মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১২ ফাল্গুন ১৪৩২

পুলিশ ও ছাত্রলীগের কাণ্ড!

বইমেলায় ফ্রি বরাদ্দ নিয়ে খাবারের দোকান ১৪ লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ
আপডেটেড
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১১:২৬
মনিরুল ইসলাম
প্রকাশিত
মনিরুল ইসলাম
প্রকাশিত : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০৩

‘খরচপাতির’ কথা বলে বাংলা একাডেমি থেকে বিনা মূল্যে বইমেলায় তিনটি খাবারের দোকান বরাদ্দ নিয়ে সাড়ে তেরো লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে শাহবাগ থানার পুলিশ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশ ও ছাত্রলীগ বলছে, তারা খাবারের কোনো দোকান নেননি। আর বাংলা একাডেমি বলছে, খরচপাতির কথা বলে পুলিশ এবং ছাত্রলীগ বিনা মূল্যে তিনটি দোকান নিয়েছে।

হাত-খরচের কথা বলে ছাত্রলীগ একটি আর বইমেলায় স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোলরুম তৈরির খরচ এবং এখানে আসা পুলিশ কর্মকর্তাদের আপ্যায়ন খরচের কথা বলে শাহবাগ থানার পুলিশ দুটি খাবারের দোকান বিনা মূল্যে বরাদ্দ নিয়েছে।

বাংলা একাডেমি থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, বইমেলায় আসা দর্শনার্থীদের খাবারের চাহিদা মেটাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের শেষ প্রান্তে একজন ব্যক্তি ও ১৬টি প্রতিষ্ঠানকে ২১টি খাবারের দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে পাঁচটি দোকান।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ছাত্রলীগ, কালীমন্দির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং শাহবাগ থানার পুলিশ। এর মধ্যে শাহবাগ থানার পুলিশ পেয়েছে দুটি দোকান বরাদ্দ।

ছাত্রলীগকে দেওয়া ৮ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে মেহেদী হাসানের নামে, কালীমন্দিরকে দেওয়া ১৫ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে কালীমন্দিরের নামেই, ডিএমপিকে দেওয়া ১৭ নম্বর দোকানটি বরাদ্দ হয়েছে মেট্রো মেকার্সের নামে আর শাহবাগ থানাকে দেওয়া হয়েছে ২০ এবং ২১ নম্বর দোকান দুটি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ছাত্রলীগকে দেওয়া ৮ নম্বর দোকানটি বর্তমানে পরিচালনা করছে উজ্জল নামের একজন। তিনি কিনে নিয়েছেন আড়াই লাখ টাকায়। উজ্জল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, থাকেন কবি জসিমউদ্‌দীন হলের ২১৯ নম্বর রুমে।

আর শাহবাগ থানা-পুলিশের নামে বরাদ্দ হওয়া দোকান দুটি পরিচালনা করছে বিল্লাল নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি কিনে নিয়েছেন ১১ লাখ টাকায়। দোকানে থাকা ম্যানেজার শাহীন এবং সাব্বির টাকার অঙ্কের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর বঙ্গবাজার মার্কেটে বিল্লালের ব্যবসা আছে। গত বছরও তিনি শাহবাগ থানার নামে বরাদ্দ হওয়া দোকান দুটি কিনে নিয়েছিলেন। এত টাকায় কিনে নেওয়ার কারণ হিসেবে জানা যায়, প্রতিবছর বাংলা একাডেমির খাবারের দোকানগুলোর দাম একটু বেশি থাকে। কিন্তু এ বছর সেটি কমানো হয়েছে। কিন্তু এর আগেই গত বছরের দামে শাহবাগ থানা-পুলিশের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলে বিল্লাল। এ ছাড়া পুলিশের দোকান হলে একটু অতিরিক্ত সুবিধাও পাওয়া যায়। অন্য দোকানগুলোর নির্দিষ্ট জায়গা থাকলেও এই দুটি দোকানের থাকে না কোনো নির্দিষ্ট সীমানা। যতটুকু ইচ্ছা জায়গা নিজের করে নেওয়া যায়।

বিষয়টি স্বীকারও করেছেন বইমেলার খাবার-সংশ্লিষ্ট স্টল এবং মোবাইল ফোন টাওয়ারের স্থান বরাদ্দ ও তত্ত্বাবধান কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসান কবীর।

তবে বিনা মূল্যে খাবারের স্টল নেওয়া এবং ১১ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেননি শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাজিরুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা একাডেমি থেকে খাবারের কোনো দোকান নেইনি। আর বিক্রির তো প্রশ্নই আসে না।’

ছাত্রলীগকে বিনা মূল্যে খাবারের দোকান বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে কথা হয় বাংলা একাডেমির হিসাবরক্ষণ ও বাজেট উপ-বিভাগের উপপরিচালক কামাল উদ্দীন আহমেদের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগকে এই দোকান দেওয়ার বিষয়ে শয়ন (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন) সাহেবের সঙ্গেও কথা হয়েছে। সাদ্দাম (কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন) সাহেবও জানে। এই স্টল নেওয়ার জন্য একটা পক্ষ এসেছিল। এরপর তাদের উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতিকে ফোন দেওয়া হয়েছিল, এ সময় সাদ্দাম সাহেবকেও ফোন দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা নেওয়ার পর যদি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগও আলাদা দোকান বরাদ্দ চায় তখন তো ঝামেলা হয়ে যাবে। এ জন্য দুজনের সঙ্গেই কথা বলে শুধু একটা দোকান দেওয়া হয়েছে।

ছাত্রলীগকে কেন বিনা মূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে ‘খাবার ও সংশ্লিষ্ট স্টল এবং মোবাইল ফোন টাওয়ারের স্থান বরাদ্দ ও তত্ত্বাবধান কমিটির’ আহ্বায়ক মো. হাসান কবীর বলেন, দেশ চালায় কারা? পুলিশ আর ছাত্রলীগই তো চালায়। তাদের সমীহ করতে হবে না। তাদের আমরা অনেক কিছু দেইনি। একটা স্টল দিয়েছি।’

হাসান কবীর বলেন, তারা (ছাত্রলীগ) আমাদের বলেছে, ‘আমরা ছাত্র মানুষ। আমরা জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। আমাদের হাত খরচ লাগে। তখন আমরা বলেছি, তাহলে আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়, কেন্দ্র বা লোকাল যেই নামে আসেন না কেন আমরা শুধু একটা স্টলই দিতে পারব। তাদের এও বলেছি, আপনারা দায়িত্ব নেন, ছাত্রলীগের নামে যেন আর কেউ না আসে। তারা আমাদের আশ্বস্ত করে বলেছে, কেউই আসবে না। তারা এটি নিয়ন্ত্রণ করবে।’

খাবারের স্টল নেওয়ার বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘এটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। আর এটি করারও কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একমাত্র স্টল মাতৃভূমি প্রকাশনা স্টল। এটিকে কেন্দ্র করেই যে আড্ডা বইমেলায় এটিই আমাদের একমাত্র কর্মসূচি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবীর শয়ন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার মন্তব্য হলো, আমার জানা নেই।’

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান বলেন, বইমেলায় ছাত্রলীগের খাবারের স্টল থাকার প্রশ্নই আসে না। এগুলোর সঙ্গে কারও যুক্ত থাকার কোনো সুযোগ বা অবকাশও নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে এগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকলে সেটার দায় ছাত্রলীগ নেবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, ‘বাংলা একাডেমি থেকে আমি কোনো খাবারের স্টল নেইনি, এটা কনফার্ম। এগুলো আমার রাজনৈতিক শিক্ষার মধ্যে পড়ে না। তবে আমার প্রেসিডেন্ট (মাজহারুল কবীর শয়ন) নিয়েছে কি না, সেটা আমি বলতে পারব না।’

দোকান বরাদ্দ পেয়েছে পরিচালকের বউ এবং একাডেমির এক কর্মকর্তাও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বইমেলায় দুটি খাবারের দোকান বরাদ্দ পেয়েছেন একাডেমির গ্রন্থাগার বিভাগের পরিচালক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেনের স্ত্রী শারমিন সুলতানা শর্মী আর একটি পেয়েছেন একাডেমির হেড ইলেকট্রিশিয়ান আলী হোসেন। তবে টাকা দিয়েই এই স্টল তিনটি নিয়েছেন তারা। শর্মী নড়াইল পিঠাঘরের নামে দুটি দোকান পরিচালনা করছেন আর মোহাম্মদ আলী টিএফসি নামে দোকান পরিচালনা করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা একাডেমির এক কর্মকর্তা বলেন, নিজের বউয়ের নামে স্টল বরাদ্দ নিতে শাহাদাৎ হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। আর মোহাম্মদ আলী তথ্য গোপন করে এই স্টলটি নিয়েছেন। বাইরের কাউকে দিলে ভালো দামে এই দোকান তিনটি বরাদ্দ দেওয়া যেত। কিন্তু তারা কম দামে নেওয়ায় বাংলা একাডেমিই লাভবান হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলো।

পরিচালকের বউকে দোকান বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে হাসান কবীর বলেন, এই স্টলটা মূলত আমাদের এক পরিচালক তার এক আত্মীয়কে দিতে বলেছেন। তাই এটা তার আত্মীয়কে দেওয়া হয়েছে।

যাকে ‘আত্মীয়’ বলা হচ্ছে তিনি পরিচালকের ‘স্ত্রী’ জানালে তিনি বলেন, ‘এটা আমি মাত্রই শুনেছি। আত্মীয়ের কথা বলেই এটা নেওয়া হয়েছে।’

আলী হোসেনের দোকান নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি হতেই পারে না। আমি খোঁজ নিচ্ছি।’


দায়িত্ব নিয়েই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন ৬ সিটির প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণসহ দেশের নবনিযুক্ত ছয়টি সিটি করপোরেশনের প্রশাসকগণ আজ মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তাঁরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর নিজ দপ্তরে এই বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর প্রশাসনিক সমন্বয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়।

সাক্ষাৎকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নবনিযুক্ত প্রশাসকদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। প্রশাসকরা তাঁদের দায়িত্ব পালনকালে মন্ত্রীর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক সহযোগিতা কামনা করেন। তাঁরা নিজ নিজ শহরের উন্নয়নে সর্বোচ্চ সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করার এবং নাগরিক ভোগান্তি লাঘবে সচেষ্ট থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী তাঁদের জনকল্যাণে নিবেদিত হয়ে এবং স্বচ্ছতার সাথে কাজ করার বিশেষ পরামর্শ প্রদান করেন।

এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে এই ছয়জন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে মো. আব্দুস সালাম এবং উত্তর সিটির জন্য মো. শফিকুল ইসলাম খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খুলনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেটে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জে মো. সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মো. শওকত হোসেন সরকার প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেছেন। নিয়োগপ্রাপ্ত এই প্রশাসকরা সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত পরিষদের অনুপস্থিতিতে মেয়রের ক্ষমতা প্রয়োগ ও প্রশাসনিক যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবেন। এই সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে ঢাকার প্রধান শহরগুলোর আধুনিকায়ন ও সেবার মানোন্নয়নে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।


ডিএসসিসি প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আবদুস সালাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন প্রশাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব বুঝে নেন। দায়িত্ব হস্তান্তরের এই আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকার দক্ষিণাংশের প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবা পরিচালনার নতুন অধ্যায় শুরু হলো। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে সিটি করপোরেশনের স্থবিরতা কাটিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এর আগে গত সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে মোঃ আবদুস সালামকে এই পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪-এর সংশ্লিষ্ট ধারা মোতাবেক পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে মেয়রের যাবতীয় ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবেন। দক্ষ ও অভিজ্ঞ এই ব্যক্তিত্বকে প্রশাসক হিসেবে মনোনীত করার মাধ্যমে নাগরিক ভোগান্তি লাঘব এবং সেবার মান বৃদ্ধিতে সরকার বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।

সচিবালয়ে আয়োজিত দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত প্রশাসককে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় সেবা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতেই এই নিয়োগ কার্যকর করা হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম তাঁর দায়িত্ব পালনকালে নগরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, মশা নিধন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছেন।


এবার সাবেক দুই ভিসির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশীদ এবং অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমানের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের এই নির্দেশনার ফলে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি বর্তমানে দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন এই আবেদনটি দাখিল করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে এই অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দুদকের কাছে বিশ্বস্ত সূত্রে তথ্য রয়েছে যে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিচার প্রক্রিয়া এড়াতে যেকোনো সময় দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ ভ্রমণে জরুরি ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা একান্ত প্রয়োজন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের বৃহত্তম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও আর্থিক খাতে বিভিন্ন সময়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। বিশেষ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতার বিষয়টি দুদকের অনুসন্ধানে গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার নজির থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষস্থানীয় পদের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর আইনি পদক্ষেপ প্রশাসনিক ও শিক্ষা মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

