রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৯ মাঘ ১৪৩২

মিউনিখ সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ

ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১১:৫৭
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১১:৫৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, জার্মানির মিউনিখে তার ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে।

তিনি আজ তাঁর মিউনিখ সফরের বিষয়ে রাজধানীর গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।

তাঁর ভাষণের পূর্ণ বিবরণ নিচে দেয়া হলো:

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

প্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,

আসসালামু আলাইকুম। শুভ সকাল। গত ১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ জার্মানির মিউনিখ শহরে অনুষ্ঠিত ৬০তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করি। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন মূলতঃ রাষ্ট্র/সরকার প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিও নেতৃবৃন্দ, মিডিয়া, সুশীল সমাজ, সরকারি এবং বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিগণের অংশগ্রহণ করেন। এটি সমকালীন ও ভবিষ্যত নিরাপত্তার স্বার্থে উচ্চ-পর্যায়ের নিয়মিত আলোচনার একটি শীর্ষস্থানীয় ফোরাম হিসেবে বিবেচিত। এ বছরের ফোরামে ৩৫-জনেরও বেশী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান অংশগ্রহণ করেছেন।

বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দিতা এবং আঞ্চলিক সংঘাত, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, নিউক্লিয়ার নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু নিরাপত্তা, তথ্য নিরাপত্তা, পানি নিরাপত্তা, অভিবাসন, সাপ্লাই চেইন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মহামারি ইত্যাদি বিষয়ে এবারের ফোরামে আলোচনা করা হয়।

সফরের প্রথম দিন ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি ‘ফ্রম পকেট টু প্লানেট: স্কেলিং আপ ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ সংক্রান্ত একটি উচ্চ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করি। এই আলোচনায় আমার সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ দূত মান্যবর জন কেরি, বারবাডোসের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মিয়া আমোর মটলে, এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোসা জামির।

প্যানেলটিতে উদ্বোধনী বক্তা হিসেবে আমি বক্তব্য প্রদান করি। বক্তব্যের শুরুতেই আমি গাজা ও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে চলমান যুদ্ধ-বিগ্রহ, অবৈধ দখলদারিত্ব এবং নিরস্ত্র মানুষের, বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের, অমানবিক হত্যার কবল থেকে মুক্ত করে সকল প্রকার যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার জোর আহ্বান জানাই। আর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা-নিষেধাজ্ঞার বিরূপ প্রভাব যে যুদ্ধক্ষেত্র থেকেও বহুদূর পর্যন্ত অনুভূত হয়, এ বিষয়ে আমি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করি। এ প্রসঙ্গে আমি অর্থহীন অস্ত্র-প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় রসদ ও অর্থায়ন সহজলভ্য ও কার্যকর করার জন্য সকলকে অনুরোধ করি। মানবতার অস্তিত্বের সংটকালে ক্ষুদ্র স্বার্থ যে শুধু অনর্থই বয়ে আনে - এই রূঢ় বাস্তবতা আমি সকলের সামনে তুলে ধরি। আর তাই, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলায় অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানাই।

আমি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার জন্য বিশ্বের সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বহুবিধ নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্থ দেশ ও জনগোষ্ঠীর জন্য অর্থায়নের পরিমাণ বৃদ্ধি, প্রতিশ্রুত অর্থের বাস্তবিক হস্তান্তর, ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিতকরার উপর আমি বিশেষভাবে জোর দেই। জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় আমি ধনী দেশসমূহের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানাই।

এদিন আমার হোটেল স্যুইটে উইমেন পলিটিক্যাল লিডার্স (ডব্লিউপিএল)-এর সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মিসেস সিলভানা খক্ মেহরিন আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান এবং গত দেড় দশকে বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য আমাকে ডব্লিউপিএল-জি ট্রাইলব্লাজের এওয়ার্ড ২০২৩ গ্রহণের জন্য তিনি আমাকে আগামী ২০ মার্চ ২০২৪ তারিখ এথেন্সে অনুষ্ঠিতব্য ডব্লিউপিএল সামিট-এ অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। আলোচনায় আমি আমাদের সরকারের- বিশেষ করে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত নীতিসমূহের বিষয়ে আলোকপাত করলে এ বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বাংলাদেশের নীতি ও কার্যক্রমসমূহ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একইদিন আমি কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মান্যবর মোহাম্মদ বিন্ আব্দুলরাহ্মান আল-সানি-র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জ্ঞাপনের পাশাপাশি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, এলএনজি সরবারহ প্রভৃতির পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই ও দ্রুত সমাধানে কাতারের অব্যাহত সমর্থনের ব্যাপারে তিনি আশ্বস্ত করেন। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সহিংসতা বন্ধে একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও আমরা আলোচনা করি।

এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন বিশ্বব্যাংকের উন্নয়ন নীতি ও অংশীদারিত্ব বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মান্যবর আক্সেল ভন ট্রটসেনবার্গ। বাংলাদেশে ও বিশ্বব্যাংকের ৫০ বছরের অংশীদারিত্বের প্রেক্ষাপটে আমি মধ্যম আয়ের দেশভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অবদানের আলোকে বর্তমান অর্থবছরে বাজেট সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংক হতে অঙ্গীকারকৃত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দ্রুত ছাড়ের আহ্বান জানাই। পাশাপাশি আমি জোরপূর্বক স্থানান্তরিত রোহিঙ্গাদের সাহায্যার্থে এবং এই সমস্যার বিরূপ প্রভাবে আক্রান্ত দেশ হিসেবে বাংলাদশকে প্রদত্ত ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন সহায়তার জন্যও তাকে ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয় ও উচ্চ-আয়ের দেশের পর্যায়ে উত্তীর্ণ হবার কাঙ্ক্ষিত পথে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেন।

একই দিনে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক মান্যবর ডক্টর টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসাস আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে-বিশেষ করে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের অর্জনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আসন্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সমাবেশে আমাকে আমন্ত্রণ জানান এবং বিশ্বের বাকি দেশসমূহকে বাংলাদেশের কম্যুনিটি ক্লিনিক মডেল অনুসরণ করার বিষয়ে অনুপ্রাণিত করার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন।

