বাঙালির প্রাণের অমর একুশে বইমেলায় বিদায়ের সুর বেজে উঠছে। মেলার বাকি আর মাত্র চার দিন। এ কয়েকদিন রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে এ বছরের অমর একুশে গ্রন্থমেলা। এর মধ্য দিয়ে পাঠক, দর্শক ও প্রকাশকের আনাগোনায় মুখরিত থাকা বইমেলার ইতি টানা হবে। তবে বিক্রি নিয়ে সন্তুষ্ট নন প্রকাশকরা।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমির সামনের বিভিন্ন স্টল ঘুরে পছন্দের বই খুঁজছেন পাঠকরা। বেশির ভাগ দর্শনার্থীই বই কিনতে মেলায় ভিড় করেছেন। মেলায় বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি নানা বয়সি মানুষ বইমেলায় এসেছেন। তাদের কেউবা মনের আনন্দে ঘুরে বেরিয়েছেন। কেউ বই দেখেছেন আবার কেউ কেউ প্রিয় লেখকের বই সংগ্রহ করেছেন। এভাবেই কেটেছে বইমেলার প্রতিটি দিন।
ব্যস্ততার কারণে সাধারণ দিনগুলোতে যারা মেলায় আসতে পারেননি, বন্ধের দিনে তারা ঠিকই হাজির হয়েছেন প্রাণের মেলায়। ফলে ছুটির দিনগুলোতে সবচেয়ে মুখরিত হয়ে ওঠে বইমেলা। এ দুদিন বইয়ের বিক্রিও অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি হয় বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। এদিকে নতুন লেখকদের বইও বিক্রি হচ্ছে বেশ। তবুও প্রকাশকদের চোখে মুখে হাতাশার ছাপ।
প্রকাশকরা বলছেন, মেলায় আগের তুলনায় বিক্রি অনেক কম হয়েছে। যদিও শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা ও নতুন বই প্রকাশে ব্যস্ত পাঠক, লেখক ও প্রকাশকরা। তবে শেষ কয়েকদিন পাঠকের ঢল নামার প্রত্যাশা করেছেন প্রকাশকরা।
বিভিন্ন প্রকাশনীর বিক্রেতারা জানান, মেলার শেষ দিকে প্রতিদিন বিক্রি ভাল হয়। এখনো প্রতিদিন নতুন নতুন বই মেলায় আসছে। এটি শেষ দিন পর্যন্ত চলতে থাকে। শেষ দিকে ক্রেতার ভীড় বেশি থাকায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
মেলায় বন্ধু নিয়ে ঘুরতে আসা লিমন ইসলাম বলেন, ‘প্রথম দিকে কিছু বই সংগ্রহ করেছি। আবার এসেছি নতুন বই কিনেছি। বন্ধুকে বই উপহার দিলাম। শেষের দিকে আবার আসবো। আর অবশ্যই আমাদের সকলের বই পড়ার অভ্যাস করতে হবে।’
নারায়ণগঞ্জ থেকে বইমেলায় এসেছেন লাইজু লিজা। তিনি বলেন, ‘বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। এ মেলা এক মাস কেন সারা বছর থাকা উচিৎ। এর বিদায়ের সুর আমরা শুনতে চাই না।’
প্রকাশক আহমেদ মাহমুদুল হক বলেন, ‘প্রথম দিকের চেয়ে এবার শেষের দিকে এসে মেলায় বিক্রি বেড়েছে। মেট্রোরেলের নতুন মাত্রা এবারের বইমেলায় বই বিক্রি বাড়ার প্রধান কারণ। আমরা তরুণ লেখকদের বইগুলো তরুণদের হাতে দিতে পারছি। তবে এ বছর এখনও ব্যাগভর্তি বইক্রেতা দেখছি না।’
এদিকে রোববার অমর একুশে বইমেলার ২৫তম দিনে মেলা শুরু হয় বিকেল ৩টায় এবং চলে রাত ৮টা ৩০ পর্যন্ত। এদিন নতুন বই এসেছে ৯৬টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কাজী নূরুল করিম দিলু। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন তানভীর নেওয়াজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেবুন নাসরীন আহমেদ।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক জেবুন নাসরীন আহমেদ বলেন, ‘বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী স্থপতি মোবাশ্বের হোসেনের চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যই ছিল দৃঢ়তা, সততা, সাহসিকতা এবং দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা। তাঁর কর্মমুখর জীবন ও আদর্শ আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।’
লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন, কথাসাহিত্যিক জসিম মল্লিক, কবি শিবলী মোকতাদির, নাট্যকার খায়রুল বাসার এবং শিশুসাহিত্যিক উৎপলকান্তি বড়ুয়া।
বই-সংলাপ ও রিকশাচিত্র প্রদর্শন মঞ্চের আয়োজন: এই মঞ্চে বিকেল ৫টায় কবি ও চলচ্চিত্রকার মাসুদ পথিকের কবিতা ও চলচ্চিত্র বিষয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি এজাজ ইউসুফী, জান্নাতুল ফেরদৌসী, উৎপলকান্তি বড়ুয়া, প্রসপারিনা সরকার, অংকিতা আহমেদ রুবি, রিশাদ হুদা, সৌমিত্র দেব, অরবিন্দ চক্রবর্তী, আহসান মালেক, রওশন ঝুনু, সমর চক্রবর্তী, গিরিশ গৈরিক এবং আহমেদ জসিম। ছড়া পাঠ করেন ছড়াকার আখতার হুসেন, আমীরুল ইসলাম, লুৎফর রহমান রিটন, ফারুক হোসেন, আনজীর লিটন, মাহমুদউল্লাহ, সারওয়ার উল আলম, রিফাত নিগার শাপলা এবং তপংকর চক্রবর্তী। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী মাহমুদা আখতার, চিং হ্লা মং চৌধুরী এবং চৌধুরী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর।
এবারের বইমেলায় ৬৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯৩৭টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বাংলা একাডেমির মাঠে ১২০টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৩টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৫১৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭৬৪টি স্টল বরাদ্দ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ বছর মোট ৩৭টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। গত বছর ৬০১টি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মোট ৯০১টি স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এ বছর মেলা দুদিন বাড়ানোর জন্য বাংলা একাডেমির কাছে প্রকাশকরা আবেদন করলেও এখনও এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
আজকের বইমেলা
২৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার অমর একুশে বইমেলার ২৬তম দিন মেলা শুরু হবে বেলা ১২টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। এদিন বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ : আবুবকর সিদ্দিক এবং স্মরণ : আজিজুর রহমান আজিজ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন যথাক্রমে ফরিদ আহমদ দুলাল এবং কামরুল ইসলাম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন মামুন মুস্তাফা, তৌহিদুল ইসলাম, মো. মনজুরুর রহমান এবং আনিস মুহম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কবি আসাদ মান্নান।
কুয়েতে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনায় মেয়াদোত্তীর্ণ ভিজিট ভিসার সময়সীমা বাড়ানোসহ প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে অনেক প্রবাসী শ্রমিক সাময়িক স্বস্তি পাচ্ছেন।
বাংলাদেশি দূতাবাসের লেবার উইং জানিয়েছে, কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে স্পষ্টীকরণে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যেসব ভিজিট এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বা দ্রুত শেষ হওয়ার পথে, সেগুলোর মেয়াদ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক মাস বাড়ানো হয়েছে। এই সময়সীমা বাড়ানোর প্রক্রিয়া ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে কার্যকর হবে। ফলে এ জন্য রেসিডেন্সি বিভাগে গিয়ে আলাদা করে আবেদন করার প্রয়োজন হবে না।
এছাড়া বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বাড়তি সময়ের জন্য কোনো ধরনের ফি বা জরিমানাও আরোপ করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে কুয়েতে বসবাসরত কিন্তু বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরতে পারেননি—এমন ব্যক্তিদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে সময়সীমা অতিক্রম হলেও তাদের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিন মাস পর্যন্ত অনুপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হবে।
এই বর্ধিত সময় কার্যকর করতে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন নেই এবং এর জন্যও কোনো ফি বা জরিমানা দিতে হবে না।
দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর রাখার লক্ষ্যে নিয়োজিত সদস্যদের সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। দায়িত্বশীল তৎপরতার মাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। সোমবার (৯ মার্চ) সকালে বিমানবন্দরের প্রি-বোর্ডিং নিরাপত্তা তল্লাশির সময় ৪,৩৬৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক যাত্রীকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম সাইদুল ইসলাম। তার বাড়ি ঢাকার দোহার উপজেলার মধুরচর এলাকায়।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, তিনি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স-এর সৌদি আরবগামী ফ্লাইট নম্বর BS-381-এ যাত্রার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে আসেন। হেভি লাগেজ গেইট–৪ দিয়ে প্রবেশের পর তিনি নির্ধারিত কাউন্টারের রো “সি”-তে চেক-ইন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে বোর্ডিং ব্রিজ নং C2-এ প্রি-বোর্ডিং নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য উপস্থিত হন।
প্রি-বোর্ডিং পর্যায়ে ব্যাগ স্ক্যানিংয়ের সময় দায়িত্বরত আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য সিপাহী শামীম রেজা, ব্যাগটি সন্দেহজনক মনে করলে সিভিল সিকিউরিটি সদস্য হিজবুল বাহারকে র্যান্ডম তল্লাশির নির্দেশ দেন। তল্লাশিকালে ব্যাগের ভেতর থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট সদৃশ বস্তু পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে আনসার সদস্য শামীম রেজা এবং সিকিউরিটি সুপারভাইজার মোর্শেদা বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এভসেক কর্তৃপক্ষ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর-কে অবহিত করেন। খবর পেয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধারকৃত ট্যাবলেটগুলো গণনা করে মোট ৪,৩৬৪ পিস ইয়াবা জব্দ করেন।
পরে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ উক্ত যাত্রীকে ফ্লাইট থেকে অফলোড করে এবং এভসেক কর্তৃপক্ষ তাকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর-এর কাছে হস্তান্তর করে।
এই ঘটনায় আবারও প্রতীয়মান হয়েছে যে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়োজিত আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতা, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের এই তৎপরতা শুধু মাদক পাচার প্রতিরোধেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে না, বরং দেশের বিমানবন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য ও কার্যকর করে তুলতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে যমুনা সেতু এলাকা ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন সেতু বিভাগের সচিব।
সোমবার (৯ মার্চ) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপির নির্দেশনায় সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ যমুনা সেতু এলাকায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও অতিরিক্ত সচিব আলতাফ হোসেন সেখ, পরিচালক (পিএন্ডডি) ও যুগ্মসচিব মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদাউসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনের সময় সচিব জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে দেশের মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে সারাদেশের জনসাধারণের ঈদযাত্রা নিরাপদ, আরামদায়ক, নির্বিঘ্ন, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও স্বস্তিময় করতে সদয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন।” পাশাপাশি এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় এলেঙ্গায় নির্মিত নতুন বাস-বে এলাকাও পরিদর্শন করা হয়। মহাসড়কে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাস থামিয়ে যানজট সৃষ্টি রোধ এবং যাত্রীদের নিরাপদ ওঠানামা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত বাস-বে ছাড়া অন্য কোথাও যানবাহন না থামানোর জন্য চালকদের প্রতি অনুরোধ জানান সচিব।
তিনি যমুনা সেতুর টোল প্লাজার আগে গোলচত্বর এবং টোল আদায় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। যানবাহনের দিকনির্দেশ স্পষ্ট করতে গোলচত্বরে দৃশ্যমান রং করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে টোল আদায় দ্রুততর করতে ডিজিটাল ও অটোমেটেড ব্যবস্থার কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন। টোল প্লাজায় গাড়ি নির্দিষ্ট লেনে চলাচল নিশ্চিত করতে সাইনবোর্ড ও ব্যারিয়ার স্থাপনের নির্দেশনা দেন এবং কোনো ধরনের ওভারটেকিং না করার আহ্বান জানান।
সেতু ও সংযোগ সড়কে দুর্ঘটনা বা যানবাহন বিকল হলে দ্রুত অপসারণের জন্য কর্ণফুলী টানেল থেকে আনা ভারী রেকার ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির পরামর্শ দেন তিনি।
এরপর যমুনা সেতুর স্ট্যাক ইয়ার্ড এলাকা ঘুরে দেখেন সচিব। অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহন যেন বাধ্যতামূলকভাবে ওয়েস্কেল পার হয়ে চলাচল করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন। একই সঙ্গে স্ট্যাক ইয়ার্ড এলাকা সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবহারের নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে সেতুর পট বিয়ারিংয়ের সংস্কার ও প্রতিস্থাপন কার্যক্রমও তিনি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সতর্কতার সঙ্গে দ্রুত কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি যমুনা রেল সেতু চালুর পর মূল সেতু থেকে রেল ট্র্যাক অপসারণের কাজও দেখেন তিনি। এ বিষয়ে সেতুর স্থায়িত্ব ও যান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত টিমকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক)-২ প্রকল্পের আওতায় চলমান চার লেন সড়ক ও ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজও পরিদর্শন করা হয়। কাজের মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার নির্দেশ দেন সচিব। ইতোমধ্যে প্যাকেজ-৫ এর সড়কে বিটুমিনাসের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং আগামী ২৫ রমজানের মধ্যে সড়কটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ আব্দুল্লাহপুর জংশনও পরিদর্শন করেন তিনি। সেখানে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে রাজধানীর প্রবেশমুখে যানজট কমাতে জংশনটির সংস্কার ও আধুনিকায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
পরিদর্শন শেষে সচিব বলেন, "দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে যমুনা সেতু ও সাসেক-২ প্রকল্পের ভূমিকা অপরিসীম। জনগণের যাতায়াত আরামদায়ক করতে এবং পণ্য পরিবহনে গতিশীলতা আনতে প্রতিটি প্রকল্পের কাজ শতভাগ মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ করে নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলোর কারণে যেন এবার ঈদ যাত্রাতে কোন রকমের জনভোগান্তি না হয়, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।"
বর্তমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ঢাদসিক)। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ আবদুস সালামের নির্দেশে সংস্থার ব্যয় সংকোচন ও সম্পদ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আজ সোমবার (৯ মার্চ) এই দপ্তর আদেশ জারি করা হয়েছে।
দপ্তর আদেশে জানানো হয় যে, বিদুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের নিমিত্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহের পরিমাণ ৩০% কমিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া, শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাজে নিয়োজিত যানবাহনের ক্ষেত্রেও জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ ২০% হ্রাস করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক কাজে গাড়ির ব্যবহার সীমিত করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গৃহীত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাসমূহ:
বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দিনের বেলা পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার পরিহার করতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে জানালা, দরজা বা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অফিসে বিদ্যমান বৈদ্যুতিক বাতির অর্ধেক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় লাইটের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। এছাড়া অফিস চলাকালীন ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি প্রয়োজন ছাড়া চালানো যাবে না।
এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা অবশ্যই ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার উপরে রাখতে হবে। অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় বাতি, ফ্যান ও এসি বন্ধ করার পাশাপাশি অফিসের করিডোর, সিঁড়ি ও ওয়াশরুমে অপ্রয়োজনীয় বাতি জ্বালানো যাবে না। অফিস সময় শেষ হওয়ার পর কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানারসহ সকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে এবং সব ধরনের আলংকারিক আলোকসজ্জা পরিহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সকল বিভাগ ও আঞ্চলিক অফিসসমূহকে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ প্রদান করেছেন ডিএসসিসি প্রশাসক। সংস্থার সচিব মোহাম্মদ নাছিম আহমেদ স্বাক্ষরিত দপ্তর আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) পদে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডা. ফখরুদ্দীন মোহাম্মদ সিদ্দিকী (এফ এম সিদ্দিকী)।
ডা. এফ এম সিদ্দিকীর নিয়োগের বিষয়টি আজ সোমবার স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা–১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। এতে উপসচিব সঞ্জীব দাশ সই করেছেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯৮ (২০২৫ সনের ১২ নম্বর অধ্যাদেশ বলে সংশোধিত)’–এর ১২ ধারা অনুযায়ী ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীকে শর্তসাপেক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগের শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীর নিযুক্তির মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর হবে। তিনি বেতন-ভাতাসহ বিধি অনুযায়ী উপাচার্যের পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। উপাচার্য হিসেবে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯৮ (২০২৫ সনের ১২ নম্বর অধ্যাদেশ বলে সংশোধিত)’–এর ১৪ ধারা অনুযায়ী তাঁর দায়িত্বাবলী পালন করবেন। রাষ্ট্রপতি ও আচার্য প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
দেশের বর্তমান জ্বালানি তেল সরবরাহ পরিস্থিতি এবং এর চারপাশের উদ্ভূত জটিলতা নিরসনে এক বড় ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। জননিরাপত্তা এবং দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (কেপিআই) জ্বালানি স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় প্রধান তেল ডিপোগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিশেষ বার্তায় এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা এবং দেশীয় বাজারে তেলের অস্বাভাবিক চাহিদা সৃষ্টির প্রেক্ষিতে যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এই সামরিক প্রহরা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের বার্তা অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তেলের পাম্প ও ডিলারদের পক্ষ থেকে হঠাৎ করে চাহিদার বড় ধরণের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় বিভিন্ন অঞ্চলের তেল বিপণন কেন্দ্র এবং ডিপোগুলোতে শ্রমিক, চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং কেপিআইভুক্ত এই স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে। এর ফলে জাতীয় জ্বালানি গ্রিডে তেলের মজুদ ও বণ্টন প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল এবং নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরকার প্রাথমিক তালিকায় বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ডিপোকে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত প্রধান তেল স্থাপনা, খুলনার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুরের পার্বতীপুর এবং বরিশালের প্রধান জ্বালানি ডিপো। এসব এলাকাগুলোতে বিপুল পরিমাণ তেলের মজুদ থাকায় এদের নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টি বর্তমান পরিস্থিতির বিচারে সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে। ইতিমধেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় মোতায়েনের কার্যক্রম শুরু করার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, জ্বালানি তেল সরবরাহে রেশনিং চালুর পর থেকে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ও ডিপোতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ সারি এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যাচ্ছিল। এর রেশ ধরে যাতে কোনোভাবেই নাশকতামূলক বা অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ডিলার এবং বিতরণকারী কোম্পানিগুলোকে সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে শৃঙ্খলার সাথে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী মোতায়েনের ফলে সাধারণ গ্রাহক ও পরিবহন চালকদের মাঝে তেলের জোগান নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর হবে এবং বণ্টন ব্যবস্থা পুনরায় স্থিতিশীল হবে বলে সরকার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক (লিগ্যাল) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আইন ও বিচার বিভাগের সংযুক্ত কর্মকর্তা (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ আলী হোসাইন।
তাকে মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ দিয়ে সোমবার (০৯ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
একইসঙ্গে তার চাকরি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তজনা এবং ওই অঞ্চলের আকাশপথের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বড় ধরনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সোমবার (৯ মার্চ) এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে বিমানের ফ্লাইট আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া আরও দুটি রুটে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিমানের ঘোষণা অনুযায়ী, কাতার ও কুয়েতসহ আরব আমিরাতের বেশ কিছু গন্তব্যে বিমান চলাচল বন্ধ থাকছে। এর মধ্যে দোহা, শারজাহ, কুয়েত ও দাম্মাম রুটে বিমানের ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। অন্যদিকে, দুবাই ও আবুধাবি রুটে আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত সকল ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আকাশপথ ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন ও যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমান।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট পরিচালনা ব্যবস্থায়। ইরান, ইরাক, বাহরাইন ও জর্ডানসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহারে সতর্কতা জারি থাকায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে। পরিসংখ্যান বলছে, সোমবার পর্যন্ত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৩০০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে বিভিন্ন এয়ারলাইনস। এর মধ্যে রবিবারও বাতিল হয়েছে অন্তত ২৬টি গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট।
বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর তালিকায় কেবল বিমান বাংলাদেশ নয়, রয়েছে বিশ্ববিখ্যাত সব এয়ারলাইনসও। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—এয়ার অ্যারাবিয়া (৬টি), ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস (৫টি), কাতার ও এমিরেটস এয়ারলাইনস (৪টি করে) এবং জাজিরা এয়ারওয়েজ (৪টি)। এছাড়া সৌদি অ্যারাবিয়ান, কুয়েত এয়ারওয়েজ, গালফ এয়ার ও ইউএই ভিত্তিক অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ফ্লাইটগুলোও নিয়মিত সিডিউল অনুযায়ী যাত্রা করতে পারছে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলা এই সংকট ক্রমে ঘনীভূত হচ্ছে। রেকর্ড বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১ মার্চ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত গড়ে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০টি করে ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। আকাশপথে এমন অচলাবস্থার কারণে হাজার হাজার রেমিট্যান্স যোদ্ধা ও প্রবাসী কর্মী আটকা পড়ে বিমানবন্দরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা দ্রুত প্রশমিত না হলে এভিয়েশন খাতের এই ক্ষতি ও অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট ব্যবস্থাপনায় এক নজিরবিহীন জরুরি পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিএনপি সরকার নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, যদিও একটি রাজনৈতিক মহল নারীদের খাটো করে দেখে ও ঘরে আটকে রাখার চেষ্টা করছে।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এলজিইডি ভবনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এলজিইডি কর্তৃক নির্বাচিত ‘শ্রেষ্ঠ আত্মনির্ভরশীল নারী সম্মাননা ২০২৬ অনুষ্ঠানে’ এমন মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটি পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে জনগণের কল্যাণের জন্য ম্যান্ডেট পেয়েছে বিএনপি। তারেক রহমান অনেকগুলো পরিবর্তনের কথা বলেছেন। প্রথম ঢাকায় নেমে যে পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন শুরু করেছেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর আশা, বিধ্বস্ত রাষ্ট্র আর ধ্বংস হয়ে যাওয়া অর্থনীতি নিয়ে দেশ পরিচালনা করলেও শিগগিরই ইতিবাচকভাবে সব ঘুরে দাঁড়াবে। এসময় সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় ৯ জন নারীকে সম্মাননা দেয়া হয়।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৪ বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বাহরাইন ও দুবাইয়ে ১ জন করে এবং সৌদি আরবে ২ জন নিহত হয়েছেন।
দুবাইয়ে নিহত আহমদ আলীর লাশ গ্রহণকালে আজ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ও নিহতের স্বজনরা।
নুরুল হক আরো জানান, নিহত প্রবাসী বাংলাদেশীদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে সরকার।
তিনি আরো বলেন, এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ১৪ জন বাংলাদেশী আহত হয়েছেন। তাদের সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস পূর্ণাঙ্গ সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা যেন যতটুকু সম্ভব সংঘাতপূর্ণ এবং বিশেষ করে যে স্থানগুলো আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে সেসব এলাকা এড়িয়ে চলে। সতর্কতার সাইরেনসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নির্দেশনা মেনে চলা এবং ওইসব দেশের আইনবিরোধী কোনো কনটেন্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় না দেয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
বিমানবন্দরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘আসলে আমরা এখানে এসেছি খুবই হৃদয়বিদারক একটা অবস্থায়, বলার কিছুই নেই। আমরা সব সময় বলে এসেছি যে বাংলাদেশের কাছে নাগরিকদের নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
আহমেদ আলীর মরদেহ আজ সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এমিরেটসের ফ্লাইট যোগে ঢাকা পৌঁছে। নিহতের লাশ প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট বিমানবন্দরে গ্রহণ করে সেখান থেকে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার গ্রামের বাড়িতে দাফন সম্পন্ন করবেন।
দেশের দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সরাসরি সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের আরও ১৪টি স্থানে একযোগে এই বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। মূলত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক স্বাবলম্বিতা প্রদানের লক্ষ্যে সরকারের এই বিশেষ পাইলট প্রকল্প শুরু হচ্ছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক এই প্রকল্পে মোট ৩ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কর্মসূচিটির সুচারু বাস্তবায়নে আগামী জুন মাসের মধ্যে প্রথম ধাপের ৪০ হাজার কার্ড বিতরণ শেষ করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় চলতি মার্চ মাস থেকেই প্রতি মাসে ১০ হাজার করে নতুন কার্ড সুবিধাভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। জুন পর্যন্ত মোট চার ধাপে এই ৪০ হাজার অভাবী পরিবারের তালিকায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় থাকা প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারের এই মহতী উদ্যোগের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা। পরিবারের ‘মা’ বা নারী প্রধানের নামে কার্ডটি ইস্যু করা হবে এবং মাসিক এই ভাতার টাকা সরকারি কোষাগার থেকে সরাসরি তাঁর মোবাইল ব্যাংকিং ওয়ালেট অথবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এর পাশাপাশি এই স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে ওটিপি যাচাইকরণের মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবি থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন। ভবিষ্যতে শিক্ষা উপবৃত্তি এবং কৃষি ভর্তুকির মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাসমূহও এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছেন ভূমিহীন, গৃহহীন, প্রতিবন্ধী সদস্য সম্বলিত পরিবার, হিজড়া, বেদে এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার। এছাড়া যেসব কৃষকের আবাদি জমির পরিমাণ দশমিক ৫ একর বা তার চেয়ে কম, তাঁরাও এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন। ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বাজেটকে জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার যে রাষ্ট্রীয় লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের এই নতুন নীতিমালাটি সেই পথের অন্যতম বড় পদক্ষেপ।
তবে জনস্বার্থ রক্ষায় এই সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কিছু কঠোর নিষেধাজ্ঞাও রাখা হয়েছে। স্বচ্ছল ব্যক্তিদের এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া রোধ করতে নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি বা পেনশনভোগী চাকরিজীবী হলে তাঁরা কার্ড পাবেন না। এছাড়া বাড়িতে এসি বা গাড়ি ব্যবহারকারী এবং বাণিজ্যিক লাইসেন্সধারী কোনো বড় ব্যবসায়ী বা বিলাসবহুল সম্পদের মালিকদেরও এই সুবিধার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কয়েকটি গ্রামে মাঠ পর্যায়ের যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে এবং সেখানকার হতদরিদ্র মানুষ ঈদের আগেই এই ফ্যামিলি কার্ড হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। সব মিলিয়ে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমানে বড় ধরণের ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করছে সরকার।
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মুহা. মনিরুজ্জামান।
সোমবার (৯ মার্চ) তাকে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে এ নিয়োগ দিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।
মনিরুজ্জামান স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।
মুহা. মনিরুজ্জামান প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী অতিরিক্ত দায়িত্ব ভাতা পাবেন বলে অফিসে আদেশে জানানো হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম ব্যাপারী পদত্যাগ করেন। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর তা গৃহীত হয়।
আজ সোমবার (৯ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন। ২০২৬ সালের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকটি দেশের শিল্পায়ন ও বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
সাক্ষাৎকালে বেপজা চেয়ারম্যান বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক রূপকল্প বাস্তবায়নে দেশের আটটি ইপিজেড-এর সার্বিক কার্যক্রম, চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন।
সোমবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যানের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।