মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
২৩ চৈত্র ১৪৩২

শুল্ক কমালেও খেজুরের দাম নাগালের বাইরে

উচ্চ শুল্কের কারণে বাড়তি দাম, বলছেন ব্যবসায়ীরা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৩ মার্চ, ২০২৪ ০০:১৬
রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত
রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ৩ মার্চ, ২০২৪ ০০:১৬

খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছিল ৫৩ শতাংশ, ৮ ফেব্রুয়ারি ১০ শতাংশ কমিয়ে করা হয়েছে ৪৩ শতাংশ। শুল্ক কমানোর পরও দাম কমেনি খেজুরের। উল্টো দাম বেড়েছে। যদিও বন্দর থেকে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। গত কয়েক দিনে ৬০৫ কনটেইনার খেজুর খালাসের কার্যক্রম চলছে এবং প্রতিদিনই খালাস অব্যাহত রয়েছে।

জানা গেছে, আগামী ১২ মার্চ পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনা করেন। দিনভর রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে খেজুর। খেজুর ছাড়া এখন আর ইফতারের কথা ভাবা যায় না। প্রায় সব রোজাদারই খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করেন। এ কারণে রমজান মাসে চাহিদা বেশি থাকা পণ্যগুলোর একটি খেজুর। পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে চলতি মাসে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি বাজারে তদারকি ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা কোনো কাজেই আসছে না। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের বাজারে খেজুরের দাম প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়েছে।

৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি আদেশে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনার ঘোষণা দেয়। এর আগে খেজুর আমদানিতে সর্বমোট ৫৩ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে খেজুরের শুল্কায়ন মূল্য প্রতি টন ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৭৫০ ডলার। এর সঙ্গে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ, রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ ও ভ্যাট ১৫ শতাংশ। পাশাপাশি অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর ৫ শতাংশ হারে দিতে হচ্ছে। এতে বর্তমানে সর্বমোট ৪৩ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত রোজার আগে মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরে শুল্ক দিতে হতো ৫ দশমিক ৪৫ থেকে ২১ দশমিক ৮৪ টাকা। তবে এবার খেজুরকে ‘বিলাসীপণ্যের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে খেজুরের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫৩ শতাংশ করা হয়। ফলে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বেড়ে গেছে। এবার শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫৪ থেকে ২০৮ টাকা। মূলত শুল্কের প্রভাব পড়েছে খেজুরের দামে। গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি খেজুরে জাতভেদে দাম বেড়েছে ১০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত। দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া খেজুরের মধ্যে রয়েছে দাবাস, জাহিদি, বরই ও গলা খেজুর।

চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গলা বা বাংলা খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, জাহিদি খেজুর ২৪০-২৬০ ও মানভেদে দাবাস খেজুর ৪৫০-৫৫০ টাকায়। এ ছাড়া বরই খেজুর মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৪০-৫৪০ টাকায়। গত বছর এসব খেজুরের দাম ছিল বর্তমান দরের অর্ধেকেরও কম।

এদিকে অভিজাত শ্রেণির কাছে পছন্দের খেজুরের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের মেডজুল, মাবরুম, আজওয়া ও মরিয়ম। গত এক মাসের ব্যবধানে এসব খেজুরের দাম কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে। জাম্বো মেডজুল মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, সাধারণ মেডজুল ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০, মাবরুম খেজুর ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, আজওয়া খেজুর মানভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো জাতের মরিয়ম বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এ ছাড়া কালমি মরিয়ম ৮০০-৯০০ টাকা, সুফরি মরিয়ম ৭৫০-৮০০, আম্বার ও সাফাভি ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ ও সুক্কারি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়।

খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে রোজার আগে জাহিদি জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি (১০ কেজি) ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। শুল্ক আরোপের কারণে দাম বাড়ার পর গত বছরের শেষ সপ্তাহেও একই জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা। তবে এখন ১০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েও এই জাতের খেজুরের কার্টন হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা।

পাইকারি ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি ৫ কেজির এক কার্টন মেডজুল খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার টাকায়। গত বছর এ খেজুর বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়। অন্যদিকে সাধারণ খোলা খেজুর প্রতি কেজি ফেব্রুয়ারির শুরুতে কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ছিল ১২৮-১৩০ টাকা। বর্তমানে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকায়।

পাইকারি বাজার সূত্রে জানা গেছে, বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় জাহিদি জাতের খেজুর। এক বছর আগে প্রতি কেজি খেজুর খুচরা পর্যায়ে ১৫০ টাকায় পাওয়া যেত। শুল্ক কমানোর পর বর্তমানে এ খেজুর খুচরায় বিক্রি করতে হবে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য আমদানি করা খোলা (বস্তায় বিক্রি হওয়া ভেজা খেজুর) রোজা আসার আগেই কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ১৫৫ টাকায় উঠে গেছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে এ মানের খেজুর বিক্রি করতে হবে কমপক্ষে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। অবশ্য গতকাল বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল হক টিটু ঘোষণা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে খেজুর পৌঁছে দিতে বস্তায় আসা জাহিদি খেজুরের দাম কমানো হবে। আজ রোববার (৩ মার্চ) এই খেজুরের দাম কমানোর ঘোষণা আসার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিনে সবচেয়ে বেশি খেজুর বন্দর থেকে খালাস নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগে বন্দর থেকে দিনে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলেও এখন সেটা ৭০ কনটেইনারে গিয়ে টেকেছে। কিন্তু দাম কমছে না।

ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকার শুল্ক কমানোর পর ব্যবসায়ীরা খেজুর খালাসে তোড়জোড় শুরু করেছে। শুল্ক কমানোর পরও ভোক্তারা কম দামে খেজুর কিনতে পারছেন না। শুল্ক কমানোর পর পর্যাপ্ত আমদানি হলেও দাম কেন কমছে না বিষয়টি তদারকি করতে হবে। তদারকি না করলে রোজায় খেজুর কিনতে পারবে না ভোক্তারা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৬৩ টন খেজুর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস করেছেন আমদানিকারকরা। ১৪৫ দিনের মধ্যে গত ১৫ দিনেই বেশি খেজুরের চালান খালাস হয়েছে। ২৮ ধরনের খেজুর দেশের ৮২টি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্দান, মিসর, আলজেরিয়া, নামিবিয়া, তিউনিশিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আমদানি করেছে।

জানা গেছে, চার মাস আগে খেজুর আমদানি করলেও শুল্ক কমবে এ আশায় ব্যবসায়ীরা পণ্যটি চট্টগ্রাম বন্দরে গুদাম করে রেখেছিলেন। ফলে বেসরকারি ১৯টি ডিপোতে ১ হাজার কনটেইনার (প্রতি কনটেইনারে ২২-২৪ হাজার কেজি খেজুর থাকে) খেজুর পড়ে ছিল। এখন খেজুরভর্তি ৬০৫টি কনটেইনার খালাস চলছে। এখনো খেজুরভর্তি ৩৯৫টি কনটেইনার খালাসের উদ্যোগ নেয়নি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার কাজী ইরাজ ইশতিয়াক বলেন, প্রচুর পরিমাণে খেজুর খালাস হচ্ছে। প্রতিদিনই খালাস করছেন আমদানিকারকরা। তিনি বলেন, খেজুরের শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

তিনি জানান, খেজুরের চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। একেকটি ক্যাটাগরির একেক রকম শুল্কহার হয়। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির প্রবণতাও রয়েছে। অনেক সময় উচ্চ শুল্কহারে খেজুর এনে কম শুল্কহারে ঘোষণা দেওয়া হয়। এমন বেশ কিছু ঘটনাও ঘটেছে। এ জন্য আমরাও সতর্ক আছি, যেন সরকার রাজস্ব বঞ্চিত না হয়।

উচ্চ শুল্কহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা এনবিআর নির্ধারিত, এ ব্যাপারে আমাদের বলার বা করার কিছু নেই। আমরা নির্ধারিত শুল্ক নিয়ে খালাসের ব্যবস্থা করি। খেজুর বিলাসী পণ্য কি না, এ বিষয়েও তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

খাতুনগঞ্জের ডেটস অ্যান্ড ড্রাই ফ্রুটস আমদানিকারক মো. ওমর ফারুক বলেন, খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ট্যাক্স ১০ শতাংশ কমালেও অন্যান্য শুল্ক ঠিক রেখেছে এনবিআর। ফলে উচ্চমাত্রায় ট্যাক্স দিয়েই আনতে হচ্ছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সামান্য এ শুল্ক কমানোয় খেজুরের দামে প্রভাব পড়বে না।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সুলতান আরেফিন বলেন, শুল্ক কমানোর পর থেকে আমদানিকারকরা খেজুর খালাস নিতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। আগে প্রতিদিন গড়ে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলে এখন সেটি ৭০ কনটেইনার খালাস হচ্ছে।

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতি কেজি খেজুর ১১০ টাকায় কিনলে ১৪০-১৫০ টাকা শুল্ক দিতে হয়। ১২০ টাকায় কিনলে ২০৮ টাকা শুল্ক দিতে হয়। গত বছর ৯০ টাকায় ডলার কিনতে পারতাম। এ বছর ১২০-১২২ টাকা দিতে হচ্ছে। কাস্টমস থেকে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ইচ্ছেমতো করা হচ্ছে। এলসি যে মূল্যে খুলছি সে অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ করা হলে খেজুরের দাম অর্ধেকে নেমে আসে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না।

বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, পণ্য বন্দরে আসার পর শুল্ক পরিশোধ করে খালাস করতে হয়। এসব কাস্টমসের বিষয়।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমেদ বলেন, ডলারের দাম বাড়াতে পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে যায়। এর পরও ব্যবসায়ীরা সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছেন।


চিফ হুইপের সঙ্গে আমেরিকান দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট জেমসের সাক্ষাৎ

গতকাল জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি'র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন আমেরিকান দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট জেমস।ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি'র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আমেরিকান দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট জেমস।
গতকাল সেমাবার সংসদ ভবনে চিফ হুইপের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি ও কার্যকর সংসদ বাস্তবায়নে গৃহীত সরকারের ভূমিকার বিষয় নিয়ে স্টুয়ার্ট জেমস'র সঙ্গে আলোচনা হয়।
এ সময় চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিরোধী দলকে রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জয়লাভের পর বিরোধীদলীয় নেতার বাসায় গিয়েছেন, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন। বিরোধী দল থেকে আনুপাতিক হারে সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দেয়ার বিষয়েও ভাবছেন। সংসদকে গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে যা যা প্রয়োজন তার সবই তিনি করবেন।
চিফ হুইপ বলেন, গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সঠিক পথে নিতে হলে সংবিধান সংশোধনের কোনো বিকল্প নেই। ব্যক্তি স্বার্থে এই সংবিধান অনেক জায়গায় পরিবর্তন এনেছে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার। জনগণের স্বার্থে এই সংবিধানকে আবারও জনবান্ধব করতে হবে। তাই বলে বিদ্যমান সংবিধান বাতিল করার কোনো সুযোগ নেই। তবে সব দলের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সংবিধানে পরিবর্তন আনতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদে এসেছি। সংবিধান সংশোধনের জন্য আমরা সংখ্যায় যথেষ্ট হলেও আমরা চাই সবার মতামতের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন। সবাইকে সাথে নিয়েই আমরা পথ চলতে চাই। বর্তমান সরকারের কাছে সবার আগে বাংলাদেশ।
তিনি যোগ করেন, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে। আমরা যে বিষয়ে একমত হয়েছি তার পুরোটাই বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা শুধু বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে সবার সাথে আলোচনা করতে চাই।
স্টুয়ার্ট জেমস বর্তমান সরকারের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়নে গৃহীত জনবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করেন।


ফ্যাসিস্ট ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল ব্যবস্থাপনায় দেশে হামের প্রাদুর্ভাব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের জন্য পূর্ববর্তী সরকারগুলোর ভুল ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, হাম-রুবেলার বিশেষ টিকা দেওয়ার ক্যাম্পেইন সর্বশেষ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দীর্ঘ সাড়ে ৫ বছর যাবত হয়নি। ফলে নতুন জন্ম নেওয়া শিশুসহ অন্যরা হামের টিকা আওতার বাইরে থেকে যায়, যারা এখন হামে আক্রান্ত হচ্ছে।

সোমবার জাতীয় সংসদে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের নোটিশের জবাবে এসব কথা জানান। গত ২৯ মার্চ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, গত ৮ বছর দেশে হামের টিকা দেওয়া হয়নি।

নোটিশে আখতার হোসেন বলেন, গত তিন সপ্তাহে সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১১৫-এর বেশি, নিশ্চিত মৃত্যু ২০ জন। হাজার হাজার শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, গত ৮ বছর হামের টিকা দেওয়া হয়নি। এটা সঠিক তথ্য কি না, সেটা নিয়ে হামের টিকা প্রদাণকারী মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের উৎকণ্ঠা বা ভিন্নমত খেয়াল করছি। সেক্ষেত্রে কেন হামের টিকা দেওয়া হয়নি, তা আমাদের অবাক করে। আমরা জানি হামের চিকিৎসার জন্য আইসোলেশন প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন একেবারেই নেই। জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালসহ বড় বড় হাসপাতালেও নেই। বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলের কথা বেশি সামনে এসেছে। হাসপাতালে আইসিইউ ও এনআইসিইউ নেই।

আখতার হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশে হামের টিকা দেওয়া হয় নয় মাস থেকে। কিন্তু এখন ছয়মাস বয়সীরা আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের রোগতত্ত্ব বিশারদরা কি কারণে এটা চিহিত করতে পারলেন না, সেটা নিয়ে তদন্ত করা উচিত।’ হাম মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের কথা জানতে চান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘অতীতের সরকারগুলোর সম্পূর্ণ ভুল ব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার কারণে...সরকারগুলো বলতে ফ্যাসিস্ট সরকার এবং সর্বশেষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ইঙ্গিত করতেছি। তাদের ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। হাম-রুবেলার বিশেষ টিকা দেওয়ার ক্যাম্পেইন সর্বশেষ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দীর্ঘ সাড়ে ৫ বছর যাবত হয়নি। যা প্রতি চার বছর হওয়ার কথা। ফলে নতুন জন্ম নেওয়া শিশুসহ অন্যরা হামের টিকা আওতার বাইরে থেকে যায়, যারা এখন হামে আক্রান্ত হচ্ছে। টিকা কেনা ও সংগ্রহে পূর্ববর্তী সরকারের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে টিকার মজুতে সংকট দেখা দিয়েছে। এতে হামের টিকাসহ আরও ছয় ধরণের টিকার অভাব দেখা দেয়। যার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে।’

জরুরি টিকাদান কর্মসূচি ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলার ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি টিকাদান শুরু হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১২ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম দিনেই ৩০টি উপজেলায় ৭৬ হাজার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে (সাফল্য ৯৬ শতাংশ)। এছাড়া আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এবং ৩ মে থেকে সারাদেশে অবশিষ্ট এলাকায় কর্মসূচি শুরু হবে। একই সঙ্গে রোববার থেকে দেশে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।

হাসপাতালে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে মন্ত্রী জানান, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহীতে আরও ২৫০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর প্রস্তুতির পাশাপাশি আইসিডিডিআর-বি এর মাধ্যমে মাত্র ৩০০ টাকা ব্যয়ে উদ্ভাবিত নতুন অক্সিজেন প্রবাহ সিস্টেম ব্যবহার করে ফুসফুসে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জরুরি ভিত্তিতে টিকা কেনা হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাম মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি। এ খাতে ঋণ ও অনুদান পাওয়ার আশা করেন মন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য আক্তার হোসেন মাঠ পর্যায়ের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে বলেন, কাগজে-কলমে বরাদ্দ থাকলেও সাধারণ মানুষ হাসপাতালে আইসোলেশন বা আইসিইউ সুবিধা পাচ্ছে না। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের প্রায় ২৫ শতাংশ অব্যয়িত থেকে যায়। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরেও ১১ হাজার কোটি টাকা খরচ করা সম্ভব হয়নি।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, করোনাকালীন সময়ের অব্যয়িত ৬০৪ কোটি টাকা দিয়ে ইউনিসেফ থেকে অতিরিক্ত হামের টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে টিকার কোনো শর্টেজ না হয়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় সতর্ক রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের তদারকি বাড়াতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং উন্নয়ন সহযোগীদের (বিশ্বব্যাংক, ইউনিসেফ) সাথে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।


