রোববার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ১৫ বছর 

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০৪
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২৩:০৯

২৫ ফেব্রুয়ারি দেশের ইতিহাসের এক কালো দিন। ১৫ বছর আগে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় সাবেক বিডিআর ও বর্তমান বিজিবি সদর দপ্তরে ঘটে মর্মান্তিক ও নৃশংস এক হত্যাযজ্ঞ।

এদিন সকালে পিলখানা সদর দপ্তরের দরবার হলে সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে একদল বিদ্রোহী বিডিআর সৈনিক অস্ত্র হাতে ঢুকে পড়ে চলমান বার্ষিক দরবারে। বিদ্রোহী বিডিআর সৈনিকরা তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের বুকে অস্ত্র তাক করে। কিছু বুঝে উঠার আগেই শুরু হয় গোলাগুলি। ঘটে ইতিহাসের ঘৃণ্যতম নারকীয় হত্যাযজ্ঞ।

সেদিন বিদ্রোহী বিডিআর জওয়ানরা ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। প্রতিবছরের মতো এবারও বিডিআর বিদ্রোহের এই দিনে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) পক্ষ থেকে সকালে বিজিবি সদর দপ্তর, বিভিন্ন রিজিয়ন, সেক্টর ও ইউনিটগুলোতে বাদ ফজর পবিত্র কোরআন খতম, বিজিবির সব মসজিদ এবং বিওপিতে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তর, পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনা সদস্যদের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বনানীতে সামরিক কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ হবে।

সেদিন পিলখানায় যা ঘটেছিল: প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা, মামলার তদন্ত ও বিচারের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানার নৃশংস ঘটনাগুলো। সেদিন বিদ্রোহী জওয়ানরা ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকতাদের হত্যা করার পর জিম্মি করেছিল তাদের পরিবারের সদস্যদের। পুরো পিলখানাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছিল ভীতিকর বীভৎস পরিস্থিতি। বিজিবি সদর দপ্তর পিলখানায় সেদিন বিদ্রোহী বিডিআর সৈনিকরা যে নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছিল, পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো বিদ্রোহে এমন ঘটনা ঘটেনি। এমনকি বিশ্বযুদ্ধের সময়ও এক দিনে এত সেনা কর্মকতা নিহত হয়নি।

দেশ-বিদেশে আলোচিত এই পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে উচ্চ আদালত বলেছেন, ওই ঘটনা ছিল রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক-সামাজিক নিরাপত্তায় বিঘ্ন সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র। শুধু তাই নয়, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একটি দক্ষ, প্রশিক্ষিত বাহিনীকে ধ্বংসেরও চেষ্টা। বিডিআর জওয়ানরা দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়াসহ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর প্রত্যক্ষ হুমকির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে যে কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছে, সেই কলঙ্কের চিহ্ন তাদের বহুকাল বহন করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সেদিন সকাল ৯টার পরপরই তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে গোলাগুলির শব্দ শোনা যেতে থাকে। সবাই ভেবেছিল এসব চলমান বিডিআর সপ্তাহের কোনো কর্মসূচির ঘটনা। কিছুক্ষণ পর জানা যায়, বিডিআর জওয়ানরা পিলখার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। শুধু তাই নয়, বিদ্রোহী জওয়ানরা ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করছে। বিদ্রোহের প্রথম দিন দুপুরে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর বেড়িবাঁধের কাছে একটি ম্যানহোলের ‍মুখে দুই সেনা কর্মকর্তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পওয়া যায়। বোঝা যায়, পিলখানার ভেতরে হত্যাকাণ্ড ঘটছে। এতে সারা দেশে শোরগোল পড়ে যায়। চায়ের দোকান থেকে সর্বত্র চলতে থাকে আলোচনা-সমালোচনা।

বিদ্রোহের এই ঘটনার পর সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর প্রধানরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এদিকে পিলখানার চারদিক ঘিরে ভারী অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয় সেনাবাহিনী। এরই মধ্যে পিলখানার পর সারা দেশ থেকে আসতে থাকে বিভিন্ন জেলায় বিডিআর দপ্তরের বিদ্রোহের খবর। বিদ্রোহের মধ্যেই একপর্যায়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনায় বসা হয়। এই আলোচনায় নেতৃত্ব দেন তৎকালীন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, হুইপ মীর্জা আজম ও সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস। পরে ওইদিন বিকেলে বিদ্রোহীরা তাদের দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা করে। এরপর রাতে পিলখানার প্রধান ফটকের পাশে একটি রেস্তোরাঁয় আলোচনায় বসেন তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন। পরে গভীর রাতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনসহ কয়েকজন পিলখানার ভেতরে প্রবেশ করেন। তার কাছে অস্ত্র সমর্পণ করে বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা। পরে বিদ্রোহীদের হাতে জিম্মি হওয়া কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বের হয়ে আসেন সাহারা খাতুন।

জানা যায়, বিদ্রোহীদের একটি অংশ আত্মসমর্পণ করলেও পরদিন পর্যন্ত আরেক অংশের হাতে পিলখানার নিয়ন্ত্রণ ছিল। একপর্যায়ে পরদিন সকাল থেকে পিলখানা থেকে বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যরা পলিয়ে যাওয়া শুরু করে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পিলখানার নিয়ন্ত্রণ নেয়। ৩০-৩৪ ঘণ্টার তাণ্ডবের পর বিদ্রোহ শেষ হলেও পিলখানায় তখন একের পর এক আবিষ্কার হতে থাকে গণকবর। এতে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি।

বিদ্রোহী জওয়ানরা ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করে গণকবর দিয়ে রাখে। এই গণকবর থেকে উদ্ধার করা হয় তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ ও তার স্ত্রীসহ অর্ধশতাধিক সেনা কর্মকর্তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ। রক্তাক্ত সেই বিদ্রোহের পর দেশের সীমান্ত রক্ষাকারী এই বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) করা হয়। পরিবর্তন করা হয় তাদের পোশাকও।


পহেলা বৈশাখে ডিএমপির ট্রাফিক নির্দেশনা,চলবে মেট্রো

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে যান চলাচলে বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। তবে এদিন মেট্রোরেলের চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ।

শনিবার ডিএমপির ট্রাফিক রমনা বিভাগের মিডিয়া শাখা ও মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এক নির্দেশনায় ডিএমপি জানিয়েছে, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রোববার (১৪ এপ্রিল) ভোর ৫টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রমনা বটমূল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কিছু রাস্তা বন্ধ বা রোড ডাইভারশন করে দেয়া হবে। সম্ভাব্য ডাইভারশন পয়েন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলামোটর ক্রসিং, মিন্টো রোড ক্রসিং, অফিসার্স ক্লাব ক্রসিং, কাকরাইল চার্চ ক্রসিং, কদমফোয়ারা ক্রসিং, ইউবিএল ক্রসিং, দোয়েল চত্বর ক্রসিং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার ক্রসিং, জগন্নাথ হল ক্রসিং, ভাস্কর্য ক্রসিং, নীলক্ষেত ক্রসিং এবং কাঁটাবন ক্রসিং।

ডিএমপির নির্দেশনা অনুযায়ী যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে বেশ কিছু রুটের বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হবে। মিরপুর-ফার্মগেট থেকে শাহবাগ অভিমুখী যাত্রীবাহী যানবাহন বাংলামোটর-মগবাজার ক্রসিং হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাবে। বঙ্গবাজার-হাইকোর্ট থেকে মৎস্য ভবন অভিমুখী যাত্রীবাহী যানবাহন কদম ফোয়ারা-ইউবিএল ক্রসিং এবং জিরো পয়েন্ট-কদম ফোয়ারা থেকে মৎস্য ভবন অভিমুখী যাত্রীবাহী যানবাহন ইউবিএল-নাইটিংগেল ক্রসিং হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাবে। এ ছাড়া শান্তিনগর-রাজমনি থেকে গুলিস্তান ও সদরঘাট অভিমুখী যাত্রীবাহী যানবাহন নাইটিঙ্গেল-ইউবিএল ক্রসিং হয়ে চলাচল করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ডিএমপি এসব রুটে যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আনলেও, এদিন মেট্রো চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড সূত্রে জানা গেছে, ঈদের পর মেট্রোরেল আবারও চালু হয়েছে। বাংলা নববর্ষের দিনও মেট্রো তার স্বাভাবিক কার্যক্রম বহাল রাখবে। এ ছাড়া রমজানের সময়সূচি পরিবর্তন করে, আবারও আগের স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী মেট্রো চলবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মেট্রোরেলের সময়সূচি অনুযায়ী, পহেলা বৈশাখের দিন সকাল ৭টা ১০ মিনিটে প্রথম ট্রেন উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মতিঝিল স্টেশনে উদ্দেশে ছেড়ে আসবে। আর মতিঝিল স্টেশন থেকে উত্তরা উত্তর স্টেশনের উদ্দেশে সকাল সাড়ে ৭টায় ছাড়বে মেট্রো। শেষ ট্রেন উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মতিঝিলের উদ্দেশে রাত ৮টায় এবং মতিঝিল থেকে ৮টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যাবে।



নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা জি.এম.কাদের

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান জি.এম. কাদের। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ এপ্রিল, ২০২৪ ২১:৩২
বাসস

সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান জি.এম. কাদের বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত বাংলা ভাষাভাষীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

আজ এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, সার্বজনীন উৎসব বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ সমাগত। বাংলা নতুন বছরে দেশবাসীর প্রতি আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। পহেলা বৈশাখ মানেই হচ্ছে, পুরনো, জরাজীর্ণ এবং অশুভকে পেছনে ফেলে নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে চলা। ব্যর্থতার সকল গ্লানী মুছে দিতেই প্রতি বছর নতুন আঙ্গিকে আসে পহেলা বৈশাখ।

তিনি বলেন, সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে বিজয় রথে এগিয়ে চলতে উল্লাসে অনুপ্রেরণা যোগায় আমাদের বাংলা নববর্ষ। পহেলা বৈশাখ বাঙালীর মহা ঐক্যের দিন। এমন উৎসবমূখর দিন ধর্ম, বর্ণ, জাত বা গোত্রের সীমারেখা ভেঙ্গে একসাথে একই পথে চলতে আমাদের অনুপ্রেরণা। সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সুন্দরের জয়গানে পহেলা বৈশাখ সংহতি অনুষঙ্গ।

জি.এম. কাদের বলেন, মুঘল সম্্রাট আকবরের আমলে কর বা রাজস্ব আদায়ের জন্য বাংলা সন গণনা শুরু হয়। কিন্তু, এখন পহেলা বৈশাখ বাঙালীর সংস্কৃতি লালন ও বিকাশের অসাধারণ অধ্যায়। বাংলা নববর্ষে সবার উন্নতি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করছি।


এমপিদের সঙ্গে ডিএমপির সমন্বয় সভা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগ ঈদ পরবর্তী যানজট নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করেছে। আজ শনিবার উপ-পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদের ছুটির পর ঢাকায় ফেরা মানুষের যাতায়াত স্বস্তিদায়ক করতে এই সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়। ঈদের আগে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দিনে ঘরমুখো মানুষ ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলায় গেছে। তারা দুই-এক দিনের মধ্যে ঢাকায় ফিরবেন। এই সময়ে পোস্তগোলা, ধোলাইপার এবং যাত্রাবাড়ীকেন্দ্রিক যানজট যাতে সহনীয় পর্যায়ে থাকে সেই লক্ষ্যে কাজ করবে ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগ।

সভায় বড় ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরির ঢাকা শহরে প্রবেশের নিষিদ্ধ করা, পোস্তগোলাকেন্দ্রিক বাসের যানজট কমানো, যাত্রাবাড়ী কেন্দ্রিক মাওয়া রোডের বাম লেন পরিষ্কার রাখা, হানিফ ফ্লাইওভারে যাত্রী ওঠানামা না করা, ফ্লাইওভারের উপর বাস পার্ক না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়াও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের জন্য বক্স করা, ফ্লাইওভারের উপরে জরুরি প্রয়োজনে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা গেলে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা, ফ্লাইওভারের নিচের জায়গা ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের ডাম্পিংয়ের জন্য ব্যবহারের ব্যবস্থা করা, ভ্রাম্যমাণ কাউন্টার বন্ধে বাস ও ট্রাক মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

সমন্বয় সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ড. মো. আওলাদ হোসেন এবং ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মশিউর রহমান মোল্লা সজল। সভায় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আশরাফ ইমাম প্রমুখ।


সোমালিয়ার জলদস্যুদের চেয়েও বিএনপি বেশি ভয়ঙ্কর: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামের লালদিঘী চত্বরে “চাটগাঁইয়া ঈদ আনন্দ উৎসব” উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ এপ্রিল, ২০২৪ ২০:৩২
কূটনৈতিক প্রতিবেদক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, সোমালিয়ার জলদস্যুদের চেয়েও বিএনপি অনেক বেশি ভয়ঙ্কর। কারণ, সোমালিয়ার জলদস্যুরা আমাদের নাবিকদের উপর কোন নির্যাতন চালায়নি। তারা মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেনি। কিন্তু বিএনপি তো মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীদের নেতৃত্বে বিএনপি অনেক সময় সোমালিয়ার জলদস্যুদের চেয়েও বেশি ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে।

শনিবার বিকেলে চট্টগ্রামের লালদিঘী চত্বরে “চাটগাঁইয়া ঈদ আনন্দ উৎসব” উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এসময় 'সোমালিয়ার জলদস্যুদের চেয়ে বাংলাদেশের দস্যুরা বেশি ভয়ঙ্কর', বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর এমন বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য 'দেশের মানুষ খুব দুঃখ ও কষ্টের মধ্যে আছে, সাধারণ মানুষ ভালোভাবে ঈদ পালন করতে পারেনি' এ বিষয়ে ড. হাছান বলেন, হয়তো মির্জা ফখরুল সাহেবদের মনে শান্তি নেই, উনাদের মনে অশান্তি বিধায় বাংলাদেশের মানুষের মনে শান্তি নেই বলছেন। কিন্তু মানুষের মনে সম্প্রীতি ও উৎসব আছে।

তিনি বলেন, দেখুন, এবার ঈদ অত্যন্ত আনন্দ ও উৎসবের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে এবং হচ্ছে। মানুষ এখনো ঈদ উৎসবের মধ্যে আছে। আপনারা দেখেছেন ঈদযাত্রাও এবার অনেক নির্ঝঞ্ঝাট ছিল। ঈদের সময় অনেক ঘটনা ঘটে। সে ধরণের দুর্ঘটনা এবার অপেক্ষাকৃত অনেক কম ঘটেছে। এবং মানুষ অত্যন্ত উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়েই ঈদ উদযাপন করছে।

সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধারের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, 'সোমালিয়ার জলদস্যু কতৃক হাইজ্যাক হওয়া জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধারের ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আছে। খুব সহসা আপনারা সুখবর শুনতে পাবেন। আমি শুধু এটুকুই বলি, নাবিকরা খুব সহসাই মুক্তি লাভ করবে ইনশাআল্লাহ, আমরা জাহাজটাও মুক্ত করে নিয়ে আসতে পারব। গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ইতিমধ্যেই সাধিত হয়েছে।'

এরআগে “চাটগাঁইয়া ঈদ আনন্দ উৎসব” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. হাছান বলেন, 'আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সবসময় বলেন এবং আমরাও বলি, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। আজকে ঈদ উৎসবকে উপলক্ষ করে “চাটগাঁইয়া ঈদ আনন্দ উৎসবে” হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই সামিল হয়েছে। অর্থাৎ ধর্ম যার যার উৎসব যে সবার সেটি আসলে বাস্তবে রূপায়িত হয়েছে এই উৎসবের মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, এই দেশে কোন সাম্প্রদায়িক অপশক্তির স্থান হবে না। কেউ সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করতে চাইলে তাদেরকে প্রতিহত করা হবে, সবসময় করেছি, ভবিষ্যতেও করব। এই দেশে সাম্প্রদায়িকতার কোন স্থান নেই।

“চাটগাঁইয়া ঈদ আনন্দ উৎসব” আয়োজক কমিটির সভাপতি জহরলাল হাজারী, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক চৌধুরী ফরিদ, কাউন্সিলর রুমকি সেন গুপ্তা, মো. শাহাবুদ্দিনসহ আযোজক কমিটির নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


নতুন বছর অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রেরণা জোগাবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১৩ এপ্রিল, ২০২৪ ২০:২২
বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলা নতুন বছর ১৪৩১ আমাদেরকে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রেরণা জোগাবে।

আগামীকাল (১৪ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুভ নববর্ষ’ ১৪৩১। উৎসবমুখর বাংলা নববর্ষের এই দিনে আমি দেশবাসীসহ সকল বাঙালিকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।’

তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন। এটি সর্বজনীন উৎসব। এদিন আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেয়া হয় নতুন বছরকে। আবহমান কাল ধরে নববর্ষের এই উৎসবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র জাতি জেগে ওঠে নবপ্রাণ স্পন্দনে, নব-অঙ্গীকারে। সারা বছরের দুঃখ-জরা, মলিনতা ও ব্যর্থতাকে ভুলে বাঙালি রচনা করে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, আনন্দ ও ভালোবাসার মেলবন্ধন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যে ‘পহেলা বৈশাখ’ বিশেষ স্থান দখল করে আছে। বাংলা নববর্ষ পালনের সূচনা হয় মূলত মুগল সম্রাট আকবরের সময় থেকে। কৃষিকাজের সুবিধার্থে সম্রাট আকবর ‘ফসলি সন’ হিসেবে বাংলা সন গণনার যে সূচনা করেন, তা কালের পরিক্রমায় সমগ্র বাঙালির কাছে অসাম্প্রদায়িক চেতনার স্মারক উৎসবে পরিণত হয়েছে। পহেলা বৈশাখ বাঙালিয়ানার প্রতিচ্ছবি। এই উদ্যাপন আমাদের শেকড়ের সন্ধান দেয়, এর মধ্য দিয়ে খুঁজে পাওয়া যায় জাতিসত্তার পরিচয়।’

তিনি বলেন, ‘বাঙালির প্রতিটি ঘরে, জনজীবনে এবং আর্থসামাজিক সংস্কৃতিতে পহেলা বৈশাখ এক অনন্য উৎসব। পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে হালখাতার পাশাপাশি যাত্রাগান, পালাগান, পুতুলনাচ, অঞ্চলভিত্তিক লোকসংগীত, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন পসরা নিয়ে মেলার বর্ণিল আয়োজনের মাধ্যমে যেমন লোকজ-সংস্কৃতি প্রাণ ফিরে পায় তেমনি দেশের অর্থনীতি তথা ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সমৃদ্ধ হয়, ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখ পূর্ণপ্রাণ নিয়ে অবারিতভাবে বেড়ে ওঠার বাতায়ন। এটি ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালন করতে শেখায়। অসাম্প্রদায়িকতার চর্চা ও অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পহেলা বৈশাখ আমাদের মনে আনে নতুন তেজ। একারণেই আমরা দুর্বার প্রতিরোধে রুখে দিতে পেরেছি পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক অপশক্তিকে, যারা বাঙালির ঐতিহ্য নস্যাৎ করতে চেয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আত্মপরিচয় ও স্বীয় সংস্কৃতির শক্তিতে বলিয়ান হয়ে আমরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম মুক্তির সংগ্রামে। সংস্কৃতি ও রাজনীতির মিলিত স্রোত পরিণত হয়েছিল স্বাধিকার ও স্বাধীনতার লড়াইয়ে। এভাবেই বিশ্বের বুকে অভ্যুদয় ঘটেছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।’

ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি লালনের মাধ্যমে বিশ্বসমাজে বাঙালি শ্রেষ্ঠ জাতি হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এরই ধারাবাহিকতায় ইউনেস্কো ২০১৬ সালে পহেলা বৈশাখের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’কে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। নববর্ষের-এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সারাবিশ্বের বাঙালির জন্য নিঃসন্দেহে বিরাট অর্জন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অসাম্প্রদায়িক, উদারনৈতিক, জাতীয়তাবাদী ও গণতন্ত্রের ভাবাদর্শে আজীবন যে সংগ্রাম করে গেছেন তার মূলমন্ত্র জাতিগত ঐতিহ্য ও অহংকার। একারণেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং দেশ পুনর্গঠনে কাজ করেছে তাঁর অভিন্ন চেতনা। আমরা বীরের জাতি, এ জাতিকে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। কাল থেকে কালান্তরের পথ পরিক্রমায় বাঙালির অর্জন ও অগ্রগতি চির ভাস্বর হয়ে থাকবে, এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

তিনি বলেন, ‘সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ তথা উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন আমরা বিগত বছরের গ্লানি, দুঃখ-বেদনা, অসুন্দর ও অশুভকে ভুলে গিয়ে নতুন প্রত্যয়ে, নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে চলি। সুখী, শান্তিময়, আনন্দপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলি। বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। কবিগুরুর ভাষায়...“মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা। রসের আবেশরাশি শুষ্ক করি দাও আসি, আনো আনো আনো তব প্রলয়ের শাঁখ মায়ার কুজ্ঝটিজাল যাক দূরে যাক। এসো হে বৈশাখ এসো, এসো..


ঢাকায় ইসরায়েলের বিমান অবতরণ নিয়ে যা জানালো বেবিচক

ঢাকায় ইসরায়েলের অবতরণ করা বিমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১৩ এপ্রিল, ২০২৪ ১৮:৪৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সম্প্রতি ইসরায়েল থেকে দুটি ফ্লাইট অবতরণ করেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকার পরও কেন শাহজালাল বিমানবন্দরে তাদের ফ্লাইট অবতরণ করেছে। বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিন আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

এই বিষয়টি নিয়ে আজ শনিবার ফ্লাইট অবতরণের বিষয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত ৭ এপ্রিল একটি বিমান তেল আবিব থেকে উড্ডয়ন করে রাত ৯টা ২২ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করে। কার্গো নিয়ে রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা থেকে উড্ডয়ন করে। পরে গত ১১ এপ্রিল আরেকটি ফ্লাইট রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ ও রাত ১২টা ২৯ মিনিটে (১২ এপ্রিল) কার্গো নিয়ে ঢাকা থেকে উড্ডয়ন করে। দুটি বিমানই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থা ন্যাশনাল এয়ারলাইয়েন্সের।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিমান চলাচল চুক্তি রয়েছে। বিমান চলাচল চুক্তি অনুযায়ী কার্গো ফ্লাইট দুটি ঢাকা এসেছিল। ঢাকা থেকে তৈরি পোশাক নিয়ে ফ্লাইট দুটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ এবং ইউরোপের একটি গন্তব্যে গেছে।

বাংলাদেশ ও ইসরায়েলের মধ্যে কোনো বিমান চলাচল চুক্তি নেই এবং ইসরায়েলের কোনো বিমান বাংলাদেশে অবতরণের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান বেবিচকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মোহাম্মদ সোহেল কামরুজ্জামান।


বাঙালি জাতির শাশ্বত ঐতিহ্যের প্রধান অঙ্গ পহেলা বৈশাখ: রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ এপ্রিল, ২০২৪ ১৮:৪৭
বাসস

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, বাঙালি জাতির শাশ্বত ঐতিহ্যের প্রধান অঙ্গ পহেলা বৈশাখ। আগামীকাল ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আজ দেয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘শুভ নববর্ষ-১৪৩১’ পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতির জীবনে একটি পরম আনন্দের দিন। আনন্দঘন এ দিনে আমি দেশে ও দেশের বাইরে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে জানাই বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, বৈশাখের আগমনে বেজে উঠে নতুনের জয়গান। দুঃখ, জরা, ব্যর্থতা ও মলিনতাকে ভুলে সবাই জেগে ওঠে নব আনন্দে, নব উদ্যমে। ফসলি সন হিসেবে মোঘল আমলে যে বর্ষগণনার সূচনা হয়েছিল, সময়ের পরিক্রমায় তা আজ সমগ্র বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক স্মারক উৎসবে পরিণত হয়েছে। পহেলা বৈশাখের মাঝে বাঙালি খুঁজে পায় নিজস্ব ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও চেতনার স্বরূপ।

তিনি বলেন, বৈশাখ শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমাদের আত্মবিকাশ ও বেড়ে ওঠার প্রেরণা। বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও মুক্তিসাধনায় পহেলা বৈশাখ এক অবিনাশী শক্তি। বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও গণতান্ত্রিক বিকাশে সংস্কৃতির এই শক্তি রাজনৈতিকতন্ত্রের চেতনাকে দৃঢ় ও বেগবান করে।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সকলে মিলে নাচ-গান, শোভাযাত্রা, আনন্দ-উৎসব, হরেক রকম খাবার ও বাহারি সাজে বৈশাখকে বরণ করে নেয় উৎসবপ্রেমী বাঙালি জাতি। নতুন বছরে যাত্রাপালা, পুতুলনাচ, লোকসংগীত, গ্রামীণ খেলাধুলা, মেলাসহ নানাবিধ বর্ণিল আয়োজন মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয় আনন্দ ও সম্প্রীতির নতুন বার্তা।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। জাতীয় সংস্কৃতির এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি জাতি হিসেবে বাঙালির জন্য পরম গৌরব ও মর্যাদার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন ও আদর্শের অন্যতম ভিত্তি ছিল দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও জাতীয় চেতনার উন্মেষ। সেই চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বঙ্গবন্ধু কারারুদ্ধ জীবনে সহবন্দিদের নিয়ে নববর্ষ উদ্যাপন করেছিলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ আমাদেরকে উদার হতে শিক্ষা দেয় এবং জাতীয়তাবাদে অনুপ্রাণিত হয়ে বিশ্বমানবের সঙ্গে মিশে যাওয়ার শক্তি জোগায়। এই উদারনৈতিক চেতনাকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রদর্শন, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আদর্শ এবং রাষ্ট্রভাষা চেতনার বহ্নিশিখা অন্তরে ধারণ করে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ হোক আজকের দিনে সকলের অঙ্গীকার।’

তিনি বলেন, ‘সকল অশুভ ও অসুন্দরের ওপর সত্য ও সুন্দরের জয় হোক। ফেলে আসা বছরের সব শোক-দুঃখ-জরা দূর হোক, নতুন বছর জাতীয় ও ব্যক্তিজীবনে নিয়ে আসুক অনাবিল সুখ ও সমৃদ্ধি – এ প্রত্যাশা করি।’


বর্ষবরণে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে: ডিএমপি কমিশনার

ছবি: ডিএমপির সৌজন্যে
আপডেটেড ১৩ এপ্রিল, ২০২৪ ১৬:৪২
নিজস্ব প্রতিবেদক

পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে ডিএমপির পক্ষ থেকে সর্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাজধানীর যে সকল জায়গায় অনুষ্ঠান হবে প্রত্যেকটি জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার ও ড্রোন দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বিপিএম (বার), পিপিএম।আজ শনিবার সকালে রমনার বটমূলে বর্ষবরণ ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আজ বঙ্গাব্দ ১৪৩০ এর শেষ দিন, চৈত্র সংক্রান্তি। আগামীকাল ১৪৩১ সালের প্রথম দিন, পহেলা বৈশাখ, শুভ নববর্ষ। বাংলা নববর্ষের এই দিনটি ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালন করার জন্য সারা জাতি উন্মুখ হয়ে আছে। সারা দেশে এ অনুষ্ঠান পালন করা হবে। প্রধান অনুষ্ঠানগুলো স্বভাবতই ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় সংসদ ভবন, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র, রবীন্দ্র সরণি ও হাতিরঝিলসহ সারা ঢাকায় বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালন করা হবে। এসব অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, অনুষ্ঠান শুরুর আগে অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশ এলাকায় বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ইকুইপমেন্ট ও ডিএমপির ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। ইতিমধ্যেই এই কাজ শুরু হয়ে গেছে এবং ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট অনুষ্ঠানস্থলে তাদের মহড়া সম্পন্ন করেছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও রমনা পার্ক এলাকায় আজ শনিবার সন্ধ্যা থেকে যানবাহন কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে আগামীকাল যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু কিছু জায়গায় ডাইভারশন দেওয়া হবে। গাড়ি চালকগণ এসব নির্দেশনা প্রতিপালন করবেন ও পুলিশকে সহায়তা করবেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, রমনা পার্কের প্রত্যেকটি প্রবেশপথে আগতদের আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দ্বারা তল্লাশি করা হবে। পার্কের ভিতরে ও বাইরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি), স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন তৎপর থাকবে।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ড. খঃ মহিদ উদ্দিন বিপিএম-বার (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত); অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স এন্ড প্রকিউরমেন্ট) মহাঃ আশরাফুজ্জামান বিপিএম; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ মুনিবুর রহমান বিপিএম-সেবা; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সিটিটিসি) মোঃ আসাদুজ্জামান বিপিএম (বার); যুগ্ম পুলিশ কমিশনারগণ, উপ-পুলিশ কমিশনারগণ ও বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাগণসহ এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আজ চৈত্র সংক্রান্তি: বাংলা বর্ষপঞ্জিকার শেষদিন

আপডেটেড ১৩ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:০৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ চৈত্র সংক্রান্তি, ১৪৩০ বংলা বর্ষপঞ্জিকার শেষদিন। আগামীকাল পহেলা বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ। চৈত্র মাসের শেষ দিনকে সংক্রান্তির দিন বলা হয়। আবহমান বাংলার চিরায়িত বিভিন্ন ঐতিহ্যকে ধারণ করে দিনটি। বছরের শেষ দিন হিসেবে পুরাতনকে বিদায় ও নতুন বর্ষকে বরণ করার জন্য প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে থাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান-উৎসবের আয়োজন। মনে করা হয়, চৈত্র সংক্রান্তিকে অনুসরণ করেই পহেলা বৈশাখ উদযাপনের এত আয়োজন। তাই চৈত্র সংক্রান্তি হচ্ছে বাঙালির আরেক বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব।

চৈত্র সংক্রান্তির দিন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শাস্ত্র মেনে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস করে থাকেন। নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী, অন্য ধর্মাবলম্বীরাও নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন। এছাড়াও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে নানা ধরনের মেলা ও উৎসব হয়। হালখাতার জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাজানো, লাঠিখেলা, গান, সংযাত্রা, রায়বেশে নৃত্য, শোভাযাত্রাসহ নানা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে উদযাপিত হয় দিনটি।

চৈত্র সংক্রান্তির প্রধান উৎসব চড়ক। চড়ক গাজন উৎসবের একটি প্রধান অঙ্গ। এ উপলক্ষে গ্রামের শিবতলা থেকে শোভাযাত্রা শুরু করে অন্য গ্রামের শিবতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। একজন শিব ও একজন গৌরী সেজে নৃত্য করে এবং অন্য ভক্তরা নন্দি, ভৃঙ্গী, ভূত-প্রেত, দৈত্য-দানব সেজে শিব-গৌরীর সঙ্গে নেচে চলে।

চৈত্র সংক্রান্তির মাধ্যমে পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে সফলতা ও সমৃদ্ধির প্রত্যাশায় দেখা দেবে নতুন ভোর। পুরনো বছরের সব জরাজীর্ণতা মুছে ফেলে আগামীকাল রোববার বাঙালি মিলিত হবে পহেলা বৈশাখের সর্বজনীন উৎসবে। জরাজীর্ণতা, ক্লেশ ও বেদনার সব কিছুকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি সব অন্ধকারকে বিদায় জানিয়ে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার থাকবে গোটা জাতির।


দৃশ্যমান হচ্ছে আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:০৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হয়ে স্বপ্ন পূরণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। উঁকি দিচ্ছে এক নতুন পথ। মাথা তুলে দাড়িঁয়েছে পাঁচ শতাধিক পিআর। এক্সপ্রেসওয়েটি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তৈরি করবে ৪৪ কিলোমিটারের বিরামহীন উড়াল সড়ক।

এক্সপ্রেসওয়েতে পিআর ক্যাপ বসেছে প্রায় ১০০। পাঁচ হাজার পাইলের মধ্যে বসে গেছে সাড়ে তিন হাজার পাইল। এ মাসেই বসবে সুপারস্ট্রাকচার। আশুলিয়া-ধেউর উড়াল পথে তোলা হবে গার্ডার। এরপরেই বসানো হবে স্ল্যাব। এ পর্যন্ত পুরো প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ৪৫ শতাংশ।

কর্তৃপক্ষ বলছে, এ মাসেই মূল কাজ অর্থাৎ গার্ডার বসবে এই পথে। এ অংশটি আগামী বছরের শুরুতে খুলে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই প্রকল্পের রুট প্ল্যানে রয়েছে আশুলিয়া থেকে ধেউর বর্তমান মূল সড়ক আর থাকছে না। ড্যাপের পরিকল্পনা মেনে উন্মুক্ত করা হবে মূল জলাধার। আর এপাশ ওপাশ যাতায়াতে করা হবে নতুন উড়াল সড়ক। এই অংশটুকু হবে টোল ফ্রি। এই পথ প্রস্তুত হলেই ধরা হবে এ অংশের মূল এক্সপ্রেসওয়ের কাজ। তাই বাকি সব জায়গা থেকে এ প্রান্তে কাজ এগিয়েছে বেশি।

আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মো. সাহাবুদ্দিন খান বলেন, সুপার স্ট্রাকচারের একটা অংশ গার্ডার এবং গার্ডারের ওপরে শুধু স্ল্যাব বসবে। গার্ডার হয়ে গেলেই আমরা তখন স্ল্যাব বসাবো। স্ল্যাব বসানো মানেই রাস্তার কাজ শুরু হয়ে যাওয়া।

তিনি আরও বলেন, প্রথমে আশুলিয়া-ধেউর এলাকায় আমরা গার্ডার উত্তোলন করবো। সাব-কনট্রাক্টররা চলতি মাসেই এই কাজ করবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল কাজ ধরার জন্য আগে ৩ কিলোমিটার ও পৌনে ৩ কিলোমিটারের দুটি ব্রিজের কাজ আমরা শেষ করবো।


ঈদে চাঙ্গা রেমিট্যান্স প্রবাহ : ২০ বিলিয়ন ডলারের উপরে রিজার্ভ

আপডেটেড ১২ এপ্রিল, ২০২৪ ১৭:৫৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঈদের সময়ে চাঙা ছিল রেমিট্যান্স প্রবাহ। মূলত ঈদকে উপলক্ষ্য করে প্রবাসীরা দেশে তাদের প্রিয়জনদের জন্য ডলার পাঠিয়েছে। সেইসঙ্গে রপ্তানি আয়ও কিছুটা বেড়েছে। ফলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ বেড়ে আবারও ২০ বিলিয়ন ডলারের উপরে উঠেছে। গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসের শেষ দিকে (২৭ মার্চ) রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৪৮১ কোটি ডলারে আর বিপিএম-৬ ছিল ১ হাজার ৯৪৫ কোটি ডলার (১৯ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন)। চলতি মাসের ৮ এপ্রিল গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৩৮ কোটি ডলারে আর বিপিএম-৬ হয়েছে ২ হাজার ১০ কোটি ডলারে (২০ দশমিক ১০ বিলিয়ন)।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের শুরুতে গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৯ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার আর বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ২৩ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

তবে এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, যা শুধু আইএমএফকে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঈদের আগে প্রবাসীরা বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এছাড়া রপ্তানি প্রবাহও বেড়েছে এসব কারণেই মূলত কিছুটা রিজার্ভ বেড়েছে।

রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয়, বিদেশি বিনিয়োগ, বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার ঋণ থেকে যে ডলার পাওয়া যায় তা দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তৈরি হয়। আবার আমদানি ব্যয়, ঋণের সুদ বা কিস্তি পরিশোধ, বিদেশি কর্মীদের বেতন-ভাতা, পর্যটক বা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাসহ বিভিন্ন খাতে যে ব্যয় হয়, তার মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রা চলে যায়। এভাবে আয় ও ব্যয়ের পর যে ডলার থেকে যায় সেটাই রিজার্ভে যোগ হয়। আর বেশি খরচ হলে রিজার্ভ কমে যায়।

বাজারে ‘স্থিতিশীলতা’ আনতে রিজার্ভ থেকে নিয়মিত ডলার বিক্রি করে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সময়ে বাণিজ্যিক কিছু ব্যাংক থেকে এক বিলিয়ন ডলারের মতো কেনে বাংলাদেশ ব্যাংক, যার পরিমাণ ১ বিলিয়ন ডলারের মতো। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছিল। তার আগের অর্থবছরে ( ২০২১-২২) ডলার বিক্রি করেছিল ৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার।


যেকোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকেই কঠোরভাবে দমন করা হবে: হানিফ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ এপ্রিল, ২০২৪ ১৭:২৮
বাসস

কুকি চীন বা কেএনএফ যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীই হোক না কেন তাদের জায়গা এই বাংলার মাটিতে হবেনা। এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। আজ শুক্রবার কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পূনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, এদেশে একসময় বাংলা ভাইসহ বড় বড় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জন্ম হয়েছিলো, তাদেরকে যেভাবে নির্মূল করা হয়েছে এদেরকেও ঠিক সেভাবেই নির্মূল করা হবে। আর এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে পেছন থেকে কারা মদত দিচ্ছে তাদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা।

তিনি বলেন, যারা আজকে সরকারের বিরোধীতা করছেন তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার সময় দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কেমন রেখে গিয়েছিলো। মাথাপিছু আয় ৫৩৫ মার্কিন ডলার থেকে বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় তা এখন ২৮০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। আজ বাংলাদেশ চরম ব্যার্থ রাষ্ট্র থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পেয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে। এটা যাদের ভালো লাগে না তারাই এসব আবোল তাবল কথা বলে।

কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ও পূনর্মিলনী অনুষ্ঠানের সভাপতি রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে সদস্য সচিব প্রকোশলী রবিউল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আজগর আলী, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শেখ মেহেদী হাসান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউটের প্রায় দুই হাজার দুইশো প্রাক্তন শিক্ষার্থী এই পূনর্মিলনী অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহন করেন।


প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ এপ্রিল, ২০২৪ ১৬:৫৯
বাসস

আর একদিন পরই পহেলা বৈশাখ। আগামীকাল শনিবার চৈত্রের শেষ দিন। এর পরেরদিন রোববার বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ১৪ এপ্রিল রোববার পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে আজ এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এই শুভেচ্ছা জানান।

তিন বলেন, ‘আসুন নতুন বছরে অতীতের সকল ব্যর্থতা-দুঃখ-গ্লানি পিছনে ফেলে সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের লক্ষ্যে একযোগে কাজ করি।’

তিরি আরও বলেন, বর্ষ পরিক্রমায় আবারও আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে নতুন বছর। আপনারা যারা দেশে-বিদেশে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের সকল ভাইবোনকে জানাই বঙ্গাব্দ ১৪৩১-এর শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ।

এসময় প্রধানমন্ত্রী কবি সুফিয়া কামালের ভাষায় উচ্চারণ করে বলেন, ‘পুরাতন গত হোক! যবনিকা করি উন্মোচন তুমি এসো হে নবীন! হে বৈশাখ! নববর্ষ! এসো হে নতুন। শুভ নববর্ষ।’

এবছর ঈদুল ফিতর ও বাংলা নববর্ষ কাছাকাছি হওয়ায় দুটো উৎসবের ছুটিও মানুষ একসঙ্গে পেয়েছে। ঈদের ছুটি আর পহেলা বৈশাখের ছুটি একসঙ্গে হয়ে লম্বা ছুটিতে মানুষ পরিবার পরিজনের সঙ্গে আনন্দে সময় পার করছে।


banner close