আদালত দুদকের আবেদনটি আমলে নিয়ে এই আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অনতিবিলম্বে অবহিত করার জন্য বলা হয়েছে। দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপরাধীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং তদন্তের প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ রক্ষায় এই ধরণের পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। এই আদেশের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনিয়ম নিরসনে এক নতুন মাত্রা যোগ হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বিডিআর বিদ্রোহ: বিস্ফোরক মামলায় আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহ ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় এক বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। তৎকালীন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতাকে এবার এই মামলার আসামি করা হচ্ছে। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটির চিফ প্রসিকিউটর বোরহান উদ্দিন সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়, মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জবানবন্দিতে শেখ হাসিনা, শেখ ফজলে নূর তাপস, মির্জা আজম এবং জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ তৎকালীন প্রভাবশালী মন্ত্রী ও নেতাদের এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য উঠে এসেছে। এর ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পিলখানার মতো সুরক্ষিত স্থানে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তার নির্মম মৃত্যুর পর কেটে গেছে দেড় দশকেরও বেশি সময়, তবে বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এখনো নিষ্পত্তি না হওয়ায় নিহতদের পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার পাওয়ার অপেক্ষা শেষ হয়নি।

বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের এই বিশাল মামলায় বর্তমানে আসামির সংখ্যা প্রায় সাড়ে আটশ জন। মোট ১২০০ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনশ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর জানান, সাক্ষীদের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল। বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও আইনি জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে থাকা এই মামলাটি এখন নতুন মোড় নিচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই মামলার কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে এবং এরই মধ্যে কয়েকশ আসামি জামিন লাভ করেছেন। প্রসিকিউশন এখন নতুন সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র পুনর্গঠন বা সম্পূরক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।

ইতিহাসের অন্যতম এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রমের একটি পর্যায় এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর নিম্ন আদালত ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন এবং ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। তবে বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এখনো সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে থাকায় এর পূর্ণাঙ্গ বিচার সম্পন্ন হতে আরও সময়ের প্রয়োজন। নতুন করে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আসামি করার উদ্যোগ মামলার গুরুত্ব ও জটিলতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্বজনরা আশা করছেন প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত হবে।


চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে সচিবালয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সচিবালয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অত্যন্ত কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন। সকাল ৯টায় তিনি সচিবালয়ে প্রবেশ করেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করেন। দিনের শুরুতেই তিনি দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি বিশেষ বৈঠকে অংশ নেন। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া এই নীতি নির্ধারণী বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রী, নৌ পরিবহন মন্ত্রী, আইন মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এই বৈঠকের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নের আলোচনার পাশাপাশি আজকের কার্যসূচিতে অন্যতম প্রধান গুরুত্ব পাচ্ছে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প। গত সপ্তাহে এই প্রকল্প সুচারুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ ১৫ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। আজকের বৈঠকে এই কমিটির সকল সদস্য উপস্থিত থেকে ফ্যামিলি কার্ডের বণ্টন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করবেন। সভায় দেশের ১৩টি উপজেলার ১৩টি নির্বাচিত ওয়ার্ডে প্রাথমিকভাবে এই কার্ড বিতরণের কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রাথমিক পর্যায়ের এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ঢাকার বনানীর কড়াইল বস্তি, রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পতেঙ্গা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি তদারকিতে এই ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রান্তিক ও স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে সরাসরি খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সরব উপস্থিতি এবং দফায় দফায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে নতুন গতির সঞ্চার করেছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এই বৈঠক থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনার আলোকে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।


দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিষয়ে সংসদ অধিবেশনে সিদ্ধান্ত: এলজিআরডি মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী সংসদ অধিবেশনে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি উল্লেখ করেন যে, ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে। দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংস্কার এবং জনমতের প্রতিফলন ঘটাতেই এই স্পর্শকাতর বিষয়টি সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

দেশের ছয়টি বড় সিটি করপোরেশনে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁরা সচিবালয়ে এলজিআরডি মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন। নবনিযুক্ত প্রশাসকরা এ সময় মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তাঁরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে নাগরিক সেবা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।

নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, যেসব সিটি করপোরেশনের মেয়াদ আগে শেষ হয়েছে বা হচ্ছে, সেগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভোটের আয়োজন করবে সরকার। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন প্রথমে অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সিটি করপোরেশনগুলোতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমান সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে বলে মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।

প্রশাসনিক স্থবিরতা দূর করতে নতুন প্রশাসকদের নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের ভোগান্তি কমানো এবং দাপ্তরিক চেইন অব কমান্ড বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ১২ মার্চের সংসদ অধিবেশনটি স্থানীয় সরকার কাঠামোর ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনীতিতে একটি বড় ধরণের গুণগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে আগামী মার্চের সংসদ অধিবেশনের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে দেশের রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ।


পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন পুলিশের বর্তমান পোশাক পরিবর্তনের সরকারি সিদ্ধান্তটি পুনরায় পর্যালোচনার জন্য বিশেষ দাবি জানিয়েছে। সোমবার রাতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতির মাধ্যমে এই সংক্রান্ত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বর্তমান ইউনিফর্মের উপযোগিতা এবং পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য জটিলতাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে ২০০৩ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির দীর্ঘ পর্যালোচনার পর বর্তমান পোশাকটি নির্ধারিত হয়েছিল। পোশাকের রং, স্থানীয় আবহাওয়া এবং দিন-রাত দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো বিবেচনা করেই এই ইউনিফর্মটি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। নতুন করে প্রস্তাবিত পোশাকের নকশা বা রং যদি অন্য কোনো বাহিনীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়, তবে মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের পক্ষে পুলিশ বাহিনীকে দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে বাহিনীর স্বতন্ত্র পরিচিতি সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে অধিকাংশ পুলিশ সদস্য বর্তমান পোশাকেই নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন। এই মুহূর্তে ইউনিফর্ম পরিবর্তনকে একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হিসেবে দেখছে সংগঠনটি। বিশাল এই ব্যয়ের পরিবর্তে বরাদ্দকৃত অর্থ পুলিশের আধুনিকায়ন ও লজিস্টিক সাপোর্ট বৃদ্ধিতে ব্যয় করার জন্য সরকারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং পর্যাপ্ত সরঞ্জামের সংস্থান করার মাধ্যমেই বাহিনীর দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


একযোগে ৯ সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে বড় ধরণের রদবদল এনেছে বর্তমান সরকার। সোমবার রাতে পৃথক নয়টি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত ৯ জন সচিব ও সিনিয়র সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এসব আদেশে উল্লেখ করা হয়, সরকারের সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী তাঁদের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হলো। জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগ বাতিল হওয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় রয়েছেন দেশের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের শীর্ষ পর্যায়ের আমলারা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। এছাড়া জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক সিদ্দিক জোবায়ের এবং ভূমি আপিল বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফের চুক্তিও বাতিল করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের তিন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা—সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেসুর রহমান, সিনিয়র সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদ এবং সচিব ড. কাইয়ুম আরা বেগমের নিয়োগও এই আদেশের অন্তর্ভুক্ত। তালিকায় আরও রয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ এবং বিশ্ব ব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক বেগম শরিফা খান।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনগুলোতে প্রশাসনিক সংস্কারের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়। মূলত প্রশাসনের গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মকর্তাদের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই সরকার এই গণ-ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে। চুক্তিবদ্ধ কর্মকর্তাদের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে এমন আকস্মিক অব্যাহতি প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরণের পরিবর্তনের পথ সুগম করল। এই আদেশের ফলে শূন্য হওয়া পদগুলোতে দ্রুত নতুন নিয়োগ বা পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সচিবালয় সূত্রে জানা যায়।

বিগত সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া এসব কর্মকর্তার চুক্তি বাতিলের বিষয়টি প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড শক্তিশালী করার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পরিকল্পনা কমিশন ও স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের মতো স্পর্শকাতর দপ্তরগুলোতে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিল বর্তমান সরকার। একযোগে ৯ জন শীর্ষ কর্মকর্তার বিদায়কে কেন্দ্র করে সচিবালয়সহ সরকারি দপ্তরগুলোতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই পদগুলোতে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।


সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান হলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ৩৯তম বোর্ড সভায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীকে ট্রাস্টের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। সোমবার রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে আয়োজিত এই সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন তাঁকে এই দায়িত্ব প্রদানের বিষয়টি চূড়ান্ত করেন। নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি ট্রাস্টের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিশেষ করে সহায়তা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সুবিধাভোগী সাংবাদিকদের একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেস তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন তথ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন দেশের সামগ্রিক অর্জনে গণমাধ্যমের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, জনগণ ও সংবাদ মাধ্যমই যেকোনো রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি। গণমাধ্যম সবসময় জনআকাঙ্ক্ষাকে শক্তিশালী করেছে এবং এর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই সরকার সাংবাদিকদের জন্য অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিফলন ঘটাতে সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ অবসর ভাতা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোতে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ শুরু করার ঘোষণা দেন মন্ত্রী।

