বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
১১ ভাদ্র ১৪৩৩

শুল্ক কমালেও খেজুরের দাম নাগালের বাইরে

উচ্চ শুল্কের কারণে বাড়তি দাম, বলছেন ব্যবসায়ীরা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৩ মার্চ, ২০২৪ ০০:১৬
রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত
রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ৩ মার্চ, ২০২৪ ০০:১৬

খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছিল ৫৩ শতাংশ, ৮ ফেব্রুয়ারি ১০ শতাংশ কমিয়ে করা হয়েছে ৪৩ শতাংশ। শুল্ক কমানোর পরও দাম কমেনি খেজুরের। উল্টো দাম বেড়েছে। যদিও বন্দর থেকে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। গত কয়েক দিনে ৬০৫ কনটেইনার খেজুর খালাসের কার্যক্রম চলছে এবং প্রতিদিনই খালাস অব্যাহত রয়েছে।

জানা গেছে, আগামী ১২ মার্চ পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনা করেন। দিনভর রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে খেজুর। খেজুর ছাড়া এখন আর ইফতারের কথা ভাবা যায় না। প্রায় সব রোজাদারই খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করেন। এ কারণে রমজান মাসে চাহিদা বেশি থাকা পণ্যগুলোর একটি খেজুর। পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে চলতি মাসে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি বাজারে তদারকি ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা কোনো কাজেই আসছে না। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের বাজারে খেজুরের দাম প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়েছে।

৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি আদেশে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনার ঘোষণা দেয়। এর আগে খেজুর আমদানিতে সর্বমোট ৫৩ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে খেজুরের শুল্কায়ন মূল্য প্রতি টন ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৭৫০ ডলার। এর সঙ্গে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ, রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ ও ভ্যাট ১৫ শতাংশ। পাশাপাশি অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর ৫ শতাংশ হারে দিতে হচ্ছে। এতে বর্তমানে সর্বমোট ৪৩ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত রোজার আগে মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরে শুল্ক দিতে হতো ৫ দশমিক ৪৫ থেকে ২১ দশমিক ৮৪ টাকা। তবে এবার খেজুরকে ‘বিলাসীপণ্যের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে খেজুরের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫৩ শতাংশ করা হয়। ফলে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বেড়ে গেছে। এবার শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫৪ থেকে ২০৮ টাকা। মূলত শুল্কের প্রভাব পড়েছে খেজুরের দামে। গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি খেজুরে জাতভেদে দাম বেড়েছে ১০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত। দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া খেজুরের মধ্যে রয়েছে দাবাস, জাহিদি, বরই ও গলা খেজুর।

চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গলা বা বাংলা খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, জাহিদি খেজুর ২৪০-২৬০ ও মানভেদে দাবাস খেজুর ৪৫০-৫৫০ টাকায়। এ ছাড়া বরই খেজুর মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৪০-৫৪০ টাকায়। গত বছর এসব খেজুরের দাম ছিল বর্তমান দরের অর্ধেকেরও কম।

এদিকে অভিজাত শ্রেণির কাছে পছন্দের খেজুরের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের মেডজুল, মাবরুম, আজওয়া ও মরিয়ম। গত এক মাসের ব্যবধানে এসব খেজুরের দাম কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে। জাম্বো মেডজুল মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, সাধারণ মেডজুল ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০, মাবরুম খেজুর ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, আজওয়া খেজুর মানভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো জাতের মরিয়ম বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এ ছাড়া কালমি মরিয়ম ৮০০-৯০০ টাকা, সুফরি মরিয়ম ৭৫০-৮০০, আম্বার ও সাফাভি ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ ও সুক্কারি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়।

খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে রোজার আগে জাহিদি জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি (১০ কেজি) ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। শুল্ক আরোপের কারণে দাম বাড়ার পর গত বছরের শেষ সপ্তাহেও একই জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা। তবে এখন ১০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েও এই জাতের খেজুরের কার্টন হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা।

পাইকারি ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি ৫ কেজির এক কার্টন মেডজুল খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার টাকায়। গত বছর এ খেজুর বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়। অন্যদিকে সাধারণ খোলা খেজুর প্রতি কেজি ফেব্রুয়ারির শুরুতে কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ছিল ১২৮-১৩০ টাকা। বর্তমানে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকায়।

পাইকারি বাজার সূত্রে জানা গেছে, বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় জাহিদি জাতের খেজুর। এক বছর আগে প্রতি কেজি খেজুর খুচরা পর্যায়ে ১৫০ টাকায় পাওয়া যেত। শুল্ক কমানোর পর বর্তমানে এ খেজুর খুচরায় বিক্রি করতে হবে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য আমদানি করা খোলা (বস্তায় বিক্রি হওয়া ভেজা খেজুর) রোজা আসার আগেই কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ১৫৫ টাকায় উঠে গেছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে এ মানের খেজুর বিক্রি করতে হবে কমপক্ষে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। অবশ্য গতকাল বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল হক টিটু ঘোষণা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে খেজুর পৌঁছে দিতে বস্তায় আসা জাহিদি খেজুরের দাম কমানো হবে। আজ রোববার (৩ মার্চ) এই খেজুরের দাম কমানোর ঘোষণা আসার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিনে সবচেয়ে বেশি খেজুর বন্দর থেকে খালাস নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগে বন্দর থেকে দিনে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলেও এখন সেটা ৭০ কনটেইনারে গিয়ে টেকেছে। কিন্তু দাম কমছে না।

ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকার শুল্ক কমানোর পর ব্যবসায়ীরা খেজুর খালাসে তোড়জোড় শুরু করেছে। শুল্ক কমানোর পরও ভোক্তারা কম দামে খেজুর কিনতে পারছেন না। শুল্ক কমানোর পর পর্যাপ্ত আমদানি হলেও দাম কেন কমছে না বিষয়টি তদারকি করতে হবে। তদারকি না করলে রোজায় খেজুর কিনতে পারবে না ভোক্তারা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৬৩ টন খেজুর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস করেছেন আমদানিকারকরা। ১৪৫ দিনের মধ্যে গত ১৫ দিনেই বেশি খেজুরের চালান খালাস হয়েছে। ২৮ ধরনের খেজুর দেশের ৮২টি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্দান, মিসর, আলজেরিয়া, নামিবিয়া, তিউনিশিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আমদানি করেছে।

জানা গেছে, চার মাস আগে খেজুর আমদানি করলেও শুল্ক কমবে এ আশায় ব্যবসায়ীরা পণ্যটি চট্টগ্রাম বন্দরে গুদাম করে রেখেছিলেন। ফলে বেসরকারি ১৯টি ডিপোতে ১ হাজার কনটেইনার (প্রতি কনটেইনারে ২২-২৪ হাজার কেজি খেজুর থাকে) খেজুর পড়ে ছিল। এখন খেজুরভর্তি ৬০৫টি কনটেইনার খালাস চলছে। এখনো খেজুরভর্তি ৩৯৫টি কনটেইনার খালাসের উদ্যোগ নেয়নি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার কাজী ইরাজ ইশতিয়াক বলেন, প্রচুর পরিমাণে খেজুর খালাস হচ্ছে। প্রতিদিনই খালাস করছেন আমদানিকারকরা। তিনি বলেন, খেজুরের শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

তিনি জানান, খেজুরের চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। একেকটি ক্যাটাগরির একেক রকম শুল্কহার হয়। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির প্রবণতাও রয়েছে। অনেক সময় উচ্চ শুল্কহারে খেজুর এনে কম শুল্কহারে ঘোষণা দেওয়া হয়। এমন বেশ কিছু ঘটনাও ঘটেছে। এ জন্য আমরাও সতর্ক আছি, যেন সরকার রাজস্ব বঞ্চিত না হয়।

উচ্চ শুল্কহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা এনবিআর নির্ধারিত, এ ব্যাপারে আমাদের বলার বা করার কিছু নেই। আমরা নির্ধারিত শুল্ক নিয়ে খালাসের ব্যবস্থা করি। খেজুর বিলাসী পণ্য কি না, এ বিষয়েও তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

খাতুনগঞ্জের ডেটস অ্যান্ড ড্রাই ফ্রুটস আমদানিকারক মো. ওমর ফারুক বলেন, খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ট্যাক্স ১০ শতাংশ কমালেও অন্যান্য শুল্ক ঠিক রেখেছে এনবিআর। ফলে উচ্চমাত্রায় ট্যাক্স দিয়েই আনতে হচ্ছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সামান্য এ শুল্ক কমানোয় খেজুরের দামে প্রভাব পড়বে না।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সুলতান আরেফিন বলেন, শুল্ক কমানোর পর থেকে আমদানিকারকরা খেজুর খালাস নিতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। আগে প্রতিদিন গড়ে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলে এখন সেটি ৭০ কনটেইনার খালাস হচ্ছে।

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতি কেজি খেজুর ১১০ টাকায় কিনলে ১৪০-১৫০ টাকা শুল্ক দিতে হয়। ১২০ টাকায় কিনলে ২০৮ টাকা শুল্ক দিতে হয়। গত বছর ৯০ টাকায় ডলার কিনতে পারতাম। এ বছর ১২০-১২২ টাকা দিতে হচ্ছে। কাস্টমস থেকে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ইচ্ছেমতো করা হচ্ছে। এলসি যে মূল্যে খুলছি সে অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ করা হলে খেজুরের দাম অর্ধেকে নেমে আসে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না।

বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, পণ্য বন্দরে আসার পর শুল্ক পরিশোধ করে খালাস করতে হয়। এসব কাস্টমসের বিষয়।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমেদ বলেন, ডলারের দাম বাড়াতে পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে যায়। এর পরও ব্যবসায়ীরা সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছেন।


নির্বাচিত

রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় কাউকে আটক বা কারাগারে রাখা হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কোনো নাগরিককে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অন্যায়ভাবে আটক বা কারাগারে রাখা হবে না। মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সবার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। শামা ওবায়েদ বলেন, বিরোধী দল, আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো দলের সমর্থক—রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কাউকে অন্যায়ভাবে কারাগারে রাখা হবে না।

তিনি বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও মৌলিক অধিকারের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার সব রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অতীতে বাংলাদেশে নজিরবিহীন মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চায় না।

শামা ওবায়েদ বলেন, নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা এবং বিচারব্যবস্থা যাতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দ্বারা পরিচালিত না হয়, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ এবং মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করছে।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব দেশের সঙ্গে সম্মানজনক ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি হবে ‘বাংলাদেশ নীতি’—অর্থাৎ সব দেশের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রেখে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করা।

তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার থাকায় আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। চীনসহ অন্যান্য অংশীজন এখন বাংলাদেশের বক্তব্যকে আরও গুরুত্ব দিয়ে শুনছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি মূলত একটি রাজনৈতিক সমস্যা এবং এর টেকসই সমাধানও রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে। সংকট সমাধানে মিয়ানমারের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি অধিবেশন হওয়ার কথা রয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। সংকট সমাধানে মুসলিম বিশ্ব মিয়ানমারের ওপর আরও চাপ প্রয়োগ করতে পারে কি না, সেটিও বাংলাদেশ বিবেচনা করছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, ২০১৭ সালের পর থেকে রোহিঙ্গা সংকট আরও জটিল হয়েছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মির উত্থান এবং মানবপাচার ও মাদক চোরাচালানসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নতুন করে মানুষ আসা এবং নিয়মিত শিশুর জন্ম অব্যাহত থাকায় বর্তমানে দেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গার সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। তবে এ সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গড়ে প্রতি বছর প্রায় ৩০ হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে বেইজিংয়ের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত না হলে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বিদ্যমান উদ্যোগগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখবে বাংলাদেশ।


নির্বাচিত

বিভেদ, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধপ্রবণতা কোনো জাতিকে শক্তিশালী করে না: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিভেদ, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধপ্রবণতা কখনো কোনো জাতিকে শক্তিশালী করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সমাজে যেন আর কখনো কোনো ধরনের কর্তৃত্ববাদ কিংবা ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রদর্শিত শান্তি, ন্যায় ও সম্প্রীতির শিক্ষাকে অন্তরে ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

ধর্মীয় সহাবস্থানের ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার নিশ্চিত করে মহানবী (সা.) যে শান্তিপূর্ণ সমাজব্যবস্থার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, জাতীয় জীবনেও তা অনুসরণীয়। সেই শিক্ষাকে পাথেয় করে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নিরাপদ রাষ্ট্র গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি, যেখানে প্রতিটি নাগরিক স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবেন।

জাতীয় জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ইসলামী সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন এবং বিভাগীয় পর্যায়ে ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ধর্মীয় মূল্যবোধ বিকাশের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট চালু করে সেই ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করেন।

ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের সেবাদানকারীদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০৩০ সালের আগেই দেশের সব মসজিদসহ অন্যান্য উপাসনালয়কে এই সরকারি ভাতার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আলেম-ওলামা ও পীর-মাশায়েখদের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সত্য, ন্যায় ও মানবতার বাণী প্রচারের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে সমাজ থেকে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, গুজব, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন নির্মূলে ধর্মীয় নেতাদের সোচ্চার ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন তিনি।


নির্বাচিত

খরা সহনশীলতা জোরদারে আঞ্চলিক সহযোগিতা, ন্যায্য পানি বণ্টন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান পরিবেশ মন্ত্রীর

মঙ্গোলিয়ার উলানবাটরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশন (UNCCD)-এর ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (COP17)-এর “Accelerating Drought Resilience” শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

খরা সহনশীলতা জোরদারে আঞ্চলিক সহযোগিতা, ন্যায্য পানি বণ্টন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, এমপি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মঙ্গোলিয়ার উলানবাটরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশন (UNCCD)-এর ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (COP17)-এর “Accelerating Drought Resilience” শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে মন্ত্রী এই আহ্বান জানান। তিনি খরা মোকাবিলায় কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতা, ন্যায্য পানি বণ্টন, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে খরা ও ভূমি অবক্ষয় পরস্পর সম্পর্কিত। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিয়মিতভাবে খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎসের ক্ষতি করছে। বন্যা ও নদীভাঙনের প্রভাব এ সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।

তিনি জানান, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ৫ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন হেক্টর জমি খরাপ্রবণ। সেখানে প্রায় ১৬ হাজার গভীর নলকূপ দিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে অনেক এলাকায় পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। এসব এলাকায় নতুন সেচ কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-মেটিওরোলজিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমস (BAMIS)-এর মাধ্যমে খরার সূচক পর্যবেক্ষণ করে কৃষকদের এসএমএস, ভয়েস কল ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফসলভিত্তিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ন্যাশনাল গ্রিন মিশন-এর আওতায় সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকৃতিনির্ভর খরা মোকাবিলার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভূপৃষ্ঠের পানির প্রাপ্যতা বাড়বে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে। বাংলাদেশ এই অভিজ্ঞতা অন্যান্য পানিসংকটপ্রবণ দেশের কাজে লাগবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপকূলীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ার ফলে লবণাক্ত পানি কৃষিজমি ও খাবার পানির উৎসে প্রবেশ করছে, যা লাখো মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে ফেলছে। এ সংকট মোকাবিলায় ন্যাশনাল গ্রিন মিশনের আওতায় উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন সম্প্রসারণ কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা ভূমি অবক্ষয় মোকাবিলারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। খরা সহনশীলতা গড়ে তুলতে অববাহিকাভিত্তিক সহযোগিতা ও ন্যায্য পানি বণ্টনকে মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (National Adaptation Plan)-এ ২০৫০ সাল পর্যন্ত খরা মোকাবিলার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি International Drought Resilience Observatory চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশের BAMIS-এর তথ্য এ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল ফসলের জাত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে প্রযুক্তি হস্তান্তর আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ খরা ও ভূমি অবক্ষয়ের তীব্র ঝুঁকির মুখোমুখি। তিনি একটি আগাম প্রস্তুতিমূলক, পর্যাপ্ত অর্থায়নসমৃদ্ধ এবং কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতাভিত্তিক আন্তর্জাতিক খরা সহনশীলতা কাঠামো গড়ে তুলতে UNCCD-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, প্রতিনিধি দলের প্রধানরা অংশ নেন। এছাড়া FAO, ESCAP, IOM, UNICEF, UNDRR, UNDP, IFAD, AIIB, আফ্রিকান ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

মহানবীর (সা.) আদর্শে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

আগামীকাল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।

মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে শুকরিয়া আদায় করে তিনি বলেন, ‘যিনি মানবজাতির হেদায়েত, কল্যাণ ও মুক্তির জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তাঁর প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।’

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন মানবজাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ ও যুগান্তকারী ঘটনা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতির জন্য ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ ও মুক্তির দূত হিসেবে আবির্ভূত হন। মহানবী (সা.)-এর ওপর মানবজাতির পথপ্রদর্শক ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান পবিত্র কুরআন নাজিল হয় এবং তাঁর মাধ্যমে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার আদর্শে শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়। মহান আল্লাহ মহানবী (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেন ‘সমগ্র জগতের জন্য রহমত’ হিসেবে। পবিত্র কুরআনে তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রশংসা করে মহান আল্লাহ বলে ‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী’(সুরা আল-কলম, ৪)। মানবমুক্তির এই দিশারি তাঁর অনুপম চরিত্র, মহান আল্লাহর প্রতি অবিচল আনুগত্য এবং ন্যায়, শান্তি ও কল্যাণের চিরন্তন আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। তাঁর জীবন ও আদর্শ চিরকাল মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।’

তিনি বলেন, মহানবী (সা.) তাঁর জীবন ও কর্মের মাধ্যমে সত্য, ন্যায়, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানুষের মর্যাদার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায়, বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। নারী, শিশু, প্রতিবেশী, মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে দিয়ে গেছেন সুস্পষ্ট নির্দেশনা। বিদায় হজের ভাষণের মাধ্যমে তিনি মানবিক মার্যাদা, অধিকার, সাম্য, ন্যায় ও পারস্পরিক দায়বদ্ধতার যে শিক্ষা দিয়েছেন, তা সর্বজনীন ও সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বদা অনুসরণীয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বর্তমান যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য ও অসিহষ্ণুতায় বিপর্যন্ত বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শ ততোধিক প্রাসঙ্গিক। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর এই পবিত্র ও মহিমান্বিত সময়ে আসুন, আমরা তাঁর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করি এবং শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি।’

তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। কায়মনোবাক্যে দোয়া করি, বাংলাদেশ ও পৃথিবীর সকল মানুষের উপর আল্লাহর রহমত, বরকত, অপার শান্তি ও কল্যাণ বর্ষিত হোক।’

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

সংবিধান মেনেই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের শপথ: আইনমন্ত্রী

ছবি: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে ওঠা আলোচনার জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সংবিধান ও আইন মেনেই তাঁর নিয়োগ ও শপথ পরিচালনা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী একথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, আইনে যা রয়েছে সেটির ব্যত্যয় ঘটিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে গৃহীত প্রতিটি পদক্ষেপ সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে থেকেই করা হয়েছে এবং এই শপথ বিধানের সাংবিধানিক মূল নীতি বা 'ডিমিং ক্লজ' মেনেই বাস্তবায়িত হয়েছে।

সম্প্রতি টেকনোক্র্যাট কোটায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকা নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে এই বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তবে এর পূর্বে নিজ অফিসে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী সরাসরি মন্তব্য না করে প্রশ্নটিকে এড়িয়ে যান।


নির্বাচিত

অন্তর্বর্তী সরকারও ২ বছরে গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নেয়নি: তথ্য উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘আমরা জনগণের সমস্যার প্রতি সমব্যথী, কিন্তু এই সংকটটা বহু বছরের পুঞ্জীভূত। দুই বছরের মতো সময় অন্তর্বর্তী সরকার ছিল, তারাও স্থলভাগে গ্যাস খোঁজার চেষ্টা করেনি।’

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের ভাগ্য ভালো, তাদের সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ হয়নি।’

তিনি জানান, গত বছর গ্যাসের দাম যেখানে ১২ থেকে ১৪ ডলার ছিল, এ বছর তা বেড়ে ২৪ ডলারে পৌঁছেছে।

গ্যাস সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমাদের এফএসআরইউ যেটা নষ্ট হয়েছিল, সেটা ঠিক করা হয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে গ্যাসের যে কার্গো আছে, সেই কার্গো সাপ্লাই আসতে একটু সমস্যা হচ্ছে। সেটা হলে সংকট অনেকটা ঠিক হয়ে যাবে।

এ সময় উপদেষ্টা গ্যাসসংকট সমাধানে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, কারখানা টিকিয়ে রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল এককালীন না দিয়ে ১২ মাসের কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে। প্রাকৃতিক গ্যাস বাঁচাতে এবং গ্যাসের ওপর চাপ কমাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদন সর্বোচ্চে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, ভোলার নতুন গ্যাসক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে দ্রুত গ্যাস যুক্ত করতে ৫০০ কোটি টাকায় একটি জরুরি পাইপলাইন নির্মাণের সম্ভাবতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। এটা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

দেশে সারের সংকট নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সারের সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, অতিরিক্ত সার রক্ষিত আছে। কোনো কোনো জায়গায় সার বিতরণের কিছু অনিয়ম হয়তো এসেছে। অনিয়মগুলো সরকার আমলে নিয়ে সেটার জন্য খুব দ্রুত ব্যবস্থাও নিচ্ছে।’

সরকার সার বিতরণব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘এই পরিবর্তনটা কৃষক এবং জনগণের স্বার্থে। সেটা নিয়ে কিছুটা অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। নতুন প্রসেসের সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করতে সমস্যাগুলো হচ্ছে।’

এ সার নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি জানান, সারের যেন কোনো ঘাটতি না হয়, সে জন্য প্রচুর সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ক্রয় কমিটির বৈঠকে ৩ লাখ ৬৫ টন সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে কানাডা, রাশিয়া এবং সৌদি আরব থেকে আরো ১ লাখ ১৫ হাজার টন অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

দেশে ইউরিয়ার মজুদ আছে ৪ দশমিক ৮২২ লাখ মেট্রিক টন, টিএসপি ৩ দশমিক ৬৯, ডিএপি ৩ দশমিক ৬৮, এমওপি ১ দশমিক ৪৬- অর্থাৎ মোট ১৩ দশমিক ৬৫ লাখ মেট্রিক টন মজুদ আছে।


নির্বাচিত

অবৈধ পথে বিদেশযাত্রায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

ছবি: প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে বিদেশযাত্রার প্রবণতা রোধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘দালালরা বাইরের কেউ নন, তারা এলাকারই মানুষ। কেউ কেউ বিদেশে বসে স্থানীয়দের প্ররোচিত করে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করছেন।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘নিরাপদ অভিবাসন ও অবৈধ পথে বিদেশ গমন প্রতিরোধ’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে বিদেশ যাওয়ার পর লাশ হয়ে দেশে ফিরে আসা কারও জন্যই কাম্য নয়। এতে পরিবারের পাশাপাশি এলাকার সুনামও ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে সমুদ্রপথে বিদেশ যাব না—এই বার্তা গ্রামগঞ্জে পৌঁছে দিতে হবে।’ একই সঙ্গে সবাইকে অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে বৈধ পথে প্রায় এক কোটি মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।’

এর আগে সুনামগঞ্জ সার্কিট হাউসে জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

এ সময় সংসদ সদস্য কয়ছর এম আহমেদ, কলিমউদ্দিন মিলন, কামরুজ্জামান কামরুল, নূরুল ইসলামসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে আজ দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভাগমন মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও মহিমান্বিত ঘটনা। তাঁর আবির্ভাব মানুষের জন্য সত্য ও আলোর এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। তিনি মানুষকে তাওহিদের দিকে আহ্বান করার পাশাপাশি সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, মানবিকতা ও শান্তির শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর পবিত্র জীবন ও কর্ম সমগ্র মানবজাতির জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ ও অনুসরণীয় আদর্শ হয়ে আছে।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানসহ বিশ্বের সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি, যিনি মানবজাতির হেদায়াত ও কল্যাণের জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তাঁর প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।’

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’ (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ২১)। মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল পবিত্র কুরআনের শিক্ষার বাস্তব ও জীবন্ত প্রতিফলন। সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, দয়া ও পরোপকারের অনন্য দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন। তাঁর জীবনাচরণে আমরা যেমন আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্যের শিক্ষা পাই, তেমনি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও মহানুভবতার অপূর্ব প্রকাশ দেখতে পাই।

মহানবী (সা.) জাতি, বর্ণ, গোত্র, ভাষা ও সামাজিক অবস্থানের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় জোর দিয়েছেন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল ও সহমর্মী হওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। পরিবার, প্রতিবেশী, নারী, শিশু এবং সমাজের দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর শিক্ষা মানুষে মানুষে বিভেদ নয়, বরং ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা ও নৈতিক অবক্ষয় মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনকে ব্যাহত করছে। এমন এক সময়ে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা, ক্ষমা ও মানবিকতার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের মাদক, সন্ত্রাস, উগ্রতা ও অপরাধের পথ থেকে দূরে রেখে জ্ঞান, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের চেতনায় গড়ে তুলতে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ হতে পারে এক অনন্য প্রেরণার উৎস। তাঁর আদর্শ তরুণদের সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা শুধু মুসলমানদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য নয়, মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশের ক্ষেত্রেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। তাঁর আদর্শকে আমাদের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক আচরণে ধারণ করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও ন্যায়বোধকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান জীবনাদর্শ ও সুন্নাহ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের ব্যক্তি ও সমাজজীবনে সত্য, ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার চেতনাকে আরো সুদৃঢ় করুক। বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সমৃদ্ধি ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত হোক-এই পবিত্র দিনে এটাই আমার আন্তরিক প্রার্থনা।’

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে তিনি দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

বুদ্ধিবৃত্তিক ফ্যাসিজম চর্চাকারীদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যারা ইন্টেলেকচুয়াল বা বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে ফ্যাসিজমকে সমর্থন ও প্রচার করেন, তাদের সামাজিকভাবে ধিক্কার জানানো এবং বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, “যেসব গণমাধ্যম বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা-চেতনায় ফ্যাসিজমকে সাপোর্ট করে বা প্রমোট করে, তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করা ছাড়া সরকারের সরাসরি কিছু করার নেই। যারা মুক্ত ও স্বাধীন বাংলাদেশের চেতনায় বিশ্বাস করে না, সামাজিকভাবে বয়কট হওয়াই তাদের জন্য সবচেয়ে বড় বিচার।” তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, বর্তমান সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এবং বিগত ১৭ বছরের মতো সমালোচনার মুখ বন্ধ করার কোনো মানসিকতা এই সরকারের নেই।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, “গণতন্ত্র একটি মানসিকতার বিষয়। আমরা আপনাদের কাছ থেকে গঠনমূলক ও বস্তুনিষ্ঠ সমালোচনা আশা করি, যাতে আমরা নিজেদের ভুল শুধরে নিয়ে দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারি।” তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ১৭ বছরে দেশের প্রতিটি প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। এমন একটি ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তোলা সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আন্দালিভ রহমান বলেন, বিষয়টি বর্তমানে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। জুলাই আন্দোলনসহ বিগত সময়ের সকল অপরাধের ন্যায়বিচারের স্বার্থে যাদের নামে মামলা রয়েছে, তাদের প্রত্যেককে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এছাড়া সংবাদপত্রের ভুয়া প্রচারসংখ্যা (সার্কুলেশন) দেখানোর অনৈতিক প্রক্রিয়া বন্ধে মন্ত্রণালয় কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও তিনি জানান।

ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকারের সমালোচনা করার পূর্ণ স্বাধীনতা জনগণের রয়েছে। তিনি জানান যে, এখন থেকে বিটিভি এবং অন্যান্য সরকারি গণমাধ্যমে আনুপাতিক হারে বিরোধী দলগুলোর খবরও গুরুত্বের সাথে প্রচার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের কল্যাণে ট্রাস্ট ফান্ডের অনুদান দ্বিগুণ করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং অসুস্থ সাংবাদিকদের জন্য ইতোমধ্যেই এক কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সরকারের ৬ মাসের অর্জনের ওপর ভিত্তি করে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান: গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ৬ মাস’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম। মূলত গণমাধ্যমের সুস্থ ধারা ফিরিয়ে আনাই সরকারের বর্তমান লক্ষ্য।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:১৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন দেশের তিন বাহিনীর প্রধান। আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে বঙ্গভবনে পৃথকভাবে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করেন।

সাক্ষাৎকালে তিন বাহিনীর প্রধানগণ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করায় আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। তাঁরা প্রত্যেকে নিজ নিজ বাহিনীর বর্তমান কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে বিস্তারিত অবহিত করেন। একই সাথে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপতির মূল্যবান দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন তাঁরা।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং বর্তমান কার্যক্রমে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক ও দক্ষ চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।" রাষ্ট্রপতি আরও আশ্বাস দেন যে, তাঁর কার্যকালে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সামগ্রিক উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

তিন বাহিনীর প্রধানের সাথে এই বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই ছিল সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ।


নির্বাচিত

ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নতুন নীতিমালা: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে সরকার একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। এই নীতিমালায় রিকশা চলাচলের সুনির্দিষ্ট এলাকা, যানবাহনের কারিগরি মান এবং চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকার বড় ও প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত রিকশার আধিক্য দেখা গেছে। এতে যাতায়াতে কিছুটা সুবিধা হলেও তীব্র যানজট এবং নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। রিকশাগুলোর ব্রেকিং সিস্টেমসহ কারিগরি সক্ষমতা এবং চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ধারণা না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। এই শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই দ্রুত নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মৎস্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, কিশোরগঞ্জের কাটিয়াদীতে মৎস্য সপ্তাহের সফল উদ্বোধন করা হয়েছে এবং দেশের মৎস্য উৎপাদনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পদক দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, মিঠাপানির মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে বর্তমানে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। কিশোরগঞ্জের লতিফাবাদ ইউনিয়ন থেকে এই কার্যক্রমের সূচনা হয়েছে। ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, চলতি অর্থবছরে দেশের প্রায় ৪১ লাখ পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে, যার জন্য সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা।

উপদেষ্টা এই বিশাল ব্যয়ের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে বলেন, পিছিয়ে পড়া মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছালে তা বাজারে চাহিদা তৈরি করবে এবং এর মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসা ও শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ১৪ হাজার কোটি টাকার এই প্রবাহ অর্থনীতিতে কয়েক গুণ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। মূলত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।


নির্বাচিত

ঢাকার পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করবে ডেনমার্ক: এলজিআরডি মন্ত্রী

আজ স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেন ব্রিক্স মোলার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার ক্রমবর্ধমান বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে ডেনমার্কের প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহযোগিতা বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। আজ তাঁর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেন ব্রিক্স মোলারের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের পথে ডেনমার্ক একটি দীর্ঘকালীন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পানি সরবরাহ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদনের মতো উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলোতে ডেনমার্কের বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধি পাবে।

বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের (ফেজ-৩) অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই মেগা প্রকল্পে ডেনমার্ক সরকার মোট সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের নিশ্চয়তা দিয়েছে। যার মধ্যে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সরাসরি অনুদান এবং বাকি ৩ হাজার কোটি টাকা অত্যন্ত সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ হিসেবে প্রদান করা হবে।

বৈঠক পরবর্তী এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ঢাকার বিশাল জনসংখ্যার বিশুদ্ধ পানির সংকট অনেকাংশে লাঘব হবে। তিনি একে সরকারের একটি বড় কূটনৈতিক ও উন্নয়ন সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেন।

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেন ব্রিক্স মোলার মন্ত্রীকে তাঁর নতুন দায়িত্বের জন্য অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। উক্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান এবং ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

চলতি অর্থবছরেই সকল স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের ব্রিফিং করছেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি অর্থবছরের মধ্যেই দেশের পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, এই নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে জাতীয় বাজেটে ৬ হাজার কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলারের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই তথ্য জানান। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানও উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমতিক্রমে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাচনের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাথে বৈঠকে বসবে মন্ত্রণালয়। নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তফসিল ও তারিখ ইসি নির্ধারণ করলেও, মন্ত্রণালয় এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে কাজ করছে। ইসির সাথে আলোচনার পর মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ব্রিফিং করবে বলে তিনি জানান।

বৈঠকের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে মীর শাহে আলম জানান, ঢাকার পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে ডেনমার্ক বড় ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে। বিশেষ করে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের কাজ শেষ করতে ডেনমার্ক সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দেবে। মোট ১৬ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে ডেনমার্কের দেওয়া অর্থের মধ্যে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা হবে অনুদান এবং বাকি ৩ হাজার কোটি টাকা আগামী ২০ বছরে সহজ শর্তে পরিশোধযোগ্য ঋণ। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মেঘনা নদী থেকে দৈনিক ৯৫ কোটি লিটার পানি শোধন করে নগরবাসীকে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

এছাড়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তার জন্য ডেনমার্ক আরও ১০০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও প্রতিমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন।


নির্বাচিত

banner close