ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে তরুণদের এগিয়ে আসার পাশাপাশি সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে তরুণ অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহ্বান জানান। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশের ১০০ সদস্যের ইয়ুথ ডেলিগেশনের সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, ভারতে ইয়ুথ ডেলিগেশনটির উপস্থিতি সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের স্থায়ী চেতনা প্রদর্শন করে যা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে সংজ্ঞায়িত করে।
বাংলাদেশের ১০০ তরুণ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত সফরে রয়েছেন। তারা আগামী ৪ মার্চ ঢাকায় ফিরবেন। বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেলিগেশন প্রোগ্রাম ২০১২ সালে হাইকমিশন থেকে চালু করা হয়েছিল। এই বছর প্রোগ্রামটির নবমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ যুব প্রতিনিধিদলে তরুণ পেশাদার সাংবাদিক, ক্রীড়াবিদ, শিল্পী, ডাক্তার এবং প্রকৌশলীসহ অন্যান্যরা অংশ নিয়েছেন। ২০১২ সাল থেকে এই ইয়ুৃথ ডেলিগেশনে দেশের সম্ভাবনাময় তরুণরা এতে অংশ নিয়ে আসছে। ভারতের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও নিদর্শন সমূহ বাংলাদেশের তরুণদের দেখিয়ে থাকে। যাতে করে আগামীর এই সম্ভাবনাময় তরুণরা ভারতের সম্পর্কে একটা ইতিবাচক দিক পোষণের পাশিাপাশি পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপনে ভূমিক রাখে।
বাস-মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। বুধবার মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সহকারী সচিব জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাসের ভাড়া যাত্রীপ্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ভাড়া যাত্রীপ্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন জেলাগুলোর—নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ ও ঢাকা—অভ্যন্তরে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ভাড়া যাত্রীপ্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৬০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া যথাক্রমে ১০ টাকা ও ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য বিআরটিএ অনুমোদিত আসনসংখ্যা কমিয়ে বাস বা মিনিবাসের আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে নির্ধারিত ভাড়া আনুপাতিকভাবে পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে রুট পারমিট অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অথবা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির কাছ থেকে আনুপাতিক ভাড়ার হার অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।
তবে নতুন নির্ধারিত ভাড়ার হার গ্যাসচালিত বাস বা মিনিবাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এ ভাড়ার হার প্রতিটি বাস ও মিনিবাসের দৃশ্যমান স্থানে আবশ্যিকভাবে প্রদর্শন করতে হবে।
জনস্বার্থে নির্ধারিত এ ভাড়ার হার গত মঙ্গলবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম টানা ছয় সেশন কমে দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৪৭ ডলারে নেমে আসে। আগের দিনও ব্রেন্ট ১০০ ডলারের নিচে ছিল। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক সমাধানের প্রত্যাশাকে দাম কমার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে সাম্প্রতিক স্বস্তির মধ্যেও বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিতে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। সরবরাহের ঝুঁকি কমাতে একদিকে অতিরিক্ত জ্বালানি আমদানি করছে সরকার, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর অপরিশোধিত তেলের উৎসের বাইরে নতুন বাজার খুঁজছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিদেশি কোম্পানির কাছ থেকে সরাসরি জ্বালানি কেনার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে।
চীন-ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬.৯৫ লাখ টন: সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর—এই চার মাসে অতিরিক্ত ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে গ্যাস অয়েল ও জেট ফুয়েল রয়েছে। মূল বরাদ্দের তুলনায় অতিরিক্ত এই আমদানি বছরের শেষ চার মাসে সরবরাহের নিরাপত্তা ও মজুত বাড়ানোর লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী সময়ে ১৬ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটি প্রায় ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এই অতিরিক্ত পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির অনুমোদন দেয়। জ্বালানি আসবে চীনের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি ইউনিপেক ও পেট্রোচায়না এবং ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বিএসপি থেকে।
তবে প্রকাশিত সরকারি সিদ্ধান্তে ৬ লাখ ৯৫ হাজার টনের পুরো পরিমাণকে দেশভিত্তিক বা কোম্পানিভিত্তিক আলাদা করে দেখানো হয়নি। ফলে চীন থেকে ঠিক কত টন এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে কত টন আসছে—এ তথ্য নিশ্চিতভাবে আলাদা করে উল্লেখ করা যাচ্ছে না।
৫০:৫০ কাঠামোতে পরিবর্তন: বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে ক্রয়পদ্ধতিতে। সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর সময়ের জন্য পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতে সরকারি পর্যায়ে সরাসরি ক্রয় (G2G) এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের ৫০:৫০ অনুপাত শিথিল করা হয়েছে। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদেশি রাষ্ট্রীয় কোম্পানি থেকে সরাসরি বেশি জ্বালানি কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে আন্তর্জাতিক দরপত্রে কয়েকটি কোম্পানির প্রস্তাবও তুলনামূলক বেশি দামের কারণে আটকে যায়। সেপ্টেম্বরে ট্রাফিগুরা ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টন ডিজেল এবং ৫০ হাজার টন জেট এ-১ সরবরাহের প্রস্তাব দেয়। ভিটল এশিয়া ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং ৪০ হাজার টন জেট এ-১ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। দুটি প্রস্তাবের মূল্য ছিল যথাক্রমে প্রায় ৪ হাজার ৮০৩ কোটি ও ৪ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা।
এর আগে আরও কয়েকটি প্যাকেজের প্রস্তাবও অনুমোদন না দিয়ে কম প্রিমিয়াম ও ভালো দামে পুনরায় দরকষাকষির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট পাঁচটি প্যাকেজে প্রায় ৫ লাখ ৯৫ হাজার থেকে ৭ লাখ ৫ হাজার টন ডিজেল, ৯০ হাজার টন জেট ফুয়েল এবং ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ টন ফার্নেস অয়েল ছিল।
আমদানির সময়ও কমেছে: সরবরাহের ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু উৎস বা ক্রয়পদ্ধতি নয়, আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়ও কমানো হয়েছে। জুলাইয়ে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রস্তুতি ও জমা দেওয়ার সময় ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ২১ দিন করার নীতিগত অনুমোদন দেয়। দ্রুত দরপত্র শেষ করে সরবরাহ নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য।
অর্থাৎ, আগের তুলনায় বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির কৌশলে তিনটি পরিবর্তন স্পষ্ট—বিকল্প সরবরাহকারী, সরাসরি G2G ক্রয় এবং দ্রুত ক্রয়প্রক্রিয়া।
অপরিশোধিত তেলে মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প খুঁজছে বিপিসি: সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের জায়গা অপরিশোধিত তেল। বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারি সৌদি আরবের অ্যারাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুরবান ক্রুড প্রক্রিয়াজাত করে। ফলে অপরিশোধিত তেলের উৎস পরিশোধিত জ্বালানির তুলনায় অনেক বেশি কেন্দ্রীভূত।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও বাব-এল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার পর বিপিসি বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করে। ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরীক্ষার পর নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া, নরওয়ে ও আলজেরিয়ার অপরিশোধিত তেল বিদ্যমান পরিশোধন ব্যবস্থায় ব্যবহারযোগ্য বলে শনাক্ত হয়েছে। বিপিসি এসব দেশের সম্ভাব্য সরবরাহকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।
এখানে অবশ্য একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—এখন পর্যন্ত এসব দেশ থেকে নিয়মিত বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি শুরু হয়েছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং এগুলোকে সম্ভাব্য বিকল্প উৎস হিসেবে যাচাই ও আলোচনার পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনতে বাড়ছে পরিবহন ব্যয়: বিকল্প উৎস খোঁজার পেছনে শুধু আন্তর্জাতিক বাজারদর নয়, সরবরাহপথের নিরাপত্তাও বড় কারণ। সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে আসা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ‘এমটি নিনেমিয়া’ প্রায় ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে বাব-এল-মান্দেব এড়িয়ে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে চট্টগ্রামে আসে। এতে সময় লাগে প্রায় ৫০ দিন এবং অতিরিক্ত ব্যয় হয় ৬৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। স্বাভাবিক পথে সময় লাগত প্রায় ১৩-১৫ দিন।
এই অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের বার্ষিক পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদা প্রায় ৭২ লাখ টন, আর ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে।
পরিশোধিত জ্বালানিতে উৎস আগে থেকেই বৈচিত্র্যময়: বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিতে পরিবর্তনটি পুরোপুরি নতুন নয়। পরিশোধিত জ্বালানির ক্ষেত্রে দেশটি ইতিমধ্যে চীন, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত ও ওমানসহ বিভিন্ন উৎস ব্যবহার করছে। জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৬ সময়ের জন্য ছয়টি রাষ্ট্রীয় সরবরাহকারীর কাছ থেকে প্রায় ১৬ হাজার ৮৯ কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির অনুমোদনও দেওয়া হয়েছিল। সরবরাহকারীদের মধ্যে ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের এনক, চীনের পেট্রোচায়না ও ইউনিপেক, ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল, থাইল্যান্ডের ওকিউটি এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি।
অর্থাৎ পরিবর্তনটি মূলত পরিশোধিত জ্বালানিতে নতুন দেশ যুক্ত করার চেয়ে G2G ক্রয়ের পরিমাণ, সরবরাহের গতি ও বিকল্প উৎস ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে যাচ্ছে।
দাম কমলেও দেশের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব নেই: আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্টের দাম ২৩ সেপ্টেম্বর ৯৮ দশমিক ৪৭ ডলারে নেমে গেলেও বাংলাদেশের খুচরা বাজারে এর তাৎক্ষণিক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং ২১ সেপ্টেম্বর থেকে জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ডিজেল ১৩৫, অকটেন ১৬৫, পেট্রোল ১৬০ এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে।
এর কারণ, বাংলাদেশের জ্বালানি মূল্যে শুধু আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম নয়—আমদানি ব্যয়, পরিবহন ও জাহাজভাড়া, পরিশোধিত পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্য এবং আগের উচ্চমূল্যে করা ক্রয়ের প্রভাবও রয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে দাম কমার পরও স্থানীয় বাজারে তার প্রভাব পড়তে সময় লাগতে পারে।
সামনে বাংলাদেশের কৌশল: সব মিলিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির বর্তমান কৌশলকে তিনটি স্তরে দেখা যায়—মজুত বাড়ানো, সরবরাহের উৎস ও পথ বৈচিত্র্য করা এবং সরাসরি সরকারি পর্যায়ে দ্রুত জ্বালানি কেনা। এর সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাইরে নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া, নরওয়ে ও আলজেরিয়ার মতো উৎস যাচাই করা হচ্ছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এখন ১০০ ডলারের নিচে নেমে এলেও বাজারের গতিপথ এখনো ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে শুধু দাম কমানোর প্রতিক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং সরবরাহ ঝুঁকি ও আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও দেখা যায়।
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠকে তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দেন।
বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সেখানে রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ চিহ্নিত করা, আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধরে রাখা এবং মিয়ানমারের ওপর প্রত্যাবাসনের জন্য চাপ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অংশ নিচ্ছেন এবং তিনি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেবেন।
এর আগে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালেহর সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। সেখানে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জন্য বড় মানবিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। তাই শুধু মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সংকটের মূল কারণ মোকাবিলা এবং মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। রোহিঙ্গা সংকটের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা করছেন তিনি।
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ ২২ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে একাধিক সংঘাতসহ নানা পরিবর্তনের পাশাপাশি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে এখনও বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে অর্থনীতি। সেইসঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে মূল্যস্ফীতি। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে এলে মানুষের ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ বাড়তে পারে। এতে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিও কিছুটা গতি পাবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সর্বশেষ ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক সেপ্টেম্বর ২০২৬’ বা এশিয়ার উন্নয়নবিষয়ক পূর্বাভাসে এমনই তথ্য তুলে ধরেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
এডিবির হিসাবে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২৬–২৭ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি আরও বেড়ে ৪ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। তবে, এই সময়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ শতাংশ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কিছুটা মন্থর হয়ে পড়েছিল, যদিও এর প্রভাব সীমিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে এসেছে। এর ফলে মানুষের ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ বাড়তে পারে।
তবে, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে এখনও ঝুঁকিমুক্ত পর্যায়ে নেই দেশের অর্থনীতি। এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। তবে এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াটি এখনো বাহ্যিক অভিঘাত ও অভ্যন্তরীণ সীমাবদ্ধতার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাত, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের ক্ষেত্রে সংস্কার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিস্থাপক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে এই সংস্কারগুলো অপরিহার্য।
এডিবি বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ১০ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি আনুমানিক ৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা বেড়ে ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
সংস্থাটির মতে, জ্বালানিসংকট, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এছাড়া, এল নিনোর প্রভাবে খাদ্যের দামও বাড়তে পারে। মুদ্রানীতি ধীরে ধীরে শিথিল করা হলে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে রপ্তানির তুলনায় আমদানির প্রবৃদ্ধি বেশি হওয়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আনুমানিক ০ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপির ০ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা সত্ত্বেও রেমিট্যান্স প্রবাহ স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। জোরালো রেমিট্যান্স ও পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাহ্যিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে; তবে এই স্থিতিশীলতা ধরে রাখা নির্ভর করবে পর্যাপ্ত আর্থিক প্রবাহ, বিনিময় হারের নমনীয়তা এবং বিচক্ষণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর।
এডিবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সেবা ও কৃষিখাত প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে উচ্চ ঋণ গ্রহণের ব্যয়, ঋণ প্রাপ্তির সীমাবদ্ধতা, জ্বালানি সংকট, দুর্বল বৈদেশিক চাহিদা এবং অন্যান্য কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের কারণে শিল্প ও বিনিয়োগ খাত সীমিত পরিসরে থাকতে পারে। রেমিট্যান্স-নির্ভর বেসরকারি ভোগ প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও উচ্চ মূল্যস্ফীতি পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিতে থাকবে।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বেশ কিছু ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছে এডিবি। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়া, তেলের দাম বেড়ে যাওয়া এবং বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলে আরও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা।
এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন বিধিনিষেধ, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোতে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া, ডলারের বিপরীতে টাকার ওপর চাপ অব্যাহত থাকা এবং ব্যাংক খাতে নতুন সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
রাজস্ব সংস্কারে বিলম্ব, উন্নয়ন ব্যয় প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়া এবং জলবায়ুজনিত দুর্যোগও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এসব কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এডিবি।
মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা এবং মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে গতি আনতে বছরব্যাপী ২৩টি কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। আগামী নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জাতীয় থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কর্মসূচিতে তরুণ-কিশোর-কিশোরী, নবদম্পতি ও পুরুষদের পাশাপাশি গর্ভবতী ও প্রসূতি মা, বস্তিবাসী, ভাসমান মানুষ এবং বিভিন্ন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাল্যবিয়ে, অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু এবং কিশোর-কিশোরীদের প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরিও কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে ‘মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা প্রচার-প্রচারণা ও ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সেমিনারে এক বছরের এ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।
কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, হাট ক্যাম্পেইন, র্যালি ও সমন্বয় সভা ছাড়া বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এক বছরে প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নভেম্বর মাসে মহিলা সংসদ সদস্যদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ওরিয়েন্টেশন আয়োজন করা হবে। একই মাসে দেশের ৬৪ জেলা ও ৫০৩ উপজেলায় প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিসেম্বর মাসে ইউনিয়ন পর্যায়ে হাট ক্যাম্পেইন এবং উপজেলা পর্যায়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। পর্যায়ক্রমে জাতীয়, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা ও মা-শিশু স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা হবে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ডা. জিন্নাত রেহানা বলেন, ২০২২ সালে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২ দশমিক ১৫ শতাংশে নেমে এলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একবার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়ার পর আবার তা বেড়ে যাওয়া উদ্বেগের বিষয়।
তিনি বলেন, দুই বছর আগে অধিদপ্তরের যে অপারেশনাল পরিকল্পনা ছিল, সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রচার-প্রচারণা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।
ডা. জিন্নাত রেহানা বলেন, পরিবার পরিকল্পনার পাশাপাশি বাল্যবিয়ে, অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমানো এবং কিশোর-কিশোরীদের প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে অধিদপ্তর।
তিনি আরও বলেন, জনগণের কাছে সঠিক তথ্য ও সেবা পৌঁছে দিতে ডিজিটাল মাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে দুর্গম ও সেবাবঞ্চিত এলাকার মানুষের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় তথ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়া জরুরি।
মহাপরিচালক বলেন, শুধু মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দিলেই হবে না; সেই তথ্যকে মানুষের বোধগম্য করে উপস্থাপন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম, গবেষক, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী ধারণা কাজে লাগানো হবে।
নতুন কর্মপরিকল্পনায় নবদম্পতি ও পুরুষদের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কিশোর-কিশোরীদের প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, শহর ও গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি বস্তি, ভাসমান জনগোষ্ঠী এবং দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে সেবা ও তথ্য পৌঁছে দিতে বিশেষ কৌশল নেওয়া হবে।
মাঠপর্যায়ে প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়বে এবং পরিবার পরিকল্পনা ও মা-শিশু স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের পাঁচটি দলে ভাগ করে গ্রুপ ওয়ার্ক অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন, অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয়, প্রচার কৌশল এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা ও তথ্য পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়।
এসব সুপারিশ পর্যালোচনা করে এক বছরের কর্মপরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী। সভাপতিত্ব করেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানা।
সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) এবং পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম, একই বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. আমিনুল হকসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগ, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রায় ৫০ প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।
নভেম্বর ২০২৬ থেকে অক্টোবর ২০২৭ পর্যন্ত পরিকল্পিত এ ২৩ কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সেবাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কাছে সরকারি সেবা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক সুজম্যান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর আবাসস্থলে উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে জনস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, টিকাদান কর্মসূচি, সাশ্রয়ী ভ্যাকসিন, প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, বৈঠকে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি সম্প্রসারণ, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও তাদের প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষিত এসব স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমন্বিত ‘ডিজিটাল পাবলিক হেলথ কেয়ার সিস্টেম’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েও ফলপ্রসূ মতবিনিময় হয়।
সূত্র: বাসস
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক দাতব্য, জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক করেছেন। বৈঠকে বাংলাদেশে মানবিক সহায়তা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদারের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর ইউএনজিএ সফরের কর্মসূচিতে বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবে রাখা হয়।
বৈঠকে বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান।
ইউএনজিএ অধিবেশনের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বৈশ্বিক মানবিক সংকট, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের মতো বিষয় আলোচনায় আসে। বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আন্তর্জাতিক জনহিতকর ও মানবিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ নিয়েও মতবিনিময় হয়।
দারিদ্র্য হ্রাস, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু সহনশীলতা এবং মানবিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থাগুলোর অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে এ ধরনের বৈঠককে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রাতরাশ বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশ নেন। ‘দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি থেকে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার পথে’ টেকসই সমাধানের আহ্বানকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা এবং মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পায়।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে এর আগে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডির সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়।
নিউইয়র্ক সফরের তৃতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কর্মসূচিতে রয়েছেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত এ বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের মতো বিষয় বাংলাদেশের অবস্থান থেকে গুরুত্ব পাওয়ার কথা রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছে। ইউএনজিএর বিভিন্ন আলোচনায়ও এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তাঁর বক্তব্য। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই হবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণ।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায্য ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও উঠে আসার কথা রয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির অস্তিত্বগত হুমকি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একই দিনে মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি নিয়ে বাংলাদেশের আয়োজিত একটি সাইড ইভেন্টেও তিনি অংশ নেবেন।
ইউএনজিএর সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। এসব আলোচনায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় গুরুত্ব পাবে।
প্রধানমন্ত্রীর এবারের নিউইয়র্ক সফরে মানবিক সংকট, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকও সেই বৃহত্তর কূটনৈতিক ও উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, সংস্থা ও জেলা পর্যায়ে বিদ্যমান সব সরকারি কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় কমিটিগুলোকে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুনর্গঠিত কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে গত ১৮ আগস্ট এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর, সংস্থা ও জেলা পর্যায়ে গঠিত বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সভাপতিত্বে থাকা ৯৮টি কমিটিও পুনর্গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারের কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি রয়েছে। এসব কমিটির অধিকাংশই কয়েক বছর আগে গঠিত। আবার কিছু কমিটির প্রজ্ঞাপন ও কার্যক্রমের তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিদ্যমান সব কমিটি পুনর্গঠন ও হালনাগাদ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠি পাওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পুরোনো অনেক কমিটির সদস্য বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন না। কেউ আত্মগোপনে, কেউ দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। ফলে কোনো কোনো কমিটির সভা আহ্বান করলেও সব সদস্যকে নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও কোথাও অনুপস্থিত সদস্যদের সভায় ডাকলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কাও রয়েছে।
এ কারণে নতুন বাস্তবতায় পুরোনো কমিটিগুলো পুনর্গঠন করে সরকারি কার্যক্রম সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সচিব ও দুজন জেলা প্রশাসক জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন সরকারি কমিটিতে দলটির সমর্থক বা ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের রাখা হয়েছিল। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁদের অনেকে আত্মগোপনে বা দেশের বাইরে চলে গেছেন। ফলে কমিটির কার্যক্রমে তাঁদের অংশগ্রহণ ব্যাহত হচ্ছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠিতে আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার কথা সরাসরি বলা হয়নি। বরং বিদ্যমান কমিটিগুলো পুনর্গঠন, হালনাগাদ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন করে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। আগের সরকারের আমলে বিভিন্ন কমিটিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের পাশাপাশি এমন কিছু সদস্যও রয়েছেন, যারা বর্তমানে সভায় অংশ নিতে পারছেন না। তাঁদের পরিবর্তে কার্যক্রমে সক্রিয় অংশীজনদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সরকারি সূত্রের ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এসব কমিটির অনেকগুলো পুনর্গঠন করা হয়নি। ফলে এখন কমিটিগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
পুনর্গঠিত প্রতিটি কমিটিতে স্থানীয় পর্যায়ের তিনজন গণ্যমান্য ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অন্তত একজন নারী থাকতে হবে।
চিঠি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি বা আহ্বায়ক এই তিনজন সদস্য মনোনয়ন দেবেন। স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব আরও কার্যকর করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থার বিদ্যমান কমিটি পুনর্গঠনের সময় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠির সঙ্গে সংযুক্ত তালিকায় জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে থাকা ৯৮টি কমিটির উল্লেখ রয়েছে। এসব কমিটিও পুনর্গঠন করতে বলা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি, জেলা কৃষি উন্নয়নবিষয়ক কোর কমিটি, জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি, ধান সংগ্রহ ও মনিটরিং কমিটি, ফলদ বৃক্ষরোপণ পক্ষ ও ফল প্রদর্শনী উদ্যাপন কমিটি এবং আম সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ-সংক্রান্ত কমিটি।
এ ছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটি ও ওএমএস ডিলার নিয়োগ-সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতিও জেলা প্রশাসকেরা। জেলা যুব উন্নয়ন কমিটি, যুব সংগঠনকে অনুদান দেওয়ার আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটি, ক্রীড়াবিদদের ভাতা প্রদান-সংক্রান্ত কমিটি এবং জাতীয় যুব পুরস্কার-সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্বও ডিসিদের।
আগের সরকারের সময়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে সরকারি প্রতিনিধিদের বাইরে পাঁচজন সদস্য রাখা হতো। তাঁদের মধ্যে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন সাংবাদিক এবং তিনজন রাজনৈতিক ব্যক্তি থাকতেন। এবারও সমানসংখ্যক প্রতিনিধি রেখে কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একজন জেলা প্রশাসক বলেন, দেশে যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে, তখন বিভিন্ন কমিটিতে তাদের সমর্থকদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রবণতা দেখা যায়। আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকায় অনেক কমিটি দীর্ঘদিন পুনর্গঠন করা হয়নি। ফলে আগের সরকারের সময়ে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের অনেকেই এখনো কমিটিতে রয়েছেন।
সরকারের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, কমিটি পুনর্গঠনে মূলত দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একদিকে দীর্ঘদিন ধরে যেসব কমিটির সভা হচ্ছে না, সেগুলোকে কার্যকর করা; অন্যদিকে যেসব কমিটিতে বর্তমানে কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে, সেগুলোতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, কমিটিগুলো পুনর্গঠন ও হালনাগাদের ফলে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা কমিটিগুলো সক্রিয় হবে এবং সরকারি কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের অংশগ্রহণও বাড়বে।
বাংলাদেশে একটি ফোকাল অফিস স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল হয়রানি কমাতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে মেটার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি এতে যোগ দিতে পারেননি। পরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল মেটার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে।
বৈঠক শেষে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এসব তথ্য জানান।
শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশে মেটার বিপুলসংখ্যক ব্যবহারকারী রয়েছে। এ কারণে ঢাকায় প্রতিষ্ঠানটির একটি ফোকাল পয়েন্ট বা অফিস স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে মেটা আগ্রহ দেখিয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ঢাকায় মেটার উপস্থিতি কীভাবে ও কখন প্রতিষ্ঠা করা হবে, সে বিষয়ে দুই পক্ষের সংশ্লিষ্ট দলগুলো পরবর্তী সময়ে আরও আলোচনা করবে।
সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিপুল। তবে বিভিন্ন ডিজিটাল পরিসংখ্যানে যে ব্যবহারকারীর সংখ্যা পাওয়া যায়, সেগুলো মূলত মেটার বিজ্ঞাপনভিত্তিক হিসাব; এগুলোকে সক্রিয় ব্যবহারকারীর নিশ্চিত সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
বৈঠকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল হয়রানি কমানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা বিবেচনায় কীভাবে অনলাইনে হয়রানি কমানো যায় এবং এ ক্ষেত্রে মেটা কীভাবে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশে ডিজিটাল হয়রানির পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় এ ধরনের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে মেটা আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের ই-কমার্স, অনলাইন ব্যবসা ও বৃহত্তর ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণে মেটার সহযোগিতার বিষয়টি উঠে আসে।
শামা ওবায়েদ জানান, বাংলাদেশ সরকারের বাজেটে ই-কমার্স ও প্রযুক্তি খাতকে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা মেটার প্রতিনিধিদের জানানো হয়েছে। অনলাইন ব্যবসা সম্প্রসারণে সহযোগিতার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আগ্রহ দেখিয়েছে।
বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মেটা। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা, অনলাইন ব্যবসার বিকাশ এবং ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। ভবিষ্যতে এসব ক্ষেত্রে মেটার সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনে বিশ্বব্যাংক, ভুটান, মালদ্বীপসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি মেটার সঙ্গেও বাংলাদেশের ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হলো।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও অর্থপাচারের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাবেক সাত সংসদ সদস্য, তাদের পরিবারের সদস্য, সাবেক দুই মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট ১৮ জনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব মামলায় প্রায় ৭৭ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এসব তথ্য জানান।
মামলার তালিকায় রয়েছেন কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ ও আবদুর রউফ, কুষ্টিয়া-১ আসনের সাবেক এমপি মো. রেজাউল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ-৩ আসনের মো. আবু জাহির, ফেনী-৩ আসনের হাজী রহম উল্লাহ, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি ফরিদা ইয়াসমিন। তাদের কয়েকজনের স্ত্রী, ভাই ও স্বজনের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা হয়েছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, সেলিম আলতাফ জর্জের বিরুদ্ধে ১ কোটি ১ লাখ ৬৪ হাজার ৩ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদ বিবরণীতে ৬৪ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭৮ টাকা কম দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।
আবদুর রউফের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৬৫ লাখ ১০ হাজার ৬০৫ টাকা এবং তার স্ত্রী জান্নাতুন নাহারের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার ২৯২ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক মামলা হয়েছে।
রেজাউল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২ কোটি ৪৬ লাখ ৯২ হাজার ৫৩৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ৩৭ লাখ ২৬ হাজার ৬০০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। তার ভাই বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরীর বিরুদ্ধেও ১ কোটি ৭৯ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৮ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ এবং ৩৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
হবিগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি আবু জাহিরের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৩২ লাখ ৭১ হাজার ৫৫৯ টাকা জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন, ৭ কোটি ২৭ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং ব্যাংক হিসাবে ২২ কোটি ৫৬ লাখ ৩ হাজার ৭৫৬ টাকা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ফেনী-৩ আসনের সাবেক এমপি হাজী রহম উল্লাহর বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫২১ টাকা জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক এমপি নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের বিরুদ্ধে ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬৪২ টাকা এবং তার স্ত্রী চৌধুরী রুবিনা ইয়াছমিন লুবনার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮২ লাখ ৫১ হাজার ৫৮৯ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক মামলা হয়েছে।
নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে ১ কোটি ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫০ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তার স্ত্রী আখতার জাহান বকুলের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ টাকা এবং ছেলে মির্জা মাসরুর কাদের তাশিকের বিরুদ্ধে ৮১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে পৃথক মামলা করা হয়েছে।
যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদারের বিরুদ্ধে ২৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪৫ হাজার ২২১ টাকা এবং তার স্ত্রী শামীমা শারমিনের বিরুদ্ধে ৬ কোটি ৭২ লাখ ৯ হাজার ৪৫৩ টাকা জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক মামলা হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাবেক সম্পাদক ও নিউজটোয়েন্টিফোরের সাবেক সিইও নঈম নিজামের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার ১৩৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ১৯টি ব্যাংক হিসাবে ৩৯ কোটি ৩৯ লাখ ৬১ হাজার ৯১৩ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ১৮০ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ১৭টি ব্যাংক হিসাবে ২১ কোটি ৯ লাখ ৩৪ হাজার ৮১৪ টাকা লেনদেনের অভিযোগে পৃথক মামলা হয়েছে।
এ ছাড়া খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৫১ লাখ ৭৩ হাজার ২০০ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদ বিবরণীতে ৪৯ লাখ ৮৩ হাজার ১২০ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। তার স্ত্রী জাকিয়া মাহাবুবের বিরুদ্ধেও ৭৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৬১ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, মামলাগুলোতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে।
অভিযোগগুলো দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্তের ভিত্তিতে করা হয়েছে; মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
বঙ্গভবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সৌজন্যে সাক্ষাৎ করেন অ্যাটর্নি-জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। সাক্ষাৎকালে অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান।
এ সময় তিনি রাষ্ট্রের স্বার্থ ও আইনগত অধিকার সুরক্ষায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম এবং গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ ও পদক্ষেপ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপতি দেশের সংবিধানের সর্বোচ্চতা ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার পাশাপাশি আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রের আইনগত স্বার্থ সংরক্ষণ, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, জনগণের অধিকার সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা পালনের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
রাষ্ট্রপতি অ্যাটর্নি-জেনারেলকে তার দায়িত্ব পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সড়কপথের পর এবার নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চের ভাড়াও পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের জন্য প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২৩ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের অতিরিক্ত দূরত্বের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে নৌপথে সর্বনিম্ন ভাড়া ৩২ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে লঞ্চমালিকদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানান সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী জানান, জ্বালানির মূল্য ও পরিচালন ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে নৌযান মালিকেরা ১৫ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানালেও সাধারণ যাত্রীদের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে তা ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। ভাড়া সমন্বয়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ভাড়া বাড়ানো কারও জন্যই কাম্য নয়। তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব কোনো না কোনোভাবে পরিবহন খাতে পড়ে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, যাতে যাত্রীদের ওপর কম চাপ পড়ে। লঞ্চমালিকদের বিভিন্ন দাবি থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে ভাড়া বৃদ্ধির পরিমাণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম ১০০ কিলোমিটারে যে হারে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, পরবর্তী ১০০ কিলোমিটারেও নির্ধারিত হারে ভাড়া সমন্বয় হবে। নৌপথে সর্বনিম্ন দূরত্ব ১০ কিলোমিটার ধরে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। তাই সর্বনিম্ন ভাড়া ৩৫ টাকা করা হয়েছে।’
রেলের ভাড়া বাড়ানোর প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেখ রবিউল আলম জানান, ট্রেনের ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং সরকার বিদ্যমান ভাড়াতেই পরিষেবা চালু রাখতে চাইছে। তিনি বলেন, ‘গতবার ডিজেলের দাম বাড়ার সময়ও রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। প্রায় ১০ বছর ধরে রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। এবার জ্বালানির দাম আরও বাড়ায় রেলের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। তারপরও আমরা এখনো ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিইনি। রেলের সংশ্লিষ্টদের বলেছি, সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে।’
সড়কপথে সম্প্রতি কার্যকর হওয়া বাসের নতুন ভাড়ার তদারকি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বাসমালিকেরা নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেবেন না বলে অঙ্গীকার করেছেন। এখন পর্যন্ত যে রিপোর্ট পেয়েছি, তাতে নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট অনুযায়ী ভাড়া আদায় হচ্ছে।’ তবে চার্ট না টাঙানো বা বাড়তি ভাড়া নেওয়ার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। গ্যাসচালিত যানবাহনের বিষয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, ‘সিএনজির দাম বাড়েনি। তাই সিএনজিচালিত যানবাহনের ভাড়া বাড়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমাদের জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মালিক ও যাত্রী উভয় পক্ষের স্বার্থ সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমরা যেন কেউ কাউকে প্রতিপক্ষ না মনে করি। ন্যায্যতার জায়গা থেকে সবার অধিকার বিবেচনা করলে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।’
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মহানগর, আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়িয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সহকারী সচিব জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। জনস্বার্থে জারিকৃত এই নতুন ভাড়ার হার গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে।
প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে চলাচলকারী বড় বাসের ক্ষেত্রে যাত্রীপ্রতি প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সার পরিবর্তে ২ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে দূরপাল্লা ও আন্তঃজেলা রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৪০ পয়সায়। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাভুক্ত জেলাসমূহ—ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জের অভ্যন্তরে চলাচলকারী উভয় যানের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২ টাকা ৪৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৬০ পয়সা করা হয়েছে। পাশাপাশি দুই মহানগরে বাস ও মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া যথাক্রমে ১০ টাকা এবং ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, যাত্রীদের আরামদায়ক যাতায়াতের লক্ষ্যে বিআরটিএ অনুমোদিত আসন সংখ্যা হ্রাস করে ভেতরের কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হলে ভাড়ার হার আনুপাতিক হারে পুনর্নির্ধারণ করতে হবে এবং সে ক্ষেত্রে বিআরটিএ বা যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হবে। তবে এই বর্ধিত ভাড়ার হার গ্যাস বা সিএনজিচালিত যানবাহনের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া প্রতিটি বাস ও মিনিবাসের ভেতরে যাত্রীদের সহজে নজরে পড়ে এমন স্থানে অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।