খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছিল ৫৩ শতাংশ, ৮ ফেব্রুয়ারি ১০ শতাংশ কমিয়ে করা হয়েছে ৪৩ শতাংশ। শুল্ক কমানোর পরও দাম কমেনি খেজুরের। উল্টো দাম বেড়েছে। যদিও বন্দর থেকে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। গত কয়েক দিনে ৬০৫ কনটেইনার খেজুর খালাসের কার্যক্রম চলছে এবং প্রতিদিনই খালাস অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, আগামী ১২ মার্চ পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনা করেন। দিনভর রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে খেজুর। খেজুর ছাড়া এখন আর ইফতারের কথা ভাবা যায় না। প্রায় সব রোজাদারই খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করেন। এ কারণে রমজান মাসে চাহিদা বেশি থাকা পণ্যগুলোর একটি খেজুর। পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে চলতি মাসে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি বাজারে তদারকি ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা কোনো কাজেই আসছে না। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের বাজারে খেজুরের দাম প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়েছে।
৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি আদেশে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনার ঘোষণা দেয়। এর আগে খেজুর আমদানিতে সর্বমোট ৫৩ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে খেজুরের শুল্কায়ন মূল্য প্রতি টন ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৭৫০ ডলার। এর সঙ্গে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ, রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ ও ভ্যাট ১৫ শতাংশ। পাশাপাশি অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর ৫ শতাংশ হারে দিতে হচ্ছে। এতে বর্তমানে সর্বমোট ৪৩ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত রোজার আগে মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরে শুল্ক দিতে হতো ৫ দশমিক ৪৫ থেকে ২১ দশমিক ৮৪ টাকা। তবে এবার খেজুরকে ‘বিলাসীপণ্যের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে খেজুরের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫৩ শতাংশ করা হয়। ফলে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বেড়ে গেছে। এবার শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫৪ থেকে ২০৮ টাকা। মূলত শুল্কের প্রভাব পড়েছে খেজুরের দামে। গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি খেজুরে জাতভেদে দাম বেড়েছে ১০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত। দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া খেজুরের মধ্যে রয়েছে দাবাস, জাহিদি, বরই ও গলা খেজুর।
চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গলা বা বাংলা খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, জাহিদি খেজুর ২৪০-২৬০ ও মানভেদে দাবাস খেজুর ৪৫০-৫৫০ টাকায়। এ ছাড়া বরই খেজুর মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৪০-৫৪০ টাকায়। গত বছর এসব খেজুরের দাম ছিল বর্তমান দরের অর্ধেকেরও কম।
এদিকে অভিজাত শ্রেণির কাছে পছন্দের খেজুরের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের মেডজুল, মাবরুম, আজওয়া ও মরিয়ম। গত এক মাসের ব্যবধানে এসব খেজুরের দাম কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে। জাম্বো মেডজুল মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, সাধারণ মেডজুল ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০, মাবরুম খেজুর ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, আজওয়া খেজুর মানভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো জাতের মরিয়ম বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এ ছাড়া কালমি মরিয়ম ৮০০-৯০০ টাকা, সুফরি মরিয়ম ৭৫০-৮০০, আম্বার ও সাফাভি ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ ও সুক্কারি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে রোজার আগে জাহিদি জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি (১০ কেজি) ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। শুল্ক আরোপের কারণে দাম বাড়ার পর গত বছরের শেষ সপ্তাহেও একই জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা। তবে এখন ১০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েও এই জাতের খেজুরের কার্টন হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা।
পাইকারি ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি ৫ কেজির এক কার্টন মেডজুল খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার টাকায়। গত বছর এ খেজুর বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়। অন্যদিকে সাধারণ খোলা খেজুর প্রতি কেজি ফেব্রুয়ারির শুরুতে কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ছিল ১২৮-১৩০ টাকা। বর্তমানে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকায়।
