নিয়ম অনুযায়ী আজকের দিনের পর আর মাত্র তিন দিন আছে প্রাণের মেলার সময়। তিন দিন পরই শেষ হয়ে যাবে মাসব্যাপী চলা বইয়ের এ উৎসব। তবে আগামী ১ ও ২ মার্চ শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দুই দিন বইয়ের মেলা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন প্রকাশকরা। এ জন্য বাংলা একাডেমিকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক বিক্রেতা সমিতি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ-কালের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে। তবে সেই দুই দিন সময় না বাড়ানো হলে আপাতত দৃষ্টিতে বইমেলা ২৯ ফেব্রুয়ারিই শেষ হচ্ছে।
তাই মেলা একদম শেষপর্যায়ে চলে আসায় এরই মধ্যে প্রায় সব নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। ফলে প্রকাশনীর ক্যাটালগ বা তালিকা দেখে নিজেদের পছন্দের সব পাঠকের বিভিন্ন স্টল-প্যাভিলিয়নে বই কিনতে দেখা যাচ্ছে।
বরাবরের মতো এবারও শেষ দিকে বেড়েছে বই বিক্রি। কারণ হিসেবে প্রকাশকরা বলছেন, সাহিত্যপ্রেমীরা মেলার শুরু থেকে বিভিন্ন প্রকাশনী থেকে তালিকা সংগ্রহ করে শেষ দিকে এসে বই কেনা শুরু করেন। এরই মধ্যে মেলা থেকে তাদের ব্যাগ ভর্তি করে বই কিনতে দেখা গেছে।
বইমেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, মেলায় এখন যারা আসছেন তাদের বেশির ভাগই বইয়ের ক্রেতা। পাঠকদের বড় একটি অংশ মেলায় বই কিনছেন নিজের পছন্দ করা বইয়ের তালিকা ধরে ধরে। মেলায় প্রকাশনী স্টলগুলোতে কিছুক্ষণ পরপরই পাঠক আসছেন। যাদের মধ্যে অনেকেই তালিকা ধরে বই কিনতে আসছেন মেলায়। এক প্রকাশনী থেকে বই সংগ্রহ শেষে ছুটছেন অন্য প্রকাশনীতে। তাদের অনেকেই পছন্দের তালিকার বই কিনতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। আবার অনেকেই দেখেশুনে বই কিনতে দেখা গেছে।
মেলায় আগত পাঠক-দর্শনার্থী জানান, বিভিন্ন প্রকাশনী ঘুরে ক্যাটালগ দেখে এতদিন নতুন বইয়ের তালিকা সংগ্রহ করেছেন তারা। মেলা শেষপর্যায়ে আসায় এরই মধ্যে প্রায় সব নতুন বই চলে এসেছে। ফলে এখন আর শুধু দেখা নয়, এবার তারা পছন্দের বইগুলো কেনা শুরু করেছেন তারা।
আগামী, অন্যপ্রকাশ, সময়, প্রথমা, পাঞ্জেরী, অন্বেষা, ইত্যাদি, বাতিঘর, অনন্যা, কাকলী, উৎস, দিব্য, বিদ্যা, পুথিনিলয়, অ্যাডর্ন, পার্ল, ইউসিবিএল, কথাপ্রকাশ, শোভাসহ আরও বেশ কয়েকটি প্রকাশনার প্যাভিলিয়ন ও স্টল ঘুরেও দেখা গেছে বইয়ের বিক্রির হিড়িক। সেখানেও দেখা গেছে তালিকা ধরে ধরে পাঠ করা বই কিনছেন।
আজ বইমেলায় ছিল ছুটির দিন। পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে সরকারি এ ছুটির দিনে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত মেলায় যেন জনস্রোত তৈরি হয়েছিল। পাঠক-দর্শনার্থীর ভিড়ে বইয়ের বেচাকেনাও হয়েছে বেশ। এতে একদিকে প্রকাশকদের মুখে যেমন হাসি ফুটেছে তেমনি পাঠকদের কাছে নিজের বইটি তুলে দিতে পেরে সন্তুষ্ট লেখকরাও।
রাজধানীর পুরান ঢাকা থেকে বইমেলায় ঘুরতে আসা আদিবা জাহান নওমি বলেন, ‘এবারের বইমেলায় শুরুর দিকে একবার এসে ঘুরে গেছি। তখন প্রকাশনীগুলো থেকে তাদের ক্যাটালগ সংগ্রহ করেছিলাম। বাসা থেকে এবার পছন্দ করা বইগুলোর তালিকা করে নিয়ে এসেছি। এখন ক্যাটালগ থেকে তালিকা ধরে ধরে বই কিনেছি। বেশ কিছু বই কেনা বাকি রয়েছে। শেষ দিন হয়তো আবার আসা হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদা নূর ঐশী বলেন, বইমেলা তো হলের পাশেই যখন ইচ্ছে হয় যাওয়া যায়। তবে মেলার শুরুর দিকে দুয়েকটি বই কিনছিলাম। আর এখন পছন্দের তালিকা থেকে বই কিনতে এসেছি। মেলা থেকে নিজের পছন্দের অন্তত ১০টি বই কিনবেন বলেও জানান তিনি।
বইমেলা থেকে বড় মেয়ের জন্য হুমায়ূন আহমেদের কোথাও কেউ নেই বইটি কিনেছেন ঢাকা জজ কোর্টের সাংবাদিক হীরক পাশা। তিনি জানান, নিজের পছন্দের বিষয় ইতিহাস ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের বেশ কিছু বই কিনেছেন তিনি। স্ত্রী ফাতেমাতুজ জোহরা, ছেলে আবরার ও ছোট মেয়ে আরিফা কিনেছে যথাক্রমে ধর্মীয় বই, নাসিরুদ্দিন হোজ্জার গল্প ও ছোটদের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস।
ঐতিহ্য প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন কাজল বলেন, মেলার শেষ দিকে প্রচুর পাঠক এখন তালিকা ধরে ধরে বই কিনছেন। এ ধরনের পাঠক-ক্রেতাই এখন বেশি। সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় বই ক্রয়ের দিক থেকে পাঠকদের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া পড়েছে।
বেচাকেনার হালচাল নিয়ে মৃদুল প্রকাশনীর প্রকাশক এম সহিদুল ইসলাম বলেন, এখন মেলার অন্তিম সময় চলছে। বলা চলে বই বিক্রির মোক্ষম সময় এখনই। আমরা পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী বই বিক্রি করছি। পরিবারের সবাই এমনকি বইপ্রেমীরা বুক লিস্ট ধরে ধরে এখন বই কিনছেন।
বইয়ের চাকচিক্য ও অধিক মূল্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাগজের মূল্য তো অত্যধিক। তা ছাড়া কাগজের ওপর শুল্কও কমানো হচ্ছে না। বই লেখা, ছাপানো, মুদ্রণ খরচ কিন্তু কম নয়। আর চাকচিক্যের যে বিষয়টি বলছেন সেটি আসলে বই বিক্রির একটি পন্থাও বটে। কাগজ মানসম্মত না হলে অনেক পাঠক বই কিনতেও চায় না।
