খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছিল ৫৩ শতাংশ, ৮ ফেব্রুয়ারি ১০ শতাংশ কমিয়ে করা হয়েছে ৪৩ শতাংশ। শুল্ক কমানোর পরও দাম কমেনি খেজুরের। উল্টো দাম বেড়েছে। যদিও বন্দর থেকে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। গত কয়েক দিনে ৬০৫ কনটেইনার খেজুর খালাসের কার্যক্রম চলছে এবং প্রতিদিনই খালাস অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, আগামী ১২ মার্চ পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনা করেন। দিনভর রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে খেজুর। খেজুর ছাড়া এখন আর ইফতারের কথা ভাবা যায় না। প্রায় সব রোজাদারই খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করেন। এ কারণে রমজান মাসে চাহিদা বেশি থাকা পণ্যগুলোর একটি খেজুর। পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে চলতি মাসে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি বাজারে তদারকি ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা কোনো কাজেই আসছে না। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের বাজারে খেজুরের দাম প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়েছে।
৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি আদেশে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনার ঘোষণা দেয়। এর আগে খেজুর আমদানিতে সর্বমোট ৫৩ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে খেজুরের শুল্কায়ন মূল্য প্রতি টন ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৭৫০ ডলার। এর সঙ্গে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ, রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ ও ভ্যাট ১৫ শতাংশ। পাশাপাশি অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর ৫ শতাংশ হারে দিতে হচ্ছে। এতে বর্তমানে সর্বমোট ৪৩ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত রোজার আগে মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরে শুল্ক দিতে হতো ৫ দশমিক ৪৫ থেকে ২১ দশমিক ৮৪ টাকা। তবে এবার খেজুরকে ‘বিলাসীপণ্যের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে খেজুরের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫৩ শতাংশ করা হয়। ফলে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বেড়ে গেছে। এবার শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫৪ থেকে ২০৮ টাকা। মূলত শুল্কের প্রভাব পড়েছে খেজুরের দামে। গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি খেজুরে জাতভেদে দাম বেড়েছে ১০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত। দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া খেজুরের মধ্যে রয়েছে দাবাস, জাহিদি, বরই ও গলা খেজুর।
চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গলা বা বাংলা খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, জাহিদি খেজুর ২৪০-২৬০ ও মানভেদে দাবাস খেজুর ৪৫০-৫৫০ টাকায়। এ ছাড়া বরই খেজুর মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৪০-৫৪০ টাকায়। গত বছর এসব খেজুরের দাম ছিল বর্তমান দরের অর্ধেকেরও কম।
এদিকে অভিজাত শ্রেণির কাছে পছন্দের খেজুরের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের মেডজুল, মাবরুম, আজওয়া ও মরিয়ম। গত এক মাসের ব্যবধানে এসব খেজুরের দাম কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে। জাম্বো মেডজুল মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, সাধারণ মেডজুল ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০, মাবরুম খেজুর ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, আজওয়া খেজুর মানভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো জাতের মরিয়ম বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এ ছাড়া কালমি মরিয়ম ৮০০-৯০০ টাকা, সুফরি মরিয়ম ৭৫০-৮০০, আম্বার ও সাফাভি ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ ও সুক্কারি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে রোজার আগে জাহিদি জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি (১০ কেজি) ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। শুল্ক আরোপের কারণে দাম বাড়ার পর গত বছরের শেষ সপ্তাহেও একই জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা। তবে এখন ১০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েও এই জাতের খেজুরের কার্টন হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা।
পাইকারি ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি ৫ কেজির এক কার্টন মেডজুল খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার টাকায়। গত বছর এ খেজুর বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়। অন্যদিকে সাধারণ খোলা খেজুর প্রতি কেজি ফেব্রুয়ারির শুরুতে কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ছিল ১২৮-১৩০ টাকা। বর্তমানে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকায়।
পাইকারি বাজার সূত্রে জানা গেছে, বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় জাহিদি জাতের খেজুর। এক বছর আগে প্রতি কেজি খেজুর খুচরা পর্যায়ে ১৫০ টাকায় পাওয়া যেত। শুল্ক কমানোর পর বর্তমানে এ খেজুর খুচরায় বিক্রি করতে হবে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য আমদানি করা খোলা (বস্তায় বিক্রি হওয়া ভেজা খেজুর) রোজা আসার আগেই কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ১৫৫ টাকায় উঠে গেছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে এ মানের খেজুর বিক্রি করতে হবে কমপক্ষে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। অবশ্য গতকাল বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল হক টিটু ঘোষণা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে খেজুর পৌঁছে দিতে বস্তায় আসা জাহিদি খেজুরের দাম কমানো হবে। আজ রোববার (৩ মার্চ) এই খেজুরের দাম কমানোর ঘোষণা আসার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিনে সবচেয়ে বেশি খেজুর বন্দর থেকে খালাস নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগে বন্দর থেকে দিনে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলেও এখন সেটা ৭০ কনটেইনারে গিয়ে টেকেছে। কিন্তু দাম কমছে না।
ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকার শুল্ক কমানোর পর ব্যবসায়ীরা খেজুর খালাসে তোড়জোড় শুরু করেছে। শুল্ক কমানোর পরও ভোক্তারা কম দামে খেজুর কিনতে পারছেন না। শুল্ক কমানোর পর পর্যাপ্ত আমদানি হলেও দাম কেন কমছে না বিষয়টি তদারকি করতে হবে। তদারকি না করলে রোজায় খেজুর কিনতে পারবে না ভোক্তারা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৬৩ টন খেজুর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস করেছেন আমদানিকারকরা। ১৪৫ দিনের মধ্যে গত ১৫ দিনেই বেশি খেজুরের চালান খালাস হয়েছে। ২৮ ধরনের খেজুর দেশের ৮২টি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্দান, মিসর, আলজেরিয়া, নামিবিয়া, তিউনিশিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আমদানি করেছে।
জানা গেছে, চার মাস আগে খেজুর আমদানি করলেও শুল্ক কমবে এ আশায় ব্যবসায়ীরা পণ্যটি চট্টগ্রাম বন্দরে গুদাম করে রেখেছিলেন। ফলে বেসরকারি ১৯টি ডিপোতে ১ হাজার কনটেইনার (প্রতি কনটেইনারে ২২-২৪ হাজার কেজি খেজুর থাকে) খেজুর পড়ে ছিল। এখন খেজুরভর্তি ৬০৫টি কনটেইনার খালাস চলছে। এখনো খেজুরভর্তি ৩৯৫টি কনটেইনার খালাসের উদ্যোগ নেয়নি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার কাজী ইরাজ ইশতিয়াক বলেন, প্রচুর পরিমাণে খেজুর খালাস হচ্ছে। প্রতিদিনই খালাস করছেন আমদানিকারকরা। তিনি বলেন, খেজুরের শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
তিনি জানান, খেজুরের চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। একেকটি ক্যাটাগরির একেক রকম শুল্কহার হয়। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির প্রবণতাও রয়েছে। অনেক সময় উচ্চ শুল্কহারে খেজুর এনে কম শুল্কহারে ঘোষণা দেওয়া হয়। এমন বেশ কিছু ঘটনাও ঘটেছে। এ জন্য আমরাও সতর্ক আছি, যেন সরকার রাজস্ব বঞ্চিত না হয়।
উচ্চ শুল্কহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা এনবিআর নির্ধারিত, এ ব্যাপারে আমাদের বলার বা করার কিছু নেই। আমরা নির্ধারিত শুল্ক নিয়ে খালাসের ব্যবস্থা করি। খেজুর বিলাসী পণ্য কি না, এ বিষয়েও তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
খাতুনগঞ্জের ডেটস অ্যান্ড ড্রাই ফ্রুটস আমদানিকারক মো. ওমর ফারুক বলেন, খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ট্যাক্স ১০ শতাংশ কমালেও অন্যান্য শুল্ক ঠিক রেখেছে এনবিআর। ফলে উচ্চমাত্রায় ট্যাক্স দিয়েই আনতে হচ্ছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সামান্য এ শুল্ক কমানোয় খেজুরের দামে প্রভাব পড়বে না।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সুলতান আরেফিন বলেন, শুল্ক কমানোর পর থেকে আমদানিকারকরা খেজুর খালাস নিতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। আগে প্রতিদিন গড়ে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলে এখন সেটি ৭০ কনটেইনার খালাস হচ্ছে।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতি কেজি খেজুর ১১০ টাকায় কিনলে ১৪০-১৫০ টাকা শুল্ক দিতে হয়। ১২০ টাকায় কিনলে ২০৮ টাকা শুল্ক দিতে হয়। গত বছর ৯০ টাকায় ডলার কিনতে পারতাম। এ বছর ১২০-১২২ টাকা দিতে হচ্ছে। কাস্টমস থেকে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ইচ্ছেমতো করা হচ্ছে। এলসি যে মূল্যে খুলছি সে অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ করা হলে খেজুরের দাম অর্ধেকে নেমে আসে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না।
বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, পণ্য বন্দরে আসার পর শুল্ক পরিশোধ করে খালাস করতে হয়। এসব কাস্টমসের বিষয়।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমেদ বলেন, ডলারের দাম বাড়াতে পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে যায়। এর পরও ব্যবসায়ীরা সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত লড়াই যেদিন শুরু হয়েছিল; সেই স্মৃতিময় ২৬ মার্চ আজ। বাঙালির গৌরবময় স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ৫৫তম বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয় বহুল প্রত্যাশিত মহান স্বাধীনতা। বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে নতুন রাষ্ট্র স্বাধীন বাংলাদেশের। তাইতো কবির ভাষায় গাইতে হয়- এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা আমরা তোমাদের ভুলব না। দুঃসহ বেদনার কন্টক পথ বেয়ে শোষণের নাগপাশ ছিঁড়লে যারা আমরা তোমাদের ভুলব না। নতুন স্বদেশ গড়ার পথে তোমরা চিরদিন দিশারী রবে, আমরা তোমাদের ভুলব না।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাতে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান (পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি) চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। চট্টগ্রামে তার অধীনস্থ বাঙালি সেনাদের সংগঠিত করে তিনি এই সশস্ত্র বিদ্রোহের সূচনা করেন। শুরু হয় স্বাধীনতার যুদ্ধ, মহান মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতা ঘোষণার পর জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলার সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২৫ মার্চের কালরাতে শুরু হওয়া গণহত্যা চলতে থাকে মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশের) জনগণের স্বাধিকারের দাবি কখনো মেনে নিতে পারেনি। ব্রিটিশ শাসনের অবসানে দ্বিজাতিতত্ত্বের। ভেতর দিয়ে ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠা হয় পাকিস্তান রাষ্ট্র। শুরু থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর শোষণ ও দমন-পীড়ন চালাতে থাকে। তাদের নীল নকশার প্রথম আঘাত আসে বাঙালির মাতৃভাষা বাংলার ওপর। ১৯৫২ সালে বুকের রক্ত দিয়ে জাতির বীর সন্তানরা মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের এ আত্মদানের ভেতর দিয়ে জাতি উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠে স্বাধিকারের চেতনায়। ক্রমে তা রূপ নেয় স্বাধীনতা সংগ্রামে। মুক্তিকামী বাঙালিকে চিরতরে দমনের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে পশ্চিম পাকিস্তানের কতিপয় রাজনীতিবিদ ও সেনাবাহিনী।
আওয়ামী লীগ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে নানা টালবাহানা শুরু করে। বৈঠকের মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করে তারা নিরস্ত্র বাঙালি নিধনের গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। চলমান আন্দোলনের এক পর্যায়ে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২ মার্চ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন এবং ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে দীর্ঘ ২৩ বছরের শাসন-শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে ১৫ মার্চ থেকে ৩৫ দফা নির্দেশনা পালনের আহ্বান জানান। এতে পূর্ব বাংলায় বেসামরিক শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়ে। ঢাকায় শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের আলোচনা চলতে থাকলেও তা প্রহসনে পরিণত হয়; আলোচনার নামে শাসকগোষ্ঠী কালক্ষেপণ করতে থাকে। একপর্যায়ে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্বিচারে বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা চালায়। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ ছিল বাঙালির একটি প্রজন্মকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার এক নারকীয় পরিকল্পনা। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ‘পোড়া মাটি নীতি’ বাস্তবায়নে জেনারেল টিক্কা খান বলেছিলেন, ‘আমি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি চাই, মানুষ চাই না’। ফলে বাঙালি জাতির জীবনে নেমে আসে বিভীষিকাময় ভয়াল কালরাত্রী—২৫ মার্চ, যা এক ভয়ংকর নিষ্ঠুরতার প্রতীক হয়ে আছে। অবশেষে লাখো শহীদের আত্মদানের পথ ধরে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে আসে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।
জাতি আজ সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের, যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা, জন্ম হয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।
কর্মসূচি: আজ সরকারি ছুটি। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও রাজনৈতিক দলগুলো ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রত্যুষে সূর্যোদয়ের লগ্নে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি জাতির পক্ষে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শ্রদ্ধা জানাবেন জাতীয় সংসদের, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধারা, বিদেশি কূটনীতি রাজনীতিবিদসহ বিশিষ্টজনরা। এর পরই জাতির গৌরব আর অহংকারের এ দিনটিতে সৌধপ্রাঙ্গণে ঢল নামবে লাখো মানুষের। তাদের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ফুলে ফুলে ভরে ওঠবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ।
বিএনপির কর্মসূচি: ভোর ৬টায় নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী বিএনপির সব দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। পাশাপাশি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে প্রধানমন্ত্রীসহ জাতীয় নেতাসহ সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ করবেন। জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল হবে।
এ ছাড়া মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আগামীকাল শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় বিএনপির অলোচনা সভা হবে। সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই সভায় বিএনপির জাতীয় নেতাসহ দেশবরেণ্য ব্যক্তি উপস্থিত থাকবেন। এদিকে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ১০ টাকা মূল্যমানের একটি উদ্বোধনী খাম, ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটাকার্ড এবং একটি বিশেষ সিলমোহর উদ্বোধন করেন। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে তিনি এগুলো উদ্বোধন করেন।
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বুধবার (২৫ মার্চ) ভারতীয় হাইকমিশন থেকে পাঠানো এক বার্তায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।
বার্তায় বলা হয়, ভারতের সরকার, জনগণ ও আমার নিজের পক্ষ থেকে আপনাদের জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আপনাকে এবং বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণকে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। ভারত ও বাংলাদেশ একটি অভিন্ন ইতিহাস, সুগভীর সাংস্কৃতিক সংযোগ ও দীর্ঘস্থায়ী ভাষাগত ঐতিহ্যের মাধ্যমে আবদ্ধ, যা আমাদের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্বের ভিত্তিটিকে রূপদান করে।
শুভেচ্ছা বার্তায় বলা হয়, বছরের পর বছর ধরে আমরা সংযুক্তি, বাণিজ্য, উন্নয়ন অংশীদারত্ব, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ ও শিক্ষাসহ প্রধান খাতগুলোতে জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রসর করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে সীমান্তের উভয় পাশের নাগরিকদের কাছে বাস্তবিক সুফল পৌঁছে দিয়েছি।
শুভেচ্ছা বার্তায় আরও বলা হয়, ভারত আমাদের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করার জন্য এবং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য আগ্রহী। অনুগ্রহ করে পুনরায় আমার সর্বোচ্চ বিবেচনার আশ্বাস এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভকামনা গ্রহণ করুন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জীবনে সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করে।
‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ উপলক্ষে বুধবার (২৫ মার্চ) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণসহ প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আমি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিত মা, বোন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিবেদিত সকলকে গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অগ্রগতি ও উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করতে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং দেশপ্রেমের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আসুন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করি।’
প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।
একদিকে শিশুরা তৈরি করছিল একটি দেয়াল। উপাদান-কাগজের বাক্স। নির্মাণ শেষে শিশুরা দেয়ালের সামনে দাঁড়ায়। তারপরে প্রতীকী গুলি। গুলির আঘাতে শিশুরা লুটিয়ে পড়ে মাটিতে। আরেক দিকে রং-তুলি দিয়ে শিশুদের কেউ আঁকছিল জাতীয় স্মৃতিসৌধ, কেউ রক্তিম সূর্য। আবার কেউবা সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশের চিত্র। পরে শিশুদের আঁকা ছবিগুলো সাঁটানো হয় কাগজের বাক্স দিয়ে বানানো দেয়ালে।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে এমন দৃশ্য দেখা গেল। ঐকতান সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্রের সহযোগিতায় শিশু-কিশোরেরা মুক্তিযুদ্ধের ছবি এঁকে এই দেয়াল নির্মাণ করে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের দেয়াল’।
বাংলাদেশ গণহত্যা দিবস ও কালরাত্রি স্মরণে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এ আয়োজন করেছে। আয়োজনে থাকছে দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।
শিশুদের নিয়ে আয়োজনের পাশে জাদুঘরের প্রাঙ্গণজুড়ে বসানো হয়েছে কাগজ দিয়ে বানানো সাদা পাখি। শান্তির বার্তা দিতে এই পাখিদের রং সাদা। কোনো পাখির গায়ে রক্তের মতো লাল রঙের ছাপ। যেন পাখির ডানা থেকে রক্ত ঝরছে।
কালো ব্যাজের ওপর পাখিগুলো বসানো হয়েছে। এই দৃশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রির সেই ভয়াল স্মৃতি। সেদিন গুলি করে নির্বিচার পাখির মতো মানুষ হত্যা করেছিল পাকিস্তানি বাহিনী।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যায় এই পাখিদের মাঝে জ্বালানো হবে মোমবাতি। তারা বার্তা দিতে চান, যতই ঝড় আসুক, আলো জ্বলবেই।
আয়োজনে অংশ নেওয়া শিশুদের একজন আদি মদোক প্রভু। তার বয়স ৬ বছর। সে ঐকতান সাংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্রের শিক্ষার্থী। সে আঁকছিল জাতীয় স্মৃতিসৌধের ছবি।
শিশুদের চিত্রাঙ্কন পরিদর্শনে এসে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, শিশুরা ছবি আঁকছে। মুক্তির দেয়াল, স্বাধীনতার দেয়াল তৈরি করছে। এই ছবিগুলো যখন একটার পর একটা বাক্সের মধ্যে বসানো হবে, তখন অন্য রকম শক্তির বার্তা দেবে। শিশুরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি। তবে এই দেয়াল তাদের মনস্তত্ত্বে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এনে দেবে।
শিশুদের নির্মাণ করা এই দেয়াল আগামী এক সপ্তাহ প্রদর্শন করবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।
শিশুদের কাজে সহযোগিতা করছিলেন ঐকতান সাংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্রের সাবেক শিক্ষার্থী নিরুপমা চক্রবর্তী। তিনি এখন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। তিনি বলেন, এখানে এসে শিশুদের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ল তার। শিশুদের মনস্তত্ত্বে এই কাজগুলোর ছাপ সবসময় থেকে যায়।
শিশুরা যাতে আনন্দের সঙ্গে সহজে মুক্তিযুদ্ধকে বুঝতে পারে, সে জন্য এই আয়োজন বলে জানালেন ঐকতান সাংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্রের শিক্ষক সঞ্জয় দাস। তিনি বলেন, শিশুরা জানে না ‘৭১ কী, যুদ্ধ কী, বীরাঙ্গনা কী, লাখ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ কী। তাই শিশুদের সহজ ভাষায়, সহজ কাজে, সরল পথে, সত্য বলে মুক্তিযুদ্ধ বোঝাতেই এই দেয়াল নির্মাণ’।
আয়োজনে ঐকতানসহ কয়েকটি সংগঠনের ৩০ জন শিশু-কিশোর অংশ নিয়েছে বলে জানালেন সঞ্জয় দাস। তিনি বলেন, দেয়াল নির্মাণ শেষে শিশুরা জাদুঘর ঘুরে দেখবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানবে।
আয়োজনের অংশ হিসেবে বিকেল ৪টায় জাদুঘর মিলনায়তনে ‘রিমেম্বারিং দ্য ১৯৭১ জেনোসাইড: মেমোরি, ডিনায়াল অ্যান্ড লেসন্স’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হবে। এ ছাড়া প্যানেল আলোচনা এবং সংগীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করা হবে। আলোচনায় অংশ নেবেন তরুণ গবেষকেরা। সংগীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করবে যথাক্রমে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী ও মুক্তধারা আবৃত্তি চর্চাকেন্দ্র।
শিক্ষার্থীদের সময় অপচয় কমাতে পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচিতে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে মূল্যবান সময় সাশ্রয় করতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার সম্ভাব্যতা যাচাইসহ একগুচ্ছ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়ে কাজ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২৫ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে দশম শ্রেণি শেষের পর পরবর্তী বছরে এসএসসি এবং একইভাবে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রায় দুই বছর সময় ব্যয় হয়, যা ব্যক্তি ও জাতীয় পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই পরিস্থিতি বদলাতে বছরের শেষের মধ্যেই পরীক্ষা সম্পন্ন করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বাড়াতে প্রতিটি কক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়। আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোর বাস্তব অবস্থা যাচাই করতে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানদের নিজে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিদর্শন করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নকল ও অনিয়ম রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষায় নীলফামারীর ডিমলায় খগাখড়িবাড়ি দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের অনিয়মের ঘটনায় কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্বের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নথিপত্র তলব করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে বলেও জানানো হয়। এছাড়া এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় বিষয় সংখ্যা কমানোর সম্ভাবনা যাচাইয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, "শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে নকলমুক্ত পরিবেশের কোনো বিকল্প নেই। অতীতে শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে যেভাবে নকল প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছিল, আগামীতেও সেই ধারা বজায় থাকবে।" তিনি আরও বলেন, বিভাগীয় শহরগুলোতে কেন্দ্র সচিব ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামক বাসটি পন্টুন দিয়ে ওঠার সময় এই দুর্ঘটনার শিকার হয়।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নদী থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
নিহতদের পরিচয় প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে জেলার সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ গণমাধ্যমকে জানান, “দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।”
দুর্ঘটনা কবলিত বাসটিতে অন্তত ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে ১১ জন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠতে সক্ষম হলেও বাকিদের বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কবলে পড়েন যাত্রীরা। বাসটি পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই গভীর পানিতে তলিয়ে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
খবর পাওয়ার পর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, “বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ইউনিটের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা কাজ করছে, তবে এখন পর্যন্ত পানির নিচ থেকে বাসটি শনাক্ত বা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।”
বর্তমানে ঘটনাস্থলে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ, জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করছেন। পানির গভীরতা বেশি হওয়ায় ডুবুরিদের তল্লাশি চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে স্বজনদের আহাজারিতে বর্তমানে ঘাট এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ পুলিশের ৪ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করা হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
তবে ঠিক কী কারণে বা কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই ৪ কর্মকর্তাকে অপসারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো দয়া বা আলোচনার মাধ্যমে অর্জিত নয়; রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়েই এই স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনা হয়েছে। তাই স্বাধীনতার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর বেইলি রোডে ভিকারুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজে কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক কমিটির উদ্যোগে ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত স্মৃতিচারণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের ওপর বৈষম্য চাপিয়ে দেওয়া হয়। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচন—সবকিছুই ছিল স্বাধীনতার পথে বাঙালির অগ্রযাত্রা। কিন্তু রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর নির্মম গণহত্যা চালায়। রাজারবাগ পুলিশ লাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ হলসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ছাত্রজীবনেই তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিতে যুক্ত হন। অস্ত্র না থাকলেও ছাত্ররা বিভিন্নভাবে প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেয়, এমনকি স্কুলের ল্যাব থেকে রাসায়নিক সংগ্রহ করে বোমা তৈরির চেষ্টা করা হয়। ২৫ মার্চের হত্যাযজ্ঞ চোখে দেখার পরই তিনি শপথ নেন—দেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।
আব্দুস সালাম বলেন, স্বাধীনতার পরও দেশের মানুষের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মেধা ও সৎ নেতৃত্বের সমন্বয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই দেশ স্বাধীন করেছি আমরা, আর এই স্বাধীনতা রক্ষা করার দায়িত্ব তোমাদের। দেশকে ভালোবাসতে হবে, দেশের সংস্কৃতি, মানুষ ও ঐতিহ্যকে ধারণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মেধা পাচার বন্ধ করে তরুণদের দেশেই কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মেধা ও দেশপ্রেম একসাথে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যেতে পারবে।
