‘খরচপাতির’ কথা বলে বাংলা একাডেমি থেকে বিনা মূল্যে বইমেলায় তিনটি খাবারের দোকান বরাদ্দ নিয়ে সাড়ে তেরো লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে শাহবাগ থানার পুলিশ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বলছে, তারা খাবারের কোনো দোকান নেননি। আর বাংলা একাডেমি বলছে, খরচপাতির কথা বলে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ বিনা মূল্যে তিনটি দোকান নিয়েছে।
হাত-খরচের কথা বলে ছাত্রলীগ একটি আর বইমেলায় স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোলরুম তৈরির খরচ এবং এখানে আসা পুলিশ কর্মকর্তাদের আপ্যায়ন খরচের কথা বলে শাহবাগ থানার পুলিশ দুটি খাবারের দোকান বিনা মূল্যে বরাদ্দ নিয়েছে।
বাংলা একাডেমি থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, বইমেলায় আসা দর্শনার্থীদের খাবারের চাহিদা মেটাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের শেষ প্রান্তে একজন ব্যক্তি ও ১৬টি প্রতিষ্ঠানকে ২১টি খাবারের দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে পাঁচটি দোকান।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ছাত্রলীগ, কালীমন্দির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং শাহবাগ থানার পুলিশ। এর মধ্যে শাহবাগ থানার পুলিশ পেয়েছে দুটি দোকান বরাদ্দ।
ছাত্রলীগকে দেওয়া ৮ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে মেহেদী হাসানের নামে, কালীমন্দিরকে দেওয়া ১৫ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে কালীমন্দিরের নামেই, ডিএমপিকে দেওয়া ১৭ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে মেট্রো মেকার্সের নামে আর শাহবাগ থানাকে দেওয়া হয়েছে ২০ এবং ২১ নম্বর দোকান দুটি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ছাত্রলীগকে দেওয়া ৮ নম্বর দোকানটি বর্তমানে পরিচালনা করছে উজ্জল নামের একজন। তিনি কিনে নিয়েছেন আড়াই লাখ টাকায়। উজ্জল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, থাকেন কবি জসিমউদ্দীন হলের ২১৯ নম্বর রুমে।
আর শাহবাগ থানা-পুলিশের নামে বরাদ্দ হওয়া দোকান দুটি পরিচালনা করছে বিল্লাল নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি কিনে নিয়েছেন ১১ লাখ টাকায়। দোকানে থাকা ম্যানেজার শাহীন এবং সাব্বির টাকার অঙ্কের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেটে বিল্লালের ব্যবসা আছে। গত বছরও তিনি শাহবাগ থানার নামে বরাদ্দ হওয়া দোকান দুটি কিনে নিয়েছিলেন। এত টাকায় কিনে নেওয়ার কারণ হিসেবে জানা যায়, প্রতিবছর বাংলা একাডেমির খাবারের দোকানগুলোর দাম একটু বেশি থাকে। কিন্তু এ বছর সেটি কমানো হয়েছে। কিন্তু এর আগেই গত বছরের দামে শাহবাগ থানা-পুলিশের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলে বিল্লাল। এ ছাড়া পুলিশের দোকান হলে একটু অতিরিক্ত সুবিধাও পাওয়া যায়। অন্য দোকানগুলোর নির্দিষ্ট জায়গা থাকলেও এই দুটি দোকানের থাকে না কোনো নির্দিষ্ট সীমানা। যতটুকু ইচ্ছা জায়গা নিজের করে নেওয়া যায়।
বিষয়টি স্বীকারও করেছেন বইমেলার খাবার-সংশ্লিষ্ট স্টল এবং মোবাইল ফোন টাওয়ারের স্থান বরাদ্দ ও তত্ত্বাবধান কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসান কবীর।
তবে বিনা মূল্যে খাবারের স্টল নেওয়া এবং ১১ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেননি শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাজিরুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা একাডেমি থেকে খাবারের কোনো দোকান নেইনি। আর বিক্রির তো প্রশ্নই আসে না।’
ছাত্রলীগকে বিনা মূল্যে খাবারের দোকান বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে কথা হয় বাংলা একাডেমির হিসাবরক্ষণ ও বাজেট উপ-বিভাগের উপপরিচালক কামাল উদ্দীন আহমেদের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগকে এই দোকান দেওয়ার বিষয়ে শয়ন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন) সাহেবের সঙ্গেও কথা হয়েছে। সাদ্দাম (কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন) সাহেবও জানে। এই স্টল নেওয়ার জন্য একটা পক্ষ এসেছিল। এরপর তাদের উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতিকে ফোন দেওয়া হয়েছিল, এ সময় সাদ্দাম সাহেবকেও ফোন দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা নেওয়ার পর যদি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগও আলাদা দোকান বরাদ্দ চায় তখন তো ঝামেলা হয়ে যাবে। এ জন্য দুজনের সঙ্গেই কথা বলে শুধু একটা দোকান দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রলীগকে কেন বিনা মূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে ‘খাবার ও সংশ্লিষ্ট স্টল এবং মোবাইল ফোন টাওয়ারের স্থান বরাদ্দ ও তত্ত্বাবধান কমিটির’ আহ্বায়ক মো. হাসান কবীর বলেন, দেশ চালায় কারা? পুলিশ আর ছাত্রলীগই তো চালায়। তাদের সমীহ করতে হবে না। তাদের আমরা অনেক কিছু দেইনি। একটা স্টল দিয়েছি।’
হাসান কবীর বলেন, তারা (ছাত্রলীগ) আমাদের বলেছে, ‘আমরা ছাত্র মানুষ। আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। আমাদের হাত খরচ লাগে। তখন আমরা বলেছি, তাহলে আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্র বা লোকাল যেই নামে আসেন না কেন আমরা শুধু একটা স্টলই দিতে পারব। তাদের এও বলেছি, আপনারা দায়িত্ব নেন, ছাত্রলীগের নামে যেন আর কেউ না আসে। তারা আমাদের আশ্বস্ত করে বলেছে, কেউই আসবে না। তারা এটি নিয়ন্ত্রণ করবে।’
খাবারের স্টল নেওয়ার বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘এটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। আর এটি করারও কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একমাত্র স্টল মাতৃভূমি প্রকাশনা স্টল। এটিকে কেন্দ্র করেই যে আড্ডা বইমেলায় এটিই আমাদের একমাত্র কর্মসূচি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবীর শয়ন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার মন্তব্য হলো, আমার জানা নেই।’
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান বলেন, বইমেলায় ছাত্রলীগের খাবারের স্টল থাকার প্রশ্নই আসে না। এগুলোর সঙ্গে কারও যুক্ত থাকার কোনো সুযোগ বা অবকাশও নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে এগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকলে সেটার দায় ছাত্রলীগ নেবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ‘বাংলা একাডেমি থেকে আমি কোনো খাবারের স্টল নেইনি, এটা কনফার্ম। এগুলো আমার রাজনৈতিক শিক্ষার মধ্যে পড়ে না। তবে আমার প্রেসিডেন্ট (মাজহারুল কবীর শয়ন) নিয়েছে কি না, সেটা আমি বলতে পারব না।’
দোকান বরাদ্দ পেয়েছে পরিচালকের বউ এবং একাডেমির এক কর্মকর্তাও।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বইমেলায় দুটি খাবারের দোকান বরাদ্দ পেয়েছেন একাডেমির গ্রন্থাগার বিভাগের পরিচালক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেনের স্ত্রী শারমিন সুলতানা শর্মী আর একটি পেয়েছেন একাডেমির হেড ইলেকট্রিশিয়ান আলী হোসেন। তবে টাকা দিয়েই এই স্টল তিনটি নিয়েছেন তারা। শর্মী নড়াইল পিঠাঘরের নামে দুটি দোকান পরিচালনা করছেন আর মোহাম্মদ আলী টিএফসি নামে দোকান পরিচালনা করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা একাডেমির এক কর্মকর্তা বলেন, নিজের বউয়ের নামে স্টল বরাদ্দ নিতে শাহাদাৎ হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। আর মোহাম্মদ আলী তথ্য গোপন করে এই স্টলটি নিয়েছেন। বাইরের কাউকে দিলে ভালো দামে এই দোকান তিনটি বরাদ্দ দেওয়া যেত। কিন্তু তারা কম দামে নেওয়ায় বাংলা একাডেমিই লাভবান হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলো।
পরিচালকের বউকে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে হাসান কবীর বলেন, এই স্টলটা মূলত আমাদের এক পরিচালক তার এক আত্মীয়কে দিতে বলেছেন। তাই এটা তার আত্মীয়কে দেওয়া হয়েছে।
যাকে ‘আত্মীয়’ বলা হচ্ছে তিনি পরিচালকের ‘স্ত্রী’ জানালে তিনি বলেন, ‘এটা আমি মাত্রই শুনেছি। আত্মীয়ের কথা বলেই এটা নেওয়া হয়েছে।’
আলী হোসেনের দোকান নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি হতেই পারে না। আমি খোঁজ নিচ্ছি।’
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনার পর তনুর পোশাক থেকে পাওয়া নমুনায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর পাশাপাশি আরেকজনের রক্ত পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ডিএনএ পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত তনুর পোশাকে চারজনের নমুনা পাওয়ার তথ্য প্রকাশ্যে এল।
গতকাল রোববার রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) রাজধানীর কল্যাণপুরের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে সিআইডিতে আমি একটি চিঠি দিয়ে তনুর পোশাকে পাওয়া নমুনার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম। প্রায় এক মাস আগে আমাকে জানানো হয়েছে, তিনজন পুরুষের শুক্রাণু ছাড়াও আরেকজনের রক্তের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা নমুনায়।
তরিকুল ইসলাম বলেন, এ নিয়ে সন্দেহভাজনের সংখ্যা চারজনে দাঁড়াল। তবে এটি নতুন কোনো তথ্য নয়। ২০১৭ সালে তিনজনের তথ্য সামনে এলেও এখন আরেকজনের তথ্য এসেছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তনুর মরদেহ পাওয়া যায়। পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। সর্বশেষ পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করে সিআইডি।
প্রায় চার বছর মামলাটি তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ঈদের দিন ছাড়া ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও দেশের সব কাস্টমস হাউস ও শুল্ক স্টেশন সীমিত আকারে খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করে এনবিআর। পরে দেশের সব কাস্টমস কমিশনারকে বিষয়টি জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, শিল্পকারখানার কাঁচামাল সরবরাহ এবং রপ্তানি কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এনবিআরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত জরুরি কার্যক্রম চালু রাখতে প্রয়োজনীয় জনবল সীমিত পরিসরে দায়িত্ব পালন করবেন। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, শিল্পের কাঁচামাল, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও দ্রুত খালাসযোগ্য আমদানিপণ্যের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ঈদুল ফিতরেও ঈদের দিন ছাড়া সব কাস্টমস হাউস ও শুল্ক স্টেশন খোলা রাখা হয়েছিল। তবে ছুটির সময়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সীমিত থাকায় আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ তুলনামূলক কম ছিল।
প্রতি বছরই ঈদ ও দীর্ঘ সরকারি ছুটির সময় বন্দর ও কাস্টমস কার্যক্রম আংশিক চালু রাখা হয়, যাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থায় স্থবিরতা তৈরি না হয় এবং রপ্তানি আদেশ সময়মতো সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি সূচি ঠিক রাখতে এ ধরনের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য তিন লাখ কোটি টাকার বিশাল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। আজ সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এই বিশাল বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়। সভা শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান যে, এডিপির মোট আকারের মধ্যে সরকারি তহবিল বা নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হবে ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা বাবদ ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।
মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন যে, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরায় শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের একটি সুনির্দিষ্ট পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। এবারের এডিপিতে শুধুমাত্র অবকাঠামোগত উন্নয়নই নয়, বরং দেশের সার্বিক উন্নয়নের চিত্র প্রতিফলিত হবে। নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও সংস্কারমূলক পরিকল্পনার ভিত্তিতেই এই উন্নয়ন কর্মসূচির রূপরেখা সাজানো হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি রাখা হবে বলে তিনি জানান।
অতীতের প্রকল্পগুলোর বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রীর অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, বিগত দিনের প্রকল্পগুলো বর্তমানে পুনরায় পর্যবেক্ষণ বা রিভিউ করা হচ্ছে। এর মধ্যে যে প্রকল্পগুলো দেশের স্বার্থে ও জনগণের কল্যাণে বাস্তবসম্মত, সেগুলোই কেবল বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। এছাড়া নতুন নেওয়া প্রকল্পগুলো যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা যায়, সে বিষয়ে সরকার অত্যন্ত কঠোর ও সতর্ক থাকবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই মেগা উন্নয়ন বাজেট জাতীয় অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধিতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি আমদানির লক্ষ্যে নতুন করে চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের প্রতি বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে কাতার। সোমবার ঢাকা সফররত কাতারের শ্রমমন্ত্রী আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররির সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই ইতিবাচক উন্নয়ন হয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান যে, কাতার এখন থেকে অদক্ষ শ্রমিকের পরিবর্তে মূলত দক্ষ জনবল নিয়োগে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে “ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডিং, এসি টেকনিশিয়ান ও প্লাম্বিং; এ চার সেক্টর নিয়ে আলোচনা হয়েছে” এবং বাংলাদেশও সেই অনুযায়ী দক্ষ কর্মী পাঠানোর প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বৈঠকে উপস্থিত থেকে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য দেন। তিনি বলেন যে, কাতার ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় পেশায় বাংলাদেশিদের নিয়োগের সংখ্যা বাড়াতে সম্মতি দিয়েছে। পাশাপাশি নতুন প্রস্তাবিত চারটি কারিগরি খাতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশে কাতারের মাত্র একটি ভিসা সেন্টার থাকায় কর্মীদের যে ভোগান্তি হচ্ছে, তা নিরসনে ভিসা সেন্টারের সংখ্যা বাড়ানোর জোরালো অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং কাতার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।
ভিসা প্রক্রিয়া ও জনবল নিয়োগের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেছেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, নিয়োগকারী কোম্পানিগুলো যেন কোনোভাবেই সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতে না পারে, সে বিষয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। আগামীতে দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে ভিসা সেন্টার সম্প্রসারণসহ অমীমাংসিত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে সফলভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পন্ন করে আজ সোমবার সকালে দেশে ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত ৯ মে তিনি ব্যক্তিগত এই সফরে লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক এবং কূটনৈতিক কোরের ডিন ইউসুফ এস ওয়াই রমাদান। এ সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সফরসঙ্গী হিসেবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যসহ চিকিৎসক ও বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও দেশে ফিরেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতির কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়েছিল। সেই চিকিৎসার ধারাবাহিকতায় এবং চিকিৎসকদের নিয়মিত পরামর্শ অনুযায়ী তিনি লন্ডনের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ফলোআপ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশন মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) গুরুত্বপূর্ণ সভা শুরু হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই সভায় দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে রয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত অনুমোদন। ধারণা করা হচ্ছে, আজকের এই সভাতেই নতুন অর্থবছরের উন্নয়ন বাজেটের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। এর পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদী গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে ‘সংস্কার ও উন্নয়নের পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত রূপরেখা (২০২৬-২০৩০ অর্থবছর)’ শীর্ষক একটি বিশেষ অর্থনৈতিক কৌশলপত্রের রূপরেখা উপস্থাপন ও অনুমোদনের কথা রয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের এই নীতিনির্ধারণী সভায় উপস্থিত রয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। এছাড়াও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানসহ মন্ত্রিসভার অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সদস্যরা এই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সম্পাদক পরিষদের নেতারা। রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউএজ সম্পাদক নুরুল কবির, মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন, সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, সুপ্রভাত বাংলাদেশ সম্পাদক রুশো মাহমুদ ও দৈনিক করতোয়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
দুই দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সামিখ আল মাররি। রোববার সন্ধ্যায় তিনি ঢাকা বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির কাতারের শ্রমমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সফরকালে আল মাররি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ নেতা এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এছাড়া, একটি যৌথ কমিটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শ্রম, জনশক্তি এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও কাতারে অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটির স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি আলোচনার কথা রয়েছে।
দোহার বাংলাদেশ দূতাবাস কাতারের শ্রমমন্ত্রীর বাংলাদেশে সফর গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেছে, আমরা আশা করি, এই সফর অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হবে এবং কাতার ও বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্বকে সামনের দিনগুলোতে আরও সুদৃঢ় করবে।
গাজীপুরে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রোববার সকাল থেকে ডুয়েট ক্যাম্পাসে এ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষের সময় উপাচার্য নিয়োগের পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালকে গত বৃহস্পতিবার সরকার ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নামেন। তাদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকনেতাও ডুয়েটের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১৪ মে রাত সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৭ মে সকাল ৮টা থেকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে যোগদান করতে পারেন, এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে নবনিযুক্ত উপাচার্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বাকবিতণ্ডা শুরু হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় ভিন্ন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে অভ্যন্তরীণ যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া উচিত ছিল।
গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, ডুয়েট ক্যাম্পাস থেকে আহত অবস্থায় ১৫ জনকে আনা হয়েছে।
গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ডুয়েটে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পুলিশ।’
দেশের অবৈধ ১১৬টি জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপস বন্ধের জন্য টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) তালিকা পাঠিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ছাড়া চারটি সাইটের আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিআইডি বলেছে, এই চার সাইট দিয়ে দৈনিক দুই কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়া হতো। সেই অর্থ তারা হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করত। রোববার সিআইডির প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি (সদ্য নিযুক্ত ডিএমপি কমিশনার) মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সিআইডির সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিট অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে নিয়মিত সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ১ মে থেকে আজ পর্যন্ত পরিচালিত সাইবার প্যাট্রলিংয়ে জুয়ার সঙ্গে জড়িত ওয়েবসাইট শনাক্ত করে সেগুলো ডাউন করার জন্য বিটিআরসিতে ১১৬টির তথ্য দিয়েছে সিআইডি। এ ছাড়া মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জুয়ার লেনদেন করে—এমন ৮৭৯টি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ও বিভিন্ন ব্যাংকের ৪৩টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে ও ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা বিভাগকে (বিএফআইইউ) অনুরোধ জানিয়েছে সিআইডি।
এর আগে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত চারজনকে ৬ মে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার নরসিংদীর পলাশ থেকে ও ঢাকার ধানমন্ডি থেকে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কিশোরগঞ্জের আশরাফ উদ্দীন আহম্মেদ, সজীব চক্রবর্তী ও আশরাফুল ইসলাম এবং ময়মনসিংহের জসীম উদ্দীন। তাদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের প্রথম দুজন একটি মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটর। অপর চারজন হলেন নরসিংদীর তৈয়ব খান ও সৌমিক সাহা, লক্ষ্মীপুরের কামরুজ্জামান এবং কিশোরগঞ্জের আব্দুর রহমান।
সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জুয়ার চারটি সাইট পরিচালনা করে আসছিলেন। তারা দৈনিক প্রায় দুই কোটি টাকা হাতিয়ে নিতেন। এই টাকার বেশির ভাগ হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হতো। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান সিআইডিপ্রধান। তাদের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে একটি মামলা হয়েছে।
সিআইডির প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ বলেন, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সিআইডি বিএফআইইউ ও আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চক্রটির আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও সংশ্লিষ্ট ক্রিপ্টো ওয়ালেট শনাক্তের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে সিআইডি ‘এমটিএফই’ পঞ্জি স্কিমে পাচার হওয়া প্রায় ৪৪ কোটি টাকা দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিল।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ থেকে ৩১ মে দেশের সব অধস্তন আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদের আগে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার (২৩ মে) এবং পরের দিন রোববার দেশের সব অধস্তন আদালতের কার্যক্রম চলবে।
রোববার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার (বিচার) মুহাম্মদ নুরুল আমিন বিপ্লবের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি সব অফিসের জন্য টানা ৭ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। গত ১৪ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলেও জরুরি কিছু সেবা এই নির্দেশনার বাইরে থাকবে।
এর মধ্যে রয়েছে—বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ; ফায়ার সার্ভিস ও বন্দরগুলোর কার্যক্রম; টেলিফোন, ইন্টারনেট ও ডাক সেবা; পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং এসব কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা ও চিকিৎসাসেবা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং ওষুধ ও সরঞ্জাম পরিবহনকারী যানবাহন।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। একইভাবে উচ্চ আদালত ও নিম্ন আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।
বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং কল-কারখানার ছুটির বিষয়ে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬’ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও নির্দেশনা জারি করবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি লাঘব এবং প্রশাসনের কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ঢাকা জেলা প্রশাসনে চালু হতে যাচ্ছে ‘হ্যালো ডিসি’ নামের নতুন একটি সেবা। এটির মাধ্যমে ঢাকা জেলার যেকোনো নাগরিক সরাসরি জেলা প্রশাসনে ফোন কলে তাদের অভাব-অভিযোগ, তথ্য ও মতামত জানাতে পারবেন।
রোববার দুপুরে ঢাকা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির (সিআরইউ) সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা খানম।
ফরিদা খানম বলেন, আমরা ‘হ্যালো ডিসি’ নামে একটি সেবা চালু করতে যাচ্ছি, যেখানে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ তাদের অভাব-অভিযোগ জানাতে পারবেন। আমরা জেলা প্রশাসন থেকে গণশুনানি করে থাকি। এর বাইরেও সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই ‘হ্যালো ডিসি’ সেবা চালু থাকবে। এতে করে নাগরিকরা সহজেই তাদের কোনো অভিযোগ থাকলে জানাতে পারবে। এছাড়া জেলা প্রশাসন নিয়ে কোনো পরামর্শ থাকলেও তা জানাতে পারবে। শিঘ্রই এবিষয়ে আমরা বিস্তারিত তুলে ধরবো।’
ফরিদা খানম আরো বলেন, বর্তমানে অনলাইন জুয়ার প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন কোনো সংকটে না পড়ে যেজন্য মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে আমরা জনসচেতনা বৃদ্ধি করতে চাই। বিভিন্ন সেলিব্রিটিদের মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরি করে প্রচার করতে ঢাকা জেলা প্রশাসন থেকে উদ্যোগ নিব।
জেলা প্রশাসক বলেন, সাংবাদিকেরা হলেন সমাজের আয়না। আপনাদের লেখনীর মাধ্যমেই সমাজের প্রকৃত চিত্র ও সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়া আমাদের সামনে উঠে আসে। ঢাকা জেলা প্রশাসনের কোনো দপ্তরে যদি কোনো সেবাগ্রহীতা হয়রানির শিকার হন বা অফিসে কোনো ধরনের অনিয়ম আপনাদের চোখে পড়ে, তবে তা নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে বস্তুনিষ্ঠতার সাথে তুলে ধরবেন।
মতবিনিময় সভায় ঢাকা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আব্দুল ওয়ারেছ আনসারী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শামীমা সুলতানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার এবং তেজগাঁও সার্কেলের সার্কেল অফিসার ও সিনিয়র সহকারী সচিব তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ঢাকা জেলার বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাও (ইউএনও) এই মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে সাভারের ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম, ধামরাইয়ের ইউএনও মো. আল মামুন, কেরানীগঞ্জের ইউএনও মো. উমর ফারুক এবং নবাবগঞ্জের ইউএনও দিলরুবা ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রধান কার্যালয়ের সামনে মোটরসাইকেলের ওপর সম্ভাব্য নতুন কর আরোপের পরিকল্পনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন দুই শতাধিক মোটরসাইকেল আরোহী। রোববার দুপুর ১২টার দিকে আরোহীরা এনবিআর ভবনের সামনের সড়কে মোটরসাইকেল সারিবদ্ধভাবে রেখে এই কর্মসূচি পালন করেছেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া আরোহীরা জানান, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মোটরসাইকেল মালিকদের ওপর নতুন করে অগ্রিম কর (এআইটি) বা বাড়তি শুল্ক আরোপের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই তারা আজ রাস্তায় নেমেছেন।
আরোহীদের দাবি, মোটরসাইকেল এখন আর কোনো বিলাসবহুল পণ্য নয়; বরং মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং জীবিকার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
বিক্ষুব্ধ চালকদের পক্ষে এ কে এম ইমন বলেন, একটি মোটরসাইকেল কেনার সময়ই আমাদের মোটা অঙ্কের শুল্ক ও ভ্যাট দিতে হয়। এরপর নতুন করে আবার কর আরোপ করা হলে তা সাধারণ মানুষের ওপর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়াবে। আমরা চাই এই অমানবিক সিদ্ধান্তের পরিকল্পনা থেকে এনবিআর সরে আসুক।
ঘটনাস্থলে দেখা যায়, প্রায় ২০০ মোটরসাইকেল সড়কের এক পাশে সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। আরোহীরা হাতে বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। কর্মসূচির কারণে সংশ্লিষ্ট সড়কে যানবাহনের গতি কিছুটা ধীর হয়ে পড়লেও পুলিশের উপস্থিতির কারণে বড় ধরনের কোনো যানজট সৃষ্টি হয়নি।
পরে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়। আরোহীদের দাবি, মোটরসাইকেল খাতকে সাধারণ মানুষের নাগালে রাখতে নতুন কর আরোপের পরিবর্তে বর্তমান কর কাঠামো আরও সহজ করা প্রয়োজন। অন্যথায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ আরও বেড়ে যাবে।