খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছিল ৫৩ শতাংশ, ৮ ফেব্রুয়ারি ১০ শতাংশ কমিয়ে করা হয়েছে ৪৩ শতাংশ। শুল্ক কমানোর পরও দাম কমেনি খেজুরের। উল্টো দাম বেড়েছে। যদিও বন্দর থেকে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। গত কয়েক দিনে ৬০৫ কনটেইনার খেজুর খালাসের কার্যক্রম চলছে এবং প্রতিদিনই খালাস অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, আগামী ১২ মার্চ পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনা করেন। দিনভর রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে খেজুর। খেজুর ছাড়া এখন আর ইফতারের কথা ভাবা যায় না। প্রায় সব রোজাদারই খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করেন। এ কারণে রমজান মাসে চাহিদা বেশি থাকা পণ্যগুলোর একটি খেজুর। পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে চলতি মাসে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি বাজারে তদারকি ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা কোনো কাজেই আসছে না। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের বাজারে খেজুরের দাম প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়েছে।
৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি আদেশে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনার ঘোষণা দেয়। এর আগে খেজুর আমদানিতে সর্বমোট ৫৩ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে খেজুরের শুল্কায়ন মূল্য প্রতি টন ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৭৫০ ডলার। এর সঙ্গে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ, রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ ও ভ্যাট ১৫ শতাংশ। পাশাপাশি অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর ৫ শতাংশ হারে দিতে হচ্ছে। এতে বর্তমানে সর্বমোট ৪৩ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত রোজার আগে মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরে শুল্ক দিতে হতো ৫ দশমিক ৪৫ থেকে ২১ দশমিক ৮৪ টাকা। তবে এবার খেজুরকে ‘বিলাসীপণ্যের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে খেজুরের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫৩ শতাংশ করা হয়। ফলে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বেড়ে গেছে। এবার শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫৪ থেকে ২০৮ টাকা। মূলত শুল্কের প্রভাব পড়েছে খেজুরের দামে। গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি খেজুরে জাতভেদে দাম বেড়েছে ১০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত। দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া খেজুরের মধ্যে রয়েছে দাবাস, জাহিদি, বরই ও গলা খেজুর।
চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গলা বা বাংলা খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, জাহিদি খেজুর ২৪০-২৬০ ও মানভেদে দাবাস খেজুর ৪৫০-৫৫০ টাকায়। এ ছাড়া বরই খেজুর মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৪০-৫৪০ টাকায়। গত বছর এসব খেজুরের দাম ছিল বর্তমান দরের অর্ধেকেরও কম।
এদিকে অভিজাত শ্রেণির কাছে পছন্দের খেজুরের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের মেডজুল, মাবরুম, আজওয়া ও মরিয়ম। গত এক মাসের ব্যবধানে এসব খেজুরের দাম কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে। জাম্বো মেডজুল মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, সাধারণ মেডজুল ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০, মাবরুম খেজুর ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, আজওয়া খেজুর মানভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো জাতের মরিয়ম বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এ ছাড়া কালমি মরিয়ম ৮০০-৯০০ টাকা, সুফরি মরিয়ম ৭৫০-৮০০, আম্বার ও সাফাভি ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ ও সুক্কারি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে রোজার আগে জাহিদি জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি (১০ কেজি) ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। শুল্ক আরোপের কারণে দাম বাড়ার পর গত বছরের শেষ সপ্তাহেও একই জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা। তবে এখন ১০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েও এই জাতের খেজুরের কার্টন হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা।
পাইকারি ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি ৫ কেজির এক কার্টন মেডজুল খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার টাকায়। গত বছর এ খেজুর বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়। অন্যদিকে সাধারণ খোলা খেজুর প্রতি কেজি ফেব্রুয়ারির শুরুতে কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ছিল ১২৮-১৩০ টাকা। বর্তমানে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকায়।
পাইকারি বাজার সূত্রে জানা গেছে, বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় জাহিদি জাতের খেজুর। এক বছর আগে প্রতি কেজি খেজুর খুচরা পর্যায়ে ১৫০ টাকায় পাওয়া যেত। শুল্ক কমানোর পর বর্তমানে এ খেজুর খুচরায় বিক্রি করতে হবে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য আমদানি করা খোলা (বস্তায় বিক্রি হওয়া ভেজা খেজুর) রোজা আসার আগেই কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ১৫৫ টাকায় উঠে গেছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে এ মানের খেজুর বিক্রি করতে হবে কমপক্ষে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। অবশ্য গতকাল বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল হক টিটু ঘোষণা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে খেজুর পৌঁছে দিতে বস্তায় আসা জাহিদি খেজুরের দাম কমানো হবে। আজ রোববার (৩ মার্চ) এই খেজুরের দাম কমানোর ঘোষণা আসার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিনে সবচেয়ে বেশি খেজুর বন্দর থেকে খালাস নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগে বন্দর থেকে দিনে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলেও এখন সেটা ৭০ কনটেইনারে গিয়ে টেকেছে। কিন্তু দাম কমছে না।
ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকার শুল্ক কমানোর পর ব্যবসায়ীরা খেজুর খালাসে তোড়জোড় শুরু করেছে। শুল্ক কমানোর পরও ভোক্তারা কম দামে খেজুর কিনতে পারছেন না। শুল্ক কমানোর পর পর্যাপ্ত আমদানি হলেও দাম কেন কমছে না বিষয়টি তদারকি করতে হবে। তদারকি না করলে রোজায় খেজুর কিনতে পারবে না ভোক্তারা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৬৩ টন খেজুর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস করেছেন আমদানিকারকরা। ১৪৫ দিনের মধ্যে গত ১৫ দিনেই বেশি খেজুরের চালান খালাস হয়েছে। ২৮ ধরনের খেজুর দেশের ৮২টি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্দান, মিসর, আলজেরিয়া, নামিবিয়া, তিউনিশিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আমদানি করেছে।
জানা গেছে, চার মাস আগে খেজুর আমদানি করলেও শুল্ক কমবে এ আশায় ব্যবসায়ীরা পণ্যটি চট্টগ্রাম বন্দরে গুদাম করে রেখেছিলেন। ফলে বেসরকারি ১৯টি ডিপোতে ১ হাজার কনটেইনার (প্রতি কনটেইনারে ২২-২৪ হাজার কেজি খেজুর থাকে) খেজুর পড়ে ছিল। এখন খেজুরভর্তি ৬০৫টি কনটেইনার খালাস চলছে। এখনো খেজুরভর্তি ৩৯৫টি কনটেইনার খালাসের উদ্যোগ নেয়নি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার কাজী ইরাজ ইশতিয়াক বলেন, প্রচুর পরিমাণে খেজুর খালাস হচ্ছে। প্রতিদিনই খালাস করছেন আমদানিকারকরা। তিনি বলেন, খেজুরের শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
তিনি জানান, খেজুরের চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। একেকটি ক্যাটাগরির একেক রকম শুল্কহার হয়। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির প্রবণতাও রয়েছে। অনেক সময় উচ্চ শুল্কহারে খেজুর এনে কম শুল্কহারে ঘোষণা দেওয়া হয়। এমন বেশ কিছু ঘটনাও ঘটেছে। এ জন্য আমরাও সতর্ক আছি, যেন সরকার রাজস্ব বঞ্চিত না হয়।
উচ্চ শুল্কহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা এনবিআর নির্ধারিত, এ ব্যাপারে আমাদের বলার বা করার কিছু নেই। আমরা নির্ধারিত শুল্ক নিয়ে খালাসের ব্যবস্থা করি। খেজুর বিলাসী পণ্য কি না, এ বিষয়েও তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
খাতুনগঞ্জের ডেটস অ্যান্ড ড্রাই ফ্রুটস আমদানিকারক মো. ওমর ফারুক বলেন, খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ট্যাক্স ১০ শতাংশ কমালেও অন্যান্য শুল্ক ঠিক রেখেছে এনবিআর। ফলে উচ্চমাত্রায় ট্যাক্স দিয়েই আনতে হচ্ছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সামান্য এ শুল্ক কমানোয় খেজুরের দামে প্রভাব পড়বে না।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সুলতান আরেফিন বলেন, শুল্ক কমানোর পর থেকে আমদানিকারকরা খেজুর খালাস নিতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। আগে প্রতিদিন গড়ে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলে এখন সেটি ৭০ কনটেইনার খালাস হচ্ছে।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতি কেজি খেজুর ১১০ টাকায় কিনলে ১৪০-১৫০ টাকা শুল্ক দিতে হয়। ১২০ টাকায় কিনলে ২০৮ টাকা শুল্ক দিতে হয়। গত বছর ৯০ টাকায় ডলার কিনতে পারতাম। এ বছর ১২০-১২২ টাকা দিতে হচ্ছে। কাস্টমস থেকে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ইচ্ছেমতো করা হচ্ছে। এলসি যে মূল্যে খুলছি সে অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ করা হলে খেজুরের দাম অর্ধেকে নেমে আসে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না।
বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, পণ্য বন্দরে আসার পর শুল্ক পরিশোধ করে খালাস করতে হয়। এসব কাস্টমসের বিষয়।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমেদ বলেন, ডলারের দাম বাড়াতে পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে যায়। এর পরও ব্যবসায়ীরা সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
জাকাত ব্যবস্থাপনা ‘সুশৃঙ্খলা এবং কার্যকর’ করতে ধর্মমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে জাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে এক বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাকাত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ছিলেন। কীভাবে জাকাতের অর্থ আরও কার্যকরভাবে বণ্টন করা যায়, জাকাতের মাধ্যমে কীভাবে দারিদ্র্য বিমোচন করা যায়, এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়গুলোতে অবহিত হয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে যথাযথ নির্দেশনা দিয়েছেন।’
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পরে আহমাদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘জাকাতের অর্থে স্কিল ডেভেলপ করে বা স্বাবলম্বী করে স্থায়ী দারিদ্র্য বিমোচনের পথে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের কিছু অভিজ্ঞতা আছে। সেই জায়গা থেকে আমরা কিছু পরামর্শ, কিছু মত দেওয়ার চেষ্টা করছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে।
আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘আপনারা জানেন, আস সুন্না ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আমরা জাকাত নিয়ে কাজ করি গত ৬-৭ বছর । শুধু গত এক বছরের হিসেব অনুযায়ী আমাদের মাত্র ১৩ কোটি টাকা খরচ করে আমরা ২১০০ বেকার তরুণ-তরুণীকে পৃথকভাবে স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখন সেই এক সময়ের বেকার তরুণরা গত এক বছরে ৪২ কোটি টাকা কামাই (আয়) করেছে। তার মানে প্রতিবছর এটা আস্তে আস্তে বাড়বে বৈই কমবে না।’
তিনি বলেন, ‘বৈঠকে একটা কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সেখানে আমাকেও থাকার জন্য অনুরোধ করেছেন। আমি উনাকে বিনয়ের সাথে যদিও বলেছি যে, এখানে বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব আছেন, আরও অনেকে আছেন তারপরেও তার একান্ত অনুরোধে ইনশাল্লাহ আমি হয়ত থাকার চেষ্টা করব।
আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বলেন, কেবল ওআইসিভুক্ত দেশগুলোতে মানুষ বছরে ছয়শ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ লক্ষ কোটি টাকা জাকাত দেয়।
প্রধানমন্ত্রী এদিন জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহাদ আসিফ আসাদকে নিয়ে বৈঠক করেন।
বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ও প্রতি মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে পর প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সাথে মন্ত্রণালয়ের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিমানের সার্ভিস উন্নত করা, যাত্রী সেবা বাড়ানো, বিমান বন্দরে যাত্রীদের দুর্ভোগ নিরসন করা প্রভৃতি বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন।’
এছাড়া রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেছেন, কর্মসূচির পাইলট পর্যায়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭ নারী-প্রধান পরিবারকে ভাতার আওতায় আনার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। এসব পরিবার মার্চ মাসের ভাতা ঈদের আগেই হাতে পাবে।
সোমবার (৯ মার্চ) রাজধানীর সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ১০টায় রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে, কড়াইল বস্তিসংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় একটি পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে যৌথ বা বড় পরিবারে সদস্যসংখ্যা পাঁচের বেশি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, যেসব নারী পরিবারপ্রধান এই কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি কার্ড পাবেন, তারা যদি আগে থেকেই অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেয়ে থাকেন, তাহলে সেই সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য ভাতা বা সহায়তা চালু থাকবে।
পাইলট পর্যায়ে এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে একই মূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট বাস্তবায়নের জন্য আগামী জুন ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি উপকারভোগীদের নগদ সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৬৬ শতাংশ। বাকি ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, কার্ড প্রস্তুতসহ কর্মসূচির বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত কাজে ব্যয় করা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ১০ দিনের মাথায় সোমবার (৯ মার্চ) ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে একটি ট্যাংকার। এক সপ্তাহের মধ্যে আসবে আরও চারটি। এসব ট্যাংকারে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২০৫ টন ডিজেল রয়েছে। এশিয়ার দেশগুলো থেকে এসব পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করা হচ্ছে।
এমন সময়ে বন্দরে ডিজেলের চালান আসার খবর পাওয়া গেছে, যখন আতঙ্কে কেনাকাটার কারণে ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে মজুত ঠিক রাখতে সরবরাহ কমিয়েছে সরকার।
সিঙ্গাপুর থেকে সোমবার (৯ মার্চ) বন্দর জলসীমায় পৌঁছেছে শিউ চি নামের ট্যাংকারটি। এটিতে ২৭ হাজার ২০৪ টন ডিজেল রয়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ট্যাংকারটি এখন কুতুবদিয়ায় রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুর থেকে আজ বন্দর জলসীমায় পৌঁছেছে শিউ চি নামের ট্যাংকারটি। এটিতে ২৭ হাজার ২০৪ টন ডিজেল রয়েছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ট্যাংকারটি এখন কুতুবদিয়ায় রয়েছে।
শিপিং এজেন্ট সূত্রে জানা গেছে, এরপর ধারাবাহিকভাবে আরও চারটি ট্যাংকার আসবে বন্দরে। সিঙ্গাপুর থেকে আজ রাতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে লিয়ান হুয়ান হু নামের ট্যাংকার। এটিতে প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে এসপিটি থেমিস। এটিতে ৩০ হাজার ৪৮৪ টন ডিজেল রয়েছে। র্যাফেলস সামুরাই নামের ট্যাংকারটি পৌঁছানোর কথা আগামী শনিবার। একই সময়ে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে চ্যাং হ্যাং হং টু নামের ট্যাংকার। এই দুটিতে প্রায় ৩০ হাজার টন করে ডিজেল রয়েছে।
নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চারটি ট্যাংকার এক সপ্তাহের মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বন্দর জলসীমায় পৌঁছানোর পর পালাক্রমে খালাস শুরু হবে। এই চারটি ট্যাংকারের স্থানীয় প্রতিনিধি প্রাইড শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চারটি ট্যাংকার এক সপ্তাহের মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বন্দর জলসীমায় পৌঁছানোর পর পালাক্রমে খালাস শুরু হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, দেশে ডিজেলের স্বাভাবিক চাহিদা ১২ হাজার টন। এ হিসাবে এই পাঁচ ট্যাংকারের পরিশোধিত ডিজেল দিয়ে ১২ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে। তবে গতকাল রোববার থেকে দিনে কমিয়ে ৯ হাজার ২২ লিটার করে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। তাতে ১৬ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে। দেশে মজুত থাকা ডিজেল দিয়ে চলবে আরও ১৬-১৭ দিন। অর্থাৎ আগামী এক মাসের চাহিদার সমান ডিজেল আসছে। বিপিসির হিসাবে, দেশের জ্বালানি চাহিদার ৭০ শতাংশ ডিজেল। ডিজেলের সিংহভাগ সরাসরি আমদানি করে মেটাতে হয়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নয়টি দেশ থেকে ২৩ লাখ ২৮ হাজার টন ডিজেল আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে ৭৮ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ থেকে কোনো ডিজেল আমদানি করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং এর ফলে নতুন করে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্কবার্তা দিয়েছে। এ সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দশমিক ১-২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এ সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে খুচরা পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
সতর্কবার্তায় আন্তর্জাতিক এ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায় এবং তা বছরের অধিকাংশ সময়জুড়ে বজায় থাকে, তাহলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ৪০ বেসিস পয়েন্ট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। সোমবার (৯ মার্চ) জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সভায় তিনি এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
বর্তমান অস্থিতিশীল বিশ্ব পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আইএমএফ প্রধান নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে বলেন, ‘এই পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিবেশে অপ্রত্যাশিত বিষয়গুলো নিয়েও ভাবা এবং সেভাবেই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির সহনশীলতাকে আবারও বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। জ্বালানি তেলের বাজার অস্থির হলে তা সরাসরি পরিবহন ও উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়, যার প্রভাব পড়ে নিত্য পণ্যের ওপর। আইএমএফ-এর এই সতর্কবার্তা মূলত বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মন্দা বা উচ্চ মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি নির্দেশ করছে।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে তেলের বাজারে। বিশ্ববাজারে টানা বেড়েই চলেছে দাম। সোমবার তেলের দাম ২৫ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২২-এর মধ্যভাগের পর সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে এখন ব্যারেল প্রতি দাঁড়িয়েছে ১১০ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, সোনার দামে পতন হয়েছে দুই শতাংশ। তাছাড়া ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতে দাম বাড়ছে ডলারের। তেলের দাম বাড়ায় কৃষিজাত পণ্যেরও দাম বাড়ছে।
মার্কেট অ্যানালিস্ট টনি সিকামোর রয়টার্সকে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ না দেখা যাওয়ায় বাজারে তার প্রভাব পড়ছে। বাজারে এর ফল দীর্ঘমেয়াদি হবে বলে জানান তিনি।
মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধার বাধাগ্রস্ত হতে পারে: ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতির ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। নাজুক বিশ্ব অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর যে সম্ভাবনা ছিল, এ সংঘাত সেটিকে বিলম্বিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি দারুণ সহনশীলতা দেখিয়েছে। ধাক্কার পর ধাক্কা সত্ত্বেও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৩ শতাংশে রয়েছে। এ সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দশমিক ১-২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের অনুমান, চলতি বছরের শেষে গিয়ে যুক্তরাজ্য এবং ইউরোজোনে (ইউরোপীয় ইউনিয়নের যেসব দেশ ইউরো ব্যবহার করে) মূল্যস্ফীতি আগের পূর্বাভাসের চেয়ে দশমিক ৫-৬ শতাংশ পয়েন্ট বেশি হতে পারে। গত জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ শতাংশ। আর ফেব্রুয়ারিতে ইউরোজোনে তা ছিল ১ দশমিক ৯ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের চলতি বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এখনো ২ দশমিক ২ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। এর কারণ হলো, পাইকারি বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি দেশটির ফ্র্যাকিং (তেল ও গ্যাস উত্তোলনকারী) কোম্পানিগুলোর বড় মুনাফার মাধ্যমে আংশিকভাবে সামলানো হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা এখন থেকেই সরাসরি আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চের মতে, এ সংঘাতের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দশমিক ২ শতাংশ কমে যেতে পারে। যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ১ শতাংশ হওয়ার কথা থাকলেও তা কমে দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
একইভাবে ইউরোপীয় কমিশনের পূর্বাভাস, ইউরোজোনের প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমে ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে। নিম্ন প্রবৃদ্ধি দীর্ঘ সময় ধরে চললে, তা বিনিয়োগকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, সুদের হার বাড়াবে এবং সরকারি কোষাগারে চাপ সৃষ্টি করবে। নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য এটি নতুন সংকট তৈরি করবে।
বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারক ও অর্থনীতিবিদেরা সতর্ক করেছেন, এ সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে খুচরা পণ্যের দাম বাড়তে পারে। পাশাপাশি চলতি বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও সংশোধন করার দরকার হতে পারে।
বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি নতুন প্রকল্পেও বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। একই সঙ্গে তিস্তা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পেও অংশগ্রহণের আগ্রহের কথা জানিয়েছে দেশটি। সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়ান।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে চীন সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’
তিনি আরও জানান, বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়—এমন প্রকল্পগুলোতে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।
বৈঠকে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সে বিষয়েও বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
তিস্তা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘তিস্তা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এটি নতুন সরকার ও চীনের অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর একটি।’ খুব দ্রুত এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
জ্বালানি খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রদূত। তার মতে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে কাজ করবে। এ সময় নতুন ঋণ সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন সপ্তাহে অন্তত চারটি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশে প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’ এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘দেশে বিনিয়োগ বাড়ছে। ভবিষ্যতে এ প্রবণতা আরও জোরদার হবে।’
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে অতিরিক্ত সচিব মুহা. মনিরুজ্জামানকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ অনুবিভাগে দায়িত্ব পালনরত অতিরিক্ত সচিব মুহা. মনিরুজ্জামানকে তার বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
মুহা. মনিরুজ্জামান প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অতিরিক্ত দায়িত্ব ভাতা পাবেন বলে ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে ‘মব কালচার’ প্রবণতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মব সংস্কৃতি আর কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না। সবকিছুকেই কেন ‘মব’ বলতে হবে, কিছু কিছু সংগঠিত হামলা বিচ্ছিন্ন ঘটনা-সুনির্দিষ্ট অপরাধ। মব স্টাইলে কারো উপর জুলুম করা হলে তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা মব নয়, নির্ধারিত ক্রাইম।
সোমবার (৯ মার্চ) কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।
এর আগে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় সরকার মব নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ কিনা এমন প্রশ্ন তুলেন স্থানীয় এক সাংবাদিক। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এর পেছনে ব্যক্তিগত কোন সমস্যা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অপরাধ অনুসারে এর বিচার নিশ্চিত হবে। কোনো অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ক্রিমিনালকে আইনের বাইরে রাখবো না- সবাইকে ক্রমান্বয়ে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এদিকে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যটন বললেই কক্সবাজারের নাম আসে। ভ্রমণ তালিকায় শীর্ষে থাকা কক্সবাজার সৈকতকে আরও পরিকল্পিত ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে রূপ দিতে অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সৈকতকে শৃঙ্খলার মধ্যে এনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের সকল ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। পাশাপাশি পুরো শহরজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা সক্রিয় করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করা হবে। নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত হলেই বিশ্বমানের পর্যটন বিকাশ সম্ভব।
মাদক সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে উখিয়া-টেকনাফের মাদক রুট বন্ধ করা জরুরি। মাদকের প্রসার, প্রচার ও বাণিজ্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কক্সবাজারকে মাদকমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অনলাইন জুয়া বন্ধের বিষয়েও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
হাদি হত্যায় জড়িতদের ভারতে আটক ও দেশের আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং কক্সবাজার-৪ আসনের শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার-২ আসনের আলমগীর ফরিদসহ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কুয়েতে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনায় মেয়াদোত্তীর্ণ ভিজিট ভিসার সময়সীমা বাড়ানোসহ প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে অনেক প্রবাসী শ্রমিক সাময়িক স্বস্তি পাচ্ছেন।
বাংলাদেশি দূতাবাসের লেবার উইং জানিয়েছে, কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে স্পষ্টীকরণে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে যেসব ভিজিট এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বা দ্রুত শেষ হওয়ার পথে, সেগুলোর মেয়াদ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক মাস বাড়ানো হয়েছে। এই সময়সীমা বাড়ানোর প্রক্রিয়া ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে কার্যকর হবে। ফলে এ জন্য রেসিডেন্সি বিভাগে গিয়ে আলাদা করে আবেদন করার প্রয়োজন হবে না।
এছাড়া বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় এই বাড়তি সময়ের জন্য কোনো ধরনের ফি বা জরিমানাও আরোপ করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে কুয়েতে বসবাসরত কিন্তু বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরতে পারেননি—এমন ব্যক্তিদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে সময়সীমা অতিক্রম হলেও তাদের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিন মাস পর্যন্ত অনুপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হবে।
এই বর্ধিত সময় কার্যকর করতে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন নেই এবং এর জন্যও কোনো ফি বা জরিমানা দিতে হবে না।
দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর রাখার লক্ষ্যে নিয়োজিত সদস্যদের সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। দায়িত্বশীল তৎপরতার মাধ্যমে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ আনসার ব্যাটালিয়নের সদস্যরা বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। সোমবার (৯ মার্চ) সকালে বিমানবন্দরের প্রি-বোর্ডিং নিরাপত্তা তল্লাশির সময় ৪,৩৬৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক যাত্রীকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তির নাম সাইদুল ইসলাম। তার বাড়ি ঢাকার দোহার উপজেলার মধুরচর এলাকায়।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, তিনি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স-এর সৌদি আরবগামী ফ্লাইট নম্বর BS-381-এ যাত্রার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে আসেন। হেভি লাগেজ গেইট–৪ দিয়ে প্রবেশের পর তিনি নির্ধারিত কাউন্টারের রো “সি”-তে চেক-ইন সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে বোর্ডিং ব্রিজ নং C2-এ প্রি-বোর্ডিং নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য উপস্থিত হন।
প্রি-বোর্ডিং পর্যায়ে ব্যাগ স্ক্যানিংয়ের সময় দায়িত্বরত আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য সিপাহী শামীম রেজা, ব্যাগটি সন্দেহজনক মনে করলে সিভিল সিকিউরিটি সদস্য হিজবুল বাহারকে র্যান্ডম তল্লাশির নির্দেশ দেন। তল্লাশিকালে ব্যাগের ভেতর থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট সদৃশ বস্তু পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে আনসার সদস্য শামীম রেজা এবং সিকিউরিটি সুপারভাইজার মোর্শেদা বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এভসেক কর্তৃপক্ষ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর-কে অবহিত করেন। খবর পেয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধারকৃত ট্যাবলেটগুলো গণনা করে মোট ৪,৩৬৪ পিস ইয়াবা জব্দ করেন।
পরে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ উক্ত যাত্রীকে ফ্লাইট থেকে অফলোড করে এবং এভসেক কর্তৃপক্ষ তাকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর-এর কাছে হস্তান্তর করে।
এই ঘটনায় আবারও প্রতীয়মান হয়েছে যে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়োজিত আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্কতা, দক্ষতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের এই তৎপরতা শুধু মাদক পাচার প্রতিরোধেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে না, বরং দেশের বিমানবন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য ও কার্যকর করে তুলতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন ও স্বস্তিদায়ক করতে যমুনা সেতু এলাকা ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন সেতু বিভাগের সচিব।
সোমবার (৯ মার্চ) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপির নির্দেশনায় সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ যমুনা সেতু এলাকায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও অতিরিক্ত সচিব আলতাফ হোসেন সেখ, পরিচালক (পিএন্ডডি) ও যুগ্মসচিব মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদাউসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনের সময় সচিব জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে দেশের মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে সারাদেশের জনসাধারণের ঈদযাত্রা নিরাপদ, আরামদায়ক, নির্বিঘ্ন, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও স্বস্তিময় করতে সদয় নির্দেশনা প্রদান করেছেন।” পাশাপাশি এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় এলেঙ্গায় নির্মিত নতুন বাস-বে এলাকাও পরিদর্শন করা হয়। মহাসড়কে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাস থামিয়ে যানজট সৃষ্টি রোধ এবং যাত্রীদের নিরাপদ ওঠানামা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত বাস-বে ছাড়া অন্য কোথাও যানবাহন না থামানোর জন্য চালকদের প্রতি অনুরোধ জানান সচিব।
তিনি যমুনা সেতুর টোল প্লাজার আগে গোলচত্বর এবং টোল আদায় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। যানবাহনের দিকনির্দেশ স্পষ্ট করতে গোলচত্বরে দৃশ্যমান রং করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে টোল আদায় দ্রুততর করতে ডিজিটাল ও অটোমেটেড ব্যবস্থার কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন। টোল প্লাজায় গাড়ি নির্দিষ্ট লেনে চলাচল নিশ্চিত করতে সাইনবোর্ড ও ব্যারিয়ার স্থাপনের নির্দেশনা দেন এবং কোনো ধরনের ওভারটেকিং না করার আহ্বান জানান।
সেতু ও সংযোগ সড়কে দুর্ঘটনা বা যানবাহন বিকল হলে দ্রুত অপসারণের জন্য কর্ণফুলী টানেল থেকে আনা ভারী রেকার ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির পরামর্শ দেন তিনি।
এরপর যমুনা সেতুর স্ট্যাক ইয়ার্ড এলাকা ঘুরে দেখেন সচিব। অতিরিক্ত বোঝাই যানবাহন যেন বাধ্যতামূলকভাবে ওয়েস্কেল পার হয়ে চলাচল করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন। একই সঙ্গে স্ট্যাক ইয়ার্ড এলাকা সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবহারের নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনের অংশ হিসেবে সেতুর পট বিয়ারিংয়ের সংস্কার ও প্রতিস্থাপন কার্যক্রমও তিনি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সতর্কতার সঙ্গে দ্রুত কাজ শেষ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি যমুনা রেল সেতু চালুর পর মূল সেতু থেকে রেল ট্র্যাক অপসারণের কাজও দেখেন তিনি। এ বিষয়ে সেতুর স্থায়িত্ব ও যান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত টিমকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক)-২ প্রকল্পের আওতায় চলমান চার লেন সড়ক ও ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজও পরিদর্শন করা হয়। কাজের মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার নির্দেশ দেন সচিব। ইতোমধ্যে প্যাকেজ-৫ এর সড়কে বিটুমিনাসের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং আগামী ২৫ রমজানের মধ্যে সড়কটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ আব্দুল্লাহপুর জংশনও পরিদর্শন করেন তিনি। সেখানে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে রাজধানীর প্রবেশমুখে যানজট কমাতে জংশনটির সংস্কার ও আধুনিকায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।
পরিদর্শন শেষে সচিব বলেন, "দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে যমুনা সেতু ও সাসেক-২ প্রকল্পের ভূমিকা অপরিসীম। জনগণের যাতায়াত আরামদায়ক করতে এবং পণ্য পরিবহনে গতিশীলতা আনতে প্রতিটি প্রকল্পের কাজ শতভাগ মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ করে নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলোর কারণে যেন এবার ঈদ যাত্রাতে কোন রকমের জনভোগান্তি না হয়, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।"
বর্তমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ঢাদসিক)। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ আবদুস সালামের নির্দেশে সংস্থার ব্যয় সংকোচন ও সম্পদ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আজ সোমবার (৯ মার্চ) এই দপ্তর আদেশ জারি করা হয়েছে।
দপ্তর আদেশে জানানো হয় যে, বিদুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের নিমিত্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহের পরিমাণ ৩০% কমিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া, শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কাজে নিয়োজিত যানবাহনের ক্ষেত্রেও জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ ২০% হ্রাস করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক কাজে গাড়ির ব্যবহার সীমিত করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে গৃহীত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাসমূহ:
বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দিনের বেলা পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার পরিহার করতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে জানালা, দরজা বা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অফিসে বিদ্যমান বৈদ্যুতিক বাতির অর্ধেক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় লাইটের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। এছাড়া অফিস চলাকালীন ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি প্রয়োজন ছাড়া চালানো যাবে না।
এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা অবশ্যই ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার উপরে রাখতে হবে। অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় বাতি, ফ্যান ও এসি বন্ধ করার পাশাপাশি অফিসের করিডোর, সিঁড়ি ও ওয়াশরুমে অপ্রয়োজনীয় বাতি জ্বালানো যাবে না। অফিস সময় শেষ হওয়ার পর কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানারসহ সকল বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে এবং সব ধরনের আলংকারিক আলোকসজ্জা পরিহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সকল বিভাগ ও আঞ্চলিক অফিসসমূহকে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ প্রদান করেছেন ডিএসসিসি প্রশাসক। সংস্থার সচিব মোহাম্মদ নাছিম আহমেদ স্বাক্ষরিত দপ্তর আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) পদে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডা. ফখরুদ্দীন মোহাম্মদ সিদ্দিকী (এফ এম সিদ্দিকী)।
ডা. এফ এম সিদ্দিকীর নিয়োগের বিষয়টি আজ সোমবার স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা–১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। এতে উপসচিব সঞ্জীব দাশ সই করেছেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯৮ (২০২৫ সনের ১২ নম্বর অধ্যাদেশ বলে সংশোধিত)’–এর ১২ ধারা অনুযায়ী ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীকে শর্তসাপেক্ষে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগের শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীর নিযুক্তির মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর হবে। তিনি বেতন-ভাতাসহ বিধি অনুযায়ী উপাচার্যের পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন। উপাচার্য হিসেবে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৯৮ (২০২৫ সনের ১২ নম্বর অধ্যাদেশ বলে সংশোধিত)’–এর ১৪ ধারা অনুযায়ী তাঁর দায়িত্বাবলী পালন করবেন। রাষ্ট্রপতি ও আচার্য প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
দেশের বর্তমান জ্বালানি তেল সরবরাহ পরিস্থিতি এবং এর চারপাশের উদ্ভূত জটিলতা নিরসনে এক বড় ধরণের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। জননিরাপত্তা এবং দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (কেপিআই) জ্বালানি স্থাপনাগুলোর সুরক্ষায় প্রধান তেল ডিপোগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিশেষ বার্তায় এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা এবং দেশীয় বাজারে তেলের অস্বাভাবিক চাহিদা সৃষ্টির প্রেক্ষিতে যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এই সামরিক প্রহরা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের বার্তা অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তেলের পাম্প ও ডিলারদের পক্ষ থেকে হঠাৎ করে চাহিদার বড় ধরণের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় বিভিন্ন অঞ্চলের তেল বিপণন কেন্দ্র এবং ডিপোগুলোতে শ্রমিক, চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং কেপিআইভুক্ত এই স্পর্শকাতর স্থাপনাগুলোর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে। এর ফলে জাতীয় জ্বালানি গ্রিডে তেলের মজুদ ও বণ্টন প্রক্রিয়াকে আরও সুশৃঙ্খল এবং নিরাপদ রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরকার প্রাথমিক তালিকায় বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ডিপোকে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত প্রধান তেল স্থাপনা, খুলনার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুরের পার্বতীপুর এবং বরিশালের প্রধান জ্বালানি ডিপো। এসব এলাকাগুলোতে বিপুল পরিমাণ তেলের মজুদ থাকায় এদের নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টি বর্তমান পরিস্থিতির বিচারে সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে। ইতিমধেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় মোতায়েনের কার্যক্রম শুরু করার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, জ্বালানি তেল সরবরাহে রেশনিং চালুর পর থেকে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ও ডিপোতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ সারি এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যাচ্ছিল। এর রেশ ধরে যাতে কোনোভাবেই নাশকতামূলক বা অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ডিলার এবং বিতরণকারী কোম্পানিগুলোকে সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে শৃঙ্খলার সাথে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সেনাবাহিনী মোতায়েনের ফলে সাধারণ গ্রাহক ও পরিবহন চালকদের মাঝে তেলের জোগান নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর হবে এবং বণ্টন ব্যবস্থা পুনরায় স্থিতিশীল হবে বলে সরকার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।