নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, আমাদের কাজ হলো ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। সেদিক থেকে নির্বাচন কমিশনের ওপর বড় দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের স্বাধীনভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে।
আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
সিইসি বলেন, এনআইডির গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। এটা এখন অপরিহার্য। এনআইডি-সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা এখন অনেকটাই সুষ্ঠু অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। সম্পত্তি বেহাত করার জন্য যে এনআইডি কার্ড করা হয়, আমি হয়তো ভুল করে দিতে পারি, কিন্তু সচেতনভাবে অপরাধের সঙ্গে অংশ হিসেবে যদি এটা আমরা করে থাকি, তাহলে আমাদের টলারেন্স জিরো হবে। আমরা ওই ধরনের কর্মকর্তাদের পুলিশে হস্তান্তর করতে দ্বিধান্বিত হব না।
তিনি বলেন, এখন এনআইডির বাই প্রোডাক্ট হয়ে গেছে ভোটার কার্ড। এনআইডির বিষয় আজ নয়, আজ ভোটার দিবস। কীভাবে এটি বর্তমান পর্যায়ে এল, এটি ইতিহাসের একটা বিষয়। ভোটারের বিষয় যখন হয়, তখন প্রতিনিধিত্বের বিষয় আসে। আমরা ইতিহাস বেশি জানি না। আগে কলোনি ছিল, তার আগে রাজত্ব ছিল, ভোটাধিকার ছিল না। ব্রিটিশরা এসে ভোটাধিকার দিল। সবচেয়ে বড় নির্বাচন হয় প্রথম ১৯৩৫ সালে।
হাবিবুল আউয়াল বলেন, ভোট কেন গুরুত্বপূর্ণ। ভোটকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল বঙ্গবন্ধুর ডাকে। আমরা স্বাধীনতা পেলাম। এরপর সংবিধান পেলাম, যেখানে নির্বাচনের বিষয়টা আছে। নির্বাচন করতে গেলে ভোটারের প্রয়োজন হয়। এতে ভোটারের রায়েই যেন প্রতিনিধিত্ব আসে- সেটাই লক্ষ্য ছিল।
সিইসি বলেন, নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে বলেই দায়িত্ব শেষ হয়েছে এমন নয়। আগামীতে যারা আসবে, তাদের জন্য একটা ক্ষেত্র তৈরি করে যেতে হবে। আজকের গণতন্ত্র আদর্শিক গণতন্ত্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিরাষ্ট্র গড়ে ওঠার পর গণতন্ত্রের বিকাশ হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ সময় বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মারা যাওয়া সবার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং তাদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।
দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসে রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ (২.০৪৭ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করেছে সরকার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। বিগত সরকারের নেওয়া বিপুল অঙ্কের বিদেশি ঋণের কারণে বাড়তির চাপের মধ্যেও নিয়মিতভাবে এই দায় পরিশোধ করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট পাঁচ মাসের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এটিই এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৮৯ কোটি ৭১ লাখ ডলার (প্রায় ২৩ হাজার ৩১০ কোটি টাকা)। ফলে বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ১৫ কোটি ৪ লাখ ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা।
ইআরডির তথ্যমতে, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচ মাসে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৪১ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। এর মধ্যে ঋণের আসল বাবদ ১৩৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ ৬৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার দেওয়া হয়েছে।
ইআরডির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছরে ঋণ পরিশোধের চাপ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে যা ছিল ২৬৭ কোটি ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৩৭ কোটি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ৪০৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪৪৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।
ইআরডি কর্মকর্তারা জানান, আগের দেড় দশকে নেওয়া মেগা প্রকল্পগুলোর ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা অবকাশকাল শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে আসল ও সুদ একসঙ্গে পরিশোধের চাপ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আগের সরকারের নেওয়া অনেক ঋণের নীতিগত ও অর্থনৈতিক যুক্তি সঠিক ছিল না। একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পাওয়ার পরও বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে দেশের আর্থিক গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই বিপুল পরিমাণ দায় সামলে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশি বা বিদেশি যেকোনো ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক কৌশল অবলম্বন করছে। এখন থেকে প্রকল্পের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক রিটার্ন নিশ্চিত করা ছাড়া নতুন কোনো ঋণের দায় নেওয়া হবে না।
ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের অসুবিধা বা হয়রানি না করে করদাতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করে রাজস্ব আদায়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ব্যবসা পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করে কোনো ধরনের কর আরোপ বা রাজস্ব আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে না। করদাতাদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুষ্ঠু, কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব করব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় সরকার।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যালয়ে এনবিআর ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ভ্যাট রিটার্ন মাসিকের পরিবর্তে এক মাস পরপর দাখিলের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘রাজস্বসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। করদাতাদের অনিষ্পন্ন রাজস্ব মামলা ও বিভিন্ন ইস্যুর দ্রুত সমাধানের বিষয়েও আলোচনা করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘করদাতাদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুষ্ঠু ও কার্যকর করব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।’
জুলাই মাসের রাজস্ব আদায় এবং টানা তিন মাসের ভ্যাট রিটার্ন নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার বিষয়ে জানতে চাইলে আমির খসরু বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ব্যবসা পরিচালনায় কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হবে না। ব্যবসায়ীদের ওপর এমন কোনো কর বা রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া চাপিয়ে দেওয়া হবে না, যাতে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি অনেকাংশে ব্যবসায়ীদের দেওয়া করের ওপর নির্ভরশীল। তাই ব্যবসায়ীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং হয়রানিমুক্ত পরিবেশে রাজস্ব আদায় করাই সরকারের উদ্দেশ্য।’
এদিকে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভ্যাট আদায় ২২ শতাংশ কমে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে প্রশ্নটির সরাসরি কোনো উত্তর দেননি অর্থমন্ত্রী।
দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের দাম ও চাহিদা বাড়ার প্রেক্ষাপটে রপ্তানিতে বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে সরকার। আগে অনুমোদিত রপ্তানি কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে রপ্তানিকারকদের ওপর আরোপ করা হয়েছে ১০টি কঠোর শর্ত। সরকারের লক্ষ্য, একদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, অন্যদিকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সম্ভাব্য মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ২৭৮টি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের জন্য আগে নির্ধারিত সুগন্ধি চালের রপ্তানি পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনার কথা জানানো হয়। সংশোধিত বরাদ্দ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে এবং এর মেয়াদ থাকবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে চলতি বছর দুই দফায় মোট ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রথম দফায় ১৩ মে ২১১টি এবং পরবর্তী সময়ে আরও ৬৭টি প্রতিষ্ঠানকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু অনুমোদিত পরিমাণের তুলনায় প্রকৃত রপ্তানি ছিল খুবই কম। ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মোট ২ হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পেরেছে। অর্থাৎ অনুমোদিত মোট পরিমাণের মাত্র প্রায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ রপ্তানি হয়েছে।
এতে অনুমোদিত কোটা ও প্রকৃত রপ্তানির মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়। যেসব প্রতিষ্ঠান পুরো বরাদ্দ ব্যবহার করতে পারেনি, তাদের অব্যবহৃত অংশ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেয় সরকার। আগস্টে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে প্রকৃত রপ্তানির তথ্য চেয়েছিল, যাতে বাস্তবে কতটা কোটা ব্যবহৃত হয়েছে তা নির্ধারণ করা যায়।
হঠাৎ কেন রপ্তানিতে লাগাম: মূল কারণ দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের দাম বেড়ে যাওয়া। আগস্টে রাজধানীর বাজারে চিনি গুড়া বা চিনি গুঁড়া হিসেবে পরিচিত চিনি গুড়া/চিনিগুড়া চালের দাম দুই সপ্তাহে কেজিপ্রতি ১৯০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩০ টাকায় ওঠার তথ্য পাওয়া যায়। অর্থাৎ অল্প সময়েই দাম বেড়েছিল প্রায় ২১ শতাংশ। একই সময়ে ব্রি ধান-৩৪-এর দামও এক মাসে প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়ে কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ২১০ টাকায় উঠেছিল।
আরও বিস্তৃত সময়ে দেখলে বাজারের চাপটি আরও স্পষ্ট হয়। জুলাই-আগস্ট সময়ে বিভিন্ন সুগন্ধি চালের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১৩০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল বলে বাজারসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার আশঙ্কা করছে, দেশের বাজারে চাহিদা বেশি থাকা অবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সুগন্ধি চাল বিদেশে চলে গেলে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য দাম নিয়ন্ত্রণে রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
আগস্টের বৈঠকেই মিলেছিল সংকেত: সুগন্ধি চালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ২ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে চালের উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বাজার পরিস্থিতি এবং রপ্তানির প্রকৃত চিত্র পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে দেখা যায়, অনুমোদন পাওয়ার পরও অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী রপ্তানি করতে পারেনি। কেউ কেউ আবার আংশিক রপ্তানি করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিভিত্তিক প্রকৃত রপ্তানির তথ্য হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এরপর ১৩ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে প্রকৃত চালান বা শিপমেন্টের তথ্য চায়। তখনই মন্ত্রণালয় ইঙ্গিত দেয়, অভ্যন্তরীণ বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় আগের অনুমোদিত কোটা কমানো বা সমন্বয় করা হতে পারে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগও আমলে: আগস্টের বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দেশের বড় কয়েকটি চালকলের কাছে বিপুল পরিমাণ সুগন্ধি চাল মজুদের অভিযোগ তোলা হয়। বাজারে প্রয়োজন অনুযায়ী চাল ছাড়া এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির কারণেই দাম বাড়ছে বলে ব্যবসায়ীদের একাংশ দাবি করে।
তবে সরকারের বর্তমান সিদ্ধান্তে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রপ্তানির মাধ্যমে দেশের বাইরে চলে যাওয়া চালের পরিমাণ সীমিত রাখার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় ১০ শর্ত: কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানিতে নজরদারি ও জবাবদিহি বাড়াতে ১০টি শর্ত দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রপ্তানিকারকদের রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭-এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। সংশোধিত অনুমোদনের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। প্রতিটি চালান রপ্তানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চালের মান ও সত্যতা যাচাই করবে। চালান জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে। ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের বরাদ্দের বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে। কোনো রপ্তানিকারক সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল রপ্তানি করতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি সুগন্ধি চালের সর্বনিম্ন এফওবি রপ্তানিমূল্য ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদন অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা যাবে না এবং সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানিও করা যাবে না। জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে। রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে পিআরসি বা প্রসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে।
রপ্তানিকারকদের জন্য বড় পরিবর্তন: নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র রপ্তানিকারক—কেউই আগের অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারবেন না। অর্থাৎ নতুন বরাদ্দই এখন সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে বিবেচিত হবে।
এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রেও আগের বরাদ্দ কতটা বাস্তবে ব্যবহার করা হয়েছে, তার হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফলে শুধু অনুমোদন নেওয়া নয়, অনুমোদিত পরিমাণের বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনার বিষয়েও রপ্তানিকারকদের জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে।
রপ্তানি নীতিতে পুরোনো অভিজ্ঞতা: বাংলাদেশে সুগন্ধি চাল রপ্তানির ইতিহাস দীর্ঘ হলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম ও সরবরাহের চাপ তৈরি হলে সরকার অতীতেও রপ্তানি সীমিত করেছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাংলাদেশ সুগন্ধি চাল রপ্তানি শুরু করে। ২০১৩ সালের অক্টোবরে স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ার পর রপ্তানি স্থগিত করা হয়েছিল। পরে ২০২২ সালেও অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে সুগন্ধি চাল রপ্তানি বন্ধ করা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার পুরোপুরি রপ্তানি বন্ধ না করে অনুমোদিত কোটা অর্ধেকে নামিয়ে দিয়েছে। এতে একদিকে রপ্তানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহের ওপর সম্ভাব্য চাপ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
খাদ্য নিরাপত্তা বনাম বৈদেশিক মুদ্রা: সরকারের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ দুটি—একদিকে সুগন্ধি চাল রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, অন্যদিকে দেশের ভোক্তাদের জন্য পর্যাপ্ত সরবরাহ ও সহনীয় দাম নিশ্চিত করা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বর্তমান সিদ্ধান্ত থেকে স্পষ্ট, খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিষয়টিকেই আপাতত বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যখন অনুমোদিত ৪৫ হাজার ২৭০ টনের বিপরীতে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৪১৯ টন, তখন অব্যবহৃত কোটা ধরে রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় তাই কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানির প্রতিটি ধাপে নজরদারি, পণ্যের মান যাচাই, নথিপত্র সংরক্ষণ, রপ্তানি আয়ের প্রত্যাবাসন এবং ভবিষ্যৎ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের কার্যক্রমের হিসাব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে সরকারের এই পদক্ষেপ শুধু রপ্তানি কমানোর সিদ্ধান্ত নয়; বরং সুগন্ধি চালের বাজারে সরবরাহ, মূল্য, রপ্তানি পরিমাণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন—চারটি বিষয়কে একই কাঠামোর মধ্যে এনে নিয়ন্ত্রণের একটি নতুন ব্যবস্থা। এখন এর কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করবে বাজারে মজুদ থাকা চাল কতটা দ্রুত সরবরাহ করা হচ্ছে এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের সুফল ভোক্তা পর্যায়ে দামের ক্ষেত্রে কতটা প্রতিফলিত হয় তার ওপর।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজেদের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে নেত্রকোনার কলমাকান্দা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। একই সঙ্গে পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলা করা এবং প্রাণী ও জীবজন্তুর প্রতি যত্নশীল হওয়ার পরামর্শও দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানান।
পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস নিজের পরিবার থেকেই শুরু করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘তোমরা নিজেরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও প্রতিবেশীদেরকেও সচেতন করবে। তোমাদের ছোট ছোট উদ্যোগই একটি পরিচ্ছন্ন ও সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।’
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন। তারা কোন শ্রেণিতে পড়ে, কীভাবে পড়াশোনা করছে এবং ভবিষ্যতে কী হতে চায়; এসব বিষয়েও তাদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু পাঠ্যবইয়ে মনোযোগ দিলেই হবে না; সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে নিয়মিত খেলাধুলা ও শরীরচর্চা করতে হবে। সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে হবে এবং নিজেদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’
মানুষের পাশাপাশি প্রাণী ও জীবজন্তুর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের চারপাশের অসহায় ও অবলা প্রাণীদের প্রতিও যত্নবান হতে হবে। কোনো প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করা যাবে না। জীবজন্তুর প্রতি মমতা ও দায়িত্ববোধ মানবিক সমাজের পরিচয়।’
ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ৪২ জন শিক্ষার্থী জাতীয় সংসদের অধিবেশন দেখতে সংসদ ভবনে আসেন। তাদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষক এবং পরিচালনা কমিটির দুজন সদস্যও ছিলেন। সংসদ অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার একপর্যায়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পরামর্শ নিজেদের জীবনে অনুসরণ করার পাশাপাশি পরিবার, বিদ্যালয় ও এলাকার মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তারা।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আগামী ১৬ ডিসেম্বর শুরু হবে। প্রথম দিন এই টার্মিনাল ব্যবহার করে ২০টি উড়োজাহাজ চলাচল করবে। তবে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হতে আগামী বছরের মে মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। মঙ্গলবার টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বিমানমন্ত্রী জানান, তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনা থেকে অর্জিত আয়ের ২৭ শতাংশ বাংলাদেশ পাবে। পাশাপাশি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের ৫০ শতাংশ দায়িত্ব পালন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
বিমানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালু করা হবে। আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর দিন ২০টি উড়োজাহাজ চলাচলের মাধ্যমে এর কার্যক্রম শুরু হবে।
২০১৭ সালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্পের অর্থায়নে বাংলাদেশ সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। বাকি অর্থ জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণ থেকে নেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর তৃতীয় টার্মিনালের আংশিক উদ্বোধন করা হয়। সে সময় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছিল, ২০২৪ সালের মধ্যে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ প্রণয়নের উদ্যোগে অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে বিলটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে কমিটি। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির চতুর্থ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংসদ সচিবালয়ের প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’-এর বিভিন্ন ধারা ও উপধারা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে বিলটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের বিষয়ে কমিটির সদস্যরা একমত হন।
বৈঠকে অতীতের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলা হয়, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে অতীতে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থে বিভিন্নভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে।
তবে কমিটির সদস্যরা মনে করেন, কোনো বাহিনীর অপব্যবহারের কারণে পুরো বাহিনী বিলুপ্ত করা যথাযথ সমাধান হতে পারে না। বরং বাহিনীর দক্ষ জনবল, বিদ্যমান অবকাঠামো ও মূল্যবান সরঞ্জাম দেশের স্বার্থে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
একই সঙ্গে নতুন বা পুনর্গঠিত বাহিনীর সদস্যদের জন্য মানসম্মত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত, পেশাদারিত্ব বজায় রাখা এবং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী দলের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সহযোগিতার প্রশংসা করা হয়। এ জন্য বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানানো হয়।
দেশে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, মো. কামরুজ্জামান, মো. মনোয়ার হোসেন, শিরীন সুলতানা, মো. নূরুল ইসলাম ও মো. আব্দুল বাতেন অংশ নেন।
এ ছাড়া বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, শেখ হাসিনাকে আসতে হবে না, তাকে সরকার ধরে আনতে চায়। এসব বিষয় নিয়ে সরকারের মধ্যে কোনো লুকোচুরি নেই। একইসঙ্গে বাংলাদেশের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশ হওয়ায় সরকারের অসন্তুষ্টির কথাও জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান উপদেষ্টা।
জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা নিজে ফিরুন বা সরকার তাকে ফিরিয়ে আনুক, তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কোনো কৌশল নেই। শেখ হাসিনাকে সরকার ফিরিয়ে আনতে চায় কি না এ নিয়ে কেউ কেউ যে ধরনের অনুমান করছেন, তা সঠিক নয়। ভারতের ওপর চাপ তৈরির জন্য প্রত্যর্পণের দাবি তোলা হচ্ছে— এমন কোনো কৌশল সরকারের নেই। ভারত সরকারকে বিষয়টি শর্ত হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, আমরা প্রায়ই বলছি, শেখ হাসিনা, আপনি আসবেন না, আপনাকে আমরা ধরে নিয়ে আসতে চাই। আপনি আসামি, আপনি পলাতক আসামি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটরের বরাত দিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিনি (শেখ হাসিনা) দেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে হওয়া বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগও পাবেন না। টেকনিক্যালি এখন ব্যাপারটা এ রকম, তিনি আসবেন এবং তার জন্য মৃত্যুদণ্ড অপেক্ষা করছে। আমরা তাকে ধরে আনতে চাই।
ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা নিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত তিনি (হাসিনা) যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে না পারেন, ভারত সরকারের কাছ থেকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ। আমরা প্রত্যাশা করব, ভারত সরকার এই বিষয়ে তার ওপর একটি বিধিনিষেধ দেবে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার দাবি শক্তিশালী এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের কোনো দ্বিধা নেই। ভারত চাইলে (হাসিনাকে ফেরত দিয়ে) সম্পর্ক উন্নয়নে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
লোডশেডিং সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা জানান, ২০২৩ ও ২০২৬ সালের জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের গড় লোডশেডিংয়ের চিত্র তুলনা করলে দেখা যায়, জুন ও জুলাইয়ে ২০২৬ সালে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় কম ছিল।
তিনি বলেন, ২০২৩ সালের জুনে প্রতিদিন গড়ে লোডশেডিং ছিল ৯৬৯ মেগাওয়াট। ২০২৬ সালের জুনে তা দাড়ায় ৭৪১ মেগাওয়াটে। একইভাবে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে গড়ে লোডশেডিং ছিল ৬১৩ মেগাওয়াট, যা ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ছিল ৪৬০ মেগাওয়াট।
তবে আগস্টের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের আগস্টে গড় লোডশেডিং ছিল ৩৬০ মেগাওয়াট। কিন্তু ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে ১ হাজার ৫৬৫ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়। আগস্টে কী সংকট হয়েছিল সবাই সেটা জানেন।
এদিকে ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, এ ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল নাকি অন্য কিছু।
উপদেষ্টা বলেন, ইটস অ্যা মাফিয়া গ্যাং। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও হামলার আশঙ্কা থাকলেও সরকার ও সংশ্লিষ্টরা তা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই অভিমত ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এসব প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা তুলে ধরেন। এ সময় তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকার বদ্ধপরিকর।
মন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা পাঁচটি স্থানীয় সরকারসংক্রান্ত অধ্যাদেশ নতুন সরকার আইন হিসেবে জাতীয় সংসদে পাস করেছে। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ—এ পাঁচ আইনে আগে থাকা দলীয় মনোনয়ন এবং জাতীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিকেন্দ্রীকরণ ও ক্ষমতার ভারসাম্য, নারী ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ সহযোগিতা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনাও উঠে আসে।
অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সুশাসন, নারী ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে অস্ট্রেলিয়ার আগ্রহের কথা জানান।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার নতুন পোর্টফলিওতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন
বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের ফলে দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার পাশাপাশি বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বৈঠকের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রের মূল শক্তি হচ্ছে গণমাধ্যম। গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে গণমাধ্যমকেও বাঁচাতে হবে। গণমাধ্যমকে সঠিক পথে থেকে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সুশাসনের জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
আজ দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ম্যানেজিং কমিটির ১২ সদস্যের একটি দল রাষ্ট্রপতির সাথে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাথে সম্পর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রেস ক্লাবের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক। আমার সবচেয়ে দুঃসময়ে আপনারা আমার পাশে ছিলেন, যা আমার জন্য বিরাট প্রাপ্তি।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কল্যাণে সার্বিক সহযোগিতা করার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমার জায়গা থেকে আপনাদের জন্য যেটুকু করার আছে, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, আমি সেটুকু করার চেষ্টা করবো।
সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সাংবাদিক সমাজের মধ্যে ঐক্য অত্যন্ত জরুরি, বিভক্তি কখনো সাফল্য এনে দিতে পারে না। আপনারা মৌলিক জায়গাগুলোতে এক হতে পারলে সরকার ও বিরোধী দলের সঙ্গেও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন।’
এ সময় তিনি নিজেদের সুরক্ষার জন্য এবং অনিয়ম ও গণহারে সাংবাদিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
একইসাথে রাষ্ট্রপতি সংবাদকর্মীদের কর্মসংস্থানের সংকট নিরসনে বন্ধ হয়ে যাওয়া পত্রিকাগুলো পুনরায় চালু করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘বন্ধ পত্রিকাগুলো, বিশেষ ট্রাস্টের অধীনে থাকা পত্রিকাগুলো পুনরায় চালু করা গেলে অন্তত ১ হাজার সাংবাদিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
এসময় তিনি দৈনিক বাংলা-সহ বন্ধ থাকা অন্যান্য পত্রিকা পুনরায় চালু করার উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।
তিনি দেশে গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে তরুণ প্রজন্মের মন-মানসিকতা পরিবর্তনে সাংবাদিকদের কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র হচ্ছে একটা সংস্কৃতি। একে প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে হবে। সেজন্য মন-মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন করতে হবে। পুরোনো কর্তৃত্ববাদী চিন্তা-ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে। নতুন প্রজন্মের মধ্যেও গণতান্ত্রিক ভাষা ও মানসিকতা তৈরি করা জরুরি। আন্দোলন করে পরিবর্তন আনার পরও যদি পুরোনো মানসিকতা থেকে যায়, তাহলে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব হবে না।’
এ সময় তিনি সরকারের যৌক্তিক ও গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি সরকারের ভালো কাজগুলো গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে যথাযথভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকারকে কাজ করার জন্য সময় দিতে হবে। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধসহ বৈশ্বিক কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের কথা যথাযথভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
একইসাথে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সুদীর্ঘ ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন।
তিনি দেশের গণমাধ্যমের প্রাণকেন্দ্র এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকারের সাথে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর জোর দেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ উপস্থিত অন্য সদস্যদের রাষ্ট্রপতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেন এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি রাষ্ট্রপতিকে সুবিধাজনক সময়ে প্রেস ক্লাবে আমন্ত্রণ জানান।
প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া অতীতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রেস ক্লাবে আপনি আমাদের পরিবারের একজন সদস্যের মতো ছিলেন। আমরা গর্বিত ও আনন্দিত যে, প্রেস ক্লাবেরই একজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
সদস্য কাদের গনি চৌধুরী বিগত সময়ের অপসাংবাদিকতার কথা তুলে ধরেন এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের ধারা অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছর সাংবাদিকদের ওপর যে ধরনের বাধা ও নিয়ন্ত্রণ ছিল, তাতে সাংবাদিকতার সংজ্ঞাই পরিবর্তন করতে হয়েছিল। কিন্তু গত কিছুদিনে আমরা মুক্তভাবে লিখতে পারছি, মুক্তভাবে বলতে পারছি। এই স্বাধীনতা যেন অক্ষুণ্ন ও অব্যাহত থাকে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকরা আপনাদের সামনে সত্যটা তুলে ধরেন। আপনারা অন্যান্য জায়গায় হয়তো সবসময় আপনাদের খুশি রাখার মতো কথা শুনবেন। কিন্তু সত্যটা জানতে হলে সাংবাদিকদের কাছে আসতে হবে। এই পথ যেন অব্যাহত থাকে, এই স্বাধীনতা যেন অক্ষুণ্ন থাকে।
এ সময় তিনি সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিকদের কল্যাণে দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নে সরকার ও রাষ্ট্রপতির নিকট সহযোগিতা কামনা করেন।
সদস্য সৈয়দ আবদাল আহমদ এ সময় রাষ্ট্রপতির সাথে অতীতের স্মৃতিচারণ করেন এবং গণতন্ত্র রক্ষায় রাষ্ট্রপতির ত্যাগ ও অবদানের কথা স্মরণ করেন।
উপস্থিত সাংবাদিক নেতারা এ সময় প্রেস ক্লাবের অবকাঠামো সম্প্রসারণে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করলে রাষ্ট্রপতি সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের পক্ষে প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) সৈয়দ আবদাল আহমদ, কোষাধ্যক্ষ বখতিয়ার রাণা, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও মাসিক সরগম-এর সম্পাদক কাজী রওনাক হোসেন, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য শাহনাজ বেগম পলি, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মাসুমুর রহমান খলিলী, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এ কে এম মোহসিন এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মোহাম্মদ মোমিন হোসেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, ভেনিসে জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাটি ইতালীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আজ বিকেলে আমি বাঁধনের সঙ্গে কথা বলেছি এবং এ বিষয়ে আমাদের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটির বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে। আমাদের দূতাবাস ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জোরালোভাবে তুলে ধরবে।’
আজ জাতীয় সংসদে দুই সংসদ সদস্য বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করলে তার জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এর আগে সরকারি দলের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী (সংরক্ষিত নারী আসন-২৭) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন (রংপুর-৪) বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে ইতালীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
হুমায়ুন কবির বলেন, 'আজ সকালে আমি পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি, বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছি এবং কঠোর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছি, যাতে আমরা ইতালীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাতে এবং বাঁধনকে সর্বোচ্চ কনস্যুলার সহায়তা দিতে পারি।'
তিনি বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাঁধন তার ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী ও চার বছর বয়সী এক শিশুকে নিয়ে ভেনিসের একটি পার্কে হাঁটছিলেন। এ সময় আওয়ামী লীগের স্থগিতকৃত কিছু কর্মী ও সন্ত্রাসী একটি দল তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিলানে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল বাঁধনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং তাকে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা ও সহযোগিতা দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ঘটনার পর ভেনিস পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিয়েছে এবং বাঁধন ইতালীয় পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করবেন।
তিনি আরো বলেন, ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছেও তুলে ধরবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, এ ঘটনায় বাঁধনকে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবে।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগ্য নেতৃত্বে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচিত এই সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া, রাষ্ট্রীয় কোষাগার লুট এবং মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের বিচারের আওতায় আনতে কোনো দ্বিধা করবে না।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভূমিকার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ, যা দেশের জন্য গর্বের বিষয়।
তিনি বলেন, 'আজ বাংলাদেশের জন্য গর্বের দিন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমরা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছি। বৈশ্বিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।'
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আর কোনো দেশের অধীনতা মেনে নেবে না এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজস্ব গতিপথে এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ আর কোনো দেশের দাসত্ব বা গোলামী করবে না। বাংলাদেশ তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাবে।'
এর আগে সংসদে দেওয়া তার প্রথম বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ভূমিকা রাখার জন্য এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় তিনি সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের অভিনন্দন জানান।
তিনি আরো বলেন, সরকার বাঁধনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করবে।
এদিকে ইতালির মেস্ত্রেতে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেওয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা ও হয়রানির অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশি অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার ও টেকসই করতে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ন্যায়সঙ্গত ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান করা গেলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পাবে।
অভিন্ন নদ-নদীর পানি ব্যবস্থাপনা দুই দেশের জনগণের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি গঙ্গা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানান।
হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এ ব্যাপারে তার সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে রাষ্ট্রপতিকে জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, নিকটতম প্রতিবেশী এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
তিনি বলেন, সার্বভৌম সমতা, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদা এবং জনগণের কল্যাণকে সমুন্নত রেখে ভারতের সঙ্গে সম্মানজনক, ভবিষ্যতমুখী ও পারস্পরিকভাবে শ্রদ্ধাপূর্ণ ও লাভজনক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী বাংলাদেশ।
সাক্ষাৎকালে ভারতের হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন, শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানান।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ভারত অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে হাইকমিশনার ত্রিবেদী দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে তার দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, তার দেশ পারস্পরিক মর্যাদা, আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো দৃঢ়, উন্নত ও শক্তিশালী করতে প্রবল আগ্রহী।
রাষ্ট্রপতি তাঁকে অভিনন্দন জানানোর জন্য হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জানান এবং ভারতের রাষ্ট্রপতির নিকট আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানানোর অনুরোধ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, সংস্কৃতি এবং দু’দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের জনগণের সামর্থ্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অভিন্ন শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অর্জনে ভারত ও বাংলাদেশ আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে।
ভারতের হাইকমিশনার দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন এবং তার দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি এ সময় তার সফল কর্মকাল কামনা করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ফলপ্রসূ, ইতিবাচক ও জনকল্যাণমুখী করার আশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান উদ্বোধন করবেন।
আগামী ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী এ বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি।
ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে আয়োজিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশকনিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
কর্মসূচির আওতায় মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকরা কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও) স্থানীয় পর্যায়ের কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন।
উপ-প্রেস সচিব জানান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এ অভিযানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা হবে।
প্রতি শনিবার স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় গিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেবেন। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে— এমন জায়গা চিহ্নিত করা এবং মানুষকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
হাসান শিপলু জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে টেলিভিশনে জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা নিয়মিতভাবে তুলে ধরতে সংশ্লিষ্টদের বলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন মাস ডেঙ্গু পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও আশপাশের এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
বাংলাদেশ পুলিশের অভ্যন্তরীণ কর্মবণ্টন ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১০ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরের অ্যাডিশনাল ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। জনস্বার্থে এই বদলি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তোফায়েল হোসেন সরকারকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবং একই ইউনিটের মো. রবিউল ইসলামকে গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গাজীপুর কালীগঞ্জ সার্কেলের মো. আসাদুজ্জামানকে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী সার্কেলে এবং কটিয়াদীর বর্তমান কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেনকে শিল্পাঞ্চল পুলিশে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া এসবির মাহিন ফরাজীকে বরিশালের গৌরনদী সার্কেলে, পুলিশ সদর দপ্তরের তানজিনা চৌধুরীকে সিআইডিতে এবং র্যাবের এস এম আরিফ রাইয়ানকে চট্টগ্রামের পটিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
বদলির তালিকায় আরও রয়েছেন গাইবান্ধার শেখ মুত্তাজুল ইসলাম, যাঁকে গাজীপুর কালীগঞ্জ সার্কেলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গৌরনদী সার্কেলের আবু ছালেহ মো. আনসার উদ্দীনকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। আদেশে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, পদায়নকৃত কর্মকর্তাদের আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তরে ব্যর্থ হলে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁরা তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বা স্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবেন।