প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, জার্মানির মিউনিখে তার ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি আজ তাঁর মিউনিখ সফরের বিষয়ে রাজধানীর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।
তাঁর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ নিচে দেয়া হলো:
“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম। শুভ সকাল। গত ১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত ৬০তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন মূলতঃ রাষ্ট্র/সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, সরকারি এবং বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিগণের অংশগ্রহণ করেন। এটি সমকালীন ও ভবিষ্যত নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্চ-পর্যায়ের নিয়মিত আলোচনার একটি শীর্ষস্থানীয় ফোরাম হিসেবে বিবেচিত। এ বছরের ফোরামে ৩৫-জনেরও বেশী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান অংশগ্রহণ করেছেন।
বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দিতা এবং আঞ্চলিক সংঘাত, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নিউক্লিয়ার নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু নিরাপত্তা, তথ্য নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা, অভিবাসন, সাপ্লাই চেইন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মহামারি ইত্যাদি বিষয়ে এবারের ফোরামে আলোচনা করা হয়।
সফরের প্রথম দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি ‘ফ্রম পকেট টু প্লানেট: স্কেলিং আপ ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করি। এই আলোচনায় আমার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত মান্যবর জন কেরি, বারবাডোসের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মিয়া আমোর মটলে, এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোসা জামির।
প্যানেলটিতে উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে আমি বক্তব্য প্রদান করি। বক্তব্যের শুরুতেই আমি গাজা ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহ, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং নিরস্ত্র মানুষের, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের, অমানবিক হত্যার কবল থেকে মুক্ত করে সকল প্রকার যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার জোর আহ্বান জানাই। আর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা-নিষেধাজ্ঞার বিরূপ প্রভাব যে যুদ্ধক্ষেত্র থেকেও বহুদূর পর্যন্ত অনুভূত হয়, এ বিষয়ে আমি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। এ প্রসঙ্গে আমি অর্থহীন অস্ত্র-প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় রসদ ও অর্থায়ন সহজলভ্য ও কার্যকর করার জন্য সকলকে অনুরোধ করি। মানবতার অস্তিত্বের সংটকালে ক্ষুদ্র স্বার্থ যে শুধু অনর্থই বয়ে আনে - এই রূঢ় বাস্তবতা আমি সকলের সামনে তুলে ধরি। আর তাই, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানাই।
আমি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার জন্য বিশ্বের সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বহুবিধ নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ও জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের পরিমাণ বৃদ্ধি, প্রতিশ্রুত অর্থের বাস্তবিক হস্তান্তর, ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিতকরার উপর আমি বিশেষভাবে জোর দেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় আমি ধনী দেশসমূহের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই।
এদিন আমার হোটেল স্যুইটে উইমেন পলিটিক্যাল লিডার্স (ডব্লিউপিএল)-এর সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মিসেস সিলভানা খক্ মেহরিন আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান এবং গত দেড় দশকে বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য আমাকে ডব্লিউপিএল-জি ট্রাইলব্লাজের এওয়ার্ড ২০২৩ গ্রহণের জন্য তিনি আমাকে আগামী ২০ মার্চ ২০২৪ তারিখ এথেন্সে অনুষ্ঠিতব্য ডব্লিউপিএল সামিট-এ অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। আলোচনায় আমি আমাদের সরকারের- বিশেষ করে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত নীতিসমূহের বিষয়ে আলোকপাত করলে এ বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বাংলাদেশের নীতি ও কার্যক্রমসমূহ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
একইদিন আমি কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোহাম্মদ বিন্ আব্দুলরাহ্মান আল-সানি-র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জ্ঞাপনের পাশাপাশি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, এলএনজি সরবারহ প্রভৃতির পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই ও দ্রুত সমাধানে কাতারের অব্যাহত সমর্থনের ব্যাপারে তিনি আশ্বস্ত করেন। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সহিংসতা বন্ধে একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও আমরা আলোচনা করি।
এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন নীতি ও অংশীদারিত্ব বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মান্যবর আক্সেল ভন ট্রটসেনবার্গ। বাংলাদেশে ও বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের অংশীদারিত্বের প্রেক্ষাপটে আমি মধ্যম আয়ের দেশভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবদানের আলোকে বর্তমান অর্থবছরে বাজেট সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংক হতে অঙ্গীকারকৃত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দ্রুত ছাড়ের আহ্বান জানাই। পাশাপাশি আমি জোরপূর্বক স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে এবং এই সমস্যার বিরূপ প্রভাবে আক্রান্ত দেশ হিসেবে বাংলাদশকে প্রদত্ত ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন সহায়তার জন্যও তাকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয় ও উচ্চ-আয়ের দেশের পর্যায়ে উত্তীর্ণ হবার কাঙ্ক্ষিত পথে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেন।
একই দিনে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মান্যবর ডক্টর টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসাস আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে-বিশেষ করে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আসন্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশে আমাকে আমন্ত্রণ জানান এবং বিশ্বের বাকি দেশসমূহকে বাংলাদেশের কম্যুনিটি ক্লিনিক মডেল অনুসরণ করার বিষয়ে অনুপ্রাণিত করার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন।
আলোচনাকালে আমি বর্তমান সরকারের সেকেন্ডারি ও টার্শিয়ারি স্বাস্থ্যসেবা, টীকা উৎপাদন, এন্টি-মাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ, নার্সিং ও অন্যান্য স্বাস্থ্যখাতে মানব সম্পদ উন্নয়ন ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের কথা উল্লেখ করে এতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তা আশা করি। এ বিষয়ে মহাপরিচালক আমাকে আশ্বস্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক অতিমারি চুক্তি-এর দ্রুত সমাপনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমর্থন কামনা করেন।
এইদিন আমার সঙ্গে আরও সাক্ষাৎ করেন মেটা-জি গ্লোবাল এফেয়ার্স এর প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী স্যার নিক্ ক্লেগ্। তিনিও আমাকে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতের উন্নয়ন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্র সুবিস্তারে সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রংসা করেন তিনি। আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনে আমাদের সফলতা তুলে ধরি এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ ও তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে মেটা-এর সহযোগিতা আশা করি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে বিভিন্ন মেটা প্ল্যাটফর্ম যেমন ফেইসবুক, হোয়াটস্অ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম প্রভৃতির ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারির সুউচ্চ সংখ্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি বাংলাদেশে মেটা-এর একটি কার্যালয় স্থাপনের পরামর্শ দিই।
প্রথম দিন আমি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মেটে ফ্রেডরিক্সেন-এর সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমাকে ও আমাদের নবগঠিত সরকারকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানোর জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আলোচনাকালে বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আইসিটি খাতে ড্যানিশ কোম্পানিসমূহের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের পাশাপাশি তিনি বিরাজমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকারের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকার বিষয়েও আমাকে আশ্বস্ত করেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মার্ক রুটে আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। আলোচনাকালে আমরা দু’জনই বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতসমূহে জ্ঞান-প্রযুক্তি-উদ্ভাবন বিস্তারে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও গভীরতর করার বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।
একইদিন সকালে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী মান্যবর ডক্টর এস. জয়শংকর। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। সাক্ষাৎকালে আমরা উভয়ই দুই বন্ধু-রাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং দু’দেশের বাণিজ্য নিজস্ব মুদ্রায় পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত পোষণ করি। তিনি আগামী এপ্রিল/মে মাসে ভারতীয় সাধারণ নির্বাচন পরবর্তীকালে দু’দেশের নতুন সরকারের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত পঞ্চ-বার্ষিক সহযোগিতা বিষয়ক রোডম্যাপ প্রণয়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে আমরা মায়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিষয়েও পারস্পরিক মতবিনিময় করি।
এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাইট অনারেবল্ লর্ড ক্যামেরন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রেরিত শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এসময় আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান চলাচল অংশীদারিত্ব, অভিবাসন, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ এবং মায়ানমার ও লোহিত সাগরে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করি।
একই দিনে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন জার্মান আর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রী মান্যবর সভেনিয়া শুলৎজা। আলোচনাকালে আমরা ইইউ-এর জিএসপি+ বাণিজ্য সুবিধাসহ পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জার্মান বিনিয়োগ এবং সার্বিক জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বর্ধিতকরণের বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।
এইদিন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ভ্লাদিমীর জেলেন্স্কি আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে আমরা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং গম, ভোজ্যতেল ও অন্যান্য কৃষিপণ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করি। আমি তাঁকে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের দ্রুত সমাধানের কার্যকর উপায় অন্বেষণের অনুরোধ করি। এছাড়াও আমরা গাজা উপত্যকায় সংঘাতের বিষয়ে মতবিনিময় করি।
এরপর আমি আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ইল্হাম আলিইয়্যেভ-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমরা পরস্পর পরস্পরকে পঞ্চমবারের মতো পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানাই। আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করি। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে নেতৃত্বদানের জন্য আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি আমাকে ধন্যবাদ দেন এবং এবছর নভেম্বরে বাকু-তে অনুষ্ঠিতব্য কপ২৯-এ যোগদানের জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানান। আলোচনাকালে আমরা উভয়ই জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা প্রভৃতি বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি।
এদিন আমি জার্মান চ্যান্সেলর মান্যবর ওলাফ শোলজ্-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বৈঠককালে আমরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও হাইড্রোজেন প্রযুক্তি এবং দক্ষ অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করি। এছাড়াও, আমরা ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গে মতবিনিময় করি এবং এসকল সংঘাত দ্রুত অবসানের বিষয়ে কার্যকর উপায় অন্বেষণের জন্য আমি তাঁকে অনুরোধ করি।
এছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি জার্মান আওয়ামী লীগ আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনা সভায় যোগদান করি এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি আমি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করি।
মিউনিখে আমার এই ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। দেশের আকার নয় বরং নীতির শক্তিতেই যে মানবতার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক মুক্তি, এবারের সম্মেলনে আমি এই বার্তাই বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছি। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমূহের মাধ্যমে বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাথে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আরও দৃঢ় হয়েছে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে।
আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোটারদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকাসহ চার জেলায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামছেন বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে ৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান এই নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকা সেক্টরের আওতাধীন বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়ন এলাকায় সর্বমোট ৩৮ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১১ প্লাটুন, সাভার ও ধামরাইয়ের দুটি আসনে ৬ প্লাটুন, ফরিদপুরের চারটি আসনে ১৩ প্লাটুন এবং মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে ৮ প্লাটুন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। রাজধানীর প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হবে যাতে কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে না পারে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করতে এবার বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার জন্য বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট), কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) এবং প্রয়োজনে আকাশপথে টহল বা উদ্ধারকাজের জন্য হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও আধুনিকতা নিশ্চিত করতে এবার সদস্যদের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, এপিসি এবং উন্নত সিগন্যাল সরঞ্জাম ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যাটালিয়ন সদরে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।
বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান বিজিবির ভূমিকা স্পষ্ট করে জানান যে, এবারের নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কোনো পূর্ব নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা নেই। যদি কোনো প্রিজাইডিং অফিসার সহায়তা চান অথবা কেন্দ্রে সহিংসতা বা জাল ভোটের মতো কোনো অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি হয়, তবে বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। আজ বুধবার দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানান, নির্বাচনের ফলাফল কী হবে তা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের ওপর নির্ভর করছে এবং তারাই এটি নির্ধারণ করবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসা যেকোনো সরকারের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।
বৈঠক প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাকে নির্বাচনী প্রস্তুতির সার্বিক বিষয়ে অবহিত করেছেন এবং তিনি নিজে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যদিও সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি, তবে তার বক্তব্যে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এর আগে বেলা ১১টার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ইসি ভবনে আসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। ইসি সূত্রে জানা গেছে, এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সার্বিক আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ঢাকায় পৌঁছান ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার এই সন্ধিক্ষণে সিইসি’র সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই আলোচনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক মহলের কাছে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন বদ্ধপরিকর এবং সব ধরনের প্রস্তুতি সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি শুরু হয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে এই উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হওয়ায় একে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকটি মূলত বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আসন্ন নির্বাচনের সামগ্রিক প্রস্তুতি কেন্দ্রিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্ব বহন করে।
উল্লেখ্য যে, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ঢাকায় পৌঁছান। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সঙ্গে দেখা করছেন। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তারিখ ঘনিয়ে আসায় আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নিবদ্ধ। এমন পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে এই আলোচনা নির্বাচনী স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ভোটারদের আস্থা ফেরানো এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আজকের বৈঠকে এই বিষয়গুলোর পাশাপাশি সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হতে পারে। বৈঠকের বিস্তারিত ফলাফল ও সুনির্দিষ্ট আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে পরবর্তীতে কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হতে পারে। মূলত একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহায়তার ক্ষেত্র এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুরক্ষা নিয়ে এই বৈঠকে আলোকপাত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সরাসরি আকাশপথের যোগাযোগ পুনরায় স্থাপিত হতে যাচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ঢাকা-করাচি রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে নতুন এই যাত্রার সূচনা করবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ২০১২ সালে এই রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবারও নিয়মিত যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন দুই দেশের যাত্রীরা। এই সরাসরি সংযোগের ফলে যাত্রীদের ভ্রমণের সময় যেমন বাঁচবে, তেমনি যাতায়াত খরচেও বড় ধরনের সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, ঢাকা থেকে করাচির দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৪৭১ মাইল। এই রুটে ১৬২ আসনের আধুনিক বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজ দিয়ে আপাতত সপ্তাহে দুই দিন ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ও শনিবার নিয়মিতভাবে ফ্লাইটগুলো ঢাকা থেকে করাচির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং পুনরায় ঢাকায় ফিরে আসবে। সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় এখন মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে, যা আগে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ট্রানজিট হয়ে যাওয়ার কারণে দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ ও ক্লান্তিকর ছিল।
নতুন এই রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম। তিনি জানান, বৃহস্পতিবারের প্রথম ফ্লাইটের সবকটি টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে এবং দ্বিতীয় ফ্লাইটেরও ৮০ শতাংশের বেশি আসন বুকিং হয়ে গেছে। সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় এতদিন যাত্রীদের দুবাই বা দোহার মতো দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হতো। এখন ট্রানজিটের ঝামেলা না থাকায় ভ্রমণ হবে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের। এছাড়া খরচের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে বিশাল পরিবর্তন। আগে যেখানে ট্রানজিটসহ যাতায়াতে বিপুল অর্থ ব্যয় হতো, এখন সরাসরি ফ্লাইটে রাউন্ড ট্রিপে সর্বনিম্ন ৫১ হাজার টাকায় যাতায়াত করা যাবে। এতে যাত্রীদের অন্তত ৩০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হবে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা এই রুটটি পুনরায় চালু হওয়াকে অত্যন্ত কৌশলগত ও বাণিজ্যিক গুরুত্বসম্পন্ন বলে অভিহিত করেছেন। দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, ঢাকা-করাচি রুটে সরাসরি বিমান চলাচল কেবল যাত্রী পরিবহনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি দুই দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে কার্গো বা পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এখানে বিশাল এক সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে। পাকিস্তান প্রতিবছর পর্যটন খাত থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব আয় করে, ফলে সরাসরি যাতায়াতের সুযোগে বাংলাদেশি ভ্রমণপিপাসুদের জন্যও এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।
উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ সময় পর এই সরাসরি ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পর্যটন খাত আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রানজিটের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও অতিরিক্ত ব্যয় কমিয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে দ্রুত যাতায়াতের এই ব্যবস্থা সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবারের আনুষ্ঠানিক যাত্রার মাধ্যমে আকাশপথের এই শূন্যতা পূরণের পাশাপাশি আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি আরও সুদৃঢ় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) উদ্বোধন করেছেন। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর আওতাধীন এই বিওপি দুটির একটি হলো সেন্টমার্টিন বিওপি এবং অন্যটি টেকনাফের লেঙ্গুরবিলে নবসৃজিত ‘সী-বিচ বিওপি’। গতকাল এক আনুষ্ঠানিক সফরের মাধ্যমে তিনি এই আধুনিক স্থাপনা দুটির উদ্বোধন সম্পন্ন করেন।
