একদিকে বিদ্যুতের চাহিদা প্রতি বছর বাড়ছে, অন্যদিকে চাহিদার সঙ্গে ভোক্তাপর্যায়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে এ খাতের কোম্পানিগুলোর ব্যবসার পালে হাওয়া বদল হতে শুরু করছে।
সম্প্রতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছেন ২০২৫ সালে বিদ্যুতের চাহিদা বর্তমান সময়ের তুলনায় ৮ থেকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। ফলে সামনের বছরগুলোতে বিদ্যুতের বর্ধিত চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে এ খাতের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যবসায় প্রবৃদ্ধি হওয়ার অপার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) বিদ্যুৎ খাতের বেসরকারি অধিকাংশ কোম্পানি ভালো পারফর্মেন্স দেখিয়েছে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদক কোম্পানির সংখ্যা ৯টি। সেগুলো হলো- সামিট পাওয়ার লিমিটেড, বারাকা পাওয়ার লিমিটেড, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেড (বিপিপিএল), ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেড, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (কেপিসিএল), শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (এসপিসিএল), ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ইউপিজিডিসিএল), এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড (ইপিজিএল) ও জিবিবি পাওয়ার লিমিটেড।
কোম্পানিগুলোর মধ্যে সামিট পাওয়ার তাদের আর্থিক প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করেনি। বাকিগুলোর মধ্যে বারাকা পাওয়ার, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার, কেপিসিএল ও শাহজিবাজার পাওয়ার আগের অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে লোকসান গুণলেও এবার ভালো মুনাফা লুফে নিয়েছে। বিপরীতে নিজেদের সব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ থাকায় মুনাফা থেকে সামান্য লোকসানে পতিত হয়েছে জিবিবি পাওয়ার। আর এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন ও ইউনাইটেড পাওয়ারের মুনাফা চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে সামান্য কমলেও বড় প্রবৃদ্ধি এসেছে ডরিন পাওয়ারের মুনাফায়। কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়জনিত ক্ষতি কমে আসায় এ সময়ে অধিকাংশ কোম্পানি ভালো করেছে।
অন্যদিকে, বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে, সে তুলনায় চাহিদা কম। চাহিদা কম হওয়ায় এ খাতের বেসরকারি অনেক কোম্পানিকে মাঝেমধ্যে উৎপাদন স্থগিত রাখতে হয়। যদি সামনের বছরগুলোতে চাহিদা বৃদ্ধি পায় তাহলে এ খাতের কোম্পানিগুলোরও ভালো করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
পুঁজিবাজারে বারাকা গ্রুপের তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানি বারাকা পাওয়ার লিমিটেড ও বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেড। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে বারাকা পাওয়ার ও তার সাবসিডিয়ারির সমন্বিত বিক্রি বাবদ আয় হয়েছে ১৪২ কোটি ৪ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে এ আয় হয়েছিল ৮৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির সমন্বিত বিক্রি বাবদ আয় বেড়েছে ৬১ দশমিক ১২ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির সমন্বিত কর পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে যেখানে সমন্বিত নিট লোকসান হয়েছিল ৮ কোটি ৮ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে বারাকা পাওয়ারের কোম্পানি সচিব মো. সাইফুল ইসলাম চৌধুরী দৈনিক বাংলাকে বলেন, বিদ্যুতের উচ্চ চাহিদার কারণে এ সময়ে আমাদের আয় বেড়েছে। আর বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়জনিত ক্ষতি কমে আসায় ব্যয় কমেছে। এতে ভালো মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।
গ্রুপের অন্য কোম্পানি বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার ও তার সাবসিডিয়ারির ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে সমন্বিত বিক্রি বাবদ আয় হয়েছে ৭২৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে এ আয় হয়েছিল ১ হাজার ৩৫৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে কোম্পানির আয় কমেছে ৪৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির সমন্বিত নিট মুনাফা হয়েছে ২০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে সমন্বিত নিট লোকসান হয়েছিল ৪৫ কোটি ১২ লাখ টাকা।
বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) পক্ষ থেকে এ সময়ে আমাদের কাছে চাহিদা কিছুটা কম ছিল। এতে পরিবর্তনশীল উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়ার আয় এবং জ্বালানি আয় যথাক্রমে ৪৮ শতাংশ ও ৫৮ শতাংশ কমেছে। যার ফলে সার্বিকভাবে আমাদের আয় কিছুটা কমেছে। তবে মূল কোম্পানি ও সাবসিডিয়ারির জন্য ভারী জ্বালানি তেল (এইচএফও) ও খুচরা যন্ত্রাংশসহ সব ধরনের কাঁচামাল আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়জনিত ক্ষতি কমে আসায় আমাদের ব্যয়ও তুলনামূলক কমেছে। যার ফলে এ সময়ে ভালো মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়েছে।
ডরিন পাওয়ার ও তার সাবসিডিয়ারি চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে সমন্বিতভাবে বিদ্যুৎ বিক্রি বাবদ আয় করেছে ৭০৩ কোটি ২২ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় হয়েছিল ৯৯৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে কোম্পানির সমন্বিত আয় কমেছে ২৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ। তবে আয় কমলেও এ সময়ে কোম্পানির নিট মুনাফায় বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময়ে কোম্পানির সমন্বিত নিট মুনাফা হয়েছে ৫১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে যেখানে মুনাফা হয়েছিল ১৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে কোম্পানির সমন্বিত নিট মুনাফা বেড়েছে ২৬৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
ডরিন পাওয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে আমাদের মূল কোম্পানির আয় বেড়েছে। তবে সাবসিডিয়ারি কোম্পানির আয় উল্লেখযোগ্যহারে কমেছে। যার ফলে সার্বিকভাবে আমাদের আয়ে নেতিবাচক প্রভাব প্রতীয়মান হয়েছে। তা সত্ত্বেও আর্থিক ব্যয় কমায় বড় মুনাফা এসেছে আলোচ্য সময়ে। মূলত এ সময়ে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়জনিত ক্ষতি কমে আসায় এ মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়েছে।
খুলনা পাওয়ার চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে ২১৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা বিক্রি বাবদ আয় করেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে কোম্পানিটির আয় হয়েছিল ১৭৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে কোম্পানির আয় বেড়েছে ২৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির নিট মুনাফা হয়েছে ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যেখানে নিট লোকসান হয়েছিল ৭৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
কেপিসিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আলোচ্য সময়ে তারা লোকসান কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। যদিও এ সময়ের মধ্যে তারা তাদের ১১০ মেগাওয়াট বার্জ মাউন্টেড বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিক্রয় মূল্য ও বুক ভ্যালুর মধ্যে পার্থক্য সমন্বয় করেছে। এ সমন্বয় না হলে আলোচ্য সময়ে তাদের মুনাফা আরও বাড়ত।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে শাহজিবাজার পাওয়ার ও তার সাবসিডিয়ারির সমন্বিত বিক্রি বাবদ আয় হয়েছে ৬৮৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ৩৩৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে কোম্পানির আয় বেড়েছে ১০৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানির নিট মুনাফা হয়েছে ৬৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যেখানে নিট লোকসান হয়েছিল ২২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে শাহজিবাজার পাওয়ারের কোম্পানি সচিব ইয়াসিন আহমেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, আলোচ্য সময়ে আমাদের কাছে বিদ্যুতের ভালো চাহিদা থাকায় বিক্রি বাবদ আয় বেড়েছে। যার সুবাদে আমরা পুনরায় লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরতে পেরেছি। যদিও আগের অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে বিশেষ কিছু কারণে আমাদের লোকসান হয়েছিল। আলোচ্য সময়ে আমরা যে মুনাফা করেছি তা বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির অংশ।
ইউনাইটেড পাওয়ারের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে সমন্বিতভাবে ১ হাজার ৮৭৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিক্রি বাবদ আয় হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে এ আয় হয়েছিল ১ হাজার ৬৩৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে কোম্পানির সমন্বিত আয় বেড়েছে ১৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। তা সত্ত্বেও প্রধানত দুটি কারণে এ সময়ে কোম্পানির মুনাফায় ভাটা পড়েছে। আলোচ্য সময়ে সমন্বিত নিট মুনাফা হয়েছে ৪৬২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যেখানে এ মুনাফা হয়েছিল ৫৩৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে কোম্পানির সমন্বিত নিট মুনাফা কমেছে ১৪ দশমিক ২৭ শতাংশ।
এ মুনাফা কমার কারণ হিসাবে ইউনাইটেড পাওয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আলোচ্য সময়ে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়জনিত ক্ষতি কিছুটা বেড়েছে। এর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির কারণে ঋণের বিপরীতে বেশি সুদ দিতে হয়েছে। এসব কারণে আমাদের মুনাফায় ভাটা পড়েছে।
চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথমার্ধে আয় ও মুনাফা দুটোই কমেছে এমন একমাত্র কোম্পানি এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির বিক্রি বাবদ আয় হয়েছে ১৪০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ৩২৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে কোম্পানির আয় কমেছে ৫৭ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গত জুলাই-ডিসেম্বরে কোম্পানির নিট মুনাফা হয়েছে ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে যা হয়েছিল ৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে বছরের ব্যবধানে কোম্পানির মুনাফা কমেছে ৬৩ দশমিক ৭১ শতাংশ।
আর চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদক বেসরকারি খাতের একমাত্র কোম্পানি হিসাবে জিবিবি পাওয়ারের বিক্রি ছিল শূন্য। যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৩৫ কোটি ০৮ লাখ টাকা। বিক্রিশূন্য হওয়ায় আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটিকে ৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে। যেখানে আগের অর্থবছরের প্রথমার্ধে ৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা নিট মুনাফা হয়েছিল। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিপিডিবির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এ সময়ে তাদের সব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ ছিল। এ জন্য লোকসান হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের স্বেচ্ছাচারিতায় দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে ৫৮ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় ৯১ শতাংশ জেলা এখন হামের ঝুঁকির আওতায় রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শিশুদের হামের টিকা না দেওয়ায় পরিস্থিতিকে উচ্চঝুঁকির দিকে নিয়ে গেছে। দিন দিন মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। প্রতিদিনই শিশুরা মারা যাচ্ছে, নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে (বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল আটটা পর্যন্ত) হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯৮ জন।
এ অবস্থায় বাংলাদেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। পরিস্থিতি জাতীয়ভাবে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মূল্যায়ন করেছে সংস্থাটি।
দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় সংক্রমণ ছড়ানো, বিশালসংখ্যক শিশুর আক্রান্ত হওয়া, টিকাদানের অভাবে এ রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতায় ঘাটতি এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাবলির আলোকে সংস্থাটির গত বৃহস্পতিবার এ মূল্যায়ন করে সংস্থাটি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদনে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া, টিকার ঘাটতি এবং মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান হার তুলে ধরা হয়। বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতি দেশের আগের অর্জনকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয় ২০২৪-২৫ সালে (অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে) দেশে এমআর টিকার জাতীয় পর্যায়ের ঘাটতির কারণে টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ বা এমআর১ ও এমআর২ কভারেজ কমে যায়। এ কারণে সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা শিশুর সংখ্যা বেড়েছে এবং বর্তমান প্রাদুর্ভাব তৈরি হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে দেশে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯ হাজার ১৬১ সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৯৭৩ জনের। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে ১৬৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১২ হাজার ৩১৮ জন চিকিৎসাধীন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৯১ শতাংশ জেলা এখন হামের কবলে। দেশের আট বিভাগে সংক্রমণ শনাক্ত হলেও ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত। ১৫ মার্চ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে ৮ হাজার ২৬৩ জন সন্দেহভাজন রোগী।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি দেখা গেছে ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, মিরপুর এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও বস্তি এলাকায়। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহী (৩,৭৪৭ জন), চট্টগ্রাম (২,৫১৪ জন) এবং খুলনা বিভাগে (১,৫৬৮ জন) সংক্রমণ তীব্র হচ্ছে।
হামের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুরা। আক্রান্ত শিশুদের ৭৯ শতাংশের বয়স ৫ বছরের নিচে। এর মধ্যে ৬৬ শতাংশের বয়স ২ বছরের কম এবং ৩৩ শতাংশের বয়স ৯ মাসের নিচে।
সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মৃত শিশুদের প্রায় সবাই টিকা না পাওয়া অথবা আংশিক টিকা পাওয়া (এক ডোজ)। ৯১ শতাংশ রোগী ১ থেকে ১৪ বছর বয়সি, যা এই বয়সি শিশুদের মধ্যে বড় ধরনের রোগ প্রতিরোধ ঘাটতির প্রমাণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ২০২৪-২৫ সালে দেশে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার জাতীয় পর্যায়ের ঘাটতি এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ। ২০০০ সালে যেখানে টিকার কভারেজ ছিল ৮৯ শতাংশ, সেখানে ২০২৪-২৫ সালে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ২০২০ সালের পর থেকে দেশব্যাপী কোনো নিয়মিত সম্পূরক হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি (এসআইএ) পালিত না হওয়া এ ঝুঁকির পথ তৈরি করেছে।
এ ছাড়া অপুষ্টিতে ভোগা এবং ভিটামিন এ-এর ঘাটতি থাকা শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অন্ধত্ব ও মস্তিষ্কে প্রদাহের (এনসেফালাইটিস) মতো জটিলতা মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন মূল্যায়নের পর সংস্থাটির সাবেক পরামর্শক ও জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সংক্রমণ পরিস্থিতি বাড়তে থাকায় আমরা বলেছিলাম, হামকে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা করা হোক। এখন সরকারের উচিত জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা এবং টিকাদান এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক তীব্র ভাইরাসজনিত রোগ। এটি সব বয়সী মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে। বিশ্বজুড়ে অল্প বয়সি শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম বড় কারণ হিসেবে হাম এখনো বিবেচিত হয়। এই রোগ বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির নাক, মুখ বা গলা থেকে বের হওয়া ড্রপলেটের মাধ্যমেও সংক্রমণ হতে পারে।
সংক্রমণের পর সাধারণত ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে প্রাথমিক উপসর্গ দেখা যায়। তবে এই সময়সীমা ৭ থেকে ২৩ দিন পর্যন্ত হতে পারে। উপসর্গের মধ্যে থাকে উচ্চ জ্বর, সর্দি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, কাশি এবং মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ।
সাধারণত সংক্রমণের ১০ থেকে ১৪ দিন পর শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেয়। ফুসকুড়ি প্রথমে মাথায় শুরু হয়, এরপর ধীরে ধীরে শরীরের মাঝের অংশ এবং পরে নিচের অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন আগে থেকে ফুসকুড়ি ওঠার চার দিন পর পর্যন্ত একজন রোগী অন্যদের মধ্যে রোগ ছড়াতে পারে। হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। বেশির ভাগ মানুষ দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর মধ্যে হাম গুরুতর অসুস্থতা তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে আছে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু, অপুষ্টিতে ভোগা শিশু, বিশেষ করে যাদের ভিটামিন এ ঘাটতি আছে এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, প্রাদুর্ভাবের আগে বাংলাদেশ হাম নির্মূলের পথে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছিল। হামপ্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজের কভারেজ ২০০০ সালে ছিল ৮৯ শতাংশ। ২০১৬ সালে তা বেড়ে হয় ১১৮ শতাংশ। দ্বিতীয় ডোজ দেশব্যাপী চালুর পর ২০১২ সালে কভারেজ ছিল ২২ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয় ১২১ শতাংশ। একই সময়ে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম রোগীর হার দ্রুত কমে এসেছিল।
জাতীয় পর্যায়ে ঝুঁকি ‘উচ্চ’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। কারণ, একাধিক বিভাগে সংক্রমণ চলমান, বিপুলসংখ্যক শিশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে, রোগ প্রতিরোধের ঘাটতি নথিভুক্ত এবং হাম-সম্পর্কিত সন্দেহভাজন মৃত্যু ঘটেছে।
টিকা না পাওয়া ও আংশিক টিকা পাওয়া শিশুদের মধ্যে রোগীর সংখ্যা বেশি। এর মধ্যে এমন শিশুরাও আছে, যাদের বয়স টিকা পাওয়ার জন্য এখনো যথেষ্ট হয়নি। এটি অব্যাহত সংক্রমণ এবং গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে ফের উৎপাদনে ফিরল দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বন্ধ হয়ে যাওয়া এক নম্বর ইউনিট ১২৫ মেগাওয়াট সম্পন্ন ইউনিটি। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত সোয়া ৮টার দিকে চালু হয়েছে ইউনিটটি।
এর আগে বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে কেন্দ্রটির ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটে এই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়।
এদিন কেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেছিলেন, কয়লার সঙ্গে পাথর আসায় ১ নম্বর ইউনিটের বয়লার পাইপ ফেটে যায় এবং উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এর মেরামত কাজ চলছে। এটি মেরামত করে আবার উৎপাদন শুরু করতে ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগতে পারে।
প্রসঙ্গত, বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে, যার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটি ও সংস্কারকাজের জন্য ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকে দীর্ঘ সাড়ে ৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। এরপর থেকে মূলত ১ ও ৩ নম্বর ইউনিট দিয়েই বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল কর্তৃপক্ষ।
তবে সচল থাকা এই দুটি ইউনিটও বিভিন্ন সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বারবার বন্ধ হয়েছে। এর আগে গত বছর (২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও অক্টোবর মাসে) বয়লারের লিকেজ, টিউব ফেটে যাওয়া এবং টারবাইনের সেন্সর নষ্ট হওয়ার মতো ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘদিনের পুরানো এই কেন্দ্রটিতে বারবার এমন বিপর্যয়ের কারণে উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ চরমভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নশ্চিত করতে ২৫ কোটি (২৫০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এ ঋণ অনুমোদন করা হয়।
‘সেকেন্ড স্ট্রেংদ্যানিং সোশ্যাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর আওতায় ‘সাব-প্রোগ্রাম ২’-এর লক্ষ্য হলো ঝুঁকি, বর্জন এবং দারিদ্র্যের ঝুঁকি কমাতে সুরক্ষামূলক এবং প্রতিরোধমূলক সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা। এই কর্মসূচি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, এর আওতা ও পরিধি সম্প্রসারণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, এই কর্মসূচিটি আরও আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থিতিস্থাপক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দিকে বাংলাদেশের উত্তরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
তিনি আরও বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীগুলোর জন্য—বিশেষ করে নারীদের—আওতা সম্প্রসারণ এবং অংশীদারিত্বমূলক (কন্ট্রিবিউটরি) সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে এই কর্মসূচির সংস্কারগুলো দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি দারিদ্র্যের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, একটি অধিকতর দক্ষ, অভিযোজনযোগ্য এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও অংশীদারিত্বমূলক সমৃদ্ধি অর্জনে আরও সুসজ্জিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদার হতে পেরে এডিবি গর্বিত।
এই কর্মসূচির অধীনস্থ সংস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে কন্ট্রিবিউটরি সামাজিক সুরক্ষা স্কিম বা অংশীদারিত্বমূলক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, যা দীর্ঘমেয়াদে সরকারের আর্থিক চাপ কমাতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিধবা ভাতা কর্মসূচির আওতায় আরও কমপক্ষে অতিরিক্ত ২ লাখ ৫০ হাজার সুবিধাবঞ্চিত নারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া একটি প্রধান কর্মসংস্থান কর্মসূচির (কোর ওয়ার্কফেয়ার প্রোগ্রাম) অধীনে জলবায়ু অভিযোজনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে অভিযোজনমূলক সামাজিক সুরক্ষাকে আরও শক্তিশালী করা হবে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্যভিত্তিক পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আর্থিক সেবার সুযোগ কমপক্ষে ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
এই কর্মসূচির আওতাধীন পদক্ষেপগুলো ক্ষুদ্র পর্যায়ে (মাইক্রো-লেভেল) গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং আরও বেশি মাত্রায় দারিদ্র্য হ্রাস—যা ইতিবাচক সামষ্টিক অর্থনৈতিক (ম্যাক্রো-ইকোনমিক) প্রভাব ফেলবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।
এডিবি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থিতিস্থাপক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে কাজ করা একটি শীর্ষস্থানীয় বহুপাক্ষিক উন্নয়ন ব্যাংক। এর সদস্য ও অংশীদারদের সঙ্গে জটিল চ্যালেঞ্জগুলো একসাথে সমাধান করতে এডিবি কাজ করে। মানুষের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন, মানসম্মত অবকাঠামো নির্মাণ এবং আমাদের এই পৃথিবী সুরক্ষায় উদ্ভাবনী আর্থিক সরঞ্জাম ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে কাজে লাগায় এডিবি। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এডিবি-র মালিকানায় রয়েছে ৬৯টি সদস্য দেশ, যার মধ্যে ৫০টি এ অঞ্চলের।
রাজধানীর বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা জিয়া রহমান একটি বায়িং হাউজে কাজ করেন। তার মাসিক বেতন ৮৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে বাড়ভাড়া, দুই সন্তানের লেখাপড়া, ওষুধ ও যাতায়াতের জন্য খরচ হয় ৫৮ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। তার সঙ্গ থাকেন বৃদ্ধ মা। স্ত্রীও কয়েকদিন কয়েক মাস ধরে অসুস্থ। বৃদ্ধ মা এবং অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা ব্যয়, সব মিলিয়ে তার খরচ হয়ে যায় ৭৫ হাজার টাকার মতো। বাকি টাকা দিয়ে মাসের বজার দূরে থাক, ১৫দিন চলাই দায়। সংসার চালাত হচ্ছে ধার-দেনা করে।
এদিকে, কয়েক মাস ধরে বেতন নিয়েও চলছে ঝামেলা। তারওপর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। এ অবস্থায় খরচ সামলাতে গরুর মাংস ও ফল খাওয়া কমিয়েছে তার পরিবার। আগে ছুটির দিনে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাঝেমধ্যে ঘুরতে বের হতেন জিয়া। এখন সেটাও বন্ধ।
জিয়া বলেন, ‘সবজি থেকে শুরু করে পোশাক, ওষুধ—সবকিছুর দাম বেড়েছে। আগে ১৬-২০ হাজার টাকায় মাসের বাজার হয়ে যেত। এখন লাগছে ৩০ হাজার টাকার মতো। গত এক সপ্তাহে ফার্মের মুরগির ডিম, চিনি, বেগুন, পটোলের দাম বেড়েছে। সোনালি মুরগির কেজিও ৩৫০ টাকার ওপরে। বাড়তি এই খরচ আমার জন্য অসহনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
বিক্রেতারা জানান, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বাজারে একসঙ্গে অনেক পণ্যের দাম বেড়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি রয়েছে। সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানিসংকট হওয়ায় বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এতে নতুন করে খরচের চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, ঠাটারি বাজার, মহাখালী, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও টাউন হল কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে প্রায় সব ধরনের পণ্যের পাশাপাশি মোটা ও মাঝারি চাল, খোলা আটা, ময়দা ও সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত এক-দুই মাসে খুচরা পর্যায়ে আরও কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সুগন্ধি চাল, ডিটারজেন্ট ও সাবানের মতো পণ্য। তেলাপিয়া, রুই, পাঙাশ, গরুর মাংসের দামও আগের তুলনায় বাড়তি।
বিক্রেতারা জানান, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বাজারে একসঙ্গে অনেক পণ্যের দাম বেড়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি রয়েছে। সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে দেশে জ্বালানিসংকট হওয়ায় বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এতে নতুন করে খরচের চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
ভোগাচ্ছে জ্বালানির দাম: দায়িত্ব নেওয়ার দুই মাসের মধ্যে গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে বিএনপি সরকার। এর মধ্যে চলতি মাসে দুই দফায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজির) দাম কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা বেড়েছে। এতে বাসাবাড়িতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯৪০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি সিলিন্ডারে ৬০০ টাকা দাম বেড়েছে। তবে বাজারে এর চেয়ে বাড়তি দামে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হয়।
দেশে ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দামও বাড়িয়েছে সরকার। তাতে প্রতি লিটার ডিজেলে ১৫ টাকা, কেরোসিনে ১৮ টাকা, অকটেনে ২০ টাকা ও পেট্রোলে ১৯ টাকা দাম বেড়েছে। এসব জ্বালানির দাম বাড়ায় কৃষি উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পণ্যের দামে।
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন আয়েশা বেগম। বলেন, আমি ভাড়া বাসায় থাকি। সেখানে লাইনের গ্যাস নাই। সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করি। গত কয়েক দিনে সিলিন্ডারের দাম ৬০০ টাকা বাড়ছে। অন্য জিনিসপত্রের দামও বাড়ছে। এত খরচ সামলাব কেমনে।
সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় বাজারে সোনালি মুরগির দাম ৪৫ শতাংশ ও ব্রয়লার মুরগির দাম ৭ শতাংশ বেড়েছে।
ডিম-মুরগির দাম বেড়েছে: সাধারণ মানুষের জন্য পুষ্টির বড় উৎস ফার্মের মুরগি ও ডিম। গত দুই সপ্তাহে বাজারে ডিমের দাম ডজনে প্রায় ২০ টাকা বেড়েছে। এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। খুচরা বিক্রেতারা জানান, গাড়িভাড়া বাড়ায় পাইকারি বিক্রেতারা ডিমের দাম বাড়িয়েছেন।
এদিকে বাজারে এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সোনালি মুরগি। প্রতি কেজি হাইব্রিড সোনালি মুরগি বিক্রি হয়েছে ৩২০-৩৩০ টাকায় আর সোনালি ৩৫০-৩৬০ টাকায়। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে প্রতি কেজি সোনালি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। ঈদের পর সোনালি মুরগির দাম বেড়ে ৪২০ টাকায় উঠেছিল। পরে দাম কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৯০ টাকায়।
সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় বাজারে সোনালি মুরগির দাম ৪৫ শতাংশ ও ব্রয়লার মুরগির দাম ৭ শতাংশ বেড়েছে।
ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ছোট আকারের রুই মাছ ২৮০-৩৫০ টাকা এবং তেলাপিয়া ও পাঙাশ মাছ ২০০-২২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।
সবজির দাম চড়া: বাজারে বর্তমানে আলু ছাড়া ৫০ টাকা কেজির নিচে তেমন কোনো সবজি কেনা যায় না। বেশির ভাগ সবজির দাম ৬০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। আর বেগুন, কাঁকরোলের মতো দু’তিনটি সবজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার ওপরে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তর দৈনিক ১৫টি সবজির খুচরা দামের তালিকা প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় বর্তমানে নয়টি সবজির দাম বেশি; আর দাম কম রয়েছে চারটি সবজির। দাম বেশি বেড়েছে দেশি টমেটো, মিষ্টিকুমড়া ও করলার। গতকাল বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ৫০-৬০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০-৫০ টাকা ও করলা ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের সবজি বিক্রেতা আব্বাস আকন্দ জানান, এখন বাজারে গ্রীষ্ম মৌসুমের সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। ফলে গ্রীষ্মের সবজির দাম কিছুটা কমার কথা। কিন্তু গাড়িভাড়া বাড়ার কারণে সবজির দাম কমছে না।
খুচরা দোকানে এখন প্রতি কেজি খোলা চিনির দাম ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহ আগে ৫ টাকা কম ছিল। গত এক সপ্তাহে বাজারে মাঝারি চালের (বিআর-২৮ ও পাইজাম) দাম কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে। এসব চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। আর মোটা চাল (স্বর্ণা ও চায়না ইরি) বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৫৩ টাকায়। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারে, এক মাসের ব্যবধানে মোটা ও মাঝারি চালের দাম ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
মূল্যবৃদ্ধির কারণ: নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে তিনটি প্রধান কারণ দেখিয়েছেন খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা। তারা জানান, গত কয়েক মাসে বিশ্ববাজারে বেশ কিছু পণ্য ও কাঁচামালের দাম বেড়েছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ায় দেশে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। সরবরাহ–সংকট থেকেও কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। আর সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবও বাজারে পড়তে শুরু করেছে।
প্রায় দুই মাস ধরে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ–সংকট চলছে। অনেক সময় ক্রেতারা কয়েক দোকান ঘুরেও সয়াবিন তেল কিনতে পারছেন না। ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো সয়াবিন তেলের দাম বাড়াতে চায়। কিন্তু সরকার এখনো অনুমতি দেয়নি। তবে কোম্পানিগুলো ডিলার বা সরবরাহকারী পর্যায়ে বোতলজাত তেলের দাম বাড়িয়েছে। এ কারণে ভোক্তাদেরও আগের চেয়ে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে।
রাজধানীর মাদারটেক বাজারের মুদি বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, বাজারে বোতলের সয়াবিন তেল নেই বললেই চলে। কোম্পানিগুলো আমাদের কাছে গায়ের রেটে (এমআরপি) তেল বিক্রি করে। তাহলে গ্রাহকদের কাছে আমরা বেচব কত টাকায়।
বাজারে একসঙ্গে অনেকগুলো পণ্যের দাম বাড়ায় ভোক্তারা, বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষ খরচের চাপে পড়েছেন। পরিবহন খরচসহ সামগ্রিকভাবে পণ্যের দামে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়ছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগকে পুঁজি করে পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। এতে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
মূল্যস্ফীতির চাপে মানুষ: বাজারে পণ্যের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। কারণ, মূল্যস্ফীতির তুলনায় আয় না বাড়লে ব্যয় সামলাতে হিমশিম খায় মানুষ। সরকারি হিসাবে দেখা গেছে, টানা তিন বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে আছে দেশ। সাধারণত সাড়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে মূল্যস্ফীতি থাকছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রায় তিন বছর ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ ‘লাল’ শ্রেণিতে রয়েছে। এর মানে হলো, বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি কমছে না; বরং মধ্যপ্রাচ্য সংকটে তা আরও বাড়তে পারে।
ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, বাজারে একসঙ্গে অনেকগুলো পণ্যের দাম বাড়ায় ভোক্তারা, বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষেরা খরচের চাপে পড়েছেন। পরিবহন খরচসহ সামগ্রিকভাবে পণ্যের দামে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়ছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগকে পুঁজি করে পণ্যের দাম বাড়িয়েছেন। এতে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন এবং বাকি ৩ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের চিত্র বলছে, সংক্রমণের তীব্রতা বাড়ার অন্যতম কারণ হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে পর্যাপ্ত আইসোলেশন বা পৃথক রাখার ব্যবস্থার অভাব। আক্রান্ত শিশুদের মাধ্যমেই এই রোগ দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে হাসপাতালে শয্যা সংকটের কারণে আক্রান্ত শিশুদের সাধারণ রোগীদের কাছাকাছি থাকতে হচ্ছে, যা নতুন করে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত আইসোলেশন নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ হাজার ৫৫৯ জনে। এর মধ্যে চার হাজার ২৩১ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে ১৯ হাজার ৭০৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর ১৬ হাজার ৫২৭ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪২ জন মারা গেছেন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯৮ জন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে এক হাজার ২১৫ জন সন্দেহভাজন হামরোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের বড় একটি অংশই শিশু। হাসপাতালগুলোতে ক্রমাগত রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
দেশের ইতিহাসের নিকৃষ্টতম শিল্প বিপর্যয় রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৩ সালের এই দিনে সাভারে বহুতল ভবন ধসে ১ হাজার ১৩৬ জন পোশাক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয় এবং আহত হন আরও কয়েক হাজার মানুষ। এক দশকের বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এই মহাবিপর্যয়ের বিচার এখনো আইনি জটিলতার আবর্তে আটকে আছে।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভারের রানা প্লাজা ভবনটি ধসে পড়ার পর হাজার হাজার শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। কয়েক দিন ধরে চলা উদ্ধার অভিযানের সেই চিত্র বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। এই ঘটনার দুই বছর পর ২০১৫ সালে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে সিআইডি এবং ২০১৬ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়।
তবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আসামিপক্ষের দফায় দফায় সময় প্রার্থনা, উচ্চ আদালতে বিচার স্থগিতের আবেদন এবং বিবিধ আইনি মারপ্যাঁচে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘ সময় থমকে থাকে। ২০২২ সালে নতুন করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলেও এর গতি অত্যন্ত মন্থর। এই হত্যা মামলায় ৫৯৪ জন সাক্ষী থাকলেও গত আট বছরে সাক্ষ্য দিয়েছেন মাত্র ১৪৫ জন। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিত করার ক্ষেত্রে পুলিশের উদাসীনতা মামলা নিষ্পত্তিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত ছয় মাসের মধ্যে এই মামলা নিষ্পত্তির জোরালো নির্দেশনা দিলেও বাস্তবে তার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি লক্ষ করা যায়নি। প্রধান আসামি সোহেল রানার পক্ষ থেকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে আটক থাকাকে অন্যায় হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিহতদের শোকাতুর পরিবার ও পঙ্গুত্ব বরণকারী শ্রমিকরা আজও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করাই এখন তাঁদের মূল দাবি।
দিবসটি স্মরণে শুক্রবার সকালে সাভারে দুর্ঘটনাস্থলে অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান নিহতদের স্বজন, শ্রমিক এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা ও ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ পুনর্বাসনের দাবিতে মিছিল ও মানববন্ধন করা হয়। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ৩০ এপ্রিল ধার্য করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাষ্ট্রপক্ষ যদি সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারে, তবেই এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচারিক প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটা সম্ভব।
পুলিশ বাহিনীর ইউনিফর্ম পরিবর্তনের চলমান উদ্যোগ স্থগিত এবং এই সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের চারজন আইনজীবী বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এই নোটিশ পাঠান। নোটিশ প্রদানকারী আইনজীবীরা হলেন মো. শাহিনুজ্জামান, ড. সৈয়দা নাসরিন, জান্নাতুল ইসলাম পিয়া ও সালমা কুলসুম।
প্রশাসনিক এই নোটিশটি পাঠানো হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, অর্থ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং লজিস্টিকস শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি-র বরাবরে। আইনজীবীরা তাঁদের নোটিশে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পোশাক পরিবর্তনের পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারের সরে আসা উচিত।
উক্ত নোটিশে দাবি করা হয়েছে যে, এর আগে ২০২৫ সালে ‘পুলিশ ড্রেস রুলস’ সংশোধন করে ইউনিফর্ম পরিবর্তন করতে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এমতাবস্থায় পুনরায় স্বল্প সময়ের ব্যবধানে রং ও নকশা পরিবর্তনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় এবং পরিকল্পনাহীনতার পরিচায়ক হবে। আইনজীবীদের মতে, "ইউনিফর্মের রং বদল করলেই পুলিশ বাহিনীতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আসে না। প্রকৃত সংস্কারের জন্য পেশাদারিত্ব, মানবাধিকার চর্চা, জবাবদিহি ও সেবার মানোন্নয়ন জরুরি।"
বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে এ ধরনের ব্যয়কে জনস্বার্থবিরোধী ও অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন নোটিশদাতারা। তাঁদের পক্ষ থেকে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইউনিফর্ম পরিবর্তন সংক্রান্ত সকল প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করা এবং এই খাতে এ পর্যন্ত হওয়া ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা। নোটিশে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে উল্লিখিত দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা না হলে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে।
সংসদ সদস্যদের জন্য দীর্ঘকাল ধরে বলবৎ থাকা শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে আয়োজিত এক সভায় ‘দ্য মেম্বার্স অব পার্লামেন্ট (রেমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাওয়েন্সেস) (সংশোধন) আদেশ ২০২৬’-এর খসড়াটির নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
মন্ত্রিসভায় সবুজ সংকেত পাওয়ার পর প্রস্তাবটি এখন জাতীয় সংসদে বিল আকারে পেশ করা হবে। সেখানে এটি পাস হওয়ার পর সংশোধিত আদেশটি গেজেট হিসেবে জারি হলে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগটি আনুষ্ঠানিকভাবে রহিত হয়ে যাবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে গণমাধ্যম জানিয়েছে, "বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সংসদ সদস্যদের জন্য বিদ্যমান শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"
এর আগে ১৯৭৩ সালের ‘দ্য মেম্বার্স অব পার্লামেন্ট (রেমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাওয়েন্সেস) অর্ডার’-এর ৩সি অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা এই শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন। নতুন এই আইনি সংশোধনীর মাধ্যমে সেই দীর্ঘদিনের রেওয়াজ সমাপ্ত হতে যাচ্ছে। সরকারি ভাষ্যমতে, "অর্থনৈতিক চাপ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে এ ধরনের ব্যয় সংকোচনমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।" পাশাপাশি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, "রাষ্ট্রের ব্যয় কমানো এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
একই সভায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকাকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং ঢাকা ওয়াসার প্রশাসনিক সীমানায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবটিও গৃহীত হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের কিছু অংশকে প্রশাসনিক সুবিধার্থে ঢাকা জেলার অধীনে আনার সিদ্ধান্ত হয়। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক দিবসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে ‘জাতীয় চা দিবস’ ৪ জুনের বদলে প্রতিবছর ২১ মে পালনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
উক্ত সভায় আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি সংস্কারে সম্মতি মিলেছে। এর একটি হলো বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের নিয়োগে বিদ্যমান ৬৫ বছরের বয়সসীমা তুলে দেওয়া। একই নিয়ম বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ক্ষেত্রেও কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, "এসব পরিবর্তনের ফলে সংশ্লিষ্ট খাতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগের সুযোগ বাড়বে।"
সামগ্রিকভাবে এই পদক্ষেপগুলোকে প্রশাসনিক দক্ষতা ও আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা আনার প্রয়াস হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে সংসদ সদস্যদের এই বিশেষ সুবিধা রহিত করার বিষয়টি সামাজিক সমতা ও রাষ্ট্রীয় খরচ সাশ্রয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।
বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগ পাওয়া সব সার ডিলার বাতিল করেছে সরকার। তাদের পরিবর্তে খুব দ্রুতই নতুন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের জেনারেল এম এ জি ওসমানী গেটে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
এ সময় চিফ হুইপ আরও জানান, দেশের চলমান জ্বালানি সংকট সমাধানে দশ সদস্যের সংসদীয় কমিটি করা হয়েছে। এতে সরকারি দল থেকে থেকে পাঁচজন এবং বিরোধী দল থেকে পাঁচ জন সদস্য রাখা হবে। কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
এছাড়া বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে বক্তব্য রাখেন। পরে সংসদে সর্ব সম্মতক্রমে এই প্রস্তাব পাস হয়।
চিফ হুইফ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলের ডিলাররা নানা রকম অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে, সার আত্মসাত করছে। এতে কৃষকরা ঠিক মতো সার পাচ্ছে না। কৃষক যাতে ঠিকমতো সার পায় তার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন– জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে স্বতন্ত্র এমপি শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল ও প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ।
ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে এর আগে দুপুরে বাসের নতুন ভাড়ার ঘোষণা দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
ভাড়া বাড়ানোর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ এর ধারা ৩৪(২) এ দেওয়া ক্ষমতাবলে সরকার ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বর্তমান পরিচালনা ব্যয়জনিত কারণে ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের সর্বোচ্চ ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করল।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাসের ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত যাত্রীপ্রতি প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সার স্থলে ২ টাকা ৫৩ পয়সা হবে।
আন্তজেলা ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত যাত্রীপ্রতি প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ১২ পয়সার স্থলে ২ টাকা ২৩ পয়সা হবে।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন জেলার (নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা জেলা) অভ্যন্তরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাস উভয় ক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত যাত্রীপ্রতি প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ৩২ পয়সার স্থলে ২ টাকা ৪৩ পয়সা হবে।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ভাড়া যথাক্রমে ১০ টাকা এবং ৮ টাকা।
আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য বিআরটিএ অনুমোদিত আসন সংখ্যা কমিয়ে বাস/মিনিবাসের আসন সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করা হলে দূরপাল্লার ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়া আনুপাতিকভাবে পুনর্নির্ধারিত করতে হবে। সে ক্ষেত্রে রুট পারমিট অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)/যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি থেকে আনুপাতিকভাবে ভাড়ার হার অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।
এ ভাড়ার হার গ্যাসচালিত বাস/মিনিবাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। এ ভাড়ার হার প্রতিটি বাস ও মিনিবাসের দৃশ্যমান স্থানে আবশ্যিকভাবে প্রদর্শন করতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। এ ভাড়ার হার গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে সদ্য জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারের অর্থ লুটপাটের অভিযোগ করেছেন সংগঠনটির একাংশের নেতারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন সংগঠনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা।
প্ল্যাটফর্মের সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সংগঠনটির মুখপাত্র সিনথিয়া বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি কিংবা রাজনৈতিক দলের নয়, সাধারণ জনগণের সংগঠন। এই সংগঠনকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের অর্থ নিজেদের মতো ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। তারা রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রায় ১ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছেন। আমাদের অন্ধকারে রেখে তারা ওই অর্থ লোপাট করেছে।’
সিনথিয়া বলেন, গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই তারা অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট শীর্ষ নেতারা কোনো লিখিত তথ্য বা নথি না করে কেবল মৌখিকভাবে কিছু তথ্য দিয়েছেন, যা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা আরও অভিযোগ করেন, একটি কেন্দ্রীয় বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন শীর্ষ নেতা তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন রেখে দিয়ে পরে মৌখিকভাবে অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে কত টাকা এসেছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব বা প্রমাণ দেখানো হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি ও জেলা কমিটিগুলোকে অন্ধকারে রেখে একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সরকারি অনুদান গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেই অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে। বর্তমান সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রাষ্ট্রীয়ভাবে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহারের বিষয়ে অডিট ও অনিয়মের বিপরীতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন।
সিনথিয়া জানান, সংবাদ সম্মেলন করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হবে জানতে পেরে তাদের বিরুদ্ধে অর্থ দাবি করার অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কখনো কোনো আর্থিক সুবিধা দাবি করিনি। আমাদের কেউ এক টাকাও দাবি করেছে—এমন প্রমাণ যদি দিতে পারে, তাহলে আমাদের বিচার দেশবাসী ও আইন করবে।’
সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগঠনের পুনর্গঠনের দাবিও তোলা হয়। নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাউন্সিল আয়োজন এবং সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, ‘সংগঠনকে পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে আমরা দ্রুত কাউন্সিল করব। কোনো ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত প্রভাব নয়, সদস্যদের ভোটেই নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে।’
একই সঙ্গে বক্তারা আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ অডিট প্রকাশের দাবি জানান এবং বলেন, ‘গণভোটের অর্থের উৎস ও ব্যয়ের হিসাব অবিলম্বে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।’
এসব বিষয়ে অভিযুক্ত নেতাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া দুইজন রাষ্ট্রদূতের নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। তারা হলেন সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম এবং সাবেক সচিব ড. এম মাহফুজুল হক।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল ময়নুল ইসলামকে চুক্তিতে পোল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত এবং ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মাহফুজুল হককে পর্তুগালের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া ময়নুল ও মাহফুজুলসহ চার রাষ্ট্রদূতকে গত ৮ মার্চ প্রত্যাহার করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এখন তাদের নিয়োগের বাকি মেয়াদ বাতিল করল সরকার।
দেশের কৃষি খাতে সেচ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং শহর ও গ্রামের বিদ্যুতের বৈষম্য কমাতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রামের কৃষকরা যেন পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পায় এবং ফসল উৎপাদনে কোনো বাধার সম্মুখীন না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই কৌশলগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত জুলাই অভ্যুত্থানের বৈষম্যহীন বাংলাদেশের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাজধানী থেকে প্রাথমিকভাবে ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরিয়ে নিয়ে গ্রামীণ জনপদে সরবরাহ করা হবে।
সংসদে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের বিপুল চাহিদার বিপরীতে উৎপাদনের বড় একটি ঘাটতি রয়েছে। গতকাল দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট, যার বিপরীতে উৎপাদন সম্ভব হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৩৫ মেগাওয়াট। এই বিশাল ঘাটতি মোকাবিলায় সারাদেশে গড়ে ২ হাজার ৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ফসল কাটার মৌসুম চলায় কৃষকদের সেচ কাজের সুবিধার্থে প্রধানমন্ত্রী নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন, যা বাস্তবায়নে ঢাকাতেও লোডশেডিংয়ের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বিগত সরকারের পুঞ্জীভূত অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন। তিনি জানান, কাগজে-কলমে উৎপাদন ক্ষমতা অনেক বেশি থাকলেও বাস্তবে জ্বালানি সংকটের কারণে সেই সক্ষমতা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। দেশে বর্তমানে প্রতিদিন ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। পর্যাপ্ত অর্থ থাকলেও প্রয়োজনীয় আমদানির জন্য যুতসই অবকাঠামো না থাকায় দ্রুত এই সংকট সমাধান করা যাচ্ছে না। তবে সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার তালিকার মধ্যে এই অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ দৃশ্যমান হবে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
বর্তমানে একটি কয়লাভিত্তিক এবং একটি আমদানিনির্ভর পাওয়ার প্লান্ট রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এই কেন্দ্রগুলো কয়েক দিনের মধ্যেই পূর্ণ উৎপাদনে ফিরবে এবং আগামী সাত দিনের মধ্যে লোডশেডিং পরিস্থিতি একটি সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। জনভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার তার শপথের মর্যাদা এবং সংসদের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। বৈষম্য দূর করার এই পরীক্ষামূলক পদক্ষেপটি দীর্ঘমেয়াদে সারাদেশে সুষম বিদ্যুৎ বণ্টন নিশ্চিত করবে বলে সরকার আশা করছে।