‘খরচপাতির’ কথা বলে বাংলা একাডেমি থেকে বিনা মূল্যে বইমেলায় তিনটি খাবারের দোকান বরাদ্দ নিয়ে সাড়ে তেরো লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে শাহবাগ থানার পুলিশ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বলছে, তারা খাবারের কোনো দোকান নেননি। আর বাংলা একাডেমি বলছে, খরচপাতির কথা বলে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ বিনা মূল্যে তিনটি দোকান নিয়েছে।
হাত-খরচের কথা বলে ছাত্রলীগ একটি আর বইমেলায় স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোলরুম তৈরির খরচ এবং এখানে আসা পুলিশ কর্মকর্তাদের আপ্যায়ন খরচের কথা বলে শাহবাগ থানার পুলিশ দুটি খাবারের দোকান বিনা মূল্যে বরাদ্দ নিয়েছে।
বাংলা একাডেমি থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, বইমেলায় আসা দর্শনার্থীদের খাবারের চাহিদা মেটাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের শেষ প্রান্তে একজন ব্যক্তি ও ১৬টি প্রতিষ্ঠানকে ২১টি খাবারের দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে পাঁচটি দোকান।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ছাত্রলীগ, কালীমন্দির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং শাহবাগ থানার পুলিশ। এর মধ্যে শাহবাগ থানার পুলিশ পেয়েছে দুটি দোকান বরাদ্দ।
ছাত্রলীগকে দেওয়া ৮ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে মেহেদী হাসানের নামে, কালীমন্দিরকে দেওয়া ১৫ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে কালীমন্দিরের নামেই, ডিএমপিকে দেওয়া ১৭ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে মেট্রো মেকার্সের নামে আর শাহবাগ থানাকে দেওয়া হয়েছে ২০ এবং ২১ নম্বর দোকান দুটি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ছাত্রলীগকে দেওয়া ৮ নম্বর দোকানটি বর্তমানে পরিচালনা করছে উজ্জল নামের একজন। তিনি কিনে নিয়েছেন আড়াই লাখ টাকায়। উজ্জল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, থাকেন কবি জসিমউদ্দীন হলের ২১৯ নম্বর রুমে।
আর শাহবাগ থানা-পুলিশের নামে বরাদ্দ হওয়া দোকান দুটি পরিচালনা করছে বিল্লাল নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি কিনে নিয়েছেন ১১ লাখ টাকায়। দোকানে থাকা ম্যানেজার শাহীন এবং সাব্বির টাকার অঙ্কের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেটে বিল্লালের ব্যবসা আছে। গত বছরও তিনি শাহবাগ থানার নামে বরাদ্দ হওয়া দোকান দুটি কিনে নিয়েছিলেন। এত টাকায় কিনে নেওয়ার কারণ হিসেবে জানা যায়, প্রতিবছর বাংলা একাডেমির খাবারের দোকানগুলোর দাম একটু বেশি থাকে। কিন্তু এ বছর সেটি কমানো হয়েছে। কিন্তু এর আগেই গত বছরের দামে শাহবাগ থানা-পুলিশের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলে বিল্লাল। এ ছাড়া পুলিশের দোকান হলে একটু অতিরিক্ত সুবিধাও পাওয়া যায়। অন্য দোকানগুলোর নির্দিষ্ট জায়গা থাকলেও এই দুটি দোকানের থাকে না কোনো নির্দিষ্ট সীমানা। যতটুকু ইচ্ছা জায়গা নিজের করে নেওয়া যায়।
বিষয়টি স্বীকারও করেছেন বইমেলার খাবার-সংশ্লিষ্ট স্টল এবং মোবাইল ফোন টাওয়ারের স্থান বরাদ্দ ও তত্ত্বাবধান কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসান কবীর।
তবে বিনা মূল্যে খাবারের স্টল নেওয়া এবং ১১ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেননি শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাজিরুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা একাডেমি থেকে খাবারের কোনো দোকান নেইনি। আর বিক্রির তো প্রশ্নই আসে না।’
ছাত্রলীগকে বিনা মূল্যে খাবারের দোকান বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে কথা হয় বাংলা একাডেমির হিসাবরক্ষণ ও বাজেট উপ-বিভাগের উপপরিচালক কামাল উদ্দীন আহমেদের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগকে এই দোকান দেওয়ার বিষয়ে শয়ন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন) সাহেবের সঙ্গেও কথা হয়েছে। সাদ্দাম (কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন) সাহেবও জানে। এই স্টল নেওয়ার জন্য একটা পক্ষ এসেছিল। এরপর তাদের উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতিকে ফোন দেওয়া হয়েছিল, এ সময় সাদ্দাম সাহেবকেও ফোন দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা নেওয়ার পর যদি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগও আলাদা দোকান বরাদ্দ চায় তখন তো ঝামেলা হয়ে যাবে। এ জন্য দুজনের সঙ্গেই কথা বলে শুধু একটা দোকান দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রলীগকে কেন বিনা মূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে ‘খাবার ও সংশ্লিষ্ট স্টল এবং মোবাইল ফোন টাওয়ারের স্থান বরাদ্দ ও তত্ত্বাবধান কমিটির’ আহ্বায়ক মো. হাসান কবীর বলেন, দেশ চালায় কারা? পুলিশ আর ছাত্রলীগই তো চালায়। তাদের সমীহ করতে হবে না। তাদের আমরা অনেক কিছু দেইনি। একটা স্টল দিয়েছি।’
হাসান কবীর বলেন, তারা (ছাত্রলীগ) আমাদের বলেছে, ‘আমরা ছাত্র মানুষ। আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। আমাদের হাত খরচ লাগে। তখন আমরা বলেছি, তাহলে আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্র বা লোকাল যেই নামে আসেন না কেন আমরা শুধু একটা স্টলই দিতে পারব। তাদের এও বলেছি, আপনারা দায়িত্ব নেন, ছাত্রলীগের নামে যেন আর কেউ না আসে। তারা আমাদের আশ্বস্ত করে বলেছে, কেউই আসবে না। তারা এটি নিয়ন্ত্রণ করবে।’
