রোববার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
২২ চৈত্র ১৪৩২

শুল্ক কমালেও খেজুরের দাম নাগালের বাইরে

উচ্চ শুল্কের কারণে বাড়তি দাম, বলছেন ব্যবসায়ীরা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৩ মার্চ, ২০২৪ ০০:১৬
রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত
রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ৩ মার্চ, ২০২৪ ০০:১৬

খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছিল ৫৩ শতাংশ, ৮ ফেব্রুয়ারি ১০ শতাংশ কমিয়ে করা হয়েছে ৪৩ শতাংশ। শুল্ক কমানোর পরও দাম কমেনি খেজুরের। উল্টো দাম বেড়েছে। যদিও বন্দর থেকে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। গত কয়েক দিনে ৬০৫ কনটেইনার খেজুর খালাসের কার্যক্রম চলছে এবং প্রতিদিনই খালাস অব্যাহত রয়েছে।

জানা গেছে, আগামী ১২ মার্চ পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনা করেন। দিনভর রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে খেজুর। খেজুর ছাড়া এখন আর ইফতারের কথা ভাবা যায় না। প্রায় সব রোজাদারই খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করেন। এ কারণে রমজান মাসে চাহিদা বেশি থাকা পণ্যগুলোর একটি খেজুর। পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে চলতি মাসে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি বাজারে তদারকি ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা কোনো কাজেই আসছে না। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের বাজারে খেজুরের দাম প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়েছে।

৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি আদেশে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনার ঘোষণা দেয়। এর আগে খেজুর আমদানিতে সর্বমোট ৫৩ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে খেজুরের শুল্কায়ন মূল্য প্রতি টন ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৭৫০ ডলার। এর সঙ্গে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ, রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ ও ভ্যাট ১৫ শতাংশ। পাশাপাশি অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর ৫ শতাংশ হারে দিতে হচ্ছে। এতে বর্তমানে সর্বমোট ৪৩ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত রোজার আগে মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরে শুল্ক দিতে হতো ৫ দশমিক ৪৫ থেকে ২১ দশমিক ৮৪ টাকা। তবে এবার খেজুরকে ‘বিলাসীপণ্যের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে খেজুরের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫৩ শতাংশ করা হয়। ফলে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বেড়ে গেছে। এবার শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫৪ থেকে ২০৮ টাকা। মূলত শুল্কের প্রভাব পড়েছে খেজুরের দামে। গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি খেজুরে জাতভেদে দাম বেড়েছে ১০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত। দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া খেজুরের মধ্যে রয়েছে দাবাস, জাহিদি, বরই ও গলা খেজুর।

চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গলা বা বাংলা খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, জাহিদি খেজুর ২৪০-২৬০ ও মানভেদে দাবাস খেজুর ৪৫০-৫৫০ টাকায়। এ ছাড়া বরই খেজুর মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৪০-৫৪০ টাকায়। গত বছর এসব খেজুরের দাম ছিল বর্তমান দরের অর্ধেকেরও কম।

এদিকে অভিজাত শ্রেণির কাছে পছন্দের খেজুরের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের মেডজুল, মাবরুম, আজওয়া ও মরিয়ম। গত এক মাসের ব্যবধানে এসব খেজুরের দাম কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে। জাম্বো মেডজুল মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, সাধারণ মেডজুল ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০, মাবরুম খেজুর ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, আজওয়া খেজুর মানভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো জাতের মরিয়ম বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এ ছাড়া কালমি মরিয়ম ৮০০-৯০০ টাকা, সুফরি মরিয়ম ৭৫০-৮০০, আম্বার ও সাফাভি ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ ও সুক্কারি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়।

খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে রোজার আগে জাহিদি জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি (১০ কেজি) ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। শুল্ক আরোপের কারণে দাম বাড়ার পর গত বছরের শেষ সপ্তাহেও একই জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা। তবে এখন ১০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েও এই জাতের খেজুরের কার্টন হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা।

পাইকারি ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি ৫ কেজির এক কার্টন মেডজুল খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার টাকায়। গত বছর এ খেজুর বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়। অন্যদিকে সাধারণ খোলা খেজুর প্রতি কেজি ফেব্রুয়ারির শুরুতে কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ছিল ১২৮-১৩০ টাকা। বর্তমানে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকায়।

পাইকারি বাজার সূত্রে জানা গেছে, বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় জাহিদি জাতের খেজুর। এক বছর আগে প্রতি কেজি খেজুর খুচরা পর্যায়ে ১৫০ টাকায় পাওয়া যেত। শুল্ক কমানোর পর বর্তমানে এ খেজুর খুচরায় বিক্রি করতে হবে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য আমদানি করা খোলা (বস্তায় বিক্রি হওয়া ভেজা খেজুর) রোজা আসার আগেই কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ১৫৫ টাকায় উঠে গেছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে এ মানের খেজুর বিক্রি করতে হবে কমপক্ষে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। অবশ্য গতকাল বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল হক টিটু ঘোষণা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে খেজুর পৌঁছে দিতে বস্তায় আসা জাহিদি খেজুরের দাম কমানো হবে। আজ রোববার (৩ মার্চ) এই খেজুরের দাম কমানোর ঘোষণা আসার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিনে সবচেয়ে বেশি খেজুর বন্দর থেকে খালাস নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগে বন্দর থেকে দিনে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলেও এখন সেটা ৭০ কনটেইনারে গিয়ে টেকেছে। কিন্তু দাম কমছে না।

ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকার শুল্ক কমানোর পর ব্যবসায়ীরা খেজুর খালাসে তোড়জোড় শুরু করেছে। শুল্ক কমানোর পরও ভোক্তারা কম দামে খেজুর কিনতে পারছেন না। শুল্ক কমানোর পর পর্যাপ্ত আমদানি হলেও দাম কেন কমছে না বিষয়টি তদারকি করতে হবে। তদারকি না করলে রোজায় খেজুর কিনতে পারবে না ভোক্তারা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৬৩ টন খেজুর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস করেছেন আমদানিকারকরা। ১৪৫ দিনের মধ্যে গত ১৫ দিনেই বেশি খেজুরের চালান খালাস হয়েছে। ২৮ ধরনের খেজুর দেশের ৮২টি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্দান, মিসর, আলজেরিয়া, নামিবিয়া, তিউনিশিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আমদানি করেছে।

জানা গেছে, চার মাস আগে খেজুর আমদানি করলেও শুল্ক কমবে এ আশায় ব্যবসায়ীরা পণ্যটি চট্টগ্রাম বন্দরে গুদাম করে রেখেছিলেন। ফলে বেসরকারি ১৯টি ডিপোতে ১ হাজার কনটেইনার (প্রতি কনটেইনারে ২২-২৪ হাজার কেজি খেজুর থাকে) খেজুর পড়ে ছিল। এখন খেজুরভর্তি ৬০৫টি কনটেইনার খালাস চলছে। এখনো খেজুরভর্তি ৩৯৫টি কনটেইনার খালাসের উদ্যোগ নেয়নি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার কাজী ইরাজ ইশতিয়াক বলেন, প্রচুর পরিমাণে খেজুর খালাস হচ্ছে। প্রতিদিনই খালাস করছেন আমদানিকারকরা। তিনি বলেন, খেজুরের শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

তিনি জানান, খেজুরের চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। একেকটি ক্যাটাগরির একেক রকম শুল্কহার হয়। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির প্রবণতাও রয়েছে। অনেক সময় উচ্চ শুল্কহারে খেজুর এনে কম শুল্কহারে ঘোষণা দেওয়া হয়। এমন বেশ কিছু ঘটনাও ঘটেছে। এ জন্য আমরাও সতর্ক আছি, যেন সরকার রাজস্ব বঞ্চিত না হয়।

উচ্চ শুল্কহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা এনবিআর নির্ধারিত, এ ব্যাপারে আমাদের বলার বা করার কিছু নেই। আমরা নির্ধারিত শুল্ক নিয়ে খালাসের ব্যবস্থা করি। খেজুর বিলাসী পণ্য কি না, এ বিষয়েও তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