বইমেলার ২৬তম দিন সোমবার মেলা শুরু হয় দুপুর ১২টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। এই দিনে নতুন বই এসেছে ২৪৬টি। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত মেলায় এদিন মানুষের ঢল নামে। এদিন বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ: আবুবকর সিদ্দিক এবং স্মরণ: আজিজুর রহমান আজিজ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে ফরিদ আহমদ দুলাল ও কামরুল ইসলাম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মামুন মুস্তাফা, তৌহিদুল ইসলাম, মো. মনজুরুর রহমান ও আনিস মুহাম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি আসাদ মান্নান।
‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন প্রাবন্ধিক সরকার আবদুল মান্নান, কবি ইউসুফ রেজা, কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক দিলওয়ার হাসান এবং কথাসাহিত্যিক মোস্তফা তারিকুল আহসান।
বই-সংলাপ ও রিকশাচিত্র প্রদর্শন মঞ্চে বিকেল ৫টায় সাম্প্রতিক বাংলা কবিতা বিষয়ে বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন সঞ্জীব পুরোহিত, তারেক রেজা, জাহিদ সোহাগ, আফরোজা সোমা, আহমেদ শিপলু, রাদ আহমদ এবং সৈয়দ জাহিদ হাসান। সঞ্চালনা করেন ফারহান ইশরাক ও খালিদ মারুফ।
এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি মুহাম্মদ সামাদ, শামীম রেজা, রহিম শাহ, নভেরা হোসেন এবং ইমরান পরশ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ম ম জুয়েল, আরিফ হাসান, আলম আরা জুঁই, খোদেজা বেগম। এ ছাড়া ছিল জয়দুল হোসেনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সাহিত্য একাডেমি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া’, মুশতাক আহমেদ লিটনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আমরা কুঁড়ি’ এবং শাহিনুর আল-আমীনের পরিচালনায় সংগঠন ‘সম্প্রীতি সংস্কৃতি বন্ধন’-এর পরিবেশনা।
গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪
২০২৩ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক বই প্রকাশের জন্য কথা প্রকাশকে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে শৈল্পিক ও গুণমান বিচারে সেরা বই বিভাগে মনজুর আহমদ রচিত একুশ শতকে বাংলাদেশ: শিক্ষার রূপান্তর গ্রন্থের জন্য প্রথমা প্রকাশন, মঈন আহমেদ রচিত যাত্রাতিহাস: বাংলার যাত্রাশিল্পের আদিঅন্ত গ্রন্থের জন্য ঐতিহ্য এবং আলমগীর সাত্তার রচিত কিলো ফ্লাইট প্রকাশের জন্য জার্নিম্যান বুকসকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ বইয়ের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য ময়ূরপঙ্খিকে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়েছে। ২০২৪ সালের অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে অন্যপ্রকাশ (প্যাভিলিয়ন), নিমফিয়া পাবলিকেশন (২-৪ ইউনিট), বেঙ্গল বুকস (১ ইউনিট)-কে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়েছে। ২৯ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারগুলো হস্তান্তর করা হবে।
আগামীকালকের বইমেলা
বইমেলার ২৭তম দিন মঙ্গলবার মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ: সেলিম আল দীন শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন লুৎফর রহমান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন রশীদ হারুন ও জাহিদ রিপন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন নাট্যজন নাসিরউদ্দিন ইউসুফ।
ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপে বাটন প্রেস করার সঙ্গে সঙ্গেই সোনালী ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের মোবাইলে এক লক্ষ টাকা পৌঁছে যায়।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন। একইসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা প্রদান করেন।
এর আগে সকাল ১০ টা ১৫ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলোয়াতের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে একে একে অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুউল আলম।
এরপর ক্রীড়া বিষয়ক ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রচার করা হয়। এতে দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, আরাফাত রহমান কোকোর অবদান তুলে ধরা হয়।
এমনকি খেলোয়াড়দের জীবন মান উন্নয়ন, নতুন খেলার মাঠ তৈরি, তৃণমূল থেকে মেধাবী খেলোয়াড় তুলে আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন পরিকল্পনার চিত্রও তুলে ধরা হয়। এ সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে ওঠে গান ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ... জীবন বাংলাদেশ আমার মরণ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ।’
