নিয়ম অনুযায়ী আজকের দিনের পর আর মাত্র তিন দিন আছে প্রাণের মেলার সময়। তিন দিন পরই শেষ হয়ে যাবে মাসব্যাপী চলা বইয়ের এ উৎসব। তবে আগামী ১ ও ২ মার্চ শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দুই দিন বইয়ের মেলা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন প্রকাশকরা। এ জন্য বাংলা একাডেমিকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক বিক্রেতা সমিতি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ-কালের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে। তবে সেই দুই দিন সময় না বাড়ানো হলে আপাতত দৃষ্টিতে বইমেলা ২৯ ফেব্রুয়ারিই শেষ হচ্ছে।
তাই মেলা একদম শেষপর্যায়ে চলে আসায় এরই মধ্যে প্রায় সব নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। ফলে প্রকাশনীর ক্যাটালগ বা তালিকা দেখে নিজেদের পছন্দের সব পাঠকের বিভিন্ন স্টল-প্যাভিলিয়নে বই কিনতে দেখা যাচ্ছে।
বরাবরের মতো এবারও শেষ দিকে বেড়েছে বই বিক্রি। কারণ হিসেবে প্রকাশকরা বলছেন, সাহিত্যপ্রেমীরা মেলার শুরু থেকে বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে তালিকা সংগ্রহ করে শেষ দিকে এসে বই কেনা শুরু করেন। এরই মধ্যে মেলা থেকে তাদের ব্যাগ ভর্তি করে বই কিনতে দেখা গেছে।
বইমেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, মেলায় এখন যারা আসছেন তাদের বেশির ভাগই বইয়ের ক্রেতা। পাঠকদের বড় একটি অংশ মেলায় বই কিনছেন নিজের পছন্দ করা বইয়ের তালিকা ধরে ধরে। মেলায় প্রকাশনী স্টলগুলোতে কিছুক্ষণ পরপরই পাঠক আসছেন। যাদের মধ্যে অনেকেই তালিকা ধরে বই কিনতে আসছেন মেলায়। এক প্রকাশনী থেকে বই সংগ্রহ শেষে ছুটছেন অন্য প্রকাশনীতে। তাদের অনেকেই পছন্দের তালিকার বই কিনতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। আবার অনেকেই দেখেশুনে বই কিনতে দেখা গেছে।
মেলায় আগত পাঠক-দর্শনার্থী জানান, বিভিন্ন প্রকাশনী ঘুরে ক্যাটালগ দেখে এতদিন নতুন বইয়ের তালিকা সংগ্রহ করেছেন তারা। মেলা শেষপর্যায়ে আসায় এরই মধ্যে প্রায় সব নতুন বই চলে এসেছে। ফলে এখন আর শুধু দেখা নয়, এবার তারা পছন্দের বইগুলো কেনা শুরু করেছেন তারা।
আগামী, অন্যপ্রকাশ, সময়, প্রথমা, পাঞ্জেরী, অন্বেষা, ইত্যাদি, বাতিঘর, অনন্যা, কাকলী, উৎস, দিব্য, বিদ্যা, পুথিনিলয়, অ্যাডর্ন, পার্ল, ইউসিবিএল, কথাপ্রকাশ, শোভাসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রকাশনার প্যাভিলিয়ন ও স্টল ঘুরেও দেখা গেছে বইয়ের বিক্রির হিড়িক। সেখানেও দেখা গেছে তালিকা ধরে ধরে পাঠ করা বই কিনছেন।
আজ বইমেলায় ছিল ছুটির দিন। পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে সরকারি এ ছুটির দিনে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মেলায় যেন জনস্রোত তৈরি হয়েছিল। পাঠক-দর্শনার্থীর ভিড়ে বইয়ের বেচাকেনাও হয়েছে বেশ। এতে একদিকে প্রকাশকদের মুখে যেমন হাসি ফুটেছে তেমনি পাঠকদের কাছে নিজের বইটি তুলে দিতে পেরে সন্তুষ্ট লেখকরাও।
রাজধানীর পুরান ঢাকা থেকে বইমেলায় ঘুরতে আসা আদিবা জাহান নওমি বলেন, ‘এবারের বইমেলায় শুরুর দিকে একবার এসে ঘুরে গেছি। তখন প্রকাশনীগুলো থেকে তাদের ক্যাটালগ সংগ্রহ করেছিলাম। বাসা থেকে এবার পছন্দ করা বইগুলোর তালিকা করে নিয়ে এসেছি। এখন ক্যাটালগ থেকে তালিকা ধরে ধরে বই কিনেছি। বেশ কিছু বই কেনা বাকি রয়েছে। শেষ দিন হয়তো আবার আসা হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদা নূর ঐশী বলেন, বইমেলা তো হলের পাশেই যখন ইচ্ছে হয় যাওয়া যায়। তবে মেলার শুরুর দিকে দুয়েকটি বই কিনছিলাম। আর এখন পছন্দের তালিকা থেকে বই কিনতে এসেছি। মেলা থেকে নিজের পছন্দের অন্তত ১০টি বই কিনবেন বলেও জানান তিনি।
বইমেলা থেকে বড় মেয়ের জন্য হুমায়ূন আহমেদের কোথাও কেউ নেই বইটি কিনেছেন ঢাকা জজ কোর্টের সাংবাদিক হীরক পাশা। তিনি জানান, নিজের পছন্দের বিষয় ইতিহাস ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের বেশ কিছু বই কিনেছেন তিনি। স্ত্রী ফাতেমাতুজ জোহরা, ছেলে আবরার ও ছোট মেয়ে আরিফা কিনেছে যথাক্রমে ধর্মীয় বই, নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প ও ছোটদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস।
ঐতিহ্য প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন কাজল বলেন, মেলার শেষ দিকে প্রচুর পাঠক এখন তালিকা ধরে ধরে বই কিনছেন। এ ধরনের পাঠক-ক্রেতাই এখন বেশি। সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় বই ক্রয়ের দিক থেকে পাঠকদের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া পড়েছে।
বেচাকেনার হালচাল নিয়ে মৃদুল প্রকাশনীর প্রকাশক এম সহিদুল ইসলাম বলেন, এখন মেলার অন্তিম সময় চলছে। বলা চলে বই বিক্রির মোক্ষম সময় এখনই। আমরা পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী বই বিক্রি করছি। পরিবারের সবাই এমনকি বইপ্রেমীরা বুক লিস্ট ধরে ধরে এখন বই কিনছেন।
