নিয়ম অনুযায়ী আজকের দিনের পর আর মাত্র তিন দিন আছে প্রাণের মেলার সময়। তিন দিন পরই শেষ হয়ে যাবে মাসব্যাপী চলা বইয়ের এ উৎসব। তবে আগামী ১ ও ২ মার্চ শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দুই দিন বইয়ের মেলা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন প্রকাশকরা। এ জন্য বাংলা একাডেমিকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক বিক্রেতা সমিতি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ-কালের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে। তবে সেই দুই দিন সময় না বাড়ানো হলে আপাতত দৃষ্টিতে বইমেলা ২৯ ফেব্রুয়ারিই শেষ হচ্ছে।
তাই মেলা একদম শেষপর্যায়ে চলে আসায় এরই মধ্যে প্রায় সব নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। ফলে প্রকাশনীর ক্যাটালগ বা তালিকা দেখে নিজেদের পছন্দের সব পাঠকের বিভিন্ন স্টল-প্যাভিলিয়নে বই কিনতে দেখা যাচ্ছে।
বরাবরের মতো এবারও শেষ দিকে বেড়েছে বই বিক্রি। কারণ হিসেবে প্রকাশকরা বলছেন, সাহিত্যপ্রেমীরা মেলার শুরু থেকে বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে তালিকা সংগ্রহ করে শেষ দিকে এসে বই কেনা শুরু করেন। এরই মধ্যে মেলা থেকে তাদের ব্যাগ ভর্তি করে বই কিনতে দেখা গেছে।
বইমেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, মেলায় এখন যারা আসছেন তাদের বেশির ভাগই বইয়ের ক্রেতা। পাঠকদের বড় একটি অংশ মেলায় বই কিনছেন নিজের পছন্দ করা বইয়ের তালিকা ধরে ধরে। মেলায় প্রকাশনী স্টলগুলোতে কিছুক্ষণ পরপরই পাঠক আসছেন। যাদের মধ্যে অনেকেই তালিকা ধরে বই কিনতে আসছেন মেলায়। এক প্রকাশনী থেকে বই সংগ্রহ শেষে ছুটছেন অন্য প্রকাশনীতে। তাদের অনেকেই পছন্দের তালিকার বই কিনতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। আবার অনেকেই দেখেশুনে বই কিনতে দেখা গেছে।
মেলায় আগত পাঠক-দর্শনার্থী জানান, বিভিন্ন প্রকাশনী ঘুরে ক্যাটালগ দেখে এতদিন নতুন বইয়ের তালিকা সংগ্রহ করেছেন তারা। মেলা শেষপর্যায়ে আসায় এরই মধ্যে প্রায় সব নতুন বই চলে এসেছে। ফলে এখন আর শুধু দেখা নয়, এবার তারা পছন্দের বইগুলো কেনা শুরু করেছেন তারা।
আগামী, অন্যপ্রকাশ, সময়, প্রথমা, পাঞ্জেরী, অন্বেষা, ইত্যাদি, বাতিঘর, অনন্যা, কাকলী, উৎস, দিব্য, বিদ্যা, পুথিনিলয়, অ্যাডর্ন, পার্ল, ইউসিবিএল, কথাপ্রকাশ, শোভাসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রকাশনার প্যাভিলিয়ন ও স্টল ঘুরেও দেখা গেছে বইয়ের বিক্রির হিড়িক। সেখানেও দেখা গেছে তালিকা ধরে ধরে পাঠ করা বই কিনছেন।
আজ বইমেলায় ছিল ছুটির দিন। পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে সরকারি এ ছুটির দিনে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মেলায় যেন জনস্রোত তৈরি হয়েছিল। পাঠক-দর্শনার্থীর ভিড়ে বইয়ের বেচাকেনাও হয়েছে বেশ। এতে একদিকে প্রকাশকদের মুখে যেমন হাসি ফুটেছে তেমনি পাঠকদের কাছে নিজের বইটি তুলে দিতে পেরে সন্তুষ্ট লেখকরাও।
রাজধানীর পুরান ঢাকা থেকে বইমেলায় ঘুরতে আসা আদিবা জাহান নওমি বলেন, ‘এবারের বইমেলায় শুরুর দিকে একবার এসে ঘুরে গেছি। তখন প্রকাশনীগুলো থেকে তাদের ক্যাটালগ সংগ্রহ করেছিলাম। বাসা থেকে এবার পছন্দ করা বইগুলোর তালিকা করে নিয়ে এসেছি। এখন ক্যাটালগ থেকে তালিকা ধরে ধরে বই কিনেছি। বেশ কিছু বই কেনা বাকি রয়েছে। শেষ দিন হয়তো আবার আসা হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদা নূর ঐশী বলেন, বইমেলা তো হলের পাশেই যখন ইচ্ছে হয় যাওয়া যায়। তবে মেলার শুরুর দিকে দুয়েকটি বই কিনছিলাম। আর এখন পছন্দের তালিকা থেকে বই কিনতে এসেছি। মেলা থেকে নিজের পছন্দের অন্তত ১০টি বই কিনবেন বলেও জানান তিনি।
বইমেলা থেকে বড় মেয়ের জন্য হুমায়ূন আহমেদের কোথাও কেউ নেই বইটি কিনেছেন ঢাকা জজ কোর্টের সাংবাদিক হীরক পাশা। তিনি জানান, নিজের পছন্দের বিষয় ইতিহাস ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের বেশ কিছু বই কিনেছেন তিনি। স্ত্রী ফাতেমাতুজ জোহরা, ছেলে আবরার ও ছোট মেয়ে আরিফা কিনেছে যথাক্রমে ধর্মীয় বই, নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প ও ছোটদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস।
ঐতিহ্য প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন কাজল বলেন, মেলার শেষ দিকে প্রচুর পাঠক এখন তালিকা ধরে ধরে বই কিনছেন। এ ধরনের পাঠক-ক্রেতাই এখন বেশি। সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় বই ক্রয়ের দিক থেকে পাঠকদের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া পড়েছে।
বেচাকেনার হালচাল নিয়ে মৃদুল প্রকাশনীর প্রকাশক এম সহিদুল ইসলাম বলেন, এখন মেলার অন্তিম সময় চলছে। বলা চলে বই বিক্রির মোক্ষম সময় এখনই। আমরা পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী বই বিক্রি করছি। পরিবারের সবাই এমনকি বইপ্রেমীরা বুক লিস্ট ধরে ধরে এখন বই কিনছেন।
বইয়ের চাকচিক্য ও অধিক মূল্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাগজের মূল্য তো অত্যধিক। তা ছাড়া কাগজের ওপর শুল্কও কমানো হচ্ছে না। বই লেখা, ছাপানো, মুদ্রণ খরচ কিন্তু কম নয়। আর চাকচিক্যের যে বিষয়টি বলছেন সেটি আসলে বই বিক্রির একটি পন্থাও বটে। কাগজ মানসম্মত না হলে অনেক পাঠক বই কিনতেও চায় না।
বইমেলার ২৬তম দিন সোমবার মেলা শুরু হয় দুপুর ১২টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। এই দিনে নতুন বই এসেছে ২৪৬টি। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত মেলায় এদিন মানুষের ঢল নামে। এদিন বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ: আবুবকর সিদ্দিক এবং স্মরণ: আজিজুর রহমান আজিজ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে ফরিদ আহমদ দুলাল ও কামরুল ইসলাম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মামুন মুস্তাফা, তৌহিদুল ইসলাম, মো. মনজুরুর রহমান ও আনিস মুহাম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি আসাদ মান্নান।
‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন প্রাবন্ধিক সরকার আবদুল মান্নান, কবি ইউসুফ রেজা, কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক দিলওয়ার হাসান এবং কথাসাহিত্যিক মোস্তফা তারিকুল আহসান।
বই-সংলাপ ও রিকশাচিত্র প্রদর্শন মঞ্চে বিকেল ৫টায় সাম্প্রতিক বাংলা কবিতা বিষয়ে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন সঞ্জীব পুরোহিত, তারেক রেজা, জাহিদ সোহাগ, আফরোজা সোমা, আহমেদ শিপলু, রাদ আহমদ এবং সৈয়দ জাহিদ হাসান। সঞ্চালনা করেন ফারহান ইশরাক ও খালিদ মারুফ।
এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি মুহাম্মদ সামাদ, শামীম রেজা, রহিম শাহ, নভেরা হোসেন এবং ইমরান পরশ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ম ম জুয়েল, আরিফ হাসান, আলম আরা জুঁই, খোদেজা বেগম। এ ছাড়া ছিল জয়দুল হোসেনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সাহিত্য একাডেমি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া’, মুশতাক আহমেদ লিটনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আমরা কুঁড়ি’ এবং শাহিনুর আল-আমীনের পরিচালনায় সংগঠন ‘সম্প্রীতি সংস্কৃতি বন্ধন’-এর পরিবেশনা।
গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪
২০২৩ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক বই প্রকাশের জন্য কথা প্রকাশকে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে শৈল্পিক ও গুণমান বিচারে সেরা বই বিভাগে মনজুর আহমদ রচিত একুশ শতকে বাংলাদেশ: শিক্ষার রূপান্তর গ্রন্থের জন্য প্রথমা প্রকাশন, মঈন আহমেদ রচিত যাত্রাতিহাস: বাংলার যাত্রাশিল্পের আদিঅন্ত গ্রন্থের জন্য ঐতিহ্য এবং আলমগীর সাত্তার রচিত কিলো ফ্লাইট প্রকাশের জন্য জার্নিম্যান বুকসকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ বইয়ের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য ময়ূরপঙ্খিকে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়েছে। ২০২৪ সালের অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে অন্যপ্রকাশ (প্যাভিলিয়ন), নিমফিয়া পাবলিকেশন (২-৪ ইউনিট), বেঙ্গল বুকস (১ ইউনিট)-কে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়েছে। ২৯ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারগুলো হস্তান্তর করা হবে।
আগামীকালকের বইমেলা
বইমেলার ২৭তম দিন মঙ্গলবার মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ: সেলিম আল দীন শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন লুৎফর রহমান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন রশীদ হারুন ও জাহিদ রিপন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন নাট্যজন নাসিরউদ্দিন ইউসুফ।
দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প কর্ণফুলী টানেলের বিপুল আর্থিক লোকসান ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সংসদের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের শূন্য পদগুলোতে শুধু পদ পূরণ নয়, সুপরিকল্পিত কর্মভার (স্ট্র্যাটেজিক লোড) নির্ধারণ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা গৃহীত হয়।
বিগত সভার কার্যবিবরণী কিছু প্রয়োজনীয় সংশোধনী সাপেক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে দৃঢ়ীকরণ করা হয়। এরপর পূর্ববর্তী বৈঠকের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন চলমান ১ হাজার ১৫৩টি প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তালিকা কমিটির সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
