‘খরচপাতির’ কথা বলে বাংলা একাডেমি থেকে বিনা মূল্যে বইমেলায় তিনটি খাবারের দোকান বরাদ্দ নিয়ে সাড়ে তেরো লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে শাহবাগ থানার পুলিশ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বলছে, তারা খাবারের কোনো দোকান নেননি। আর বাংলা একাডেমি বলছে, খরচপাতির কথা বলে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ বিনা মূল্যে তিনটি দোকান নিয়েছে।
হাত-খরচের কথা বলে ছাত্রলীগ একটি আর বইমেলায় স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোলরুম তৈরির খরচ এবং এখানে আসা পুলিশ কর্মকর্তাদের আপ্যায়ন খরচের কথা বলে শাহবাগ থানার পুলিশ দুটি খাবারের দোকান বিনা মূল্যে বরাদ্দ নিয়েছে।
বাংলা একাডেমি থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, বইমেলায় আসা দর্শনার্থীদের খাবারের চাহিদা মেটাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের শেষ প্রান্তে একজন ব্যক্তি ও ১৬টি প্রতিষ্ঠানকে ২১টি খাবারের দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে পাঁচটি দোকান।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ছাত্রলীগ, কালীমন্দির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং শাহবাগ থানার পুলিশ। এর মধ্যে শাহবাগ থানার পুলিশ পেয়েছে দুটি দোকান বরাদ্দ।
ছাত্রলীগকে দেওয়া ৮ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে মেহেদী হাসানের নামে, কালীমন্দিরকে দেওয়া ১৫ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে কালীমন্দিরের নামেই, ডিএমপিকে দেওয়া ১৭ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে মেট্রো মেকার্সের নামে আর শাহবাগ থানাকে দেওয়া হয়েছে ২০ এবং ২১ নম্বর দোকান দুটি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ছাত্রলীগকে দেওয়া ৮ নম্বর দোকানটি বর্তমানে পরিচালনা করছে উজ্জল নামের একজন। তিনি কিনে নিয়েছেন আড়াই লাখ টাকায়। উজ্জল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, থাকেন কবি জসিমউদ্দীন হলের ২১৯ নম্বর রুমে।
আর শাহবাগ থানা-পুলিশের নামে বরাদ্দ হওয়া দোকান দুটি পরিচালনা করছে বিল্লাল নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি কিনে নিয়েছেন ১১ লাখ টাকায়। দোকানে থাকা ম্যানেজার শাহীন এবং সাব্বির টাকার অঙ্কের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেটে বিল্লালের ব্যবসা আছে। গত বছরও তিনি শাহবাগ থানার নামে বরাদ্দ হওয়া দোকান দুটি কিনে নিয়েছিলেন। এত টাকায় কিনে নেওয়ার কারণ হিসেবে জানা যায়, প্রতিবছর বাংলা একাডেমির খাবারের দোকানগুলোর দাম একটু বেশি থাকে। কিন্তু এ বছর সেটি কমানো হয়েছে। কিন্তু এর আগেই গত বছরের দামে শাহবাগ থানা-পুলিশের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলে বিল্লাল। এ ছাড়া পুলিশের দোকান হলে একটু অতিরিক্ত সুবিধাও পাওয়া যায়। অন্য দোকানগুলোর নির্দিষ্ট জায়গা থাকলেও এই দুটি দোকানের থাকে না কোনো নির্দিষ্ট সীমানা। যতটুকু ইচ্ছা জায়গা নিজের করে নেওয়া যায়।
বিষয়টি স্বীকারও করেছেন বইমেলার খাবার-সংশ্লিষ্ট স্টল এবং মোবাইল ফোন টাওয়ারের স্থান বরাদ্দ ও তত্ত্বাবধান কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসান কবীর।
তবে বিনা মূল্যে খাবারের স্টল নেওয়া এবং ১১ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেননি শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাজিরুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা একাডেমি থেকে খাবারের কোনো দোকান নেইনি। আর বিক্রির তো প্রশ্নই আসে না।’
ছাত্রলীগকে বিনা মূল্যে খাবারের দোকান বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে কথা হয় বাংলা একাডেমির হিসাবরক্ষণ ও বাজেট উপ-বিভাগের উপপরিচালক কামাল উদ্দীন আহমেদের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগকে এই দোকান দেওয়ার বিষয়ে শয়ন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন) সাহেবের সঙ্গেও কথা হয়েছে। সাদ্দাম (কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন) সাহেবও জানে। এই স্টল নেওয়ার জন্য একটা পক্ষ এসেছিল। এরপর তাদের উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতিকে ফোন দেওয়া হয়েছিল, এ সময় সাদ্দাম সাহেবকেও ফোন দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা নেওয়ার পর যদি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগও আলাদা দোকান বরাদ্দ চায় তখন তো ঝামেলা হয়ে যাবে। এ জন্য দুজনের সঙ্গেই কথা বলে শুধু একটা দোকান দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রলীগকে কেন বিনা মূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে ‘খাবার ও সংশ্লিষ্ট স্টল এবং মোবাইল ফোন টাওয়ারের স্থান বরাদ্দ ও তত্ত্বাবধান কমিটির’ আহ্বায়ক মো. হাসান কবীর বলেন, দেশ চালায় কারা? পুলিশ আর ছাত্রলীগই তো চালায়। তাদের সমীহ করতে হবে না। তাদের আমরা অনেক কিছু দেইনি। একটা স্টল দিয়েছি।’
