রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বস্ত্র খাতে বিনিয়োগ, উৎপাদনশীলতা, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব শিল্প-কারখানা গড়ে তুলতে শিল্পপতি, শিল্প উদ্যোক্তাগণসহ দেশপ্রেমিক নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি আজ ‘জাতীয় বস্ত্র দিবস ২০২৪’ উপলক্ষ্যে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে ভাষণদানকালে এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। বিশ্বের সম্ভাব্য সকল স্থানে আমাদের রপ্তানি পণ্যের বাজারকে ছড়িয়ে দিতে হবে।’
কয়েকটি পণ্যের ওপর নির্ভর না করে রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা বাড়ানোরও জোর তাগিদ দেন রাষ্ট্রপ্রধান।
তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের কূটনৈতিক মিশনগুলোকে কাজে লাগাতে হবে এবং অর্থনৈতিক কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
কোনো দুষ্টচক্র বা স্বার্থান্বেষী মহল যাতে উৎপাদনমুখী কারখানার পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে সে ব্যাপারে ব্যবসায়ী নেতাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকার আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন।
সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘কেউ যাতে উৎপাদনমুখী কারখানার পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে সেজন্য সজাগ থাকতে হবে। সরকার সবসময় আপনাদের পাশে আছে ও থাকবে।’
রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন কারিগরি শিক্ষা সম্প্রাসারণ ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ী শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।’
পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় বৈদেশিক বাণিজ্য এখন অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং, প্রতিযোগিতামূলক এবং জ্ঞান ও নীতিমালাভিত্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দদের এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।’
ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতে হবে।’
‘শ্রমিকরাই উৎপাদনমুখী শিল্পের চালিকাশক্তি। কারখানা ও শ্রমিক একে-অপরের পরিপূরক। শ্রমিক ভালো থাকলে কারখানা ভালো থাকবে,’ তিনি উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে আপনারা শুধু মুনাফার জন্য ব্যবসা পরিচালনা করছেন না। আপনাদের সামাজিক দায়িত্বের বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘তৈরী পোশাক ও বস্ত্র খাতকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম, শক্তিশালী, নিরাপদ ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’
তিনি আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদানুযায়ী ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন নতুন প্রযুক্তিসমূহকে সাদরে গ্রহণ করারও অনুরোধ করেন।
দেশের সমাজ, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে বস্ত্র ও পাট খাতের ভূমিকা অপরিসীম উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা বিবেচনায় বস্ত্র খাতের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নানামুখী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।’
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে বস্ত্র শিল্পের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সর্ববৃহৎ শ্রমঘন এই সেক্টরে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘স্মার্ট টেক্সটাইল’ সেক্টর গড়ে তোলা সম্ভব।”
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বর্তমানে বস্ত্রখাত আমাদের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে শুধু জাতীয় অর্থনীতিকেই সমৃদ্ধ করেনি, একই সঙ্গে নিশ্চিত করেছে অগনিত মানুষের কর্মসংস্থান যার ৮০ শতাংশ মহিলা এবং পরোক্ষভাবে প্রায় এক কোটি মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস।’
তিনি জানান, ‘দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ বস্ত্র শিল্প থেকে অর্জিত হচ্ছে। গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বস্ত্র খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’
উন্নত-সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গঠনের মাধ্যমে রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে বস্ত্র খাত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে রাষ্ট্রপতি বিশ্বাস করেন।
বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পের ইতিহাস সুপ্রাচীন এবং গৌরবময় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নেয়া সকল কার্যক্রম বাংলাদেশের বিকাশমান বস্ত্রখাতকে আরো সমৃদ্ধ করবে এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নিকট আকর্ষণীয় করে তুলবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক।
অন্যান্যের মধ্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রউফ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারারর্স এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সহ-সভাপতি মো. শহীদুল্লাহ আযম বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে ‘জাতীয় বস্ত্র দিবস ২০২৩’ এর একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে ১১টি প্রতিষ্ঠান-ব্যবসায়ীকে রাষ্ট্রপতির সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। রাষ্ট্রপতি সেখানে একটি ফটোসেশনে অংশ নেন।
আগামী ২৫ মার্চ রাতে সারাদেশে এক মিনিটের প্রতীকী ‘ব্ল্যাক-আউট’ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার (২৩ মার্চ) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। খবর বাসস।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৫ মার্চ (বুধবার) রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত এই ব্ল্যাক-আউট পালন করা হবে। ১৯৭১ সালের সেই কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যার শিকার শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
তবে নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই), হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎসহ সকল জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি মিশনসমূহ এই প্রতীকী ব্ল্যাক-আউট কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকবে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ৭ দিনের ছুটি শেষে আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে খুলছে সরকারি অফিস, ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠান। আজ সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে অফিস-আদালতের কার্যক্রম চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
ঈদ শেষে গ্রামের বাড়ি থেকে অসংখ্য কর্মজীবী মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। এ জন্য ট্রেন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
গত ২১ মার্চ (শনিবার) সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। এ উপলক্ষে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মোট সাত দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।
এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে সংবাদপত্র শিল্পেও টানা পাঁচ দিনের ছুটি ছিল। নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত এ ছুটি ঘোষণা করে। সেই ছুটিও সোমবার শেষ হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক বসবে। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।
গত ১৫ মার্চ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি সংসদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন বিষয়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার দায়িত্ব পেয়েছে বিশেষ কমিটি। কোন অধ্যাদেশ বহাল থাকবে এবং কোনটি বাতিল হবে তা যাচাই-বাছাই করা হবে। পর্যালোচনা শেষে বিষয়গুলো নিয়ে কমিটিতে আলোচনা হবে এবং পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
একাত্তরের ২৫ মার্চের ভয়াল গণহত্যার স্মরণে আগামী বুধবার সারা দেশে এক মিনিটের প্রতীকী ‘ব্ল্যাকআউট’ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণহত্যা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের অংশ হিসেবে ২৫ মার্চ রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত দেশব্যাপী এ কর্মসূচি চলবে। তবে কেপিআইভুক্ত এলাকা, জরুরি স্থাপনা এবং বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি মিশনগুলো এ কর্মসূচির বাইরে থাকবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, দিবসটির পবিত্রতা ও গাম্ভীর্য অক্ষুণ্ন রাখতে ২৫ মার্চ রাতে দেশের কোনো সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত কিংবা বেসরকারি ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা যাবে না।
এর আগে ৮ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এবার ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসেও দেশব্যাপী আলোকসজ্জা করা হবে না।
২৫ মার্চের এই প্রতীকী অন্ধকার একাত্তরের কালরাতে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে পালন করা হবে।
‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে ঢাকার গাবতলী থেকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত সড়কে সব ধরনের তোরণ, পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আজ সোমবার (২৩ মার্চ) এক তথ্যবিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এছাড়া পৃথক এক বার্তায় ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণকালে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সাধারণ মানুষকে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের পুষ্পকানন বা ফুলের বাগানের কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন না করার জন্যও বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।
একটা সময় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে পুরাতন বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত হতো বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ, তবে দীর্ঘ দেড়যুগ বন্ধ ছিল এই কুচকাওয়াজ। দেশের শাসনক্ষমতার পালাবদলের পর আবারও স্বাধীনতা দিবসে ফিরছে ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজ। রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অংশগ্রহণে স্থল ও আকাশপথে তুলে ধরা হবে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার চিত্র।
স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে কয়েক দফা মহড়ার মাধ্যমে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
অনুষ্ঠানে সালাম গ্রহণ করবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাহিনীগুলোর প্রস্তুতি ও সক্ষমতা তুলে ধরা হবে। প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আসাদুল হক।
কুচকাওয়াজে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অংশগ্রহণ থাকবে। ঘোড়ায় আরোহন করে প্যারেড কমান্ডারের প্রবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল আয়োজন।
এবারের কুচকাওয়াজে সাজোয়া, আর্টিলারি, সিগনালস, ইস্ট বেঙ্গল, এয়ার ডিফেন্স, সার্ভিসেস, প্যারা কমান্ডো, নৌবাহিনী এবং আধুনিকায়িত ইনফ্যান্ট্রি কন্টিনজেন্ট অংশ নেবে।
আকাশপথে প্যারাট্রুপাররা জাতীয় পতাকা বহন করে অবতরণ করবেন এবং বিমান বাহিনী প্রদর্শন করবে তাদের কৌশলগত সক্ষমতা। সবশেষে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান রাষ্ট্রপতিকে সালাম জানিয়ে কুচকাওয়াজের সমাপ্তি ঘোষণা করবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন পর ফিরে আসা এই কুচকাওয়াজ স্বাধীনতা দিবসের আয়োজনকে আরও বর্ণিল ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলবে।
দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে কেবল প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিশ্চিত করেন, সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দিয়ে তেল আমদানি অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং সবাই পর্যায়ক্রমে তেল পাবেন।
তিনি আরও জানান, ঈদের ছুটির কারণে গত দুই দিন সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় জনমনে কিছুটা চাপের সৃষ্টি হয়েছে, তবে গত বছরের তুলনায় এবার ২৫ শতাংশ বেশি তেল আমদানি করা হচ্ছে।
একই দিনে সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তেলের সংকটকে কেন্দ্র করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর যে পাঁয়তারা চলছিল, সরকার তা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, ঈদের আগে এক ধরনের শঙ্কা থাকলেও সরকারের বিশেষ উদ্যোগের ফলে ঈদযাত্রায় এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি এবং চাহিদামাফিক সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। পাম্পগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঈদের আগের মতো বর্তমানেও বজায় রাখা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
তবে সরকারি ভাষ্যের বিপরীতে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস ও বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল।
তিনি জানান, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এই অপর্যাপ্ত সরবরাহের কারণেই মূলত অনেক পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তবে সংকট সাময়িক হলেও স্থায়ীভাবে কোনো পাম্প বন্ধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে স্বেচ্ছাসেবীদের মানবিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে 'কলমাকান্দা যুব রক্তদান ফাউন্ডেশন' আয়োজিত এক স্বেচ্ছাসেবী মিলনমেলা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে এবং বিশেষ করে রক্তদানের মতো মহৎ উদ্যোগগুলো মুমূর্ষু মানুষের জীবন বাঁচাতে অনন্য সাধারণ অবদান রাখছে। বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে আর্তমানবতার সেবায় নিবেদিত হওয়ার জন্য তিনি বিশেষ পরামর্শ প্রদান করেন।
সোহেল রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সভায় ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জহিরুল ইসলাম মামুন।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক ফরিদ জাম্বিল, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবুল হাসেম, কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মুহাম্মদ এনামুল হক তালুকদার এবং উপজেলা এনসিপির সমন্বয়ক আবু কাওসার। বক্তারা তাদের আলোচনায় সমাজে স্বেচ্ছায় রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা এবং এর সুদূরপ্রসারী সামাজিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।
সড়ক পথে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। উৎসবের আনন্দ ছাপিয়ে একের পর এক যোগ হচ্ছে লাশের সারি। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার এক ব্যবসায়ী। বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বান্দরবান ভ্রমণে যাওয়ার পথে কুমিল্লার কোটবাড়িতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মো. আক্তার হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তি। এই অকাল মৃত্যুতে নিহতের পরিবার ও এলাকায় শোকের মাতম চলছে।
নিহত আক্তার হোসেন রূপগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা মৃত মোমেন সরকারের ছেলে। তিনি রূপগঞ্জ এলাকায় আরএফএল কোম্পানির সামনে একটি চায়ের স্টল পরিচালনা করতেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে আরএফএল কোম্পানি বন্ধ থাকায় এবং আশপাশের লোকজন বাড়িতে চলে যাওয়ায় ব্যবসায়িক ব্যস্ততা কম ছিল আক্তার হোসেনের। তাই অবসর সময় কাটাতে বন্ধুদের সঙ্গে বান্দরবান ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদের দ্বিতীয় দিন রাত ১০টার দিকে আক্তার হোসেনসহ চার বন্ধু চারটি পৃথক মোটরসাইকেলে করে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তারা কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি দ্রুতগামী ট্রাক আক্তার হোসেনের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর ছিটকে পড়েন। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে আসা আরেকটি অজ্ঞাত দ্রুতগামী যানবাহন তার শরীরের ওপর দিয়ে চলে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর কুমিল্লা কোটবাড়ি সড়কে দায়িত্বরত সার্জেন্ট বিষয়টি রূপগঞ্জ থানাকে অবহিত করেন এবং দুর্ঘটনাস্থলের ছবি প্রেরণ করেন। খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানার এসআই জাহাঙ্গীর তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের নিজ বাড়ি সরকারপাড়া এলাকায় গিয়ে স্বজনদের এই দুঃসংবাদ জানান।
এদিকে, ঈদের আনন্দের মধ্যে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে আক্তার হোসেনের পরিবারে কান্নার রোল পড়েছে। নিহতের প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর মাঝেও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্ত ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটি শেষ হচ্ছে সোমবার (২৩ মার্চ)। সাত দিনের বিরতির পর মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে আবারও খুলছে অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমা ও শেয়ারবাজার।
গত শনিবার (২১ মার্চ) দেশজুড়ে উদযাপিত হয়েছে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। এ উপলক্ষে ১৭ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মোট সাত দিনের সরকারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। এই দীর্ঘ ছুটি শেষে কর্মজীবী মানুষ আবার কর্মস্থলে ফিরতে প্রস্তুত।
মঙ্গলবার থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিসের পাশাপাশি ব্যাংক-বিমা, শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানও স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করবে। তবে ঈদের পরপরই আবার ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ছুটি থাকায় অনেক কর্মজীবী ২৪ ও ২৫ মার্চ ঐচ্ছিক ছুটি নিয়েছেন। এর সঙ্গে ২৭ ও ২৮ মার্চের সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হওয়ায় অনেকের ছুটি টানা ১৭ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়েছে।
এ কারণে অফিস-আদালতের কার্যক্রম পুরোপুরি গতিশীল হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহজুড়ে ধীরগতিতে কার্যক্রম চলবে এবং আগামী সপ্তাহ থেকে রাজধানী স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে ফিরবে।
প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে অফিসপাড়ায় তেমন ব্যস্ততা নাও দেখা যেতে পারে। সহকর্মীদের মধ্যে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ই থাকে মূল ব্যস্ততা। একই চিত্র দেখা যায় ব্যাংকপাড়ায়ও, যেখানে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া লেনদেন তুলনামূলক কম থাকে।
এদিকে নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ঈদ উপলক্ষে ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছিল। ফলে সংবাদপত্রে কর্মরত সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটিও আজ শেষ হচ্ছে।
জ্বালানি ঘাটতি ও নিরাপত্তা সংকটের কারণে দেশের সব পেট্রোল পাম্প যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। রবিবার (২২ মার্চ) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোর পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক। কোম্পানির সরবরাহ করা দৈনিক জ্বালানি দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে তেল নিতে এসে মোটরসাইকেল চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিরামহীন কাজের চাপে পাম্পে কর্মরতরা শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। এ অবস্থায় পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকলে যেকোনো সময় পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এর আগে সংগঠনটি পেট্রোল পাম্পে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু তাদের অভিযোগ, সরকার ও জেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে না। তেল বিক্রির সময় কার্যকর নিরাপত্তা না থাকায় পাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে।
সংগঠনটি জানায়, ঈদের আগের দিন একটি পাম্পে সাড়ে ১০ হাজার লিটার পেট্রোল ও একই পরিমাণ অকটেন মজুত ছিল। অন্য একটি পাম্পে প্রায় আট হাজার লিটার জ্বালানি ছিল। স্বাভাবিকভাবে এসব মজুত কয়েকদিন চলার কথা থাকলেও অতিরিক্ত চাপ ও বিশৃঙ্খলার কারণে খুব অল্প সময়েই তা শেষ হয়ে যায়। এ পরিস্থিতিকে তারা লুটতরাজের সঙ্গে তুলনা করেছে।
আরও অভিযোগ করা হয়, অনেক মোটরসাইকেল চালক দিনে একাধিকবার তেল নিচ্ছেন। প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে পাম্পগুলো তেল বিক্রি করলেও কিছু চালক দিনে প্রায় ১০ বার পর্যন্ত তেল নিয়ে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। আবার অনেকেই আংশিক ভর্তি ট্যাংক নিয়েও বারবার তেল নিতে আসছেন। এতে প্রকৃত প্রয়োজনীয় গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং পাম্পে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।
সংগঠনটি আরও জানায়, গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে পাম্পে এসে জোর করে তেল নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়, সেখানে জ্বালানি সরবরাহের সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে সব তেল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমন ঘটনা অন্যান্য জায়গাতেও ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বলছে, জ্বালানি ঘাটতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময়ও ঝুঁকি বাড়ছে এবং ট্যাংকার লুট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না বলেও তারা সতর্ক করেছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন ছুটির মধ্যে সারা দেশে সড়ক ও রেলপথে ভয়াবহ সব দুর্ঘটনায় অন্তত ২৭ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। রোববার (২২ মার্চ) ঈদের ছুটির এই সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এসব দুর্ঘটনা ঘটে, যা উৎসবের আমেজকে বিষাদে রূপান্তর করেছে।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায়, যেখানে একটি যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কায় একই পরিবারের মা ও দুই শিশুসহ ১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভোরে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে একটি বাস রেললাইনে উঠে পড়লে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেন সেটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
একই দিনে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-ছেলেসহ একই পরিবারের ৪ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের তীব্রতায় পিকআপটি রাস্তার পাশের খাদে পড়ে গেলে এই প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী সদর এলাকায় বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছেন। কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বেপরোয়া গতির পিকআপ ভ্যানের চাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে ঈদের ছুটিতে নতুন মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে এবং নাটোর, নওগাঁ, কুষ্টিয়া ও বগুড়ায় পৃথক দুর্ঘটনায় আরও ৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ঈদের এই সময়ে ফাঁকা রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, চালকদের অসতর্কতা এবং রেলক্রসিংয়ে সিগন্যাল অমান্য করার প্রবণতাই এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ।
এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলোতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আহতদের দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন এখন পুরোপুরি প্রস্তুত পর্যটকদের বরণে। ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন বনবিভাগ।
পর্যটকদের জন্য সুন্দরবনের করমজল, হাড়বাড়িয়া, আন্দারমানিক, আলিবান্ধা, কটকা, কচিখালী ও আলোরকোলসহ জনপ্রিয় স্পটগুলোতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বনরক্ষীদের টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
শরণখোলা স্টেশন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, “পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমাদের টিম, র্যাব, কোস্টগার্ড সার্বক্ষণিক কাজ করছে।"
এদিকে নদীপথে যাতায়াতে লঞ্চ ও ট্রলারগুলোতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। প্রতিটি নৌযানে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট রাখা এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শরণখোলার ট্যুর অপারেটর মো. রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, “ঈদকে ঘিরে বুকিং বাড়ছে। আমরা পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত।"
স্থানীয় পর্যটকরাও সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তবে বন বিভাগের পক্ষ থেকে পরিবেশ সুরক্ষায় নেওয়া হয়েছে কঠোর পদক্ষেপ। বনের ভেতরে উচ্চশব্দে মাইক বাজানো এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটে—এমন কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের টানে এবারের ঈদেও সুন্দরবন হয়ে উঠতে পারে পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণীয় গন্তব্য।