মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

শুল্ক কমালেও খেজুরের দাম নাগালের বাইরে

উচ্চ শুল্কের কারণে বাড়তি দাম, বলছেন ব্যবসায়ীরা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৩ মার্চ, ২০২৪ ০০:১৬
রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত
রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ৩ মার্চ, ২০২৪ ০০:১৬

খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছিল ৫৩ শতাংশ, ৮ ফেব্রুয়ারি ১০ শতাংশ কমিয়ে করা হয়েছে ৪৩ শতাংশ। শুল্ক কমানোর পরও দাম কমেনি খেজুরের। উল্টো দাম বেড়েছে। যদিও বন্দর থেকে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। গত কয়েক দিনে ৬০৫ কনটেইনার খেজুর খালাসের কার্যক্রম চলছে এবং প্রতিদিনই খালাস অব্যাহত রয়েছে।

জানা গেছে, আগামী ১২ মার্চ পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনা করেন। দিনভর রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে খেজুর। খেজুর ছাড়া এখন আর ইফতারের কথা ভাবা যায় না। প্রায় সব রোজাদারই খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করেন। এ কারণে রমজান মাসে চাহিদা বেশি থাকা পণ্যগুলোর একটি খেজুর। পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে চলতি মাসে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি বাজারে তদারকি ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা কোনো কাজেই আসছে না। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের বাজারে খেজুরের দাম প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়েছে।

৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি আদেশে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনার ঘোষণা দেয়। এর আগে খেজুর আমদানিতে সর্বমোট ৫৩ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে খেজুরের শুল্কায়ন মূল্য প্রতি টন ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৭৫০ ডলার। এর সঙ্গে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ, রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ ও ভ্যাট ১৫ শতাংশ। পাশাপাশি অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর ৫ শতাংশ হারে দিতে হচ্ছে। এতে বর্তমানে সর্বমোট ৪৩ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত রোজার আগে মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরে শুল্ক দিতে হতো ৫ দশমিক ৪৫ থেকে ২১ দশমিক ৮৪ টাকা। তবে এবার খেজুরকে ‘বিলাসীপণ্যের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে খেজুরের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫৩ শতাংশ করা হয়। ফলে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বেড়ে গেছে। এবার শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫৪ থেকে ২০৮ টাকা। মূলত শুল্কের প্রভাব পড়েছে খেজুরের দামে। গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি খেজুরে জাতভেদে দাম বেড়েছে ১০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত। দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া খেজুরের মধ্যে রয়েছে দাবাস, জাহিদি, বরই ও গলা খেজুর।

চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গলা বা বাংলা খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, জাহিদি খেজুর ২৪০-২৬০ ও মানভেদে দাবাস খেজুর ৪৫০-৫৫০ টাকায়। এ ছাড়া বরই খেজুর মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৪০-৫৪০ টাকায়। গত বছর এসব খেজুরের দাম ছিল বর্তমান দরের অর্ধেকেরও কম।

এদিকে অভিজাত শ্রেণির কাছে পছন্দের খেজুরের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের মেডজুল, মাবরুম, আজওয়া ও মরিয়ম। গত এক মাসের ব্যবধানে এসব খেজুরের দাম কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে। জাম্বো মেডজুল মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, সাধারণ মেডজুল ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০, মাবরুম খেজুর ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, আজওয়া খেজুর মানভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো জাতের মরিয়ম বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এ ছাড়া কালমি মরিয়ম ৮০০-৯০০ টাকা, সুফরি মরিয়ম ৭৫০-৮০০, আম্বার ও সাফাভি ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ ও সুক্কারি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়।

খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে রোজার আগে জাহিদি জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি (১০ কেজি) ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। শুল্ক আরোপের কারণে দাম বাড়ার পর গত বছরের শেষ সপ্তাহেও একই জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা। তবে এখন ১০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েও এই জাতের খেজুরের কার্টন হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা।

পাইকারি ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি ৫ কেজির এক কার্টন মেডজুল খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার টাকায়। গত বছর এ খেজুর বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়। অন্যদিকে সাধারণ খোলা খেজুর প্রতি কেজি ফেব্রুয়ারির শুরুতে কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ছিল ১২৮-১৩০ টাকা। বর্তমানে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকায়।

পাইকারি বাজার সূত্রে জানা গেছে, বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় জাহিদি জাতের খেজুর। এক বছর আগে প্রতি কেজি খেজুর খুচরা পর্যায়ে ১৫০ টাকায় পাওয়া যেত। শুল্ক কমানোর পর বর্তমানে এ খেজুর খুচরায় বিক্রি করতে হবে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য আমদানি করা খোলা (বস্তায় বিক্রি হওয়া ভেজা খেজুর) রোজা আসার আগেই কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ১৫৫ টাকায় উঠে গেছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে এ মানের খেজুর বিক্রি করতে হবে কমপক্ষে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। অবশ্য গতকাল বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল হক টিটু ঘোষণা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে খেজুর পৌঁছে দিতে বস্তায় আসা জাহিদি খেজুরের দাম কমানো হবে। আজ রোববার (৩ মার্চ) এই খেজুরের দাম কমানোর ঘোষণা আসার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিনে সবচেয়ে বেশি খেজুর বন্দর থেকে খালাস নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগে বন্দর থেকে দিনে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলেও এখন সেটা ৭০ কনটেইনারে গিয়ে টেকেছে। কিন্তু দাম কমছে না।

ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকার শুল্ক কমানোর পর ব্যবসায়ীরা খেজুর খালাসে তোড়জোড় শুরু করেছে। শুল্ক কমানোর পরও ভোক্তারা কম দামে খেজুর কিনতে পারছেন না। শুল্ক কমানোর পর পর্যাপ্ত আমদানি হলেও দাম কেন কমছে না বিষয়টি তদারকি করতে হবে। তদারকি না করলে রোজায় খেজুর কিনতে পারবে না ভোক্তারা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৬৩ টন খেজুর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস করেছেন আমদানিকারকরা। ১৪৫ দিনের মধ্যে গত ১৫ দিনেই বেশি খেজুরের চালান খালাস হয়েছে। ২৮ ধরনের খেজুর দেশের ৮২টি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্দান, মিসর, আলজেরিয়া, নামিবিয়া, তিউনিশিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আমদানি করেছে।

জানা গেছে, চার মাস আগে খেজুর আমদানি করলেও শুল্ক কমবে এ আশায় ব্যবসায়ীরা পণ্যটি চট্টগ্রাম বন্দরে গুদাম করে রেখেছিলেন। ফলে বেসরকারি ১৯টি ডিপোতে ১ হাজার কনটেইনার (প্রতি কনটেইনারে ২২-২৪ হাজার কেজি খেজুর থাকে) খেজুর পড়ে ছিল। এখন খেজুরভর্তি ৬০৫টি কনটেইনার খালাস চলছে। এখনো খেজুরভর্তি ৩৯৫টি কনটেইনার খালাসের উদ্যোগ নেয়নি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার কাজী ইরাজ ইশতিয়াক বলেন, প্রচুর পরিমাণে খেজুর খালাস হচ্ছে। প্রতিদিনই খালাস করছেন আমদানিকারকরা। তিনি বলেন, খেজুরের শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

তিনি জানান, খেজুরের চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। একেকটি ক্যাটাগরির একেক রকম শুল্কহার হয়। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির প্রবণতাও রয়েছে। অনেক সময় উচ্চ শুল্কহারে খেজুর এনে কম শুল্কহারে ঘোষণা দেওয়া হয়। এমন বেশ কিছু ঘটনাও ঘটেছে। এ জন্য আমরাও সতর্ক আছি, যেন সরকার রাজস্ব বঞ্চিত না হয়।

উচ্চ শুল্কহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা এনবিআর নির্ধারিত, এ ব্যাপারে আমাদের বলার বা করার কিছু নেই। আমরা নির্ধারিত শুল্ক নিয়ে খালাসের ব্যবস্থা করি। খেজুর বিলাসী পণ্য কি না, এ বিষয়েও তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

খাতুনগঞ্জের ডেটস অ্যান্ড ড্রাই ফ্রুটস আমদানিকারক মো. ওমর ফারুক বলেন, খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ট্যাক্স ১০ শতাংশ কমালেও অন্যান্য শুল্ক ঠিক রেখেছে এনবিআর। ফলে উচ্চমাত্রায় ট্যাক্স দিয়েই আনতে হচ্ছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সামান্য এ শুল্ক কমানোয় খেজুরের দামে প্রভাব পড়বে না।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সুলতান আরেফিন বলেন, শুল্ক কমানোর পর থেকে আমদানিকারকরা খেজুর খালাস নিতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। আগে প্রতিদিন গড়ে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলে এখন সেটি ৭০ কনটেইনার খালাস হচ্ছে।

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতি কেজি খেজুর ১১০ টাকায় কিনলে ১৪০-১৫০ টাকা শুল্ক দিতে হয়। ১২০ টাকায় কিনলে ২০৮ টাকা শুল্ক দিতে হয়। গত বছর ৯০ টাকায় ডলার কিনতে পারতাম। এ বছর ১২০-১২২ টাকা দিতে হচ্ছে। কাস্টমস থেকে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ইচ্ছেমতো করা হচ্ছে। এলসি যে মূল্যে খুলছি সে অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ করা হলে খেজুরের দাম অর্ধেকে নেমে আসে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না।

বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, পণ্য বন্দরে আসার পর শুল্ক পরিশোধ করে খালাস করতে হয়। এসব কাস্টমসের বিষয়।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমেদ বলেন, ডলারের দাম বাড়াতে পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে যায়। এর পরও ব্যবসায়ীরা সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছেন।


নির্বাচিত

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে আনসার-ভিডিপির প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাত করেন আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১২
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি দেশ গঠনমূলক কাজে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান জানান বলে প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে।

এসময় বিগত গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জননিরাপত্তা বিধান ও ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচনসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আনসার বাহিনীর কাজের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, জনসম্পৃক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশি ভাষা, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও কর্মসংস্থান উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাক্ষাতে আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। এসময় তিনি বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম বিশেষ করে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আনসার সদস্যের মানসম্মত প্রশিক্ষণ, সদস্যদের ডাটাবেজ তৈরি, ক্ষুদ্রঋণ প্রদান কার্যক্রম এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রান্তিক পর্যায়ে বাহিনীর গৃহীত কর্মসূচি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির দিক-নির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আনসার ও ভিডিপি দেশের সব থেকে বড় জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি এসময় আনসার বাহিনীর সংস্কার বিশেষ করে আনসার ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি আনসার বাহিনীর আধুনিকায়ন, বিভিন্ন আইন প্রণয়ন ও আনসার ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতি সৌরশক্তি উৎপাদন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অর্জন এবং জনমুখী কার্যক্রমে বাহিনীর অবদানের প্রশংসা করে

আগত দিনে আরও কর্মসূচি ও তৎপরতা গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি তার দায়িত্ব পালনকালে বাহিনীর উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আনসার ও ভিডিপি প্রধানকে আশ্বস্ত করেন। সাক্ষাত রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

দুর্গম সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারি সহজ করবে ড্রোন প্রযুক্তি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার দুর্গম ও বনাঞ্চল বেষ্টিত এলাকা-সহ সামগ্রিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও নজরদারিকে আরো কার্যকর ও সহজতর করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সিলেট সেক্টর সদর দপ্তরে “সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার (SSSDW)”-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন। তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এ বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তের যেসব দুর্গম ও বনাঞ্চলবেষ্টিত (ওয়াইল্ড) এলাকা রয়েছে, যেখানে সরেজমিন জনবল দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত দুষ্কর, সে সমস্ত জায়গায় নাইট ভিশন এবং থার্মাল প্রযুক্তি সংবলিত ড্রোন ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক আধুনিক ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স পরিচালনা করা হবে। থার্মাল প্রযুক্তির এই ব্যবহারের ফলে রাতের আঁধারেও সীমান্তের ওপারে অপর পক্ষের তৎপরতা তদারকি এবং চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের রুট চিহ্নিত করে তা প্রতিহত করা সহজ হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ও মানবিক দুর্যোগেও ড্রোনের এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং সরাসরি দুর্গম পয়েন্টে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিতে বিজিবি সদস্যরা সফলভাবে ড্রোনের ব্যবহার নিশ্চিত করেছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই ড্রোন স্কুলে বর্তমানে বিজিবি সদস্যদের সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন ওয়ারফেয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে বেসামরিক জনবলকেও উন্নত প্রযুক্তি ও ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তুলতে এই প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। সেই সাথে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের সব সর্বাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি এ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করে দেশের সর্বাত্মক সুরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

মাদক মামলার প্রসিকিউশন ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারীদের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকে যুগোপযোগী করা হয়েছে এবং জেলা পর্যায়ে ল্যাব, হাজতখানা, ডগ স্কোয়াড ও আধুনিক অস্ত্রের মাধ্যমে বাহিনীর কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়ানো হচ্ছে। একই সাথে আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে ‘মব’ সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা প্রচলিত আইনের মাধ্যমে অত্যন্ত কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। স্বাগত বক্তৃতা করেন বিজিবি'র সিলেট সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন।

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি উদ্বোধনের পূর্বে মন্ত্রীকে 'সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার (SSSDW)' সম্পর্কিত বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সার্বিক দিক নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং প্রদান করা হয়। উদ্বোধনের পর মন্ত্রী ড্রোন স্কুল কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার ঘুরে দেখেন এবং পরবর্তীতে বিজিবি'র দক্ষ পরিচালনায় একটি বাস্তবভিত্তিক অপারেশনাল মহড়া ও ডাইনামিক ড্রোন ডিসপ্লে প্রত্যক্ষ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবি সদর দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, তথ্যনির্ভর ও প্রযুক্তিসক্ষম করার লক্ষ্যে বিজিবি'র একটি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ স্কুল/কেন্দ্র হিসেবে SSSDW-এর যাত্রা শুরু হলো। কেন্দ্রটি উদ্বোধনের মাধ্যমে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে আধুনিক আকাশভিত্তিক ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।


নির্বাচিত

আমরা চাই দুই দেশের জনগণের মধ্যে ভালো সম্পর্ক: দীনেশ ত্রিবেদী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সুসম্পর্ক কেবল সরকারি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দুই দেশের সাধারণ মানুষের হৃদয়ের বন্ধন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, “আমরা চাই দুই দেশের জনগণের মধ্যে ভালো সম্পর্ক। আমার জায়গায় যে থাকবে, সে একই জিনিস চাইবে। কারণ, আমরা যে সিদ্ধান্ত নিই, তার প্রভাব পড়ে জনগণের ওপর।” মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। একই সাথে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করেন।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, “অভ্যন্তরীণ যে রাজনীতি তা নিয়ে কিছু বলতে চাই না। যা দেশের মানুষ ভালো বুঝবে, তা নির্বাচিত সরকার বুঝবে। সাধারণ মানুষের যা কিছু ভালো হয়, সে বিষয়ে আমাদের দায়িত্ব আছে। আমরা স্বপ্ন শেয়ার করি। প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। কেউ বড়, কেউ ছোট নয়, আমি এখানে এসে অনেক কিছু শিখছি।” তাঁর মতে, দুই দেশের উন্নয়নে অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। বরং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য বা ফ্রি ট্রেড সম্প্রসারণের গুরুত্ব নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গণমাধ্যমকে জানান যে, ভারতীয় হাইকমিশনার স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে ভারতের অভিজ্ঞতাগুলো বিনিময় করেছেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা জানিয়েছি, চলতি অর্থবছরে নির্বাচন হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। এটা অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হবে। যেহেতু আমরা গণতান্ত্রিক, মানুষের ভোটে নির্বাচিত সরকার।” এই সৌজন্য সাক্ষাৎ মূলত দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।


নির্বাচিত

বহুদলীয় গণতন্ত্রই নয়, সংসদীয় গণতন্ত্রও বিএনপির হাত ধরে এসেছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা ও জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন।

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন আন্দা ফিলিপ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকারের শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

এ সময় তারেক রহমান বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছি।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুগম করতে পেরেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে। আমাদের সামনে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী এবং গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতন্ত্র নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তাঁর সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।’

আইপিইউ সেক্রেটারি জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পড়েছেন। ইশতেহারে শিক্ষা খাতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি।

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রারও প্রশংসা করে আন্দা ফিলিপ বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

আন্দা ফিলিপ আরো বলেন, আইপিইউ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার অংশ নিচ্ছেন। তাঁর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন আইপিইউ সেক্রেটারি।

সাক্ষাতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্দা ফিলিপ বলেন, তাঁরা অত্যন্ত উদ্যমী ও আগ্রহী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন তাঁর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের জন্য অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীর জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো।

সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

চাপে নয়, চাহিদার কারণেই কেনা হবে বোয়িং বিমান: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কোনো আন্তর্জাতিক চাপে নয় বরং দেশের অ্যাভিয়েশন খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতেই নতুন বিমান কেনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে আরও শক্তিশালী বিমান বহরের প্রয়োজন রয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করে বলেন, ‘আমাদের গুরুত্বপূর্ণ গেটওয়ের ক্ষেত্রে, আরও রুটে পরিষেবা দেওয়া দরকার। এ জন্য আমাদের আরও বিমানের প্রয়োজন আছে। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ১৫০টির বেশি বিমান আছে। সেই জায়গায় আমাদের ডিমান্ড আছে ৭০-৮০টির মতো- আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে। কিন্তু আমরা সেই অনুযায়ী অর্ডার করিনি, তবে অবশ্যই আমরা আরও বিমান কিনবো।’ তিনি আরও জানান যে, প্রয়োজন অনুযায়ী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে এয়ারবাসও যুক্ত করা হতে পারে এবং নীতিগত চুক্তি অনুসারে সেই ক্রয় প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।

ক্রয় সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো বিদেশি চাপ কাজ করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ূন কবির স্পষ্ট করে বলেন, ‘কোনও প্রেশারে না, এটা আমাদের অ্যাভিয়েশনের ডিমান্ড অনুযায়ী। আমাদের পর্যাপ্ত বহর নেই, আমাদের বহরের ক্ষমতা বাড়ানো দরকার। অন্যথায় আমরা পরিষেবা দিতে পারছি না, আমরা নতুন রুট খুলতে পারি না, অর্থ হারাচ্ছি।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, বিমান না কিনলে যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাপ সামলানো সম্ভব হবে না, যা প্রকারান্তরে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। নতুন বিমান বহরে যুক্ত হলে দীর্ঘমেয়াদে অ্যাভিয়েশন খাতের টার্নওভার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।

মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সম্প্রতি দেওয়া বোয়িং ক্রয় সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের তো চুক্তি আছেই, আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত বিমান কিনবো।’ বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও বেইজিংয়ের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন। মূলত বাংলাদেশকে এশিয়ার একটি শক্তিশালী 'অ্যাভিয়েশন হাব' হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।


নির্বাচিত

দুই বছরের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের গ্রাম ও শহরাঞ্চলে আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপন, অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান বৃদ্ধি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম এবং ভোলার গ্যাসকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার মাধ্যমেই এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হবে। আজ মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে উপদেষ্টা জানান যে, বর্তমান লোডশেডিংয়ের প্রধান কারণ হলো জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের যান্ত্রিক সমস্যা এবং অর্থনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির ফলে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত চাহিদা। তবে এই সংকট নিরসনে সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদী টেকসই পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান প্রশাসন লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের বৈষম্য নিরসন করেছে। এ প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আগে ঢাকাসহ বড় শহরগুলোকে নিরবচ্ছিন্ন রেখে গ্রামে অতিরিক্ত লোডশেডিং দেওয়ার যে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা ছিল, আমরা সেখান থেকে সরে এসেছি। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে এখন সাময়িক কষ্টের বোঝা শহর ও গ্রামে সুষমভাবে বণ্টন করা হচ্ছে।’

ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, নতুন এফএসআরইউ স্থাপনে কিছু সময় লাগলেও ভোলার গ্যাস গ্রিডে আনতে ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প এবং বাপেক্সের দেড়শ কূপ খননের কাজ পুরোদমে চলছে। রূপপুর প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরীক্ষামূলক চালুকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগামী বছর থেকে এটি পূর্ণ স্কেলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। এর ফলে আগামী দেড় থেকে দুই বছরে বিদ্যুৎ খাত আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য ও আনইন্টারাপ্টেড (নিরবচ্ছিন্ন) অবস্থায় পৌঁছাবে।’

শ্রম বাজার নিয়ে এক সুখবর দিয়ে উপদেষ্টা জানান যে, মালয়েশিয়া সরকার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১০ হাজার নতুন কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পূর্বের সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে এখন ৩১২টি সহযোগী সংস্থাকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশে শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ নিরসনে তিনি তথ্য-উপাত্ত দিয়ে জানান যে, এটি কোনো নতুন সংকট নয় এবং পরিসংখ্যান আগের বছরগুলোর মতোই। নিখোঁজ হওয়া প্রত্যেকটি শিশুর উদ্ধারে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সারের মজুত নিয়ে তিনি নিশ্চিত করেন যে, বর্তমানে ১২ লাখ ৮৬১ মেট্রিক টন সার মজুত রয়েছে, যা গত বছরের চেয়েও বেশি। ফলে সার নিয়ে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদকর্মীদের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষা নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দশম ওয়েজ বোর্ড গঠন এবং টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে একই আইনি কাঠামোর নিচে এনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য নীতিমালা তৈরি এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতার ব্যবস্থা করার কথা তিনি উল্লেখ করেন। চট্টগ্রাম বন্দরে ডেনমার্কের সহযোগিতায় নতুন টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


নির্বাচিত

বাংলাদেশকে যে কেনো সহায়তা দিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: সারাহ আলড্রিচ

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ আলড্রিচ। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ আলড্রিচ মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সফল পরিণতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে একটি নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে উল্লেখ করে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এই গণতান্ত্রিক সরকারের পাশে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত।

ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে গত ২৮ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওয়াশিংটন ডিসি’র বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইং থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে আলড্রিচ জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার অসামান্য আত্মত্যাগের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন।

সারাহ আলড্রিচ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নানা জটিলতা অতিক্রম করে অন্তর্বর্তী সরকার অল্প সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিয়েছে।" এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে কৃষি, অর্থনীতি ও রাজনীতিতে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, "বাংলাদেশের তরুণ জেন-জিরা গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের সূচনা করেছেন, তা বিশ্বের বহু দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।" তাঁর মতে, এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

স্মরণ সভার শুরুতে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের লক্ষ্যে যারা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন, সেই শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর আন্দোলনে নারীদের অকুতোভয় অংশগ্রহণ ও ত্যাগের চিত্র নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘জুলাইকন্যা’ প্রদর্শন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক, মার্কিন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

মক্কা জোটে যুক্ত হওয়ার আগে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।  ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি নেতৃত্বাধীন ‘মক্কা জোটে’ অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার সার্বিক পরিস্থিতি গভীর পর্যবেক্ষণে রেখেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) মহাসচিবের সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ বৈঠকের পর গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি এসব তথ্য জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, যেকোনো আন্তর্জাতিক জোটে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের জাতীয় স্বার্থকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বহুপক্ষীয় ফোরামে অংশ নেওয়ার আগে বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতি আমরা অনুসরণ করে থাকি। এখানে যুক্ত হলে বাংলাদেশের কি সুবিধা, জনগণের কি লাভ সেটা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। জোটে সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে যোগদানের জন্য এখনও কোন আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আসেনি। তবে এটা উন্মুক্ত আছে, দেখা যাক।’

এর আগে প্রতিমন্ত্রী আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে সাধুবাদ জানায় সংস্থাটি। এ বিষয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘বাংলাদেশে আবারও সংসদীয় গণতন্ত্র ফেরত এসেছে। আইপিইউ মহাসচিবের সফর গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে।’

বৈঠকে দেশের আইনসভায় তরুণ সংসদ সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণকেও ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেছে আইপিইউ প্রতিনিধি দল। এছাড়া মার্কিন কোম্পানি বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ ক্রয় সংক্রান্ত সার্জিও গোরের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি হয়তো আগের কোনো চুক্তির ধারাবাহিকতায় করা হয়ে থাকতে পারে। আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সংসদীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

বুধবার উন্মুক্ত হচ্ছে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত সার্ভিস লেনটি আগামীকাল বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) থেকে সাধারণ যানবাহনের যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। এটি এই মেগা প্রকল্পের প্রথম কোনো অংশ, যা জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সার্ভিস লেন চালু হওয়ার ফলে রাজধানীর উত্তরা থেকে আশুলিয়া অভিমুখে যাতায়াতকারী যানবহনগুলোর যাতায়াত উভয় দিক থেকেই অনেক সহজ হবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটিই প্রকল্পের আওতায় প্রথম অংশ, যার সুবিধা জনসাধারণ আগামীকাল থেকে ভোগ করতে পারবেন। সার্ভিস লেনটি আগামীকাল খুলে দেওয়া হচ্ছে।’

এর আগে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার জানান যে, এই প্রকল্পের আওতায় ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত দুই লেনের দুটি পৃথক সার্ভিস সেতু সাধারণ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। প্রতিটি সেতুর দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার। আগামীকাল ২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় ধউর সেতুর ওপর সেতু দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সার্ভিস লেনটি উন্মুক্ত করবেন।

প্রকল্পের নথিপত্র অনুসারে, তুরাগ নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই দিকটি বিবেচনায় নিয়ে সার্ভিস লেন ও এক্সপ্রেসওয়ের মূল লেন নির্মাণ করা হয়েছে। এই বিশেষ নকশার কারণেই স্থানীয় যানবাহনের সুবিধার্থে উড়ালপথে পৃথক দুটি সার্ভিস লেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অংশের নির্মাণকাজের পাশাপাশি পিচ ঢালাই ও রোড মার্কিংয়ের কাজ গত আগস্ট মাসেই সম্পন্ন হয়েছে।


নির্বাচিত

লোডশেডিং খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে খানিকটা কমে আসবে: জাহেদ উর রহমান

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং অচিরেই উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সৃষ্ট এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির চাপ এখন থেকে শহর ও গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকদের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণভাবে বণ্টন করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘লোডশেডিং নিয়ে একটি বিস্তারিত ডেটা আমরা আপনাদের দেওয়ার চেষ্টা করছি। জ্বালানি নিয়ে প্রচুর কথাবার্তা হয়েছে। আশা করছি, যে পরিমাণ লোডশেডিং আছে, সেটা খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ খানিকটা কমে আসবে।’

উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, অতীতে ঢাকাকে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়ে গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং দেওয়া হতো। তবে বর্তমান সরকার এই সংকটের বোঝা সবার মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর মতে, বড় শহরগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেশি থাকলেও কেবল প্রভাবশালীদের আবাস্থল হিসেবে তাদের বাড়তি সুবিধা দেওয়া হবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেহেতু এ সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, লোডশেডিংটা সবাই ভাগ করে নেবে। তাই ঢাকায় এখন আমরা লোডশেডিং দেখছি।’

আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আশা করি আগামী সপ্তাহে আপনাদের সেই ডেটাটাও দেব। ওই ডেটা নিয়ে আমি কাজ করছি। ওই সময়ও কী পরিমাণ লোডশেডিং ছিল, কত মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে সেটা জানা যাবে।’ তিনি অভিযোগ করেন যে, আগের সময়গুলোতে লোডশেডিংয়ের বড় অংশই গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান প্রশাসন সেই প্রথা থেকে বেরিয়ে এসেছে।

বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ হিসেবে তিনি জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি এবং রক্ষণাবেক্ষণ সমস্যার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসায় মানুষের অর্থনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে, যার ফলে বিদ্যুতের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বর্তমানে ঢাকা শহরের ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় পরিকল্পিত লোডশেডিং করে সেই বিদ্যুৎ গ্রামাঞ্চল ও শিল্প-কারখানায় সরবারহ করা হচ্ছে। এর ফলে ঢাকার বাইরের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

পরিশেষে জনগণের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমরা একটা সংকটের মধ্যে আছি এবং এ সংকটের কষ্টটা আমাদের সবাইকে কমবেশি নিতে হবে। এ কষ্ট খুব দীর্ঘ সময় থাকবে, সেটাও আমরা মনে করি না। সে ব্যাপারে সরকারের যথেষ্ট উদ্যোগ আছে।’


নির্বাচিত

জিয়া উদ্যানে বৃক্ষরোপণ করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত শেষে তিনি এই বৃক্ষরোপণ সম্পন্ন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. মঈন খান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান।

এ সময় আরও অংশ নেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী সালাউদ্দীন টুকু, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম।

এছাড়াও জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাবা-মায়ের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকালে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত তাঁদের সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারতের মাধ্যমে এই শ্রদ্ধা জানানো হয়। এই সময় তাঁর সাথে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল থেকেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শেরেবাংলা নগর এলাকায় সমবেত হন। সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তারেক রহমান ফাতেহা পাঠ করেন এবং সেখানে মৎস্য অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তারেক রহমান দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন যে, ‘গণতন্ত্র কিংবা সুশাসন প্রতিষ্ঠাই নয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে। দেশে যতবারই স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, ততবারই গণতন্ত্রকামী জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মী, শুভার্থী ও সমর্থকরা অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন।’ দলের চেয়ারম্যান আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশে জনগণ বারবার বিএনপিকেই বেছে নিয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, ‘দেশে যতবারই জনগণ নির্ভয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদে সরকার পরিচালনার সময় দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনর্প্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বিএনপি সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছে।’

দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের অবসানের পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিএনপি জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়। সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশকে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলছে।’

দলটির পক্ষ থেকে পাঁচ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। আজ সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশজুড়ে দলীয় কার্যালয়গুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর গুরুত্ব নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া বৃক্ষরোপণসহ দেশব্যাপী জেলা ও মহানগর পর্যায়ে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

দেশের ভোটার সংখ্যা দাঁড়াল ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩

ছবি: সোমবার (৩১ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। সোমবার (৩১ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

তিনি আরও জানান, ৩১ জুলাই পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হয়েছে, তাদের তালিকায় অন্তুভু©ক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটার দাঁড়াচ্ছে ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ এবং নারী ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার জন। ভোটার সংখ্যা বেড়েছে ৪ লাখ ৫৪ হাজার জন।

ভোটার তালিকা আইন ২০০৯ অনুযায়ী, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ফরম-৬ এর মাধ্যমে দাবি, ফরম-৭ এর মাধ্যমে আপত্তি এবং ফরম-৮ এর মাধ্যমে সংশোধনের আবেদন গ্রহণ করা হবে।

ইসির ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের আবেদন গ্রহণ করে তা ২৭ আগস্টের মধ্যে এসব আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। আবেদনগুলোর ওপর গৃহীত সিদ্ধান্ত ২৮ আগস্টের মধ্যে তালিকায় সংযোজন করে আজ ৩১ আগস্ট হালনাগাদকৃত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন।

আগামী সেপ্টেম্বর তফসিল ঘোষণা করে নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু করতে চায় ইসি৷ এক্ষেত্রে ইউনিয়ন ও পৌরসভা ভোট আগে করার পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি।


নির্বাচিত

banner close