খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছিল ৫৩ শতাংশ, ৮ ফেব্রুয়ারি ১০ শতাংশ কমিয়ে করা হয়েছে ৪৩ শতাংশ। শুল্ক কমানোর পরও দাম কমেনি খেজুরের। উল্টো দাম বেড়েছে। যদিও বন্দর থেকে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। গত কয়েক দিনে ৬০৫ কনটেইনার খেজুর খালাসের কার্যক্রম চলছে এবং প্রতিদিনই খালাস অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, আগামী ১২ মার্চ পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনা করেন। দিনভর রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে খেজুর। খেজুর ছাড়া এখন আর ইফতারের কথা ভাবা যায় না। প্রায় সব রোজাদারই খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করেন। এ কারণে রমজান মাসে চাহিদা বেশি থাকা পণ্যগুলোর একটি খেজুর। পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে চলতি মাসে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি বাজারে তদারকি ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা কোনো কাজেই আসছে না। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের বাজারে খেজুরের দাম প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়েছে।
৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি আদেশে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনার ঘোষণা দেয়। এর আগে খেজুর আমদানিতে সর্বমোট ৫৩ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে খেজুরের শুল্কায়ন মূল্য প্রতি টন ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৭৫০ ডলার। এর সঙ্গে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ, রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ ও ভ্যাট ১৫ শতাংশ। পাশাপাশি অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর ৫ শতাংশ হারে দিতে হচ্ছে। এতে বর্তমানে সর্বমোট ৪৩ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত রোজার আগে মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরে শুল্ক দিতে হতো ৫ দশমিক ৪৫ থেকে ২১ দশমিক ৮৪ টাকা। তবে এবার খেজুরকে ‘বিলাসীপণ্যের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে খেজুরের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫৩ শতাংশ করা হয়। ফলে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বেড়ে গেছে। এবার শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫৪ থেকে ২০৮ টাকা। মূলত শুল্কের প্রভাব পড়েছে খেজুরের দামে। গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি খেজুরে জাতভেদে দাম বেড়েছে ১০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত। দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া খেজুরের মধ্যে রয়েছে দাবাস, জাহিদি, বরই ও গলা খেজুর।
চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গলা বা বাংলা খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, জাহিদি খেজুর ২৪০-২৬০ ও মানভেদে দাবাস খেজুর ৪৫০-৫৫০ টাকায়। এ ছাড়া বরই খেজুর মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৪০-৫৪০ টাকায়। গত বছর এসব খেজুরের দাম ছিল বর্তমান দরের অর্ধেকেরও কম।
এদিকে অভিজাত শ্রেণির কাছে পছন্দের খেজুরের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের মেডজুল, মাবরুম, আজওয়া ও মরিয়ম। গত এক মাসের ব্যবধানে এসব খেজুরের দাম কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে। জাম্বো মেডজুল মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, সাধারণ মেডজুল ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০, মাবরুম খেজুর ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, আজওয়া খেজুর মানভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো জাতের মরিয়ম বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এ ছাড়া কালমি মরিয়ম ৮০০-৯০০ টাকা, সুফরি মরিয়ম ৭৫০-৮০০, আম্বার ও সাফাভি ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ ও সুক্কারি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে রোজার আগে জাহিদি জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি (১০ কেজি) ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। শুল্ক আরোপের কারণে দাম বাড়ার পর গত বছরের শেষ সপ্তাহেও একই জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা। তবে এখন ১০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েও এই জাতের খেজুরের কার্টন হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা।
পাইকারি ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি ৫ কেজির এক কার্টন মেডজুল খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার টাকায়। গত বছর এ খেজুর বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়। অন্যদিকে সাধারণ খোলা খেজুর প্রতি কেজি ফেব্রুয়ারির শুরুতে কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ছিল ১২৮-১৩০ টাকা। বর্তমানে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকায়।
পাইকারি বাজার সূত্রে জানা গেছে, বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় জাহিদি জাতের খেজুর। এক বছর আগে প্রতি কেজি খেজুর খুচরা পর্যায়ে ১৫০ টাকায় পাওয়া যেত। শুল্ক কমানোর পর বর্তমানে এ খেজুর খুচরায় বিক্রি করতে হবে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য আমদানি করা খোলা (বস্তায় বিক্রি হওয়া ভেজা খেজুর) রোজা আসার আগেই কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ১৫৫ টাকায় উঠে গেছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে এ মানের খেজুর বিক্রি করতে হবে কমপক্ষে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। অবশ্য গতকাল বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল হক টিটু ঘোষণা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে খেজুর পৌঁছে দিতে বস্তায় আসা জাহিদি খেজুরের দাম কমানো হবে। আজ রোববার (৩ মার্চ) এই খেজুরের দাম কমানোর ঘোষণা আসার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিনে সবচেয়ে বেশি খেজুর বন্দর থেকে খালাস নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগে বন্দর থেকে দিনে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলেও এখন সেটা ৭০ কনটেইনারে গিয়ে টেকেছে। কিন্তু দাম কমছে না।
ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকার শুল্ক কমানোর পর ব্যবসায়ীরা খেজুর খালাসে তোড়জোড় শুরু করেছে। শুল্ক কমানোর পরও ভোক্তারা কম দামে খেজুর কিনতে পারছেন না। শুল্ক কমানোর পর পর্যাপ্ত আমদানি হলেও দাম কেন কমছে না বিষয়টি তদারকি করতে হবে। তদারকি না করলে রোজায় খেজুর কিনতে পারবে না ভোক্তারা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৬৩ টন খেজুর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস করেছেন আমদানিকারকরা। ১৪৫ দিনের মধ্যে গত ১৫ দিনেই বেশি খেজুরের চালান খালাস হয়েছে। ২৮ ধরনের খেজুর দেশের ৮২টি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্দান, মিসর, আলজেরিয়া, নামিবিয়া, তিউনিশিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আমদানি করেছে।
জানা গেছে, চার মাস আগে খেজুর আমদানি করলেও শুল্ক কমবে এ আশায় ব্যবসায়ীরা পণ্যটি চট্টগ্রাম বন্দরে গুদাম করে রেখেছিলেন। ফলে বেসরকারি ১৯টি ডিপোতে ১ হাজার কনটেইনার (প্রতি কনটেইনারে ২২-২৪ হাজার কেজি খেজুর থাকে) খেজুর পড়ে ছিল। এখন খেজুরভর্তি ৬০৫টি কনটেইনার খালাস চলছে। এখনো খেজুরভর্তি ৩৯৫টি কনটেইনার খালাসের উদ্যোগ নেয়নি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার কাজী ইরাজ ইশতিয়াক বলেন, প্রচুর পরিমাণে খেজুর খালাস হচ্ছে। প্রতিদিনই খালাস করছেন আমদানিকারকরা। তিনি বলেন, খেজুরের শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
তিনি জানান, খেজুরের চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। একেকটি ক্যাটাগরির একেক রকম শুল্কহার হয়। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির প্রবণতাও রয়েছে। অনেক সময় উচ্চ শুল্কহারে খেজুর এনে কম শুল্কহারে ঘোষণা দেওয়া হয়। এমন বেশ কিছু ঘটনাও ঘটেছে। এ জন্য আমরাও সতর্ক আছি, যেন সরকার রাজস্ব বঞ্চিত না হয়।
উচ্চ শুল্কহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা এনবিআর নির্ধারিত, এ ব্যাপারে আমাদের বলার বা করার কিছু নেই। আমরা নির্ধারিত শুল্ক নিয়ে খালাসের ব্যবস্থা করি। খেজুর বিলাসী পণ্য কি না, এ বিষয়েও তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
খাতুনগঞ্জের ডেটস অ্যান্ড ড্রাই ফ্রুটস আমদানিকারক মো. ওমর ফারুক বলেন, খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ট্যাক্স ১০ শতাংশ কমালেও অন্যান্য শুল্ক ঠিক রেখেছে এনবিআর। ফলে উচ্চমাত্রায় ট্যাক্স দিয়েই আনতে হচ্ছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সামান্য এ শুল্ক কমানোয় খেজুরের দামে প্রভাব পড়বে না।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সুলতান আরেফিন বলেন, শুল্ক কমানোর পর থেকে আমদানিকারকরা খেজুর খালাস নিতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। আগে প্রতিদিন গড়ে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলে এখন সেটি ৭০ কনটেইনার খালাস হচ্ছে।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতি কেজি খেজুর ১১০ টাকায় কিনলে ১৪০-১৫০ টাকা শুল্ক দিতে হয়। ১২০ টাকায় কিনলে ২০৮ টাকা শুল্ক দিতে হয়। গত বছর ৯০ টাকায় ডলার কিনতে পারতাম। এ বছর ১২০-১২২ টাকা দিতে হচ্ছে। কাস্টমস থেকে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ইচ্ছেমতো করা হচ্ছে। এলসি যে মূল্যে খুলছি সে অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ করা হলে খেজুরের দাম অর্ধেকে নেমে আসে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না।
বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, পণ্য বন্দরে আসার পর শুল্ক পরিশোধ করে খালাস করতে হয়। এসব কাস্টমসের বিষয়।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমেদ বলেন, ডলারের দাম বাড়াতে পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে যায়। এর পরও ব্যবসায়ীরা সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
সতর্ক করার পরও স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেননি কথিত পরকীয়া প্রেমিক। সেই ক্ষোভ থেকেই রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় পরকীয়া প্রেমিককে হত্যা করা হয়। প্রায় ১৩ বছর পর সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ হলো আদালতে।
গতকাল সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৯ এর বিচারক মাহমুদুল ইসলাম পরকীয়া প্রেমিক আনিস হত্যার দায়ে মো. শাহাদাৎ হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একইসঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় শাহাদাৎ হোসেনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সরকার।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই শাহাদাৎ হোসেনের স্ত্রীর সঙ্গে নিহত আনিসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে একাধিকবার আনিসকে সতর্ক করেছিলেন শাহাদাৎ। স্ত্রী থেকে দূরে থাকতে এবং আর যোগাযোগ না করতে বলা হয়েছিল তাকে। কিন্তু সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে আনিস আবারও শাহাদাতের স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এতে ক্ষোভ আরও গভীর হয় আসামির মধ্যে। ২০১২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিকেল। তেজগাঁও থানাধীন আনোয়ারা পার্কের দক্ষিণ পাশে মা মেডিকেল স্টোরের বিপরীতে ফুটপাতে আনিসের ওপর হামলা চালানো হয়। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান হামলাকারী। পরে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক মো. মাসদুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক কাজী সাহান হক শাহাদাৎ হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন।
একই বছরের ২৭ মে আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
সরকার দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে আসন্ন ঈদুল আজহায় নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিতে প্রস্তুতি সভা শেষে মন্ত্রী এ কথা জানান।
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতুটা—তিনটি প্রস্তাবনা আছে। তার এক নম্বর প্রস্তাবনা আপনি যেটা বলেছেন ওই রুটে। আমরা দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে চলছি, বলব আমি এই মুহূর্তে। ফিজিবিলিটি স্টাডি অলরেডি কমপ্লিট। অর্থায়নের জায়গাটা নিয়ে ভাবছি, কথা বলছি। আর ধরেন অন্যান্য প্রাক-প্রস্তুতি চলছে।’
মন্ত্রী বলেন, ঈদ যাত্রায় নৌপথেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। আরিচা ঘাটে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনার তদন্তে গাড়ির ব্রেকে ত্রুটির বিষয় উঠে এসেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এবার ফেরিতে গাড়ি ওঠার আগে ব্যারিকেড ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে ফেরি সম্পূর্ণ খালি না হওয়া পর্যন্ত নতুন গাড়ি প্রবেশ করতে না পারে।
এ ছাড়া সদরঘাটে স্পিডবোট ও লঞ্চ চলাচলে নতুন শৃঙ্খলা আনা হয়েছে। এখন থেকে স্পিডবোটের যাত্রীরা সরাসরি লঞ্চে উঠতে পারবেন না। তাদের নির্ধারিত পন্টুন ব্যবহার করতে হবে। এ জন্য নতুন সংযোগ ব্রিজও নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেড় কোটির বেশি মানুষের ঈদযাত্রা এবং প্রায় এক কোটি কোরবানির পশু পরিবহনকে কেন্দ্র করে এবারের ঈদ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবে সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করলে ভোগান্তি ও দুর্ঘটনা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বরেণ্য অভিনেতা-নাট্যকার আতাউর রহমান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। সোমবার গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তার মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান।
তিনি বলেন, ‘আব্বার অবস্থা আসলে খুব একটা ভালো না। তার শরীরের একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে পড়েছে—চিকিৎসক তেমনটাই জানিয়েছেন। সবার কাছে আমার আব্বার সুস্থতার জন্য দোয়া চাই।’
গত শুক্রবার বাসায় পড়ে গিয়েছিলেন আতাউর রহমান। এরপর প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউ সুবিধা না পেলে তাকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
জানা গেছে, ভর্তির পরই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। ওইদিন শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু আবারও অবস্থার অবনতি হলে গত রোববার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছেন সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।
সোমবার লালমনিরহাট স্টেডিয়ামে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের আয়োজনে এক বিশাল চাকরি মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, বেকারত্ব বর্তমানে একটি বড় অভিশাপ এবং এটি দেশে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।
সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গৃহীত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কৃষিঋণ মওকুফের মতো মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এছাড়া খাল খনন কর্মসূচির মতো প্রকল্পে স্থানীয় পর্যায়ে অনেক দরিদ্র মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। জনগণ বিএনপিকে যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তার ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
চাকরি মেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন সুমা, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। দিনব্যাপী এই মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো চাকরিপ্রার্থী অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পে যোগ্যতার ভিত্তিতে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেওয়া দরকার। নারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন ও বাজারজাত সহায়তা দিতে হবে। তাহলে পারিবারিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি ও সন্তানদের শিক্ষা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম করা সম্ভব হবে।
ডা. জুবাইদা রহমান সোমবার ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশলাইনসে পুলিশ অডিটরিয়ামে ‘বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)’ এর বার্ষিক সমাবেশ ও আনন্দ মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন।
পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সদস্যরা তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে অবদান রাখছেন উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘আপনারা কর্মের মাধ্যমে আগামীর প্রজন্মকে সমাজে অবদান রাখার পথ দেখিয়ে দিতে সহায়তা করছেন।’
সবাই যদি নিজ নিজ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সমাজ গঠনে অবদান রাখে তাহলে নিশ্চয়ই সেই কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত সমাজসেবামূলক পরিকল্পনাগুলো সমন্বিতভাবে একটি সুন্দর সুস্থ ও মানবিক সমাজ গঠনের ভিত্তি।
ডা. জুবাইদা রহমান আরও বলেন, পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রে থেকে নারীরা স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ উন্নয়নে অংশ নিতে পারে। তাহলে কন্যা শিশুদের নিরাপত্তা ও সুন্দর মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি মেয়ে যে ভবিষ্যত নিজের জন্য গড়তে চায়, সেই পথে রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পরির্বতে তা এগিয়ে নেবে।
পুনাকের সহসভানেত্রী সাবিনা আওলাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহধর্মিনী হাসিনা আহমেদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সহধর্মিনী রওশন আরা শিল্পী ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পুনাক সহসভানেত্রী সাবিনা আওলাদ। পুনাকের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদিকা কানিজ ফাতেমা। অনুষ্ঠানে সভাপতির একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনানো হয়।
অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের অধিকারীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়।
‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত পুনাক মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন জেলার স্টলের মধ্যে প্রথম হয়েছে সাতক্ষীরা, দ্বিতীয় রাজশাহী এবং তৃতীয় লালমনিরহাট জেলা।
প্রধান অতিথি ডা. জুবাইদা রহমান কৃতি শিক্ষার্থী এবং পুনাক স্টল বিজয়ীদের হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন। পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটে জাল নোটের বিস্তার রোধ করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বিশেষ বুথ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পশুর কেনাবেচায় যাতে কেউ প্রতারিত না হয়, সেজন্য প্রতিটি হাটে নোট শনাক্তকরণ সেবা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে প্রতিটি ব্যাংককে আগামী ১৭ মের মধ্যে একজন সমন্বয়কারী কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর ই-মেইলে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, রাজধানীর অনুমোদিত পশুর হাটগুলোতে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত কোনো বিরতি ছাড়াই নোট যাচাইয়ের এই বিশেষ সেবা প্রদান করতে হবে। সুষ্ঠুভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, পৌরসভা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকার বাইরের পশুর হাটগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাংলাদেশ ব্যাংক অফিস এবং যেসব জেলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা নেই সেখানে সোনালী ব্যাংক দায়িত্ব বণ্টন ও তদারকি করবে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পশুর হাটগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যাংকের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হাটগুলোতে ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও মেঘনা ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংক তাদের বুথ পরিচালনা করবে। এছাড়াও তালিকায় রয়েছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, যমুনা ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক এবং বেসিক ব্যাংক।
অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৩টি পশুর হাটে মোট ১৯টি ব্যাংককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংক উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি মধুমতি ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাটে নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপন ও পরিচালনা করবে।
বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। সোমবার (১১ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশের মতো দেশকে এখন ডর দেখানোর মতো কোনো জায়গা নেই। বাংলাদেশে মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না, সরকারও কাঁটাতার ভয় পায় না।যেখানে আমাদের কথা বলা দরকার, আমরা কথা বলব।’
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘হাসিনা সরকারের আমলে যেভাবে সীমান্তে অনেক মানুষকে গুলি করে হত্যা বা কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখার মতো বিষয়গুলো আমরা দেখেছি, সীমান্ত কোনো দিন ওই নমুনায় আসবে না, ইনশাআল্লাহ। আর ওই নমুনায় যদি কেউ বর্ডার করতেও চায়, এই বাংলাদেশ সেই গোলামির বাংলাদেশ না যে, বসে দেখবে। কী করতে হবে সে বিষয়ে এই বাংলাদেশের পরিকল্পনা আছে।’
প্রতিবেশী দেশগুলোকে অবশ্যই আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপ চাই। যেখানে আমরা সবাই ‘ভারসাম্যমূলক’ একটি জায়গায় থাকতে চাই। তবে চ্যালেঞ্জ অবশ্যই থাকবে, আছে এবং থাকবেই। যেমন দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসী শেখ হাসিনা এখন ভারতে আশ্রয়ে আছে।
তবে শেখ হাসিনা ভারতে বসে যেন বাংলাদেশে কোনো সন্ত্রাস না করতে পারে সে বিষয়টি আমরা ভারত সরকারকে বলেছি এবং তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত সরকার।”
পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠন প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রাইমারিলি (প্রাথমিকভাবে) কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক থাকবে। আমরা তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে চাই না।’
সম্প্রতি চীন সফরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চীন সফর সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিস্তা নিয়ে আলোচনায় ভালো অগ্রগতি হয়েছে, ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।’
এ সময় চীনের এক্সিম ব্যাংক অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসইভাবে রূপান্তরের লক্ষ্যে আগামীকাল মঙ্গলবার (১২ মে) শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে জাতীয় কর্মশালা।’ কর্মশালার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ কর্মশালার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে
কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে। কর্মশালার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কর্মশালার উদ্বোধন উপলক্ষে ইউজিসি আজ বিকেল সাড়ে তিনটায় সংবাদ সম্মেলন করবে।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে ইউজিসির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে— ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষের রূপরেখা।’
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় সরকারের নীতিনির্ধারক, ইউজিসির সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, গবেষক, শিল্পখাতের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেবেন।
এদিকে কর্মশালা উপলক্ষে সোমবার বিকেল ৩টায় ইউজিসি ভবনে (আগারগাঁও) জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদসহ কমিশনের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
দেশের সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামোর উন্নয়নে নারীদের অপরিহার্য ভূমিকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি মনে করেন, গ্রামীণ অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে নারীরাই মূল চালিকাশক্তি হতে পারেন। সোমবার রাজধানী ঢাকায় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) এক বিশেষ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পুনাক-এর সদস্যদের জনহিতকর কাজের প্রশংসা করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, “আপনার আপনারা আপনাদের কর্মের মাধ্যমে আগামীর প্রজন্মকে সমাজে অবদান রাখার পথ দেখিয়ে দিতে সহায়তা করছেন। অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত সমাজসেবামূলক আপনাদের পরিকল্পনাগুলো সমন্বিতভাবে একটি সুন্দর সুস্থ মানবিক সমাজ গঠনের ভিত্তি। আমরা সকলে যদি নিজ নিজ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সমাজ গঠনে অবদান রাখি। তাহলে নিশ্চয়ই সেটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব ইনশাআল্লাহ।” তিনি সমিতির মানবিক উদ্যোগগুলোকে একটি সুস্থ সমাজ গঠনের ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করেন।
কন্যা শিশুদের সুরক্ষা ও তাদের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ করে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “নারীরা পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রে থেকে স্বাস্থ্য–গ্রামীণ উন্নয়নে অংশ নিতে পারে। কন্যা শিশুদের নিরাপত্তা ও সুন্দর মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিটি মেয়ে যে ভবিষ্যৎ নিজের জন্য গড়তে চায়, সেই পথে রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পরিবর্তে তা এগিয়ে নেবে।” তিনি মনে করেন, সরকারের দায়িত্ব হলো নারীর অগ্রযাত্রার পথকে আরও মসৃণ ও বাধামুক্ত করা।
এছাড়া নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষে তিনি একগুচ্ছ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ক্ষুদ্র কুটির ও মাঝারি শিল্পে যোগ্যতার ভিত্তিতে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহ প্রদান। যেমন- প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং ডেভেলপমেন্ট ও মার্কেটিং সাপোর্ট প্রদান। ফলে পারিবারিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি ও সন্তানদের শিক্ষা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম করা সম্ভব হবে।” অনুষ্ঠানের শেষে তিনি পুনাক-এর সকল সদস্যকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
মায়ের গর্ভে থাকা অনাগত শিশুর লিঙ্গপরিচয় প্রকাশ করাকে সংবিধান পরিপন্থী এবং নারীর প্রতি চরম বৈষম্যমূলক হিসেবে ঘোষণা করে এক ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশ করা কেবল অনৈতিক চর্চাই নয়, বরং এটি কন্যাশিশু হত্যার মতো জঘন্য প্রবণতাকে উসকে দিয়ে সামাজিক ভারসাম্য বিপন্ন করে।
রায়ে আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড “নারীর মর্যাদা, সমতা ও জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও চরম লঙ্ঘন।” হাইকোর্টের মতে, এই প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। আদালত আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কার্যকর কোনো জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা ও তদারকি ছিল না। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে এ সংক্রান্ত কঠোর আইন থাকলেও বাংলাদেশে কেবল গাইডলাইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয় বলে আদালত মত দেন।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে এক বিশাল ও সময়োপযোগী নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ছয় মাসের মধ্যে একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে দেশের সকল নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালিত পরীক্ষার রিপোর্ট সংরক্ষিত থাকবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে পারবে। আদালত এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে ‘ধারাবাহিক তদারকি’ বা ‘continuous mandamus’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যাতে এর বাস্তবায়ন আদালত নিজেই সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান জনস্বার্থে এই জনগুরুত্বপূর্ণ রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে হাইকোর্ট এই যুগান্তকারী রায় প্রদান করলেন। রিট আবেদনের পক্ষে অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান নিজে শুনানি করেন এবং তাঁকে সহায়তা করেন তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে এই শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত।
দেশে সঠিক সময়ে টিকা ও ভিটামিন-এ না পাওয়ায় হামে শিশুর মৃত্যু থামেছেই না। আক্রান্তও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপুষ্টি শিশুদের অবস্থাকে বেশি নাজুক করে তুলেছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর হারও কমে গেছে। এ অবস্থায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে চারজন ও উপসর্গ নিয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৪০৯ জনে দাঁড়িয়েছে। গতকাল রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল আটটা থেকে রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত) হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। বাকিরা হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামে নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৫ জনে। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৪৪ জন। অর্থাৎ হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা হয়েছে ৪০৯। এছাড়া ২০৫ জনের নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৬ হাজার ৮১৯ জনে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন ১ হাজার ৫০৩ সংক্রমণ রেকর্ড করা হয়েছে। এতে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ১৫৯ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগের দিনের তুলনায় সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। শনিবার এই সংখ্যা ছিল ২৯১, রোববার ৩৪৪। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে।
শিশুস্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হাম প্রতিরোধযোগ্য রোগ। ঠিক সময় ঠিক পদক্ষেপ নিলে এত শিশুর মৃত্যু হতো না। টিকার পাশাপাশি শিশু পুষ্টিও তাদের সুরক্ষা দেয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন বলেন, শিশুদের ওপর একের পর এক অন্যায় করা হয়েছে। মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর পক্ষে প্রচার নেই, ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন নেই, কৃমিনাশক ঠিকমতো খাওয়ানো হয়নি। এসবই অপুষ্টি বাড়িয়েছে। এর মধ্যে ঠিক সময়ে হামের টিকা না পেয়ে শিশুরা অরক্ষিত অবস্থায় চলে যায়। তারই পরিণতি এই প্রাদুর্ভাব, এত মৃত্যু।
জানা গেছে, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) মাধ্যমে নিয়মিতভাবে দেশের ৯ মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকার প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। টিকাকে কার্যকর করতে হলে ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা দরকার; কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। ২০২৩ সালের ইপিআইয়ের মূল্যায়ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, টিকা পেয়েছে ৮২ শতাংশ শিশু। অর্থাৎ প্রতিবছর ১৮ শতাংশ বা এর বেশি শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়।
গত বুধবার ইউনিসেফের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক রিয়াদ মাহমুদ সম্প্রতি এক বৈঠকে বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৮৫ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী। আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, আক্রান্ত শিশুদের ৬৫ শতাংশ কোনো টিকাই পায়নি, আর ২১ শতাংশ আংশিক টিকাপ্রাপ্ত। এভাবে টিকা থেকে বাদ পড়া শিশুর সংখ্যা কয়েক বছর ধরে বেড়েছে। এই বাদ পড়া শিশুর সংখ্যা এক বছরে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যার সমান বা কাছাকাছি হলে হামের মতো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় বলে রোগতত্ত্ববিদেরা জানিয়েছেন।
শিশুস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সাবেক প্রধান আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, ভিটামিন এ-এর অনেক কাজ। শরীরে কোষের কাজ ঠিকঠাক রাখে ভিটামিন এ। ভিটামিন এ চোখের পানি তৈরিতে সহায়তা করে। ভিটামিন এ কম থাকলে রাতকানা রোগ থেকে শুরু করে মানুষ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়ে পড়তে পারে। এ ছাড়া ভিটামিন এ রোগ প্রতিরোধক।
পুষ্টিবিদেরা জানিয়েছেন, দেশের সব বয়সি সাড়ে ৭ শতাংশ মানুষের ভিটামিন এ-এর ঘাটতি আছে। শিশুদের মধ্যে এই হার বেশি। শিশুদের ভিটামিন এ-এর ঘাটতি দূর করার জন্য প্রতি বছর দুবার ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন করা হয়। সেই ক্যাম্পেইনও বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঠিকমতো হয়নি।
সরকারের জাতীয় পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. ইউনুস আলী বলেন, সর্বশেষ ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন হয়েছে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে। এরপর ২০২৫ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু তা হয়নি। ভিটামিন এ-এর মতো শিশুরা মায়ের বুকের দুধের ক্ষেত্রেও বঞ্চিত হচ্ছে।
টিকাবিশেষজ্ঞ ও ইপিআইয়ের সাবেক উপকর্মসূচি ব্যবস্থাপক তাজুল এ বারি বলেন, মায়ের দুধ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শিশুদের শুধু বুকের (এক্সক্লুসিভ ব্রেস্ট ফিডিং) দুধ খাওয়ানো দরকার; কিন্তু বিরাটসংখ্যক শিশু তা পাচ্ছে না; বরং তা কমছে।
সর্বশেষ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ (২০২২) বলছে, ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ খায়, এমন শিশুর হার ৫৩ শতাংশ। এর চার বছর আগে এই হার ছিল ৬৫ শতাংশ। অর্থাৎ দেশের বিপুলসংখ্যক শিশু বুকের দুধ পাচ্ছে না।
শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, অপুষ্টি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায়। পুষ্টিহীন শিশু টিকা না পেলে তার সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। সে যদি ঠিক চিকিৎসা না পায়, তার মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগত হবে না; বরং প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। গতকাল রোববার ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে আয়োজিত ‘কল্যাণ প্যারেডে’ প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে একটি ‘ফ্যাসিবাদী সরকার’ নিজেদের স্বার্থে পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে এখন জনগণের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করাই পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, থানায় গিয়ে সাধারণ মানুষ যেন রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন এবং কোনো ভয় বা সুপারিশ ছাড়াই অভিযোগ জানাতে পারেন—এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের বিপদ কমবে—এই বিশ্বাস জনগণের মধ্যে তৈরি করাও পুলিশের দায়িত্ব।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে, পুলিশ চাইলে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে। তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক আচরণ পুলিশের ভাবমূর্তি উন্নত করবে।
মাঠপর্যায়ে পুলিশকে সরকারের ‘অ্যাম্বাসেডর’ হিসেবেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক ও মানবিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডেটা অ্যানালাইসিস, সাইবার সক্ষমতা ও বৈজ্ঞানিক তদন্ত পদ্ধতির বিস্তৃত ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশকে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বাহিনীতে রূপান্তর করতে হবে।
সাইবার অপরাধ, কিশোর গ্যাং, আর্থিক জালিয়াতি, অনলাইন জুয়া ও মাদক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে, সাইবার বুলিং নারীদের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মাদক সরবরাহকারী ও মাদকের উৎসকে লক্ষ্য করে কঠোর অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম, অপহরণ কিংবা বিচারবহির্ভূত কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার রক্ষা করা পুলিশের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। তিনি জানান, পুলিশের বদলি, পদোন্নতি ও নিয়োগে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। পাশাপাশি আবাসন, চিকিৎসাসেবা, রেশন ও ঝুঁকি ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি, দুঃশাসন, দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো, অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্যেই সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিও অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে। তবে ধাপে ধাপে সব অঙ্গীকার বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, অস্ত্রের শক্তির চেয়ে মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও নৈতিকতাই বড় শক্তি। একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়াই সরকারের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আইজিপি আলী হোসেন ফকির। পরে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা তাদের দাবি তুলে ধরেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সপ্তাহের কেক কাটেন এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।
হামে মারা যাওয়া ৩৫২ শিশুর পরিবারকে ২ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছে।
রোববার মানবাধিকার সংস্থা ল অ্যান্ড লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওসার ও মো. মাকসুদুর রহমান এ রিট আবেদন করেছেন।
আবেদনে বিবাদী হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও আইইডিসিআরের পরিচালকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসিইউ, পিআইসিইউ ও প্রয়োজনীয় রোগনির্ণয় সুবিধাসহ বিশেষায়িত হাম চিকিৎসা ইউনিট স্থাপনের জন্য নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
এছাড়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ ও ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি, ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চের প্রতিনিধিদের নিয়ে ১০ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের আবেদন জানানো হয়েছে রিটে।
আদালতের অনুমতি নিয়ে বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশিস রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে এ রিট আবেদন দাখিল করা হয়।
আবেদনে আরও প্রার্থনা করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৭ দিনের মধ্যে সারাদেশে হাম ও জলাতঙ্কের টিকার মজুত, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করে একটি হলফনামা দিতে বলার জন্যও আদালতের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে রিটে।