২০১৩ সালে প্রথম বাংলা সার্চ ইঞ্জিন তৈরি করে সাড়া ফেলে দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। এই সার্চ ইঞ্জিনের নাম দেয়া হয় ‘পিপীলিকা’। তবে অর্থ সংকটের কারণে গত তিন বছর ধরে থমকে আছে এই সার্চ ইঞ্জিনের কার্যক্রম।
কেবল সার্চ ইঞ্জিন ‘পিপীলিকা’-ই নয়, একই অবস্থা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ‘একুশে বাংলা কি-বোর্ডেরও। প্লে-স্টোরে অ্যাপটি থাকলেও নিষ্ক্রিয় হয়ে আছে। দ্রুত ক্যানসার শনাক্তের সম্ভাবনাময় ‘ননলিনিয়ার অপটিকস’ ডিভাইসটিও অর্থ সংকটে আটকে গেছে। করোনা এবং অর্থ ও জনবলের অভাবে এগোতে পারেনি বাংলায় কথা বলতে পারা রোবট ‘রিবো’।
দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তেত্রিশ বছর আগে সিলেটে প্রতিষ্ঠিত হয় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কিছু উদ্ভাবন সবার প্রশংসা কুড়ায়। উদ্ভাবনী কার্যক্রমের মাধ্যমে দ্রুত দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠে পরিণত হয় এটি। তবে গত কয়েক বছর ধরেই নেই নতুন কোনো উদ্ভাবন। এমনকি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে থমকে আছে পুরোনোগুলোও।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ওপর একাডেমিক চাপ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে তারা গবেষণা, উদ্ভাবনসহ সৃষ্টিশীল ও সৃজনশীল কাজে যুক্ত হতে পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এ ব্যাপারে এখন কোনো উৎসাহ দিচ্ছে না।
বাংলা সার্চ ইঞ্জিন ‘পিপীলিকা’: ২০১৩ সালের ১৩ এপ্রিল ১১ জন ডেভেলপার মিলে তৈরি করেন বিশ্বের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র বাংলা সার্চ ইঞ্জিন ‘পিপীলিকা’। পিপীলিকার প্রকল্প পরিচালনায় ছিলেন এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের তৎকালীন অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। মুখ্য গবেষক ও টিম লিডার হিসেবে কাজ করেছেন মো. রুহুল আমীন সজীব।
শাবির আইআইসিটি বিভাগ জানায়, বাংলা সার্চ ইঞ্জিন পিপীলিকা-সংক্রান্ত কিছু সার্ভিস গ্রহণের বিনিময়ে সরকারের এটুআই (Access to Information) প্রোগ্রাম থেকে ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ৮ কিস্তিতে মোট ১ কোটি ৭১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৬৬ টাকা দেওয়া হয়। শেষ কিস্তির (৯ম কিস্তি) ২১ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫৩ টাকা পিপীলিকাকে পরিশোধের আগেই সরকারের এটুআই প্রোগ্রামের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকেই অর্থ সংকটে পিপীলিকা বন্ধ রয়েছে।
আগের মতো ৫-৬ জন পূর্ণকালীন আইটি/সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগের মাধ্যমে কাজ করানোর জন্য মাসিক ৩-৪ লাখ টাকা অনুদান পেলে পিপীলিকার উন্নয়ন কাজ চলমান রাখা যাবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এই প্রজেক্টটির বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে টিম লিডার মো. রুহুল আমীন সজীব বলেন, ‘আমি এখন এই প্রকল্পের সঙ্গে সংযুক্ত নেই।’
শাবির আইআইসিটির পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই প্রজেক্টের ফান্ডিং আসত সরকারের কাছ থেকে। ২০২০ সাল থেকে আমাদের প্রজেক্ট-সংশ্লিষ্ট সবকিছু সঠিক সময়ে পাঠালেও কোনো অর্থ পাইনি। সর্বশেষ আমাদের প্রায় ২২ লাখ টাকা আটকে আছে।
টাকা ছাড়া তো আমরা গবেষক ও কর্মচারীদের কাজ করাতে পারি না। আমরা যতটুকু সম্ভব দিয়েছি। তবুও তাদের বেশ কিছু টাকা বকেয়া রয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের আর টাকা দেয়া হয়নি। আবার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও কথা বলা হয়নি।’
তিনি বলেন, আর্থিক সাপোর্ট না পাওয়ায় কারণে বর্তমানে তা বন্ধ আছে। বিষয়টি নিয়ে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও এটুআইয়ের পিডিসহ সবার দ্বারে দ্বারে গিয়েছি কিন্তু কাজ হয়নি। আমাদের সব রিসোর্স আছে, সরকারের কাছ থেকে আবার সাপোর্ট পেলে আমরা তা সচল করতে পারব।’
এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রামের তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘যতটুকু মনে পড়ে পিপীলিকা সার্চ ইঞ্জিনটা যেরকম প্রত্যাশা করা হয়েছিল, সেই মানের হয়নি। এ জন্য ফান্ডিং বন্ধ করা হয়। তবে এ ব্যাপারে বর্তমান পিডি ভালো বলতে পারবেন।’
বর্তমান পিডি (যুগ্মসচিব) মো. মামুনুর রশীদ ভূঁইয়া বলেন, ‘এটি আমার নলেজে নাই। একটু খোঁজ নিয়ে জানার চেষ্টা করব এটা আসলে কী অবস্থায় আছে।’
‘একুশে বাংলা কি-বোর্ড’: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এই কি-বোর্ড নিজেই বুঝে ফেলবে ব্যবহারকারী কী লিখতে চাইছেন। ২০১৮ সালে ‘একুশে বাংলা কিবোর্ড’ নামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন কি-বোর্ড উদ্ভাবন করে শাবি শিক্ষার্থীরা।
এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংযোজনের পাশাপাশি দ্রুত টাইপিং ও স্পর্শ করে লেখার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে টাইপ না জানলেও এর মাধ্যমে যে কেউ সহজেই বাংলা টাইপিং শিখতে পারে।
২০২০ সালে কি-বোর্ডটির উদ্ভাবক তৎকালীন শাবির সিএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী বিদেশ চলে গেলে সেটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। প্লে-স্টোরে অ্যাপটি থাকলেও নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।
প্রজেক্টটির বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমাদের কাছে এই প্রজেক্টের কোনো আপডেট নেই। আমি দেশের বাইরে চলে যাওয়ার পর এ ব্যাপারে আর কোনো কাজ করা হয়নি।’
দ্রুত ক্যানসার শনাক্তের ‘ননলিনিয়ার অপটিকস’: রক্তের নমুনা পরীক্ষা করার মাধ্যমে ক্যানসার শনাক্তকরণ পদ্ধতি উদ্ভাবনেও রয়েছে শাবিপ্রবির সাফল্য। অল্প খরচে ও কম সময়ে ‘ননলিনিয়ার অপটিকস’ নামের উদ্ভাবিত এ পদ্ধতিতে রক্তের একটি পরীক্ষার মাধ্যমে মাত্র ১০ থেকে ২০ মিনিটেই ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে দাবি ছিল উদ্ভাবকদের।
হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্টের (হেকেপ) আওতায় শাবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সে সময়কার অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন হকের নেতৃত্বে একদল গবেষক ক্যানসার শনাক্তকরণের এ সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। গবেষক দলের অন্য সদস্যরা হলেন অধ্যাপক ড. শরীফ মো. শরাফ উদ্দিন, মনজ কান্তি বিশ্বাস ও এনামুল হক।
প্রজেক্টটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শরীফ মো. শরাফ উদ্দিন বলেন, ‘ফান্ডিংসহ অনেক সমস্যা আছে। মূলত ফান্ডিংয়ের জন্যই আমরা আটকে গেছি। বিশ্বব্যাংকের একটি প্রজেক্ট শিগগিরই চালু হবে। সম্ভবত পিডি নিয়োগ হয়ে গেছে। ওটা হলেই আমরাও ফান্ড পেয়ে যাব। বর্তমানে আপগ্রেডেশনের কাজ চলছে। ফান্ডিং পেলে আমরা ক্লিনিক্যালি ব্যবহারের উপযুক্ত করে দেব।’
অধ্যাপক ড. শরাফ উদ্দিন আরও জানান, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল কোনো ডিভাইসের মাধ্যমে এটাকে সর্বসাধারণের ব্যবহারযোগ্য করা যায় কি-না- এরকম একটা প্রটোকল তৈরি করা। হেকাপের আওতায় কাজটি চলছিল, পরে হিট আসার কথা। আমরাও সেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। পরবর্তী প্রজেক্ট পেলে আমরা বাকি কাজ করে ফেলতে পারব। এটা একেবারে বন্ধ হয়নি। আমাদের মতো করে চলছে।’
বাংলায় কথা বলতে পারা রোবট ‘রিবো’: ২০১১ সাল থেকে শাবির তৎকালীন অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও শিক্ষার্থী নওশাদ সজীবের উদ্যোগে ১১ জনের একটি টিম রোবট নিয়ে কাজ শুরু করে। ২০১৫ সালে বার্ষিক সায়েন্স ফিকশন ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটি রোবোসাস্টকে মানবসদৃশ রোবট তৈরি করতে ১ লাখ টাকা অনুদান দেয়। তারপরে দলটি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সোশ্যাল মানবসদৃশ রোবট তৈরি করে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘রিবো’। রোবটটি ২৪ ডিগ্রি কোণে স্বাধীনভাবে ঘুরতে, নাচ করা, মুখের অঙ্গভঙ্গির প্রকাশ, হ্যান্ডশেক, হাত উপর-নিচে তোলা, বাংলায় কথা বলা এবং নিজের নামও বলতে পারত। বাংলাদেশ ও মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারত।
রোবটটি তৈরিতে নেতৃত্ব দেওয়া শাবির সিএসই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নওশাদ সজীব বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন। এই দলের সদস্য মেহেদী হাসান রূপক বলেন, ‘আমরা ঢাকায় প্রোগ্রাম করেছিলাম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রীও ছিলেন। তিনি বলেছিলেন ফান্ডিং করবেন। আমরা তখন উনাকে একটা অ্যাপলিকেশনও দিয়েছিলাম। পরে করোনা ও জনবল সংকটে আর এগোতে পারিনি। আমাদেরও পড়ালেখা শেষ হয়ে যায়।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কবির হোসেন বলেন, ‘এই উদ্ভাবনগুলোর বর্তমান অবস্থা বিষয়ে আমি খোঁজখবর নেব। প্রয়োজনে সরকারের উচ্চপর্যায়েও আমরা কথা বলব। উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত কর্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় শেষে যমুনায় প্রবেশ করেন তারেক রহমান। এরপর সকাল সোয়া ৯টা থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য প্রধান ফটক খুলে দেওয়া হয়।
এতে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক ও সিনিয়র সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলা ঘটে। এরমধ্যে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী অনেকের সঙ্গে হাত মেলান ও কোলাকুলি করেন। দেশের সরকার প্রধানকে কাছে পেয়ে অনেকে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অনেকে। তার সঙ্গে সেলফি তোলেন। তবে আমন্ত্রিত হয়েও অতিরিক্ত ভিড়ে অনেকে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি।
শুধু কার্ডধারীদেরই ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেন এসএসএফ সদস্যরা। পাঁচটি সিরিয়ালে লোকজনের উপস্থিতি প্রধান ফটকের সামনে থেকে সামনের সড়ক ছাড়িয়ে কাকরাইল ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
প্রধানমন্ত্রী অনেকের কাছে গিয়ে খোঁজ-খবর নেন। এ সময় সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা। অতিথীদের জন্য ছিল বিশেষ আপ্যায়নের ব্যবস্থা।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) তিনি মরহুম মা-বাবার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করেন। এই সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে এদিন সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন প্রধানমন্ত্রী। নামাজ শেষে তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিশিষ্টজন ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং দীর্ঘ কয়েক বছর পর নিজ দেশের মাটিতে ঈদ উৎসব পালন করতে পারায় মহান আল্লাহর দরবারে গভীর শুকরিয়া প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিশিষ্টজনদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, দেশের সাধারণ জনগণ ঠিক যে ধরনের বাংলাদেশ দেখতে চায়, বর্তমান সরকার সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণেই কাজ করে যাবে।
পবিত্র এই ঈদের দিনে তিনি আল্লাহর কাছে বিশেষ প্রার্থনা করেন যেন সবাই মিলে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়। দেশের উন্নয়ন ও সংস্কারের পথে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান। এই বিশেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে (দক্ষিণ প্লাজার নিচে) ঈদ-উল-ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকাল ৮টায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মুসল্লী এ জামাতে অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে এ বছর প্রথমবারের মত নারীদের জন্য ঈদের জামাতের ব্যবস্থা করা হয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জামাতে অংশগ্রহণ করেন।
স্পীকারের নির্দেশনা মোতাবেক মুসল্লিদের সুবিধার্থে ও বৈরী আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে টানেলের নীচে জামাতের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিদের মাঝে খেজুর পরিবেশন করা হয়।
জামাত ও খুতবা শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র ইমাম মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।
ঈদের জামাত শেষে স্পিকার মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে দেশের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন ঈদের জামাতে এবার অংশ নিয়েছেন ছয় লাখেরও বেশি মুসল্লি। কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক এই ঈদগাহ ময়দানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ জামাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঈদ জামাতে প্রায় ৫ লাখেরও বেশি মুসল্লি অংশ নেন। ঈদের আগের দিন থেকেই কিশোরগঞ্জমুখী মানুষের ঢল নামে। দেশের ৬৪ জেলা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলে দলে মুসল্লিরা ছুটে আসেন শোলাকিয়ায়। কেউ আত্মীয়ের বাসায়, কেউ মসজিদে, আবার অনেকে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান শুধু একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায়ের আকাঙ্ক্ষায়।
সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা না পেয়ে আশপাশের সড়ক, ভবনের ছাদ এমনকি নরসুন্দা নদীর তীরেও কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।
শোলাকিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী, জামাত শুরুর ১০ মিনিটি আগে ৫টি, ৫ মিনিট আগে ৩টি এবং ১ মিনিট আগে দু’টি পরপর তিনবার শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে জামাতে দাঁড়ানোর সংকেত দেওয়া হয়। নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য মোনাজাত করা হয়।
এবারের ঈদের জামাতে ইমামতি করেন বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
শোলাকিয়ার ঈদ জামাত শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্য, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং জনসমাবেশ ব্যবস্থাপনার একটি অনন্য উদাহরণ। প্রতি বছরই এই জামাতকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। এবারের ১৯৯তম আয়োজনও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলো।
ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রায় ১১০০ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), সেনাবাহিনী, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সাদা পোশাকে মাঠ পর্যায়ে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। পুরো এলাকায় প্রবেশ ও প্রস্থান পথগুলোতে ছিল কড়া নজরদারি, পাশাপাশি জনস্রোত নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি এবং ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কূটনীতিক ও শিক্ষাবিদসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকেও সঙ্গে দেখা গেছে।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করার জন্য রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা অভিমুখে ভোর থেকেই ঢল নামে মানুষের। সকাল সাড়ে আটটা থেকে যমুনা প্রাঙ্গণে সর্বসাধারণের প্রবেশ উন্মুক্ত করা হয়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড়ও বাড়তে থাকে।
এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করার জন্য সাধারণ মানুষ, দলীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দলে দলে জড়ো হতে থাকেন যমুনা প্রাঙ্গণে। জনস্রোত বিস্তৃত হয়ে তা পৌঁছায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত। আর পুরো এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপর উপস্থিতি দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।
এর আগে সকালে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে অংশ নিয়ে নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে লন্ডনের পথে দেশ ছাড়তে হয়েছিল বিএনপির তৎকালীন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকে। এর আগে ২০০৭ সালে শেষবার দেশে ঈদ করেছিলেন তিনি। ১৯ বছরের দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর এবারই প্রথম ঈদ তারেক রহমানের।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান মানুষের বিশ্বাস ও আবেগের জায়গা হয়ে উঠেছে । শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হলো ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত। তবে সকাল ৯টার মধ্যেই দেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহটি মুসল্লিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে।
ঈদের জামাতে ইমামতি করেন স্থানীয় বড় বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। ঈদের নামাজকে ঘিরে ভোর থেকেই কিশোরগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় শুরু হয় মুসল্লিদের ঢল। রিজার্ভ বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ আগেই উপস্থিত হন ঈদগাহ প্রাঙ্গণে।
শোলাকিয়া ঈদগাহয়ে নিরাপত্তায় রয়েছেন ১১০০ পুলিশ সদস্য, ৪ প্লাটুন সেনা সদস্য, ৫ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ৬টি টিম, ৫ প্লাটুন আনসার, ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, বারোভূঁইয়া নেতা ঈশা খাঁর বংশধর শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ এক ঈদের মোনাজাতে মুসল্লিদের সমাগমকে ‘সোয়া লাখ’ বলে উল্লেখ করেন। সেখান থেকেই ‘সোয়া লাখিয়া’ শব্দের অপভ্রংশ হয়ে ‘শোলাকিয়া’ নামের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়।
অন্য একটি মতে, এক ঈদ জামাতে প্রায় সোয়া লাখ (১ লাখ ২৫ হাজার) মুসল্লির উপস্থিতির পর এই নামটি প্রচলিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৫০ সালে মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ষষ্ঠ বংশধর দেওয়ান মান্নান দাদ খাঁ ৪.৩৫ একর জমি ঈদগাহের জন্য ওয়াক্ফ করেন। বর্তমানে মাঠটি ৭ একর জায়গার উপর অবস্থিত।
২০১৬ সালের ৭ জুলাই শোলাকিয়া ঈদগাহ এলাকায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় দুই পুলিশ সদস্য, এক নারী ও এক জঙ্গিসহ চারজন নিহত হন। আহত হন পুলিশসহ ১৬ মুসল্লি। ওই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হলেও ঈদের জামাতে মুসল্লিদের অংশগ্রহণে কখনো ভাটা পড়েনি।
ঐতিহাসিক ও জনসমাগমের দিক থেকে শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠিত ঈদুল ফিতরের জামাতকে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদের জামাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতি বছরই লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে এই ঈদগাহ পরিণত হয় এক অনন্য মিলনমেলায়।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তারেক রহমান এবং শাহবাজ শরিফ টেলিফোনে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এ সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
ঈদের আগের দিন শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই টেলিফোন আলাপের বিষয়টি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে। এক এক্স পোস্টে তারা উল্লেখ করে, অত্যন্ত আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে কথোপকথনের সময় শাহবাজ শরিফ তারেক রহমান এবং বাংলাদেশের জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
আলাপচারিতায় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে শাহবাজ শরিফ তারেক রহমানকে আশ্বস্ত করেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পোস্টে আরও বলা হয়, উভয় নেতা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন। মতপার্থক্য ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংলাপ ও কূটনীতির গুরুত্বের ওপর তারা জোর দেন।
শাহবাজ শরিফের শুভেচ্ছার জবাবে তারেক রহমান পাকিস্তানের জনগণের প্রতি শুভকামনা জানান। এক্স পোস্টে উল্লেখ করা হয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা।
রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় এই জামাত আদায় করা হয়।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একসঙ্গে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিয়ে নামাজ আদায় করেন। তাঁদের সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন।
ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে খুতবা প্রদান করা হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধানে জাতীয় ঈদগাহ মাঠ জামাতের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়। ঈদের এই প্রধান জামাতে নারীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয় এবং ভিআইপি ব্যক্তিদের জন্যও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়।
নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, অযু ও নামাজের নির্ধারিত স্থান ছিল। পাশাপাশি পর্যাপ্ত অযুখানার ব্যবস্থা এবং মুসল্লিদের জন্য মেডিকেল টিমও প্রস্তুত রাখা হয়। সব মিলিয়ে সাড়ে তিন হাজার নারীসহ মোট ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়।
দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর আজ শনিবার সারা দেশে উদ্যাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও আত্মশুদ্ধির এক গভীর তাৎপর্যের দিন। আকাশে চাঁদের দেখা মিলতেই ঘরে ঘরে ভেসে ওঠে সেই চিরচেনা সুর, ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ’।
রমজানজুড়ে অর্জিত সংযম ও ত্যাগের শিক্ষা ঈদের এই দিনে আরও বিস্তৃত হয়ে ওঠে। ক্ষুধা ও তৃষ্ণার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দরিদ্র মানুষের প্রতি সহমর্মিতার যে চর্চা গড়ে ওঠে, ঈদ তারই পূর্ণতার প্রতীক। ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য উৎসবের আনন্দ নিশ্চিত করার যে বিধান, তা সাম্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ধরা দেয়।
ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে ছিল ঘরমুখো মানুষের ভিড়। দীর্ঘ ভোগান্তি আর ক্লান্তি শেষে প্রিয়জনের কাছে ফিরে আসার আনন্দ সব কষ্টকে ম্লান করে দিয়েছে। বাড়ির উঠান, মা-বাবার স্নেহমাখা মুখ আর স্বজনদের সান্নিধ্যে ফিরে মানুষ যেন খুঁজে পেয়েছে স্বস্তি ও প্রশান্তি।
রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল—সবখানেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। ঈদের আগের রাত পর্যন্ত দোকানগুলোতে ছিল কেনাকাটার ভিড়, বিশেষ করে আতর, টুপি, সেমাই ও চিনি। ভোর হতেই ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে রান্নার ব্যস্ততা। বিউটি পারলারগুলোতে ছিল দীর্ঘ লাইন, আর রাত জেগে হাতে মেহেদি আঁকার উৎসবমুখর আয়োজনও ছিল চোখে পড়ার মতো। দেশের বিভিন্ন স্থানে বসেছে ঈদমেলা, যা আনন্দের আবহকে আরও বর্ণিল করে তুলেছে।
দেশের প্রধান ঈদ জামাত সকাল সাড়ে আটটায় জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে। ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন এবং নারীদের জন্য রয়েছে পৃথক ব্যবস্থা। বায়তুল মোকাররমে পর্যায়ক্রমে সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও বেলা পৌনে ১১টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদগাহ ও মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানাবেন, বলবেন ‘ঈদ মোবারক’। কেউ কেউ ছুটে যাবেন কবরস্থানে, প্রিয়জনদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করবেন। এরপর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি যাওয়া এবং বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে দিনটি কাটবে।
ঈদ মানেই আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার উপলক্ষ। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং সুখ, সমৃদ্ধি ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
বর্তমান সময়ে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও ঈদের আনন্দে তার প্রভাব খুব বেশি পড়েনি। তবে এই আনন্দের দিনে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কথা স্মরণ রাখা জরুরি। সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে তবেই ঈদের আনন্দ পূর্ণতা পাবে।
এই দিনটি শুধু উৎসবের নয়, বরং মানবিকতা, সহমর্মিতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের নতুন অঙ্গীকারেরও। সবার জীবনে এই ঈদ বয়ে আনুক শান্তি, কল্যাণ ও অনাবিল সুখ।
ঐতিহাসিক কিশোরগঞ্জ শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এই সর্ববৃহৎ ঈদ জামাতের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নেত্রকোণা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী এক বার্তার মাধ্যমে বিজিবির এই কঠোর অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেন। বিজিবি সূত্রে জানানো হয়, সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় তারা সর্বদা পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করে।
ঈদগাহ ময়দান ও এর সংলগ্ন এলাকায় জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য বাহিনীর সাথে সমন্বিতভাবে বিজিবি সদস্যরা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে। জননিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের নির্দিষ্ট প্রবেশপথ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে এবং কোনো ধরনের ব্যাগ, ধারালো অস্ত্র বা সন্দেহজনক সামগ্রী বহন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই ঈদ জামাত সম্পন্ন হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটির মধ্যে ঢাকার মেট্রোরেল চলাচল নিয়ে সময়সূচি জানিয়েছে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড।
প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের দিন মেট্রোরেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
তবে ঈদের পরদিন থেকে আগের মতো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মেট্রোরেল চলাচল পুনরায় শুরু হবে।
এদিকে দেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামী শনিবার (২১ মার্চ) সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হবে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে কক্সবাজারে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীতে এ বছর মোট ১ হাজার ৭৭১টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ১২১টি ঈদগাহ ও ১ হাজার ৫৯৯টি মসজিদে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঈদের জামাতকে ঘিরে সমন্বিত ও সুদৃঢ় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ-এর ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বেশিরভাগ স্থানে ঈদের জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হবে।
রাজধানীর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়। এ জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বা অন্য কোনো কারণে এ আয়োজন সম্ভব না হলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ সকাল ৯টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধান জামাতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক ইমামতি করবেন এবং বিকল্প হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী প্রস্তুত থাকবেন। জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির জন্য নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যার মধ্যে সাড়ে তিন হাজার নারী মুসল্লির জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ, ওজু ও নামাজের ব্যবস্থা এবং মুসল্লিদের জন্য মেডিকেল টিমের সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বরাবরের মতো এবারও পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এসব জামাত যথাক্রমে সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও বেলা পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ ও এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ঈদের নামাজ আদায় করা হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ২৫ হাজার মুসল্লি অংশ নিতে পারবেন। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়ও সকাল ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে এবং তা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সংসদ সদস্য, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সাধারণ মুসল্লিরাও এতে অংশ নিতে পারবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআয় দুটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে—প্রথমটি সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয়টি সকাল ৯টায়। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা যেমন লক্ষ্মীবাজার, গেন্ডারিয়া, মুগদা, মহাখালী, মান্ডা, লালবাগসহ বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নামাজের আয়োজন করা হয়েছে।
রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রামে জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল পৌনে ৯টায়। একই দিনে জেলা স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ-এ ১৯৯তম ঈদ জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। এ জামাতকে কেন্দ্র করে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠে সকাল ৯টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে তিন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বগুড়ার কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থানে সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ধাপে ধাপে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে নারীদের অংশগ্রহণের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সারাদেশে ঈদের জামাতকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে ধর্মীয় এই উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়।