সাফ ফুটসালজয়ী নারী দল, কাবাডি, ভলিবলসহ বিভিন্ন খেলার খেলোয়াড়রা ২০ ডিসিপ্লিনের ১২৯ জন ক্রীড়াবিদ এই কর্মসূচির আওতায় সম্মাননা পেয়েছেন। এ কর্মসূচির ফলে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন যুগের সূচনা হলো। ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’ এই স্লোগান বাস্তবে রূপ নিলো। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের ক্রীড়াবিদরা এখন থেকে বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন। তবে ক্রিকেট বোর্ড স্বনির্ভর হওয়ায় ক্রিকেটাররা এই তালিকার বাইরে থাকবেন।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, যেসব ক্রীড়াবিদ বেতনের আওতায় আসবেন, প্রতি চার মাস পরপর তাদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। পারফরম্যান্স বজায় রাখতে পারলে তারা এই সুবিধা অব্যাহত রাখতে পারবেন। আর পারফরম্যান্সে ঘাটতি দেখা দিলে তালিকা থেকে বাদ পড়বেন।
তিনি আরও জানান, এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হবে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন প্রমুখ।
রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে বরখাস্ত হওয়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে (৬১) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি)
রোববার (৩০ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিবির যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ রবিউল হোসেন বলেন, রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে বরখাস্ত হওয়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। রোববার দিবাগত রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের কারণ ও বিস্তারিত বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি ডিবির এই কর্মকর্তা।
এর আগে এক-এগারো সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তারা বর্তমানে ডিবির কাছে রিমান্ডে রয়েছেন।
জানা গেছে, আফজাল নাছের ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের পরিচালক ছিলেন। কর্নেল আফজাল নাছের ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর বরখাস্ত হন। তার বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগে। সেনাবাহিনীর চাকরিতে যোগদান করেন ১৯৮৪ সালের ৪ জুলাই।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।
যার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৩০ মার্চ) মোট ১৮টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সব মিলিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সর্বমোট বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫৮।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র গনমাধ্যমকে জানায়, যুদ্ধপরিস্থিতিতে আকাশপথ বন্ধের কারণে ঢাকা থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি ফ্লাইট, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি, ৯ মার্চ ৩৩টি, ১০ মার্চ ৩২টি, ১১ মার্চ ২৭টি, ১২ মার্চ ২৮টি, ১৩ মার্চ ২৫টি, ১৪ মার্চ ২৪টি, ১৫ মার্চ ২৩টি, ১৬ মার্চ ২৮টি, ১৭ মার্চ ২৬টি, ১৮ মার্চ ২৬টি, ১৯ মার্চ ২৬টি ২০ মার্চ ২৮টি, ২১ মার্চ ২৫টি, ২২ মার্চ ২০টি, ২৩ মার্চ ২০টি, ২৪ মার্চ ২০টি, ২৫ মার্চ ২০টি, ২৬ মার্চ ২২টি, ২৭ মার্চ ২২টি, ২৮ মার্চ ২১টি এবং ২৯ মার্চ ২২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে– কুয়েত ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়া (শারজাহ, ইউএই) ৪টি, গালফ এয়ার (বাহরাইন) ২টি, কাতার এয়ারওয়েজ (কাতার) ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইনস (সংযুক্ত আরব আমিরাত) ২টি, জাজিরা এয়ারওয়েজ (কুয়েত) ৪টি ফ্লাইট।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় এবং অফিস কক্ষে অবস্থান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১১টি নির্দেশনা দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
রোববার (২৯ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, তার অধীন দপ্তর-সংস্থা এবং মাঠ প্রশাসনের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে এ নির্দেশনার চিঠি পাঠানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এর আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ অফিস কক্ষে আবশ্যিকভাবে অবস্থান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়সহ দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার লক্ষে নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনা প্রতিপালন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এমতাবস্থায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এর আগে পাঠানো দুটি চিঠি অনুসরণ করে ১১টি নির্দেশনা প্রতিপালনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া ১১ নির্দেশনা হলো-
১. প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ অফিস কক্ষে আবশ্যিকভাবে অবস্থান করতে হবে। দাপ্তরিক কর্মসূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রেও এ সময়সীমা যেন বিঘ্নিত না হয়, সেই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
২. দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং জানালা ও দরজা কিংবা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করতে হবে।
৩. অফিস চলাকালীন শুধু প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে।
৪. এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখতে হবে।
৫. অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় কক্ষের বাতি, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ করতে হবে।
৬. অফিসের করিডোর, সিঁড়ি, ওয়াশরুম ইত্যাদি স্থানে অপ্রয়োজনীয় বাতি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
৭. অফিস সময় শেষ হওয়ার পর সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি (লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদি) বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।
৮. সরকারি নির্দেশনা ছাড়া আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে।
৯. জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।
১০. অফিস কক্ষ, করিডোর, টয়লেট, সিঁড়ি, সিঁড়ির হাতল ইত্যাদি নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
১১. এসব নির্দেশনা প্রতিপালন বা মনিটরিংয়ের জন্য সব দপ্তর/সংস্থা/কার্যালয়কে ভিজিল্যান্স টিম গঠন করতে হবে।
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য চালু হয়ে গেছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম। বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম চললেও ধীরে ধীরে কার্যক্রমের আওতা বাড়ানো হবে। সব ঠিকঠাক চললে আগামী চার বছরের মধ্যে এই ফ্যামিলি কার্ড রূপান্তরিত হবে ‘ইউনিভার্সাল ফ্যামিলি কার্ডে’। অর্থাৎ, সমাজের সব স্তরে পৌঁছে দেওয়া হবে এই কার্ড।
রোববার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জঁ পেম (Jean Pesme) এর নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা জানান।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, আগামী চার বছরের মধ্যে ইউনিভার্সাল ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হবে। এই কার্ড হবে প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে, যা হবে নাগরিক হিসেবে একটি সম্মানজনক স্বীকৃতি।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করা হয়েছে, যারা প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছেন।
এ সময় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীনও উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জঁ পেম সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে বিশ্বব্যাংকের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান। সেইসঙ্গে বর্তমান সরকার কর্তৃক পরিবারের নারী প্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যুর উদ্যোগকে সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, অতিরিক্ত সচিব নার্গিস খানম এবং যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ নাজমুল আহসান প্রমুখ।
ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকটে ব্যাহত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সার ও ওষুধের কাঁচামাল আমদানি নিয়ে বাংলাদেশ অনেকটা অস্বস্তিতে রয়েছে। এরই মধ্যে বিকল্প উৎসের সন্ধান খোঁজ করা শুরু করেছে। বিকল্প উৎসের সন্ধান না বের করতে পারলে কৃষি খাত ও ওষুধশিল্পে নেচিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে এ যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) একলাখ টন করে মোট দুই লাখ টনের দুটি দরপত্র আহ্বান করেও তা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে।
বিসিআইসি সূত্র জানায়, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট দেখা দিলে প্রথমে সব সার কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে শুধু শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি চালু করা হয়েছে। বাকি চারটি ইউরিয়া কারখানা এবং একটি করে ডিএপি ও টিএসপি উৎপাদনকারী কারখানা বন্ধ রয়েছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মধ্যে ইউরিয়া সারের দাম টনপ্রতি প্রায় ৩০০ ডলার বেড়ে এখন ৭০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ডিএপি ও টিএসপির দামও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি ৭০০ ডলার থেকে বেড়ে ডিএপির দাম ৮৫০ ডলার এবং ৫০০ ডলার থেকে বেড়ে টিএসপির দাম ৬৫০ ডলারে উঠেছে। চীন রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে ইউরিয়া ও ডিএপির দাম বাড়ছে।
জানা গেছে, দেশে প্রতি বছর প্রায় ২৬ লাখ টন ইউরিয়ার চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে বিসিআইসির নিজস্ব কারখানাগুলো থেকে বছরে প্রায় ১০ লাখ টন উৎপাদনের চেষ্টা করা হয়। বাকি অংশ আমদানি করতে হয়। তবে গ্যাস সংকটের কারণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া মিলিয়ে দেশে প্রতিবছর ৬০ লাখ টনের বেশি সারের চাহিদা রয়েছে, যার বেশিরভাগই ব্যবহৃত হয় বোরো ও আমন মৌসুমে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিকল্প উৎসগুলোতেও সংকট রয়েছে। চীন আপাতত সার রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। তারা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নিজেদের ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেবে, এরপর সুযোগ থাকলে রপ্তানি করবে। অন্যদিকে রাশিয়া থেকে সার আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাংলাদেশ সরাসরি সেখান থেকেও আমদানি করতে পারছে না।
বিসিআইসি সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটি ইউরিয়া আমদানির জন্য নিবন্ধিত ১৭ জন সরবরাহকারীকে সুযোগ দিয়ে থাকে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এসব সরবরাহকারী নির্ধারিত সময়ে সার সরবরাহ করতে পারবে কিনা—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ কারণে আগের দরপত্র বাতিল করে এখন উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যাতে বিশ্বের যেকোনো দেশের সরবরাহকারী এতে অংশ নিতে পারে।
বাংলাদেশ মূলত মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সার আমদানি করে। কাতার ও আমিরাত থেকে ইউরিয়া এবং সৌদি আরব থেকে ইউরিয়া ও ডিএপি আমদানি করা হয়।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহনে জটিলতা তৈরি হওয়ায় সরকার বিকল্প উৎস থেকে বেশি পরিমাণ সার আমদানির কথা ভাবছে। সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে চীন, মিসর ও রাশিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশ বিবেচনায় রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের মধ্যে রাশিয়া বৈশ্বিক বড় সরবরাহকারীদের অন্যতম হিসেবে উঠে এসেছে।
বিসিআইসির চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আমাদের নির্ধারিত সরবরাহকারীদের সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তাই আগের টেন্ডার বাতিল করে নতুন করে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে, যাতে বিকল্প উৎসের সরবরাহকারীরা অংশ নিতে পারে।
তিনি বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে সারের সংকট হবে না। তবে জুনে শুরু হওয়া আমন মৌসুমের জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। এর মধ্যে ইউরিয়া আমদানি নিশ্চিত না হলে কৃষিতে প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের নিজস্ব সার কারখানাগুলোর মধ্যে বর্তমানে শুধু শাহজালাল ফার্টিলাইজার চালু রয়েছে। অন্যগুলো উৎপাদনে নেই। তাই এখনই সারের মজুত বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য সব বিকল্প উৎস থেকে আমদানি করা যায় কিনা—তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি যোগ করেন, আমরা একটি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছি, যাতে যেকোনো সরবরাহকারী অংশ নিতে পারে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক অনেক প্রতিষ্ঠান সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করে—তাদেরও অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এদিকে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, সারের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া কারখানার জন্য গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমরা আবেদন করেছি। আশা করছি আগামী সপ্তাহের মধ্যে কারখানাটি চালু করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সরকারের জিটুজি চুক্তি রয়েছে। তারা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশকে তিন লাখ টন সার সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে এর জন্য জাহাজ চলাচলের অনুমতিসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া বাংলাদেশকেই সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।
ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে বিকল্প উৎস খোঁজার নির্দেশ :
মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান যুদ্ধাবস্থা ও বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে দেশে ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাঁচামাল আমদানির বিকল্প উৎস অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে ওষুধ শিল্প সমিতিকে আমদানির ক্ষেত্রে একক কোনো অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দেশের ওষুধ উৎপাদন যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ওষুধ তৈরির প্রধান উপাদান ‘অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট’ (এপিআই) আমদানিতে চীন ও ভারতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে অন্যান্য সম্ভাব্য দেশ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে ওষুধ শিল্প সমিতিকে অনুরোধ করেছে সরকার।
গত ২৪ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার ফলে সম্ভাব্য স্বাস্থ্য ঝুঁকির আগাম প্রস্তুতি’ বিষয়ক এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সভায় গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয় যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব দেশের ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দ্রুত এপিআই আমদানির বিকল্প উৎস বা দেশ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অসন্তোষের অবসান ঘটিয়ে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক ভাড়া (মিটার চার্জ) প্রত্যাহার করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রোববার (২৯ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
খুব দ্রুতই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরেই এক ধরণের অস্বস্তি ও অসন্তোষ বিরাজ করছিল। বিষয়টি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। একটি গ্রাহকবান্ধব বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য, আর সেই লক্ষ্যেই আমরা এই মিটার চার্জ পদ্ধতিটি পুরোপুরি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী প্রত্যেক গ্রাহককে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ‘মিটার ভাড়া’ হিসেবে গুনতে হয়। গ্রাহকদের মূল অভিযোগ ছিল— মিটারের নির্ধারিত দাম পরিশোধ হয়ে যাওয়ার পরও বছরের পর বছর ধরে এই চার্জ কেন নেওয়া হচ্ছে। এই চার্জ বাতিলের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন ও দাবি জানিয়ে আসছিল। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুৎ খরচ কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অস্থিরতার মধ্যেও দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে নতুন ইতিহাস গড়েছে। চলতি মার্চের প্রথম ২৮ দিনে দেশে প্রবাসীরা ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ৩.৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা দেশের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ।
এর আগে গত বছরের মার্চে একক মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ২৮ মার্চ পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ৩৩৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। গত বছরের এই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এছাড়া চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৫৭৮ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের এই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ১৬৯ কোটি ডলার।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য আমাদের প্রবাসী আয়ের প্রধান উৎস। যুদ্ধের কারণে এসব দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা আতঙ্কে রয়েছেন। ফলে কেউ কেউ জমানো অর্থ দেশে পাঠিয়ে থাকতে পারেন। আবার প্রবাসীরা রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবারের খরচ মেটাতে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন। এসব কারণেই প্রবাসী আয় বাড়ছে। রেমিট্যান্সে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, অর্থ পাচার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আবার ঋণের নামে অর্থ আত্মসাৎ ঠেকাতে বিভিন্ন উদ্যোগ চলমান রয়েছে। এতে হুন্ডি প্রবণতা কমে যাওয়ায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়ছে।
এদিকে, রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ওপর ভর করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার দিন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৯৯ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.২৯ বিলিয়ন ডলার। গত ১৬ মার্চ শেষে রিজার্ভ ছিল ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার। বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী ছিল ২৯.৫২ বিলিয়ন ডলার।
গ্যাস সংকট, বন্ধ কারখানা এবং আর্থিক চাপ-এই তিন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে এক সময় স্থবির হয়ে পড়েছিল দেশের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন নেতৃত্ব, সুপরিকল্পিত উদ্যোগ এবং ধারাবাহিক সংস্কারের ফলে প্রতিষ্ঠানটি আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর পথে এগোচ্ছে। নতুন শিল্পপ্রকল্প স্থাপন, বন্ধ কারখানা চালু, প্রশাসনিক সংস্কার এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে বিসিআইসিকে একটি আধুনিক ও লাভজনক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের চেষ্টা চলছে।
১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ নং-২৭ এর আওতায় প্রতিষ্ঠিত বিসিআইসি দীর্ঘদিন ধরে ইউরিয়া সার উৎপাদন, সার আমদানি ও বিপণনের মাধ্যমে দেশের কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তবে দীর্ঘদিন গ্যাস সংকটের কারণে বিসিআইসির বেশ কয়েকটি ইউরিয়া সার কারখানা উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়, ফলে উৎপাদন হ্রাসের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক চাপের মুখে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের ১৮ মে মো. ফজলুর রহমান বিসিআইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে একাধিক উদ্যোগ নেয়া হয়। তার উদ্যোগে এবং শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমানের সার্বিক সহযোগিতায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড, যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড এবং চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে পুনরায় গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। এর ফলে ২০২৫ সালের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে পর্যায়ক্রমে এসব কারখানা পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে।
একই সঙ্গে বিসিআইসির বন্ধ ও রুগ্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্থলে নতুন শিল্পপ্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন কারখানার খালি জায়গা ও অব্যবহৃত সম্পদকে কাজে লাগিয়ে সার, কেমিক্যাল, গ্লাস, ফাইবার ও ও ফার্মাসিউটিক্যাল উপকরণসহ বিভিন্ন ধরনের ১১টি শিল্পপ্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বিসিআইসির অব্যবহৃত জমি ও সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন, আবাসিক ভবন, গুদাম এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে ‘বিসিআইসি কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা-২০২৫’ প্রণয়ন ও গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান দায়িত্ব গ্রহণের পর গত নয় মাসে বিসিআইসির ৩০৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যা কর্মীদের মধ্যে নতুন কর্মউদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
২০১৯ সালের চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডের পর রাসায়নিক গুদাম স্থানান্তরের উদ্যোগের অংশ হিসেবে শ্যামপুরে নির্মিত আধুনিক কেমিক্যাল গুদাম ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠন এবং জনবল সৃজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধীরগতিতে চলা ৩৪টি বাফার সার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পেও চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে নতুন গতি এসেছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ গুদামের জন্য জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং কয়েকটি গুদামের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এতে সার সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিসিআইসি চিকিৎসা কেন্দ্র আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ক্রয়, ফিজিওথেরাপিস্ট ও প্যাথলজিস্ট নিয়োগ এবং শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্ৰ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আইসিটি ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। ধর্মীয় ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিসিআইসি মসজিদের সংস্কার (রিনোভেশন) কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।
চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান জানান, বিসিআইসি ভবিষ্যতে একটি আধুনিক, দক্ষ ও লাভজনক শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশের শিল্পখাতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হবে।
বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত আরও ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতকে প্রস্তাব দিয়েছে বিপিসি। এরই অংশ হিসেবে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৭ হাজার টন ডিজেল আসছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান। গত শনিবার (২৮ মার্চ) গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা জানান।
বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভারতের নুমালীগড়ে পাইপে প্রেস করা শুরু হয়েছে। ২৯ মার্চ ভারত থেকে ৭ হাজার টন ডিজেল আসছে পাইপলাইনে।’
এর আগে গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন দিয়ে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছায় ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল। গত ২৪ মার্চ ভারতের আসামের নুমালীগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রেলহেড ওয়েল ডিপোতে ৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়। প্রায় ৬০ ঘণ্টা পর ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের রিসিপ্ট টার্মিনালে ডিজেল পৌঁছায়। এই জ্বালানি তেল পাইপলাইন থেকে পৌঁছানোর পর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা কোম্পানিতে সরবরাহ করা হয়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানায়, ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর ভারতের সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তি অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর আট জেলায় চাষাবাদের সেচ এবং যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখার জন্য পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।
চলতি বছরের জন্য ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া আগামী চার মাসের মধ্যে ওই পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত আরও ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতকে প্রস্তাব দিয়েছে বিপিসি।
সম্প্রতি হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দুই মন্ত্রীকে সারাদেশ ঘুরে পরিস্থিতি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেন, হামের প্রাদুর্ভাবের বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রীকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিফ হুইপ বলেন, সংসদীয় কমিটির বৈঠকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ব্রিফ করেছে। সেখানে হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। তিনি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। দুজন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছেন সারাদেশ ঘুরে পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিতে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর খবর আসছে। এর মধ্যে শুধু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই (রামেক) হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত তিন মাসে ৬৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বিদ্যমান করহার না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বৃদ্ধি, কর ফাঁকি রোধ এবং কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে একটি সমন্বিত কৌশল নির্ধারণ করেছে সরকার।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, চলতি অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। এ অর্থ ব্যয় করা হবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী শাসনামলের রেখে যাওয়া ‘ধ্বংসপ্রাপ্ত’ অর্থনীতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ কর-জিডিপি অনুপাতের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল দেশের অন্যতম।
এ প্রেক্ষাপটে সরকারের লক্ষ্য বর্তমান মেয়াদে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশে পৌঁছানো। সরকার কথার বদলে পরিসংখ্যান দিয়ে সাফল্য প্রমাণ করতে চায় বলেও জানান তিনি।
চলতি চতুর্থ প্রান্তিকে রাজস্ব আহরণ অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘এ অর্জনের মাধ্যমে সরকার অতিরিক্ত দেশীয় বা বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্ষম—এ নিয়ে জনমনে যে সংশয় রয়েছে, তা দূর হবে।’
সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অন্যতম মূল উপাদান হিসেবে করহার না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদের পরিমাণ বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন তিনি।
এ ক্ষেত্রে কর ফাঁকি প্রতিরোধ, এসআরও সংস্কৃতি বিলুপ্ত করা, ডিজিটালাইজেশন, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং টাস্কফোর্স গঠনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বাড়তি রাজস্ব ব্যবহার করে সরকার ফ্যামিলি কার্ডসহ যুগান্তকারী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য সহায়তা কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ ধরনের সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।
এ ছাড়া জিডিপি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে সরকার পরিচালন ব্যয়ের পরিবর্তে মূলধনী ব্যয়ে (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি—এডিপি) অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।
এর আওতায় জ্বালানি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিম্ন ও নিন্ম মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার দুটি প্রধান পথে এগোচ্ছে—কাঠামোগত সংস্কার ও নীতিগত সংস্কার।
জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোর মতো খাতে করের অর্থ ব্যয় নিশ্চিত করা হবে, যাতে নাগরিকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর দিতে উৎসাহিত হন—বলেন তিনি।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ১৮০ দিন, এক বছর ও পাঁচ বছরের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। অন্তর্বর্তীকাল থেকে নির্বাচিত সরকারের দিকে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলাই লক্ষ্য, যা সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী পদে মো. আব্দুর রশীদ মিয়ার নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। নিয়োগ দেওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় গত শনিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার নিয়োগ আদেশ বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গত রোববার বিষয়টি জানা গেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২৪ মার্চের প্রজ্ঞাপনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদে মো. আব্দুর রশীদ মিয়ার নিয়োগের আদেশটি বাতিল করা হলো। এলজিইডির সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ মিয়ার অবসরোত্তর ছুটি স্থগিতের শর্তে এক বছরের চুক্তিতে তাকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রকৌশলী পদে নিয়োগ দিয়েছিল সরকার।
এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন আব্দুর রশীদএলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন আব্দুর রশীদ
কেন আব্দুর রশীদের নিয়োগ আদেশ বাতিল করা হয়েছে সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে কিছু বলা হয়নি। তবে এই কর্মকর্তাকে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগ দেওয়ার পর থেকে এ নিয়ে ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনা হয়। তিনি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও সুবিধাভোগী ছিলেন বলে কেউ কেউ অভিযোগ করেন।