হাসান কবীর বলেন, তারা (ছাত্রলীগ) আমাদের বলেছে, ‘আমরা ছাত্র মানুষ। আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। আমাদের হাত খরচ লাগে। তখন আমরা বলেছি, তাহলে আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্র বা লোকাল যেই নামে আসেন না কেন আমরা শুধু একটা স্টলই দিতে পারব। তাদের এও বলেছি, আপনারা দায়িত্ব নেন, ছাত্রলীগের নামে যেন আর কেউ না আসে। তারা আমাদের আশ্বস্ত করে বলেছে, কেউই আসবে না। তারা এটি নিয়ন্ত্রণ করবে।’
খাবারের স্টল নেওয়ার বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘এটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। আর এটি করারও কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একমাত্র স্টল মাতৃভূমি প্রকাশনা স্টল। এটিকে কেন্দ্র করেই যে আড্ডা বইমেলায় এটিই আমাদের একমাত্র কর্মসূচি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবীর শয়ন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার মন্তব্য হলো, আমার জানা নেই।’
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান বলেন, বইমেলায় ছাত্রলীগের খাবারের স্টল থাকার প্রশ্নই আসে না। এগুলোর সঙ্গে কারও যুক্ত থাকার কোনো সুযোগ বা অবকাশও নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে এগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকলে সেটার দায় ছাত্রলীগ নেবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ‘বাংলা একাডেমি থেকে আমি কোনো খাবারের স্টল নেইনি, এটা কনফার্ম। এগুলো আমার রাজনৈতিক শিক্ষার মধ্যে পড়ে না। তবে আমার প্রেসিডেন্ট (মাজহারুল কবীর শয়ন) নিয়েছে কি না, সেটা আমি বলতে পারব না।’
দোকান বরাদ্দ পেয়েছে পরিচালকের বউ এবং একাডেমির এক কর্মকর্তাও।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বইমেলায় দুটি খাবারের দোকান বরাদ্দ পেয়েছেন একাডেমির গ্রন্থাগার বিভাগের পরিচালক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেনের স্ত্রী শারমিন সুলতানা শর্মী আর একটি পেয়েছেন একাডেমির হেড ইলেকট্রিশিয়ান আলী হোসেন। তবে টাকা দিয়েই এই স্টল তিনটি নিয়েছেন তারা। শর্মী নড়াইল পিঠাঘরের নামে দুটি দোকান পরিচালনা করছেন আর মোহাম্মদ আলী টিএফসি নামে দোকান পরিচালনা করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা একাডেমির এক কর্মকর্তা বলেন, নিজের বউয়ের নামে স্টল বরাদ্দ নিতে শাহাদাৎ হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। আর মোহাম্মদ আলী তথ্য গোপন করে এই স্টলটি নিয়েছেন। বাইরের কাউকে দিলে ভালো দামে এই দোকান তিনটি বরাদ্দ দেওয়া যেত। কিন্তু তারা কম দামে নেওয়ায় বাংলা একাডেমিই লাভবান হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলো।
পরিচালকের বউকে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে হাসান কবীর বলেন, এই স্টলটা মূলত আমাদের এক পরিচালক তার এক আত্মীয়কে দিতে বলেছেন। তাই এটা তার আত্মীয়কে দেওয়া হয়েছে।
যাকে ‘আত্মীয়’ বলা হচ্ছে তিনি পরিচালকের ‘স্ত্রী’ জানালে তিনি বলেন, ‘এটা আমি মাত্রই শুনেছি। আত্মীয়ের কথা বলেই এটা নেওয়া হয়েছে।’
আলী হোসেনের দোকান নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি হতেই পারে না। আমি খোঁজ নিচ্ছি।’
জ্বালানি তেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে আরও তিনটি জাহাজ। বুধবার (১৫ এপ্রিল) এসব জাহাজ থেকে তেল খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে জাহাজ তিনটি সিঙ্গাপুর থেকে জেট ফুয়েল ও ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সহকারী ব্যবস্থাপক (গণ-সংযোগ) ফারজিন হাসান মৌমিতা জানান, তিনটি জাহাজের মধ্যে ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেডের সরবরাহ করা ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ জাহাজে রয়েছে ১১ হাজার টন জেট ফুয়েল। বাকি দুটি জাহাজের মধ্যে ‘এমটি টর্ম দামিনি’ জাহাজে রয়েছে প্রায় ৩২ হাজার টন ডিজেল, যা সরবরাহ করেছে ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড। আর ‘এমটি লুসিয়া সলিস’ নামক অপর জাহাজে করে এসেছে প্রায় ৩৪ হাজার টন ডিজেল। এটির সরবরাহকারী কোম্পানি সিঙ্গাপুরভিত্তিক ভিটল এশিয়া। বর্তমানে তিন জাহাজ থেকেই জ্বালানি তেল খালাস কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বন্দর কর্মকর্তা ও শিপিং এজেন্টরা জানান, ডিজেলবাহী জাহাজ দুটির একটি আংশিক খালাস শেষে গতকাল বুধবার বন্দরের পতেঙ্গার ডলফিন জেটির দিকে রওনা হয়েছে। অন্য জাহাজটি আজ বৃহস্পতিবার জেটিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
চলতি এপ্রিল মাসে ভারত থেকে বাংলাদেশে আরো ১৭ হাজার মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছেছে। আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে এই ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশন) কাজী মো. রবিউল আলম জানিয়েছেন, এপ্রিল মাসে মোট ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে ৮ হাজার টন পৌঁছেছে এবং আজ আরো ৫ হাজার টন ডিজেল পাম্পিং শুরু হবে। পাম্পিং শুরু হলে ৪-৫ দিনের মধ্যে ৫ হাজার টনের পুরো চালান পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ভারত থেকে পরিশোধিত ডিজেল আমদানি একটি চলমান প্রক্রিয়া। পাম্পিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে পর্যায়ক্রমে পুরো চালান দেশে পৌঁছাবে এবং পরবর্তী পাম্পিং দ্রুত শুরু করা হবে। এপ্রিল মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ ২৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে পৌঁছাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বর্তমানে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরবরাহ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক রয়েছে। ফলে কোনো ধরনের সংকটের আশঙ্কা নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৫ হাজার টন আসার পর পরবর্তী দুই ধাপে ৭ হাজার ও ৫ হাজার টন করে ডিজেল আমদানি করা হবে।
বাংলাদেশ পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) থেকে ‘সুপারনিউমারারি পদোন্নতি’ পাওয়া অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার ১৭ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (পুলিশ-১ শাখা) তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শিল্পাঞ্চল পুলিশের মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনকে পিবিআইয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। কামরুল হাসান মাহমুদকে এসবিতে অতিরিক্ত ডিআইজি, তোফায়েল আহমেদকে আরপিএমপিতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং সুফিয়ান আহমেদকে ডিএমপিতে যুগ্ম কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
এছাড়া মুহাম্মদ বাছির উদ্দিনকে সিআইডিতে, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে এসবিতে এবং হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়াকে সিএমপিতে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মাহবুবুল করিমকে পুলিশ সদর দপ্তরে, আল মামুনকে আরএমপিতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং মোহা. আসাদুজ্জামানকে পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া মোহাম্মদ আনিছুর রহমানকে এসবিতে, ড. আ ক ম আকতারুজ্জামান বসুনিয়াকে পুলিশ সদরদপ্তরে, মো. জাহাঙ্গীর আলমকে পুলিশ সদরদপ্তরে এবং মোহাম্মদ হায়াতুন নবীকে সিআইডিতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পুলিশ সদর দপ্তরে, আফরোজা পারভীনকে পুলিশ স্টাফ কলেজে এবং তোফায়েল আহমেদ মিয়াকে রেলওয়ে পুলিশে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা এবং ভারতীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করেছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানিয়েছেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জনের নাম বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
মন্ত্রী বলেন, অমুক্তিযোদ্ধা শনাক্তকরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনেক ব্যক্তি ভুয়া তথ্য দিয়ে ভারতের তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন; যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ৮৪২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে তদন্ত শেষে ৪৮১ জনের নাম বাতিলের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছে, যা গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা এবং ভারতীয় তালিকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
সংসদে মন্ত্রী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত ও শুনানি পরিচালনা করে জামুকার উপকমিটি। কোনো ব্যক্তি অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হলে তার সনদ ও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করা হয়।
রংপুর-৪সহ দেশের যেকোনো এলাকার ক্ষেত্রে একই প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তালিকা আরও স্বচ্ছ করার কাজ চলমান থাকবে।
এর আগে, জামুকা প্রতিষ্ঠার পর ধাপে ধাপে মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জনকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যার একটি বড় অংশ ভারতীয় তালিকার অপব্যবহারকারী।
সংবিধান সংশোধনের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করে সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সংবিধান সংশোধন একটি প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এবং এ বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। বিরোধী দলের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকলেও তা মূলত সংশোধনের পদ্ধতি নির্ধারণকে কেন্দ্র করেই হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনের বিরতির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়েছে, যা প্রমাণ করে কেউই জবাবদিহিতার বাইরে নন।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজতে কাজ করছে এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। কর্মমুখী শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চিফ হুইপ বলেন, শিক্ষার্থীদের ইংরেজিকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সশস্ত্র বাহিনী প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকার বাহিনীকে রাজনীতিকরণ করেছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
গণমাধ্যমের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় ধরনের সংবাদই প্রকাশ করা উচিত। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ হওয়ার খবর প্রচারিত হলেও তেলবাহী জাহাজ বন্দরে আসার বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি।
সবশেষে তিনি বলেন, কিছু বিষয়ে মতানৈক্য থাকলেও সংবিধান সংশোধনে রাজনৈতিক ঐকমত্য খুব বেশি দূরে নয়।
আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম-এর ‘বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তি’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্থান, দীর্ঘ নির্বাসন শেষে প্রত্যাবর্তন এবং জাতীয় নেতৃত্বে তার ভূমিকার কারণে এই স্বীকৃতি এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
টাইম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—কয়েক মাস আগেও লন্ডনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন ৫৭ বছর বয়সি তারেক রহমান। কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আনে। সেই প্রেক্ষাপটে বিরোধী আন্দোলনের মুখ থেকে তিনি দ্রুত জাতীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রে উঠে আসেন।
এরই ধারাবাহিকতায়, প্রায় ১৭ বছর দেশের বাইরে থাকার পর দেশে ফিরে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বড় ধরনের বিজয় অর্জন করেন তারেক রহমান। এই বিজয়ের মাধ্যমে তিনি তার মা, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার অনুসরণ করেন। তবে দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিন পরই খালেদা জিয়ার মৃত্যু তাকে ব্যক্তিগতভাবে গভীর শোকের মধ্যে ফেলে।
টাইমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, ব্যক্তিগত শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে দেশের মানুষকে তিনি ঐক্যবদ্ধ করতে চান। প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন মানুষের এই দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, তরুণদের বেকারত্ব এবং আঞ্চলিক শক্তি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি—এসব চ্যালেঞ্জ দ্রুত সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে অতীতের দুর্নীতির অভিযোগ (যেগুলো পরবর্তীতে আদালতে খারিজ হয়েছে) তার নেতৃত্বের শুরুটা কিছুটা কঠিন করে তুলতে পারে বলেও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। তবুও দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে দূরে থাকার পর তিনি আর সময় নষ্ট করতে চান না বলে জানান।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে—যাতে মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার ভোগ করতে পারে।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মহামারি রূপে ধারণ করার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত মার্চ মাস থেকে সংক্রমণের হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৬ জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এক মাসে হাম সন্দেহে এবং নিশ্চিত হামে ১৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ অবস্থায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত ও যথাযথ বহুমুখী পদক্ষেপ না নিলে এটি বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একটি শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি দুই শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। একই সময় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৬৬ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৬ জনের। এছাড়া ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ১৬১ জন। এসময় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৭৬ জন, ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা দুই হাজার ৯৭৩ জন।
বিগত বছরগুলোর চিত্র: এশিয়া অঞ্চলের অন্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে হাম ও রুবেলা ভাইরাস নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০২২ সালে প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় হামের সংক্রমণের হার ছিল ১ দশমিক ৪১, ২০২৩ সালে ১ দশমিক ৬০, ২০২৪ সালে ১ দশমিক ৪৩ এবং ২০২৫ সালে শূন্য দশমিক ৭২। কিন্তু বর্তমানে এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে। লক্ষ্যমাত্রার বছরেই এমন ভয়াবহ সংক্রমণ জনমনে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
টিকাদানের পরিসংখ্যান: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে এমআর-১ টিকার কভারেজ ছিল ৮৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং এমআর-২ ছিল ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১৮ সালে তা ছিল যথাক্রমে ৮৬ দশমিক ৪ ও ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৯ সালে ৮৮ দশমিক ১ ও ৮৬ দশমিক ১ শতাংশ, ২০২০ সালে ৮১ দশমিক ৭ ও ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ।
২০২১ সালে এই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৯৭ দশমিক ৩ ও ৯৪ দশমিক ৮ শতাংশে। ২০২২ সালে এমআর-১ শতভাগ এবং এমআর-২ ছিল ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও কভারেজ ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে ছিল।
তবে ২০২৫ সালে টিকাদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ওই বছর এমআর-১ টিকার কভারেজ নেমে আসে ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশে এবং এমআর-২ দাঁড়ায় ৫৭ দশমিক ১ শতাংশে। ফলে প্রায় ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন কভারেজ।
দেশে প্রতি চার বছর অন্তর হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়। তবে ২০২০ সালের করোনা মহামারি, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং চলতি বছরের শুরুতে নতুন সরকারের নির্বাচন; এসব কারণে টিকাদান কার্যক্রম সময়মতো সম্পন্ন হয়নি।
সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ: বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানে ব্যত্যয়ই হামের প্রকোপ বৃদ্ধির প্রধান কারণ। আগে যেখানে ৯৭-৯৮ শতাংশ শিশু টিকার আওতায় ছিল, সেখানে গত প্রায় ১৮ মাস ধরে এই হার ৬০ শতাংশের নিচে নেমে আসে। ফলে হার্ড ইমিউনিটি ভেঙে পড়ে এবং সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। বছরে দুবার হওয়ার কথা থাকলেও গত দুই বছরে এটি মাত্র দুবার হয়েছে। ভিটামিন ‘এ’ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এছাড়া অপুষ্টিও বড় একটি কারণ। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তারা সহজেই সংক্রমিত হয়। বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু অপুষ্টির শিকার বলে জানা গেছে।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, করোনার সময় মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। অনেক শিশু সময়মতো টিকা পায়নি। পরবর্তীতে গণটিকাদান কার্যক্রমও বন্ধ থাকায় টিকাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকে, যা চলতি বছরে হামের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। শিশুরা টিকা না পাওয়ায় এটি মহামারি আকার ধারণ করেছে। যেকোনো সংক্রমণ যখন অতিরিক্ত হয়ে যায়, ভাইরাস মারাত্মক শক্তি ধারণ করে।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, প্রাথমিক পর্যায়েই আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশন করা হলে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা যেত। টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ ও জনবল সংকটসহ একাধিক কারণ একত্রে কাজ করেছে।
মহামারি কি না : বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো রোগের স্বাভাবিক সংক্রমণ হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে তাকে মহামারি বলা হয়। যেমন, কোনো একটি অঞ্চলে সাধারণত প্রতি বছর কোনো রোগে যতজন মানুষ আক্রান্ত হয়, হঠাৎ করে যদি একই সময়ে সেই সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়, তখন সেটাকে মহামারি বলা হয়। যেমন ঢাকা বিভাগে বা বাংলাদেশে যদি প্রতি বছর ১০০ জন হাম রোগী থাকে, আর কোনো বছরে হঠাৎ তা বেড়ে ৫০০ জনে পৌঁছে যায়, তাহলে সেটিকে মহামারি বলা হয়।
ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, মানুষ ভয় পাবে বলে এখন মহামারি শব্দটা ব্যাবহার করা হচ্ছে না।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ১৫-২০ বছরে বাংলাদেশে এত সংখ্যক মানুষ হামে আক্রান্ত হয়নি এবং মৃত্যুও এত হয়নি। চলতি বছর হামের প্রকোপ অনেক বেড়েছে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী এটি মহামারি হিসেবে বিবেচনা করা যায়। দেশে হামের মহামারি শুরু হয়ে গেছে।
প্রতিরোধে করণীয়: বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সময়ের মধ্যে সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা এখন সবচেয়ে জরুরি। আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রাখা, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, হাম হলে বাচ্চারা খুব দুর্বল হয়ে যায়। তাদের মধ্য থেকেই অনেকের মৃত্যু হয়। ফলে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও শিশুকে একটা নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। করোনাভাইরাসের সময় আমরা যেখানে একটা টাইমলাইন মেনে চলতাম, ঠিক সেভাবেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কোনো শিশুর মৃত্যু যেন না হয় তা নিশ্চিত করা। এজন্য চিকিৎসার মান উন্নয়ন জরুরি। অর্থাৎ হামের চিকিৎসায় জোর দিতে হবে। আমাদের চিকিৎসায় ঘাটতি রয়েছে। এখন যে পরিমাণ রোগী ভর্তি হচ্ছে, তাতে আগামী চার থেকে আট সপ্তাহ এই পরিস্থিতি চলমান থাকা অস্বাভাবিক নয়। চিকিৎসা যদি উন্নত না হয়, তাহলে প্রতিদিন এভাবে আমাদের শিশুদের মৃত্যু মেনে নিতে হবে।