পাইকারি বাজার সূত্রে জানা গেছে, বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় জাহিদি জাতের খেজুর। এক বছর আগে প্রতি কেজি খেজুর খুচরা পর্যায়ে ১৫০ টাকায় পাওয়া যেত। শুল্ক কমানোর পর বর্তমানে এ খেজুর খুচরায় বিক্রি করতে হবে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য আমদানি করা খোলা (বস্তায় বিক্রি হওয়া ভেজা খেজুর) রোজা আসার আগেই কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ১৫৫ টাকায় উঠে গেছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে এ মানের খেজুর বিক্রি করতে হবে কমপক্ষে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। অবশ্য গতকাল বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল হক টিটু ঘোষণা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে খেজুর পৌঁছে দিতে বস্তায় আসা জাহিদি খেজুরের দাম কমানো হবে। আজ রোববার (৩ মার্চ) এই খেজুরের দাম কমানোর ঘোষণা আসার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিনে সবচেয়ে বেশি খেজুর বন্দর থেকে খালাস নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগে বন্দর থেকে দিনে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলেও এখন সেটা ৭০ কনটেইনারে গিয়ে টেকেছে। কিন্তু দাম কমছে না।
ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকার শুল্ক কমানোর পর ব্যবসায়ীরা খেজুর খালাসে তোড়জোড় শুরু করেছে। শুল্ক কমানোর পরও ভোক্তারা কম দামে খেজুর কিনতে পারছেন না। শুল্ক কমানোর পর পর্যাপ্ত আমদানি হলেও দাম কেন কমছে না বিষয়টি তদারকি করতে হবে। তদারকি না করলে রোজায় খেজুর কিনতে পারবে না ভোক্তারা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৬৩ টন খেজুর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস করেছেন আমদানিকারকরা। ১৪৫ দিনের মধ্যে গত ১৫ দিনেই বেশি খেজুরের চালান খালাস হয়েছে। ২৮ ধরনের খেজুর দেশের ৮২টি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্দান, মিসর, আলজেরিয়া, নামিবিয়া, তিউনিশিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আমদানি করেছে।
জানা গেছে, চার মাস আগে খেজুর আমদানি করলেও শুল্ক কমবে এ আশায় ব্যবসায়ীরা পণ্যটি চট্টগ্রাম বন্দরে গুদাম করে রেখেছিলেন। ফলে বেসরকারি ১৯টি ডিপোতে ১ হাজার কনটেইনার (প্রতি কনটেইনারে ২২-২৪ হাজার কেজি খেজুর থাকে) খেজুর পড়ে ছিল। এখন খেজুরভর্তি ৬০৫টি কনটেইনার খালাস চলছে। এখনো খেজুরভর্তি ৩৯৫টি কনটেইনার খালাসের উদ্যোগ নেয়নি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার কাজী ইরাজ ইশতিয়াক বলেন, প্রচুর পরিমাণে খেজুর খালাস হচ্ছে। প্রতিদিনই খালাস করছেন আমদানিকারকরা। তিনি বলেন, খেজুরের শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
তিনি জানান, খেজুরের চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। একেকটি ক্যাটাগরির একেক রকম শুল্কহার হয়। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির প্রবণতাও রয়েছে। অনেক সময় উচ্চ শুল্কহারে খেজুর এনে কম শুল্কহারে ঘোষণা দেওয়া হয়। এমন বেশ কিছু ঘটনাও ঘটেছে। এ জন্য আমরাও সতর্ক আছি, যেন সরকার রাজস্ব বঞ্চিত না হয়।
উচ্চ শুল্কহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা এনবিআর নির্ধারিত, এ ব্যাপারে আমাদের বলার বা করার কিছু নেই। আমরা নির্ধারিত শুল্ক নিয়ে খালাসের ব্যবস্থা করি। খেজুর বিলাসী পণ্য কি না, এ বিষয়েও তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
খাতুনগঞ্জের ডেটস অ্যান্ড ড্রাই ফ্রুটস আমদানিকারক মো. ওমর ফারুক বলেন, খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ট্যাক্স ১০ শতাংশ কমালেও অন্যান্য শুল্ক ঠিক রেখেছে এনবিআর। ফলে উচ্চমাত্রায় ট্যাক্স দিয়েই আনতে হচ্ছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সামান্য এ শুল্ক কমানোয় খেজুরের দামে প্রভাব পড়বে না।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সুলতান আরেফিন বলেন, শুল্ক কমানোর পর থেকে আমদানিকারকরা খেজুর খালাস নিতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। আগে প্রতিদিন গড়ে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলে এখন সেটি ৭০ কনটেইনার খালাস হচ্ছে।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতি কেজি খেজুর ১১০ টাকায় কিনলে ১৪০-১৫০ টাকা শুল্ক দিতে হয়। ১২০ টাকায় কিনলে ২০৮ টাকা শুল্ক দিতে হয়। গত বছর ৯০ টাকায় ডলার কিনতে পারতাম। এ বছর ১২০-১২২ টাকা দিতে হচ্ছে। কাস্টমস থেকে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ইচ্ছেমতো করা হচ্ছে। এলসি যে মূল্যে খুলছি সে অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ করা হলে খেজুরের দাম অর্ধেকে নেমে আসে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না।
বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, পণ্য বন্দরে আসার পর শুল্ক পরিশোধ করে খালাস করতে হয়। এসব কাস্টমসের বিষয়।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমেদ বলেন, ডলারের দাম বাড়াতে পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে যায়। এর পরও ব্যবসায়ীরা সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘দেশে একটি কার্যকর ও স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় সরকার নিজের পক্ষ থেকে কোনো একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবে না। এ পর্যন্ত অর্জিত সব ধরনের আলোচনা, প্রস্তাবনা এবং ডকুমেন্টকে ধারণ করেই সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হবে।’
বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’-এর সহায়তায় এবং ‘বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন’ আয়োজিত এক সেমিনারে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
সেমিনারে ‘পিআইএমএইচই’ প্রকল্পের আওতায় ‘নীতি সংস্কার থেকে সংবাদকক্ষের কর্মপদ্ধতি পর্যন্ত শিক্ষা ও আদান-প্রদান’ শীর্ষক মূল বিষয়ের ওপর বিস্তারিত প্যানেল আলোচনা হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি সরকার প্রধানের সঙ্গেও সংবাদপত্রের মালিক সমিতি এবং সম্পাদক পরিষদের জ্যেষ্ঠ নেতাদের এ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, গণমাধ্যম কমিশন ও তথ্য কমিশনসংক্রান্ত এ পর্যন্ত যত কাজ করা হয়েছে, সেগুলোকেই আমরা প্রথমে আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছি। সেটাকে হাতে নিয়েই একটা পরামর্শ কমিটি গঠন করা হবে। এই পরামর্শ কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন, গণমাধ্যম অ্যাসোসিয়েশন এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে আবারও আলোচনা করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম কমিশন গঠনের এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় পূর্বের কোনো ভালো উদ্যোগ বা নথিপত্রকে বাদ দেওয়া হবে না, বরং সবটুকুই ভবিষ্যৎ কাজের মূল ভিত্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’
সেমিনারে এক প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বিশ্বজুড়েই গণমাধ্যম কমিশন গঠনের চমৎকার সব দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে রয়েছে। আধুনিক সভ্যতায় গণমাধ্যম হচ্ছে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। রাষ্ট্রের অন্যান্য স্তম্ভগুলোকে জনগণের পক্ষ থেকে একটি গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার মধ্যে রাখতেই এই স্তম্ভের নৈতিক উপস্থিতিকে সবাই মেনে নিয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যম জগতটা কেবল সরকারের একার নয়, এটি এই জগতের সবারই একটি সম্মিলিত বিষয়। সে ক্ষেত্রে সরকার একদিকে যেমন অন্য সবার মতো সমান সমান অংশীদার, অন্যদিকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই কাজটা সম্পন্ন করার জন্য একটি ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করবে মাত্র। আমাদের মূল লক্ষ্য জনগণের জন্য তথ্যের একটি সুস্থ ও অবাধ প্রবাহ উপস্থাপন করা।’
সেমিনারে উপস্থিত আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সারা পৃথিবীতেই এই ধরনের কমিশন গঠনের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ রয়েছে। আমাদের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার ও দেশীয় সহযোগী সংগঠনগুলো এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় সরকারের ‘‘সহযাত্রী’’ হিসেবে কাজ করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’
বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ এবং ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) চেয়ারম্যান ও যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ।
ভারত-বাংলাদেশ ৯০তম যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক শুরু হচ্ছে কলকাতায়। বৃহস্পতিবার (২১ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে তিন দিনের এ বৈঠক শুরু হবে। চলবে আগামী শনিবার (২৩ মে) পর্যন্ত। আলোচনায় বাংলাদেশ থেকে যোগ দেবেন ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশের জয়েন্ট রিভার কমিশনের সদস্য মহম্মদ আনোয়ার কবির। এ ছাড়া আছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথ এশিয়া উইংয়ের ডিরেক্টর মহম্মদ বাকি বিল্লাহ।
ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা কেন্দ্রের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের এক যুগ্ম সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তররের একজন চিফ ইঞ্জিনিয়ারের।
যৌথ নদী কমিশনের এবারের বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ ইস্যু। ১৯৯৬ সালে হওয়া গঙ্গার জল বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। তার আগে এটাই সর্বশেষ যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক।
বৈঠকে যোগ দিতে বুধবার (২০ মে) বিকেলেই কলকাতায় পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বৈঠকের শুরুতেই তারা যাবেন মুর্শিদাবাদে। সেখানে বৈঠকের ফাঁকেই ফারাক্কায় নেমে গঙ্গা নদীর পানি পরিমাপ করবেন তারা। পরের দিন শুক্রবার (২২ মে) তারা ফিরে আসবেন কলকাতায়। কলকাতায় শুক্র ও শনিবার একটি অভিজাত হোটেলে হবে বৈঠক।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেছেন, ‘আগামী বছরের জুনের মধ্যে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে গ্যাস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে সরকার কাজ করছে। এর মধ্যে সরকার চারটি নতুন কূপ খননের কাজ শুরু করেছে। এই চার কূপের গ্যাস উত্তোলনের মাধ্যমে আগামী বছরের জুনের মধ্যে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে।’
বুধবার দুপুরে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার কামতা গ্যাস ফিল্ডে মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম এসব কথা বলেছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন করে চারটি কূপের গ্যাস উত্তোলনের মাধ্যমে আগামী বছরের জুনের মধ্যে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারব। এটি শুরু করতে পারলে যেসব কারখানা গ্যাসের অভাবে উৎপাদনের জন্য বসে আছে, বসে থাকা কারখানাগুলোকে আমরা গ্যাস সরবরাহ করতে পারব, যার মাধ্যমে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অপর দিকে জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর যে চাপ তৈরি হচ্ছে, সে চাপটাও কমে আসবে। এই প্রকল্প উদ্বোধনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকার বাংলাদেশের জনগণকে এই বার্তা দিতে চায়, আমরা আস্তে আস্তে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে এনে স্বাবলম্বী হব। মূল লক্ষ্য হচ্ছে, সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।’
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ‘সরকার যদি অতিরিক্ত গ্যাস আমদানি করতে চায়, সে ক্ষেত্রে অসুবিধা আছে। যে অবকাঠামো আছে, সেটি ধারণক্ষমতার চেয়ে কম আছে।’
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ বা জ্বালানির দাম বাড়বে কী কমবে, সেটি বলার অবস্থায় আমরা নেই। বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়।’
আবাসিকে গ্যাস-সংযোগ দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিতে এবং পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা। অগ্রাধিকার তালিকায় আমাদের পাওয়ার প্ল্যান্ট, শিল্প, এরপর আসবে হাউসের কাস্টমার।’
প্রসঙ্গত, কামতা গ্যাসক্ষেত্রটি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। ১৯৮৪ সালে কামতা-১ কূপে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়ে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত মোট ২১ দশমিক ১০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়। ক্ষেত্রটির মোট উত্তোলনযোগ্য গ্যাস মজুত প্রায় ৬৬ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ঘনফুট, যার মধ্যে অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য মজুতের পরিমাণ প্রায় ৪৪ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ঘনফুট বলে বিবেচনা করা হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত বহিরাগতকে ধরিয়ে দিতে বা তার সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে পারলে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের ঘোষণায় বলা হয়েছে, সঠিক তথ্যদাতাকে নগদ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। যদি কেউ সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত হওয়া অভিযুক্ত ব্যক্তিকে চিনে থাকেন অথবা তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন, তবে তাদের দ্রুত ০১৭১৪০১২৩১৫ অথবা ০১৭২৭২৬৫৯৩৫ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ মে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হলের পাশের রাস্তায় এক নারী শিক্ষার্থীকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করে এক বহিরাগত যুবক। এ সময় চিৎকার শোনে কয়েকজন পথচারী শিক্ষার্থী উপস্থিত হলে ওই ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া যায় যে অভিযুক্ত ব্যক্তি বহিরাগত। এ ঘটনায় পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ে একজনকে আসামি করে মামলা করা হয়।
