মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
১৭ চৈত্র ১৪৩২

স্বস্তিতে শেষ প্রাণের মেলা, ৬০ কোটি টাকার বই বিক্রি

আজ শনিবার ছিল একুশে বইমেলার শেষ দিন । ছবি: দৈনিক বাংলা
মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ
প্রকাশিত
মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ
প্রকাশিত : ২ মার্চ, ২০২৪ ২৩:১৯

শেষ হলো বাঙালির প্রাণের অমর একুশে বইমেলা। বিদায়ের সুরে পর্দা নামল এবারের অধিবর্ষের বইমেলার। তবে এ বছর মেলায় বেড়েছে বেচাকেনা, এসেছে নতুন বইও। এবারের মেলায় ৬০ কোটি টাকারও অধিক বই বিক্রি হয়েছে। আর নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে ৩ হাজার ৭৫১টি।

মেলায় পহেলা মার্চ পর্যন্ত দর্শনার্থীর সংখ্যা ৬০ লাখের কাছাকাছি। এ বছর নতুন ৬০০ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। এবারের মেলায় ৯ শতাধিকের বেশি স্টল ও ৬৭০টি প্রকাশনী ছিল। এদিকে গত বছর মেলায় বিক্রি হয়েছিল ৪৭ কোটি টাকার বেশি। গত বছর নতুন বইয়ের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৭৩০টি৷

এদিকে শেষ দিন বইমেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা মেলে ভিন্ন চিত্র। অন্তিম দিনে ছিল না অন্যান্য দিনের মতো ভিড়, অন্য দিনের তুলনায় জমেনি মেলাও। এদিন স্টলে স্টলে শুধুই ক্রেতা ও পাঠকদের ভিড় দেখা গেছে। তবে মেলার শেষ দিনে আড্ডাবাজ দর্শনার্থীদের সংখ্যা ছিল একেবারেই কম। মেলার শেষ সময়ে বইপ্রেমীদের ব্যাগ ভর্তি বই কিনতেই দেখা যায়। অধিকাংশ পাঠককে হাতে বই নিয়ে ঘুরতে দেখা গেছে। বই ছাড়া মেলা প্রাঙ্গণ ছাড়ছিলেন না কেউই।

এদিন ব্যস্ত সময় পার করছিলেন বিক্রেতা ও প্রকাশকরা, সঙ্গে ছিলেন লেখকরাও। মেলার শেষ দিন হওয়ায় বই গুছিয়ে ফেলছিলেন স্টলের কর্মীরা। কেবল ক্রেতারা বই চাইলেই বাড়িয়ে দিচ্ছিলেন। ফলে ক্রেতাদেরই তাগিদ ছিল কাঙ্ক্ষিত বইটি চেয়ে নেওয়ার। অবশ্য বাংলা একাডেমির নির্দেশনায় কোনো প্রকাশনীই এদিন অবশিষ্ট বই মেলা থেকে নিয়ে যেতে পারেনি।

বেশ কয়েকজন বিক্রয়কর্মী জানান, মেলায় শেষ দিন দর্শনার্থী কম হলেও বেচাকেনা ভালো হয়েছে। যারা স্টলে আসছেন তাদের প্রায় সবাই বই কিনেছেন। ঘুরতে আসা মানুষের সংখ্যা খুবই কম।

মেলায় আসা দর্শনার্থী লিমন ইসলাম লিটন বলেন, শেষ দিন মেলায় এসেছি। প্রথম দিকে একবার এসেছিলাম। এখন শুধু নাম দেখে বই নিয়েছি। এবারের মেলায় এখনো আগের ফিকশনগুলোই চলছে। তবে বইমেলা বেশ ভালো চলেছে বলে মনে হয়েছে।

শব্দশৈলী প্রকাশনীর প্রকাশক ইফতেখার আমীন বলেন, মেলার সময় বাড়ানোর কারণে বেশ ভালো বিক্রি হয়েছে। বই কেনেননি- এমন ক্রেতা চোখে পড়েনি। প্রবন্ধ, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাস্থ্যবিষয়ক ও শিশুদের উপযোগী নৈতিকতার বই বেশি বেচাকেনা হয়েছে।

অনুপম প্রকাশনীর প্রকাশক মিলন কান্তি নাথ জানান, এবারে বইমেলার সময় দুই দিন বাড়ানোতে বড় বড় প্রকাশনীগুলো লাভবান হয়েছে। আমাদের বেচাকেনা বেশ ভালোই হয়েছে। ক্রেতারা এসেছেন, বই কিনেছেন। এবারের বইমেলা বেশ ভালোভাবেই গেল।

এদিকে অমর একুশে বইমেলার ৩১তম দিনে মেলা শুরু হয় সকাল ১১টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। শেষ দিন মেলায় নতুন বই এসেছে ১৪৯টি।

অমর একুশে বইমেলা ২০২৪-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বিকেল ৫টায় শুভেচ্ছা ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৪’-এর সদস্য-সচিব ডা. কে এম মুজাহিদুল ইসলামের লিখিত প্রতিবেদন তার পক্ষে পাঠ করেন একাডেমির উপপরিচালক ড. সাহেদ মন্তাজ।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম নাহিদ ইজাহার খান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ। বক্তব্য প্রদান করেন সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিকাশ লিমিটেডের সিএমও মীর নওবত আলী।
সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। অনুষ্ঠানে সম্প্রতি বেইলি রোডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, এবার ছিল অধিবর্ষের বইমেলা। নির্ধারিত ২৯ দিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অতিরিক্ত দুই দিন যুক্ত হয়ে ৩১ দিনের দীর্ঘ বইমেলা শেষ হয়েছে। ২০২৪-এর বইমেলা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ছিল বিস্তৃত, ব্যাপক ও বর্ণাঢ্য। শীতে শুরু হয়ে বইমেলা স্পর্শ করেছে বসন্ত-বাতাস। একুশের রক্তপলাশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্চের চেতনার রং।

সদস্য-সচিব তার প্রতিবেদনে বলেন, ‘মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এবারের বইমেলায় শেষ দিন পর্যন্ত প্রায় ৬০ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। এই বইমেলায় বাংলা একাডেমি এক কোটি ৩৬ লাখ টাকার বই বিক্রি করেছে।’

ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, ‘অমর একুশে বইমেলা আজ বাঙালির ভাষা, শিল্প-সাহিত্য ও ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। বইমেলার মাধ্যমে প্রতিবছর আমরা আমাদের সৃজনশীলতাকে উদযাপন করি। এই মেলা আমাদের আবেগের, জাতিসত্তার, ভাষা-সাহিত্য ও ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসার মেলা।’

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বেগম নাহিদ ইজাহার খান বলেন, ‘বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। এই মেলা দেখতে দেখতে চার দশক অতিক্রম করে এখন বিশাল আকার ধারণ করেছে। বিশ্ব বাঙালির কাছে যেমন, ঠিক তেমনি বিশ্বের জ্ঞানপিপাসু মানুষের কাছেও একুশের বইমেলা এক অসাধারণ বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক ঘটনা হিসেবে স্বীকৃত।’

মেলা আয়োজনে বাংলা একাডেমির সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিকাশ লিমিটেডের সিএমও মীর নওবত আলী বলেন, বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে বইমেলার সঙ্গে সহযোগিতায় থাকতে পেরে বিকাশ লিমিটেড আনন্দিত ও গর্বিত।

সংস্কৃতি সচিব খলিল আহমদ বলেন, ‘আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত এবারের বইমেলা কেবল বই বিক্রির জায়গা নয়; দল, মত, ধর্ম, বর্ণ-নির্বিশেষে সবার প্রাণের মেলা সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় সাফল্যমণ্ডিত হয়েছে।’

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, ‘বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা আমাদের জাতীয় জীবনের এক অসাধারণ বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক ঘটনা। তথ্যপ্রযুক্তির বিপুল বিকাশের পরও মুদ্রিত বইয়ের আবেদন যে কোনোমতেই ফুরিয়ে যায়নি তার প্রমাণ একুশে বইমেলায় ক্রমবর্ধমান জনসমাগম।’

গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪

অমর একুশে বইমেলা ২০২৪-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে ২০২৩ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক বই প্রকাশের জন্য কথাপ্রকাশ-কে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়। ২০২৩ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে শৈল্পিক ও গুণমান বিচারে সেরা বই বিভাগে মনজুর আহমদ রচিত একুশ শতকে বাংলাদেশ : শিক্ষার রূপান্তর গ্রন্থের জন্য প্রথমা প্রকাশন, মঈন আহমেদ রচিত যাত্রাতিহাস : বাংলার যাত্রাশিল্পের আদিঅন্ত গ্রন্থের জন্য ঐতিহ্য এবং আলমগীর সাত্তার রচিত কিলোফ্লাইট প্রকাশের জন্য জার্নিম্যান বুকস-কে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়। ২০২৩ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ বইয়ের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য ময়ূরপঙ্খি-কে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়।

২০২৪ সালের অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্য থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে অন্যপ্রকাশ (প্যাভিলিয়ন), নিমফিয়া পাবলিকেশন (২-৪ ইউনিট) এবং বেঙ্গল বুকস (১ ইউনিট)-কে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. শাহাদাৎ হোসেন এবং উপ-পরিচালক সায়েরা হাবীব।


মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

অস্থিরতার মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে একের পর এক জ্বালানিবাহী জাহাজ। সবশেষ মালয়েশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে পিভিটি সোলানা নামে একটি।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে পানামার পতাকাবাহী জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, গত এক মাসে ৩০টি জাহাজ জ্বালানি তেল নিয়ে বন্দরে ভিড়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর ৩ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত এসব জাহাজ এসেছে। এর মধ্যে সবকয়টি জাহাজ জ্বালানি খালাস করে ফিরে গেছে। আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে আরও ছয়টি জাহাজ বন্দরে ভিড়বে। এসব জাহাজের মধ্যে তিনটিতে এলএনজি, দুটিতে গ্যাস অয়েল এবং একটিতে এলপিজি আসছে।

এর আগে গত ২৬ মার্চ ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে ‘গ্রান কুভা’ নামের একটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছে। একই দিন অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬১ হাজার ৯৯৭ টন এলএনজি নিয়ে ‘এইচএল পাফিন’ ইতোমধ্যে কুতুবদিয়া উপকূলে এসেছে। পরদিন (২৭ মার্চ) ইন্দোনেশিয়া থেকে ‘নিউ ব্রেভ’ এবং বর্তমানে পথে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রওনা দেওয়া ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ নামের আরও একটি ট্যাংকার। আগামী ৪ এপ্রিল জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার কথা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে এলএনজি আমদানির বড় অংশই কাতার থেকে এলেও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে সরবরাহে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়েও কাতার থেকে কয়েকটি চালান না আসায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


সারাদেশে জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার টন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে অবৈধভাবে মজুদ করা জ্বালানি তেল উদ্ধারে সরকারের চলমান অভিযানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। ৩০ মার্চ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত অভিযানে মোট ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ৬৭ হাজার ৪০০ লিটার, অকটেন ৬৪৪ লিটার এবং পেট্রোল ১৩ হাজার ৮৫৬ লিটার। আর দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সার্বিক জ্বালানির পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী এ কথা বলেন।

যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতিও স্থিতিশীল রয়েছে। দেশে ডিজেলের মজুদ রয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৯৩৯ টন, অকটেন ৭ হাজার ৯৪০ টন এবং পেট্রোল ১১ হাজার ৪৩১ টন। এছাড়া জেট ফুয়েলের মজুদ রয়েছে ৪৪ হাজার ৬০৯ টন। সর্বমোট এক লাখ ৯২ হাজার ৯১৯ টন।

তিনি বলেন, নিয়মিত আমদানির মাধ্যমে জ্বালানির সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। সামনে হজ মৌসুমকে সামনে রেখে জেট ফুয়েলের মজুদ পরিস্থিতিও বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

যুগ্মসচিব বলেন, এসব পরিসংখ্যান থেকে দেশে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ জ্বালানি মজুদের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এদিন সারাদেশে মোট ৩৯১টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ১৯১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৯ লাখ ৩ হাজার ৫৭০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরায় এক ব্যক্তিকে দুই বছর, চাঁদপুরে এক বছর এবং অন্য এক স্থানে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

চলমান অভিযানের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত মোট ৩৫৫৯টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে ১২৪৪টি মামলা দায়ের এবং ৮৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৯ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চলমান অভিযানের আওতায় এখন পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৫ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৫ লিটার, অকটেন ২৮ হাজার ৯৩৮ লিটার এবং পেট্রোল ৬০ হাজার ২ লিটার।

যুগ্মসচিব আরও বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি তদারকিতে সরকার নতুন উদ্যোগ হিসেবে সারাদেশে ফিলিং স্টেশনভিত্তিক ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দিয়েছে। ঢাকা বিভাগে ১৩ জেলায় ৪৭৯ জন এবং মহানগর এলাকায় ১১৬ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১১ জেলায় ৩৩০ জন এবং মহানগরে ৬২ জন কর্মকর্তা নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগেও একইভাবে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব ট্যাগ অফিসারদের নিবিড় তদারকির ফলে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আরও বাড়বে।


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হলেন নুরজাহান খানম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) হয়েছেন অর্থ বিভাগে সংযুক্ত যুগ্নসচিব নুরজাহান খানম।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার চাকরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।


২৬ দিনে উদ্ধার ২ লাখ লিটারের বেশি জ্বালানি তেল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশব্যাপী অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুতের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে গত ৩ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ৫৩টি মামলা দায়ের এবং ১৬ জনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উল্লিখিত সময়ে সারাদেশে মোট ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। উদ্ধারকৃত জ্বালানির মধ্যে ডিজেলের পরিমাণ সর্বাধিক ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬৫ লিটার। এছাড়া ২২ হাজার ৫৩৯ লিটার অকটেন এবং ৪৬ হাজার ১৪৬ লিটার পেট্রোল জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ মজুতের সঙ্গে জড়িতদের কাছ থেকে মোট ৭৫ লাখ ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং কৃত্রিম সংকট রোধে সরকারের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

এর আগে, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রদানকারীদের সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয় সরকার।

মন্ত্রণালয় জানায়, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, পেট্রোল পাম্পে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ এবং তদারকি জোরদার করার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া, জ্বালানি তেলের কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিমের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ সহজ করতে মোবাইল নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে তেলের ডিপোগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।


ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চীনের জাতীয় পুরুষ ফুটবল দলকে বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্রেন্ডশিপ ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ জানান আমিনুল হক এবং স্পোর্টস ইনস্টিটিউটে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। আজ সকালে প্রতিমন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক চীনের রাষ্ট্রদূতকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে স্বাগত জানান।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী খেলাধুলা খুব পছন্দ করেন এবং খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। তিনি ক্রিকেট, ফুটবলের মত সব খেলাকে সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। তারই অংশ হিসেবে গতকাল খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে আমরা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চাই। ভলিবল, আর্চারি, ব্যাডমিন্টন, শুটিংয়ে চীন ও বাংলাদেশের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন খেলার কোচ ও কোচদের ট্রেনিংয়ে চীনের সহযোগিতা চাই আমরা।

এ সময় চীনের জাতীয় পুরুষ ফুটবল দলকে বাংলাদেশের সঙ্গে ফ্রেন্ডশিপ ম্যাচ খেলার আমন্ত্রণ জানান আমিনুল হক এবং স্পোর্টস ইনস্টিটিউটে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূরে ইয়াও ওয়েন বলেন, চীনের পুরুষ ফুটবল দলের সঙ্গে ফ্রেন্ডলি ম্যাচের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

এ সময় বাংলাদেশের যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং স্পোর্টস ইন্ডাস্ট্রিতে বিনিয়োগের আশা ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত।


১৫ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ১৫টি জেলায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, পাবনা, টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর, মাদারীপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বজ্রপাতসহ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অন্য এক বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। এছাড়া মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

এদিকে, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।


অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতায় ভুগছে স্বাস্থ্য খাত

* দেড় বছরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগ নিয়ন্ত্র­­ণ, টিকাদান, পুষ্টিসহ    ৩৭টির বেশি কর্মসূচি ব্যাহত হয় * সময়মতো টিকা সরবরাহে ব্যর্থতার কারণেই হামের প্রাদুর্ভাব * স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ
আপডেটেড ৩১ মার্চ, ২০২৬ ০০:০৫
নিজস্ব প্রতিনিধি

স্বাস্থ্য খাতে সেবার মান ও গতি বাড়বে, কমবে সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি—দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন স্বপ্নই দেখিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু সরকারের দেড় বছরের পরিসংখ্যান মেলাতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, স্বপ্নের ছিটেফোঁটাও বাস্তবায়ন হয়নি। উল্টো অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকটি সিদ্ধান্তের কারণে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে সময়মত টিকা সরবরাহে ব্যর্থতার কারণে দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, ঘটছে মৃত্যু। এছাড়া জানা গেছে, বছরের প্রথম দিকে অর্থাৎ জানুয়ারিতে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রথম হাম শনাক্ত হয়। বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের জানা থাকলেও ভ্যাকসিন সংগ্রহে জটিলতার কারণে সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলেই বর্তমানে সংক্রমণ বাড়ছে হামের। ঘটছে মৃত্যু। এছাড়া সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও জনবল সংকট, ওষুধ ও যন্ত্রপাতির অভাব এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও ছিল প্রকট। ফলে সব মিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার কারণে বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্যখাত চরমভাবে ভুগছে। যার খেসারত দিতে হচ্ছে জনগণকে।

স্বাস্থ্য খাত-সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দায়িত্ব নিয়ে কাগজে-কলমে কিছু অগ্রগতি দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও জনবল সংকট, ওষুধ ও যন্ত্রপাতির অভাব এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা আগের মতোই ছিল। এমনকি স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের দেওয়া সুপারিশও পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

সমস্যা চিহ্নিতে গুরুত্ব, সমাধানে ভাটা: অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্য খাতের নানা সমস্যা চিহ্নিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। গত বছরের ৮ আগস্ট রাজধানীর মিন্টু রোডের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য খাতের ১০টি বড় সংকট বা ‘রোগ’ শনাক্তের কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান।

সেদিন তিনি বলেছিলেন, মেধা, জ্ঞান ও যোগ্যতা থেকে বঞ্চিত বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা। পাশাপাশি অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষজ্ঞনির্ভর চিকিৎসা, প্রাথমিক চিকিৎসা উপেক্ষা করে বিশেষজ্ঞের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, স্বচ্ছতার অভাব ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের মনোবলহীনতা, চিকিৎসা সামগ্রী, ওষুধ ও চিন্তায় বিদেশনির্ভরতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকল্পনায় দুর্বলতা, চিকিৎসা শিক্ষায় মানহীনতা, নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনায় অকার্যকারিতা এবং স্বাস্থ্য বাজেট বরাদ্দ ও ব্যবহারজনিত সমস্যা। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে সংস্কার বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলায় ঘাটতি এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আমূল পরিবর্তনেও ছিল ধীরগতি। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে ৩৩টি জরুরি সুপারিশের মধ্যে মাত্র ৬টি বাস্তবায়ন হওয়ায় খাতটি চরমভাবে ধুঁকছে। এখন এই দুর্বল খাতটিকে টেনে তুলতে গিয়ে হিমসিম অবস্থা বর্তমান সরকারের।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও সেবার মানোন্নয়নের পরিবর্তে আলোচনায় ছিল প্রশাসনিক অচলাবস্থা, চিকিৎসকদের অসন্তোষ এবং নীতিগত দুর্বলতা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাস্থ্যের ১৪টি খাতে অর্থ বরাদ্দ হয় অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) মাধ্যমে। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের বছর ২০২৪ সালেই ওপি থেকে বেরিয়ে আসে সরকার। এতে স্বাস্থ্যের সব উন্নয়নমূলক কাজে স্থবিরতা নেমে আসে। ফলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগ নিয়ন্ত্রণ, টিকাদান, পুষ্টিসহ ৩৭টির বেশি কর্মসূচি ব্যাহত হয়।

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ মাত্র ৫ শতাংশ: জনস্বাস্থ্যবিদরা আশা করেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। জাতীয় বাজেটের ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয় স্বাস্থ্য খাতে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সেবা খাতে কোনো সফলতাই দেখাতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার।

উপরন্তু স্বাস্থ্য খাত কর্মসূচি বা হেলথ সেক্টর প্রোগ্রাম বাতিল করেছে মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলছে, দাতা সংস্থার অগ্রাধিকার অনুসরণ করে স্বাস্থ্য খাত কর্মসূচি পরিচালিত হতো।

ওষুধশিল্প ঝুঁকিতে: এদিকে, হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের যাতায়াতের ব্যাপারেও বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতপার্থক্য তৈরি হয়। ফলে ওষুধশিল্পের মালিকরা তখন অভিযোগ আনেন, অন্তর্বর্তী সরকার ওষুধশিল্পকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে।

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হলে শুরু থেকেই জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। কেন তাকে এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলো এ নিয়ে বিস্ময় ও আলোচনা ছিল ব্যাপক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রশ্নগুলোর পেছনে বিভিন্ন অভিযোগ এখন সামনে আসতে শুরু করেছে।

এদিকে, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়টিও ভাবতে বলেছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূরজাহান বেগমকে ঠিক কোন যোগ্যতায় স্বাস্থ্য উপদেষ্টার পদে বসিয়েছিলেন ড. ইউনূস? এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

গতকাল সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন সায়ের। তিনি বলেন, যারা ইউনূস সাহেবকে রাত-দিন পূজা করেন, তাদের প্রতি পরামর্শ রইল— পূজা-অর্চনার পাশাপাশি তাকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়টিও ভাবতে শুরু করুন।

ফেসবুক পোস্টে জুলকারনাইন সায়ের বলেন, দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে হামের প্রকোপে ৪১ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে জানা নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের আগস্টে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পূর্ণ প্রস্তুতি ছাড়াই এইচপিএনএসপি তথা ওপি–ব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়ার কারণে আজ দেশে হামসহ আরো ৮-১০টি রোগের টিকার সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, নূরজাহান বেগম বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হিসেবে কী কী কাজ করেছেন সেসবের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে। আমরা জানতে আগ্রহী ইউনূস সাহেবের পছন্দে নিয়োগ পাওয়া এই মহিলা আসলে কী করেছেন।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য খাতের দুরবস্থার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর সমালোচনা করে স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব বলেন, স্বাস্থ্যব্যবস্থা জুলাই বিপ্লবের আগে যেখানে ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও সেখান থেকে বের হতে পারেনি।

স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. আবু জাফর বলেন, ১৬ বছরের আওয়ামী শাসন স্বাস্থ্য প্রশাসনে ব্যাপক ও গভীর বিশৃঙ্খলা তৈরি করে রেখেছিল। নিয়মনীতির বালাই ছিল না। শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এক বছরে প্রায় সাড়ে আট হাজার চিকিৎসক বদলি করা হয়েছে। অভিযোগ ছিল আমলাদের ও সরকারি চাকরিতে থাকা চিকিৎসকদের একটি অংশ সরকারকে সহযোগিতা করেনি। দাতাদের কেউ কেউ প্রতিশ্রুত সহায়তা দিতেও বিলম্ব ঘটায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের শিক্ষক অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, দরকারি অথচ জনপ্রিয়তা হারানোর ভয়ে রাজনৈতিক সরকার করতে চায় না, এমন কাজই অন্তর্বর্তী সরকারের করা উচিত ছিল। যেমন স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো, মানহীন মেডিকেল কলেজ বন্ধ করা। কিন্তু সেটা তারা করেনি।


তেহরান থেকে ১৮৬ বাংলাদেশিকে ফেরানো হয়েছে: শামা ওবায়েদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানে আটকে পড়া ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। একইসঙ্গে তিনি দেশে এই মুহূর্তে কোনো জ্বালানি সংকট নেই বলে দাবি করেন।

সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান বিন কাশেমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।

অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশের জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, জ্বালানি বিক্রি নিয়ে বিরোধের জেরে দেশে ইতোমধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে প্রধানমন্ত্রী কী ভূমিকা পালন করছেন, তা জানতে চান তিনি। এছাড়া, জাতিসংঘের প্রেসিডেন্সি পদে থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়ালেও দেশের জ্বালানি সংকট নিরসনে তিনি কী করছেন, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন এই সংসদ সদস্য। এ সময় স্পিকার তাকে কেবল একটি প্রশ্ন করার নিয়ম স্মরণ করিয়ে দেন।

জবাবে সংসদ সদস্যকে অনেক নির্যাতনের পর সংসদে আসায় অভিনন্দন জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, উনি একজন ব্যারিস্টার, ল’ইয়ার মানুষ। উনার সম্পূরক প্রশ্নের অর্থ বোঝা উচিত, কারণ মূল প্রশ্নের সঙ্গে এই সম্পূরক প্রশ্নটি প্রাসঙ্গিক ছিল না।’

এরপর জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। সঙ্গে সঙ্গে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা না না বলে প্রতিবাদ জানান।

পরে শামা ওবায়েদ বলেন, জ্বালানি যেন আমরা একাধিক উৎস থেকে সরবরাহ করতে পারি, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জ্বালানি মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও অন্যান্য যেসব উৎস থেকে আমরা জ্বালানি আনতে পারি, সে বিষয়ে আমরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছি এবং ইনশাআল্লাহ আমরা সফল হবো।

মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশ সরকারের একমাত্র ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সেখানকার মিশনগুলো ২৪ ঘণ্টা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী সংসদকে জানান, চলমান এই সংঘাতে দুর্ভাগ্যবশত পাঁচজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হলেও তাদের মধ্যে দু’জনের মরদেহ ইতোমধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশিরা কখন কোথায় যুদ্ধের মধ্যে পড়ছেন, তা অনেক সময় তারা নিজেরাই বুঝতে পারেন না। এমন জটিল পরিস্থিতির মধ্যেও তেহরান থেকে আইওএম-এর সহযোগিতায় ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বর্তমানে সরকারের একমাত্র অগ্রাধিকার বলে তার বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।


ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

খেলাধুলার বিভিন্ন শাখায় যারা সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন ইতোমধ্যেই তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়েছে জানিয়ে আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যারা বিজয়ীর পুরস্কার নিয়েছেন তাদের প্রত্যেকেরই প্রতিপক্ষ ছিল। প্রতিপক্ষ ছিল বলেই আপনি বিজয়ের আনন্দ উপভোগ করতে পেরেছেন। সুতরাং খেলাধুলায় পরাজয়ের অর্থ কিন্তু হেরে যাওয়া নয় বরং জয়েরই একটা অংশ। আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন কিংবা শরীর চর্চার বিষয় নয় বরং সারা বিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না। আমরা বলেছিলাম, জনরায়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করব। জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুটি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকেই শুরু হলো।

সোমবার (৩০ মার্চ) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত ক্রীড়াভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের ক্রীড়া কার্ড ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলবার্ট আইন্সটাইন যেমন বলেছিলেন, যে মানুষটি কখনো পরাজিত হয়নি সে কখনো কিছু করেইনি। আজকের এই অনুষ্ঠানে যারা পুরস্কার গ্রহণ করেছেন এবং প্রতিটি খেলাকে প্রতিযোগিতাপূর্ণ করে তুলতে যারা অংশগ্রহণ করেছেন আমি সকলকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে আপনাদের পরিবার, কোচ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ। যিনি যে খেলায় ভালো করতে পারবেন, যারা যে খেলায় আনন্দ পাবেন, তারা যাতে তাদের পছন্দের খেলাটিকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলা করতে পারেন এবং খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিয়ে একজন খেলোয়াড় যাতে নিজের এবং পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা টানাপোড়েনে না ভোগেন, সে লক্ষে বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দেরকে ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।

তারেক রহমান বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদেরকে বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। সকল শ্রেণিপেশার মানুষের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই পর্যায়ক্রমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম খতিব এবং অন্য ধর্মের ধৰ্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদান, এবং সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছে। আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ‘ফার্মার্স কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান কর্মসূচি। এভাবেই দেশ এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে শুরু হলো ‘ক্রীড়া কার্ড’ । শারীরিক প্রতিবন্ধী যারা ক্রীড়াঙ্গনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম তারাও ক্রীড়া কার্ড পাবেন। ‘সবার জন্য ক্রীড়া’— এই প্রতিপাদ্যে সরকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী কিংবা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি যারা খেলাধুলায় অংশ নিতে চান, তাদের জন্যও দেশে বিদেশে সকল ধরনের সুবিধা প্রদান করতে সকল ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সরকার ব্যাপক এবং বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশে বর্তমানে ক্রিকেট এবং ফুটবল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় খেলা। তবে এসব খেলার পাশাপাশি আরচারি, বক্সিং, ইয়োগা, জিমন্যাস্টিকস, ক্যারম, ভারোত্তোলন, উশু, সাঁতার, প্যারা সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, প্যারা অ্যাথলেটিক্স, কারাতে, সেপাক টাকরো, টেবিল টেনিস, কাবাডি, ভলিবল, হুইলচেয়ার বাস্কেটবল, ব্রিজ, ফুটসাল এবং ব্যাডমিন্টনের মতো আরো অনেক ক্রীড়া রয়েছে যেসব খেলাগুলো সরকারি - বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এসব খেলাগুলোও দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে সক্ষম। আপনারা দেখেছেন সম্প্রতি সাফ নারী ফুটসালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

শিক্ষা কারিকুলামে ৪র্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী ছেলে মেয়েরা ছোটবেলা থেকেই যাতে খেলাধুলার সুযোগ পায় এ জন্য শিক্ষা কারিকুলামে ৪র্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই, আমাদের সন্তানেরা পড়ালেখার পাশাপাশি ছোটবেলায় নিয়মিত খেলাধুলায়ও আগ্রহী এবং পারদর্শী হয়ে উঠবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও ইতোমধ্যেই খেলাধুলাকে অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষা কারিকুলাম পরিমার্জনের কাজ শুরু হয়েছে।

আগামী ৩০ এপ্রিল ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু হচ্ছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান শুরু ‘নতুন কুঁড়ি’ ১৯৭৬ সালে শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটি এক পর্যায়ে অনেকগুলো বছর বন্ধ থাকলেও বর্তমানে অনুষ্ঠানটি বিটিভিতে আবার চালু হয়েছে। এবার ভিন্ন আঙ্গিকে শিশু কিশোরদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে সিলেট থেকে সারা দেশব্যাপী নতুন পরিসরে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশপ্রেম, ঐকান্তিক ইচ্ছা আর টিম স্পিরিট থাকলে আপনাদের সাফল্যজনক অগ্রযাত্রায় কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবেনা বলে আমি বিশ্বাস করি। আপনাদের প্রতি আহবান, পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নয় বরং ক্রীড়া নৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিতিনিধি হয়ে উঠুন। দেশে বিদেশে বিজয়মাল্য বরণ করে বিশ্ব ক্রীড়া জগতে বাংলাদেশকে উচ্চতর মর্যাদার আসনে সমাসীন রাখুন।


দেশে আর কোনো মব কালচার অ্যালাউ করা হবে না: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে তথাকথিত আর কোনো ‘মব কালচার’ বা বিশৃঙ্খল গণপিটুনির ঘটনা আর সহ্য করা হবে না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, দাবি আদায়ের নামে সড়ক অবরোধ বা জনসমাবেশের আড়ালে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে। সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেছেন।

আলোচনার সময় রুমিন ফারহানা পূর্ববর্তী সরকারের আমলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার প্রসঙ্গ তুলে বর্তমান সময়ের ‘মব কালচার’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে এ ধরনের ঘটনায় আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি, ২১ ফেব্রুয়ারির একটি ঘটনায় নিজেও ভুক্তভোগী হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি এবং এই প্রবণতা ঠেকাতে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকার স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে—দেশে কোনো ধরনের মব কালচার চলবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যে সড়ক অবরোধের প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, তা আর বরদাস্ত করা হবে না বলেও জানান তিনি।

মব এবং সংগঠিত অপরাধের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সব ধরনের সহিংস ঘটনাকে মব বলা ঠিক নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনায় পরিকল্পিত হামলা ও ভাঙচুর সুসংগঠিত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, যার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় আনা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের দাবি থাকতেই পারে, তবে তা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে উপস্থাপন করতে হবে। স্মারকলিপি প্রদান, সেমিনার আয়োজন বা শান্তিপূর্ণ জনসমাবেশের মাধ্যমে মত প্রকাশের অধিকার সবার রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, সরকার বাকস্বাধীনতা ও সংগঠনের অধিকার নিশ্চিত করবে, তবে মবের মাধ্যমে দাবি আদায়ের সংস্কৃতি থেকে সরে আসতে হবে।


এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার মানহানি মামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরারগঞ্জ প্রতিনিধি

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে ‘আপাদমস্তক নাস্তিক’ মন্তব্য করায় জামায়াত নেতা ও কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান এবং দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ভূমিকা রেখে আসছেন। গত ২৬ মার্চ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মুফতি আমির হামজা তাকে ‘নাস্তিক’ আখ্যা দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেন, যা তার ধর্মীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এতে তার ১০০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যে সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় দায়ের করা এ মামলায় আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকার বাদীর আবেদন ও উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত আমলে নিয়ে আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন।

এদিকে, সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ও বিএনপি নেতারা মুফতি আমির হামজার এ বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলেন, একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য অনভিপ্রেত। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।


আসিফ মাহমুদের সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এই আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

সিআইডির উপপরিদর্শক মো. আব্দুল হান্নান দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন উপদেষ্টার এপিএস হিসেবে দায়িত্বরত থাকাকালে তদবির বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে উপার্জন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অর্জিত এই অর্থ তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং বা অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি যেকোনো সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা একান্ত প্রয়োজন।


পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারীদের সঙ্গে জ্বালানি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মতবিনিময়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার দুপুরে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ব্রিগেডিয়ার সবিহউদ্দীন আহমেদ অডিটোরিয়ামে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থার চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল-আজিম।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ।

মতবিনিময় সভার উপস্থাপনায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার চলমান কার্যক্রম ও সাফল্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। এখানে উল্লেখ করা হয় যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক ১৯৭৭ সালে দেশের নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষি বিপ্লবের বিকাশ, কুটিরশিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ, শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা ও জনস্বার্থের উন্নয়নের জন্য গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিকরণের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড গঠন করা হয়। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতায়নের ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র শিল্প গড়াসহ নানা কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।

সভায় জ্বালানিমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আবেগে গড়া পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে বর্তমানে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধানের জন্য চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা প্রদান করেন। এ ছাড়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আবেগ ও স্বপ্নে গড়া পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে কোনো অশুভ শক্তির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে না মর্মে মতামত ব্যক্ত করেন।

পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক গঠিত মূল প্রতিষ্ঠান পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে কোনোক্রমে দুর্বল করা যাবে না। মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎসেবা প্রদানের লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা হবে বলেও আশ্বাস প্রদান করেন জ্বালানিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘একটি মহল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান নষ্ট করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যা মোটেই কাম্য নয়। আরইবি এবং আরইবির অধীনস্থ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো সৃষ্টির শুরু থেকে যেভাবে পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত রয়েছে ঠিক সেভাবেই ভবিষ্যতেও কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ ঝড়-বৃষ্টির পর প্রান্তিক জনগণের দ্বারপ্রান্তে দ্রুত মানসম্মত বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে লাইন ফল্ট দ্রুত নিরসনের জন্য বিদ্যুৎ লাইনে ফল্ট লোকেটর স্থাপনের পাশাপাশি সিস্টেম লস কমানোর লক্ষ্যে বিতরণ লাইনের দৈর্ঘ্য কমানোর পরামর্শ প্রদান করেন। সেই সাথে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ডিজেল চালিত পাম্পের পরিবর্তে সোলার পাম্প স্থাপনের জন্যও পরামর্শ প্রদান করেন।

এ ছাড়া গ্রাহকসেবার গুণগত মানবৃদ্ধি এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎসেবা প্রদানের লক্ষ্যে যুগোপযোগী আধুনিক ও টেকসই বিদ্যুৎ বিতরণের লক্ষ্যে প্রকল্প অনুমোদনের প্রস্তাব বিদ্যুৎ বিভাগে প্রেরণের নির্দেশনা প্রদান করেন।


banner close