এই জনস্বাস্থ্যবিদ আরও বলেন, গাইডলাইনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধসহ চিকিৎসার সব উপকরণ সব হাসপাতালে সরবরাহ করতে হবে। টিকাদান কার্যক্রম চলছে, সেটি ভালো উদ্যোগ। তবে সেই টিকাদানেও কিছু ঘাটতি রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত এসব পদক্ষেপ নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিতে হবে।
বিশ্বে পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি হয়েছে। হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স-এর প্রকাশিত ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, আগের ৯৩তম অবস্থান থেকে দুই ধাপ পিছিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৫তম।
প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশের সাধারণ পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে আগাম ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ৩৬টি দেশে যাতায়াত করতে পারবেন। এর মধ্যে কিছু দেশে সরাসরি ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার এবং কিছু দেশে অন-অ্যারাইভাল বা বিমানবন্দরে নামার পর ভিসার সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে যাত্রার আগে ই-ভিসা সংগ্রহ করতে হবে।
বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণের তালিকায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে— ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, কম্বোডিয়া, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, সেশেলস, ফিজি এবং জ্যামাইকা। এছাড়াও বার্বাডোজ, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, বুরুন্ডি, কেপ ভার্দ আইল্যান্ডস, কোমোরো আইল্যান্ডস, কুক আইল্যান্ডস, জিবুতি, ডমিনিকা, গ্রেনাডা, গিনি-বিসাউ, হাইতি, কিরিবাতি, মাদাগাস্কার, মাইক্রোনেশিয়া, মন্টসেরাট, নিউই, সামোয়া, সিয়েরা লিওন, সেইন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাউন, বাহামাস, গাম্বিয়া, তিমুর, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, টুভ্যালু এবং ভানুয়াতু।
হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের নতুন তালিকায় এককভাবে শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে সিঙ্গাপুর। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। তৃতীয় স্থানে সুইডেন এবং চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন ও সুইজারল্যান্ড।
প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানসহ অধিকাংশ দেশের সূচকেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সাধারণত কোনো দেশের পাসপোর্ট দিয়ে কতটি দেশে আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করা যায়, তার ওপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা এর তথ্যের সাহায্যে এই বৈশ্বিক সূচক তৈরি করা হয়।
বিশ্ববিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ‘টাইম’-এর ২০২৬ সালের বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর তার অসামান্য রাজনৈতিক উত্থান এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রভাবের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। মূলত রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজ সংস্কারে বিশ্বের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলা ব্যক্তিদেরই প্রতিবছর এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই ঐতিহাসিক অর্জনকে দেশের জন্য এক অনন্য গৌরব ও গণতান্ত্রিক মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, ‘খ্যাতনামা মার্কিন সাময়িকী টাইম-এর বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ঐতিহাসিক এই মুহূর্ত বাংলাদেশের জন্য গৌরব, আবেগ ও গণতান্ত্রিক মাইলফলক।’
মাহদী আমিন তার বক্তব্যে নেতার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য ও অসীম সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও গণমানুষের নেতা তারেক রহমান TIME 100 Most Influential People of 2026-এর বর্ণাঢ্য তালিকায় স্থান পেয়েছেন। বিশ্ববিখ্যাত সাময়িকী টাইম এই স্বীকৃতির মাধ্যমে তাঁর দুরদর্শী নেতৃত্ব, সীমহীন সাহসিকতা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে অসামান্য অবদানকে আন্তর্জাতিক পরিসরে স্বীকৃতি দিয়েছে।’ তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, গণতন্ত্র যখন বিপন্ন ছিল এবং মানুষের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল, তখন তারেক রহমান জনগণের আশা ও সাহসের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। মুখপাত্রের ভাষায়, ‘একটি কঠিন সময়ে, যখন গণতন্ত্র ছিল অবরুদ্ধ, মানুষের ভোটের অধিকার ছিল না, বাকস্বাধীনতা ছিল না, তখন তারেক রহমান দৃঢ়তা, সাহস এবং অটল বিশ্বাস নিয়ে সামনে এগিয়ে এসেছেন। তিনি নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আশা জাগিয়েছেন, মানুষের কণ্ঠস্বরকে শক্তি দিয়েছেন, নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে কথা বলেছেন। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বহু লড়াই সংগ্রামের পথ পেরিয়ে আবারও গণতন্ত্রের পথে ফিরে এসেছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা আজ বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃত।’
এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর দেশ পুনর্গঠনে তার দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন লেখেন, ‘স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে তিনি দেশে ফিরেছেন, যেদিন ফিরেছেন সেদিনই তিনি বলেছিলেন “আই হ্যাভ এ প্লান।" একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভূক্তিমূলক, সমন্বিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য তিনি সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচিত সরকারের বয়স দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যেই সরকার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে চমৎকারভাবে অগ্রসর হয়েছে।’ এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সংগ্রামের এক চূড়ান্ত মূল্যায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে। মুখপাত্রের মতে, ‘টাইম-এর এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ লড়াই,সংগ্রাম এবং দেশ পরিচালনার ক্যারিশম্যাটিক দক্ষতার এক শক্তিশালী স্বীকৃতি। তিনি প্রমাণ করেছেন ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই একজন নেতার প্রকৃত শক্তি, দেশ পরিচালনাকে তিনি ক্ষমতা হিসেবে নয়, দেখতে চান দায়িত্ব হিসেবে। দেশের স্বার্থে কোনো বিভাজন নয়, বরং ইস্পাত কঠিন দৃঢ় ঐক্যই একটি জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।’ বৈশ্বিক রাজনীতি ও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে।
এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেক) প্লাসের এক অনলাইন সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের দপ্তর থেকে ভার্চুয়ালি তিনি এ বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এসময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
সম্মেলনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানরা বক্তব্য রাখেন।
অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে ছিল ভারত, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, তিমুর-লেস্তে, কোরিয়া প্রজাতন্ত্র (আরওকে), অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনেই, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া।
কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর প্রক্রিয়া চলছে। এজন্য বিশ্বের বিভিন্ন নামী এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী জানান, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে সব ধরনের কারিগরি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো হচ্ছে, বড় ও সুপরিসর বিমান অবতরণ নিশ্চিত করতে রানওয়ে ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে উন্নীত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটার আয়তনের একটি আধুনিক আন্তর্জাতিক টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি ও উপযুক্ততা যাচাই করে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও) থেকে প্রয়োজনীয় সনদপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।
বিরোধী দলের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে বিমানবন্দরের অপারেশনাল সুবিধাদিসহ টেস্টিং ও কমিশনিং কার্যক্রম চলমান। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে যাত্রা শুরু করবে।
সরকার দলীয় এমপি সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে আফরোজা খানম বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বর্তমানে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। ফ্লাইট পরিচালনার পাশাপাশি বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিয়ে বিমান বড় অংকের রাজস্ব আয় করছে।
তবে উড়োজাহাজ স্বল্পতার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, বিমানের নেটওয়ার্ক ও ফ্লিট প্ল্যান অনুযায়ী নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন এবং পুরাতনগুলো বাদ দেওয়ার কাজ চলছে। নতুন বিমান কেনা পর্যন্ত লিজের মাধ্যমে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এছাড়া অনলাইন টিকেটিং ও তদারকি বৃদ্ধির ফলে বর্তমানে বিমানের অন টাইম পারফরম্যান্স (ওটিপি) ৮০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বগুড়া, লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁও স্টালপোর্ট থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নোয়াখালী জেলায় একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের বিষয়ে বেবিচক (CAAB) কর্তৃক গঠিত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০২০ ও ২০২১ সালে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা ড্যাশ৮-৪০০ এবং বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজ ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য বিমানের কাছে নেই। সবকিছু যথাযথ নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে।
১ জুলাই থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ শুরু হতে যাচ্ছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে অবশিষ্ট শিক্ষকদের ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ (বুধবার) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৪তম দিনের প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী প্রশ্ন রাখেন, দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ইংরেজি বিষয়ের ওপর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না? হলে, কবে নাগাদ তা করা হবে?
জবাবে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের ইশতেহারে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাদানের মান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট শিক্ষকের সংখ্যা তিন লক্ষ ছিয়াত্তর হাজার চারশত ঊননব্বই জন এবং এর মধ্যে চলমান ‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’র আওতায় ইতোমধ্যে এক লাখ ত্রিশ হাজার শিক্ষককে ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ বছর মেয়াদি ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’শুরু হতে যাচ্ছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে অবশিষ্ট শিক্ষকদের ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।
বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম প্রশ্ন রাখেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় ভৌগলিক গুরুত্ব, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, জলোচ্ছ্বাস, সাইক্লোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং এই অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে সরকার কর্তৃক পৃথক একটি ‘উপকূল বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ গঠন করা হবে কিনা?
জবাবে তারেক রহমান বলেন, দেশের অপার সম্ভাবনাময় সমুদ্র সম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক টেকসই ব্যবহার নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতির বিকাশ এবং জাতীয় সুনীল অর্থনীতি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে রয়েছে। এ ছাড়াও ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার ‘উপকূলীয় অঞ্চল নীতি ২০০৫’ প্রণয়ন করে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন ও সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বর্তমান সরকার Maritime Spatial Planning (MSP) বা সমুদ্র অঞ্চল পরিকল্পনা কার্যক্রম ও এ থেকে দেশের সম্ভাব্য অর্জিতব্য বিষয়াদি বিবেচনার জন্য ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে। সামুদ্রিক সম্পদ, মৎস্য, পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে সমন্বিত ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং সুনীল অর্থনীতির টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজন হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অধীন দফতর ও সংস্থাগুলোতে শূন্য পদের বিপরীতে ২৮৭৯ জন লোক নিয়োগের কার্যক্রম চলমান।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৪তম দিনের প্রশ্নোত্তরে লিখিত জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, সারাদেশে শহর ও গ্রাম অঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কর্মকৌশল নির্ধারণে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গঠিত কমিটি কাজ করছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় যথাক্রমে ৮ বিঘা ও ১০ বিঘা করে উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। হাই-টেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এবং বাংলাদেশে পেপালের কার্যক্রম আরম্ভে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারকে প্রাধান্য দিয়ে বেতন কাঠামোর আওতায় জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণসীমা ৩ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকায় উন্নিত করা হয়েছে। জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসাপ্রাপ্তির আগেই সার্টিফিকেট অব ইলিজিবেলিটির ভিত্তিতে এ ঋণ দেয়া সহজ করা হয়েছে।