খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছিল ৫৩ শতাংশ, ৮ ফেব্রুয়ারি ১০ শতাংশ কমিয়ে করা হয়েছে ৪৩ শতাংশ। শুল্ক কমানোর পরও দাম কমেনি খেজুরের। উল্টো দাম বেড়েছে। যদিও বন্দর থেকে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। গত কয়েক দিনে ৬০৫ কনটেইনার খেজুর খালাসের কার্যক্রম চলছে এবং প্রতিদিনই খালাস অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, আগামী ১২ মার্চ পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনা করেন। দিনভর রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে খেজুর। খেজুর ছাড়া এখন আর ইফতারের কথা ভাবা যায় না। প্রায় সব রোজাদারই খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করেন। এ কারণে রমজান মাসে চাহিদা বেশি থাকা পণ্যগুলোর একটি খেজুর। পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে চলতি মাসে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি বাজারে তদারকি ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা কোনো কাজেই আসছে না। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের বাজারে খেজুরের দাম প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়েছে।
৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি আদেশে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনার ঘোষণা দেয়। এর আগে খেজুর আমদানিতে সর্বমোট ৫৩ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে খেজুরের শুল্কায়ন মূল্য প্রতি টন ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৭৫০ ডলার। এর সঙ্গে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ, রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ ও ভ্যাট ১৫ শতাংশ। পাশাপাশি অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর ৫ শতাংশ হারে দিতে হচ্ছে। এতে বর্তমানে সর্বমোট ৪৩ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত রোজার আগে মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরে শুল্ক দিতে হতো ৫ দশমিক ৪৫ থেকে ২১ দশমিক ৮৪ টাকা। তবে এবার খেজুরকে ‘বিলাসীপণ্যের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে খেজুরের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫৩ শতাংশ করা হয়। ফলে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বেড়ে গেছে। এবার শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫৪ থেকে ২০৮ টাকা। মূলত শুল্কের প্রভাব পড়েছে খেজুরের দামে। গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি খেজুরে জাতভেদে দাম বেড়েছে ১০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত। দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া খেজুরের মধ্যে রয়েছে দাবাস, জাহিদি, বরই ও গলা খেজুর।
চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গলা বা বাংলা খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, জাহিদি খেজুর ২৪০-২৬০ ও মানভেদে দাবাস খেজুর ৪৫০-৫৫০ টাকায়। এ ছাড়া বরই খেজুর মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৪০-৫৪০ টাকায়। গত বছর এসব খেজুরের দাম ছিল বর্তমান দরের অর্ধেকেরও কম।
এদিকে অভিজাত শ্রেণির কাছে পছন্দের খেজুরের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের মেডজুল, মাবরুম, আজওয়া ও মরিয়ম। গত এক মাসের ব্যবধানে এসব খেজুরের দাম কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে। জাম্বো মেডজুল মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, সাধারণ মেডজুল ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০, মাবরুম খেজুর ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, আজওয়া খেজুর মানভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো জাতের মরিয়ম বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এ ছাড়া কালমি মরিয়ম ৮০০-৯০০ টাকা, সুফরি মরিয়ম ৭৫০-৮০০, আম্বার ও সাফাভি ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ ও সুক্কারি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে রোজার আগে জাহিদি জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি (১০ কেজি) ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। শুল্ক আরোপের কারণে দাম বাড়ার পর গত বছরের শেষ সপ্তাহেও একই জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা। তবে এখন ১০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েও এই জাতের খেজুরের কার্টন হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা।
পাইকারি ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি ৫ কেজির এক কার্টন মেডজুল খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার টাকায়। গত বছর এ খেজুর বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়। অন্যদিকে সাধারণ খোলা খেজুর প্রতি কেজি ফেব্রুয়ারির শুরুতে কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ছিল ১২৮-১৩০ টাকা। বর্তমানে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকায়।
পাইকারি বাজার সূত্রে জানা গেছে, বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় জাহিদি জাতের খেজুর। এক বছর আগে প্রতি কেজি খেজুর খুচরা পর্যায়ে ১৫০ টাকায় পাওয়া যেত। শুল্ক কমানোর পর বর্তমানে এ খেজুর খুচরায় বিক্রি করতে হবে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য আমদানি করা খোলা (বস্তায় বিক্রি হওয়া ভেজা খেজুর) রোজা আসার আগেই কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ১৫৫ টাকায় উঠে গেছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে এ মানের খেজুর বিক্রি করতে হবে কমপক্ষে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। অবশ্য গতকাল বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল হক টিটু ঘোষণা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে খেজুর পৌঁছে দিতে বস্তায় আসা জাহিদি খেজুরের দাম কমানো হবে। আজ রোববার (৩ মার্চ) এই খেজুরের দাম কমানোর ঘোষণা আসার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিনে সবচেয়ে বেশি খেজুর বন্দর থেকে খালাস নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগে বন্দর থেকে দিনে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলেও এখন সেটা ৭০ কনটেইনারে গিয়ে টেকেছে। কিন্তু দাম কমছে না।
ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকার শুল্ক কমানোর পর ব্যবসায়ীরা খেজুর খালাসে তোড়জোড় শুরু করেছে। শুল্ক কমানোর পরও ভোক্তারা কম দামে খেজুর কিনতে পারছেন না। শুল্ক কমানোর পর পর্যাপ্ত আমদানি হলেও দাম কেন কমছে না বিষয়টি তদারকি করতে হবে। তদারকি না করলে রোজায় খেজুর কিনতে পারবে না ভোক্তারা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৬৩ টন খেজুর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস করেছেন আমদানিকারকরা। ১৪৫ দিনের মধ্যে গত ১৫ দিনেই বেশি খেজুরের চালান খালাস হয়েছে। ২৮ ধরনের খেজুর দেশের ৮২টি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্দান, মিসর, আলজেরিয়া, নামিবিয়া, তিউনিশিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আমদানি করেছে।
জানা গেছে, চার মাস আগে খেজুর আমদানি করলেও শুল্ক কমবে এ আশায় ব্যবসায়ীরা পণ্যটি চট্টগ্রাম বন্দরে গুদাম করে রেখেছিলেন। ফলে বেসরকারি ১৯টি ডিপোতে ১ হাজার কনটেইনার (প্রতি কনটেইনারে ২২-২৪ হাজার কেজি খেজুর থাকে) খেজুর পড়ে ছিল। এখন খেজুরভর্তি ৬০৫টি কনটেইনার খালাস চলছে। এখনো খেজুরভর্তি ৩৯৫টি কনটেইনার খালাসের উদ্যোগ নেয়নি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার কাজী ইরাজ ইশতিয়াক বলেন, প্রচুর পরিমাণে খেজুর খালাস হচ্ছে। প্রতিদিনই খালাস করছেন আমদানিকারকরা। তিনি বলেন, খেজুরের শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
তিনি জানান, খেজুরের চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। একেকটি ক্যাটাগরির একেক রকম শুল্কহার হয়। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির প্রবণতাও রয়েছে। অনেক সময় উচ্চ শুল্কহারে খেজুর এনে কম শুল্কহারে ঘোষণা দেওয়া হয়। এমন বেশ কিছু ঘটনাও ঘটেছে। এ জন্য আমরাও সতর্ক আছি, যেন সরকার রাজস্ব বঞ্চিত না হয়।
উচ্চ শুল্কহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা এনবিআর নির্ধারিত, এ ব্যাপারে আমাদের বলার বা করার কিছু নেই। আমরা নির্ধারিত শুল্ক নিয়ে খালাসের ব্যবস্থা করি। খেজুর বিলাসী পণ্য কি না, এ বিষয়েও তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
খাতুনগঞ্জের ডেটস অ্যান্ড ড্রাই ফ্রুটস আমদানিকারক মো. ওমর ফারুক বলেন, খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ট্যাক্স ১০ শতাংশ কমালেও অন্যান্য শুল্ক ঠিক রেখেছে এনবিআর। ফলে উচ্চমাত্রায় ট্যাক্স দিয়েই আনতে হচ্ছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সামান্য এ শুল্ক কমানোয় খেজুরের দামে প্রভাব পড়বে না।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সুলতান আরেফিন বলেন, শুল্ক কমানোর পর থেকে আমদানিকারকরা খেজুর খালাস নিতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। আগে প্রতিদিন গড়ে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলে এখন সেটি ৭০ কনটেইনার খালাস হচ্ছে।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতি কেজি খেজুর ১১০ টাকায় কিনলে ১৪০-১৫০ টাকা শুল্ক দিতে হয়। ১২০ টাকায় কিনলে ২০৮ টাকা শুল্ক দিতে হয়। গত বছর ৯০ টাকায় ডলার কিনতে পারতাম। এ বছর ১২০-১২২ টাকা দিতে হচ্ছে। কাস্টমস থেকে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ইচ্ছেমতো করা হচ্ছে। এলসি যে মূল্যে খুলছি সে অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ করা হলে খেজুরের দাম অর্ধেকে নেমে আসে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না।
বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, পণ্য বন্দরে আসার পর শুল্ক পরিশোধ করে খালাস করতে হয়। এসব কাস্টমসের বিষয়।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমেদ বলেন, ডলারের দাম বাড়াতে পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে যায়। এর পরও ব্যবসায়ীরা সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
১৯৭১ সালে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে প্রতিরোধ যুদ্ধ না করলে বাংলাদেশ এখনো পাকিস্তান থাকতো বলে মন্তব্য করেছেন করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ নয়, ‘বাঙালির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার যুদ্ধ। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পাঁচটি ব্যাটালিয়ন আলাদাভাবে ‘বিদ্রোহ করে জনগণকে সংগঠিত করেছিল’। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে ঢাকার মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে ‘মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
স্বাধীনতার এবং সার্বভৌম্যত্যর ক্ষেত্রে কোনো প্রকার আপস মেনে নেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার কথা শুধু রাজনৈতিক নেতারা চিন্তা ও করে নাই। এ যুদ্ধ ছিলো জনতার যুদ্ধ। স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। তবে এ কথা ইতিহাসে নেই।’
তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক দুর্যোগ, সকল প্রকার দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।’
