প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, জার্মানির মিউনিখে তার ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি আজ তাঁর মিউনিখ সফরের বিষয়ে রাজধানীর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।
তাঁর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ নিচে দেয়া হলো:
“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম। শুভ সকাল। গত ১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত ৬০তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন মূলতঃ রাষ্ট্র/সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, সরকারি এবং বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিগণের অংশগ্রহণ করেন। এটি সমকালীন ও ভবিষ্যত নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্চ-পর্যায়ের নিয়মিত আলোচনার একটি শীর্ষস্থানীয় ফোরাম হিসেবে বিবেচিত। এ বছরের ফোরামে ৩৫-জনেরও বেশী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান অংশগ্রহণ করেছেন।
বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দিতা এবং আঞ্চলিক সংঘাত, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নিউক্লিয়ার নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু নিরাপত্তা, তথ্য নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা, অভিবাসন, সাপ্লাই চেইন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মহামারি ইত্যাদি বিষয়ে এবারের ফোরামে আলোচনা করা হয়।
সফরের প্রথম দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি ‘ফ্রম পকেট টু প্লানেট: স্কেলিং আপ ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করি। এই আলোচনায় আমার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত মান্যবর জন কেরি, বারবাডোসের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মিয়া আমোর মটলে, এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোসা জামির।
প্যানেলটিতে উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে আমি বক্তব্য প্রদান করি। বক্তব্যের শুরুতেই আমি গাজা ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহ, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং নিরস্ত্র মানুষের, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের, অমানবিক হত্যার কবল থেকে মুক্ত করে সকল প্রকার যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার জোর আহ্বান জানাই। আর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা-নিষেধাজ্ঞার বিরূপ প্রভাব যে যুদ্ধক্ষেত্র থেকেও বহুদূর পর্যন্ত অনুভূত হয়, এ বিষয়ে আমি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। এ প্রসঙ্গে আমি অর্থহীন অস্ত্র-প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় রসদ ও অর্থায়ন সহজলভ্য ও কার্যকর করার জন্য সকলকে অনুরোধ করি। মানবতার অস্তিত্বের সংটকালে ক্ষুদ্র স্বার্থ যে শুধু অনর্থই বয়ে আনে - এই রূঢ় বাস্তবতা আমি সকলের সামনে তুলে ধরি। আর তাই, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানাই।
আমি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার জন্য বিশ্বের সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বহুবিধ নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ও জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের পরিমাণ বৃদ্ধি, প্রতিশ্রুত অর্থের বাস্তবিক হস্তান্তর, ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিতকরার উপর আমি বিশেষভাবে জোর দেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় আমি ধনী দেশসমূহের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই।
এদিন আমার হোটেল স্যুইটে উইমেন পলিটিক্যাল লিডার্স (ডব্লিউপিএল)-এর সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মিসেস সিলভানা খক্ মেহরিন আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান এবং গত দেড় দশকে বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য আমাকে ডব্লিউপিএল-জি ট্রাইলব্লাজের এওয়ার্ড ২০২৩ গ্রহণের জন্য তিনি আমাকে আগামী ২০ মার্চ ২০২৪ তারিখ এথেন্সে অনুষ্ঠিতব্য ডব্লিউপিএল সামিট-এ অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। আলোচনায় আমি আমাদের সরকারের- বিশেষ করে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত নীতিসমূহের বিষয়ে আলোকপাত করলে এ বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বাংলাদেশের নীতি ও কার্যক্রমসমূহ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
একইদিন আমি কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোহাম্মদ বিন্ আব্দুলরাহ্মান আল-সানি-র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জ্ঞাপনের পাশাপাশি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, এলএনজি সরবারহ প্রভৃতির পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই ও দ্রুত সমাধানে কাতারের অব্যাহত সমর্থনের ব্যাপারে তিনি আশ্বস্ত করেন। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সহিংসতা বন্ধে একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও আমরা আলোচনা করি।
এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন নীতি ও অংশীদারিত্ব বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মান্যবর আক্সেল ভন ট্রটসেনবার্গ। বাংলাদেশে ও বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের অংশীদারিত্বের প্রেক্ষাপটে আমি মধ্যম আয়ের দেশভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবদানের আলোকে বর্তমান অর্থবছরে বাজেট সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংক হতে অঙ্গীকারকৃত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দ্রুত ছাড়ের আহ্বান জানাই। পাশাপাশি আমি জোরপূর্বক স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে এবং এই সমস্যার বিরূপ প্রভাবে আক্রান্ত দেশ হিসেবে বাংলাদশকে প্রদত্ত ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন সহায়তার জন্যও তাকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয় ও উচ্চ-আয়ের দেশের পর্যায়ে উত্তীর্ণ হবার কাঙ্ক্ষিত পথে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেন।
একই দিনে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মান্যবর ডক্টর টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসাস আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে-বিশেষ করে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আসন্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশে আমাকে আমন্ত্রণ জানান এবং বিশ্বের বাকি দেশসমূহকে বাংলাদেশের কম্যুনিটি ক্লিনিক মডেল অনুসরণ করার বিষয়ে অনুপ্রাণিত করার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন।
আলোচনাকালে আমি বর্তমান সরকারের সেকেন্ডারি ও টার্শিয়ারি স্বাস্থ্যসেবা, টীকা উৎপাদন, এন্টি-মাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ, নার্সিং ও অন্যান্য স্বাস্থ্যখাতে মানব সম্পদ উন্নয়ন ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের কথা উল্লেখ করে এতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তা আশা করি। এ বিষয়ে মহাপরিচালক আমাকে আশ্বস্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক অতিমারি চুক্তি-এর দ্রুত সমাপনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমর্থন কামনা করেন।
এইদিন আমার সঙ্গে আরও সাক্ষাৎ করেন মেটা-জি গ্লোবাল এফেয়ার্স এর প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী স্যার নিক্ ক্লেগ্। তিনিও আমাকে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতের উন্নয়ন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্র সুবিস্তারে সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রংসা করেন তিনি। আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনে আমাদের সফলতা তুলে ধরি এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ ও তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে মেটা-এর সহযোগিতা আশা করি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে বিভিন্ন মেটা প্ল্যাটফর্ম যেমন ফেইসবুক, হোয়াটস্অ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম প্রভৃতির ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারির সুউচ্চ সংখ্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি বাংলাদেশে মেটা-এর একটি কার্যালয় স্থাপনের পরামর্শ দিই।
প্রথম দিন আমি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মেটে ফ্রেডরিক্সেন-এর সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমাকে ও আমাদের নবগঠিত সরকারকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানোর জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আলোচনাকালে বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আইসিটি খাতে ড্যানিশ কোম্পানিসমূহের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের পাশাপাশি তিনি বিরাজমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকারের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকার বিষয়েও আমাকে আশ্বস্ত করেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মার্ক রুটে আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। আলোচনাকালে আমরা দু’জনই বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতসমূহে জ্ঞান-প্রযুক্তি-উদ্ভাবন বিস্তারে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও গভীরতর করার বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।
একইদিন সকালে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী মান্যবর ডক্টর এস. জয়শংকর। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। সাক্ষাৎকালে আমরা উভয়ই দুই বন্ধু-রাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং দু’দেশের বাণিজ্য নিজস্ব মুদ্রায় পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত পোষণ করি। তিনি আগামী এপ্রিল/মে মাসে ভারতীয় সাধারণ নির্বাচন পরবর্তীকালে দু’দেশের নতুন সরকারের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত পঞ্চ-বার্ষিক সহযোগিতা বিষয়ক রোডম্যাপ প্রণয়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে আমরা মায়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিষয়েও পারস্পরিক মতবিনিময় করি।
এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাইট অনারেবল্ লর্ড ক্যামেরন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রেরিত শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এসময় আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান চলাচল অংশীদারিত্ব, অভিবাসন, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ এবং মায়ানমার ও লোহিত সাগরে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করি।
একই দিনে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন জার্মান আর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রী মান্যবর সভেনিয়া শুলৎজা। আলোচনাকালে আমরা ইইউ-এর জিএসপি+ বাণিজ্য সুবিধাসহ পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জার্মান বিনিয়োগ এবং সার্বিক জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বর্ধিতকরণের বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।
এইদিন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ভ্লাদিমীর জেলেন্স্কি আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে আমরা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং গম, ভোজ্যতেল ও অন্যান্য কৃষিপণ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করি। আমি তাঁকে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের দ্রুত সমাধানের কার্যকর উপায় অন্বেষণের অনুরোধ করি। এছাড়াও আমরা গাজা উপত্যকায় সংঘাতের বিষয়ে মতবিনিময় করি।
এরপর আমি আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ইল্হাম আলিইয়্যেভ-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমরা পরস্পর পরস্পরকে পঞ্চমবারের মতো পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানাই। আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করি। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে নেতৃত্বদানের জন্য আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি আমাকে ধন্যবাদ দেন এবং এবছর নভেম্বরে বাকু-তে অনুষ্ঠিতব্য কপ২৯-এ যোগদানের জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানান। আলোচনাকালে আমরা উভয়ই জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা প্রভৃতি বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি।
এদিন আমি জার্মান চ্যান্সেলর মান্যবর ওলাফ শোলজ্-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বৈঠককালে আমরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও হাইড্রোজেন প্রযুক্তি এবং দক্ষ অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করি। এছাড়াও, আমরা ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গে মতবিনিময় করি এবং এসকল সংঘাত দ্রুত অবসানের বিষয়ে কার্যকর উপায় অন্বেষণের জন্য আমি তাঁকে অনুরোধ করি।
এছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি জার্মান আওয়ামী লীগ আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনা সভায় যোগদান করি এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি আমি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করি।
মিউনিখে আমার এই ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। দেশের আকার নয় বরং নীতির শক্তিতেই যে মানবতার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক মুক্তি, এবারের সম্মেলনে আমি এই বার্তাই বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছি। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমূহের মাধ্যমে বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাথে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আরও দৃঢ় হয়েছে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে।
আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”
বরিশাল-ভোলা সড়কে কালাবাঁদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ওপর ভোলা সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি পিপিপির ভিত্তিতে গ্রহণের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটি। এ সেতুর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১১ কিলোমিটার। সংশ্লিষ্টরা বরছেন, এই সেতু বাস্তবায়ন হলে শুধু যোগাযোগই নয়, খুলে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত।
প্রকল্পটির সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। নির্মাণের পর এটিই হবে দেশের সবচেয়ে বড় সেতু। বুধবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে এই কমিটির সভা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সভা সূত্রে জানা গেছে, ভোলা জেলার সঙ্গে বরিশালসহ ঢাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ১০.৮৬৭ কি.মি. দীর্ঘ সেতু (৪-লেন) এবং ১৮.০৭৫ কি.মি. দীর্ঘ নদীর তীর রক্ষামূলক কাজ করা হবে।
সম্ভাব্য সমীক্ষায় প্রকল্পটি অর্থনৈতিক দিক থেকে প্রহণযোগ্য প্রতীয়মান হওয়ায় প্রকল্পটি পিপিপি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
প্রকল্পটির সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। সেতুটি চালু হওয়ার পর ২০৩৩ সালে এ সেতু দিয়ে দৈনিক প্রায় ৪,৯৯৬টি যানবাহন চলাচল করবে এবং ২০৬২ সালে ৪১ হাজার ৮৬৫টি যানবাহন চলাচল করবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৫০৭.৫ একর জমি অধিগ্রহণ এবং ইউটিলিটিজ স্থানান্তর বাবদ সকল ব্যয় সরকারের খাত হতে নির্বাহ করা হবে।
ভোলা বাংলাদেশের একমাত্র দ্বীপজেলা যা সম্পূর্ণভাবে নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন। বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুরসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে এর যোগাযোগ নির্ভর করে নৌপথের ওপর।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বরিশাল দক্ষিণাঞ্চলের মূল নগরী হলেও ভোলা থেকে সরাসরি কোনো সড়ক বা রেল সংযোগ নেই। এই পরিস্থিতিতে ভোলা-বরিশাল সেতু একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে। বর্তমানে ভোলা থেকে বরিশাল যেতে নৌপথে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য সময় ও অর্থ দুইয়েরই অপচয়। ভোলা থেকে বরিশাল যেতে বর্তমানে ফেরি বা লঞ্চ ব্যবহার করতে হয়, যেখানে সময় লাগে প্রায় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। সেতু নির্মাণ হলে এই সময় কমে দাঁড়াবে মাত্র ১০-২০ মিনিটে। ফলে সহজতর হবে রোগী পরিবহন, জরুরি সেবা ও পণ্য পরিবহন। শিক্ষার্থীরা দ্রুত বরিশাল বা ঢাকায় পৌঁছাতে পারবে, উন্নত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে আগ্রহী হবে।
তারা আরো বলেন, সেতু হলে এসব এলাকাতে সহজে ও স্বল্প খরচে যাওয়া সম্ভব হবে। এতে পর্যটকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। যেখানে পর্যটক, সেখানে অর্থনীতি। সেতু হলে স্থানীয় পর্যায়ে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, গাইড সার্ভিস, নৌভ্রমণ, লোকাল হ্যান্ডিক্র্যাফট বিক্রি—এইসব খাতে কর্মসংস্থান তৈরি হবে। স্থানীয় মানুষের জীবিকা উৎস ও আয় বাড়বে। বিশেষ করে নারীদের জন্য হস্তশিল্প বা হোম-কিচেন ভিত্তিক উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ বাড়বে। নতুন ব্যবসা, দোকানপাট, পরিবহন সার্ভিস তৈরি হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি সেতু সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠতে পারে নতুন আবাসিক ও বাণিজ্যিক জোন। এতে ভোলা-বরিশালকে ঘিরে একটি নতুন আর্থিক অঞ্চল তৈরি হবে।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, পরিবেশের সমস্যা কেবল একটি অর্থবছরের বা পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার বিষয় নয়, এটি মানব সভ্যতার অস্তিত্বের সংকট। তিনি তরুণ প্রজন্মকে নিছক একাডেমিক জ্ঞানার্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতি, জ্বালানি সংকট এবং পরিবেশের মধ্যকার গভীর যোগসূত্র অনুধাবন করার আহ্বান জানান।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন) আয়োজিত ‘সবুজ জ্বালানি অলিম্পিয়াড ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবেশগত সমস্যাগুলো অনেক সময় দৃশ্যমান হয় না বলে সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হওয়ার আগে এর ভয়াবহতা বুঝতে পারে না। এমনকি বিশ্বের অনেক ক্ষমতাধর রাষ্ট্রনায়কও বিজ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ করে জলবায়ু পরিবর্তনের সত্যকে অস্বীকার করেছেন। এই পরিস্থিতিতে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করা এবং সেই সচেতনতাকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
বিশ্বের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, হরমুজ প্রণালীর সংকটের কারণে বিশ্ব আজ জ্বালানি ও অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়েছে। আমাদের আমদানি-নির্ভর জ্বালানি নীতি ও বাণিজ্যিক ঘাটতি অর্থনীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারক হিসেবে আজকের তরুণদের বুঝতে হবে যে, জ্বালানি উৎপাদনের উৎসের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার রক্তাক্ত চেহারা আসলে কেমন।
তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ শিল্প’ এবং উগ্র জাতীয়তাবাদ কীভাবে বিশ্ব রাজনীতিকে প্রভাবিত করে এবং পরিবেশের ক্ষতি করে, তা তরুণদের জানতে হবে। পরিবেশ বিজ্ঞানের জ্ঞানকে সামাজিক ও রাজনৈতিক ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে তা প্রয়োগযোগ্য জ্ঞানে রূপান্তরিত হবে।
অনুষ্ঠানে সবুজ জ্বালানি অলিম্পিয়াডের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশ রক্ষা নিয়ে তরুণদের এই আগ্রহ একটি টেকসই বাংলাদেশ গড়ার পথে বড় শক্তি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভিন্ন বিভাগের সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
উল্লেখ্য, দুদিনের এই অলিম্পিয়াডে লিখিত পরীক্ষা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং উপস্থিত বক্তৃতার মাধ্যমে সেরা বিজয়ীদের নির্বাচন করা হবে।
আট মাসে অবৈধ প্রক্রিয়ায় ২৮৬ সাব-রেজিস্ট্রার বদলি করে শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তার পিএস মাসুমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চেয়ে দুদকে আবেদন করেছেন ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুর্নীত দমন কমিশনে (দুদক) এ আবেদন করা হয়। বিষয়টি ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন নিজেই নিশ্চিত করেছেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন সাব-রেজিস্ট্রার বদলি ও পদায়নে ব্যাপক অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন ও নীতিমালা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে সাব-রেজিস্ট্রারদের পছন্দের কর্মস্থলে বদলি দিতে জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে মোট লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা হতে পারে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে বদলি করা হয়, যার মধ্যে অন্তত ২০০ জন ঘুষের মাধ্যমে পছন্দের সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বদলি নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অতীতে মাত্র আট মাসে এত বিপুলসংখ্যক বদলির নজির নেই বলেও আবেদনে দাবি করা হয়।
আবেদনে আরও বলা হয়, বদলির নীতিমালা অনুযায়ী এ, বি ও সি গ্রেডের অফিসে একই গ্রেডের কর্মকর্তাদের পদায়ন করার বিধান থাকলেও তা মানা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষের বিনিময়ে সি ও বি গ্রেডের সাব-রেজিস্ট্রারদের এ গ্রেডের অফিসে পদায়ন করা হয়েছে। এমনকি যোগদানের আগের দিনও বদলির আদেশ পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, বদলি-বাণিজ্যের মাত্রা এতটা বেড়ে যায় যে গত বছরের ১ জুন আইন মন্ত্রণালয় নিজেই একটি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে বলা হয়, জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার বদলি-পদায়নে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই এবং এ ধরনের প্রতারণা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়। তবে আবেদনকারীর দাবি, ওই বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই শত শত বদলিতে বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়ে যায়।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আসিফ নজরুল একাধিক জেলা রেজিস্ট্রারের পদোন্নতি ও বদলির আদেশ দেন। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় ১৭ জন সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি করা হয়। সেই আদেশেই নীতিমালা ভঙ্গ করে কয়েকজনকে গ্রেডের বাইরে পদায়ন করা হয় বলে অভিযোগ।
আবেদনে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, নীলফামারীর জলঢাকার সাব-রেজিস্ট্রার মনীষাকে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে বদলি করা হয়। পরে চার মাসের মধ্যে তাকে আবার দিনাজপুরের হাকিমপুরে বদলি করা হয়। কিন্তু যোগদানের আগের দিনই আবার তাকে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ধরনের অনেক উদাহরণ রয়েছে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন তার আবেদনে অভিযোগ করেন, আইন উপদেষ্টার পিএস শামসুদ্দিন মাসুমের মাধ্যমে এসব ঘুষ লেনদেন পরিচালিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বদলি-বাণিজ্যের বাইরে ‘অনুরোধ’ ও ‘নির্দেশ’-বাণিজ্যের মাধ্যমেও সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি যথাযথভাবে অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে যদি ইতোমধ্যে দুদক কোনো অনুসন্ধান শুরু করে থাকে, তাহলে সে তথ্য আবেদনকারীকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
সন্ত্রাসবিরোধী আইন পাস ও ন্যায়বিচার প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেছেন, আইন অনুযায়ী দেশের সব মানুষের বিচার হবে। যিনি দোষ করেছেন তার বিচার হবে, নির্দোষ হলে হবে না। আমরা কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। অতীত সরকার যা করে গেছে, আইন অনুযায়ীই তার ফয়সালা হবে। বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতি পরিহারের দর্শন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন- ‘আমরা ভালোবেসে মানুষের হৃদয় জয় করব’। তারেক রহমান মনে করেন- তিনি বাংলাদেশের সব মানুষের প্রধানমন্ত্রী। যারা তাকে ভোট দিয়েছে এবং ভোট দেয় নাই, উনি সবারই প্রধানমন্ত্রী। আইনের শাসনের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং কেউ অপরাধী প্রমাণিত হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী বিচার হবে, দল বিবেচনায় নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না।
সংসদে বিল পাসের গতি নিয়ে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পাসের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা ৪৪টি অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস করেছি।
জনগণের দেওয়া আমানতের মর্যাদা রক্ষায় সংসদ সদস্যরা কঠোর পরিশ্রম করছেন উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, সংসদ বর্তমানে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩ অনুযায়ী নির্ধারিত ৩০ দিনের সময়সীমার মধ্যে ১৩৩টি অধ্যাদেশ পাশ করার চাপে রয়েছে। ইতোমধ্যে ৪৪টি অধ্যাদেশ পাশ করা হয়েছে। দ্রুত অগ্রগতির জন্য একাধিক অধ্যাদেশকে একীভূত করে বিল আকারে উত্থাপন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়সীমার ভিতর অধ্যাদেশগুলো পাশ করার জন্য সংসদে বসবে অতিরিক্ত অধিবেশন; প্রয়োজনে শুক্রবারও দুই বেলা অধিবেশন বসতে পারে।
এর আগে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদীয় দলের বৈঠকের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, সংসদীয় দলের বৈঠক নিয়মিত একটি প্রক্রিয়া। সেখানে সংসদে সদস্যদের করণীয় এবং আগামী দিনের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
এদিকে, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজপথের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও ত্যাগী নেত্রীরাই অগ্রাধিকার পাবেন বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, যারা রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এবং সংসদে ভূমিকা রাখতে পারবেন, এমন নেত্রীদেরই সংসদ নেতা খুঁজে বের করবেন।
চিফ হুইপ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, নারীরা সংসদে আসুক। যত দ্রুত আসে ততই লাভ। নারীদের ক্ষমতায়নের জন্যই আমরা ফ্যামিলি কার্ড করেছি।
রাজনীতিতে যারা দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এবং সংসদে কন্ট্রিবিউট করতে পারেন, তাদেরই আমরা অগ্রাধিকার দেব। আমি মনে করি সংসদ নেতার সিদ্ধান্ত নির্ভুল হবে এবং তিনি সব সেকশনের রিপ্রেজেন্টেশন নিশ্চিত করবেন।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান শরিফ হাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ২ আসামিকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে ভারত। একই সঙ্গে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা, বিশেষ করে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা সহজ করার আশ্বাস দিয়েছে দেশটি। বুধবার (৮ এপ্রিল) নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এ কথা জানান।
এ বিষয়ে বুধবার (৮ এপ্রিল) ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও তার প্রতিনিধিদলকে আতিথ্য দিতে পেরে আনন্দিত। তিনি বলেন, আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করেছি। এছাড়াও আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ঘটনাবলি নিয়ে মতবিনিময় করেছি। ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছি।
এদিকে, নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৈঠকে ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করার জন্য ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান খলিলুর রহমান।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী গ্রেপ্তার দুজনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে উভয়পক্ষ সম্মত হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও ছিলেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে দিল্লি সফরে গেছেন।
২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে যে টানাপড়েন তৈরি হয়, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর সম্পর্কের সেই বরফ গলার ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম মন্ত্রী হিসেবে ভারত সফরে গেলেন খলিলুর রহমান। এই ‘শুভেচ্ছা’ সফরে গত মঙ্গলবার দিল্লি পৌঁছান তিনি।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে হায়দরাবাদ হাউসে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন নিজেদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে। তার আগে সকালে ভারতের কয়েকজন সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ সভায় যোগ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বিকেলে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে তার বৈঠক হয়।
পারস্পরিক মর্যাদা ও আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা নিয়ে ভারতে যাওয়ার প্রথম দিনেই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন খলিলুর রহমান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার আগে অন্তর্বর্তী সরকার আমলে খলিলুর রহমানও বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ড. খলিলুর রহমানের সফরে জ্বালানি সহায়তা, ভারতের পর্যটন ভিসা চালু, গঙ্গা চুক্তি নবায়ন, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বাণিজ্য সম্পর্কিত ইস্যুগুলো প্রাধান্য পায়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও আলোচনা হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জয়শঙ্কর এবং খলিলুর রহমান সকালে মরিশাসের উদ্দেশে দিল্লি ছাড়বেন। ১১ ও ১২ এপ্রিল মরিশাসের রাজধানী পোর্ট লুইসে এই সম্মেলন হবে। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও এসব বৈঠকে যোগ দেবেন।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, কনফারেন্সে যোগ দিতে একই ফ্লাইটে রওনা হবেন জয়শঙ্কর এবং খলিলুর রহমান। প্রায় ১০ ঘন্টার ফ্লাইটে দ্বিপক্ষীয় নানা বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে পারেন।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, যানজট নিরসন এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাসের সমন্বিত পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীরাও আগ্রহ প্রকাশ করছে। বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আলোচনায় এ আগ্রহের কথা জানান তারা।
শিক্ষার্থীরা বলছে, প্রতিদিন দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকার কারণে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ক্লাসে পৌঁছতে দেরি হওয়ায় পড়াশোনায়ও ব্যাঘাত ঘটছে। এছাড়া যাতায়াতের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যবহারের ফলে ব্যক্তিগত খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি জাতীয় পর্যায়েও চাপ তৈরি হচ্ছে।
বুধবার দুপুরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়’ বিষয়ক সেমিনারে এ কথা বলেন তারা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই সেমিনার আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলেন, সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস চালু করা হলে- তা নগর জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে যানবাহনের চাপ কমবে, জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং শিক্ষার্থীদের সময় ব্যবস্থাপনাও সহজ হবে। তবে তারা একই সঙ্গে উল্লেখ করেন, অনলাইন শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সব শিক্ষার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।
অভিভাবকরা বলছেন, পুরোপুরি অনলাইন না হলেও হাইব্রিড পদ্ধতি—অর্থাৎ কিছু ক্লাস অনলাইনে ও কিছু সরাসরি—চালু করা গেলে তা কার্যকর সমাধান হতে পারে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, তীব্র যানজট ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় দেশের রাজধানীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাশের সমন্বিত (হাইব্রিড) পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সব স্কুলে একযোগে নয়, বরং যেসব প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা রয়েছে, সেগুলোতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে, যাতে জ্বালানি সাশ্রয়, যানজট কমানো এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব ইতিহাসে নানা সংকটই নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতেও শিক্ষাব্যবস্থাকে থামিয়ে না রেখে নতুন পদ্ধতিতে এগিয়ে নিতে হবে। অতীতে বিশ্বযুদ্ধ, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন কিংবা সামাজিক রূপান্তরের মতো ঘটনাগুলো নতুন নতুন শিল্প ও সুযোগ সৃষ্টি করেছে। একইভাবে বর্তমান জ্বালানি সংকট, যানজট ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকেও নতুনভাবে ভাবতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের শিক্ষা হবে প্রযুক্তিনির্ভর ও অনেকাংশে পেপারলেস। সংসদ থেকে শুরু করে শ্রেণিকক্ষ-সব জায়গায় ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়বে। শিক্ষার্থীদেরও সেই বাস্তবতার জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
শিক্ষকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনলাইন ক্লাস কার্যকর করতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও তদারকি বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে অনলাইনে মনোযোগী থাকে, সে বিষয়েও নজরদারি প্রয়োজন। সরকার ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। যেমন-এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা নির্ধারণ, অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন ইত্যাদি। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক পরিবহণের ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, বর্তমানে পুরো পৃথিবী এসটি সংকেটের মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী আপনাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী অত্যন্ত বিচক্ষণ একজন মানুষ। তিনি শিক্ষার জন্য বহুদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা সবাই প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করছি। আমরা আপনাদের সরকার, আপনারা যা বলবেন আমরা তা শুনব। সেই জন্য আজকের এই আয়োজন। আমরা যেন সবার সহযোগিতায় বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে পারি সেই উদ্দেশে কাজ করছি।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া।
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পারস্য উপসাগরে দীর্ঘ ২৮ দিন আটকে থাকার পর অবশেষে নোঙর তুলেছে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় জাহাজটি তার গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন এই জাহাজটিতে বর্তমানে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কমডোর মাহমুদুল মালেক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'আজ বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে রওনা করেছে। সেখান থেকে হরমুজ প্রণালির মুখে আসতেই ৪০ ঘণ্টা সময় লাগে। আমাদের নির্দেশনা, এটি হরমুজ প্রণালির পার হওয়ার আগে নিরাপদে অবস্থান করবে। ইরান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশ থেকে নির্দেশনা দিলে হরমুজ প্রণালি পার হবে।’
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘মেরিন ট্রাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ২টার দিকে জাহাজটি ৯ দশমিক ৫০ নটিক্যাল মাইল গতিতে পারস্য উপসাগর দিয়ে এগোচ্ছিল।
বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করেছিল। পরবর্তীতে কাতারের একটি বন্দর থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সেটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। এর ঠিক পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় সংঘাত।
গত ১১ মার্চ জেবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাস শেষ হওয়ার পর কুয়েতের একটি বন্দরে নতুন করে পণ্য বোঝাই করার কথা ছিল। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ঝুঁকি এড়াতে বিএসসি সিদ্ধান্ত নেয় জাহাজটিকে দেশে ফিরিয়ে আনার। তবে নিরাপত্তার অভাবে সে সময় জাহাজটি মাঝপথ থেকেই আগের অবস্থানে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। দীর্ঘ ২৮ দিনের উৎকণ্ঠা শেষে আজ আবার নিজ গন্তব্যের পথে রওনা হলো ‘বাংলার জয়যাত্রা’।
ছাড়পত্রের অপেক্ষায় ‘নর্ডিক পলক্স’
এদিকে গত ৩ মার্চ থেকে সৌদি আরবের রাস তানুয়ারা বন্দরে আটকে আছে ‘নর্ডিক পলক্স’ নামক একটি তেলের ট্যাঙ্কার। জাহাজটি বাংলাদেশের জন্য প্রায় ৬০০ কোটি টাকা মূল্যের ১ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) বহন করছে। তবে এখন পর্যন্ত জাহাজটি ছেড়ে আসার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, ‘আমরা এখনো কোনো জাহাজ পার হওয়ার ক্লিয়ারেন্স পাইনি। তবে হরমুজ প্রণালির মুখে যেতে ৩৮-৪০ ঘণ্টা সময় লাগবে। এই জন্য ‘বাংলার জয়যাত্রা’ যাত্রা শুরু করেছে। এ সময়ের মধ্যেই ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার চেষ্টা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নর্ডিক পলক্স-এর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এটা ইউএসএ-র কোম্পানির জাহাজ। ক্লিয়ারেন্স পেলেই এটি যাত্রা শুরু করবে। হরমুজ প্রণালির মুখে যেতে এই জাহাজেরও ৪০ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে।’
দীর্ঘদিন ধরে এই বিশাল পরিমাণ জ্বালানি তেল আটকে থাকায় দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও ‘বাংলার জয়যাত্রা’ ইতোমধ্যেই যাত্রা শুরু করেছে, তবে ‘নর্ডিক পলক্স’-এর ক্ষেত্রে মার্কিন মালিকানা এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়াটি কিছুটা জটিল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিএসসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে দ্রুত জাহাজটি দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার সরওয়ার বলেছেন, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নানা সংগঠনের উদ্যোগে বৈশাখী অনুষ্ঠান হবে। এ বছর অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাড়তি জনসমাগমের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সকল নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
আসন্ন বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ ও পয়লা বৈশাখ উদ্যাপনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরে এ সংক্রান্ত সমন্বয় সভা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সভায় ডিএমপি কমিশনার বলেন, সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে একটি সুপরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরবচ্ছিন্ন চলাচল বজায় রাখাই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য।
সভায় বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে নিরাপত্তা, চিকিৎসা সেবা, অগ্নিনির্বাপণ ও নগর সেবাসংক্রান্ত প্রস্তুতি নিয়ে মতামত দেন।
এ ছাড়া সভায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বাংলা একাডেমি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ডিএমপির পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয় এবং তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বুধবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত বারোনেস রোসির সৌজন্য সাক্ষাতে বিষয়টি ওঠে আসে।
সাক্ষাতে দুদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বিমান ও পর্যটন খাতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে, সদ্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) আওতায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে যুক্তরাজ্যের সম্পৃক্ততার বিষয়ে আলোচনা হয়।
যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, ‘ভবিষ্যতেও বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যুক্তরাজ্যের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।’
গত মার্চ মাসে দেশের সীমান্ত এলাকাসহ অন্যান্য স্থানে অভিযান চালিয়ে সর্বমোট ১৬৫ কোটি ৭৬ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকারের চোরাচালান পণ্যসামগ্রী জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বুধবার (৮ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, জব্দকৃত চোরাচালান দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- ৪৬৫ গ্রাম স্বর্ণ, ১৬,৬৭৮টি শাড়ী, ৬,০৫৬টি থ্রিপিস/শার্টপিস/চাদর/কম্বল, ৬,৯৯৪টি তৈরী পোশাক, ৭৭২ মিটার থান কাপড়, ৪,৬৯,৮৬৪টি কসমেটিক্স সামগ্রী, ৯,২৩৯ পিস ইমিটেশন গহনা, ৬৫,০২,৪৫৭টি আতশবাজি, ৩,৮২৯ ঘনফুট কাঠ, ৬,২৫৯ কেজি চা পাতা, ২,৯৮২ কেজি সুপারি, ৮,৫৯০ কেজি কয়লা, ৭,০৯০ ঘনফুট পাথর, ২৩০ ঘনফুট বালু, ৩৮২টি মোবাইল, ১১,৯০০পিস মোবাইলের ডিসপ্লে, ৭০,০৮১টি চশমা, ৫৩,৯৮৮ কেজি জিরা, ২০,৭২৩ কেজি চিনি, ৯,৯৬১ প্যাকেট বিভিন্ন প্রকার খাদ্য সামগ্রী, ২,৩০৯ কেজি পিয়াজ, ১,৮৭৯ কেজি রসুন, ১,৯৪০ কেজি সার, ১,৬১৪ প্যাকেট কীটনাশক, ২,০৯,০২১ পিস চকোলেট, ১১টি কষ্টি পাথরের মূর্তি, ১টি বেলে পাথরের মূর্তি, ৮টি ট্রাক/কাভার্ড ভ্যান, ৪২টি ট্রাক্টর/চাঁদের গাড়ি, ১৭টি পিকআপ, ৩টি প্রাইভেটকার/বাস, ২টি ট্রলি/মাইক্রোবাস, ২০টি সিএনজি/ইজিবাইক, ৪১টি মোটরসাইকেল এবং ২২টি বাইসাইকেল/ভ্যান।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- ০১টি এসএমজি, ০১টি বিদেশি/দেশিয় পিস্তল, ১৩টি ম্যাগাজিন, ৩৫ রাউন্ড গোলাবারুদ, ০২টি মাইন এবং ০৩টি অন্যান্য অস্ত্র।
এছাড়াও গত মাসে বিজিবি কর্তৃক বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে- ১১,২৫,৯৭৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৮৪৫ গ্রাম হেরোইন, ১২ বোতল এলএসডি, ২,০৪৫ বোতল ফেনসিডিল, ১ কেজি ৭৯০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস, ৮,১২৯ বোতল বিদেশি মদ, ১৭০.৫ লিটার বাংলা মদ, ২,৩৬৮ বোতল ক্যান বিয়ার, ১,১৩৩ কেজি ৪৫০ গ্রাম গাঁজা, ১,২৪,৮৪০ প্যাকেট বিড়িও সিগারেট, ১,৮৩,৬৬১টি নেশাজাতীয় ট্যাবলেট/ইনজেকশন, ৪,৬৬৫ বোতল ইস্কাফ সিরাপ, ২,৯৬৮টি এ্যানেগ্রা/সেনেগ্রা ট্যাবলেট এবং ৩৬,৮৬০ পিস মদ তৈরীর বড়ি ও ২১,৪৪,১৫২ পিস বিভিন্ন প্রকার ঔষধ/ট্যাবলেট
সীমান্তে বিজিবি’র অভিযানে ইয়াবাসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ১১২ জন চোরাচালানী এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৮২ জন বাংলাদেশি নাগরিক, ০৯ জন ভারতীয় নাগরিক ও ৩১৭ জন মিয়ানমার নাগরিককে আটকের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রথম দেখায় যে কারওরই মনে হতে পারে এটি একটি কলম। কিন্তু না, হাতে নিয়ে দেখলে জানা যাবে সাধারণ এই কলমটি কাগজে লেখা জন্য নয়, বরং এটি মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র। কলমের ইংরেজি প্রতিশব্দের সঙ্গে মিলিয়ে হয়েছে এর নামকরণ— ‘পেনগান’। সম্প্রতি পুরান ঢাকার নয়াবাজারে যুবদল নেতা রাসেলকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় এই নতুন ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে উদ্বিগ্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্তে জানা গেছে, দেখতে সাধারণ কলমের মতো হলেও ‘পেনগান’ আসলে একটি মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র, যা সহজে বহন ও গোপন রাখা যায়। এর ভেতরে গুলি করার মতো ইস্প্রিন্টার রয়েছে। এমনকি ব্যবহারের পর অস্ত্রটি একটি সিগারেটের প্যাকেটে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
এই ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- সায়মন এবং সোহেল ওরফে কাল্লু। তাদের কাছ থেকেই কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, প্রায় ৮০ হাজার টাকায় এই অস্ত্র সংগ্রহ করা হয়েছিল।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অস্ত্রটির কোনো নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নাম বা চিহ্ন না থাকায় এর সঠিক উৎস নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি ভারত বা পাকিস্তান থেকে দেশে এসেছে। অতীতে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে চরমপন্থিদের কাছে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের তথ্যও রয়েছে। এমন কি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এক সংসদ সদস্য হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামির কাছেও এমন অস্ত্রের তথ্য পাওয়া গেছে পাওয়া যায়। যদিও সেই সময়ে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয় নি।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, ৩ এপ্রিল বিকেলে মোবাইল ফোনে ডেকে রাসেলকে সায়মনের বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। তবে গুলির পর মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়ায় গুলির ঘটনায় জড়িত সায়মন ও রিপন দাস তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরার আশঙ্কায় রোগী নিয়ে সটকে পড়েন তারা৷ পরে সায়েন্সল্যাব এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেও আসামিরা রাসেলে পাশে হাসপাতালে উপস্থিত ছিল। পরে স্বজনরা আসায় তারা সটকে পড়েন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের অস্ত্র অতীতে রাজধানীতে ব্যবহারের কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। পেনগানটি কীভাবে দেশে এলো, কারা এর সঙ্গে জড়িত—এসব বিষয় গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, অস্ত্র সরবরাহকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি এ ধরনের অস্ত্র দেশের অন্য কোথাও ব্যবহৃত হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আহত রাসেল কোতয়ালী থানা যুবদলের সদস্য। এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পেছনের বিরোধ ও উদ্দেশ্য উদঘাটনেও কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা চেষ্টা মামলা হয়েছে।
ডিবির লালবাগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নূরে আলম বলেন, অস্ত্রটি কীভাবে দেশে এসেছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত তা তদন্ত করা হচ্ছে। অস্ত্র সরবরাহকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযানও চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের অন্য কোথাও এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জানা গেছে, ‘পেনগান’ মূলত একটি ছদ্মবেশী আগ্নেয়াস্ত্র। অস্ত্রটির ভেতরে থাকে ছোট আকারের ফায়ারিং মেকানিজম। স্বল্প দূরত্বে গুলি ছুড়তে ব্যবহৃত হয় ‘পেনগান’।
হাম নিয়ন্ত্রণে সরকার ১৪ দিন এগিয়ে এনে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন করেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশে হামের টিকার মজুত স্থিতিশীল আছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে হামের টিকা দেওয়া শুরু হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা ব্যবস্থাপনায় অবহেলার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। সেই সংকট কাটিয়ে উঠছে সরকার। হামের টিকা নিয়ে কোনো সংকট নেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশের শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা গত ৯ মাস যাবৎ বেতন পাচ্ছেন না, তাদের বেতন পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা শুরু হয়েছে। অন্য সমস্যাগুলোও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে জানান, ‘২ কোটি ১৯ লাখ হামের টিকা পাওয়া গেছে। মজুতও আরও রয়েছে। দুর্নীতি ও বিলম্ব এড়াতে এবার টেন্ডার প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সরাসরি ইউনিসেফ থেকে টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ৫ এপ্রিল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলাগুলোতে টিকা কার্যক্রম চালানোর জন্য ৩৪ লাখ ৮৩ ডোজ টিকা বিতরণ করা হয়েছে। এক ভায়ালে ১০ ডোজ টিকা দেওয়া যায়। হাম-রুবেলা টিকা ক্যাম্পেইনের জন্য সরকার সর্বমোট ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা সংগ্রহ করেছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ টিকা আমাদের আছে এবং কোল্ড চেন রক্ষা করা হচ্ছে।
হাম নিয়ে অযথা আতঙ্ক না ছড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।’
‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিলসহ অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচটি অদ্যাদেশের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১১তম দিন বুধবার (৮ এপ্রিল) কণ্ঠভোটে বিলগুলো পাস হয়। বিলগুলোর বিশেষ কমিটির কোনও প্রস্তাব না থাকায় সরাসরি পাস হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং মন্ত্রীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করেন।
পাস হওয়া বিলগুলো হলো— ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬’, ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনসারভেশন অব ফিস (এমেনমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’, ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিল সংসদে পাস করা হয়। বিলটিতে শেখ হাসিনার নাম বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়।
পাস হওয়া অপর বিলগুলো হচ্ছে— ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাষণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এবং ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’।
‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপনের বিলটি পরে পাসের প্রক্রিয়ায় গেলে বিরোধী দলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান সংসদের দাঁড়িয়ে বিলটি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন। শফিকুর রহমান বলেন, বিলটি দুই তিন মিনিট আগে পেলাম। বিলটি দেখতে পারিনি। বিলটি দেখার জন্য সময় পেলে আলোচনা করা যেতো।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রুলিং দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতাকে বলেন, বিলের এই স্টেজে আপত্তি করার সুযোগ নেই। আপত্তি করার নিয়ম আছে আপনি সেই সময় করেননি। আপনি যদি আগে প্রস্তাব দিতেন তাহলে আলোচনার সুযোগ পেতেন।
এরপর স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করার কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওই সময় বলেন, বিরোধী দলীয় নেতার অবশ্যই স্মরণে থাকার কথা, তারা এবং এনসিপির বন্ধুরা সবাই মিলে আন্দোলন করেছিলেন। ওই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে মোটামোটি বাংলাদেশে একটি জনমত সৃষ্টি হয়েছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এবং অ্যাকর্ডিংলি নির্বাচন কমিশন তাদের (আওয়ামী লীগের) রেজিস্ট্রশনটাও সাসপেন্ডেড হয়ে আছে এই আইনের বলে। সংগঠনের বিচারের জন্য আইসিটি অ্যক্টাও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন যদি আপনারা এর ওপর আলোচনা করতে চান, আমার মনে হয়, সংশোধনের সেকেন্ড লিডিংয়ের স্টেজে যদি সংশোধনী দিতেন তাহলে আলোচনা থাকতো অথবা ফার্স্ট লিডিয়ের পর যদি সংশোধনী দিনে তাহলে আলোচনা থাকতো।
এ সময় স্পিকার বলেন, আমি রুলিং দিয়েছি, আপনি পাস করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এরপর বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করা হলে কণ্ঠভোটে পাস হয়।