খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছিল ৫৩ শতাংশ, ৮ ফেব্রুয়ারি ১০ শতাংশ কমিয়ে করা হয়েছে ৪৩ শতাংশ। শুল্ক কমানোর পরও দাম কমেনি খেজুরের। উল্টো দাম বেড়েছে। যদিও বন্দর থেকে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। গত কয়েক দিনে ৬০৫ কনটেইনার খেজুর খালাসের কার্যক্রম চলছে এবং প্রতিদিনই খালাস অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, আগামী ১২ মার্চ পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনা করেন। দিনভর রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে খেজুর। খেজুর ছাড়া এখন আর ইফতারের কথা ভাবা যায় না। প্রায় সব রোজাদারই খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করেন। এ কারণে রমজান মাসে চাহিদা বেশি থাকা পণ্যগুলোর একটি খেজুর। পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে চলতি মাসে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি বাজারে তদারকি ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা কোনো কাজেই আসছে না। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের বাজারে খেজুরের দাম প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়েছে।
৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি আদেশে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনার ঘোষণা দেয়। এর আগে খেজুর আমদানিতে সর্বমোট ৫৩ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে খেজুরের শুল্কায়ন মূল্য প্রতি টন ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৭৫০ ডলার। এর সঙ্গে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ, রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ ও ভ্যাট ১৫ শতাংশ। পাশাপাশি অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর ৫ শতাংশ হারে দিতে হচ্ছে। এতে বর্তমানে সর্বমোট ৪৩ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত রোজার আগে মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরে শুল্ক দিতে হতো ৫ দশমিক ৪৫ থেকে ২১ দশমিক ৮৪ টাকা। তবে এবার খেজুরকে ‘বিলাসীপণ্যের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে খেজুরের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫৩ শতাংশ করা হয়। ফলে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বেড়ে গেছে। এবার শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫৪ থেকে ২০৮ টাকা। মূলত শুল্কের প্রভাব পড়েছে খেজুরের দামে। গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি খেজুরে জাতভেদে দাম বেড়েছে ১০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত। দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া খেজুরের মধ্যে রয়েছে দাবাস, জাহিদি, বরই ও গলা খেজুর।
চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গলা বা বাংলা খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, জাহিদি খেজুর ২৪০-২৬০ ও মানভেদে দাবাস খেজুর ৪৫০-৫৫০ টাকায়। এ ছাড়া বরই খেজুর মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৪০-৫৪০ টাকায়। গত বছর এসব খেজুরের দাম ছিল বর্তমান দরের অর্ধেকেরও কম।
এদিকে অভিজাত শ্রেণির কাছে পছন্দের খেজুরের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের মেডজুল, মাবরুম, আজওয়া ও মরিয়ম। গত এক মাসের ব্যবধানে এসব খেজুরের দাম কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে। জাম্বো মেডজুল মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, সাধারণ মেডজুল ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০, মাবরুম খেজুর ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, আজওয়া খেজুর মানভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো জাতের মরিয়ম বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এ ছাড়া কালমি মরিয়ম ৮০০-৯০০ টাকা, সুফরি মরিয়ম ৭৫০-৮০০, আম্বার ও সাফাভি ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ ও সুক্কারি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে রোজার আগে জাহিদি জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি (১০ কেজি) ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। শুল্ক আরোপের কারণে দাম বাড়ার পর গত বছরের শেষ সপ্তাহেও একই জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা। তবে এখন ১০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েও এই জাতের খেজুরের কার্টন হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা।
পাইকারি ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি ৫ কেজির এক কার্টন মেডজুল খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার টাকায়। গত বছর এ খেজুর বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়। অন্যদিকে সাধারণ খোলা খেজুর প্রতি কেজি ফেব্রুয়ারির শুরুতে কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ছিল ১২৮-১৩০ টাকা। বর্তমানে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকায়।
পাইকারি বাজার সূত্রে জানা গেছে, বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় জাহিদি জাতের খেজুর। এক বছর আগে প্রতি কেজি খেজুর খুচরা পর্যায়ে ১৫০ টাকায় পাওয়া যেত। শুল্ক কমানোর পর বর্তমানে এ খেজুর খুচরায় বিক্রি করতে হবে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য আমদানি করা খোলা (বস্তায় বিক্রি হওয়া ভেজা খেজুর) রোজা আসার আগেই কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ১৫৫ টাকায় উঠে গেছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে এ মানের খেজুর বিক্রি করতে হবে কমপক্ষে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। অবশ্য গতকাল বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল হক টিটু ঘোষণা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে খেজুর পৌঁছে দিতে বস্তায় আসা জাহিদি খেজুরের দাম কমানো হবে। আজ রোববার (৩ মার্চ) এই খেজুরের দাম কমানোর ঘোষণা আসার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিনে সবচেয়ে বেশি খেজুর বন্দর থেকে খালাস নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগে বন্দর থেকে দিনে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলেও এখন সেটা ৭০ কনটেইনারে গিয়ে টেকেছে। কিন্তু দাম কমছে না।
ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকার শুল্ক কমানোর পর ব্যবসায়ীরা খেজুর খালাসে তোড়জোড় শুরু করেছে। শুল্ক কমানোর পরও ভোক্তারা কম দামে খেজুর কিনতে পারছেন না। শুল্ক কমানোর পর পর্যাপ্ত আমদানি হলেও দাম কেন কমছে না বিষয়টি তদারকি করতে হবে। তদারকি না করলে রোজায় খেজুর কিনতে পারবে না ভোক্তারা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৬৩ টন খেজুর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস করেছেন আমদানিকারকরা। ১৪৫ দিনের মধ্যে গত ১৫ দিনেই বেশি খেজুরের চালান খালাস হয়েছে। ২৮ ধরনের খেজুর দেশের ৮২টি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্দান, মিসর, আলজেরিয়া, নামিবিয়া, তিউনিশিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আমদানি করেছে।
জানা গেছে, চার মাস আগে খেজুর আমদানি করলেও শুল্ক কমবে এ আশায় ব্যবসায়ীরা পণ্যটি চট্টগ্রাম বন্দরে গুদাম করে রেখেছিলেন। ফলে বেসরকারি ১৯টি ডিপোতে ১ হাজার কনটেইনার (প্রতি কনটেইনারে ২২-২৪ হাজার কেজি খেজুর থাকে) খেজুর পড়ে ছিল। এখন খেজুরভর্তি ৬০৫টি কনটেইনার খালাস চলছে। এখনো খেজুরভর্তি ৩৯৫টি কনটেইনার খালাসের উদ্যোগ নেয়নি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার কাজী ইরাজ ইশতিয়াক বলেন, প্রচুর পরিমাণে খেজুর খালাস হচ্ছে। প্রতিদিনই খালাস করছেন আমদানিকারকরা। তিনি বলেন, খেজুরের শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
তিনি জানান, খেজুরের চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। একেকটি ক্যাটাগরির একেক রকম শুল্কহার হয়। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির প্রবণতাও রয়েছে। অনেক সময় উচ্চ শুল্কহারে খেজুর এনে কম শুল্কহারে ঘোষণা দেওয়া হয়। এমন বেশ কিছু ঘটনাও ঘটেছে। এ জন্য আমরাও সতর্ক আছি, যেন সরকার রাজস্ব বঞ্চিত না হয়।
উচ্চ শুল্কহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা এনবিআর নির্ধারিত, এ ব্যাপারে আমাদের বলার বা করার কিছু নেই। আমরা নির্ধারিত শুল্ক নিয়ে খালাসের ব্যবস্থা করি। খেজুর বিলাসী পণ্য কি না, এ বিষয়েও তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
খাতুনগঞ্জের ডেটস অ্যান্ড ড্রাই ফ্রুটস আমদানিকারক মো. ওমর ফারুক বলেন, খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ট্যাক্স ১০ শতাংশ কমালেও অন্যান্য শুল্ক ঠিক রেখেছে এনবিআর। ফলে উচ্চমাত্রায় ট্যাক্স দিয়েই আনতে হচ্ছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সামান্য এ শুল্ক কমানোয় খেজুরের দামে প্রভাব পড়বে না।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সুলতান আরেফিন বলেন, শুল্ক কমানোর পর থেকে আমদানিকারকরা খেজুর খালাস নিতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। আগে প্রতিদিন গড়ে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলে এখন সেটি ৭০ কনটেইনার খালাস হচ্ছে।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতি কেজি খেজুর ১১০ টাকায় কিনলে ১৪০-১৫০ টাকা শুল্ক দিতে হয়। ১২০ টাকায় কিনলে ২০৮ টাকা শুল্ক দিতে হয়। গত বছর ৯০ টাকায় ডলার কিনতে পারতাম। এ বছর ১২০-১২২ টাকা দিতে হচ্ছে। কাস্টমস থেকে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ইচ্ছেমতো করা হচ্ছে। এলসি যে মূল্যে খুলছি সে অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ করা হলে খেজুরের দাম অর্ধেকে নেমে আসে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না।
বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, পণ্য বন্দরে আসার পর শুল্ক পরিশোধ করে খালাস করতে হয়। এসব কাস্টমসের বিষয়।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমেদ বলেন, ডলারের দাম বাড়াতে পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে যায়। এর পরও ব্যবসায়ীরা সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহার প্রাক্কালে দেশবাসী ও বিশ্ববাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত পৌনে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে তিনি এই শুভকামনা জ্ঞাপন করেন। উৎসবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তার পোস্টে উল্লেখ করেন, “ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার মহিমান্বিত পথনির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির অনন্য বার্তা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বছর ঘুরে আবারও বিশ্বমুসলিমের দুয়ারে হাজির পবিত্র ঈদুল আজহা। আমি এই শুভক্ষণে দেশ এবং বিশ্বের সব মুসলমানকে জানাই ঈদ মোবারক। বিশ্ববাসীকে জানাই পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা।”
ত্যাগের শাশ্বত বার্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী আরও লিখেছেন, “ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মুসলমান ঈদুল আজহা উদ্যাপনের জন্য প্রস্তুত। ইসলামের মহিমান্বিত এই উৎসব শুধু একটি আনন্দ-উৎসবই নয় বরং স্রষ্টার প্রতি গভীর বিশ্বাস, আত্মনিবেদন এবং ত্যাগের এক চিরন্তন বার্তা বহন করে। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর অটল ঈমান, নিঃশর্ত আনুগত্য এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই দিবসকে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কাছে মহিমান্বিত ও গভীর তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।”
দেশ ও দশের মঙ্গল কামনা করে তারেক রহমান মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানিয়ে বলেন, “তিনি যেন আমাদের ত্যাগ কবুল করেন। আমাদের মাতৃভূমিসহ সমগ্র মুসলিমবিশ্ব ও মানবজাতির জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা দান করেন। একই সঙ্গে আমি বিশ্বজুড়ে শান্তি, সম্প্রীতি এবং নিরাপত্তার জন্যও মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করছি।” পরিশেষে সবার জীবন শান্তি ও সমৃদ্ধিতে ভরে উঠুক—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বাণীতে বলেন, “ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হোক এই পবিত্র ঈদুল আজহা। আল্লাহ আমাদের কোরবানি ও ইবাদত কবুল করে নিন। তার অশেষ রহমত ও বরকতে আমাদের জীবন ভরে উঠুক শান্তি ও সমৃদ্ধিতে।” বিশ্বজুড়ে ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি ছড়িয়ে পড়ুক—এমনই বার্তা উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর এই শুভেচ্ছায়।
পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত আয়োজনের লক্ষে রাজধানীর ঐতিহাসিক জাতীয় ঈদগাহ ময়দান এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিবিড় তত্ত্বাবধানে এবারও এই প্রাঙ্গণে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই ধর্মীয় সমাবেশে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্যবর্গ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকরা অংশ নেবেন।
ঈদের এই জামাতকে সুশৃঙ্খল ও আরামদায়ক করার লক্ষে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক যাতায়াত এবং বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই বিশালাকার ময়দানের একটি বড় অংশ জুড়ে তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন প্যান্ডেল, যার আয়তন প্রায় ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার। এখানে মোট ১২১টি কাতারে প্রায় ৩৫ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলিম একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায়ের সুযোগ পাবেন। ভিআইপি অতিথিদের সুরক্ষায় ২৫০ জন পুরুষ এবং ৮০ জন নারীর জন্য বিশেষ স্থান সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ এবং সাড়ে ৩ হাজার নারীর জন্য আলাদা অংশে নামাজের সুব্যবস্থা করা হয়েছে।
নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য ময়দানে প্রবেশের উদ্দেশ্যে ৪টি গেট এবং প্রস্থানের জন্য ৭টি সুনির্দিষ্ট গেট রাখা হয়েছে, যেখানে ভিআইপি, সাধারণ পুরুষ ও নারীদের জন্য আলাদা পথ বরাদ্দ থাকবে। অজুর জন্য পুরুষদের ১১৩টি ও নারীদের জন্য ২৭টি ট্যাপসহ মোট ১৪০ জনের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। আকস্মিক বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে স্থাপন করা হয়েছে ওয়াটারপ্রুফ সামিয়ানা ও উন্নত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। এছাড়া গ্রীষ্মের তাপদাহ থেকে মুসল্লিদের রক্ষা করতে পর্যাপ্ত ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার ও পর্যাপ্ত আলোর সংস্থান রাখা হয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয় জল, আরামদায়ক কার্পেট ও জায়নামাজের পাশাপাশি জরুরি সেবার জন্য ফায়ার সার্ভিস, প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র এবং ভ্রাম্যমাণ টয়লেট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘আড়ালে-আবডালে দুর্বৃত্ত আছে, সেটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে তাদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
এরপরও কেউ যদি ভাড়া বেশি নিয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেওয়া হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি কাউন্টারে নির্ধারিত ভাড়ার স্টিকার লাগানো হয়েছে। বাসেও ভাড়ার তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছে।
যাত্রীরা আগের তুলনায় নির্ধারিত সময়ে ভালোভাবে বাড়ি যেতে পারছেন এবং মোবাইল কোর্টও কাজ করছে। যাত্রীরা পরিবহনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, অনেক যাত্রী অগ্রিম টিকিট না কাটার কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে চালক বা সুপারভাইজার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।
কোরবানির পশুর হাট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল যে সড়কে গরুর হাট বসবে না। তবে পশু ও ক্রেতার চাপ বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় হাট সড়কে চলে আসছে। এতে কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের মনিটরিংয়ে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষ পণ্যবাহী ট্রাকে যাতায়াত করছে।
এসব ট্রাক থামাতে গেলে অনেক সময় মহাসড়কে যানজট তৈরি হয়। নাগরিকদের সচেতন না হলে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।’
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় কঠোর বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে কোনো আইনের শাসন ছিল না, তাই জঙ্গল সলিমপুরের মতো ঘটনা ঘটেছে।
জঙ্গল সলিমপুরসহ অন্যান্য জায়গায় যেখানে পুলিশ-সদস্যদের ওপর হামলা হচ্ছে, সেটা নজরে রাখা হচ্ছে। তারা যে দুঃসাহস দেখিয়েছে, সেটি কঠোরভাবে নির্মূলভাবে করা হবে। এদেশে কোনোভাবেই সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এবার সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কম। যা হচ্ছে বেশিরভাগই নিজেদের ভুলে। এ জন্য যাত্রীদের সচেতন হতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের মনিটরিং সেল বিশেষভাবে কাজ করে ঈদের সময়।
মহাসড়ক, পশুর হাট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে। পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকারী ব্যবস্থাপনা আছে। ঈদ পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য সরাতে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়েও কাজ চলবে।
সড়কে যানজট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, টোলে আধুনিকায়নে সড়ক মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়া হবে। ডিজিটালাইজেশন প্রয়োজন। নারায়ণগঞ্জে লোকনাথ উৎসব ও মাদারীপুরে কুম্ভ মেলার নিরাপত্তায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরের আলী নগর যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায় কয়েক শ সন্ত্রাসী। তারা নির্মাণাধীন ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেয়। উপস্থিত লোকজনকে মারধর করে। আত্মরক্ষার্থে ১০৫ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে যৌথ বাহিনী। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। এ ঘটনার পর গতকাল সোমবার সেখানে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেশকয়েক জনকে আটক করা হয়েছে।
রাজধানীতে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূতি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল ১১টা ৪২ মিনিটের দিকে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৬।
ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমসিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পেটির উৎপত্তিস্থল ছিল টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে ২৯ কিলোমিটার উত্তর-পূবে। আর ময়মনসিংহ থেকে ৪৭ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং সখিপুর থেকে ২২ কিলোমিটার উত্তর-পূবে। এর ভৌগোলিক অবস্থান ছিল ২৪ দশমিক ৩৩ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০ দশমিক ৩৯ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
এই ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের সৃষ্টি হয় বলেও জানায় সংস্থাটি।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ, যার ফলে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতুতে যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে ৪ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে। এটি পদ্মা সেতুর ইতিহাসে এ যাবৎকালের চতুর্থ সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড। এই সময়ে সেতুর উভয় প্রান্ত দিয়ে মোট ৪৩ হাজার ৩৫১টি যানবাহন পারাপার হয়েছে বলে সেতু কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
বিস্তারিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মাওয়া প্রান্ত দিয়ে সবচেয়ে বেশি যানবাহন পার হয়েছে। এই প্রান্ত দিয়ে গত এক দিনে ২৮ হাজার ৬৭টি গাড়ি পারাপার হওয়ায় ২ কোটি ৬৪ লাখ ২১ হাজার টাকা টোল সংগৃহীত হয়েছে। অন্যদিকে, জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ১৫ হাজার ২৮৪টি গাড়ি সেতু পার হয়েছে এবং সেখান থেকে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৯৪ হাজার ৩৫০ টাকা। গত ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবার এক দিনে যানবাহন পারাপার ও টোল আদায়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ডটি ছিল ২০২৫ সালের ৬ জুন, যখন এক দিনে ৫ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার ১০০ টাকা আদায় হয়েছিল। এছাড়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড দুটিও ছিল যথাক্রমে ২০২৫ ও ২০২৪ সালের ঈদকেন্দ্রিক। এবারের বাড়তি চাপ সামাল দিতে এবং ঘরমুখো মানুষের যাত্রা আরামদায়ক করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ আগে থেকেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সেতুর দুই প্রান্তে মোট ১৯টি টোল বুথ সার্বক্ষণিক সচল রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্তে মূল ৭টি এবং মোটরসাইকেলের জন্য ৩টিসহ মোট ১০টি বুথ কাজ করছে। জাজিরা প্রান্তে ৭টি মূল ও ২টি মোটরসাইকেল বুথসহ মোট ৯টি বুথ চালু আছে। এছাড়া মোটরসাইকেলের বাড়তি ভিড় সামলাতে মাওয়া প্রান্তে অতিরিক্ত অস্থায়ী বুথের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে টোল প্লাজায় কোনো দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি না হয়।
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবারের ঈদযাত্রায় বাড়তি গতি যোগ করেছে। মাওয়া ও জাজিরা উভয় প্লাজায় ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) এবং আরএফআইডি কার্ডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় টোল আদায় ব্যবস্থা চালু থাকায় যানবাহনগুলোকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ে টোল সংগ্রহ নিশ্চিত করায় যাতায়াত আরও সহজ ও আরামদায়ক হয়েছে। এর ফলে ভোগান্তি ছাড়াই যাত্রীরা তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন।
আসন্ন ঈদ উদযাপনের প্রাক্কালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পণ্যবাহী যানের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি সড়কে শত শত ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান বিকল বা যত্রতত্র চলাচলের ফলে বিভিন্ন অংশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ অনুযায়ী, বর্তমানে মহাসড়কে যাত্রীবাহী যানবাহনের তুলনায় মালবাহী ট্রাকের প্রাধান্যই বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই গাজীপুরের চন্দ্রা, কালিয়াকৈর ও মৌচাক সংলগ্ন এলাকাগুলোতে যানবাহনের গতি অত্যন্ত ধীর হয়ে পড়ে এবং কোথাও কোথাও কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়।
ঘরমুখো মানুষেরা জানিয়েছেন যে, যে পথটি পাড়ি দিতে স্বাভাবিক সময়ে মাত্র এক ঘণ্টা সময় লাগত, এখন সেখানে তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ট্রাকের চাপ, মাঝপথে যানবাহন বিকল হওয়া এবং চালকদের বেপরোয়াভাবে ওভারটেক করার প্রবণতাকেই এই যানজটের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। মহাসড়কে চলাচলকারী চালকদের মতে, শিল্পকারখানার মালামাল পরিবহন বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং রাস্তার পাশে ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