আলোচনাকালে আমি বর্তমান সরকারের সেকেন্ডারি ও টার্শিয়ারি স্বাস্থ্যসেবা, টীকা উৎপাদন, এন্টি-মাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধ, নার্সিং ও অন্যান্য স্বাস্থ্যখাতে মানব সম্পদ উন্নয়ন ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের কথা উল্লেখ করে এতে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তা আশা করি। এ বিষয়ে মহাপরিচালক আমাকে আশ্বস্ত করেন এবং আন্তর্জাতিক অতিমারি চুক্তি-এর দ্রুত সমাপনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সমর্থন কামনা করেন।

এইদিন আমার সঙ্গে আরও সাক্ষাৎ করেন মেটা-জি গ্লোবাল এফেয়ার্স এর প্রেসিডেন্ট ও যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী স্যার নিক্ ক্লেগ্। তিনিও আমাকে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বাংলাদেশের ডিজিটাল খাতের উন্নয়ন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল বাণিজ্যের ক্ষেত্র সুবিস্তারে সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রংসা করেন তিনি। আমি ডিজিটাল বাংলাদেশ অর্জনে আমাদের সফলতা তুলে ধরি এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণ ও তথ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে মেটা-এর সহযোগিতা আশা করি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশে বিভিন্ন মেটা প্ল্যাটফর্ম যেমন ফেইসবুক, হোয়াটস্অ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম প্রভৃতির ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক ব্যবহারকারির সুউচ্চ সংখ্যার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে আমি বাংলাদেশে মেটা-এর একটি কার্যালয় স্থাপনের পরামর্শ দিই।

প্রথম দিন আমি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মেটে ফ্রেডরিক্সেন-এর সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমাকে ও আমাদের নবগঠিত সরকারকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানোর জন্য তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আলোচনাকালে বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং আইসিটি খাতে ড্যানিশ কোম্পানিসমূহের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের পাশাপাশি তিনি বিরাজমান রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তাঁর সরকারের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকার বিষয়েও আমাকে আশ্বস্ত করেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী মান্যবর মার্ক রুটে আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে নেদারল্যান্ডস্-এর প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানান। আলোচনাকালে আমরা দু’জনই বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়ন, কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতসমূহে জ্ঞান-প্রযুক্তি-উদ্ভাবন বিস্তারে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও গভীরতর করার বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।

একইদিন সকালে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী মান্যবর ডক্টর এস. জয়শংকর। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। সাক্ষাৎকালে আমরা উভয়ই দুই বন্ধু-রাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং দু’দেশের বাণিজ্য নিজস্ব মুদ্রায় পরিচালনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত পোষণ করি। তিনি আগামী এপ্রিল/মে মাসে ভারতীয় সাধারণ নির্বাচন পরবর্তীকালে দু’দেশের নতুন সরকারের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত পঞ্চ-বার্ষিক সহযোগিতা বিষয়ক রোডম্যাপ প্রণয়নের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আলোচনাকালে আমরা মায়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিষয়েও পারস্পরিক মতবিনিময় করি।

এরপর আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাইট অনারেবল্ লর্ড ক্যামেরন। সাক্ষাৎকালে তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রেরিত শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। এসময় আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান চলাচল অংশীদারিত্ব, অভিবাসন, রোহিঙ্গা সমস্যা এবং ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ এবং মায়ানমার ও লোহিত সাগরে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করি।

একই দিনে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেন জার্মান আর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রী মান্যবর সভেনিয়া শুলৎজা। আলোচনাকালে আমরা ইইউ-এর জিএসপি+ বাণিজ্য সুবিধাসহ পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জার্মান বিনিয়োগ এবং সার্বিক জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বর্ধিতকরণের বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করি।

এইদিন ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ভ্লাদিমীর জেলেন্স্কি আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। বৈঠককালে আমরা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি এবং গম, ভোজ্যতেল ও অন্যান্য কৃষিপণ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করি। আমি তাঁকে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের দ্রুত সমাধানের কার্যকর উপায় অন্বেষণের অনুরোধ করি। এছাড়াও আমরা গাজা উপত্যকায় সংঘাতের বিষয়ে মতবিনিময় করি।

এরপর আমি আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি মান্যবর ইল্হাম আলিইয়্যেভ-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। বৈঠককালে আমরা পরস্পর পরস্পরকে পঞ্চমবারের মতো পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানাই। আমরা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করি। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে নেতৃত্বদানের জন্য আজারবাইজানের রাষ্ট্রপতি আমাকে ধন্যবাদ দেন এবং এবছর নভেম্বরে বাকু-তে অনুষ্ঠিতব্য কপ২৯-এ যোগদানের জন্য আমাকে আমন্ত্রণ জানান। আলোচনাকালে আমরা উভয়ই জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা প্রভৃতি বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করি।

এদিন আমি জার্মান চ্যান্সেলর মান্যবর ওলাফ শোলজ্-এর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করি। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। বৈঠককালে আমরা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও হাইড্রোজেন প্রযুক্তি এবং দক্ষ অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করি। এছাড়াও, আমরা ইউক্রেন ও গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গে মতবিনিময় করি এবং এসকল সংঘাত দ্রুত অবসানের বিষয়ে কার্যকর উপায় অন্বেষণের জন্য আমি তাঁকে অনুরোধ করি।

এছাড়া ১৬ ফেব্রুয়ারি আমি জার্মান আওয়ামী লীগ আয়োজিত একটি নাগরিক সংবর্ধনা সভায় যোগদান করি এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি আমি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করি।

মিউনিখে আমার এই ফলপ্রসূ সফরের ফলে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও সর্বাঙ্গীন নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বলিষ্ঠরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। দেশের আকার নয় বরং নীতির শক্তিতেই যে মানবতার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক মুক্তি, এবারের সম্মেলনে আমি এই বার্তাই বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছি। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসমূহের মাধ্যমে বন্ধুপ্রতিম দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাথে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আরও দৃঢ় হয়েছে এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হয়েছে।

আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

জয় বাংলা। জয় বঙ্গবন্ধু।

বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”


ময়মনসিংহে হচ্ছে ৩৫ হাজার কোটি টাকার অলিম্পিক কমপ্লেক্স

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের স্বপ্ন এখন বাস্তবায়নের পথে। ময়মনসিংহের ত্রিশালে আজ এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রস্তাবিত 'বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্স'-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ঢাকা থেকে ৮৬ কিলোমিটার এবং ময়মনসিংহ শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিশাল কমপ্লেক্সটি নির্মিত হলে দেশের অ্যাথলেটরা একই ছাদের নিচে আন্তর্জাতিক মানের ইনডোর ও আউটডোর প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন, যা এতদিন কেবল স্বপ্ন হিসেবেই সীমাবদ্ধ ছিল।

প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্যানুযায়ী, দীর্ঘদিনের জায়গা সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে সেনাপ্রধানের ব্যক্তিগত ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় ত্রিশালে সেনাবাহিনীর মালিকানাধীন ১৭৩.২ একর জমিতে এই কমপ্লেক্স নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া যাতায়াত ব্যবস্থা সুগম করতে সেনাবাহিনী নিজস্ব অর্থায়নে আরও ৯ একর জমি ক্রয় করেছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রকল্প পরিচালক কর্নেল মো. কুতুবউদ্দিন খাম একটি সমৃদ্ধ মাস্টারপ্ল্যান প্রদর্শন করেন। এই পরিকল্পনায় তিনটি বিশাল ইনডোর স্টেডিয়াম ছাড়াও ফুটবল, হকি, টেনিস, অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক, শুটিং রেঞ্জ এবং আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও সেখানে থাকবে অত্যাধুনিক মিডিয়া সেন্টার এবং বিশাল পার্কিং সুবিধা।

কমপ্লেক্সটিতে অন্তত ৩৩টি ভিন্ন ভিন্ন খেলার আয়োজন করার সক্ষমতা থাকবে। যদিও প্রাথমিক পরিকল্পনায় ক্রিকেট, গলফ ও রোয়িংয়ের মতো কিছু খেলা বাদ রাখা হয়েছিল, তবে জাতীয় জনপ্রিয়তা বিবেচনায় সেনাপ্রধান কমপ্লেক্সটিতে ক্রিকেটের সুবিধাদি যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর ফলে মূল নকশায় কিছুটা পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজ তদারকি করছে সেনাবাহিনীর ২৪ ব্রিগেড। দেশীয় প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠান 'ভিত্তি'-র পাশাপাশি এই প্রকল্পে পরামর্শক হিসেবে যুক্ত হয়েছে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান 'ডিএলএ', যাদের বিশ্বজুড়ে বড় বড় স্টেডিয়াম ও ক্রীড়া স্থাপনা নির্মাণের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষা করার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে বিশাল অঙ্কের অর্থায়ন। স্থপতি ইকবাল হাবিবের দেওয়া তথ্যমতে, প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে জমি উন্নয়ন ও একটি ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে, যা সম্পন্ন করতে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগতে পারে। তবে পুরো মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করতে হলে সব মিলিয়ে ৩৪ থেকে ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছেন যে, অর্থ সংস্থান নিশ্চিত হওয়া মাত্রই কাজের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। তিনি গালফ রাষ্ট্রসমূহ এবং আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) কাছ থেকে সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব উল আলম এই প্রকল্পের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছেন।

সেনাবাহিনীর জায়গায় নির্মিত হলেও এটি মূলত ব্যবহার করবে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। এজন্য শীঘ্রই সেনাবাহিনী ও বিওএ-র মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ের টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠানের পাশাপাশি অন্যান্য সময়ে সেনাবাহিনী এখানে নিয়মিত অনুশীলন করার সুযোগ পাবে। সেনাপ্রধান মনে করেন, দেশের তরুণ সমাজ খেলাধুলার প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী হলেও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে তারা নিজেদের বিকশিত করতে পারছে না। যাতায়াত আরও সহজ করতে ভবিষ্যতে এখানে শাটল ট্রেনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ঐতিহাসিক এই উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে এবং সংশ্লিষ্টদের ওপর গঠনমূলক চাপ বজায় রাখতে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। পরবর্তী সরকার প্রকল্পটিকে গুরুত্ব দিলে আগামী ৫ থেকে ৬ বছরের মধ্যেই দৃশ্যমান হবে স্বপ্নের এই অলিম্পিক কমপ্লেক্স।


১৮ কোটি লোকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা ডিফিকাল্ট কাজ: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ১৮ কোটি জনসংখ্যার এই বিশাল দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা একটি অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং কাজ। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নিরাপত্তা প্রস্তুতি পর্যালোচনার জন্য এই সভার আয়োজন করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবতা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, নাগরিকরা প্রায়ই অভিযোগ করেন যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু একটি ছোট ঘরে মাত্র কয়েকজন সাংবাদিকের কোলাহল নিয়ন্ত্রণ করতেও যেখানে বেগ পেতে হয়, সেখানে দেশের ১৮ কোটি মানুষের শৃঙ্খলা বজায় রাখা কতটা শ্রমসাধ্য ও জটিল তা অনুমেয়। তবে এই প্রতিকূলতার মাঝেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট হবে সম্পূর্ণ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর প্রস্তুতি বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী পর্যায়ে রয়েছে এবং নির্বাচন ঘিরে বড় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা নেই। প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, প্রতিদিন মাঠ পর্যায়ে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দু-একটি আসনে ছোটখাটো লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও সার্বিক পরিস্থিতি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

রাজনৈতিক সহিংসতার ধরণ ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে যেসব সংঘাতের খবর পাওয়া যাচ্ছে, তার সিংহভাগই বিভিন্ন দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা গ্রুপিংয়ের কারণে ঘটছে। অনেক সময় দেখা যায় কোনো অনুষ্ঠানে একজনের আমন্ত্রণ থাকলে সেখানে একাধিক গ্রুপ চলে আসে এবং মতের অমিল হলেই সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে। এই ধরণের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

নির্বাচনের দিন ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হওয়ার গুজব প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ভোটগ্রহণের সময় ইন্টারনেট পুরোপুরি সচল থাকবে। সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো পরিকল্পনা নেই এবং কেউ যদি নিজ উদ্যোগে সংযোগ বন্ধ করে তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সাথে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা মিথ্যা সংবাদ ছড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। অতীতে সাংবাদিকরা যেভাবে চাপের মুখে থাকতেন বা প্রশ্ন করতে ভয় পেতেন, এখন সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। তবে স্বাধীনতার পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও দায়িত্বশীল হয়ে সত্য সংবাদ পরিবেশনের অনুরোধ জানান তিনি। নারী ভোটারদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণ নাগরিকরা যেভাবে জনসমক্ষে নিজেদের নিরাপদ মনে করেন, নারী ভোটাররাও ভোটকেন্দ্রে ঠিক একই রকম নিরাপদ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

সভার শেষ অংশে তিনি চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে জানান, এ ঘটনায় জড়িত অনেককে ইতিমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। চট্টগ্রামে নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা কঠোর হাতে দমনে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


দেশে ভূমিকম্প অনুভূত, উৎপত্তিস্থল কোথায়?

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোরের দিকে বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি হালকা মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার অব সিসমোলজি (এনসিএস) এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২ মিনিটে এই ভূ-কম্পনটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের তীব্রতা কম হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় কোনো আতঙ্ক সৃষ্টি হয়নি এবং এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও কোনো ধরণের ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মূলত গভীর রাতে এই কম্পনটি হওয়ায় অধিকাংশ মানুষই তা টের পাননি।

আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্প বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ভলকানো ডিসকভারি’ জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল সিলেট বিভাগের সিলেট শহর থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার দূরে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) গভীরে। ভূতাত্ত্বিক ভাষায় একে অগভীর ভূমিকম্প হিসেবে অভিহিত করা হয়। এনসিএস-এর তথ্যমতে, ভূমিকম্পটির অবস্থান ছিল ২৪.৮৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২.০৭ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। কম্পনটি হালকা হলেও এটি পুনরায় বাংলাদেশের ভৌগোলিক ঝুঁকি ও ভূতাত্ত্বিক অবস্থানকে সামনে নিয়ে এসেছে।

ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটি মূলত ভারতীয়, ইউরেশীয় এবং বার্মা—এই তিনটি অত্যন্ত সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ভারতীয় প্লেটটি প্রতি বছর প্রায় ৬ সেন্টিমিটার গতিতে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে, অন্যদিকে ইউরেশীয় প্লেটটি উত্তর দিকে বছরে ২ সেন্টিমিটার করে সরে যাচ্ছে। এই প্লেটগুলোর ক্রমাগত নড়াচড়া এবং একে অপরের ওপর চাপের ফলেই এই অঞ্চলে নিয়মিত বিরতিতে ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে ও আশেপাশে বগুড়া ফল্ট, ত্রিপুরা ফল্ট, শিলং মালভূমি, ডাউকি ফল্ট এবং আসাম ফল্টের মতো একাধিক সক্রিয় ও শক্তিশালী চ্যুতি রেখা রয়েছে। এসব চ্যুতির সক্রিয়তার ভিত্তিতে দেশটিকে মোট ১৩টি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলের জৈন্তাপুর এলাকাকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আজকের এই কম্পনটি সিলেটের যে এলাকায় আঘাত হেনেছে, তা মূলত ডাউকি ফল্টের কাছাকাছি হওয়ায় বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের বিশেষ নজর কেড়েছে।

অন্যদিকে, রাজধানীর প্রেক্ষাপটে এই ধরণের মৃদু কম্পনগুলোও বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঢাকা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহর এবং জনঘনত্বের কারণে একে বিশ্বের ২০টি সবচেয়ে ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ শহরের তালিকায় রাখা হয়েছে। একটি পরিসংখ্যান বলছে, রাজধানীর প্রায় ২১ লাখ ৪৫ হাজার ভবনের মধ্যে ৯৫ শতাংশই অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মিত এবং অনেক ক্ষেত্রেই জাতীয় ভবন নির্মাণ কোড (বিএনবিসি) যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ফলে মৃদু কম্পন বড় ক্ষতির কারণ না হলেও ভবিষ্যতে শক্তিশালী কোনো ভূমিকম্প আঘাত হানলে তা নজিরবিহীন বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ভূতাত্ত্বিকরা। আজকের এই ঘটনায় কোনো ক্ষতি না হলেও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবন নির্মাণে সতর্কতা ও নিয়মিত সচেতনতামূলক মহড়ার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকা বিতরণ নিয়ে শঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের স্বজনদের মাসিক সম্মানী ভাতা বিতরণে সৃষ্ট সাময়িক জটিলতা নিরসন করেছে সরকার। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে নির্ধারিত সময়ে অর্থ ব্যাংক হিসাবে না পৌঁছানোয় সুবিধাভোগীদের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তার সমাধান হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় আজ নিশ্চিত করেছে যে, আগামীকাল সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) থেকে সকল সুবিধাভোগী তাঁদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাব থেকে ভাতার অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।

সাধারণত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসের শেষ বৃহস্পতিবার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতার অর্থ জিটুপি (G2P) পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ জানুয়ারি এই অর্থ জমা হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত দিনে টাকা না আসায় এবং এর পরপরই শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় সুবিধাভোগীদের মধ্যে এক ধরণের শঙ্কা ও দুশ্চিন্তার সৃষ্টি হয়। আজ রবিবার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ব্যাংক খোলার পরও দীর্ঘ সময় অ্যাকাউন্টে টাকা না আসায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মুক্তিযোদ্ধারা ভোগান্তির কথা জানান।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মূলত অনলাইনে অর্থ স্থানান্তরের কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়ায় সামান্য প্রযুক্তিগত বিভ্রাট দেখা দিয়েছিল। এই কারিগরি সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে ভাতার অর্থ ছাড় করা সম্ভব হয়নি। মন্ত্রণালয়ের সচিব ইশরাত চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, সমস্যাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে দ্রুততার সাথে সমাধান করা হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, সোমবার সকাল থেকেই ভাতার টাকা সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে এবং তাঁরা কোনো বাধা ছাড়াই তা সংগ্রহ করতে পারবেন।

ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও ভোগান্তি এড়াতে মন্ত্রণালয় আরও আধুনিক ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও তাঁদের কল্যাণে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি ভাতা প্রদান প্রক্রিয়াকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সংস্কারও চলমান রয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সৃষ্ট এই সাময়িক বিলম্বের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে এবং সকল সুবিধাভোগীকে বিচলিত না হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আগামীকাল দুপুরের মধ্যেই অধিকাংশ ব্যাংকে এই টাকা লেনদেনের জন্য প্রস্তুত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।


ইইউ’র সঙ্গে দ্রুত এফটিএ আলোচনা শুরুর আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে, তাই দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজারে বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (ইউরোচ্যাম)-এর চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং সরকারের এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনাকালে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নির্বিঘ্ন বাণিজ্য সম্পর্ক নিশ্চিতকরণ এবং দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের সঙ্গে সম্পন্ন হওয়া অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (ইপিএ) উদাহরণ টেনে বলেন, বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি জাপানের বাজারে এখন বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩০০-এর বেশি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে। এই সাফল্যকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে বাংলাদেশ এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও অনুরূপ আলোচনা করতে চায়, যাতে বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য প্রধান রপ্তানি পণ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখা সম্ভব হয়।

ইউরোচ্যাম চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ প্রধান উপদেষ্টার এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের পর ইইউ বাজারে বিদ্যমান সুবিধাগুলো হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে এফটিএ আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, একটি শক্তিশালী বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশে আরও বেশি ইউরোপীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। লোপেজ উল্লেখ করেন যে, ভারত ইতোমধ্যে ইইউর সঙ্গে চুক্তির পথে রয়েছে এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে এ ধরনের একটি চুক্তি কার্যকর থাকায় তারা বর্তমানে সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। তিনি আশ্বাস দেন যে, ইউরোচ্যাম ইউরোপের বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে কাজ করে যাবে।

ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বৈঠকে জানান যে, এলডিসি উত্তরণের পর ২০২৯ সালের আগে বাংলাদেশের সঙ্গে বর্তমান বাণিজ্যিক সম্পর্কের ধরনে কোনো বড় পরিবর্তন আসবে না। তবে প্রায় ২০ কোটি জনসংখ্যার এই বিশাল বাজারকে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখছে ইইউ। তিনি ২০২৬ সালে একটি ‘ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম’ আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানান। রাষ্ট্রদূত জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে আসার আগে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা চায়, যাতে তারা এখানে সমান সুযোগ ও সুরক্ষার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারে। জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি দক্ষ শ্রমশক্তি ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যয়ের ভাণ্ডার। সরকার দেশজুড়ে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলছে এবং লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে বিশ্ব বাণিজ্যের একটি অন্যতম উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করা।


নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারি কর্মচারীদের দেশব্যাপী কর্মবিরতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং গত ১ জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করার দাবিতে সারা দেশে একযোগে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন সরকারি কর্মচারীরা। বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ডাকে আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে এই দুই ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের ফলে সকালের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সারা দেশের দাপ্তরিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে, যার ফলে সাধারণ সেবাপ্রার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।

আন্দোলনরত কর্মচারীরা জানিয়েছেন, নতুন পে-স্কেল নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ইতিপূর্বেই একটি কমিশন গঠন করেছিল এবং সেই কমিশনের সুপারিশ সম্বলিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, প্রতিবেদন জমা পড়ার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সরকার তা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে গড়িমসি করছে। বিশেষ করে, সম্প্রতি সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা কর্তৃক এই কমিশনের সুপারিশ বর্তমান সরকারের মেয়াদে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলে দেওয়া বক্তব্যে কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

আজকের এই দুই ঘণ্টার কর্মসূচিতে রাজধানী ঢাকাসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রায় প্রতিটি সরকারি দফতরে কর্মচারীরা কাজ ফেলে অফিসের সামনে অবস্থান নেন। তারা সাত দফা দাবির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত দাবি মানার আহ্বান জানান। সকালের ব্যস্ত সময়ে সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দেশের ভূমি অফিস, পাসপোর্ট অফিস, নির্বাচন অফিসসহ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে আসা সাধারণ মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। জরুরি প্রয়োজনে আসা অনেক নাগরিককে সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, গত ৩০ জানুয়ারি এক বিশেষ সভার মাধ্যমে ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা তিন দিন এই দুই ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই ঘোষণা অনুযায়ী, আগামীকাল সোমবার এবং আগামী মঙ্গলবারও একই সময়ে অর্থাৎ সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সারা দেশে এই বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে পিছু হটবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হলেও কর্মচারীরা তাদের দাবির প্রশ্নে অনড় অবস্থানে রয়েছেন, যা আগামী দিনগুলোতে সরকারি দাপ্তরিক কাজে আরও বড় ধরণের স্থবিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।


মব–গণপিটুনিতে জানুয়ারিতে নিহত বেড়ে দ্বিগুণ, বেড়েছে অজ্ঞাত লাশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত বছরের ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) বলেছে, গণপিটুনি বা মব সন্ত্রাসে জানুয়ারিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে অজ্ঞাত লাশের সংখ্যাও।

শনিবার এমএসএফের দেওয়া জানুয়ারি মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদন এমন চিত্র উঠে এসেছে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকা এবং নিজেদের অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে প্রতি মাসে মানবাধিকার প্রতিবেদন তৈরি করে এমএসএফ।

মব সন্ত্রাসে মানুষ হত্যার ঘটনা এ সরকারের আমলে বেড়েছে উল্লেখ করে এমএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মব বা গণপিটুনির ২৮টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২১ জন। গত ডিসেম্বরে এ ধরনের ২৪টি ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ১০ জন।

এমএসএফ বলেছে, ‘গণপিটুনির ঘটনায় জানুয়ারিতে নিহত ও আহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থাহীনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে।’ মানবাধিকার সংগঠনটি মনে করে, আইন অবজ্ঞা করে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা অবশ্যই ফৌজদারি অপরাধ, যা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবেই গণ্য করা হয়ে থাকে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী চলতি জানুয়ারি মাসে ৫৭টি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হয়েছে। ডিসেম্বরে এ সংখ্যা ছিল ৪৮। এমএসএফ বলেছে, অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া সমাজে সহিংসতা, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার আশঙ্কা জোরদার করে। এ ছাড়া গত ডিসেম্বরে কারা হেফাজতে ৯ জন মারা গেলেও এ মাসে সেই সংখ্যা বেড়ে হেয়েছে ১৫।

বেড়েছে মামলায় আসামির সংখ্যা

এমএসএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে অর্ধেকে নেমে এলেও (১৬ থেকে ৮), সরকার পতনের পর সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনায় শেখ হাসিনা–সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোতে আসামির সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষ করে, জানুয়ারিতে নাম উল্লেখ করা আসামির সংখ্যা ৩০ থেকে বেড়ে ১২০ এবং অজ্ঞাত আসামির সংখ্যা ১১০ থেকে বেড়ে ৩২০ হয়েছে। এমএসএফ বলছে, ‘এ অবস্থা আইনগত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও গণমামলার প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।’

রাজনৈতিক নির্বাচনী সহিংসতা

রাজনৈতিক সহিংসতায় জানুয়ারি মাসে আহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে আহতের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এমএসএফ বলছে, ‘দুষ্কৃতকারীদের হামলায় নিহত ও আহতের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রাজনৈতিক সহিংসতার নৃশংসতা বৃদ্ধির দিকটি নির্দেশ করে। নির্বাচনী সহিংসতা ছিল জানুয়ারি মাসের অন্যতম সবচেয়ে ভয়াবহ মানবাধিকার সংকট।’

জানুয়ারি মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ থেকে ৪ হয়েছে। এ অবস্থা উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নির্দেশ করে বলে মনে করে এমএসএফ। মানবাধিকার সংগঠনটি আরও বলেছে, ‘এটি প্রমাণ করে যে নির্বাচনী প্রক্রিয়া কার্যত প্রাণঘাতী সহিংসতার দিকে যাচ্ছে।’

সংখ্যালঘু নির্যাতন

জানুয়ারি মাসে বেড়েছে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাও। এমএসএফের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসে প্রতিমা ভাঙচুর, বাড়িঘর ভাঙচুর, মামলাসহ সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১৫টি। অথচ ডিসেম্বরে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছিল ৪টি।

এমএসএফ বলছে, ‘সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে প্রতিমা ভাঙচুর, অগ্নিকাণ্ড ও হামলার ঘটনা জানুয়ারি মাসে স্পষ্টভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পুনরুত্থান এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন।’

এ ছাড়া চলতি জানুয়ারি মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে দুটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া এসব বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। এমএসএফ বলেছে, ‘নির্যাতনে মৃত্যুর সংখ্যা ডিসেম্বরের তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় স্পষ্ট হয় যে হেফাজতে নির্যাতন এখনো একটি কাঠামোগত সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান।’

সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক

তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে এমএসএফ বলেছে, জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের সামগ্রিক মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও জটিল, সহিংস ও উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। প্রায় সব প্রধান মানবাধিকার সূচকেই জানুয়ারি মাসে ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনটি মনে করে, মানবাধিকারের এ চিত্র রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির ধারাবাহিক প্রভাবকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।

এমএসএফের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, ‘মানবাধিকারের প্রতিটি ক্ষেত্রে অবনতি দেখছি আমরা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, জানমালের নিরাপত্তা ও অপরাধ কমানো—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ। কিন্তু আমরা দেখেছি জানুয়ারি মানে এসব দায়িত্ব পালন বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলায় আসামির সংখ্যা বাড়ানো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মূল কাজ হয়ে গেছে। নির্বাচনের আগে এসে এই চর্চা তারা দেখাচ্ছে।’

এমএসএফের নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘সেই সঙ্গে বাড়ছে অজ্ঞাত লাশের সংখ্যা, মব সন্ত্রাস। কিন্তু এসব প্রতিরোধে কোনো চেষ্টা তো নেই-ই, বরং সরকারের কোনো কোনো মহল থেকেই মব সন্ত্রাসের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানো হচ্ছে।’


পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের জন্য জায়গা চূড়ান্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে একটি জায়গা চূড়ান্ত করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। গণভবনের পাশেই নির্মাণ করা হবে এই বাসভবন। ইতোমধ্যে নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর চূড়ান্ত মতামত নিয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন’ তৈরির কাজ শুরু করতে চায় গণপূর্ত অধিদপ্তর।

তবে সেটি তৈরি হতেও দুই থেকে তিন বছর সময় লাগবে। সে সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ অথবা সংসদ ভবনসংলগ্ন স্পিকারের বাসভবনকে প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থান হিসেবে নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। এটি নির্ভর করবে হবু প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের ওপর। তিনি চাইলে স্পিকারের বাসভবনের সঙ্গে লাগোয়া ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকেও যুক্ত করে দেওয়া হবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পরই শপথ নেবেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে শেরেবাংলানগরের ‘গণভবন’ নির্ধারিত ছিল। জুলাই অভ্যুত্থানের পর সেটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। অন্তর্বর্তী সরকার গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে তৈরির উদ্যোগ নেয় এবং জাদুঘর তৈরির কাজ এখন শেষের পথে।

প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন যে এলাকায় নির্মিত হচ্ছে, তাতে সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের নকশায় কোনো ব্যত্যয় হবে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে স্থাপত্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীলরা এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।


পে স্কেলের দাবিতে ৩ দিনের কর্মসূচি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পে স্কেলের গ্যাজেট প্রকাশের দাবিতে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নিজ নিজ দপ্তরের সামনে ২ ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান, বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

এই সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে ‘ভূখা মিছিল’ করার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।

৯ম পে-স্কেল ও ৭ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ।

৩০ জানুয়ারি সকাল ১০টায় ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং জ্বালানি উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী। এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমন্বয়ক মো. মাহমুদুল হাসান।

সমাবেশে উপস্থিত জোটভুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং ১ জানুয়ারি থেকে তা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, ‘গত ৭ বছর ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরেও সরকার কর্মচারীদের দাবি আমলে নিচ্ছে না। গত ৫ ডিসেম্বর তারিখে লক্ষাধিক কর্মচারীর উপস্থিতিতে মহাসমাবেশের পর আশা করা হয়েছিল ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশ হবে, কিন্তু তা হয়নি।

২১ জানুয়ারি কমিশন রিপোর্ট প্রদানের পর অর্থ উপদেষ্টা গেজেট প্রকাশ না করে কমিটি গঠনের নামে কালক্ষেপণ করছেন। এছাড়া জ্বালানি উপদেষ্টা তার এক মন্তব্যে ‘বর্তমান সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না এবং আন্দোলন স্তিমিত রাখতে কমিশন গঠন করা হয়েছিল’ বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।’

বক্তারা প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘কর্মচারীরা বর্তমানে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই অবিলম্বে বাজারমূল্যের সাথে সংগতি রেখে ১৪ এর ভিত্তিতে ১২টি গ্রেডে সর্বনিম্ন ৩৫,০০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ১,৪০,০০০ টাকা বেতন নির্ধারণ করে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট জারি করতে হবে।

একইসাথে ২০১৫ সালের পে-স্কেলের গেজেটে হরণকৃত ৩টি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বেতন জ্যেষ্ঠতা রক্ষা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তন এবং গ্রাচুইটির হার ৯০ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।

অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে ব্লক পোস্টে কর্মরতদের ৫ বছর পরপর উচ্চতর গ্রেড প্রদান, কারিগরি কাজে নিয়োজিতদের টেকনিক্যাল মর্যাদা দান, চাকরির শেষ ধাপে উন্নীতদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখা, উন্নয়ন প্রকল্পের চাকুরীকাল গণনার বৈষম্যমূলক আদেশ বাতিল, রেশন পদ্ধতি চালু এবং সচিবালয়ের ন্যায় সকল দপ্তরে এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন।’

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারি কল্যাণ ফেডারেশন, ১১-২০ গ্রেড সরকারি চাকুরিজীবী ফোরাম, বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি এবং প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদসহ জোটভুক্ত ৩৫টিরও বেশি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


চট্টগ্রামে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্স সিএমএম: শুধুমাত্র আসামির দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির উপর ভিত্তি করে তদন্ত নয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজিএম মনিরুল হাসান সরকার বলেন, শুধুমাত্র আসামির দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির উপর ভিত্তি করে তদন্ত না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেন। তদন্ত প্রতিবেদনে মেডিকেল অফিসারদের হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) মোবাইল নম্বর উল্লেখ করতে বলেছেন। পিআরবির বিধি ২৮৩ অনুযায়ী মামলার আসামিকে আদালত চলাকালীন সময়ে উপস্থাপন করা এবং আসামিকে শনাক্ত করার জন্য টিআই প্যারেডের আয়োজন করারও নির্দেশনা দেন।

শনিবার চট্টগ্রামে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের উদ্যোগে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসী কনফারেন্সে এসব নির্দেশনা দেন। সিএমএম আদালতের সম্মেলন কক্ষে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজিএম মনিরুল হাসান সরকারের সভাপতিত্বে কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলাম, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মো. সোয়েব খান, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হামীমুন তানজীন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিক, মো. আলমগীর হোসেন, মোহাম্মদ মোস্তফা ও মুহাম্মদ আবুল মনছুর। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সাত্তার। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে ডিসি (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া, ডিসি (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল চৌধুরীসহ ১৬ থানার ওসিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিসি (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া বলেন, নিরপরাধ ব্যক্তিকে মামলা হতে অব্যাহতির লক্ষ্যে সংশোধিত ফৌজদারী কার্যবিধির ১৭৩-বি ধারা অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি ক্রোকি পরোয়ানামূলে জব্দকৃত মালামাল রাখার পর্যাপ্ত স্থান নেই মর্মে জানান।


জাতীয় গণমাধ্যম-সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ’র খসড়া নিয়ে টিআইবির হতাশা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ’র খসড়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশে মুক্তগণমাধ‍্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশে একটি অভিন্ন স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম কমিশনের দাবি দীর্ঘদিনের, যার প্রতিফলন ছিল গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনেও।

প্রতিবেদন হস্তান্তরের দীর্ঘ ১০ মাসের অধিক সময় ধরে এর সুপারিশ বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ নির্বিকার থাকা অন্তর্বর্তী সরকার তার মেয়াদের শেষ মুহূর্তে এসে কমিশনের নামে দুটি নতুন সরকারি সংস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ শীর্ষক যে দুটি খসড়া প্রকাশ করেছে, তার প্রতি গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে টিআইবি।

জনপ্রত্যাশা ও গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশের বিপরীতে গিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ খাতের অধিকতর নিয়ন্ত্রণের জন্য খসড়া দুটি প্রণয়ন করা এবং মাত্র তিনদিন সময় দিয়ে মতামত চাওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী পরিহাস বলে মনে করে টিআইবি। একই সঙ্গে, শুরু থেকে প্রায় সব ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরবচ্ছিন্ন গোপনীয়তার চর্চা ও রাষ্ট্র সংস্কারের নামে সরকারের একাংশের সংস্কার পরিপন্থি অন্তর্ঘাতমূলক অপতৎপরতার উদাহরণ হিসেবেও এটিকে উল্লেখ করছে সংস্থাটি।

শনিবার এক বিবৃতিতে টিআইবি এসব তথ্য জানায়।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, উভয় ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত কমিশনের গঠন ও স্ট্যাটাস, কমিশনারদের পদমর্যাদা ও কর্মক্ষমতা, প্রশাসনিক ও আর্থিক ব‍্যবস্থাপনাসহ সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে সরকারি, বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্বাধীন দুটি প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মুক্তগণমাধ‍্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের প্রত‍্যাশার প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের পরিহাসমূলক আচরণের দৃষ্টান্ত। বিষয়টি হতাশাজনক হলেও আমরা মোটেও অবাক হচ্ছি না, কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে গণমাধ্যমের ওপর রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, সহিংস কর্মকাণ্ড এবং কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অপপ্রয়াস নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব‍্যর্থতা, এমনকি অনেকক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনদাতার ভূমিকা দৃশ্যমান ছিল।

তিনি বলেন, মেয়াদের শেষ প্রান্তে এসে প্রস্তাবিত খসড়া দুটিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রত্যাশার প্রতি সরকারের একই রকম প্রতিপক্ষমূলক আচরণের প্রতিফলন ঘটল।

বিদ্যমান প্রেস কাউন্সিলের নানাবিধ সীমাবদ্ধতা ও সম্প্রচার মাধ্যম সংক্রান্ত অনুরূপ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অনুপস্থিতিতে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গবেষণা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত একটি অভিন্ন স্বাধীন ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের যে সুপারিশ করেছে, সরকার সে বিষয়ে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেখায়নি উল্লেখ করে ড. জামান পারষ্পরিক সম্পর্কযুক্ত গণমাধ্যম ও সম্প্রচার মাধ্যমের ওপর দুটি নতুন নিয়ন্ত্রণমূলক সরকারি প্রতিষ্ঠান গঠনের অপরিনামদর্শী উদ্যোগের পরিবর্তে সরকারি কর্তৃত্বের বাইরে একটি অভিন্ন স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রস্তাব করছেন।

উল্লিখিত খসড়া দুটিকে তড়িঘড়ি করে অধ‍্যাদেশে প্রণীত না করার জন‍্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। একই সঙ্গে, আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহ, যাদের মধ্যে অনেকেই বাংলাদেশে মুক্তগণমাধ‍্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার মাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণের শিকার ও ভুক্তভোগী হয়ে নিজ নিজ নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রচারণায় জোড়ালো অঙ্গীকার করছেন, তাদের প্রতি টিআইবির নির্বাহী পরিচালকের আহ্বান ও প্রত‍্যাশা, নতুন সংসদ গঠনের পর অনতিবিলম্বে এক্ষেত্রে নিজস্ব অভিজ্ঞতা, অঙ্গীকার ও জনপ্রত‍্যাশার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হবেন এবং একটি প্রকৃতপক্ষে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অভিন্ন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করবেন। যা সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ নিশ্চিত করে দেশে মুক্তগণমাধ‍্যম ও স্বাধীন সম্প্রচার বিকাশের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।


এবার ভোট দিয়েই জিততে হবে, দুই নম্বরি কোনো পদ্ধতি নেই: ইসি সানাউল্লাহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভোলা প্রতিনিধি

এবার ভোট দিয়েই জিততে হবে, জেতার জন্য দুই নম্বরি কোনো পদ্ধতি নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

শনিবার সকালে ভোলা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচন উপলক্ষ্যে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স টিমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি, যা পক্ষপাতমূলক। ভবিষ্যতেও এমন কিছু করা হবে না। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি যদি ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠতে না পারেন এবং নিরপেক্ষতা হারান, তবে তার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন ‘ভয়ানক কঠিন’ হবে।’

নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এটি শুধু গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তনের বা গণতান্ত্রিক ধারা সুসংগঠিত করার নির্বাচন নয়। এই নির্বাচনের সঙ্গে জাতি হিসেবে আমাদের ভাবমূর্তি, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের অবস্থান, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান জড়িত। সামাজিক স্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা সবকিছুর সঙ্গেই এই নির্বাচন সম্পৃক্ত। তাই এটি কোনো নিয়ম রক্ষার নির্বাচন নয়, সবাইকে এর গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হবে।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘ভয়ভীতি, ত্রাস কিংবা মব ইত্যাদি কিছুই যেন আমাদের কাজ থেকে দূরে রাখতে না পারে।’

এসময় ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওছার, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


গুম ‘মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ’ : বিচারপতি মঈনুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গুমকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে একে ‘মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন গুম সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘গুম আসলে মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ। মৃত্যুর ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যরা শোক প্রকাশ করতে পারেন এবং দাফন-কাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পারেন। কিন্তু কেউ গুমের শিকার হলে পরিবার জানতেই পারে না সে কোথায় আছে।’

শনিবার ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি: একটি পর্যালোচনা’ শীর্ষক এক সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিচারপতি মঈনুল আরো বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করে। আশা ও হতাশার মাঝামাঝি এক স্থগিত অবস্থায় তারা সামাজিক কলঙ্ক, আর্থিক সঙ্কট ও একঘরে হয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়।

বিলিয়া আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন গুম সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশনের সাবেক সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, সাজ্জাদ হোসেন ও নূর খান লিটন; অধিকার-এর পরিচালক তাসকিন ফাহমিনা; বিলিয়ার সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ একরামুল হক এবং বিলিয়ার পরিচালক রাষ্ট্রদূত এম মারুফ জামান।


banner close