অনুষ্ঠানে তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের স্মরণ করেন।
স্মৃতিচারণ সভায় প্রশাসক ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। দৌলতদিয়া ৩ নম্বর পন্টুন দিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা অনুযায়ী, বাসটির ব্রেক বিকল হয়ে যাওয়ায় চালক নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি এবং মুহূর্তেই যানটি তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই বেশ কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠতে সক্ষম হলেও বাসের ভেতরে থাকা অধিকাংশ যাত্রীই নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়েই রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। বাসটি পানি থেকে টেনে তোলার জন্য ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানিয়েছেন, নিখোঁজদের সন্ধানে পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে বিশেষ ডুবুরি দল তলব করা হয়েছে এবং তারা পৌঁছানোর পর পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।
বর্তমানে স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে নদীতে তীব্র স্রোত ও অন্ধকার নেমে আসায় উদ্ধারকাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি, তবে নিখোঁজদের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাসের ভেতরে ঠিক কতজন আটকা পড়েছেন তা সঠিকভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না।
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত জনভোগান্তি কমাতে এবং সেবার মান ত্বরান্বিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন থেকে মাঠপর্যায়ের উপজেলা বা থানা নির্বাচন কার্যালয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদেরও ভোটারের আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক যাচাই করার ক্ষমতা প্রদান করা হচ্ছে। বুধবার নির্বাচন কমিশনের এনআইডি অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আগে এই প্রযুক্তিগত সুবিধা কেবল উপজেলা ও থানা পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে পরিচয় নিশ্চিতকরণ বা এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে দ্বিমুখী বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো।
বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম কিংবা পিতা-মাতার নামের মতো মৌলিক ও বড় ধরনের সংশোধনের জন্য নাগরিকদের বাধ্যতামূলকভাবে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যেতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে সব প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও, ওই কার্যালয়ে আঙুলের ছাপ যাচাইয়ের কারিগরি সুবিধা তথা ‘এফআইএস ম্যাচিং’ ব্যবস্থা না থাকায় সেবাগ্রহীতাদের পুনরায় উপজেলা বা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এই দীর্ঘসূত্রিতা ও ভোগান্তি লাঘবের উদ্দেশ্যেই আঞ্চলিক পর্যায়ে বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের সক্ষমতা চালুর বিষয়ে নীতিগত আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই মাঠপর্যায়ের আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে এই সুবিধা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। কমিশনের এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ দ্রুততম সময়ে এনআইডি সংশোধন ও পরিচয় নিশ্চিতকরণের সেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ streetlight ৮৫ হাজার ৫২৪ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ১২০ জন। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর পরিচয়পত্রের নিরাপত্তা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের বিকেন্দ্রীকরণ অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রশাসনিক এই পরিবর্তনের পাশাপাশি জাতীয় সংকটে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সরকার ঘোষিত সাশ্রয়ী নীতির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে ইসি সচিবালয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ মাঠপর্যায়ের সব কর্মকর্তাকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেল ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষ করে কার্যালয়গুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রাখা এবং সরকারি যানবাহনের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার পরিহার করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা ১১ দফা নির্দেশনার আলোকে নির্বাচন কমিশন তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যয় সংকোচন এবং সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ব্যয় হ্রাসে কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন কর্ণফুলী টানেল রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ট্রাফিক ডাইভারসন বা যানচলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন দিবাগত রাতে এই কার্যক্রম চলবে।
সেতু কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সুবিধার্থে এই কদিন রাত ১১:০০টা হতে ভোর ০৫:০০টা পর্যন্ত প্রয়োজন অনুযায়ী 'পতেঙ্গা হতে আনোয়ারা' অথবা 'আনোয়ারা টু পতেঙ্গা' টিউবের ট্রাফিক ডাইভারসন করা হবে। অর্থাৎ, এক লেনের গাড়ি অন্য লেন দিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হতে পারে।
এই সময় বিদ্যমান যানবাহনের চাপ অনুযায়ী টানেলের উভয় প্রবেশমুখে সম্মানিত যাত্রী ও চালকদের সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট অপেক্ষমাণ থাকার প্রয়োজন হতে পারে।
টানেলের নিরাপদ ও কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে কর্তৃপক্ষ। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করেছে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে জুলাই বিপ্লব সংশ্লিষ্ট চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির সব সদস্য ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে আয়োজিত বিশেষ কমিটির মুলতবি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এরইমধ্যে ১২০টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছি। পর্যালোচনার ক্ষেত্রে জুলাই সনদ এবং দেশের সংবিধানকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে কমিটির সবাই একমত হয়েছেন। অবশিষ্ট অধ্যাদেশগুলো নিয়ে আগামী ২৯ মার্চ পুনরায় আলোচনা করা হবে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই বিশেষ কমিটির বৈঠকটি বুধবার দুপুর ২টায় শুরু হয়। এর আগে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা ১১টায় প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত ১৫ মার্চ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে কোনগুলো স্থায়ী আইন হিসেবে বহাল থাকবে এবং কোনটি বাতিল হবে, তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়াই এই কমিটির মূল দায়িত্ব।
কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, অবশিষ্ট ১৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে ২৯ মার্চের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পর চূড়ান্ত সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে, যা পরবর্তী সময়ে সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল একটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ।সুপরিকল্পিত এ হত্যাযজ্ঞ কেন প্রতিরোধ করা গেল না এ ব্যাপারে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃশ্যমান ভূমিকা এখনও ইতিহাসের গবেষণার বিষয়।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষ্যে আমি সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত ও নৃশংসতম গণহত্যার দিন। এ কালো রাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে বাংলাদেশের নিরস্ত্র স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা চালায়। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও নিরপরাধ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় এবং হত্যা করে।
তিনি বলেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল একটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। সুপরিকল্পিত এ হত্যাযজ্ঞ কেন প্রতিরোধ করা গেল না এ ব্যাপারে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃশ্যমান ভূমিকা এখনও ইতিহাসের গবেষণার বিষয়। তবে ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ‘উই রিভোল্ট’ বলে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র প্রতিরোধ করে গড়ে তুলে চট্টগ্রামের ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। গণহত্যা প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই শুরু হয়ে যায় দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার মূল্য ও তাৎপর্য বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হলে ২৫ মার্চের গণহত্যা দিবস সম্পর্কেও জানা জরুরি। আসুন, আমরা সবাই রাষ্ট্র ও সমাজে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সাম্য মানবিক মর্যাদা সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করি। একটি ন্যায়ভিত্তিক উন্নত সমৃদ্ধ স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।
তারেক রহমান বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আমি প্রার্থনা করি, তিনি যেন সব শহীদের বিদেহী আত্মাকে মাগফিরাত দান করেন। আমি ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করছি।