বইয়ের চাকচিক্য ও অধিক মূল্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাগজের মূল্য তো অত্যধিক। তা ছাড়া কাগজের ওপর শুল্কও কমানো হচ্ছে না। বই লেখা, ছাপানো, মুদ্রণ খরচ কিন্তু কম নয়। আর চাকচিক্যের যে বিষয়টি বলছেন সেটি আসলে বই বিক্রির একটি পন্থাও বটে। কাগজ মানসম্মত না হলে অনেক পাঠক বই কিনতেও চায় না।
বইমেলার ২৬তম দিন সোমবার মেলা শুরু হয় দুপুর ১২টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। এই দিনে নতুন বই এসেছে ২৪৬টি। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত মেলায় এদিন মানুষের ঢল নামে। এদিন বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ: আবুবকর সিদ্দিক এবং স্মরণ: আজিজুর রহমান আজিজ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে ফরিদ আহমদ দুলাল ও কামরুল ইসলাম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মামুন মুস্তাফা, তৌহিদুল ইসলাম, মো. মনজুরুর রহমান ও আনিস মুহাম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি আসাদ মান্নান।
‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন প্রাবন্ধিক সরকার আবদুল মান্নান, কবি ইউসুফ রেজা, কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক দিলওয়ার হাসান এবং কথাসাহিত্যিক মোস্তফা তারিকুল আহসান।
বই-সংলাপ ও রিকশাচিত্র প্রদর্শন মঞ্চে বিকেল ৫টায় সাম্প্রতিক বাংলা কবিতা বিষয়ে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন সঞ্জীব পুরোহিত, তারেক রেজা, জাহিদ সোহাগ, আফরোজা সোমা, আহমেদ শিপলু, রাদ আহমদ এবং সৈয়দ জাহিদ হাসান। সঞ্চালনা করেন ফারহান ইশরাক ও খালিদ মারুফ।
এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি মুহাম্মদ সামাদ, শামীম রেজা, রহিম শাহ, নভেরা হোসেন এবং ইমরান পরশ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ম ম জুয়েল, আরিফ হাসান, আলম আরা জুঁই, খোদেজা বেগম। এ ছাড়া ছিল জয়দুল হোসেনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সাহিত্য একাডেমি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া’, মুশতাক আহমেদ লিটনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আমরা কুঁড়ি’ এবং শাহিনুর আল-আমীনের পরিচালনায় সংগঠন ‘সম্প্রীতি সংস্কৃতি বন্ধন’-এর পরিবেশনা।
গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪
২০২৩ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক বই প্রকাশের জন্য কথা প্রকাশকে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে শৈল্পিক ও গুণমান বিচারে সেরা বই বিভাগে মনজুর আহমদ রচিত একুশ শতকে বাংলাদেশ: শিক্ষার রূপান্তর গ্রন্থের জন্য প্রথমা প্রকাশন, মঈন আহমেদ রচিত যাত্রাতিহাস: বাংলার যাত্রাশিল্পের আদিঅন্ত গ্রন্থের জন্য ঐতিহ্য এবং আলমগীর সাত্তার রচিত কিলো ফ্লাইট প্রকাশের জন্য জার্নিম্যান বুকসকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ বইয়ের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য ময়ূরপঙ্খিকে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়েছে। ২০২৪ সালের অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে অন্যপ্রকাশ (প্যাভিলিয়ন), নিমফিয়া পাবলিকেশন (২-৪ ইউনিট), বেঙ্গল বুকস (১ ইউনিট)-কে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়েছে। ২৯ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারগুলো হস্তান্তর করা হবে।
আগামীকালকের বইমেলা
বইমেলার ২৭তম দিন মঙ্গলবার মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ: সেলিম আল দীন শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন লুৎফর রহমান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন রশীদ হারুন ও জাহিদ রিপন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন নাট্যজন নাসিরউদ্দিন ইউসুফ।
রমজানে অসাধু উপায়ে দ্রব্যমূল্য না বাড়াতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচনে ভূমিকা রাখা সম্ভব। শনিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এতিম ও আলেম-ওলামাদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি একথা বলেন।
এ সময় তারেক রহমান বলেন, পবিত্র রামজান ত্যাগ এবং সংযমের মাস। রহমত-বরকত-সংযমের মাস। অথচ অপ্রিয় হলেও সত্য রমজান এলেই আমাদের কেউ কেউ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেন। এই মাসকে লোভ-লাভের মাস বানিয়ে ফেলেন। এ মাসেও যারা অসাধু পন্থা অবলম্বন করছেন, আপনাদের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান অনুগ্রহ করে আপনারা মানুষের কষ্টের কারণ হবেন না।
ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির আরেকটি হচ্ছে যাকাত মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, দেশে যাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমি আমার একটি পরিকল্পনার কথা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। ইসলামের বিধান অনুযায়ী আমাদের সমাজে অনেক বিত্তবান নিজ উদ্যোগেই যাকাত দিয়ে থাকেন। কেউ কেউ সরকারের ‘জাকাত বোর্ডের’ মাধ্যমেও জাকাত পরিশোধ করে থাকেন। বিভিন্ন গবেষণা রিপোর্টে দেখা গেছে... প্রতি বছর বাংলাদেশে এই যাকাতের পরিমাণ ২০/২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়ে থাকে। কেউ কেউ এর পরিমাণ আরো অনেক বেশি বলেছেন। তবে সুপরিকল্পিত এবং সুসংগঠিতভাবে জাকাত বণ্টন না করায় বিত্তবান ব্যক্তির জাকাত আদায় হয়ে গেলেও জাকাতের অর্থ দারিদ্র বিমোচনে কতটা ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে এটি একটি বড় প্রশ্ন।
তিনি বলেন, জাকাত দাতাদের ইসলামী বিধান এমনভাবে যাকাত বণ্টনে উৎসাহিত করে যাতে একজন জাকাত গ্রহীতা প্রথম বছর জাকাত গ্রহণের পর পরের বছর আর যাকাত গ্রহণ করতে না হয়। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, পরিকল্পিতভাবে জাকাত বণ্টন করা গেলে দারিদ্র বিমোচনে জাকাত যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। এমন বাস্তবতায় সরকার জাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর এবং লক্ষ্যভিত্তিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবারের রমজানে এটিই হয়তো শেষ ইফতার মাহফিল। আজকের এই ইফতার মাহফিলের অংশগ্রহণকারী ‘ইয়াতিম সন্তানেরাই’ আজকের সবচেয়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ মেহমান। পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে ‘এতিমের হক’ আদায়ের ব্যাপারে মুমিন মুসলমানদের প্রতি ইসলামের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। ইয়াতিমের প্রতি ‘হক আদায়ে’র গুরুত্ব এবং ইয়াতিমদের নিয়ে আজকের এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আলেম-ওলামা-মাশায়েখ এবং ইয়াতিমদের সম্মানে আমরা সাধারণত পবিত্র রমজানের প্রথম দিনেই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে থাকি। তবে দেশের চলমান বাস্তবতায় এবার আমাদের একটু দেরি করেই আপনাদের সঙ্গে নিয়ে ইফতারের আয়োজন করতে হয়েছে। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতিটির কারণে গ্যাস-বিদ্যুৎ জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যায় সংকোচন এবং কৃচ্ছতা সাধনের অংশ হিসেবে এবারের রমজানে দুটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছি।
আজ শনিবার, ছুটির দিনেও অফিস করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর টানা তৃতীয় শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে কার্যালয়ে অফিস করলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং শিক্ষা ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা মাহদী আমিন কার্যালয়ে অফিস করেছেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ছালেহ শিবলি, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও ছিলেন।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুর ১২টায় কার্যালয়ে আসেন। এরপরই পাটজাত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো ও বাজার সম্প্রসারণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. নার্গীস আক্তার।
এরপর দুপুর আড়াইটায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় কমানো ও কার্যকর জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এদিকে, দেশের ওলামা-মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইফতারের আয়োজন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কার্যালয় থেকে সেখানে যাবেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবে বাংলাদেশেও জ্বালানি সংকটের গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আসন্ন দিনগুলোতে তেলের তীব্র সংকট হতে পারে—এমন আতঙ্ক থেকে রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে গত কয়েক দিন ধরে যানবাহনের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরেও রাজধানীর বিজয় সরণি, মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেক পাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করতে হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন থেকে শুরু করে মহাখালী পর্যন্ত কয়েক লাইনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে শত শত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তেল না পেয়ে অনেক চালককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। আশিকুজ্জামান চয়ন নামের এক মোটরসাইকেল চালক জানান, দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি মাত্র ৩০০ টাকার তেল সংগ্রহ করতে পেরেছেন। অন্যদিকে রাব্বি নামের আরেক চালক বলেন, তেলের পাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন গুজবে তিনি বাধ্য হয়েই এই বিশাল লাইনে দাঁড়িয়েছেন, কারণ গাড়িতে তেল না থাকলে চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
এই অস্বাভাবিক ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তেল সংগ্রহের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। সংস্থাটির নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিবার বা প্রতি ট্রিপে একটি মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং একটি প্রাইভেটকার সর্বোচ্চ ১০ লিটার তেল নিতে পারবে। এছাড়া জিপ বা মাইক্রোবাসের জন্য ২৫ লিটার, পিকআপের জন্য ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বড় ট্রাক বা বাসের জন্য সর্বোচ্চ ২২০ লিটার জ্বালানি তেল সংগ্রহের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। মূলত তেলের মজুদ ঠিক রাখতে এবং সবার মাঝে সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতেই এই রেশনিং ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিভিন্ন পাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা একটি বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তবে সরকার চেষ্টা করছে এখনই দেশের বাজারে দাম না বাড়াতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতিমধেই দ্বিগুণেরও বেশি দামে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদও জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুদ করে বাজার অস্থিতিশীল করবেন না। বিপিসি স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং গুজব ছড়ানো রোধ করতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার রেশ ধরে বাংলাদেশে যে জ্বালানি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
খামখেয়ালি নয়, স্পিকারকে অভিভাবক মেনেই এগিয়ে যাবেন ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যরা— এমনটাই জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের দলীয় কার্যালয়ে দ্বিতীয় ও শেষ দিনের কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশে প্রকৃত অর্থে কার্যকরী সংসদ উপহার দিতেই এ কর্মশালা। সংসদে যোগ দেওয়া নবীন সদস্যরা যেন মানসিক চাপ না নেন, সে লক্ষ্যেই এটির আয়োজন।
তিনি বলেন, সংসদীয় ব্যবস্থা অনুযায়ী সংসদে রাষ্ট্রপতি প্রথম ভাষণ দেবেন। ইতোমধ্যে সেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের খারাপ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায় বিএনপি। নতুন সংসদ সদস্যরা জনপ্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে। এ লক্ষ্যেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মোট ২০৮ জন সংসদ সদস্য শপথ নেন, যার মধ্যে ১৪৬ জন প্রথমবারের মতো সংসদে যাবেন।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ২০১৩ সালে দায়ের হওয়া একটি নাশকতা মামলায় সালাউদ্দীন আইয়ূবী (৪৫) নামে এক সাবেক শিবির নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ মার্চ) তাঁকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) একটি যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া সালাউদ্দীন আইয়ূবী হাটহাজারী উত্তর থানা শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি উপজেলার গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের সাদেক নগর গ্রামের মো. জানে আলমের ছেলে। পুলিশ জানায়, সালাউদ্দীন দীর্ঘ দিন প্রবাসে ছিলেন এবং সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরেছেন।
হাটহাজারী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি নাশকতার মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি আত্মগোপনে বা প্রবাসে থাকায় পরোয়ানা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে যৌথ বাহিনী এই অভিযান পরিচালনা করে।
হাটহাজারী থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করতেই এই গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এমন নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী ও সর্বজনীন করতে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সর্বজনীন স্বাস্থ্যের পথে’ শীর্ষক এক সংলাপে এই তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং মোট পদের মধ্যে ৮০ হাজারই হবেন নারী। মূলত তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বা প্রাইমারি হেলথকেয়ার সিস্টেমকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, দেশব্যাপী ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে এর প্রয়োজনীয় কাঠামো গঠনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ডিজিটাল এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে, যা চিকিৎসা সেবা প্রদানকে আরও সহজ ও নিখুঁত করবে। প্রতিমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটলে দেশের সাধারণ মানুষ উন্নতমানের চিকিৎসা সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
তবে স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সমস্যা ও অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, স্বাস্থ্য খাতের একটি বড় অংশ দুর্নীতির কবলে রয়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সঠিক তদারকি ও কঠোর নজরদারি না থাকলে যেকোনো উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বা প্রকল্প শেষ পর্যন্ত ‘মেগা দুর্নীতির’ খাতে পরিণত হতে পারে। তাই সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ পরিচালনা করতে একটি নির্দিষ্ট পাইপলাইনিং বা টেকসই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তাঁর মতে, অতীতে অনেক ভালো উদ্যোগ কেবল তদারকির অভাবে দুর্নীতির ভিড়ে হারিয়ে গেছে, যার পুনরাবৃত্তি বর্তমান সরকার হতে দেবে না।
হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা নিয়েও কঠোর বার্তা দিয়েছেন এম এ মুহিত। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে রোগীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এছাড়া চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত না থাকার বিষয়টিও সরকারের নজরে এসেছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং চিকিৎসকদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করা হবে। এই বিশাল নিয়োগ এবং কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান চিত্র বদলে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকায় বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা জনদুর্ভোগ ও বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সরাসরি সমাধান করতে এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নাগরিক সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এখন থেকে প্রতি শনিবার ‘পাবলিক হিয়ারিং ডে’ পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসসিসি। এই বিশেষ দিনে সাধারণ নাগরিকরা কোনো রকম মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি ডিএসসিসি প্রশাসকের কাছে তাঁদের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারবেন।
ডিএসসিসির এক সাম্প্রতিক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম নগর ভবনে তাঁর নিজ কার্যালয়ে সর্বসাধারণের সাথে সরাসরি মতবিনিময়ের জন্য এই দিনটি বরাদ্দ করেছেন। প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের জন্য নগর ভবনের দুয়ার এখন আরও অবারিত হলো। মূলত নাগরিক সেবার মান বাড়ানো এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সরাসরি জনগণের পরামর্শ গ্রহণ করাই এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রতি শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত (রমজান মাস উপলক্ষে) এবং বছরের অন্য সময়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রশাসকের কার্যালয়ে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটির বাসিন্দারা রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, মশা নিধন বা যত্রতত্র আবর্জনা ফেলাই সংক্রান্ত যেকোনো ব্যক্তিগত বা সামষ্টিক অভিযোগ সরাসরি প্রশাসকের কাছে জানাতে পারবেন। প্রাপ্ত অভিযোগগুলোর তাৎক্ষণিক সমাধান অথবা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসক মো. আবদুস সালাম ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নাগরিকদের এই ‘পাবলিক হিয়ারিং ডে’-তে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের সরাসরি মতামত গ্রহণ করলে একদিকে যেমন দুর্নীতির সুযোগ কমবে, তেমনি অন্যদিকে নাগরিক সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান নিশ্চিত হবে। এই নতুন উদ্যোগটি ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন সচেতন নগরবাসী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি সংসদীয় রাজনীতির অতীত নেতিবাচক ও খারাপ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি উন্নত ও আধুনিক সংসদ উপহার দিতে চায়। শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার শেষ দিনে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন সংসদের কার্যক্রম দেখে দেশবাসী আশ্বস্ত হবেন এবং একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সংসদের স্বাদ পাবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই বিশেষ কর্মশালায় সংসদ সদস্যদের সংবিধান (কনস্টিটিউশন), সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি (রুলস অব প্রসিডিউর), সংসদীয় রীতিনীতি (কাস্টমস) এবং কনভেনশন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্বের শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সংসদে যে ধরণের উন্নত চর্চা হয়, সেসব বিষয় নিয়েও নবনির্বাচিত এমপিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো অতীতের সব নেতিবাচক স্মৃতি মানুষের মন থেকে মুছে দেওয়া এবং এমন একটি সংসদীয় পরিবেশ তৈরি করা যা জাতি দীর্ঘকাল প্রত্যাশা করে এসেছে।’
বিশেষ করে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ওপর দলের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নতুন এমপিদের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা নবীন, তারা সতেজ মনে ভালো শিক্ষাটা পাবেন। একটি শিশু যেমন জন্মের পর নতুন পরিবেশ থেকে শুদ্ধ সংস্কৃতি শেখে, আমাদের নতুন সংসদ সদস্যরাও তেমনিভাবে সংসদীয় শিষ্টাচার ও বিধিবিধানের সঠিক শিক্ষা নিয়ে দেশ সেবায় নামবেন।’ তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই প্রতিনিধিরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবেন।
উল্লেখ্য, নবনির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্যদের সংসদীয় কার্যক্রম, বিধি-বিধান ও আচার-আচরণ বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে দলীয়ভাবে এই দুই দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। আজ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণের সমাপ্তি ঘটছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই দলের এমপিদের এমন প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। বিএনপি আশা করছে, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সংসদ সদস্যরা গঠনমূলক আলোচনা ও আইন প্রণয়নে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবেন।
উৎসবমুখর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ আইন সমিতির ২০২৬ সালের নির্বাহী কমিটির নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে এ কে এম আফজাল উল মুনীর এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোট গ্রহণ ও গণনা শেষে নবনির্বাচিত কমিটির দপ্তর সম্পাদক বেল্লাল হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বার্তায় পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচিত কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদেও একঝাঁক প্রতিভাবান আইনজীবীকে দেখা গেছে। সহ-সভাপতি পদে ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, হাসিনা মমতাজ মিষ্টি এবং সুপ্রিয়া দাসসহ মোট ৭ জন নির্বাচিত হয়েছেন। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. মামুনুর রশিদ ও নুসরাত ইয়াসমিন সুমাইয়া। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সালেহ আকরাম সম্রাট ও মো. কামরুল হাসান এবং অর্থ সম্পাদক পদে মো. আরমান হোসাইন দায়িত্ব পেয়েছেন। দপ্তর সম্পাদক হিসেবে বেল্লাল হোসাইন ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে আব্দুস সাত্তার রনি নির্বাচিত হয়েছেন। কার্যকরী সদস্য হিসেবে হাফিজুল হক ও জাহাঙ্গীর আলমসহ মোট ১১ জন জয়লাভ করেছেন।
শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠান ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল। বিশেষ অতিথি হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, অধস্তন আদালতের বিচারক এবং দেশের প্রথিতযশা আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। নবনির্বাচিত কমিটি তাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেশের বিচার বিভাগের উন্নয়ন এবং সদস্যদের কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নেতারা বলেন, বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে বাংলাদেশ আইন সমিতি সর্বদা অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করবে।
ভোট গ্রহণ শেষে ভোটার ও অতিথিদের সম্মানে এক জমকালো ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিজ্ঞ আইনজীবীরা পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন এবং নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানান। নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সদস্যদের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে তাঁরা একটি স্বচ্ছ ও গতিশীল সমিতি উপহার দেবেন। বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার আন্দোলনে তাঁরা সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সব মিলিয়ে এক আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আইন সমিতির নতুন নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হলো।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং আকাশপথের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট শিডিউল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত নিজেদের সকল ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে রাষ্ট্রীয় এই পতাকাবাহী সংস্থা। এর আগে ৩ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত এসব রুটে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছিল, যা বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আরও কয়েক দিন বাড়ানো হলো।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে বিমানের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বাতিল হওয়া রুটের তালিকায় রয়েছে—সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবু ধাবি ও শারজাহ, সৌদি আরবের দাম্মাম, কাতারের দোহা এবং কুয়েত সিটি। এই রুটের যাত্রীদেরকে বিমান কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি উন্নত হওয়ার সাপেক্ষে পরবর্তীতে নতুন সময়সূচি জানানো হবে বলে বিমানের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকেই ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে মহাবিপর্যয় দেখা দেয়। যুদ্ধের প্রভাবে এখন পর্যন্ত ঢাকা থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ২৪৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার প্রবাসী এবং বিশেষ প্রয়োজনে বিদেশগামী যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বিমানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বর্তমানে বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আকাশপথ পুনরায় উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফ্লাইট বাতিল হওয়ার ফলে যারা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তাঁদের বিমানের কল সেন্টার অথবা নিকটস্থ সেলস অফিসে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সরাসরি প্রভাব এখন বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের ওপর বড় ধরণের ছায়া ফেলেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান। সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান আছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনকে সামনে রেখে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই, এই সংসদের কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা যাতে পূরণ করতে পারি, সেজন্য জাতীয় সংসদকে শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি বলেন, বিরোধী দলকে লিখিতভাবে ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাব দেওয়ার বিধান নেই। আমরা উদারতা দেখিয়েছি। জামায়াতের উদারভাবে তা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করি।
দেশের শাসনব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেখানে প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি মোকাবিলায় কোনো আপস করা হবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেব, দলীয় পরিচয় দেখব না।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের প্রতি সমর্থন দিতে ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের সব স্তরে দুর্নীতি নির্মূল করতে আমরা বদ্ধপরিকর এবং এ লক্ষ্যে অত্যন্ত দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কেবল কঠোর আইন নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব।
বিদেশি কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করে তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সমাজে একটি সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে তার সরকার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে।
ইফতারে ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যেসহ ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ইফতারে প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে তার ডান পাশে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। বাম পাশে ছিলেন কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল পাচার রোধে যশোর সীমান্তে জনবল বৃদ্ধি, টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (৬ মার্চ) যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনায় যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি শুরু করা হয়েছে। এর আওতায় বেনাপোল স্থলবন্দরসহ যশোরের শার্শা ও চৌগাছা সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় টহল কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে। বিশেষ করে, যেসব রুট দিয়ে অতীতে ডিজেল ও পেট্রল পাচারের চেষ্টা হয়েছিল, সেসব পয়েন্টে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দর গেট দিয়ে ভারতে প্রবেশকারী দেশীয় ও ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকেও কড়াকড়িভাবে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবল বৃদ্ধি, বিশেষ টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন পরিবহন ও চলাচলের ওপরও কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।
সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী আরও বলেন, কোনোভাবেই যেন সীমান্ত পথে জ্বালানি তেল পাচার হতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। দেশের জ্বালানিসম্পদ সুরক্ষায় বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখবে এবং পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে তেলসংকটের আতঙ্কে যশোরে হঠাৎ তেলের পাম্পগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন বাইকাররা। অধিকাংশ বাইকারই প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত তেল দাবি করছেন। এতে অনেক পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। হাতে গোনা কয়েকটি পাম্পে অকটেন মিললেও পাওয়া যাচ্ছে না পেট্রোল।
সেখানেও বাইকারদের দীর্ঘ লাইন দিয়ে নিতে হচ্ছে তেল। পাম্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাম্পগুলোতে আগামী রোববার পর্যন্ত তেলের মজুত থাকলেও বাইকারদের অতিরিক্ত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তার আগেই শেষ হবে তেল। ফলে বাইকারদের আতঙ্কে যশোরে সৃষ্টি হতে চলছে তেলের তীব্র সংকট।