প্রত্যেক নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। বর্তমান সরকার ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রত্যেক নাগরিকের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, এ নীতির আলোকে রোগীর মৌলিক পরিচয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে সকল নাগরিককে ইলেক্ট্রনিক হেলথ (ই-হেলথ) কার্ড প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস’ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস’ পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। বিজ্ঞানী, বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যসেবায় সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সহায়তায় একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার মূল লক্ষ্যের আলোকে দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’ সময়োচিত ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি বিনামূল্যে মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার এবং দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্য খাত গড়ে তুলতে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, গৃহীত কর্মসূচিসমূহের সফল বাস্তবায়ন, নিবিড় মনোযোগ ও যথাযথ বিনিয়োগের ফলে অচিরেই সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ও সূচকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধিত হবে।

তিনি বলেন, ‘মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্য একে অপরের পরিপূরক। আধুনিক সভ্যতার নানাবিধ নেতিবাচক অনুষঙ্গের কারণে পৃথিবীর উদ্ভিদ, প্রাণি ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বিজ্ঞানের উৎকর্ষকে কাজে লাগিয়ে একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’

তিনি সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসক, গবেষক, পরিবেশবিদ, প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞসহ সকল অংশীজনকে একটি সর্বজনীন সমন্বিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করেন।


পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন ২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নবম পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দ রেখে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্মারকলিপি দিয়েছেন সরকারি কর্মচারীরা। সোমবার এ স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিটি সেক্টরে নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়নসহ সব সেবামূলক কার্যক্রমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল হওয়ার পর প্রায় ১১ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, দীর্ঘ এই সময়ে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাপনের ব্যয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সরকারি নিম্ন গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা ২০১৫ সালের বেতন দিয়ে জীবনযাপনে চরমভাবে আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মচারী ব্যাংক ও প্রবিডেন্ট ফান্ড থেকে বারবার ঋণ নিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বর্তমান নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। ২০১৫ সালের বেতন কাঠামোতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সঙ্গে বেতন সমন্বয়ের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এক কথায় নিম্ন গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।


সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবিতে ডিআরইউর সমাবেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবি করেছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) নেতারা। সোমবার ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় আয়োজিত সমাবেশে এ দাবি করেছেন বক্তারা।

ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের বয়স মাত্র দেড় মাস। ডিআরইউ আশা প্রকাশ করছে এই সরকার শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক নেতৃত্বের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করবে। ঘরে ঢুকে সংঘটিত এই নির্মম হত্যার দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে সংগঠনটি সরকারের প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কাছে বিনীতভাবে আহ্বান জানিয়েছে।

ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো সরকারই এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে চাইনি। চাইলে এতদিন সময় লাগার কথা নয়। একে একে তিন সরকার এলো। কিন্তু সাগর-রুনি হত্যার বিচারের কোনো অগ্রগতিই হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ পিছিয়েছে ১২৫ বার। চাঞ্চল্যকর এমন কোনো হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এতবার পেছানোর কোনো নজির আছে কিনা জানা নেই।

ডিআরইউর সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার দীর্ঘদিনেও সম্পন্ন না হওয়ায় একের পর এক সরকার জনগণকে হতাশ করেছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছেও বিচার পাওয়ার আশা ছিল, কিন্তু তারাও তা সম্পন্ন করতে পারেনি। এখন বর্তমান বিএনপি সরকারের কাছে প্রত্যাশা— তারা যেন এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করে প্রমাণ করে যে খুনিদের ক্ষমতার চেয়ে আইনের শক্তি অনেক বেশি।

এ সময় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন— ডিআরইউর সাবেক সভাপতি সৈয়দ শুকুর আলী শুভ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ডিইউজের যুগ্ম সম্পাদক দিদারুল আলম, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার, মাছরাঙা টেলিভিশনের হেড অব নিউজ হামিদুল হক, ডিআরইউ’র যুগ্ম সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, নারীবিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নাদিয়া শারমিন, সাবেক প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক মশিউর রহমান, স্থায়ী সদস্য কুদরাত-ই খোদা, গাজী আবু বকর, মনোজ রায়, হারুন-উর রশীদ, ডি এম আমিরুল ইসলাম অমর ও ওবায়েদ অংশুমান। এ সময় ডিআরইউর অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, কার্যনির্বাহী সদস্য মাহফুজ সাদিসহ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


তিন উপসচিবকে ‘সহকারী মৌসুমি হজ অফিসার’ নিয়োগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তিন উপসচিবকে ‘সহকারী মৌসুমি হজ অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নিয়োগপ্রাপ্ত তিন উপসচিব সৌদি আরবের জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় অবস্থিত বাংলাদেশ হজ অফিসে ‘সহকারী মৌসুমী হজ অফিসার’ হিসেবে আগামী তিন মাস দায়িত্ব পালন করবেন।

সোমবার প্রেষণে এই নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (অনুদান ও অডিট শাখা) মোহা. রুহুল আমিনকে জেদ্দা, মো. রফিকুল ইসলামকে মদিনা ও মোহাম্মদ শফিউজ্জামানকে মক্কায় অবস্থিত বাংলাদেশ হজ অফিসে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


ঢাবি উপাচার্যের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।

সোমবার উপাচার্যের কার্যালয়ে সাক্ষাৎকালে তারা শিক্ষা, গবেষণা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

আলোচনায় উপাচার্য বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। প্রশাসনিক কাঠামো, পাঠ্যক্রম এবং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় বিদ্যমান এই সাদৃশ্যকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সময়ে শিক্ষাকে শিল্প খাতের চাহিদার সঙ্গে আরো সামঞ্জস্যপূর্ণ করা অত্যন্ত জরুরি। কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী যুগোপযোগী ও আধুনিক পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা প্রয়োজন।’

উপাচার্য বহুমুখী শিক্ষা, ডিপ্লোমা ও স্বল্পমেয়াদি কোর্স চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য নমনীয় শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে তারা ধাপে ধাপে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করতে পারে।’ একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভারতের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে। বিশেষ করে যৌথ গবেষণা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি এবং সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময় প্রণয় ভার্মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধিদলকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান, যাতে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে কার্যকর সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা যায়। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব প্রণয়ন করা হলে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হবে।

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


কেরানীগঞ্জের সব অবৈধ কারখানা বন্ধ করুন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কেরানীগঞ্জে রাসায়নিক ও বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্যের অবৈধ কারখানা উচ্ছেদ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান। তিনি বলেন, কদমতলীর মতো মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।

সোমবার বেলা ১১টায় কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে এ কথা বলেছেন তিনি।

আমান উল্লাহ আমান বিগত সময়ে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন কারখানায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির প্রসঙ্গ টেনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগে কী হয়েছে তা আমি জানতে চাই না। কদমতলীর মর্মান্তিক ঘটনা আর যেন না ঘটে, সেজন্য এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। কেরানীগঞ্জে কেমিক্যাল ও বিস্ফোরণ ঘটতে পারে এমন সব কারখানা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এসব কারখানার অধিকাংশেরই কোনো বৈধ অনুমোদন নেই।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অনেক সময় দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিকদের পরিচয় বা সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না, যা বিচারিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত তদন্ত শুরু করে মালিকদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে সতর্ক করে এ সংসদ সদস্য বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানকে সঠিক তদন্ত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স বা কোনো ধরনের অনুমোদন দেওয়া যাবে না। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা স্থাপন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন— ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজি শামীম হাসান, কেরানীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল গনী ও সাধারণ সম্পাদক শামিম আহমেদ।


প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা নেই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব এবং জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ রাখা বা অনলাইন ক্লাসে যাওয়ার বিষয়ে এই মুহূর্তে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ স্পষ্ট করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অনলাইন ক্লাসের পথে হাঁটবে না, বরং সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার পক্ষেই অবস্থান করছে। স্কুল বন্ধের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতেই মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও শিক্ষা কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী জুন-জুলাই মাস নাগাদ শিক্ষা ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন ও যুগোপকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। মূলত সেই নতুন পদক্ষেপগুলোর মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি এবং বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা যাচাই করতেই এই ঝটিকা পরিদর্শনে নেমেছেন তিনি।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ‘মিড ডে মিল’ বা দুপুরের খাবার কর্মসূচি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যগত উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার প্রতিটি বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এর জন্য সরাসরি ক্লাস বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।

প্রতিমন্ত্রী শিক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়েও পাঠ দেওয়া হয়। জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষা কার্যক্রমে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে।

গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, ‘প্রাথমিক স্তরের শিশুদের জন্য অনলাইন ক্লাস খুব একটা ফলপ্রসূ হয় না, তাই মন্ত্রণালয় সশরীরে উপস্থিত থেকে পাঠদানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ বিবেচনায় রয়েছে এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপাতত নিয়মিত স্কুল চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন শিক্ষাক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের এই নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার মাঠপর্যায়ের চিত্র সরাসরি সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রতিফলিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও উচ্ছেদে তিতাসের সাঁড়াশি অভিযান

আপডেটেড ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তিতাস গ্যাস কর্তৃক গ্যাসের অবৈধ ব্যবহার শনাক্তকরণ এবং উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গত রোববার (৫ এপ্রিল) মো. তারিফ আল তাওহীদ, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ -এর নেতৃত্বে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি-এর জোবিঅ-মেঘনাঘাট আওতাধীন দত্তপাড়া, দৈলেরবাগ ও পিরোজপুর , সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ এলাকার ৫টি স্পটে অবৈধ বিতরণ লাইন উচ্ছেদ/সংযোগ বিচ্ছিন্নের জন্য অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে, অবৈধ ৪টি চুনা কারখানা ও হিরাঝিল হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট, পিরোজপুর, সোনারগাঁও-এর সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ জি,আই পাইপ ৩০ ফুট, রেগুলেটর ১১ টি জব্দ/অপসারণ করা হয়েছে। এ সময় জরিমানা বাবদ ১৫ হাজার ৫ শত টাকা আদায় করা হয়েছে।

একই দিনে, প্যারাগন সিরামিকস ইন্ডা. লি., ভাওয়াল মির্জাপুর, গাজীপুর (৩৩২/৮৩২- ১০৭৯) বিল বকেয়ার কারনে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ ছাড়া, বাংজিন প্যাডিং লি, কুনিয়া, তারগাছ,গাজীপুর (৩৩২/৮৩২- ০০০২৪৭) -এর বিল বকেয়ার কারণে উভয় শ্রেণির আউটলেট ভালভ বন্ধ করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়াও, ক্যাফে কস্তুরী রেস্টুরেন্ট, রাজবাড়ী রোড, জয়দেবপুর, গাজীপুর (২৩২- ০০০৩৮৩)- এর বিল বকেয়ার কারণে বাণিজ্যিক শ্রেণির আউটলেট ভালভ বন্ধ করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি-এর জোবিঅ- মানিকগঞ্জ আওতাধীন দাশড়া এবং বান্দুটিয়া মানিকগঞ্জ এলাকায় অবৈধ বিতরণ লাইন উচ্ছেদ/সংযোগ বিচ্ছিন্নের জন্য অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে, বকেয়াজনিত কারণে ৬টি সংযোগের ১৬টি ডাবল চুলার-এর সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ রেগুলেটর ২টি জব্দ/অপসারণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ মার্চ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি -এর আঞ্চলিক বিপণন বিভাগ- সাভার আওতাভুক্ত জোবিঅ-আশুলিয়া ও জোবিঅ-সাভার এলাকায় শিল্প গ্রাহকদের বকেয়া আদায়ে ২ টি টিম প্রেরণ করা হয়।

এতে মেসার্স গ্রামীণ নীটওয়্যার লি. (গ্রাহক সংকেত নং-৩৩৮-০০০১৯১), মেসার্স সিএমসি কামাল টেক্সটাইল মিলস লি. (গ্রাহক সংকেত নং-৮৩৮০০০১৫৬), মেসার্স লোটাস কামাল নীটওয়্যার লি. (গ্রাহক সংকেত নং-৮৩৮০০০৪৪৯), মেসার্স এলকে ইউনিটেক্স কো. লি., (গ্রাহক সংকেত নং-৮৩৮০০০৩৬৩), এইচ.আর টেক্সটাইল লি. (৩৩৮/৮৩৮০০৭৪) মঙ্গল বেকারি (২৩৮০০০৫৬৯)-এর গ্যাস সংযোগ বকেয়ার কারণে বিচ্ছিন্ন করাসহ ন্যাশনাল বেভারেজ (৩৩৮/৮৩৮০০০২৭৮), স্নো হোয়াইট কটন লি. (৩৩৮/৮৩৮০০৬৭৪) ও রেদোয়ান প্যাকেজিং (৩৩৮০০৬৩৪) এর বকেয়ার কারণে আউটলেটে সিল স্থাপন করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে।


একনেকে পাঁচ প্রকল্প অনুমোদন

আপডেটেড ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:৩০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৪৮৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ৫টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩৯০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৯২ কোটি টাকা ৫৯ লাখ টাকা।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয় মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সংশোধিত প্রকল্প ৩টি ও মেয়াদ বৃদ্ধি প্রকল্প ২টি। প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান সভাপতিত্ব করেন।

পরিকল্পনা এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ নেন।

আজকের সভায় অনুমোদিত পাঁচটি প্রকল্প হলো— স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘সর্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’, ‘চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্ট-৪ (সিডিএসপি-৪) অতিরিক্ত অর্থায়ন (ডিপিএইচইঅংশ) (৩য় সংশোধন)’ প্রকল্প, ‘আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন’, ‘শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন (কম্পোনেন্ট-২): দেশের ৮টি বিভাগীয় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক ইমেজিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ’, ‘গোপালগঞ্জ ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন (২য় সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ঢাকা থেকে ৯৭২ ফ্লাইট বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। যুদ্ধের কারণে ঢাকা থেকে এখন পর্যন্ত ৯৭২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র দেশের একটি গণমাধ্যমকে জানায়, যুদ্ধপরিস্থিতিতে আকাশপথ বন্ধের কারণে ঢাকা থেকে যেসব ফ্লাইট বাতিল হয়েছে তার মধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত মোট ৩৩৯টি ফ্লাইট বাতিল হয়।

এছাড়া গত ১০ মার্চ থেকে ১৯ মার্চ মোট ২৭৫টি, ২০ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ ২২৬টি, ৩০ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১৩২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত সর্বমোট বাতিল করা ফ্লাইটের সংখ্যা ৯৭২টি।


বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ৭ থেকে ১৩ এপ্রিল জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ হিসেবে পালন করবে সরকার। এ ছাড়া ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে।

‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ’ উপলক্ষে সোমবার (৬ এপ্রিল) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

সংবাদ সম্মেলনে আমিন উর রশিদ বলেন, ‘‘ইলিশের টেকসই ও স্থায়িত্বশীল উৎপাদন নিশ্চিত করতে প্রতি বছর জাতীয়ভাবে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়ে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় মৎস্যজীবী, ইলিশ ব্যবসায়ী, আড়তদার, ভোক্তাসহ সব শ্রেণির জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ৭ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬’ উদযাপন করা হবে।’’

মন্ত্রী আরও জানান, ‘জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী’ এই প্রতিপাদ্যে এবার দেশের ইলিশসমৃদ্ধ ২০টি জেলায় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উদযাপন করা হবে। আগামী ৭ এপ্রিল চাঁদপুর সদরে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী জানান, ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে। এই সময় জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুও উপস্থিত ছিলেন।


banner close