সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

শুল্ক কমালেও খেজুরের দাম নাগালের বাইরে

উচ্চ শুল্কের কারণে বাড়তি দাম, বলছেন ব্যবসায়ীরা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৩ মার্চ, ২০২৪ ০০:১৬
রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত
রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ৩ মার্চ, ২০২৪ ০০:১৬

খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছিল ৫৩ শতাংশ, ৮ ফেব্রুয়ারি ১০ শতাংশ কমিয়ে করা হয়েছে ৪৩ শতাংশ। শুল্ক কমানোর পরও দাম কমেনি খেজুরের। উল্টো দাম বেড়েছে। যদিও বন্দর থেকে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। গত কয়েক দিনে ৬০৫ কনটেইনার খেজুর খালাসের কার্যক্রম চলছে এবং প্রতিদিনই খালাস অব্যাহত রয়েছে।

জানা গেছে, আগামী ১২ মার্চ পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনা করেন। দিনভর রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে খেজুর। খেজুর ছাড়া এখন আর ইফতারের কথা ভাবা যায় না। প্রায় সব রোজাদারই খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করেন। এ কারণে রমজান মাসে চাহিদা বেশি থাকা পণ্যগুলোর একটি খেজুর। পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে চলতি মাসে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি বাজারে তদারকি ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা কোনো কাজেই আসছে না। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের বাজারে খেজুরের দাম প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়েছে।

৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি আদেশে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনার ঘোষণা দেয়। এর আগে খেজুর আমদানিতে সর্বমোট ৫৩ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে খেজুরের শুল্কায়ন মূল্য প্রতি টন ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৭৫০ ডলার। এর সঙ্গে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ, রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ ও ভ্যাট ১৫ শতাংশ। পাশাপাশি অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর ৫ শতাংশ হারে দিতে হচ্ছে। এতে বর্তমানে সর্বমোট ৪৩ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত রোজার আগে মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরে শুল্ক দিতে হতো ৫ দশমিক ৪৫ থেকে ২১ দশমিক ৮৪ টাকা। তবে এবার খেজুরকে ‘বিলাসীপণ্যের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে খেজুরের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫৩ শতাংশ করা হয়। ফলে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বেড়ে গেছে। এবার শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫৪ থেকে ২০৮ টাকা। মূলত শুল্কের প্রভাব পড়েছে খেজুরের দামে। গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি খেজুরে জাতভেদে দাম বেড়েছে ১০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত। দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া খেজুরের মধ্যে রয়েছে দাবাস, জাহিদি, বরই ও গলা খেজুর।

চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গলা বা বাংলা খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, জাহিদি খেজুর ২৪০-২৬০ ও মানভেদে দাবাস খেজুর ৪৫০-৫৫০ টাকায়। এ ছাড়া বরই খেজুর মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৪০-৫৪০ টাকায়। গত বছর এসব খেজুরের দাম ছিল বর্তমান দরের অর্ধেকেরও কম।

এদিকে অভিজাত শ্রেণির কাছে পছন্দের খেজুরের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের মেডজুল, মাবরুম, আজওয়া ও মরিয়ম। গত এক মাসের ব্যবধানে এসব খেজুরের দাম কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে। জাম্বো মেডজুল মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, সাধারণ মেডজুল ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০, মাবরুম খেজুর ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, আজওয়া খেজুর মানভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো জাতের মরিয়ম বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এ ছাড়া কালমি মরিয়ম ৮০০-৯০০ টাকা, সুফরি মরিয়ম ৭৫০-৮০০, আম্বার ও সাফাভি ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ ও সুক্কারি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়।

খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে রোজার আগে জাহিদি জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি (১০ কেজি) ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। শুল্ক আরোপের কারণে দাম বাড়ার পর গত বছরের শেষ সপ্তাহেও একই জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা। তবে এখন ১০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েও এই জাতের খেজুরের কার্টন হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা।

পাইকারি ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি ৫ কেজির এক কার্টন মেডজুল খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার টাকায়। গত বছর এ খেজুর বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়। অন্যদিকে সাধারণ খোলা খেজুর প্রতি কেজি ফেব্রুয়ারির শুরুতে কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ছিল ১২৮-১৩০ টাকা। বর্তমানে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকায়।

পাইকারি বাজার সূত্রে জানা গেছে, বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় জাহিদি জাতের খেজুর। এক বছর আগে প্রতি কেজি খেজুর খুচরা পর্যায়ে ১৫০ টাকায় পাওয়া যেত। শুল্ক কমানোর পর বর্তমানে এ খেজুর খুচরায় বিক্রি করতে হবে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য আমদানি করা খোলা (বস্তায় বিক্রি হওয়া ভেজা খেজুর) রোজা আসার আগেই কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ১৫৫ টাকায় উঠে গেছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে এ মানের খেজুর বিক্রি করতে হবে কমপক্ষে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। অবশ্য গতকাল বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল হক টিটু ঘোষণা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে খেজুর পৌঁছে দিতে বস্তায় আসা জাহিদি খেজুরের দাম কমানো হবে। আজ রোববার (৩ মার্চ) এই খেজুরের দাম কমানোর ঘোষণা আসার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিনে সবচেয়ে বেশি খেজুর বন্দর থেকে খালাস নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগে বন্দর থেকে দিনে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলেও এখন সেটা ৭০ কনটেইনারে গিয়ে টেকেছে। কিন্তু দাম কমছে না।

ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকার শুল্ক কমানোর পর ব্যবসায়ীরা খেজুর খালাসে তোড়জোড় শুরু করেছে। শুল্ক কমানোর পরও ভোক্তারা কম দামে খেজুর কিনতে পারছেন না। শুল্ক কমানোর পর পর্যাপ্ত আমদানি হলেও দাম কেন কমছে না বিষয়টি তদারকি করতে হবে। তদারকি না করলে রোজায় খেজুর কিনতে পারবে না ভোক্তারা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৬৩ টন খেজুর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস করেছেন আমদানিকারকরা। ১৪৫ দিনের মধ্যে গত ১৫ দিনেই বেশি খেজুরের চালান খালাস হয়েছে। ২৮ ধরনের খেজুর দেশের ৮২টি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্দান, মিসর, আলজেরিয়া, নামিবিয়া, তিউনিশিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আমদানি করেছে।

জানা গেছে, চার মাস আগে খেজুর আমদানি করলেও শুল্ক কমবে এ আশায় ব্যবসায়ীরা পণ্যটি চট্টগ্রাম বন্দরে গুদাম করে রেখেছিলেন। ফলে বেসরকারি ১৯টি ডিপোতে ১ হাজার কনটেইনার (প্রতি কনটেইনারে ২২-২৪ হাজার কেজি খেজুর থাকে) খেজুর পড়ে ছিল। এখন খেজুরভর্তি ৬০৫টি কনটেইনার খালাস চলছে। এখনো খেজুরভর্তি ৩৯৫টি কনটেইনার খালাসের উদ্যোগ নেয়নি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার কাজী ইরাজ ইশতিয়াক বলেন, প্রচুর পরিমাণে খেজুর খালাস হচ্ছে। প্রতিদিনই খালাস করছেন আমদানিকারকরা। তিনি বলেন, খেজুরের শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

তিনি জানান, খেজুরের চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। একেকটি ক্যাটাগরির একেক রকম শুল্কহার হয়। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির প্রবণতাও রয়েছে। অনেক সময় উচ্চ শুল্কহারে খেজুর এনে কম শুল্কহারে ঘোষণা দেওয়া হয়। এমন বেশ কিছু ঘটনাও ঘটেছে। এ জন্য আমরাও সতর্ক আছি, যেন সরকার রাজস্ব বঞ্চিত না হয়।

উচ্চ শুল্কহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা এনবিআর নির্ধারিত, এ ব্যাপারে আমাদের বলার বা করার কিছু নেই। আমরা নির্ধারিত শুল্ক নিয়ে খালাসের ব্যবস্থা করি। খেজুর বিলাসী পণ্য কি না, এ বিষয়েও তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

খাতুনগঞ্জের ডেটস অ্যান্ড ড্রাই ফ্রুটস আমদানিকারক মো. ওমর ফারুক বলেন, খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ট্যাক্স ১০ শতাংশ কমালেও অন্যান্য শুল্ক ঠিক রেখেছে এনবিআর। ফলে উচ্চমাত্রায় ট্যাক্স দিয়েই আনতে হচ্ছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সামান্য এ শুল্ক কমানোয় খেজুরের দামে প্রভাব পড়বে না।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সুলতান আরেফিন বলেন, শুল্ক কমানোর পর থেকে আমদানিকারকরা খেজুর খালাস নিতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। আগে প্রতিদিন গড়ে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলে এখন সেটি ৭০ কনটেইনার খালাস হচ্ছে।

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতি কেজি খেজুর ১১০ টাকায় কিনলে ১৪০-১৫০ টাকা শুল্ক দিতে হয়। ১২০ টাকায় কিনলে ২০৮ টাকা শুল্ক দিতে হয়। গত বছর ৯০ টাকায় ডলার কিনতে পারতাম। এ বছর ১২০-১২২ টাকা দিতে হচ্ছে। কাস্টমস থেকে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ইচ্ছেমতো করা হচ্ছে। এলসি যে মূল্যে খুলছি সে অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ করা হলে খেজুরের দাম অর্ধেকে নেমে আসে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না।

বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, পণ্য বন্দরে আসার পর শুল্ক পরিশোধ করে খালাস করতে হয়। এসব কাস্টমসের বিষয়।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমেদ বলেন, ডলারের দাম বাড়াতে পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে যায়। এর পরও ব্যবসায়ীরা সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছেন।


নির্বাচিত

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনালে বসছে অত্যাধুনিক ইনডোর টেলিকম নেটওয়ার্ক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) তৃতীয় টার্মিনালে দেশের অন্যতম অত্যাধুনিক ইনডোর টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। এর ফলে যাত্রী ও কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে কোনো ধরনের নেটওয়ার্ক দুর্বলতা ছাড়াই নিরবচ্ছিন্ন ভয়েস ও উচ্চগতির ডেটা সেবা নিশ্চিত হবে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, এ প্রকল্পের আওতায় একটি অত্যাধুনিক ‘অ্যাক্টিভ ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যান্টেনা সিস্টেম’ (অ্যাক্টিভ ডাস) বসানো হবে। এর সাথে যুক্ত থাকবে শত শত স্মল সেল ও ওয়াই-ফাই অ্যাক্সেস পয়েন্ট।

পুরো টার্মিনাল কমপ্লেক্সজুড়ে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ৪জি এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী ৫জি সংযোগ দিতে এই ব্যবস্থা ডিজাইন করা হয়েছে।

টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী বলেন, এই নেটওয়ার্ক স্থাপন কাজের জন্য ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কার্যাদেশ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শুরু হবে।’

প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্ক মূলত আউটডোর টাওয়ারের ওপর নির্ভরশীল হলেও, এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে জটিল ইনডোর পরিবেশের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে রি-ইনফোর্সড কংক্রিট, স্টিল কাঠামো ও বিশাল কাঁচের দেয়াল রেডিও সংকেতকে দুর্বল করে দেয়।

৭০০টি স্মল সেল এবং ৬৩৫টি ওয়াই-ফাই ইউনিটের সাহায্যে অ্যাক্টিভ ডাস কাঠামোর মাধ্যমে সংকেত ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এটি কোনো সিগন্যাল ড্রপ ছাড়াই যাত্রী ও কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন ভয়েস ও উচ্চগতির ডেটা সেবা দেবে।

ভবিষ্যতের বিমান চলাচল প্রযুক্তির কথা বিবেচনা করেই এই ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। যাত্রী, এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এই ৪জি ও ৫জি উপযোগী নেটওয়ার্ক আগামী দিনে বিমানবন্দরের আধুনিক পরিচালনায় সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ কেন্দ্রের জন্য একটি সম্প্রসারণযোগ্য যোগাযোগ কাঠামো তৈরি হবে।

৪৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড, যার সম্পূর্ণ অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার।

প্রকল্পটির মাধ্যমে পুরো তৃতীয় টার্মিনালে মোবাইল নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে ইমিগ্রেশন এলাকা, চেক-ইন কাউন্টার, ভিআইপি লাউঞ্জ, এক্সপোর্ট কার্গো টার্মিনাল (ইসিটি), ইমপোর্ট কার্গো টার্মিনাল (আইসিটি) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইনডোর সুবিধা।

প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে মূলধনী ব্যয় হিসেবে ৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই টাকা মূলত মূল নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম, ট্রান্সমিশন সিস্টেম, অ্যাক্টিভ ডাস উপকরণ, স্মল সেল ও ওয়াই-ফাই ডিভাইসসহ টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো খাতে খরচ হবে।

রাজস্ব ব্যয় হিসেবে নির্ধারিত ২ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ, পরিবহন, প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হবে। অন্যদিকে দৈব ও মূল্যবৃদ্ধিজনিত সম্ভাব্য খরচের জন্য ২৫ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রী সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির বিষয়টিকে সামনে রেখেই এই বিনিয়োগ করা হচ্ছে। বর্তমানে এই বিমানবন্দর দিয়ে বছরে প্রায় ৯১ লাখ যাত্রী চলাচল করেন। ২০৩৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ১ কোটি ৮৫ লাখে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন এখান থেকে প্রায় ১৯০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হয় এবং বছরে প্রায় ২ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়, নবনির্মিত এই টার্মিনালে এখনো ব্যাপক ইনডোর মোবাইল কভারেজের ঘাটতি রয়েছে। ফলে, বিভিন্ন ইনডোর এলাকায় দুর্বল সিগন্যাল, কল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং ধীরগতির ইন্টারনেট সেবার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

পুরো টার্মিনালজুড়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ নেটওয়ার্ক কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করে এসব সীমাবদ্ধতা দূর করাই নতুন এই টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর লক্ষ্য।

দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি প্রতি বছর লাখ লাখ বিদেশি দর্শনার্থীর প্রথম প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। তাই এই প্রকল্প বাংলাদেশের ডিজিটাল প্রবেশদ্বারকে আরো শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিখুঁত ও উচ্চগতির মোবাইল সংযোগ যাত্রীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করতে, বিমানবন্দর পরিচালনায় গতি আনতে এবং পর্যটন ও বৈদেশিক বিনিয়োগে সহায়তা করতে অপরিহার্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই উদ্যোগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেখানে বিমানবন্দর ও অন্যান্য প্রধান জনবান্ধব স্থানে বিনামূল্যে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

বাংলাদেশ ব্যাংক ও মুদ্রানীতি নিয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম ও দেশের মুদ্রানীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা, মুদ্রানীতির লক্ষ্য, বাস্তবায়ন কৌশল ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে একটি বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়।

কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে রোববার (২৬ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপস্থাপনার পর কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ পরিবেশ, ব্যাংকিং খাতের চ্যালেঞ্জ ও মুদ্রানীতির কার্যকারিতা নিয়ে মতামত দেন।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মো. জালাল উদ্দিন, মঈনুল ইসলাম খান, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. সাইফুল আলম, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ও মো. আবুল হাসনাত বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দেশের আর্থিক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত কার্যক্রম ও অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিয়ে সদস্যরা মতবিনিময় করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


নির্বাচিত

জনভোগান্তি এড়াতে সমন্বিত পরিকল্পনা সরকারের   

* গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে শিগগিরই: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী * আন্তর্জাতিক কারিগরি দল নিয়োগ * অভ্যন্তরীণ বিকল্প ব্যবস্থাপনা  
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

কক্সবাজারের মহেশখালীতে সাগরে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অনাকাঙ্ক্ষিত যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছে। হঠাৎ তৈরি হওয়া এই সংকট নিরসনে এবং জনভোগান্তি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা এবং বিতরণকারী সংস্থাগুলো তৎপরতার সঙ্গে সমন্বিত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক কারিগরি দল নিয়োগের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিকল্প ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খুব দ্রুততম সময়ে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হচ্ছে।

গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে মার্কিন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সিলারেট এনার্জি’ পরিচালিত এফএসআরইউ ‘এক্সিলেন্স’-এ গ্যাস খালাসের সময় বয়লারে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তবে আন্তর্জাতিক মানের অটোমেটেড সেফটি প্রটোকল এবং দায়িত্বরত কর্মীদের দ্রুততার কারণে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে এলএনজিবাহী জাহাজটিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। ফলে শত কোটি ডলার মূল্যের অবকাঠামো ও জাতীয় সম্পদ একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে টার্মিনালের দুটি বয়লারের একটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ কিছুটা কমে যায়। দুটি টার্মিনালের মাধ্যমে গড়ে প্রতিদিন ৯৫ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও এক্সিলারেটের ৬০ কোটি ঘনফুট সক্ষমতার টার্মিনালটি বন্ধ হওয়ায় সরবরাহ সাময়িকভাবে কমে দাঁড়ায়। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশীয় প্রতিষ্ঠান সামিট এলএনজি টার্মিনালের সরবরাহ ৫০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৫৭ কোটি ঘনফুটে উন্নীত করে জাতীয় গ্রিড সচল রাখা হয়েছে।

সংকট নিরসনে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, গ্যাস সংকটের মূল কারণ কোনো জ্বালানি ঘাটতি নয়, বরং এটি একটি সম্পূর্ণ যান্ত্রিক ও কারিগরি বিষয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার যেসকল কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল গঠন: ইংল্যান্ড (যুক্তরাজ্য) থেকে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের একটি দল ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছেন। মার্কিন কারিগরি দলসহ তারা সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য মহেশখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

ধাপে ধাপে সরবরাহ বৃদ্ধি: টার্মিনালের দ্বিতীয় বয়লারটি সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ মেরামত হলে দ্রুতই দৈনিক আরও ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

পর্যাপ্ত মজুত ও জাহাজ প্রস্তুত: পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, এলএনজি আমদানিতে কোনো ঘাটতি নেই। নতুন এলএনজিবাহী জাহাজ সাগরে প্রস্তুত রয়েছে, যা টার্মিনাল মেরামতের পরপরই খালাস প্রক্রিয়া শুরু করবে।

বিতরণ ব্যবস্থা ও কৌশলগত ব্যবস্থাপনা: জাতীয় চাহিদার বিপরীতে সাময়িক ঘাটতি সামাল দিতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সীমিত সরবরাহের মাধ্যমে সর্বাত্মক সমন্বয় বজায় রাখছে।

তিতাসের ব্যবস্থাপনা: তিতাসের প্রতিদিনের ১৯০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে ১২০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে, যাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অতি প্রয়োজনীয় খাতগুলোতে গ্যাস পৌঁছানো সম্ভব হয়।

সিএনজি পাম্প ও আবাসিক খাত: গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে যে দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে, তা সামাল দিতে পেট্রোবাংলা নিয়মিত পাম্প মালিক অ্যাসোসিয়েশন এবং পরিবহন নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখছে। একই সাথে অসাধু চক্র যাতে কৃত্রিম সংকট বা গুজব ছড়িয়ে গ্যাসের বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ: সাময়িক এই সংকট সরকারের ভবিষ্যৎ জ্বালানি রূপরেখাকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার পথ উন্মোচন করেছে। বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে সরকার দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে। শুধু ভাসমান টার্মিনালের ওপর নির্ভরতা কমাতে দ্রুত স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। আমদানি করা এলএনজির পাশাপাশি সাগরে ও স্থলে দেশীয় গ্যাস কূপ খনন ও অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাপকভাবে জোরদার করা হচ্ছে। ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য সৌর ও বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির বাস্তবমুখী নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

যান্ত্রিক ত্রুটি সম্পূর্ণ দূর করে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের রান্নাঘর, সড়ক ও শিল্পকারখানায় গ্যাসের স্বাভাবিক চাপ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি সংস্থা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।

গ্যাস সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে যে সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অচিরেই গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে এবং পাওয়ার প্ল্যান্ট, শিল্পকারখানা, বাসাবাড়ি ও সিএনজি স্টেশনে গ্যাসের চাপ আগের মতো ফিরে আসবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের দুটি এফএসআরইউ বা ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজি গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। এই গ্যাসের ওপর ভিত্তি করেই বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানা সচল থাকে এবং রাজধানীতে গৃহস্থালির রান্নার কাজ চলে। বর্তমানে একটি এফএসআরইউতে কারিগরি সমস্যা দেখা দিয়েছে। এটি মেরামতের জন্য একটি বেসরকারি কম্পানি ও পেট্রোবাংলা একযোগে কাজ করছে এবং সরকারের জ্বালানি বিভাগ সার্বক্ষণিক তদারকি করছে।


নির্বাচিত

সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের মতো কিছু দেখছি না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে বর্তমানে সরকার আমলে নেওয়ার মতো কোনো অভিযোগ দেখছে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের মতো কিছু দেখছি না। আইন অনুযায়ী তিনি যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার অধিকারী, সবই পাবেন। নিরাপত্তাও পাবেন। রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে তিনি ‘পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন এবং সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। স্পিকার তা গ্রহণ করেছেন। সাংবিধানিক বিধান অনুসারে বর্তমানে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা চাই মানুষ রাজনৈতিকভাবে মত প্রকাশ ও প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা ভোগ করুক। এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতেই পারে। তবে বিষয়টি আমলে নেওয়ার মতো কোনো আইনি ভিত্তি আমরা দেখিনি।’

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালীন কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সাবেক রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক দায়মুক্তি (ইমিউনিটি) ও বিশেষ অধিকার (প্রিভিলেজ) ভোগ করেছেন। ফলে ওই সময়ের কর্মকাণ্ডের জন্য তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার সুযোগ নেই। তবে দায়িত্বকালের বাইরে কোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে।

শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতির কথোপকথন নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। ‘আমরাও পত্রিকায় দেখেছি। কোনো গণমাধ্যম যদি এমন দাবি করে, তাহলে তার প্রমাণও তাদেরই দিতে হবে। আমাদের কাছে সেরকম কোনো তথ্য নেই। আর কথা বলার জন্য লন্ডনে যেতে হয় নাকি? আজকালকার ইন্টারনেটের দুনিয়ায় লন্ডন যেয়ে কারো সাথে কথা বলতে হয় না, এটা আমার কাছে অলীক মনে হয়। কথা বলতে চাইলে তো এখান থেকেও বলা যায়,’ বলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও ব্যাংকের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের বিচার হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সে সময়কার কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইন ও বিধি অনুযায়ী বিবেচিত হবে।

এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তার নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে আইন অনুযায়ী তিনি প্রাপ্য সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এসএসএফ, পিজিআরসহ ছয় মাস নিরাপত্তা সুবিধার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো কেন সাবেক রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার দাবি করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর উত্তর তাদের কাছ থেকেই জানতে হবে।


নির্বাচিত

আগস্টে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন না হলে বৃহত্তর কর্মসূচির ডাক

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ না হলে সারাদেশের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। রোববার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সদস্যসচিব আশিকুল ইসলামের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি না হলে প্রথমে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেই আলোচনা ফলপ্রসূ না হলে সারাদেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আশিকুল ইসলাম বললেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি সময়োপযোগী, বাস্তবসম্মত ও ন্যায্য বেতনকাঠামোর প্রত্যাশা করে আসছেন। কিন্তু এখনো নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বললেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রজ্ঞাপন কোথায় আটকে আছে?’

‘দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশা পূরণে সরকারের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মদক্ষতা ও জনসেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।’—যোগ করেন তিনি।

আশিকুল ইসলাম জানালেন, সংগঠনটি সবসময় শান্তিপূর্ণ, দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বিশ্বাসী। তাই প্রথমেই সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। তবে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বার্থে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করে দেশব্যাপী বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


নির্বাচিত

আধুনিক সেনাবাহিনী গড়তে মেধা ও শৃঙ্খলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা সেনানিবাসে সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ জুলাই, ২০২৬ ০০:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একটি পেশাদার ও আধুনিক সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে মেধা, পেশাগত যোগ্যতা, সততা, চারিত্রিক দৃঢ়তা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও শৃঙ্খলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

রোববার (২৬ জুলাই) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। এতে তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও পুনর্গঠনে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে শাহাদাতবরণকারী সেনাসদস্যদের প্রতিও প্রধানমন্ত্রী গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বলে জানান উপপ্রেস সচিব।

এ সময় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদানে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এ জন্য তিনি সেনাপ্রধানসহ বাহিনীর সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।

এর আগে সকালে সেনাসদরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইনুর রহমান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধন করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সেনাপ্রধান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং সেনাবাহিনীর পরিদর্শক বইয়ে মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।


নির্বাচিত

৭৬.৫ শতাংশ টুথপেষ্টে বিপজ্জনক প্লাষ্টিক কণা

* ভয়াবহ ঝুঁকিতে মানবস্বাস্থ্য * ১৯ ব্র্যান্ডের ৩৪ টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতেই প্লাস্টিকের কণা * ৪টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মেলেনি
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

সুস্থতার অভ্যাসে অদৃশ্য বিষপ্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত পরিষ্কার করা সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন জীবনের একটি মৌলিক অংশ। শৈশব থেকেই পরিবার, সমাজ ও চিকিৎসকদের মাধ্যমে শেখানো হয়—সুস্থ থাকার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সঠিক মুখগহ্বরের পরিচ্ছন্নতা বা ‘ওরাল হাইজিন’। কিন্তু অবচেতন মনে গড়ে ওঠা এই স্বাস্থ্যকর সুঅভ্যাসই যদি অজান্তে দেহে মরণঘাতী বিষ পৌঁছে দেয়, তবে তা কতটা শঙ্কার? এ জবাব এসেছে পরিবেশ বিষয়ক গবেষণাধর্মী সংস্থা ‘এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (এসডো) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায়; উন্মোচিত হয়েছে চাঞ্চল্যকর ও ভয়াবহ তথ্য। রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার বিস্তারিত ফলাফল তুলে ধরেছে সংস্থাটি।

সংস্থাটির গবেষণা বলছে, বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ৩৪টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট পরীক্ষা করে ২৬টিতেই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে প্লাস্টিকের কণা মিলেছে সর্বনিম্ন ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ৩২০টি পর্যন্ত।

গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, পরীক্ষা করা কোনো টুথপেস্টের মোড়কেই মাইক্রোপ্লাস্টিক বা কৃত্রিম পলিমার ব্যবহারের তথ্য উল্লেখ ছিল না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র, হৃদরোগ, স্নায়ুতন্ত্র, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

সংস্থাটি জানায়, গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত পরিচালিত এ গবেষণায় দেশের ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে স্টিরিওমাইক্রোস্কোপি ও ফুরিয়ার ট্র্যান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকার ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ চালানো হয়।

এসডোর চেয়ারম্যান সৈয়দ মারঘুব মোর্শেদ বলেন, বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা। এটি ভবিষ্যতে জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গবেষ্ণা প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীক্ষা করা টুথপেস্টগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে উৎপাদিত ২৫টির ২২টিতে, ভারতে উৎপাদিত ৫টির ১টিতে, থাইল্যান্ডে উৎপাদিত ২টির ১টিতে এবং ভিয়েতনামে উৎপাদিত ২টি ব্র্যান্ডের দুটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে। আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, শিশুদের জন্য তৈরি বিশেষ ৬টি টুথপেস্টের ৪টিতেই ক্ষতিকর প্লাস্টিকের কণা শনাক্ত করা গেছে।

ফলাফলে উল্লেখ করা হয়, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে সবচেয়ে বেশি ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরিড জেলে। এ ছাড়া ক্লোজ আপ রেড হট-এ ১৬০টি, ক্লোজ আপ মেন্থল ফ্রেশ-এ ১৬০টি, কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা স্ট্রবেরিতে ১৪০টি, সিগন্যাল গ্রিন টি-তে ১২০টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট-এ ১০০টি, হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ার-এ ১০০টি এবং সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে ৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

শিশুদের ব্যবহারের জন্য তৈরি টুথপেস্টের মধ্যে কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলায় ১৪০টি, মেরিল বেবি স্ট্রবেরিতে ৬০টি, মেরিল বেবি অরেঞ্জে ৪০টি এবং পেপসোডেন্ট কিড অরেঞ্জে ২০টি প্লাস্টিকের কণা ধরা পড়েছে।

এসডোর মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে—এ বিষয়ে অধিকাংশ মানুষই অবগত নন। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পণ্যের লেবেলে উপাদানের স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রক তদারকি জরুরি।

এসডোর নির্বাহী পরিচালক সিদ্দীকা সুলতানা বলেন, এই গবেষণা বাংলাদেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ভিত্তি তৈরি করেছে, যা ভবিষ্যতে মানদণ্ড নির্ধারণ ও নীতিমালা প্রণয়নে সহায়ক হবে।

তবে সব টুথপেস্টে প্লাস্টিক কণা মেলেনি। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশীয় ব্র্যান্ড জেনফ্রেশ, প্যারাস্যুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো) এবং ক্লোজ আপ রেড হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজিতে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি শিশুদের জন্য বাইরে থেকে আমদানিকৃত কুডুমু অরেঞ্জেও ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিক ধরা পড়েনি বলে নিশ্চিত করেছে এসডো।

দন্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. মোশাররফ হোসেন খন্দকার বলেন, দাঁতের পরিচর্যার পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকা উচিত নয়। এটি দাঁত সাদা করতে সহায়তা করলেও এনামেলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। দাঁতের সুরক্ষায় ফ্লোরাইড, কার্বনেট ও সিলিকাই বেশি প্রয়োজনীয়।

বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক মো. মনজুরুল করিম বলেন, বর্তমান টুথপেস্টের মানদণ্ডে মাইক্রোপ্লাস্টিক অন্তর্ভুক্ত নেই। তবে এসআরও সংশোধনের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিকের মানদণ্ড বা সহনশীল মাত্রা নির্ধারণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এসডো গবেষণার ভিত্তিতে ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক জাতীয় মানদণ্ড প্রণয়ন, নিয়মিত বাজার তদারকি, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পণ্যের লেবেলে উপাদানের তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করেছে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক কী, কেন ক্ষতিকর: ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। টুথপেস্টে ব্যবহৃত কণাগুলো এতটাই সূক্ষ্ম যে তা খালি চোখে দেখা অসম্ভব। এগুলো প্রধানত দুইভাবে ক্ষতি সাধন করে—

১. মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। ব্রাশ করার সময় মুখের মিউকাস মেমব্রেন (শ্লেষ্মা ঝিল্লি) দিয়ে অতিসূক্ষ্ম প্লাস্টিক সরাসরি রক্তে মিশে যেতে পারে। প্লাস্টিকে থাকা ‘বিসফেনল-এ’ এবং থ্যালেটস শরীরের হরমোন নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি করে, যা শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে ব্যাঘাত ঘটায় এবং প্রাপ্তবয়স্কদের প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এছাড়া পরিপাকতন্ত্র, যকৃৎ ও বৃক্কে প্লাস্টিক জমা হতে থাকলে তা কোষের ভেতরে ক্রমাগত প্রদাহ ও টিস্যু ড্যামেজ তৈরি করে ক্যানসারের পথ প্রশস্ত করে।

২. প্রতিদিন ব্রাশ করার পর বেসিন থেকে কোটি কোটি প্লাস্টিক কণা ড্রেনের পানির সাথে নদী ও সাগরে গিয়ে পড়ে। সাধারণ ওয়াটার ফিল্টারেও এসব অতিসূক্ষ্ম কণা আটকায় না। সামুদ্রিক মাছ ও জলজ প্রাণী এগুলোকে খাবার মনে করে গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ‘বায়ো-অ্যাকিউমুলেশন’ বা জৈব-সঞ্চয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই প্লাস্টিক আক্রান্ত মাছ মানুষের পাতেই ফিরে আসে—তৈরি হয় ভয়াবহ বিষচক্র!

সচেতনতার অভাব ও আইনি শূন্যতা: পরীক্ষা করা কোনো টুথপেস্টের মোড়কে বা লেবেলে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা সিনথেটিক পলিমার ব্যবহারের তথ্য উল্লেখ না থাকায় সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ভোক্তা জরিপ অনুযায়ী ৪১.৯ শতাংশ মানুষ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকা সম্পর্কে ইতিপূর্বে কখনো শোনেনইনি। ৩১.৩ শতাংশ কিছুটা শুনলেও বিস্তারিত বা এর পরিণতি সম্পর্কে জানেন না। আর মাত্র ২৬.৯ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে কিছুটা সচেতন।

এই নীরব মহামারি থেকে বাঁচতে পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তারা বলেছেন, বিএসটিআই ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাকে অবিলম্বে প্রসাধন সামগ্রী ও টুথপেস্টে ‘মাইক্রোবিডস’ বা অণু-প্লাস্টিকের ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। টুথপেস্ট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কৃত্রিম পলিমারের বদলে চারকোল, প্রাকৃতিক সিলিকা, বেকিং সোডা বা নিম-তুলসীর মতো পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। টুথপেস্টের প্যাকেজিংয়ে সঠিক রাসায়নিক উপাদান ও মাইক্রোপ্লাস্টিক-মুক্ত কি না তা স্পষ্টভাবে লেখা বাধ্যতামূলক করতে হবে। শিশুদের ব্রাশ করার সময় সঠিক পরিমাণ (সর্বোচ্চ মটরশুঁটি দানার সমান) টুথপেস্ট দেওয়া এবং ব্রাশ করার পুরো সময় পাশে থেকে গিলে ফেলা রোধ করতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দাঁত ও মুখের সুরক্ষায় যে পণ্যটি আমরা প্রতিদিন অপরিহার্য মনে করে অন্তত দু’বার ব্যবহার করছি, তাতেই যদি এমন মরণঘাতী উপাদান লুকিয়ে থাকে, তবে তা শুধু হতাশাজনকই নয়—একই সাথে আমাদের অস্তিত্বের জন্যও বিরাট এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন। ইএসডিও (ESDO) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণা আমাদের চোখের সামনের পর্দা সরিয়ে দিয়েছে। এখন প্রয়োজন সরকারের কঠোর মনিটরিং, প্রস্তুতকারকদের বাণিজ্যিক সততা এবং সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আমাদের নিজস্ব সচেতনতা। নিরাপদ টুথপেস্ট বেছে নেওয়ার এই আন্দোলন শুরু হোক আজ আপনার ঘর থেকেই!


নির্বাচিত

বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পদত্যাগের দুই দিন পর আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন ছেড়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে তিনি বঙ্গভবনের পাঠ চুকিয়ে গুলশানে অবস্থিত তাঁর নিজস্ব বাসভবন ‘গ্রিন ভিলা’র উদ্দেশে রওনা হন। এর আগে গত ২৪ জুলাই তিনি দেশের রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেন।

সংবিধানের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদের মেয়াদ পাঁচ বছরের হলেও, রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা প্রেক্ষাপটে তিনি মোট ৩ বছর ৩ মাস এই দায়িত্ব পালন করতে সমর্থ হন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মো. সাহাবুদ্দিন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় নানা গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন। পদত্যাগের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই দেশের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে এবং আজ বঙ্গভবন ত্যাগের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক বাসভবনে তাঁর অবস্থানেরও শেষ হয়।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি। তিনি ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ ও দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন এবং দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন।

তাঁর পদত্যাগের পরপরই সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করে প্রয়োজনীয় সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।


নির্বাচিত

১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রের ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে এবার ১৮ মন্ত্রীর পুলিশের প্রটেকশন এসকর্ট বা বিশেষ নিরাপত্তা বহর প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। তবে একজন উপদেষ্টা এবং ছয়জন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীর এই সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের নিরাপত্তা বহরে গাড়ি কমিয়ে দেন। এমনকি সড়কে চলাচলের সময় বাড়তি কোনো ট্রাফিক সুবিধা নেন না। সাধারণ মানুষের মতো ট্রাফিক সিগন্যালে তাঁর গাড়িবহর থেমে যায়। ট্রাফিক পুলিশের সংকেত পাওয়ার পর আবার চলা শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সূত্র জানিয়েছে, ২০ জুলাই ১৮ মন্ত্রীর প্রটেকশন এসকর্ট প্রত্যাহার করা হয়। তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গানম্যান, বাড়ির প্রহরী এবং ঢাকার বাইরে সফরকালে বিশেষ পুলিশ প্রটেকশন সুবিধা বহাল থাকবে।

একজন মন্ত্রীর নিরাপত্তা বহরে সাধারণত একজন এসআই এবং চারজন কনস্টেবলের একটি দল থাকে। মন্ত্রীর গাড়ির সঙ্গে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানে থাকে এই দল। গাড়ির জ্বালানি খরচ ও তাদের বেতন-ভাতা সরাসরি সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, রাষ্ট্রের ব্যয় সংকোচ, পুলিশের জনবল ও যানবাহনের ঘাটতি মেটাতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।


নির্বাচিত

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি।

এসময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন ঘিরে জিয়া উদ্যানে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জিয়া উদ্যান ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে উপস্থিতি থাকতে দেখা যায়।

এর আগে, আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।

স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সংবিধান অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বঙ্গভবনে অফিস করলেও তিনি সংসদ ভবন এলাকায় স্পিকারের বাসভবনেই অবস্থান করবেন।


নির্বাচিত

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে সম্ভাবনার হাতছানি

* সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে উদ্যোগী সরকার * স্টার্টআপে অনুদান হিসেবে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ * চলতি অর্থবছরে ১০০ কোটি ডলার রপ্তানির লক্ষ্য * ২০৩০ সালের মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য
জাতীয় নভোথিয়েটারে দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ওয়ার্ল্ড সেমিকন্ডাক্টর ট্রেড স্ট্যাটিস্টিকস (ডব্লিউএসটিএস) পূর্বাভাস দিয়েছে যে, এআই অবকাঠামো, হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি এবং উন্নত কম্পিউটিংয়ের ওপর ভর করে ২০২৬ সালে এই শিল্প ১ দশমিক ৫১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি যাবে। এ শিল্পে বাংলাদেশের সম্ভাবনা অনেক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তৈরি পোশাক শিল্পের পর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত।

প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্পের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকারের উদ্যোগী বলে জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীতে অবস্থিত জাতীয় নভোথিয়েটারে দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের বিশাল তরুণ, দক্ষ ও মেধাবী জনগোষ্ঠী এবং বিশ্বজুড়ে কর্মরত সেমিকন্ডাক্টর পেশাজীবীদের একটি ক্রমবর্ধমান ভিত্তি দ্রুত সম্প্রসারিত হতে থাকা বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারে প্রবেশের জন্য দেশকে একটি শক্তিশালী ভিত্তি এনে দিয়েছে।

তিনি বলেন, গার্মেন্টস শিল্পের পর, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয়ের আরেকটি বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজারের আকার প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি এই শিল্পে প্রবেশ করতে এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি সরবরাহ চেইনে নিজেদের অবস্থান বাড়াতে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করবে।

তিনি জানান, বর্তমানে আমেরিকা, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রধান কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর পেশাজীবী কর্মরত আছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত এই প্রবাসী মেধাবীদের বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রার সাথে সংযুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি এই শিল্পের উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি খাত, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী পেশাজীবীদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন, ভেরিফিকেশন, এমবেডেড সিস্টেম, পাওয়ার ইলেকট্রনিক্স এবং উন্নত ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে সক্ষমতা তৈরি করা শুরু করেছে এবং কয়েকটি স্থানীয় কোম্পানি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করেছে।

তিনি জানান, সরকার সেমিকন্ডাক্টর খাতকে একটি অগ্রাধিকারমূলক শিল্প হিসেবে বিবেচনা করে এবং এর প্রবৃদ্ধিতে সহায়তার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, সরকার সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের জন্য কর ও শুল্ক সংক্রান্ত সুবিধা চালু করেছে এবং সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সেবার জন্য প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া নতুন উদ্যোক্তা এবং উদ্ভাবনী ব্যবসাকে সহায়তা করার লক্ষ্যে বর্তমান বাজেটে স্টার্টআপ অনুদান হিসেবে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সেমিকন্ডাক্টর খাতের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা, শিল্প নেতৃবৃন্দ, প্রবাসী পেশাজীবী এবং উন্নয়ন অংশীদারদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই দুই দিনব্যাপী সম্মেলন নতুন অংশীদারিত্ব, গবেষণা উদ্যোগ, বিনিয়োগের সুযোগ এবং উদ্ভাবনী ধারণা তৈরি করতে সাহায্য করবে যা বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাবে।

সেমিকন্ডাক্টর খাতে ১০০ কোটি ডলার রপ্তানির লক্ষ্য:

বিশ্বব্যাপী সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এক নজিরবিহীন সম্প্রসারণের যুগে প্রবেশ করছে। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যখন চিপের বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে বাংলাদেশের স্বপ্ন এখন এমন এক চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে, যেখানে সাফল্যের চাবিকাঠি শুধু নীতিমালার ঘোষণায় নয়, বরং তা বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে দীর্ঘমেয়াদি কর প্রণোদনা ঘোষণা, গত জুনে শেষ হওয়া ‘সিলিকন রিভার ইউএসএ রোডশো’ এবং দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক্স, এআই অ্যান্ড রোবোটিক্স (বিইএআর) সামিট ২০২৬’-এর পর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ আর বৈশ্বিক মনোযোগ আকর্ষণ করা নয়, বরং বিশ্বমানের একটি প্রতিযোগিতাপূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)-এর সাবেক সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বলেন, ‘আগামী দুই বছর নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টরের একটি নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হতে পারবে কি না।’

তার মতে, বিনিয়োগকারীরা এখন কেবল নীতিমালার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চাইবেন; যার মধ্যে রয়েছে ২০০ থেকে ৩০০ প্রকৌশলী নিয়ে সক্রিয় সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সেন্টার চালু করা, আন্তর্জাতিকভাবে প্রত্যয়িত ‘অ্যাসেম্বলি, টেস্টিং, মার্কিং অ্যান্ড প্যাকেজিং’ (এটিএমপি) সুবিধা নিশ্চিত করা, দ্রুততর নিয়ন্ত্রণমূলক অনুমোদন এবং বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা।

ওয়ার্ল্ড সেমিকন্ডাক্টর ট্রেড স্ট্যাটিস্টিকস (ডব্লিউএসটিএস) পূর্বাভাসে- এআই অবকাঠামো, হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি এবং উন্নত কম্পিউটিংয়ের ওপর ভর করে ২০২৬ সালে এই শিল্প ১ দশমিক ৫১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি যাবে। ইতোমধ্যে ভারত তাদের সেমিকন্ডাক্টর কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ৩০০ কোটি (১৩ বিলিয়ন) ডলারের বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আর ভিয়েতনাম ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ হাজার সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন প্রকৌশলীকে প্রশিক্ষিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এই পরিস্থিতির তুলনায় বাংলাদেশের লক্ষ্য কিছুটা পরিমিত। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ২০৩০ সালের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি বর্তমানের প্রায় ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই লক্ষ্য অর্জন নতুন প্রণোদনা দেওয়ার চেয়ে দেশ কত দ্রুত দক্ষ জনশক্তি, গবেষণা সক্ষমতা এবং টেস্টিং অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারে, তার ওপর বেশি নির্ভর করবে।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্র যে কারণে শুল্ক আরোপ করেছে তা ভিত্তিহীন: বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, জোরপূর্বক শ্রম রোধে ব্যর্থতার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র যে শুল্ক আরোপ করেছে তার কোনো ভিত্তি নেই। শনিবার (২৫ জুলাই) শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় অডিটরিয়ামে দুটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে বিদ্যালয় দুটির শিক্ষার্থীদের নানা পরিবেশনা উপভোগ করেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ‘নতুন শুল্ক আরোপে বাণিজ্য পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। আগে যে শুল্ক নীতি ছিল তাদের আইন অনুসারে সময় অতিক্রম করায় নতুন করে একই মাত্রার শুল্ক থাকবে, তবে তা ভিন্ন নামে।’

তীব্র খাদ্য সংকট নিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদন সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে ইউরিয়াসহ সব সারের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। ফলে এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।’

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ওই বিদ্যালয় দুটির পরিচালক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সিলেট জেলা ও মাহনগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

প্রবাসীবান্ধব সেবা নিশ্চিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রবাসীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে সরকার একটি আন্ত:মন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য অভিবাসীকর্মীদের বৈধ অভিবাসনে উৎসাহিত করা, বিদেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অভিবাসন প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করা, বিদেশে কর্মরত অভিবাসীকর্মীদের কল্যাণ ও অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের ঝামেলামুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে এ কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সাধন করবে।

কমিটি বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন সেবা কেন্দ্রে প্রবাসীবান্ধব সেবা ও সুবিধা সহজীকরণ, নিশ্চিতকরণ ও সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। পাশাপাশি বিদ্যমান সেবা প্রদান ব্যবস্থার সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে সেগুলোর উপযুক্ত সমাধানের সুপারিশ করবে।

কমিটির সভাপতি থাকবেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী। মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং উপদেষ্টা কমিটির সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব; জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যান; বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান; জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক; এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন ও অর্থ উইংয়ের প্রধান কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।


নির্বাচিত

banner close