মেজর জিয়াউর রহমানই সর্বপ্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ‘ক্র্যাকডাউনের আগে অনুরোধ করা সত্ত্বেও স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে রাজি হননি শেখ মুজিবুর রহমান। এ সময় স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন মেজর জিয়াউর রহমান। এটি হল প্রকৃত সত্য। যে ঘোষণায় জাতি উদ্দীপ্ত হয়েছে, অনুপ্রাণিত হয়েছে। হাজার হাজার ছাত্র-যুবক ঘরবাড়ি ছেড়ে দৌড়ে এসেছে যে যুদ্ধ করবে।’
দেশে গত দুই বছরে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে পাঁচ শতাধিক পোশাক ও বস্ত্র কারখানা। এর ফলে কাজ হারিয়ে পুরোপুরি বেকার হয়ে পড়েছেন প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক। শিল্পপুলিশ ও পোশাক খাতের সংগঠনগুলোর দেওয়া তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র।
সংগঠনগুলোর ভাষ্য, গত দুই বছরে পাঁচ শতাধিক শিল্পকারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। আরও অনেক কারখানা রয়েছে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে। এ সময়ে পোশাক খাতেই কাজ হারিয়েছেন প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক। কারখানা বন্ধের প্রধান কারণ ক্রয়াদেশ হ্রাস পাওয়া এবং গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়া। কিছু কারখানার ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা দুর্বলতা ও সময়মতো শিপমেন্ট করতে না পারাও।
আন্তর্জাতিক কারণের মধ্যে রয়েছে— গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলাকে কেন্দ্র করে জ্বালানিসহ বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের কারণে বিশ্ববাজারে নিম্নমুখী চাহিদা।
শিল্পপুলিশের হিসাবে, ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দুই বছরে ৪৫৭টি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে ১৭০টি। বাকি ২৮৭টি পোশাকবহির্ভূত।
বন্ধ হওয়ার তালিকায় তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্য কারখানা ১০৮টি, নিট ক্যাটাগরির পণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএর কারখানা ৩৫টি, বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর কারখানা ৮টি। বাকি ১৯টি বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ বা বেপজার অধিভুক্ত কারখানা।
তবে শিল্পপুলিশের তথ্যের সঙ্গে পোশাক ও বস্ত্র খাতের তিন সংগঠনের তথ্যের ফারাক রয়েছে। বিজিএমইএর উপাত্ত বলছে, দুই বছরে সংগঠনের ২২১টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে গত বছর সর্বাধিক বন্ধ হয়েছে ১৪১টি কারখানা। আগের বছর (২০২৪ সাল) বন্ধ হয় ৭৭টি কারখানা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম জোন মিলে বিজিএমইএর সদস্য কারখানা এখন ২ হাজার ১২৭টি।
শাশা ডেনিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস মাহমুদ এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘কভিডের’ সময় যখন সারা বিশ্বে অনেক কিছু থেমে গিয়েছিল, তখন বেশ কিছু নামকরা ব্র্যান্ড বাংলাদেশে আসে এবং পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাড়তে থাকে। কিন্তু তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
শামস মাহমুদ বলেন, দেশের আর্থিক খাতগুলো কয়েকজনের হাতে চলে যাওয়ায় এমন ধস নেমে আসে। ফলে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি তো দূরে থাক, মালিকদের টিকে থাকার জন্য লড়াই শুরু করতে হয়। বর্তমান সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হতে কমপক্ষে দুই বছর লাগবে। ফলে ওই লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হবে।
স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেছেন, বর্তমানে দেশের পোশাক খাত কিছুটা আস্থার সংকটে ভুগছে। এ কারণে বিশ্বের কয়েকটি নামকরা ব্র্যান্ড বাংলাদেশ থেকে সোর্সিং কমিয়ে দিচ্ছে। তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ও ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পোশাক খাতে নীতিগত সংস্কার এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি জরুরি।
শোভন ইসলামের ভাষ্য, টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা কমাতে হবে।
এ ছাড়া বৈশ্বিক পোশাক বাণিজ্যে ঘটছে দ্রুত পরিবর্তন। অনলাইন বিক্রয় ও সরাসরি ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ই-কমার্সভিত্তিক বিক্রয় বাড়াতে হলে নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিপণন কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন উদ্যোক্তারা।
সরকার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শোভন ইসলাম।
বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা এখনো প্রবৃদ্ধিমুখী। সঠিক নীতি সহায়তা ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্য অর্জন না হলেও সময়ের ব্যবধানে এটা সম্ভব বলে মনে করছেন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল।
পাকিস্তানে ১২-১৩ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য নারীবিষয়ক ৯ম ওআইসি মিনিস্ট্রিয়াল সম্মেলনে যোগ দিতে বাংলাদেশের মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শনিবার (১১ জুলাই) ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন।
এ সময় পাকিস্তান সরকারের আইন ও বিচার প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার আকিল মালিক এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিনিধিদলকে অভ্যর্থনা জানান। প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন এবং মন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুল হক রয়েছেন।
মন্ত্রী ইসলামাবাদে ডিপ্লোমেটিক এনক্লেভে বাংলাদেশের নবনির্মিত চ্যান্সেরি কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এসময় বাংলাদেশ হাইকমিশনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে স্বাগত জানান। তিনি উপস্থিত সবার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং হাইকমিশন চত্বরে একটি বৃক্ষ রোপণ করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (ঢামেক) গৌরবময় ৮০ বছর পূর্তি এবং ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে উৎসবমুখর পরিবেশে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে তিনি এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের উদ্বোধন করেন।
শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী ঢামেক চত্বরে পৌঁছালে সেখানে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তিনি উপস্থিত ছাত্র-শিক্ষক ও সুধীজনের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং এই মিলনমেলার মুহূর্তে তাঁকে অনেকের সঙ্গে সেলফিতেও অংশ নিতে দেখা যায়। এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এবং প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরই সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান।
উদ্বোধনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি সেখানে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় নির্মিতব্য দুটি অত্যাধুনিক ছাত্রী হোস্টেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এছাড়া তিনি শহীদ ডা. মিলন অডিটোরিয়াম সংলগ্ন লনে আয়োজিত বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করেন।
ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ এই বিদ্যাপীঠের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮০ বছর পূর্তি ও ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আয়োজিত একটি উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে চিকিৎসকরা স্বাস্থ্যখাতের বিদ্যমান সমস্যা ও সমসাময়িক চ্যালেঞ্জসমূহ প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন আধুনিক পরিকল্পনার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি রাজধানী কেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও সমান গুরুত্ব দিয়ে সাধারণ মানুষকে উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে হবে।
এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কলেজ প্রাঙ্গণে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তাঁর এই বিশেষ সফরে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও সঙ্গে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে সকাল থেকেই এক আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ৮০ বছর পূর্তি এবং ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে তিনি কলেজ প্রাঙ্গণে পৌঁছান। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী কলেজ ক্যাম্পাসে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই মাহেন্দ্রক্ষণে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর অধীনে দুটি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন এবং পরে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।
শনিবার সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও আশপাশের এলাকায় ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঢল নামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সড়কের দুই পাশে অবস্থান নিয়ে স্লোগান ও শুভেচ্ছার মাধ্যমে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। ভিড়ের কারণে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের গতি কিছুটা কমে গেলে তিনি হাত নেড়ে উপস্থিত সবার শুভেচ্ছার জবাব দেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কলেজ ও হাসপাতাল সংলগ্ন ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা ও অস্থায়ী দোকানপাট সরিয়ে নেওয়ায় দীর্ঘদিনের যানজট থেকে মুক্তি মিলেছে, যা সাধারণ পথচারী ও রোগীদের স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি এনেছে।
সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা এই সফরকে একটি ঐতিহাসিক মিলনমেলা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি উপস্থিতির মাধ্যমে হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান হবে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, “ঢাকা মেডিকেল কলেজ দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও এ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অবিস্মরণীয়।” তিনি আরও যোগ করেন যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই পদচারণা অত্যন্ত আবেগঘন একটি মুহূর্ত।
১৯৪৬ সালের ১০ জুলাই প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ ৮ দশক ধরে দেশের চিকিৎসা শিক্ষায় পথিকৃৎ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সকলে আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা আবেদন এখন থেকে পুরোপুরি অনলাইনে করা যাবে। সরকারের এই নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থাকে স্বাগত জানিয়েছে মালয় চেম্বার অব কমার্স মালয়েশিয়া (ডিপিএমএম)।
সংগঠনটির সভাপতি নরসিয়ারিন হামিদন বলেন, নতুন এই ব্যবস্থা বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করবে। এতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমবে এবং সব নিয়োগকর্তা সমান সুযোগ পাবেন।
গত ৬ জুলাই দেশটির মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান জানান, বিদেশি কর্মী কোটা সংক্রান্ত সব আবেদন এখন থেকে ফরেন ওয়ার্কার সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফডব্লিসিএমএস)-এর ই-কোটা মডিউলের মাধ্যমে করা হবে। এর ফলে আগের মতো আলাদা বা কেসভিত্তিক অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না।
ডিপিএমএম বলেছে, নতুন ব্যবস্থা চালুর পরও এর কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা উচিত। আবেদন নিষ্পত্তির সময়, সিস্টেমের কার্যকারিতা এবং নিয়োগকর্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
সংগঠনটি আরও বলেছে, যেসব খাতে শ্রমিকের সংকট রয়েছে সেখানে বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রয়োজন। তবে একই সঙ্গে স্থানীয় নাগরিকদের জন্য কর্মসংস্থান, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগও অব্যাহত রাখতে হবে।
মালয়েশিয়ায় বর্তমানে বিদেশি কর্মী নিয়োগের কোটা শুধু উৎপাদন, নির্মাণ, কৃষি, প্ল্যান্টেশন এবং সেবা—এই পাঁচটি খাতের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়।
একটি গুজবকে কেন্দ্র করে বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়ায় থানায় সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর ন্যক্কারজনক আক্রমণের ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ গত ৮ জুলাই সন্ধ্যায় বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ ফকির (২৬) নামে চুরি মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। গ্রেপ্তারকৃত রিয়াজ ফকিরের বিরুদ্ধে থানায় মাদকসংক্রান্ত মামলাও রয়েছে। রিয়াজ ফকির সে সময়েও ছিলেন মাদকাসক্ত। থানা হাজতে থাকাকালে তিনি মাদকের প্রভাবে নিজেই নিজের মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করে। এতে রিয়াজ ফকির অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রিয়াজ ফকিরকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে, উন্নত চিকিৎসার জন্য গভীর রাতে বরিশাল শেরই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পরের দিন বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে এলাকায় রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে কিছু লোক আগৈলঝাড়া থানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় তারা দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ করে। গুজবনির্ভর এ ধরনের হামলা শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য হুমকিস্বরূপই নয় বরং বাংলাদেশে গড়ে ওঠা নব্য ‘মব সংস্কৃতি’। প্রকারান্তরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বিচার প্রক্রিয়া ও জননিরাপত্তার প্রতি মারাত্মক হুমকি যা মূলত একটি শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ।
বাংলাদেশে প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ, অসুস্থ আসামিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে যা শুধু আইনগত দায়িত্ব নয় একই সঙ্গে মানবিকতার উদাহরণের সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, এ ধরনের গুজব ও উসকানির পরিপ্রেক্ষিতে সংঘবদ্ধ হামলা বা মব সংস্কৃতি মূলত পুলিশের মনোবল দুর্বল করার অপচেষ্টা, যা দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার অন্তরায়। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ বাংলাদেশ পুলিশ তথা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে তাদের কায়েমি স্বার্থ হাসিলের অপচেষ্টায় লিপ্ত বলে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আশঙ্কা করছে।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন দেশের সকল নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে, আপনারা মিথ্যা তথ্য বা গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রচলিত আইনকে শ্রদ্ধা করুন, সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করুন এবং যেকোনো অভিযোগ বা অসন্তোষের ক্ষেত্রে আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ পথ অনুসরণ করুন যার মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়।
রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা, জনগণের নিরাপত্তা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ বরাবরের মতো তার পেশাদারিত্ব, সংযম ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে এবং সামনের দিনগুলোতেও দৃঢ় প্রত্যয়ে এই সুমহান দায়িত্ব পালন করবে।
মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘অতীতের মেধাহীন বাংলাদেশ থেকে বেরিয়ে এসে নতুনভাবে মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে দেশের নিরাপত্তা ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর সরকারি বাঙলা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চলমান বন্যা পরিস্থিতি ও সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘সারাদেশে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চলমান দুর্যোগে বিভিন্ন জায়গায় প্রাণহানির ঘটনা আমাদের গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। জনগণের নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী এই পরিস্থিতি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে তদারকি করছেন। দুর্গত মানুষের পাশে থাকতে তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে নির্দেশ দিয়েছেন।’
তিনি চলমান ত্রাণ কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে জানান, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এই পাঁচ জেলায় ১ হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। এ ছাড়া দুর্গতদের মাঝে ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকা দল বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। দুর্গত এলাকায় খাদ্য, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে সেনাবাহিনী একযোগে নিরলসভাবে কাজ করছে।’
শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তরুণদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের বাংলাদেশের কান্ডারি হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সারাদেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণসহ স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের জাতীয়তাবাদী আদর্শ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দেশপ্রেম ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা সবাই মিলে নির্বাচিত সরকারের হাতকে শক্তিশালী করি এবং সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে এই বাংলাদেশকে একসাথে গড়ে তুলি।’
বিগত কয়েকদিনের নিরবচ্ছিন্ন ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে সৃষ্ট ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০টি বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এই নির্দেশনাসমূহ বাস্তবায়নের বিষয়ে অবহিত করেছেন।
তিনি বলেন, সংকটের এই সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এক ফেসবুক পোস্টে ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত ১০টি উদ্যোগ’ শিরোনামে এই পদক্ষেপগুলোর কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, দ্রুত উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত ১০টি প্রধান উদ্যোগ হলো-
১. প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিকভাবে দুর্যোগকবলিত এলাকার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং মনিটরিং করাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিয়মিতভাবে ডিসি, ইউএনও এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সাথে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
২. চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকায় ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় গ্রহণ করেছেন।
৩. জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই ৫টি জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অনুদান এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল দুর্গতদের কাছে দ্রুততম সময়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
৪. সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
৫. জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম গতিশীল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনবোধে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।
৬. প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ প্লাবিত অঞ্চল পরিদর্শন করছেন এবং সশরীরে দুর্গত এলাকায় অবস্থান নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।
৭. দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সহযোগী সংগঠনগুলো মাঠে নেমেছে। একই সাথে সরকারের প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং কোস্টগার্ড মাঠপর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একযোগে কাজ করছে।
৮. ভারী বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে দুর্গত এলাকার চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
৯. এই দুর্যোগে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন করছেন।
১০. টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে সেটি ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ৪৭ কিলোমিটার রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধির কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ স্থানে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করবে সরকার।
ফেসবুক পোস্টের শেষে মাহদী আমিন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, মানবিক প্রয়াস ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা খুব দ্রুত এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী এই সংকটে গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আছেন এবং জনগণের সরকার সবসময় আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।’
গবেষক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গ্রেড-১ রাষ্ট্রদূত পদমর্যাদায় তাকে এক বছরের চুক্তিতে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। বুধবার (৮ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোল ও পরিবেশে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করা ওয়াহিদুজ্জামান এবি ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামার হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন।
শিক্ষা, ব্যাংকিং, জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) থেকে ১৯৯১ সালে ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়ে স্নাতক এবং ১৯৯২ সালে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত জীবনের শুরুতে ব্যাংকে সহকারী প্রোগ্রামার হিসেবে কাজ করলেও পরবর্তীকালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন তিনি। আজিজুল হক কলেজ ও ঢাকা কলেজে প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘ সময় (২০০২-২০১৫) কর্মরত ছিলেন।
ব্যাংকিং ও রিমোট সেন্সিং বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা রয়েছে ওয়াহিদুজ্জামানের। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা ও অভিবাসন বিষয়ক বহু আন্তর্জাতিক প্রকল্পে তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ভূগোল বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধও রয়েছে তার। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ, বিভিন্ন অঙ্গসংস্থা ও কমিটির বৈঠকে অংশগ্রহণ এবং বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে তার এই অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে সরকার।
বাংলাদেশকে একটি ‘সবুজ বসতি’ হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণকে আমাদের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। সবাই মিলে কাজ করলেই আমরা সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ বসতি গড়ে তুলতে পারব। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পরিবেশ মেলা বা বৃক্ষমেলার আয়োজন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য একটি নিরাপদ বিনিয়োগ। এই আয়োজন কেবল একটি বাৎসরিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত হবে না। আমি একটি কথাই বেশি গুরুত্ব দিয়ে বলতে চাই- দেশ হোক সকল প্রাণী ও প্রাণের নিরাপদ আবাসস্থল।
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর এ অনুষ্ঠান হয়। এ বছর জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য বিষয়- ‘বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।
অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ জাতীয় পুরস্কার-২০২৫ এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া বনায়ন অংশীজনদের মধ্যে লভ্যাংশের চেকও বিতরণ করেন তিনি।
সবাইকে একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণ বা সবুজের গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশি অবগত আছি। আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন ঢাকা শহরকে যতটা গ্রিন (সবুজ) দেখতাম, এখন বোধহয় দেখি না। এ জন্য আমাদের ভিন্ন কিছু করতে হবে। পরিবারে নতুন সন্তান জন্ম নিলে- তা আমাদের নিজেদের হোক বা আত্মীয়স্বজনের, আমরা যদি সেই সন্তানকে স্মরণ করে একটি গাছ রোপণ করি, তাহলে ভালো হয়।
তিনি বলেন, আমরা যদি প্রতিটি প্রাণের জন্মকে উদযাপন করি ও স্মরণ রাখি, তাহলে নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠবে। এভাবেই সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলন সফল হবে।
সবুজায়নে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবুজের সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারিভাবেও আমরা অনেক উদ্যোগ নিয়েছি। সরকার গঠনের পর প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম’ চালুর পদক্ষেপ নিয়েছি। কিছুদিন আগে আপনারা দেখেছেন, পত্রপত্রিকায় এসেছে, স্কুলগুলোতে একটি কর্মসূচির আওতায় একসঙ্গে প্রায় ৯০ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, একই সঙ্গে ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ চালু এবং এনভায়রনমেন্ট স্টার্ট-আপ ফান্ডসহ বেশ কিছু উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। এই উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে অবশ্যই আমরা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও সবুজ বাংলাদেশ গঠনে সক্ষম হব ইনশাল্লাহ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ম্যানিফেস্টোতে (ইশতেহারে) অনুযায়ী, আমরা পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নিয়েছি। তবে ইচ্ছেমতো গাছ লাগালে এই লক্ষ্য পূরণ হবে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, কোন পরিবেশে, কোন মাটিতে, কেমন আবহাওয়ায় কোন প্রজাতির গাছ লাগানো উচিত- এ বিষয়ে আমাদের কমবেশি ধারণা থাকতে হবে এবং এটিকে প্রাধান্য দিয়েই গাছ লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর গাছগুলোকে অবশ্যই পরিহার করা উচিত। একই সাথে নতুন বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির গাছ- যেমন ঔষধি, অর্কিড, বাঁশজাতীয় বনজ, ফলদ, অর্থকরী বা বিপন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো খুবই দরকার।
বৃক্ষরোপণের পর তার পরিচর্যার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গাছপালা, প্রাণী, মাটি, পানি ও বায়ু- পরিবেশের সবকিছু যেন স্বাভাবিকভাবে মিলেমিশে থাকতে পারে, বনায়নের মাধ্যমে এমন একটি ইকোসিস্টেম বজায় রাখার চেষ্টা করছি আমরা। বর্তমান সরকারের কাজের লক্ষ্য এই পুরো পরিবেশটাকে ঠিকঠাক রাখা।
তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগানো বা প্লাস্টিক সরানোই যথেষ্ট নয়। আরও অনেক ইন্টিগ্রেটেড (সমন্বিত) বিষয় আছে, যেগুলোর দিকে আমরা খেয়াল রাখার চেষ্টা করছি। নতুন বৃক্ষরোপণ অবশ্যই জরুরি, তবে রোপণ করা গাছটি নিরাপদে বেড়ে উঠছে কি না, সেটি নিশ্চিত করাও খুব বেশি জরুরি।
ইকোসিস্টেম রক্ষার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুগ যুগ ধরে স্থানীয় ইকোসিস্টেমের অংশ হয়ে থাকা গাছ, যেগুলোকে আমরা ‘মাদার ট্রি’ বলি, সেগুলো যেন রক্ষা পায়, কেটে ফেলা না হয়, এই বিষয়ে আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। আজ এখানে বন বিভাগের বড় কর্মকর্তারা আছেন, আমি আশা করব তারা এই বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন।
তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার সঙ্গে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধেও যতটা সম্ভব কঠোর অবস্থান নিতে আমরা চেষ্টা করছি। বহুদিনের অভ্যাসের মাইন্ডসেট পরিবর্তন করা খুবই কষ্টসাধ্য একটি কাজ, এটি মানুষকে বুঝিয়ে করাতে হবে। তাই আমি বলেছিলাম, এই বিষয়টি সমাধান করতে প্রত্যেক মানুষকে যার যতটুকু সম্ভব, যেই পরিবেশে সম্ভব, সেভাবেই পশুপাখি রক্ষায় ভূমিকা রাখতে হবে।
দেশের নদী বাঁচাতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি নদীগুলো বাঁচাতে না পারি, তাহলে আগামীতে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে। নদী বাঁচাতে না পারলে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও পানি নিরাপত্তা- কোনোটিই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তাই ইকোসিস্টেম রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। উন্নয়ন ও পরিবেশকে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী না ভেবে, প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি রেখে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি গড়ে উঠুক- এটাই বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।
তিনি বলেন, ছাদবাগান, নগর বনায়ন, জিআইএস-ভিত্তিক বৃক্ষরোপণ, নদী তীর ও খালের দু’পাশে সবুজায়ন এবং ইকোট্যুরিজমকে অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় বর্তমান সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, নদী ভাঙন ও লবণাক্ততা আমাদের কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং সর্বোপরি জনজীবনকে প্রতিদিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। এই বাস্তবতায় বর্তমান সরকার পরিবেশকে আলাদা কোনো খাত নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। সরকারের লক্ষ্য একটা সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা জরুরি বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বর্তমান সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন-পুনঃখননের যে কর্মসূচি শুরু করেছে, তা কৃষকদের বছরজুড়ে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায়ও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তবে পরিবেশ উন্নয়ন কেবল বৃক্ষরোপণ বা খাল খননের ওপরই নির্ভর করে না- এসব সহায়ক পদক্ষেপ (সাপ্লিমেন্ট) মাত্র।
তিনি বলেন, রাজধানীসহ দেশের সব নগর, বন্দর ও শহরতলির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনার কোনো বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে পরিবেশ নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের অসম্ভব সহযোগিতা আমার প্রয়োজন, সরকারের প্রয়োজন।
ধানমন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সরকার কাজ শুরু করেছে বা করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে জৈব সার উৎপাদন, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন এবং ‘রিডিউস, রি-ইউজ, রিসাইকেল’ বা ‘থ্রি আর’ নীতি জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হলে তা কেবল নগর প্রশাসন বা পুলিশের মাধ্যমে সম্ভব নয়। সচেতনতার মাধ্যমেই এটি করতে হবে। এ জন্য প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। আমি সবার কাছে উদাত্ত আহ্বান জানাই, অনুগ্রহ করে যেখানে-সেখানে বর্জ্য বা উচ্ছিষ্ট ফেলবেন না। আসুন আমরা চেষ্টা করি পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতজনদের মধ্যে সুযোগ পেলেই যেন বিষয়টি তুলে ধরি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি আমাদের একটু সতর্ক থাকা প্রয়োজন- জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নদী ও জলাভূমি ভরাট এবং বন উজাড়সহ নানা কারণে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। এসব কারণে বন্যপ্রাণী, জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে। ওদের যেকোনো উপায়ে বাঁচাতে হবে।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার আয়োজনের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ এবং ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানম প্রমুখ।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের গতি হবে ধীর। চলতি অর্থবছরে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪.৫ শতাংশ। যদিও এটি চলতি অর্থবছরের সম্ভাব্য ৩.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় বেশি, তবু অতীতের তুলনায় অনেক কম। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রকাশিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকে (এডিও) এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে এডিবি বলেছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রপ্তানি, বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা, জ্বালানি সংকট এবং প্রতিকূল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবেশের কারণে গেল অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল। তবে চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমা, ব্যবসা পরিচালনার নিয়মকানুন সহজ করা, সুশাসনের উন্নতি, কর প্রশাসনে সংস্কার এবং প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এডিবি সতর্ক করে বলেছে, প্রবৃদ্ধির গতি খুব দ্রুত বাড়বে না। কারণ ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ঘাটতি এখনও বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
হালনাগাদ প্রতিবেদনে এডিবি আগামী অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪.৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখলেও মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে। এপ্রিলে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের মূল্যস্ফীতি ৮.৫ শতাংশ হবে বলে ধারণা করা হলেও, সর্বশেষ প্রতিবেদনে তা বাড়িয়ে ৮.৮ শতাংশ করা হয়েছে।
এডিবির মতে, জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রভাব, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, বিনিময় হারজনিত চাপ এবং খাদ্য ও সেবা খাতে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীরে কমবে।
এডিবির বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান আকিরা মাতসুবাগা বলেন, কঠিন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির মধ্যেও শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং সেবা খাতের স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সহায়তা করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, আর্থিক খাতের সুশাসন এবং জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে সংস্কার জরুরি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হলে জ্বালানির দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যেতে পারে, যা মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক লেনদেনের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। একইসঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন শুল্ক বা বিধিনিষেধ, প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর অর্থনৈতিক ধীরগতি, বৈদেশিক অর্থায়নের কঠোর পরিবেশ এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকিও বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে।