বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

তালিকা ধরে ধরে বই কিনছেন বইপ্রেমীরা

ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২৩:২৫
মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ
প্রকাশিত
মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ
প্রকাশিত : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২২:২৬

নিয়ম অনুযায়ী আজকের দিনের পর আর মাত্র তিন দিন আছে প্রাণের মেলার সময়। তিন দিন পরই শেষ হয়ে যাবে মাসব্যাপী চলা বইয়ের এ উৎসব। তবে আগামী ১ ও ২ মার্চ শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দুই দিন বইয়ের মেলা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন প্রকাশকরা। এ জন্য বাংলা একাডেমিকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক বিক্রেতা সমিতি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ-কালের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে। তবে সেই দুই দিন সময় না বাড়ানো হলে আপাতত দৃষ্টিতে বইমেলা ২৯ ফেব্রুয়ারিই শেষ হচ্ছে।

তাই মেলা একদম শেষপর্যায়ে চলে আসায় এরই মধ্যে প্রায় সব নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। ফলে প্রকাশনীর ক্যাটালগ বা তালিকা দেখে নিজেদের পছন্দের সব পাঠকের বিভিন্ন স্টল-প্যাভিলিয়নে বই কিনতে দেখা যাচ্ছে।

বরাবরের মতো এবারও শেষ দিকে বেড়েছে বই বিক্রি। কারণ হিসেবে প্রকাশকরা বলছেন, সাহিত্যপ্রেমীরা মেলার শুরু থেকে বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে তালিকা সংগ্রহ করে শেষ দিকে এসে বই কেনা শুরু করেন। এরই মধ্যে মেলা থেকে তাদের ব্যাগ ভর্তি করে বই কিনতে দেখা গেছে।
বইমেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, মেলায় এখন যারা আসছেন তাদের বেশির ভাগই বইয়ের ক্রেতা। পাঠকদের বড় একটি অংশ মেলায় বই কিনছেন নিজের পছন্দ করা বইয়ের তালিকা ধরে ধরে। মেলায় প্রকাশনী স্টলগুলোতে কিছুক্ষণ পরপরই পাঠক আসছেন। যাদের মধ্যে অনেকেই তালিকা ধরে বই কিনতে আসছেন মেলায়। এক প্রকাশনী থেকে বই সংগ্রহ শেষে ছুটছেন অন্য প্রকাশনীতে। তাদের অনেকেই পছন্দের তালিকার বই কিনতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। আবার অনেকেই দেখেশুনে বই কিনতে দেখা গেছে।

মেলায় আগত পাঠক-দর্শনার্থী জানান, বিভিন্ন প্রকাশনী ঘুরে ক্যাটালগ দেখে এতদিন নতুন বইয়ের তালিকা সংগ্রহ করেছেন তারা। মেলা শেষপর্যায়ে আসায় এরই মধ্যে প্রায় সব নতুন বই চলে এসেছে। ফলে এখন আর শুধু দেখা নয়, এবার তারা পছন্দের বইগুলো কেনা শুরু করেছেন তারা।

আগামী, অন্যপ্রকাশ, সময়, প্রথমা, পাঞ্জেরী, অন্বেষা, ইত্যাদি, বাতিঘর, অনন্যা, কাকলী, উৎস, দিব্য, বিদ্যা, পুথিনিলয়, অ্যাডর্ন, পার্ল, ইউসিবিএল, কথাপ্রকাশ, শোভাসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রকাশনার প্যাভিলিয়ন ও স্টল ঘুরেও দেখা গেছে বইয়ের বিক্রির হিড়িক। সেখানেও দেখা গেছে তালিকা ধরে ধরে পাঠ করা বই কিনছেন।

আজ বইমেলায় ছিল ছুটির দিন। পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে সরকারি এ ছুটির দিনে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মেলায় যেন জনস্রোত তৈরি হয়েছিল। পাঠক-দর্শনার্থীর ভিড়ে বইয়ের বেচাকেনাও হয়েছে বেশ। এতে একদিকে প্রকাশকদের মুখে যেমন হাসি ফুটেছে তেমনি পাঠকদের কাছে নিজের বইটি তুলে দিতে পেরে সন্তুষ্ট লেখকরাও।

রাজধানীর পুরান ঢাকা থেকে বইমেলায় ঘুরতে আসা আদিবা জাহান নওমি বলেন, ‘এবারের বইমেলায় শুরুর দিকে একবার এসে ঘুরে গেছি। তখন প্রকাশনীগুলো থেকে তাদের ক্যাটালগ সংগ্রহ করেছিলাম। বাসা থেকে এবার পছন্দ করা বইগুলোর তালিকা করে নিয়ে এসেছি। এখন ক্যাটালগ থেকে তালিকা ধরে ধরে বই কিনেছি। বেশ কিছু বই কেনা বাকি রয়েছে। শেষ দিন হয়তো আবার আসা হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদা নূর ঐশী বলেন, বইমেলা তো হলের পাশেই যখন ইচ্ছে হয় যাওয়া যায়। তবে মেলার শুরুর দিকে দুয়েকটি বই কিনছিলাম। আর এখন পছন্দের তালিকা থেকে বই কিনতে এসেছি। মেলা থেকে নিজের পছন্দের অন্তত ১০টি বই কিনবেন বলেও জানান তিনি।

বইমেলা থেকে বড় মেয়ের জন্য হুমায়ূন আহমেদের কোথাও কেউ নেই বইটি কিনেছেন ঢাকা জজ কোর্টের সাংবাদিক হীরক পাশা। তিনি জানান, নিজের পছন্দের বিষয় ইতিহাস ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের বেশ কিছু বই কিনেছেন তিনি। স্ত্রী ফাতেমাতুজ জোহরা, ছেলে আবরার ও ছোট মেয়ে আরিফা কিনেছে যথাক্রমে ধর্মীয় বই, নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প ও ছোটদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস।

ঐতিহ্য প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন কাজল বলেন, মেলার শেষ দিকে প্রচুর পাঠক এখন তালিকা ধরে ধরে বই কিনছেন। এ ধরনের পাঠক-ক্রেতাই এখন বেশি। সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় বই ক্রয়ের দিক থেকে পাঠকদের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া পড়েছে।

বেচাকেনার হালচাল নিয়ে মৃদুল প্রকাশনীর প্রকাশক এম সহিদুল ইসলাম বলেন, এখন মেলার অন্তিম সময় চলছে। বলা চলে বই বিক্রির মোক্ষম সময় এখনই। আমরা পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী বই বিক্রি করছি। পরিবারের সবাই এমনকি বইপ্রেমীরা বুক লিস্ট ধরে ধরে এখন বই কিনছেন।

বইয়ের চাকচিক্য ও অধিক মূল্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাগজের মূল্য তো অত্যধিক। তা ছাড়া কাগজের ওপর শুল্কও কমানো হচ্ছে না। বই লেখা, ছাপানো, মুদ্রণ খরচ কিন্তু কম নয়। আর চাকচিক্যের যে বিষয়টি বলছেন সেটি আসলে বই বিক্রির একটি পন্থাও বটে। কাগজ মানসম্মত না হলে অনেক পাঠক বই কিনতেও চায় না।

বইমেলার ২৬তম দিন সোমবার মেলা শুরু হয় দুপুর ১২টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। এই দিনে নতুন বই এসেছে ২৪৬টি। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত মেলায় এদিন মানুষের ঢল নামে। এদিন বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ: আবুবকর সিদ্দিক এবং স্মরণ: আজিজুর রহমান আজিজ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে ফরিদ আহমদ দুলাল ও কামরুল ইসলাম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মামুন মুস্তাফা, তৌহিদুল ইসলাম, মো. মনজুরুর রহমান ও আনিস মুহাম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি আসাদ মান্নান।

‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন প্রাবন্ধিক সরকার আবদুল মান্নান, কবি ইউসুফ রেজা, কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক দিলওয়ার হাসান এবং কথাসাহিত্যিক মোস্তফা তারিকুল আহসান।

বই-সংলাপ ও রিকশাচিত্র প্রদর্শন মঞ্চে বিকেল ৫টায় সাম্প্রতিক বাংলা কবিতা বিষয়ে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন সঞ্জীব পুরোহিত, তারেক রেজা, জাহিদ সোহাগ, আফরোজা সোমা, আহমেদ শিপলু, রাদ আহমদ এবং সৈয়দ জাহিদ হাসান। সঞ্চালনা করেন ফারহান ইশরাক ও খালিদ মারুফ।

এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি মুহাম্মদ সামাদ, শামীম রেজা, রহিম শাহ, নভেরা হোসেন এবং ইমরান পরশ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ম ম জুয়েল, আরিফ হাসান, আলম আরা জুঁই, খোদেজা বেগম। এ ছাড়া ছিল জয়দুল হোসেনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সাহিত্য একাডেমি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া’, মুশতাক আহমেদ লিটনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আমরা কুঁড়ি’ এবং শাহিনুর আল-আমীনের পরিচালনায় সংগঠন ‘সম্প্রীতি সংস্কৃতি বন্ধন’-এর পরিবেশনা।

গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪

২০২৩ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক বই প্রকাশের জন্য কথা প্রকাশকে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে শৈল্পিক ও গুণমান বিচারে সেরা বই বিভাগে মনজুর আহমদ রচিত একুশ শতকে বাংলাদেশ: শিক্ষার রূপান্তর গ্রন্থের জন্য প্রথমা প্রকাশন, মঈন আহমেদ রচিত যাত্রাতিহাস: বাংলার যাত্রাশিল্পের আদিঅন্ত গ্রন্থের জন্য ঐতিহ্য এবং আলমগীর সাত্তার রচিত কিলো ফ্লাইট প্রকাশের জন্য জার্নিম্যান বুকসকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ বইয়ের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য ময়ূরপঙ্খিকে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়েছে। ২০২৪ সালের অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে অন্যপ্রকাশ (প্যাভিলিয়ন), নিমফিয়া পাবলিকেশন (২-৪ ইউনিট), বেঙ্গল বুকস (১ ইউনিট)-কে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়েছে। ২৯ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারগুলো হস্তান্তর করা হবে।

আগামীকালকের বইমেলা

বইমেলার ২৭তম দিন মঙ্গলবার মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ: সেলিম আল দীন শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন লুৎফর রহমান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন রশীদ হারুন ও জাহিদ রিপন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন নাট্যজন নাসিরউদ্দিন ইউসুফ।


নির্বাচিত

দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্যে বাংলাদেশের ক্ষোভ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও বক্তব্যের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।

বুধবার (৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, যা দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি স্পষ্ট অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি চরম অসম্মান।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হলে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর তার সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে বাংলাদেশকে আগেই সতর্ক করে ভারতকে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ভারতীয় ভূখণ্ডে এই প্রকাশ্য কর্মসূচির সুযোগ দেওয়ায় ঢাকা গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত সহিংসতা নিয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনকে ওই বক্তব্যে অস্বীকার করা হয়েছে বলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ তোলে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জোর দিয়ে বলেছে, পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌম সমতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সাথে একটি গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশ আগ্রহী।

২০১৩ সালের দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও ভারতের দিক থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক সাড়া মেলেনি। শেখ হাসিনাকে এভাবে প্রচারমাধ্যমের সুযোগ দেওয়া দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও জনমানের পারস্পরিক আস্থায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে ঢাকা।


নির্বাচিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণের আহ্বান ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ শীর্ষক এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

এ সময় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে যারা শহীদ ও যুদ্ধাহত হয়েছেন, তাঁদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি তরুণদের স্বপ্নের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বিপ্লবের আসল লক্ষ্য থেকে কোনোভাবেই বিচ্যুত হওয়া যাবে না এবং এই অর্জনকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান তাঁর বক্তব্যে যেকোনো জাতীয় সংকটে সবাইকে একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচারী শাসনের উত্থান ঘটতে না পারে।

এছাড়া বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জুলাই শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল এদেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফসল: চিফ হুইপ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ছিল এদেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফসল এবং এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্জীবিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই স্বাধীনতাকে সুসংহত করার এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার নবদিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

বুধবার (৫ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।

চিফ হুইপ তাঁর বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিগত ‘মাফিয়া’ সরকার এদেশ থেকে ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে, মানুষের বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার ধ্বংস করেছে এবং ‘আয়নাঘর’ ও জেল-জুলুমের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সশস্ত্র বাহিনীর শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকার কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।

চিফ হুইপ বলেন, বর্তমান সংসদের গত পাঁচটি মাসে আমরা দু’টি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন (রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাজেট অধিবেশন) অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। তিনি একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাননীয় সংসদ সদস্যগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তারা কোনো ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি বা সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না।

এছাড়াও, তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সংকট সমাধানে সংসদ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছে এবং সুফল পেয়েছে।

নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার যাই বলি না কেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠন করা।’

তিনি ভারতের সংবিধানের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ৭৬ বছরে তারা ১০৬ বার সংশোধন করেছে; তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আমাদের সংবিধানেও সব কিছু অন্তর্ভুক্ত করা হবে যেন নতুন প্রজন্ম একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম সুখী-সমৃদ্ধ দেশ পায়।

সরকারি ও বিরোধী দলের সকল সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা আমাদের সকল সমস্যা নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা করি। পার্লামেন্টই হবে সকল সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু।’

তিনি দেশে একটি টেকসই ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজপথের পরিবর্তে সংসদকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

জুলাই নিয়ে ভাগাভাগি করলে এই অর্জন কারোরই থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার বিভাজনের রাজনীতি না করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

এসময় মন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পর জুলাইকে নিয়ে রাজনৈতিক ভাগাভাগি শুরু করলে এই ঐতিহাসিক অর্জন কারোরই থাকবে না, তাই এমন বিভক্তি থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে।

সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী আনা হবে, যা হবে এই শতাব্দীর একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন আগামী সংসদে উত্থাপন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চব্বিশের এই মুক্তি ৩৬ দিনের কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ, গুম ও নির্যাতনের চরম পরিণতি।

রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারে সরকার আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুসরণে আইন সংশোধন করা হয়েছে যাতে ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনেরও বিচার সুগম হয় এবং আদালতই ঠিক করবে এদের পরিণতি কী হবে।

ফ্যাসিবাদী আচরণের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ সংরক্ষিত থাকবে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হাজারো তর্ক-বিতর্ক থাকলেও ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে পুরো জাতিকে সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।


নির্বাচিত

ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে ঐক্য দৃঢ় করতে হবে: মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে জাতীয় ঐক্য দৃঢ় করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল বিএনপির নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। সেই সময় থেকে ক্ষুদ্র রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে, সব ভেদাভেদ ছাপিয়ে গণতন্ত্রকামী প্রতিটি শক্তির একমাত্র পরিচয় হয়ে উঠেছিল–তারা বাংলাদেশের পক্ষে।

বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সৃষ্টি হয়েছিল ‘ফ্যাসিবাদ বনাম বাংলাদেশ’ এক নতুন মেরুকরণ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আজ দুই বছর পূর্তিতে সেই ঐক্যের মাঝে এক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দূরত্ব দৃশ্যমান। আমাদের নিজেদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক থাকতে পারে, ইতিবাচক সমালোচনা হতে পারে; তবে কোনো ধরনের অশালীন আচরণ না করেও একে অপরকে প্রশ্ন করা যায়, প্রজ্ঞা ও ইতিবাচকতার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করা যায়। ভিন্নমতকে ধারণ করেই পলাতক ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান যেন না ঘটে, সেই লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য দৃঢ় করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে, আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার বীরত্বপূর্ণ অংশগ্রহণে সংঘটিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনবদ্য অধ্যায়ের সূচনা করে।

তিনি বলেন, গণমানুষের জোয়ারের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় এবং বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় এগিয়ে যায়। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের রক্তে রঞ্জিত এই দিন জাতীয়ভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।

ঐতিহ্যগতভাবেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিএনপির দীর্ঘ সংগ্রাম ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের গৌরবময় পটভূমি রচনা করেছে। এই লড়াইয়ে আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দৃঢ় নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা আন্দোলনকে শক্তি ও প্রেরণা জুগিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত শক্তি ছিল সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ। নারীদের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, কৃষক এবং পোশাকশ্রমিকসহ দল-মত-পেশার ঊর্ধ্বে উঠে সবাই এতে অংশ নেন। এটি ছিল মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, বাকস্বাধীনতা হরণ, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ভোটাধিকার লুণ্ঠন ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে অদম্য প্রত্যয়ের সমন্বিত প্রকাশ।

সরকার মানুষের এই স্রোত দমাতে নির্মমভাবে গুলি চালিয়েছে, যার মধ্যে শহীদ আবু সাঈদ ও ছাত্রদল নেতা শহীদ ওয়াসিম আকরামের বীরত্ব জাতিকে অনুপ্রাণিত করেছে।

মাহদী আমিন জানান, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। এই বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গণতন্ত্রকামী শক্তির ঐক্য বজায় রাখা আজ সময়ের দাবি।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তির নয়, এর আসল নায়ক দেশের জনগণ। ১৯৭১ সালের মতো ২০২৪-এর শহীদদেরও জাতি কখনো ভুলবে না। বিগত ১৫ বছর ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার বিএনপি এখন রাষ্ট্র পরিচালনায় রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৩১ দফা, নির্বাচনী ইশতেহার ও সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।


নির্বাচিত

জুলাই শহীদ ও আহতদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দায়িত্ব এই সংসদের: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম আজ জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা বর্তমান জাতীয় সংসদের প্রধান দায়িত্ব।

তিনি বলেন, আমাদের এই জাতীয় সংসদের এবং বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো জুলাইতে যারা জীবন দিয়েছে এবং জুলাইতে যাদের অঙ্গহানি হয়েছে তাদের প্রতি যেন আমরা সুবিচার করতে পারি। যে জন্য জুলাই শহীদরা তাদের জীবন দিয়েছে জুলাই যোদ্ধারা আহত হয়েছে তাদের সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা এই সংসদের প্রধান দায়িত্ব।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আজকের দিন আমাদের বিজয়ের দিন। আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে তাদের স্মরণ করছি যারা বুকের রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে এনেছে, বাংলাদেশকে মানুষের বাসযোগ্য একটি বাসভূমিতে পরিণত করেছে ‘ এ সময় তিনি সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম করে স্বৈরশাসনকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছেন। এটি একটি গৌরবময় ইতিহাস, যা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে গর্ব করবে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যেন জুলাইকে হারিয়ে না ফেলি। জুলাইকে যেন ধারণ করতে পারি। আমরা যেন জনগণের চেতনাকে, জনগণের আশাকে বাস্তবায়ন করতে পারি এটি হওয়া উচিত আমাদের আজকের সংকল্প।’

তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা অঙ্গীকার করি, জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে জাতীয় জীবনের প্রেরণায় রূপ দেব। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুদৃঢ় করব। জাতীয় সংসদের মর্যাদা এবং কার্যকারিতা সমুন্নত রাখবো এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এমন একটি বাংলাদেশ রেখে যাব, যেখানে ক্ষমতার নয়, জনগণের স্বার্থই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ মানদণ্ড।

এ সময় তিনি সব গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতি ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলার আহ্বান জানান।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বর্তমান সংসদকে গণ-অভ্যুত্থানের ফসল বলে আখ্যায়িত করে বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুদৃঢ় করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে এই সংসদকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান জাতীয় সংসদ একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ এবং এটি গণ-অভ্যুত্থানের ফসল। নতুন বাংলাদেশ গঠনে এ সংসদের ওপর অনেক দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি বলেন, সংসদের নারী সদস্যদের মধ্যে ডাক্তার, প্রকৌশলী, ব্যারিস্টারসহ বিভিন্ন পেশার উচ্চশিক্ষিত প্রতিনিধি রয়েছেন। একইভাবে সরাসরি নির্বাচিত সদস্যরাও একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন এবং তারা প্রকৃত জনপ্রতিনিধি।

এসময় তিনি সবাই মিলে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করতে সক্ষম হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ ছিল, তেমনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংঘটিত হয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থানকে একদিন বা দুদিনের ঘটনা নয়, দীর্ঘ ১৬ বছরের অক্লান্ত সংগ্রামের ফল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বক্তব্যের শেষে তিনি মহান আল্লাহর কাছে বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্রের সুদৃঢ় ভিত্তি কামনা করেন। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের মর্যাদা সমুন্নত রাখা এবং জনগণের কল্যাণে সততা, প্রজ্ঞা ও ন্যায়ের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের তৌফিক প্রার্থনা করেন।

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া।

এর আগে তিনি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। বিকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের পরিবারকে আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যে, আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করা হবে। সরকারপ্রধান উল্লেখ করেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রতিটি অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি ঘোষণা দেন, বিগত ১৭ বছরের দুঃশাসন এবং জুলাই অভ্যুত্থানে যারা শহীদ কিংবা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে নিজ নিজ এলাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হবে।

রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ আশা করে এই জাদুঘর কোনো একটি দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা দলের নয়। এই অভ্যুত্থানের মহানায়ক বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ।’

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের মেলবন্ধন টেনে তিনি মন্তব্য করেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের। আর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধাদের মানুষ যেমন ভুলে যায়নি, একইভাবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরকেও জনগণ কখনোই ভুলবে না।’

দেশের চলমান পরিস্থিতিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কৃত্রিম ইস্যু তৈরি করে কেউ যেন স্বৈরাচারের প্রত্যাবর্তনের পথ সুগম না করে, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। দীর্ঘ দেড় দশকের স্বৈরাচারী শাসনামলের অবর্ণনীয় নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে আরেকটি যুগান্তকারী মাইলফলক। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম ও অপহরণের শিকার হয়েছিলেন। লাখ লাখ মানুষ নির্যাতন, নিপীড়ন, হামলা ও মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছিলেন। শুধু জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেই শহীদ হয়েছেন হাজারো ছাত্র-জনতা, নারী ও শিশু।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঠেকাতে ফ্যাসিস্ট চক্র হেলিকপ্টার থেকে গুলি করেও গণতন্ত্রকামী জনগণকে হত্যা করেছিল। পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের এমন নৃশংসতা, এমন বর্বরতা সভ্য জগতে বিরল। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম-খুন ও অপহরণকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই নৃশংসতা শুধু স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে তিন বছরের দুঃশাসনের সঙ্গেই তুলনা চলে।’

জাদুঘরটির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, এটি শুধু অতীতের স্মৃতিস্তম্ভ নয়, বরং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সাহসিকতার দলিল হয়ে থাকবে। ইতিহাসের সত্যতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘অসম্পূর্ণ, অতিরঞ্জিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান ইতিহাসকে শক্তিশালী করে না; বরং ইতিহাসের বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করে এবং ভবিষ্যৎ বিভেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং, প্রতিটি বিষয়ে যথাসম্ভব সত্যতা থাকা প্রয়োজন। একইসঙ্গে জাদুঘরে রাখা বিষয়াবলি সম্পর্কে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি এবং অন্যান্য ভাষায়ও উপস্থাপিত হলে বিশ্বের ভিন্নভাষী মানুষও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে সুবিধা হবে।’

অতীতের রাজনৈতিক পটভূমি স্মরণ করে তিনি উল্লেখ করেন, ‘তাদের পূর্বসূরিরা ১৯৭৫ সালে সংবিধান পরিবর্তন করে দেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিল। পরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। এসব ইতিহাস জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অবশ্যই উপকৃত হবে।’

আহতদের চিকিৎসা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, জুলাই যোদ্ধাদের জন্য সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসাসহ গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও রাশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে অর্ধশত যোদ্ধা দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ১৩ হাজারের বেশি যোদ্ধাকে নিয়মিত সম্মানী ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ৩১ দফা ও জুলাই সনদের ভিত্তিতে একটি স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার কাজ শুরু হয়েছে। সবশেষে সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি ঘোষণা দেন, ‘বাংলাদেশ আর কখনো কোনো তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হবে না।’

অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সরকারের শীর্ষপর্যায় ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে দেশাত্মবোধক গান ও আবৃত্তির মাধ্যমে অভ্যুত্থানের চেতনা ফুটিয়ে তোলা হয়।


নির্বাচিত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা মিতুর খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা মিতুর খোঁজ নিয়েছেন। ছবি: পিএমও
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা মিতুর খোঁজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আহত যোদ্ধা মিতু হাসপাতালের শয্যা থেকে আজ সরাসরি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’- এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে কাছে ডেকে আন্তরিকভাবে কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী মিতুর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান এবং তাঁর সাহস ও আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানান।

এরআগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, আজ আমন্ত্রিত অতিথিদের একজন ছিলেন মিতু, যিনি চব্বিশের জুলাই যুদ্ধে আহত হয়ে এখনও চিকিৎসাধীন। হাসপাতাল থেকে সরাসরি অনুষ্ঠানে যোগ দেন মিতু।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর এই আন্তরিক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে।

প্রধানমন্ত্রীর পাশে তাঁর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানও এ সময় ছিলেন।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

ডিসেম্বরে দেশে আসুন, রাজপথে দেখা হবে: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৫৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তার জবাবে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “তারা বলে ডিসেম্বরে দেশে আসবে। আমরা অপেক্ষা করছি। দেশে আসুন, ইনশাল্লাহ রাজপথে দেখা হবে।” জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও অকুতোভয় যোদ্ধাদের সংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি দেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেন যে গুম, খুন, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও দলটির মধ্যে কোনো অনুশোচনা বা দায়বদ্ধতা নেই। নিজের দেশপ্রেমের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “২৭ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। এখন ৮২ বছর বয়সে বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন হলে আবারও লড়াই করব।” তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের পরিবারের পুনর্বাসন ও আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন—উভয় সংগ্রামের মূল লক্ষ্যই ছিল দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা। তিনি মনে করেন, সুষ্ঠু নির্বাচনই হলো গণতন্ত্রের মূল চালিকাশক্তি এবং দেশাত্মবোধের প্রশ্নে সকল রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি না থাকাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলাকে তিনি ‘অনভিপ্রেত’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন যে, ভুলবশত এটি ঘটেছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। এরপরও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথিদের সামনে ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে হট্টগোল করা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে তিনি ব্যথিত ও দুঃখিত হয়েছেন। অনুসারীদের শৃঙ্খলার সাথে আচরণ করার এবং নেতার নির্দেশ পালনের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।


নির্বাচিত

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের জীবন্ত দলিল জুলাই স্মৃতি জাদুঘর: সংস্কৃতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরকে দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের এক জীবন্ত দলিল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বুধবার রাজধানীতে আয়োজিত জাদুঘর উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে তিনি সুদৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন যে, “কোনো ত্যাগ, কোনো সংগ্রাম কোনোদিন বৃথা যায় না। ইতিহাস কখনো মিথ্যা হয় না। জুলাই গণঅভ্যুত্থান তারই উজ্জ্বল প্রমাণ।” মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দীর্ঘ প্রায় বিশ বছরের স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের চূড়ান্ত সার্থকতা ছিল এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান।

এই আন্দোলনে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের সেই অসামান্য অবদান জাতীয় ইতিহাসে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। মন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গভীরতা ও তাৎপর্য বিশ্লেষণ করলে এটি স্পষ্ট হয় যে, কীভাবে গণতন্ত্রের নামাবলি গায়ে দিয়ে একটি রাষ্ট্র তার সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে সাধারণ জনগণের ওপর নৃশংস নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে পারে। তিনি জানান, সেই রক্তক্ষয়ী ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের তরে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের লক্ষ্যেই এই বিশেষ জাদুঘরটি স্থাপন করা হয়েছে।

নিতাই রায় চৌধুরী আরও তথ্য প্রদান করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এই স্মৃতি জাদুঘরের প্রাথমিক পরিকল্পনা ও কার্যক্রম শুরু হয় এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এটি আজ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে। তিনি বলেন, এই জাদুঘরটি কেবল একটি প্রদর্শনী কেন্দ্র নয়, বরং এটি একটি নিয়মিত গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হবে। নতুন প্রজন্ম যেন এই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা, সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং একটি বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন সম্পর্কে সম্যক ধারণা অর্জন করতে পারে, সেখানে সেই পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অভূতপূর্ব সাফল্যের কথা স্মরণ করে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, এই আন্দোলন বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে জনরোষের মুখে মাত্র ২০ দিনের মাথায় একটি সুসংগঠিত ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। তাঁর মতে, ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট—এই সংক্ষিপ্ত সময়েই তাসের ঘরের মতো ধসে পড়েছিল স্বৈরাচারী শক্তির দীর্ঘদিনের সাজানো সাম্রাজ্য। জুলাই গণঅভ্যুত্থান মূলত সেই অদম্য ইতিহাসেরই এক অবিনাশী নাম বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন। মূলত জুলাই আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পৌঁছে দেওয়াই এই জাদুঘরের মূল অভীষ্ট।


নির্বাচিত

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রতিফলন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ কেবল জুলাই অভ্যুত্থানের চিহ্ন নয়, বরং বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক অনন্য প্রতিফলন। তিনি বিশ্বাস করেন, “এই জাদুঘর পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।”

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারপ্রধান বলেন, “জুলাই স্মৃতি জাদুঘর আগামী প্রজন্মের সামনে বিতাড়িত ফ্যাসিস্টদের মুখোশ উন্মোচ করবে।” জাতীয় স্মৃতিতে এদেশের মানুষের লড়াই, আত্মবিসর্জন ও বীরত্বকে ধরে রাখতে এটি একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই জাদুঘর আমাদের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ আর সাহসকে জাতীয় স্মৃতিতে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ।”

এ সময় আজকের দিনটিকে দেশের ইতিহাসের একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আজকের এই দিনটি দেশের জন্য যুগান্তকারী মাইলফলক। সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।”

বিগত শাসনের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদের আমলে গুম-খুনকে স্বাভাবিক করে ফেলা হয়েছিল।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “ইতিহাস স্বাক্ষী, বিতাড়িত ফ্যাসিবাদ চক্র দেশে গণতান্ত্রিক শাসন মেনে নিতে পারেনি।”


নির্বাচিত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নবপ্রতিষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধনের পর এর বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী কক্ষগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনার পর তিনি সেখানে সংরক্ষিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক নিদর্শন, অসামান্য আত্মত্যাগ এবং সংগ্রামের দালিলিক চিত্রগুলো অবলোকন করেন। সকাল ৯টায় ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক জাদুঘরের যাত্রা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী।

উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে নিয়ে জাদুঘরের প্রতিটি গ্যালারি ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে তিনি আন্দোলনের কালানুক্রমিক ঘটনাপ্রবাহ, দুর্লভ আলোকচিত্র এবং বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের বিভিন্ন স্মারক অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। জাদুঘরের সাজসজ্জা ও প্রদর্শনীতে গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায় এবং মুক্তিকামী মানুষের বীরত্বগাথাকে জীবন্ত করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

অনুষ্ঠানে সরকারের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রীগণ, সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শহীদদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও আত্মত্যাগের সঠিক ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হৃদয়ে অমলিন রাখাই এই জাদুঘর স্থাপনের প্রধান লক্ষ্য। উল্লেখ্য যে, উদ্বোধনের দিনটি শুধুমাত্র বিশেষ অতিথি ও শহীদ পরিবারের জন্য সংরক্ষিত থাকলেও আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। মূলত আন্দোলনের চেতনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতেই এই বিশেষ স্থাপত্যটি নির্মাণ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা ও সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে আজ সকালে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর শুভ উদ্বোধন করেছেন। বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তঝরা আন্দোলনের স্মৃতি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই বিশেষ জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এই জাদুঘরের দাপ্তরিক উদ্বোধন সম্পন্ন করেন।

এর আগে, গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাদুঘর উদ্বোধনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ও প্রদর্শনী কক্ষ ঘুরে দেখেন। তিনি সেখানে সংরক্ষিত দালিলিক প্রমাণ, দুর্লভ আলোকচিত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন স্মারক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে আন্দোলনের পরিক্রমা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন যে, উদ্বোধনের দিনটি শুধুমাত্র আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। তবে সাধারণ দর্শকদের জন্য ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ আগামী ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। মূলত আন্দোলনের চেতনাকে জাগ্রত রাখা এবং জাতীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে দৃশ্যমান করাই এই জাদুঘর স্থাপনের প্রধান লক্ষ্য।


নির্বাচিত

banner close