রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
বেইলি রোড ট্র্যাজেডি

গণপূর্ত ও রাজউকের আরও সজাগ হওয়া উচিত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২ মার্চ, ২০২৪ ২৩:১২

রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ নামের ভবনটিতে আগুন লাগার ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) দায়িত্বে গাফিলতির দিকেও আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজউকের আরও বেশি সজাগ হওয়া উচিত ছিল।’

বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ নামের ভবনটিতে গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে আগুন লাগে। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। জীবিত উদ্ধার হয়েছে ৭৫ জন।

এতে আহত হয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ১০ জন ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন ভর্তি আছেন।
এমন প্রাণহানির ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘এর চেয়ে মর্মান্তিক আর কিছু হতে পারে না। এর (অনিয়মের) বিরুদ্ধে অভিযান চলা উচিত।’

আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন আয়োজিত ২৩তম আন্তর্জাতিক সায়েন্টিফিক সেমিনারে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

আগুনের ভয়াবহতা ও অনেকের মৃত্যুর পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন গতকাল শুক্রবার বেইলি রোডে ভবনটি পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভবনটিতে কোনো অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। ঝুঁকিপূর্ণ জানিয়ে তিনবার চিঠি দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

অন্যদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) জানিয়েছে, ভবনটিতে রেস্তোরাঁ বা পণ্য বিক্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কোনো অনুমোদন ছিল না।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে অভিযান চালানো প্রসঙ্গে বলেন, ‘অতীতে কী হয়েছে, সেগুলো মনে রাখা যাবে না। ইচ্ছা করলেই অনিয়ম করে আর হাসপাতাল খোলা যাবে না। অভিযান চলবে। হাসপাতাল থাকবে, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালও থাকবে। কিন্তু হাসপাতালগুলোকে নিয়ম মেনে চলতে হবে।’

এসময় অবৈধ বা যন্ত্রপাতিহীন হাসপাতাল বন্ধে অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালও থাকবে। কিন্তু সেসব হাসপাতালগুলোকে নিয়ম মেনে, যা যা ক্রাইটেরিয়া দরকার সেগুলো মেনে যদি হাসপাতাল চলে কোন আপত্তি নেই। আমরা একটা সুন্দর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছি, যেন সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা পাই।

তিনি বলেন, যেখানে সেখানে আইসিইউ খোলা যায় না। আইসিইউ খুলতে গেলে হার্টের রোগী রাখতে হলে সাপোর্টিং জিনিস লাগে। আমরা মানুষের জীবন নিয়ে কাজ করি। জীবন একটাই। আমরা যে অভিযান চালাচ্ছি তা চলবে, বন্ধ হবে না। প্রয়োজনে আমিও যাবো।

বার্ন হাসপাতালে আহতদের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে প্রধান করে বোর্ড

এদিকে, বেইলি রোডের আগুনে দগ্ধ হয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ৫ জনের চিকিৎসায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেনকে প্রধান করে ১৭ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

আজ শনিবার দগ্ধ রোগীদের দেখতে এসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এখানে ভর্তি হওয়া ৬ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচজন এখনও শঙ্কামুক্ত নন। তাদের চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেনকে প্রধান করে ১৭ সদস্যের ওই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।


রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার জেরে বাংলাদেশ থেকে ৫ ফ্লাইট বাতিল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর বিমানবন্দরটির সার্বিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে পরিচালিত পাঁচটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত এসব ফ্লাইট স্থগিতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক কাওছার মাহমুদ।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর তালিকায় রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া এবং রিয়াদ এয়ারের নিয়মিত ফ্লাইট। রিয়াদে অনাকাঙ্ক্ষিত অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিমান সংস্থাগুলো এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এর আগে শনিবার মধ্যরাতে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের নিক্ষিপ্ত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে এবং আহত হন আরও ৩০৯ জন। নিহত ও আহতদের মধ্যে বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাশাপাশি মিসর, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সুদান, সিরিয়া ও মার্কিন নাগরিক রয়েছেন। ভয়াবহ এই হামলার পরপরই চরম ঝুঁকি এড়াতে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ধরনের বিমান চলাচল ও পরিচালন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, বিগত প্রায় দুই মাস ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট এবং ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনি হুথিদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলা নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় হুথি গোষ্ঠী সৌদির আকাশসীমা ব্যবহারকারী বিমান সংস্থাগুলোর ওপর কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়েছিল এবং রিয়াদ বিমানবন্দরকে তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে এই প্রাণঘাতী আঘাত হানে।


ধূলি জমে দেশে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন কমছে ১৫ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বায়ুদূষণ এখন কেবল জনস্বাস্থ্য নয়, বরং নবায়নযোগ্য শক্তি খাতের বিকাশেও এক মারাত্মক বাধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সম্প্রতি স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাতাসে ভাসমান ভারী ধূলিকণা বা সয়েলিং ইফেক্টের কারণে সোলার প্যানেলের ওপর ধূলির আস্তরণ জমে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ১২ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাচ্ছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচা ডিআরইউ মিলনায়তনে ‘বায়ুদূষণ রোধে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার। পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশসহ ৩৬টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

গবেষণায় উঠে এসেছে, নিয়মিত ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সোলার প্যানেল পরিষ্কার রাখলে বিদ্যুতের উৎপাদন প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। যেখানে নোংরা প্যানেল থেকে গড়ে ৩৮-৪১ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, সেখানে তা পরিষ্কার করলে ৪৯-৫৫ কিলোওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

গবেষণার তথ্যানুসারে, একটি মাঝারি প্যানেল ব্যবস্থার জন্য মাসে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করলে অতিরিক্ত ৬ দশমিক ৬৭ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়, যার থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫৬ হাজার ২৪ টাকার আয় সম্ভব। খরচ বাদ দিয়েও প্রতি মাসে নিট ১৬ হাজার ২৪ টাকা এবং বছরে প্রায় এক লাখ ৯০ হাজার টাকা বাড়তি লাভ করা সম্ভব।

জরিপ অনুযায়ী, শতভাগ ব্যবহারকারীই মানেন যে ধুলোবালির কারণে প্যানেলের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। তবে প্রায় ৭৯ দশমিক ২ শতাংশ ব্যবহারকারীই কোনো আধুনিক ব্যবস্থার বদলে সনাতন ম্যানুয়াল উপায়ে প্যানেল পরিষ্কার করছেন।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ২০২৬ সালের তথ্যানুযায়ী, দেশে জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩২ হাজার ৫২২ মেগাওয়াট হলেও তীব্র গ্যাসসংকট ও জ্বালানি আমদানির ঘাটতির কারণে দৈনিক উৎপাদন মাত্র ১৪ হাজার থেকে ১৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। ফলে পিক-টাইমে প্রতিদিন ৭৫০ থেকে ১২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে দেশে মাত্র ৫ দশমিক ৭৫ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আসে, যা বৈশ্বিক গড় ৩৩ দশমিক ৮ শতাংশের তুলনায় অত্যন্ত কম। নবায়নযোগ্য এই ১ হাজার ৮৭১ দশমিক ৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মধ্যে সৌরবিদ্যুতের অবদানই প্রায় ৭৭ দশমিক ৫১ শতাংশ। কিন্তু কয়লা ও ফার্নেস ওয়েলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ধোঁয়া বাতাসে বিপুল পরিমাণ সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা সৌর প্যানেলে জমে বিদ্যুতের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ পেশ করেছেন। এগুলো হলো— শিল্প খাতে ৩ হাজার মেগাওয়াটের জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সোলার যন্ত্রাংশের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, শিল্পকারখানায় ম্যানুয়াল পদ্ধতির বদলে ডেটাভিত্তিক ও রোবোটিক বা স্বয়ংক্রিয় ক্লিনিং প্রযুক্তি ব্যবহার এবং পরিবেশ অধিদপ্তর ও সরকারের পক্ষ থেকে শিল্পাঞ্চল ও তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ধূলিকণা নির্গমন কঠোরভাবে মনিটর করা।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শরীফ নাফে এস-সাবের। আরও বক্তব্য রাখেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ টি এম নুরুল আমিন, ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মোছা. মাহমুদা পারভীন, পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক মো. জিয়াউল হক, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী।


দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে মডেল হওয়ার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের: ড. তিতুমীর

ছবি: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান, তৈরি পোশাক শিল্পে নারীর অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে অনুসরণযোগ্য মডেল হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। এ জন্য সামাজিক সুরক্ষার সঙ্গে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধির কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক উচ্চ পর্যায়ের আঞ্চলিক সম্মেলনে বক্তব্যে তিনি এ অভিমত তুলে ধরেন। ‘সবার জন্য এশিয়া: সরকারি সেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি’ শীর্ষক সম্মেলনে এশিয়ায় বৈষম্য কমানো এবং সরকারি সেবা ও সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে অভিন্ন সমৃদ্ধি অর্জনের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি অনুষদ ও অক্সফাম ইন এশিয়া যৌথভাবে সম্মেলনটির আয়োজন করে। ‘অর্থনৈতিক সমতা অর্থায়ন: সরকারি সেবায় সম্পদ আহরণ’ শীর্ষক তৃতীয় অধিবেশনে ড. তিতুমীর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও আলোচনা করেন।

ড. তিতুমীর বলেন, ‘করোনা মহামারি ও আগের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতায় মানুষের অর্থনৈতিক সংকট বেড়েছিল। এ সময়ে নতুন করে আনুমানিক ৭০ লাখ থেকে এক কোটি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েন। সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী কর্মসূচিতে সমন্বয়হীনতার কারণে সহায়তা পাওয়ার যোগ্য অনেকে বাদ পড়েন, আবার অযোগ্য ব্যক্তিরাও সুবিধা পান। এতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন যাদের, তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।’

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানুষের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রয়োজন অনুযায়ী জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি। তার মতে, সামাজিক সুরক্ষাকে শুধু আর্থিক সহায়তায় সীমাবদ্ধ না রেখে কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও তৈরি পোশাক শিল্পের ভূমিকা তুলে ধরে ড. তিতুমীর বলেন, ‘দেশের বিপুল শ্রমশক্তিকে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশগুলোর শ্রমবাজারের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে বিদেশে কর্মসংস্থান ও প্রবাসী আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশ বিপুলসংখ্যক নারীর কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।’

নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পরিবারগুলোর আয় ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কর্মসংস্থানের এ দুই অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিস্তার ও মানুষের আয়ের সুযোগ বাড়ানো দারিদ্র্য বিমোচনকে আরও টেকসই করতে পারে।

সম্মেলনে অক্সফামের বৈষম্যবিষয়ক একটি নীতিপত্রের তথ্যও উপস্থাপন করা হয়। এতে এশিয়ায় আয় ও সম্পদ বৈষম্যের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্কের অধ্যাপক কেট পিকেট।

‘সমতার অর্থায়ন ও সরকারি সেবার জন্য সম্পদ আহরণ’ বিষয়ক তৃতীয় অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটির গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. ডেভিড ম্যাকয় ও ফিলিপাইনের প্রতিনিধি জুড অ্যাসিডরে। সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি অনুষদের ডিন অধ্যাপক নোপফল উইটভোরাপং, অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক জন স্যামুয়েল এবং অক্সফাম এশিয়ার অ্যাডভোকেসি ও প্রচারাভিযান বিভাগের প্রধান মুস্তাফা তালপুর।


অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়নে উন্নীত: মীর শাহে আলম

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় ভবনে নগর ও পল্লী এলাকায় সমবায় সমিতির মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কর্মকৌশল নির্ধারণ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে সাত মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ১১ বিলিয়ন ডলার বেড়ে ৩৭ বিলিয়নে উন্নীত হয়েছে এবং মোট ঋণের চাপ ৩৭ শতাংশ থেকে কমে ৩২ শতাংশে নেমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেছেন, ২০২৪ এর ৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার সরকার পতনের সময় রিজার্ভ ছিল ২০ বিলিয়ন ডলার। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দুই বছরে রিজার্ভ রেখেছিল ২৬ বিলিয়ন ডলার। গত ৭ মাসে অর্থনৈতিক অনেক সংকটের মধ্যেও রিজার্ভ বেড়েছে ১১ বিলিয়ন ডলার। এখন রিজার্ভের পরিমাণ এখন ৩৭ বিলিয়ন ডলার।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় ভবনে নগর ও পল্লী এলাকায় সমবায় সমিতির মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কর্মকৌশল নির্ধারণ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একজন বিরোধী দলীয় নেতা রেমিট্যান্স শাট ডাউনের ডাক দিয়েছে কিন্তু দেশে রেমিট্যান্স বন্ধের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।’ তিনি বলেন, ‘দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি ঘটেনি যে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ করবেন। বিরোধী দলের শাটডাউনের আহ্বানের পরও গত পাঁচ দিনে ৭ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা রেমিট্যান্স এসেছে। প্রবাসীরা দেশের পরিস্থিতি ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট বোঝেন।’ তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময়, ৯০-এ এরশাদ বিরোধী আন্দোলন ও সর্বশেষ ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের সময় প্রবাসীরা রেমিট্যান্স বন্ধ রেখেছিল।’

জাতীয় সংসদে ও রাজপথে বিরোধী দলের ভূমিকার সমালোচনা করে মীর শাহে আলম বলেন, ‘সংসদে ও রাজপথে বিরোধী দলের বক্তব্যের মধ্যে কোনো মিল নেই।’ সংসদে বিরোধী দলের নেতারা বলেন, ‘বিএনপি উত্তরাধিকার হিসেবে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট পেয়েছে। আর রাজপথে এসে বলেন, বিদ্যুৎ দে, গ্যাস দে। এই আচরণ দ্বিচারিতা।’

জাতিসংঘের অধিবেশনে সরকারের সফলতা ঢেকে দিতে কৌশলে একটি গোষ্ঠী রাড্ডা ও নিউগিনি প্রজেক্টে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভাঙচুর চালিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সৌরশক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে সৌরশক্তি থেকে মাত্র ১ হাজার ৮৭২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে, যেখানে পাকিস্তানের মতো দেশ ৩২ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন করছে। বাসাবাড়িতে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত সৌরবিদ্যুৎ সরকার কিনে নেবে জানিয়ে তিনি সমবায় অধিদপ্তরের মাধ্যমে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সমবায় ভবনের এই আলোচনা সভায় অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


ভারতে সিজেপির আন্দোলনে নাহিদ ইসলামের সংহতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতে আন্দোলনরত তরুণদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শনিবার (১০ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বিক্ষোভকারী, আন্দোলনের সংগঠক ও সাংবাদিকদের আটকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। নয়াদিল্লিতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা প্রদান, যন্তর মন্তরে বিধিনিষেধ আরোপ এবং ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখাকে মৌলিক স্বাধীনতার জন্য সরাসরি হুমকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব বলপ্রয়োগ বা সেন্সরশিপ দিয়ে নয়, বরং খোলামেলা জবাবদিহির মাধ্যমেই দেওয়া উচিত।

বিবৃতিতে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন যে, এই অঞ্চলের তরুণদের মুক্তির লড়াই পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। দীর্ঘ ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে সংঘটিত অভ্যুত্থানে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগে জাতিসংঘের হিসাবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, সেই ক্রান্তিকালে ভারতীয় শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীন মতপ্রকাশকারীরাও সংহতি জানিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক শাহিনবাগের আন্দোলন এবং জেএনইউ ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের উদাহরণ টেনে তিনি রাজপথে ভারতীয় তরুণীদের সাহসী ভূমিকা এবং জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের আত্মত্যাগের সমান্তরাল গুরুত্ব তুলে ধরেন।

নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, হিন্দুত্ববাদী সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ, ফ্যাসিবাদ কিংবা কোনো ধর্মীয় আধিপত্যবাদ দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ রচিত হতে পারে না। বাংলাদেশ ও ভারত—উভয় দেশেই কর্তৃত্ববাদ, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ প্রতিহত করে ধর্ম, জাতপাত, লিঙ্গ ও শ্রেণিনির্বিশেষে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে হবে। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী আতঙ্কের মধ্যে থাকলে এবং ভিন্নমত প্রকাশকে অপরাধ বিবেচনা করে পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিক অধিকার নির্ধারণ করা হলে কোনো সমাজকেই প্রকৃত গণতান্ত্রিক বলা চলে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ভারতীয় প্রশাসনের প্রতি কয়েকটি নির্দিষ্ট দাবি জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা, গণমাধ্যমকর্মীদের সরঞ্জাম জব্দ ও ভয়ভীতি বন্ধ করা এবং আটকদের আইনি ভিত্তি প্রকাশ করে অবিলম্বে মুক্তির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিচার ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দী থাকা মানবাধিকারকর্মী শরজিল ইমাম ও উমর খালিদের প্রসঙ্গ টেনে তাঁদের সহযোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা এসব বিবেকের বন্দীদের সাহস দক্ষিণ এশিয়ার তরুণ প্রজন্মকে নিরবচ্ছিন্ন অনুপ্রেরণা জুগিয়ে চলেছে।

বিবৃতির শেষাংশে সীমান্ত হত্যা, পানিবণ্টন সংকট, পরিবেশ সুরক্ষা ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের মতো অমীমাংসিত বিষয়গুলোকে দুই দেশের জনসাধারণের মৌলিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত করেন নাহিদ ইসলাম। দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ বিভাজন ও ফ্যাসিবাদের হাতে ছেড়ে না দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি সমতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ঐক্যবদ্ধভাবে তরুণ প্রজন্মকে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানের মাধ্যমে তিনি তাঁর বিবৃতি শেষ করেন।


ভাষাদক্ষতা ও কারিগরি জ্ঞানের সমন্বয়েই এগোবে দেশের অর্থনীতি: ববি হাজ্জাজ

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত চতুর্থ ইন্টারন্যাশনাল ল্যাংগুয়েজ লিগ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভাষাদক্ষতা ও কারিগরি জ্ঞানের সমন্বিত বিকাশের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেছেন, ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি দক্ষতা অর্জন, জ্ঞান বিনিময় এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে দক্ষতা উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত চতুর্থ ইন্টারন্যাশনাল ল্যাংগুয়েজ লিগ প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ভাষা আপনাকে শুধু নিজের ভাব প্রকাশের দক্ষতাই দেয় না, সমাজে আপনার অবস্থান ও সম্ভাবনার ক্ষেত্রও প্রসারিত করে। আপনি কতটা স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারেন, নিজের চিন্তা অন্যের কাছে কতটা কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারেন, তা শিক্ষা, কর্মজীবন ও পেশাগত অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ভাষাশিক্ষাকে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, বাস্তব জীবনে যোগাযোগ ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

চীনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নিজস্ব ভাষায় বৈজ্ঞানিক ও একাডেমিক পরিভাষা সমৃদ্ধ করা এবং সেই ভাষায় জ্ঞানচর্চার সুযোগ তৈরি করা একটি দেশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশেরও মাতৃভাষায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জ্ঞানচর্চা সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভাষায় দক্ষতা বাড়াতে হবে। এর মাধ্যমে জ্ঞান বিনিময়, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে উন্নীত করার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা অপরিহার্য। এ জন্য কারিগরি জ্ঞান, যোগাযোগদক্ষতা এবং ইংরেজি ও চীনা ভাষাসহ আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভাষায় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে।’ তরুণদের ভাষাশিক্ষার সাফল্যকে বৃহত্তর দক্ষতা উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এ ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য বেনজীর আহমেদ এবং বাংলাদেশে চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সিলর। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


অর্জিত গণতন্ত্রকে কার্যকর সংসদে রূপ দিতে হবে: জহির উদ্দিন স্বপন

জাতীয় প্রেসক্লাবে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অর্জিত গণতন্ত্রকে অর্থবহ ও টেকসই করতে সকল গণতন্ত্রকামী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সংসদীয় ব্যবস্থাকে কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, ‘শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতন্ত্রকে একটি কার্যকরী সংসদের মাধ্যমেই পূর্ণতা দিতে হবে।’

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক স্মরণসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের সভাপতি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

স্মরণ সভায় আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ও শিরীন সুলতানা এবং সাবেক সংসদ সদস্য নাজিমুদ্দিন আলম, হাবিবুর রহমান হাবিব ও খন্দকার লুৎফর রহমান। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন সভার সঞ্চালনা করেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাজনৈতিক কর্মীদের মূল পেশা আন্দোলন বা সংগ্রাম নয়, বরং দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার পূরণ করা।

শহীদ জেহাদ, আবু সাঈদ ও মুগ্ধদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করে একটি আধুনিক ও বিজ্ঞানমুখী রাষ্ট্র গঠনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশকে ত্বরান্বিত করতে হবে। শুধু আন্দোলন ও ত্যাগের ইতিহাসচর্চায় বন্দি না থেকে শহীদের রক্তের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে একটি কার্যকরী সংসদ গঠন এবং জাতীয় অর্থনীতিকে সচল করাই এখন রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রধান দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা ইশতেহারেই ফ্যাসিবাদের বিলোপ ঘটিয়ে আধুনিক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে, যা অর্জিত গণতন্ত্রকে টেকসই রূপ দেবে।


২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চার দিনের সফরে আগামী ২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক অংশীদারি জোরদার এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারি : বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন বিন্যাস’ শীর্ষক সেমিনারে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় জাপান সফরেও বাংলাদেশ বিভিন্ন খাতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন অংশীদারিকে প্রাধান্য দেবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক বিনিয়োগ অংশীদারি চায়।

জাপানকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ এবং দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, কয়েকটি মেগা প্রকল্পে জাপানি বিনিয়োগ দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী কূটনৈতিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আমন্ত্রণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত এপ্রিলে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জ্বালানিসংকট ও স্থায়িত্ব মোকাবেলায় জাপানের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সম্মেলনে যুক্ত হয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেই সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ওপর জাপানি সরকারের আস্থা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

তিনি জানান, আসন্ন সফরে খাতভিত্তিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবের যুবরাজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সে দেশে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।

সৌদি যুবরাজও বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ঢাকা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবে।

পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনার সুরক্ষা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট ও আপসহীন। মুসলিম বিশ্বের পবিত্র স্থান ও মসজিদ রক্ষার যেকোনো উদ্যোগে সহযোগিতা বা সহায়তা চাওয়া হলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত থাকবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপাক্ষিক) ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান সচিব মো. মোখতার আহমেদ সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান এবং এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী সেমিনারে বক্তব্য দেন।

সূত্র: বাসস


বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মানববর্জ্য ও কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রদর্শনী পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন।

আজ শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ আয়োজন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানান।

এ সময় প্রকল্পের গবেষকরা তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি, গবেষণার অগ্রগতি এবং দেশে বাণিজ্যিকভাবে জ্বালানি তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রকল্পের গবেষক খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান মানববর্জ্য, পয়ঃশোধনাগারের বর্জ্য, রান্নাঘরের বর্জ্য এবং কৃষিজ অবশিষ্টাংশ থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রযুক্তি ও গবেষণার বিভিন্ন দিক প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রকল্পটি প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী এবং এর কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সম্পর্কেও অবহিত হন। প্রকল্পটির সম্ভাবনা বিবেচনায় এটি বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রায় ১০ বছর ধরে পরিচালিত এ গবেষণায় ‘হাইড্রোথার্মাল লিকুইফ্যাকশন’ (এইচটিএল) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্য থেকে জৈব অপরিশোধিত তেল বা বায়োক্রুড উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন কুয়েটের গবেষকরা।

গবেষণাগারের পরীক্ষায় ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োক্রুড উৎপাদনের ফল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ডিজেলসমৃদ্ধ বায়োক্রুড উৎপাদনেও সাফল্য এসেছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন গবেষকরা।

এ সময় গবেষকরা জানান, পরবর্তী ধাপে প্রতিদিন ১ থেকে ৩ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ সক্ষম একটি পাইলট প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়নে আনুমানিক ১০০ থেকে ১২০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

তারা জানান, প্রযুক্তিটি বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বছরে আনুমানিক সাড়ে ৬ হাজার থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে। তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নে প্রযুক্তিটির বৃহৎ পরিসরে কার্যকারিতা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা যাচাই প্রয়োজন।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট গবেষকদের প্রত্যাশা, সরকারি সহায়তায় প্রযুক্তিটি সফলভাবে বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হলে দেশের জ্বালানি তেলের সংকট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

একইসাথে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, পরিবেশদূষণ হ্রাস এবং দেশীয় জ্বালানি শিল্প বিকাশের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

এ সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাছুদ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস


প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরীক্ষা স্থগিত, নীলক্ষেতে অবরোধ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রশ্নপত্র ফাঁসের জোরালো অভিযোগের মুখে পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় নির্ধারিত এই পরীক্ষা আকস্মিকভাবে বাতিলের ঘোষণা আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে রাজধানীর ব্যস্ত নীলক্ষেত মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন চাকরিপ্রত্যাশীরা।

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত প্রার্থীরা জানান, বিধিমোতাবেক পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট পূর্বে পরিদর্শকদের উপস্থিতি ও প্রশ্নপত্র সরবরাহের নিয়ম থাকলেও সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও কাউকে দেখা যায়নি। এতে অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের মাঝে চরম বিভ্রান্তি ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। বেলা ১১টা পার হয়ে গেলেও পরীক্ষা শুরু না হওয়ায় প্রার্থীরা কক্ষ থেকে বেরিয়ে এলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তটি মৌখিকভাবে জানান।

আন্দোলনরত চাকরিপ্রত্যাশীদের অভিযোগ, পরীক্ষা শুরুর আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ঘুরছিল, যার সঙ্গে মূল পরীক্ষার প্রশ্নের মিল লক্ষ্য করা যায়। আগে থেকে অবগত না করে শেষ মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তাঁরা জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার টাকা ব্যয় করে রাজধানীতে এসে থাকার পর এমন ভোগান্তি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অধিদপ্তরের নিয়োগ কার্যক্রমে প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ এবং এর স্থায়ী প্রতিকারের দাবিতেই তাঁরা রাজপথ অবরোধে বাধ্য হয়েছেন।

উল্লেখ্য, সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ২৪২টি শূন্য পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে তিন লক্ষাধিক চাকরিপ্রার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। রাজধানী ঢাকার প্রায় ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল। তবে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি আবারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।


মক্কা-মদিনার সুরক্ষায় সৌদি আরবকে সহায়তায় প্রস্তুত বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামের দুই পবিত্র স্থান মক্কা ও মদিনার নিরাপত্তার প্রশ্নে বাংলাদেশের কোনো দ্বিমত নেই এবং এই তীর্থভূমি আক্রান্ত হলে সৌদি আরবের প্রত্যাশা অনুযায়ী যেকোনো ধরনের সহযোগিতা প্রদানে ঢাকা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। শনিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন বিন্যাস’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এই সুস্পষ্ট বার্তা দেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পারস্পরিক বিশ্বাস ও গভীর আস্থার ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের মূল ক্ষেত্র হওয়া উচিত দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ। বাংলাদেশ কারও ওপর নির্ভরশীল না থেকে সরাসরি বিনিয়োগ অংশীদার হতে চায়। দেশে অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি রিয়াদের বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন। একই সঙ্গে সম্পর্কের দ্বিতীয় প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে শ্রমবাজারের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমান বাস্তবতায় সৌদি আরবে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি পাঠাতে আগ্রহী বাংলাদেশ।

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকলে সৌদি নেতৃত্বাধীন মক্কা জোটে অংশগ্রহণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে সরকার।

এদিকে কূটনৈতিক সফরের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারপ্রধানের এই টোকিও সফরে দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জ্বালানি খাতের সহযোগিতা সংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।


২৬ অক্টোবর ৪ দিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: হুমায়ুন কবির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২৬ অক্টোবর চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে নিছক জনশক্তি রপ্তানিতে সীমাবদ্ধ না রেখে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্বে রূপ দিতে চায় বাংলাদেশ। শনিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ‘শ্রমশক্তি থেকে কৌশলগত অংশীদারিত্ব: বাংলাদেশ-সৌদি আরব সম্পর্কের নতুন বিন্যাস’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্যকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও পারস্পরিক আস্থার। এই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও বেগবান করতে ঢাকা এখন রিয়াদের সঙ্গে জোরালো বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মেলবন্ধন প্রত্যাশা করছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য সৌদি উদ্যোক্তাদের অনুকূল পরিবেশ প্রস্তুত রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রচলিত শ্রমশক্তির বাইরে দক্ষ ও কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে সৌদি শ্রমবাজারে বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থান আরও সংহত করতে চায়।

মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির জানান, সৌদি আরবের নেতৃত্বে নেওয়া মক্কা চুক্তির উদ্যোগটিকে বাংলাদেশ ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছে। শান্তিরক্ষা মিশনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে গঠনমূলক ভূমিকা পালনে প্রস্তুত রয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমান আত্মনির্ভরশীলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, খুব দ্রুতই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সৌদি আরব সফরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা দুই ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল নিক্ষেপ, জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংলগ্ন সড়কে মধ্যরাতে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। নিক্ষিপ্ত ককটেলগুলোর মধ্যে একটি বিস্ফোরিত হলেও অন্যটি অবিস্ফোরিত থেকে যায়, যা পরবর্তীতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল গিয়ে নিষ্ক্রিয় করে। শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রাত আড়াইটার দিকে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান। তিনি জানান, রাত সোয়া ১টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে চড়ে দুই ব্যক্তি এসে ঘটনাস্থলে দুই থেকে তিন মিনিট অবস্থান করেন। আশপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেষে তাঁরা সড়ক লক্ষ্য করে দুটি ককটেল ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যান। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, অভিযুক্তরা আগারগাঁও হয়ে কাফরুলের সড়ক ব্যবহার করে চলে গেছেন।

ডিসি ইবনে মিজান আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার পরপরই পুলিশের একাধিক দল তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্পর্শকাতর এই ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


banner close