রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের তিনটি সরকারি হাসপাতালসহ চারটি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার সময় ৩৬ জন দালালকে আটকের কথা জানিয়েছেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত ২-এর চারটি দল পৃথকভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করেন।
আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলা পৃথক অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন অভিযান তদারকি কর্মকর্তা র্যাব-২-এর উপ-অধিনায়ক মেজর নাজমুল্লাহিল ওয়াদুদ। তিনি বলেন, দালালেরা সরকারি হাসপাতাল থেকে তাঁদের কমিশনভিত্তিক ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতালে রোগী ভাগিয়ে নিচ্ছেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব-২-এর ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অভিযান চালান। এ সময় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার সময় ১৭ জন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে ১২, আগারগাঁওয়ের শিশু হাসপাতাল থেকে ৪ ও পঙ্গু হাসপাতাল থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়।
মেজর মোহাম্মদ নাজমুল্লাহেল ওয়াদুদ বলেন, সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। দালালদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। পাশাপাশি ওষুধের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের বিরক্ত করা হচ্ছে। রোগী ও তাদের স্বজনদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারি হাসপাতাল থেকে বের করে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে বেশি বিল করে কমিশন বাণিজ্য করা হচ্ছে। পাশাপাশি সকল ধরনের টেস্ট সরকারি হাসপাতালে হলেও দালাল ও কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে সেসব করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শেরে বাংলা নগর এলাকার শিশু হাসপাতাল, পঙ্গু হাসপাতাল, হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একযোগে অভিযান চালানো হয়।
আর্থিক খাত সংস্কারসহ ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১৫ হাজার ৭১২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে ৫ হাজার ২১১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক বৈঠকে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন একনেকের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘ইন্টিগ্রেটেড হেলথ সিস্টেম রেসপন্স টু ফাইট এগেইনস্ট টিবি, এইডস অ্যান্ড ম্যালেরিয়া’, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন এবং ‘ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণকেন্দ্রের উন্নয়ন, সুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর-ধনিয়া ও মেদুনা এলাকা রক্ষা প্রকল্প রয়েছে।
আরও রয়েছে রংপুর বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ, মাদারীপুর-শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, এসআরবির কারিগরি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, ফেনী জেলার সোনাগাজীতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য জমি অধিগ্রহণ এবং তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্প। এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের সংশোধনও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তার অর্থায়ন কমে যাওয়ায় শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য জাতিসংঘের কার্যক্রমে চাপ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ওপরও। কক্সবাজার ও ভাসানচরে আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার খাদ্য, স্বাস্থ্য, আশ্রয়, পানি, পয়োনিষ্কাশন, শিক্ষা ও সুরক্ষার বড় অংশ আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। ফলে দাতাদের অর্থায়ন আরও কমলে রোহিঙ্গাদের জীবনরক্ষাকারী বিভিন্ন কর্মসূচি সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত সহায়তাও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইউএনএইচসিআরের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ‘প্রটেকশন ইরোডেড: দ্য হিউম্যান কস্ট অব আন্ডারফান্ডিং’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থায়নের ঘাটতির কারণে সংস্থাটিকে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কার্যক্রম সীমিত করতে হচ্ছে। ফলে সুরক্ষা, শিশু সেবা, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র ও নিবন্ধন কার্যক্রমসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে লাখো মানুষ বঞ্চিত হতে পারেন।
অর্থসংকটের মধ্যে সংস্থাটি ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে মানবিক তহবিলের ঘাটতির এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সাড়াদান কর্মসূচিতেও প্রভাব ফেলছে।
ইউএনএইচসিআরের ২০২৬ সালের গ্লোবাল আপিল অনুযায়ী, চলতি বছর সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজন ৮ দশমিক ৫০৫ বিলিয়ন ডলার। এই অর্থ বিশ্বের ১২৮টি দেশ ও অঞ্চলে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ও রাষ্ট্রহীন মানুষের সুরক্ষা, জরুরি সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উদ্যোগে ব্যয় করার কথা। ২০২৬ সালের জন্য সংস্থাটি ১৩ কোটি ৬০ লাখ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ও রাষ্ট্রহীন মানুষের সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েছে।
অর্থায়নের সংকটের কারণে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থাকে সীমিত সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে জরুরি কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকটগুলোর ওপর, যেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ বছরের পর বছর আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকটে অর্থায়নের চাপ সবচেয়ে স্পষ্ট হয়েছে যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায়। ২০২৫ সালের পরিকল্পনায় রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষের জন্য ৯৩৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু অর্থায়নের ঘাটতির কারণে অগ্রাধিকারভিত্তিক জীবনরক্ষাকারী কার্যক্রমে গুরুত্ব দিতে হয়েছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়েই জাতিসংঘ জানিয়েছিল, ওই বছরের পরিকল্পনায় অর্থায়ন ২০ শতাংশেরও নিচে ছিল এবং অর্থের ঘাটতির কারণে মৌলিক সহায়তা ঝুঁকিতে পড়ছিল।
২০২৬ সালে পরিস্থিতি আরও কঠিন। চলতি বছর রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে সহায়তার লক্ষ্যে ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, এটি ২০২৫ সালের আবেদনের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম।
অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের প্রয়োজন কমে যাওয়ায় অর্থের চাহিদা কমেনি; বরং সীমিত তহবিলের বাস্তবতায় সহায়তার পরিসরকে অগ্রাধিকারভিত্তিক ও ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনা হয়েছে।
২০২৬ সালের ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের আবেদনের বড় অংশই জীবনরক্ষাকারী সেবায় বরাদ্দের জন্য। এর মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তায় ২৪৭ দশমিক ৩ মিলিয়ন, আশ্রয় ও ক্যাম্প ব্যবস্থাপনায় ১২৮ মিলিয়ন, পানি, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যবিধিতে ৬১ দশমিক ২ মিলিয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবায় ৪৯ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। শিক্ষা খাতে ৫২ দশমিক ৭ মিলিয়ন এবং জীবিকা ও দক্ষতা উন্নয়নে ৩৫ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলার চাওয়া হয়েছে। আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন খাতে ৩৬ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে।
জাতিসংঘের ২০২৬ সালের পরিকল্পনায় মোট ১ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মানুষকে প্রয়োজনের মধ্যে বিবেচনা করা হলেও অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনায় ১ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা শিবিরে আন্তর্জাতিক অর্থায়নে শুধু খাদ্য বিতরণ করা হয় না। স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি, পয়োনিষ্কাশন, আশ্রয়, শিক্ষা, নারী ও শিশু সুরক্ষা, পুষ্টি, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং জীবিকা উন্নয়নের মতো কার্যক্রমও এর আওতায় রয়েছে।
তহবিল কমে গেলে এসব সেবার সবগুলো একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে—এমন নয়। তবে সীমিত অর্থের কারণে কম গুরুত্বপূর্ণ বা দীর্ঘমেয়াদি কিছু কার্যক্রম পিছিয়ে যেতে পারে এবং জীবনরক্ষাকারী কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিতে হতে পারে। এতে শরণার্থীদের পাশাপাশি তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাতিসংঘের ২০২৬ সালের পরিকল্পনাতেও কক্সবাজার ও ভাসানচরের রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তা কমলে ঘাটতির প্রতিটি ডলার বাংলাদেশ সরকারকে সরাসরি বহন করতে হবে—বিষয়টি এমন সরল নয়। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো তাদের অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ করতে পারে, নতুন অর্থের উৎস খুঁজতে পারে অথবা সীমিত তহবিল সবচেয়ে জরুরি খাতে সরিয়ে নিতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে অর্থায়ন কমতে থাকলে বাংলাদেশের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাপ বাড়তে পারে। কারণ রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থায়নে পরিচালিত স্বাস্থ্য, পানি, স্যানিটেশন ও শিক্ষা কার্যক্রমে সংকোচন হলে সরকারি ও স্থানীয় সেবাব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাহিদা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত সহায়তা কর্মসূচিও অর্থসংকটে পড়তে পারে।
বাংলাদেশের জন্য সংকটটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অনিশ্চয়তায়। মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিস্থিতি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে তাদের অবস্থান দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
জাতিসংঘও বলছে, রোহিঙ্গা সংকটের সবচেয়ে টেকসই সমাধান হলো নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন। সেই পরিস্থিতি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা জরুরি।
২০১৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত রোহিঙ্গা সাড়াদান কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রায় ৫ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার মানবিক সহায়তা দিয়েছে। এই অর্থের মাধ্যমে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সুরক্ষাসহ বিভিন্ন জরুরি কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে।
এখন সেই অর্থায়নের ধারাবাহিকতাই বড় প্রশ্নের মুখে। একদিকে মিয়ানমারে সংঘাতের কারণে নতুন করে রোহিঙ্গা আসার চাপ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানবিক তহবিল কমছে। ফলে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়িত্ব এবং এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
বৈশ্বিক অর্থসংকটের পুরো বোঝা বাংলাদেশকেই বহন করতে হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো নির্দিষ্ট হিসাব এখনো নেই। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা দীর্ঘমেয়াদে কমতে থাকলে রোহিঙ্গা শিবিরের সেবা, আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সহায়তা এবং বাংলাদেশের ওপর সামগ্রিক চাপ—তিন ক্ষেত্রেই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। প্রত্যাবাসনের পথ অনিশ্চিত থাকা অবস্থায় তাই আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ধরে রাখাই বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক ও পেশিশক্তির প্রভাব খাটিয়ে ভূমি ও বাড়ি দখল, খাসজমি দখল, হামলা ও চাঁদাবাজির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছেন ৩৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক। গত কিছুদিন এসব ঘটনা বেড়েছে উল্লেখ করে তারা বলেছেন, ‘এতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছে।’
মঙ্গলবারে (২৯ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এ বিবৃতিতে বলা হয়, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় ভূমি ও বাড়ি দখল, চর ও খাসজমি থেকে ভূমিহীনদের উচ্ছেদ এবং বাড়িঘরে হামলার খবর আসছে। রাজধানীর মিরপুর ১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও তারা উল্লেখ করেন। তাদের ভাষ্য, এরপর রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বেড়িবাঁধ এলাকায় কয়েকশ লোকের হামলা, ভাঙচুর ও জমি দখলের অভিযোগ ওঠে। এ সময় টাকা, জমির দলিলসহ বিভিন্ন মালামাল লুটের অভিযোগও করা হয়। এ ছাড়া ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের কথাও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘পটুয়াখালীর চরবাংলা, নোয়াখালীর সদর উপজেলার ভাটিরটেক ও চরফ্যাশন, ভোলার চরসহ আরও নানা স্থানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সন্ত্রাসীরা চরে বসবাসরত ভূমিহীনদের উচ্ছেদ করে জমি দখলের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। জমিতে থাকা ফসলও তারা রাতের অন্ধকারে লুট করে নিয়ে যায়। এ ছাড়া ছিনতাইয়ের ঘটনা ঢাকা মহানগরসহ সব বড়-ছোট শহরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে শিশুধর্ষণ ও নারীবিরোধী সহিংসতা। পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো কোনো এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করে সাবধানে চলাচল করার কথা বলা হয়েছে। এসবই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতির ইঙ্গিত দেয়।’
তারা বলেন, ‘জনমনের দৃঢ় বিশ্বাস এসব ঘটনা শুধু সন্ত্রাসী কার্যক্রমই নয়। এর সঙ্গে শাসক দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী মহল, পতিত সরকারের সশস্ত্র অনুসারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাংশ সরাসরি জড়িত, যা সারাদেশে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ঘটনার অবশ্যই দ্রুত উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তি, গোষ্ঠী এবং তাদের দেশে-বিদেশে মদদদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’
বিবৃতিদাতারা বলেন, ‘অভিযোগ রয়েছে অনেক স্থানেই সন্ত্রাসী ঘটনার সঙ্গে শাসক দলের কোনো না কোনো পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততা থাকায় পুলিশ সঠিক সময়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না।’
বিবৃতিতে বলা হয়, এসব ঘটনায় শুধু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়, সামগ্রিকভাবে সরকারের এর জবাবদিহি করার দায় রয়েছে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন সুলতানা কামাল, আনু মুহাম্মদ, খুশী কবির, শিরীন পারভিন হক, ইফতেখারুজ্জামান, আবু সাঈদ খান, জেড আই খান পান্না, সারা হোসেন, শাহীন আনাম, শহিদুল আলম, স্বপন আদনান, শামসুল হুদা, সামিনা লুৎফা, সুমাইয়া খায়ের, গীতি আরা নাসরীন, জোবাইদা নাসরীন, তাসনিম সিরাজ মাহবুব, নোভা আহমেদ, ফিরদৌস আজিম, রেহনুমা আহমেদ, সাঈদ ফেরদৌস, সুব্রত চৌধুরী, নায়লা খান, মো. নূর খান, পাভেল পার্থ, ঈশিতা দস্তিদার, মনিন্দ্র কুমার নাথ, রোজিনা বেগম, জাকির হোসেন, সাইদুর রহমান, সালেহ আহমেদ, রেজাউল করিম চৌধুরী, শাহেদ কায়েস, মিঠুন রাকসাম, সাঈদ আহমেদ, দীপায়ন খীসা, হানা শামস আহমেদ ও মুক্তাশ্রী চাকমা।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলের প্রধান ও রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার।
সাক্ষাতে বাংলাদেশ পুলিশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা, তদন্ত কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়ানো এবং ফরেনসিক ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্য বিনিময় এবং আইনগত সহযোগিতার বিষয়েও উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে অপরাধের ধরনও পরিবর্তিত হওয়ায় সাইবার অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ ও মানবপাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে জেন্ডার সংবেদনশীল পুলিশিং নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিক, পেশাদার, প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে আরও সক্ষম করে তুলতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কারিগরি সহায়তা ও দক্ষতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ বিনিময়, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং প্রাতিষ্ঠানিক পরামর্শের মাধ্যমে পুলিশের টেকসই সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পুলিশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে পুলিশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সক্ষমতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সাক্ষাৎকালে পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক নারী শিক্ষার্থীর ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেছেন, ওই অভিযোগের পর তৎকালীন ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর পাটওয়ারীকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন এসব দাবি করেন। তাঁর পোস্টের তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযোগের কথা প্রকাশিত হয়েছে।
রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে দাবি করেন, ছাত্র ফেডারেশনে থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ঢাবির এক নারী শিক্ষার্থীর ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ ওঠে। ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্র ফেডারেশনের তৎকালীন দায়িত্বশীল নেতারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
তাঁর দাবি, তদন্ত কমিটি বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে অভিযোগের সত্যতা পায়। এরপর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ছাত্র ফেডারেশন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।
রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন। ল্যাপটপ চুরির অভিযোগে বহিষ্কৃত হওয়ার পর পাটওয়ারী কিছু সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। পরে এবি পার্টিতে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি আবার রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হন বলে দাবি করেন রাশেদ।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এবি পার্টির নেতাকর্মীরা পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে ওঠা ল্যাপটপ চুরির অভিযোগ সম্পর্কে জানতেন না। জানলে তাঁরা তাঁকে দলে নিতেন কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খাঁন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে আরও একটি চুরির অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে রাজনৈতিক সমালোচনা করেন এবং তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে অতীতের অভিযোগের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ অংশে তিনি পাটওয়ারীকে ‘ল্যাপটপ চোর’ ও ‘ছাগলচোর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তবে রাশেদ খাঁনের পোস্টে উল্লেখ করা অভিযোগের বিষয়ে ছাত্র ফেডারেশনের তৎকালীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন, বহিষ্কারের লিখিত সিদ্ধান্ত বা সংশ্লিষ্ট নারী শিক্ষার্থীর বক্তব্যের কোনো নথি প্রকাশ্যে দেওয়া হয়নি। ফলে অভিযোগটি রাশেদ খাঁনের দাবি হিসেবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিয়েছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) পরামর্শক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো এবং যৌক্তিক কারণ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলে সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা এবং তা কঠোরভাবে যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এসব তথ্য জানান। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর ডিপিপিতে থাকা পরামর্শক ব্যয় পর্যালোচনা করে তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। অনুমোদিত সময়সীমা ও বাজেটের মধ্যে চলমান ও নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি বলেন, যৌক্তিক কারণ ছাড়া কোনো প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো যাবে না। মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন হলে বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে হবে। এসব কারণ কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। যথাযথ কারণ ছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর ফলে বিলম্ব হলে দায়ী কর্মকর্তা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
প্রকল্প গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চর্চা নিয়েও নতুন করে ভাবার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে সম্ভাব্যতা যাচাই না করে তা পর্যাপ্ত গভীরতা ও কারিগরি নির্ভুলতার সঙ্গে করতে হবে।
এর ফলে পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের নকশা পরিবর্তন, ব্যয় বৃদ্ধি ও বাস্তবায়ন জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
যশোর, সৈয়দপুর ও রাজশাহী শাহ মখদুম বিমানবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে প্রক্রিয়াগত অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বিমানবন্দরের রানওয়ে উন্নয়ন প্রকল্পটি সরকারের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকাতেও রয়েছে।
জোনায়েদ সাকি বলেন, ২০২৩ সালে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) যে বাজেট সমন্বয় করেছিল, তা যথাসময়ে ডিপিপিতে প্রতিফলিত হয়নি। এ কারণেই বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) ইতোমধ্যে আটটি প্রকল্পের তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়েছে। আরও চারটি প্রকল্পের প্রতিবেদন শিগগিরই জমা দেওয়া হবে। এসব প্রতিবেদন প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হচ্ছে।
আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, রংপুর বিভাগের গ্রামীণ এলাকায় সড়ক, কালভার্ট ও সেতু নির্মাণে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার একটি অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
এ ছাড়া ডিজিটাল শাসন ও আর্থিক তদারকি জোরদারে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটির অধীনে আটটি গুরুত্বপূর্ণ অটোমেশন উদ্যোগ সমন্বয়ের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি), সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ ব্যবস্থা (আইবাস++), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান নম্বর, ওয়ান ওয়ালেট’–সংক্রান্ত অটোমেশন ব্যবস্থা।
জোনায়েদ সাকি বলেন, এসব ডিজিটাল ব্যবস্থার মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা নিশ্চিত করা গেলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা বিতরণে মানুষের হস্তক্ষেপ কমবে এবং ব্যাংকিং খাতে ডিজিটাল তদারকি আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে খেলাপি ঋণ (এনপিএল) ও আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধে নজরদারি বাড়াতেও এসব উদ্যোগ সহায়ক হবে।
জুলাই সনদে দেওয়া নোট অব ডিসেন্টের বিষয়ে যদি বিরোধীদল পরিবর্তন আনতে চায়, সেটাও আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিরোধীদলসহ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই সংবিধান সংশোধন করা হবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদে যেসব বিষয়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, সেগুলো নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে বিশেষ কমিটিতে এসে খোলামেলা আলোচনা করা যেতে পারে।’
সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের জন্য বিরোধীদলকে কমিটিতে সদস্য দেয়ার আহ্বানও জানান তিনি। এর আগে, সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি জানিয়েছিল, জুলাই জাতীয় সনদই তাদের কাজের প্রধান ভিত্তি। সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে আসা প্রস্তাবের পাশাপাশি ভিন্নমতও বিবেচনায় রাখার কথা জানিয়েছে কমিটি।
বিরোধীদলের জন্য কমিটিতে সদস্য থাকার সুযোগ রাখা হলেও তারা এখনো সদস্যের নাম দেয়নি বলে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অধ্যাপক আলী রিয়াজের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে যারা সংলাপে অংশ নিয়েছিলেন, তাদের সবার কাছ থেকেও মতামত নেয়া হবে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অংশীজনের মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব তৈরির কাজ এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির ১ম বৈঠক মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহমেদ অপু, হুইপ মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছাঃ তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় বিভিন্ন সময়ে পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং মূল্য সমন্বয়ের কারণ, মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার উপায় এবং মূল্য হ্রাস-বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল পিএলসি’র ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টির কারণ এবং জ্বালানী সরবরাহ ব্যবস্থা সংকটকালীন ও পরবর্তীতে একই থাকার পরেও শুধু জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির ফলে কিভাবে সংকটের অবসান হয়েছে, সে বিষয়ে বৈঠকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের নিকট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
এ সময় দেশের বর্তমান জ্বালানি চাহিদা, জ্বালানি সংরক্ষণের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পর্কে পরবর্তী বৈঠকে কমিটিকে বিস্তারিত তথ্য প্রদানের জন্য সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে জনগণের জন্য জ্বালানির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের কর্মকর্তাগণ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে প্রথমবারের মতো সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসস’কে একথা জানিয়েছেন।
বিকাল ৩টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে এসে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান এবং রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, জাতিসংঘের মহাসচিবসহ শীর্ষ কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন প্রতিবিধিদের সাথে বৈঠকসহ সফরের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
রাষ্ট্রপতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানান এবং বক্তব্যটিকে ‘দূরদর্শী, দৃঢ়প্রত্যয়ী ও দিকনির্দেশনামূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ভাষণটিতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে এবং প্রধান বৈশ্বিক ইস্যুগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা ও অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, এই সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত ও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি জনস্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এসময় জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়। বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করতে আসায় রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
সূত্র: বাসস
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জনকল্যাণে আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ন্যানো ও জৈব প্রযুক্তি এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এই তথ্য জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, এআই যাতে নিয়ন্ত্রণহীন ও যথেচ্ছভাবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, এআই-এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানুষের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীল প্রতিভাকে হ্রাস করছে। তাই জনকল্যাণে ও পরিমিত মাত্রায় এর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
সাক্ষাৎকালে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থাকে শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে আরও বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন।
এ সময় তিনি জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা ও উন্নয়ন (রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপাচার্য কুয়েটের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে চ্যান্সেলর হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানালে রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিবগণ ও প্রেস সচিব এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকগণ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
দেশে দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিসেবা সহজ করতে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দেবে সরকার। এ লক্ষ্যে কর নীতি, বিনিয়োগ পরিকল্পনা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডার হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-সিলিকন ভ্যালি প্রযুক্তি সংলাপ’-এর সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ড. তিতুমীর বলেন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা যেন নাগরিক সেবার মান বাড়ায় এবং দেশের মানুষের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং পরবর্তী করণীয় দ্রুত নির্ধারণ করতে তিনি অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহ্বান জানান।
‘বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রযুক্তি, মেধা ও অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করে লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এবং সঞ্চালনা করেন কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল। এতে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিনিধিদলে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
সংলাপে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের সহকারী অধ্যাপক ড. শরিফা সুলতানা, উবারের বিশিষ্ট প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং এনভিডিয়ার গবেষক ড. মোস্তফা পাটোয়ারী।
এ ছাড়া গ্লোবালফাউন্ড্রিজের ড. মাহবুব রাশেদ সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সম্ভাবনা ও সার্বিক বিকাশ নিয়ে বক্তব্য দেন।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডেভিসের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাইফ ইসলাম মেধা, প্রযুক্তি ও পুঁজি বিষয়ে প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন।
প্যানেলে অংশ নেন উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ক্রিডো সেমিকন্ডাক্টরের ড. শতিল হক, এক্সোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. ইউসুফ হক, মেডট্রনিকের সাবেক প্রধান নির্বাহী ও ইন্টেলের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান ড. ওমর ইশরাক, উল্কাসেমির সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান এবং ক্লাউডএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বদরুল সারওয়ার।
আলোচকেরা গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন, শিল্প খাতের অংশীদারত্ব এবং বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় করেন।
উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, গবেষণা, শিক্ষা, স্টার্টআপ ও শিল্প খাতের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ গড়ে তুলে প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সরকার। বিএইআর সামিটসহ সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত মেধাকে উদ্ভাবন, বিনিয়োগ ও দক্ষ কর্মসংস্থানে রূপান্তর করতে হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বিশ্ব প্রযুক্তি শিল্পে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের সাফল্যের প্রশংসা করেন। তাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ ও সহযোগিতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কূটনীতিকে পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা ও উদ্ভাবন ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে হবে। এ ধরনের সহযোগিতা কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের এ সময়ে শিশুদের ডিজিটাল দক্ষতার পাশাপাশি মৌলিক শিক্ষায়ও দক্ষ করে তুলতে হবে।
তিনি শিক্ষকদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ও এআইয়ের সঠিক ব্যবহার এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুসহ সব শিক্ষার্থীর কাছে মানসম্মত শিক্ষাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। মূল শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োগের আগে নতুন শিক্ষাপদ্ধতিগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল প্রতিনিধিদল ও আগ্রহী অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে নিয়ে এসব বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পাট পণ্যে (যার মধ্যে পাটের সুতা ও টুইনও রয়েছে) প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কারোপ করেছে ভারত। দেশটিতে বাংলাদেশের পাট পণ্য রপ্তানি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমলেও ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজের (ডিজিটিআর) মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত এলো। তিন মাস আগে সংস্থাটি জানিয়েছিল, বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা ভারতে পাট পণ্য ডাম্পিং অব্যাহত রেখেছেন। এতে দেশটির স্থানীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন ও এপি মেস্তা টুইন মিলস অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ডিজিটিআর গত বছরের জুনে এ পর্যালোচনা শুরু করে। বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাট পণ্যে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক বাড়ানো প্রয়োজন কি না, তা নির্ধারণ করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। এ জন্য বাংলাদেশে ৫৪টি ও নেপালে ৩৬টি মিলের কাছে তথ্য চাওয়া হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের ৩৮টি ও নেপালের পাঁচটি মিল সাড়া দেয়।
এর আগে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি করা পাটের সুতা বা টুইন, হেসিয়ান কাপড় ও পাটের বস্তার ওপর প্রতি টনে ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কারোপ করেছিল ভারত। পরে বাংলাদেশের পাটের বস্তার কাপড়ও এ শুল্কের আওতায় আনা হয়। এতে বাংলাদেশের পাট পণ্যের অন্যতম বড় বাজার ভারতে রপ্তানি কমে যায়।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশের ৩৬টি পাট পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়। এসব প্রতিষ্ঠানের পাটের সুতা, বস্তা ও হেসিয়ান কাপড়ে প্রতি টনে ৫৯ ডলার থেকে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কারোপ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পাটের সুতা রপ্তানিকারক আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ওপর প্রতি টনে সবচেয়ে কম ৫৯ ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কারোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ১৭টি প্রতিষ্ঠানের পাটের বস্তার ওপর প্রতি টনে ১২০ ডলার শুল্কারোপ করা হয়েছে।
ছয়টি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তাদের রপ্তানি করা সব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে। সেগুলো হলো—এএম জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, বোনানজা জুট কম্পোজিট, লাভলী জুট মিলস, নওহাটা জুট মিলস, পোদ্দার অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও রানু অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ।
আরও দুটি প্রতিষ্ঠান—নাটোর জুট মিলস ও জনতা জুট মিলস পাটের বস্তা ও হেসিয়ান কাপড় রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কোনো উৎপাদনকারী পাটের সুতা বা টুইন রপ্তানি করলে প্রতি টনে ৪৪৫ ডলার শুল্ক দিতে হবে।
ডিজিটিআরের মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত চলাকালে ভারতে পাট পণ্যের চাহিদা ২০ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি কমেছে মাত্র ১৩ শতাংশ। এতে ভারতীয় মিলগুলোর ক্ষতির বিনিময়ে বিদেশি উৎপাদনকারীরা বাজারের অংশীদারত্ব বাড়াচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমে ১ লাখ ১৭ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।
পাট পণ্যে ভারতের নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ককে ‘একতরফা’ ও ‘জুলুমবাজি’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএসএ) চেয়ারম্যান তাপস প্রামাণিক।
তিনি বলেন, ‘আমাদের রপ্তানির ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কারোপের ক্ষেত্রে তারা যে ভর্তুকির হার বিবেচনায় নিয়েছে, তা কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তাদের ধারণা, আমরা অনেক বেশি ভর্তুকি পাই, যা বাস্তবতা নয়।
বিজেএসএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘বর্তমানে সরকার পাটের সুতা বা টুইন ও পাটের বস্তার ওপর ৩-৫ শতাংশ ভর্তুকি দেয়।’
তাপস প্রামাণিক বলেন, ‘ভারতে পাট পণ্য রপ্তানি কমেছে। তবে প্রাকৃতিক ফাইবারভিত্তিক পণ্যের সামগ্রিক রপ্তানি আরও কমার সম্ভাবনা নেই।’
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ১১৬ কোটি ডলার আয় করে। পরে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে ৮২ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেড়ে ৮৮ কোটি ৪০ লাখ ডলারে উন্নীত হয়।
বাংলাদেশের সঙ্গে চীন-আমিরাতের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি তার সঙ্গে সাক্ষাতে এলে এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
এ বিষয়ে পরে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গাসংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হয়। শুরুতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ ও নিউইয়র্কের বিভিন্ন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করায় তাকে অভিনন্দন জানান চীনা রাষ্ট্রদূত।
ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় চীনের সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’ একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন লিউ ইউইন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ হয়।
এ সময় বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া জ্বালানি, অবকাঠামো, এভিয়েশন, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলওয়ে ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদির সঙ্গে দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।