আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
তেঁতুলিয়ায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সীতাকুন্ডে ৩৩ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আজ আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, পশ্চিমা লঘুচাপের বাড়তি অংশ বিহার ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।
ঢাকায় আজ পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০-১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৬৭ শতাংশ। ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টায় এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৬টা ২২ মিনিটে।
আগামীকালের পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে ।
২৯ ফেব্রুয়ারির পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এছাড়া সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
বর্ধিত ৫ দিনের আবহাওয়ার অবস্থা সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
যে মেট্রোরেলকে কেন্দ্র করে গতি ফিরে পেয়েছিল তিলোত্তমা ঢাকার যানজটজর্জর ব্যস্ত জীবন, মাত্র আড়াই বছরের মাথায় সেই মেগা অবকাঠামোয় দেখা দিয়েছে মারাত্মক কাঠামোগত ফাটল ও নিরাপত্তার বহুমুখী সংকট। একের পর এক বিয়ারিং প্যাড খসে পথচারীর প্রাণহানি, পিলারে দীর্ঘ ফাটল, ট্রেনের গতি অর্ধেকে নামিয়ে আনা, ওভারহেড তারে অনবরত স্পার্কিং এবং মেকানিক্যাল ত্রুটির কারণে একাধিক ট্রেন সেট সার্ভিস থেকে প্রত্যাহারে উন্মোচিত হয়েছে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও আধুনিক গণপরিবহনের এক উদ্বেগজনক রূপ।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ফার্মগেটে প্রথম বিয়ারিং প্যাড স্থানচ্যুত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর একই এলাকায় পুনরায় বিয়ারিং প্যাড খসে পড়ে এক পথচারী নিহত ও দুজন আহত হন। এ ঘটনার পর উচ্চ আদালত ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের আদেশে চুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে গঠিত হয় ৯ সদস্যের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি। কমিটির সাম্প্রতিক সেফটি অডিট (Safety Audit) প্রতিবেদন—‘Identification of Operational Risks, Safety Audit and Structural Integrity of the Constructed Corridor of MRT-6’—এ স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে, মেট্রোরেলের বর্তমান সংকট আর কোনো বিচ্ছিন্ন ত্রুটিতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং পুরো ব্যবস্থাটি এখন একটি ‘যৌগিক ঝুঁকি প্রোফাইলে’ (Compound Hazard Profile) পরিচালিত হচ্ছে।
৭৩০টি বিয়ারিং প্যাডে ত্রুটি ও পিয়ারে উদ্বেগজনক ফাটল: ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ উত্তরা থেকে মতিঝিল এমআরটি লাইন-৬ করিডরে নিরীক্ষা চালিয়ে অডিট কমিটি যে ভয়াবহ চিত্র পেয়েছে, তা অবকাঠামোগত নিরাপত্তার ওপর বড় প্রশ্ন চিহ্ন একে দেয়।
২৩ শতাংশের বেশি বিয়ারিং প্যাড নষ্ট: পরিদর্শন করা বিয়ারিং প্যাডের মধ্যে ৭৩০টি বা ২৩.২৮শতাংশ অনুমোদিত সীমার বাইরে বিকৃত, ক্ষয়প্রাপ্ত বা ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেছে। অডিটে ৪২৩, ৪৪২, ৪৪৬ ও ৪ ৪৮ নম্বর পিলারের বিয়ারিং প্যাডকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ট্রেন চলাচলের সময় অনবরত তীব্র ধাক্কা বা ‘বাম্পিং’-এর শিকার হচ্ছে। এমনকি ৪২৩ নম্বর পিয়ারের একটি প্যাড ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ স্থানচ্যুত হয়েছে।
পিয়ার ও গার্ডারে ফাটল: অবকাঠামোর ৪৬টি পিয়ার হেড এবং ২০টি বক্স গার্ডারে স্পষ্ট ও উল্লেখযোগ্য ফাটল ধরা পড়েছে। এর মধ্যে ৩৪১ নম্বর পিয়ারে ফাটলের প্রস্থ ১ মিলিমিটারেরও বেশি, যা প্রকৌশল বিদ্যায় অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
ভিত্তি কাঠামোর দুর্বলতা: অডিটে দেখা গেছে, বেশ কিছু স্টেশন কলাম সিঙ্গেল-পাইল ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মিত হলেও তাতে পর্যাপ্ত পার্শ্বীয় ব্রেসিং (Lateral Bracing) দেওয়া হয়নি। অধিকন্তু, স্থানিক পাইলের লোড টেস্টের নথি অপর্যাপ্ত বা সংরক্ষণ করা হয়নি। এটি ইঙ্গিত দেয় যে ভূমিকম্প বা তীব্র পার্শ্বীয় চাপের সময় অবকাঠামোটি কতটুকু লোড সইতে পারবে, তা পুনরায় গভীর পরীক্ষার দাবি রাখে।
কমছে ট্রেনের গতি, বাড়ছে চাকার ক্ষয় ও লাইনচ্যুতির ঝুঁকি: কাঠামোগত নিরাপত্তার প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়েছে ট্রেনের দৈনন্দিন অপারেশনে। এমআরটি লাইন-৬ ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার গতির উপযোগী করে নকশা করা হয়েছিল। কিন্তু অতিরিক্ত কম্পন ও ঝাঁকুনি সামলাতে বাধ্য হয়ে অধিকাংশ অংশে গতি কমিয়ে ৬০ থেকে ৯০ কিলোমিটার এবং কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ অংশে মাত্র ৪৪ থেকে ৪৭ কিলোমিটারে নামিয়ে আনা হয়েছে। ঘন ঘন যান্ত্রিক ত্রুটি, স্বয়ংক্রিয় দরজা ও প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোরের (PSD) মধ্যে অসামঞ্জস্যতা এবং ঝাঁকুনির কারণে ইতোমধ্যে ৫টি ট্রেনসেট নিয়মিত সার্ভিস থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে। রেললাইন ও ফাস্টেনিংয়ে মরচে পড়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে। অডিট কমিটি সতর্ক করে বলেছে, ঝাঁকুনির কারণে চাকার যে অস্বাভাবিক ক্ষয় ও সূক্ষ্ম ফাটল তৈরি হচ্ছে, তা সময়মতো সমাধান না করলে ভবিষ্যতে ট্রেন লাইনচ্যুতির (Derailment) মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ওভারহেড তারে স্পার্কিং ও অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা: ওভারহেড ক্যাটেনারি সিস্টেমে নিয়মিত বৈদ্যুতিক স্পার্কিং বা আর্কিং হচ্ছে, যা ওভারহেড তার ছিঁড়ে যাওয়া কিংবা ট্রেন হঠাৎ আটকে যাওয়ার স্থায়ী ঝুঁকি তৈরি করছে। পাশাপাশি ১২টি লাইটনিং অ্যারিস্টার (বজ্রপাত নিরোধক)-এর মধ্যে ৩টিই পুরোপুরি বিকল।
বৃষ্টিতে সাবস্টেশন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যালিং রুমগুলোতে পানি চুইয়ে পড়ার প্রমাণ মিলেছে। এগুলো থেকে যেকোনো সময় শর্ট সার্কিট, অগ্নিকাণ্ড এবং পুরো মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে।
অডিট কমিটির অন্যতম সদস্য এবং বুয়েটের নামকরা পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হক উদ্ভূত পরিস্থিতির গম্ভীরতা ব্যাখ্যা করে বলেছেন, চালু হওয়ার এত অল্প সময়ের মধ্যে বিয়ারিং প্যাড স্থানচ্যুত হওয়া বা নিচে খসে পড়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অত্যন্ত অস্বাভাবিক। বিশ্বের মেট্রোরেলের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা খুবই বিরল। আপাতত নতুন করে যেন কোনো প্যাড নিচে না পড়ে, সেজন্য সাময়িকভাবে সেগুলোর চারপাশে ব্র্যাকেট বসানো হচ্ছে। তবে এটি কোনো মূল সমাধান নয়; এটি কেবল সাময়িক ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল মাত্র।
প্রকল্পের আর্থিক টেকসই সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ট্রেনের গতি কমিয়ে এবং বেয়ারিং প্যাডে ব্র্যাকেট বসিয়ে সিস্টেমটি কোনোমতে সচল রাখা হচ্ছে। কিন্তু ট্রেনগুলো নকশাগত গতিতে চলতে পারছে না। ফলে একদিকে যেমন যাত্রীসেবার মান, চলাচলের সময়সূচির দক্ষতা এবং দৈনিক রাজস্ব আয় কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় দ্রুত হারে বাড়ছে। শুরুতেই এভাবে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে পুরো মেগা প্রকল্পের আর্থিক স্থায়িত্ব মারাত্মক সংকটে পড়বে। এছাড়া অনবরত বৈদ্যুতিক স্পার্কিং, দরজার ত্রুটি ও পানি ঢোকার সমস্যাগুলো ভবিষ্যতের বড় বিপর্যয়ের আগাম সংকেত।
সাধারণত এ ধরনের ভারী পরিবহন অবকাঠামো কোনো বড় ধরনের সংস্কার ছাড়াই ২০ থেকে ২৫ বছর নিশ্চিন্তে সেবা দেওয়ার কথা। সেখানে চালুর মাত্র আড়াই বছরের মাথায় নকশা, নির্মাণ সামগ্রীর মান, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, কমিশনিং এবং নিয়মিত তদারকির সমন্বিত গলদ সামনে এসেছে।
জাপানি নকশা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাছে অডিট কমিটি ব্যাখ্যা চাইলে তারা দায় ঠিকাদারদের ‘ডিফেক্ট নোটিফিকেশন পিরিয়ডের’ ওপর চাপানোর চেষ্টা করে। তবে একই স্থানে বারবার একই ধরণের দুর্ঘটনার কারণে সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হতে পারেনি বিশেষজ্ঞ কমিটি।
হাইকোর্টের নির্দেশে অডিট কমিটি মেট্রোরেল বন্ধের নির্দেশ দেয়নি, তবে পরিস্থিতি সামলাতে ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ (৮টি স্বল্পমেয়াদি, ১০টি মধ্যমেয়াদি ও ১০টি দীর্ঘমেয়াদি) পেশ করেছে।
জরুরি টেকনিক্যাল মেরামত (স্বল্পমেয়াদি): আগামী ১ মাসের মধ্যে অতি-ঝুঁকিপূর্ণ পিয়ারগুলোর (বিশেষ করে ৪২৩, ৪৪২, ৪৪৬ ও ৪৪৮) বিয়ারিং প্যাড প্রতিস্থাপন করা, সাময়িক ব্র্যাকেট বসানো এবং পিয়ারের ফাটলগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের কেমিক্যাল সিলিং করা।
ডায়নামিক ভাইব্রেশন টেস্ট (মধ্যমেয়াদি): আগামী ৬ মাসের মধ্যে পুরো লাইনে ট্রেনের ভাইব্রেশন ও কম্পন পরীক্ষা সম্পন্ন করে ক্রমান্বয়ে আরোপিত গতিসীমা তুলে দেওয়া।
স্মার্ট স্ট্রাকচারাল হেলথ মনিটরিং (দীর্ঘমেয়াদি): প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়াতে ‘Smart Structural Health Monitoring System (SSHM)’ সেন্সর স্থাপন করা, যাতে কাঠামোর সামান্যতম বিকৃতিও রিয়েল-টাইমে জানা যায়।
স্বাধীন আন্তর্জাতিক সেফটি অডিট: মূল নকশা, লোড টেস্টের তথ্য ও নির্মাণমান নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক মানের স্বাধীন সংস্থাকে নিয়োগ দেওয়া।
ঢাকার গণপরিবহনে ৩২ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মেট্রোরেল কেবল যাতায়াতের সময় কমায়নি, এটি ছিল আধুনিক বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রতীক। কিন্তু আন্তর্জাতিক কনসালট্যান্ট কিংবা বিশাল বাজেটের দোহাই দিয়ে নিরাপত্তাকে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। এখন সাময়িক মলমপট্টি বা ব্র্যাকেট বসিয়ে ট্রেন সচল রাখার চেয়ে বেশি জরুরি—নকশা ও নির্মাণের প্রতিটি ধাপে কোথায় ব্যর্থতা হয়েছিল তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সুপারিশগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করে জনগণের মনে মেট্রোরেলের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা।
দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কোণ আজ নিভৃতে দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিক। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার এই সুবিধার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক নীরব ও অদৃশ্য বিপদ, যা রক্তপ্রবাহ থেকে শুরু করে হৃদযন্ত্র পর্যন্ত গ্রাস করছে। দেশি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সাম্প্রতিক গবেষণায় মানুষের রক্ত, হৃদপিণ্ডের ধমনী, মস্তিষ্ক এবং প্রাত্যহিক খাদ্যতালিকার অপরিহার্য উপাদানগুলোতে উদ্বেগজনক মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। প্লাস্টিক এখন আর সমুদ্রের গভীর বা ফেলে দেওয়া আবর্জনার স্তূপে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা রান্নাঘর থেকে শুরু করে প্রসাধনসামগ্রী পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে সরাসরি মানবদেহের কোষে হানা দিচ্ছে।
গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, প্লাস্টিক এখন নিত্যদিনের খাবার থেকে শুরু করে প্রসাধনসামগ্রী পর্যন্ত সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। ইতালির রোমের সান্ত আন্দ্রেয়া হাসপাতাল ও সাপিয়েনজা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় হার্ট অ্যাটারে আক্রান্ত রোগীদের ৮৪ শতাংশের রক্তপ্রবাহে মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে। এ ছাড়া হৃদরোগে আক্রান্তদের ধমনীতেও এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
দুধ: যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের পরীক্ষায় সুপারশপের প্রক্রিয়াজাত দুধে প্রতি ১০ মিলিলিটারে গড়ে ১৫৬ দশমিক ০৬টি এবং কাঁচা দুধে ৯৩ দশমিক ৩৩টি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।
সয়াবিন তেল: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও বিইউপি-এর যৌথ গবেষণায় ঢাকার খোলা সয়াবিন তেলে প্রতি লিটারে প্রায় ৪৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার এবং বোতলজাত তেলে ৪৪ হাজার থেকে ৫৪ হাজারটি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।
চিনি: ঢাকার বাজারে প্রচলিত খোলা চিনিতে প্রতি কেজিতে প্রায় ৪০৩টি এবং ব্র্যান্ডেড চিনিতে প্রায় ৩২২টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।
টুথপেস্ট: পরিবেশবাদী সংস্থা ইএসডিও (ESDO)-র গবেষণায় বাজারে প্রচলিত ৩৪টি টুথপেস্টের ২৬টিতেই (৭৬.৫%) মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে, যার মধ্যে শিশুদের ৪টি টুথপেস্টও রয়েছে।
মাছ: দেশের নদী-নালা ও সমুদ্রের বিভিন্ন মাছের (যেমন—কই, বাটা, মেনি, গুলশা টেংরা, পুঁটি, বাইম এবং শুঁটকি) মাংসপেশিতেও প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি ধরা পড়েছে।
ইতালির সান্ত আন্দ্রেয়া হাসপাতালের সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে ধূমপান এবং বায়ুদূষণকে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমা হওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ধূমপান করেন এবং দূষিত বাতাসে শ্বাস নেন, তাদের রক্তে অতিমাত্রায় প্লাস্টিক কণা থাকার সম্ভাবনা সাধারণ মানুষের তুলনায় ছয় গুণ বেশি।
প্রধান গবেষক ড. পাসকুয়ালে পাওলিসো এবং ড. ইমানুয়েলে বারবাতো ব্যাখ্যা করেছেন যে ফুসফুসের মাধ্যমে রক্তে প্লাস্টিক কণা প্রবেশের গতিপথটি ধূমপান ও বায়ুদূষণের কারণে আরও মসৃণ বা সহজ হয়ে যায়। ফলে ধূমপায়ী ও দূষিত আবহাওয়ায় বসবাসকারী ১০০ শতাংশ রোগীর রক্তেই উচ্চমাত্রার প্লাস্টিক পাওয়ার নজির মিলেছে।
খাদ্যে প্রক্রিয়াজাত দুধ ও নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর বেশি নির্ভরতার কারণে শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় বেশি পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করছে। গবেষকদের মতে, একজন শিশু প্রতিদিন গড়ে ৭৭টির বেশি প্লাস্টিক কণা গ্রহণ করে।
বিজ্ঞানীরা এখনো মাইক্রোপ্লাস্টিকের নির্দিষ্ট কোনো নিরাপদ মাত্রা নির্ধারণ করতে পারেননি এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলছে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, রক্তপ্রবাহে থাকা ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী ধমনী বা করোনারি সার্কুলেশনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। মৃত মানুষের মস্তিষ্কে এবং ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে স্বাভাবিকের চেয়ে বহুগুণ বেশি প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। ১৩ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট কণাগুলো সরাসরি রক্তে মিশে পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, প্রদাহ এবং কোষের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ঘটাতে পারে।
গবেষকরা মনে করেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণেই যে শুধু সরাসরি হার্ট অ্যাটাক হয়—এমন শতভাগ নিশ্চিত প্রমাণ না মিললেও এটি যে হৃদরোগের একটি অন্যতম অদৃশ্য অনুঘটক, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
বাংলাদেশে প্রতিদিন প্রায় আট হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়, যার বড় অংশই অগোছালো বা বিশৃঙ্খল অবস্থায় থাকে।
মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই জানিয়েছে যে, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে। অন্যদিকে, সরকারের নীতিনির্ধারকরা একে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে চিহ্নিত করে সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর জোর দিচ্ছেন।
বিশ্ব ব্যাংকের নীতিনির্ধারক ও গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ দ্রুত শহরায়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেলেও এর ফলে প্লাস্টিক দূষণ এক মারাত্মক জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।
গত ১৫ বছরে শহরাঞ্চলে মাথাপিছু প্লাস্টিক ব্যবহার তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় নদী-নালা, খাল-বিল এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা ঢাকাসহ পুরো দেশে তীব্র জলাবদ্ধতা এবং পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে এবং টেকসই সবুজ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্লাস্টিক দূষণ রোধ অপরিহার্য।
এই লক্ষ্যে বিশ্ব ব্যাংকের কর্মপরিকল্পনায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী পরিবেশবান্ধব বিকল্পের ব্যবহার বৃদ্ধি, কঠোর নীতি ও আইনি সংস্কার বাস্তবায়ন, এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব ও জনসচেতনতার মাধ্যমে একটি কার্যকর বৃত্তাকার অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হলেই কেবল এই প্লাস্টিক দূষণ রোধ করা টেকসই হবে।
জাতিসংঘের বাস্তুতন্ত্র বিভাগের পরিচালক সুসান গার্ডনার প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে পণ্যের পুনঃডিজাইন এবং অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিক মোড়ক বর্জনের পরামর্শ দিয়েছেন।
খাদ্যবর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন উদ্যোগে প্লাস্টিক দূষণের বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্যবর্জ্য থেকে তৈরি কম্পোস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থেকে যেতে পারে, যা পরে কৃষিজমির মাটিতে মিশে দূষণ বাড়াতে পারে।
জার্নাল নেচার ফুড-এ প্রকাশিত নতুন গবেষণায় খাদ্যবর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পদ্ধতির ওপর জলবায়ু, পুষ্টিদূষণ ও প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব তুলনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্টের গবেষকেরা জীবনচক্র বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে এই গবেষণা করেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্যবর্জ্য ভাগাড়ে না পাঠিয়ে পুনর্ব্যবহার বা অন্যভাবে ব্যবস্থাপনা করা হলে এর জলবায়ুগত প্রভাব ৮৯ থেকে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। একইসঙ্গে পানিতে অতিরিক্ত পুষ্টি জমে শৈবালের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির মতো পরিবেশগত সমস্যাও কমতে পারে। তবে এর বিপরীত একটি ঝুঁকিও রয়েছে। গবেষকদের হিসাবে, কম্পোস্টে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিকের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিজমিতে বছরে প্রায় ২০ হাজার টন প্লাস্টিক দূষণ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
গবেষণাটির প্রধান লেখক কেট পোর্টারফিল্ড বলেন, ‘কোনো পণ্য বা প্রক্রিয়ার কার্বন ফুটপ্রিন্ট হিসাব করার মতো করেই খাদ্যবর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ধাপে কী পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে, তা হিসাব করা হয়েছে।’
তার মতে, বিপুল পরিমাণ খাদ্য প্লাস্টিকের প্যাকেটসহ নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় খাদ্য ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়ে যায়। খাদ্যবর্জ্য পুনর্ব্যবহারের একটি পদ্ধতিতে যান্ত্রিক ‘ডিপ্যাকার’ ব্যবহার করে খাবার ও প্যাকেট আলাদা করা হয়। এরপর প্যাকেট ভাগাড়ে পাঠানো হয় এবং খাদ্যবর্জ্য কম্পোস্ট বা অ্যানারোবিক ডাইজেশনের মতো কাজে ব্যবহার করা হয়।
কিন্তু গবেষকেরা দেখেছেন, প্লাস্টিক আলাদা করার প্রযুক্তি ৯৯ শতাংশ কার্যকর হলেও ভাগাড় থেকে খাদ্যবর্জ্য সরিয়ে নেওয়ার ফলে মাটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ প্রায় ১০ গুণ বাড়তে পারে।
পোর্টারফিল্ড বলেন, ‘যখনই খাদ্যবর্জ্য অন্যভাবে ব্যবস্থাপনার জন্য ভাগাড় থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তখন মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণের ঝুঁকি থাকে।’ কারণ মানুষ বা যন্ত্র, কোনোটিই শতভাগ নিখুঁতভাবে প্লাস্টিক আলাদা করতে পারে না। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রায় সব ধরনের খাবারই এখন কোনো না কোনোভাবে প্লাস্টিকের প্যাকেটে বাজারজাত হওয়ার বাস্তবতা।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে হালনাগাদ ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দেশে বর্তমানে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৫ জন বলে জানিয়েছে ইসি। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশের মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৫৫ জন। গত ১৪ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে ৩ লাখ ৯ হাজার ৩১৫ জন।
ইসি সচিব বলেন, এই ভোটার তালিকা দিয়েই আপাতত স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন হলে কমিশন পরবর্তী সময়ে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নিলে বর্তমান তালিকাটি সম্পূরক তালিকা হিসেবে আসতে পারে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণবিধি আজ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, নির্বাচনসংক্রান্ত আইন সংশোধনের বিষয়টি এখনো পাঠানো হয়নি। এ সংক্রান্ত নথি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে সেটিও আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান গতিপথকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সেন্টার ফর ইনসাইটস ইন সার্ভে রিসার্চ পরিচালিত দেশব্যাপী এক জনমত জরিপে ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থাকে ‘মোটামুটি ভালো’ বা ‘খুব ভালো’ বলে মত দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের দূরত্ব রয়েছে বলে মনে করেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। জরিপে ৮৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, রাজনৈতিক অভিজাতদের সঙ্গে জনগণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিচ্ছিন্নতা রয়েছে।
৯ আগস্ট নিজেদের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে ৫৭ পৃষ্ঠার একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে আইআরআই। তাদের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সিনিয়র ডিরেক্টর জোহানা কাও বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা পুনর্গঠনে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি করেছে। তবে গণতন্ত্র শক্তিশালী করা একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার জন্য ধারাবাহিক সংস্কার ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন। দেশের সবচেয়ে জরুরি সমস্যা কী- এমন প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি, ২২ শতাংশ উত্তরদাতা দুর্নীতিকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এরপর মাদককে শতকরা ১৫ ভাগ মানুষ প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে মত দিয়েছেন। শতকরা ১২ ভাগ মানুষ মনে করেন প্রধান সমস্যা হলো আইনশৃংখলা। মাদক নিয়ে উদ্বেগ গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের জরিপে মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ মাদককে দেশের বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এবার সেই হার বেড়ে ১৫ শতাংশ হয়েছে- অর্থাৎ প্রায় তিনগুণ। নতুন সরকারের কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত- এ প্রশ্নেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন উত্তরদাতারা। সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৩৩ শতাংশ মানুষ দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা জোরদার করাকে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চেয়েছেন। এরপর আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা দাবি করেছেন ২২ শতাংশ মানুষ। আর সুশাসন ও রাজনৈতিক সংস্কার দাবি করেছেন ২১ শতাংশ মানুষ।
জোহানা কাও বলেন, নাগরিকরা তাদের অগ্রাধিকার স্পষ্ট করে দিয়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলো কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে সবসময় একমত নাও হতে পারে। তবে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং নাগরিকদের প্রয়োজনের প্রতি সাড়া দেয়- এমন অর্থবহ সংস্কার বাস্তবায়নে তাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
আইআরআইয়ের পক্ষে স্থানীয় একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান জরিপটি পরিচালনা করে।
২০২৬ সালের ১৬ মে থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলা ও আট বিভাগে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি ৫ হাজার বাংলাদেশির ওপর সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। উত্তরদাতাদের বাড়িতে কম্পিউটার-সহায়তায় ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার পদ্ধতিতে তথ্য নেয়া হয়েছে। ২০২২ সালের আদমশুমারির তথ্য ব্যবহার করে বিভাগ, বয়স, লিঙ্গ ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে নমুনা সমন্বয় করা হয়েছে।
বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান সাইফের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ পরোয়ানা জারি করেন।
প্রসিকিউশন জানায়, সম্প্রতি নিজ বাসা থেকে এই কর্মকর্তাকে আটক করে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত বিশেষ সামরিক পুলিশ শাখা (প্রভোস্ট)। পরে তাকে বাহিনীর বিশেষ সেলে হেফাজতে রাখা হয়।
এর আগে ইলিয়াস আলীকে গুমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়। গত বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে এ আবেদন করা হয়।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইলিয়াস আলীর গুমের ঘটনায় উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী এবং তার গাড়িচালক আনসার আলী নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
দেশে নতুন করে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেবে সরকার। এর মধ্যে সহকারী সার্জন অথবা মেডিকেল অফিসার হিসেবে ৪ হাজার ৭০০ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে। এছাড়া সহকারী ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ পাবেন আরো ৩০০ জন। সব মিলিয়ে বছরে তাদের বেতন-ভাতা বাবদ লাগবে ২৮৮ কোটি টাকা।
এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে থাকা ৩৪ হাজার ৭১৪টি শূন্য পদ দ্রুত পূরণের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।
জানা গেছে, উপজেলা পর্যায়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে মনোযোগী বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এ লক্ষ্যে দুই বেলা বহির্বিভাগ, ল্যাবরেটরি ও জরুরি সেবা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সেই সঙ্গে ইনডোরে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক উপস্থিতি নিশ্চিতের পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে। যার অংশ হিসেবে সহকারী সার্জন ও মেডিকেল অফিসার নিয়োগে তৈরি করা হচ্ছে নতুন আরো ৫ হাজার পদ। এর মধ্যে সহকারী সার্জন বা সমমানের ৪ হাজার ৭০০ এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জনের পদ থাকছে ৩০০টি।
ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের এসংক্রান্ত প্রস্তাবে সায় দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যা এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই খাতে কেবল বেতন-ভাতা বাবদ সরকারকে বছরে গুনতে হবে প্রায় ২৮৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সেই সঙ্গে অন্যান্য প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয়ও রয়েছে।
সারাদেশের ৩১ শয্যার ৪৮টি, ৫০ শয্যার ৩৭৩টি এবং ১০০ শয্যার ৯টিসহ মোট ৪৩০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য এসব পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর আগে কভিড-১৯ মহামারির সময় ২০১৯-২০ অর্থবছরে শুধু স্বাস্থ্যসেবা বিভাগেই ১৫ হাজার ৩৮৮টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল।
যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ৬ হাজার সহকারী সার্জন বা সমমান এবং ৪ হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্সের পদে নিয়োগ।
উল্লেখ্য, নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরে কেবল স্বাস্থ্য খাতেই পদ সৃষ্টি করে ১৫ হাজার ৮২০টি পদে নতুন জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে।
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে থাকা ৩৪ হাজার ৭১৪টি শূন্য পদ দ্রুত পূরণের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। জনস্বার্থে এসব পদে দ্রুত নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএসের মানবসম্পদ তথ্যব্যবস্থা (এইচআরআইএস) অনুযায়ী ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডে ২০ হাজার ৮১৬টি এবং ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে ১৩ হাজার ৩৮৯টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। সব মিলিয়ে শূন্য পদের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৭১৪।
এসব পদ দেশের বিভাগীয় কার্যালয়, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, সিভিল সার্জনের কার্যালয়, জেলা সদর হাসপাতাল, ১০০, ২৫০ ও ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ বলেছে, জনবল–সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তাই জনস্বার্থে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকারের দৃষ্টিতে উন্নয়ন মানে কেবল দৃশ্যমান বিশাল অট্টালিকা বা মেগা প্রজেক্ট নয়, বরং মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা গ্যাস সম্পদ উত্তোলন করাই এখনকার আসল উন্নয়ন।
রোববার দুপুরে বরিশাল নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলে আঞ্চলিক পত্রিকা ‘দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ’-এর ৫৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকার ১৭ বছরে নিজস্ব গ্যাস সম্পদ উত্তোলন না করে আমদানিকারকদের সুবিধা দিতে হাজার হাজার কোটি টাকার জ্বালানি বিদেশ থেকে নিয়ে এসেছে। ফলে পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আমদানি-নির্ভর হয়ে পড়েছিল। মধ্যস্বত্বভোগীদের লাভের সুযোগ দিতেই নিজস্ব উত্তোলন বন্ধ রেখে বেশি দামে গ্যাস আমদানি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, একদল লুটেরাকে ধনী করার উদ্দেশে দুর্বল বৈদেশিক মুদ্রার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি দেশে এমন চক্রান্তই করা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার নিজস্ব গ্যাস সম্পদ উত্তোলনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সচল রাখতে বাধ্য হয়ে যেটুকু প্রয়োজন কেবল সেটুকুই আমদানি করা হবে, বাকি চাহিদা নিজস্ব উত্তোলনের মাধ্যমেই মেটানো হবে যাতে উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমে আসে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষার করার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত এলাকায় নেশাদ্রব্য উৎপাদন করে বাংলাদেশকে বাজার হিসেবে ব্যবহারের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। অতীতে কোনো কোনো সংসদ সদস্য এসব কারবারে জড়িত থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। সেই সমস্ত কারবারীরা সরকার পরিবর্তনের পর এখন ক্ষমতাসীন দলের পার্টনার খুঁজে বেড়াচ্ছেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার মাধ্যমে এসব চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।
রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত দরকার। তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার কর্মসূচির মধ্য দিয়েই এই সংস্কার ও মেরামতের কাজ সম্পন্ন হবে।
বিএনপিতে কোনো গডফাদার বা মাস্তানতন্ত্রকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকে ‘চাবুকের’ ভূমিকা পালন করতে হবে।
গণমাধ্যমকে সমাজের নিখুঁত আয়না হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম নিখুঁত না হলে সমাজের সঠিক ছবি উঠবে না এবং তা সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়ে ফেলবে।
দৈনিক বিপ্লবী বাংলাদেশ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খশরু, বিএনপি নেতা আজিজুল হক আক্কাস, মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল কবির জাহিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসরাইল পণ্ডিত, বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আমিনসহ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আগস্ট মাসের জন্য অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার জেড ফুয়েলের দাম ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫৯ টাকা ৫২ পয়সা করা হয়েছে। রোববার এক বার্তায় এ তথ্য জানায় বিইআরসি।
এছাড়া ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার ফুয়েলের দাম শূন্য দশমিক ৮৫৫৬ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ০৩৫৮ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি বছরের ২৪ মার্চ জেট ফুয়েলের দাম অভ্যন্তরীণ রুটে ৮০ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৯ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। পরে ৭ এপ্রিল আবারও বাড়ানো হয় দাম।
এরপর মে মাসের জন্য অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২২৭ টাকা ৮ পয়সা থেকে কমিয়ে ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা করা হয়। জুনে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটারের দাম ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা থেকে আরও কমিয়ে ১৫০ টাকা ২১ পয়সা করা হয়েছিল।
কেউ কেউ ২৯ বছর বয়সেই রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য ব্যাকুল হয়ে আছেন বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ও কৃতিত্ব নিয়ে একেকজন একেক ধরনের বয়ান দিচ্ছেন। যারা জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করছেন, তাদের শিক্ষা হওয়া উচিত।
রোববার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাইয়ে চিকিৎসকদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, অনেকে জুলাইকে ৩৬ দিনের আন্দোলন হিসেবে তুলে ধরছেন। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থান ১৭ বছরের আন্দোলনের ফসল। এই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে একেকজন একেক ধরনের বয়ান দিচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে চক্রান্তমূলকভাবে রাষ্ট্রপতি ও বিদেশি অতিথিদের সামনে দেশকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির মধ্যে বিভাজন তৈরি হলে মৌলবাদীরা এর সুযোগ নেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতির সমালোচনা করে আহমেদ আযম খান বলেন, হাজার হাজার জুলাই যোদ্ধা এখনো গেজেটের অন্তর্ভুক্ত হননি।
মন্ত্রী জানান, গত ১৭ বছরের আন্দোলনে যারা গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন, তাদের জন্য শিগগিরই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন একটি অধিদপ্তর চালু করা হবে।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত এবং অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচার রোধে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকায় বাংলাদেশ শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।
রোববার প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সারাহ কুক। এ সময় আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে। বৈঠকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী। বাংলাদেশ থেকে নিরাপদ, নিয়মিত ও যৌক্তিক ব্যয়ে শ্রম অভিবাসনের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্বেগও তুলে ধরেন তিনি। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকায় বাংলাদেশ বর্তমানে শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করা বাংলাদেশিদের মধ্যে অল্পসংখ্যকের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। যাদের আবেদন নাকচ হয়েছে, তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
হাইকমিশনার জানান, আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর কেউ স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরতে চাইলে পুনর্বাসনের জন্য তাকে তিন হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হলে এ সুবিধা প্রযোজ্য নয়। এ ছাড়া অভিবাসন ব্যবস্থা উন্নয়ন ও ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন মাইগ্রেশন’ বাস্তবায়নেও বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান ব্রিটিশ হাইকমিশনার।
বৈঠকে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শোষণ, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে চায় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দক্ষ ও মানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরি, নিরাপদ ও মানসম্মত কর্মসংস্থান এবং অভিবাসী কর্মীদের অধিকার, মর্যাদা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানের কর্মী তৈরিতে ইংরেজি ভাষা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চান মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ‘গ্রিন স্কিল’ ও ‘ডিজিটাল স্কিল’ প্রশিক্ষণেও যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
বিদেশফেরত কর্মীদের টেকসই পুনর্বাসন ও সামাজিক পুনরেকত্রীকরণের জন্য এফসিডিও, আইএলও ও বিশ্বব্যাংকের অংশীদারত্বে চলমান ‘রাইজ’ প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন এবং অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ইউরোপের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের কর্মী তৈরিতে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সংযোগ স্থাপন করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত কর্মীদের বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো গেলে তরুণদের বৈধ পথে অভিবাসনে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনের জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলর রায়ান ডানকানসনসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন দাবি করেছে, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের বা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যক্তি বা পদধারীকে বিশ্বাস করতেন না। ফলে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মাধ্যমে সবার ফোনকল রেকর্ড করাতেন তিনি। কে কী বলছে, তা নিজেই মনিটরিং ও নজরদারি করতেন।
প্রসিকিউশন বলেছে, শেখ হাসিনা এনটিএমসির প্রধান নিয়োগ করেছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে। তার মাধ্যমে তিনি ফোনকলগুলো রেকর্ড করতেন।
রোববার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ একটি মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় এ বিষয়টি তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের মতো রোববার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছে প্রসিকিউশন।
গাজী এমএইচ তামিম জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে কোথায় কী ধরনের বৈঠক ও যোগাযোগ হয়েছিল, সেসবের বিভিন্ন দিক ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন। একইসঙ্গে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশের পৃথক দুটি ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে বাজিয়ে শোনানো হয়। এছাড়া আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের বেশ কয়েকটি কথোপকথনের উদ্ধৃতিও তুলে ধরেন প্রসিকিউটর তামিম।
এ প্রসঙ্গে গাজী এমএইচ তামিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালে ১৪টি কথোপকথন উপস্থাপন করা হয়েছে। শুরুতেই ওবায়দুল কাদের ও জুনাইদ আহমেদ পলকের একটি কথোপকথন শোনানো হয়, যা এরই মধ্যে ট্রাইব্যুনালে দালিলিক প্রমাণ হিসেবে গৃহীত হয়েছে। এই কথোপকথনে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ইন্টারনেট সেবা সীমিত করার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। পরে শেখ হাসিনার অনুমোদন নিয়ে তা কার্যকর করেন পলক।’
তিনি বলেন, ‘বিষয়টি শুধু কথোপকথনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা থেকে দেশের ৫৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রি-জি ও ফোর-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা জারি করেছিল সরকার। শুধু তাই নয়, আন্দোলন চলাকালে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টিকটকসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়। এটি 'সিস্টেম ক্রাইম'-এর একটি অংশ। এছাড়া জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই সময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া আহত আন্দোলনকারীদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।'
তামিম বলেন, 'ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে চট্টগ্রামের তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের কথোপকথনের পরপরই ১৬ জুলাই ওয়াসিমসহ তিনজনকে আওয়ামী লীগের নেতারা গুলি চালিয়ে হত্যা করেন। এছাড়া ওবায়দুল কাদের ও তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনেও আন্দোলনকারীদের বিভিন্নভাবে ট্যাগ দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। তাদের কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী, জঙ্গি, বিএনপি-জামায়াত ও রিলিজিয়াস অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টি উঠে এসেছে। হাছান মাহমুদ বলেছিলেন, আন্তর্জাতিকভাবে ‘জঙ্গি’ শব্দটি গুরুত্ব পায়। তাই এ শব্দ ব্যবহার করা হলে আন্তর্জাতিক বিশ্ব আমাদের পক্ষে কথা বলবে।’
এ সময় শেখ হাসিনার একটি কথোপকথনের উদ্ধৃতি তুলে ধরে তামিম বলেন, ‘ওরা তো আমাদের অনেক কিছু পোড়াইছে। ওদের বাড়িঘর সব পোড়ায় দে। ওদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে না? সেগুলো পোড়ায় দে। এখন শুধু একটাই কাজ, সময়মতো বসে থাকবা, আর ওদের ঘরবাড়িতে আগুন দিবা।’ এমন ১৪টি কথোপকথনই সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে বলে জানান প্রসিকিউটর৷
প্রসিকিউটর তামিম আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনার সময়ে চালু করা বিভিন্ন ব্যবস্থার মধ্যে একটি ছিল ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি)। এর প্রধান ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। তার মাধ্যমে তিনি ফোনকলগুলো রেকর্ড করতেন। শেখ হাসিনা নিশ্চয়ই নিজের ফোনকল এনটিএমসিতে দেননি। কিন্তু আমরা অসংখ্য ফোনকল পেয়েছি এ সংস্থার মাধ্যমে। শেখ হাসিনা ঠিক যার সঙ্গে কথা বলছেন, তার ফোন নম্বরটি এনটিএমসিতে ছিল। এ কারণে ওই ব্যক্তির সঙ্গে যে-ই কথা বলতেন, সেটি রেকর্ড হয়ে যেতো। একইভাবে শেখ হাসিনাও যখন এসব ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন, তখন তার ফোনকলও রেকর্ড হয়েছে।’
তিনি যোগ করেন, ‘এমন বহু কল রেকর্ড থেকে দেখা গেছে, নিজেদের অধীনস্থদের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে প্রাণঘাতী অস্ত্র ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতা-কর্মী। এছাড়া ওবায়দুল কাদের দলের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলেছেন, কীভাবে সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের টাকা দিয়ে আন্দোলনে প্রতিহত করতে হবে, আন্দোলনকারীদের ওপর আক্রমণ করতে হবে- এসব বিষয়ে। সেই টাকা কোন উৎস থেকে আসবে, কীভাবে সংগ্রহ করা হবে, এমন একটি কথোপকথনও আমরা দেখিয়েছি।’
দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণসুবিধার অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া অবশেষে শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ১৫ আগস্ট দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এ অর্থ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও প্রথম ধাপেই শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের সম্পূর্ণ পাওনা হাতে পাচ্ছেন না। সীমিত অর্থের সংস্থান থাকায় এবার আংশিক অর্থ দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে অর্থের সংস্থান অনুযায়ী অবশিষ্ট পাওনা পরিশোধ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অবসর সুবিধা বোর্ড ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সুবিধাভোগীদের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি অর্থ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ও আইবাস প্লাস প্লাস ব্যবস্থার মাধ্যমে এ অর্থ পাঠানো হবে। ফলে অর্থ পাওয়ার জন্য সুবিধাভোগীদের অফিসে এসে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করা কিংবা কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর দ্বারস্থ হওয়ার প্রয়োজন হবে না।
রোববার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের সচিব অধ্যক্ষ মো. মোশাররফ হোসেন বলেছেন, আগামী ১৫ আগস্ট থেকে আটকে থাকা অর্থ বিতরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। আমরা ১৫ আগস্টের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং দিন-রাত কাজ করছি।
তবে প্রথম ধাপে পুরো পাওনা দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন বোর্ড সচিব। অর্থ এককালীন নাকি পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে– এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রথম ধাপে নির্ধারিত সংখ্যক আবেদনকারীর অর্থ দেওয়া হবে। পুরো টাকা দেওয়া হবে না। আজকের মিটিংয়ের পর বিস্তারিত জানানো হবে।’
এ ছাড়া অর্থের পরিমাণ ও বিতরণের পদ্ধতি নিয়ে রোববারের বৈঠকে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অর্থ পেতে শিক্ষক-কর্মচারীদের অফিসে গিয়ে অপেক্ষা করতে হবে না। ইএফটি ও আইবাস প্লাস প্লাসের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে টাকা পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এতে অর্থ বিতরণে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ কমবে। এবার অবসর সুবিধা বোর্ডের ৭০ হাজার ১১৯টি এবং কল্যাণ ট্রাস্টের ৫৩ হাজার ৪৭৭টি আবেদন অর্থ পরিশোধের আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে। দুই প্রতিষ্ঠানে মোট আবেদনের সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৯৬টি।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার অবসর সুবিধা বোর্ডের ৭০ হাজার ১১৯টি এবং কল্যাণ ট্রাস্টের ৫৩ হাজার ৪৭৭টি আবেদন অর্থ পরিশোধের আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে। দুই প্রতিষ্ঠানের আবেদন মিলিয়ে মোট আবেদন সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৯৬টি। তবে এই সংখ্যাকে সুবিধাভোগী শিক্ষক-কর্মচারীর মোট সংখ্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ একই শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা ও কল্যাণ সুবিধা—দুইটির জন্যই আবেদন করতে পারেন।
চাকরিকালে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে নির্ধারিত হারে চাঁদা নিয়ে অবসর ও কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়। প্রচলিত ব্যবস্থায় অবসর সুবিধার জন্য মূল বেতনের ৬ শতাংশ এবং কল্যাণ সুবিধার জন্য ৪ শতাংশ হারে চাঁদা জমা হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও নির্ধারিত অর্থ সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট তহবিলে জমা দেওয়া হয়। এসব অর্থের পাশাপাশি সরকারের বিশেষ বরাদ্দ এবং তহবিলে থাকা অর্থের ব্যবস্থাপনা থেকেও সুবিধা দেওয়ার অর্থ জোগাড় করা হয়।
কিন্তু প্রতি মাসে নতুন করে যে পরিমাণ আবেদন জমা পড়ে, সেগুলো নিষ্পত্তির জন্য যে অর্থ প্রয়োজন, তহবিলে তার তুলনায় অর্থের প্রবাহ কম। ফলে একদিকে নতুন আবেদন জমতে থাকে, অন্যদিকে পুরোনো আবেদন নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ঘাটতি তৈরি হয়। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে অবসর ও কল্যাণসুবিধার আবেদনজট বড় হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা পাওনা অর্থ না পেয়ে দুর্ভোগে ছিলেন। তাদের কষ্ট লাঘবের জন্য সরকার এ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যু নেই। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭৭৫ জন মারা গেছে আর হামে মারা গেছে ৯৮ জন।
এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৩৮ জন মারা গেছে ঢাকা বিভাগে। এর পরেই রয়েছে সিলেট বিভাগ, সেখানে মারা গেছে ১২২ জন। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৯১, ময়মনসিংহে ৭২, চট্টগ্রামে ৬১, বরিশালে ৪৬, খুলনায় ৩২ ও রংপুর বিভাগে ১৩ জন মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া নিয়মিত পরিসংখ্যানে মৃতদের বয়সভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায় না। রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম সব বয়সি মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়।
সরকারের তথ্য বলছে, সারাদেশে নতুন করে ৯৮৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ জনের। নতুন করে আরও ৭৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ১১৫।
হাসপাতালে ভর্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৮২ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ১৪২ জন।