খাতুনগঞ্জের ডেটস অ্যান্ড ড্রাই ফ্রুটস আমদানিকারক মো. ওমর ফারুক বলেন, খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ট্যাক্স ১০ শতাংশ কমালেও অন্যান্য শুল্ক ঠিক রেখেছে এনবিআর। ফলে উচ্চমাত্রায় ট্যাক্স দিয়েই আনতে হচ্ছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সামান্য এ শুল্ক কমানোয় খেজুরের দামে প্রভাব পড়বে না।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সুলতান আরেফিন বলেন, শুল্ক কমানোর পর থেকে আমদানিকারকরা খেজুর খালাস নিতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। আগে প্রতিদিন গড়ে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলে এখন সেটি ৭০ কনটেইনার খালাস হচ্ছে।

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতি কেজি খেজুর ১১০ টাকায় কিনলে ১৪০-১৫০ টাকা শুল্ক দিতে হয়। ১২০ টাকায় কিনলে ২০৮ টাকা শুল্ক দিতে হয়। গত বছর ৯০ টাকায় ডলার কিনতে পারতাম। এ বছর ১২০-১২২ টাকা দিতে হচ্ছে। কাস্টমস থেকে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ইচ্ছেমতো করা হচ্ছে। এলসি যে মূল্যে খুলছি সে অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ করা হলে খেজুরের দাম অর্ধেকে নেমে আসে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না।

বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, পণ্য বন্দরে আসার পর শুল্ক পরিশোধ করে খালাস করতে হয়। এসব কাস্টমসের বিষয়।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমেদ বলেন, ডলারের দাম বাড়াতে পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে যায়। এর পরও ব্যবসায়ীরা সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছেন।


সরকারি চাকরিতে প্রবেশসীমা ৩২ বছর করে সংসদে বিল পাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাসহ সব ক্ষেত্রে সরাসরি নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ (বত্রিশ) বছর নির্ধারণ করতে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

রোববার (০৫ এপ্রিল) বিকেলে ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাগুলোতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল, ২০২৬’ শীর্ষক বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

বিলের মূল বিধানগুলোতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) সব ক্যাডার এবং বিসিএস বহির্ভূত সব সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৩২ বছর। স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর যেসব পদে নিয়োগের বয়সসীমা আগে ৩০ বা অনূর্ধ্ব ৩২ ছিল, সেখানেও এখন থেকে বয়সসীমা ৩২ বছর হবে।

অপরিবর্তিত উচ্চতর বয়সসীমায় যেসব পদের নিয়োগ বিধিমালায় বয়সসীমা এর আগে ৩২ বছরের বেশি (যেমন : ৩৫, ৪০ বা ৪৫ বছর) নির্ধারিত আছে, সেই ক্ষেত্রে আগের উচ্চতর বয়সসীমাটিই বহাল থাকবে। অর্থাৎ এই আইনের ফলে কারও সুযোগ কমবে না। এছাড়া প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব বিদ্যমান বিধিমালা অপরিবর্তিত থাকবে।

বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষিত বেকার যুবকদের দেশ গঠনে আরও বেশি সুযোগ করে দিতে এবং শ্রমবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে এই বয়সসীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে জারি করাত এ সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ রহিত করে সেগুলোকে স্থায়ী আইনি রূপ দিতেই এই নতুন বিলটি আনা হয়েছে।

বিলের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে অধ্যাদেশ জারির ফলে কিছু কারিগরি জটিলতা তৈরি হয়েছিল, যেখানে কিছু বিশেষায়িত পদে উচ্চতর বয়সসীমা কমে গিয়েছিল। বর্তমান বিলের মাধ্যমে সেই অস্পষ্টতা দূর করা হয়েছে এবং ৩২ বছরের বেশি বয়সসীমা নির্ধারণ করা পদগুলোর বিদ্যমান নিয়ম বহাল রাখা হয়েছে।


মাইকে কাজ করছে না, অধিবেশনে ৪০ মিনিট মুলতবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাউন্ড সিস্টেমের বিভ্রাটের কারণে সংসদের অধিবেশন ৪০ মিনিট মুলতবি করা হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ মুলতবি ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

স্পিকার বলেন, আবারও স্পিকারের মাইক কাজ করছে না। এই কারণে ৪০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হলো। প্রথম ২০ মিনিট নামাজের জন্য এবং পরবর্তী ২০ মিনিট মাইকের জন্য মুলতবি।

তিনি বলেন, সদস্যবৃন্দ স্পিকারের মাইক কাজ করছে না, আপনাদেরও মাইক কাজ করছে না। এ কারণে ৪০ মিনিট বিরতি দেওয়া হলো। নামাজের টাইম হয়েছে, ২০ মিনিট বিরতি দেই। সদস্যবৃন্দ আজানের ২০ মিনিট বাকি এবং এই মাইক রিপেয়ার করার জন্য আরো ২০ মিনিট, মোট ৪০ মিনিট সময়ের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হলো।


১২৮টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় দেশের বন্যাপ্রবণ ৪৩টি জেলার ২৫৮টি উপজেলায় ৩২০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও ১২৮টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ মো. আবদুল মান্নানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম অধিবেশনে অষ্টম দিন সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বর্তমানে দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসকল্পে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বিশেষ পদক্ষেপ

১. বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় দেশের বন্যাপ্রবণ ৪৩টি জেলার ২৫৮টি উপজেলায় ৩২০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও ১২৮টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও ‘উপকূলীয় ও ঘূর্ণিঝড় প্রবণ এলাকায় ৯০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র’ নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে সারা দেশে ১১৫টি দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে এবং ১২২টি দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

২. দুর্যোকালীন সময়ে সহজে ও দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য দেশব্যাপী ১২ হাজার ২৪৫টি সেতু/কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও ২ হাজার ৩৬টি সেতু/কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার এইচবিবি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও ১ হাজার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হবে।

৩. দেশের ১২টি জেলার ৩৫টি উপজেলায় দুর্যোগকালীন সময়ে জরুরি উদ্ধারকার্য ব্যবহারের জন্য টেলিকমিউনকেশন ইকুইপমেন্ট, ফায়ার ফাইটং ইকুইপমেন্ট, রেডিও সেট, ১২টি রেসকিউ বোট এবং ৪১৩টি শ্যালো ওয়াটার রিসোর্চ বোট ক্রয় করা হবে।

৪. অন্যদিকে, ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় ১১টি এরিয়াল প্ল্যাটর্ফম ল্যাডার ক্রয়পূর্বক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তিনটি ফর্কলিফ্ট, ২০ টনের তিনটি ডোজার, ৪৮ টনের তিনটি ডোজার আমর্ড ফোর্সেস ডিভিশনকে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুর্যোগকালীন সময়ে উদ্ধারকার্যের জন্য আরও অগ্নিনির্বাক সরঞ্জামাদি, তাবু, এয়ার বোট, স্পিড বোট, ইমারজেন্সি রেসপন্স ভেহিক্যাল, স্যার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ইকুইপমেন্ট, টেলিযোগাযোগসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি ক্রয় করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন, বাংলাদেশ নৌ বাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেমের মধ্যে বিতরণ করা হবে।


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হলেন মাহদী আমিন ও ছালেহ শিবলী

আপডেটেড ৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) দাফতরিক তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার ও প্রদানের জন্য মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (শিবলী)। রবিবার (৫ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর রুল ২৮(৪) অনুসারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট যেকোনও তথ্য প্রেস, মিডিয়া বা অন্য কোনও মাধ্যমে প্রচারের ক্ষেত্রে মাহদী আমিন ও আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (শিবলী) মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা মাহদী আমিন বর্তমানে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সাল থেকে তিনি তৎকালীন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা এবং ২০২৪ সালে দলের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ৩১ দফার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে তার বিশেষ অবদান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (শিবলী) কয়েক দশক ধরে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় যুক্ত। তিনি বার্তা সংস্থা ইউএনবি, দৈনিক মানবজমিন, বাংলাবাজার পত্রিকা ও চ্যানেল আইসহ বিভিন্ন প্রথম সারির গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০০৪ সালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এবং ১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তিনি কলকাতার উপ-হাই কমিশনে ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রেস সচিব হিসেবেও তিনি দীর্ঘ সময় অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট যেকোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তথ্য এখন থেকে এই দুই কর্মকর্তার মাধ্যমেই গণমাধ্যমে সরবরাহ করা হবে।


ভবিষ্যতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে: অর্থমন্ত্রী

আপডেটেড ৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:৫৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি ও সামগ্রিক সংকট প্রসঙ্গ টেনে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি শুধু জ্বালানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি বহুমাত্রিক সংকট। এতে খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর প্রভাব পড়ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।’

রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উদ্যোগে এ পরামর্শসভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বর্তমানে অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখা ও পুনরুদ্ধারের এক ধরনের যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রভাব দেশের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে, ফলে সরকারি তহবিলে ধারাবাহিক চাপ ও ক্ষয় তৈরি হচ্ছে। প্রতিদিন এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের ঋণ পরিস্থিতি ও তার ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগামী দিনে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে এবং অর্থ সংগ্রহের খরচও পরিকল্পনার অংশ হতে হবে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি এমন অবস্থায় রয়েছে যেখানে সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে তা পুনরুদ্ধার করা। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই নিম্নমুখী ছিল, ফলে এখন উত্তরণের বিষয়টি সামনে আসার মতো পরিস্থিতি নেই।’

তিনি বলেন, ‘এই সংকট কোনো একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক বাস্তবতার অংশ।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বাংলাদেশ এখনো অনেক ক্ষেত্রে দাম সমন্বয় করেনি, তবে এই চাপ দীর্ঘদিন ধরে রাখা সম্ভব নয়।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এই চাপ বহন করা সম্ভব না হলে এর নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়বে। তাই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।’

এর আগে, এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উদ্যোগে এবং জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত, স্থলবেষ্টিত ও ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র বিষয়ক দপ্তর ও বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়ের সহযোগিতায় জাতীয় বহুপক্ষীয় পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সভায় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমা এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি প্রমুখ।


৪৮১ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় তালিকাভুক্ত হওয়া ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান। এরই মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ৪৮১ জন অমুক্তিযোদ্ধার (ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা) গেজেট বাতিল করা হয়েছে।

রবিবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মালিকের নেটিশের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনৈর অষ্টম দিনে সভাপতিত্ব করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

৭১ বিধিতে দেওয়া নোটিশে মোহাম্মদ আব্দুল মালিক দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার সারাদেশের ন্যায় আমার এলাকায় অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করেছে। এই নিয়ে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক ক্ষোভ রয়েছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে তালিকাভুক্ত হয়ে অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সেজে অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে।”

সংসদ সদস্য আব্দুল মালিক তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, “বিগত ১৫ বছরে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলিত ছিলেন এবং অনেক অসাধু ব্যক্তি ভুয়া তথ্য দিয়ে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। বিশেষ করে সিলেটের বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।”

জবাবে মন্ত্রী বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলতে আসলে কিছু নেই। তবে কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি অসাধু উপায়ে তালিকায় ঢুকে পড়েছে। এদের চিহ্নিত করার কাজ একটি চলমান প্রক্রিয়া। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) উপকমিটি অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত শুনানি ও যাচাই-বাছাই করছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া মাত্রই তাদের সনদ ও গেজেট বাতিল করা হবে।”

সিলেট অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানী এবং সাবেক নৌবাহিনী প্রধান মাহবুব আলী খানের স্মৃতিবিজড়িত এই অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রবাসে অবস্থানরত যেসব মুক্তিযোদ্ধা এখনও ডিজিটাল সনদ বা স্মার্ট আইডি পাননি, তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ে তা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংসদ সদস্যের দাবির প্রেক্ষিতে মন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, দক্ষিণ সুরমা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের কাজ দ্রুত হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ ও সংস্কারের বিষয়টিও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত নেত্রীর আদর্শে বর্তমান সরকার পরিচালিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

মন্ত্রী জানান, শিগগিরই তিনি সিলেটের ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধের স্থানগুলো পরিদর্শন করবেন এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষায় স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।


আগের সরকারের সময়ে র‍্যাবের অপকর্মের ইতিহাস খুব বেশি নেই: র‍্যাব ডিজি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত দেড় বছর এবং এর আগের সরকারের সময়ে র‍্যাবের অপকর্মের ইতিহাস খুব বেশি নেই বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ।

রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর র‍্যাবের কথিত খুন, গুম ও ‘ক্রসফায়ার’-এর নথি তলব করে মামলাগুলো তদন্ত করবেন– এ ক্ষেত্রে র‍্যাব সহযোগিতা করবে কি না, জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, ‘বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা চাওয়া হলে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। আমাদের কাছে যা আছে, তা দেব। কোনো তথ্য না থাকলে আমরা অপারগতা প্রকাশ করব। তবে ট্রাইব্যুনাল এই বিষয়ে এখনো আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তারা আমাদের কাছে সহায়তা চাইলে অবশ্যই সহায়তা করা হবে।’

র‍্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে দেশি-বিদেশি সংস্থার চাপের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিজি বলেন, র‍্যাব বিলুপ্তি বা বাহিনী সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়ভার র‍্যাবের ওপর বর্তায় না; সরকার এ বিষয়গুলো বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্তব্য হচ্ছে দায়িত্ব পালন করা। যেহেতু আমরা রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছি, তাই আমাদের মূল কাজই হচ্ছে কাজের মাধ্যমে র‍্যাবকে জনগণের সামনে ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। র‍্যাব সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেবে, আমরা আমাদের কাজ করে যাব।’

বিগত সময়ে র‍্যাবকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে আহসান হাবীব পলাশ বলেন, ‘গত দেড় বছর এবং এর আগের সরকারের সময়ের র‍্যাব কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখবেন, র‍্যাবের অপকর্মের ইতিহাস খুব বেশি নেই। এতেই প্রমাণিত হয় যে সঠিকভাবে পরিচালনা করা গেলে র‍্যাব সঠিকভাবে চলতে পারে। আমি মনে করি, এ ব্যাপারে সরকার চেষ্টা করছে এবং আমরা সরকারের কিছু নির্দেশনাও পেয়েছি।’

জলদস্যু ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ফের সক্রিয় হওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, র‍্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে এবং এ নিয়ে কাজ চলছে। নির্বাচনসহ বিভিন্ন কারণে আগে পর্যাপ্ত দৃষ্টি দেওয়া সম্ভব না হলেও এখন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের বিষয়ে র‍্যাব ডিজি বলেন, ‘জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদ– এগুলোর জবাব আমি দিতে চাই না, তবে আমরা কাজ করছি। যে ‘বাদ’-ই থাকুক না কেন, আমরা তা নির্মূল করতে পারব।’

কিশোর গ্যাং বা কিশোর অপরাধী চক্রের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি বর্তমানে দেশে প্রকট আকার ধারণ করছে। পুলিশ ও র‍্যাব যৌথভাবে এটি নিয়ে কাজ করছে। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারাও উন্মোচন করুন কারা কিশোর গ্যাংকে সহায়তা করছে, তাহলে আমাদের কাজ সহজ হয়ে যাবে।’

র‍্যাবের নাম পরিবর্তন বা সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, পুনর্গঠন বা কাঠামোগত পরিবর্তন সরকারের বিবেচনার বিষয়। র‍্যাবের অগ্রাধিকার হচ্ছে অর্পিত দায়িত্ব পালন করা। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে কেউ ছাড় পাচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে র‍্যাব ডিজি বলেন, ‘র‍্যাব গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত কেন এ ঘটনাগুলো ঘটল, তা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কাজের ক্ষেত্রে কিছু ভিন্নতা বা কিছুটা পদস্খলন ছিল। আমরা যদি এই বিষয়গুলো সংশোধন করতে পারি, তবে আমার মনে হয় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আর থাকবে না।’


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আপডেটেড ৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:৩৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

আজ রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন খবরটি নিশ্চিত করেন। সাক্ষাৎকালে তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

রাষ্ট্রদূত এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে দুটি ছবি এবং হোয়াইট হাউসের একটি রেপ্লিকা তুলে দেন। একটি ছবিতে রয়েছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার এবং অপর ছবিতে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়র।

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।


আমেরিকার সঙ্গে আমাদের কোনো গোপন চুক্তি নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো গোপন চুক্তি নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, আমেরিকার সঙ্গে যা কিছু আছে, তা প্রকাশ করা হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানান, জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে সরকারের ওপর কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা নেই। সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, বিশেষ করে জ্বালানি, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে সাধারণ আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ এবং তাদের এই সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

জ্বালানি খাতে সহযোগিতা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার কিছু বিষয় গোপনীয়তার কারণে এই মুহূর্তে প্রকাশ করা না গেলেও, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সহায়তা করবে– এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে সাশ্রয়ী উৎস থেকেই তেল কেনা হবে। ভারত, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা যুক্তরাষ্ট্র– সব বিকল্পই সরকারের জন্য খোলা রয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বিদেশ সফর নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সফরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম চূড়ান্ত হয়নি। তিনি আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ জন্য বিশ্ববাজারে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ও সাশ্রয়ী উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।


এলডিসি উত্তরণে দেশ এখনো পুরো প্রস্তুত নয়: অর্থমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠলেও এখনো সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর মতো পূর্ণ প্রস্তুতি নেই বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ দেনার চাপ, উচ্চ সুদের হারে ঋণ গ্রহণের ঝুঁকি এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

রবিবার (৫ এপ্রিল) শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বহুপক্ষীয় পরামর্শসভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের উত্তরণ প্রস্তুতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সংস্থা UN-OHRLLS একটি স্বতন্ত্র মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে, যার মূল বিষয়গুলো এই সভায় উপস্থাপন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়বে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়াবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং বাংলাদেশ এখনো তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘদিন এই চাপ বহন করা সরকারের জন্য সম্ভব নয়।

তিনি আরো বলেন, সরকার জনগণের ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে চায় না। কিন্তু সরকারি তহবিল থেকে ধারাবাহিক ব্যয় চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব জনগণের ওপরই পড়বে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। যেন জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা যায় এবং অন্যদিকে অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘প্রতিদিনের সংকট মোকাবেলা’ হিসেবে বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই নিম্নমুখী। সরকার এখন অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, কিন্তু জ্বালানি খাতে ভর্তুকি, বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভরতার কারণে চাপ আরো বাড়ছে।’

সংকট উত্তরণে সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সংস্কার ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হবে।’ এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘বর্তমানে উত্তরণ প্রক্রিয়া কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে উত্তরণ একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হয়ে উঠবে।’

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মিজ রাবাব ফাতিমা এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।


আনন্দ বা মঙ্গল নয়, হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’: সংস্কৃতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পয়লা বৈশাখে যে শোভাযাত্রা হবে সেটি আর আনন্দ বা মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে হবে না। এবার সেটি ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে উদযাপিত হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

রোববার (০৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে বাংলা নববর্ষ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।


দেশব্যাপী ৬-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা কার্যক্রম শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় একযোগে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে মিজলস (হাম) প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা হচ্ছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১১টায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরীক্ষা অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত রোগীদের ৮২ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। তাই আমরা বর্তমানে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী দেশের সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। আজ থেকে সেই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। তবে এই বয়সী শিশুদের মধ্যে যারা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই মুহূর্তে টিকা দেওয়া হচ্ছে না। অসুস্থ শিশু ছাড়া বাকি সবাইকে টিকার পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। আর যারা অসুস্থ, তাদের কেবল ভিটামিন ‘এ’প্রদান করা হবে।’

মন্ত্রী আরও জানান, প্রথম ধাপে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও ইউনিসেফ এসব এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বেশি বলে শনাক্ত করেছে। এই এলাকাগুলোতে কার্যক্রম শেষ করার পর পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বিশেষ এই টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।

প্রথম পর্যায়ে শুরু হওয়া এই বিশেষ কর্মসূচির আওতাভুক্ত ৩০টি উপজেলা হলো- রাজশাহীর গোদাগাড়ী; ঢাকার নবাবগঞ্জ; মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর; ঝালকাঠির নলছিটি; ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর; চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর; বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ; পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া; নওগাঁর পোরশা; গাজীপুর সদর; নেত্রকোনার আটপাড়া; শরীয়তপুরের জাজিরা; বরগুনা সদর; মাদারীপুর সদর; কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু; চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, ভোলাগঞ্জ ও সদর; নাটোর সদর এবং যশোর সদর।


চ্যালেঞ্জ দূর করে বিনিয়োগবান্ধব দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

*প্রথম বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ গঠন * নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি * বিদেশি বিনিয়োগকারিদের ঝামেলা ছাড়াই দেশে আনা * ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো ও রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার * গভীর সমুদ্রবন্দর ও বন্ধ কলকারখানা চালুর আহ্বান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং শিল্প খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনার জন্য শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, দ্রুত করতে গভীর সমুদ্রবন্দর চালু, বিদেশি বিনিয়োগকারিদের বিমানবন্দরের ঝামেলা ছাড়াই সহজে দেশে আনা, ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো, রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার এবং বন্ধ কলকারখানা চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। এ সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছেন।

এ পরিষদের মাধ্যমে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা ব্যবসা পরিবেশ, বিনিয়োগ পরিবেশ ও সংস্কারের অগ্রাধিকার নিয়ে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে সরাসরি মতামত দিতে পারবেন।

গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

দেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা করার ক্ষেত্রে কর-ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা, উচ্চ সুদহার, বন্দরে পণ্য খালাস এবং নিবন্ধন সমস্যাসহ সহজে ব্যবসা পরিচালনার বাধাগুলো সমাধানে দুই বছরের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশে প্রথমবারের মতো ‘বেসরকারি খাতের পরামর্শক পর্ষদ’ গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত এই পর্ষদ একটি দুই বছর মেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক রাখতে প্রস্তাবনায় অন্যান্য দেশের প্রমাণভিত্তিক আইনগত, নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক দৃষ্টান্ত অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা ও সমন্বয়ে বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথভাবে একটি কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।

পরিষদের সদস্যরা সরকারি উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং একটি সংক্ষিপ্ত প্রস্তাবনা তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রস্তাবনায় ব্যবসায়িক পরিবেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা চাইলেন ব্যবসায়ীরা :

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা কাউন্সিলের প্রথম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বৈঠকে ব্যবসায়ীরা জ্বালানি সংকটের কারণে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে সরকারি সহায়তা চান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে শিল্প-কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা চেয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে ব্যবসায়ীরা জ্বালানি সংকটের কারণে অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে সরকারি সহায়তা চান।

তিনি আরো জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যেন বিমানবন্দরের ঝামেলা ছাড়াই সহজে দেশে আসতে পারেন, সে বিষয়েও দাবি তোলা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা শোনেন এবং সেগুলো নোট করেন। তিনি জানান, অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং কিছু বিষয় এখনো বাকি রয়েছে। আলোচনা করে সব সমস্যার সমাধান করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

বৈঠকে ব্যবসায়ীরা মাঝারি উদ্যোক্তাদের রফতানিতে উৎসাহ দিতে লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজ করার কথা বলেন। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি ও বাণিজ্য কার্যক্রম দ্রুত করতে গভীর সমুদ্রবন্দর চালুর আহ্বান জানান।

অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো, রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার এবং নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীদের ওপর করের চাপ না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর বিষয়েও জোর দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাজেট সহায়তা দেবে এআইআইবি

দেশের জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশকে বাজেট সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে এশীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)। পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়ানো ও বন্ধ কলকারখানা চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

অর্থমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে এআইআইবি বাজেট সাপোর্ট দেবে। বিশেষ করে জলবায়ু সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে তারা বিনিয়োগ করবে।

সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং ইলেকট্রিক ভেহিকল খাতে অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, মোট বিদ্যুতের ২০-৩০ শতাংশ সৌর শক্তি থেকে উৎপাদন করা।

বৈঠকে ব্যবসায়ীরা ‘কস্ট অব ডুইং বিজনেস’ ও ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’ সংক্রান্ত নানা প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কিছু সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দেন এবং বাকিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পুরোনো প্রকল্পগুলো সচল করেও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরী। প্রধান অতিথির সঙ্গে সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুকতাদির, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদি আমিন এবং বিডার নির্বাহীর চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

এছাড়া পরিষদের সদস্যরা হলেন ড. আরিফ দৌলা (এসিআই পিএলসি), সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর (এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড), হাফিজুর রহমান খান (রানার গ্রুপ), আহসান খান চৌধুরী (প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ), জিয়াউর রহমান (বে গ্রুপ), আবদুল মুকতাদির (ইনসেপ্টা গ্রুপ), মো. আব্দুল জাব্বার (ডিবিএল গ্রুপ), সোহানা রউফ চৌধুরী (র‌্যাংগস গ্রুপ) এবং সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর (প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ)।

উল্লেখ্য, সরকারপক্ষ থেকে সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে বিডা কাজ করবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়নে সহায়তা প্রদান করা হবে।


banner close