খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছিল ৫৩ শতাংশ, ৮ ফেব্রুয়ারি ১০ শতাংশ কমিয়ে করা হয়েছে ৪৩ শতাংশ। শুল্ক কমানোর পরও দাম কমেনি খেজুরের। উল্টো দাম বেড়েছে। যদিও বন্দর থেকে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। গত কয়েক দিনে ৬০৫ কনটেইনার খেজুর খালাসের কার্যক্রম চলছে এবং প্রতিদিনই খালাস অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, আগামী ১২ মার্চ পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনা করেন। দিনভর রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে খেজুর। খেজুর ছাড়া এখন আর ইফতারের কথা ভাবা যায় না। প্রায় সব রোজাদারই খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করেন। এ কারণে রমজান মাসে চাহিদা বেশি থাকা পণ্যগুলোর একটি খেজুর। পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে চলতি মাসে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি বাজারে তদারকি ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা কোনো কাজেই আসছে না। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের বাজারে খেজুরের দাম প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়েছে।
৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি আদেশে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনার ঘোষণা দেয়। এর আগে খেজুর আমদানিতে সর্বমোট ৫৩ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে খেজুরের শুল্কায়ন মূল্য প্রতি টন ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৭৫০ ডলার। এর সঙ্গে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ, রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ ও ভ্যাট ১৫ শতাংশ। পাশাপাশি অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর ৫ শতাংশ হারে দিতে হচ্ছে। এতে বর্তমানে সর্বমোট ৪৩ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত রোজার আগে মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরে শুল্ক দিতে হতো ৫ দশমিক ৪৫ থেকে ২১ দশমিক ৮৪ টাকা। তবে এবার খেজুরকে ‘বিলাসীপণ্যের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে খেজুরের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫৩ শতাংশ করা হয়। ফলে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বেড়ে গেছে। এবার শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫৪ থেকে ২০৮ টাকা। মূলত শুল্কের প্রভাব পড়েছে খেজুরের দামে। গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি খেজুরে জাতভেদে দাম বেড়েছে ১০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত। দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া খেজুরের মধ্যে রয়েছে দাবাস, জাহিদি, বরই ও গলা খেজুর।
চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গলা বা বাংলা খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, জাহিদি খেজুর ২৪০-২৬০ ও মানভেদে দাবাস খেজুর ৪৫০-৫৫০ টাকায়। এ ছাড়া বরই খেজুর মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৪০-৫৪০ টাকায়। গত বছর এসব খেজুরের দাম ছিল বর্তমান দরের অর্ধেকেরও কম।
এদিকে অভিজাত শ্রেণির কাছে পছন্দের খেজুরের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের মেডজুল, মাবরুম, আজওয়া ও মরিয়ম। গত এক মাসের ব্যবধানে এসব খেজুরের দাম কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে। জাম্বো মেডজুল মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, সাধারণ মেডজুল ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০, মাবরুম খেজুর ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, আজওয়া খেজুর মানভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো জাতের মরিয়ম বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এ ছাড়া কালমি মরিয়ম ৮০০-৯০০ টাকা, সুফরি মরিয়ম ৭৫০-৮০০, আম্বার ও সাফাভি ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ ও সুক্কারি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে রোজার আগে জাহিদি জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি (১০ কেজি) ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। শুল্ক আরোপের কারণে দাম বাড়ার পর গত বছরের শেষ সপ্তাহেও একই জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা। তবে এখন ১০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েও এই জাতের খেজুরের কার্টন হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা।
পাইকারি ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি ৫ কেজির এক কার্টন মেডজুল খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার টাকায়। গত বছর এ খেজুর বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়। অন্যদিকে সাধারণ খোলা খেজুর প্রতি কেজি ফেব্রুয়ারির শুরুতে কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ছিল ১২৮-১৩০ টাকা। বর্তমানে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকায়।
পাইকারি বাজার সূত্রে জানা গেছে, বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় জাহিদি জাতের খেজুর। এক বছর আগে প্রতি কেজি খেজুর খুচরা পর্যায়ে ১৫০ টাকায় পাওয়া যেত। শুল্ক কমানোর পর বর্তমানে এ খেজুর খুচরায় বিক্রি করতে হবে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য আমদানি করা খোলা (বস্তায় বিক্রি হওয়া ভেজা খেজুর) রোজা আসার আগেই কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ১৫৫ টাকায় উঠে গেছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে এ মানের খেজুর বিক্রি করতে হবে কমপক্ষে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। অবশ্য গতকাল বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল হক টিটু ঘোষণা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে খেজুর পৌঁছে দিতে বস্তায় আসা জাহিদি খেজুরের দাম কমানো হবে। আজ রোববার (৩ মার্চ) এই খেজুরের দাম কমানোর ঘোষণা আসার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিনে সবচেয়ে বেশি খেজুর বন্দর থেকে খালাস নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগে বন্দর থেকে দিনে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলেও এখন সেটা ৭০ কনটেইনারে গিয়ে টেকেছে। কিন্তু দাম কমছে না।
ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকার শুল্ক কমানোর পর ব্যবসায়ীরা খেজুর খালাসে তোড়জোড় শুরু করেছে। শুল্ক কমানোর পরও ভোক্তারা কম দামে খেজুর কিনতে পারছেন না। শুল্ক কমানোর পর পর্যাপ্ত আমদানি হলেও দাম কেন কমছে না বিষয়টি তদারকি করতে হবে। তদারকি না করলে রোজায় খেজুর কিনতে পারবে না ভোক্তারা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৬৩ টন খেজুর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস করেছেন আমদানিকারকরা। ১৪৫ দিনের মধ্যে গত ১৫ দিনেই বেশি খেজুরের চালান খালাস হয়েছে। ২৮ ধরনের খেজুর দেশের ৮২টি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্দান, মিসর, আলজেরিয়া, নামিবিয়া, তিউনিশিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আমদানি করেছে।
জানা গেছে, চার মাস আগে খেজুর আমদানি করলেও শুল্ক কমবে এ আশায় ব্যবসায়ীরা পণ্যটি চট্টগ্রাম বন্দরে গুদাম করে রেখেছিলেন। ফলে বেসরকারি ১৯টি ডিপোতে ১ হাজার কনটেইনার (প্রতি কনটেইনারে ২২-২৪ হাজার কেজি খেজুর থাকে) খেজুর পড়ে ছিল। এখন খেজুরভর্তি ৬০৫টি কনটেইনার খালাস চলছে। এখনো খেজুরভর্তি ৩৯৫টি কনটেইনার খালাসের উদ্যোগ নেয়নি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার কাজী ইরাজ ইশতিয়াক বলেন, প্রচুর পরিমাণে খেজুর খালাস হচ্ছে। প্রতিদিনই খালাস করছেন আমদানিকারকরা। তিনি বলেন, খেজুরের শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
তিনি জানান, খেজুরের চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। একেকটি ক্যাটাগরির একেক রকম শুল্কহার হয়। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির প্রবণতাও রয়েছে। অনেক সময় উচ্চ শুল্কহারে খেজুর এনে কম শুল্কহারে ঘোষণা দেওয়া হয়। এমন বেশ কিছু ঘটনাও ঘটেছে। এ জন্য আমরাও সতর্ক আছি, যেন সরকার রাজস্ব বঞ্চিত না হয়।
উচ্চ শুল্কহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা এনবিআর নির্ধারিত, এ ব্যাপারে আমাদের বলার বা করার কিছু নেই। আমরা নির্ধারিত শুল্ক নিয়ে খালাসের ব্যবস্থা করি। খেজুর বিলাসী পণ্য কি না, এ বিষয়েও তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
খাতুনগঞ্জের ডেটস অ্যান্ড ড্রাই ফ্রুটস আমদানিকারক মো. ওমর ফারুক বলেন, খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ট্যাক্স ১০ শতাংশ কমালেও অন্যান্য শুল্ক ঠিক রেখেছে এনবিআর। ফলে উচ্চমাত্রায় ট্যাক্স দিয়েই আনতে হচ্ছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সামান্য এ শুল্ক কমানোয় খেজুরের দামে প্রভাব পড়বে না।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সুলতান আরেফিন বলেন, শুল্ক কমানোর পর থেকে আমদানিকারকরা খেজুর খালাস নিতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। আগে প্রতিদিন গড়ে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলে এখন সেটি ৭০ কনটেইনার খালাস হচ্ছে।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতি কেজি খেজুর ১১০ টাকায় কিনলে ১৪০-১৫০ টাকা শুল্ক দিতে হয়। ১২০ টাকায় কিনলে ২০৮ টাকা শুল্ক দিতে হয়। গত বছর ৯০ টাকায় ডলার কিনতে পারতাম। এ বছর ১২০-১২২ টাকা দিতে হচ্ছে। কাস্টমস থেকে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ইচ্ছেমতো করা হচ্ছে। এলসি যে মূল্যে খুলছি সে অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ করা হলে খেজুরের দাম অর্ধেকে নেমে আসে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না।
বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, পণ্য বন্দরে আসার পর শুল্ক পরিশোধ করে খালাস করতে হয়। এসব কাস্টমসের বিষয়।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমেদ বলেন, ডলারের দাম বাড়াতে পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে যায়। এর পরও ব্যবসায়ীরা সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ)-এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব মোঃ মুহিদুল ইসলাম।
অদ্য ০৩/০৬/২০২৬ খ্রি. তারিখে তিনি যোগদান করেন।
ইতোপূর্বে তিনি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য নিরাপত্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কিশোরগঞ্জ ও রাজবাড়ী জেলাসহ অন্যান্য জেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন।
জনাব মোঃ মুহিদুল ইসলাম জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের বিশ্ব নৌ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেছেন।
দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের ১০টি অপচেষ্টা সফলভাবে রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ২৪ ঘণ্টায় বিজিবির কঠোর অবস্থান ও নিয়মিত টহলের মুখে এই অনুপ্রবেশ চেষ্টার সবগুলোই ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবি সদর দপ্তর জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সীমান্ত সুরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং অপারেশনাল কার্যক্রম আগের চেয়ে আরও জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যদের এই দৃঢ় অবস্থানের ফলে সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।
বিজিবির পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধীন যাদবপুর সীমান্ত দিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবির বাধার মুখে তারা পুনরায় ভারতে ফিরে যায়। একই এলাকায় বিএসএফের একটি প্রিজন ভ্যানে করে প্রায় ৩০-৩৫ জন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা ও বিজিবি সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করে। এছাড়া যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর এবং জয়পুরহাটের কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক লোক জড়ো করে পুশইনের যাবতীয় আয়োজন বিজিবির সতর্কতামূলক অবস্থানের কারণে ভেস্তে গেছে।
সীমান্তের বিভিন্ন অংশে বিএসএফের স্থাপিত ‘হোল্ডিং সেন্টার’গুলোতে অনেক মানুষকে আটকে রেখে বাংলাদেশে পাঠানোর খবর পাওয়া গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্তের বিপরীতে প্রায় ২২ জন এবং নেত্রকোনার কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ১৫-২০ জন ব্যক্তিকে পুশইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করার তথ্য পেয়েছে বিজিবির গোয়েন্দা শাখা। বিশেষ করে নেত্রকোনার একটি অংশে প্রাকৃতিক কারণে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় সেখানে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। অন্যদিকে পঞ্চগড়ের রওশনপুর ও সিলেটের উৎমাছড়া সীমান্তেও অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হলে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সহায়তায় তাদের শনাক্ত করে পুনরায় ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বিএসএফ দুইজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে বিজিবিকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা বার্তা পাঠানো হয়নি। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার আলোকে কাজ করার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া অনুপ্রবেশের যে-কোনো প্রচেষ্টাকে কঠোরভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে বাহিনীটি।
বিজিবি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থি যে-কোনো কার্যক্রম রুখে দিতে তারা বদ্ধপরিকর। সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি বর্তমানে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে এবং যে-কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে সদা জাগ্রত রয়েছেন। স্থানীয় জনগণের সহায়তায় সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
দেশের স্বাস্থ্য খাতের চালচিত্রটি সবসময়ই যেন এক চরম বৈপরীত্যের গল্প। একদিকে সরকারি হাসপাতালের সীমিত খরচের সেবায় সাধারণ মানুষের অবহেলার অন্তহীন দীর্ঘশ্বাস, অন্যদিকে বেসরকারি চিকিৎসার সুরম্য ভবনে পকেট খালি হওয়া চড়া মূল্য। এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট দেশের বৃহৎজনগোষ্ঠী। তবে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন বেশি বাধাগ্রস্ত হয়েছে ইউনূসের নেতৃত্বধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও সেবার মানোন্নয়নের পরিবর্তে আলোচনায় ছিল প্রশাসনিক অচলাবস্থা, চিকিৎসকদের অসন্তোষ এবং নীতিগত দুর্বলতা।
বিশেষ করে সময়মত টিকা সরবরাহে ব্যর্থতার কারণে দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, ঘটছে মৃত্যু। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও জনবল সংকট, ওষুধ ও যন্ত্রপাতির অভাব এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও ছিল প্রকট। এসব সংকট কাটাতে স্বাস্থ্য খাতে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পরিবর্তনের রূপরেখা তৈরি করেছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার দিয়ে এক বিশাল সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষজ্ঞনির্ভর চিকিৎসা, প্রাথমিক চিকিৎসা উপেক্ষা করে বিশেষজ্ঞের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, স্বচ্ছতার অভাব ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের মনোবলহীনতায় ইউনূসের আমলে স্বাস্থ্য খাতে বিপর্যয় নেমে আসে। সংস্কার বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলায় ঘাটতি এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আমূল পরিবর্তনেও ছিল ধীরগতি। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে ৩৩টি জরুরি সুপারিশের মধ্যে মাত্র ৬টি বাস্তবায়ন হওয়ায় খাতটি চরমভাবে ধুঁকছে। এখন এই দুর্বল খাতটিকে টেনে তুলতে গিয়ে হিমসিম অবস্থা বর্তমান সরকারের।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাস্থ্যের ১৪টি খাতে অর্থ বরাদ্দ হয় অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) মাধ্যমে। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের বছর ২০২৪ সালেই ওপি থেকে বেরিয়ে আসে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে স্বাস্থ্যের সব উন্নয়নমূলক কাজে স্থবিরতা নেমে আসে। ফলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগ নিয়ন্ত্রণ, টিকাদান, পুষ্টিসহ ৩৭টির বেশি কর্মসূচি ব্যাহত হয়।
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ মাত্র ৫ শতাংশ: জনস্বাস্থ্যবিদরা আশা করেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। জাতীয় বাজেটের ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয় স্বাস্থ্য খাতে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সেবা খাতে কোনো সফলতাই দেখাতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। তবে বর্তমান সরকার ভঙ্গুর স্বাস্থ্যখাতকে টেনে তুলছে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) ৩ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে। এই এডিপিতে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট প্রায় দ্বিগুণ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল মাত্র ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা।
মোট এডিপির ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ এ খাতে বরাদ্দ দিয়ে পরিবহন ও যোগাযোগ এবং শিক্ষা খাতের পর স্বাস্থ্যকে রাখা হয়েছে তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে। এই বিশাল বরাদ্দের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ পাবে ২৬ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ পাবে ৮ হাজার ২২১ কোটি টাকা। বাকি ৫০৩ কোটি টাকা অন্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ব্যয় হবে। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, আগামীতে মোট বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ অন্তত ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে গ্রামীণ অবকাঠামোয় বড় ধরনের সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের ৫০ শয্যার ৪৯২টি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আটটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হয়েছে। বাকি হাসপাতালগুলোর অবকাঠামোগত প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করবে গণপূর্ত বিভাগ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেবে।
প্রধানমন্ত্রী এসব হাসপাতালে প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, গ্রামীণ পর্যায়ে থেরাপি ও পুনর্বাসন সেবা জোরদার করতে এই হাসপাতালগুলোর প্রতিটিতে দুজন করে ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগ দেওয়া হবে।
দেশের শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর—এই চার বিভাগীয় শহর এবং কুমিল্লা জেলা সদরে মোট পাঁচটি নতুন শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। এই বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে প্রতিটির জন্য ১ হাজার ৪৭৫ জন করে নতুন জনবল প্রয়োজন হবে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে এই বিশাল জনবল দ্রুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
শুধু অবকাঠামো উন্নয়নই নয়, স্বাস্থ্যসেবার কার্যকারিতা বাড়াতে মাঠপর্যায়ে একটি অভূতপূর্ব প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ ও কমিউনিটি ক্লিনিক মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কর্মী আলাদা আলাদা কাঠামোয় কাজ করছেন। এর ফলে সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে—একই এলাকায় একাধিকবার সেবা পৌঁছালেও কিছু দুর্গম এলাকা পুরোপুরি সেবার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
এই সেবা পুনরাবৃত্তি বা ‘ডুপ্লিকেশন’ দূর করতে এবার পুরো মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য কার্যক্রমকে একটি একক সমন্বিত কাঠামোর অধীনে আনা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার আওতায় বর্তমানের ৪০ হাজার কর্মীর সাথে আরও অতিরিক্ত ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। ফলে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার কর্মী একই ছাতার নিচে এসে কাজ করবেন। একীভূত এই ব্যবস্থায় সবার জন্য অভিন্ন দায়িত্ববণ্টন (জব ডেসক্রিপশন) ও একটি মানসম্মত ‘এসেনসিয়াল সার্ভিস প্যাকেজ’ চালু করা হবে, যাতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—সব জায়গায় সেবার মানে একরূপতা বজায় থাকে।
ভবিষ্যতে শুধু জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হবে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ নিজ উদ্যোগে গর্ভনিরোধক ব্যবহার করেন, যা মাঠকর্মীদের সমন্বিত প্রচারণার মাধ্যমে ৭০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।
বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা ও পরিকল্পনা যতটাই আকর্ষণীয় হোক না কেন, তা মাঠপর্যায়ে কতটা বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মনে সংশয় রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, ‘বছর শেষে একটা সংশোধিত বাজেট করা হয়। সংশোধিত বাজেটে দেখা যায়, শুরুতে যেটা ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, সেটা শেষ পর্যন্ত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে যায়। ফলে মাঠপর্যায়ে সেই অর্থের পুরোটা পৌঁছায় না।’
বরাদ্দ অর্থ সময়মতো এবং দক্ষতার সাথে ব্যবহার করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনাহীন কাজের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব এবং কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ করব যে এই বাড়তি বরাদ্দ সঠিকভাবে ব্যয় করা সম্ভব।’ ড. মুহিতও একমত পোষণ করে জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে রিয়েল-টাইম তথ্য সংগ্রহ ও স্থানীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা জোরদার করে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে।
৩৫ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল উন্নয়ন বাজেট এবং মাঠপর্যায়ের কাঠামোগত সংস্কার যদি সততা ও দক্ষতার সাথে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য পকেট খালি হওয়ার দীর্ঘশ্বাস অনেকটাই কমে আসবে। স্বাস্থ্য খাতের এই মহাসড়ক যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের প্রকৃত মুক্তির পথ হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
দেশে পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ হারে বাড়ানো হয়েছে। আর গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ ও সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে বলা হয়, বিভিন্ন ধাপের (স্লাব) গ্রাহকদের মধ্যে সবচেয়ে কম ১৫ শতাংশ ও সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে এবার। নতুন এ দাম জুন থেকেই কার্যকর হচ্ছে।
তাড়াহুড়া করে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, কোনো চাপ ছিল না। বাজেট মাথায় রেখে দ্রুত করা হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দাম বাড়ানোর ফলে মানুষের ব্যয় বাড়বে, তবে অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করা হয়নি। এটা করার সুযোগ আছে।
সরকারি-বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুক্তি অনুসারে নির্ধারিত দামে বিদ্যুৎ কিনে নেয় পিডিবি। এরপর তারা উৎপাদন খরচের চেয়ে কিছুটা কমে সরকার নির্ধারিত পাইকারি দামে ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করে। ঘাটতি মেটাতে পিডিবি সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নেয়, তবে বিতরণ সংস্থাগুলো কোনো ভর্তুকি পায় না। তারা খুচরা দামে ভোক্তার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে কোম্পানি চালায়।
বিইআরসির আদেশ বলছে, পাইকারিতে বর্তমান দাম ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে গড় দাম ৮ টাকা ৩৯ পয়সা করা হয়েছে। আর খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা। অন্যদিকে সঞ্চালন খরচ (গড়) ইউনিট প্রতি ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৩৯ পয়সা করা হয়েছে।
বিদ্যুতের একমাত্র সঞ্চালন কোম্পানি পিজিসিবি (পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি), প্রতি ইউনিটে যথাক্রমে ৩০ ও ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ ও ৪৯ পয়সা করার আবেদন করেছিল।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে ইউনিট প্রতি ১ দশমিক ২০ টাকা (১৭ শতাংশ) থেকে ১ দশমিক ৫০ টাকা (২১ শতাংশ) দাম বাড়ানোর আবেদন করে। মূল্যবৃদ্ধির আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুতের সম্ভাব্য উৎপাদন খরচ পড়বে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে ১২ দশমিক ৯১ টাকার মতো। গত ২০ ও ২১ মে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি।
সবশেষ ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সাড়ে ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে পাইকারি দর ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাজেট ভালো হবে। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে চিন্তায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে। আমাদের খারাপ সময়, ভঙ্গুর অর্থনীতি তার মধ্যে আমরা চেষ্টা করেছি, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কথা চিন্তা করেছি, সবাইকে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ। বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।
সরকারের ওপর প্রচুর ঋণের বোঝা জানিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, সবদিক থেকে অর্থনীতির অবস্থা খুবই খারাপ। তারপরও এই অবস্থার মধ্যে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। এরপরও বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া চেষ্টা করেছি। কারণ বাজেটের এই অর্থনীতিতে সবার অংশগ্রহণ যাতে নিশ্চিত করতে পারি এবং অর্থনীতির সুফল যাতে প্রত্যেকটি নাগরিকের কাছে যায় সেগুলো মাথায় রেখে প্রণয়ন করার চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, আমরা খুব একটা ভঙ্গুর অবস্থার মধ্যে আছি। বিগত সরকারগুলো থেকে আশা করি এটা একটা ভালো শুরু হবে। একটু সময় দিতে হবে। শুরুটা আশা করি ভালো হবে। এখান থেকে আমরা সামনের দিকে ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারব।
গত দুই বছর মানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বাংলাদেশে বিনিয়োগ একেবারেই শূন্য ছিল, এখন আপনাদের সরকারের তিন মাস পার হলো। বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বা বিনিয়োগের বিষয়ে কোনো আশ্বাস রয়েছেন কিনা? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না। বাংলাদেশের বাংলাদেশের অর্থনীতি হবে বিনিয়োগ ভিত্তিক অর্থনীতি। টাকা ছাপিয়ে এই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে দেশকে ঋণাত্মক একটা অবস্থায় নিয়ে গেছে। আমাদের এই ঋণের সুদের বাজেট একটা বিরাট অংশ চলে যায়। বাংলাদেশকে যে ঋণ নির্ভর অর্থনীতির দিকে যাচ্ছিলাম, সেখান থেকে আগামী দিনে ফিরে আসার জন্য যে পাবলিক ফাইনান্স ম্যানেজমেন্ট দরকার, আমরা সেভাবেই করার চেষ্টা করছি। যাতে করে ক্রমান্বয়ে ঋণ ওপর নির্ভর কম করে বিনিয়োগের উপর বেশি নির্ভর করতে হবে। আমাদের পরিচালন ব্যয় ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনতে হবে, বিনিয়োগ বেশি বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যে অর্থনীতি বাংলাদেশের মানুষের বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে পারবে এবং যে উন্নয়নের স্বপ্ন আমরা দেখাতে চেষ্টা করছি, ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমির দিকে আমরা যাচ্ছি। সেটা যাতে বাস্তবায়ন হতে পারে। সেই চেষ্টা করছি।
দেশজুড়ে বহমান তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ অন্তত ৪১টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। প্রখর রোদ আর তপ্ত বাতাসে সবচেয়ে বেশি দুরবস্থায় পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর, রিকশাচালক ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। জীবিকার তাগিদে এই চরম প্রতিকূল আবহাওয়াতেও তাদের বাইরে বের হতে হচ্ছে, ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আয় কমে যাওয়ার মতো দ্বিমুখী সংকটে পড়েছেন তারা। এ তাপপ্রবাহ আগামী শুক্রবার (৫ জুন) নাগাদ কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার (৩ জুন) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া এ তথ্য দিয়েছেন।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলাসহ রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলা, রংপুর বিভাগের ৮ জেলা এবং খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
হামিদ মিয়া বলেন, ‘বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমবে। তবে বৃহস্পতিবারও দেশের অধিকাংশ এলাকায় তাপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। তাপপ্রবাহ কমে আসবে শুক্রবার।’
এদিকে এদিন রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় ও রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় এবং বৃহস্পতিবার রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় ও রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রাজশাহীতে তাপদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন: চলমান তাপদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরের জনপদ রাজশাহীর স্বাভাবিক জনজীবন। বিশেষ করে তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে সব থেকে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাজশাহীতে মৌসুমের অন্যতম উষ্ণতম দিন পার হয়েছে। এই জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৬৫ শতাংশ, যা ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ ।
এর আগের দিন অর্থাৎ সোমবারও আবহাওয়া পরিস্থিতি প্রায় একই রকম ছিল। এদিন রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
টানা দুই-তিন দিন একই ধরনের উচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করায় তাপপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা।
কাজে বা বিভিন্ন প্রয়োজনে দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকার ফলে হিটস্ট্রোক ও পানিবাহিত রোগী বাড়ছে। জ্বর, সর্দি-কাশিসহ গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীদের সংখ্যাও বাড়ছে বলে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
মহানগর ও জেলার উপজেলাগুলোতে অব্যাহত এই তাপপ্রবাহে নাভিশ্বাস উঠেছে খেটে খাওয়া মানুষসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষেরও। কয়েকদিন ধরেই সকাল থেকে বিকেল প্রায় সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত সূর্যের প্রখর রোদ থাকায় খেটে খাওয়া দিনমজুররা বেশি সময় ধরে মাঠে থাকতে পারছেন না।
মো. রহিদুল নামের এক দিনমজুর বলেন, কয়েকদিন ধরে প্রচুর গরম পড়ায় ব্যাপক সমস্যার মধ্যে আছি। কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে, আবার কাজ না করলে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া সম্ভব হবে না বলে যত কষ্টই হোক, কাজ করতে হচ্ছে।
রিকশাচালক সইমুর বলেন, তীব্র গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে। কাজ ছাড়া লোকজন বাইরে বের হচ্ছে না বলে আয়ও তেমন হচ্ছে না।
শহরের মোড়ে মোড়ে তৃষ্ণা মেটানোর জন্য ডাব, তালের শাঁস ও শরবতের দোকানে ভীড় করছেন পেটের দায়ে গরম উপেক্ষা করে রাস্তায় নামা মানুষ।
জীবননগরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস: জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে এবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার এই তাপমাত্রা রেকর্ড করে। হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলাজুড়ে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে চলায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তীব্র রোদের কারণে দুপুরের দিকে জীবননগর পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ও যানবাহন চলাচল অনেকটাই কমে গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না।
প্রখর রোদের কারণে শ্রমজীবী মানুষ, বিশেষ করে রিকশাচালক ও দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। তীব্র গরমে অনেকেই একটু পরপর গাছের ছায়ায় বা ঠাণ্ডা স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, কয়েক দিন ধরেই চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। বুধবার (৩ দিন) দুপুর ৩টায় উপজেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে পৌঁছায়। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ওঠানামা করায় ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।
আগামী আরও কয়েক দিন এই ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তীব্র গরমের কারণে হিট স্ট্রোক, ডায়রিয়া এবং পানিশূন্যতার মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকরা বিশেষ সতর্কতা জারি করেছেন।
প্রচণ্ড রোদে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়া। বাইরে বের হলেও ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার করা। শরীর সতেজ রাখতে প্রচুর পরিমাণে নিরাপদ পানি, লেবুর শরবত ও ডাবের পানি পান করার কথা বলছেন। শিশু এবং বৃদ্ধদের বিশেষ যত্নে রাখার কথাও বলছেন চিকিৎসক।
বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৯ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২ জুন) অ্যাডিশনাল ডিআইজি (প্রশাসন) রায়হান উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাদের বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) বিষয়টি প্রকাশিত হয়।
বদলি করা কর্মকর্তাদের মধ্যে খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেনকে ডিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার, গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হককে গাজীপুরের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া পুলিশ হেডকোয়ার্টাসে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসানকে গাজীপুর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছে। খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসিফ ইকবালকে বদলি করা হয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স (টিআর পদে)।
হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল হক মুন্সীকে বদলি করা হয়েছে নৌপুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে।
এছাড়াও র্যাবে কর্মরত সহকারী পুলিশ সুপার মো. আমিরুজ্জামানকে স্পেশাল ব্রাঞ্চে (এসবি) বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি গাজীপুর মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. দ্বীন-ই-আলমকে রেলওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জনস্বার্থে তাদের নামের পাশে উল্লেখকৃত পদে/স্থানে বদলি/পদায়ন করা হলো। আগামী ১৫ জুনের মধ্যে তাদেরকে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার অর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে তিন দেশ থেকে ৫ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সুইজারল্যান্ড থেকে কেনা হবে ২ কার্গো, যুক্তরাজ্য থেকে কেনা হবে ২ কার্গো এবং সিঙ্গাপুর থেকে কেনা হবে ১ কার্গো এলএনজি।
বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ (আরএফকিউ-ইন্টারন্যাশনাল) পদ্ধতিতে তিন কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৬-২৭ জুন সময়ের জন্য ২৬তম কার্গো, ৩০ জুন-১ জুলাই সময়ের জন্য ২৭তম কার্গো এবং ৬-৭ জুলাই সময়ের জন্য ২৮তম কার্গো— এই তিন কার্গো এলএনজি কেনা হবে।
ক্রয় প্রস্তাবের আওতায় এক কার্গো এলএনজি সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড এবং দুই কার্গো যুক্তরাজ্যভিত্তিক টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে। এই তিন কার্গো এলএনজি কিনতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৭২ কোটি ২১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮৪ টাকা (এআইটিসহ)।
বৈঠকে আর এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সুইজারল্যান্ড থেকে স্বল্প মেয়াদে ২০২৬ সালে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় ২ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ২ কার্গো এলএনজি কিনতে মোট কতো টাকা ব্যয় হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সুইজারল্যান্ডের এসওসিএআর ট্রেডিং এসএ থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে এলএনজি সরবরাহ এবং এফআরএসইউ স্থাপনের জন্য আগ্রহ ব্যক্ত করে প্রস্তাব দাখিল করে।
গত বছরের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে জি-টু-জি ভিত্তিতে চুক্তির আওতায় এসওসিএআর ট্রেডিং এসএ থেকে স্বল্প মেয়াদে ২০২৬ সালে কিছু সংখ্যাক এলএনজি সরবরাহের প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়।
এলএনজি আমদানিতে স্পট মার্কেটের বিকল্প হিসেবে সাশ্রয়ী মূল্যে জি-টু-জি ভিত্তিতে স্বল্প মেয়াদে এসওসিএআর ট্রেডিং এসএ থেকে ২০২৬ সালে ২ কার্গো এলএনজি নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে নির্ধারিত জাপান কোরিয়া মার্কেট ফরমুলা-অনুযায়ী দরপ্রস্তাব প্রতি এমএমবিটিইউ (জেকেএম+ শূন্য দশমিক ১২৫ মার্কিন ডলার) হিসেবে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করলে মন্ত্রিসভা কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে। এক কার্গোতে এলএনজির পরিমাণ হচ্ছে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ।
ঈদুল আজহার ছুটিতে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড টেলিফোনের কপার ক্যাবলের সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনার কারণ এখনও জানা যায়নি। একাধিক সংস্থা ঘটনাটির তদন্ত করছে।
গত ২৫ মে ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরু হয়। সাত দিনের ছুটি শেষে অফিস খোলে গত সোমবার (১ জুন)। এদিন সকালে সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা অফিসে গিয়ে দেখতে পান, টেলিফোনে সংযোগ নেই। বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়। কয়েক ঘণ্টা পর বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মকর্তারা সংযোগ পুনরুদ্ধার করেন। এ ঘটনায় বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার বাদী হয়ে গত সোমবার (১ জুন) শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডিতে বলা হয়েছে, সচিবালয়ের পুরাতন এক নম্বর ভবন থেকে নতুন ভবন এক নম্বর পর্যন্ত স্থাপিত টেলিযোগাযোগের কপার ক্যাবল ছিল। এই ক্যাবলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের রেড টেলিফোন নম্বরসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগ সচল রাখার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। ভবনের ছাদে কপার ক্যাবল দুর্বৃত্তরা কেটে ফেলে। ফলে ওই রেড টেলিফোন নম্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে। এর বেশি কিছু বলার মতো তথ্য এখন নেই।’
বাংলাদেশ সচিবালয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের রমনা বিভাগের আওতাধীন। এ বিভাগের উপকমিশনার রেজাউল করিম বলেন, ‘ঘটনাটির ছায়া তদন্ত করছি আমরা।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধ–সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ)।
তিনি বলেন, বৈঠকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা বাঁধ এলাকার দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা সমস্যা এবং তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ডিএনডি বাঁধ এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা এখনও অনেকাংশে রয়ে গেছে। ২০১৬ সালে এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল, সেটি ২০২৪ সালে শেষ হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত প্রকল্পের সুফল এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষ খুব একটা পায়নি।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সমাপ্ত করা প্রজেক্টটি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেনও জানান তিনি।
এ্যানি বলেন, ডিএনডি এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার আরও উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এলাকাজুড়ে ও ৩০ কিলোমিটার নতুন ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরেও আনা হয়েছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় এবং সবার সম্মিলিত উদ্যোগে এবার কাক্সিক্ষত ফলাফল পাওয়া যাবে।
বৈঠকে পানি সম্পদমন্ত্রী ছাড়াও প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন যে, একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করতে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে। বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। রুহিয়াকে নতুন উপজেলা ঘোষণা করায় স্থানীয় উপজেলা বিএনপি এই সংবর্ধনার আয়োজন করে। এসময় মন্ত্রী দেশ গড়ার কাজে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সরকারের গত তিন মাসের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া ও ভুল্লীকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া জেলাটিতে বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ চালু এবং বন্ধ থাকা বিমানবন্দর পুনরায় সচল করার বাস্তব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিগত তিন মাসে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকার ৭২ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।
দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তথা তরুণ সমাজকে রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি ক্রমবর্ধমান মাদকাসক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যুবকদের ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মাদকের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা অপরিহার্য। তরুণদের বিপথগামিতা থেকে ফিরিয়ে এনে আগামী দিনের যোগ্য নেতা হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব পরিবার ও সমাজ উভয়কেই নিতে হবে। মাদক মুক্ত সমাজ গঠনই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মির্জা ফখরুল তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও রুহিয়ার উন্নয়নে অবদান রাখা প্রয়াত নেতাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, জাতীয় পার্টির নেতা নুরুল হক বোমবার্ড এবং বিএনপির সাবেক জেলা সভাপতি তৈমুর রহমানের অবদান উল্লেখ করে উদার রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় দেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও এলাকার উন্নয়নে যারা কাজ করেছেন, তাদের সম্মান জানানো প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে মন্ত্রী রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়কে অস্থায়ী রুহিয়া উপজেলা পরিষদের কার্যালয় হিসেবে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন। রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের শেষে আধুনিক ঠাকুরগাঁওয়ের রূপকার হিসেবে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ ও সংগঠনের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুলকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করা হয়।
দেশে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই নতুন দর ঘোষণা করে। ঘোষণা অনুযায়ী, খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বা কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে নির্ধারিত ৯ টাকা ১১ পয়সার পরিবর্তে গ্রাহকদের প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের জন্য এখন থেকে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা গুণতে হবে। নতুন এই বর্ধিত মূল্য চলতি জুন মাসের বিলিং সময় থেকেই কার্যকর হবে বলে কমিশন থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিইআরসি কেবল গ্রাহক পর্যায়েই নয়, পাইকারি পর্যায়েও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাইকারি বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩৯ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার ফলে নতুন পাইকারি দর দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা। এর পাশাপাশি বিদ্যুতের সঞ্চালন চার্জেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে প্রতি ইউনিটে সঞ্চালন চার্জ ছিল শূন্য দশমিক ৩১৩৫ টাকা, যা এখন শূন্য দশমিক ০৭৫১ টাকা বাড়িয়ে মোট শূন্য দশমিক ৩৮৮৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিদ্যুতের এই মূল্য নির্ধারণের আগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এর আগে গত ২০ ও ২১ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর বিস্তারিত গণশুনানি আয়োজন করে বিইআরসি। সেই শুনানিতে বিভিন্ন অংশীজন ও সাধারণ মানুষের মতামত গ্রহণের পর প্রাপ্ত তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় সমন্বয় এবং আর্থিক সক্ষমতা বজায় রাখতেই এই মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মূলত দেশের ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি বিইআরসির কাছে দাম বাড়ানোর জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। কোম্পানিগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায়, তারা প্রতি ইউনিটে ৮৫ পয়সা থেকে শুরু করে ২ টাকা ৫ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল। এর মধ্যে পিডিবি সর্বনিম্ন ৮৫ পয়সা এবং নেসকো সর্বোচ্চ ২ টাকা ৫ পয়সা বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছিল। এছাড়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরইবি ১ টাকা ৭৭ পয়সা, ডিপিডিসি ১ টাকা ৫৪ পয়সা, ডেসকো ১ টাকা ৯৮ পয়সা এবং ওজোপাডিকো ১ টাকা ৩৯ পয়সা করে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। সকল প্রস্তাব বিবেচনা করে কমিশন শেষ পর্যন্ত গড় হারের এই নতুন মূল্য তালিকা চূড়ান্ত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে জাপানের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কোং-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য যে, মিতসুই বিশ্বজুড়ে অবকাঠামো, লজিস্টিকস, জ্বালানি, ধাতু ও খাদ্য বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বৃহৎ পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
বৈঠককালে বাংলাদেশে কৃষি, খাদ্য, তথ্যপ্রযুক্তি এবং জ্বালানি খাতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও বিদ্যমান বিনিয়োগের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদলকে জানানো হয় যে, বর্তমান সরকার অত্যন্ত বিনিয়োগবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে এবং বিদেশি পুঁজি আকর্ষণ ও সম্প্রসারণে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।
বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’-এর আওতায় একীভূত করার বিশেষ উদ্যোগের কথা বৈঠকে জানানো হয়। এর ফলে বিনিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত ও কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশা প্রকাশ করেছে।
সাক্ষাৎকারে সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার। অন্যদিকে মিতসুই-এর প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাকাতো সাতো। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার তাকানোবু মুরায়ামা, মিতসুই বাংলাদেশের কান্ট্রি চেয়ারপারসন কেনইচিরো কাওয়ামোতো এবং ঢাকা শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান।