প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তাঁর সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘স্বাধীন বিচার বিভাগ, শক্তিশালী সংসদ ও প্রশাসন একটি দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা গ্রহণের পর আমরা বিচার বিভাগকে প্রশাসন থেকে আলাদা করে সম্পূর্ণ স্বাধীন করেছি, যা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য ছিল।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন সাউথ এশিয়ান কনস্টিটিউশনাল কোর্টস ইন দ্যা টুয়েন্টি-র্ফাস্ট সেঞ্চুরি: লেসন্স ফ্রম বাংলাদেশ অ্যান্ড ইন্ডিয়া’ শীর্ষক দুদিন ব্যাপী সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
উচ্চ আদালতের রায়ে সামরিক শাসন এবং সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতা দখলকে অবৈধ হিসেবে রায় দেয়ার প্রসংগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর যখন এই রায় এল, সেই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আবার গণতন্ত্রকে সুসংহত করি। আমাদের সংবিধানের ৭ম অনুচ্ছেদ যেখানে বলা আছে যে ‘এই প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ’ সেখানে আরেকটি অনুচ্ছেদ আমরা যুক্ত করে এই উচ্চ আদালতের রায় অনুসারেই অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারি যে অপরাধী এবং সেটা যে শাস্তিযোগ্য অপরাধ সেটা আমরা সংযুক্ত করি। এর মাধ্যমে জনগণের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য আমরা আইন পাশ করেছি। এই নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। তাকে আমরা সম্পূর্ণ স্বাধীন করে দিয়েছি। বাজেটেও তাদের জন্য পৃথক বরাদ্দ দিয়েছি। এমনকি আগে বিচার বিভাগও আর্থিকভাবে নির্ভরশীল ছিল সরকারের ওপর। কিন্তু আমরা সরকারে আসার পর বিচার বিভাগকেও সম্পূর্ণ স্বাধীন করে দিয়েছি। প্রশাসন থেকে বিচার বিভাগ আলাদা করে দিয়ে সবক্ষেত্রেই তাদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছি। আমরা এই বিষয়টা বিশ্বাস করি বলেই আমরা সেটা করতে পেরেছি, আওয়ামী লীগ সরকার করতে পেরেছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা যেমন আমরা নিশ্চিত করেছি তেমনি নির্বাচন প্রক্রিয়া ও নির্বাচন কমিশনকেও স্বাধীন করে দিয়েছি। যাতে তাঁরা আমাদের দেশের মানুষের অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে পারে।’
বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এবং ভারতের প্রধান বিচারপতি ড. ধনঞ্জয় যশবন্ত চন্দ্রচূড় বক্তৃতা করেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এম এনায়তুর রহিম স্বাগত বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘদিন ক্ষমতা জনগণের হাতে ছিল না, ক্যান্টনমেন্টেই বন্দি ছিল, এটাই হলো বাস্তবতা।’
তিনি বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাই সুপ্রীম কোর্টকে কেননা তাঁরা যে আদেশটা দিয়েছিল সেটাই আমাদের বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেয়। দুর্ভাগ্যক্রমে প্রায় ২১ বছর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষমতা মিলিটারি ডিক্টেটরদের হাতেই কুক্ষিগত ছিল।’
সরকারপ্রধান বলেন, “মুন সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে একটা মামলা ছিল। মার্শাল ল’ অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে ঐ মালিকানাটা দেয়া হয়েছিল অন্য কাউকে। যেটা নিয়ে আদালতে বিচার হয়। সেই বিচারের রায় দিতে গিয়েই সুপ্রিম কোর্ট এই মার্শাল ল’কে অবৈধ ঘোষণা করে। শুধু তাই নয় সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতা দখল যে সম্পূর্ণভাবে অসাংবিধানিক এবং অসাংবিধানিক ও অনির্বাচিত কেউ সরকারে থাকতে পারে না, এটা যে অবৈধ সেই ঘোষণাই জারি হয়। সেটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য নিশ্বাস ফেলার সুযোগ করে দেয়। তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার সুযোগ এনে দেয়। আর এর মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ করে দেয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘মিলিটারি ডিক্টেটররা ক্ষমতায় এসে প্রথমেই রাজনীতিবিদদের গালি-গালাজ করেছে। এরপর নিজেরাই রাজনীতিবিদ হয়ে গেছে, উর্দ্দী ছেড়ে রাজনিতিবীদ সেজে দল গঠন করে নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে অবৈধ ক্ষমতা বৈধ করার জন্য সংসদে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এসে সেই অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধ করার প্রয়াস পেয়েছে। সংবিধানের ৫ম ও ৭ম সংশোধনী এভাবেই তৈরি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাই আমাদের উচ্চ আদালতকে, কৃতজ্ঞতা জানাই সে সব জজ সাহেবদের যাঁরা রায় দিয়েছিলেন সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতা দখল ও মার্শাল ল’ জারি অবৈধ। আপনারা যদি ২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত হিসেব করেন আজ দেশের যে আর্থসামাজিক উন্নতি হচ্ছে সেটা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত এবং একটা স্থিতিশীল পরিবেশ আছে বলেই সেটা সম্ভব হয়েছে। আজকে এটা প্রমাণিত সত্য যে মানুষের জীবনে ন্যায় বিচার প্রাপ্তি, আর্থসামাজিক উন্নতি একমাত্র হতে পারে যখন মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করার সুযোগ হয়।’
‘দেশে একটি গণতান্ত্রিক ধারা বা পরিবেশ ছাড়া কখনও কোনো দেশের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নতি সম্ভব নয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভারতবাসী সেদিক থেকে সত্যিই সৌভাগ্যবান যে তাদের দেশে ধারাবাহিক গণতন্ত্র চলেছে। হয়তো সরকার পরিবর্তন হয়েছে এবং বিরোধী মতালম্বীরাও রয়েছেন কিন্তু গণতন্ত্র কখনো প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশে আমাদের জীবনে তো এসেছে অমানিশার অন্ধকার। পাকিস্তান আমলে যে স্বৈরশাসন বলবৎ ছিল তা আবার ’৭৫ এর পরে টানা ২১ বছর স্বাধীন বাংলাদেশেও চলেছে।”
তিনি মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানকেও এ সময় শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে আমাদের ৯শ’ জনের অধিক বিচারক ভারতের ন্যাশনাল জুডিসিয়াল একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ নেয়ায় ভারত সরকার এবং ভারতের সুপ্রীম কোর্টকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, ‘ভারতের সুপ্রীম কোর্ট আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার ও সাংবিধানিক মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে বিভিন্ন কালজয়ী সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে। আমাদের দুই বন্ধুপ্রতিম দেশ একই আইনের ও আইনী দর্শনের উত্তরাধিকারী হওয়ায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভারতের সুপ্রীম কোর্টের সিদ্ধান্তসমূহ আমাদের উচ্চ আদালত দৃষ্টান্ত/রেফারেন্স হিসেবে গ্রহণ করার নজির আছে। তাছাড়া, কমন-ল কান্ট্রিজ হওয়ার সুবাদে যেকোনো দেশ যেকারো রায়কে প্রিসিডেন্স হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এ ধরনের কনফারেন্স আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের সাথে ভারতের সুপ্রীম কোর্টের মিথষ্ক্রিয়া বৃদ্ধি পাবে। আইনী জ্ঞান ও প্রজ্ঞার বিনিময়ের মাধ্যমে উভয় দেশের আদালত ও বিচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ সমৃদ্ধ হবেন। ফলে দুদেশের বিচার বিভাগের মধ্যে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় আরোহণ করবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে অদূর ভবিষ্যতে ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার উদ্দেশ্যে উন্নত বিচার প্রশাসন বিনির্মাণে দুদেশের মধ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরি করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’
ঐতিহাসিক কিশোরগঞ্জ শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এই সর্ববৃহৎ ঈদ জামাতের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নেত্রকোণা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী এক বার্তার মাধ্যমে বিজিবির এই কঠোর অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেন। বিজিবি সূত্রে জানানো হয়, সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় তারা সর্বদা পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করে।
ঈদগাহ ময়দান ও এর সংলগ্ন এলাকায় জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য বাহিনীর সাথে সমন্বিতভাবে বিজিবি সদস্যরা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে। জননিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের নির্দিষ্ট প্রবেশপথ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে এবং কোনো ধরনের ব্যাগ, ধারালো অস্ত্র বা সন্দেহজনক সামগ্রী বহন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই ঈদ জামাত সম্পন্ন হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটির মধ্যে ঢাকার মেট্রোরেল চলাচল নিয়ে সময়সূচি জানিয়েছে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড।
প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের দিন মেট্রোরেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
তবে ঈদের পরদিন থেকে আগের মতো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মেট্রোরেল চলাচল পুনরায় শুরু হবে।
এদিকে দেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামী শনিবার (২১ মার্চ) সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হবে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে কক্সবাজারে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীতে এ বছর মোট ১ হাজার ৭৭১টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ১২১টি ঈদগাহ ও ১ হাজার ৫৯৯টি মসজিদে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঈদের জামাতকে ঘিরে সমন্বিত ও সুদৃঢ় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ-এর ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বেশিরভাগ স্থানে ঈদের জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হবে।
রাজধানীর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। এ জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বা অন্য কোনো কারণে এ আয়োজন সম্ভব না হলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ সকাল ৯টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধান জামাতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক ইমামতি করবেন এবং বিকল্প হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী প্রস্তুত থাকবেন। জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির জন্য নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যার মধ্যে সাড়ে তিন হাজার নারী মুসল্লির জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ, ওজু ও নামাজের ব্যবস্থা এবং মুসল্লিদের জন্য মেডিকেল টিমের সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বরাবরের মতো এবারও পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এসব জামাত যথাক্রমে সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও বেলা পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ঈদের নামাজ আদায় করা হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ২৫ হাজার মুসল্লি অংশ নিতে পারবেন। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়ও সকাল ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে এবং তা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সংসদ সদস্য, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সাধারণ মুসল্লিরাও এতে অংশ নিতে পারবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআয় দুটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে—প্রথমটি সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয়টি সকাল ৯টায়। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা যেমন লক্ষ্মীবাজার, গেন্ডারিয়া, মুগদা, মহাখালী, মান্ডা, লালবাগসহ বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নামাজের আয়োজন করা হয়েছে।
রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রামে জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল পৌনে ৯টায়। একই দিনে জেলা স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ-এ ১৯৯তম ঈদ জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। এ জামাতকে কেন্দ্র করে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠে সকাল ৯টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে তিন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বগুড়ার কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থানে সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ধাপে ধাপে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নারীদের অংশগ্রহণের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সারাদেশে ঈদের জামাতকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে ধর্মীয় এই উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশে ও প্রবাসে বসবাসকারী সব বাংলাদেশি এবং সারা বিশ্বের মুসলমানদের ঈদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) ঈদ উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এ শুভেচ্ছা জানান।
লিখিত বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মুমিন মুসলমানগণ সব অন্যায়, অবিচার ও পাপাচার হতে মুক্ত হয়ে উত্তম চারিত্রিক গুণাবলি অর্জন ও পারলৌকিক মুক্তির প্রয়াস পায়। ঈদের দিনে ধনী-গরিব-নির্বিশেষে সবাই এক কাতারে শামিল হন এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও সৌহার্দ্যময় রাষ্ট্র গঠনে পবিত্র ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য অপরিসীম। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শুভসূচনা ঘটেছে। একটি ন্যায়ভিত্তিক, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের অভিযাত্রায় আমরা এগিয়ে চলেছি। এই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের অভিযাত্রায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের শিক্ষা সবার মাঝে নতুন উদ্যম ও অনুপ্রেরণা জোগাবে—এ প্রত্যাশা করি।’
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটের অনাকাঙ্ক্ষিত অভিঘাত বাংলাদেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে এবং এ সময় সমাজের বিত্তবান ও সচ্ছল শ্রেণিকে দরিদ্র ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর পাশে আরও দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ঈদের অনাবিল আনন্দে সবার জীবন ভরে উঠুক এবং ঈদের সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি ছড়িয়ে যাক সবার ঘরে ঘরে।
প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ, মুসলিম উম্মাহ ও বিশ্বের সব মানুষের সুখ, শান্তি, কল্যাণ ও উত্তরোত্তর উন্নতির জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন রাষ্ট্রপতি এবং বলেন, মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন, আমিন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বিটিভিতে প্রচারিত এক বিশেষ টেলিভিশন বার্তায় দেশবাসীসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী । রমজানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ঈদুল ফিতরের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সিয়াম সাধনার মাস রমজানের শিক্ষা অন্তরে ধারণ করে আনন্দ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর এসেছে মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশ্বজনীন ঐক্য, সংহতি, সহমর্মিতা ও অনাবিল আনন্দের বার্তা নিয়ে।" ত্যাগ ও সংযমের শিক্ষা দিয়ে পবিত্র রমজান বিদায় নেওয়ার পর এই আনন্দের মাহেন্দ্রক্ষণে প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণের প্রতি ঈদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।
উৎসবের শুভকামনা জানিয়ে তিনি বলেন, "ঈদের আনন্দ পৌঁছে যাক প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি পরিবারে এবং প্রতিটি মানুষের কাছে।" রমজানের মহান আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে আরও বলেন, "আসুন, আমরা রমজানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হই এবং একে অপরের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিই।"
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাম্য ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই হোক আমাদের এবারের ঈদের অঙ্গীকার।
তিনি ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুক্রবার নিজ নির্বাচনী এলাকা কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনসহ সমগ্র দেশবাসীকে শুভেচ্ছা বার্তায় এ আহ্বান জানান।
তিনি দেশবাসীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করেন এবং সবাই যেন নিরাপদে ও আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারে- সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
শুভেচ্ছা বার্তায় মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর আনন্দ ও উৎসবের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য শিক্ষা দেয়।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ঈদের এই আনন্দ ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জীবনে অনাবিল সুখ ও শান্তি বয়ে আনবে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (২০ মার্চ) দেওয়া এক বাণীতে ঈদের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবিক, উন্নত ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদুল ফিতর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুটি ধর্মীয় উৎসবের একটি। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযমের পর পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের জীবনে আনন্দ, শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে।’
পবিত্র রমজান মাস সংযম, ত্যাগ, খেদমত ও আত্মশুদ্ধির অনন্য শিক্ষা দেয় জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই এক মাসের সাধনা আমাদের আত্মসংযমী হতে এবং অন্যের কষ্ট অনুভব করতে শেখায়। এর মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব জাগ্রত হয়। রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে প্রতিফলিত করাই ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদ আমাদের ধনী-গরিব, ছোট-বড় সব ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই আনন্দের দিনে আমরা যেন সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াই এবং সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিই এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করুক এই প্রত্যাশা করি। আসুন, আমরা ঈদের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি মানবিক, উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিতভাবে কাজ করি।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা ঈদের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি মানবিক, উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিতভাবে কাজ করি। আমি মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে প্রার্থনা করি- তিনি যেন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ, রহমত ও বরকত আমাদের সবার জীবনে বর্ষিত করেন।মহান আল্লাহ আমাদের দেশ ও জাতিকে শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যান এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ নিশ্চিত করুন।’
চলতি বছর হজ উপলক্ষে সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সেবায় ৬৬ সদস্যের প্রশাসনিক সহায়তাকারী দল গঠন করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২২’(সংশোধিত)-এর বিধি ২৫ অনুযায়ী এ দল গঠন করে তাদের সৌদি আরব গমনাগমনে সরকারের সম্মতি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছে মন্ত্রণালয়।
হজযাত্রীদের সেবায় গঠিত এ দলে গাড়িচালক, অফিস সহায়ক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, গানম্যান, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, কম্পিউটার অপারেটর ও ফটোকপি অপারেটরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দলে মোট ৯ জন গাড়িচালক রয়েছেন। তারা হলেন—মন্ত্রীর দপ্তরের মো. আলমগীর ও আক্তারুজ্জামান সরকার, সচিবের দপ্তরের মো. সাইদুল ইসলাম ও মো. টিটু মিয়া বেপারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (প্রেষণে হজ অনুবিভাগ) মো. মাসুদুর রহমান ও গোলাম মাওলা, হজ অফিসের মো. সালাহ উদ্দিন, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়ের মো. হাসান আলী এবং প্রশাসন শাখার মো. আবদুস সবুর বিশ্বাস।
এছাড়া দলে ২৫ জন অফিস সহায়ক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে আইন শাখার সম্রাট, সচিবের দপ্তরের মো. আনোয়ার হোসেন ও মো. সোহাগ, হজ-২ শাখার মো. রাশেদুল ইসলাম, সমন্বয় শাখার ইলিয়াছ আহমেদ ও মোছা. হাফিজা আক্তার, বাজেট ও অনুদান অনুবিভাগের মো. কামরুল হোসেন, প্রশাসন অনুবিভাগের তানিয়া আক্তার ও সাইয়্যিদা মারজিয়া রুবিনা, অনুদান শাখার পারুলী আক্তারী ও মনিরুল ইসলাম, উন্নয়ন অধিশাখার মো. নুরুল হুদা, হজ-১ শাখার মো. আশরাফুল ইসলাম, উপদেষ্টার দপ্তরের মো. অলিউল্লাহ, মো. আরমান হোসেন ও মাসুম বিল্লাল, হজ অনুবিভাগের কাজী জুয়েল মিয়া, পরিকল্পনা-১ শাখার সাদ্দাম বিশ্বাস, প্রশাসন-১ শাখার মনির হোসেন, আইসিটি শাখার মুহাম্মদ রাশেদ মিয়াজি, হজ অধিশাখার সারোয়ার মাহমুদ, বাজেট শাখার শারমিন সুলতানা, হজ-৩ শাখার মো. আলমগীর হোসেন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংযুক্ত মো. টিপু সুলতান ও হজ অফিস ঢাকার হাবিবুর রহমান রয়েছেন।
দলে দুইজন গানম্যান (বন্দুকধারী) রয়েছেন। তারা হলেন— সচিবের দপ্তরের মো. আব্দুল হাকিম এবং মন্ত্রীর দপ্তরের মো. আবুল কাশেম।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতি বছর হজযাত্রীদের সেবায় প্রশাসনিক দল, প্রশাসনিক সহায়তাকারী দল ও কারিগরি দল গঠন করে সরকারি ব্যয়ে সদস্যদের সৌদি আরবে পাঠিয়ে থাকে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এ বছরের হজ ফ্লাইট শুরু হবে ১৮ এপ্রিল থেকে।
তবে প্রতি বছরই বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ে এ ধরনের দল পাঠানো হলেও অনেক সময় সদস্যদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ হজযাত্রীদের সেবার পরিবর্তে ব্যক্তিগত কাজে বা ভ্রমণে ব্যস্ত থাকেন।
প্রায় প্রতিবছরই হজের সময় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সহায়তাকারী দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে।
পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার হিসেবে আজ সারাদেশে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পবিত্র জুমাতুল বিদা পালিত হচ্ছে।
মাহে রমজানের শেষ জুমার দিনটি মুসলিম বিশ্বে জুমাতুল বিদা নামে পরিচিত। এই দিনের মধ্য দিয়েই বিদায়ের প্রহর গুনছে ১৪৪৭ হিজরি সনের মহিমান্বিত মাস রমজান।
শুক্রবার (২০ মার্চ) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ সারাদেশের বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা জুমার নামাজে অংশ নিচ্ছেন। নামাজের আগে খতিব ও আলেমগণ জুমাতুল বিদার তাৎপর্য তুলে ধরে খুতবা দিচ্ছেন।
জুমার নামাজ শেষে মসজিদগুলোতে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একইসঙ্গে পবিত্র রমজান মাসকে বিদায় জানিয়ে মুসল্লিরা বিশেষ দোয়া করছেন।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জুমাতুল বিদার সবচেয়ে বড় জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
মুসলমানদের কাছে সারা বছরের মধ্যে রমজান মাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জুমাতুল বিদার মাধ্যমে কার্যত রোজাকে বিদায় জানানো হয়। এ ছাড়া আজ শুক্রবার রমজানের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে।
এর পরদিন শনিবার সারা দেশে একযোগে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন দেশবাসী।
ঈদের আনন্দ পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরেছেন কয়েক কোটি মানুষ। আগামীকাল শনিবার সারা দেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর।
গত কয়েকদিন ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনাসেতু মহাসড়কে যানবাহনের অনেক চাপ ছিল। ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার রাস্তা পর্যন্ত যানজট ছিল। গাড়ি চলেছে থেমে থেমে, দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরেফেরা মানুষেরা।
কিন্তু আজ শুক্রবার ঈদুল ফিতরের ঠিক আগের দিনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নেই কোনো যানজট, গতি ফিরেছে রাস্তায়। স্বস্তিতে ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ।
গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে ৪৫ হাজার ৬১০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ২৭ লাখ ৪৬ হাজার ৮৫০ টাকা।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ হাজার ৬১০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাগামী ১৩ হাজার ৭১৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ ২১ হাজার ৬৫০ টাকা। অপরদিকে উত্তরবঙ্গগামী ৩১ হাজার ৮৯৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ২০ লাখ ২৫ হাজার ২শ টাকা।
সেতু কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, গত ৫ দিনে সেতুর ওপর দিয়ে মোট ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১৫ কোটি ৩২ লাখ ৯০ হাজার ৭০০ টাকা।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, গতকাল সেতুর ওপর বারবার গাড়ি বিকল হয়েছে। বিকল হওয়া গাড়িগুলো সরিয়ে নিতে একটু সময় লাগায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। গতকাল রাত সাড়ে ৮ টার পর থেকে যানবাহনের চাপ কমে যায়। আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত মহাসড়কে স্বাভাবিক গতিতেই যানবাহন চলাচল করছে।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুহাম্মদ শরীফ বলেন, গতকাল রাত থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কমে যায়। এতে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে মানুষ। আজ সকাল পর্যন্ত মহাসড়কে স্বাভাবিক গতিতেই যানবাহন চলাচল করেছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান থেকে ১৮৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে স্বদেশে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে সীমান্ত দিয়ে আজারবাইজানে নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার তারা আজারবাইজানে পৌঁছেছেন এবং আজ শুক্রবারের মধ্যেই তাদের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বাকুর হায়দার আলিয়েভ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে করে আটকে পড়া এই নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। এই পুরো কার্যক্রম তদারকি করতে তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হক বর্তমানে বাকুতে অবস্থান করছেন এবং তাকে সহায়তা করার জন্য ঢাকা থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই জন কর্মকর্তাও সেখানে গিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, গত বছরের জুনেও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির সময় একইভাবে ইরান সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তান হয়ে অনেক বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু দিয়ে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক যানবাহন পারাপার এবং সর্বোচ্চ টোল আদায়ের নতুন মাইলফলক অতিক্রম করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে এ বছর যাতায়াতের প্রথম তিন দিনে ১ লাখ ৯ হাজার ২৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮০২টি। ২০২৬ সালের প্রথম তিন দিনে মোট টোল আদায় হয়েছে ১২ কোটি ৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ১২ কোটি ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা।
একইভাবে যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ এক দিনে সর্বোচ্চ ৫১ হাজার ৩৮৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার ৩৬৮টি। ২০২৬ সালে এক দিনে সর্বোচ্চ টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ৩ কোটি ৪৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০ টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের তুলনায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও এ বছর বড় কোনো দুর্ঘটনা বা বড় ধরনের যানজট পরিলক্ষিত হয়নি। এই পরিসংখ্যান দেশের সড়ক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় সেতু কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা ও দক্ষতার প্রতিফলন।
এবার ঈদ উপলক্ষে সেতু বিভাগের পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু এলাকায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে টোল কালেক্টরদের প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনবল নিয়োগ, সার্বক্ষণিক টোল লেন চালু রাখা, মোটরসাইকেল লেন বৃদ্ধি, নন-স্টপ ইটিসি চালু, মাওয়া বাস-বে উন্মুক্তকরণ, সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক মনিটরিং জোরদার, উচ্চপর্যায়ের সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম গঠন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, যাত্রীদের জরুরি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, এলেঙ্গা বাস-বে উন্মুক্তকরণ, সেতুর প্রতি ৫০০ মিটার পরপর নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, কর্ণফুলী টানেল থেকে আনা একটি ভারী রেকারসহ মোট তিনটি রেকারের মাধ্যমে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, ইমার্জেন্সি টোল লেন চালু এবং ইফতার সামগ্রী বিতরণ।
দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনা শেষে শনিবার সারাদেশে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে যাচ্ছে, তবে উৎসবের এই দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শুক্রবার সকালে আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক এই আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, "ঈদের দিন সারাদেশে বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে। কোথাও হয়তো কম হবে আবার কোথায় বেশি তবে সারাদেশেই বৃষ্টির সম্ভবনা আছে। এছাড়াও এই বৃষ্টির সাধারণত ১ ঘণ্টার বেশি সময় স্থায়ী হবে না।" আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের দিন সকালে ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে এবং বেলা বাড়ার সাথে সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এর বিস্তার ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে ড. ওমর ফারুক আরও বলেন, "দেশের ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে সকালে বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে। তবে একটু বেলা বাড়ার সাথে সাথে চট্টগ্রাম, বরিশাল এবং সিলেটের দিকে বৃষ্টি হবে।" বৃষ্টির পাশাপাশি দেশের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতসহ বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
এছাড়া পরবর্তী ৫ দিনের পূর্বাভাসে ২১ মার্চ দেশের আটটি বিভাগের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে উপকূলীয় ও উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিশেষ সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে।