সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
৪ কার্তিক ১৪৩৩

মিউনিখ সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১১:৫৭
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১১:৫৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, জার্মানির মিউনিখে তার ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আজ তাঁর মিউনিখ সফরের বিষয়ে রাজধানীর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।

তাঁর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ নিচে দেয়া হলো:

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

আসসালামু আলাইকুম। শুভ সকাল। গত ১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত ৬০তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন মূলতঃ রাষ্ট্র/সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, সরকারি এবং বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিগণের অংশগ্রহণ করেন। এটি সমকালীন ও ভবিষ্যত নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্চ-পর্যায়ের নিয়মিত আলোচনার একটি শীর্ষস্থানীয় ফোরাম হিসেবে বিবেচিত। এ বছরের ফোরামে ৩৫-জনেরও বেশী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান অংশগ্রহণ করেছেন।

বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দিতা এবং আঞ্চলিক সংঘাত, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নিউক্লিয়ার নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু নিরাপত্তা, তথ্য নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা, অভিবাসন, সাপ্লাই চেইন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মহামারি ইত্যাদি বিষয়ে এবারের ফোরামে আলোচনা করা হয়।

সফরের প্রথম দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি ‘ফ্রম পকেট টু প্লানেট: স্কেলিং আপ ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করি। এই আলোচনায় আমার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত মান্যবর জন কেরি, বারবাডোসের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মিয়া আমোর মটলে, এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোসা জামির।

প্যানেলটিতে উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে আমি বক্তব্য প্রদান করি। বক্তব্যের শুরুতেই আমি গাজা ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহ, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং নিরস্ত্র মানুষের, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের, অমানবিক হত্যার কবল থেকে মুক্ত করে সকল প্রকার যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার জোর আহ্বান জানাই। আর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা-নিষেধাজ্ঞার বিরূপ প্রভাব যে যুদ্ধক্ষেত্র থেকেও বহুদূর পর্যন্ত অনুভূত হয়, এ বিষয়ে আমি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। এ প্রসঙ্গে আমি অর্থহীন অস্ত্র-প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় রসদ ও অর্থায়ন সহজলভ্য ও কার্যকর করার জন্য সকলকে অনুরোধ করি। মানবতার অস্তিত্বের সংটকালে ক্ষুদ্র স্বার্থ যে শুধু অনর্থই বয়ে আনে - এই রূঢ় বাস্তবতা আমি সকলের সামনে তুলে ধরি। আর তাই, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানাই।

আমি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার জন্য বিশ্বের সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বহুবিধ নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ও জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের পরিমাণ বৃদ্ধি, প্রতিশ্রুত অর্থের বাস্তবিক হস্তান্তর, ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিতকরার উপর আমি বিশেষভাবে জোর দেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় আমি ধনী দেশসমূহের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই।

এদিন আমার হোটেল স্যুইটে উইমেন পলিটিক্যাল লিডার্স (ডব্লিউপিএল)-এর সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মিসেস সিলভানা খক্ মেহরিন আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান এবং গত দেড় দশকে বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য আমাকে ডব্লিউপিএল-জি ট্রাইলব্লাজের এওয়ার্ড ২০২৩ গ্রহণের জন্য তিনি আমাকে আগামী ২০ মার্চ ২০২৪ তারিখ এথেন্সে অনুষ্ঠিতব্য ডব্লিউপিএল সামিট-এ অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। আলোচনায় আমি আমাদের সরকারের- বিশেষ করে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত নীতিসমূহের বিষয়ে আলোকপাত করলে এ বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বাংলাদেশের নীতি ও কার্যক্রমসমূহ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একইদিন আমি কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোহাম্মদ বিন্ আব্দুলরাহ্মান আল-সানি-র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জ্ঞাপনের পাশাপাশি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, এলএনজি সরবারহ প্রভৃতির পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই ও দ্রুত সমাধানে কাতারের অব্যাহত সমর্থনের ব্যাপারে তিনি আশ্বস্ত করেন। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সহিংসতা বন্ধে একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও আমরা আলোচনা করি।

এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন নীতি ও অংশীদারিত্ব বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মান্যবর আক্সেল ভন ট্রটসেনবার্গ। বাংলাদেশে ও বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের অংশীদারিত্বের প্রেক্ষাপটে আমি মধ্যম আয়ের দেশভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবদানের আলোকে বর্তমান অর্থবছরে বাজেট সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংক হতে অঙ্গীকারকৃত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দ্রুত ছাড়ের আহ্বান জানাই। পাশাপাশি আমি জোরপূর্বক স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে এবং এই সমস্যার বিরূপ প্রভাবে আক্রান্ত দেশ হিসেবে বাংলাদশকে প্রদত্ত ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন সহায়তার জন্যও তাকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয় ও উচ্চ-আয়ের দেশের পর্যায়ে উত্তীর্ণ হবার কাঙ্ক্ষিত পথে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেন।

একই দিনে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মান্যবর ডক্টর টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসাস আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে-বিশেষ করে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আসন্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশে আমাকে আমন্ত্রণ জানান এবং বিশ্বের বাকি দেশসমূহকে বাংলাদেশের কম্যুনিটি ক্লিনিক মডেল অনুসরণ করার বিষয়ে অনুপ্রাণিত করার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন।

আলোচনাকালে আমি বর্তমান সরকারের সেকেন্ডারি ও টার্শিয়ারি স্বাস্থ্যসেবা, টীকা উৎপাদন, এন্টি-মাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ, নার্সিং ও অন্যান্য স্বাস্থ্যখাতে মানব সম্পদ উন্নয়ন ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের কথা উল্লেখ করে এতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তা আশা করি। এ বিষয়ে মহাপরিচালক আমাকে আশ্বস্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক অতিমারি চুক্তি-এর দ্রুত সমাপনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমর্থন কামনা করেন।

এইদিন আমার সঙ্গে আরও সাক্ষাৎ করেন মেটা-জি গ্লোবাল এফেয়ার্স এর প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী স্যার নিক্ ক্লেগ্। তিনিও আমাকে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতের উন্নয়ন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্র সুবিস্তারে সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রংসা করেন তিনি। আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনে আমাদের সফলতা তুলে ধরি এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ ও তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে মেটা-এর সহযোগিতা আশা করি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে বিভিন্ন মেটা প্ল্যাটফর্ম যেমন ফেইসবুক, হোয়াটস্অ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম প্রভৃতির ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারির সুউচ্চ সংখ্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি বাংলাদেশে মেটা-এর একটি কার্যালয় স্থাপনের পরামর্শ দিই।

প্রথম দিন আমি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মেটে ফ্রেডরিক্সেন-এর সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমাকে ও আমাদের নবগঠিত সরকারকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানোর জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আলোচনাকালে বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আইসিটি খাতে ড্যানিশ কোম্পানিসমূহের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের পাশাপাশি তিনি বিরাজমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকারের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকার বিষয়েও আমাকে আশ্বস্ত করেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মার্ক রুটে আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। আলোচনাকালে আমরা দু’জনই বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতসমূহে জ্ঞান-প্রযুক্তি-উদ্ভাবন বিস্তারে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও গভীরতর করার বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।

একইদিন সকালে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী মান্যবর ডক্টর এস. জয়শংকর। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। সাক্ষাৎকালে আমরা উভয়ই দুই বন্ধু-রাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং দু’দেশের বাণিজ্য নিজস্ব মুদ্রায় পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত পোষণ করি। তিনি আগামী এপ্রিল/মে মাসে ভারতীয় সাধারণ নির্বাচন পরবর্তীকালে দু’দেশের নতুন সরকারের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত পঞ্চ-বার্ষিক সহযোগিতা বিষয়ক রোডম্যাপ প্রণয়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে আমরা মায়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিষয়েও পারস্পরিক মতবিনিময় করি।

এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাইট অনারেবল্ লর্ড ক্যামেরন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রেরিত শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এসময় আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান চলাচল অংশীদারিত্ব, অভিবাসন, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ এবং মায়ানমার ও লোহিত সাগরে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করি।

একই দিনে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন জার্মান আর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রী মান্যবর সভেনিয়া শুলৎজা। আলোচনাকালে আমরা ইইউ-এর জিএসপি+ বাণিজ্য সুবিধাসহ পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জার্মান বিনিয়োগ এবং সার্বিক জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বর্ধিতকরণের বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।

এইদিন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ভ্লাদিমীর জেলেন্স্কি আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে আমরা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং গম, ভোজ্যতেল ও অন্যান্য কৃষিপণ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করি। আমি তাঁকে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের দ্রুত সমাধানের কার্যকর উপায় অন্বেষণের অনুরোধ করি। এছাড়াও আমরা গাজা উপত্যকায় সংঘাতের বিষয়ে মতবিনিময় করি।

এরপর আমি আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ইল্হাম আলিইয়্যেভ-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমরা পরস্পর পরস্পরকে পঞ্চমবারের মতো পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানাই। আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করি। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে নেতৃত্বদানের জন্য আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি আমাকে ধন্যবাদ দেন এবং এবছর নভেম্বরে বাকু-তে অনুষ্ঠিতব্য কপ২৯-এ যোগদানের জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানান। আলোচনাকালে আমরা উভয়ই জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা প্রভৃতি বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি।

এদিন আমি জার্মান চ্যান্সেলর মান্যবর ওলাফ শোলজ্-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বৈঠককালে আমরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও হাইড্রোজেন প্রযুক্তি এবং দক্ষ অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করি। এছাড়াও, আমরা ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গে মতবিনিময় করি এবং এসকল সংঘাত দ্রুত অবসানের বিষয়ে কার্যকর উপায় অন্বেষণের জন্য আমি তাঁকে অনুরোধ করি।

এছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি জার্মান আওয়ামী লীগ আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনা সভায় যোগদান করি এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি আমি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করি।

মিউনিখে আমার এই ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। দেশের আকার নয় বরং নীতির শক্তিতেই যে মানবতার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক মুক্তি, এবারের সম্মেলনে আমি এই বার্তাই বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছি। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমূহের মাধ্যমে বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাথে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আরও দৃঢ় হয়েছে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে।

আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”


নির্বাচিত

সংবিধান সংশোধনী প্রক্রিয়ায় বিরোধী দল সহযোগিতা করছে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সুমহান চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করেই আমরা আগামীর বাংলাদেশ এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপযোগী একটি আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে চাই।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবিধানের বিভিন্ন সংশোধনী আনার চলমান প্রক্রিয়ায় প্রধান বিরোধী দল আশানুরূপভাবে সহযোগিতা করছে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার সকালে রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া বা কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে চাইছে, যাকে অনেকে সামগ্রিক সংস্কার বলে অভিহিত করতে পারেন। বিরোধী দলগুলো যদি কেবল সংস্কার শব্দটি ব্যবহার করেই সন্তুষ্ট থাকে, তবে তাতে সরকারের কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো তারা বিরোধী দল হিসেবে বর্তমান সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে না।

দীর্ঘ এবং নাথানা সুদীর্ঘ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণয়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, এই জুলাই আমাদের জাতীয় জীবনে একটি সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে থাকে। জুলাইয়ের এই অভ্যুত্থান একদিনে বা আকস্মিকভাবে সংঘটিত হয়নি, বরং ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে চলা অবিরাম ও ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগ্রামের চূড়ান্ত ফসল হিসেবেই বিগত চব্বিশের পহেলা আগস্ট ছাত্র-জনতার অদম্য গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছিল।

রক্তক্ষয়ী এই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস দেশের জাতীয় জীবনে চিরকাল জাগরূক ও প্রদীপ্ত হয়ে থাকবে এবং তা সবসময় আমাদের ভবিষ্যৎ পথচলার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করবে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন যে, আমরা জুলাইকে আমাদের আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুনির্দিষ্ট পথনির্দেশক হিসেবে গণ্য করি। দেশের বহু প্রথিতযশা সাহিত্যিক, নাট্যকার ও সংস্কৃতিকর্মীকে তাদের বিভিন্ন নাটক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে এই জুলাইয়ের চেতনাকে ফুটিয়ে তুলতে হবে। কেবল নির্দিষ্ট কোনো জুলাই মাস আসলে বা শুধুমাত্র বাৎসরিক আনুষ্ঠানিকতা পালনের মাধ্যমেই এই চেতনাকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না।

তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন যে, যতদিন পর্যন্ত শহীদদের রক্তের পবিত্র অঙ্গীকার, জাতীয় জীবনের সামগ্রিক প্রত্যাশা, জুলাইয়ের মূল আকাঙ্ক্ষা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ না হবে, ততদিন পর্যন্ত শহীদদের প্রকৃত মর্যাদা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে গণ্য করা যাবে না।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে, সরকার এই সংক্রান্ত আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। এর ভেতরে কিছু অংশ সম্পূর্ণ সাংবিধানিক প্রকৃতির এবং বাকি অংশগুলো আইনগত বিষয়ের সঙ্গে জড়িত, আর এই আইনি ও বিধি-বিধান প্রণয়নের কাজ একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও যোগ করেন যে, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সুমহান চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করেই আমরা আগামীর বাংলাদেশ এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপযোগী একটি আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে চাই। আর এই কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র বিনির্মাণের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা পরিকল্পনা আমাদের সুযোগ্য নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগেই জাতির সামনে ঘোষণা করেছেন এবং তা অত্যন্ত সফলভাবে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলেছেন। দেশের বীর শহীদদের সকল না বলা আকাঙ্ক্ষা এবং স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা মূলত সরকারের সেই সামগ্রিক কর্মপরিকল্পনারই একটি অনিবার্য অংশ।


নির্বাচিত

জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী কাজ করলে প্রধানমন্ত্রী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন: আইনমন্ত্রী

এই রাষ্ট্রে বা আইনের চোখে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে স্থান পাওয়ার যোগ্য নয়।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

মাদকবিরোধী আস্তানায় খোদ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযানের ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হওয়ার প্রেক্ষাপটে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন যে, সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বা প্রত্যাশার সম্পূর্ণ পরিপন্থী কোনো কাজে কেউ জড়িত হলে সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর রয়েছে এবং তিনি ইতিপূর্বেও তা করে দেখিয়ে দিয়েছেন।

একই সঙ্গে তিনি জোরালো ভাষায় এই মন্তব্যও করেন যে, এই রাষ্ট্রে বা আইনের চোখে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে স্থান পাওয়ার যোগ্য নয়।

সোমবার সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সদ্য নির্মিত নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে আইনমন্ত্রী এই কথাগুলো বলেন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থিতা বা অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান যে, অতীতে যেভাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকসমাজ স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতেন, বর্তমান বিদ্যমান নিয়মেও তারা ঠিক একইভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। এই মুহূর্তে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি কোনো ধরনের বাধা নেই এবং এ বিষয়ে বিকল্প কোনো কঠোর ব্যবস্থা বা আইন পরিবর্তন করা হয়নি। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত কোনো সমাধান না আসা পর্যন্ত তারা নিয়মমাফিক নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন এবং এ ক্ষেত্রে আইন সম্পূর্ণ আগের মতোই বহাল রয়েছে।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অত্যন্ত নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ আশাবাদী উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, নির্বাচনী ব্যবস্থায় একটি সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক পরিবর্তন অবলোকন করা যাবে। সরকারের আন্তরিক কাজের সুবাদেই মানুষ তার বাস্তব প্রমাণ পাবে এবং এই পুরো প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখার জন্য দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

সারাদেশে নতুন করে সারের ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট বিভিন্ন সমালোচনা ও বিতর্কের বিষয়ে আইনমন্ত্রী জবাব দিয়ে বলেন যে, সম্পূর্ণ আইনসম্মত এবং নির্ধারিত নিয়মনীতি কঠোরভাবে অনুসরণ দেশের প্রতিটি প্রান্তে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই পুরো নিয়োগ কার্যক্রমে বিন্দুমাত্র কোনো অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি হয়নি।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর চলমান কঠোর সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন যে, বিরোধী দলগুলোকে রাজনীতিতে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে কোনো না কোনো ইস্যু বা বিষয়কে সবসময় সামনে নিয়ে আসতে হয়। নিছক বিরোধিতার খাতিরেই তারা নানা বিষয়ে সরকারের ত্রুটি খোঁজার চেষ্টা করে এবং তাদের প্রধান কাজই হলো অন্ধভাবে সরকারের বিরোধিতা করা। রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে সরকার যতই ভালো বা জনহিতকর কাজ করুক না কেন, তারা সবসময় তার বিরুদ্ধে কথা বলবে, যা বিরোধী দলের চিরাচরিত রাজনৈতিক বক্তব্য মাত্র এবং বর্তমান সরকার সেই ভিত্তিহীন কথায় বিশ্বাস করে না।

মন্ত্রী আরও বলেন যে, সরকার এসব সমালোচনায় কান দিয়ে নিজেদের মূল লক্ষ্য থেকে সরে আসছে না এবং যাদের সার বা অন্যান্য কৃষি উপকরণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই তাদের ন্যায্য ও প্রাপ্য অংশ সঠিকভাবে বুঝে পাচ্ছেন বলে সরকার পূর্ণ বিশ্বাস করে।

এর আগে সকালে মন্ত্রী ঝিনাইদহ জেলার দুশো পঞ্চাশ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা সংক্রান্ত ব্যবস্থাপনা কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশগ্রহণ করেন। উক্ত হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করা এবং সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল করার বিষয়ে ওই সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন, জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।

বিষয়:

নির্বাচিত

জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে না বিরোধী দল: প্রধানমন্ত্রী

স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান মঞ্চে বিরোধী দলের অনুপস্থিতি মূলত শহীদ পরিবারের প্রতি একধরনের অবজ্ঞার সামিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৫৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কার হাতে থাকবে তা দেশের সচেতন জনগণ ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করেছে এবং সেই রায়ের ফলেই বিএনপি আজ রাষ্ট্রক্ষমতায় আর অন্য দল বিরোধী দলের আসনে বসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, আমন্ত্রিত হওয়া সত্ত্বেও ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত ঐতিহাসিক স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান মঞ্চে বিরোধী দলের অনুপস্থিতি মূলত শহীদ পরিবারের প্রতি একধরনের অবজ্ঞার সামিল।

সোমবার সকালে রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানে সদ্য নির্মিত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত উদ্যান এবং এর প্রাঙ্গণে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করার পর আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বর্তমান বিরোধী দল কেবল অন্ধভাবে বিরোধিতার খাতিরেই সরকারের বিরোধিতা করে যাচ্ছে বলে সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে এবং তা হওয়া উচিত বাস্তবসম্মত। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, এই রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতারা কখনোই অন্তরে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করতে পারে না, আর সে কারণেই আমন্ত্রণপত্র পাওয়ার পরেও বিরোধীদলীয় নেতা এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।

বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন যে, শাসক দলের সঙ্গে একই মঞ্চে আসন গ্রহণ করায় যদি তাদের কোনো ধরনের নীতিগত আপত্তি বা অনীহা থেকেই থাকে, তবে তারা তো চাইলে সরাসরি শহীদ পরিবারের সদস্য ও প্রিয়জনদের সঙ্গেও একত্রে বসতে পারতেন। অথচ এই সাধারণ জনগণের ভোটদানের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের ফলেই আজ একদিকে বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং অন্যদিকে তারাই প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে স্থান পেয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন যে ভোটযুদ্ধের আগে বর্তমান বিরোধী দল ও তাদের প্রার্থীরা নিশ্চয়ই দেশের সাধারণ ভোটারের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে নিজেদের পক্ষে রায় চেয়েছিল, যেমনটি আমরাও গিয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত জনগণই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আগামী পাঁচ বছর কারা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে এবং সেই জনরায়ের মাধ্যমেই বিএনপিকে সরকারে বসানো হয়েছে এবং অপর দলকে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

উদ্বোধনী এই বিশেষ আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।


নির্বাচিত

জাপান-বাংলাদেশের চুক্তি সই, ১ এপ্রিল থেকে কর্মী নিয়োগ শুরু

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দক্ষ কর্মী পাঠানোর পথ সুগম করতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত একটি নতুন সহযোগিতা স্মারক বা এমওসি চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির আওতায় আগামী ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে পূর্ব এশিয়ার উন্নত দেশটিতে বাংলাদেশি নাগরিকদের কর্মসংস্থান শুরু হবে।

সোমবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চুক্তি সই এবং কর্মী নিয়োগ চালুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

এর আগে গত রোববার উভয় দেশের দীর্ঘ প্রায় এক বছরের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জাপান সরকারের মধ্যে ‘এমপ্লয়মেন্ট স্কিলস ডেভেলপমেন্ট’ বিষয়ক এই নতুন চুক্তিটি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশের পক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাপানের পক্ষে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির প্রতিনিধিরা এই চুক্তির নথিতে স্বাক্ষর করেন।

বর্তমান সরকারের বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের দীর্ঘ ইতিহাসেও এটি একটি অন্যতম যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির কপি উভয় দেশের শীর্ষ পর্যায়ের মধ্যে হস্তান্তর করা হবে।

নির্ধারিত এই চুক্তির শর্তানুযায়ী, ২০২৭ সালের এপ্রিল মাস থেকেই জাপান বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবে। চুক্তিটির প্রাথমিক মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ বছর এবং এই মেয়াদ সমাপ্ত হওয়ার পর তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আরও পাঁচ বছর বর্ধিত হবে, যার ফলে সামগ্রিক চুক্তির মেয়াদ দাঁড়াবে দীর্ঘ দশ বছর। এই ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে জাপানে গমনকারী বাংলাদেশি কর্মীরা নজিরবিহীন পেশাগত সুযোগ এবং পূর্ণাঙ্গ আইনি সুরক্ষা লাভ করবেন।

চুক্তির মূল সুবিধাসমূহ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন যে, এর মাধ্যমে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং কর্মী পাঠানো ও গ্রহণের ক্ষেত্রে উভয় দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে। এছাড়া এই কর্মসংস্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের পেশাগত দক্ষতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মীরা তুলনামূলক উচ্চ বেতন অর্জনের পাশাপাশি জাপানে দীর্ঘমেয়াদে বসবাস করার সুবর্ণ সুযোগ পাবেন।

মন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে জানান যে, এই চুক্তির আওতায় নিয়োজিত কর্মীরা স্থানীয় জাপানি শ্রমিকদের সম্পূর্ণ সমতুল্য আইনি অধিকার ও সুরক্ষাপ্রাপ্ত হবেন এবং কর্মক্ষেত্রগুলোতে নারী ও পুরুষ কর্মীরা সমান সুযোগ লাভ করবেন। বিশেষ করে বিদেশি নারী কর্মীদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থা কিংবা সন্তান জন্মদানের মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের চাকরিচ্যুতি বা বৈষম্যমূলক আচরণ করার সুযোগ রাখা হয়নি। অর্থাৎ গর্ভধারণ বা সন্তান প্রসূতি হওয়ার কারণ দেখিয়ে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর কোনো বাধ্যবাধকতামূলক বিধান এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দুই বন্ধুভাবাপন্ন দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের বিশাল জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরের পথ আরও অনেক বেশি প্রশস্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল দৃঢ় আশা প্রকাশ করেছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উদ্যানটি আজ নগরবাসীর সাধারণ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো।
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক ওসমানী উদ্যানে নতুনভাবে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার সকাল দশটার দিকে প্রধানমন্ত্রী আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত এই উদ্যান প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে নবনির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ এবং সংস্কারকৃত পুরো উদ্যানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

প্রায় পঞ্চাশ কোটি টাকা ব্যয়ে মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে পার্কটির আধুনিকায়ন কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে উদ্যানটি আজ নগরবাসীর সাধারণ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো।

উদ্বোধনের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান (মিল্টন)।


নির্বাচিত

সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে ব্যাখ্যা চাইল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহকে ডেকে ব্যাখ্যা চেয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তাকে ডাকা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহকে ডেকে পাঠানো হয়। তিনি উপস্থিত হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব-পশ্চিম) বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করেন।

এর আগে শনিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছিলেন, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে সৌদি সরকারকে আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দিয়েছি। আমরা একটু অপেক্ষা করি। দেশটির জবাব পেলে তারপরে পরিষ্কারভাবে বলতে পারব। মৃত্যুদণ্ড নিয়ে সৌদির কাছে যা যা জানার দরকার, সবকিছুই জানতে চেয়েছি’—উল্লেখ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই বাংলাদেশির নাম নাজেরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সিতি আক্তার বলে জানিয়েছে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গত বুধবার ওই দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মসজিদে ‘অনৈতিক কাজ’ করার দায়ে তাদের এ সাজা দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) এক বিবৃতিতে জানায়, সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী ওই দুই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে। পরে তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই দুই বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।

অপরাধের গুরুত্ব এবং স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইসলামি আইনের ‘তাজির’ ধারায় এ সাজা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে দেশটি।

তাজির হলো ইসলামি আইনে বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তি। রায়ের পর রাজকীয় আদেশের মাধ্যমে সাজা কার্যকর করতে বলা হয় বলে উল্লেখ রয়েছে বিবৃতিতে। তবে ঠিক কী ধরনের অপরাধের জন্য তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, মক্কার কোন মসজিদে ঘটনাটি ঘটেছিল কিংবা কী অবস্থায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।


নির্বাচিত

ডিএনএ পরীক্ষার অপেক্ষায় ১০ মরদেহ

# হস্তান্তরে লাগতে পারে দুই সপ্তাহ # নিহতদের পরিচয় শনাক্তে সিআইডির ওপর নির্ভরতা # অনুমোদনহীন রিসোর্টে প্রাণহানি নিয়ে তদন্ত শুরু
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে স্বজনদের দীর্ঘশ্বাস আর কান্না। কেউ এসেছেন স্ত্রীকে খুঁজতে, কেউ সন্তানকে, কেউবা পরিবারের একাধিক সদস্যকে। কিন্তু আগুনে মরদেহগুলো এমনভাবে পুড়ে বিকৃত হয়েছে যে, দেখে পরিচয় নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। পরিচয় শনাক্তের একমাত্র নির্ভরযোগ্য উপায় এখন ডিএনএ পরীক্ষা। অথচ পর্যটননগরী কক্সবাজারে নেই এ পরীক্ষার প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগার। ফলে নিহত ১০ পর্যটকের পরিচয় নিশ্চিত করতে নমুনা পাঠাতে হচ্ছে ঢাকার অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবে। এতে মরদেহ হস্তান্তরে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র।

গত শনিবার সকালে কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় কাঠের তৈরি তিন তলা টুপটুপ রেস্ট্রো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন লাগে। এতে ১০ পর্যটক নিহত হন, দগ্ধ হন আরও ছয়জন। প্রায় সাত ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে বিকেল ৩টায় ১০টি মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে অভিযান শেষ হয়। দগ্ধ চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য উড়োজাহাজে ঢাকায় পাঠানো হয়। অন্য দুজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর ছাড়া পান। রোববার সকাল থেকে নিহতদের স্বজনেরা হাসপাতালের মর্গের সামনে অপেক্ষা করছেন। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় মরদেহ হস্তান্তর করা যাচ্ছে না।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেছেন, কক্সবাজারের ঘটনায় নিহত পরিবারের কয়েকজন রবিবার সকালে ঢাকার মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে ডিএনএ নমুনা দিতে এসেছেন। আমাদের ফরেনসিক বিভাগ কাজ করছে।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান জানিয়েছেন, নিহত ১০ জনের মধ্যে সাতজনের পরিবারের সঙ্গে পুলিশ যোগাযোগ করতে পেরেছে। তাদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সুবক্তগীন মাহমুদ সোহেলের ভাষ্য, দগ্ধ ও বিকৃত মরদেহ শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। কক্সবাজারে এ পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ল্যাব ও যন্ত্রপাতি নেই। তাই নমুনা ঢাকার সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবে পাঠাতে হচ্ছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পেতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মরদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষণ করা হবে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য কক্সবাজারের হাসপাতালগুলোতে নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে ঢাকা থেকে সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল এনে কক্সবাজারেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হতে পারে।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর যশোরের একই পরিবারের চারজনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। তারা হলেন নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজি (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রোবাইনা (৭) ও সুনাইনা (৩)। গত ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রিসোর্টের ২০২ নম্বর কক্ষে তাদের থাকার বুকিং ছিল। নিহতদের তালিকায় তাদের নাম না থাকায় তারা আগুনে মারা গেছেন কি না, তা নিয়ে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।

নাহিদুর রহমান যশোরের মণিরামপুরের মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি ঢাকার শ্যামলীর গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় থাকতেন।

ঢাকার বাসিন্দা নাসরিন আক্তারেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। দুই বান্ধবী আইরীন জাহান ও ইসরাত জাহানের সঙ্গে বৃহস্পতিবার রিসোর্টটিতে উঠেছিলেন তিনি। আইরীন জানান, শনিবার ভোরে তারা সূর্যোদয় দেখতে সমুদ্রসৈকতে যান। নাসরিনকে সঙ্গে যেতে বললেও তিনি ঘুমানোর জন্য রিসোর্টে থেকে যান। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তারা রিসোর্টে আগুন দেখতে পান।

খবর পেয়ে শনিবার বিকেলে কক্সবাজারে আসেন নাসরিনের স্বামী দেওয়ান ফয়সাল। তিনি বলেন, টুপটুপ রিসোর্টে ছুটে গিয়েও নাসরিনকে পেলাম না। হাসপাতালে লাশের যে অবস্থা দেখলাম, কারও পরিচয় শনাক্ত করার উপায় নেই। পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ টেস্ট লাগবে।

নাসরিন আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। ছয় বছর আগে দেওয়ান ফয়সালের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানের নেতৃত্বে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও রিসোর্ট পরিচালনায় অনিয়ম তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সকালে কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে আগুনের সূত্রপাত, অনুমোদন সংক্রান্ত অনিয়ম এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান তাসনীম জাহান সাংবাদিকদের বলেছেন, রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছিল না। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আগে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আগুনের সূত্রপাতের কারণ এবং অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শনিবার রাতে উখিয়া থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। রিসোর্টের মালিক মো. তানভীর আহমদ ও তার ব্যবসায়িক অংশীদার নিয়াজ মোর্শেদ এবং ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় আরও ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর মালিক আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। রিসোর্টের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।


নির্বাচিত

আইন করে অপতথ্য ও সাইবার অপরাধ ঠেকানো সম্ভব নয়: ইফতেখারুজ্জামান

# প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন পাস হলে বুমেরাং হবে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন (সংশোধন) পাস করা হলে সরকারের জন্য বুমেরাং ও আত্মঘাতী হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সামাজিক মাধ্যম জায়ান্ট মেটার (ফেসবুক) মুনাফাকেন্দ্রিক অ্যালগরিদম ও প্ল্যাটফরমের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে শুধু কঠোর আইন করে অপতথ্য ও সাইবার অপরাধ ঠেকানো সম্ভব নয়। রোববার রাজধানীর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। টিআইবি, ব্র্যাক, ব্লাস্ট, মহিলা পরিষদসহ মোট ১৯টি সংগঠন এই বৈঠকে অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, দয়া করে আমাদের হাতটা আবার বাঁধবেন না। হাত বেঁধে দিলে আপনার ক্ষতি হবে। আপনার জন্য কিন্তু আমি আর লিখতে পারবো না। আপনাকে একদিন আমাদের কাছে আবার আসতে হবে। নোয়াব সভাপতি আরও বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার সমালোচনার বিরুদ্ধে আইন করতে চায়, কিন্তু ক্ষমতা হারানোর পর তারাই অন্যায়ের শিকার। পৃথিবীতে ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, এ কারণে ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে আইন প্রণয়ন করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রয়োগ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের ঝুঁকি রয়েছে।

বৈঠকে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশ্বের যেসব দেশ অপতথ্য নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, তারা মেটার অ্যালগরিদমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করেছে। সামাজিক মাধ্যমে অপতথ্য ও ভুয়া খবর ছড়ানোর পেছনে প্ল্যাটফরমগুলোর বিপুল আর্থিক মুনাফার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আরও বলেন, ব্যবসা বাড়ানোর স্বার্থে মেটা সংঘাত ও সহিংসতামূলক বক্তব্যকে বেশি প্রচার করে, অথচ ধর্মনিরপেক্ষ বা যৌক্তিক আলোচনাকে সেন্সর করে। রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রযুক্তি ব্যবসার অশুভ আঁতাতের ফলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। প্ল্যাটফরমের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে সাধারণ নাগরিকদের ওপর আইন চাপিয়ে দেয়া কোনো টেকসই সমাধান নয়।

বৈঠকে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি দেখে মনে হচ্ছে, এটি শুধু ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের সুরক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এতে গণমাধ্যমকর্মীদের হাত-পা বেঁধে দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একজন ব্যক্তির অপরাধ বা ভুলের কারণে পুরো গণমাধ্যম বা মিডিয়া হাউজ বন্ধ করে দেয়ার মতো বিধানও রয়েছে। গোলটেবিল বৈঠকে টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ প্রধান ফৌজিয়া আফরোজ প্রমুখ অংশ নেন।


নির্বাচিত

সচিব পর্যায়ে বড় রদবদল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনপ্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। সচিব পদমর্যাদার সাতজন কর্মকর্তার দপ্তর পরিবর্তনের পাশাপাশি একজন অতিরিক্ত সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে সচিব করা হয়েছে এবং দুজনকে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই রদবদলের আদেশ জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মিজ আয়েশা আক্তারকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের দুজন অতিরিক্ত সচিবকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খানকে নিজ মন্ত্রণালয়েরই ভারপ্রাপ্ত সচিব এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবিরকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব করা হয়েছে।

বর্তমান সচিবদের কর্মস্থল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলামকে জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির (নাডা) রেক্টর হিসেবে বদলি করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (সচিব) করা হয়েছে। এছাড়া ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমিকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) এবং জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর ড. মো. কামরুজ্জামানকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে। অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে এবং নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা মো. জাকারিয়াকে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান (সচিব) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

করব্যবস্থা সহজ করে নতুন করদাতা বাড়ানোর আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন ও সরকারের আয় বাড়াতে বর্তমান করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে কর দেওয়ার সামর্থ্য আছে—এমন নতুন নাগরিকদের করের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি বলেন, কর দেওয়ার নিয়ম সহজ করতে হবে, করদাতাদের হয়রানিমুক্ত সেবা দিতে হবে এবং যাদের কর দেওয়ার সামর্থ্য আছে, তাদের স্বেচ্ছায় কর দিতে উৎসাহিত করতে হবে।

শনিবার ঢাকার একটি হোটেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমটিএম (মাস্টার অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট) অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ‘তৃতীয় অভিষেক অনুষ্ঠান ও এমটিএম নাইট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। এ লক্ষ্য পূরণে রপ্তানির পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্পায়ন, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারের আয় বাড়ানো, অর্থের সঠিক হিসাব রাখা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারতে এ হার প্রায় ১২ শতাংশ এবং চীনে ২০ শতাংশ। বাংলাদেশে করদাতার সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। তাই সরকারের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি করব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারের কাজের দক্ষতা বাড়ানো এবং জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার সময় বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত সুফল বা রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (আরওআই) বিবেচনা করতে হবে। সরকারি অর্থ খরচের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থ ও বাস্তব ফলাফলকে গুরুত্ব দিতে হবে।

এমটিএম অ্যালামনাই সদস্যদের উদ্দেশে তিনি করসংক্রান্ত জটিলতা কমানো, অনলাইনে করব্যবস্থা বাড়ানো, কর ফাঁকি বন্ধ এবং করদাতাদের সেবার মান উন্নত করতে সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান। সাধারণ মানুষের মধ্যে কর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য বিশ্লেষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমটিএম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

আগারগাঁওয়ে যাচ্ছে সচিবালয়, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সচিবালয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে আয়োজিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে বিস্তারিত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি জানান, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠের ৩১ একর জমির ওপর নতুন সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে এবং ২০২৯ সালের মধ্যেই সেখানে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারের সমন্বিত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত ও কাজের গতি বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার সার্বিক ব্যয় নির্ধারণের হিসাব-নিকাশ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

নতুন সচিবালয় নির্মাণের মহাপরিকল্পনায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় রয়েছে বেজমেন্টসহ মোট ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, ১৪টি ১২ তলাবিশিষ্ট প্রশাসনিক ভবন, দুটি মসজিদ, মাল্টিপারপাস হল, ক্যাফেটেরিয়া ও একটি আধুনিক ডাকঘর। এছাড়া আগারগাঁও এলাকার যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বেশ কিছু আন্ডারগ্রাউন্ড রাস্তা ও আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে। এদিকে বর্তমান সচিবালয়ের জায়গাটির ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, পুরান ঢাকার বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর বা আদালতের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরে নির্ধারণ করা হবে।

একই বৈঠকে প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা লেজিসলেটিভ যাচাই শেষে সোমবারই জারি হতে পারে। বৈশ্বিক সংঘাতের বাস্তবতায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনে ওপেক্স এবং ক্যাপেক্স—উভয় মডেলে দীর্ঘমেয়াদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে এই নতুন আইনে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিতে ‘রটারডাম কনভেনশন অন দ্য প্রায়র ইনফর্মড কনসেন্ট প্রসিডিউর ফর সার্টেন হ্যাজার্ডাস কেমিক্যালস অ্যান্ড পেস্টিসাইডস ইন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড’-এ বাংলাদেশের যোগদানের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ক্ষতিকর ও বিষাক্ত রাসায়নিক কিংবা কীটনাশকের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আমদানির পূর্বেই অবগত হওয়ার এবং ঝুঁকি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি হলো। পূর্বে বাংলাদেশ এই কনভেনশনের বাইরে থাকলেও এখন থেকে সব ধরনের বিপজ্জনক রাসায়নিক আমদানিতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ কাঠামো কার্যকর হবে।

বৈঠকে জাতীয় সংসদ ভবনের মাস্টার প্ল্যানের মূল কনসেপ্টেরও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের আন্তর্জাতিক প্রশংসিত ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলীর মূল ভাবাদর্শ বজায় রেখে এবং কানের ফর্মুলার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আধুনিক কিছু প্রয়োজনীয় সংযোজন যুক্ত করা হয়েছে। মূল কনসেপ্ট অনুমোদনের পর এখন স্থাপত্য, প্রকৌশল কাঠামো, বিদ্যুৎ এবং প্লাম্বিংসহ বিস্তারিত কারিগরি নকশা ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আগামী ৭ জানুয়ারি থেকে পর্দা উঠতে যাচ্ছে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৭’-এর। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বইমেলার এই আনুষ্ঠানিক সময়সূচি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রকাশক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে এ মেলা চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অমর একুশে বইমেলা ২০২৭ সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে গত ১৩ অক্টোবর সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে একটি প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকাশক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত ওই সভায় অংশ নেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ও সচিব ইয়াসমিন বেগম। বিস্তারিত আলোচনার পর সবার ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে বইমেলার এই সময়সীমা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে ইতালির রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ. কে. এম. শামছুল ইসলামের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

আজ ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে তারা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

বৈঠককালে তারা বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন। বিশেষ করে উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বিস্তৃত করার বিষয়ে পারস্পরিক আগ্রহ প্রকাশ করেন।

আলোচনায় প্রতিরক্ষা খাতে সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামরিক প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা সামগ্রী সংগ্রহের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো গুরুত্বের সাথে স্থান পায়। এছাড়া শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দুই দেশের প্রশংসনীয় ভূমিকা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ভবিষ্যৎ পারস্পরিক সহযোগিতা ও যৌথ প্রশিক্ষণের সুযোগ নিয়ে বিশদ মতবিনিময় হয়।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রতিরক্ষা শিল্প ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইতালি সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে, ইতালির রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে ইতালির অংশীদারিত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের সংলাপ ও যোগাযোগ দুই দেশের সামরিক সম্পর্ক এবং সার্বিক দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিত্বকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

banner close