দায়িত্ব গ্রহণের পর তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন চেয়ারম্যান ইয়াসের খান চৌধুরী ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের সাহসিকতার কথা স্মরণ করেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে সত্য তুলে ধরার জন্য তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ট্রাস্টের মাধ্যমে সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানো কেবল দায়িত্ব নয়, বরং এটি তাঁদের কাজের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির একটি অংশ। সভায় ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. নিজামূল কবীর এবং প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফসহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বোর্ড সভা শেষে তথ্য ভবন অডিটোরিয়ামে এক বিশেষ চেক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে সাংবাদিক পরিবারের ৪০২ জন মেধাবী সন্তানের হাতে শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। এই বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে সাংবাদিক পরিবারের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার পথ সুগম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত থেকে নতুন নেতৃত্বের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। সাংবাদিকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং এই পেশার মানোন্নয়নে ট্রাস্টের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপগুলো একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে সংবাদকর্মীরা মনে করছেন।


পদোন্নতি পাওয়া দুই সেনা কর্মকর্তাকে র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের নতুন প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নতুন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরীকে র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে এক অনুষ্ঠানে দুই কর্মকর্তাকে র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয় বলে আন্তঃবাহিনীর জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানকে গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) করা হয়।

১৯৯১ সালে সেনাবাহিনীর পদাতিক কোরে কমিশন পাওয়া এই কর্মকর্তা এর আগে প্রতিরক্ষা ক্রয় মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালকও ছিলেন।

গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) আরেক আদেশে সেনা সদরে দায়িত্বরত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরীকে মেজর জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালক করা হয়।


প্রান্তিক পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে ‘কৃষক কার্ড’ চালু সংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত সরকার প্রান্তিক ও তৃণমূল মানুষের নিকট জনকেন্দ্রিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য দুটো প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর একটি হলো ‘ফ্যামিলি কার্ড’, অপরটি হলো ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড।’ এর মধ্যে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড দিতে যাচ্ছে। ধাপে ধাপে প্রায় চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধায় আনা হবে। এদিকে, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’ চালুর নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রকৃত কৃষকদের শনাক্তকরণ এবং সরাসরি সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি। তাই কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে ‘কৃষক কার্ড’ চালু সংক্রান্ত এক সভায় সভাপতিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় মন্ত্রিসভার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকরা যাতে ন্যায্য পাওনা ও সরকারি ভর্তুকি সহজে পান, তা নিশ্চিত করতেই এই স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

সভায় দেশের প্রান্তিক কৃষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং কৃষি প্রণোদনা বিতরণ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করার লক্ষ্যে কৃষক কার্ড চালুর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় কৃষক কার্ডের কারিগরি দিক, বিতরণ পদ্ধতি এবং ডাটাবেজ তৈরির অগ্রগতি অবহিত করা হলে প্রধানমন্ত্রী দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের দিক-নির্দেশনা দেন।

এরই মধ্যে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ১৩টি উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১০ মার্চ এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। গত রোববার প্রাথমিকভাবে দুটি উপজেলায় পাইলটিংয়ের পরিকল্পনা থাকলেও তা সম্প্রসারণ করে দেশের ১৩টি উপজেলার ১৩টি ওয়ার্ডে কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড পাবে যে এলাকাগুলো- বনানীর কড়াইল বস্তি, পাংশা, পতেঙ্গা, বাঞ্ছারামপুর, লামা, খালিশপুর, চরফ্যাশন, দিরাই, ভৈরব, বগুড়া সদর, লালপুর, ঠাকুরগাঁও ও নবাবগঞ্জ।

সূত্রে জানা যায়- ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে হতদরিদ্র ও দরিদ্র পরিবারকে কাঠামোবদ্ধভাবে সহায়তা দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে।

উপকারভোগী নির্বাচনে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য ব্যবহার করা হলেও আর্থিক তথ্য না থাকায় নির্বাচিত ওয়ার্ডগুলোতে সরেজমিন যাচাই-বাছাই করে সুবিধাভোগী নির্ধারণ করা হবে। উপকারভোগীদের হতদরিদ্র, দরিদ্র, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত-এই চার শ্রেণিতে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে টার্গেটিং ত্রুটি প্রায় ৫০ শতাংশ, ফলে অর্থের অপচয় হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে একাধিক কর্মসূচির সুবিধা একীভূত করে এই ত্রুটি কমানো সম্ভব হবে।

এছাড়াও ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, টিসিবি কার্ড ও ভ্যালনারেবল উইমেন বেনিফিট কর্মসূচি একীভূত করা যেতে পারে। উপকারভোগী নির্বাচনে এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও মোবাইল নম্বর বাধ্যতামূলক থাকবে। দ্বৈত সুবিধা ঠেকাতে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সিস্টেমের সঙ্গে আন্তঃসংযোগ করা হবে। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন এবং পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে উপকারভোগী তালিকা চূড়ান্ত। অনুদানের অর্থ ব্যাংক বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে বিতরণ। নারী খানা প্রধান ফ্যামিলি কার্ড ছাড়া অন্য ভাতা পাবেন না, তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের ভাতা বহাল থাকবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ডের আদলে দেশের সকল কৃষকের জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে ‘স্মার্ট কৃষক কার্ড’ চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। এ কথা জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, স্মার্ট কৃষক কার্ড চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত আমাদের অনেক আগেই নেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রথম বৈঠক করেছেন। ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ড দেওয়া। সেই লক্ষ্যেই পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এর কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। কৃষকরা এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষি জ্ঞান, সার, কীটনাশক ও বীজসহ সকল ধরনের কৃষি উপকরণে সরকারি সহযোগিতা সরাসরি পাবেন। এছাড়া স্মার্ট পদ্ধতিতে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি, উৎপাদনের পূর্বাভাস ও আবহাওয়ার বার্তা কৃষকের হাতের নাগালে চলে আসবে। এছাড়া এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক যন্ত্রপাতির সহজলভ্য সেবা নিতে পারবে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, স্মার্ট কৃষক কার্ড বিতরণের কাজ শুরু করতে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সরকারের সেবা পাবেন এবং কৃষি উপকরণ সংগ্রহে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে।

তিনি আরও বলেছেন, দেশের সকল কৃষককেই এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু করে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। তবে এর সঠিক সময়সীমা প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গৃহিণীদের জন্য নতুন সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ক্ষমতায় গেলে এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের চার কোটি পরিবার নিয়মিত আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা পাবে। চার কোটি পরিবারকে ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।


অন্তর্বর্তীর সময় চাঁদাবাজি বেড়েছে ২০-৫০ শতাংশ: ডিসিসিআই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেশে চাঁদাবাজি বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদাবাজি বেড়েছে।

চাঁদাবাজি কারা করছে— সাংবাদিকদের তরফে এমন প্রশ্ন উঠলে চেম্বার সভাপতি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের লোকজন, পুলিশ ও রাজস্ব কর্মকর্তাসহ অনেকেই চাঁদাবাজি করেন।

‘বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় নবগঠিত সরকারের নিকট প্রত্যাশা’ শিরোনামে এ সংবাদ সম্মেলন করে ডিসিসিআই।

তিনি বলেন, কারা চাঁদাবাজি করছে, সেটা সরকারকে বের করতে হবে। তারা এসে বলে, আমরা সরকারি দলের লোক। যখনই যে সরকার আসে, তখনই বলে আমরা সরকারি দলের লোক; আমাদেরকে চাঁদা দিতে হবে। আমাদের এই অনুষ্ঠান আছে, পাড়ার এই চাঁদা দিতে হবে।

কারখানায় ঢুকতেও চাঁদা দিতে হয় মন্তব্য করে তাসকীন আহমেদ বলেন, ‘অফিস ও রাস্তায় চাঁদা দিতে হয়। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধে আমরা নতুন সরকারের কাছ থেকে কড়া বার্তা প্রত্যাশা করছি।

মূল প্রবন্ধে ডিসিসিআই সভাপতি উল্লেখ করেন, বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বাস্তবসম্মত উন্নয়নে চারটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

প্রথমত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং চাঁদাবাজিসম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা। দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকারি খাতে দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা।

তৃতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে তিনি বলেন, যারা ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি নন, তাদের প্রয়োজনীয় ‘ওয়ার্কিং ক্যাপল’ (চলতি মূলধন)’ সহায়তা দিয়ে পুনরায় ব্যবসায় শুরুতে সহযোগিতা করা। আর তৃতীয় হচ্ছে, ঋণের সুদহারকে যুক্তিসঙ্গত এবং সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা।