এসব প্রকল্পের জন্য গৃহীত পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলপত্র তুলে ধরে বর্তমানে প্রকল্পগুলো কিভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সে বিষয়ে কমিটিকে বিস্তারিত অবহিত করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল দেশের আলোচিত মেগা প্রকল্প কর্ণফুলী টানেল। টানেলটির প্রাথমিক ফিজিবিলিটি স্টাডি, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া এবং এর বর্তমান বিপুল আর্থিক লোকসানের কারণগুলো নিয়ে বৈঠকে ব্যাপক আলোচনা হয়। এসব বিষয়ের গভীরে গিয়ে তদন্তের লক্ষ্যে পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সেই সঙ্গে, কর্ণফুলী টানেল সম্পর্কিত প্রকল্পের সামগ্রিক বাস্তবায়ন এবং লোকসানের নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানে একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে কাজ করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে কমিটিকে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এই দ্বিতীয় বৈঠকে কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, কাজী রফিকুল ইসলাম, মঈনুল ইসলাম খান, মো. সাইফুল আলম এবং মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
এ ছাড়া, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা, পরিকল্পনা বিভাগ এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিবদ্বয়, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বিদেশের শ্রমবাজারে লাখো বাংলাদেশির ঘাম ও শ্রমে সচল দেশের অর্থনীতি। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সে সমৃদ্ধ হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার, স্বস্তি পাচ্ছে অসংখ্য পরিবার। অথচ বিদেশের মাটিতে কোনো বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, নির্যাতন কিংবা মৃত্যুর মুখোমুখি হলে তার পাশে রাষ্ট্র কতটা কার্যকরভাবে দাঁড়ায়, সেই প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায়।
গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগের বিস্তারিত, বিচারপ্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং তারা আইনজীবী পেয়েছিলেন কি না, তা প্রকাশ্যে আসেনি।
বাংলাদেশের জেদ্দা কনস্যুলেট জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত জানতে কূটনৈতিক চিঠি পাঠানো হয়।
ঘটনাটি শুধু দুই নাগরিকের মৃত্যুর প্রশ্ন নয়; বিদেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের আইনি সুরক্ষা এবং দূতাবাসের কার্যকারিতা নিয়েও গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অর্থনীতির চালিকাশক্তি প্রবাসীরা: বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৩৩.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে প্রায় ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।
এই বিপুল অর্থের পেছনে রয়েছেন নির্মাণশ্রমিক, গৃহকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, চালক, কারিগরি পেশাজীবীসহ নানা শ্রেণির প্রবাসী। তাদের পাঠানো অর্থে চলে পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা ও ঘরবাড়ি নির্মাণ। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গেছেন ৭ লাখ ৫২ হাজার ৭১৫ বাংলাদেশি। কিন্তু শ্রমবাজারের এই বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কি তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা যাচ্ছে?
বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের জন্য দ্রুত আইনজীবী নিয়োগ, দোভাষী, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং আপিলের সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও সৌদি আরব উভয়ই কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের পক্ষভুক্ত। এর ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আটক বিদেশি নাগরিককে কনস্যুলার যোগাযোগের অধিকার জানাতে হয় এবং তিনি অনুরোধ করলে সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেটকে অবহিত করতে হয়।
ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর মাধ্যমে আইনি সহায়তা পেয়েছেন ৩৯৫ জন অভিবাসী শ্রমিক। তাদের মধ্যে নারী ছিলেন মাত্র ১১ জন।
বিদেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির তুলনায় আইনি সহায়তার পরিধি কতটা পর্যাপ্ত? বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের মতো গুরুতর মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি সময়মতো আইনজীবী ও কনস্যুলার সহায়তা পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী?
নারী কর্মীদের ঝুঁকি আরও বেশি: নারী অভিবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে নির্যাতন, বেতন আটকে রাখা, পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। দ্য ডেইলি স্টারের ২০২৬ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা অনেক নারী শ্রমিকের কাছে সহায়তা চাওয়ার মতো ফোন বা প্রয়োজনীয় নথিও থাকে না। ফলে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।
এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরাপদ আশ্রয়, স্বাধীন তদন্ত, দ্রুত দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা এবং দায়ী নিয়োগকর্তা ও মধ্যস্থতাকারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
রেমিট্যান্সের পাশাপাশি চাই জবাবদিহি: সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের ঘটনায় এখন প্রয়োজন বিচারপ্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তথ্য, আইনি প্রতিনিধিত্বের বিবরণ এবং কনস্যুলেটকে অবহিত না করার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা। একই সঙ্গে বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি আইনি সহায়তা, মৃত্যুদণ্ডের মামলার পর্যবেক্ষণ এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
প্রবাসীকল্যাণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাফল্য শুধু কতজন কর্মী বিদেশে গেলেন বা কত রেমিট্যান্স এলো, তা দিয়ে মাপা যায় না। সংকটে কতজন নাগরিক সহায়তা পেলেন, কতটি নির্যাতনের অভিযোগের নিষ্পত্তি হলো এবং কতজনের অধিকার রক্ষা করা গেল, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রবাসীরা কেবল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যম নন; তারা রাষ্ট্রের নাগরিক। তাদের শ্রমের অর্থনৈতিক মূল্য যেমন আছে, তেমনি আছে জীবন, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার।
সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশব্যাপী ৩৩ হাজারের বেশি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা-অর্চনা চলছে বলে জানিয়েছেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, পূজা কমিটির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এটি সম্ভব হয়েছে। পূজা কমিটির সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা দিচ্ছেন। প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পূজা উদযাপিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
আইজিপি বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। জনগণকে গুজব সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। দেবী দুর্গার মতোই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে লড়াই করে যেতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা যে ধর্মের, যে মতের, যে বর্ণেরই হই না কেন, দেশটি আমাদেরই। সকল অপশক্তি নির্মূল করে একটি সুখী, শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করা আমাদের লক্ষ্য।’
পুলিশপ্রধান বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে পাঁচ-সাত দিন পুলিশের কোনো কার্যক্রম ছিল না। তখন কারও নিরাপত্তা ছিল না, সবাই আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। ছিনতাই, রাহাজানি, ডাকাতি—বহু রকমের অঘটন ঘটেছে। আপনাদের সহযোগিতায় সেই জায়গা থেকে বাংলাদেশ পুলিশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সকল অপশক্তি, সকল অন্যায়, বৈষম্য দূর করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রেখে সবার জীবনমান উন্নয়নে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।
এদিকে, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ পুলিশ বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পুলিশ সকল পূজামণ্ডপ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিয়েছে। ফলে নিরাপদে পূজা উদযাপিত হচ্ছে।
এ সময় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি দেশকে এগিয়ে নিতে হলে যুবসমাজকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের স্বার্থকে সবার আগে প্রাধান্য দিতে হবে। দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিলেই প্রতিটি নাগরিকের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে। আর তখনই সবার জন্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ ও অনুদান প্রদান’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে যুবকদেরই এগিয়ে আসতে হবে।’
যুবসমাজের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসংখ্য তরুণ রয়েছেন, যারা কেউ শিক্ষার্থী, কেউবা বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত। নিজেদের পড়াশোনা ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তারা মানুষের কল্যাণে স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসছেন। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তাদের এই উদ্যোগ ও অবদান দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা যারা আজ এই অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন, তাদের মনে রাখতে হবে, একটি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে যুবসমাজের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অলিম্পিকের মতো প্রতিযোগিতায় যারা সাফল্য অর্জন করেন, তাদের অধিকাংশই তরুণ। একইভাবে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও হয়তোবা প্রবীণরা তাদের মেধা, বুদ্ধি ও পরামর্শ দিয়েছেন, কিন্তু সরাসরি মাঠে থেকে তরুণসমাজই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’
তিনি বলেন, দেশের যেকোনো বড় পরিবর্তন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে তরুণদের শক্তি, সাহস, মেধা ও উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই শক্তিকে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।
নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেগুলো এখন শুধু আমাদের নয়, দেশের মানুষেরও। এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’
তরুণ উদ্যোক্তা ও প্রতিভাবান যুবকদের সহায়তায় সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার স্টার্টআপ ফান্ড বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। দেশের মেধাবী ও প্রতিভাবান তরুণদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এ জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিলের পরিমাণ প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের মেধা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও কর্মস্পৃহাকে কাজে লাগাতে পারলে দেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে। তরুণদের শুধু নিজেদের উন্নতির কথা ভাবলে চলবে না, দেশের প্রতিটি মানুষের কল্যাণের কথাও চিন্তা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন যুব স্বেচ্ছাসেবক ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধির হাতে ‘ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুরস্কারপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকার চেক, সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র দেওয়া হয়।
এ ছাড়া যুব সংগঠনগুলোর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে দেশের ৪৩২টি যুব সংগঠনকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। প্রতিটি সংগঠনকে দুই লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে তিনজন তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তারা নিজেদের স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ ছাড়া তরুণ ও যুবকদের জন্য সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উপস্থিত ছিলেন। দেশের ৬৪টি জেলা থেকে যুব স্বেচ্ছাসেবকেরা অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তরুণদের দেশপ্রেম, মানবিকতা ও সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ’ এই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে।
ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অনুষ্ঠিত ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের ৫২তম অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
‘শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের প্রসারে সংলাপ ও সংহতি— দুটি মৌলিক স্তম্ভ’ প্রতিপাদ্যে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিমন্ত্রী আজ অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতীয় বক্তব্য তুলে ধরবেন। এছাড়া, অধিবেশনের পাশাপাশি তিনি ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমপর্যায়ের মন্ত্রীদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আগামীকাল তিনি রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত একটি বিশেষ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সহ-সভাপতিত্ব করবেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাগতিক দেশ ইরাক তুরস্কের কাছ থেকে এক বছর মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে।
‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার তাদের ভাতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে আগামীতে এ ভাতা বাড়ানো হবে, যাতে তারা কিছুটা হলেও স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন।’
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়ানো সরকার ও সমাজের দায়িত্ব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও সমাজের অংশ। তাদের অধিকার, মর্যাদা ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা দরকার। এ ক্ষেত্রে অতীতে যেসব ঘাটতি ছিল, তা পূরণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করতে চায়।
তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আদালতে সাংকেতিক ভাষা ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হবে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও তাদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে।’
তিনি এ বিষয়ে সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে যোগাযোগের অসুবিধা দূর করতে হাসপাতালগুলোতে সাংকেতিক ভাষা জানা ব্যক্তির ব্যবস্থা করার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একইভাবে প্রতিবন্ধী নারীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিতের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে সঠিক পরিসংখ্যান প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
প্রতিবন্ধী কৃষকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সরকারি চাকরিতে তাদের প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করবে বলেও জানান তারেক রহমান।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘গণপরিবহনে তাদের যাতায়াতের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নারীদের জন্য পিংক বাসসেবা আরও উপযোগী করার পাশাপাশি ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে প্রতিবন্ধীবান্ধব বাস চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশ ও চলাচলের উপযোগী ব্যবস্থা নিশ্চিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব সুবিধা না থাকলে সংশ্লিষ্ট ভবনের নকশা অনুমোদন না দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।’
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জাতীয় সংসদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের প্রস্তাব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি সাংবিধানিক বিবেচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ বিষয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সমাজকল্যাণ, আইন এবং নারী ও শিশুবিষয়ক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের আইনি সহায়তা নিশ্চিতে অগ্রগতি হবে।
সরকার সর্বাত্মকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পাশে থাকবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। এসব সমস্যা অনুধাবন করে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষেরই সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও যেন প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়ে স্বাবলম্বী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করবে।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সাত্তার দুলালের সঞ্চালনায় ৩০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তারা নিজেদের বিভিন্ন দাবি ও সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
এ সময় মো. মহসিন নামের এক প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদ প্রধানমন্ত্রীর জন্য ক্যাপ উপহার এনেছেন জানালে মঞ্চ থেকে নেমে এসে তা গ্রহণ করেন তারেক রহমান। এ সময় বিদেশে খেলাধুলায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তার দলকে সহযোগিতা করারও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত বক্তাদের সঙ্গে গ্রুপ ছবিতে অংশ নেন।
রাষ্ট্রীয় তথ্য কমিশনের সর্বোচ্চ পদে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আসা হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান দেশের নতুন প্রধান তথ্য কমিশনার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পেয়েছেন। একই প্রক্রিয়ায় তথ্য কমিশনের অন্য দুটি শূন্য পদে কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাংবাদিক এস এ এম মাহফুজুর রহমান এবং খান মোহাম্মদ আবুল হোসেনকে।
গত শনিবার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে এই নিয়োগসংক্রান্ত পৃথক দুটি দাপ্তরিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রাসঙ্গিক আইনের নির্ধারিত ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই নিয়োগ প্রদান করেছেন বলে প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নবনিযুক্ত প্রধান তথ্য কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের দাপ্তরিক পদমর্যাদা, আর্থিক পারিশ্রমিক, নিয়মিত ভাতা এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাদি সরকারের পক্ষ থেকে পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট করা হবে। জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে জারি করা এই আদেশের কার্যকারিতা অবিলম্বে শুরু হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও সংলগ্ন এলাকার হকারমুক্ত ও দখলমুক্ত ফুটপাতগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই আকস্মিক পরিদর্শনের সময় তিনি সাধারণ পথচারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাদের দৈনন্দিন যাতায়াতের নানা সুবিধা ও অসুবিধার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং জনসাধারণের নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
শনিবার প্রাতঃকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিরপুর-১০ এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি স্বচক্ষে দেখতে সেখানে উপস্থিত হন বলে সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন তাঁর সরকারি প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক।
পরিদর্শনকালে সরকারপ্রধান পথচারী ও সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি জানতে চান যে পূর্বে হকার ও অবৈধ দখলে থাকা ফুটপাতগুলো উচ্ছেদ করার ফলে তাদের দৈনন্দিন যাতায়াতে কতটা স্বস্তি এসেছে এবং বর্তমানে সেখানে হাঁটাচলার ক্ষেত্রে তারা কোনো ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন কি না। এছাড়া রাজধানী ঢাকার সামগ্রিক ফুটপাত ও সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের কোনো ধরনের দুর্ভোগ বা অভিযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তিনি বিশদ খোঁজখবর নেন।
জনসাধারণের সঙ্গে অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে সরাসরি মতবিনিময় করে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামত শোনেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন যেন রাজধানী শহরের ফুটপাতগুলো কেবল পথচারীদের নিরাপদ ব্যবহারের উপযোগী হিসেবে বজায় রাখা হয়, সড়ক ও ফুটপাতের সুশৃঙ্খল পরিবেশ রক্ষা করা হয় এবং জনসাধারণের চলাচলের পথে তৈরি হওয়া যেকোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা চিরতরে দূর করা হয়।
এ সময় তিনি মন্তব্য করেন যে নগরীর ফুটপাতগুলো মূলত সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্যই নির্ধারিত, তাই যেকোনো মূল্যে ফুটপাত দখলমুক্ত রেখে নাগরিকদের স্বচ্ছন্দ যাতায়াত নিশ্চিত করা বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে নিজ কক্ষে ধূমপানরত এক চিকিৎসককে দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে চিকিৎসকের কক্ষ অপরিচ্ছন্ন থাকায় ক্ষোভ জানান তিনি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে তাৎক্ষণিক বরখাস্তের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে হাসপাতালটির বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মপরিবেশের পাশাপাশি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তাকে ধূমপান করতে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। কক্ষটিও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে একজন চিকিৎসকের এমন আচরণ এবং কর্মস্থলের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
পরে হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হককে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। নির্দেশনার পর চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এ সময় হাসপাতালসহ সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন তিনি।
ডেঙ্গু ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি দেখতে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আকস্মিক পরিদর্শনে বের হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ সকাল ৯টা ২০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবন আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, দিনের শুরুতে তিনি রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষসহ (অপারেশন থিয়েটার) বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দেন তিনি।
উপ প্রেস সচিব জানান, এরপর প্রধানমন্ত্রী রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে যান। সেখানে তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বছরের এ সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। প্রতিবছর ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হন, অনেকের মৃত্যুও হয়। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এজন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করতে হলে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এজন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এই কাজে আমি তোমাদের সাহায্য চাই।’
তিনি বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যদি নিজেদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেয়, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধসহ পরিবেশ রক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা একটি বিশাল শহর। এখানে দুই থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষের বসবাস। সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই শুধু সিটি কর্পোরেশন বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘তোমরা স্কাউট, গার্ল গাইড কিংবা রেড ক্রিসেন্টের সদস্য হও বা না হও, তোমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই নিজের বাসা, স্কুল, পাড়া ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তোমাদেরও নিতে হবে।’
যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেললে তাকে সচেতন করতে হবে। সবাই মিলে চেষ্টা করলে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক জায়গা থেকে এসব ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাচ্ছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে লাগানো গাছের চারাও চুরি হচ্ছে।
এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নাগরিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ
পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘তোমার জন্মদিনে, ভাইবোনের জন্মদিনে কিংবা নানা-নানির জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর চেষ্টা করবে। সেটা তোমার বাসায় হতে পারে, স্কুলে হতে পারে কিংবা গ্রামের বাড়িতে হতে পারে। গাছগুলো যখন বড় হবে, তোমরাও তখন বড় হবে।’
রাজধানীতে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও সবুজের ঘাটতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, একসময় ঢাকায় অনেক বেশি গাছপালা ও খোলা জায়গা ছিল। এখন সেখানে বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। গাছপালা কমে যাওয়ায় শহরে গরমের অনুভূতিও বেড়েছে।
তিনি বলেন, ‘গাছ যত বাড়বে, আমরা তত বুক ভরে শ্বাস নিতে পারব। গাছের পাতার ঝিরঝির শব্দ আমার খুব ভালো লাগে। আমরা সবাই মিলে গাছ লাগালে শহরের তাপমাত্রাও কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব।’
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়ন-এই তিনটি ক্ষেত্রে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, নাগরিকদের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান, নিজেদের স্কুল, বাসা, পাড়া ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে তাদের সহযোগিতা পাওয়া যাবে কি না। এ সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পান তিনি।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নিতে হবে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান উদ্বোধন করেন। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী এ বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি।
ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সূত্র: বাসস
রাজধানীর সামগ্রিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি এবং চিকিৎসাসেবা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে তিনি গুলশানের বাসভবন থেকে এ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে বের হন বলে জানিয়েছেন তাঁর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
হাসান শিপলু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও পরিচ্ছন্নতা অবস্থা কেমন তা দেখতে বাসা থেকে বেরিয়েছেন। তিনি ৯টা ১০ মিনিটে বাসা থেকে বের হন। প্রথমে যাচ্ছেন উত্তরার কুয়েত-মৈত্রী হসপাতালে। সেখানে তিনি সরেজমিন ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা দেখবেন।’ উপ-প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাড়াও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী বিশেষ অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান, যেখানে এডিস মশার প্রকোপ মোকাবিলায় দেশবাসীকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছিল।
দিনের শুরুতে রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী। একই সাথে তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) ও অস্ত্রোপচারকক্ষসহ বিভিন্ন জরুরি বিভাগ ঘুরে দেখেন। তবে ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার কাঙ্ক্ষিত মান না পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়নের জন্য কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় বেঁধে দেন।
পরবর্তীতে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতের পাশাপাশি মশক নিধনে শিক্ষার্থীদের কার্যকর ভূমিকা রাখার তাগিদ দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘বছরের এ সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। প্রতিবছর ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হন, অনেকের মৃত্যুও হয়। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এ জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াইয়ের সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এ জন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এই কাজে আমি তোমাদের সাহায্য চাই।’ প্রধানমন্ত্রী যোগ করেন, ‘দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যদি নিজেদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেয়, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধসহ পরিবেশ রক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।’
শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্থাপিত ডাস্টবিন এবং সিটি করপোরেশনের রোপণ করা চারাগাছ চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নাগরিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর পারিবারিক উৎসব ও জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমার জন্মদিনে, ভাইবোনের জন্মদিনে কিংবা নানা-নানির জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর চেষ্টা করবে। সেটা তোমার বাসায় হতে পারে, স্কুলে হতে পারে কিংবা গ্রামের বাড়িতে হতে পারে। গাছগুলো যখন বড় হবে, তোমরাও তখন বড় হবে।’ শহরের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও গাছপালা কমে যাওয়ার বিষয়ে শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘একসময় ঢাকায় অনেক বেশি গাছপালা ও খোলা জায়গা ছিল। এখন সেখানে বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। গাছপালা কমে যাওয়ায় শহরে গরমের অনুভূতিও বেড়েছে।’ নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলে তারাও ইতিবাচক সাড়া প্রদান করে।
ডেঙ্গু রোগের বিস্তার রোধে কেবল রাষ্ট্রীয় বা সরকারি ব্যবস্থার ওপর এককভাবে ভরসা না করে দেশের আপামর জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে দেশের শিক্ষার্থী এবং তরুণ সমাজকে তাদের নিজ নিজ বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় এলাকা এবং চারপাশের পরিবেশ সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার গুরুদায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার প্রাতঃকালে রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ প্রাঙ্গণে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচালিত বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরাসরি পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর তথা বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে এই আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। এ সময় তিনি স্বয়ং শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং তরুণ ক্যাডেটদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবার মান এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সার্বিক অবস্থা নিজ চোখে পর্যবেক্ষণ করতে এদিন রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনায় পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন প্রধানমন্ত্রী। দিনের শুরুতেই তিনি রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে উপস্থিত হন। সেখানে চিকিৎসাধীন সাধারণ রোগীদের শয্যা পাশে গিয়ে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং তাদের প্রদান করা চিকিৎসাসেবার মান সম্পর্কে সরাসরি কথা বলেন। এছাড়া তিনি ওই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র বা আইসিইউ এবং অস্ত্রোপচারকক্ষসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন।
হাসপাতাল চত্বর পরিদর্শনকালে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা এবং ভেতরের পরিচ্ছন্নতার বেহাল দশা দেখে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ এবং পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার দ্রুত ও টেকসই উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মাত্র সাত দিনের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেন তিনি।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে উপস্থিত হয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেন। সে সময় তিনি ডেঙ্গুর ক্রমবর্ধমান প্রকোপ, তা থেকে বাঁচার কার্যকর উপায় এবং একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অগ্রণী ভূমিকার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন যে বছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণ হারান। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো রোগ প্রতিরোধ নিশ্চিত করা, আর সেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে নিজেদের চারপাশ সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন যে ডেঙ্গুর সঙ্গে সফলভাবে লড়াই করার শ্রেষ্ঠ উপায় হলো প্রতিরোধ এবং সে কারণেই আমাদের চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যে কাজে তিনি তরুণদের সরাসরি সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে দেশের বিশাল যুবসমাজ যদি নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখার পবিত্র দায়িত্ব স্বেচ্ছায় গ্রহণ করে, তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং সামগ্রিক পরিবেশ রক্ষায় একটি বিশাল ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্পূর্ণ সম্ভব। এই মহৎ উদ্দেশ্যে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
রাজধানী ঢাকার সার্বিক পরিচ্ছন্নতার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে ঢাকা অত্যন্ত জনবহুল ও বিশাল একটি নগরী, যেখানে আড়াই কোটিরও বেশি মানুষ বসবাস করেন। সিটি করপোরেশনের কর্মীরা নিয়মিত কাজ করে গেলেও তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও পরিধি সীমিত, ফলে কেবল প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে পুরো শহরের পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখা কঠিন। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি সচেতন নাগরিককে নিজের অংশীদারত্ব ও দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করতে হবে।
অযত্রতত্র যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার বদঅভ্যাস ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন যে কেউ নির্দিষ্ট ভাগাড় বা স্থান ছাড়া যত্রতত্র ময়লা ফেললে তাকে নিবৃত্ত ও সচেতন করতে হবে, কারণ দেশের সব নাগরিক মিলে সম্মিলিত উদ্যোগ নিলে এই মেগাসিটি ঢাকাকে সত্যিকারের একটি পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
পূজামণ্ডপগুলোতে ঢাক ও কাসরের বাদ্যের শব্দের পাশাপাশি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ফুল, ধূপ এবং আগরবাতির সুবাস। শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির আনন্দধারায় অবগাহন করছে দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপ। ষষ্ঠীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্ত হওয়ার পর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম প্রধান ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন মহাসপ্তমী। বিশুদ্ধ মন্ত্রোচ্চারণ এবং দেবীর রূপ দর্শনের জন্য সকাল থেকেই মণ্ডপগুলোতে ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।
দেবীর চরণে ভক্তদের প্রধান প্রার্থনা হলো বিশ্বজুড়ে শান্তি, সংহতি, শক্তি এবং মানুষের কল্যাণ। তবে মহাসপ্তমীর গভীর তাৎপর্য কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে মানবীয় শুভবোধের পুনর্জাগরণ, প্রকৃতির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতাবোধ এবং একটি সাম্য ও সম্প্রীতিভিত্তিক সমাজ গঠন।
মহাসপ্তমীর অন্যতম প্রধান এবং আকর্ষণীয় আনুষ্ঠানিকতা হলো ‘নবপত্রিকা’ স্থাপন, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘কলাবউ’ নামে পরিচিত। একটি কলাগাছের সঙ্গে কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মানকচু এবং ধানগাছ একসঙ্গে বেঁধে পবিত্র জলে স্নান করানোর পর নতুন শাড়ি পরিয়ে তা মণ্ডপে স্থাপন করা হয়।
নবপত্রিকায় ব্যবহৃত এই নয়টি উদ্ভিদ মূলত দেবী দুর্গার নয়টি মহাশক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। পূজার মূল কেন্দ্রে প্রতিমা থাকলেও মহাসপ্তমীতে সরাসরি উদ্ভিদকে পূজার অংশ করার মাধ্যমে মূলত প্রকৃতির প্রতি মানুষের পরম কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করা হয়।
কারণ হিসেবে বলা যায়, এই গাছপালাগুলো মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা, কৃষি এবং বেঁচে থাকার প্রয়োজনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। সচেতন মহলের মতে, কেবল আনুষ্ঠানিক আচার পালনের মধ্যে প্রকৃতি পূজাকে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনে গাছপালা সংরক্ষণ, জলাশয় দূষণমুক্ত রাখা এবং সার্বিক পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগী হওয়াই নবপত্রিকার প্রকৃত শিক্ষা।
সপ্তমীর অপর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার হলো দেবীর ‘মহাস্নান’। আয়নার দর্পণে দেবীমূর্তির প্রতিফলন ঘটিয়ে গঙ্গার জল, দুধ, মধু ও নানা সুগন্ধি উপাচারে দেবীকে স্নান করানো হয়, যা বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি আত্মিক শুদ্ধতারও প্রতীক। এই স্নানের আচার মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, অন্যের অধিকার হরণ, অহংকার, বৈষম্য কিংবা হিংসা মনে পুষে রেখে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে নীতি-নৈতিকতার পূর্ণতা অর্জন করা সম্ভব নয়। সমাজের দুর্বল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করার মাধ্যমেই মূলত ধর্মীয় মূল্যবোধের সঠিক সামাজিক বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
পৌরাণিক কাহিনীর বর্ণনায় মহিষাসুর বধের আখ্যানটি শুভ ও অশুভ শক্তির মধ্যকার চিরন্তন দ্বন্দ্বকে নির্দেশ করে। দেবী দুর্গার দশটি হাত এবং বিভিন্ন অস্ত্র মূলত অন্যায়কে প্রতিহত করে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার শক্তির প্রতীক। দেবীর দুই পাশে থাকা লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ যথাক্রমে সমৃদ্ধি, জ্ঞান, বীরত্ব ও বুদ্ধিমত্তার প্রতিনিধিত্ব করেন।
রূপক অর্থে বিচার করলে দেখা যায়, জ্ঞান ছাড়া সমৃদ্ধি সম্পূর্ণ অন্ধ, সাহস ছাড়া ন্যায়বিচার অর্জন অসম্ভব এবং বুদ্ধি ছাড়া শক্তির সঠিক প্রয়োগ করা যায় না।
বাঙালির চিরায়ত ঘরোয়া সংস্কৃতিতে দেবীর এই আগমন কেবল ঈশ্বর আরাধনার বিষয় নয়, বরং পিতৃগৃহে কন্যাসন্তানের ফিরে আসার এক গভীর পারিবারিক অনুভূতির প্রকাশ। এর পাশাপাশি প্রতিমাশিল্পী, মৃৎশিল্পী, ঢাকি, আলোকসজ্জাশিল্পী এবং নানা ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঘাম ঝরানো শ্রমে এই উৎসব রূপ নেয় এক বিশাল সামাজিক ও অর্থনৈতিক মেলবন্ধনে।
বাংলাদেশের সার্বিক প্রেক্ষাপটে মহাসপ্তমীর সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের যথাযথ মর্যাদা এবং নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করা। উৎসবের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই তার পূর্ণতা পায়, যখন রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেন।
ঢাকিদের বাদ্যের আওয়াজ একসময় থেমে যাবে, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার সাহস, প্রকৃতির প্রতি সুকোমল যত্ন এবং মানুষের প্রতি নিঃশর্ত সহমর্মিতা যেন প্রতিটি নাগরিকের আচরণে চিরঞ্জীব থাকে, সেটাই এই মহান দিনের মূল অঙ্গীকার।