খাবারের স্টল নেওয়ার বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘এটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। আর এটি করারও কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একমাত্র স্টল মাতৃভূমি প্রকাশনা স্টল। এটিকে কেন্দ্র করেই যে আড্ডা বইমেলায় এটিই আমাদের একমাত্র কর্মসূচি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবীর শয়ন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার মন্তব্য হলো, আমার জানা নেই।’
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান বলেন, বইমেলায় ছাত্রলীগের খাবারের স্টল থাকার প্রশ্নই আসে না। এগুলোর সঙ্গে কারও যুক্ত থাকার কোনো সুযোগ বা অবকাশও নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে এগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকলে সেটার দায় ছাত্রলীগ নেবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ‘বাংলা একাডেমি থেকে আমি কোনো খাবারের স্টল নেইনি, এটা কনফার্ম। এগুলো আমার রাজনৈতিক শিক্ষার মধ্যে পড়ে না। তবে আমার প্রেসিডেন্ট (মাজহারুল কবীর শয়ন) নিয়েছে কি না, সেটা আমি বলতে পারব না।’
দোকান বরাদ্দ পেয়েছে পরিচালকের বউ এবং একাডেমির এক কর্মকর্তাও।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বইমেলায় দুটি খাবারের দোকান বরাদ্দ পেয়েছেন একাডেমির গ্রন্থাগার বিভাগের পরিচালক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেনের স্ত্রী শারমিন সুলতানা শর্মী আর একটি পেয়েছেন একাডেমির হেড ইলেকট্রিশিয়ান আলী হোসেন। তবে টাকা দিয়েই এই স্টল তিনটি নিয়েছেন তারা। শর্মী নড়াইল পিঠাঘরের নামে দুটি দোকান পরিচালনা করছেন আর মোহাম্মদ আলী টিএফসি নামে দোকান পরিচালনা করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা একাডেমির এক কর্মকর্তা বলেন, নিজের বউয়ের নামে স্টল বরাদ্দ নিতে শাহাদাৎ হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। আর মোহাম্মদ আলী তথ্য গোপন করে এই স্টলটি নিয়েছেন। বাইরের কাউকে দিলে ভালো দামে এই দোকান তিনটি বরাদ্দ দেওয়া যেত। কিন্তু তারা কম দামে নেওয়ায় বাংলা একাডেমিই লাভবান হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলো।
পরিচালকের বউকে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে হাসান কবীর বলেন, এই স্টলটা মূলত আমাদের এক পরিচালক তার এক আত্মীয়কে দিতে বলেছেন। তাই এটা তার আত্মীয়কে দেওয়া হয়েছে।
যাকে ‘আত্মীয়’ বলা হচ্ছে তিনি পরিচালকের ‘স্ত্রী’ জানালে তিনি বলেন, ‘এটা আমি মাত্রই শুনেছি। আত্মীয়ের কথা বলেই এটা নেওয়া হয়েছে।’
আলী হোসেনের দোকান নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি হতেই পারে না। আমি খোঁজ নিচ্ছি।’
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশীয় ও বৈশ্বিক বাস্তবতায় কোনো শত্রু তৈরি না করে সর্বত্র মিত্র তৈরি করেছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত সরকারের কাছে শহীদ জিয়ার সার্কের নীতি এবং বহুপক্ষীয় স্বার্থের ভিত্তিতে এগিয়ে চলার নির্জোট রাজনীতিই প্রধান পররাষ্ট্রনীতি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন তিনি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে পিআইবি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্লেষণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারকে রাষ্ট্র ও অর্থনীতি পরিচালনা করতে কিছু অনিবার্য উপাদানের ওপর দাঁড়াতে হচ্ছে। আমাদের আমদানির প্রধান উৎস চীন ও ভারত। তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রধান গন্তব্য আমেরিকা ও ইউরোপ, রেমিট্যান্সের মূল উৎস মধ্যপ্রাচ্য এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিরাপত্তার জন্য আমরা কাতার এবং রাশিয়ার নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট প্রজেক্টের ওপর নির্ভরশীল। এই বাস্তবতায় আমাদের এমন একটি স্বাধীন নীতি অবলম্বন করতে হবে, যা এই বিপরীতমুখী সবকটি উপাদানকে একসাথে অ্যাসেম্বল বা সমন্বয় করতে পারে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের আগের একদলীয় শাসন ও কূটনৈতিক স্থবিরতা থেকে বেরিয়ে বহুদলীয় ব্যবস্থা, পশ্চিমামুখী অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও মুসলিম বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছিলেন। এমনকি বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতকে সাথে নিয়ে সার্ক গঠনের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সমস্যাগুলোকে একটি আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক কাঠামোতে রূপান্তর করেছিলেন।
স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার জন্য জাতীয় স্বকীয়তা চেনার ওপর গুরুত্বারোপ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশি হিসেবে আমাদের স্বকীয়তা সম্পূর্ণ নিজস্ব। বাঙালি হিসেবে আমাদের কোনো সার্টিফিকেটের জন্য কলকাতার বুদ্ধিজীবীদের কাছে যেতে হয় না, কিংবা আমাদের মুসলমানিত্বের সনদের জন্য পিন্ডি বা করাচির মসজিদের ইমামের শরণাপন্ন হতে হয় না। এই যে স্বকীয়তার চেতনা, তা শহীদ জিয়াই আমাদের চিন্তার মধ্যে সুপ্রতিষ্ঠিত করে গেছেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি সঞ্জীব রেড্ডি শহীদ জিয়াকে দেওয়া সংবর্ধনায় লিখিতভাবে তাকে বাংলাদেশের ‘মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। শহীদ জিয়া নিজেকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এমন এক মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন যে, ভারতের রাষ্ট্রপতিও তাকে এই সম্মান দিতে বাধ্য হয়েছিলেন; অথচ আওয়ামী লীগ ও তাদের বলয়ের বুদ্ধিজীবীরা এখনো তা স্বীকার করতে চায় না। কারণ আওয়ামী লীগ নিজেদের ভারতের পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করতেই বেশি পছন্দ করে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের দেশের রেমিট্যান্স বাড়াতে হবে, মাটির নিচের নিজস্ব জ্বালানি উত্তোলন করতে হবে এবং প্রয়োজনে আমাদের নিজস্ব শর্ত ও স্বার্থ বজায় রেখে ভারত, নেপাল বা ভুটান থেকে হাইড্রো পাওয়ার আনতে হবে। বৈচিত্র্যময় ও বিপরীতমুখী বৈশ্বিক শক্তিগুলোকে ধরে রাখার জন্য যে নীতিগত শক্তির প্রয়োজন, তা সর্বশেষ আমরা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান থেকে গ্রহণ করেছি।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান। আলোচনা করেন বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রুশদ ও ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান।
মূল প্রবন্ধে মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান বলেন, কোনো দেশের নেতৃত্ব শুধু অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশ ও দেশের স্বার্থকে কোথায় নিয়ে যেতে পেরেছেন, সেটিই নেতৃত্বের আসল মাপকাঠি। সেই মাপকাঠিতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি ছিল অত্যন্ত সফল এবং তার সময়কাল ছিল বাংলাদেশের কূটনীতির এক স্বর্ণযুগ।
আলোচনায় অংশ নিয়ে আবু রুশদ বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রথম সম্মুখ বিদ্রোহটি করেছিলেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ-এর প্রবক্তা হিসেবে দেশের সকল জাতিসত্তাকে এক সুতোয় বেঁধেছিলেন। সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে তার অবদান অনস্বীকার্য।
পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, ডেইলি ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, বিআইপিএসএসে’র সিনিয়র ফেলো শাফাকাত মনির, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওয়ারেস করিমসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সব ধরনের গ্রাহকের বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পর এবার লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের মূল্য কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফলে ০-৫০ ও ০-৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকরা আগের দামে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এ মূল্যহার ঘোষণা করেছে বিইআরসি।
এতে বলা হয়, সব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ও কোম্পানির আবাসিক গ্রাহকশ্রেণির অন্তর্ভুক্ত লাইফলাইন (০-৫০ ইউনিট) এনার্জি রেট ৪ টাকা ৬৩ পয়সা এবং আবাসিক প্রথম ধাপ (০-৭৫ ইউনিট) এনার্জি রেট ৫ টাকা ২৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এ মূল্যহার জুন মাস থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে বুধবার (৩ জুন) বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার ঘোষণা করে বিইআরসি। ওই ঘোষণায় আবাসিক লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।
একই সঙ্গে আবাসিক প্রথম ধাপের (০-৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী) গ্রাহকদের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৫ টাকা ২৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং এ দেশের মানুষের স্বকীয়তার প্রতীক। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান অল্প সময়ের মধ্যে এই ভূখণ্ডের মানুষকে একটি অনন্য জাতীয় পরিচিতি (আইডেন্টিটি) তৈরি করে দিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেছেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন নির্জোট কূটনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে পিআইবি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনিরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান। আলোচকের বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রুশদ ও ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. সফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘১৯৭১ সালে যখন দেশের মানুষ একটি চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, গোটা দেশের মানুষ তাদের নেতার কাছ থেকে যুদ্ধের ঘোষণার প্রত্যাশা করছিল- সেটা যখন আসলো না, তখন এক সাধারণ মেজর চট্টগ্রাম থেকে হঠাৎ করেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালে যেভাবে এ দেশের গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে, নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে; সে কারণে পাকিস্তানি বর্বরতাকে কখনোই ক্ষমা করতে পারি না।’
এলজিআরডি মন্ত্রী তার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘১৯৪৮ সালে জন্ম নেওয়া একজন মানুষ হিসেবে আমি পাকিস্তানের অংশ ও তাদের শোষণ-বঞ্চনা প্রচুর দেখেছি। একাত্তরের সেই ভয়ংকর যুদ্ধ ও পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতাকে আমি খুব কাছ থেকে একজন সংগঠক হিসেবে দেখেছি। আর সেই কারণেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমার কাছে একজন অনন্য ও ক্ষণজন্মা পুরুষ, যিনি মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন।’
বিএনপি উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি সবসময়ই একটি উদার ও বহুমাত্রিক গণতান্ত্রিক রাজনীতি (লিবারেল ডেমোক্র্যাসি) লালন করে। জিয়াউর রহমানের রাজনীতি ছিল সবাইকে নিয়ে পথ চলার, কোনো বিভাজন সৃষ্টি নয়। একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রকাঠামো ও অর্থনীতির মধ্যে এসে তিনি নতুন কোনো বিভক্তি না করে, সমস্ত রাজনৈতিক চিন্তার দলগুলোকে নিয়ে প্রথমে ফ্রন্ট ও পরে বিএনপি গঠন করেন। রাজনীতির মূল বিষয়টাই ছিল ‘রিকন্সিলিয়েশন’ বা সবাইকে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এই প্রথা তিনিই চালুর করে গেছেন।’
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে কারো শত্রু বানাতে চাননি; এটাই ছিল তার রাজনীতি। বরং সবার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছিলেন, এজন্য তিনি সফল হয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে দেশকে আধিপত্যবাদের বাইরে একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন।’
পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসির জামাল, ডেইলি ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, বিআইপিএসএস-এর সিনিয়র ফেলো শাফাকাত মনির, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ওয়ারেস করিম উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে আর্থিক, সামাজিক ও উৎপাদনশীল খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক চাপে রয়েছে। তবে ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশের অর্থনীতির কিছু সূচকে কিছুটা স্বস্তি এলেও এই স্বস্তিকর অবস্থা বজায় রাখা বা স্থায়িত্বের উপকরণের বেশ ঘাটতি রয়েছে। কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো রয়ে গেছে। নতুন সরকারকে এখন অর্থনীতির এই স্বস্তি স্থায়ীকরণের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর ধানমণ্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি: উত্তরণকালীন সময়ে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এসব কথা বলেছেন।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, চলতি অর্থবছরের শেষ সময়ে এসে দেখা যাচ্ছে আর্থিক খাত, সামাজিক খাত এবং উৎপাদনশীল খাত নানা ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে। এসব চাপ নতুন কোনো ঘটনা নয়; বরং কয়েক বছর ধরেই তা দৃশ্যমান। মূল্যস্ফীতি, সরকারি অর্থায়ন ও ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সংকট ও চাপ বিদ্যমান, তা থেকে এখনো পুরোপুরি উত্তরণ সম্ভব হয়নি।
ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, রাজস্ব আহরণে সরকার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেকখানি পিছিয়ে আছে, তাই আগামীতে এই খাতে বিশেষ জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে দেশের বাজারে মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। দেশের মানুষকে প্রকৃত স্বস্তি দিতে হলে যেকোনো মূল্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।
ব্যাংক খাতের চলমান সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফাহমিদা খাতুন আরো বলেন, দেশের ব্যাংক খাতে এখনো কাঙ্ক্ষিত শৃংখলা ফেরেনি। ফলে ব্যাংকগুলোর ওপর সাধারণ গ্রাহকের আস্থায় বড় ধরনের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। নতুন সরকারকে ব্যাংক খাতে দ্রুত শৃংখলা ও সুশাসন ফেরানোর বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যমান সংকটগুলো আরও ঘনীভূত হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, আইন ও বিধি-বিধানের যথাযথ বাস্তবায়নের অভাব এবং জবাবদিহিতার ঘাটতিও সংকটকে আরও গভীর করছে।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, অর্থনীতির কিছু সূচকে বর্তমানে সাময়িক স্বস্তি দেখা গেলেও সেটিকে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রবণতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, এসব অর্জনকে টেকসই করতে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার ও রূপান্তর এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, অর্থনীতির কিছু ক্ষেত্রে যে আপাত স্বস্তির চিত্র দেখা যাচ্ছে, তার আড়ালে বহু অমীমাংসিত দুর্বলতা রয়ে গেছে। এসব দুর্বলতা দূর করতে কার্যকর নীতি পদক্ষেপ ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সিপিডির এই ব্রিফিংয়ে সংস্থার অন্যান্য গবেষক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা মনে করেন, সামষ্টিক অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর সংস্কার ছাড়া এই সাময়িক স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব নয়।
সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে নিতে চায় বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ হলেও সরকার এটি দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেছেন।
মন্ত্রী জানান, সভায় তিস্তা অববাহিকার সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার দেওয়া হয়েছিল। সেই লক্ষ্য পূরণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ দল কাজ শুরু করেছে এবং আট সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, জনস্বার্থ এবং তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য এই প্রকল্পকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, পৃথিবীর অন্যতম নজিরবিহীন সামরিক শাসনের মধ্য দিয়ে একটি দেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকা আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অন্যতম নজিরবিহীন সামরিক শাসনের মধ্য দিয়ে একটি দেশে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান ও তার আদর্শের সৈনিকরা মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলোর সঙ্গে জিয়াউর রহমানের নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে জাতির সংকটময় সময়ে তিনি সাহসী ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং বিচার বিভাগের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে কাজ করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার ভূমিকা ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচারের রূপরেখা প্রণয়নে জিয়াউর রহমানের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় তিনি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়নের স্বার্থে জিয়ার আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলতুতমিশ সওদাগর অ্যানির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী এবং ঢাকা বারের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খানসহ ঢাকা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পরও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নিয়ে সৃষ্ট আলোচনার জবাবে কোনো জটিলতা দেখছেন না পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি ও দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব একসঙ্গে পালনের নজির অতীতেও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, চাকরি ছাড়া বা ছুটি নেওয়ার বিষয়ে এত ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই, কারণ এর স্পষ্ট নজির রয়েছে। চার দশক আগের একটি উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আজ থেকে ৪০ বছর আগে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং সে সময় তিনি তাঁর ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন। হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী দুই দায়িত্বই সফলভাবে পালন করেছিলেন। ইন্টারনেটপূর্ব যুগেই যদি তা সম্ভব হয়ে থাকে, তবে বর্তমান প্রযুক্তির সময়ে দুটো কাজ একসঙ্গে করা আরও সহজ।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (২ জুন) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থীকে পরাজিত করে বিজয়ী হন খলিলুর রহমান। এর পর থেকেই আলোচনা শুরু হয় যে, তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে বহাল থাকবেন নাকি সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য পদত্যাগ বা ছুটিতে যাবেন।
অবশ্য গত ১৩ মে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনানুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভায় খলিলুর রহমান ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, নির্বাচিত হলে তিনি সবার জন্য নিরপেক্ষ ও পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং প্রয়োজন হলে এক বছরের জন্য ছুটিতে যেতে পারেন।
এসময় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পদত্যাগই একমাত্র পথ নয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে পূর্ণকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য এক বছরের সময় দেওয়ার কথা বলেছেন। আজ আবারও সেই বক্তব্য মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আগেই পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
অনেকের জার্মানির উদাহরণ টানার প্রেক্ষিতে খলিলুর রহমান মন্তব্য করেন যে, জার্মানির যিনি সাধারণ পরিষদের সভাপতি হয়েছিলেন, তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকলেও তাঁর দল নির্বাচনে হেরে যাওয়ায় তিনি মন্ত্রী পদে থাকতে পারেননি, যা একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপট ছিল।
দেশে ফেরা হাজিদের ১৫০টি লাগেজ থেকে মালামাল চুরির অভিযোগকে অসত্য বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেছেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক তদন্তে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ও বডি অন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে কোনো ধরনের মিস হ্যান্ডলিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’
বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত পরশুদিন রাতের বেলা হাজিরা ফিরেছে। যাদের লাগেজগুলো কাটা হয়েছে এবং ১৫০টি লাগেজ থেকে মালামাল চুরি হয়েছে, এ সংক্রান্ত বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীকে ট্যাগ করে। প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশনা প্রদান করেন।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রায়শই এ রকম সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করা হয়, যেটা আপনাদের সহযোগিতায় আমরা তার সত্যতা যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদটি পরিবেশন আপনাদের মাধ্যমেই করতে পারি। এবং তাতে করে বিভ্রান্তি নিরসন হয়। সে পরিপ্রেক্ষিতে আমরা একটা বিবৃতি আপনাদের দিতে চাই, সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে সিসিটিভি ও বডি অন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘তদন্তে দেখা গেছে মোট ৮৩৬টি লাগেজের মধ্যে ২১টি ব্যাগ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে এটি কোনো চুরি বা ইচ্ছাকৃত মিসহ্যান্ডলিংয়ের কারণে ঘটেছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী কোনো হাজি বা যাত্রী মূল চেকিং লাগেজের ভেতরে কোনো অবস্থাতেই জমজমের পানি বা যথাযথ সিলগালা না করে লিকুইড প্রসাধন সামগ্রী বহন করতে পারবেন না। এটা একটা নিয়ম। লাগেজ স্ক্যানিংয়ের সময় ধরা পড়লে নিয়ম অনুযায়ী বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ লাগেজ কেটে বা খুলে তা বাজেয়াপ্ত করে থাকে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ডিক্লারেশন ব্যতীত নগদ টাকা বা মানিব্যাগ বুকিং লাগেজে দেওয়া নিষিদ্ধ। ঢাকা বিমানবন্দরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে কোনো ধরনের মিসহ্যান্ডলিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’
তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যটি বিভ্রান্তিকর এবং জনমনে ভুল ধারণা তৈরি করেছে। সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা বিষয়টি দ্রুত যাচাই করে সঠিক তথ্য প্রকাশ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ঈদুল আজহায় দেশে মোট ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
এ সময় বিভাগভিত্তিক কোরবানির ব্যাপারে জানানো হয়, ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক ২৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৬টি পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ১৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫টি, ছাগল ও ভেড়া ৯ লাখ ৮২ হাজার ১০৭টি এবং অন্যান্য পশু ৫৫৪টি। চট্টগ্রাম বিভাগে কোরবানি হয়েছে ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ২৫টি পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ১২ লাখ ১৮ হাজার ৬৭২টি, ছাগল ও ভেড়া ৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৯২টি এবং অন্যান্য পশু ৩৬১টি।
রাজশাহী বিভাগে ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৮৬৯টি পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ৭ লাখ ৯৬ হাজার ১২১টি, ছাগল ও ভেড়া ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৭০৬টি এবং অন্যান্য পশু ৪২টি। খুলনা বিভাগে কোরবানি হয়েছে ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৫টি পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ২ লাখ ৮৩ হাজার ১৯২টি, ছাগল ও ভেড়া ৫ লাখ ৬২ হাজার ৭৮৬টি এবং অন্যান্য পশু ২৭টি।
বরিশাল বিভাগে কোরবানি হয়েছে ৪ লাখ ১৬০টি পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ২ লাখ ৯০ হাজার ৩৯৮টি এবং ছাগল ও ভেড়া ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬২টি। ময়মনসিংহ বিভাগে কোরবানি হয়েছে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮১৮টি পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৪১টি, ছাগল ও ভেড়া ১ লাখ ৪১ হাজার ১৫৪টি এবং অন্যান্য পশু ২৩টি।
রংপুর বিভাগে কোরবানি হয়েছে ১০ লাখ ৫০ হাজার ৫৫৪টি পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৮৮টি, ছাগল ও ভেড়া ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫৮টি এবং অন্যান্য পশু ৮টি। আর সিলেট বিভাগে কোরবানি হয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৩২১টি পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৪১টি, ছাগল ও ভেড়া ৯০ হাজার ২৬৮টি এবং অন্যান্য পশু ১২টি।
এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক কোরবানি হয়েছে ২৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৬টি পশু, যা দেশের মোট কোরবানি একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। রাজশাহী বিভাগে ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৮৬৯টি পশু কোরবানি হয়েছে, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। চট্টগ্রাম বিভাগে কোরবানি হয়েছে ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ২৫টি পশু, যা তৃতীয় সর্বোচ্চ।
গরু ও মহিষ কোরবানির ক্ষেত্রে ঢাকা বিভাগ শীর্ষে। ছাগল ও ভেড়া কোরবানির ক্ষেত্রে রাজশাহী বিভাগ সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা ছিল ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি এবং প্রাপ্যতা ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এ বছর জবাইকৃত পশুর সংখ্যা ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি এবং উদ্বৃত্ত ছিল ২৯ লাখ ৬৬ হাজার ৪২২টি।
গত বুধবার (৩ জুন) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ)-এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম।
ইতোমধ্যে তিনি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য নিরাপত্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ ছাড়া তিনি মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কিশোরগঞ্জ ও রাজবাড়ী জেলাসহ অন্যান্য জেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন।
মুহিদুল ইসলাম জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের বিশ্ব নৌ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ)-এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব মোঃ মুহিদুল ইসলাম।
অদ্য ০৩/০৬/২০২৬ খ্রি. তারিখে তিনি যোগদান করেন।
ইতোপূর্বে তিনি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য নিরাপত্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কিশোরগঞ্জ ও রাজবাড়ী জেলাসহ অন্যান্য জেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন।
জনাব মোঃ মুহিদুল ইসলাম জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের বিশ্ব নৌ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেছেন।
দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের ১০টি অপচেষ্টা সফলভাবে রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ২৪ ঘণ্টায় বিজিবির কঠোর অবস্থান ও নিয়মিত টহলের মুখে এই অনুপ্রবেশ চেষ্টার সবগুলোই ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবি সদর দপ্তর জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং অপারেশনাল কার্যক্রম আগের চেয়ে আরও জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যদের এই দৃঢ় অবস্থানের ফলে সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।
বিজিবির পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধীন যাদবপুর সীমান্ত দিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবির বাধার মুখে তারা পুনরায় ভারতে ফিরে যায়। একই এলাকায় বিএসএফের একটি প্রিজন ভ্যানে করে প্রায় ৩০-৩৫ জন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা ও বিজিবি সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করে। এছাড়া যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর এবং জয়পুরহাটের কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক লোক জড়ো করে পুশইনের যাবতীয় আয়োজন বিজিবির সতর্কতামূলক অবস্থানের কারণে ভেস্তে গেছে।
সীমান্তের বিভিন্ন অংশে বিএসএফের স্থাপিত ‘হোল্ডিং সেন্টার’গুলোতে অনেক মানুষকে আটকে রেখে বাংলাদেশে পাঠানোর খবর পাওয়া গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্তের বিপরীতে প্রায় ২২ জন এবং নেত্রকোনার কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ১৫-২০ জন ব্যক্তিকে পুশইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করার তথ্য পেয়েছে বিজিবির গোয়েন্দা শাখা। বিশেষ করে নেত্রকোনার একটি অংশে প্রাকৃতিক কারণে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় সেখানে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। অন্যদিকে পঞ্চগড়ের রওশনপুর ও সিলেটের উৎমাছড়া সীমান্তেও অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হলে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সহায়তায় তাদের শনাক্ত করে পুনরায় ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বিএসএফ দুইজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে বিজিবিকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা বার্তা পাঠানো হয়নি। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার আলোকে কাজ করার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া অনুপ্রবেশের যে-কোনো প্রচেষ্টাকে কঠোরভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে বাহিনীটি।
বিজিবি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থি যে-কোনো কার্যক্রম রুখে দিতে তারা বদ্ধপরিকর। সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি বর্তমানে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে এবং যে-কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে সদা জাগ্রত রয়েছেন। স্থানীয় জনগণের সহায়তায় সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
দেশের স্বাস্থ্য খাতের চালচিত্রটি সবসময়ই যেন এক চরম বৈপরীত্যের গল্প। একদিকে সরকারি হাসপাতালের সীমিত খরচের সেবায় সাধারণ মানুষের অবহেলার অন্তহীন দীর্ঘশ্বাস, অন্যদিকে বেসরকারি চিকিৎসার সুরম্য ভবনে পকেট খালি হওয়া চড়া মূল্য। এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট দেশের বৃহৎজনগোষ্ঠী। তবে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন বেশি বাধাগ্রস্ত হয়েছে ইউনূসের নেতৃত্বধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও সেবার মানোন্নয়নের পরিবর্তে আলোচনায় ছিল প্রশাসনিক অচলাবস্থা, চিকিৎসকদের অসন্তোষ এবং নীতিগত দুর্বলতা।
বিশেষ করে সময়মত টিকা সরবরাহে ব্যর্থতার কারণে দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, ঘটছে মৃত্যু। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও জনবল সংকট, ওষুধ ও যন্ত্রপাতির অভাব এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও ছিল প্রকট। এসব সংকট কাটাতে স্বাস্থ্য খাতে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পরিবর্তনের রূপরেখা তৈরি করেছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার দিয়ে এক বিশাল সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষজ্ঞনির্ভর চিকিৎসা, প্রাথমিক চিকিৎসা উপেক্ষা করে বিশেষজ্ঞের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, স্বচ্ছতার অভাব ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের মনোবলহীনতায় ইউনূসের আমলে স্বাস্থ্য খাতে বিপর্যয় নেমে আসে। সংস্কার বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলায় ঘাটতি এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আমূল পরিবর্তনেও ছিল ধীরগতি। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে ৩৩টি জরুরি সুপারিশের মধ্যে মাত্র ৬টি বাস্তবায়ন হওয়ায় খাতটি চরমভাবে ধুঁকছে। এখন এই দুর্বল খাতটিকে টেনে তুলতে গিয়ে হিমসিম অবস্থা বর্তমান সরকারের।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাস্থ্যের ১৪টি খাতে অর্থ বরাদ্দ হয় অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) মাধ্যমে। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের বছর ২০২৪ সালেই ওপি থেকে বেরিয়ে আসে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে স্বাস্থ্যের সব উন্নয়নমূলক কাজে স্থবিরতা নেমে আসে। ফলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগ নিয়ন্ত্রণ, টিকাদান, পুষ্টিসহ ৩৭টির বেশি কর্মসূচি ব্যাহত হয়।
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ মাত্র ৫ শতাংশ: জনস্বাস্থ্যবিদরা আশা করেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। জাতীয় বাজেটের ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয় স্বাস্থ্য খাতে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সেবা খাতে কোনো সফলতাই দেখাতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। তবে বর্তমান সরকার ভঙ্গুর স্বাস্থ্যখাতকে টেনে তুলছে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) ৩ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে। এই এডিপিতে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট প্রায় দ্বিগুণ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল মাত্র ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা।
মোট এডিপির ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ এ খাতে বরাদ্দ দিয়ে পরিবহন ও যোগাযোগ এবং শিক্ষা খাতের পর স্বাস্থ্যকে রাখা হয়েছে তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে। এই বিশাল বরাদ্দের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ পাবে ২৬ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ পাবে ৮ হাজার ২২১ কোটি টাকা। বাকি ৫০৩ কোটি টাকা অন্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ব্যয় হবে। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, আগামীতে মোট বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ অন্তত ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে গ্রামীণ অবকাঠামোয় বড় ধরনের সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের ৫০ শয্যার ৪৯২টি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আটটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হয়েছে। বাকি হাসপাতালগুলোর অবকাঠামোগত প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করবে গণপূর্ত বিভাগ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেবে।
প্রধানমন্ত্রী এসব হাসপাতালে প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, গ্রামীণ পর্যায়ে থেরাপি ও পুনর্বাসন সেবা জোরদার করতে এই হাসপাতালগুলোর প্রতিটিতে দুজন করে ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগ দেওয়া হবে।
দেশের শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর—এই চার বিভাগীয় শহর এবং কুমিল্লা জেলা সদরে মোট পাঁচটি নতুন শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। এই বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে প্রতিটির জন্য ১ হাজার ৪৭৫ জন করে নতুন জনবল প্রয়োজন হবে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে এই বিশাল জনবল দ্রুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
শুধু অবকাঠামো উন্নয়নই নয়, স্বাস্থ্যসেবার কার্যকারিতা বাড়াতে মাঠপর্যায়ে একটি অভূতপূর্ব প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ ও কমিউনিটি ক্লিনিক মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কর্মী আলাদা আলাদা কাঠামোয় কাজ করছেন। এর ফলে সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে—একই এলাকায় একাধিকবার সেবা পৌঁছালেও কিছু দুর্গম এলাকা পুরোপুরি সেবার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
এই সেবা পুনরাবৃত্তি বা ‘ডুপ্লিকেশন’ দূর করতে এবার পুরো মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য কার্যক্রমকে একটি একক সমন্বিত কাঠামোর অধীনে আনা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার আওতায় বর্তমানের ৪০ হাজার কর্মীর সাথে আরও অতিরিক্ত ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। ফলে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার কর্মী একই ছাতার নিচে এসে কাজ করবেন। একীভূত এই ব্যবস্থায় সবার জন্য অভিন্ন দায়িত্ববণ্টন (জব ডেসক্রিপশন) ও একটি মানসম্মত ‘এসেনসিয়াল সার্ভিস প্যাকেজ’ চালু করা হবে, যাতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—সব জায়গায় সেবার মানে একরূপতা বজায় থাকে।
ভবিষ্যতে শুধু জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হবে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ নিজ উদ্যোগে গর্ভনিরোধক ব্যবহার করেন, যা মাঠকর্মীদের সমন্বিত প্রচারণার মাধ্যমে ৭০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।
বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা ও পরিকল্পনা যতটাই আকর্ষণীয় হোক না কেন, তা মাঠপর্যায়ে কতটা বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মনে সংশয় রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, ‘বছর শেষে একটা সংশোধিত বাজেট করা হয়। সংশোধিত বাজেটে দেখা যায়, শুরুতে যেটা ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, সেটা শেষ পর্যন্ত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে যায়। ফলে মাঠপর্যায়ে সেই অর্থের পুরোটা পৌঁছায় না।’
বরাদ্দ অর্থ সময়মতো এবং দক্ষতার সাথে ব্যবহার করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনাহীন কাজের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব এবং কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ করব যে এই বাড়তি বরাদ্দ সঠিকভাবে ব্যয় করা সম্ভব।’ ড. মুহিতও একমত পোষণ করে জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে রিয়েল-টাইম তথ্য সংগ্রহ ও স্থানীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা জোরদার করে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে।
৩৫ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল উন্নয়ন বাজেট এবং মাঠপর্যায়ের কাঠামোগত সংস্কার যদি সততা ও দক্ষতার সাথে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য পকেট খালি হওয়ার দীর্ঘশ্বাস অনেকটাই কমে আসবে। স্বাস্থ্য খাতের এই মহাসড়ক যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের প্রকৃত মুক্তির পথ হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।