এই সংকট নিরসনে পুলিশি তৎপরতা সম্পর্কে কোনাবাড়ী হাইওয়ে থানার অফিসার্স ইনচার্জ সাওগাতুল আলম জানান যে, “মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যানজট নিরসনে কাজ করছে একাধিক টিম। তবে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে মাঝে মধ্যেই ধীরগতি তৈরি হচ্ছে।” পরিস্থিতির উন্নয়নে হাইওয়ে পুলিশের একাধিক দল নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ।
পবিত্র ঈদুল আজহার টানা সাত দিনের ছুটি শুরু হওয়ার আগেই দেশের বিভিন্ন স্থানের এটিএম বুথগুলোতে নগদ টাকার তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বন্ধের দিনগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন অনলাইন ও বুথ সেবা নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশনা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। গত শনিবার থেকেই অনেক গ্রাহক বুথে গিয়ে টাকা না পেয়ে ফিরে আসছেন। বিশেষ করে ঈদের খরচ ও পশুর হাটে লেনদেনের জন্য যখন নগদ টাকার চাহিদা তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই সংকট সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।
অভিযোগ উঠেছে যে, অনেক ব্যাংক তাদের এটিএম বুথ থেকে অন্য ব্যাংকের কার্ড দিয়ে টাকা উত্তোলন বন্ধ অথবা সীমিত করে দিয়েছে। মূলত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনিয়ম ও জালিয়াতির শিকার হওয়া দুর্বল ব্যাংকগুলোর গ্রাহকরা এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। নিজস্ব বুথ অকেজো থাকায় তারা অন্য ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল হলেও আন্তঃব্যাংক সেবা সীমিত হওয়ার কারণে টাকা সংগ্রহ করতে পারছেন না। ব্যাংকাররা বলছেন, ঈদের আগে ছাপানো টাকার চাহিদা বাড়ে, তবে অনেক ব্যাংক তারল্য সংকটের কারণে গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, কোরবানি ঈদ উপলক্ষে ব্যাংকগুলোর চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত নগদ টাকা সরবরাহ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সকল এটিএম বুথে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত টাকা রাখার কথা। এর পরও অনেক ব্যাংকের বুথে টাকা না পাওয়ার ঘটনাকে তিনি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন। কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো এবং সেবা নিশ্চিত করার শর্ত ভঙ্গ করা হলো কি না, তা খতিয়ে দেখতে ঈদের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
তবে কোরবানির হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার্থে কিছু বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মোট ২১টি পশুর হাটসহ বিভাগীয় শহরগুলোর প্রধান হাট-সংলগ্ন ব্যাংক শাখাগুলো বিশেষ ব্যবস্থায় খোলা রাখা হয়েছে। এসব শাখা সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নগদ লেনদেন সেবা দিচ্ছে। এছাড়া তৈরি পোশাক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট শিল্প এলাকার ব্যাংক শাখাগুলো মঙ্গলবার রাত ১টা পর্যন্ত লেনদেনের সুযোগ রেখেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, এই পদক্ষেপের ফলে পশুর হাটে নগদ টাকার সংকট কিছুটা লাঘব হবে।
সাধারণত ঈদের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে যাওয়ায় উপজেলা পর্যায়ের বুথগুলোতে টাকার চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। কিন্তু গ্রামাঞ্চলে বুথের সংখ্যা কম হওয়া এবং কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকদের বিড়ম্বনা এখন চরমে পৌঁছেছে। ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রসারের কথা বলা হলেও ঈদের মতো বড় উৎসবে প্রতিবছরই ক্যাশ সংকটের এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনায় আরও স্বচ্ছতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর তদারকির প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে আগামী ১ জুন পর্যন্ত জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের অনলাইন সফটওয়্যার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, ২৪ মে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট থেকে ১ জুন সকাল ৬টা পর্যন্ত বিডিআরআইএস (BDRIS) সফটওয়্যারের মাধ্যমে সকল প্রকার নিবন্ধন কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। সিস্টেমের আধুনিকায়ন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে জানানো হয়।
সফটওয়্যার বন্ধ রাখার পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফেরাতে নতুন এক জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়। এই নির্দেশনার মূল লক্ষ্য হলো অননুমোদিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সরকারি ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করা। অনেক ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কারিগরি দক্ষতার অভাব অথবা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের অজুহাতে ইউজার আইডি অন্যের হাতে হস্তান্তর করার অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখন থেকে কঠোর তদারকির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যদি কোনো ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কারিগরি সমস্যার কারণে নিবন্ধনকারীর দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হন, তবে তার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের নিয়মিত বেতনভুক্ত ‘হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর’ এই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। ২০১৮ সালের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী, শুধুমাত্র নিয়মিত কর্মচারীদেরই এই সিস্টেমের ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড প্রদান করা যাবে। নিয়ম বহির্ভূতভাবে অন্য কাউকে এই তথ্য প্রদান করা হলে তা বড় ধরনের অনিয়ম হিসেবে গণ্য হবে।
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় আরও সতর্ক করেছে যে, ব্যক্তিগত ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড কোনোভাবেই হস্তান্তরযোগ্য নয় এবং এটি করা একটি দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ। অনিবন্ধিত বা বহিরাগত ব্যক্তিদের মাধ্যমে তথ্য এন্ট্রি করার ফলে সিস্টেমের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাই ডিজিটাল নিরাপত্তার স্বার্থে পাসওয়ার্ড সুরক্ষা এবং গোপনীয়তা বজায় রাখার বিষয়ে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, ১ জুন থেকে পুনরায় সফটওয়্যারটি চালু হলে সাধারণ মানুষ আগের মতোই তাদের প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে নিবন্ধক কার্যালয়গুলোর কার্যক্রমে আরও শৃঙ্খলা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যে সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ জানিয়েছে। এর মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জালিয়াতির সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
সোমবার (২৫ মে) দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু ও নারীসহ অন্তত ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ ও গোপালগঞ্জে এসব মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত আরও অনেকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জেলাভিত্তিক দুর্ঘটনার চিত্র-
টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ প্রাণহানি: ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতি উপজেলার সরাতৈল এলাকায় সোমবার ভোরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি রডবাহী ট্রাক রাস্তার পাশে খাদে উল্টে যায়। এ সময় ট্রাকের ওপরে থাকা ১৫ জন যাত্রী রডের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। তারা সবাই ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাশ্রয়ী ভাড়ায় ট্রাকে চড়ে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিলেন। কালিহাতি ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আতাউর রহমান জানান, “টাঙ্গাইলে ট্রাক দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ জনের পরিচয় মিলেছে”। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফনের জন্য ২৫ হাজার এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু: কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে অলওয়েদার সড়কে চালবোঝাই পিকআপ ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় ভাতশালা সেতুর কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন কোচিং সেন্টার পরিচালক মনির হোসেন (৩৭), তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার (৩০) ও তাদের ১০ বছর বয়সী ছেলে আয়ান। কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, তারা মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় বিপরীতমুখী পিকআপের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিথর হয়ে যান।
বগুড়ায় পৃথক দুর্ঘটনায় ৪ জনের প্রাণহানি: বগুড়ার কাহালু উপজেলায় বাস ও অটোরিকশার সংঘর্ষে মা জেসমিন খাতুন ও মেয়ে তণু আক্তার নিহত হয়েছেন। কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, “নিহত মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।” এছাড়া শাজাহানপুর উপজেলায় অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা আনিছুর রহমান ও তার ৪ বছরের মেয়ে পুষ্পর মৃত্যু হয়েছে। বগুড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, “দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।”
সিরাজগঞ্জে দুই শিশুর মৃত্যু: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শিশু প্রাণ হারিয়েছে। দিলরুবা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সিএনজি ও ভটভটির সংঘর্ষে ৮ বছরের সারা খাতুন এবং মশিপুরে রাস্তা পার হওয়ার সময় ট্রাকচাপায় ৭ বছরের আহম্মদ মারা যায়। হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, “আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুইজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
মানিকগঞ্জে মোটরসাইকেল চালক নিহত: মানিকগঞ্জ-হেমায়েতপুর আঞ্চলিক সড়কের কিটিংচর এলাকায় অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মো. কাউসার আহম্মেদ (১৮) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, বিপরীতমুখী দুটি যানের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
গোপালগঞ্জে ত্রিমুখী সংঘর্ষে চালক নিহত: গোপালগঞ্জ সদরের সোনাশুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের ত্রিমুখী সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক শিপলু আহম্মেদ জানান, একটি বাস ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীতমুখী মাইক্রোবাসকে ধাক্কা দিলে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে ।
পবিত্র ঈদুল আজহার অবকাশকালীন সময়েই দেশের প্রশাসনিক উচ্চস্তরে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। সোমবার (২৫ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে প্রকাশিত পৃথক আদেশের মাধ্যমে তিন অতিরিক্ত সচিবকে সচিব পদে উন্নীত করে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে।
জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে তথ্য নিশ্চিত করে বলা হয়েছে যে, "অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তাকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।" এই পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ্ শাম্মীকে সচিব হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের (সমন্বয় ও সংস্কার) দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে সচিব পদে উন্নীত করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে।
রদবদলের এই প্রক্রিয়ায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাসির-উদ-দৌলাকেও সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক প্রয়োজনে পৃথক এক আদেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে বদলি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশে ইতোমধ্যেই ২ কোটির অধিক শিশুকে প্রতিষেধকের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে এবং হামের টিকাদান কার্যক্রমে সাফল্যের হার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১২২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আজ দুপুরে কুমিল্লা সদর জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম ধাপে দেশের ১৮টি উপজেলায় হামের টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়েছে।’ এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে রোগ সংক্রমণের প্রকোপ অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দ্রুত সময়ের মধ্যে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করা।’
আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করতে এদিন সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তিনি জরুরি সেবা প্রদান, রোগীদের ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের পর্যাপ্ততা খতিয়ে দেখেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালের পথ্যের গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করেন। মন্ত্রীর এই সফরের সময় কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. শাহ জাহান, সহকারী পরিচালক ডা. নিশাত সুলতানা এবং স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৭টায়। এতে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে।
সোমবার (২৫ মে) সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম।
তিনি জানান, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মুসল্লিদের প্রবেশের জন্য রাখা হবে ৪টি এবং বের হওয়ার জন্য ৭টি গেট।
এছাড়া কোরবানির বর্জ্য ৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পশুর বর্জ্য ড্রেনে না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে, যাতে নগর পরিচ্ছন্ন রাখা যায়।