ব্রডকাস্ট মিডিয়ার ডিজিটালাইজেশনের প্রয়োজনীয়তা, সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিভিন্ন সংকটের কারিগরি ও নীতিনির্ধারণী দিক তুলে ধরেন এবং তথ্যমন্ত্রী তাদের প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।


‘পুশইন’ ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে বিজিবিকে নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি জোরদার করতে বিজিবিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চারদিন ব্যাপী চলা ডিসি সম্মেলনের শেষ দিন আজ বুধবারে (৬ মে) বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক সম্মেলনের শেষ দিনে বৈঠকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে ১ মাসের মধ্যে তালিকা প্রস্তুত করতে ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, মাদক ও অনলাইন জুয়া বন্ধে নতুন আইন করার কথা জানান মন্ত্রী।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর সে দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এর আঁচ বাংলাদেশেও পড়তে পারে। বাংলাদেশে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলেও এরইমধ্যে সীমান্তে বিজিবিকে সতর্ক নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বিজিবিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আশাকরি পুশইন করা হবে না। তবু সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক সম্মেলনের শেষ দিনে দুপুরের সেশনে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের তালিকা, লাইসেন্সকৃত অবৈধ হওয়া অস্ত্র উদ্ধার, জুলাই আন্দোলনের সময়ের মামলা তালিকা করতে ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদ যাত্রা নিরাপদ করতেও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা জানানো হয় বৈঠকে। এছাড়া, মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, “সড়ক-মহাসড়ক ও রেললাইনের জাল-জালিয়াতিরোধে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবে পুলিশ। জাল টাকা শনাক্তেও মেশিন দেওয়া হবে। ৭ দিন আগে থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ফেরিঘাটে বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে বাস ফেরিতে উঠতে হবে; এ বিষয়ে নজরদারি করা হবে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। অনলাইন জুয়াসহ প্রযুক্তি ব্যবহার করে যেসব অপরাধ হচ্ছে, সেগুলো দমনে নতুন আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে।”


অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ইপিআই প্রোগ্রাম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, ‘‘পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সফল ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইপিআই প্রোগ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে আশার কথা হলো, প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইপিআইকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন, কারণ এটি শিশুদের জীবন রক্ষার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।’’

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ইউনিসেফের দেওয়া অতিরিক্ত ১৫ লাখ ডোজ এমআর এবং টিডি (৯০,০০০ ভায়াল) ভ্যাকসিন গ্রহণের সময় প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এ সময় মন্ত্রী জানান, ইপিআই কর্মসূচির মাধ্যমে ১৯৭৯ সাল থেকে শিশু ও নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে ১২টি প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ইপিআই বর্তমানে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি সফল কর্মসূচি এবং গ্যাভি বাংলাদেশকে ‘Vaccine Hero’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

একটি যৌথ গবেষণা অনুযায়ী এই কর্ম সূচি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ইউনিসেফ পরিচালনা করেছে। প্রতি বছর ইপিআই প্রোগ্রাম প্রায় ১ লাখ শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ করে এবং প্রায় ৫০ লাখ রোগ প্রতিরোধ করে।

তিনি আরও জানান, আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা তিনি দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মধ্যে বাতিল করেন এবং ইউনিসেফকে ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য অনুরোধ জানান। সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ইউনিসেফকে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড় দিয়েছে।

টিকাদান ক্যাম্পেইন সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি রোগ প্রাদুর্ভাব বিবেচনায় বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়েছে। বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ করা হচ্ছে। ইউনিসেফের সহযোগিতায় ক্যাম্পেইনটি ১৯ এপ্রিলের পরিবর্তে ৫ এপ্রিল থেকেই শুরু করা সম্ভব হয়েছে। এ ক্ষেত্রে তিনি রানা ফ্লাওয়ার্সকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ৮৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ইউনিসেফকে দিয়েছে, যার মাধ্যমে ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ১০ ধরনের ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সরকারের অর্থপ্রাপ্তি ৯ ও ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সম্পন্ন হওয়ার পর, ইউনিসেফ ৩ মে ২০২৬ তারিখে প্রথম চালানে ১,৫০৫,০০০ ডোজ আইপিভি ভ্যাকসিন সরবরাহ করে। আজ, ৬ মে ইউনিসেফ অতিরিক্ত ১৫ লাখ ডোজ এমআর এবং টিডি (৯০,০০০ ভায়াল) ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে।

আগামী ১০ মের মধ্যে আরও প্রায় ১ দশমিক ৮ কোটি ডোজ এমআর, টিডি, বিসিজি, টিসিভি, বিওপিভি ও পেন্টা ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছাবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘‘ইউনিসেফ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ ভ্যাকসিন সরবরাহ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে।ইউনিসেফের বৈশ্বিক সক্ষমতার কারণে, আমরা ওপেন টেন্ডার বাতিলের পর বাকি ৩৫ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত ভ্যাকসিনও ইউনিসেফের মাধ্যমে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১৫ মাসের ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরিকল্পনা নিয়েছি, যার মধ্যে ৩ মাসের বাফার স্টক থাকবে। এ প্রক্রিয়াও ইউনিসেফের মাধ্যমে শুরু করা হবে।’’

তিনি জানান, ‘‘বর্তমানে আমাদের কাছে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের দুই বছরের পর্যাপ্ত স্টক রয়েছে। নতুন এই সরবরাহের ফলে দেশে আগামী ৮ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত অন্যান্য ভ্যাকসিনেও কোনও ঘাটতি থাকবে না।’’


সড়কে কোনো চাঁদাবাজি হবে না, গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পশুবাহী ট্রাকে বা সড়কে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বুধবার (৬ মে) গাবতলী পশুর হাটের ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতীতের বিভিন্ন সরকারের সময় কোরবানির আগে সড়কে চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলেও, এবার নির্বাচিত সরকারের আমলে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি হবে না। ব্যবসায়ী ও খামারিরা যাতে নির্বিঘ্নে পশু পরিবহন করতে পারেন, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।

পশুর হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রের পাশাপাশি নকল টাকা রোধে বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে হাটে মেডিক্যাল বুথও বসানো হবে।

পরিদর্শনকালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। তিনি জানান, এবার অত্যন্ত স্বচ্ছ উপায়ে সঠিক করদাতাদের পশুর হাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত ২৭টি হাটের বাইরে যত্রতত্র কোনো পশুর হাট বসালে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মিলিয়ে মোট ২৭টি কোরবানির পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে গাবতলীর স্থায়ী হাটসহ মোট ১৬টি হাট বসার কথা রয়েছে।

হাট পরিদর্শনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার ও সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।


এমপি হিসেবে শপথ নিলেন এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে জামায়াত জোট-সমর্থিত প্রার্থী ও এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।

বুধবার দুপুর ১২টার কিছু পর তিনি জাতীয় সংসদে শপথ নেন বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে। সংসদ ভবনের নিজ কার্যালয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।

শপথ অনুষ্ঠানটি সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় স্পিকারের কার্যালয়ে সম্পন্ন হয়। পরে নিয়ম অনুযায়ী নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দলের চিফ হুইপ এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ২১ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় বিকেল ৪টা থাকলেও নুসরাত তাবাসসুম ৪টা ১৯ মিনিটে তা জমা দেন। সময়সীমা অতিক্রম করায় প্রাথমিকভাবে ইসি তার মনোনয়ন গ্রহণ করেনি। পরে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।

আদালতের নির্দেশে ইসিকে তার মনোনয়ন গ্রহণ করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই শেষে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।


সরকারি ভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সব ধরনের সরকারি ভাতা যাতে কেবলমাত্র যোগ্য ও প্রকৃত মানুষের হাতে পৌঁছায়, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার এক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের চতুর্থ দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি ভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি বরদাশত করা হবে না। এ লক্ষ্যে যোগ্য সুবিধাভোগীদের নতুন করে তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং এজন্য বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে যতগুলো ভাতা প্রদান করা হয় সেই ভাতা যোগ্য গ্রহণকারীদের নতুন করে তালিকা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এজন্য আমাদের কমিটিও গঠিত হয়েছে‌। ‘জি-টু-পি অর্থাৎ গভর্নমেন্ট টু পারসন’ ভাতা যাদের চাহিদা আছে দল-মতো সব কিছুর ঊর্ধ্বে রেখে যারা এটার জন্য যোগ্য, তাদের তালিকা আমরা তৈরি করছি।”

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের এই সেবাগুলো নির্ভুলভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে ডিসিদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে যাতে যোগ্যরা বঞ্চিত না হন। তিনি বলেন, “সরকারি ভাতার জন্য যারা সুবিধাভোগী, যোগ্য তাদের কাছেই যেন পৌঁছায় সেটা নিশ্চিত করার উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি। এসব কারণে আমরা জেলা প্রশাসকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছি এবং এ বিষয়ে সঠিকভাবে কাজ পরিচালনার জন্য তাদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।”

সরকার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে জেলা প্রশাসকরা সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ফারজানা শারমিন পুতুল আরও বলেন, “ডিসিদের মাধ্যমে সরকারের কার্যক্রমগুলো যেন সাধারণ মানুষের কাছে, সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায় সেজন্য সেতুবন্ধনে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় বা সরকারের সেবাগুলো মানুষের কাছে একদম পৌঁছে দেওয়ার জন্য ডিসিরা যেন সার্বিকভাবে কাজ করেন, সেসব বিষয় নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে।” স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি দুর্নীতি রোধে সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি কঠোর হওয়ারও আহ্বান জানান।


দুপুরের মধ্যে ৫ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

আপডেটেড ৬ মে, ২০২৬ ১০:১০
অনলাইন ডেস্ক

রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ আজ মেঘলা থাকলেও তাপমাত্রার বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য প্রকাশিত এক বার্তায় বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। তবে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আজ ভোরে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯১ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে দেশের পাঁচটি অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কায় নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দুপুর ১টার মধ্যে রংপুর, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও সিলেট এলাকার ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সারাদেশের পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি মানের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।


আমরা একা এ চুক্তি করিনি, অন্যান্য দেশও করেছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে মার্কিন চুক্তি ভালো বোঝা যাবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, আমরা একা এই চুক্তি করিনি, বিশ্বের অন্যান্য দেশও করেছে। ইন্দোনেশিয়া এ রকম ২৩১টি শর্তে রাজি হয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশের চুক্তিটি যখন পাঠ করবেন তখন ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়াসহ অন্য যারা চুক্তি করেছে তাদেরটা পাশে নিয়ে পাঠ করলে জিনিসটা ভালো বুঝবেন।

মঙ্গলবার (৫ মে) ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ পরামর্শ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ওই বাণিজ্য চুক্তিতে বাংলাদেশকে বিভিন্ন শর্তের জালে ‘বেঁধে ফেলা হয়েছে’ বলে সমালোচনা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য পালনীয় মাত্র ছয়টি শর্তের বিপরীতে বাংলাদেশের জন্য ১৩১টি শর্ত থাকার কথা উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা তুলনা করে দেখেন আমরা কী পেয়েছি, কী পাইনি। এই আলোচনাটা ওভাবে হওয়া উচিত। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র সব দেশকে বলেছে যে তোমাদের রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ যেমন আমাদের ৩৯ বা ৩৭ শতাংশ দিয়েছিল, অন্য সব দেশ দিয়েছে, নেগোশিয়েট করেছে, কেউ ২০ পেয়েছে, যেমন ভিয়েতনাম। আর আমরা ১৯ পেয়েছি। সবার এই এগ্রিমেন্টগুলো পাবলিক স্পেসে এখন পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আপনারা বাংলাদেশের এগ্রিমেন্ট ও অন্যান্য দেশের এগ্রিমেন্ট তুলনা করে পড়েন। তাহলে বুঝবেন আমরা কী রেট পেয়েছি, পলিসিতে আমরা কী কী বিষয়ে তাদের সঙ্গে চুক্তি করেছি। অন্যরাও কী চুক্তি করেছে। অন্যদের পারচেজ কমিটমেন্ট কত? আমাদের কত, সব মিলিয়ে দেখেন।


শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০১৩ সালে হেফাজতের আন্দোলনে সারা দেশে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত করার তথ্য জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের ঊধ্বর্তনদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এই মামলায় প্রধান আসামি হবেন শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (৫ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ কথা বলেছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি জানান, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের ঊধ্বর্তনদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এছাড়া, সরকারের হেফাজতে ইসলামকে নিধনের উদ্দেশ্য ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ ঘটনায় ৯০ শতাংশ তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে৷ আগামী ৭ জুনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে প্রসিকিউশন। মামলায় ৩০ জনের বেশি আসামি করা হতে পারে বলেও জানান আমিনুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ওপর তৎকালীন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চালানো অভিযানকে কেন্দ্র করে যে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, তা শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড হিসেবে পরিচিত।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) তদন্ত সংস্থা এই হত্যাকাণ্ডকে একটি অত্যন্ত পরিকল্পিত হিসেবে উল্লেখ করেছে। তদন্ত সংস্থার তথ্যমতে, তদন্তের কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে এবং শুধু ঢাকাতেই অন্তত ৩২ জনকে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে।


banner close