সেন্টমার্টিন বিওপি উদ্বোধনের মাধ্যমে দ্বীপটির সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন গতিশীলতা ও কার্যকারিতা যুক্ত হয়েছে। এখানে বিজিবি সদস্যদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সৈনিক লাইন নির্মাণ করা হয়েছে, যা মূলত সীমান্তে দায়িত্বরত সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং মনোবল সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। এই বিওপিটির একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। উল্লেখ্য যে, ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) এই দ্বীপের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল। পরবর্তীতে দায়িত্বটি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হলেও সীমান্তের গুরুত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা বিবেচনা করে ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল পুনরায় সেখানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। বর্তমান বিওপিটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিজিবির কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্তভাবে শুরু হলো।
সেন্টমার্টিন সফর শেষে মহাপরিচালক টেকনাফের লেঙ্গুরবিল এলাকায় নবনির্মিত ‘সী-বিচ বিওপি’ উদ্বোধন করেন। অত্যন্ত আধুনিক এবং দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই বিওপিতে দায়িত্বরত সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজিবি সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই বিওপিটি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি সেখানে অবস্থানরত সদস্যদের মনোবল ও অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখানে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ বিজিবির নজরদারি ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিজিবি মহাপরিচালক এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সীমান্ত সুরক্ষা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির সদস্যদের সর্বদা সজাগ থাকার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ফলে বিজিবি সদস্যরা আরও উৎসাহের সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। বিশেষ করে সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ সীমান্তে মাদক পাচার রোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে এই আধুনিক বিওপিগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মূলত সীমান্ত সুরক্ষায় বাহিনীকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তোলার চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলাকে ‘বি’ থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলায় উন্নীত করেছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে জেলাটির প্রশাসনিক গুরুত্ব যেমন বাড়বে, তেমনি সরকারি জনবল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২০ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভায় বিশেষ বিবেচনায় সাতক্ষীরা জেলাকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এই অনুমোদনের প্রেক্ষিতেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই প্রজ্ঞাপন জারি করল। নতুন এই মর্যাদা অনুযায়ী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এখন জেলাটির প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করবে।
সাতক্ষীরা জেলাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পেছনে বেশ কিছু যৌক্তিক কারণ তুলে ধরেছে সরকার। নিকারের সভায় এই প্রস্তাব অনুমোদনের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে সাতক্ষীরা বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা। বিশেষ করে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের একাংশ এই জেলায় অবস্থিত। পাশাপাশি সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দেশের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে পরিণত হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। এই সামগ্রিক কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা করেই জেলাটিকে ‘এ’ ক্যাটাগরির মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত কোনো জেলায় উপজেলার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এর শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়। যে সব জেলায় ৮টি বা তার বেশি উপজেলা থাকে, সেগুলোকে ‘এ’ ক্যাটাগরি, ৫ থেকে ৭টি উপজেলা থাকলে ‘বি’ ক্যাটাগরি এবং ৫টির কম উপজেলা থাকলে ‘সি’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে অবস্থানগত কারণে বিশেষ গুরুত্ববহ জেলাগুলোকে সরকার বিশেষ বিবেচনায় উচ্চতর ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। সাতক্ষীরার ক্ষেত্রেও এই বিশেষ বিবেচনায় মর্যাদার পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এর আগে ২০২০ সালের ৬ আগস্ট সর্বশেষ জেলাগুলোর শ্রেণি হালনাগাদ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পরিপত্র জারি করা হয়েছিল। দীর্ঘ কয়েক বছর পর সাতক্ষীরা জেলার এই মানোন্নয়ন স্থানীয় প্রশাসনে নতুন গতিশীলতা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে জেলা পর্যায়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ এবং জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবে সাতক্ষীরাবাসী। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬), বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। সকাল থেকেই ঢাকার বাতাসের মান জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার ভিজুয়ালের’ এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী, আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা ৩১৪ স্কোর নিয়ে বিশ্বে দূষণের তালিকায় প্রথম অবস্থানে উঠে আসে। এই স্কোর মূলত বাতাসের মানকে ‘চরম অস্বাস্থ্যকর’ বা বিপজ্জনক হিসেবে নির্দেশ করে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিশরের রাজধানী কায়রো, যার একিউআই স্কোর ছিল ২৫০। তালিকার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং এর ঠিক পরেই অবস্থান করছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। প্রতিদিনের এই সূচক অনুযায়ী, বাতাসের মান যখন ৩০১-এর বেশি হয়, তখন তা মানবদেহের জন্য ‘বিপজ্জনক’ বা ‘চরম অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ঢাকা আজ সেই বিপজ্জনক সীমা অতিক্রম করায় নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের মানদণ্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বায়ুর মান শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে তা ভালো এবং ৫১ থেকে ১০০ এর মধ্যে হলে তা মধ্যম মানের হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু ঢাকার বর্তমান স্কোর ৩০০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি সতর্কতা সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত শুষ্ক আবহাওয়ায় বাতাসে ধূলিকণা ও অন্যান্য দূষিত পদার্থের মিশ্রণ সহজে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে দূষণের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, শীতকালীন শুষ্ক আবহাওয়া ছাড়াও অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া এবং চারপাশের শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত বাতাস ঢাকার বায়ুমানকে দিন দিন আরও নাজুক করে তুলছে। এমন অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতিতে বিশেষ করে শিশু, বয়োজ্যেষ্ঠ এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগা রোগীদের জন্য ঘরের বাইরে বের হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। শহরের এই বিরূপ পরিবেশ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী এবং কার্যকর সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। এ বছর নভেম্বরে এ অর্জনের ফলে একদিকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মানব সম্পদের উন্নয়নের স্বীকৃতি পাবে দেশ। অন্যদিকে শুল্কমুক্ত সুবিধা কমবে, বিদেশি রেয়াতি ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে, পাশাপাশি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জে পড়বে বাংলাদেশ। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে ১২ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। আগামী ৬ মাসে আরো ১২ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাবে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীতে এলডিসি উত্তরণ নিয়ে আইসিসিবি আয়োজিত সেমিনারে এ আশঙ্কার কথা জানান ব্যবসায়ীরা।
এলিডিসি উত্তরণ নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা বলেন, স্বল্প সুদে বিদেশি অর্থায়নের সুযোগ কমে আসবে। এতে চাপে পড়বে দেশের ব্যাংকিং খাত। প্রভাব মোকাবিলায় আর্থিক খাতকে প্রস্তুত করা জরুরি বলে মনে করেন আলোচকরা।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সুশাসনের অভাবে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। আর খেলাপি কমাতে না পারলে ব্যাংকগুলো সমস্যায় পড়বে। এজন্য ব্যাংকিং খাতে নিয়মনীতির সঠিক বাস্তবায়ন প্রয়োজন।’
এফবিসিসিআই'র সাবেক সভাপতি একে আজাদ বলেন, ‘মনিটারি পলিসি টাইটেন (মুদ্রানীতি কঠোর করায়) করাতে কী হয়েছে- ১২ লক্ষ লোক চাকরি হারিয়েছে। এখন তারা বেকার এবং আমার মনে হয় আগামী ছয় মাসে আরও ১২ লক্ষ লোক চাকরি হারাবে যে অবস্থা চলছে তাতে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, নীতি সুদহার ও মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে হবে। ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘এনপিএ (নন-পারফরমিং অ্যাসেট) কখনই কম (লো) ছিল না, এটা শুধু লোক দেখানো ছিল কাগজে-কলমে। বাস্তবে এটা বেশি-ই (হাই) ছিল। আমাদের কখনই সে কারণে ইনটারেস্ট রেট (সুদ হার) কম হতে পারে না, আমাকে যদি ইনটারেস্ট রেট কমাতে হয়, আমাকে এনপিএ-কে অ্যাকচুয়্যালি (সত্যিকার অর্থে) কমাতে হবে।’
বিগত আমলে ব্যাংক খাতের লুটপাট ও অর্থপাচার নিয়ে ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলোর নীরবতার সমালোচনা করেন গভর্নর।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালনে সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও নাগরিকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রংপুর সার্কিট হাউসে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
সেনাপ্রধান বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সামরিক-বেসামরিক প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
মতবিনিময় সভা শেষে তিনি নির্বাচনী দায়িত্বে মোতায়েন করা সেনাসদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরে শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে সেনাসদস্যদের দেওয়া বক্তব্যে সেনাপ্রধান সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সবাইকে নাগরিকবান্ধব আচরণের নির্দেশ দেন।
সেনাপ্রধানের রংপুর এরিয়া পরিদর্শনকালে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ড, জিওসি, ৬৬ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, রংপুর এরিয়া এবং সেনাসদর ও রংপুর এরিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কার প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে অন্তর্বর্তী সরকার উচ্চ ব্যয়ের মধ্য দিয়ে অপচয়ের পথ অনুসরণ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। তারা বলছে, জনগণের কর্মসংস্থান, খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ না বাড়িয়ে সরকারি পরিচলন ও প্রশাসনিক ব্যয়ে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। এসব বরাদ্দ এবং দেশের জন্য ‘ক্ষতিকর’ আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরের তৎপরতা নতুন নির্বাচিত সরকারকেও বিপদে ফেলবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করেন। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্যদের পক্ষে বিবৃতিটি পাঠান আনু মুহাম্মদ, মোশাহিদা সুলতানা, সামিনা লুৎফা, নাজমুস সাকিব, দিলীপ রায়, মাহতাব উদ্দীন আহমেদ, ফেরদৌস আরা রুমী, সজীব তানভীর, আবদুল্লাহ মাহফুজ, আকরাম খান, সীমা দত্ত, আফজাল হোসেন ও ফারহানা শারমীন।
বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বলেছে, আগামী সরকারের মন্ত্রীদের জন্য ঢাকার মন্ত্রিপাড়ায় ৭২টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নির্মাণে ৭৮৬ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এর আগে মন্ত্রীদের জন্য ৬০টি গাড়ি কেনার প্রস্তাব তীব্র সমালোচনার মুখে বাতিল হলেও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জন্য ২২০টি গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে ২০২৫ সালে দেশের সার্বিক দারিদ্র্য বেড়েছে। গত দেড় বছরে প্রায় কয়েক লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।
নির্বাচনের মাত্র ১২ দিন আগে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কনসেশন চুক্তি এবং নির্বাচনের ৬ দিন আগে জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে অন্তর্বর্তী সরকার গোপন তৎপরতা চালাচ্ছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বলছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ হলো সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা। রুটিন কাজ ছাড়া নীতিনির্ধারণী কাজের কোনো এখতিয়ার বা যৌক্তিকতা এ সরকারের থাকে না। সব যুক্তি, তথ্য এবং জাতীয় স্বার্থ অগ্রাহ্য করে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়া ও যথাযথ আলোচনা ছাড়াই জাপানের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তির ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের এই তৎপরতায় অস্বচ্ছতা, গোপনীয়তা এবং তাড়াহুড়া খুবই সন্দেহজনক। দেশের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে ‘ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক’ এসব তৎপরতায় কমিটির সদস্যরা উদ্বেগ ও নিন্দা জানান।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বলেছে, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত সুপারিশে আছে আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরের আগে সংসদের উভয় কক্ষে আলোচনা করতে হবে। এখন দেশে সংসদ নেই, কাদের সঙ্গে আলোচনা করে অন্তর্বর্তী সরকার এমন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই প্রশ্ন রেখেছে কমিটি। তারা বলছে, এত তাড়াহুড়া করে, রাজনৈতিক দল ও জনগণের মতামত উপেক্ষা করে নির্বাচনের একদম আগ মুহূর্তে এসব দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরের তৎপরতা বিগত স্বৈরাচারী সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার কথাই মনে করিয়ে দেয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানপরবর্তী দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা স্থিতিশীল করতে এবং সংস্কার করার প্রতিশ্রুতিতে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিল উল্লেখ করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বলেছে, দেখা যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার নিজেই সংস্কার মানছে না। বরং অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জারি রেখে জনগণকে দীর্ঘমেয়াদি গভীর সংকটে ফেলছে।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্যরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের চুক্তির ব্যাপারে উচ্চ আদালতে দায়ের করা রিট এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এ পর্যায়ে সরকার কীভাবে তৎপরতা অব্যাহত রাখে, তা–ও প্রশ্ন। অন্যদিকে জাপান বিশ্ববাণিজ্য সংস্থাকে জানিয়েছে যে ২০২৯ সাল পর্যন্ত এলডিসি থেকে উত্তরণ হওয়া দেশগুলো জিএসপি সুবিধা পাবে। ফলে ২০২৯ সাল পর্যন্ত জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা এমনিতেই বাংলাদেশ পাবে। সে হিসাবে নির্বাচনের ৬ দিন আগে এই ধরনের বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ। গত দেড় বছর ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার ধারাবাহিকতা হচ্ছে এই সিদ্ধান্তগুলো।
বিভিন্ন দেশি–বিদেশি গোষ্ঠীর স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ দেশের অর্থনীতিকে আরও ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেও মনে করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। তারা বলেছে, সরকারের রাজস্ব আয়ে বিপুল ঘাটতি ও পরিচালন ব্যয় ব্যাপক বৃদ্ধির প্রবণতার মধ্যেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরকারের এই ধরনের চুক্তি ও আর্থিক অপচয়মূলক বরাদ্দের তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানায় গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি মনে। একই সঙ্গে তারা আসন্ন নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী দল এবং জনগণকে সরকারের এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জোর প্রতিবাদ করার আহ্বান জানায়।
দেশের কৃষি ও জ্বালানি খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং ৭৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। এই ক্রয়ের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪০ হাজার টন ইউরিয়া এবং রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার সংগ্রহ করা হবে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড থেকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ফার্টিগ্লোব থেকে জিটুজি (সরকার টু সরকার) চুক্তির আওতায় ২০০৭ সাল থেকেই ইউরিয়া সার আমদানি করা হচ্ছে। আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির অনুমোদন নিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম ৪১০ মার্কিন ডলার হিসেবে মোট ১ কোটি ৬৪ লাখ ডলারে এই ৪০ হাজার টন সার কেনা হবে, যার দেশীয় অর্থমূল্য ২০১ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
একই সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে রাশিয়ার জেএসসি ‘ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রোডিনটর্গ)’ ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) চুক্তির আওতায় ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন প্রদান করা হয়। এক্ষেত্রে প্রতি মেট্রিক টন সারের মূল্য ধরা হয়েছে ৩৫২.৯৩ মার্কিন ডলার এবং এতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ১৫১ কোটি ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ টাকা। এছাড়া জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ২০২৬ সালে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় সিঙ্গাপুরের আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড থেকে পাঁচ কার্গো এলএনজি সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বল্পমেয়াদি এই চুক্তির মাধ্যমে দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
নির্বাচনকালীন শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের পরিবেশ নিশ্চিত করতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন এবং এর আগে-পরে নির্দিষ্ট কিছু যানবাহন চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সিদ্ধান্তের আলোকে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নির্বাচন পরিচালনা অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা এক চিঠিতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের দিন ট্রাক, মাইক্রোবাস ও ট্যাক্সি ক্যাবসহ চার ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে এবং মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর তিন দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
চিঠিতে উল্লিখিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ২৪ ঘণ্টা ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, মোটরসাইকেল চলাচলের ক্ষেত্রে ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা বা তিনদিন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। জনজীবন সচল রাখা ও জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে ইসি কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ব্যবস্থা রেখেছে। এই ছাড়ের আওতায় থাকবে— "আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী ও প্রশাসন। অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক ও সংবাদপত্রের গাড়ি। জরুরি সেবার মধ্যে যেমন— ওষুধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত যানবাহন। বিমানবন্দরে যাওয়া-আসা করার যাত্রী বা আত্মীয়স্বজনের গাড়ি (টিকিট প্রদর্শন সাপেক্ষে)। দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী যানবাহন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনি এজেন্টের জন্য রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন সাপেক্ষে একটি গাড়ি (জিপ/কার/মাইক্রোবাস)। টেলিযোগাযোগ সেবায় নিয়োজিত বিটিআরসি ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের যানবাহন।"
এছাড়া জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর এবং আন্তঃজেলা বা মহানগরীর প্রধান প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলো এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে বলে কমিশন জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাস্তব প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারদের নিজ নিজ এলাকায় অতিরিক্ত কোনো যানবাহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা বিদ্যমান বিধি শিথিল করার বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। মূলত ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ইসির পক্ষ থেকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগকে এই ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়।
রাজধানীর যানজটপূর্ণ এলাকাগুলোতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ট্রাফিক বিভাগ। এই জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়াসে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে গুলশান-২ চত্বরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান ট্রাফিক বিভাগ ‘নো হর্ন, নো ডাস্ট’ শীর্ষক এক মিনিটের প্রতীকী নীরবতা কর্মসূচি পালন করে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে চালক ও পথচারীদের মধ্যে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
কর্মসূচি চলাকালীন গুলশান-২ ক্রসিংয়ের চারদিকের ট্রাফিক সিগন্যালে লাল বাতি জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং চালকদের গাড়ি থেকে নেমে নির্ধারিত এক মিনিট নীরবতা পালনের আহ্বান জানানো হয়। সাধারণ চালকরা এই আহ্বানে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিয়ে গাড়ি থেকে নেমে ‘নো হর্ন, নো ডাস্ট’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে রাজপথে অবস্থান করেন। গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকায় সমন্বিতভাবে এই সচেতনতা কার্যক্রমের প্রসার ঘটানো হচ্ছে।
ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মিজানুর রহমান শেলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই আয়োজনে প্রায় ১৫০ জন ট্রাফিক সহায়তাকারী সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এই প্রতীকী নীরবতা পালনের মূল উদ্দেশ্য ছিল হর্ন বাজানোর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে চালকদের সচেতন করা এবং রাস্তাঘাট ধূলিমুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তা জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা।