বুধবার, ২০ মে ২০২৬
৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় কাল পুলিশ সপ্তাহ শুরু 

ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৮:৫৫

বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় প্রতিবারের মতো এবারও বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে ছয় দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহ ২০২৪ শুরু হচ্ছে কাল মঙ্গলবার। পুলিশ সপ্তাহ চলবে ৩ মার্চ পর্যন্ত। এবারের পুলিশ সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য- ‘স্মার্ট পুলিশ স্মার্ট দেশ, শান্তি প্রগতির বাংলাদেশ’।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন করবেন। তিনি পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের নয়নাভিরাম, সুশৃঙ্খল ও দৃষ্টিনন্দন প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামলূক ভাষণ দেবেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) স্টল পরিদর্শন করবেন। তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে কল্যাণ প্যারেডে ভাষণ দিবেন।
এবার পুলিশ সপ্তাহের বার্ষিক পুলিশ প্যারেডে কমান্ডার হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিসি মো. সোহেল রানা। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্টের পুলিশ সদস্যরা প্যারেডে অংশ নেবেন।
পুলিশ সপ্তাহ-২০২৪ উপলক্ষে গত ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে এবছরের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ৩৫ জন পুলিশ সদস্যকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ৬০ জনকে ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ৯৫ জন পুলিশ সদস্যকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ এবং ২১০ জনকে ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা’ পদকে ভূষিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী পদকপ্রাপ্তদের পদক পরিয়ে দেবেন।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ-আইজিপি) বাণী দিয়েছেন।
এছাড়া, পুলিশ সপ্তাহের গুরুত্ব তুলে ধরে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এ উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে ।
পুলিশ সপ্তাহের উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতির ভাষণ, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধান বিচারপতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইজিপির সম্মেলন, আইজি’জ ব্যাজ, শিল্ড প্যারেড, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার পুরস্কার বিতরণ ইত্যাদি।
এ ছাড়াও পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন কর্ম অধিবেশনে বিগত এক বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে পরবর্তী বছরের কর্মপরিকল্পনা নেয়া হবে।


সেবা দেওয়া জনগণের প্রতি করুণা নয়, সরকারের দায়িত্ব

* স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই *  ভূমি মেলা আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করবে * ভূমি অফিসে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ন্যায়ভিত্তিক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। সেবা দেওয়া জনগণের প্রতি করুণা নয়, সরকারের দায়িত্ব। আমাদের লক্ষ্য একটি দুর্নীতিমুক্ত, হয়রানিমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর ও নাগরিকবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা, যা দেশের টেকসই উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে।’ মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, আজ থেকে হয়তো ১০০ বছর আগে, যে জমির মালিক ছিলেন মাত্র একজন, সময়ের পরিক্রমায় বর্তমানে সেই জমির মালিক হয়তো ১০০ কিংবা তারও বেশি। এভাবে ভূমির মালিকানা-শরিকানা যেমন বেড়েছে, স্বাভাবিকভাবেই জমির মালিকানা-সংক্রান্ত পুরো প্রক্রিয়াকে রেকর্ডে রাখার জন্য ভূমি কর্মকর্তাদের দায়িত্বও তেমন বেড়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালিকানা, খাজনা, দলিল, খতিয়ান, দাগ, পর্চা, নামজারি, জমা-খারিজ, মৌজা, সিএস, আরএস বা ডিএস এই শব্দগুলোর সঙ্গে জমির মালিকমাত্রই কমবেশি পরিচিত। ফলে এসব বিষয়ে নিজেদের মালিকানা হালনাগাদ রাখতে মানুষকে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে আসতে হতো। তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সাথে সাথে ভূমি ব্যবস্থাপনাও আধুনিক হয়েছে।

ভূমি-জমি ব্যবস্থাপনা যত বেশি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করা যায়, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পথও তত বেশি সহজ হয়ে যায়—উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অনলাইন সুবিধা নিশ্চিত করায় জমি-সংক্রান্ত দুর্ভোগ অনেকটা লাঘব হবে। একইসঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভূমি অফিসগুলোতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও কমবে। চলমান এই ভূমি মেলা আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জনগণের নিজেদের দায়দায়িত্ব সম্পর্কে আরো সচেতন করবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথাপিছু জমির পরিমাণও কমে আসছে। ফলে জমির অর্থনৈতিক মূল্য যেমন বাড়ছে, তেমনি জমি নিয়ে বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা এবং জটিলতাও বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব বিরোধ ব্যক্তি ও পরিবারের শান্তি নষ্ট করার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও প্রতিবন্ধকতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার, নির্ভুল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা বর্তমানে সময়ের অপরিহার্য দাবি।

উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নির্ভুল ভূমি রেকর্ড প্রস্তুত করতে ভূমি মন্ত্রণালয় কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমি প্রশাসনের প্রায় সকল সেবাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে নাগরিকদের জন্য সেবা গ্রহণকে আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য এমন একটি ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, যেখানে ভূমিসেবা গ্রহণের জন্য মানুষকে আর অযথা অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না, দুর্নীতি বা হয়রানির শিকার হতে হবে না।

দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে জনগণকে সহায়তার লক্ষ্যে সারাদেশে ভূমিসেবা মেলা আয়োজন এবং জমি ব্যবস্থাপনাকে আরো সহজ এবং আধুনিকায়ন করার ব্যাপারে আমরা জাতীয় নির্বাচনের কয়েক বছর আগে প্রণীত ৩১ দফা এবং সর্বশেষ নির্বাচনী ইশতেহারেও উল্লেখ করেছিলাম।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়েই নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চায়। কারণ, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট দেশের জনগণ বর্তমানে রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে তাদের অধিকারের প্রতিফলন দেখতে চায়। এ কারণেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম সপ্তাহ থেকেই নির্বাচনী ইশতেহার এবং জুলাই সনদের প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ের আদালতগুলোতে দেওয়ানি এবং ফৌজদারি সব মিলিয়ে ৪৭ লাখেরও বেশি মামলা বিচারাধীন। এরমধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত মামলার সংখ্যাই বেশি। সুতরাং, এ মুহূর্তে সরকারের সামনে প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে আদালতে বিচারাধীন মামলার দ্রুততম নিষ্পত্তি। তবে প্রচলিত আদালতের বাইরেও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম আদালত কিংবা এডিআর (বিকল্প বিবাদ নিরসনের ব্যবস্থা) অর্থাৎ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মতো আইনানুগ মাধ্যম অবলম্বনের দিকে আরো জোর দেয়া জরুরি। এতে একদিকে বিরোধ নিষ্পত্তিতে যেমন অল্প সময় লাগবে অপরদিকে অনেকক্ষেত্রেই বিরোধ হয়তো শত্রুতায় রূপ নেবে না।

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আলবার্ট আইনস্টাইনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ উক্তির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছেন, ‘শক্তি দিয়ে শান্তি রক্ষা করা যায় না, বোঝাপড়ার মাধ্যমেই এটি অর্জন করা সম্ভব’।

বিশেষ করে জমিজমা সংক্রান্ত মামলা বা দেওয়ানি মামলাগুলো পর্যায়ক্রমে সমঝোতা বা মধ্যস্থতা, সালিশের মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির পথ কার্যকর করা গেলে একদিকে আদালতে বিচারাধীন মামলার জট কমবে, অপরদিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করাও সহজ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমি বা ভূমি শুধু একটুকরো সম্পদই নয় বরং মানুষের জীবনে এটি এক ধরনের নিরাপত্তা, নির্ভরতা, অর্থনৈতিক স্থিতি, জীবিকা এবং ভবিষ্যতের ভিত্তি। এই উপলব্ধি থেকেই ভূমি ব্যবস্থাপনাকে হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের সকল জেলা উপজেলায় আজ থেকে শুরু হওয়া ভূমি মেলার মাধ্যমে জনগণ নিঃসন্দেহে উপকৃত হবেন। কারণ মেলায় ই-নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, রেকর্ড সংশোধন, খতিয়ান গ্রহণ এবং ভূমি সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির সুবিধা থাকছে।

ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং ভূমি সচিব এ এস এম সালেহ উদ্দিন বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে সমাজ কল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, আইন ও বিচার মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ সংসদ সদস্য ও সরকারের ঊধর্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।


গণমাধ্যম কমিশন হচ্ছে, জুনের মধ্যেই পরামর্শক কমিটি: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার গণমাধ্যম কমিশন গঠন হচ্ছে জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সমন্বিত রেগুলেশনের জন্য দেশে একটি গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। এ নিয়ে জুনের মধ্যেই পরামর্শক কমিটি গঠন করে একটি খসড়া প্রস্তাব সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এ কথা জানিয়েছেন।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সমন্বিত রেগুলেশনের মধ্যে রাখতে গণমাধ্যম কমিশন গঠন করতে প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছেন তিনি। নির্বাচনী ইশতেহারে ও বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচিতেও এটি বলা হয়েছে। তারা সেই লক্ষ্যে এগোতে চান। অগ্রগতি হচ্ছে, সব অংশীজনই এখন এই লক্ষ্যের সঙ্গে যৌথ যাত্রার মধ্যে আছেন।

তিনি আরও বলে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জুন মাসের মধ্যে পরামর্শক কমিটি গঠন করে একটি খসড়া প্রস্তাব সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আশা করছেন, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সরকারের কাছে এই প্রস্তাব দেওয়া সম্ভব হবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন।


গণতন্ত্র না থাকলে কোনো ক্ষেত্রেই উন্নয়ন সম্ভব নয়: চিফ হুইপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, গণতন্ত্র না থাকলে কোনো ক্ষেত্রেই উন্নয়ন সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্র সবসময় আমাদের গণতান্ত্রিক যাত্রায় পাশে থেকেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের চমৎকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের তৈরি পোশাক শিল্প খাতের বড় একটি বাজার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল আইটি চাকরি তৈরির যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তাতে প্রযুক্তিতে উন্নত যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সহযোগিতা করবে বলে আমি আশা করি।

মঙ্গলবার (১৯ মে) চিফ হুইপের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

চিফ হুইপের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মিশনের উপপ্রধান মেগান বলডিন, রাজনৈতিক উপদেষ্টা এরিক গিলান ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ফিরোজ আহমেদ। সাক্ষাতের সময় তারা বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র, গণতন্ত্রের উন্নয়ন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনর্যাত্রা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, উন্নয়ন, বাণিজ্যিক সম্পর্ক, জাতীয় সংসদের অধিবেশন ও সংসদ ভবনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

অর্থনৈতিক উন্নয়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি প্রান্তিক জনগণের উন্নয়নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও কৃষি ঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। এগুলো বাস্তবায়নে গণতন্ত্রের যাত্রা মসৃণ হওয়া অত্রাবশ‌্যক। গণতন্ত্র না থাকলে কোনো ক্ষেত্রেই উন্নয়ন করা সম্ভব নয়।

চিফ হুইপ বলেন, সংসদ হলো গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র। গণতন্ত্রের প্রতীক, এ ভবনের নির্মাতা লুই আই কানকে জনগণ সবসময় শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত মিশনের উপপ্রধান মেগান বলডিন বলেন, এটি দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের একটি শক্তিশালী প্রতীক। আমেরিকান স্থাপত্যের ছাত্ররা প্রায়ই এ ভবনটি দেখার ইচ্ছা পোষণ করে, কারণ এটি লুই কানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে পরিচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সবসময় প্রতিটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে।

এছাড়াও, প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের শ্রম আইন সংস্কারের প্রশংসা করে। পাশাপাশি এ সংস্কারকে ওয়াশিংটনে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে বলে জানায় প্রতিনিধি দল।

দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে দুর্নীতি দমন, পরিবেশ রক্ষা এবং বন্যপ্রাণী পাচার রোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে সংক্রামক ব্যাধি মোকাবিলার জন্য ৫ বছরে ৯০ মিলিয়ন ডলারের সহায়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।

সাক্ষাৎকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


জুনের শেষেই চালু হচ্ছে চট্টগ্রাম-ঢাকা তেল পাইপলাইন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি তেলের জন্য চট্টগ্রাম-ঢাকা তেল পাইপলাইনের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী জুন মাসের শেষে পুরোদমে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ শুরু হবে। মঙ্গলবার (১৯ মে) জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় উপস্থিত একাধিক সদস্য বলেছেন, দেশে জ্বালানি তেলের তিন মাসের মজুত রাখার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সেক্টরকে অটোমেশন করা, এনার্জি সোর্স বহুমুখী করা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। সংকট হওয়ায় সরকারের সচেতনতা বাড়ছে। এখন মজুত বৃদ্ধি হতে শুরু করে ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

বৈঠক সূত্রে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের মজুত বৃদ্ধির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপনে উদ্বুদ্ধ করার কথা আলোচনা হয়। এ সময় সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা একমত হন। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জ্বালানি নিয়ে স্থায়ী বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে আনা ক্রুড অয়েল যেন পরিশোধন করা যায়, সে ব্যবস্থা রাখার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফিলিং স্টেশন স্থাপন, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা যুগোপযোগীকরণের কাজ চলমান আছে। গ্যাস বিপণন নিয়মাবলি ২০১৪ হালনাগাদপূর্বক গ্যাস বিপণন নিয়মাবলি ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে।

বৈঠকে জ্বালানি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিরোধী দলের সদস্যদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ লিখিত আকারে কমিটির কাছে পাঠাতে আহ্বান করা হয়। কমিটি জ্বালানি নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ সংসদে রিপোর্ট প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

কমিটির সভাপতি ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মঈনুল ইসলাম খান, সাইফুল আলম, নূরুল ইসলাম, আবদুল বাতেন, আবুল হাসনাত ও মোহাম্মদ আবুল হাসান।


পাট খাত ৭ বিলিয়ন ডলারের শিল্পে উন্নীত করার লক্ষ্য সরকারের: বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী

আপডেটেড ১৯ মে, ২০২৬ ২০:৪০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা, উন্নত বীজ উৎপাদন এবং বহুমুখী পাটপণ্যের প্রসারের মাধ্যমে দেশের পাট খাতকে বর্তমান প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় থেকে ৫ থেকে ৭ বিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী শিল্পে পরিণত করা সম্ভব। মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকার ফার্মগেটে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রোমোশন সেন্টারে আয়োজিত বহুমুখী পাটপণ্য মেলা-২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেছেন তিনি।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে। সে সময় মোট রপ্তানি আয় ছিল ৩৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে পাট খাতের অবদান ছিল ৩১৩ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয় ৫০ থেকে ৫৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হলেও পাট খাতের অবদান প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এ বাস্তবতায় পাট খাতের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে কাজে লাগাতে সরকার সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পাট খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে দেশে উন্নত মানের পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন। বর্তমানে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৬ হাজার টন পাট বীজের চাহিদা পূরণে আমদানির ওপর নির্ভরশীল।’

