বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
মঙ্গলবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। ওই সময় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্যাসের দাম বাড়ানোরও ইঙ্গিত দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিটে ৩৪ থেকে ৭০ পয়সা বাড়বে। বিদ্যুতে সরকারের ভর্তুকি খাত থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধন্তের পরিপেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিপিডিবির ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে ৯৮ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮৭ হাজার ২৪ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। এখানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১১ টাকা ৩৩ পয়সা এবং এই বিদ্যুৎ বিক্রি করতে প্রতি ইউনিটে খরচ হয়েছে ৬ টাকা ৭০ পয়সা। ফলে প্রতি ইউনিটে লোকসান হয়েছে প্রায় ৪ টাকা ৬৩ পয়সা। এই ভারসাম্যহীনতা কাটিয়ে উঠতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ৪৭ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা।
বার্ষিক প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি প্লান্টে খরচ হয় ৬ টাকা ৮৫ পয়সা। ভারত থেকে ৮ টাকা ৭৭ পয়সা দরে বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারা যায়। বিপিডিবির নিজস্ব কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে প্রতি ইউনিট খরচ হয় ৭ টাকা ৬৩ পয়সা, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান (আইপিপি) ১৪ টাকা ৬২ পয়সা, ভাড়া কেন্দ্রে ১২ টাকা ৫৩ পয়সা।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, একজন রিকসা চালকের রিকসা চালানোর অধিকার, একজন কৃষকের চাষাবাদের অধিকার এবং তাঁদের ঘাম ও শ্রমের যথার্থ মূল্যায়ন পাওয়াই হলো স্বাধীনতার স্বাদ। প্রকৃত স্বাধীনতা মানে হলো জনগণের রুটি রুজির অধিকার ফিরে পাওয়া।
আজ (শুক্রবার) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় চীফ হুইপ এসব কথা বলেন।
চীফ হুইপ বলেন, দীর্ঘ সময় গণতান্ত্রিক লড়াই সংগ্রামের পর জনগণ স্বাধীনতার সুফল পেতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সুশাসনের একটি উদাহরণ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে দেশের মানুষ ভালো থাকায়ই বিএনপিকে দীর্ঘ সময় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
চিফ হুইপ আরও বলেন, স্বাধীনতার পর মানুষ অনাহারে থেকেছে। দূর্ভিক্ষের সময় এক ব্যক্তির বমি আরেক ব্যক্তি খেয়েছে। মা ছেলেকে লাশ বানিয়ে ভিক্ষা করত। ঠিক সেসময়েই আবার কামালের বিয়ে হয়েছে মুকুট পরিয়ে। আইন শৃংখলা বলে কিছু ছিলনা। বাবাকে বাধ্য করা হয়েছে ছেলের মাথায় কুড়াল চালাতে, যুবলীগের ছেলেরা লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র পেত। পথে ঘাটে লাশ পড়ে থাকতে দেখা যেত। এসময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনগণের চাপে দায়িত্ব নেন। তার খাল খনন কর্মসূচির ফলে তিন বছরের মাথায় খাদ্য সংকট দূর হয়েছিল এবং বাংলাদেশ প্রথম খাদ্য রপ্তানি করে সেনেগালে।
জুলাই সনদ নিয়ে চীফ হুইপ বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে কোনো ধরনের অপরাজনীতি সহ্য করা হবে না। বিএনপি এই সনদের পক্ষে রয়েছে এবং এর প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং এ লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আমাদের কোন সমস্যা নেই। নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে যাতে আইনী প্রক্রিয়ার বিষয়ে কোন প্রশ্ন না উঠে।
বিরোধী দল প্রসঙ্গে চীফ হুইপ বলেন, তারা একের পর এক অবস্থান বদলাচ্ছে, কখনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন, কখনো সংস্কার, আবার কখনো সংবিধান পরিবর্তনের দাবি তুলছে। নির্বাচনের আগে তারা পিআর পদ্ধতি চেয়েছিল। আমেরিকা, ইংল্যান্ড বা আমাদের পাশের গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও এই ব্যবস্থা নেই। তারা বলছিল পিআর না দিলে নাকি নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। কিন্তু আমরা তখন স্পষ্ট বলেছি, কোনো বিশেষ অযৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের অজুহাতে নির্বাচন আটকে রাখা যাবে না।
শেখ মুজিবুর রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বাধীনতাকে অরক্ষিত রেখে তিনি আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তারই দল আওয়ামী লীগ দেশ থেকে ২৭ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। তারেক রহমান সম্পর্কে নুরুল ইসলাম বলেন, তিনি টাকা চুরি করতে আসেননি। তিনি একজন সাশ্রয়ী মানুষ, যিনি নিজের অফিসে সেন্ট্রাল এসি চালান না এবং রাত ৩টায় ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়। তারেক রহমান কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের প্রচলন করেছেন এবং প্রস্তাব রেখেছেন যে, দুবারের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবে না।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর আইন শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটান জিয়াউর রহমান। পৃথিবীর একমাত্র সামরিক শাসক যিনি মার্শাল ল জারি করে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেন। সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা দেন। যার ফলে বর্তমান সময়ে এত মিডিয়া চালু রয়েছে। বিনা বাধায় মানুষ এখন তারেক রহমানের ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন আকতে পারে। এবং প্রধানমন্ত্রী নিজ সমালোচকদের প্রশংসাও করেন।
তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয়বার দেশে অন্ধকার নেমে এলে দায়িত্ব নেন বেগম খালেদা জিয়া। মানুষের ভাগ্য বদলাতে থাকে। দেশের উন্নয়ন হয়। ‘বেগম জিয়ার আমলে দেশের মানুষ কেন ভালো থাকল, কেন দেশের উন্নতি হলো? শুধু এসব কারণে আমরা ১৭ বছর অত্যাচার নিপীড়ন সহ্য করেছি। বহু মানুষ গণতন্ত্রের জন্য জীবন দিয়েছে।
তারেক রহমানের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক রহমান ‘জুলাই সনদ’-এর পক্ষে এবং এর প্রতিটি বিষয় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। নির্বাচনে জয়লাভ করে বিরোধীদলীয় নেতার বাসায় গিয়ে দেখা করার নজিরও তিনি স্থাপন করেছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, একুশে পদকপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুকুমার বড়ুয়া ও অনুষ্ঠানের সভাপতি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও শিল্প খাতের বিদ্যমান সংকট নিয়ে শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৪ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত থাকবেন বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
বর্তমানে জ্বালানি সংকট, ঋণের উচ্চ সুদ হার এবং সামষ্টিক অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে এই উচ্চপর্যায়ের সংলাপ আয়োজন করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো ‘বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ’ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবে। নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কাঠামোগত সংলাপের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এটি কাজ করবে।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত এ পরিষদে অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি বস্ত্র, ওষুধ, ফুটওয়্যার, অটোমোবাইল ও ভোগ্যপণ্য খাতের ৯ জন শীর্ষ উদ্যোক্তা সদস্য হিসেবে যুক্ত থাকছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের শুরুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে এই পরিষদ গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। পরে এ বিষয়ে তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি।
কর্মকর্তারা বলছেন, নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময়ের একটি কার্যকর মাধ্যম তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে বাস্তবভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে সময়োপযোগী অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন সহজ হবে।
উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ডিবিএল গ্রুপের এম এ জব্বার, প্যাসিফিক জিন্সের সৈয়দ এম তানভীর, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বে ফুটওয়্যারের জিয়াউর রহমান, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের আহসান খান চৌধুরী, ইনসেপ্টা গ্রুপের আব্দুল মুক্তাদির, রানার গ্রুপের হাফিজুর রহমান খান, র্যাংগস গ্রুপের সোহানা রউফ চৌধুরী এবং এসিআই-এর আরিফ দৌলা।
বিডা চেয়ারম্যান আশিক বিন হারুন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ব্যবসায়ী নেতাদের কাছ থেকে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, তারা কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন, তাদের কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন এবং কোন ধরণের নীতিগত পদক্ষেপ নতুন বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত করতে পারে—সেসব বিষয়ে শুনতে চান।’
তিনি আরও জানান, উৎপাদন খাতের তাৎক্ষণিক সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সক্ষমতা ধরে রাখার উপায় খোঁজার বিষয়েও আলোচনা গুরুত্ব পাবে।
বৈঠকে জ্বালানি সংকট, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ হার, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা ও পুঁজিবাজারের অস্থিরতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সমন্বয় নিয়েও আলোচনা হবে।
জ্বালানি সাশ্রয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবেলায় সরকার কৃচ্ছ্রসাধন ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে একগুচ্ছ নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং সন্ধ্যার পর বিপণিবিতান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ ভবন-এ অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে সংসদ ভবনেই বৈঠকটি আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা কাজ করছেন এবং যাতায়াতের সময় সাশ্রয় ও যানজট এড়াতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী কার্যদিবস থেকে সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে, অর্থাৎ অফিস সময় এক ঘণ্টা কমানো হয়েছে।
এছাড়া ব্যাংকের সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত লেনদেন করবে, তবে আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একই সঙ্গে নির্দেশনা অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টার পর দেশের সব বিপণিবিতান ও মার্কেট বন্ধ রাখতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার কারণে ত্রিমুখী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশ। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ডলার সংকটের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতি চাপের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার কর ফাঁকি বন্ধ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নজর দিচ্ছে। পাশাপাশি ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের চেষ্টা করছে। সরকারের লক্ষ্য অর্থনীতিকে উদ্ধার করা এবং একই সাথে নির্বাচনি ইশতেহারে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করা। তবে সরকার টাকা সরকার নতুন করে টাকা ছাপিয়ে বাজার সচল করার পক্ষে নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
জ্বালানি ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বাংলাদেশ তেলশূন্যতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এতে উৎপাদন খরচ ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতি আরও উসকে দিতে পারে।
অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও ডলার সংকট: বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট, যেমন—ডলার সংকট ও টাকার অবমূল্যায়ন, অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়ছে।
রেমিট্যান্স ও রপ্তানিতে ঝুঁকি: মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় সেখানকার প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এবং রপ্তানিবাণিজ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট বলেছেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতির চেয়ে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতির কথা ভাবছে। তবে সরকার নতুন করে টাকা ছাপাতে আগ্রহী নয়। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। উত্তরণের সময়সীমা আরও ৩ বছর পেছানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি চিঠি পাঠাবেন, যা পরবর্তীতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে (জেনারেল অ্যাসেমবলি) যাবে। এই বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনাধীন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেটে রাজস্ব আহরণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাজেটে মূলত নারী উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি জনবান্ধব বাজেট প্রণয়নের কাজ চলছে। আসন্ন বাজেটে রাজস্ব আহরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এবারের বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো- বঞ্চিত মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া।
বিনিয়োগ ও নীতিমালার স্থিতিশীলতা নিয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার নীতিমালার স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিচ্ছে। সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা স্বস্তির সাথে বিনিয়োগ করতে পারেন। এ ছাড়া পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বড় ধরনের ডিরেগুলেশন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা ও বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার বিষয়ে বলেন, বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে এই বঞ্চিত মানুষদের সুরক্ষা দেওয়ার কাজ চলছে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, রপ্তানি খাতে শুধু তৈরি পোশাক বা গার্মেন্টসের ওপর নির্ভরশীল না থেকে খাতটিকে বহুমুখী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতকেও গার্মেন্টসের মতো বন্ডেড ওয়্যারহাউস এবং ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে জাপান ও জার্মানির রাষ্ট্রদূতের সাথে আলোচনা চলছে, বিশেষ করে এই সংকটের সময়ে তাদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
পুঁজিবাজার সম্পর্কে তিনি বলেন, আগে ঘন ঘন নীতিমালা পরিবর্তনের ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল বার্তা যেত। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং আর্থিক ও পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার সিরিয়াস ডিরেগুলেশন বা নিয়মকানুন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বঞ্চিতদের দিয়ে বাজেট শুরু করা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগে অনেক সময় শিল্প বা উৎপাদন খাতের ওপর বেশি জোর দিতে গিয়ে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা বাজেটের সুফল থেকে বাদ পড়ে যেত। এবার সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বঞ্চিত মানুষের পাওনা ও প্রয়োজনীয়তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন শুরু করা হবে। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং আর্থিক ও পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার সিরিয়াস ডিরেগুলেশন বা নিয়মকানুন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকা বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ দেশে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সারাদেশের সব দোকান, বাণিজ্যবিতান ও শপিং মল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) থেকেই সব শপিং মল ও দোকানে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে দোকান মালিক সমিতি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির যৌথ সভায় জ্বালানি–সংকটের কারণে দেশের সব দোকান, বাণিজ্যবিতান এবং শপিং মল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এতে বলা হয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারকে সহযোগিতার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে হোটেল, ফার্মেসি, জরুরি প্রয়োজনীয় সেবার দোকান এবং কাঁচাবাজার এর আওতাবহির্ভূত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান মাহমুদ বলেন, বৃহস্পতিবারই (২ এপ্রিল) এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে এবং অবিলম্বে এটি কার্যকর হবে। তবে হয়তো কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখনও এ বিষয়ে অবগত নয়। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) থেকে প্রায় সব শপিং মল ও দোকানে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে।
হরমুজ প্রণালির জটিলতা এড়াতে বাংলাদেশ এবার বিকল্প পথে সৌদি আরব থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি করছে। লোহিত সাগরের কাছাকাছি অবস্থিত সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে এই তেল লোহিত সাগর হয়ে সরাসরি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আনা হবে। তেলবাহী ট্যাংকারটি আগামী ২০ এপ্রিল লোড করার কথা রয়েছে।
এদিকে, বর্তমানে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের একটি জাহাজে থাকা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছে। জাহাজটি বর্তমানে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করলেও ইরানের বিশেষ ছাড়পত্র না পাওয়ায় এটি বাংলাদেশে আসতে পারছে না। যদিও ইরান সম্প্রতি বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, তবে এই তেলের জাহাজটি সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) এর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২০ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন তেল জাহাজে লোড করা হবে। আরও ১ লাখ টন তেল নিয়ে হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের জাহাজ। মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দুই জাহাজ মিলিয়ে মোট ২ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পরে এসব তেল রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করে বাজারজাত করা হবে। এতে চলমান সংকট অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করছে বিএসসি।
ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্র জানায়, পরিশোধনের পর এই ২ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হবে। এর মধ্যে রয়েছে ৫২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৩২ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল, ১৬ হাজার মেট্রিক টন অকটেন, ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল এবং ৪২ হাজার মেট্রিক টন কেরোসিন।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, জটিলতা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চলছে। অনুমতি মিললেই ‘এমটি নরডিক পলুকস’ জাহাজটি সরাসরি চট্টগ্রামে পৌঁছাবে।
তিনি জানান, হরমুজ প্রণালির এই জটিলতা এড়াতে এবার ভিন্ন কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন করে কেনা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল লোহিত সাগরের তীরবর্তী সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই বন্দরটি হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় তেল পরিবহনে সামরিক বা রাজনৈতিক বাধার আশঙ্কা কম।
বিএসসি সূত্র জানায়, চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত ক্রুড অয়েল, এলপিজি, এলএনজি সহ বিভিন্ন জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে অন্তত ৩৩টি জাহাজ এসেছে।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালকে সভাপতি করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের লাইব্রেরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন—আশরাফ উদ্দিন নিজান, ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মীর আহমাদ বিন কাসেম, সাঈদ আল নোমান, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, মো. নাজিবুর রহমান, আখতার হোসেন।
আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে সিনিয়র সহকারী সচিব রুম্পা সিকদারকে শাস্তি দিয়েছে সরকার। শাস্তি হিসেবে তার বেতন ২ বছর বাড়বে না। রুম্পা সিকদার নলছিটির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থাকার সময় এ অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বুধবার তাকে শাস্তি দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রুম্পা সিকদার ২০১৯ সালের ৮ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরের তৃতীয় পর্যায়ে ৩০২টি ঘর নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ পান। এর মধ্যে মাটিভাঙ্গা (চর ষাটপাকিয়া) এলাকায় ১২৮টি ঘর নির্মাণের কথা ছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও মো. নজরুল ইসলামের সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ওই ১২৮টি ঘরের মধ্যে ৫৫টি ঘর নির্মাণই করা হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজন কৃষ্ণ খরাতীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ঘরগুলো নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।
পরে ঘর প্রতি ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা হারে এবং পরিবহন ব্যয়সহ মোট ১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার তাকে নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী বিজন কৃষ্ণ খরাতী টাকা জমা দেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, রুম্পা সিকদার তার দায়িত্বকালীন অনির্মিত ৫৫টি ঘর নির্মাণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। বরং বিজন কৃষ্ণ খরাতীর প্রস্তাবে পুরো অর্থের চেকে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া ‘গৃহ প্রদান নীতিমালা, ২০২০’ অনুযায়ী ঘর নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করতেও ব্যর্থ হন, যা দায়িত্বে চরম অবহেলা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
এ ঘটনায় ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। অভিযোগের জবাব দাখিলের পর গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ব্যক্তিগত শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও তার বক্তব্য সন্তোষজনক হয়নি। পরে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রুম্পা সিকদার ও বিজন কৃষ্ণ খরাতীর যৌথ স্বাক্ষরে ঘর নির্মাণের টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। কিন্তু ৫৫টি ঘর নির্মাণ না হলেও নলছিটি থেকে বদলির সময় তিনি এ অর্থের কোনো বিবরণ দাপ্তরিক নথিতে লিপিবদ্ধ করেননি। একজন ইউএনও হিসেবে কত টাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং তা কী উদ্দেশে ব্যবহার হয়েছে, তার যথাযথ নথিপত্র সংরক্ষণ করা তার দায়িত্ব ছিল।
তদন্তে তার প্রশাসনিক দক্ষতার অভাব ও দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, সবশেষে অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সরকার মনে করে, তার বিরুদ্ধে আনা ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে ২ বছরের জন্য ‘বেতন বৃদ্ধি স্থগিত’ করার লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরীক্ষার পাশাপাশি বিসিএসসহ সব ধরনের নিয়োগ পরীক্ষাকেও এখন থেকে পাবলিক পরীক্ষা বলা হবে। পরীক্ষাসংক্রান্ত কাগজপত্রে ঘষামাজা অথবা টেম্পারিংয়ের পাশাপাশি যেকোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস (মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ, ব্লুটুথ, হেডফোন ইত্যাদি) ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অন্তর্ভুক্ত করে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সংশোধিত খসড়ায় যেকোনো পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে ঘষামাজা ও জালিয়াতি করলে এক কোটি টাকা জরিমানা ও ১০ বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে নিষিদ্ধ ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস বহন বা ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়ায় ‘রিকগনাইজড অথরিটি’ বা ‘স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ’ নামে নতুন ধারণা যুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়, বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থা-এর অন্তর্ভুক্ত হবে। পরীক্ষার ফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং বা অবৈধভাবে পরিবর্তন করার বিষয়টিকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ নামে নতুন অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধ করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
আর পরীক্ষাকেন্দ্রে নিষিদ্ধ ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস বহন বা ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
সংগঠিতভাবে পরীক্ষা জালিয়াতি বা চক্র গঠন করলে কঠোর শাস্তি এবং অপরাধীর অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিধানও রয়েছে।
প্রস্তাবিত খসড়ার সারসংক্ষেপে বলা হয়, দেশে পাবলিক পরীক্ষায় নকল, প্রশ্নফাঁস, জাল সনদ তৈরি এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রায় ৪৫ বছর আগে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ প্রণীত হয়। তবে বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যমান আইনের বিভিন্ন ধারা সময়োপযোগী নয়। এ ছাড়া বিদ্যমান আইনে ‘ইউনিভার্সিটি বোর্ড’ পরিচালিত পরীক্ষাকে পাবলিক পরীক্ষা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এতে বিসিএস পরীক্ষাসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত পরীক্ষা আইনের আওতার বাইরে থেকে যায়।
সারসংক্ষেপে আরো বলা হয়, আগামী ২১ এপ্রিল হতে দেশব্যাপী মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাবলিক পরীক্ষার সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং ডিজিটাল পদ্ধতি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধ এবং এর দণ্ড আইনের আওতায় আনার উদ্দেশে বিদ্যমান আইনের সংশোধন জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন। এ জন্য বিদ্যমান আইনটি সংশোধনের উদ্দেশে খসড়া আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে আন্ত মন্ত্রণালয় সভা হয়েছে।
এ ছাড়া জনমত যাচাইয়ের জন্য খসড়া আইনটি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটেও সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আইনের খসড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মতামত দানসংক্রান্ত আন্ত মন্ত্রণালয় কমিটিতে প্রস্তাবিত খসড়া উপস্থাপন করা হয়নি।
দেশে হঠাৎই বাড়ছে হামের সংক্রমণ। ফলে জনমনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা না দেওয়ার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। টিকা না দেওয়ার পেছনে রয়েছে টিকার স্বল্পতা, বিশেষ ক্যাম্পেইন না হওয়া ও টিকাকেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে অনীহা। এদিকে, হামে আক্রান্ত হয়ে ৪৭ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। একই সঙ্গে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত দেশের সব স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনাও চাওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী লুৎেফে জাহান পূর্ণিমা এ রিট করেন। রিটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করে আদালতের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। যে প্রতিবেদনে মৃত্যুর সংখ্যা, সংক্রমণের পরিমাণ, টিকাদানের হার, টিকার প্রাপ্যতা, গৃহীত পদক্ষেপসমূহ উল্লেখ থাকবে। পাশাপাশি টিকাদান কাভারেজ নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা, টিকার ঘাটতি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় বিলম্বের কারণ নির্ধারণের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত পরিচালনা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়।
এছাড়াও টিকাদানে কেন সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি তার ব্যাখ্যা এবং সেই তদন্তের ফলাফল আদালতের সামনে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনে আরও বলা হয়, সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা, টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত না করা, স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা ও জরুরি সাড়া প্রদানে ঘাটতি—এসবই সংবিধানের ২৭, ৩১ এবং ৩২ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। বিবাদীরা যেন শিগগিরই দেশব্যাপী একটি জরুরি হাম টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করে এবং টিকা, সিরিঞ্জ ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সরবরাহ পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে নিশ্চিত করে সে বিষেয়েও আদেশ চাওয়া হয়।
রিটে চলমান প্রাদুর্ভাব থাকা সত্ত্বেও স্কুলে সংস্পর্শ নিয়ন্ত্রণসহ তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা জননিরাপত্তার প্রতি বেপরোয়া অবহেলা এবং জীবনের জন্য আসন্ন ঝুঁকি সৃষ্টি করে উল্লেখ করে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
হাম কী, কীভাবে ছড়ায়: মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবু সাঈদ শিমুল বলেন, হাম মারাত্মক ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত একটি রোগ, যা মূলত ‘মিজেলস’ ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। রোগটি বায়ুবাহিত, যা শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমিত কারো সর্দি, হাঁচি, কাশি, কথা বলা বা শ্বাস নেওয়ার সময় হামের জীবাণু বা ভাইরাসযুক্ত কণা বাতাসে ছড়ায় এবং অন্যদের সংক্রমিত করে।
সাধারণত মিজেলস ভাইরাস শরীরে ঢোকার ১০ থেকে ১৪ দিন পর লক্ষণ প্রকাশ পায়। র্যাশ বের হওয়ার ৪ দিন আগে থেকে পরবর্তী ৪ থেকে ৫ দিন পর পর্যন্ত ভাইরাস ছড়াতে পারে। এ ছাড়া আক্রান্তের হাঁচি, কাশি, শ্বাস নেওয়া ও কথা বলার মাধ্যমে ছড়ানো জীবাণু বাতাসে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
কোন বয়সীরা আক্রান্ত হয়: যেকোনো বয়সেই হাম হতে পারে। তবে ৫ বছর বয়সের নিচে শিশু এবং ২০ বছরের বেশি যাদের বয়স তাদের বেশি হয়।
লক্ষণ: মিজেলস ভাইরাস সংক্রমণে জ্বর হয়। জ্বর ১০০ থেকে ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। এর সঙ্গে খুব ছোট ছোট র্যাশ দেখা দেয় মুখে, কানের পেছন থেকে, গলা ও বুকের দিকে। নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দেয় এবং কাশি হয়।
হাম হলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে অন্যান্য জটিলতা তৈরি হয়। এই রোগ হলে শিশু নিউমোনিয়া, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়, কানে সংক্রমণ, অপুষ্টি দেখা দেয়। অর্থাৎ হামের পাশাপাশি এসব রোগের লক্ষণও প্রকাশ পায়, যা শিশুর জন্য জটিল পরিস্থিতির কারণ হয়ে হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এসময় হামের রোগী বাড়ছে কেন: ডা. আবু সাঈদ শিমুল বলেন, টিকা না দেওয়ার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। টিকা না দেওয়ার পেছনে রয়েছে টিকার স্বল্পতা, বিশেষ ক্যাম্পেইন না হওয়া ও টিকাকেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে অনীহা।
দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৫ বছর বয়সি শিশুদের দুই বার এমএমআর, এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়। শিশুর ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয় ১৫ মাস বয়সে।
শিশুর ৯ মাস বয়সে টিকা দেওয়ার কথা অনেক অভিভাবকই ভুলে যান। শিশুর জ্বর, সর্দি-কাশি বা অসুস্থতা থাকলে টিকা দেওয়া যায় না। সে কারণেও অনেক সময় দেরি হয়। আবার অনেকে ৯ মাস বয়সের টিকা শিশুকে দিলেও ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কথা ভুলে যান। যে কারণে শিশু হামে আক্রান্ত হয়। এ ছাড়া গত একবছরে দেশের কিছু কিছু জায়গায় টিকার অপ্রতুলতা থাকার কারণেও অনেক শিশু টিকাবঞ্চিত হয়েছে।
করণীয়: হাম আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে ঘরে অবস্থান করতে হবে। হাম যেহেতু ভাইরাসজনিত রোগ, তা নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে, জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল ও সর্দির জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ দিতে হবে। শিশুকে অন্যদের কাছ থেকে আলাদা রাখতে হবে। লোক সমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। হাম হলে শিশুকে স্কুলে পাঠানো যাবে না। যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, বারবার বমি হয়, শিশু যদি নেতিয়ে পড়ে, জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি থাকে—তাহলে দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বিতরণব্যবস্থার আধুনিকায়নে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। বর্তমানে দেশে বিভিন্ন বিতরণ সংস্থার অধীনে মোট ১ হাজার ৮৩৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র সচল রয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ২০৩১ সালের মধ্যে এই সক্ষমতা আরো ৬ হাজার ২৫৫ এমভিএ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ফেনী-২ আসনের এমপি জয়নাল আবেদিনের লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এ তথ্য তুলে ধরেন।
এছাড়া চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী জানান, ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে সম্পাদিত আলোচিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য ও অসম শর্তের তথ্য সামনে আসায় এখন আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত অথবা দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিটি পুনর্বিবেচনার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী সংসদকে জানান, ২০১৭ সালে ভারতের আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিটেডের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের সমন্বয়ে গঠিত ওই কমিটি চুক্তিটির প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছে।
কমিটির পর্যালোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সম্পাদিত এই চুক্তিতে বিদ্যুতের দাম তৎকালীন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি ধরা হয়েছে। পর্যালোচনার প্রয়োজনে কমিটি আন্তর্দেশীয় চুক্তি বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতও গ্রহণ করেছে।
জাতীয় কমিটিকে উদ্ধৃত করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, অস্বাভাবিক শর্ত ও উচ্চমূল্যের কারণে এই চুক্তিটি এখন ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সরকার এখন এই সংকট সমাধানে দুটি পথ বিবেচনা করছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে চুক্তির বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে দ্বারস্থ হওয়া। দ্বিতীয়ত, আদানি পাওয়ারের সাথে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির শর্তসমূহ সংশোধন ও বিদ্যুতের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া।
জ্বালানি মন্ত্রী আরও জানান, জাতীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের স্বার্থ রক্ষায় যা যা প্রয়োজন, সরকার সেই কার্যকর পদক্ষেপই গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে করা ২৫ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে শুরু থেকেই এই চুক্তির স্বচ্ছতা ও উচ্চমূল্য নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক ছিল।
দেশজুড়ে চলছে অবৈধ জ্বালানি তেল মজুত ও চুরির মহোৎসব। মধ্যপ্রাচ্য যুধের কারণে সরকার তেল ব্যবহারে ভোক্তাদের সাশ্রয়ী হতে আহ্বান জানানোর পর থেকেই গত এক মাসে বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ আকারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত। খোদ রাজধানীর থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় পেট্রোল পাম্পের জ্বালানি কিনে চড়া দামে খোলা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। কেউ কেউ বেশি মূল্য পাওয়ার আশায় অবৈধভাবে বাসাবাড়ি, গ্যারেজ এবং গুদামে তেল সংরক্ষণ করছেন। এই অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে সারা দেশে অভিযান চালাচ্ছে সরকার। ৩ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত ৬৪ জেলায় মোট ৪ হাজার ৮২৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য উপস্থাপন করেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র (যুগ্মসচিব) মনির হোসেন চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত বুধবার ৩৮১টি অভিযান চালানো হয়। মামলা হয় ১৬৯টি। মোট ৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২৫ হাজার ১৩২ লিটার ডিজেল, ১০ লিটার অকটেন ও ৩৯৫ লিটার পেট্রল জব্দ করা হয়েছে এসব অভিযানে।
জ্বালানি বিভাগ বলছে, এখন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৯টি মামলা হয়েছে। জরিমানা আদায় হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৪৩৫ টাকা। কারাদণ্ড পেয়েছেন ২৪ জন। এ পর্যন্ত মোট ডিজেল উদ্ধার হয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৭৪ লিটার। অকটেন ৩০ হাজার ৯৬০ লিটার। পেট্রল ৭০ হাজার ৫৪ লিটার।
জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুতের হিসাব দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এতে বলা হয়, দেশে বর্তমানে ডিজেলের মজুত আছে ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ টন। অকটেন রয়েছে ৯ হাজার ২১ টন। পেট্রোল ১২ হাজার ১৯৪ টন। জেট ফুয়েল ৪১ হাজার ৮৭৬ টন।
আগারগাঁওয়ে ২৯৬ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ: রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় তেল বিক্রির দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার ১৫৮ লিটার অকটেন ও ১৩৮ লিটার ডিজেলসহ মোট ২৯৬ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রতিষ্ঠানদুটিতে এসব জ্বালানি তেল মজুত করে রাখা হয়েছিল।
র্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠান দুটির মালিক তেল মজুত রাখার কথা স্বীকার করেন। তাদের দোষী সাব্যস্ত করে প্রতিষ্ঠান দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন। তাদের মৌখিকভাবে সতর্ক করেন।
তেলের অবৈধ মজুতদারি রোধে গত ৩০ মার্চ দেশের ৬৪টি জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মোট ৩৯১টি অভিযান পরিচালিত হয়। এ ব্যাপারে ১৯১টি মামলা করা হয়। তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযানে অবৈধভাবে মজুতকৃত ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার তেল জব্দ করা হয়।
এছাড়া গত ৩ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য পরিচালিত হয় ৩ হাজার ৫৫৯টি অভিযান। এতে ১ হাজার ২৪৪টি মামলা করা হয়। ৮৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। ১৯ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৫ লিটার অবৈধভাবে মজুত জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী জানান, উল্লিখিত পরিসংখ্যানে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ জ্বালানি মজুতের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, যারা অবৈধ মজুতদারির তথ্য দিচ্ছে, তাদের ১ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, সরকার যদি পাম্পগুলোতে যথাযথভাবে তেল সরবরাহ করেই থাকে তাহলে তো কোনোরকম তেল সংকট হওয়ার কথা না। তাহলে পাম্পগুলোতে তেল নিয়ে কোনো কারসাজি হচ্ছে কি না এবং তেলের সরবরাহরে মধ্যে কোনো সমস্যা আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো কোনো চিঠি পাননি বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, এমন চিঠি আদালত অবমাননাকর। এ রকম চিঠি দেওয়ার আইনগত কোনো সুযোগ নেই, এটা ভিত্তিহীন। বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমাদের কাছে এ রকম কোনো চিঠি আসেনি। গণমাধ্যম থেকে আমরা জানতে পেরেছি, এ রকম একটা চিঠি দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে যখন অনেক শক্তিশালী মানুষের বিচার চলছে, তখন এ রকম কিংসলে ফিংসলে নাম দিয়ে আমাদের সংবাদমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা, আমার মনে হয় এটা ভিত্তিহীন বিষয়।’
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এসব করা হচ্ছে। আমরা এগুলো আমলে নিচ্ছি না। আমরা এসব নিয়ে উদ্বিগ্ন নই। ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক গতিতে চলবে। আমরা যারা প্রসিকিউশনে কাজ করছি, এগুলো নিয়ে কথা বলা বা চিন্তা করার সময় নেই।’ তবে ওই ল ফার্মের কোনো অস্তিত্ব বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া গেলে, কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার অস্তিত্ব পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
জানা যায়, শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে গত ৩০ মার্চ ই-মেইলে ট্রাইব্যুনালে চিঠি পাঠায় লন্ডনের কিংসলে ন্যাপলি এলএলপি নামের একটি প্রতিষ্ঠান।