প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তাঁর সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘স্বাধীন বিচার বিভাগ, শক্তিশালী সংসদ ও প্রশাসন একটি দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা গ্রহণের পর আমরা বিচার বিভাগকে প্রশাসন থেকে আলাদা করে সম্পূর্ণ স্বাধীন করেছি, যা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য ছিল।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন সাউথ এশিয়ান কনস্টিটিউশনাল কোর্টস ইন দ্যা টুয়েন্টি-র্ফাস্ট সেঞ্চুরি: লেসন্স ফ্রম বাংলাদেশ অ্যান্ড ইন্ডিয়া’ শীর্ষক দুদিন ব্যাপী সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
উচ্চ আদালতের রায়ে সামরিক শাসন এবং সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতা দখলকে অবৈধ হিসেবে রায় দেয়ার প্রসংগ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর যখন এই রায় এল, সেই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আবার গণতন্ত্রকে সুসংহত করি। আমাদের সংবিধানের ৭ম অনুচ্ছেদ যেখানে বলা আছে যে ‘এই প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ’ সেখানে আরেকটি অনুচ্ছেদ আমরা যুক্ত করে এই উচ্চ আদালতের রায় অনুসারেই অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারি যে অপরাধী এবং সেটা যে শাস্তিযোগ্য অপরাধ সেটা আমরা সংযুক্ত করি। এর মাধ্যমে জনগণের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য আমরা আইন পাশ করেছি। এই নির্বাচন কমিশন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। তাকে আমরা সম্পূর্ণ স্বাধীন করে দিয়েছি। বাজেটেও তাদের জন্য পৃথক বরাদ্দ দিয়েছি। এমনকি আগে বিচার বিভাগও আর্থিকভাবে নির্ভরশীল ছিল সরকারের ওপর। কিন্তু আমরা সরকারে আসার পর বিচার বিভাগকেও সম্পূর্ণ স্বাধীন করে দিয়েছি। প্রশাসন থেকে বিচার বিভাগ আলাদা করে দিয়ে সবক্ষেত্রেই তাদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছি। আমরা এই বিষয়টা বিশ্বাস করি বলেই আমরা সেটা করতে পেরেছি, আওয়ামী লীগ সরকার করতে পেরেছে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা যেমন আমরা নিশ্চিত করেছি তেমনি নির্বাচন প্রক্রিয়া ও নির্বাচন কমিশনকেও স্বাধীন করে দিয়েছি। যাতে তাঁরা আমাদের দেশের মানুষের অধিকারগুলো নিশ্চিত করতে পারে।’
বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এবং ভারতের প্রধান বিচারপতি ড. ধনঞ্জয় যশবন্ত চন্দ্রচূড় বক্তৃতা করেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এম এনায়তুর রহিম স্বাগত বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘদিন ক্ষমতা জনগণের হাতে ছিল না, ক্যান্টনমেন্টেই বন্দি ছিল, এটাই হলো বাস্তবতা।’
তিনি বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাই সুপ্রীম কোর্টকে কেননা তাঁরা যে আদেশটা দিয়েছিল সেটাই আমাদের বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেয়। দুর্ভাগ্যক্রমে প্রায় ২১ বছর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষমতা মিলিটারি ডিক্টেটরদের হাতেই কুক্ষিগত ছিল।’
সরকারপ্রধান বলেন, “মুন সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে একটা মামলা ছিল। মার্শাল ল’ অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে ঐ মালিকানাটা দেয়া হয়েছিল অন্য কাউকে। যেটা নিয়ে আদালতে বিচার হয়। সেই বিচারের রায় দিতে গিয়েই সুপ্রিম কোর্ট এই মার্শাল ল’কে অবৈধ ঘোষণা করে। শুধু তাই নয় সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতা দখল যে সম্পূর্ণভাবে অসাংবিধানিক এবং অসাংবিধানিক ও অনির্বাচিত কেউ সরকারে থাকতে পারে না, এটা যে অবৈধ সেই ঘোষণাই জারি হয়। সেটা বাংলাদেশের মানুষের জন্য নিশ্বাস ফেলার সুযোগ করে দেয়। তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার সুযোগ এনে দেয়। আর এর মাধ্যমেই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ করে দেয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘মিলিটারি ডিক্টেটররা ক্ষমতায় এসে প্রথমেই রাজনীতিবিদদের গালি-গালাজ করেছে। এরপর নিজেরাই রাজনীতিবিদ হয়ে গেছে, উর্দ্দী ছেড়ে রাজনিতিবীদ সেজে দল গঠন করে নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে অবৈধ ক্ষমতা বৈধ করার জন্য সংসদে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এসে সেই অবৈধ ক্ষমতাকে বৈধ করার প্রয়াস পেয়েছে। সংবিধানের ৫ম ও ৭ম সংশোধনী এভাবেই তৈরি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাই আমাদের উচ্চ আদালতকে, কৃতজ্ঞতা জানাই সে সব জজ সাহেবদের যাঁরা রায় দিয়েছিলেন সংবিধান লংঘন করে ক্ষমতা দখল ও মার্শাল ল’ জারি অবৈধ। আপনারা যদি ২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত হিসেব করেন আজ দেশের যে আর্থসামাজিক উন্নতি হচ্ছে সেটা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত এবং একটা স্থিতিশীল পরিবেশ আছে বলেই সেটা সম্ভব হয়েছে। আজকে এটা প্রমাণিত সত্য যে মানুষের জীবনে ন্যায় বিচার প্রাপ্তি, আর্থসামাজিক উন্নতি একমাত্র হতে পারে যখন মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করার সুযোগ হয়।’
‘দেশে একটি গণতান্ত্রিক ধারা বা পরিবেশ ছাড়া কখনও কোনো দেশের জনগণের আর্থসামাজিক উন্নতি সম্ভব নয়’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভারতবাসী সেদিক থেকে সত্যিই সৌভাগ্যবান যে তাদের দেশে ধারাবাহিক গণতন্ত্র চলেছে। হয়তো সরকার পরিবর্তন হয়েছে এবং বিরোধী মতালম্বীরাও রয়েছেন কিন্তু গণতন্ত্র কখনো প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি। কিন্তু বাংলাদেশে আমাদের জীবনে তো এসেছে অমানিশার অন্ধকার। পাকিস্তান আমলে যে স্বৈরশাসন বলবৎ ছিল তা আবার ’৭৫ এর পরে টানা ২১ বছর স্বাধীন বাংলাদেশেও চলেছে।”
তিনি মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদানকেও এ সময় শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে আমাদের ৯শ’ জনের অধিক বিচারক ভারতের ন্যাশনাল জুডিসিয়াল একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ নেয়ায় ভারত সরকার এবং ভারতের সুপ্রীম কোর্টকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, ‘ভারতের সুপ্রীম কোর্ট আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার ও সাংবিধানিক মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে বিভিন্ন কালজয়ী সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে। আমাদের দুই বন্ধুপ্রতিম দেশ একই আইনের ও আইনী দর্শনের উত্তরাধিকারী হওয়ায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভারতের সুপ্রীম কোর্টের সিদ্ধান্তসমূহ আমাদের উচ্চ আদালত দৃষ্টান্ত/রেফারেন্স হিসেবে গ্রহণ করার নজির আছে। তাছাড়া, কমন-ল কান্ট্রিজ হওয়ার সুবাদে যেকোনো দেশ যেকারো রায়কে প্রিসিডেন্স হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এ ধরনের কনফারেন্স আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সুপ্রীম কোর্টের সাথে ভারতের সুপ্রীম কোর্টের মিথষ্ক্রিয়া বৃদ্ধি পাবে। আইনী জ্ঞান ও প্রজ্ঞার বিনিময়ের মাধ্যমে উভয় দেশের আদালত ও বিচার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ সমৃদ্ধ হবেন। ফলে দুদেশের বিচার বিভাগের মধ্যে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় আরোহণ করবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে অদূর ভবিষ্যতে ন্যায় বিচার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখার উদ্দেশ্যে উন্নত বিচার প্রশাসন বিনির্মাণে দুদেশের মধ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরি করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।’
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের পরিবর্তে ‘মাফিয়া পার্টি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দল মনে করি না; একটা মাফিয়া পার্টি। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে।” নিষিদ্ধ এই দলটির আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
আগামী ২৩ জুন দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আগামী ২৩ জুন তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে যেকোনো কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ এই দলটি উক্ত দিনটিকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে মিছিল বা কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে তা অন্য রাজনৈতিক দল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। এই ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিদেশে পলাতক সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান যে, তাকে ইতিমধ্যে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, “সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ইতিমধ্যে দুবাই সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত তাকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে।” আইনি সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে শিগগিরই বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু এলাকার অপরাধ দমন প্রসঙ্গেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “মোহাম্মদপুর এলাকা বহু বছর ধরেই অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়ে রয়েছে। এ মোহাম্মদপুরকেও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হবে। এখানকার অপরাধীদের নির্মূল করা হবে।” পুলিশ সদস্যরা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, তাদের ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নিয়মিতভাবে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কোনো ধরনের আপস করবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মায়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, "রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো তাদের নিজ দেশ মায়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসন।" তিনি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন, দীর্ঘ এক দশক ধরে বিশাল এক শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে আর সম্ভব নয়, বিশেষ করে যখন রোহিঙ্গারা নিজেরাও নিজ দেশে ফিরে যেতে উদগ্রীব।
শনিবার (২০ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
ওই সভায় রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী স্পষ্টভাবে বলেন, "রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মায়ানমারে এবং এর স্থায়ী সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে।"
তিনি আরও জানান, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে দীর্ঘকাল আশ্রয় দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ তৈরি হয়েছে। এই সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনক সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততা আরও জোরদারের আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সক্রিয় প্রচেষ্টাই কেবল রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সক্ষম।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জাতি গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হলো শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ। একটি আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য পাঠ্য বিষয় শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব অনস্বীকার্য।’
শনিবার (২০ জুন) অনুষ্ঠেয় ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ হচ্ছে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ।
তারেক রহমান বলেন, সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শিক্ষা খাতের আধুনিকায়ন ও পরিমার্জন এবং সময়োপযোগী করে তুলতে কাজ করছে। সে জন্য পাঠ্যক্রমে খেলাধুলাও অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে ও সাঁতার এসব খেলা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু তাত্ত্বিক নয়, ব্যবহারিক ক্লাস ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এই ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। আমার বিশ্বাস, এর ফলে মাদকাসক্তি, মোবাইল ফোন আসক্তির মতো সামাজিক সমস্যা রুখে দিতে সহায়ক হবে।’
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬’ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। নীতিমালা অনুযায়ী, এই টুর্নামেন্টে দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অর্থাৎ ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৯৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯৫৬ জন বালক ও বালিকা (বালক ৪৬ লাখ ৯১ হাজার ৯৯৬ এবং বালিকা ৫২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬০ জন) উভয় খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টে বালক ও বালিকা দল সমান সুযোগ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে। এ বছর সারাদেশে বালক ও বালিকা দল মিলিয়ে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৭৪টি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট কলেবর বিবেচনায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট হিসেবে বিবেচিত।
‘বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে মনন বিকাশে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে গুরুত্বারোপ করছে। এর ফলে দেশে ও আন্তর্জাতিক আয়োজনে আমাদের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলায়, বিশেষ করে ফুটবলে, সাফল্য অর্জন করছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারীরা হবে আমাদের আগামীর উজ্জ্বল মুখ, যারা দেশকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুনভাবে আলোকিত করবে। আমি প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করি।’
সুস্থ মননশীলতা গঠন এবং সামাজিক মেলবন্ধনের আবহ ধরে রাখতে ফল উৎসবের সংস্কৃতিকে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, প্রেস ক্লাবের এ ধরনের উদ্যোগ কেবল একটি ছোটখাটো উৎসব নয়, এর পেছনে একটি সুদূরপ্রসারী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দর্শন রয়েছে। পারস্পরিক হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে এই মৌসুমে একসঙ্গে ফল বিনিময় এবং ফল আহারের গুরুত্ব অপরিসীম।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘ফল উৎসব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবের এই ঐতিহ্যবাহী ফল উৎসবের সংস্কৃতিকে কেবল শহরের গণ্ডিতে আটকে না রেখে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।
রকমারি দেশি ফলের সম্ভার ও দেশাত্মবোধক গানের আয়োজনে গতকাল সকাল থেকে মুখরিত হয়ে ওঠে প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ। জাতীয় প্রেস ক্লাবের থিম সং ‘প্রেস ক্লাব আমাদের সেকেন্ড হোম’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
মন্ত্রী সমাজ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, যে সমাজে সুস্থ অনুভূতি বিনিময়ের মাধ্যম থাকে না, সামাজিকতা বা সামাজিক প্রতিষ্ঠান থাকে না; কেবল ক্ষমতা দখলের দলাদলি আর হিংস্র প্রতিযোগিতা চলে— তা কখনো সভ্যতার মানদণ্ড হতে পারে না।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ও সংস্কৃতির উদাহরণ টেনে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সব ধর্ম ও সমাজেই মৌসুমি ফল ও প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের রীতি রয়েছে। এই মাটির প্রতি পরম করুণাময়ের রহমত ও আশীর্বাদ আছে বলেই আমাদের প্রকৃতি এত চমৎকার সব বৈচিত্র্যময় ফলমূল মানুষকে উপহার দেয়। ফল উপভোগ করার মধ্য দিয়ে মূলত প্রকৃতির ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি এক ধরনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায় বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
তিনি এই আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, প্রেস ক্লাবের মতো শীর্ষ প্রতিষ্ঠান যখন এই সুন্দর সংস্কৃতিকে ধরে রাখে এবং চর্চা করে, তখন গণমাধ্যমের কল্যাণে তা দেশব্যাপী ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই সুস্থ মনোজগতকে জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারলে তা একটি সুস্থ ও মানবিক জাতি গঠনে বড় অবদান রাখবে।
এবারের উৎসবে আম্রপালি, ফজলি, হাঁড়িভাঙ্গা, জাম্বুরা, কলা, কামরাঙ্গা, আমলকি, আমড়া, পেঁপে, কাঁঠাল, আনারস, পেয়ারা, করমচা, লটকন, ড্রাগন, ডেউয়া, জামরুল, তাল, আপেল, লেবু, বাতাবিলেবু, লিচুসহ প্রায় ৪২ ধরনের বৈচিত্র্যময় দেশি ফলের প্রদর্শনী ও রস আস্বাদনের ব্যবস্থা করা হয়।
ফলের এই সমাহারের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। দেশাত্মবোধক ও লোকজ গান পরিবেশন করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন শিল্পী তামান্না হক, শাহরিয়ার রাফাত, মিনি আলাউদ্দিন ও বাবু।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা এই ফল উৎসব ও সঙ্গীতানুষ্ঠান উপভোগ করেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং বিশেষ অনুষ্ঠান ও আপ্যায়ন উপকমিটির আহ্বায়ক কাদের গনি চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য কাজী রওনাক হোসেন, বখতিয়ার রানা, সৈয়দ আবদাল আহমদ, একেএম মহসিন, মাসুমুর রহমান খলিলীসহ ক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।
কোনো প্রশ্ন করা ছাড়াই সুনির্দিষ্ট খাতে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ দিতে যাচ্ছে সরকার। বিশেষ করে জমি, বিল্ডিং বা ফ্ল্যাট কেনাবেচার ক্ষেত্রে স্বপ্রণোদিত হয়ে ঘোষণা দিলে অ-প্রদর্শিত অতিরিক্ত অর্থ নিয়মিত কর দিয়ে বৈধ করা যাবে। আবাসন ব্যবসায়ীরা এ সুযোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলছেন, আরেকটি বেগম পাড়া তৈরি ঠেকাতে এ সুযোগ কাজে আসবে। তবে, দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবির মতে, অ-প্রদর্শিত অর্থ যে নামেই অভিহিত হোক না কেনো, এ সুযোগ দুর্নীতিকে উস্কে দেবে, সমাজে বাড়াবে বৈষম্য।
প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করা নিয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। তবে, বাজেটের অর্থ বিলে আয়কর আইন, ২০২৩-এর প্রথম তফসিলে সংশোধন এনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি স্বপ্রণোদিতভাবে জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগ কিংবা ক্রয়ের সময় অ-প্রদর্শিত আয় ঘোষণা করে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ কর পরিশোধ করলে সেই অর্থের উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন তুলতে পারবে না সরকার।
আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌজা রেট-এর তুলনায় জমির বর্তমান দাম অনেক বেশি। বেশি দামে কেনাবেচা হওয়া অতিরিক্ত এই অর্থ কোনোভাবেই কালো টাকা বলতে নারাজ তারা। এছাড়া, অ-প্রদর্শিত অন্যান্য টাকাও আবাসন খাতে বিনিয়োগ করলে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে তারল্য প্রবাহ বাড়াবে বলে তারা আশা করছেন।
রিহ্যাবের সভাপতি আলী আফজাল বলেন, ‘এখন ব্যবসায়ীরা টাকাটা কী করবে। তারা তো সিস্টেমে আনতে পারছে না। আমরা বলছি সেটা সিস্টেমে নিয়ে আসা হোক। বরং সরকার কিছু ট্যাক্স পাবে। সিস্টেমে যদি আসে তাহলে বর্তমানে দেশের ব্যাংকগুলোতে যে তারল্য সংকট রয়েছে সেটা দূর হবে। এবং এ অর্থটা কিন্তু মেইনস্ট্রিমের বাইরে চলে গেছে। বালিশের নিচে আছে, আলমারিতে আছে বিভিন্ন জায়গায় পড়ে আছে। সেটাকে আপনি মূল ধারায় নিয়ে আসেন।’
অ-প্রদর্শিত যেকোনো অর্থ এনবিআর এর চোখে অবৈধ। প্রায়ই এনবিআরের অভিযানে এসব অর্থ জব্দ করার অভিযোগ করছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা। এজন্য অতিরিক্ত কর দিয়ে বৈধ করার সুযোগকেই উত্তম বিকল্প হিসেবে দেখছেন তারা।
এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, ‘ইনকাম ট্যাক্সের লোক আসছে একেবারে ডেভেলপারের গলা চেপে ধরে টাকাগুলো নিয়ে যাচ্ছে। যে টাকাগুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্তাব্যক্তিরা নিজেদের পকেটে নিচ্ছে তার ৫০ শতাংশও যদি রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা দেয় দেশ অনেক উন্নত হবে।’
তবে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থার বাংলাদেশ শাখা-টিআইবি মনে করেন এ সুযোগে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও তীব্র হবে। নিরুৎসাহিত হতে পারেন নিয়মিত কর পরিশোধকারীরাও।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘যে খাতগুলোতে এ সুবিধা দেয়া হবে সে খাতগুলোকে যারা পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত তাদের কতৃত্বাধীন করে দেয়া হচ্ছে। যারা সৎভাবে উপার্জন করেন তাদের পক্ষে এ খাতে অংশ নেয়ার সুযোগ ক্রমাগতভাবে কমছে।’
মৌজা রেট কম থাকার সুযোগে অ-প্রদর্শিত অর্থের জন্ম হচ্ছে, আবাসন ব্যবসায়ীদের এমন যুক্তিও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।
প্রশাসন ক্যাডারের ১২ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি ও বদলি করে নতুন দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। এদের মধ্যে কয়েকজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদ থেকে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। পাশাপাশি কয়েকজন কর্মকর্তার কর্মস্থল পরিবর্তন এবং নতুন বিভাগে ইউএনও হিসেবে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাঙ্গামাটি সদরের ইউএনও মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরীকে খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ইউএনও সজীব কান্তি রুদ্রকে বান্দরবান এবং ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ইউএনও রিগ্যান চাকমাকে চাঁদপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ইউএনও মো. খায়রুল ইসলামকে জামালপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তাকে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১০(২) ধারা অনুযায়ী নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাও প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে, দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কর্মস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খানকে সাতক্ষীরা এবং বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. আবু তালেবকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, প্রশাসন ক্যাডারের ছয় কর্মকর্তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদায়নের জন্য বিভিন্ন বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইউএনও মংচিংনু মারমাকে সিলেট বিভাগে এবং জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ইউএনও নাজমুল হুসাইনকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট লাভলী ইয়াসমিন ও রাজউকের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহনাজ পারভীন বীথিকে খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার কাজী তাহমিনা শারমিনকে রাজশাহী বিভাগে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের উপপ্রধান নূরী তাসমিন ঊর্মিকেও ইউএনও হিসেবে পদায়নের জন্য খুলনা বিভাগে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ন্যস্তকৃত কর্মকর্তাদের কয়েকজনকে আগামী ২৪ জুনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বর্তমান দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে বিবেচিত হবেন।
জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সাক্ষাৎকালে পাকিস্তান হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর কামরান দাংগাল উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে হাইকমিশনার ইমরান হায়দার উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ‘ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি’ নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগ্রহী। তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক ‘ইতিবাচক ধারায় অগ্রসর হচ্ছে’, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের নিয়মিত সফর বিনিময়ের মধ্য দিয়ে। পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিক কাঠামো পর্যবেক্ষণে সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি শিক্ষাবিদ প্রতিনিধিদলের সফর এবং তাদের সন্তোষজনক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও হাইকমিশনার আলোচনায় তুলে ধরেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রসারে পাকিস্তান সরকারের নেওয়া বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ প্রদান করা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৭৪ জন শিক্ষার্থী পাকিস্তানে পড়াশোনা শুরু করেছেন। এছাড়া গত মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা মেলার সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মেধা বিনিময় বৃদ্ধি এবং চলমান ‘নলেজ করিডোর’ প্রকল্পকে ভবিষ্যতে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে পাকিস্তান।
সংসদীয় পর্যায়ে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে একটি সংসদীয় গ্রুপ গঠনের আহ্বান জানান হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। আলোচনার এক পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ও মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার জন্য হাইকমিশনারের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। এই সৌজন্য সাক্ষাতে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুরও উপস্থিত ছিলেন।
জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে বিশ্ববাসীকে আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। নিউইয়র্কে গত ১৮ জুন অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ‘ইকোসক হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্ট’-এর প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বাংলাদেশের এই অবস্থান তুলে ধরেন।
বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং এর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, বিশ্বজুড়ে সংঘাত মোকাবিলায় বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি মানবিক সহায়তা, শান্তি রক্ষা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। একইসঙ্গে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি ও অপব্যবহারের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় ব্যক্ত করেন।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, এই জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের ঘাটতি বিশেষ করে নারী ও কিশোরীদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই সংকটের একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে নিরাপদ ও দ্রুত প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।
জাতিসংঘের এই সফরের ফাঁকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নগুয়েন মিন ভুর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। ওই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক অঙ্গনে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে উভয় নেতা মতবিনিময় করেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম গণমাধ্যমের সব ধারার অংশীজনকে এক মঞ্চে সমবেত করেছে সরকার। এর মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও দেশে একটি স্বাধীন জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় সরকার রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কেবল একজন ‘সহায়ক’ ও সহযোগী অংশীদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল-এ জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের রূপরেখা প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এক কর্মশালায় সভা প্রধানের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি দেশের গণমাধ্যম ইতিহাসের জন্য এক অনন্য মাইলফলক। বাংলাদেশে এই প্রথম গণমাধ্যমের মূল ধারার সকল অংশীজনকে আমরা একই মঞ্চে জড়ো করতে পেরেছি।
তিনি বলেন, আজকের এই আয়োজন মূলত একটি উন্মুক্ত সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। আমরা সবাই যদি আলোচনার মধ্য দিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে আমাদের পথ চলার মূল বিন্দুটি খুঁজে বের করতে পারি, তবেই এই আয়োজন সার্থক হবে। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের মহান ও স্বাধীন উদ্দেশ্যকে সফলভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কেবল একজন 'সহায়ক' এবং 'সমন্বয়কারী'র দায়িত্ব পালন করবে।
বর্তমান সরকারের গণতান্ত্রিক ও কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার নির্বাচনে যাওয়ার আগেই দেশের জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল—রাষ্ট্রকে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার। এজন্য রাষ্ট্রের কাঠামোগত যেসব জায়গায় মেরামত বা সংস্কার করা দরকার, সকলকে সাথে নিয়ে সেসব জায়গায় সরকার মেরামত করবে।
তিনি বলেন, সংস্কারের এইতালিকাভুক্ত খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে গণমাধ্যম। সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার সঞ্চালনায় কর্মশালায় ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল, সম্পাদক পরিষদ, জাতীয় নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব), টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল, অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্সের (অ্যাটকো), ন্যাশনাল মিডিয়া ওয়াচ কাউন্সিল, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি), ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টসহ বিভিন্ন টেলিভিশন মালিক, সম্পাদকবৃন্দ, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ধোঁয়াশা, প্রায় ৯৩ বার তদন্তের সময় পেছানো এবং এক অদৃশ্য আড়ালের পর অবশেষে আলোর মুখ দেখতে চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মহা কেলেঙ্কারির তদন্ত। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ১০ হাজার পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র প্রস্তুত করেছে। ওই অভিযোগপত্রে উঠে এসেছে দেশি-বিদেশি ৬৪ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম—যার মধ্যে রয়েছেন খোদ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎকালীন শীর্ষ কর্মকর্তা ও সাবেক গভর্নর। এত বছর পর প্রস্তুত হওয়া এই অভিযোগপত্র শুধু আইনি প্রক্রিয়ার একটি দলিলই নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্নকারীদের মুখোশ উন্মোচনের এক ঐতিহাসিক সোপান।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সিআইডির মুখপাত্র জসীমউদ্দিন খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার খসড়া অভিযোগপত্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত করেছে সিআইডি।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুন বলেন, আমাদের তদন্ত প্রক্রিয়া শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে, দৃশ্যত আর কোনো কাজ বাকি নেই। আশা করছি খুব দ্রুতই আমরা আদালতে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট জমা দিতে পারব। ইতোমধ্যে খসড়াটি আইনি চুলচেরা বিশ্লেষণের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্য-প্রমাণের পাহাড় ডিঙিয়ে এই অভিযোগপত্র তৈরি করা হয়েছে। এতে ডিজিটাল ফরেনসিক প্রতিবেদন, ফিলিপিন্সের মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর), মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর রিপোর্ট, জাপান ও ভারতের বিশেষজ্ঞ সুপারিশ, শ্রীলঙ্কা থেকে অর্থ ফেরত আনার দালিলিক রেকর্ড, সুইফটের অভ্যন্তরীণ তথ্য, বিস্তৃত তদন্ত নথিপত্র এবং ১৬১ ধারায় নেওয়া সাক্ষীদের জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমলে নেওয়া হয়েছে। প্রায় দশ হাজার পৃষ্ঠার মামলার এই ডকেট এবং খসড়া চার্জশিটে অপরাধের আদ্যোপান্ত ও অকাট্য তথ্যপ্রমাণ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে যাদের নাম এসেছে: বাংলাদেশিদের মধ্যে অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি আনিস এ খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক মহাব্যবস্থাপক কে এম আবদুল ওয়াদুদ, সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক রেজাউল করিম, তৎকালীন উপমহাব্যবস্থাপক মেজবাউল হক, সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা, ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের সাবেক উপপরিচালক জোবায়ের বিন হুদা, সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম, ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্টের মহাব্যবস্থাপক মো. সুলতান মাসুদ আহম্মেদ এবং গভর্নর সচিবালয়ের মহাব্যবস্থাপক এ এফ এম আসাদুজ্জামান।
আসামির তালিকায় ফিলিপিন্সের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান: ফিলিপিন্সের অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন কাম সিন ওং, মায়া সান্তোস দেগুইতো, রাউল ভিক্টর বি তান, ব্রিজিট আর কাপিনা, নেস্তর ও পিনেদা, রোমুয়ালদো এস আগারাডো, অ্যাঞ্জেলা রুথ এস টরেস, লোরেঞ্জো তান, মিস ন্যান্সি, জাও কিওগ, ডেনিস সি ব্যানকোড, ইসমায়েল আর রেইস, সাবিনো এম ইকো, লিজেন্ড জে রাসেলা, রিচার্ড ইনসাইন, উইলিয়াম সোঁ গো (প্রয়াত), সালুদ রেইস বাউতিস্তা শেবা, মিশেল বাউতিস্তা কনকন, অ্যান্টনি এ পেলেজো, জন ইউ, লুইস ফাব্রেগাস খো, ম্যান পো চান, মিং ই সাইমন সি, রোজালিও পরানতা তান্দুয়ান, এনরিকে কে রাজোন, টমাস আরাসি, জোসে এডুয়ার্ডো জে আলারিলা, ক্রিশ্চিয়ান আর গনজালেস, ডোনাটো সি আলমেইদা এবং ফ্লিন্ট রিচার্ডসন।
ব্যক্তির পাশাপাশি দেশটির আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে—রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি), ফিলরেম সার্ভিস করপোরেশন, সেঞ্চুরিটেক্স ট্রেডিং, আব্বা কারেন্সি এক্সচেঞ্জ ইনকরপোরেশন, বিকন কারেন্সি এক্সচেঞ্জ ইনকরপোরেশন, মাইডাস ক্যাসিনো এবং সোলেয়ার রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনোকে।
শ্রীলঙ্কার ৭ ব্যক্তি ও ১ প্রতিষ্ঠান: শ্রীলঙ্কান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন হেগোডা গামাগে শালিকা পেরেরা, ইমিয়াগে ডন মিউরিন রানাসিংহে, রামানায়েক আরাচ্চিগে ডন প্রদীপ রোহিত দামকিন, গাহা আরামবেগেদারা সাঞ্জিবা তিসা বান্দারা, ওয়েরাপুলি মুহান্দিরামগে প্রিয়াঙ্কা জয়দেব, লুয়াইস হান্নাদিগে শিরানি ধম্মিকা ফার্নান্দো এবং নিশান্ত নলক ওয়ালাকুলু আরাচ্চি। আর প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছে তাদের তৈরি করা ‘শালিকা ফাউন্ডেশন’ নামক ভুয়া এনজিওটি।
অন্য দেশের অভিযুক্তরা: এছাড়াও এই আন্তর্জাতিক জালিয়াতিতে সহায়তার অপরাধে ভারতের নাগরিক নীলাভান্নান মাদুক্কুর আনন্দন, প্রীতম রেড্ডি, সুধীন্দ্র আত্রেশ ও রাকেশ আস্তানা; উত্তর কোরিয়ার কুখ্যাত হ্যাকার পার্ক জিন হিয়োক ও দেশটির রাষ্ট্রীয় হ্যাকার সংগঠন ‘লাজারাস গ্রুপ’; চীনের তিন নাগরিক ডিং ঝিজে, গাও শুহুয়া ও ওয়েইকাং জু এবং জাপানি নাগরিক সাসাকির নাম রয়েছে এই অভিযোগপত্রে।
এদিকে, ঘটনার দীর্ঘ এক দশক পর মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের এই চূড়ান্ত পদক্ষেপে গভীর স্বস্তি প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, একটি দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের ক্ষুণ্ণ হওয়া ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতির একটি বড় অংশ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তারা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করছেন।
যেভাবে সুনিপুণভাবে ঘটেছিল সেই চুরি: ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। ঘড়ির কাঁটায় তখন মধ্যরাত। যখন পুরো দেশ গভীর ঘুমে মগ্ন, ঠিক তখনই সাইবার অপরাধের ইতিহাসে ঘটে যায় এক নজিরবিহীন ও দুঃসাহসিক ডাকাতি। কোনো ধরনের অস্ত্রের গর্জন ছাড়াই, কেবল কম্পিউটারের কি-বোর্ডের কয়েকটি ক্লিকে নিমিষেই গায়েব হয়ে যায় দেশের মানুষের রক্তঘাম ছড়ানো ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার বা তৎকালীন হিসেবে প্রায় ৮১০ কোটি টাকা। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ফিলিপাইনের ক্যাসিনো আর শ্রীলঙ্কার ব্যাংকে পাচার করে দেয় একদল আন্তর্জাতিক হ্যাকার।
শুরুতে একে কেবল বাইরের দেশের হ্যাকারদের কারসাজি মনে করা হলেও, সময়ের সাথে সাথে উন্মোচিত হতে থাকে ভেতরের অন্ধকার সত্যিগুলো। ‘সর্ষে ভূত’ থাকার মতোই ঘরের শত্রু বিভীষণদের অবহেলা, দায়িত্বহীনতা আর পরোক্ষ মদদ ছাড়া এত বড় ডাকাতি যে অসম্ভব ছিল, তা আজ দিনের আলোর মতো স্পষ্ট।
জানা যায়, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যম ‘সুইফট’ সিস্টেমের নিরাপত্তা ভেঙে ৩৫টি ভুয়া বার্তা পাঠানো হয়। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে (ফেড) রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয় চক্রটি।
এর মধ্যে একটি বার্তার মাধ্যমে শ্রীলঙ্কার একটি ভিউ এনজিওর নামে ২০ মিলিয়ন (২ কোটি) ডলার সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, ইংরেজি বানানের একটি সাধারণ ভুলের কারণে কর্মকর্তাদের মনে সন্দেহ জাগে। ফলে শেষ মুহূর্তে সেই অর্থ আটকে যায় এবং রক্ষা পায়।
তবে বাকি চারটি বার্তার মাধ্যমে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সফলভাবে সরিয়ে নেওয়া হয় ফিলিপিন্সের মাকাতি শহরের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকের (আরসিবিসি) জুপিটার স্ট্রিট শাখায়। সেখানে আগে থেকেই ‘ভুয়া তথ্য’ দিয়ে চারটি অ্যাকাউন্ট খুলে রাখা হয়েছিল।
অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে সেই বিপুল অর্থ ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর ‘ফিলরেম মানি রেমিটেন্স’ কোম্পানির মাধ্যমে স্থানীয় মুদ্রা পেসোতে রূপান্তর করে সেই টাকা ঢেলে দেওয়া হয় তিনটি ক্যাসিনোর জুয়ার টেবিলে।
পরবর্তীতে একটি ক্যাসিনো মালিকের কাছ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার উদ্ধার করে বাংলাদেশ সরকারকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হলেও, বাকি টাকার হদিস মেলাতে চরম বেগ পেতে হয়। জুয়ার টেবিলে হাতবদল হতে হতে সেই টাকা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকেছে, তার কোনো স্পষ্ট হদিস মিলছিল না।
এই অর্থ লোপাট, রূপান্তর এবং জালিয়াতিতে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে বর্তমানে নিউইয়র্কের আদালতে আরসিবিসি ব্যাংকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি মামলা চলমান রয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, রিজার্ভের অর্থ চুরির এই মাস্টারপ্ল্যানে ‘অজ্ঞাতনামা উত্তর কোরীয় হ্যাকারদের’ প্রত্যক্ষ সহায়তা নেওয়া হয়েছিল। হ্যাকাররা মূলত ‘নেস্টেগ’ ও ‘ম্যাকট্রাক’-এর মতো মারাত্মক ম্যালওয়্যার পাঠিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট নেটওয়ার্কে অনুপ্রবেশের গোপন পথ তৈরি করে। পরবর্তীতে নিউইয়র্ক ফেড থেকে অর্থ সরিয়ে তা নিউইয়র্ক ও ফিলিপিন্সের আরসিবিসি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়।
ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম এই সাইবার ডাকাতির খবরটি ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করলেও, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ বিষয়টি জানতে পারে প্রায় এক মাস পর—ফিলিপিন্সের একটি সংবাদমাধ্যমের খবরের সূত্রে।
এত বড় একটি ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে রাখার তীব্র সমালোচনার মুখে তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়।
পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। তবে প্রাথমিক সেই মামলায় সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।
শুরু থেকেই মামলাটির তদন্তভার সামলাচ্ছে সিআইডি। সর্বশেষ গত ১৮ মে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ রেকর্ড ৯৫ বারের মতো পেছানো হয়। আদালত আগামী ২ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।
চব্বিশের রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের পর গত বছরের জানুয়ারিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিলেও, মন্ত্রণালয় তদন্তভার হস্তান্তরে সম্মতি দেয়নি। ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সিআইডির হাত ধরেই আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে এই ঐতিহাসিক মামলার গতিপ্রকৃতি।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি বলেন, জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউ রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও দৃষ্টিনন্দন জনসমাগম স্থল। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত দর্শনার্থী, পথচারী, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াপ্রেমী এবং সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এ এলাকায় আসেন। তাই এ স্থানকে আরও পরিচ্ছন্ন, পরিবেশ ও জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মানিক মিয়া এভিনিউসংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশনা দেন ডেপুটি স্পিকার।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় সাধারণ মানুষের জন্য গণশৌচাগারের ব্যবস্থা না থাকায় দর্শনার্থীরা নানা ধরনের ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন। জাতীয় সংসদ ভবনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশে আগত মানুষের নাগরিক চাহিদা পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভ্রাম্যমান গণশৌচাগার ব্যবহার উপযোগী রাখার ব্যবস্হা গ্রহণ করতে হবে।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, জাতীয় সংসদ ভবন বিশ্বের অন্যতম স্থাপত্য নিদর্শন। প্রতিদিন শত শত মানুষ এর নান্দনিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে মানিক মিয়া এভিনিউতে আসেন। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা, যেখানে সেখানে বর্জ্য ফেলা এবং পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি উত্তরণে সংসদ কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশেষ করে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি, আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ মশার প্রজনন বৃদ্ধি করতে পারে, যা ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
তিনি সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বর্জ্য অপসারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানিক মিয়া এভিনিউ এবং সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকাকে আরও সবুজ ও পরিবেশসম্মত করে গড়ে তোলার জন্য সংসদ চত্বরের দেয়াল ঘেঁষে এবং উপযুক্ত খালি স্থানে অধিক সংখ্যক বৃক্ষ, ফুল ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছপালা রোপণ করতে হবে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে, অন্যদিকে দর্শনার্থীদের জন্য আরও মনোরম ও ছায়াময় পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদ সচিবালয়, গণপূর্ত অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মানিক মিয়া এভিনিউকে রাজধানীর একটি আদর্শ, পরিচ্ছন্ন ও সবুজ জনপরিসরে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।
পরিদর্শনকালে সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াসহ গণপূর্ত অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
ক্রমবর্ধমান রাজস্ব ঘাটতি, কর ফাঁকির মহোৎসব, কর অব্যাহতির অপব্যবহার এবং সীমিত করদাতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন ও কঠোর কৌশল নিয়েছে সরকার। রাজস্ব প্রশাসনে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাতে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস খাতের জন্য পৃথক তিনটি 'টাস্কফোর্স' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা সরকারের এই পদক্ষেপকে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। সরকারের প্রত্যাশা—এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে রাজস্ব আহরণের ভিত্তি যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি কর ব্যবস্থাপনায় ফিরবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা; যা শেষ পর্যন্ত উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম করবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছরে জাতীয় বাজেটের আকার জ্যামিতিকহারে বাড়লেও, সেই অনুপাতে বাড়েনি রাজস্ব আদায়। ফলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং সরকারি সেবা খাতের ব্যয় মেটাতে সরকারকে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের কর-জিডিপি অনুপাতও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হয়নি। এই সংকটজনক বাস্তবতায় কর প্রশাসনের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং কর ফাঁকি রোধকেই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস—এই তিন খাতের অসংগতি ও চ্যালেঞ্জের ধরন একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তাই প্রথাগত একক কাঠামোর পরিবর্তে এবার খাতভিত্তিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এসব টাস্কফোর্সের মূল কাজ হবে—কর ফাঁকির সুনির্দিষ্ট উৎস ও ধরন শনাক্ত করা, ঢালাও কর অব্যাহতির যৌক্তিকতা পুনঃমূল্যায়ন করা, রাজস্ব প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
অর্থ, পরিকল্পনা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, প্রতিটি টাস্কফোর্সের জন্য মাসভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা এবং ‘মাইলফলক’ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এটি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং প্রতি মাসে সংশ্লিষ্ট খাতের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করে নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।
‘কর ফাঁকি, জালিয়াতি এবং অযৌক্তিক কর অব্যাহতি কমিয়ে রাজস্ব আহরণের ভিত্তি শক্তিশালী করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আমরা পুরো রাজস্ব ব্যবস্থাকে একটি তথ্যনির্ভর, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে কাজ করছি।’
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের কর ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো অতি সীমিত করদাতা ভিত্তি। দেশের অর্থনীতির আকার দৃশ্যমানভাবে বাড়লেও করদাতার সংখ্যা রয়ে গেছে প্রায় একই জায়গায়। বিপুলসংখ্যক সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এখনো কার্যকর কর জালের বাইরে অবস্থান করছে। ফলে যারা নিয়মিত কর দিচ্ছেন, তাদের ওপর করের বোঝা দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠছে। নতুন টাস্কফোর্সগুলো যদি কর নেট সম্প্রসারণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তবেই রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
ড. তিতুমীর উল্লেখ করেন, সরকার বর্তমানে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, পুনর্বহাল এবং পুনর্গঠনের একটি 'থ্রি-স্টেপ' কৌশল অনুসরণ করছে। এই লক্ষ্য অর্জনে ভোগব্যয় বৃদ্ধি, বেসরকারি বিনিয়োগে উৎসাহ দান, সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানো এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজস্ব ব্যবস্থার এই আমূল সংস্কার মূলত এই বৃহত্তর অর্থনৈতিক কৌশলেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অতীতে রাজস্ব আদায়ের তথ্য উপস্থাপনায় বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতি ও ধোঁয়াশা ছিল, যার ফলে প্রকৃত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ত। এই ডেটা কারচুপির অবসান ঘটাতে তথ্য ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজস্ব প্রশাসনে প্রযুক্তির শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কর ফাঁকি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ধরা পড়বে। পাশাপাশি করদাতাদের জন্য সেবা প্রাপ্তিও সহজ হবে। ডিজিটাল তথ্যভান্ডার, স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং আন্ত-বিভাগীয় তথ্য আদান-প্রদানের সমন্বিত ব্যবস্থা চালু করা গেলে রাজস্ব আদায়ে বৈপ্লবিক অগ্রগতি সম্ভব।
তবে শুধু রাজস্ব বাড়ানোই সরকারের একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয়। অর্থ উপদেষ্টা নিজেই সরকারের পরিচালন ব্যয় ও উন্নয়ন ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বর্তমানে পরিচালন ব্যয় যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, মূলধনী ও উন্নয়ন ব্যয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাকা মন্থর করে দিতে পারে।
অর্থনীতিবিদরাও সতর্ক করে বলছেন, উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় পরিচালন ব্যয় (যেমন- বেতন, ভাতা, প্রশাসনিক খরচ) বেশি বাড়তে থাকলে তা সরকারের আর্থিক সক্ষমতাকে পঙ্গু করে দেবে। তাই রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি নিয়েও সরকার উদ্বিগ্ন। দেশে এমন বহু মেগা প্রকল্প রয়েছে, যেগুলো বছরের পর বছর ধরে চললেও কোনো সুফল দিচ্ছে না। বারবার সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি প্রকল্প ব্যবস্থাপনার চরম দুর্বলতাকেই প্রমাণ করে। এই প্রসঙ্গে ড. তিতুমীর বলেন, প্রকল্প গ্রহণ, অনুমোদন, বাস্তবায়ন, তদারকি এবং মূল্যায়নের পুরো চেইনেই আমূল সংস্কার আনা হচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে সরকার প্রকল্প তদারকিতে একটি ‘ড্যাশবোর্ডভিত্তিক ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে যেকোনো প্রকল্পের অগ্রগতি, ব্যয় এবং বাস্তবায়ন পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে বা ‘লাইভ’ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। এছাড়া উন্মুক্ত তথ্যনীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে গবেষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার সহজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
এদিকে ব্যবসায়ী মহল সরকারের এই সংস্কার উদ্যোগকে নীতিগতভাবে স্বাগত জানালেও এর মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন নিয়ে বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, ডিজিটালাইজেশন এবং ব্যবসা সহজীকরণের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে গভীর কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অলীক কল্পনামাত্র।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, রাজস্ব আদায়ের অতিরিক্ত চাপ মাঠপর্যায়ে করদাতাদের ওপর নতুন করে হয়রানির কারণ হতে পারে। তাই রাজস্ব বৃদ্ধির কৌশলটি এমন হতে হবে, যাতে দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি একটি ‘করদাতাবান্ধব’ প্রশাসন গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রকৃত কর ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দেন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন তিনটি টাস্কফোর্স গঠন মূলত বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় অগ্নিপরীক্ষা। কারণ বিগত দুই দশকে রাজস্ব প্রশাসনে সংস্কারের বহু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। এবার যদি সত্যি সত্যিই তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়, তবেই রাজস্ব আহরণে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।
আগামী অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা পুরোপুরি নির্ভর করছে এই সংস্কারের সাফল্যের ওপর। সে কারণে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস খাতের এই নতুন তিন টাস্কফোর্সকে কেবল একটি রুটিন প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং একে দেশের ভঙ্গুর রাজস্ব ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ রূপান্তরের এক চূড়ান্ত সূচনা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সে বিষয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সকে (এসএসএফ) বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসএসএফের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপরই তার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। তিনি এসএসএফকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, একটি সফিসটিকেটেড বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই।’
এসএসএফকে বিশেষায়িত বাহিনী উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এ বাহিনীর পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, এসএসএফ প্রতিষ্ঠার সময়ের তুলনায় বর্তমান সময়ে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক অবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের কারণে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, ‘একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার কোনোই সুযোগ নেই।’
তরুণ বয়স থেকেই এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে নিজের পরিচিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি এখন প্রতিদিন-প্রতি সময় এসএসএফের কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করছেন। তিনি বলেন, ‘মরহুমা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় থেকেই তিনি এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত।’
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমি এসএসএফকে আমার ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আবারো ধন্যবাদ জানাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব পালন করছে। রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী সরকারপ্রধান হিসেবে এসএসএফ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি। গাড়ি বহরের আকার সীমিত করার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তিনি তার গাড়িবহরের আকার সীমিত করেছেন। এ কারণে সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে এসএসএফকে দক্ষতা ও নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ দায়িত্ব যথাসম্ভব সুন্দরভাবে পালনের জন্য বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জনসভা ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জটিল বলে উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত রাখার মধ্যে ভারসাম্য রেখেই এসএসএফকে নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হয়।
এসএসএফের নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধনের কথাও অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কিছুক্ষণ আগে তিনি ফায়ারিং রেঞ্জটি উদ্বোধন করেছেন এবং উদ্বোধনী মহড়াও প্রত্যক্ষ করেছেন। পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
২০০২ সালের পর এসএসএফের ‘রেড বুক’ সময়ের চাহিদা অনুযায়ী পুনরায় সংস্কার করে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ‘রেড বুক’ এসএসএফের কার্যপদ্ধতি ও কর্মপদ্ধতির নীতিমালা দেওয়ার পাশাপাশি আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এসএসএফ সদস্যদের জন্য সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং চেইন অব কমান্ড কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং দেশে-বিদেশে রাষ্ট্রঘোষিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ও জড়িত।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে দেশের অন্য নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, সমন্বয় যত বেশি দক্ষতার সঙ্গে করা যাবে, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তত বেশি সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে। দায়িত্ব পালনের সময় জনগণ যাতে দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়, সে বিষয়েও এসএসএফকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে, তবে গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে হবে।