এই নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয়ভাবে মানসম্মত পাটবীজ উৎপাদন নিশ্চিত করা হবে। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘কৃষককে ন্যায্যমূল্য দিতে হলে পাটপণ্যের বহুমুখীকরণ, নতুন নকশা উদ্ভাবন এবং উচ্চমূল্যের বাজার সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে।’

তিনি জানান, পাট ও চামড়া খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উন্নত বীজ উদ্ভাবন, নতুন পণ্য উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজার উপযোগী ডিজাইন তৈরিতে সহযোগিতা জোরদার করতে চীনের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রোমোশন সেন্টার এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো দ্রুত বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে আধুনিকায়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মুনাফাভিত্তিক পরিচালনা নিশ্চিত করা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাট খাতের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত আগ্রহী। তার নেতৃত্বে সরকার সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনার আওতায় পাট খাতের প্রতিটি পর্যায়ের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম বলেন, ‘সকলে মিলে পাটশিল্পের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক বিপ্লবকে এগিয়ে নিতে হবে। তাহলেই পাট তার অতীত গৌরব ফিরে পাবে, বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাটচাষিসহ পাটশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। পাশাপাশি গ্রাম ও শহরে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।’


নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বাড়তে থাকা যৌন সহিংসতা, নির্যাতন ও নৃশংস আচরণের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। মঙ্গলবার (১৯ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ সমাবেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, পরিবার ও গণপরিসরে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেছেন মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি মোমেনা শাহনূর। বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা, আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি, সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে নারী, কন্যাশিশু এমনকি ছেলেশিশুরাও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন ও জনপরিসর কোথাও শিশুরা নিরাপদ নয়। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে সহিংসতা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে মোমেনা শাহনূর বলেন, শত শত নির্যাতনের ঘটনার বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, একটি ছেলে শিশুও মাদ্রাসায় নিরাপদ নয়, কন্যাশিশুরাও কোথাও নিরাপদ নয়। আমরা নীরব থাকলে কখনও এই বিচারহীনতা শেষ হবে না। তিনি নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।

ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের সংবেদনশীলতা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। তার ভাষ্য, দেশে সংঘটিত সহিংসতার মাত্র ৩ শতাংশ ঘটনার বিচার হয়, বাকি ৯৭ শতাংশই বিচারের বাইরে থেকে যায়। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের বিচারহীনতা, মব সন্ত্রাস ও প্রতিহিংসার রাজনীতি সমাজকে অমানবিক করে তুলছে।

লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত মাত্র তিন মাসে ৫৫৬ জন নারী সহিংসতার শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় কোমলমতি শিশু ও তরুণীরা বর্বর যৌন সহিংসতার শিকার হচ্ছে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ভয়াবহতা বিবেচনায় সারা দেশের ৫৭টি জেলা শাখায় একযোগে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি বলেন, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। তিনি নাগরিকদের এ বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

বক্তব্য শেষে প্রস্তাব পাঠ করেন ঢাকা মহানগরের সদস্য ও শাহজাহানপুর পাড়া শাখার লিগ্যাল এইড সম্পাদক কাজী দ্রাকসিন্দ্রা জবীন টুইসি। প্রস্তাবে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে ‘শূন্য সহিংসতা নীতি’ গ্রহণ, দ্রুত বিচার নিশ্চিত, ধর্ষকের সঙ্গে ভুক্তভোগীর বিয়ে ও সালিশি মীমাংসা বন্ধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটি গঠন এবং গণপরিবহন ও গণপরিসরে নারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন খিলগাঁও তিলপাপাড়া শাখার সাধারণ সম্পাদক খালেদা ইয়াসমিন কণা।


বিদ্যুৎ বিভাগের নতুন সচিব মিরানা মাহরুখ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। আর বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন মিরানা মাহরুখ। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের এই অতিরিক্ত সচিবকে পদোন্নতি দিয়ে সচিব করে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিসিএস ১৫তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ফারজানা মমতাজকে ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব করা হয়েছিল। এর আগে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব ছিলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে সচিব, জেলা প্রশাসক থেকে শুরু করে জনপ্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়েই পরিবর্তন করা হচ্ছে।


বেবিচকে আইকাও প্রশিক্ষক কোর্সের সনদ বিতরণী অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সিভিল এভিয়েশন একাডেমির উদ্যোগে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) প্রণীত ট্রেনিং ইনস্ট্রাক্টরস কোর্সের (টিআইসি) সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) বেবিচকের সদর দপ্তরের অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বেবিচকের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নিয়োজিত ২৪ জন কর্মকর্তা সফলভাবে টিআইসি কোর্স সম্পন্ন করে সনদ গ্রহণ করেন। আয়োজকেরা জানান, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষক তৈরির মাধ্যমে দেশের এভিয়েশন খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালক প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী ‘ওভারভিউ অব এভিয়েশন ট্রেনিং’ শীর্ষক উপস্থাপনায় আইকাওর গ্লোবাল এভিয়েশন ট্রেনিং (জিএটি), ট্রেইনএয়ার প্লাস প্রোগ্রাম, প্রশিক্ষণের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথি ছিলেন বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা, কক্সবাজার বিমানবন্দরের উন্নয়নসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ জনবল প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সিভিল এভিয়েশন একাডেমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, একাডেমি বর্তমানে ‘রুলস অব দ্য এয়ার’ এবং ‘এরোড্রোম অপারেশনস ফর এটিসিওস’ নামে দুটি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কোর্স উন্নয়নের কাজ করছে। এসব কোর্স ভবিষ্যতে বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বলেন, এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট, এভিয়েশন সিকিউরিটি, এরোড্রোম অপারেশনস ও রেসকিউ অ্যান্ড ফায়ার ফাইটিংসহ বিভিন্ন খাতে প্রশিক্ষণ চাহিদা মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সিমুলেশন, মাঠপর্যায়ের অনুশীলন ও পারফরম্যান্স মূল্যায়নের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের প্রশিক্ষণ নিরাপত্তা ও দক্ষতা বাড়াবে।
সিভিল এভিয়েশন একাডেমির পরিচালক প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তী বলেন, কোর্স সম্পন্নকারী কর্মকর্তারা এখন আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষক হিসেবে সক্ষমতা-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ পরিচালনা করতে পারবেন। জব টাস্ক অ্যানালাইসিস ও ট্রেনিং নিড অ্যাসেসমেন্টের ভিত্তিতে একাডেমিকে আঞ্চলিক উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে বেবিচকের সদস্য, পরিচালক, উপপরিচালক, সহকারী পরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।


ভূমিসেবা মেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’ এর উদ্বোধন করেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৯ মে, ২০২৬ ১২:৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও নাগরিকবান্ধব করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন করেছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ভূমি ভবনে একটি বাটন প্রেসের মাধ্যমে দেশব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। এই মেলা আগামী ২১ মে পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় অনুষ্ঠিত হবে। এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ভূমি এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’।

উদ্বোধনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী ভূমি ভবনের বিভিন্ন স্টল ও সেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কল সেন্টার, নাগরিক সেবা কেন্দ্র এবং ডে-কেয়ার সেন্টারের কার্যক্রম সরেজমিনে দেখেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকদের কাছে নতুন ডিজিটাল ভূমি সেবাসমূহকে পরিচিত করানো, তাঁদের এ সম্পর্কে সচেতন করা এবং প্রান্তিক পর্যায়েও সেবাগুলো পৌঁছে দেওয়া।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতীতে ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে দীর্ঘসূত্রতা, হয়রানি ও দুর্নীতির নেতিবাচক ধারণা প্রচলিত ছিল, বর্তমান সরকার অটোমেশন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে তা দূর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই মেলার মাধ্যমে নাগরিকরা ঘরে বসেই ই-নামজারি, খতিয়ান সংগ্রহ এবং অনলাইন ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা সম্পর্কে সরাসরি জানতে ও গ্রহণ করতে পারবেন। উদ্বোধনের পর ভূমি মন্ত্রণালয়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।


বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হচ্ছে: শামা ওবায়েদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম তাঁর সংক্ষিপ্ত ওয়াশিংটন সফরে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী গবেষণা সংস্থার নেতৃবৃন্দের সাথে অত্যন্ত ব্যস্ত ও ফলপ্রসূ সময় অতিবাহিত করেছেন। সোমবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের (ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট) উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) এবং আটলান্টিক কাউন্সিলের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে পৃথকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও তিনি মার্কিন ব্যুরো অব সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স (এসসিএ)-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারির সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সারেন।

বৈঠকগুলোতে শামা ওবায়েদ বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি ও সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘নিরপেক্ষ সুষ্ঠু ও সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে। দীর্ঘ বছর পর বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্বে পেয়েছে।’ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসা এই সরকারের উন্নয়ন নীতি এবং বিদেশ নীতি সম্পর্কে তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। বর্তমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি হয়েছে। পারস্পরিক ব‍্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে সম্পর্ক ক্রমশ জোরদার হচ্ছে।’

সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান বা নীতির ব্যাখ্যা দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষাই তাঁদের মূল অগ্রাধিকার। এ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘বিএনপি সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার নীতি খুব পরিষ্কার। যে কোনো কিছুতে প্রথমে এবং সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ। বাংলাদেশের মানুষের কাছে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। এই অবস্থান থেকে বিএনপি সরকার কখনও সরে যাবে না।’ তাঁর এই সফরের মধ্য দিয়ে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার ব্যবসায়িক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


প্রশ্নের মুখে ‘মিড-ডে মিল’, সংকটে মহৎ উদ্যোগ

# পচা কলা, ডিম, পাউরুটি দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায় # বিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রশাসনের গাফিলতির অভিযোগ # দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না, হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রীর # স্কুলে স্কুলে মায়েদের নিয়ে কমিটি গঠনের নির্দেশ
চট্টগ্রামের আনোয়ারার একটি স্কুলে পাকা কলার বদলে দেওয়া হয় আধা পাকা ও কাঁচা কলা। বরগুনার তালতলির একটি স্কুলে দেওয়া হয় পঁচা ডিম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাইয়ুম আহমেদ

দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার উদ্দেশে চালু হওয়া স্কুল ফিডিং কর্মসূচি ‘মিড-ডে মিল’ আজ গভীর প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে। যে উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল শিশুদের সুস্বাস্থ্য, ক্লাসে মনোযোগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা, সেই উদ্যোগই এখন ঢাকা পড়ে গেছে অনিয়মের চাদরে। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক দুর্নীতি, নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ আর প্রকাশ্য অর্থ লুটপাটের অভিযোগে তীব্রভাবে বিতর্কিত হয়ে উঠেছে এই প্রকল্প। পুষ্টির আড়ালে চলা এই বিশৃঙ্খলার আদ্যোপান্ত নিয়ে দৈনিক বাংলার বিশেষ প্রতিবেদন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কতিপয় অসাধু ঠিকাদারের (খাবার সরবরাহকারী) কারণে ভালো এই উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। এর বাইরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা প্রশাসনেরও গাফিলতি রয়েছে। স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা ডিম, রুটি ও অন্য খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। কোথাও পচা বা অখাদ্য ডিম, কোথাও শক্ত ও নিম্নমানের রুটি, আবার কোথাও নির্ধারিত পুষ্টিমান না মেনে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
বর্তমানে ১৫০ উপজেলায় বাস্তবায়িত এই কর্মসূচির তিন বছরের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ ১ হাজার ৯২ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছর থেকে আরও ৩৪৮ উপজেলায় এটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এতে মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।
দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ ১৮ হাজারের বেশি। এর মধ্যে সরকারি ৬৫ হাজার ৫৬৭টি। মোট শিক্ষার্থী ২ কোটি ১ লাখের বেশি। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ে ১ কোটি ৬ লাখের বেশি। ২০২৪ সালে ঝরে পড়ার হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশে, যা ২০২৩ সালে ছিল ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ।
সময়োপযোগী উদ্যোগ: সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন, বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি শুধু উপস্থিতি বাড়ায় না, শেখার ফলাফল উন্নত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য তিনি সরকারকে সাধুবাদ জানান। তবে খাবারের মানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। যেহেতু স্থানীয় পর্যায়ে পণ্য কিনতে হয়, তাই কোনো সিন্ডিকেটের কবলে যেন না পড়ে, তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। তদারকির ক্ষেত্রে মায়েদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। এই কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণ করা উচিত।
মান নিয়ে অভিযোগ: সরকারি দামে বরাদ্দ বেশি হলেও কোথাও কোথাও ১৪-১৫ টাকায় বানরুটি কেনা হয়। ডিম অনেক আগে থেকেই সেদ্ধ করে রাখা হয়। আবার কলা কাঁচা বা পচাও থাকে।
তালতলী (বরগুনা) : তালতলী উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং প্রকল্পের শিশু শিক্ষার্থীদের পচা ডিম ও রুটি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার বিরুদ্ধে। এতে শিশু শিক্ষার্থীর মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া এবং শিক্ষায় অগ্রগতি মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
জানা গেছে, গত ২৯ মার্চ ওই সংস্থা ডিম, রুটি ও কলা সরবরাহ শুরু করেন। কিন্তু শুরুতেই কাঁচা কলা, পচা ডিম ও রুটি সরবরাহের অভিযোগ ওঠে ওই সংস্থার বিরুদ্ধে।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুদিনের রুটি একসঙ্গে বিদ্যালয়ে দিয়ে যান। মেয়াদ থাকলেও ওই রুটি পচা। এছাড়া কাটা ডিম সরবরাহ করলেও ওই ডিমের মধ্য থেকে অধিকাংশ ডিম পচা। সিদ্ধ করার সময় পচা ডিম ধরা না পরলেও শিশুরা যখন খেতে শুরু করে তখন দুর্গন্ধ বেড়িয়ে আসে। তখন এগুলো খাওয়ার উপযোগী থাকে না।
সরদারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইয়াসিন ও মারিয়া জানান, ডিম ও রুটি পচা। খাওয়ার উপযোগী না, তাই ফেলে দিয়েছি।
তারা আরও বলেন, আমরা তো ডিম, রুটি ও কলা সরকারের কাছে খেতে চাইনি। যখন দিয়েছে তা পচা হবে কেনো?
ছাতনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানান, পচা ডিম ও রুটি না খেয়ে ফেলে দিয়েছি।
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) : স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্কুলে পৌঁছানো হয়েছিল পচা ও কাঁচা কলা। ফলে উপজেলার অধিকাংশ স্কুল এসব কলা ফিরিয়ে দিয়েছে। মার্চ মাসে পচা ও কাঁচা কলার ছবি–ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়। ফলে প্রায় বিদ্যালয়ে বিস্কুট পেলেও সেদিন কলা পায়নি শিক্ষার্থীরা। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, ৮-১০টি স্কুলে এ সমস্যা হয়েছে।
এদিকে, নরসিংদীতে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে মিড-ডে মিলের খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। গত ২৫ এপ্রিল নরসিংদী শহরের বাসাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন তিনি। ওই সময় বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের খাবারের মান পর্যবেক্ষণ করেন এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ঘুরে দেখেন। খাবারের মান নিয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি সতর্ক করেন, মানোন্নয়ন না হলে কার্যাদেশ বাতিল করা হতে পারে।
পরিদর্শনের সময় শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা বানরুটিতে অস্বাভাবিক গন্ধ সন্দেহ হওয়ায় দুটি নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
তখন সাংবাদিকদের প্রতিমন্ত্রী জানান, সারাদেশে মিড-ডে মিলের মান পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যাতে শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবারে কোনো ত্রুটি না থাকে এবং তারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে উৎসাহিত হয়।
একইদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের চাতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল খেয়ে আবার ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও শিক্ষা কর্মকর্তা। অভিভাবকদের অভিযোগ, সম্প্রতি স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে বেশ কয়েকবার শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে।
বাপ্পি রায়হান নামের এক অভিভাবক জানান, তার সন্তান ২২ এপ্রিল বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল খেয়ে অসুস্থ হওয়ার পর থেকে বাড়িতে রয়েছে। একই খাবার খেয়ে পরে আরও ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে বলে শুনেছি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিনের মতো ২৫ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে তাদের পাউরুটি, দুধ, কলা ও ডিম বিতরণ করা হয়। এগুলো খাওয়ার কিছুক্ষণ পর একে একে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের বমি, তীব্র পেটব্যথা, মাথা ঘোরা ও চোখে জ্বালাপোড়া শুরু হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে স্কুলে গিয়ে দেখি- চারদিকে শুধু শিশুদের আহাজারি। কেউ বারবার বমি করছে, কেউ তীব্র পেটব্যথায় মাটিতে গড়াগড়ি করছে। কারও মাথা ঘোরায় ঠিক মতো দাঁড়াতে পারছে না। পুরো বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
চাতরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহা. মেফতাহুদ্দৌলা বলেন, গাক-এর দেওয়া খাবার খাওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে। ৫০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের সবারই পেটে ব্যথা ও বমি হয়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসেন খান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এতে কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এরও আগে ৮ এপ্রিল মাদারীপুর সদর উপজেলায় এই খাবার খেয়ে উপজেলার ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কিছু শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। ১৭ শিক্ষার্থীকে দ্রুত মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা মনে করেন, বর্তমান পদ্ধতিতে ঝুঁকি রয়েছে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে স্থানীয় পর্যায়ে তদারকি জোরদার করা গেলে মান নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। এ ছাড়া অভিযোগের কারণে বানরুটি, কলা ও ডিম পরিবর্তনের বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা বলছে, প্রথম দিকে সব খাবার দেওয়া হতো, এখন খাবার কম দেওয়া হয়। বিশেষ করে শুধু বানরুটি যেদিন দেওয়া হয়, সেদিন খেতে কষ্ট হয়।
কঠোর অবস্থানে সরকার: মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে গতকাল সোমবার মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিড-ডে মিল কার্যক্রম বাস্তবায়নে অত্যন্ত কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এ বিষয়ে কোনো অনিয়ম, গাফিলতি বা মানহীনতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকারমূলক দায়িত্ব।
প্রতিমন্ত্রী বৈঠকে পাঁচ দফা নির্দেশনা দেন। তিনি জানান, মিড-ডে মিল কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনুমোদিত নমুনা অনুযায়ী নির্ধারিত প্যাকেজিং কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য হবে না। সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পণ্য সরবরাহকারী চালক এবং জাতীয় পরিচয়পত্রধারী ব্যক্তি একই হতে হবে এবং সরবরাহের সময় বাধ্যতামূলকভাবে পরিচয় যাচাই করা হবে।
তিনি যোগ করেন, কোনো অবস্থাতেই সাব-কন্ট্রাক্ট বা উপঠিকাদারি দেওয়া যাবে না এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে স্বাক্ষরিত অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে। মিড-ডে মিল কার্যক্রমের মান ও গুণগতমান নিশ্চিত করতে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রতি মাসে দুইবার আকস্মিকভাবে কারখানা পরিদর্শন করবেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খাদ্য নিরাপত্তা ও সেবার মান তদারকিতে বিদ্যালয় পর্যায়ে মায়েদের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের অভিভাবক কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির একজন সদস্য এবং তিনজন অভিভাবক মা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, মিড-ডে মিলের প্রজেক্ট ডিরেক্টরসহ অন্য কর্মকর্তারা।
এর আগে মিড-ডে মিলের খাবার গ্রহণ ও বিতরণে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি, শৈথিল্য বা অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বলা হয়েছে, বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পচা বানরুটি, নষ্ট ডিম, ছোট ও পচা কলা বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে মানসম্মত খাদ্য সরবরাহে ঘাটতির কারণে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হওয়াসহ কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে খাদ্যের মান নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ পাওয়ামাত্রই দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। খাবারের মান রক্ষায় আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।
প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন দৈনিক বাংলার তালতলী(বরগুনা), আনোয়ারা (চট্টগ্রাম), নরসিংদী, মাদারীপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি।


এনইসিতে ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট পাস: যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বাধিক বরাদ্দ

আপডেটেড ১৯ মে, ২০২৬ ০০:২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড তিন লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে।

সভা শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ৩ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট পাস করা হয়েছে। আমরা আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিয়েছি। অনেক পর নির্বাচিত সরকার এডিপি পাস করেছে এবার এডিপি বাস্তবায়ন বাড়বে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, তিন লাখ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে এবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের হারও বাড়বে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের উন্নয়ন বাজেট সাজানো হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের চলমান প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ছয় হাজার আট কোটি টাকা। তবে এবারের এডিপির সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে অস্বাভাবিক থোক বরাদ্দ, যা মোট উন্নয়ন বাজেটের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি।

পরিকল্পনা কমিশনের কার্যপত্র অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের এডিপির মোট আকার ধরা হয়েছে তিন লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন বা জিওবি অংশ এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পের জন্য আরও আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকা যুক্ত হলে মোট উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় তিন লাখ আট হাজার ৯২৪ কোটি টাকারও বেশি।

এডিপিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা মিলিয়ে প্রায় এক লাখ ১৮ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সরাসরি প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ রয়েছে প্রায় এক লাখ ৮১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ উন্নয়ন বাজেটের একটি বড় অংশ এখনো নির্দিষ্ট প্রকল্পের বাইরে থাকছে, যা নিয়ে আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

কার্যপত্রে দেখা যায়, বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা খাতে রাখা হয়েছে ৩৮ হাজার ২৭ কোটি টাকা এবং সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতে আরো ১৭ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতায় থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে ৫৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এ ধরনের অনির্দিষ্ট বরাদ্দ এবার অনেক বেশি। কিন্তু একই বিভাগের জন্য থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, যা প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি। একইভাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্পে বরাদ্দ পাঁচ হাজার ৪৮ কোটি টাকা হলেও থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগেও তিন হাজার ৭৯ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

খাতভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি পাচ্ছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত। এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫০ হাজার ৯২ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৪৭ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা বা ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা এবং গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধা খাতে ২০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি পাচ্ছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৩ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, যার বরাদ্দ ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগও বড় বরাদ্দ পাচ্ছে।

সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবারের এডিপিতে বিশেষ বরাদ্দও রাখা হয়েছে। সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতের ১৭ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাখা হয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় কৃষক কার্ডের জন্য রাখা হয়েছে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ের দায়িত্ব পালনকারীদের সম্মানী বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে আরও এক হাজার ১০০ কোটি টাকা।

আগামী অর্থবছরের এডিপিতে মোট এক হাজার ১২১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্প ৯৪৯টি, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ১০৭টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৪৩টি প্রকল্প রয়েছে। পাশাপাশি এক হাজার ২৭৭টি নতুন অননুমোদিত প্রকল্পও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো পর্যায়ক্রমে অনুমোদনের জন্য বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে আগামী জুনের মধ্যে ২২৩টি প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে এত বড় উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার হয়েছে মাত্র ৩৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। জিওবি অর্থায়নে বাস্তবায়ন হার ৩৩ শতাংশের সামান্য বেশি এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ব্যবহার হয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। এই বাস্তবতায় আরো বড় এডিপি বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।


ফার্নেস তেলের দাম বাড়ল লিটারে ১৯ টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এক মাসের ব্যবধানে সরকারি বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবহৃত ফার্নেস তেলের দাম লিটারে ১৯ টাকা হারে বাড়িয়েছে সরকার। এর আগে গত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝিতেও পণ্যটির দাম লিটারে ২৪ টাকা ৫৯ পয়সা হারে বাড়ানো হয়েছিল। সব মিলিয়ে দুই মাসের ব্যবধানে ফার্নেস অয়েলের দাম বেড়েছে ৬১ শতাংশ।

সোমবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিইআরসি ফার্নেস অয়েলের মূল্য সমন্বয় করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সোমবার রাত ১২টা থেকে নতুন এ দর কার্যকর হয়।

এতে বলা হয়, গত ১৩ এপ্রিল থেকে ১২ মে পর্যন্ত প্রকাশিত ফার্নেস অয়েলের প্লাটস রেটের গড় এবং মে মাসে মাসে আমদানি করা ক্রুড অয়েলের এফওবি মূল্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, বিপিসির সরবরাহ করা ফার্নেস অয়েলের মূল্যহার সমন্বয় করা হলো।

বর্তমানে দেশে মোট ১৩৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৫৬টি ফার্নেস তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে যেগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৫ হাজার ৫৪১ মেগাওয়াট। এর মধ্যে সরকারি ১৫টি এবং বেসরকারি ৪১টি। বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে ফার্নেস তেল আমদানি করে থাকে।


banner close