ঘটনার ৮ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) সদর দপ্তরের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় গত মঙ্গলবার বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘বাংলাভিশন’-এর সংবাদকর্মী মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে বোর্ডের নিরাপত্তাকর্মীদের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আরইবি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করাসহ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বর্ণিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়াবাধ এলাকায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের দখল হওয়া সরকারি জমি উদ্ধার অভিযানে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার মুখে পড়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যরা। এ ঘটনায় অন্তত সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
বুধবার সকাল ১০টা থেকে কালসী স্টিল ব্রিজ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আবদুল বাতেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য অংশ নিয়েছেন।
মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জাতীয় গৃহায়নের দখল করা জায়গা উচ্ছেদ করতে গেলে একপর্যায়ে স্থানীয়রা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
তিনি বলেন, ‘দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয়রা অতর্কিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। আহতদের চিকিৎসার জন্য রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
দুপুরের বিরতির পর আবারও উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, পল্লবী থানা সেকশন-১১ বাউনিয়াবাধ এলাকায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বস্তিবাসীদের জন্য নির্মিত ৫৩৩ ফ্ল্যাট প্রকল্পের পশ্চিম পাশে অধিগ্রহণ করা সরকারি জমি এবং পুনর্বাসন জোনের তিন রাস্তার ওপর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের কাজ চলছিল। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দা ও উৎসুক জনতা উচ্ছেদে বাধা দেয়। পরে তারা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রাণ বাঁচাতে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের দৌড়ে সরে যেতে দেখা যায়।
সূত্রটি আরও জানায়, হামলায় প্রাথমিকভাবে পাঁচজন পুরুষ ও দুইজন নারী পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বস্তিঘর, গ্যারেজ, ভাঙারির দোকান, মাদক স্পট ও রাজনৈতিক ক্লাব গড়ে তুলে প্রায় ৫০ বিঘা সরকারি জমি দখল করে রাখা হয়েছিল।
এবার রাজধানীর রামপুরা বনশ্রী এলাকার একটি মাদ্রাসার বাথরুম থেকে মো. আব্দুল্লাহ (১০) নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার পায়ুপথে জখমের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে রামপুরা থানা পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে বনশ্রী সি ব্লকের তিন নম্বর রোডে আলোকিত কোরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসার তৃতীয় তলার বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় আব্দুল্লাহর মরদেহ। এরপর ময়নাতদন্তের জন্যও মরদেহটি বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় পুলিশ।
রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে মাদ্রাসার তৃতীয় তলার বাথরুমে গামছা পেচানো ঝুলন্ত লাশটি উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে কোথাও কোনো জখমের চিহ্ন না থাকলেও পায়ুপথে অস্বাভাবিক। তাকে বলাৎকার করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ব্যারাক থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়ার ২৩ দিন পর রাজধানীর কলাবাগান থানার এসআই রাকিবুল হাসান সরকারকে (৩২) সরকারি কর্মজীবী হাসপাতালে চিকিৎসা অবস্থায় পাওয়া গেছে। বুধবার সকালে তাকে খুঁজে পাওয়ার তথ্য দিয়েছেন কলাবাগান থানার ওসি ফজলে আশিক।
তিনি বলেন, ‘আমরা ভোরে গুলিস্তানের কাছে সরকারি কর্মজীবী হাসপাতালে তার অবস্থান জানতে পেরে তাকে উদ্ধার করি।’
রাকিবুল হাসান গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাপতা গ্রামের মাইজ উদ্দিন সরকারের ছেলে। তিনি থানা পুলিশের জন্য নির্ধারিত ব্যারাকে থাকতেন। রাত্রিকালীন দায়িত্ব পালনের কথা বলে গত ২৯ এপ্রিল রাকিবুল হাসান ব্যারাক থেকে বের হন।
পরদিন ওসি ফজলে আশিক বলেছিলেন, ‘মঙ্গলবার এসআই রাকিবের রাত্রিকালীন ডিউটি ছিল। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে একবার সাদা পোশাকে ব্যারাক থেকে বের হন। চা খেয়ে আবার ব্যারাকে ঢোকেন। নাইট ডিউটি আছে বলে রাত পৌনে ৮টার দিকে আবার সাদা পোশাকে ব্যারাক থেকে বের হন।
তারপর থেকে তার খোঁজ নেই। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় জিডি করা হয়েছে এবং সারা দেশের সব থানায় আমরা বার্তা দিয়েছি।’
পরিবারের সদস্যরাও এসআই রাকিবের কোনো খোঁজ জানেন না বলে তথ্য দিয়েছিলেন ওসি ফজলে আশিক।
বুধবার রাকিবকে খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে ওসি বলেন, ‘সরকারি কর্মজীবী হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানে থাকা লোকজন থানায় খবর দেন। তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’
ওসি ফজলে আশিক বলেন, ‘দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার সময় খাওয়া-দাওয়া অনিয়মিত হওয়ায় এবং শরীর দুর্বল হওয়ায় গোপনে সরকারি কর্মজীবী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন রাকিবুল।’
নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে এসআই রাকিব ঢাকায় ছিলেন এবং বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে রাত্রিযাপন করেছেন বলে জানা গেছে। ওসি বলেন, ‘রাকিব কেন এমন করেছেন, সে ব্যাপারে তাকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। তারপর বিস্তারিত জানা যাবে।’
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে ‘কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। গত মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখার উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একান্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রজ্ঞাপনটি পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেছেন, পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু জবাইয়ের পরবর্তী ৮ ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন করা হবে। কোরবানির পশুর হাট শেষ হওয়ার রাত থেকেই বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।
বুধবার রাজধানীর পুরাতন এলিফ্যান্ট রোডের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডস্থ সবজি বাগান সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের (এসটিএস) সৌন্দর্যবর্ধন ও ল্যান্ডস্ক্যাপিং কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আব্দুস সালাম বলেন, ‘ইজারাদারদের এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ডিএসসিসির নিজস্ব পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি রয়েছে।’
প্রশাসক জানান, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১টি পশুর হাট বসানোর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতা ও নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাটে একটি করে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হবে। গবাদিপশু ও মানুষের জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য মেডিকেল টিম ও ডাক্তার নিয়োজিত থাকবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের বিশেষ টহল দায়িত্ব পালন করবে।
আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিএসসিসি এখন থেকেই প্রস্তুতি জানিয়ে প্রশাসক বলেন, ‘প্রতিটি এলাকায় জরিপ চালানো হচ্ছে এবং যেখানে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি, সেখানে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে বিশেষ কার্যক্রম চলছে।’ নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যার যার বাড়ি, আঙিনা ও ড্রেন পরিষ্কার রাখুন। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।’
এসটিএস আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একসময় দুর্গন্ধের কারণে যেসব জায়গায় কেউ এসটিএস নির্মাণ করতে দিতে চাইত না, আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এখন আমরা সেখানে দুর্গন্ধ দূর করে সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে তিনটি এসটিএস-কে দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলো এসটিএস-কে এভাবে রূপান্তর করে নগরবাসীকে একটি নান্দনিক পরিবেশ উপহার দেওয়া হবে।’
আব্দুস সালাম বলেন, ‘ঢাকা শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, পরিবেশ রক্ষা, বায়ুদূষণ ও যানজট মুক্ত রাখা আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। একা সিটি করপোরেশন বা প্রশাসকের পক্ষে এটি সম্ভব নয়। জনগণ পাশে থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে ঢাকা শহরের চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করলে আনসার বাহিনীর ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও দক্ষ এবং গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যদের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। আজ বুধবার সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে দেয়া ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।
সকাল ১০টায় আনসার-ভিডিপি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং পরে আকর্ষণীয় ব্যুত্থান মহড়া উপভোগ করেন। প্রদর্শনীর শেষে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের কাছে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে করমর্দন করেন।
সমাবেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশ আনসার বাহিনী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রযুক্তি ও দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তারা কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা করি।” তিনি উল্লেখ করেন যে, এই বাহিনীর ১৩ হাজারেরও বেশি ফ্রিল্যান্সিং ও ফিল্ড ভিডিপি সদস্য বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সক্রিয় কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি নগর এলাকায় টিডিভি সদস্যরা শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়োজিত রয়েছেন। বাহিনীর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন যে, সঞ্জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আনসার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে বিদেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে এ বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই বাহিনীর অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রাম থেকে শহর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকা পর্যন্ত আনসার সদস্যরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে কাজ করে চলেছেন। সম্প্রতি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলেও শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই বাহিনীর সদস্যরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জাতীয় ক্রান্তিকালে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে এই বাহিনী আজ একটি অনন্য শৃঙ্খল বাহিনীর মর্যাদা অর্জন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি জেলায় নিয়োজিত আনসার সদস্যদের মুখ থেকে সরাসরি তাঁদের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথা শোনেন। বর্ণাঢ্য এই সমাবেশে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যগণ এবং বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্বদেশের মাটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয়ের গৌরব অর্জন করায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার সিলেটে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে সফরকারী পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের ধবলধোলাই করার অনন্য নজির গড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এর আগে মিরপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছিল স্বাগতিক দল।
এই দুর্দান্ত জয়ের মধ্য দিয়ে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বড় ধরণের উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। ভারতকে টপকে এখন তালিকার পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে টাইগাররা। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্জিত পয়েন্টের হার ৫৮.৩৩ শতাংশ, যেখানে ভারতের পয়েন্ট ৪৮.১৫ শতাংশ। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের এই ধারাবাহিক সাফল্য আগামীতে আরও সমৃদ্ধ হবে এবং এই ঐতিহাসিক বিজয় দেশের তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়াক্ষেত্রে অধিকতর উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দলের শৃঙ্খলা, একতা ও অদম্য আত্মবিশ্বাসের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, জয়ের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাদেশ দল আগামীতে বিশ্বমঞ্চে আরও সুউচ্চ শিখরে পৌঁছাবে। সফল এই সফরের জন্য তিনি খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচিং স্টাফ ও সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে বিশেষ ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ন্যায়ভিত্তিক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। সেবা দেওয়া জনগণের প্রতি করুণা নয়, সরকারের দায়িত্ব। আমাদের লক্ষ্য একটি দুর্নীতিমুক্ত, হয়রানিমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর ও নাগরিকবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা, যা দেশের টেকসই উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে।’ মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, আজ থেকে হয়তো ১০০ বছর আগে, যে জমির মালিক ছিলেন মাত্র একজন, সময়ের পরিক্রমায় বর্তমানে সেই জমির মালিক হয়তো ১০০ কিংবা তারও বেশি। এভাবে ভূমির মালিকানা-শরিকানা যেমন বেড়েছে, স্বাভাবিকভাবেই জমির মালিকানা-সংক্রান্ত পুরো প্রক্রিয়াকে রেকর্ডে রাখার জন্য ভূমি কর্মকর্তাদের দায়িত্বও তেমন বেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালিকানা, খাজনা, দলিল, খতিয়ান, দাগ, পর্চা, নামজারি, জমা-খারিজ, মৌজা, সিএস, আরএস বা ডিএস এই শব্দগুলোর সঙ্গে জমির মালিকমাত্রই কমবেশি পরিচিত। ফলে এসব বিষয়ে নিজেদের মালিকানা হালনাগাদ রাখতে মানুষকে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে আসতে হতো। তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সাথে সাথে ভূমি ব্যবস্থাপনাও আধুনিক হয়েছে।
