মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

শুল্ক কমালেও খেজুরের দাম নাগালের বাইরে

উচ্চ শুল্কের কারণে বাড়তি দাম, বলছেন ব্যবসায়ীরা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৩ মার্চ, ২০২৪ ০০:১৬
রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত
রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ৩ মার্চ, ২০২৪ ০০:১৬

খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছিল ৫৩ শতাংশ, ৮ ফেব্রুয়ারি ১০ শতাংশ কমিয়ে করা হয়েছে ৪৩ শতাংশ। শুল্ক কমানোর পরও দাম কমেনি খেজুরের। উল্টো দাম বেড়েছে। যদিও বন্দর থেকে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। গত কয়েক দিনে ৬০৫ কনটেইনার খেজুর খালাসের কার্যক্রম চলছে এবং প্রতিদিনই খালাস অব্যাহত রয়েছে।

জানা গেছে, আগামী ১২ মার্চ পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনা করেন। দিনভর রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে খেজুর। খেজুর ছাড়া এখন আর ইফতারের কথা ভাবা যায় না। প্রায় সব রোজাদারই খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করেন। এ কারণে রমজান মাসে চাহিদা বেশি থাকা পণ্যগুলোর একটি খেজুর। পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে চলতি মাসে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি বাজারে তদারকি ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা কোনো কাজেই আসছে না। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের বাজারে খেজুরের দাম প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়েছে।

৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি আদেশে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনার ঘোষণা দেয়। এর আগে খেজুর আমদানিতে সর্বমোট ৫৩ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে খেজুরের শুল্কায়ন মূল্য প্রতি টন ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৭৫০ ডলার। এর সঙ্গে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ, রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ ও ভ্যাট ১৫ শতাংশ। পাশাপাশি অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর ৫ শতাংশ হারে দিতে হচ্ছে। এতে বর্তমানে সর্বমোট ৪৩ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত রোজার আগে মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরে শুল্ক দিতে হতো ৫ দশমিক ৪৫ থেকে ২১ দশমিক ৮৪ টাকা। তবে এবার খেজুরকে ‘বিলাসীপণ্যের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে খেজুরের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫৩ শতাংশ করা হয়। ফলে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বেড়ে গেছে। এবার শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫৪ থেকে ২০৮ টাকা। মূলত শুল্কের প্রভাব পড়েছে খেজুরের দামে। গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি খেজুরে জাতভেদে দাম বেড়েছে ১০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত। দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া খেজুরের মধ্যে রয়েছে দাবাস, জাহিদি, বরই ও গলা খেজুর।

চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গলা বা বাংলা খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, জাহিদি খেজুর ২৪০-২৬০ ও মানভেদে দাবাস খেজুর ৪৫০-৫৫০ টাকায়। এ ছাড়া বরই খেজুর মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৪০-৫৪০ টাকায়। গত বছর এসব খেজুরের দাম ছিল বর্তমান দরের অর্ধেকেরও কম।

এদিকে অভিজাত শ্রেণির কাছে পছন্দের খেজুরের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের মেডজুল, মাবরুম, আজওয়া ও মরিয়ম। গত এক মাসের ব্যবধানে এসব খেজুরের দাম কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে। জাম্বো মেডজুল মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, সাধারণ মেডজুল ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০, মাবরুম খেজুর ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, আজওয়া খেজুর মানভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো জাতের মরিয়ম বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এ ছাড়া কালমি মরিয়ম ৮০০-৯০০ টাকা, সুফরি মরিয়ম ৭৫০-৮০০, আম্বার ও সাফাভি ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ ও সুক্কারি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়।

খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে রোজার আগে জাহিদি জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি (১০ কেজি) ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। শুল্ক আরোপের কারণে দাম বাড়ার পর গত বছরের শেষ সপ্তাহেও একই জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা। তবে এখন ১০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েও এই জাতের খেজুরের কার্টন হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা।

পাইকারি ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি ৫ কেজির এক কার্টন মেডজুল খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার টাকায়। গত বছর এ খেজুর বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়। অন্যদিকে সাধারণ খোলা খেজুর প্রতি কেজি ফেব্রুয়ারির শুরুতে কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ছিল ১২৮-১৩০ টাকা। বর্তমানে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকায়।

পাইকারি বাজার সূত্রে জানা গেছে, বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় জাহিদি জাতের খেজুর। এক বছর আগে প্রতি কেজি খেজুর খুচরা পর্যায়ে ১৫০ টাকায় পাওয়া যেত। শুল্ক কমানোর পর বর্তমানে এ খেজুর খুচরায় বিক্রি করতে হবে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য আমদানি করা খোলা (বস্তায় বিক্রি হওয়া ভেজা খেজুর) রোজা আসার আগেই কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ১৫৫ টাকায় উঠে গেছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে এ মানের খেজুর বিক্রি করতে হবে কমপক্ষে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। অবশ্য গতকাল বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল হক টিটু ঘোষণা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে খেজুর পৌঁছে দিতে বস্তায় আসা জাহিদি খেজুরের দাম কমানো হবে। আজ রোববার (৩ মার্চ) এই খেজুরের দাম কমানোর ঘোষণা আসার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিনে সবচেয়ে বেশি খেজুর বন্দর থেকে খালাস নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগে বন্দর থেকে দিনে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলেও এখন সেটা ৭০ কনটেইনারে গিয়ে টেকেছে। কিন্তু দাম কমছে না।

ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকার শুল্ক কমানোর পর ব্যবসায়ীরা খেজুর খালাসে তোড়জোড় শুরু করেছে। শুল্ক কমানোর পরও ভোক্তারা কম দামে খেজুর কিনতে পারছেন না। শুল্ক কমানোর পর পর্যাপ্ত আমদানি হলেও দাম কেন কমছে না বিষয়টি তদারকি করতে হবে। তদারকি না করলে রোজায় খেজুর কিনতে পারবে না ভোক্তারা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৬৩ টন খেজুর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস করেছেন আমদানিকারকরা। ১৪৫ দিনের মধ্যে গত ১৫ দিনেই বেশি খেজুরের চালান খালাস হয়েছে। ২৮ ধরনের খেজুর দেশের ৮২টি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্দান, মিসর, আলজেরিয়া, নামিবিয়া, তিউনিশিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আমদানি করেছে।

জানা গেছে, চার মাস আগে খেজুর আমদানি করলেও শুল্ক কমবে এ আশায় ব্যবসায়ীরা পণ্যটি চট্টগ্রাম বন্দরে গুদাম করে রেখেছিলেন। ফলে বেসরকারি ১৯টি ডিপোতে ১ হাজার কনটেইনার (প্রতি কনটেইনারে ২২-২৪ হাজার কেজি খেজুর থাকে) খেজুর পড়ে ছিল। এখন খেজুরভর্তি ৬০৫টি কনটেইনার খালাস চলছে। এখনো খেজুরভর্তি ৩৯৫টি কনটেইনার খালাসের উদ্যোগ নেয়নি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার কাজী ইরাজ ইশতিয়াক বলেন, প্রচুর পরিমাণে খেজুর খালাস হচ্ছে। প্রতিদিনই খালাস করছেন আমদানিকারকরা। তিনি বলেন, খেজুরের শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

তিনি জানান, খেজুরের চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। একেকটি ক্যাটাগরির একেক রকম শুল্কহার হয়। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির প্রবণতাও রয়েছে। অনেক সময় উচ্চ শুল্কহারে খেজুর এনে কম শুল্কহারে ঘোষণা দেওয়া হয়। এমন বেশ কিছু ঘটনাও ঘটেছে। এ জন্য আমরাও সতর্ক আছি, যেন সরকার রাজস্ব বঞ্চিত না হয়।

উচ্চ শুল্কহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা এনবিআর নির্ধারিত, এ ব্যাপারে আমাদের বলার বা করার কিছু নেই। আমরা নির্ধারিত শুল্ক নিয়ে খালাসের ব্যবস্থা করি। খেজুর বিলাসী পণ্য কি না, এ বিষয়েও তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

খাতুনগঞ্জের ডেটস অ্যান্ড ড্রাই ফ্রুটস আমদানিকারক মো. ওমর ফারুক বলেন, খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ট্যাক্স ১০ শতাংশ কমালেও অন্যান্য শুল্ক ঠিক রেখেছে এনবিআর। ফলে উচ্চমাত্রায় ট্যাক্স দিয়েই আনতে হচ্ছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সামান্য এ শুল্ক কমানোয় খেজুরের দামে প্রভাব পড়বে না।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সুলতান আরেফিন বলেন, শুল্ক কমানোর পর থেকে আমদানিকারকরা খেজুর খালাস নিতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। আগে প্রতিদিন গড়ে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলে এখন সেটি ৭০ কনটেইনার খালাস হচ্ছে।

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতি কেজি খেজুর ১১০ টাকায় কিনলে ১৪০-১৫০ টাকা শুল্ক দিতে হয়। ১২০ টাকায় কিনলে ২০৮ টাকা শুল্ক দিতে হয়। গত বছর ৯০ টাকায় ডলার কিনতে পারতাম। এ বছর ১২০-১২২ টাকা দিতে হচ্ছে। কাস্টমস থেকে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ইচ্ছেমতো করা হচ্ছে। এলসি যে মূল্যে খুলছি সে অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ করা হলে খেজুরের দাম অর্ধেকে নেমে আসে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না।

বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, পণ্য বন্দরে আসার পর শুল্ক পরিশোধ করে খালাস করতে হয়। এসব কাস্টমসের বিষয়।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমেদ বলেন, ডলারের দাম বাড়াতে পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে যায়। এর পরও ব্যবসায়ীরা সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছেন।


শহীদের আত্মত্যাগে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়।

তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে এবং বাংলাদেশে আর কখনো স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া যাবে না।

আগামীকাল ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া আজ এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য ৫ আগস্ট আনন্দের দিন, বিজয়ের দিন, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, এই দিনে দেশের বীর ছাত্র-জনতা এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। রাহুমুক্ত হয় বাংলাদেশ। বীর ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত এই দিনটিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে জাতীয়ভাবে উদ্যাপন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদের পতন এবং দেশে জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা তথা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপিসহ ফ্যাসিবাদ বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ভিন্নমতের মানুষকে সীমাহীন নির্যাতন-নিপীড়ন সইতে হয়েছিল। অসংখ্য মানুষ গুম, খুন, অপহরণ, হামলা, মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে আপোষহীন দেশনেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকেও মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর জালিমের কারাগারে কাটাতে হয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে স্বৈরাচারের নির্দেশে দেশে গড়ে তোলা হয়েছিল শত শত গোপন বন্দিশালা- ‘আয়নাঘর’। ‘আয়নাঘরের’ অন্ধকার প্রকোষ্ঠে এক সীমাহীন অনিশ্চয়তায় মাসের পর মাস, বছরের পর বছর অগণিত মানুষকে আটকে রাখা হয়েছিল। অনেককে চিরতরে গুম করে ফেলা হয়েছে। বিএনপির সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমসহ এমন অনেক নেতাকর্মীর আজও সন্ধান মেলেনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ দেশের সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল। সংবিধান উপেক্ষা করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল; নির্বাচনকে পরিণত করা হয়েছিল প্রহসনে। দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়ে দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারকেই স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে পরিণত করে ফেলা হয়েছিল। দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ব্যক্তিতন্ত্র। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, বীর ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, রিকশাচালক, মুটে-মজুর, পোশাক শ্রমিক, হোটেল-রেস্তোরাকর্মী, পরিবহন শ্রমিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, গৃহবধূ, নারী ও শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। গণঅভ্যুত্থান দমনে মরিয়া ফ্যাসিস্ট সরকার রাজপথে গণতন্ত্রকামী জনগণের বুকে গুলি করে পাখির মতো মানুষ হত্যা করেছে। এমনকি জনগণের ওপর হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল। স্বৈরাচারের বেপরোয়া গুলি থেকে মায়ের কোলে থাকা শিশু পর্যন্ত রেহাই পায়নি।

তিনি বলেন, স্বৈরাচারের বন্দুকের সামনে রংপুরের সাহসী প্রাণ শহীদ আবু সাঈদের চিতানো বুক, চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরাম কিংবা ঢাকার শহীদ মুগ্ধসহ আমাদের অসংখ্য সাহসী সন্তান হয়ে উঠেছিলেন গণতন্ত্রকামী মানুষের সাহসী প্রেরণা। শুধুমাত্র জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেই হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ। শত শত মানুষ হাত-পা ও শরীরের অঙ্গ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন; অনেকেই আজীবনের জন্য দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি। গণতন্ত্রকামী জনগণের সম্মিলিত আন্দোলনে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট গণভবন ছেড়ে পালিয়েছে। জাতীয় সংসদ ছেড়ে কথিত সংসদ সদস্যরা পালিয়েছে। আদালত ছেড়ে প্রধান বিচারপতি পালিয়েছে। বায়তুল মোকাররম ছেড়ে প্রধান খতিব পালিয়েছে। মন্ত্রিসভা ছেড়ে মন্ত্রীরা পালিয়েছে। ফ্যাসিবাদের দোসররা আত্মগোপনে চলে গেছে। ৫ আগস্ট বাংলাদেশে যা ঘটেছে, তা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের ইতিহাসেও এক নজিরবিহীন ঘটনা।’

তিনি বলেন, ১৯৭১ থেকে আজ পর্যন্ত দেশের স্বাধীনতা অর্জন ও রক্ষা, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতিটি বাঁকে লাখো মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সব শহীদকে স্মরণ করছি। দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য শহীদরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে আমাদের ঋণী করে গেছেন। প্রতিটি শহীদ পরিবারের কাছে বাংলাদেশ ঋণী। এখন শহীদদের প্রতি আমাদের ঋণ পরিশোধের পালা।

তারেক রহমান বলেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে শহীদদের প্রতি আমাদের ঋণ পরিশোধের আন্তরিক প্রচেষ্টাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

তিনি বলেন, হাজারো শহীদের রক্তে স্নাত রাজপথে অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে। রক্তে অর্জিত এই জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের মধ্যে নানা ইস্যুতে ভিন্নমত থাকবে, এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু ভিন্ন চিন্তা, ভিন্নমত যাতে শত্রুতায় পর্যবসিত না হয়, সে ব্যাপারে গণতন্ত্রের পক্ষের প্রতিটি রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠী, আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে আর কখনোই স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদ কায়েম হবে না, কখনোই দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেওয়া হবে না। এইসব মৌলিক প্রশ্নে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় ঐক্য অটুট আছে এবং থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশ কখনো ভোলেনি, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরও বাংলাদেশ কখনো ভুলবে না।

সূত্র: বাসস


যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালনের ব্যাপক প্রস্তুতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

'জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ' প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে আগামীকাল বুধবার দেশব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হতে যাচ্ছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই দিবসটি স্মরণে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুপুর ১২টায় জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও বীর যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান এবং একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এই সভায় জুলাই আন্দোলনের তাৎপর্য ও ইতিহাস তুলে ধরা হবে।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কাল প্রত্যুষে অর্থাৎ ভোর ৬টা ১ মিনিটে শাহবাগে অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাবৃন্দ। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। আলোচনা সভায় জুলাই শহীদদের স্বজন এবং আন্দোলনের সম্মুখ যোদ্ধারা তাদের বীরত্বগাথা ও অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করবেন। দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসহ বহির্বিশ্বে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলোতেও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হবে।

দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে ধর্মীয় সকল উপাসনালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। শিশুদের জন্য বিশেষ আনন্দদায়ক করতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, সামরিক জাদুঘর এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলো দিনব্যাপী উন্মুক্ত রাখা হবে। এছাড়া সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, শিশু পরিবার ও বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে পরিবেশন করা হবে উন্নত মানের প্রীতিভোজ। এই দিবসটি ঘিরে সমগ্র দেশের মানুষের মাঝে এক অনন্য আবেগ ও সংহতির আবহ পরিলক্ষিত হচ্ছে।

জাতীয় এই উৎসবকে রাঙাতে রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সরকারি কার্যালয় ও স্মৃতিস্তম্ভগুলো জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন এবং দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। দেশের সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিবসটির মূল চেতনা ছড়িয়ে দিতে আলোচনা সভার পাশাপাশি রচনা লিখন, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। মূলত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক সাফল্য ও ত্যাগের মহিমা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হৃদয়ে অমলিন রাখাই এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের মূল লক্ষ্য। স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি স্তরে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার সাথে এই দিবসটি উদযাপনের প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।


বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সৌদি আরবের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে সৌদি আরবের বিনিয়োগের পরিধি আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ খাতে সৌদি পুঁজি বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, "বাংলাদেশে এখন বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।" নবায়নযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ বর্তমানে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এই খাতে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ উভয় রাষ্ট্রের জন্যই লাভজনক ও ফলপ্রসূ হবে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌদি আরবের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ওয়ালিদ এল-খেরেইজির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে সরকারপ্রধান এসব অভিমত ব্যক্ত করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দ্বিপাক্ষিক মৈত্রী সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্য পোষণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সহকারী প্রেস সচিব জানান, সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়ালিদ এল-খেরেইজি বৈঠকে মন্তব্য করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে "বাংলাদেশে বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।" এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধন আরও মজবুত করতে সৌদি আরব আন্তরিকভাবে আগ্রহী। তিনি বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সৌদি সরকারের গভীর আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া সৌদি আরবের অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নিয়োজিত বাংলাদেশি কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

বৈঠকে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন যে, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মৈত্রী পারস্পরিক বিশ্বাস ও দীর্ঘদিনের অকৃত্রিম বন্ধুত্বের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বর্তমান প্রশাসন সৌদি আরবের সাথে একটি সুদূরপ্রসারী কৌশলগত, বহুমাত্রিক ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

জবাবে সৌদি আরবের প্রতিনিধি জানান, তারা বাংলাদেশে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সামুদ্রিক মৎস্য, কৃষিশিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন উদীয়মান খাতে বড় আকারের বিনিয়োগে আগ্রহী। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে সৌদি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী এই আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং সুবিধাজনক সময়ে সৌদি আরব সফরের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উক্ত বৈঠকে সৌদি আরবের পক্ষে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপদেষ্টা, কনস্যুলার বিষয়ক উপমন্ত্রী এবং মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নেন।


আগস্টের শেষ সপ্তাহে খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: ডা. জাহেদ উর রহমান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশি জনশক্তির জন্য বহুল প্রতীক্ষিত মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে বলে সরকারের তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে দুই দেশের ঐকমত্যের মাধ্যমে এখন থেকে সকল যোগ্য কর্মীর মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অতীতের সকল অনিয়ম ও হয়রানি দূর করে একটি স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে বর্তমান প্রশাসন।

ডা. জাহেদ উর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আগস্টের শেষ সপ্তাহে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বিস্তারিত জানিয়েছেন।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘আমি আবারও জানিয়ে রাখতে চাই, দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সব শ্রমিকের জন্য মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইতিবাচক সংবাদ।’ তথ্য উপদেষ্টা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই বাজারে কর্মী পাঠানো নিয়ে বিভিন্ন জটিলতা থাকায় অনেক বিদেশগামী বাংলাদেশি সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে সেই অচলাবস্থা পুরোপুরি কেটে যাবে।

অতীতে এই খাতে মুষ্টিমেয় রিক্রুটিং এজেন্সির আধিপত্য ও মাত্রাতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ের কারণে সাধারণ কর্মীরা যে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার এখন একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। ডা. জাহেদ উর রহমান পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ‘আমরা জানি, অতীতে এই প্রক্রিয়ায় অনেক অনিয়ম হয়েছে। কর্মীরা নানা ধরনের ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। বর্তমান সরকার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যহীন ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মী পাঠাতে চায়।’

সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য হলো কোনো ধরনের অসাধু সিন্ডিকেট বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ছাড়াই যেন প্রকৃত কর্মপ্রত্যাশীরা ন্যায্য ও সমান সুযোগ লাভ করেন। বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় বিশাল ভূমিকা রাখে বিধায় সরকার শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তথ্য উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই বাজার পুনরায় চালুর ফলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং হাজারো নাগরিকের নতুন কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত হবে। সরকার চায় আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি পাঠিয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করতে এবং একটি সুশাসিত অভিবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে।


জুলাই আন্দোলনের সকল অংশীজনের সাথে আলোচনা করেই সংবিধানের চূড়ান্ত সংশোধন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, এমপি এর সভাপতিত্বে আজ সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মো: নূরুল ইসলাম, এমপি; কমিটির সদস্য ও আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো: আসাদুজ্জামান, এমপি; কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, এমপি; কমিটির সদস্য ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো: জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, এমপি; কমিটির সদস্য ও আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আন্দালিভ রহমান, এমপি; কমিটির সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক,এমপি; কমিটির সদস্য ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, এমপি ; কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, এমপি;কমিটির সদস্য সাকিলা ফারজানা, এমপি ও মো: মাহমুদুল হক রুবেল এমপি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

কমিটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে আলোচনা করে। কমিটি আজকের এই বৈঠককে জাতির জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে উল্লেখ করে।

কমিটি সংবিধান সংশোধনের জন্য জুলাই যোদ্ধা, জুলাই আন্দোলনে নিহত পরিবারের সদস্য, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, শিক্ষক প্রতিনিধি, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সংগঠনের সদস্য, বিরোধী দলের সদস্য ও অন্যান্য অংশীজনদের সাথে আলোচনা করবে।

কমিটি সংবিধান সংশোধনকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায় যাতে সমাজের সকল শ্রেণীর পেশার মানুষ মনে করবে তিনি সংবিধান সংশোধনের একজন অংশীজন। সংবিধান সংশোধন এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে যা আগামী প্রজন্মের জন্য সুফল বয়ে নিয়ে আসবে বলে কমিটি অভিমত ব্যক্ত করে।

জুলাই চেতনা তথা জুলাই সনদকে ধারণ করেই সংবিধান সংশোধন হবে বলে কমিটি বৈঠকে উল্লেখ করে।

বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ও সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির কমিটি সচিব ব্যারিস্টার মো: গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব এবং আইন মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


যুক্তরাষ্ট্র গমনেচ্ছু বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন দূতাবাসের নতুন সতর্কবার্তা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য একটি নতুন সতর্কবার্তা জারি করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সময় চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতিসহ সম্ভাব্য সকল ব্যয় বহনের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সোমবার দূতাবাসের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময় ভ্রমণকারীদের এমনভাবে আর্থিক প্রস্তুতি নিতে হবে যাতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থায় তারা নিজেদের খরচ নিজেরাই বহন করতে পারেন। মূলত মার্কিন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীলতা এড়াতেই এই আগাম সতর্কতা প্রদান করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো ভ্রমণকারী যদি মার্কিন সরকারের জনকল্যাণমূলক সুবিধার অপব্যবহার করেন, তবে এর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তির যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ, উচ্চশিক্ষা বা কাজের সুযোগ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে স্থায়ী অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হওয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই আইনগত ও কূটনৈতিক জটিলতা এড়াতে পর্যটকদের নিজস্ব আর্থিক সামর্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস। মূলত স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল পর্যটন নিশ্চিত করাই এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য।


গণমাধ্যম হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ব্যবস্থা নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:৩৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো গণমাধ্যম যেন শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করে, সেই বিষয়ে বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছেন যে, আদালতের এই আদেশ অমান্য করা হলে সরকার আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এই অবস্থান পরিষ্কার করেন।

উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “এর আগেও এ বিষয়ে গণমাধ্যমের জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছিল সরকার। কেউ যদি আগাম প্রচার করে যে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং পরে তা প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তাহলে সেটি আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিচার বিভাগের নির্দেশনা প্রতিপালন করা প্রতিটি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের আইনি বাধ্যবাধকতা। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা আবারও সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেব, কেউ যেন এ ধরনের কাজ না করেন। আদালতের নির্দেশনা মানা প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সরকারের কাজ হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আদালতের আদেশের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করে জানান যে, আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন তা লঙ্ঘন করার কোনো সুযোগ নেই। ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, “আদালতের আদেশ না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেয়া ঠিক হতো না—এটি তার ব্যক্তিগত মতামত। কেউ যদি আদালতের ওই আদেশের সঙ্গে একমত না হন, তাহলে আদালতে গিয়ে সেই আদেশ চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত আদালতের আদেশ বহাল থাকবে, ততক্ষণ তা সবাইকে মেনে চলতে হবে।” মূলত বিচারিক নির্দেশনার কার্যকারিতা বজায় রাখতে এবং আইনগত জটিলতা এড়াতে তিনি সকল গণমাধ্যমকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।


বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়ার সিইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরিত, ৯৭ শতাংশ পণ্যে মিলবে শুল্ক সুবিধা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বহুল প্রতীক্ষিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা লাভ করবে। একইভাবে বাংলাদেশের বাজারেও কোরিয়ার ৮৭ শতাংশ পণ্য এই বিশেষ সুবিধার আওতায় আসবে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন হয়।

চুক্তি স্বাক্ষর শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সংবাদ সম্মেলনে জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশের সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি এটিকে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। মন্ত্রীর ভাষ্যমতে, এই চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, চামড়া ও পাটজাত পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে সরাসরি শুল্ক সুবিধা পাবে। অন্যদিকে, কোরিয়া থেকে কৃষি পণ্য, প্লাস্টিক ও বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানিতেও বাংলাদেশ বিশেষ সুবিধা ভোগ করবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্যমাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে। দেশের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে এ ধরনের মুক্ত বাণিজ্যধর্মী চুক্তি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকতে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সরকার এ ধরনের কৌশলগত চুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু দুই দেশের দীর্ঘ ৫৬ বছরের অর্থনৈতিক সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে বলেন, টেক্সটাইল খাতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই বন্ধুত্ব এখন নতুন দিগন্তে প্রবেশ করেছে। তিনি মনে করেন, সিইপিএ কার্যকর হলে দক্ষিণ কোরিয়ার বড় বড় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আরও বেশি আগ্রহী হবে। ইয়ো হান-কু আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তাতে প্রযুক্তি ও সরবরাহ ব্যবস্থার বৈচিত্র্য আনায় দক্ষিণ কোরিয়া সবসময় পাশে থাকবে। মূলত এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর ও টেকসই হবে বলে উভয় দেশই বিশ্বাস করে।


আগামী সপ্তাহে চালু হচ্ছে ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের দুই সার্ভিস লেন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর যানজট নিরসনে অন্যতম মেগা প্রকল্প ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পরিধি ও নির্মাণ ব্যয় বড় পরিসরে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি একনেক সভায় প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদনের মাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, বাইপাইল ইন্টারসেকশন এবং নির্মাণাধীন পাতাল মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-১ এর সঙ্গে সরাসরি সংযোগের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই তিনটি নতুন অঙ্গ যুক্ত হওয়ার ফলে প্রকল্পটির ব্যয় মূল বরাদ্দের চেয়ে ৯ হাজার ৪৯২ দশমিক ৬৩ কোটি টাকা বা প্রায় ৫৪ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়েটি বিমানবন্দরের কাওলা থেকে শুরু হয়ে আব্দুল্লাহপুর, আশুলিয়া ও বাইপাইল হয়ে সাভারের ঢাকা ইপিজেড পর্যন্ত বিস্তৃত হবে, যা দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি সম্পর্কে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, "ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে আগামী ২০২৮ সালের জুনে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে।" কাজের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "ধউর থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত প্রায় ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার অংশের দুটি সার্ভিস লেন সেতু এক সপ্তাহের মধ্যে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।" এছাড়া আব্দুল্লাহপুর থেকে ধউর পর্যন্ত সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ দ্রুত শেষ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ব্যয় বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রকল্প পরিচালক জানান, "ডলারের বিনিময় হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া অন্য কোনো কারণে প্রকল্প ব্যয় বাড়বে না।" মূলত ডলারের দর বৃদ্ধি, নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি, ভূমি অধিগ্রহণ এবং সেতুর নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত ১৭৭০ দশমিক ৮৪ কোটি টাকাসহ সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শুরুতে ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এই প্রকল্পটি ২০২২ সালে শুরু হলেও বর্তমানে এর মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪৬ কোটি টাকায়। চীন ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিএমসি) এবং অর্থায়ন করছে এক্সিম ব্যাংক অব চায়না। প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত জুন মাস পর্যন্ত সার্বিক অগ্রগতি ৭১ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ভৌত কাজের অগ্রগতি ৬৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, এই এক্সপ্রেসওয়েটি চালু হলে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার শূন্য দশমিক ২১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রকল্পটির কৌশলগত গুরুত্ব নিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে এই প্রকল্পের সংযোগ অত্যন্ত জরুরি। তার মতে, উভয় প্রকল্পের কাজ সমন্বিতভাবে সম্পন্ন হলে রাজধানীর ভেতর দিয়ে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের যানবাহনের বিরামহীন চলাচল নিশ্চিত হবে। বিশেষ করে তুরাগ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক রাখতে ধউর থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত বিশেষ সার্ভিস লেন নির্মাণ করা হয়েছে, যা আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে স্থানীয় যানজট নিরসনের পাশাপাশি মূল প্রকল্পের নির্মাণ কাজ আরও দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।


৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৫৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গৌরবময় ইতিহাস এবং শহীদ ও অকুতোভয় যোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে নির্মিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ আগামীকাল বুধবার (৫ আগস্ট) উদ্বোধন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই জাদুঘরটির দ্বার উন্মোচন করবেন। মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের বীর যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থেকে তাদের অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করবেন। এছাড়া অভ্যুত্থানের ঘটনাক্রম, সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং চূড়ান্ত বিজয়ের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হবে। অনুষ্ঠানটিকে ঘিরে সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, ৫ আগস্ট উদ্বোধনের পরদিন অর্থাৎ ৬ আগস্ট থেকে জাদুঘরটি সর্বসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।


সংবাদ সম্মেলনে জাদুঘর প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগ সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, সুনির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মূলত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিতেই সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগ।


সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক আজ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংসদের প্রধান বিরোধী দলগুলোর অংশগ্রহণ ছাড়াই আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে সংবিধান সংশোধন কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।কমিটির সভাপতি সালাউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে পরিচিতি এবং পরবর্তী আলোচনার কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ এবং কমিটির অন্যতম সদস্য নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, প্রথম বৈঠকে মূলত প্রাথমিক আলোচনা ও পরিচিতিমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন হবে এবং সংবিধান সংশোধনের মূল কাজ শুরু হবে দ্বিতীয় বৈঠক থেকে।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে ১২ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি রাজনৈতিক দল, জোট এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ১৭ সদস্যের কমিটি গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে কোনো নাম না আসায় পাঁচটি পদ শূন্য রেখেই বর্তমানে কমিটিটি গঠন করা হয়েছে। চিফ হুইপ জানিয়েছিলেন যে, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে নাম পাওয়া গেলে তাদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে পরবর্তীতে পুনর্গঠন করার সুযোগ রয়েছে।

কমিটির বর্তমান সদস্যদের তালিকায় রয়েছেন সভাপতি সালাউদ্দিন আহমদ ছাড়াও চিফ হুইপ মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন। এছাড়া সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে রয়েছেন বিএনপির জয়নুল আবেদীন, শাকিলা ফারজানা, মাহমুদুল হক রুবেল, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি- বিজেপির ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. অলিউল্লাহ।

উল্লেখ্য, বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে এই সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংসদ সচিবালয় একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে বর্তমান ১২ সদস্যের মাধ্যমেই সংবিধান সংশোধনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলগুলোর এই অনীহা সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।


৫ আগস্ট উপলক্ষে দেশজুড়ে র‌্যাবের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাবলয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উদযাপনকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারা দেশে ব্যাপক নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে র‍্যাব। মঙ্গলবার বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর সতর্কাবস্থার কথা জানানো হয়। রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য অপরাধ দমনে র‍্যাব পেশাদারিত্বের সঙ্গে তাদের নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের শনাক্তকরণ ও যেকোনো প্রকার সহিংসতা প্রতিহত করতে বাহিনীটির সদস্যরা সর্বক্ষণ তৎপর রয়েছেন।

র‍্যাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসকে কেন্দ্র করে কোনো উগ্রবাদী সংগঠন, নিষিদ্ধ গোষ্ঠী কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী মহল যেন জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে, সেজন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া বাহিনীর প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ এলাকার নিরাপত্তা ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে আলাদা পরিকল্পনা সাজিয়েছে। নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের জন্য তৃণমূল পর্যায়ে কন্টাক্ট পারসন ও সোর্স নিয়োগ করা হয়েছে।

বিশেষ এই দিবসের কর্মসূচিগুলোকে কেন্দ্র করে ৪ আগস্ট রাত থেকেই অনুষ্ঠানস্থল, রোডমার্চ ও পদযাত্রার নির্ধারিত পথ এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ এলাকাগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ করা হয়েছে। র‍্যাবের নিজস্ব ইউনিফর্মধারী সদস্যদের পাশাপাশি স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা তৎপরতা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। নাশকতার ঝুঁকি এড়াতে এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের অপতৎপরতা রুখতে অনুষ্ঠানগুলোর এক সপ্তাহ আগে থেকেই নিবিড় পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

একই সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজব ছড়িয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা রোধ করতে সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করেছে র‍্যাব। ডিজিটাল প্লাটফর্মে রাষ্ট্রবিরোধী যেকোনো ধরনের অপপ্রচার বন্ধে বাহিনীটি বিশেষ নজর রাখছে। র‍্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সকল নাগরিকের জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অপরাধী চক্রকে আইনের আওতায় আনতে র‍্যাব ফোর্সেস পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।


জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে বিএনপির আলোচনা সভা, বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৪ আগস্ট, ২০২৬ ১১:২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করেছে বিএনপি। ‘রক্তাক্ত জুলাই: ১৭ বছরের অনিবার্য সংগ্রামের রক্তঝরা জুলাই’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানটি বিকেল ৩টায় রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করবেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে যে, এই সভায় জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত যোদ্ধারা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে বর্তমানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে দেশজুড়ে মাসব্যাপী কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। একইভাবে বিএনপির অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরছে। মূলত গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের স্মৃতি ও আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানাতেই এই বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়েছে।


banner close