খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছিল ৫৩ শতাংশ, ৮ ফেব্রুয়ারি ১০ শতাংশ কমিয়ে করা হয়েছে ৪৩ শতাংশ। শুল্ক কমানোর পরও দাম কমেনি খেজুরের। উল্টো দাম বেড়েছে। যদিও বন্দর থেকে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। গত কয়েক দিনে ৬০৫ কনটেইনার খেজুর খালাসের কার্যক্রম চলছে এবং প্রতিদিনই খালাস অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, আগামী ১২ মার্চ পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনা করেন। দিনভর রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে খেজুর। খেজুর ছাড়া এখন আর ইফতারের কথা ভাবা যায় না। প্রায় সব রোজাদারই খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করেন। এ কারণে রমজান মাসে চাহিদা বেশি থাকা পণ্যগুলোর একটি খেজুর। পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে চলতি মাসে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি বাজারে তদারকি ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা কোনো কাজেই আসছে না। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের বাজারে খেজুরের দাম প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়েছে।
৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি আদেশে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনার ঘোষণা দেয়। এর আগে খেজুর আমদানিতে সর্বমোট ৫৩ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে খেজুরের শুল্কায়ন মূল্য প্রতি টন ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৭৫০ ডলার। এর সঙ্গে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ, রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ ও ভ্যাট ১৫ শতাংশ। পাশাপাশি অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর ৫ শতাংশ হারে দিতে হচ্ছে। এতে বর্তমানে সর্বমোট ৪৩ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত রোজার আগে মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরে শুল্ক দিতে হতো ৫ দশমিক ৪৫ থেকে ২১ দশমিক ৮৪ টাকা। তবে এবার খেজুরকে ‘বিলাসীপণ্যের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে খেজুরের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫৩ শতাংশ করা হয়। ফলে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বেড়ে গেছে। এবার শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫৪ থেকে ২০৮ টাকা। মূলত শুল্কের প্রভাব পড়েছে খেজুরের দামে। গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি খেজুরে জাতভেদে দাম বেড়েছে ১০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত। দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া খেজুরের মধ্যে রয়েছে দাবাস, জাহিদি, বরই ও গলা খেজুর।
চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গলা বা বাংলা খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, জাহিদি খেজুর ২৪০-২৬০ ও মানভেদে দাবাস খেজুর ৪৫০-৫৫০ টাকায়। এ ছাড়া বরই খেজুর মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৪০-৫৪০ টাকায়। গত বছর এসব খেজুরের দাম ছিল বর্তমান দরের অর্ধেকেরও কম।
এদিকে অভিজাত শ্রেণির কাছে পছন্দের খেজুরের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের মেডজুল, মাবরুম, আজওয়া ও মরিয়ম। গত এক মাসের ব্যবধানে এসব খেজুরের দাম কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে। জাম্বো মেডজুল মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, সাধারণ মেডজুল ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০, মাবরুম খেজুর ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, আজওয়া খেজুর মানভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো জাতের মরিয়ম বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এ ছাড়া কালমি মরিয়ম ৮০০-৯০০ টাকা, সুফরি মরিয়ম ৭৫০-৮০০, আম্বার ও সাফাভি ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ ও সুক্কারি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে রোজার আগে জাহিদি জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি (১০ কেজি) ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। শুল্ক আরোপের কারণে দাম বাড়ার পর গত বছরের শেষ সপ্তাহেও একই জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা। তবে এখন ১০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েও এই জাতের খেজুরের কার্টন হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা।
পাইকারি ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি ৫ কেজির এক কার্টন মেডজুল খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার টাকায়। গত বছর এ খেজুর বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়। অন্যদিকে সাধারণ খোলা খেজুর প্রতি কেজি ফেব্রুয়ারির শুরুতে কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ছিল ১২৮-১৩০ টাকা। বর্তমানে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকায়।
পাইকারি বাজার সূত্রে জানা গেছে, বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় জাহিদি জাতের খেজুর। এক বছর আগে প্রতি কেজি খেজুর খুচরা পর্যায়ে ১৫০ টাকায় পাওয়া যেত। শুল্ক কমানোর পর বর্তমানে এ খেজুর খুচরায় বিক্রি করতে হবে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য আমদানি করা খোলা (বস্তায় বিক্রি হওয়া ভেজা খেজুর) রোজা আসার আগেই কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ১৫৫ টাকায় উঠে গেছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে এ মানের খেজুর বিক্রি করতে হবে কমপক্ষে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। অবশ্য গতকাল বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল হক টিটু ঘোষণা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে খেজুর পৌঁছে দিতে বস্তায় আসা জাহিদি খেজুরের দাম কমানো হবে। আজ রোববার (৩ মার্চ) এই খেজুরের দাম কমানোর ঘোষণা আসার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিনে সবচেয়ে বেশি খেজুর বন্দর থেকে খালাস নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগে বন্দর থেকে দিনে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলেও এখন সেটা ৭০ কনটেইনারে গিয়ে টেকেছে। কিন্তু দাম কমছে না।
ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকার শুল্ক কমানোর পর ব্যবসায়ীরা খেজুর খালাসে তোড়জোড় শুরু করেছে। শুল্ক কমানোর পরও ভোক্তারা কম দামে খেজুর কিনতে পারছেন না। শুল্ক কমানোর পর পর্যাপ্ত আমদানি হলেও দাম কেন কমছে না বিষয়টি তদারকি করতে হবে। তদারকি না করলে রোজায় খেজুর কিনতে পারবে না ভোক্তারা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৬৩ টন খেজুর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস করেছেন আমদানিকারকরা। ১৪৫ দিনের মধ্যে গত ১৫ দিনেই বেশি খেজুরের চালান খালাস হয়েছে। ২৮ ধরনের খেজুর দেশের ৮২টি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্দান, মিসর, আলজেরিয়া, নামিবিয়া, তিউনিশিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আমদানি করেছে।
জানা গেছে, চার মাস আগে খেজুর আমদানি করলেও শুল্ক কমবে এ আশায় ব্যবসায়ীরা পণ্যটি চট্টগ্রাম বন্দরে গুদাম করে রেখেছিলেন। ফলে বেসরকারি ১৯টি ডিপোতে ১ হাজার কনটেইনার (প্রতি কনটেইনারে ২২-২৪ হাজার কেজি খেজুর থাকে) খেজুর পড়ে ছিল। এখন খেজুরভর্তি ৬০৫টি কনটেইনার খালাস চলছে। এখনো খেজুরভর্তি ৩৯৫টি কনটেইনার খালাসের উদ্যোগ নেয়নি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার কাজী ইরাজ ইশতিয়াক বলেন, প্রচুর পরিমাণে খেজুর খালাস হচ্ছে। প্রতিদিনই খালাস করছেন আমদানিকারকরা। তিনি বলেন, খেজুরের শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
তিনি জানান, খেজুরের চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। একেকটি ক্যাটাগরির একেক রকম শুল্কহার হয়। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির প্রবণতাও রয়েছে। অনেক সময় উচ্চ শুল্কহারে খেজুর এনে কম শুল্কহারে ঘোষণা দেওয়া হয়। এমন বেশ কিছু ঘটনাও ঘটেছে। এ জন্য আমরাও সতর্ক আছি, যেন সরকার রাজস্ব বঞ্চিত না হয়।
উচ্চ শুল্কহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা এনবিআর নির্ধারিত, এ ব্যাপারে আমাদের বলার বা করার কিছু নেই। আমরা নির্ধারিত শুল্ক নিয়ে খালাসের ব্যবস্থা করি। খেজুর বিলাসী পণ্য কি না, এ বিষয়েও তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
খাতুনগঞ্জের ডেটস অ্যান্ড ড্রাই ফ্রুটস আমদানিকারক মো. ওমর ফারুক বলেন, খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ট্যাক্স ১০ শতাংশ কমালেও অন্যান্য শুল্ক ঠিক রেখেছে এনবিআর। ফলে উচ্চমাত্রায় ট্যাক্স দিয়েই আনতে হচ্ছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সামান্য এ শুল্ক কমানোয় খেজুরের দামে প্রভাব পড়বে না।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সুলতান আরেফিন বলেন, শুল্ক কমানোর পর থেকে আমদানিকারকরা খেজুর খালাস নিতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। আগে প্রতিদিন গড়ে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলে এখন সেটি ৭০ কনটেইনার খালাস হচ্ছে।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতি কেজি খেজুর ১১০ টাকায় কিনলে ১৪০-১৫০ টাকা শুল্ক দিতে হয়। ১২০ টাকায় কিনলে ২০৮ টাকা শুল্ক দিতে হয়। গত বছর ৯০ টাকায় ডলার কিনতে পারতাম। এ বছর ১২০-১২২ টাকা দিতে হচ্ছে। কাস্টমস থেকে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ইচ্ছেমতো করা হচ্ছে। এলসি যে মূল্যে খুলছি সে অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ করা হলে খেজুরের দাম অর্ধেকে নেমে আসে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না।
বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, পণ্য বন্দরে আসার পর শুল্ক পরিশোধ করে খালাস করতে হয়। এসব কাস্টমসের বিষয়।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমেদ বলেন, ডলারের দাম বাড়াতে পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে যায়। এর পরও ব্যবসায়ীরা সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে মন্ত্রীবিহীন মন্ত্রণালয়-বিভাগসহ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর আওতাধীন দপ্তরগুলোর সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানের দায়িত্বের পরিধি বৃদ্ধি করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে এই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টি জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সংসদ চলাকালীন যেসকল মন্ত্রণালয় কিংবা বিভাগে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়িত্বপ্রাপ্ত নেই এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বাধীন যেসকল দপ্তর রয়েছে, সেগুলোর যাবতীয় সংসদ বিষয়ক কার্যাবলি নির্দিষ্ট এই মন্ত্রীদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সংসদীয় কার্যক্রম নিষ্পত্তির দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ওপর। কোনো কারণে তিনি অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে না পারলে তাঁর অবর্তমানে এই দায়িত্ব পালন করবেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংসদবিষয়ক যাবতীয় কার্যাবলি দেখভালের দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খানের ওপর। তাঁর অনুপস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে এই দায়িত্ব সামলাবেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ হয়েছে আজ বৃহস্পতিবার। গত ২৭ আগস্ট শুরু হয়ে এ অধিবেশন শেষ হয় আজ। এ দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সমাপনী বক্তব্য দেন। এরপর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অধিবেশন সমাপনী-সংক্রান্ত নোটিশ পাঠ করে শোনান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তৃতীয় অধিবেশনে ৯ কার্যদিবসের বৈঠকে মোট ৬টি বিল উপস্থাপিত হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি বিলই পাস হয়েছে।
বিরোধী দলের আপত্তির পরও র্যাব বিলুপ্ত করে ‘এসআরবি’ বিল পাসবিরোধী দলের আপত্তির পরও র্যাব বিলুপ্ত করে ‘এসআরবি’ বিল পাস
আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত কার্যক্রমের পাশাপাশি এ অধিবেশনে ৩টি বিশেষ কমিটিসহ ৪৮টির অধিক সংসদীয় কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন করা হয়েছে। সংসদীয় কার্যপ্রণালির বিভিন্ন বিধির আওতায় সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে নোটিশ প্রদান করেছেন। ৬৮ বিধিতে ৭টি নোটিশ পাওয়া যায়, যার মধ্যে ২টি নোটিশ গৃহীত ও আলোচিত হয়েছে। ৭১ বিধিতে ১৫টি নোটিশ গৃহীত হয় এবং এর মধ্যে ১৪টি নোটিশের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭১ক বিধিতে দুই মিনিটের বক্তব্য প্রদানের জন্য ১২৪টি নোটিশ পাওয়া যায়। এ ছাড়া, ১৪৭ বিধিতে ২টি নোটিশ পাওয়া যায়, যার মধ্যে ১টি নোটিশের ওপর আলোচনা হয়েছে এবং ৩০২ বিধিতে ১টি নোটিশ উত্থাপিত হয়েছে।
এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরদানের জন্য সদস্যরা সর্বমোট ১৪৪টি প্রশ্নের নোটিশ প্রদান করেছেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ১৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উত্তরদানের জন্য মোট ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্নের নোটিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা এ অধিবেশনে মোট ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেছেন।
সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বর্তমান আর্থিক বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকায় নির্ধারণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ আয়োজনে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। সাংবাদিকদের অধিকার ও পেশাগত সুরক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ে নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, “সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে সাংবাদিক ভাই-বোনদের কল্যাণের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ আছে, তা এই মুহূর্তে ৬ কোটি টাকা। সেটা ২৫ কোটি টাকায় বৃদ্ধি করার জন্য ইতোমধ্যে আমরা প্রস্তাব করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “যদি আমরা এই অর্থবছরে পুরোটা দিতে না পারি, আগামী অর্থবছরের মধ্যে ইনশাআল্লাহ ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ আমাদের সাংবাদিক ভাই-বোনদের জন্য অনুমোদন করা যাবে।”
অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে সংগঠনটির সার্বিক অগ্রগতি ও সাফল্য কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী। এর আগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ উপস্থিত অতিথিবৃন্দ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন।
প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি সমস্ত প্রাণীর প্রতি যত্নশীল ও সহানুভূতিশীল হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে বৃক্ষ ও প্রাণিকুলের সুরক্ষা নিশ্চিত করা মানুষের নৈতিক দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো প্রাণীকে কষ্ট না দিয়ে তাদের প্রতি ভালোবাসা ও মমত্ববোধ প্রদর্শন করতে হবে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সংসদের চলতি অধিবেশনের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করতে জাতীয় সংসদ ভবনে এসেছিল রাজশাহীর পুঠিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, ঢাকার সাভার উচ্চবালিকা বিদ্যালয়, তেজগাঁও মহিলা কলেজ এবং টঙ্গীর শফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সংসদ পরিদর্শনের পাশাপাশি তারা সরকারপ্রধানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের সুযোগ লাভ করেন।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বেশি করে গাছ লাগানো এবং নিজ নিজ চারপাশ পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত রাখার পরামর্শ দেন। শৈশব থেকেই পরিবেশ, প্রকৃতি ও প্রাণীদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণকে অভ্যাসে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনে নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি ক্রীড়াচর্চা নিয়মানুবর্তিতা, আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ ও দলবদ্ধভাবে কাজ করার মানসিকতা তৈরি করে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ছাড়া সংগীত, চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি ও বাদ্যযন্ত্রের অনুশীলনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ক্বিরাত চর্চা করারও পরামর্শ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করতে পেরে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা গভীর আনন্দ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। তারা জানায়, প্রধানমন্ত্রীর অনুপ্রেরণামূলক উপদেশ ও দিকনির্দেশনা তাদের ভবিষ্যৎ জীবন গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং এই সাক্ষাৎ তাদের জীবনে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম দফার ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। এ সময়ে নেওয়া ৩৫টি কার্যক্রমের অধিকাংশই শতভাগ বাস্তবায়ন করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়নের হার ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ। গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘জাল যার, জলা তার’ নীতি বাস্তবায়নে জলমহাল, উপকূলীয় খাল ও হাওরের ইজারা বাতিলের উদ্যোগের পাশাপাশি ২০০ মৎস্যজীবী সংগঠনের নিবন্ধন ও হালনাগাদ করা হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে ২৭ হাজার ৯৬৯টি জলমহালের তালিকা। মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধকাল এবং ইলিশ জেলেদের ৫৮ দিনের সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে শতভাগ জেলের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। কাপ্তাই লেকের জেলেদের খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, সবজি বাগান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় অর্থায়ন করা হয়েছে।
নিরাপদ মৎস্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে তিন শতাধিক মৎস্য খাদ্য কারখানা পরিদর্শন, ২৫০টি খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছে। ন্যাশনাল রেজিডিউ কন্ট্রোল প্ল্যানের আওতায় সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছে আরও ৬০টি নমুনা। বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাঙাশের জন্য স্বল্পমূল্যের খাদ্য তৈরির ফর্মুলাও উদ্ভাবন করা হয়েছে। ৬০টি পশুখাদ্য ফিডমিল পরিদর্শনের পাশাপাশি তিন শতাধিক নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছে।
সরকারি হ্যাচারিগুলোতে ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরিতে ১১৪টি পরিকল্পনা নেওয়া ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। উপকূলের লবণাক্ততা ও খরাপ্রবণ এলাকায় কৈ, শিং, পাবদা ও পাঙাশ চাষে স্থাপন করা হয়েছে ১০০টি খামার। উদ্ভাবন করা হয়েছে পাঙাশের টিকাও। চিংড়ি উৎপাদন, ভ্যালু এডিশন ও বাজার সম্প্রসারণে গলদা ও বাগদা চিংড়ি নিয়ে একটি সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত চাষি ও খামারিদের সুরক্ষায় মৎস্য খাতে তিনটি পাইলটিং স্কিম এবং প্রাণিসম্পদ খাতে ৩ হাজার ৬০০ প্রাণীকে বীমার আওতায় আনা হয়েছে।
গভীর সমুদ্রে নতুন দৃষ্টি :
ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গভীর সমুদ্রে টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মাছ আহরণে দুটি লং-লাইনার টুনা ভেসেল ভাড়া নেওয়া হয়েছে। গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণের জন্য পাঁচটিসহ মোট সাতটি জাহাজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কুয়াকাটা ও সলিমপুরকে সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৫টি সি-উইড চাষ প্রদর্শনী, ২৪টি সি-উইড ড্রাইং র্যাক বিতরণ এবং ১০০ জন চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মাছের উৎপাদন বাড়াতে ২২০ দশমিক ২৪ মেট্রিক টন পোনা অবমুক্ত, ৪০০টি বিল নার্সারি ও ৪৫টি অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ খাতে মাঠপর্যায়ে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরবরাহ করা হয়েছে ১৮ কোটি ডোজ টিকা। জারি হয়েছে জাতীয় পোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন। উন্নত জাতের ২২ লাখ ডোজ সিমেন সরবরাহের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের মধ্যে ২০ হাজার ছাগল-ভেড়া এবং ৬০ হাজার হাঁস-মুরগি বিতরণ করা হয়েছে। ৪ হাজার ৯৪১টি শূন্যপদের বিপরীতে ১১-২০ গ্রেডে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৪৮৩ জনকে।
বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি দাম কমানো। উৎপাদন বাড়লেই সবার কাছে মাছ-মাংস পৌঁছাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। উৎপাদন খরচ কমাতে প্রয়োজনে কৃষির মতো ফিডেও ভর্তুকি দেওয়া দরকার।
১৮০ দিনের কার্যক্রমকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় ভালোভাবেই কর্মসূচি শেষ করেছে। এ সাফল্য ধরে রেখে বাকি কাজগুলোতে মনোযোগ দিতে হবে। মাছ চাষি ও খামারিদের স্বল্প সুদে ঋণ, উন্নত বাজারব্যবস্থা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে অভিজ্ঞদের নিয়ে কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন রিয়ার এডমিরাল মোঃ মঈনুল হাসান। বৃহস্পতিবার বাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি বিদায়ী মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মোঃ জিয়াউল হকের স্থলাভিষিক্ত হন। আনুষ্ঠানিক নথিতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, যেখানে কোস্ট গার্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাহিনীর জনসংযোগ শাখা থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য সামরিক জীবনের অধিকারী রিয়ার এডমিরাল মোঃ মঈনুল হাসান ১৯৮৯ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি মিরপুর ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি), ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি), ভারতের ওয়েলিংটন ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডে অবস্থিত নেভাল ওয়ার কলেজ থেকে নেভাল কমান্ড কোর্স সম্পন্ন করেন। শিক্ষাজীবনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিফেন্স স্টাডিজে ও ভারতের তামিলনাড়ু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) থেকে সিনিয়র স্টাফ কোর্স শেষ করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এ পিএইচডি গবেষণায় রত আছেন।
দক্ষ নেভিগেটর হিসেবে নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও স্টাফ পদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এই কর্মকর্তা। তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল এবং কমান্ডার বাংলাদেশ নেভাল ফ্লিট হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। এ ছাড়া তিনি নেভি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের প্রথম কমান্ড্যান্ট এবং কমোডর নেভাল এভিয়েশনের মতো শীর্ষ পদে ছিলেন। সমুদ্রগামী জাহাজের অধিনায়ক হিসেবে তিনি একটি করভেট, দুটি অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল, তিনটি ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট এবং একটি মিসাইল বোট পরিচালনা করেন। একইসঙ্গে তিনি ফ্লাইং উইংয়ের অধিনায়ক, নৌবাহিনীর নেভিগেশন স্কুলের প্রশিক্ষক এবং ডিএসসিএসসির নেভাল উইংয়ে ডাইরেক্টিং স্টাফ হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন।
নৌ সদর দপ্তরে পরিকল্পনা পরিচালক, এভিয়েশন পরিচালক ও নেভাল সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ইতিপূর্বেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের উপমহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তিনি আইভরি কোস্টে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সামরিক পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সামরিক মহড়া ও সেমিনারে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। পেশাগত অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ শান্তিকালীন ‘নৌবাহিনী পদক’ (এনবিপি), ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’ (বিএসপি) এবং ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক’ (বিসিজিএম) অর্জন করেন। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের মাধ্যমে দেশের সমুদ্রসীমা, উপকূল ও নদী অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে সংসদ নেতার অনুমতিক্রমে তাঁর পক্ষে সরকারি দলের চিফ হুইপ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম মনি (বরগুনা-২) এই কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পুনর্গঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম মনিকে। দশ সদস্যের এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছেন শরিয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দীন আহমেদ অপু, দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ তাহসিনা রুশদি, ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কায়সার আহমেদ, নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. নাজিবুর রহমান এবং ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন।
সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ২৪০, ২৪৭ ও ২৪৮ বিধিতে উল্লিখিত বিধান অনুযায়ী কমিটির নিয়োগ, অভ্যন্তরীণ গঠনকাঠামো, কর্মপরিধি ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে উল্লিখিত আইনপ্রণেতাদের সমন্বয়ে এই স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন সম্পন্ন হয়।
জাতীয় সংসদ সদস্যদের মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাকিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে কণ্ঠস্বর নকল (ভয়েস ক্লোনিং) এবং স্বাক্ষর জাল করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই স্পর্শকাতর সাইবার অপরাধের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং এ ধরনের প্রতারণা প্রতিরোধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করে চিফ হুইপ জানান, সংসদ সদস্যদের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর বেআইনিভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সহকর্মী অন্য সদস্যদের নিকট জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে ২৫ হাজার, ৩০ হাজার এমনকি ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, আধুনিক এআই প্রযুক্তির অপপ্রয়োগের মাধ্যমে কারও কারও কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করা হচ্ছে এবং জাল স্বাক্ষরযুক্ত ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের অপচেষ্টা চলছে। সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের একাধিক সংসদ সদস্য ইতিমধ্যে এই পরিকল্পিত সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে তিনি অবহিত করেন।
আলোচনার একপর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল আইনপ্রণেতাদের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও প্রযুক্তিগত প্রতিরোধ জোরদারে নির্বাহী বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি সামনে আনেন। এর প্রেক্ষিতে চিফ হুইপ নিশ্চিত করেন যে, সংঘটিত জালিয়াতি প্রতিরোধ ও শনাক্তকরণে বিটিআরসি প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এ ছাড়া সংসদ ভবনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুসংহত করার প্রসঙ্গে চিফ হুইপ উল্লেখ করেন, ভবনের প্রতিটি লবিতে অত্যাধুনিক ফেস রিডিং যন্ত্র স্থাপন করা সত্ত্বেও অনেক সদস্য তা ব্যবহার এড়িয়ে যাচ্ছেন। সংসদের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের স্বার্থে ভবনে প্রবেশের সময় তিনি সকল সংসদ সদস্যকে এই ফেস রিডিং ডিভাইস ব্যবহারের অনুরোধ জানান।
পাবনা-২ (সাঁথিয়া) আসনে সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেছেন, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিলের মূল কাঠামোতে কোথাও পরিবর্তন আনা হয়নি। এর প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির ব্যবস্থা ঠিকমতো না রেখে শুধু ‘পুরোনো বোতলে নতুন মদ’ করলে উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ এর ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, ২০১৪ সালের মে মাসে নারায়ণগঞ্জে যে ন্যক্কারজনক সাত খুনের ঘটনা ঘটলো, সে ঘটনার পরে র্যাব স্কোয়াডকে কিলিং স্কোয়াড আখ্যায়িত করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। সে সময় তিনি র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানান। সংস্কার নয়, সরাসরি বাহিনীর বিলুপ্তির দাবি করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে দেশনেত্রী র্যাবকে ক্যানসার আখ্যায়িত করেছিলেন। তখনো তিনি র্যাব বিলুপ্তির দাবি করেন।
তিনি বলেন, এখানে আমরা কী দেখছি? র্যাবের জনবল, কার্যালয়, ক্ষমতা, নথিপত্র, সম্পদ, চুক্তি, দায়-দায়িত্ব সরাসরি এসআরবি নামের নতুন বাহিনীর কাছে চলে যাবে। অর্থাৎ শুধু সাইনবোর্ডটাই পরিবর্তন হচ্ছে। নতুন বোতলে পুরোনো মদ। র্যাবের নাম ছাড়া আর কোনো কিছুই পরিবর্তন হচ্ছে না, সব ঠিক থাকছে।
এ সংসদ সদস্য বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পুলিশ সংস্কার কমিশনের কাছে র্যাব বিলুপ্তির আনুষ্ঠানিক সুপারিশ করে বিএনপি। এই সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিলেন। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও গুম কমিশনও র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল।
বিগত সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার সমালোচনা করে জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের লোকদেখানো পদক্ষেপের কারণে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান আরও বিলম্বিত ও জটিল আকার ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের টেকসই ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘সরকার দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক—সব পর্যায়ে দৃঢ় কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে এই সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধানে কাজ করছে। এই সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারের এবং এর টেকসই সমাধানও নিহিত রয়েছে মিয়ানমারেই। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য—নিজ ভূমিতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসন। এ লক্ষ্যে সকল পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা হবে।’ মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে আমরা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছি। বন্ধুরাষ্ট্র, দাতা দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।’ তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলার জন্য পৃথক কমিটি কাজ করছে। পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত হতে যাওয়া একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আশা করছি, ওই ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী প্রধান বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট ও প্রত্যাবাসনের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন সুসংহত হবে।’
সীমান্তে পুশ ইন ইস্যুতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলীর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, ‘সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশ ইন বা পুশ ইনের প্রচেষ্টাকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশের গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমাদের সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে সীমান্তে পুশ ইন রোধে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছে।’ একই সময়ে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুল খালেকের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, সমমর্যাদার নীতির ওপর ভিত্তি করে ভারতের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা, সীমান্তবাসীর জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং বৈধ বাণিজ্য প্রসারে সরকার দ্বিপক্ষীয় তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
সংসদীয় প্রশ্নোত্তর পর্বে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, অতীতে মিশনগুলোর কার্যক্রমে শিথিলতা থাকলেও বর্তমান সরকার দূতাবাসগুলোকে কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় এনেছে। জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলকে তিনি অবহিত করেন, বর্তমানে বিশ্বের ৬৩টি রাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট ৮৬টি কূটনৈতিক মিশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার বিষয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সামগ্রিক বিনিয়োগ ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিদেশি মিশনগুলো সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক রোডম্যাপ নিয়ে মাঠে নেমেছে।
এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দীনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাশিয়ার কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কার্যক্রম চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ প্রয়োগ ও ভবিষ্যৎ জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) প্রযুক্তি স্থাপনের সম্ভাব্যতা নিয়ে আগ্রহী দেশগুলোর সঙ্গে প্রাথমিক স্তরের যোগাযোগ চলছে, যা এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেনি।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে নতুন একটি বিশেষায়িত এলিট ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কণ্ঠভোটে এই বিলটি গৃহীত হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা সংখ্যাগরিষ্ঠের কণ্ঠভোটে পাস হয়।
সংসদে বিলটির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সময়ের চাহিদা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা কাঠামোর আধুনিকায়ন অপরিহার্য। তিনি বলেন, ‘একটি সংস্থা গঠনের সঙ্গে আরেকটি বিলুপ্তির সম্পর্ক নেই। নতুন বাহিনীটা আমরা এ কারণে করছি যে, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধীনে র্যাব গঠন করা হয়েছিল। সেই আইনটি পূর্ণাঙ্গ ছিল না। একটা সেকশনের অধীনে ইউনিটটি কাজ করছিল।’ তিনি আরও যুক্ত করেন, ‘সেজন্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন থেকে আমরা এটা বের করে নিয়ে এসে বিলুপ্ত করতে চাই। একইসঙ্গে এই আইনে ইংরেজিতে কিছু অস্পষ্টতা ছিল, সেই আইনটাও আমরা অনুবাদ করে নতুন আইন হিসেবে নিয়ে আসছি,’।
পাস হওয়া আইনের বিধান অনুযায়ী, নবগঠিত এসআরবি পুলিশ অধিদপ্তরের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এই ইউনিটের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ কর্মকর্তা, শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং নির্ধারিত সশস্ত্র জনবলের সমন্বয়ে প্রেষণ ও সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হবে। নিজস্ব প্রতীক, পোশাক ও পতাকাসমৃদ্ধ এই ইউনিটকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, অভিযান পরিচালনা, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও আলামত জব্দের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি এই বাহিনীর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণাধীন হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র থাকবে। সাধারণ নাগরিক ও বাহিনীর অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিভিন্ন পক্ষের সমন্বয়ে একটি পৃথক অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠিত হবে।
সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনের লক্ষ্যে ২০০১-০৬ মেয়াদে এলিট ফোর্স গঠনের উদ্যোগের পর ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে একই বছরের ২১ জুন থেকে র্যাব আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছিল। ২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধন) আইনের ওপর ভিত্তি করে এতদিন পরিচালিত হয়ে এলেও বিগত দুই দশকে নানা সময়ে বাহিনীটির বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। সমালোচক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে 'সরকারি ডেথ স্কোয়াড' হিসেবেও অভিহিত করতে থাকে। নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন ও কক্সবাজারের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যুর মতো ঘটনায় বাহিনীটির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়। মানবাধিকার হরণের প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করা র্যাবের শীর্ষ ছয় কর্মকর্তার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাহিনীটি সংস্কার বা বিলুপ্তির দাবি আরও জোরালো রূপ নেয়। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের গুম তদন্ত কমিশনের কাছে র্যাবের বিরুদ্ধেই দেশের অন্যান্য বাহিনীর তুলনায় সর্বোচ্চ ১৭২টি অভিযোগ জমা পড়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৩ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। তিনি জানান, নতুন এই সংস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির যাচাই-বাছাই ও সংশোধিত সুপারিশ শেষে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ সংসদে পাস হলো। একই সঙ্গে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬ বিলটিও ইতোমধ্যে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-কে প্রভাব-প্রতিপত্তি বিবেচনা না করে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিবাজ যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’
আজ বঙ্গভবনে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম ব্রিফিংকালে বাসসকে এই তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে দুদক চেয়ারম্যান কমিশনের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করার পাশাপাশি দুর্নীতি দমনে কমিশনের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘদিনের অপশাসন, অনিয়ম ও জবাবদিহিতার অভাবে দুর্নীতি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন ও নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করছে জাতির অগ্রগতি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। দুদককে সততা ও সাহসের সঙ্গে দুর্নীতি দমনে কাজ করে যেতে হবে।
রাষ্ট্রপতি দীর্ঘদিনের বিপুল সংখ্যক বিচারাধীন মামলাগুলো আইনগতভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি ও দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর জন্য দুদকের প্রতি আহ্বান জানান। এসময় তিনি গুরুতর দুর্নীতির ব্যাপারে দ্রুত অনুসন্ধান ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
তিনি দুর্নীতিবিরোধী মূল্যবোধ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং কমিশনকে তার সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কমিশনার (তদন্ত) ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মো.সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া এবং সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
প্রধানমন্ত্রী পদবির আগে সম্মানসূচক ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার না করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিজের দপ্তর থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি নিজেই দিচ্ছেন ডিজিটাল হাজিরা।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সব ধরনের নথি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে তাঁর পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকালে সচিবালয়ে অফিস করেন। নিজের দপ্তরে প্রবেশের আগে তিনি ডিজিটাল হাজির দেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
গতকাল বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই নির্দেশনা কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়েই তা বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। তাঁর কাছে উপস্থাপন করা ফাইল ও অন্যান্য সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ধারাবাহিক ইতিবাচক উদ্যোগের অংশ। এর মাধ্যমে পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের চেয়ে দায়িত্ব, জনসেবা এবং দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে সামনে আনার বার্তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।
একই সাথে দাপ্তরিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও ডিজিটাল হাজিরার প্রথা প্রবর্তন করে নজির তৈরির চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী। কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো প্রধানমন্ত্রীও নিয়মিত ডিজিটাল হাজিরা দিচ্ছেন। দিনের কাজ শেষে কার্যালয় ছাড়ার সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে বের হওয়ার হাজিরা দিয়ে অফিস ত্যাগ করছেন।
সরকার প্রধান হয়ে দাপ্তরিক নিয়ম নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ম মেনে চলার বার্তা দিতে দিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রশাসনে সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ। রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিই যখন সাধারণ দাপ্তরিক নিয়ম মেনে চলেন, তখন প্রশাসনের অন্যদের কাছেও একই নিয়ম অনুসরণের প্রত্যাশা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বাসসকে বলেন, সরকারি চিঠিপত্রের সম্বোধনের আগে রাষ্ট্রপতির নামের আগে মহামান্য এবং প্রধানমন্ত্রীর নামের আগে মাননীয় লেখা যাবে না মর্মে গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিভাগ থেকে যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে, ইতোমধ্যেই আমরা তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সবগুলো মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং ইউএনওদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। আজকে থেকেই এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামীতে সরকারি পত্রালাপ বা গুরুত্বপূর্ণ নথিতে এই পরিপত্রের ব্যত্যয় ঘটানো যাবেনা মর্মে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই অতিরিক্ত সচিব আরও বলেন, আমরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই পরিপত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমস্ত প্রশাসনে জানিয়ে দিয়েছি। আশা করি, সকলেই যার যার অবস্থান থেকে পরিপত্র যথাযথ অনুসরণ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমাতেও ইতোমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় তাঁর ছবি ব্যবহার না করা, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং তাঁর চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো উদ্যোগ এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দেশে ও দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার করছেন না। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এমন একটি বার্তা দিচ্ছে যে, রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা বা বিশেষ সম্বোধনের পরিবর্তে নিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি অধিশাখার যুগ্ম সচিব তানভীর আহমেদ বাসসকে বলেন, সার্কুলারটি ইতোমধ্যে মাঠ প্রশাসনের সমস্ত জায়গায় পৌঁছে গেছে। আজ আমরা দুয়েকটি চিঠিপত্র পেয়েছি, সেখানে পরিপত্রের বাস্তবায়ন লক্ষ্য করা গেছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির আগে মহামান্য এবং প্রধানমন্ত্রীর আগে মাননীয় শব্দটি পরিহার করার জন্য মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে, সেটি আজ বৃহস্পতিবার থেকেই পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। কোনো অফিস থেকে এর ব্যত্যয় লক্ষ্য করা গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: বাসস