ভূমি-জমি ব্যবস্থাপনা যত বেশি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করা যায়, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পথও তত বেশি সহজ হয়ে যায়—উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অনলাইন সুবিধা নিশ্চিত করায় জমি-সংক্রান্ত দুর্ভোগ অনেকটা লাঘব হবে। একইসঙ্গে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভূমি অফিসগুলোতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও কমবে। চলমান এই ভূমি মেলা আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জনগণের নিজেদের দায়দায়িত্ব সম্পর্কে আরো সচেতন করবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাথাপিছু জমির পরিমাণও কমে আসছে। ফলে জমির অর্থনৈতিক মূল্য যেমন বাড়ছে, তেমনি জমি নিয়ে বিরোধ, মামলা-মোকদ্দমা এবং জটিলতাও বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব বিরোধ ব্যক্তি ও পরিবারের শান্তি নষ্ট করার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও প্রতিবন্ধকতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার, নির্ভুল রেকর্ড সংরক্ষণ এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা বর্তমানে সময়ের অপরিহার্য দাবি।
উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে নির্ভুল ভূমি রেকর্ড প্রস্তুত করতে ভূমি মন্ত্রণালয় কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমি প্রশাসনের প্রায় সকল সেবাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে নাগরিকদের জন্য সেবা গ্রহণকে আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য এমন একটি ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, যেখানে ভূমিসেবা গ্রহণের জন্য মানুষকে আর অযথা অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না, দুর্নীতি বা হয়রানির শিকার হতে হবে না।
দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে জনগণকে সহায়তার লক্ষ্যে সারাদেশে ভূমিসেবা মেলা আয়োজন এবং জমি ব্যবস্থাপনাকে আরো সহজ এবং আধুনিকায়ন করার ব্যাপারে আমরা জাতীয় নির্বাচনের কয়েক বছর আগে প্রণীত ৩১ দফা এবং সর্বশেষ নির্বাচনী ইশতেহারেও উল্লেখ করেছিলাম।
তিনি বলেন, শুধুমাত্র জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়েই নয়, প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চায়। কারণ, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট দেশের জনগণ বর্তমানে রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে তাদের অধিকারের প্রতিফলন দেখতে চায়। এ কারণেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম সপ্তাহ থেকেই নির্বাচনী ইশতেহার এবং জুলাই সনদের প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দিয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ের আদালতগুলোতে দেওয়ানি এবং ফৌজদারি সব মিলিয়ে ৪৭ লাখেরও বেশি মামলা বিচারাধীন। এরমধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত মামলার সংখ্যাই বেশি। সুতরাং, এ মুহূর্তে সরকারের সামনে প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে আদালতে বিচারাধীন মামলার দ্রুততম নিষ্পত্তি। তবে প্রচলিত আদালতের বাইরেও জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম আদালত কিংবা এডিআর (বিকল্প বিবাদ নিরসনের ব্যবস্থা) অর্থাৎ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মতো আইনানুগ মাধ্যম অবলম্বনের দিকে আরো জোর দেয়া জরুরি। এতে একদিকে বিরোধ নিষ্পত্তিতে যেমন অল্প সময় লাগবে অপরদিকে অনেকক্ষেত্রেই বিরোধ হয়তো শত্রুতায় রূপ নেবে না।
বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আলবার্ট আইনস্টাইনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ উক্তির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছেন, ‘শক্তি দিয়ে শান্তি রক্ষা করা যায় না, বোঝাপড়ার মাধ্যমেই এটি অর্জন করা সম্ভব’।
বিশেষ করে জমিজমা সংক্রান্ত মামলা বা দেওয়ানি মামলাগুলো পর্যায়ক্রমে সমঝোতা বা মধ্যস্থতা, সালিশের মাধ্যমে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির পথ কার্যকর করা গেলে একদিকে আদালতে বিচারাধীন মামলার জট কমবে, অপরদিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করাও সহজ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমি বা ভূমি শুধু একটুকরো সম্পদই নয় বরং মানুষের জীবনে এটি এক ধরনের নিরাপত্তা, নির্ভরতা, অর্থনৈতিক স্থিতি, জীবিকা এবং ভবিষ্যতের ভিত্তি। এই উপলব্ধি থেকেই ভূমি ব্যবস্থাপনাকে হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের সকল জেলা উপজেলায় আজ থেকে শুরু হওয়া ভূমি মেলার মাধ্যমে জনগণ নিঃসন্দেহে উপকৃত হবেন। কারণ মেলায় ই-নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, রেকর্ড সংশোধন, খতিয়ান গ্রহণ এবং ভূমি সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ নিষ্পত্তির সুবিধা থাকছে।
ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং ভূমি সচিব এ এস এম সালেহ উদ্দিন বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে সমাজ কল্যাণ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, আইন ও বিচার মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ সংসদ সদস্য ও সরকারের ঊধর্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।