বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
৬ কার্তিক ১৪৩৩

আগামীকাল খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৯:২২

আগামীকাল ২৪ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্ণর, ব্যাংকিং অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও শিশু সংগঠক খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি অগ্রণী, সোনালী, কৃষি ও পূবালী ব্যাংকের এমডি ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি শিশু কিশোর সংগঠন কচি কাঁচার মেলার সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি বিপিএমআই, এমবিএ এসোসিয়েশন, অর্থনীতি সমিতি, বিএসটিডি, ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স, গবেষণা প্রতিষ্ঠান সমন্বয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।

মৃত্যুদিবস উপলক্ষে মরহুমের জন্মস্থান গোপালগঞ্জের ব্যাংকপাড়ায় “খোন্দকার মন্জিল”-এ পারিবারিকভাবে দু’দিনের কর্মসূচি গ্রহন করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি


বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব  

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে অশুভ শক্তির বিনাশ, শান্তি ও কল্যাণের প্রত্যাশা নিয়ে পাঁচ দিনের পূজা-অর্চনা শেষে প্রতিমা বিসর্জন করা হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ০০:১৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঘোড়ায় চড়ে এসেছিলেন দেবী, ফিরে গেলেন নৌকায় ভেসে। তার এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে অশুভ শক্তির বিনাশ, শান্তি ও কল্যাণের প্রত্যাশা নিয়ে পাঁচ দিনের পূজা-অর্চনা শেষে প্রতিমা বিসর্জন করা হয়। রাজধানীর বুড়িগঙ্গার তীর থেকে দেশের বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ের বিসর্জন ঘাট—সবখানেই ভক্তদের চোখে ছিল বিদায়ের অশ্রু, কণ্ঠে ছিল মঙ্গলকামনা। উৎসবের আনন্দ ফুরিয়ে গেলেও রয়ে গেল সম্প্রীতির প্রত্যাশা আর আগামী শরতে মায়ের ফিরে আসার অপেক্ষা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে শুরু হয় বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা। পূজা-অর্চনা, দেবী বরণ ও সিঁদুর খেলার পর দুপুর থেকে প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা বের হয়। ঢাকের বাদ্য, কাঁসর-ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে বিসর্জন ঘাটগুলো। কোথাও নদীর তীরে, কোথাও হ্রদের জলে, আবার কোথাও সমুদ্রসৈকতে ভক্তদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় প্রতিমা বিসর্জন।

রাজধানীর ওয়াইজঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। দুপুর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন মন্দির ও মহল্লা থেকে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে শোভাযাত্রা করে প্রতিমা আনা হয় ঘাটে। পরে নৌকায় নদীর মাঝখানে নিয়ে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। দেবীর বিদায়লগ্নে কারও চোখে ছিল অশ্রু, কারও কণ্ঠে বন্দনা। কেউ পরিবারের মঙ্গল কামনা করেন, কেউ নদীর পানি নিজের ও স্বজনদের শরীরে ছিটিয়ে নেন।

মহাখালী থেকে বাবার সঙ্গে বিসর্জন দেখতে আসা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়স্মিতা জানায়, দশমীর লগ্ন শুরু হলেই মন খারাপ হতে থাকে। কয়েক দিন দেবীকে ঘিরে আনন্দে কেটেছে। এবার তার প্রার্থনা, দেশ থেকে সব অপশক্তি দূর হোক, শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক এবং সবাই ভালো থাকুক।

ধানমন্ডি থানা পূজা উদযাপন কমিটির যুগ্ম সম্পাদক রাজিব কুন্ডু বলেন, ভারাক্রান্ত হৃদয়ে তারা দেবীকে বিদায় জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, দেশে অসাম্প্রদায়িক পরিবেশ বজায় থাকবে, অন্যায়-অপরাধ দূর হবে এবং সব মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত হবে।

বিসর্জনের আগে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে পালিত হয় বিজয়া দশমীর বিশেষ অনুষ্ঠান। সকালে দেবীর চরণে সিঁদুর নিবেদন করে তাকে বরণ ও বিদায় জানান নারীরা। এরপর একে অপরের কপাল ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে শুভকামনা বিনিময় করেন। পরিবার ও স্বজনদের মঙ্গল, সুখ-শান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনায় অংশ নেন ভক্তরা।

রাজধানীর বাইরে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায়ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটে। রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদের তীরে ভক্তদের সমাগম ঘটে। পূজা-অর্চনা ও প্রার্থনা শেষে শোভাযাত্রা নিয়ে হ্রদের ঘাটে আসেন তারা। পরে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ি এ জেলায় শেষ হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ভক্তদের প্রার্থনায় উঠে আসে দেশ ও মানুষের কল্যাণ, বিশ্বশান্তি এবং সম্প্রীতির প্রত্যাশা।

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে তিলাই নদীর তীরে দেখা যায় বিসর্জন ঘিরে ভক্তদের ভিড়। বিকেলে নতুন বাজার বারোয়ারী পূজামন্দির থেকে শোভাযাত্রা বের হয়ে কালীবাড়ী মন্দিরে মিলিত হয়। পরে পৌর শহরের বিভিন্ন পূজামন্দিরের প্রতিমা একত্রে তিলাই নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। এ বছর পার্বতীপুর উপজেলায় ১৫০টি মন্দিরে সর্বজনীন দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছিল। নীলফামারীতে এ বছর ৮৬৮টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব হয়। বিজয়া দশমীর পূজা-অর্চনা শেষে মণ্ডপে মণ্ডপে চলে দেবীবরণ ও বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা। সিঁদুর খেলা, শোভাযাত্রা ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীকে বিদায় জানান। জেলার বিভিন্ন স্থানে বিসর্জন আয়োজন ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

পটুয়াখালীতেও ছিল বিদায়ের আবহ। এ বছর জেলায় ১৯৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়। দশমীর সকালে পূজা-অর্চনা শেষে নারীরা সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। পরে প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রা বের হয় এবং নির্ধারিত স্থানে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। আনন্দের পাশাপাশি দেবীকে বিদায় জানানোর বেদনাও ছিল ভক্তদের মনে।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টেও প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিমা নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এসে মিলিত হয় সৈকতে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে বঙ্গোপসাগরের জলে একে একে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের মানুষ ও পর্যটকরাও এ আয়োজন দেখতে উপস্থিত হন।

রাজধানীতে প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। ওয়াইজঘাট ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, পুলিশের বিশেষ দল, আনসার, নৌপুলিশ, কোস্ট গার্ড এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দায়িত্ব পালন করে। বিসর্জন ঘিরে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও শোভাযাত্রার পথ নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) ফারুক হোসেন জানান, বিসর্জন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গতবার বিসর্জনের জন্য একটি স্থান থাকলেও এবার তিনটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়কে একমুখী চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে প্রতিমাবাহী ট্রাক নির্ধারিত পথে প্রবেশ করতে পারে এবং বিসর্জন শেষে সহজে বের হয়ে যেতে পারে।

পুলিশের পাশাপাশি নৌপুলিশ, কোস্ট গার্ড, আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিসর্জন কার্যক্রম সুশৃঙ্খল রাখতে কাজ করেন।


সম্প্রীতি আমাদের শক্তি, আমাদের অস্তিত্ব যেকোনো মূল্যে তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বঙ্গভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকল ধর্মের মানুষের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের লক্ষ্যে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারও সবার। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান- সবাই এদেশের নাগরিক উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সংবিধান প্রত্যেককে সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে।’ এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ এবং বিজয়া দশমী উপলক্ষে বঙ্গভবনে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে এক শুভেচ্ছা বার্তায় রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিশ্বের নানা প্রান্তে যখন যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হানাহানি চলছে, তখন এখানে সকল ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালন করছে, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। এ সম্প্রীতি আমাদের শক্তি, আমাদের অস্তিত্ব। যেকোনো মূল্যে তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘কখনো কখনো গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা হয়। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় ও আপসহীন থাকতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে সোচ্চার থাকতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এই দেশ আমাদের সকলের। সকলে মিলে দেশকে গড়তে হবে। কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না।’

এ সময় তিনি সকলের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এদেশের মানুষ অসাম্প্রদায়িক এবং হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে সকল ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একসাথে বসবাস করে আসছে।’

এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণই আমাদের জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি বলে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন।

বিজয়া দশমী উপলক্ষে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে বঙ্গভবনে আপনাদের স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত।’

তিনি বলেন, ‘এ উৎসবের অন্তর্নিহিত বাণী হলো অশুভ শক্তির বিনাশ এবং সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের জয়। ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠী পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার হবেন তা গ্রহণযোগ্য নয়।’

এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সকল ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশে ধর্ম পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

এর আগে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের ক্রিডেনশিয়াল হলে উপস্থিত হলে ‘হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’, ‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট’, ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির পক্ষ থেকে সংগঠনের নেতারা রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে আগত সকল দর্শনার্থী এবং অতিথিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এ সময় ধর্মবিষয়কমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, কনস্যুলেটের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

* ২০১০ সালের পর অন্তত ১৯ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর * বিচারপ্রক্রিয়া ও আইনি সহায়তা খতিয়ে দেখার দাবি এইচআরএফবির * প্রবাসীদের সুরক্ষায় কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের তাগিদ
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানত না বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন। গত ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে নাজরুল ইসলাম আবদুল বশির ও সিটি আখতার, যিনি সুইটি আখতার নামেও পরিচিত, নামের দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আগাম কোনো তথ্য দেয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বন্দিদের তালিকায় তাদের সাজাসংক্রান্ত তথ্য না থাকায় মামলা পর্যবেক্ষণে কনস্যুলেটের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি) এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে দুই বাংলাদেশির বিচারপ্রক্রিয়া, আইনি সহায়তা ও কনস্যুলার সেবা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহি এবং তাদের পরিবারকে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

সৌদি প্রেস এজেন্সির মাধ্যমে প্রকাশিত দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সৌদি আইনের ‘তাআজির’ বিধানের আওতায় তাদের সাজা দেওয়া হয়েছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেটের শ্রম উইং থেকে গত রোববার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ওই দুই নাগরিক পৃথক অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে আটক ছিলেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া বন্দিদের তালিকায় তাদের সাজাসংক্রান্ত তথ্য ছিল না। অন্য বন্দিদের ক্ষেত্রে সাজার বিবরণ উল্লেখ থাকলেও তাদের বিষয়ে তা না থাকায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এইচআরএফবি জানতে চেয়েছে, বন্দিদের তালিকা পাওয়ার পর কনস্যুলেট তাদের মামলা সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছিল কি না এবং সাজার তথ্য না থাকার কারণ অনুসন্ধান করেছিল কি না। পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা চেয়ে যোগাযোগ করা হয়নি বলে গণমাধ্যমে খবর এলেও, সংগঠনটির মতে, এতে কনস্যুলেটের নিজস্ব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে দুই বাংলাদেশি নিজেদের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগ, গোপনীয়তার সঙ্গে আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ এবং আদালতের কার্যক্রম বোঝার জন্য দোভাষীর সহায়তা পেয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছে এইচআরএফবি। পাশাপাশি আপিল ও ক্ষমা প্রার্থনার কার্যকর সুযোগ ছিল কি না, সেটিও যাচাই করতে বলেছে সংগঠনটি।

বাংলাদেশ নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির (আইসিসিপিআর) পক্ষভুক্ত। চুক্তির ৬ অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকারের সুরক্ষা এবং ১৪ অনুচ্ছেদে ন্যায়বিচার ও আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া ১৯৬৩ সালের ভিয়েনা কনভেনশন অন কনস্যুলার রিলেশনসের ৩৬ অনুচ্ছেদে বিদেশে আটক নাগরিকদের কনস্যুলার যোগাযোগ ও সহায়তার বিধান রয়েছে।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশের কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি ‘নোট ভার্বাল’ পাঠিয়ে রায়ের অনুলিপি ও মামলার বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে। এইচআরএফবি মনে করে, বাংলাদেশ সরকারের উচিত কূটনৈতিক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করা।

ইউরোপীয় সৌদি মানবাধিকার সংস্থার যৌথ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে ১ হাজার ২৪৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। তাদের মধ্যে ১৬ জন ছিলেন বাংলাদেশি। ওই সময়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের ৪৯০ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক।

বাংলাদেশিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে ২০১১ সালের অক্টোবরে। ডাকাতির সময় একজন মিসরীয় নিরাপত্তারক্ষীকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত আট বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। বিচারপ্রক্রিয়ার ন্যায্যতা নিয়ে সে সময় উদ্বেগ জানিয়েছিল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

ইউরোপীয় সৌদি মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সৌদি আরবে ৩৪৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। তাদের মধ্যে ১৩৮ জন বিদেশি নাগরিক এবং একজন বাংলাদেশি ছিলেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে রেকর্ড ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ১৬ জন, ২০২৪ সালে একজন এবং ২০২৬ সালের অক্টোবরে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। সব মিলিয়ে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য পাওয়া যায়। তবে বছরভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ হিসাব না থাকায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি কি না, তা নিশ্চিত নয়।

সৌদি আরবে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি কাজ করেন। তাদের পাঠানো প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তাই বিদেশে আটক ও বিচারাধীন বাংলাদেশিদের অধিকার রক্ষায় কূটনৈতিক মিশনের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এইচআরএফবি মনে করে, বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের মামলার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া ও রায়ের ভিত্তি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি কনস্যুলেটের দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা স্বচ্ছভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

সংগঠনটির দাবি, অবহেলা বা ব্যর্থতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই নাগরিকের পরিবারকে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।


রূপপুরে ইউরেনিয়ামের আরেক চালান, জ্বালানি নিরাপত্তায় বাড়ছে সম্ভাবনা

* উৎপাদনে যাওয়ার অপেক্ষা * দুটি ইউনিটের জন্য জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তুতি * ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য * আমদানিনির্ভরতা, নিরাপত্তা ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ
ফাইল ছবি। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক ও পাবনা প্রতিনিধি

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে জ্বালানি সরবরাহের কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামের আরেকটি চালান পৌঁছেছে পাবনার ঈশ্বরদীতে। এর আগে চলতি মাসে কেন্দ্রটির জন্য ইউরেনিয়ামের চালান এসেছিল। নতুন চালান পৌঁছানোর মধ্যদিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিতে আরও অগ্রগতি হলো। তবে কেন্দ্রটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নতুন চালান পৌঁছানোর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টার পর ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহরটি প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় জ্বালানিবাহী বিশেষ কার্গো বিমান। বিমানবন্দরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা চালানটি গ্রহণ করেন। পরে বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে গাড়িবহরটি রূপপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।

পুরো যাত্রাপথে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা।

জ্বালানি সরবরাহে ধারাবাহিকতা: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। প্রতিটি ইউনিটের সক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ যুক্ত হবে। এতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির উৎস বাড়বে এবং গ্যাস, কয়লা ও তরল জ্বালানির ওপর নির্ভরতার চাপ কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

চলতি বছরের ৩ ও ১১ অক্টোবর রূপপুরে ইউরেনিয়ামের চালান পৌঁছানোর তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। গতকাল বুধবারের চালানটি এ ধারাবাহিক সরবরাহ কার্যক্রমের অংশ। তবে নতুন চালানটি প্রথম না দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য, সে বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। তাই প্রকল্প কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্য ছাড়া নির্দিষ্ট ইউনিটের নাম উল্লেখ করা সমীচীন নয়।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় নির্মিত হচ্ছে রূপপুর কেন্দ্র। এর জ্বালানি সরবরাহে রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে কেন্দ্রটির উৎপাদন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জ্বালানি সরবরাহের সময়সূচি, আন্তর্জাতিক পরিবহন এবং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জ্বালানি নিরাপত্তায় কী ভূমিকা রাখবে: বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো প্রাকৃতিক গ্যাসের পাশাপাশি আমদানি করা কয়লা ও তরল জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব জ্বালানির দাম বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়। অন্যদিকে, জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হয় বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা। এ পরিস্থিতিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন দেশের জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ইউরেনিয়ামভিত্তিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে তুলনামূলক অল্প পরিমাণ জ্বালানি দিয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। কেন্দ্রটি নিয়মিত উৎপাদনে গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহে স্থিতিশীলতা বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া পরিচালনাকালে জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্রের তুলনায় সরাসরি কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কম হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার উদ্যোগেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ চালু হলেই জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা শেষ হবে না। ইউরেনিয়াম, বিশেষায়িত যন্ত্রাংশ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং ব্যবহৃত জ্বালানির ব্যবস্থাপনার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। তাই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরবরাহব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা ও বিকল্প পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ।

রূপপুরে জ্বালানি পৌঁছানো বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে জ্বালানি পৌঁছানোর পরও রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি স্থাপন, বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসহ একাধিক ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। পরীক্ষামূলক উৎপাদন এবং পূর্ণ বাণিজ্যিক উৎপাদনও এক বিষয় নয়।

কেন্দ্রটি চালু হলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণ, দক্ষ জনবল, বিকিরণ নিরাপত্তা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানির নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

প্রকল্পটির আর্থিক দিকও গুরুত্বপূর্ণ। নির্মাণ ব্যয়ের পাশাপাশি ঋণ পরিশোধ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং জ্বালানি সরবরাহের ব্যয় বিবেচনায় নিতে হবে। বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় ও সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে, দেশের অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ খাত কতটা সুফল পাবে।

সব মিলিয়ে, রূপপুরে ইউরেনিয়ামের ধারাবাহিক চালান পৌঁছানো পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিকে এগিয়ে নিচ্ছে। এখন নির্ধারিত সময়ে নিরাপদে উৎপাদন শুরু, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং ব্যয় সাশ্রয়ী পরিচালনা নিশ্চিত করাই প্রকল্পটির সাফল্যের প্রধান শর্ত।


দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে যৌথ উদ্যোগ

বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, এমপি ও দক্ষিণ কোরিয়ার ‘ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া’ (NESA) এবং ‘কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া’ (CAK)-এর প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজারে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে সিউলে দুটি পৃথক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সিউলে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকগুলোতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, এমপি, দক্ষিণ কোরিয়ার ‘ন্যাশনাল এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া’ (NESA) এবং ‘কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া’ (CAK)-এর প্রতিনিধিদের সাথে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।

​ইপিএস বৃদ্ধি ও নতুন খাতে সহযোগিতার আহ্বান-

​NESA-এর প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম (EPS)-এর আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কোটা ও কাজের সুযোগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নিয়মিত কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মৌসুমি কর্মসংস্থান, কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন, কোরীয় ভাষাশিক্ষা এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মতো নতুন ক্ষেত্রগুলোতে যৌথ সহযোগিতার আহ্বান জানান।

​দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প ও মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কোরিয়ার স্থানীয় শ্রমবাজারের সুনির্দিষ্ট চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ, যোগ্য ও মানসম্মত জনশক্তি সরবরাহ করতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’

​বৈঠকে NESA-এর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশি কর্মীদের সম্ভাবনা ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতায় তাদের অবদানের প্রশংসা করেন। কোরিয়ায় পৌঁছানোর আগেই কর্মীদের ব্যবহারিক কোরীয় ভাষা দক্ষতা এবং কর্মক্ষেত্রভিত্তিক প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়, যাতে তারা কোরিয়ার কাজের পরিবেশের সাথে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারেন।

​লাভজনক নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অন্তর্ভুক্তি-

​পরবর্তীতে ‘কনস্ট্রাকশন অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া’ (CAK)-এর সাথে অনুষ্ঠিত পৃথক বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার লাভজনক নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের যুক্ত করার আহ্বান জানান এবং স্থানীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধির জোর তাগিদ দেন। আন্তর্জাতিক নির্মাণ খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের পূর্ব অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার অভিবাসী কর্মীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখছে।

​CAK ও কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা নির্মাণ খাতে নিরাপত্তা, ভাষাভিত্তিক যোগাযোগ এবং কারিগরি জ্ঞানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা স্বীকার করেন, পর্যাপ্ত ভাষা ও কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন বাংলাদেশি কর্মীদের কোরিয়ার নির্মাণশিল্পে যুক্ত করার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

​যৌথ বাস্তবায়নে জোর-

​উভয় বৈঠকেই প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, যথাযথ প্রাক-বহির্গমন প্রস্তুতি এবং নতুন কর্মসংস্থান অনুসন্ধানে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়। প্রতিমন্ত্রী আলোচনায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়নে দক্ষিণ কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এবং সিউলস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখার নির্দেশ দেন।

​এই সফরের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বিকাশ ও সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীদের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিতে উভয় দেশ যৌথভাবে কাজ করে যাবে।


৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে প্রতি বছর ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিধি-৬ শাখা থেকে সম্প্রতি ছুটি ঘোষণা করে উপসচিব ওয়ালীউল দামান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো।

এর আগে গত ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসংক্রান্ত পরিপত্রে ৭ নভেম্বরকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দিনটি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে।

এদিকে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বর্তমানে টানা পাঁচ দিনের ছুটি ভোগ করছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এই ছুটি চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত।

ছুটি শেষে আগামী রোববার থেকে সরকারি অফিসের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে শুরু হবে।


আগামীকাল খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) খুলনা ও বাগেরহাট সফর করবেন।

সফরকালে বাগেরহাটের মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ এবং প্রস্তাবিত বেজা ইকনোমিক জোন পরিদর্শনসহ দিনব্যাপী একাধিক সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে নিজ বাসভবন থেকে তেজগাঁও বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সকাল ৯টায় হেলিকপ্টারযোগে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করবেন তিনি। ১০টা নাগাদ আকাশপথে হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন সুন্দরবন এলাকা পরিদর্শন করবেন।

পরিদর্শন শেষে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলায় অবস্থিত নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সড়কপথে লঞ্চঘাটে গিয়ে নৌপথে বাগেরহাট জেলার বানৌজা মোংলার উদ্দেশে যাত্রা করবেন।

দুপুরে বানৌজা মোংলা জেটিতে পৌঁছে ওয়ার্ডরুমের উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মধ্যাহ্ন বিরতির পর বিকেল ১টা ৪৫ মিনিটে ওয়ার্ডরুমের সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় অংশ নেবেন তিনি।

বিকেলে মোংলা বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম ও জেটি পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে তিনি প্রস্তাবিত বেজা ইকনোমিক জোন এলাকা ঘুরে দেখবেন।

দিনব্যাপী সরকারি কর্মসূচি শেষে বিকেল ৪টায় মোংলার হেলিপ্যাড থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি এবং বিকেল ৫ টায় ঢাকায় পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে জানানো হয়েছে, সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে খুলনা ও বাগেরহাট জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।


ক্রীড়া সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমের চেতনাকে সুদৃঢ় করে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্রীড়া শুধু প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং দেশপ্রেমের চেতনাকে সুদৃঢ় করে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি সুস্থ, সচেতন, কর্মক্ষম ও আত্মপ্রত্যয়ী জাতি গঠনে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম।

‘কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আগামী ২৩-২৫ অক্টোবর এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিযোগিতা উপলক্ষে আয়োজক, অংশগ্রহণকারী অ্যাথলেট, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা, বিচারক, ক্রীড়া সংগঠক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি প্রতিযোগিতার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

তিনি বলেন, এটি কেবল একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, বরং দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানজনক অবস্থানে পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস।

এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রতিভার বিকাশ, তরুণ-তরুণীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ এবং জাতীয় পর্যায়ে অ্যাথলেটিক্সের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রীড়া এখন শুধু বিনোদন কিংবা শারীরিক সুস্থতার মাধ্যম নয়, বরং একটি পেশা হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। বাংলাদেশেও ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বর্তমান সরকার স্কুল পর্যায় থেকেই ক্রীড়া শিক্ষাকে সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করেছে। শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো ক্রীড়া।

তিনি বলেন, অ্যাথলেটিক্সকে খেলাধুলার অন্যতম মৌলিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দৌড়, লাফ ও নিক্ষেপের মতো ইভেন্টের মধ্য দিয়ে একজন অ্যাথলেটের গতি, শক্তি, সহনশীলতা, সমন্বয় ও মানসিক দৃঢ়তার বিকাশ ঘটে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে একটি দেশের সামগ্রিক সক্ষমতা ও ক্রীড়ার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরতেও অ্যাথলেটিক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বাংলাদেশের অ্যাথলেটিক্সের উন্নয়ন, তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভা অন্বেষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক উদ্যোগের আহবান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহরাঞ্চল পর্যন্ত অসংখ্য প্রতিভাবান তরুণ-তরুণী রয়েছে, যাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের প্রতিভা বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ, আধুনিক প্রশিক্ষণ, দক্ষ কোচ, বিজ্ঞানভিত্তিক অনুশীলন, পুষ্টি ও চিকিৎসাসেবা এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ প্রয়োজন। জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার মতো আয়োজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিজেদের সামর্থ্য তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের অ্যাথলেটদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়।

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আরও শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্যমণ্ডিত করতে তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠন, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রীড়া সংস্থা এবং জাতীয় ফেডারেশনগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা জরুরি।

প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার পাশাপাশি তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।

একজন ক্রীড়াবিদ যেন খেলাধুলাকে সম্মানজনক পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন, সে পরিবেশ তৈরিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ক্রীড়ার প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে ন্যায়সংগত প্রতিযোগিতা, শৃঙ্খলা, সততা এবং প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মধ্যে। জয়-পরাজয় প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক অংশ। একজন প্রকৃত ক্রীড়াবিদ বিজয়ের আনন্দে যেমন সংযত থাকেন, তেমনি পরাজয় থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করেন।

তিনি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী সব অ্যাথলেটকে নিয়মনীতি মেনে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব নিয়ে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখার অনুরোধ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ সমাজ দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের মেধা, শ্রম, সাহস ও সৃজনশীলতাকে ইতিবাচক কাজে নিয়োজিত করা গেলে বাংলাদেশ আরও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবে। খেলাধুলা তরুণদের মাদক, হতাশা, অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও নেতিবাচক প্রবণতা থেকে দূরে রেখে সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত করতে পারে। মাঠের অনুশীলন তাদের সময়ানুবর্তিতা, দলগত দায়িত্ববোধ, অধ্যবসায় এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলার শিক্ষা দেয়।

তিনি বলেন, অ্যাথলেটিক্সে নারী খেলোয়াড়েরা যেন পিছিয়ে না থাকেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। নারী অ্যাথলেটদের প্রতিভা বিকাশ, মানসম্মত প্রশিক্ষণ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের খেলোয়াড়দের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো প্রতিভা যেন বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সরকার, ক্রীড়া ফেডারেশন, ক্লাব, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত সহযোগিতা অপরিহার্য। ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন, মাঠ সংরক্ষণ, প্রশিক্ষণের আধুনিকায়ন এবং ক্রীড়াবিদদের যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি কার্যকর ক্রীড়া পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজন, প্রতিভা অন্বেষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরির কার্যক্রম আরও গতিশীল করবে।


সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে ঢাকার চিঠির জবাব দেয়নি রিয়াদ

বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো চিঠির উত্তর এখনো দেয়নি রিয়াদ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো চিঠির উত্তর এখনো দেয়নি রিয়াদ। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বাংলাদেশ মিশনকে কোনো ধরনের পূর্বতথ্য না দিয়েই গত ১৪ অক্টোবর ওই দুই প্রবাসীর দণ্ড কার্যকর করা হয়। এ ঘটনার পর চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা তলব করার কথা জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ঢাকার পক্ষ থেকে আদালতের রায়ের অনুলিপি, অভিযুক্তদের সুনির্দিষ্ট অপরাধের বিবরণ এবং কূটনৈতিক মিশনকে অবহিত না করার কারণ বিস্তারিতভাবে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল।

এদিকে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাতে সে দেশের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এক বাংলাদেশি পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উল্লেখ করেন, মামলার চূড়ান্ত নথিপত্র ও তথ্য পাওয়ার পর সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনা করে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। একই সাথে তিনি এ স্পর্শকাতর বিষয়ে সবাইকে ধৈর্য ধরার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক শ্রমবাজার। দেশটিতে কর্মরত প্রায় ৩৫ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের পাঠানো অর্থ জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রেখে চলেছে। ফলে অভিবাসী শ্রমিকদের আইনি অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত।

বিষয়:

খাদ্য ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, পণ্যের প্যাকেটে থাকতে হবে বিএফএসএ নম্বর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং ব্যবসায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী ১ নভেম্বর থেকে নির্দিষ্ট শ্রেণির খাদ্য ব্যবসায়ে নিবন্ধন ও বিশেষায়িত খাদ্যপণ্যের লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাজারে বিক্রি হওয়া খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) নিবন্ধন নম্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আবশ্যক হবে।

গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এর আওতায় বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই বিধানের গেজেট প্রকাশিত হয়।

এই নতুন আইনের ফলে রাস্তার পাশের ছোটখাটো পিঠা ও পুরির দোকান থেকে শুরু করে বড় রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান, ক্যাটারিং সেবা, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী, খাদ্য সংরক্ষণাগার, কোল্ড স্টোরেজ এবং আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা নিবন্ধনের আওতায় আসবেন। নীতিমালায় উল্লিখিত প্রচলিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রথমবার নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি বিনামূল্যে সম্পাদন করা যাবে। তবে বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য প্রস্তুত, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মজুত বা আমদানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স নিতে হবে।

বিএফএসএ-র অনুমোদন ব্যতিরেখে ব্যবসা পরিচালনা করাকে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

পণ্যের গায়ে নিবন্ধন নম্বর মুদ্রিত থাকলে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করা ভোক্তাদের জন্য সহজ হবে এবং যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে এই নম্বরটি ব্যবহার করা যাবে। তবে কর্তৃপক্ষের মতে, নম্বর থাকাই পণ্যের গুণমানের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, মান বজায় রাখতে অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলতে হবে।

শিশু খাদ্য, বয়স্ক বা রোগীদের জন্য তৈরি বিশেষ পথ্য, সাপ্লিমেন্ট, প্রোবায়োটিক এবং নিউট্রাসিউটিক্যালসের মতো পণ্যের জন্য আলাদা লাইসেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জিএমও, অর্গানিক, ফোর্টিফায়েড বা স্বাস্থ্যগত উপকারের দাবিযুক্ত খাদ্যপণ্যের জন্যও অতিরিক্ত অনুমোদন আবশ্যক করা হয়েছে।

আবেদনকারীদের প্রবিধানমালার তফসিল অনুসারে নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করতে হবে, যেখানে ১০০ বর্গমিটার পর্যন্ত ছোট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ফি ১০ হাজার টাকা এবং ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি বড় প্রতিষ্ঠানের ফি ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে বিএফএসএ-র জেলা কার্যালয়ে সরাসরি আবেদন জমা নেওয়া হলেও দ্রুত তা পুরোপুরি অনলাইনে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এই নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মেয়াদ থাকবে তিন বছর, যা পরবর্তীতে নবায়ন করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে খাদ্য খাত একটি সুনির্দিষ্ট শৃঙ্খলায় আসবে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা সহজতর হবে।


ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ: চীফ হুইপ

দীর্ঘ ১৭ বছরের জুলুম-নির্যাতন ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে বিএনপি
জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের পাঁচ বছরের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করেই জনগণ পরবর্তী নির্বাচনে ভোট দেবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, সরকার ব্যর্থ হলে জনগণই ভোটের মাধ্যমে তার জবাব দেবে। তাই ঘন ঘন আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা না করে জনগণের রায়ের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।

আজ বুধবার, বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত জিয়া মঞ্চের বরিশাল বিভাগীয় সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চীফ হুইপ বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও নানা সংকটের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দেশ পুনর্গঠনের উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত না করে সরকারকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। লংমার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের বিদ্যমান সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের জুলুম-নির্যাতন ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে বিএনপি। নানা সংকটের মধ্যেও বর্তমান সরকার দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনে কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখসারিতে থেকে তিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতার পর দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তাঁকে জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন ও সংসদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জামাল। সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জিয়া মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক মো. ফয়েজ উল্লাহ ইকবাল।

আবু তালেবের সভাপতিত্বে এবং গোলাম ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সাংগঠনিক বক্তব্য দেন জিয়া মঞ্চের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার জামাল হোসেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। পরে জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। সম্মেলনে বরিশাল বিভাগের মহানগর ও বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

বিষয়:

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্নফাঁস, সিআইডির অভিযানে গ্রেপ্তার ১

ই একই ঘটনায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছিল
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোহাগ ফকির নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত মঙ্গলবার রাতে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় স্থানীয় থানা-পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। আজ বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সিআইডি।

সিআইডি গণমাধ্যম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, ‘সোহাগ নিজেকে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সহকারী পরিচালক দাবি করেছেন। পূজার ছুটিতে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ থাকায় তাঁর দাবি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রশ্নফাঁসের মামলার তদন্তে ৩৮ বছর বয়সী সোহাগের প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হওয়ার পরই তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার সোহাগকে আদালতে পাঠানোর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম পুরোদমে অব্যাহত রয়েছে। এর আগে এই একই ঘটনায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছিল।

উল্লেখ্য, গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা’ পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল ধরা পড়লে কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়। এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর রাজধানীর মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে গত ১৬ অক্টোবর স্থগিত হওয়া পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয়, যাতে মোট ৫ হাজার ৩৮৬ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

বিষয়:

সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৮ হাজার শিশু নিহত

পৌনে সাত বছরে বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ জন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

দেশে ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত প্রায় পৌনে সাত বছরে বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ জন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯৫৮ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এ ছাড়া রাস্তা পারাপার বা হাঁটার সময় পথচারী হিসেবে ২ হাজার ৮১২ জন এবং অন্যান্য যানবাহনের যাত্রী অবস্থায় ২ হাজার ১৯৩ শিশুর মৃত্যু ঘটেছে।

বুধবার প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক চিত্র তুলে ধরেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। দেশের ৯টি প্রধান জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংস্থার নিজস্ব মাঠপর্যায়ের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ বিশ্লেষণ তৈরি করা হয়।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মোট নিহত শিশুদের ৩৫ দশমিক ৩১ শতাংশই ছিল পথচারী। পথচারী শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ২৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে তিন চাকার যানবাহনের (থ্রি-হুইলার) ধাক্কায়। এছাড়া বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপের মতো ভারী যানের চাপায় প্রাণ গেছে ১ হাজার ১২৬ শিশুর। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় ৩১৭ জন এবং মোটরসাইকেলের আঘাতে ৯৮ শিশু নিহত হয়েছে।

সড়কের ধরন পর্যালোচনায় দেখা যায়, সর্বোচ্চ ৩৪ দশমিক ০৭ শতাংশ অর্থাৎ ২ হাজার ৭১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে গ্রামীণ সড়কে। আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ৮২ জন, জাতীয় মহাসড়কে ১ হাজার ৯৭৪ জন এবং শহরাঞ্চলের সড়কে ১ হাজার ১৯৪ শিশু দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা যায়।

সময়ের হিসাবে বিকেলে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৩৪ শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া সকালে ২ হাজার ১৬৮ জন, দুপুরে ১ হাজার ৮১৩ জন, রাতে ৫৯৮ জন, সন্ধ্যায় ৫৪৬ জন এবং ভোরে ২০৪ শিশুর প্রাণহানি ঘটে। নিহতদের বয়সসীমা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি, যা মোট মৃত্যুর ৪৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ বা ৩ হাজার ৫৪৭ জন। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ২ হাজার ৮৮৪ জন এবং ৫ বছর পর্যন্ত বয়সী ১ হাজার ৫৩২ শিশু এ সময়ে প্রাণ হারায়।

প্রতিবেদনে আরও প্রকাশ পায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকালে ২ হাজার ৫১৩ শিশু এবং বসতবাড়ির আশপাশের রাস্তায় খেলার সময় ৯৬২ শিশুর অকালমৃত্যু ঘটেছে। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শিশুদের জন্য সড়ক ও পরিবহন কাঠামোর উপযুক্ত না থাকা, অসচেতনতা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পথচলার নির্দেশনার অভাব, লাইসেন্সবিহীন ও কমবয়সী চালকদের গাড়ি চালানো এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসংকট এসব মৃত্যুর প্রধান কারণ। বিশেষ করে পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে গ্রামীণ সড়কগুলো শিশুদের জন্য দিন দিন চরম অনিরাপদ হয়ে উঠছে।

এ সংকট নিরসনে সড়কব্যবস্থা শিশুবান্ধব করা, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সচেতনতা তৈরি এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ট্রমা চিকিৎসাসেবা বৃদ্ধি, দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন এবং সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ কঠোরভাবে প্রয়োগের তাগিদ দিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।


banner close