বর্তমানে ব্যাংক সুদহার তুলনামূলক বেশি দাবি করে তিনি বলেন, আগামী দিনে অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যে আরো সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে উঠলে অর্থনীতি স্থিতিশীল থাকবে।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ২০২৪ সালের অগাস্টের পরও দেশে আওয়ামী সরকারের সময়ের মতোই দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতি একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে বেড়েছে।

পুলিশ, প্রশাসন, ইনকাম ট্যাক্স অফিস— সব জায়গায় দুর্নীতি ছেয়ে আছে। এগুলো বন্ধ না হলে অর্থনীতি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে না। আর চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিতে হবে।

ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা কমাতে পুঁজিবাজারে ভালো মানের কোম্পানি তালিকাভুক্ত করার পরামর্শ দিয়ে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, গ্রিন চ্যানেল তৈরি করে সরকারি লাভজনক কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাভুক্ত করা যেতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গ হওয়া শুল্ক চুক্তির মধ্যে ব্যবসাসংক্রান্ত ধারাগুলো প্রকাশ করার দাবি জানায় ঢাকা চেম্বার।


বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা তদন্তে নতুন কমিশন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পিলখানায় সংঘটিত ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্ত করতে নতুন করে কমিশন গঠন করতে চায় সরকার। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘এটার জন্য আরেকটা তদন্ত কমিশন গঠন করার কথা বলেছি, আমাদের প্রতিশ্রুতি আছে। আমাদের ইশতেহারের মধ্যেও আছে। আমরা বিডিআর (বিদ্রোহের) ঘটনাটা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পুনঃতদন্ত অথবা একটা কমিশন গঠন করে কমিশনের রিপোর্ট অনুসারে কাজ করবো। আমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব অধিদপ্তর ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানিয়েছেন।

৫ আগস্টের পরে যেসব বড় বড় ব্যবসায়ী এবং স্বনামধন্য ব্যক্তি, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মামলার আসামি করা হয়েছে এবং ভোগান্তিতে আছেন, সেসব বিষয় যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এ সভায় পুলিশে ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবল জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটা দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, আমার জানা মতে ১০ হাজারের বেশি অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা হয়নি। সেগুলো এখন অবৈধ। এগুলো নিয়ে মামলা হতে পারে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় এগুলো উদ্ধার করা হবে।

তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় যেসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে সেগুলো আমরা আবারও ভেরিফাই করব। সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়েছে কিনা, আমরা সেটা খতিয়ে দেখব।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করি, এটা দ্রুততার সঙ্গে করতে পারব। লাইসেন্স যারা পেয়েছে তারা এটা পাওয়ার উপযুক্ত কিনা, সেটা যাচাই করা হবে। যেগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে লাইসেন্স পেয়েছে সেগুলো বাতিল করা হবে। এসব লাইসেন্সের অধীনে অস্ত্র থাকলে সেগুলোও বাতিল হবে। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে পরিচালনা করাই সরবার লক্ষ্য বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ আগস্টের পরে বেশ কিছু মামলা হয়েছে। এখানে কিছু সুবিধাবাদী শ্রেণির মানুষ এ সুযোগে ভোগান্তি সৃষ্টির জন্য অনেককে আসামি করেছে, যারা সেখানে জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। সেই জায়গায় অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী এবং অনেক স্বনামধন্য ব্যক্তি, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও এ রকম আসামি করা হয়েছে। অনেক মানুষকে এভাবে ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সেটা আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলেছি। তাদের যথাযথ ব্যবস্থা করা এবং তারা যেন ভোগান্তির শিকার না হন, সেগুলো দেখবে এবং এই ক্ষেত্রে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, যাতে আইনের শাসন আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারি, সেই লক্ষ্যে যেন এই কাজটা করে। কারণ আমরা ঘোষণা দিলাম, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব, সুশাসন জারি করব; কিন্তু এই নিরীহ মানুষগুলো অনেক ক্ষেত্রে মামলাবাজির শিকার হয়ে হয়তো ভোগান্তিতে আছেন। এটা এখন যাচাই-বাছাই করে দেখবে এবং সে মতো ব্যবস্থা নেবে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা যাচাই-বাছাই করার জন্য কমিটির দরকার নেই, এটা পুলিশের কাজ, তারাই করবে। সময় বেঁধে দেওয়া হয়নি, দ্রুত একটা রিপোর্ট দেবে।

এর মধ্যে সাংবাদিক আছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা কি মানুষ না, সব মানুষই আছে, আইনের শাসন সবাই পাবে।


banner close