বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বেইলি রোড ট্র্যাজেডি

গণপূর্ত ও রাজউকের আরও সজাগ হওয়া উচিত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২ মার্চ, ২০২৪ ২৩:১২

রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ নামের ভবনটিতে আগুন লাগার ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) দায়িত্বে গাফিলতির দিকেও আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজউকের আরও বেশি সজাগ হওয়া উচিত ছিল।’

বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ নামের ভবনটিতে গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে আগুন লাগে। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। জীবিত উদ্ধার হয়েছে ৭৫ জন।

এতে আহত হয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ১০ জন ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন ভর্তি আছেন।
এমন প্রাণহানির ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘এর চেয়ে মর্মান্তিক আর কিছু হতে পারে না। এর (অনিয়মের) বিরুদ্ধে অভিযান চলা উচিত।’

আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন আয়োজিত ২৩তম আন্তর্জাতিক সায়েন্টিফিক সেমিনারে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

আগুনের ভয়াবহতা ও অনেকের মৃত্যুর পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন গতকাল শুক্রবার বেইলি রোডে ভবনটি পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভবনটিতে কোনো অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। ঝুঁকিপূর্ণ জানিয়ে তিনবার চিঠি দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

অন্যদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) জানিয়েছে, ভবনটিতে রেস্তোরাঁ বা পণ্য বিক্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কোনো অনুমোদন ছিল না।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে অভিযান চালানো প্রসঙ্গে বলেন, ‘অতীতে কী হয়েছে, সেগুলো মনে রাখা যাবে না। ইচ্ছা করলেই অনিয়ম করে আর হাসপাতাল খোলা যাবে না। অভিযান চলবে। হাসপাতাল থাকবে, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালও থাকবে। কিন্তু হাসপাতালগুলোকে নিয়ম মেনে চলতে হবে।’

এসময় অবৈধ বা যন্ত্রপাতিহীন হাসপাতাল বন্ধে অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালও থাকবে। কিন্তু সেসব হাসপাতালগুলোকে নিয়ম মেনে, যা যা ক্রাইটেরিয়া দরকার সেগুলো মেনে যদি হাসপাতাল চলে কোন আপত্তি নেই। আমরা একটা সুন্দর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছি, যেন সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা পাই।

তিনি বলেন, যেখানে সেখানে আইসিইউ খোলা যায় না। আইসিইউ খুলতে গেলে হার্টের রোগী রাখতে হলে সাপোর্টিং জিনিস লাগে। আমরা মানুষের জীবন নিয়ে কাজ করি। জীবন একটাই। আমরা যে অভিযান চালাচ্ছি তা চলবে, বন্ধ হবে না। প্রয়োজনে আমিও যাবো।

বার্ন হাসপাতালে আহতদের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে প্রধান করে বোর্ড

এদিকে, বেইলি রোডের আগুনে দগ্ধ হয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ৫ জনের চিকিৎসায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেনকে প্রধান করে ১৭ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

আজ শনিবার দগ্ধ রোগীদের দেখতে এসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এখানে ভর্তি হওয়া ৬ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচজন এখনও শঙ্কামুক্ত নন। তাদের চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেনকে প্রধান করে ১৭ সদস্যের ওই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।


নির্বাচিত

‘মাননীয়’ সম্বোধন পরিহারের সিদ্ধান্ত নিজের দপ্তর থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকালে সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে প্রবেশের আগে ডিজিটাল হাজির দেন। ছবি: বাসস
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী পদবির আগে সম্মানসূচক ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার না করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিজের দপ্তর থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি নিজেই দিচ্ছেন ডিজিটাল হাজিরা।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সব ধরনের নথি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে তাঁর পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকালে সচিবালয়ে অফিস করেন। নিজের দপ্তরে প্রবেশের আগে তিনি ডিজিটাল হাজির দেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

গতকাল বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই নির্দেশনা কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়েই তা বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। তাঁর কাছে উপস্থাপন করা ফাইল ও অন্যান্য সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ধারাবাহিক ইতিবাচক উদ্যোগের অংশ। এর মাধ্যমে পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের চেয়ে দায়িত্ব, জনসেবা এবং দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে সামনে আনার বার্তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

একই সাথে দাপ্তরিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও ডিজিটাল হাজিরার প্রথা প্রবর্তন করে নজির তৈরির চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী। কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো প্রধানমন্ত্রীও নিয়মিত ডিজিটাল হাজিরা দিচ্ছেন। দিনের কাজ শেষে কার্যালয় ছাড়ার সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে বের হওয়ার হাজিরা দিয়ে অফিস ত্যাগ করছেন।

সরকার প্রধান হয়ে দাপ্তরিক নিয়ম নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ম মেনে চলার বার্তা দিতে দিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রশাসনে সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ। রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিই যখন সাধারণ দাপ্তরিক নিয়ম মেনে চলেন, তখন প্রশাসনের অন্যদের কাছেও একই নিয়ম অনুসরণের প্রত্যাশা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বাসসকে বলেন, সরকারি চিঠিপত্রের সম্বোধনের আগে রাষ্ট্রপতির নামের আগে মহামান্য এবং প্রধানমন্ত্রীর নামের আগে মাননীয় লেখা যাবে না মর্মে গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিভাগ থেকে যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে, ইতোমধ্যেই আমরা তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সবগুলো মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং ইউএনওদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। আজকে থেকেই এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামীতে সরকারি পত্রালাপ বা গুরুত্বপূর্ণ নথিতে এই পরিপত্রের ব্যত্যয় ঘটানো যাবেনা মর্মে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই অতিরিক্ত সচিব আরও বলেন, আমরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই পরিপত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমস্ত প্রশাসনে জানিয়ে দিয়েছি। আশা করি, সকলেই যার যার অবস্থান থেকে পরিপত্র যথাযথ অনুসরণ করবেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমাতেও ইতোমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় তাঁর ছবি ব্যবহার না করা, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং তাঁর চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো উদ্যোগ এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী দেশে ও দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার করছেন না। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এমন একটি বার্তা দিচ্ছে যে, রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা বা বিশেষ সম্বোধনের পরিবর্তে নিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি অধিশাখার যুগ্ম সচিব তানভীর আহমেদ বাসসকে বলেন, সার্কুলারটি ইতোমধ্যে মাঠ প্রশাসনের সমস্ত জায়গায় পৌঁছে গেছে। আজ আমরা দুয়েকটি চিঠিপত্র পেয়েছি, সেখানে পরিপত্রের বাস্তবায়ন লক্ষ্য করা গেছে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির আগে মহামান্য এবং প্রধানমন্ত্রীর আগে মাননীয় শব্দটি পরিহার করার জন্য মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে, সেটি আজ বৃহস্পতিবার থেকেই পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। কোনো অফিস থেকে এর ব্যত্যয় লক্ষ্য করা গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা ও অবক্ষয়মূলক কনটেন্ট প্রতিরোধই সরকারের লক্ষ্য : তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা সভা শেষে কথা বলেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশৃঙ্খলা থামিয়ে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করা এবং জনপরিসরে নৈতিক অবক্ষয়মূলক কনটেন্ট প্রতিরোধ করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান।

তিনি বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই মুক্তচিন্তা, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা বা সাংবাদিকদের দমনের উদ্দেশে কোনো আইন করা হচ্ছে না।’

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে সংবাদ মাধ্যমকে দমিয়ে রাখা হতো। গণমাধ্যমের ওপর অপব্যবহারের যে প্রবণতা ছিল, বর্তমান সরকার সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক। খসড়া আইনে যেন এমন কোনো দ্ব্যর্থবোধক (ডুয়াল মিনিং) শব্দ না থাকে, যা আগামীতে গণমাধ্যমের ওপর অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে, সে জন্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খসড়া পরিমার্জন করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাকস্বাধীনতার নামে বিভিন্ন অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে যে অশালীন গালিগালাজ, সাইবার বুলিং ও কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ ও নীতি-নৈতিকতাকে বিনষ্ট করছে। আমাদের প্রধান কাজ হলো এই সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা এবং সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা। এই দুটো বিষয়কে কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়া কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে অংশীজনদের সাথে আলোচনা চলছে।’

আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কেবল কঠিন আইন করে সব অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। সাইবার স্পেসে সত্যতা যাচাই না করে যেকোনো মানহানিকর তথ্য বা পোস্ট শেয়ার দেওয়াও যে অপরাধের আওতায় পড়ে, সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

এর আগে সকালে কন্সালটেশন সভার সূচনা বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, সাইবার সুরক্ষা সংশোধন আইন চূড়ান্ত করার আগে তথ্য প্রকাশ, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মতামত প্রকাশের সুরক্ষার স্বার্থে গণমাধ্যমের সাথে সরাসরি সংলাপ ও মতামত নেওয়া অপরিহার্য। এজন্যই আমরা গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করছি।

তিনি বলেন, ‘আপনারাই সবচেয়ে ভালো জানেন একটি আইনের ভাষা মাঠপর্যায়ে কীভাবে কাজ করে এবং কোথায় অস্পষ্টতা তৈরি হতে পারে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সাইবার সুরক্ষা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা- এই দুটি লক্ষ্য পরস্পরবিরোধী নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক হওয়া উচিত।’

গণমাধ্যম সম্পাদকদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এই আইন সংশোধন করছি না। প্রিন্ট মিডিয়ার এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। আইনের কোথায় অস্পষ্টতা বা জটিলতা আছে, আপনারা মুক্তমনে পরামর্শ দিন। আমরা তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করব।’

কন্সালটেশন সভায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাইবার সিকিউরিটি আইনের সংশোধন প্রয়োজন। আইনটি যেন অপব্যবহার না হয় সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অনেক দেশে মোট অপরাধের ৪৪ শতাংশই এখন সাইবার স্পেসে সংঘটিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও অনলাইন জালিয়াতি, সেক্সটোরশন, নারীদের ব্ল্যাকমেইলিং এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের মতো অপরাধ প্রতিরোধে একটি যুগোপযোগী আইনের বিকল্প নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় করে যেন আইনটি পরিমার্জন করা হয়, যাতে এর কোনো অপব্যবহার বা বিতর্ক সৃষ্টি না হয়।’

সভায় অংশ নিয়ে আরও বক্তব্য রাখেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা।

কন্সালটেশন সভায় মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে প্রণীত নিপীড়নমূলক আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিল ও সংশোধন করে বর্তমান সরকার যে সাইবার সুরক্ষা আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে, তা একটি ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক অগ্রগতি। মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রাখা এবং জামিন অযোগ্য ধারাগুলো বাদ দেওয়া প্রশংসনীয়।

কাদের গনি চৌধুরী আরও বলেন, ‘বাকস্বাধীনতার নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসভ্যতা, ভুয়া আইডি দিয়ে নারী, শিশু এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনলাইন হয়রানি কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হতে পারে না। এসব প্রশ্রয় দিলে সামাজিক নোংরামি বাড়বে এবং সভ্যতা কলঙ্কিত হবে। তবে আইনের পাশাপাশি সরকারের কোনো সংস্থা যদি নাগরিকদের সাইবার অধিকার লঙ্ঘন করে, তবে তাদের জবাবদিহিতার বিধানও আইনে স্পষ্টভাবে থাকা প্রয়োজন।’

মুক্ত আলোচনায় ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ কন্সালটেশন সভা আরও পর্যাপ্ত সময় দিয়ে আয়োজনের তাগিদ দেন।

তিনি প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি আইনের প্রয়োগ এবং সাজা বাড়ানের চেয়ে অপব্যবহার রোধের কার্যকর মেকানিজম তৈরির প্রতি জোর দেন। একইসাথে, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সরাসরি শাস্তির এখতিয়ার দেওয়ার ক্ষেত্রে যেন আইনের অপপ্রয়োগ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

এছাড়া কন্সালটেশন সভায় আরও অংশ নেন অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সদস্য মারুফ কামাল খান সোহেল, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, দৈনিক ওয়াদা সম্পাদক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, দৈনিক নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের সদস্য সচিব জোবায়ের বাবু, বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি এম. আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম. এ. আজিজ, দৈনিক আমার দেশের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী ও জেষ্ঠ্য সাংবাদিক শাহীন চৌধুরীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সম্পাদকবৃন্দ এবং শিক্ষাবিদেরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা।

সভায় সাইবার সুরক্ষা (সংশোধিত) আইন, ২০২৬-এর খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান।


নির্বাচিত

ভার‌তে ব্রিকস স‌ম্মেল‌নে যা‌চ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী সপ্তাহে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেছেন, যে প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাতে সন্তুষ্ট নয় ঢাকা। তবে ভারতে সরকারপ্রধানের দ্বিপাক্ষিক সফর হতে পারে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির।

আজ (বৃহস্পতিবার) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

হুমায়ুন কবির ব‌লেন, কীভাবে যাবে? বাংলাদেশ সরকারের কাউকে কি আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

দি‌ল্লি সফরের ক্ষে‌ত্রে বাংলা‌দেশের বহুপক্ষীয় ফোরা‌মে অংশগ্রহ‌ণের চাইতে দ্বিপাক্ষিক সফরে জোর দেওয়া হ‌চ্ছে জা‌নি‌য়ে প্রতিমন্ত্রী ব‌লেন, আমরা দ্বিপাক্ষিক সফর ও আলোচনার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছি। যখন পরিবেশ অনুকূল হবে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় থাকবে, তখন দ্বিপাক্ষিক সফর হবে। এখানে তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই।

আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান‌কে অংশগ্রহ‌ণের জন‌্য ভার‌তের প্রধানমন্ত্রী ন‌রেন্দ্র মো‌দি আমন্ত্রণ জা‌নি‌য়ে‌ছি‌লেন। ত‌বে ওই আমন্ত্রণপ‌ত্রে তা‌রেক রহমান‌কে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ না ক‌রে শুধুমাত্র বিমস‌টে‌কের চেয়ার হি‌সে‌বে আমন্ত্রণ জানা‌নো হয়, যা ভা‌লোভা‌বে নেয়‌নি ঢাকা।

গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়ন নি‌য়ে এক প্রশ্নের জবা‌বে প্রতিমন্ত্রী ব‌লেন, আমাদের জাতীয় স্বার্থ যেখানেই জড়িত, সেখানেই আমরা গুরুত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করব। আনন্দবাজার পত্রিকা যাই বলুক না কেন, আমি আমার দেশের স্বার্থ ও আনন্দের কথা ভাবব।

বাণিজ্য ইস‌্যু‌তে আরেক প্রশ্নের জবা‌বে তি‌নি ব‌লেন, বাণিজ্য নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলাপ-আলোচনা চলছে। তবে এই মুহূর্তে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা নতুন আপডেট দেওয়ার মতো কিছু নেই।

রো‌হিঙ্গা সমস‌্যার সমাধান নি‌য়ে হুমায়ুন ক‌বির ব‌লেন, এই ধরনের জটিল বিষয়ে তো হুট করে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া যায় না। ধৈর্য ধরতে হবে, তবে কূটনৈতিক তৎপরতা দ্রুত গতিতে চালাতে হবে। আমরা আগামীকালই এটা সমাধান করে ফেলব—এমন দাবি হয়তো করা যাবে না, তবে আমরা আশাবাদী যে দ্রুতই একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে আমরা এগিয়ে যেতে পারব।


নির্বাচিত

আর্থিক অনিয়ম-শিক্ষা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ: ডব্লিউএইচও’র পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। বুধবার পদত্যাগপত্র দিয়েছেন তিনি। ওই পদত্যাগপত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।

জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে বাংলাদেশ ও ডব্লিউএইচওর তদন্তের মধ্যে থাকা অবস্থায় পদত্যাগ করলেন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।

২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ। তবে গত বছরের শেষ দিকে তাঁকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায় সংস্থাটি। এর আগে ওই বছরের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা জানান, ডব্লিউএইচও তাঁর বিরুদ্ধে চীন সফরের ক্ষেত্রে আর্থিক জালিয়াতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। সায়মা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা আরও জানান,বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগ করেছে ডব্লিউএইচও। তাঁর দাবি, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অর্জন করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় তিনি এর বৈধ মালিকানা পেয়েছেন।

পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর সেবা করার লক্ষ্যেই তিনি আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাঁকে দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে ক্রমাগত বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, তাঁকে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানোর কারণে প্রায় এক বছর ধরে কোনো পারিশ্রমিক পাননি। এতে তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাসও নষ্ট হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে, এর আগে দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ডব্লিউএইচও। সূত্রগুলো জানায়, আগামী ১২ অক্টোবর এ পদের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করা হতে পারে। ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন হতে পারে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের অধীনে বাংলাদেশ ও ভারতসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো রয়েছে। আঞ্চলিক পরিচালকরা বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ও জরুরি পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচওর কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থার নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

জুলাইয়ের চিঠিতে সায়মা তাঁর বিরুদ্ধে ভ্রমণ-সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগও অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, ৯০১ ডলারের একটি অর্থ ফেরত পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়ায় তাঁর এক সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি তৈরি হয়েছে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন এবং ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোসের কাছে এ যোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন।

সায়মা ওয়াজেদ এ বিষয়ে রয়টার্সকে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মন্তব্যের অনুরোধে ডব্লিউএইচওও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি। গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল, সায়মা ছুটিতে রয়েছেন; তবে গোপনীয়তার কারণে তাঁর বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করবে না।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্বোধনে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহার না করার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’সহ কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির পূর্বে সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে যথাক্রমে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এর অধীন সব দপ্তরের দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ প্রেরণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নির্দেশনাটি অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত পরিপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব ও সচিব, সব বিভাগীয় কমিশনার, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তা, সব জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

পরিপত্রে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সচিব ও সচিবদের তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

সরকারের দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে অভিন্ন রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

হামের প্রকোপে নিঃশেষ হাজারো প্রাণ

# হাসপাতালেও দ্বিমুখী চাপ # পরিবারের ভোগান্তি দেখাচ্ছে বাস্তব চিত্র # দায় নির্ধারণে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

একসময় হাম নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের সাফল্য ছিল আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। নিয়মিত টিকাদান, জাতীয় পর্যায়ের একাধিক ক্যাম্পেইন এবং মাঠপর্যায়ে শক্তিশালী কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটি হাম নির্মূলের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। সেই বাংলাদেশেই এখন ফিরে এসেছে ভয়াবহ হাম। শুধু কয়েক হাজার নয়, আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে; প্রায় ২০ হাজার রোগীর সংক্রমণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার পেরিয়েছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবের মুখে থাকা দেশ হিসেবে বর্ণনা করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বুধবার এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থাটি এ তথ্য জানিয়েছে।

রয়টার্স বলেছে, এটি নিছক একটি সংক্রামক রোগের বিস্তার নয়। এর পেছনে উঠে আসছে টিকাদানের ধারাবাহিক ঘাটতি, নিয়মিত কর্মসূচির দুর্বলতা, জাতীয় ক্যাম্পেইন পিছিয়ে যাওয়া, টিকা সংগ্রহের পদ্ধতিতে পরিবর্তন এবং মাঠপর্যায়ে পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতার প্রশ্ন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসছে বড় প্রশ্ন—প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ কেন এমন পর্যায়ে গেল এবং বর্তমান সংকটের জন্য কার কতটা দায়?

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে হামের উপসর্গে নতুন করে আরও ৩ জন মারা গেছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কেউ মারা যায়নি। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে চলতি বছর এক হাজার ২ জন মারা গেছে। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০০ জন ও হামের উপসর্গে ৯০২ জন মারা গেছে।

অধিদপ্তর জানায়, নতুন করে ৬৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১১৯ জন। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ১৯ হাজার ৯০৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। আর হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০ জনের।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু। প্রাদুর্ভাবের শুরুর দিকে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুরাই আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশ ছিল। নয় মাসের কম বয়সি শিশুরা সাধারণ নিয়মে হাম টিকার বয়সে পৌঁছায় না। ফলে তাদের সুরক্ষা অনেকাংশে নির্ভর করে আশপাশের মানুষের উচ্চ টিকাদান কভারেজের ওপর। কিন্তু সেই সুরক্ষার দেওয়ালেই বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে।

হাম অত্যন্ত সংক্রামক হলেও প্রতিরোধের কার্যকর উপায় বহু বছর ধরেই পরীক্ষিত—টিকা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, জনগোষ্ঠীর অন্তত ৯৫ শতাংশকে টিকার আওতায় রাখা গেলে ব্যাপক সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় এই মাত্রার কাছাকাছি কভারেজ ধরে রাখতে পেরেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই ধারাবাহিকতা ভেঙেছে।

২০২৪ ও ২০২৫ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে। কিছু কর্মসূচি পিছিয়েছে, কিছু বাতিল হয়েছে। ফলে টিকার বাইরে থাকা শিশুদের একটি বড় জনগোষ্ঠী তৈরি হয়। মহামারি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এ ধরনের ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ তাৎক্ষণিকভাবে চোখে না পড়লেও কয়েক বছর পর তার ফল ভয়াবহ হতে পারে।

সাম্প্রতিক তথ্যেও দেখা যাচ্ছে, ২০২২ সালে নিশ্চিত হাম রোগী ছিল মাত্র ৩১১ জন, ২০২৩ সালে ২৮২, ২০২৪ সালে ২৪৭ এবং ২০২৫ সালে ১৩২ জন। অথচ ২০২৬ সালে সংখ্যা কয়েক হাজার পেরিয়ে প্রায় ২০ হাজারে পৌঁছেছে। এই উল্লম্ফন বাংলাদেশের টিকাদান ব্যবস্থার দুর্বলতা কতটা গভীরে গেছে, সেই প্রশ্নই সামনে আনে।

ইউনূস সরকারের সময়ে নীতির পরিবর্তন: সংকটের সবচেয়ে বিতর্কিত অধ্যায় টিকা সংগ্রহের পদ্ধতি পরিবর্তন।

রয়টার্স জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহের নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়। আগে যে প্রক্রিয়ায় ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ করা হতো, সেটি পরিবর্তন করে উন্মুক্ত দরপত্রের দিকে যাওয়া হয়। এ পরিবর্তন নিয়ে ইউনিসেফ উদ্বেগ জানিয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আশঙ্কা ছিল, নতুন প্রক্রিয়ায় সরবরাহ বিলম্বিত হতে পারে। এখানেই বর্তমান সরকারের নীতিগত দায়ের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

কারণ, কোনো প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে টিকা সরবরাহের ধারাবাহিকতা একটি মৌলিক বিষয়। সম্ভাব্য বিলম্বের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কেন সংগ্রহ পদ্ধতি পরিবর্তন করা হলো, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরবরাহ ঝুঁকি কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছিল এবং সংকট দেখা দেওয়ার পর কেন দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হলো—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।

তবে পুরো বিপর্যয়ের দায় এককভাবে ইউনূস সরকারের ওপর চাপানোও বাস্তবতার পূর্ণ চিত্র হবে না। টিকাদানের দুর্বলতা এক দিনে তৈরি হয়নি। কোভিড-পরবর্তী সময়ে নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি, প্রশাসনিক দুর্বলতা, মাঠপর্যায়ের নজরদারি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা—সব মিলিয়েই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়ে নীতিগত পরিবর্তন ও সরবরাহ বিলম্ব যদি সংকটকে আরও বাড়িয়ে থাকে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের দায়ও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। আরেকটি বড় প্রশ্ন জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি হওয়ার কথা থাকলেও সেটি পিছিয়ে যায়। পরে ২০২৬ সালের এপ্রিলে জরুরি কর্মসূচি শুরু করতে হয়। অর্থাৎ সংক্রমণ যখন ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে, তখনো দেশজুড়ে প্রয়োজনীয় টিকাদান কার্যক্রম মাঠে নামেনি।

৫ এপ্রিল প্রথমে ৩০টি উচ্চঝুঁকির উপজেলায় জরুরি কর্মসূচি শুরু করা হয়। পরে তা দেশব্যাপী সম্প্রসারিত হয়। ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও গ্যাভির সহায়তায় পরিচালিত এ কর্মসূচিতে শেষ পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি শিশু টিকার আওতায় আসে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এই উদ্যোগ যদি আরও আগে নেওয়া হতো, তাহলে কি সংক্রমণের বিস্তার এতটা ভয়াবহ হতো? আরেকটি অসঙ্গতি উঠে এসেছে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রায়।

জরুরি কর্মসূচিতে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সি প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ১ কোটি ৯৭ লাখের বেশি শিশু টিকা পেয়েছে। অথচ একই বয়সি শিশুদের নিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে অন্তর্ভুক্তির সংখ্যা ছিল প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ। দুই কর্মসূচির হিসাবের পার্থক্য প্রায় ৪৬ লাখ।

এই ব্যবধানের ব্যাখ্যা জরুরি। একই বয়সি শিশুদের তালিকা যদি একটি জাতীয় কর্মসূচিতে এত বড় হয়, তাহলে হাম টিকাদানের সময় সেই শিশুদের একটি বড় অংশ কোথায় গেল—এ প্রশ্নের উত্তর ছাড়া টিকাদান কর্মসূচির প্রকৃত কভারেজ বোঝা কঠিন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেনের বক্তব্যে সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে—মাইক্রো-প্ল্যানিং।

নিয়মিত ইপিআই কর্মসূচিতে প্রথমে টিকার উপযোগী শিশুদের তালিকা তৈরি করা হয়। এরপর তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ, টিকাদানের স্থান ও সময় নির্ধারণ এবং বাড়ি, স্কুল বা স্থানীয় কেন্দ্রে সেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। জরুরি কর্মসূচিতে দ্রুত মাঠে নামার কারণে এই প্রস্তুতি যথাযথভাবে করা সম্ভব হয়নি। ফলে কোথাও মানুষকে উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে টিকা নিতে হয়েছে, আবার কোথাও বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ বা মাইকিংয়ের মতো উদ্যোগ যথেষ্ট ছিল না। ফলে যারা নিজেরা কেন্দ্রে আসতে পারেনি, তাদের একটি অংশ বাদ পড়ে গেছে।

বিশেষ করে ভাসমান, ঠিকানাবিহীন ও পথশিশুদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা না থাকলে কাগজে কভারেজ বাড়লেও প্রকৃত জনগোষ্ঠী সুরক্ষিত হয় না। টিকাদানের ঘাটতির সঙ্গে চিকিৎসাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও সংকটকে তীব্র করেছে।

ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের রোগীদের জন্য ৬০টি শয্যা থাকলেও রোগীর চাপ সামলাতে অনেককে মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ১ হাজার ৩৫০ রোগীর সক্ষমতার হাসপাতালটিতে রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৩৫০ ছাড়িয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডেঙ্গু। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৪২ হাজার ছাড়িয়েছে। ফলে একই সময়ে দুই সংক্রামক রোগের চাপ সামলাতে গিয়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপে পড়েছে।

হামের রোগীদের ক্ষেত্রে শিশুদের অপুষ্টি, নিউমোনিয়া ও অন্যান্য জটিলতা মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়। তাই শুধু টিকা নয়, উপজেলা ও জেলা পর্যায়েই পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন পরিবারের কথাও, যাদের সন্তান অসুস্থ হওয়ার পর এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরতে হয়েছে। এক শিশুর মা জানিয়েছেন, টিকা দেওয়ার সময় সন্তান অসুস্থ থাকায় টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে টিকা না পাওয়ার অভিজ্ঞতাও হয়েছে।

এ ধরনের ঘটনা দেখায়, সমস্যাটি শুধু ‘মানুষ টিকা নেয়নি’—এত সরল নয়। কোথাও পরিবার টিকা দিতে পারেনি, কোথাও টিকা মেলেনি, কোথাও কর্মসূচির তথ্য পৌঁছেনি। অর্থাৎ চাহিদা ও সরবরাহ—দুই দিকেই ঘাটতি ছিল।

ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, শুধু টিকা নিতে আসা শিশুদের টিকা দিলেই হবে না; যারা বাদ পড়েছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি টিকাবঞ্চিত শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার পাশাপাশি ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যেও টিকাদানের ঘাটতি চিহ্নিত করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে ভাসমান শিশুদের জন্য ভ্রাম্যমাণ টিকাদান ব্যবস্থা, উপজেলা পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ এবং গুরুতর রোগীদের স্থানীয় পর্যায়েই চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। জ্বরের ক্ষেত্রে হাম ও ডেঙ্গু—দুই সম্ভাবনাই বিবেচনায় রেখে পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ জরুরি।

বাংলাদেশে হামের এই বিপর্যয়কে শুধু একটি রোগের প্রাদুর্ভাব হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি রাষ্ট্রীয় টিকাদান ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের মান নিয়ে বড় পরীক্ষা।

দীর্ঘমেয়াদি ব্যর্থতার দায় যেমন আগের সময়গুলোর ওপর রয়েছে, তেমনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহের পদ্ধতি পরিবর্তন, সরবরাহ বিলম্ব এবং জাতীয় কর্মসূচি পিছিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তগুলোর দায়ও খতিয়ে দেখা দরকার।

বিশেষ করে ইউনিসেফের সতর্কতার পরও যদি সংগ্রহ পদ্ধতি পরিবর্তন করা হয়ে থাকে, তাহলে সিদ্ধান্তটি কে নিয়েছিলেন, কী ধরনের ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়েছিল এবং সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থা কেন আগে নেওয়া হয়নি—এসব প্রশ্নের উত্তর প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন। টিকা সংগ্রহের নথি, ক্রয় প্রক্রিয়া, সরবরাহের সময়সূচি, জাতীয় ক্যাম্পেইন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং মাঠপর্যায়ের কভারেজ—সবকিছুর স্বাধীন পর্যালোচনা জরুরি।

কারণ হাম প্রতিরোধযোগ্য। শিশুর মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী ছিল না। বহু বছর যে রোগকে টিকার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল, সেটিই যদি আবার হাজার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে প্রশ্ন শুধু ভাইরাসের নয়—প্রশ্ন রাষ্ট্রের প্রস্তুতি, সিদ্ধান্ত ও জবাবদিহির।

বাংলাদেশের সামনে এখন দুটি কাজ—সংক্রমণ থামানো এবং কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হলো, তার উত্তর খুঁজে বের করা। প্রথমটি জরুরি, দ্বিতীয়টি ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।


নির্বাচিত

উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ বৃদ্ধি ঠেকাতে কঠোর সরকার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

# বিগত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে, রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা # নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য # ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ # জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১৫০ কূপ খনন # নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা # ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে নিতে লাগবে ৭ বছর # পলিথিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

উন্নয়ন প্রকল্প বারবার সংশোধন করে মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা ঠেকাতে নজরদারি বাড়াচ্ছে সরকার। প্রকল্প অনুমোদনের আগেই সম্ভাব্যতা যাচাই শক্তিশালী করা, বাস্তবায়ন পর্যায়ে মাঠপর্যায়ের তদারকি বাড়ানো এবং অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন এবং নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির তদন্ত হচ্ছে, তদন্তের রিপোর্ট পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার গঠিত হওয়ার পর বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে কিছু অনিয়ম দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সেই প্রকল্পগুলোকে তদন্তের অধীনে নেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটির ক্ষেত্রে মোটামুটিভাবে তদন্ত শেষ হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট সরকারের হাতে আসলে পরামর্শ মোতাবেক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত একটিমাত্র কারণে হয় না, বরং অনেকগুলো কারণ থাকে। প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই সমস্যা তৈরি হয়।’ প্রকল্প নির্ধারিত সময় ও বাজেটের মধ্যে শেষ না হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্বল প্রকল্প প্রণয়ন, সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় ঘাটতি, সঠিক ব্যয় নির্ধারণে সমস্যা, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাবের কারণে প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বেড়ে যায়। এসব সমস্যা ঠেকাতে অনুমোদনের আগেই সম্ভাব্যতা সমীক্ষা আরও নির্ভুল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন শুরুর প্রস্তুতিও দ্রুত শেষ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প গ্রহণ, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধনের বিদ্যমান নির্দেশনা যুগোপযোগী করার কাজ চলছে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ও ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। বায়ু, বর্জ্য, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে আরও ৪৫০-৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালু, ঢাকা-কুমিল্লা কর্ডলাইন নির্মাণ এবং পুরো রেলপথ ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইলেকট্রিক ট্রেন চালানোর উদ্দেশ্যে ট্র্যাকশন স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর প্রকল্পের সময়সূচি নির্ধারণ করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি চালু হলে ট্রেনের গতি বাড়বে এবং যাতায়াতের সময় কমবে।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা-কুমিল্লা সরাসরি কর্ডলাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের দূরত্ব কমার পাশাপাশি ট্রেনের গতি বাড়বে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা যাচাই এবং নিয়মিত পর্যালোচনাও জোরদার করা হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে।’

যেসব প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৩০ শতাংশের নিচে, সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। প্রয়োজনে এসব প্রকল্পের পরিধি পরিবর্তন, পুনর্বিন্যাস কিংবা চলমান রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ না হওয়ার কারণ ও অতিরিক্ত ব্যয়ের বিষয় যাচাই করে দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

জ্বালানিসংকট নিরসনে পাঁচ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন চলছে: শিল্প খাতে আকস্মিক গ্যাস সংকটের প্রভাব কমাতে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি অনুসন্ধান ও অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পাশাপাশি ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনা করা হবে।

সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। স্থলভাগে অনুসন্ধানে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি-২০২৬’ প্রণয়নের কাজও চলছে।

ভোলার গ্যাস পাইপলাইনে মূল ভূখণ্ডে নিতে লাগবে ৭ বছর: ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে অন্তত সাত বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ কারণে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

ভোলায় গ্যাসভিত্তিক একটি সার কারখানা এবং ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে গ্যাসনির্ভর শিল্প গড়ে উঠলে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

নতুন এলএনজি টার্মিনালসহ ১৫০ কূপ খননের পরিকল্পনা: বর্তমানে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক গড়ে প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় মহেশখালীর কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি ল্যান্ডবেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম চলছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুতুবজোমের টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং মাতারবাড়ীর টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর নাগাদ রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহের আশা করা হচ্ছে। পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হচ্ছে।

ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মূল ভূখণ্ডে এনে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহের সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিকের মতো পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের এসব উদ্যোগের লক্ষ্য দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং শিল্প ও রপ্তানি খাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করা।

এর আগে বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে এ নিয়ে যথাযথ দায়িত্ব পালনের নির্দেশনাও দেন তিনি।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান।

সভায় পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক) ড. সাইমুম পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলবে বৈদ্যুতিক ট্রেন, জরিপ সম্পন্ন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সময় ও দূরত্ব কমিয়ে আনতে পরিবেশবান্ধব ও দ্রুতগতির ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের পথে এই ট্রেন চালুর লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা জরিপ ও বিশদ নকশা প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হলেই কাঙ্ক্ষিত মেগা প্রকল্পটির বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করে মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন শুরু করা হবে।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনার জন্য ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন স্থাপনের নিমিত্তে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং ডিজাইন প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর প্রকল্পের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। অর্থায়ন প্রাপ্তিসাপেক্ষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডোরে ইলেকট্রিক ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে। ফলে ট্রেনের গড় গতি বাড়বে এবং যাতায়াতের সময় কমবে।’ ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াত, সময় ও দূরত্ব কমানোর জন্য সরকারের নেওয়া এই পরিকল্পনা সংসদের কাছে তুলে ধরেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেলপথকে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে রূপান্তরের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-চট্টগ্রাম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষ হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর মধ্যে লাকসাম-চট্টগ্রাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া টঙ্গী-আখাউড়া ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন শেষ পর্যায়ে। আশা করি, এই প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা করিডরে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা এবং ট্রেনের গতি বৃদ্ধি পাবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের দূরত্ব হ্রাস করার লক্ষ্যে ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত কর্ডলাইন নির্মাণের উদ্দেশ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিশদ ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলমান আছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ঢাকা-চট্টগ্রামের মধ্যে দূরত্ব কমবে এবং গড় গতি বাড়বে। অল্প সময়ের মধ্যে যাতায়াত করা যাবে।’

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকাল সাড়ে ৩টায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী প্রথম আধা ঘণ্টা প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তরপর্ব।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৮টি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তিনটি প্রশ্ন ও সাতটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।


নির্বাচিত

চট্টগ্রামে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনায় ২ সেনা নিহত, আহত ১

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় দুর্ঘটনায় ২ সেনাসদস্য নিহত ও ১ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২ জন সৈনিক নিহত এবং ১ জন কর্মকর্তা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।

আইএসপিআর আরও জানায়, আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।


নির্বাচিত

দেশে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার ৪ কোটি মানুষ, অর্ধেকই গণপরিবহনে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের সুরক্ষায় দেশের সব গণপরিবহন শতভাগ তামাক ও ধূমপানমুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে গণপরিবহনে যথাযথ ‘তামাক ব্যবহার ও ধূমপান নিষেধ’ নির্দেশক চিহ্ন ও আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রদর্শন এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএর সভাকক্ষে ঢাকা আহছানিয়া মিশন ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) যৌথ আয়োজনে ‘তামাকমুক্ত গণপরিবহন নিশ্চিতকরণে করণীয়’ শীর্ষক সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।

সভায় বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘টেকসই তামাক ও ধূমপানমুক্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সক্ষমতা বৃদ্ধির কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহায়তায় ২০১৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৬১ হাজারের বেশি গণপরিবহন চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের সুরক্ষায় ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম চালু থাকবে।’

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী শরিফুল ইসলাম। তিনি গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (GATS) ২০১৭-এর তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। এর মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ ধূমপান করেন। পাশাপাশি প্রায় ৪ কোটি অধূমপায়ী মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের হার প্রায় ৪৪ শতাংশ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

সভায় গণপরিবহন ও বিআরটিএর সব কার্যালয়কে তামাকমুক্ত রাখতে কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—বিআরটিএর বিভাগীয় ও সার্কেল অফিসসহ সব কার্যালয় এবং গণপরিবহনে আইন অনুযায়ী ‘তামাক ব্যবহার ও ধূমপান নিষেধ’ নির্দেশক চিহ্ন ও বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রদর্শন নিশ্চিত করা; পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও চালকদের নিয়ে নিয়মিত তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং বিআরটিএর ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো।

চালক ও চালকের সহকারীদের ধূমপানের ফলে পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন যাত্রীরা, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা। ফলে ধূমপান না করেও একই ধরনের ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা। বক্তারা বলেন, ‘বিআরটিএর আওতাধীন পাবলিক পরিবহন শতভাগ ধূমপানমুক্ত করতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে তামাক ব্যবহার ও ধূমপানের জন্য যে জরিমানা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। যাতে যাত্রী, চালক বা হেলপার—কেউই পাবলিক পরিবহনে ধূমপান করতে না পারেন।’

পাশাপাশি, তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধিত-২০১৩) যথাযথভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিবহন মালিক ও ব্যবসায়ীদের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। একই সঙ্গে বাসের টিকিটে ধূমপানবিরোধী সচেতনতামূলক বার্তা লেখার সুপারিশ করা হয়।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন সিটিএফকের দক্ষিণ এশিয়া ও জর্ডানের আঞ্চলিক পরিচালক (প্রোগ্রামস) ড. মাহিন মালিক। সভাপতিত্ব করেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের সহসভাপতি ড. এসএম খলিলুর রহমান।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেক্টরের উপপরিচালক মোখলেছুর রহমানসহ বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


নির্বাচিত

আইনি যাচাই চলছে পে-স্কেলের, গেজেট শিগগিরই

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল আলোচিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রজ্ঞাপনের খসড়া রেজল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানোর পর এখন আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং বা আইনি যাচাইয়ের অধীনে রয়েছে। আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দ্রুতই এসআরও নম্বর দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

গত ২ সেপ্টেম্বর পে-স্কেলের রেজল্যুশনটি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছিল এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফিরে আসে। বর্তমানে প্রজ্ঞাপনটি আইন মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনার মুখে রয়েছে। প্রশাসনিক ও আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে খুব শিগগিরই আদেশ জারি করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় পে-স্কেলের অনুমোদন দেওয়া হয়, যা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোতে নিম্ন ও উচ্চ উভয় গ্রেডেই মূল বেতন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছে। তবে পুরো বর্ধিত বেতন একবারে কার্যকর না হয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে তিন ধাপে মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে। যেমন—২০তম গ্রেডের বর্তমানের ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করা হয়েছে, যা তিন ধাপে মূল বেতন হবে যথাক্রমে ১৪,১২৫ টাকা, ১৭,০৬২.৫০ টাকা এবং ২০,০০০ টাকা। ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫৬,০০০ টাকা করা হয়েছে, যার তিন ধাপে মূল বেতন দাঁড়াবে যথাক্রমে ১,০৯,২০০ টাকা, ১,৩২,৬০০ টাকা এবং ১,৫৬,০০০ টাকা। এ ছাড়া ৯ম গ্রেডের মূল বেতন ২২,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৪,০০০ টাকা করা হয়েছে, যার তিন ধাপে এই গ্রেডের বেসিক হবে যথাক্রমে ৩০,৮০০ টাকা, ৩৭,৪০০ টাকা এবং ৪৪,০০০ টাকা। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের অর্ধেক প্রথম ধাপে, এক-চতুর্থাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং বাকি এক-চতুর্থাংশ তৃতীয় ধাপে কার্যকর হবে। আর প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের ৪০ শতাংশ, ৩০ শতাংশ ও ৩০ শতাংশ হারে তিন ধাপে নতুন বেসিক কার্যকর করা হবে।

নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন বা বেসিক বাড়লেও বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা একই সময়ে কার্যকর হচ্ছে না। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামোয় এসব ভাতা প্রদান করা হবে। নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে বেতন, ভাতা ও পেনশন খাতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়বে। এর মাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগী মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ নতুন এই সুবিধার আওতায় আসবেন। সরকারের রাজস্ব আদায়, মূল্যস্ফীতি এবং বাজেট ব্যবস্থাপনার ওপর যাতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি না হয়, সে জন্যই ধাপে ধাপে এই বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলযোগ্য: দুদক সচিব

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ আমলযোগ্য হওয়ায় অনুসন্ধান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। তিনি বলেন, যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আজ বুধবার দুদকের সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি দুদকের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিষ্ঠানটিতে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ। তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর কারণ এবং এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব বলেন, দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। আইন অনুযায়ীই সংস্থাটি অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত করে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়।

‘প্রাথমিক সত্যতা’ নিয়ে দুদকের অবস্থান

ব্রিফিংয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন ওঠে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ নিয়ে। এর আগে তাঁর বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ের সময় দুদকের এক মুখপাত্র বলেছিলেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। পরে ওই বক্তব্যকে ‘স্লিপ অব টাং’ বা অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

বুধবারের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকেরা বিষয়টি নিয়ে বারবার স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান। জবাবে দুদক সচিব বলেন, মুখপাত্রের আগের বক্তব্যকে কমিশনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য হিসেবে ধরা হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘এটা হয়তো স্লিপ অব টাং হিসেবে বের হয়ে গেছে। আমরা এটাকে অফিশিয়ালি গ্রহণ করছি না। আইন যেভাবে বলেছে, সেভাবেই আমরা প্রক্রিয়াটি অনুসরণ করছি।’

এরপর সরাসরি জানতে চাওয়া হয়, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে দুদক আদৌ কোনো প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে কি না। জবাবে সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘এখনো এটা বলার সময় হয়নি। আরও অনুসন্ধান হবে। এ পর্যায়ে এটা বলার কোনো সুযোগ নেই।’

যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনুসন্ধান

অভিযোগ অনুসন্ধানে নেওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে দুদক সচিব বলেন, কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই কমিটি পর্যালোচনা করে। এরপর ওই কমিটির মতামত, পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের ভিত্তিতে কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ আসার পর সেটি যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের পর অবশ্যই কোনো মন্তব্য, সুপারিশ বা মতামত থাকে। সেই মতামতের ভিত্তিতে কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়।’

আসিফ মাহমুদের অভিযোগের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, ‘এই অভিযোগ পাওয়ার পর আমাদের যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদন এসেছে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় নথি ও ফাইল চেয়ে আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি।’

সাংবাদিকেরা জানতে চান, যাচাই-বাছাই কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল কি না। জবাবে সচিব বলেন, প্রতিবেদনটি এ মুহূর্তে তাঁর কাছে নেই। ফলে এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে পারবেন না।

কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বক্তব্য নিয়ে দুদকের অবস্থান

অনুসন্ধান চলাকালে দুদকের কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগত মতামত দিয়ে অনুসন্ধানকে প্রভাবিত করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, কমিশনের তিন সদস্য সব বিষয় পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের তিনজন কমিশনার রয়েছেন। কমিশন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে।’

রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ

আসিফ মাহমুদের রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগের বিষয়ে দুদক সচিব বলেন, কেউ সংক্ষুব্ধ মনে করলে নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারেন এবং আইন অনুযায়ী প্রতিকার চাইতে পারেন। দুদকও আইন অনুযায়ীই বিষয়টি মোকাবিলা করবে।

ব্রিফিংয়ের শেষে দুদক সচিব বলেন, অভিযোগ যাচাই-বাছাই এবং কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

আইসিইউতে চিকিৎসাধীন মেঘমল্লার বসু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও ন্যাশনাল পিপলস অ্যাকশনের (এনপিএ) কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সদস্য মেঘমল্লার বসু অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাতে তাঁর সহযোদ্ধারা জানিয়েছেন, তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে আগের চেয়ে কিছুটা ভালো এবং উন্নতির দিকে রয়েছে।

হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেট এলাকা থেকে মেঘমল্লার বসুকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর পরিচিত লোকজন তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা প্রাথমিকভাবে বিষক্রিয়ার আশঙ্কায় তাঁর পাকস্থলী ওয়াশ করেন এবং চিকিৎসা দিয়ে একটি সাধারণ ওয়ার্ডে রাখেন।

তবে পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাঈন আহমেদ জানান, মেঘমল্লার বসুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আগে থেকেই কিছুটা দুর্বল ছিল। ফুসফুসে কফ জমে যাওয়া এবং অজ্ঞান থাকার কারণে নিজে থেকে কাশতে না পারায় শ্বাসপ্রশ্বাসে বাড়তি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ফলে ফুসফুসের কফ পরিষ্কার ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের স্বার্থেই চিকিৎসকেরা তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেন।

বুধবার রাতে মাঈন আহমেদ আরও নিশ্চিত করেন যে মেঘমল্লার বসুর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতির দিকে রয়েছে। চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত থাকায় বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তাঁর জ্ঞান ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

banner close