মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
১০ চৈত্র ১৪৩২

স্বস্তিতে শেষ প্রাণের মেলা, ৬০ কোটি টাকার বই বিক্রি

আজ শনিবার ছিল একুশে বইমেলার শেষ দিন । ছবি: দৈনিক বাংলা
মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ
প্রকাশিত
মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ
প্রকাশিত : ২ মার্চ, ২০২৪ ২৩:১৯

শেষ হলো বাঙালির প্রাণের অমর একুশে বইমেলা। বিদায়ের সুরে পর্দা নামল এবারের অধিবর্ষের বইমেলার। তবে এ বছর মেলায় বেড়েছে বেচাকেনা, এসেছে নতুন বইও। এবারের মেলায় ৬০ কোটি টাকারও অধিক বই বিক্রি হয়েছে। আর নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে ৩ হাজার ৭৫১টি।

মেলায় পহেলা মার্চ পর্যন্ত দর্শনার্থীর সংখ্যা ৬০ লাখের কাছাকাছি। এ বছর নতুন ৬০০ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। এবারের মেলায় ৯ শতাধিকের বেশি স্টল ও ৬৭০টি প্রকাশনী ছিল। এদিকে গত বছর মেলায় বিক্রি হয়েছিল ৪৭ কোটি টাকার বেশি। গত বছর নতুন বইয়ের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৭৩০টি৷

এদিকে শেষ দিন বইমেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা মেলে ভিন্ন চিত্র। অন্তিম দিনে ছিল না অন্যান্য দিনের মতো ভিড়, অন্য দিনের তুলনায় জমেনি মেলাও। এদিন স্টলে স্টলে শুধুই ক্রেতা ও পাঠকদের ভিড় দেখা গেছে। তবে মেলার শেষ দিনে আড্ডাবাজ দর্শনার্থীদের সংখ্যা ছিল একেবারেই কম। মেলার শেষ সময়ে বইপ্রেমীদের ব্যাগ ভর্তি বই কিনতেই দেখা যায়। অধিকাংশ পাঠককে হাতে বই নিয়ে ঘুরতে দেখা গেছে। বই ছাড়া মেলা প্রাঙ্গণ ছাড়ছিলেন না কেউই।

এদিন ব্যস্ত সময় পার করছিলেন বিক্রেতা ও প্রকাশকরা, সঙ্গে ছিলেন লেখকরাও। মেলার শেষ দিন হওয়ায় বই গুছিয়ে ফেলছিলেন স্টলের কর্মীরা। কেবল ক্রেতারা বই চাইলেই বাড়িয়ে দিচ্ছিলেন। ফলে ক্রেতাদেরই তাগিদ ছিল কাঙ্ক্ষিত বইটি চেয়ে নেওয়ার। অবশ্য বাংলা একাডেমির নির্দেশনায় কোনো প্রকাশনীই এদিন অবশিষ্ট বই মেলা থেকে নিয়ে যেতে পারেনি।

বেশ কয়েকজন বিক্রয়কর্মী জানান, মেলায় শেষ দিন দর্শনার্থী কম হলেও বেচাকেনা ভালো হয়েছে। যারা স্টলে আসছেন তাদের প্রায় সবাই বই কিনেছেন। ঘুরতে আসা মানুষের সংখ্যা খুবই কম।

মেলায় আসা দর্শনার্থী লিমন ইসলাম লিটন বলেন, শেষ দিন মেলায় এসেছি। প্রথম দিকে একবার এসেছিলাম। এখন শুধু নাম দেখে বই নিয়েছি। এবারের মেলায় এখনো আগের ফিকশনগুলোই চলছে। তবে বইমেলা বেশ ভালো চলেছে বলে মনে হয়েছে।

শব্দশৈলী প্রকাশনীর প্রকাশক ইফতেখার আমীন বলেন, মেলার সময় বাড়ানোর কারণে বেশ ভালো বিক্রি হয়েছে। বই কেনেননি- এমন ক্রেতা চোখে পড়েনি। প্রবন্ধ, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাস্থ্যবিষয়ক ও শিশুদের উপযোগী নৈতিকতার বই বেশি বেচাকেনা হয়েছে।

অনুপম প্রকাশনীর প্রকাশক মিলন কান্তি নাথ জানান, এবারে বইমেলার সময় দুই দিন বাড়ানোতে বড় বড় প্রকাশনীগুলো লাভবান হয়েছে। আমাদের বেচাকেনা বেশ ভালোই হয়েছে। ক্রেতারা এসেছেন, বই কিনেছেন। এবারের বইমেলা বেশ ভালোভাবেই গেল।

এদিকে অমর একুশে বইমেলার ৩১তম দিনে মেলা শুরু হয় সকাল ১১টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। শেষ দিন মেলায় নতুন বই এসেছে ১৪৯টি।

অমর একুশে বইমেলা ২০২৪-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বিকেল ৫টায় শুভেচ্ছা ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৪’-এর সদস্য-সচিব ডা. কে এম মুজাহিদুল ইসলামের লিখিত প্রতিবেদন তার পক্ষে পাঠ করেন একাডেমির উপপরিচালক ড. সাহেদ মন্তাজ।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম নাহিদ ইজাহার খান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ। বক্তব্য প্রদান করেন সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিকাশ লিমিটেডের সিএমও মীর নওবত আলী।
সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। অনুষ্ঠানে সম্প্রতি বেইলি রোডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, এবার ছিল অধিবর্ষের বইমেলা। নির্ধারিত ২৯ দিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অতিরিক্ত দুই দিন যুক্ত হয়ে ৩১ দিনের দীর্ঘ বইমেলা শেষ হয়েছে। ২০২৪-এর বইমেলা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ছিল বিস্তৃত, ব্যাপক ও বর্ণাঢ্য। শীতে শুরু হয়ে বইমেলা স্পর্শ করেছে বসন্ত-বাতাস। একুশের রক্তপলাশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্চের চেতনার রং।

সদস্য-সচিব তার প্রতিবেদনে বলেন, ‘মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এবারের বইমেলায় শেষ দিন পর্যন্ত প্রায় ৬০ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। এই বইমেলায় বাংলা একাডেমি এক কোটি ৩৬ লাখ টাকার বই বিক্রি করেছে।’

ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, ‘অমর একুশে বইমেলা আজ বাঙালির ভাষা, শিল্প-সাহিত্য ও ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। বইমেলার মাধ্যমে প্রতিবছর আমরা আমাদের সৃজনশীলতাকে উদযাপন করি। এই মেলা আমাদের আবেগের, জাতিসত্তার, ভাষা-সাহিত্য ও ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসার মেলা।’

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বেগম নাহিদ ইজাহার খান বলেন, ‘বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। এই মেলা দেখতে দেখতে চার দশক অতিক্রম করে এখন বিশাল আকার ধারণ করেছে। বিশ্ব বাঙালির কাছে যেমন, ঠিক তেমনি বিশ্বের জ্ঞানপিপাসু মানুষের কাছেও একুশের বইমেলা এক অসাধারণ বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক ঘটনা হিসেবে স্বীকৃত।’

মেলা আয়োজনে বাংলা একাডেমির সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিকাশ লিমিটেডের সিএমও মীর নওবত আলী বলেন, বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে বইমেলার সঙ্গে সহযোগিতায় থাকতে পেরে বিকাশ লিমিটেড আনন্দিত ও গর্বিত।

সংস্কৃতি সচিব খলিল আহমদ বলেন, ‘আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত এবারের বইমেলা কেবল বই বিক্রির জায়গা নয়; দল, মত, ধর্ম, বর্ণ-নির্বিশেষে সবার প্রাণের মেলা সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় সাফল্যমণ্ডিত হয়েছে।’

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, ‘বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা আমাদের জাতীয় জীবনের এক অসাধারণ বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক ঘটনা। তথ্যপ্রযুক্তির বিপুল বিকাশের পরও মুদ্রিত বইয়ের আবেদন যে কোনোমতেই ফুরিয়ে যায়নি তার প্রমাণ একুশে বইমেলায় ক্রমবর্ধমান জনসমাগম।’

গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪

অমর একুশে বইমেলা ২০২৪-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে ২০২৩ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক বই প্রকাশের জন্য কথাপ্রকাশ-কে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়। ২০২৩ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে শৈল্পিক ও গুণমান বিচারে সেরা বই বিভাগে মনজুর আহমদ রচিত একুশ শতকে বাংলাদেশ : শিক্ষার রূপান্তর গ্রন্থের জন্য প্রথমা প্রকাশন, মঈন আহমেদ রচিত যাত্রাতিহাস : বাংলার যাত্রাশিল্পের আদিঅন্ত গ্রন্থের জন্য ঐতিহ্য এবং আলমগীর সাত্তার রচিত কিলোফ্লাইট প্রকাশের জন্য জার্নিম্যান বুকস-কে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়। ২০২৩ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ বইয়ের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য ময়ূরপঙ্খি-কে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়।

২০২৪ সালের অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্য থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে অন্যপ্রকাশ (প্যাভিলিয়ন), নিমফিয়া পাবলিকেশন (২-৪ ইউনিট) এবং বেঙ্গল বুকস (১ ইউনিট)-কে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. শাহাদাৎ হোসেন এবং উপ-পরিচালক সায়েরা হাবীব।


অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রস্তাব উত্থাপন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টে একটি মোশন (প্রস্তাব) উত্থাপন করা হয়েছে। মোশনটি উত্থাপন করেছেন সংসদ সদস্য অ্যাবিগেইল বয়েড। সোমবার (২৩ মার্চ) দেশটির সংসদে মোশন উত্থাপন করা হয় বলে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. রাশেদুল হক।

এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অস্ট্রেলিয়ার সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন অ্যাবিগেইল বয়েড।

অস্ট্রেলিয়ার এমপি অ্যাবিগেইল বয়েড তার প্রস্তাবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

প্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর এটিই ছিল প্রথম নির্বাচন। এ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজয়ী হয়েছে।

অ্যাবিগেইল বয়েড তার প্রস্তাবে নির্বাচন কমিশনের তথ্য তুলে ধরে জানান, এবারের নির্বাচনে রেকর্ড ৫৯ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি ছিল।

নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বা জুলাই জাতীয় সনদের ওপর অনুষ্ঠিত সাংবিধানিক গণভোটের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ৬০ শতাংশ ভোটার এ সনদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এ সনদে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারে ৮০টিরও বেশি প্রস্তাবনা রয়েছে, যা নতুন সরকার বাস্তবায়ন করবে।

প্রস্তাবটির শেষে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় বিএনপি এবং নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানো হয়।


জুলাই যোদ্ধাদের দেওয়া ইনডেমনিটি সরকার গ্রহণ করবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই বর্তমান সরকার যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে’ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের যে ‘ইনডেমনিটি’ (দায়মুক্তি) দেওয়া হয়েছে, তা সরকার গ্রহণ করবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। আজকের বৈঠকে এসব অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে এই বিষয়গুলোর চূড়ান্ত সুরাহা করতে হবে। আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।”

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক নামকরণের বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আজকের আলোচনার অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। জনগণের দাবির মুখে বিতর্কিত সব নামকরণ পরিবর্তনের বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এরই মধ্যে সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সরকারি দল ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন।


প্রধানমন্ত্রী দেশকে তাঁর পিতার মতোই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন: ভূমিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পিতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মত একটি দেশ, একটি জাতিকে পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সততার সাথে। নিষ্ঠার সাথে। সহজ-সরল পথে।সকলের সাথে বন্ধুত্ব রেখে।

সোমবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে খুরশেদ মোল্লা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সূবর্ণ জয়ন্তী উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মিনু।

তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার আমলে দেশ শিক্ষায় ব্যাপক উন্নতি করে। অনেক এগিয়ে যায়।’

দেশের মানুষ কোনোরকম উগ্রবাদকে সমর্থণ করেনা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরো বলেন, ‘একটি দেশ তখনই এগিয়ে যায়, যখন সে দেশের মানুষ শিক্ষা সংস্কৃতিতে ভাল করে। সুশিক্ষিত হয়। আর দেশের নারীরা যখন শিক্ষায় অগ্রসর হয় তখন সে দেশ সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে যায়।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ ও সাবেক এমপি আমিনুল ইসলাম।

আলোচনা সভার পূর্বে দু’দিনব্যাপী বিদ্যালয়ের পঞ্চাশ বছর পূর্তি উৎসবের শেষ দিনে বর্ণাঢ্য শোভযাত্রায় অংশ নেন প্রধান অতিথি সহ অনান্য অতিথিবৃন্দ। রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএমএফ এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালকের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্ত‌রে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হ‌য়।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে জানায়, আজ ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন।

এ সময় অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপ‌স্থিত ছি‌লেন।


২৫ মার্চ রাতে সারাদেশে এক মিনিটের প্রতীকী ‘ব্ল্যাক-আউট’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আগামী ২৫ মার্চ রাতে সারাদেশে এক মিনিটের প্রতীকী ‘ব্ল্যাক-আউট’ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার (২৩ মার্চ) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। খবর বাসস।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৫ মার্চ (বুধবার) রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত এই ব্ল্যাক-আউট পালন করা হবে। ১৯৭১ সালের সেই কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যার শিকার শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

তবে নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই), হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎসহ সকল জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি মিশনসমূহ এই প্রতীকী ব্ল্যাক-আউট কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকবে।


ঈদের ছুটি শেষে অফিস খুলছে আজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ৭ দিনের ছুটি শেষে আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে খুলছে সরকারি অফিস, ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠান। আজ সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে অফিস-আদালতের কার্যক্রম চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

ঈদ শেষে গ্রামের বাড়ি থেকে অসংখ্য কর্মজীবী মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। এ জন্য ট্রেন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

গত ২১ মার্চ (শনিবার) সারা দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। এ উপলক্ষে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মোট সাত দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে সংবাদপত্র শিল্পেও টানা পাঁচ দিনের ছুটি ছিল। নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত এ ছুটি ঘোষণা করে। সেই ছুটিও সোমবার শেষ হয়েছে।


সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক আজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক বসবে। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।

গত ১৫ মার্চ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি সংসদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন বিষয়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার দায়িত্ব পেয়েছে বিশেষ কমিটি। কোন অধ্যাদেশ বহাল থাকবে এবং কোনটি বাতিল হবে তা যাচাই-বাছাই করা হবে। পর্যালোচনা শেষে বিষয়গুলো নিয়ে কমিটিতে আলোচনা হবে এবং পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


২৫ মার্চ গণহত্যার স্মরণে প্রতীকী ‘ব্ল্যাক আউট’ পালন করবে দেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

একাত্তরের ২৫ মার্চের ভয়াল গণহত্যার স্মরণে আগামী বুধবার সারা দেশে এক মিনিটের প্রতীকী ‘ব্ল্যাকআউট’ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণহত্যা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের অংশ হিসেবে ২৫ মার্চ রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত দেশব্যাপী এ কর্মসূচি চলবে। তবে কেপিআইভুক্ত এলাকা, জরুরি স্থাপনা এবং বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি মিশনগুলো এ কর্মসূচির বাইরে থাকবে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, দিবসটির পবিত্রতা ও গাম্ভীর্য অক্ষুণ্ন রাখতে ২৫ মার্চ রাতে দেশের কোনো সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত কিংবা বেসরকারি ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা যাবে না।

এর আগে ৮ মার্চ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে এবার ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসেও দেশব্যাপী আলোকসজ্জা করা হবে না।

২৫ মার্চের এই প্রতীকী অন্ধকার একাত্তরের কালরাতে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে পালন করা হবে।


গাবতলী থেকে স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত তোরণ-পোস্টার লাগানো নিষিদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে ঢাকার গাবতলী থেকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত সড়কে সব ধরনের তোরণ, পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো থেকে বিরত থাকার জন্য সর্বসাধারণকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আজ সোমবার (২৩ মার্চ) এক তথ্যবিবরণীতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এছাড়া পৃথক এক বার্তায় ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণকালে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সাধারণ মানুষকে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের পুষ্পকানন বা ফুলের বাগানের কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন না করার জন্যও বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।


দেড় যুগ পর স্বাধীনতা দিবসে ফিরছে ঐতিহ্যবাহী সামরিক কুচকাওয়াজ

ফাইল ফটো
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

একটা সময় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে পুরাতন বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত হতো বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ, তবে দীর্ঘ দেড়যুগ বন্ধ ছিল এই কুচকাওয়াজ। দেশের শাসনক্ষমতার পালাবদলের পর আবারও স্বাধীনতা দিবসে ফিরছে ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজ। রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অংশগ্রহণে স্থল ও আকাশপথে তুলে ধরা হবে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার চিত্র।

স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যে কয়েক দফা মহড়ার মাধ্যমে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

অনুষ্ঠানে সালাম গ্রহণ করবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাহিনীগুলোর প্রস্তুতি ও সক্ষমতা তুলে ধরা হবে। প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আসাদুল হক।

কুচকাওয়াজে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অংশগ্রহণ থাকবে। ঘোড়ায় আরোহন করে প্যারেড কমান্ডারের প্রবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল আয়োজন।

এবারের কুচকাওয়াজে সাজোয়া, আর্টিলারি, সিগনালস, ইস্ট বেঙ্গল, এয়ার ডিফেন্স, সার্ভিসেস, প্যারা কমান্ডো, নৌবাহিনী এবং আধুনিকায়িত ইনফ্যান্ট্রি কন্টিনজেন্ট অংশ নেবে।

আকাশপথে প্যারাট্রুপাররা জাতীয় পতাকা বহন করে অবতরণ করবেন এবং বিমান বাহিনী প্রদর্শন করবে তাদের কৌশলগত সক্ষমতা। সবশেষে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান রাষ্ট্রপতিকে সালাম জানিয়ে কুচকাওয়াজের সমাপ্তি ঘোষণা করবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন পর ফিরে আসা এই কুচকাওয়াজ স্বাধীনতা দিবসের আয়োজনকে আরও বর্ণিল ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলবে।


জনগণকে আতিঙ্কত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেয়ার আহ্বান জ্বালানিমন্ত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে কেবল প্রয়োজন অনুযায়ী তেল সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিশ্চিত করেন, সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দিয়ে তেল আমদানি অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং সবাই পর্যায়ক্রমে তেল পাবেন।

তিনি আরও জানান, ঈদের ছুটির কারণে গত দুই দিন সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় জনমনে কিছুটা চাপের সৃষ্টি হয়েছে, তবে গত বছরের তুলনায় এবার ২৫ শতাংশ বেশি তেল আমদানি করা হচ্ছে।

একই দিনে সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তেলের সংকটকে কেন্দ্র করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর যে পাঁয়তারা চলছিল, সরকার তা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর মতে, ঈদের আগে এক ধরনের শঙ্কা থাকলেও সরকারের বিশেষ উদ্যোগের ফলে ঈদযাত্রায় এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি এবং চাহিদামাফিক সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। পাম্পগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঈদের আগের মতো বর্তমানেও বজায় রাখা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

তবে সরকারি ভাষ্যের বিপরীতে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস ও বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল।

তিনি জানান, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এই অপর্যাপ্ত সরবরাহের কারণেই মূলত অনেক পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তবে সংকট সাময়িক হলেও স্থায়ীভাবে কোনো পাম্প বন্ধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।


স্বেচ্ছাসেবীদের মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে স্বেচ্ছাসেবীদের মানবিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদ হলরুমে 'কলমাকান্দা যুব রক্তদান ফাউন্ডেশন' আয়োজিত এক স্বেচ্ছাসেবী মিলনমেলা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে এবং বিশেষ করে রক্তদানের মতো মহৎ উদ্যোগগুলো মুমূর্ষু মানুষের জীবন বাঁচাতে অনন্য সাধারণ অবদান রাখছে। বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে আর্তমানবতার সেবায় নিবেদিত হওয়ার জন্য তিনি বিশেষ পরামর্শ প্রদান করেন।

সোহেল রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সভায় ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জহিরুল ইসলাম মামুন।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক ফরিদ জাম্বিল, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবুল হাসেম, কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মুহাম্মদ এনামুল হক তালুকদার এবং উপজেলা এনসিপির সমন্বয়ক আবু কাওসার। বক্তারা তাদের আলোচনায় সমাজে স্বেচ্ছায় রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা এবং এর সুদূরপ্রসারী সামাজিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন।


ফিকে হয়ে গেল ঈদের আনন্দ: বান্দরবান যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় রূপগঞ্জের ব্যবসায়ীর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

সড়ক পথে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। উৎসবের আনন্দ ছাপিয়ে একের পর এক যোগ হচ্ছে লাশের সারি। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার এক ব্যবসায়ী। বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বান্দরবান ভ্রমণে যাওয়ার পথে কুমিল্লার কোটবাড়িতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মো. আক্তার হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তি। এই অকাল মৃত্যুতে নিহতের পরিবার ও এলাকায় শোকের মাতম চলছে।

নিহত আক্তার হোসেন রূপগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা মৃত মোমেন সরকারের ছেলে। তিনি রূপগঞ্জ এলাকায় আরএফএল কোম্পানির সামনে একটি চায়ের স্টল পরিচালনা করতেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে আরএফএল কোম্পানি বন্ধ থাকায় এবং আশপাশের লোকজন বাড়িতে চলে যাওয়ায় ব্যবসায়িক ব্যস্ততা কম ছিল আক্তার হোসেনের। তাই অবসর সময় কাটাতে বন্ধুদের সঙ্গে বান্দরবান ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদের দ্বিতীয় দিন রাত ১০টার দিকে আক্তার হোসেনসহ চার বন্ধু চারটি পৃথক মোটরসাইকেলে করে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তারা কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি দ্রুতগামী ট্রাক আক্তার হোসেনের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর ছিটকে পড়েন। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে আসা আরেকটি অজ্ঞাত দ্রুতগামী যানবাহন তার শরীরের ওপর দিয়ে চলে গেলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর কুমিল্লা কোটবাড়ি সড়কে দায়িত্বরত সার্জেন্ট বিষয়টি রূপগঞ্জ থানাকে অবহিত করেন এবং দুর্ঘটনাস্থলের ছবি প্রেরণ করেন। খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানার এসআই জাহাঙ্গীর তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের নিজ বাড়ি সরকারপাড়া এলাকায় গিয়ে স্বজনদের এই দুঃসংবাদ জানান।

এদিকে, ঈদের আনন্দের মধ্যে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে আক্তার হোসেনের পরিবারে কান্নার রোল পড়েছে। নিহতের প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর মাঝেও গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্ত ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


banner close