প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, জার্মানির মিউনিখে তার ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি আজ তাঁর মিউনিখ সফরের বিষয়ে রাজধানীর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।
তাঁর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ নিচে দেয়া হলো:
“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম। শুভ সকাল। গত ১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত ৬০তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন মূলতঃ রাষ্ট্র/সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, সরকারি এবং বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিগণের অংশগ্রহণ করেন। এটি সমকালীন ও ভবিষ্যত নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্চ-পর্যায়ের নিয়মিত আলোচনার একটি শীর্ষস্থানীয় ফোরাম হিসেবে বিবেচিত। এ বছরের ফোরামে ৩৫-জনেরও বেশী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান অংশগ্রহণ করেছেন।
বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দিতা এবং আঞ্চলিক সংঘাত, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নিউক্লিয়ার নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু নিরাপত্তা, তথ্য নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা, অভিবাসন, সাপ্লাই চেইন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মহামারি ইত্যাদি বিষয়ে এবারের ফোরামে আলোচনা করা হয়।
সফরের প্রথম দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি ‘ফ্রম পকেট টু প্লানেট: স্কেলিং আপ ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করি। এই আলোচনায় আমার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত মান্যবর জন কেরি, বারবাডোসের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মিয়া আমোর মটলে, এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোসা জামির।
প্যানেলটিতে উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে আমি বক্তব্য প্রদান করি। বক্তব্যের শুরুতেই আমি গাজা ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহ, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং নিরস্ত্র মানুষের, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের, অমানবিক হত্যার কবল থেকে মুক্ত করে সকল প্রকার যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার জোর আহ্বান জানাই। আর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা-নিষেধাজ্ঞার বিরূপ প্রভাব যে যুদ্ধক্ষেত্র থেকেও বহুদূর পর্যন্ত অনুভূত হয়, এ বিষয়ে আমি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। এ প্রসঙ্গে আমি অর্থহীন অস্ত্র-প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় রসদ ও অর্থায়ন সহজলভ্য ও কার্যকর করার জন্য সকলকে অনুরোধ করি। মানবতার অস্তিত্বের সংটকালে ক্ষুদ্র স্বার্থ যে শুধু অনর্থই বয়ে আনে - এই রূঢ় বাস্তবতা আমি সকলের সামনে তুলে ধরি। আর তাই, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানাই।
আমি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার জন্য বিশ্বের সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বহুবিধ নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ও জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের পরিমাণ বৃদ্ধি, প্রতিশ্রুত অর্থের বাস্তবিক হস্তান্তর, ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিতকরার উপর আমি বিশেষভাবে জোর দেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় আমি ধনী দেশসমূহের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই।
এদিন আমার হোটেল স্যুইটে উইমেন পলিটিক্যাল লিডার্স (ডব্লিউপিএল)-এর সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মিসেস সিলভানা খক্ মেহরিন আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান এবং গত দেড় দশকে বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য আমাকে ডব্লিউপিএল-জি ট্রাইলব্লাজের এওয়ার্ড ২০২৩ গ্রহণের জন্য তিনি আমাকে আগামী ২০ মার্চ ২০২৪ তারিখ এথেন্সে অনুষ্ঠিতব্য ডব্লিউপিএল সামিট-এ অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। আলোচনায় আমি আমাদের সরকারের- বিশেষ করে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত নীতিসমূহের বিষয়ে আলোকপাত করলে এ বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বাংলাদেশের নীতি ও কার্যক্রমসমূহ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
একইদিন আমি কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোহাম্মদ বিন্ আব্দুলরাহ্মান আল-সানি-র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জ্ঞাপনের পাশাপাশি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, এলএনজি সরবারহ প্রভৃতির পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই ও দ্রুত সমাধানে কাতারের অব্যাহত সমর্থনের ব্যাপারে তিনি আশ্বস্ত করেন। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সহিংসতা বন্ধে একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও আমরা আলোচনা করি।
এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন নীতি ও অংশীদারিত্ব বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মান্যবর আক্সেল ভন ট্রটসেনবার্গ। বাংলাদেশে ও বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের অংশীদারিত্বের প্রেক্ষাপটে আমি মধ্যম আয়ের দেশভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবদানের আলোকে বর্তমান অর্থবছরে বাজেট সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংক হতে অঙ্গীকারকৃত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দ্রুত ছাড়ের আহ্বান জানাই। পাশাপাশি আমি জোরপূর্বক স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে এবং এই সমস্যার বিরূপ প্রভাবে আক্রান্ত দেশ হিসেবে বাংলাদশকে প্রদত্ত ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন সহায়তার জন্যও তাকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয় ও উচ্চ-আয়ের দেশের পর্যায়ে উত্তীর্ণ হবার কাঙ্ক্ষিত পথে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেন।
একই দিনে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মান্যবর ডক্টর টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসাস আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে-বিশেষ করে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আসন্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশে আমাকে আমন্ত্রণ জানান এবং বিশ্বের বাকি দেশসমূহকে বাংলাদেশের কম্যুনিটি ক্লিনিক মডেল অনুসরণ করার বিষয়ে অনুপ্রাণিত করার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন।
আলোচনাকালে আমি বর্তমান সরকারের সেকেন্ডারি ও টার্শিয়ারি স্বাস্থ্যসেবা, টীকা উৎপাদন, এন্টি-মাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ, নার্সিং ও অন্যান্য স্বাস্থ্যখাতে মানব সম্পদ উন্নয়ন ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের কথা উল্লেখ করে এতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তা আশা করি। এ বিষয়ে মহাপরিচালক আমাকে আশ্বস্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক অতিমারি চুক্তি-এর দ্রুত সমাপনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমর্থন কামনা করেন।
এইদিন আমার সঙ্গে আরও সাক্ষাৎ করেন মেটা-জি গ্লোবাল এফেয়ার্স এর প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী স্যার নিক্ ক্লেগ্। তিনিও আমাকে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতের উন্নয়ন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্র সুবিস্তারে সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রংসা করেন তিনি। আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনে আমাদের সফলতা তুলে ধরি এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ ও তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে মেটা-এর সহযোগিতা আশা করি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে বিভিন্ন মেটা প্ল্যাটফর্ম যেমন ফেইসবুক, হোয়াটস্অ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম প্রভৃতির ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারির সুউচ্চ সংখ্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি বাংলাদেশে মেটা-এর একটি কার্যালয় স্থাপনের পরামর্শ দিই।
প্রথম দিন আমি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মেটে ফ্রেডরিক্সেন-এর সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমাকে ও আমাদের নবগঠিত সরকারকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানোর জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আলোচনাকালে বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আইসিটি খাতে ড্যানিশ কোম্পানিসমূহের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের পাশাপাশি তিনি বিরাজমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকারের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকার বিষয়েও আমাকে আশ্বস্ত করেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মার্ক রুটে আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। আলোচনাকালে আমরা দু’জনই বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতসমূহে জ্ঞান-প্রযুক্তি-উদ্ভাবন বিস্তারে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও গভীরতর করার বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।
একইদিন সকালে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী মান্যবর ডক্টর এস. জয়শংকর। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। সাক্ষাৎকালে আমরা উভয়ই দুই বন্ধু-রাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং দু’দেশের বাণিজ্য নিজস্ব মুদ্রায় পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত পোষণ করি। তিনি আগামী এপ্রিল/মে মাসে ভারতীয় সাধারণ নির্বাচন পরবর্তীকালে দু’দেশের নতুন সরকারের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত পঞ্চ-বার্ষিক সহযোগিতা বিষয়ক রোডম্যাপ প্রণয়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে আমরা মায়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিষয়েও পারস্পরিক মতবিনিময় করি।
এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাইট অনারেবল্ লর্ড ক্যামেরন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রেরিত শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এসময় আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান চলাচল অংশীদারিত্ব, অভিবাসন, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ এবং মায়ানমার ও লোহিত সাগরে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করি।
একই দিনে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন জার্মান আর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রী মান্যবর সভেনিয়া শুলৎজা। আলোচনাকালে আমরা ইইউ-এর জিএসপি+ বাণিজ্য সুবিধাসহ পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জার্মান বিনিয়োগ এবং সার্বিক জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বর্ধিতকরণের বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।
এইদিন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ভ্লাদিমীর জেলেন্স্কি আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে আমরা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং গম, ভোজ্যতেল ও অন্যান্য কৃষিপণ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করি। আমি তাঁকে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের দ্রুত সমাধানের কার্যকর উপায় অন্বেষণের অনুরোধ করি। এছাড়াও আমরা গাজা উপত্যকায় সংঘাতের বিষয়ে মতবিনিময় করি।
এরপর আমি আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ইল্হাম আলিইয়্যেভ-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমরা পরস্পর পরস্পরকে পঞ্চমবারের মতো পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানাই। আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করি। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে নেতৃত্বদানের জন্য আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি আমাকে ধন্যবাদ দেন এবং এবছর নভেম্বরে বাকু-তে অনুষ্ঠিতব্য কপ২৯-এ যোগদানের জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানান। আলোচনাকালে আমরা উভয়ই জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা প্রভৃতি বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি।
এদিন আমি জার্মান চ্যান্সেলর মান্যবর ওলাফ শোলজ্-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বৈঠককালে আমরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও হাইড্রোজেন প্রযুক্তি এবং দক্ষ অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করি। এছাড়াও, আমরা ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গে মতবিনিময় করি এবং এসকল সংঘাত দ্রুত অবসানের বিষয়ে কার্যকর উপায় অন্বেষণের জন্য আমি তাঁকে অনুরোধ করি।
এছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি জার্মান আওয়ামী লীগ আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনা সভায় যোগদান করি এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি আমি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করি।
মিউনিখে আমার এই ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। দেশের আকার নয় বরং নীতির শক্তিতেই যে মানবতার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক মুক্তি, এবারের সম্মেলনে আমি এই বার্তাই বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছি। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমূহের মাধ্যমে বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাথে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আরও দৃঢ় হয়েছে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে।
আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”
পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসুর’ উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করেছে। এটি বর্তমানে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে এবং ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আবহাওয়া অফিসের বুলেটিন অনুযায়ী আগামী কয়েক দিনের এলাকাভিত্তিক আবহাওয়া ও তাপমাত্রার বিস্তারিত দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বুধবার (৪ নভেম্বর) অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সারা দেশে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সময় রাত ও দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
এছাড়া শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। ৭ নভেম্বর আকাশ আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেলেও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় সীমাবদ্ধতার কারণে এ পর্যন্ত ১৭১টি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ২৩ হাজার ৭৭ জন যাত্রী। প্রভাবিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ৯৪টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৭৭টি।
বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব চৌধুরী (এএসএম, ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৪৫টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ২১টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১৮টি ফ্লাইট রয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালামএয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পরিচালনাগত সীমাবদ্ধতার কারণে সরাসরি ও ট্রানজিট—দুই ধরনের ফ্লাইটেই প্রভাব পড়ছে। এতে সৌদিগামী ও সৌদি আরব থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরের অডিটোরিয়ামে পবিত্র ওমরাহ্-২০২৬ পালনের লক্ষ্যে মনোনীত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সদস্যদের মাঝে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ) ভিসা, বিমান টিকিট ও বিশেষ উপহারসামগ্রী বিতরণ এবং যাত্রার প্রারম্ভে দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি ৩ জন কর্মকর্তা ও ১৯ জন সদস্যসহ মোট ২২ জনের হাতে ভিসা, বিমান টিকিট ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন। এ সময় তিনি ওমরাহ্ কাফেলার সদস্যদের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ যাত্রা কামনা করেন এবং পবিত্র ওমরাহ্ যথাযথ নিয়মনীতি ও শৃঙ্খলার সঙ্গে পালনের পাশাপাশি দেশের ও বাহিনীর কল্যাণে দোয়া করার দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, পবিত্র হজ্ব ও ওমরাহ পালনের জন্য তারুণ্যই উপযুক্ত সময়। জীবনের শুরুতেই ধর্মীয় অনুশীলন ও আত্মশুদ্ধির চর্চা মানুষকে নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করে। আর সব সংস্কারের মূল ভিত্তি হলো মানসিকতার সংস্কার। তাই প্রত্যেককে ইতিবাচক মানসিকতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী একটি সুশৃঙ্খল, জনসম্পৃক্ত ও জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠান। পবিত্র ওমরাহ থেকে অর্জিত শিক্ষা ও মূল্যবোধ যেন সদস্যদের ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও প্রতিফলিত হয়।
সফরসংশ্লিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদানকালে মহাপরিচালক মনোনীত সদস্যদের যথাযথ মর্যাদা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে চলার আহ্বান জানান। তিনি সফরকালে পারস্পরিক সহযোগিতা, দলীয় শৃঙ্খলা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং বয়োজ্যেষ্ঠ ও অসুস্থ সহযাত্রীদের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হওয়ার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি সফর সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করে সতর্কতার সঙ্গে সফর সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন। তিনি পবিত্র ভূমিতে দেশ, জাতি ও বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় দোয়া করার আহ্বান জানান।
পবিত্র ওমরাহ্-২০২৬ পালনের জন্য মনোনীত সদস্যদের প্রতি বাহিনীর এই বিশেষ উদ্যোগ তাদের পেশাগত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার স্বীকৃতি বহন করে। মহাপরিচালকের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও দিকনির্দেশনা তাদের মনোবলকে আরও জোরদার করবে। আশা করা যায়, ওমরাহ্ পালনের মাধ্যমে সদস্যরা আত্মশুদ্ধি ও নতুন অনুপ্রেরণা লাভ করে ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে আরও নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদ সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
দেশের উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে দ্বিতীয় যমুনা সেতু, পদ্মা ব্যারেজ এবং ওয়াই-আকৃতির দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
বৈঠকে জানানো হয়, দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতুর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর সেতু দুটির অবস্থান, নকশা ও ব্যয় চূড়ান্ত করা হবে।
দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রে ওয়াই-আকৃতির সংযোগব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। সেতুটি নির্মিত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি মোংলা সমুদ্রবন্দর এবং বেনাপোল ও দর্শনা স্থলবন্দরের সঙ্গে বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
অন্যদিকে দ্বিতীয় যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের বিষয়েও আলোচনা হয়। শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, নদীর প্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ব্যারেজের ওপর দিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এ ছাড়া প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন, জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ও উঠে আসে।
বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, নৌপরিবহন ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাক্ষাৎকালে তিনি নিজের সাম্প্রতিক জাপান সফরের বিভিন্ন তাৎপর্যপূর্ণ দিক এবং সফরকালে উভয় দেশের মধ্যে সম্পাদিত নানাবিধ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকের অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তাঁরা দেশের বিরাজমান সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব আরও উল্লেখ করেন, একান্ত বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এবং জাপানের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিস্তারিত রাষ্ট্রপতির সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
সফরে দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে প্রাধান্য দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সাধুবাদ জানান রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে উভয় রাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগামীতে আরও সুদৃঢ় ও সম্প্রসারিত হবে।
এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব, অতিরিক্ত প্রেস সচিব ও একান্ত সচিব-২-সহ বঙ্গভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পোশাক খাতের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চক্রান্ত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি মন্তব্য করেন, এ ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতা কেবল আসন্ন ডিসেম্বরকে ঘিরেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিনই এমন ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকতে পারে। তবে যেকোনো মূল্যে এসব অপচেষ্টা সরকার রুখে দেবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ শ্রমিকদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানান, সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর অন্তর মজুরি পর্যালোচনা করা হলেও শ্রমিকদের বাস্তব সংকটের কথা বিবেচনা করে সরকার নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ফলে আন্দোলনের মূল দাবির ইতিবাচক সমাধানের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। তবে রাজপথে যে সহিংস রূপ দেখা যাচ্ছে, তা কোনোভাবেই সাধারণ মেহনতি শ্রমিকদের আচরণ হতে পারে না দাবি করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থাগুলোর অনুসন্ধান অনুযায়ী এ ধরনের নৈরাজ্যের নেপথ্যে সীমান্তের ওপার থেকে আসা ইন্ধন রয়েছে।
আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরে জাহেদ উর রহমান বলেন, একটি সক্রিয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে মাঠে নেমে কোনো কিছু করার সক্ষমতা দলটির আর অবশিষ্ট নেই। তবে তাদের কাছে সঞ্চিত থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থের জোরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে। তিনি জানান, ডিসেম্বরের সাথে এই তৎপরতার সরাসরি কোনো সংযোগ রয়েছে কি না তা নিশ্চিত না হলেও শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত এ ধরনের ষড়যন্ত্র চলতেই থাকবে।
আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কৌশল প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে অতীতের মতো বলপ্রয়োগ বা দমনপীড়নের মাধ্যমে সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে চায় না। রাজপথে থাকা তরুণরাও দেশের নাগরিক উল্লেখ করে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও ক্ষয়ক্ষতি যথাসম্ভব সীমিত রেখে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সমাধানের পথে এগোচ্ছে প্রশাসন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের যে নির্মম চর্চা ছিল, তা থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসে পুলিশকে আইনানুগ ও সংঘাতের মাত্রা অনুযায়ী ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় ফিরে আসুন কিংবা আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁকে ফেরত আনা হোক—সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো তাঁকে দেশের মাটিতে এনে বিচারের মুখোমুখি করা। তবে এ মুহূর্তে তাঁর পাসপোর্ট সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কিংবা ট্রাভেল পাস ইস্যুর বিষয়ে আগাম কোনো সিদ্ধান্ত না জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে তৈরি পোশাক শিল্পে বিশৃঙ্খলা বা অস্থিতিশীলতা তৈরির যেকোনো অপতৎপরতা অত্যন্ত কঠোরভাবে প্রতিহত করার পাশাপাশি আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো কোনো মহল গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে উসকানি দিয়ে কারখানা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মঙ্গলবার সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে চিংড়িমহাল ব্যবস্থাপনাবিষয়ক আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ করার জন্য কেউ কোনো ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালালে সরকার আইনি ব্যবস্থা নেবে।’
উৎপাদন স্থগিত রেখে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘এসব কারখানা খুব শিগগিরই খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। কিছু দুষ্কৃতকারী হামলার চেষ্টা করছে। শ্রমিকদের যেসব দাবি-দাওয়া ছিল, সেগুলো পূরণ করা হয়েছে। মজুরি বোর্ড গঠন হয়েছে এবং শ্রমিকেরাও সন্তুষ্ট হয়েছেন।’
তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার খাতের শ্রমিকনেতা এবং কারখানা মালিকদের সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই একমত পোষণ করেছে। গঠিত ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম ইতোমধ্যে পুরোদমে শুরু হয়েছে এবং সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রয়োজনীয় দর-কষাকষি অনুষ্ঠিত হবে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হয়, এমন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য সরকারও বোর্ডের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। এ বিষয়ে বোর্ডেই আলাপ-আলোচনা হবে।’
বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিল্পাঞ্চলে নতুন করে কোনো বিশৃঙ্খলা বা অসন্তোষের যৌক্তিক অবকাশ নেই উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। রাজনৈতিক হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো কোনো মহল এই অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। আমরা এটা কঠোর হস্তে দমন করব।’
জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিজয়ী মির্জা ফয়সল আমীন এবং সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ থেকে নির্বাচিত এলিজা জামান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদ। সংসদ ভবনে আয়োজিত এই শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর-রুহিয়া-ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পান ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট। ফলে ১ লাখ ৩১ হাজার ৪০৪ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
অপরদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এর উপনির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন এলিজা জামান। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হলে সোমবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করে এবং এ সংক্রান্ত গেজেট জারি করে। উল্লেখ্য, গত ১ অক্টোবর বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করায় শূন্য হওয়া আসনটিতে এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীতে দুই দিনব্যাপী সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধন করেছেন।
তিনি আজ সকালে আগারগাঁওয়ের চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
‘ছাদের প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগান, সৌরবিদ্যুৎ থেকে আয় বাড়ান’ প্রতিপাদ্যে প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রদর্শনীটি ঘুরে ঘুরে দেখেন।
এক্সপোতে সৌরবিদ্যুৎ-সংশ্লিষ্ট আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এতে নীতিনির্ধারক, সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি সরবরাহকারী, উদ্যোক্তারা অংশ নিয়েছেন।
বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) প্রথমবারের মতো যৌথভাবে এ সোলার এক্সপোর আয়োজন করেছে।
জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) বাস্তবায়নে সহায়তা করা এবং সৌরবিদ্যুতের প্রসারে সরকারি নীতি ও প্রণোদনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অবহিত করাই এ আয়োজনের লক্ষ্য।
এর আগে সোলার এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
প্রদর্শনীতে সরকারি প্রণোদনা, আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, কর ও শুল্ক সুবিধা, সবুজ ও জলবায়ু অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট, সৌরচালিত সেচব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হচ্ছে। সূত্র: বাসস
আসন্ন বছরে জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, খরচও কমাতে চায় সরকার।’
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা জানান। এবারের আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’। প্রদর্শনীটির উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্বের দায়িত্বে ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
বিদ্যুৎ খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিগত সরকারগুলোর ব্যর্থতা কিংবা ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করে সময় নষ্ট করার পরিবর্তে আমি মনে করি, আগামী দিনগুলোতে কীভাবে বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো যায়, বাসাবাড়ি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, বর্তমান সরকারের কাছে সেটাই অগ্রাধিকার।’
উক্ত সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ অংশ নেন। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য এবং সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিজ বাসভূমে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর সমর্থন প্রত্যাশা করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে শান্তি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষা, বৈশ্বিক জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, উদীয়মান প্রযুক্তির দায়িত্বশীল প্রয়োগ এবং জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তার মতো বহুমুখী সংকট মোকাবিলায় জোটভুক্ত দেশগুলোকে সম্মিলিত পদক্ষেপ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার রাজধানী সেন্ট জনসে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব অ্যান্টিগুয়ায় (এইউএ) অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের (সিএফএএমএম) বিশেষ রিট্রিট অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ তাগিদ দেন।
ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানের জটিল ও পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় শান্তি-শৃঙ্খলা সুদৃঢ় রাখা এবং পরিবেশগত বিপর্যয় রুখতে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোকে যুগোপযোগী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’-এর বাস্তব রূপায়ণের ওপর জোর দেন তিনি। এর পাশাপাশি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন দৃঢ় করতে পারস্পরিক বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানোর একটি কার্যকর ও সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রণয়নের প্রস্তাব করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের বিষয়ে হুমায়ুন কবির পুনর্ব্যক্ত করেন যে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও অধিকারভিত্তিক প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পাশাপাশি কমনওয়েলথের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর যৌথ রাজনৈতিক সমর্থন অত্যন্ত অপরিহার্য। উল্লেখ্য, ১ থেকে ৪ নভেম্বর অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় আয়োজিত কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলনে (সিএইচওজিএম) বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে বর্তমানে দেশটিতে অবস্থান করছেন ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।
বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬-এর মূল প্রতিপাদ্য ‘প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই’।
অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, অর্থসচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মিরানা মাহরুখ।
এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) যৌথভাবে প্রথমবারের মতো এ সোলার এক্সপোর আয়োজন করেছে। সূত্র: বাসস
রান্নার গ্যাসের বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই ভোক্তাদের ওপর নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হয়েছে। এক মাসের ব্যবধানেই ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম এক লাফে ২২৩ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফলে এখন থেকে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে গ্রাহককে গুনতে হবে ২ হাজার ৬০ টাকা। আগে এর দাম ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোর কারণে নতুন এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
সোমবার (২ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করে বিইআরসি। তবে নির্ধারিত দাম বাড়ার পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ ও বিক্রয়মূল্য নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কারণ, আগের নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি বিক্রির অভিযোগ ছিল। ফলে নতুন মূল্য কার্যকর হওয়ার পর সাধারণ ভোক্তাদের ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
দুই মাসে বেড়েছে প্রায় ৫০০ টাকা: এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাত্র দুই মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৪৭৫ টাকা। গত সেপ্টেম্বরে ১২ কেজি এলপিজির নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। অক্টোবরে তা ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়। নভেম্বরের শুরুতে নতুন করে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে রান্নার গ্যাসের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা ও হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতেও বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হতে পারে।
কমিশন বাড়ানোর প্রভাব: বিইআরসির নতুন মূল্য সমন্বয়ে শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের দর নয়, সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কমিশনও বাড়ানো হয়েছে। আমদানিকারকদের মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ, অপারেটরের প্ল্যান্ট থেকে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ ১২ কেজি সিলিন্ডারে ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮১ টাকা ৭৬ পয়সা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ডিলারদের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যয় বৃদ্ধিও চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যে প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে শুধু সিলিন্ডার গ্যাস নয়, যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে প্রতি লিটারের দাম ছিল ৭৩ টাকা ৯ পয়সা।
সরবরাহ স্বাভাবিক, তবু সংকটের অভিযোগ: এলপিজির দাম বাড়ার পাশাপাশি বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগও নতুন করে সামনে এসেছে। রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে টনপ্রতি দাম ৬৪ ডলার বেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পাঁচটি কোম্পানি গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে এলপিজি বিক্রি প্রায় বন্ধ করে দেয়। নতুন দামে বিক্রির উদ্দেশে তারা হাজার হাজার টন গ্যাস মজুত করে রেখেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এবং সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। আমদানির পরিমাণে বড় ধরনের ঘাটতি না থাকায় বাজারে সরবরাহ সংকটের যৌক্তিক কারণ থাকার কথা নয় বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার তথ্যের পরও বাজারে সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আগে নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকার পরিবর্তে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে ভোক্তারা জিম্মি হয়ে পড়ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারি গ্যাসের দামে বড় ব্যবধান: গত ২৯ অক্টোবর এলপিজির মূল্য নির্ধারণ নিয়ে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির দামের বড় ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, বেসরকারি ১২ কেজির সিলিন্ডার যেখানে ১ হাজার ৮৩৭ টাকায় বিক্রির কথা, সেখানে সরকারি ১২ দশমিক ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা। অথচ বাজারে সরকারি গ্যাসের সরবরাহ ও প্রাপ্যতা নিয়েও ভোক্তাদের অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির দামের এই বড় ব্যবধান বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলছে। কালোবাজারি এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগের বিষয়েও কার্যকর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।
জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি: এর আগেও এলপিজি বাজারে অস্থিরতা দেখা গেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে খাতটিতে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট মহলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সে সময় আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না থাকলে বাজারে অসাধু চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো বেসরকারি এলপিজির মূল্য ঘোষণা করে বিইআরসি। তখন জানানো হয়েছিল, সৌদি আরামকোর ঘোষিত আন্তর্জাতিক বাজারদরের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসে এলপিজির ভিত্তিমূল্য সমন্বয় করা হবে। পাশাপাশি জাহাজভাড়া, আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে গণশুনানির মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা হবে।
সেই ধারাবাহিকতায় প্রতি মাসে এলপিজির দাম ঘোষণা করে আসছে কমিশন। তবে নিয়মিত মূল্য সমন্বয়ের পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করা, নির্ধারিত দামে বিক্রি কার্যকর করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যথায় আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধির চাপের সঙ্গে স্থানীয় বাজারের অস্থিরতা মিলিয়ে ভোক্তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে।