খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছিল ৫৩ শতাংশ, ৮ ফেব্রুয়ারি ১০ শতাংশ কমিয়ে করা হয়েছে ৪৩ শতাংশ। শুল্ক কমানোর পরও দাম কমেনি খেজুরের। উল্টো দাম বেড়েছে। যদিও বন্দর থেকে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। গত কয়েক দিনে ৬০৫ কনটেইনার খেজুর খালাসের কার্যক্রম চলছে এবং প্রতিদিনই খালাস অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, আগামী ১২ মার্চ পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনা করেন। দিনভর রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে খেজুর। খেজুর ছাড়া এখন আর ইফতারের কথা ভাবা যায় না। প্রায় সব রোজাদারই খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করেন। এ কারণে রমজান মাসে চাহিদা বেশি থাকা পণ্যগুলোর একটি খেজুর। পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে চলতি মাসে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি বাজারে তদারকি ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা কোনো কাজেই আসছে না। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের বাজারে খেজুরের দাম প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়েছে।
৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি আদেশে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনার ঘোষণা দেয়। এর আগে খেজুর আমদানিতে সর্বমোট ৫৩ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে খেজুরের শুল্কায়ন মূল্য প্রতি টন ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৭৫০ ডলার। এর সঙ্গে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ, রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ ও ভ্যাট ১৫ শতাংশ। পাশাপাশি অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর ৫ শতাংশ হারে দিতে হচ্ছে। এতে বর্তমানে সর্বমোট ৪৩ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত রোজার আগে মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরে শুল্ক দিতে হতো ৫ দশমিক ৪৫ থেকে ২১ দশমিক ৮৪ টাকা। তবে এবার খেজুরকে ‘বিলাসীপণ্যের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে খেজুরের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫৩ শতাংশ করা হয়। ফলে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বেড়ে গেছে। এবার শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫৪ থেকে ২০৮ টাকা। মূলত শুল্কের প্রভাব পড়েছে খেজুরের দামে। গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি খেজুরে জাতভেদে দাম বেড়েছে ১০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত। দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া খেজুরের মধ্যে রয়েছে দাবাস, জাহিদি, বরই ও গলা খেজুর।
চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গলা বা বাংলা খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, জাহিদি খেজুর ২৪০-২৬০ ও মানভেদে দাবাস খেজুর ৪৫০-৫৫০ টাকায়। এ ছাড়া বরই খেজুর মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৪০-৫৪০ টাকায়। গত বছর এসব খেজুরের দাম ছিল বর্তমান দরের অর্ধেকেরও কম।
এদিকে অভিজাত শ্রেণির কাছে পছন্দের খেজুরের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের মেডজুল, মাবরুম, আজওয়া ও মরিয়ম। গত এক মাসের ব্যবধানে এসব খেজুরের দাম কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে। জাম্বো মেডজুল মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, সাধারণ মেডজুল ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০, মাবরুম খেজুর ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, আজওয়া খেজুর মানভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো জাতের মরিয়ম বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এ ছাড়া কালমি মরিয়ম ৮০০-৯০০ টাকা, সুফরি মরিয়ম ৭৫০-৮০০, আম্বার ও সাফাভি ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ ও সুক্কারি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে রোজার আগে জাহিদি জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি (১০ কেজি) ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। শুল্ক আরোপের কারণে দাম বাড়ার পর গত বছরের শেষ সপ্তাহেও একই জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা। তবে এখন ১০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েও এই জাতের খেজুরের কার্টন হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা।
পাইকারি ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি ৫ কেজির এক কার্টন মেডজুল খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার টাকায়। গত বছর এ খেজুর বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়। অন্যদিকে সাধারণ খোলা খেজুর প্রতি কেজি ফেব্রুয়ারির শুরুতে কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ছিল ১২৮-১৩০ টাকা। বর্তমানে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকায়।
পাইকারি বাজার সূত্রে জানা গেছে, বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় জাহিদি জাতের খেজুর। এক বছর আগে প্রতি কেজি খেজুর খুচরা পর্যায়ে ১৫০ টাকায় পাওয়া যেত। শুল্ক কমানোর পর বর্তমানে এ খেজুর খুচরায় বিক্রি করতে হবে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য আমদানি করা খোলা (বস্তায় বিক্রি হওয়া ভেজা খেজুর) রোজা আসার আগেই কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ১৫৫ টাকায় উঠে গেছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে এ মানের খেজুর বিক্রি করতে হবে কমপক্ষে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। অবশ্য গতকাল বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল হক টিটু ঘোষণা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে খেজুর পৌঁছে দিতে বস্তায় আসা জাহিদি খেজুরের দাম কমানো হবে। আজ রোববার (৩ মার্চ) এই খেজুরের দাম কমানোর ঘোষণা আসার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিনে সবচেয়ে বেশি খেজুর বন্দর থেকে খালাস নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগে বন্দর থেকে দিনে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলেও এখন সেটা ৭০ কনটেইনারে গিয়ে টেকেছে। কিন্তু দাম কমছে না।
ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকার শুল্ক কমানোর পর ব্যবসায়ীরা খেজুর খালাসে তোড়জোড় শুরু করেছে। শুল্ক কমানোর পরও ভোক্তারা কম দামে খেজুর কিনতে পারছেন না। শুল্ক কমানোর পর পর্যাপ্ত আমদানি হলেও দাম কেন কমছে না বিষয়টি তদারকি করতে হবে। তদারকি না করলে রোজায় খেজুর কিনতে পারবে না ভোক্তারা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৬৩ টন খেজুর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস করেছেন আমদানিকারকরা। ১৪৫ দিনের মধ্যে গত ১৫ দিনেই বেশি খেজুরের চালান খালাস হয়েছে। ২৮ ধরনের খেজুর দেশের ৮২টি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্দান, মিসর, আলজেরিয়া, নামিবিয়া, তিউনিশিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আমদানি করেছে।
জানা গেছে, চার মাস আগে খেজুর আমদানি করলেও শুল্ক কমবে এ আশায় ব্যবসায়ীরা পণ্যটি চট্টগ্রাম বন্দরে গুদাম করে রেখেছিলেন। ফলে বেসরকারি ১৯টি ডিপোতে ১ হাজার কনটেইনার (প্রতি কনটেইনারে ২২-২৪ হাজার কেজি খেজুর থাকে) খেজুর পড়ে ছিল। এখন খেজুরভর্তি ৬০৫টি কনটেইনার খালাস চলছে। এখনো খেজুরভর্তি ৩৯৫টি কনটেইনার খালাসের উদ্যোগ নেয়নি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার কাজী ইরাজ ইশতিয়াক বলেন, প্রচুর পরিমাণে খেজুর খালাস হচ্ছে। প্রতিদিনই খালাস করছেন আমদানিকারকরা। তিনি বলেন, খেজুরের শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
তিনি জানান, খেজুরের চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। একেকটি ক্যাটাগরির একেক রকম শুল্কহার হয়। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির প্রবণতাও রয়েছে। অনেক সময় উচ্চ শুল্কহারে খেজুর এনে কম শুল্কহারে ঘোষণা দেওয়া হয়। এমন বেশ কিছু ঘটনাও ঘটেছে। এ জন্য আমরাও সতর্ক আছি, যেন সরকার রাজস্ব বঞ্চিত না হয়।
উচ্চ শুল্কহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা এনবিআর নির্ধারিত, এ ব্যাপারে আমাদের বলার বা করার কিছু নেই। আমরা নির্ধারিত শুল্ক নিয়ে খালাসের ব্যবস্থা করি। খেজুর বিলাসী পণ্য কি না, এ বিষয়েও তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
খাতুনগঞ্জের ডেটস অ্যান্ড ড্রাই ফ্রুটস আমদানিকারক মো. ওমর ফারুক বলেন, খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ট্যাক্স ১০ শতাংশ কমালেও অন্যান্য শুল্ক ঠিক রেখেছে এনবিআর। ফলে উচ্চমাত্রায় ট্যাক্স দিয়েই আনতে হচ্ছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সামান্য এ শুল্ক কমানোয় খেজুরের দামে প্রভাব পড়বে না।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সুলতান আরেফিন বলেন, শুল্ক কমানোর পর থেকে আমদানিকারকরা খেজুর খালাস নিতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। আগে প্রতিদিন গড়ে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলে এখন সেটি ৭০ কনটেইনার খালাস হচ্ছে।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতি কেজি খেজুর ১১০ টাকায় কিনলে ১৪০-১৫০ টাকা শুল্ক দিতে হয়। ১২০ টাকায় কিনলে ২০৮ টাকা শুল্ক দিতে হয়। গত বছর ৯০ টাকায় ডলার কিনতে পারতাম। এ বছর ১২০-১২২ টাকা দিতে হচ্ছে। কাস্টমস থেকে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ইচ্ছেমতো করা হচ্ছে। এলসি যে মূল্যে খুলছি সে অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ করা হলে খেজুরের দাম অর্ধেকে নেমে আসে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না।
বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, পণ্য বন্দরে আসার পর শুল্ক পরিশোধ করে খালাস করতে হয়। এসব কাস্টমসের বিষয়।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমেদ বলেন, ডলারের দাম বাড়াতে পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে যায়। এর পরও ব্যবসায়ীরা সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
দেশের বিদ্যুৎ খাতে সক্ষমতার নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে সরকার। বর্তমানে সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ১৩৬টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সচল রয়েছে। এসব কেন্দ্রের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াটে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেরই শক্তিশালী অংশগ্রহণ রয়েছে। বর্তমানে দেশে সরকারি মালিকানাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে ৬৪টি। এসব কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১২ হাজার ৩০২ মেগাওয়াট। সেই সঙ্গে বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে উঠেছে ৬৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা ১০ হাজার ৮৫৩ মেগাওয়াট। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি যৌথ মালিকানায় রয়েছে ৩টি বিশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যেগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা ৩ হাজার ৬৮ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এখন ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট।
মন্ত্রী জানান, সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন মূলত নির্ভর করে প্রতিদিনের চাহিদার ওপর। বর্তমানে দেশের বিদ্যুতের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই কেন্দ্রগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৪ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুব কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
উপসচিব মো. গোলাম রব্বানীর সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহকে অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল অথবা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (যুব কর্মসংস্থান বিষয়ক) পদে গ্রেড-২ পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো।
এই নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে বলেও জনস্বার্থে জারি করা ওই আদেশে উল্লেখ রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে। গত ৩ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার জ্বালানি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী।
তিনি বলেন, অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে মজুত করা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ডিজেল উদ্ধার হয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৭৪ লিটার, অকটেন ৩০ হাজার ৯৬০ লিটার এবং পেট্রোল ৭ হাজার ৫৪ লিটার।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সার্বিক জ্বালানির পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সারাদেশে মোট ৪ হাজার ৮২৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ২ হাজার ৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মোট ১ কোটি ১ লাখ ৪৩৫ টাকা অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ২৪ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া শুধু গতকাল (১ এপ্রিল) পরিচালিত ৩৮১টি অভিযানে ১৬৯টি মামলা করা হয় এবং ৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এদিন একজনকে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। একই দিনে উদ্ধার করা হয়েছে ২৪ হাজার ৪৮২ লিটার ডিজেল, ১০ লিটার অকটেন এবং ৩৯৫ লিটার পেট্রোল—মোট ২৫ হাজার ৫৩৭ লিটার জ্বালানি।
দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ডিজেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টন এবং পেট্রোল-অকটেন মিলিয়ে দৈনিক চাহিদা প্রায় ১,২০০ টন। আমরা আসলে মান্থলি প্ল্যান বছরের প্ল্যানটা করতাম এবং মান্থলি এগুলো আনার কাজ করতাম। তো এখনো আমরা তাই করছি এবং কোনো সংকট ডিজেলের ক্ষেত্রেও নেই। এপ্রিল মাসটা আমরা পুরোপুরি নিরাপদ আছি। আমি আজকে সকালেও মিটিং করেছি। মিটিং করে আমরা দেখেছি যে আমাদের যে বর্তমান মজুত এবং আমাদের যেসব শিপ ইনকামিং আছে প্রত্যেকটাই অন টাইম। ফলে কোনো অসুবিধা হবে না ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে কিছু সরবরাহ চুক্তিতে জটিলতা তৈরি হলেও বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগত জাহাজগুলো সময়মতো পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাম্পগুলো কেন তেল পাচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা পাম্পগুলোতে গত বছর যা সরবরাহ করছি এ বছরও তাই সরবরাহ করছি। এখন পেট্রোল পাম্প মাঝে মাঝে বন্ধ থাকছে এটা আমিও দেখছি। কিন্তু এটা আসলে আপনারা জানেন যে মানুষের মধ্যে প্যানিক বায়িংটা এখনো বন্ধ হয়নি। যে কারণে পেট্রোল পাম্পগুলোর সাপ্লাই চেইনটাতেই ইন্টারাপশন হচ্ছে মাঝে মাঝে।
ছয়টি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজের কি অবস্থা, এর পাশাপাশি ছয় থেকে সাত দিনের একটা মজুত আছে এই অবস্থায় এলে কীভাবে মোকাবিলা করবেন, আর তিন নাম্বার হচ্ছে বিএসসির একটা জাহাজ আছে বাংলার জয়যাত্রা সেটা আসলে কি অবস্থায় আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে যুগ্মসচিব বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে যে ছয়টা জাহাজের কথা আপনি বলছেন, এটা সম্ভবত ইরানের রাষ্ট্রদূতের রেফারেন্স দিয়ে বলছেন আপনি। আমরা অফিসিয়াল চিঠি এখনো পাইনি। অফিসিয়াল চিঠি পেলে এ বিষয়ে আমি কথা বলতে পারব। তবে আমিও জেনেছি আপনার মতো। এর মধ্যে পাঁচটা হচ্ছে এলএনজি আর একটা হচ্ছে ক্রুড যেটা আপনি নর্ডিক বললেন। তো দুটোর ব্যাপারে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত আছে। আপনারা জানেন যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অনেকগুলো আমাদের যে জি টু জি চুক্তি ছিল সেগুলো ফোর্স মেজর হয়েছিল আগে কিন্তু যেগুলো আমরা চেষ্টা করছি যে সেই ইরানের যেহেতু একটা সবুজ সংকেত আছে, এটা যদি আমরা অফিসিয়ালি পেয়ে যাই তাহলে আমরা সেই উৎস থেকে আনতে সমর্থ হবো।
ভোক্তাপর্যায়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এলপি গ্যাসের দাম। এপ্রিল মাসের জন্য প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৩৪১ টাকা থেকে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া অটোগ্যাসের দাম ৬১.৮৩ টাকা বাড়িয়ে ৭৯.৭৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) নতুন এ মূল্য ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন (বিইআরসি)। যা আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে মার্চ মাসে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়। পাশাপাশি ৩ পয়সা কমিয়ে অটোগ্যাসের দাম ৬১ টাকা ৮৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।
সাবেক সচিব ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকারকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীরসঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।
তিনি বলেন, একটি ভালো খবর আপনাদের আমরা দিতে চাই। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি দাবি উত্থাপন করেছিলাম, জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে আমাদের সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে। আজকেই উনি আমাদের একটি ভালো খবর দিয়েছেন; সেটি হচ্ছে আমাদের সম্প্রদায়ের একজন বিশেষ সহকারী নিযুক্ত হয়েছেন। তিনি বিজন কান্তি সরকার, এখানে আমাদের সঙ্গেই আছেন। ওনাকে আজকেই উনি (প্রধানমন্ত্রী) অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিচ্ছেন, একটু পরেই আপনারা এই সুখবরটি জানতে পারবেন।
বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত দশ থেকে এগারো দিনের জন্য রয়েছে। তবে জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত মিলিয়ে দেশে আসছে সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন তেল। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে আরও কিছু চালান আনার বিষয়েও আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার এপ্রিলে কোনো জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখছে না এবং আশা করা হচ্ছে, মাসের চাহিদা মেটানোর পর তেল কিছুটা উদ্বৃত্তও থাকবে।
তবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, পাম্পে-পাম্পে লম্বা সারি, গাড়ির চাকা থমকে আছে। এতে অনেকের দৈনন্দিন জীবিকাতেও প্রভাব পড়ছে। এটি এখন রাজধানীর নিত্যদিনের বাস্তবতা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
রাইডশেয়ার চালকরা জানিয়েছেন, পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়ার পরও কোনো লাভ হচ্ছে না। কারণ অল্প পরিমাণ তেল নেওয়ার পর গাড়ি ঠিকমতো চালানো সম্ভব নয়। ফলে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ করেও সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একইভাবে চাকরিজীবী মোটরসাইকেল চালকরা বলছেন, তেলের সংকটের কারণে তাদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এতে অফিসের কাজ সময়মতো করা এবং ক্লায়েন্টের কাজ সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মোটরসাইকেল চালকরাও জানিয়েছেন, পাঁচ লিটার তেলের জন্য সারাদিন পাম্পে ঘুরতে হচ্ছে, যার ফলে তেল অপচয় হচ্ছে এবং মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। এর ফলে শুধু গ্রাহকই নয়, সরকারেরও ক্ষতি হচ্ছে।
ফিলিং স্টেশনের এই করুণ চিত্র জ্বালানি তেলের মজুত প্রসঙ্গ সামনে এনেছে। মার্চের শেষে তেলের মজুত পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ডিজেল আছে ১০-১১ দিন চলার মতো, অকটেন ৬-৭ দিন, আর পেট্রোল মজুত রয়েছে ৮-৯ দিনের চাহিদা মেটানোর জন্য।
তবে এর মানে এই নয় যে, ১০ দিনের মধ্যেই দেশ তেলশূন্য হয়ে যাবে। জ্বালানি বিভাগের তথ্যমতে, সরবরাহ পাইপলাইনে এখনও বেশ কিছু চালান রয়েছে। এর মধ্যে কাজাখস্তান থেকে ১ লাখ টন ডিজেল আমদানি করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চলতি মাসে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬০ হাজার টন এবং ভারত থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দেশে আসবে।
এর পাশাপাশি, মধ্য এপ্রিলে ১ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আসার কথা রয়েছে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য বিকল্প উৎস থেকেও আমদানির বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, “ক্রুড অয়েলের তিনটি জাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে লোডেড অবস্থায় আছে। হরমুজ প্রণালির ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পেলে সেগুলো দেশে আনা সম্ভব হবে। এজন্য সব বিকল্প পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এপ্রিল মাসে কোনো সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।”
তিনি আরও বলেন, “দেশীয় উৎস থেকে ৩০০ টন অকটেন সরবরাহ করা হবে এবং আমদানির মাধ্যমে আরও ৫০০ মেট্রিক টন যোগ হবে। এই মোট ৮০০ টন অকটেন দিয়ে দুই মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। মনির হোসেন চৌধুরী যোগ করেন, “পর্যাপ্ত কাঁচামাল ফ্র্যাকশন প্লান্টে রয়েছে, যা আগামী দুই মাসের সরবরাহ নিশ্চিত করবে।”
তবে বাস্তব পরিস্থিতি এদের দাবির সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। মাঠের চিত্র দেখাচ্ছে, পাম্পে সমস্যা, লম্বা সারি ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন মন্তব্য করেছেন, জনগণ প্যানিক বাইং করছে, কিন্তু সরকার কেন তাদের আশ্বস্ত করতে পারছে না, সেটাই প্রশ্ন। সরকারের উচিত এমপিদের এবং প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে জনগণকে বোঝানো যে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহে কোনো সমস্যা নেই। এছাড়া, সংকটকে সামাল দিতে বিশেষজ্ঞরা জ্বালানি ব্যবহার ও চাহিদা কমানোর আগাম সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন।
দেশে হঠাৎ করে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়াকে বজ্রপাতের সঙ্গে তুলনা করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন যে, এই পরিস্থিতির জন্য তাদের পূর্ব কোনো প্রস্তুতি ছিল না।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংকটের কথা স্বীকার করেন। এর আগে বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দেশব্যাপী জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। মূলত ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুদের এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় আনা হচ্ছে যাতে দ্রুত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে এই ‘ন্যাশনাল ইমারজেন্সি ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন’ বা জাতীয় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। আগামী রোববার থেকে মাঠপর্যায়ে সরাসরি টিকা দেওয়ার কাজ শুরু হবে।
ইতিহাসে এর আগে এত অল্প সময়ের প্রস্তুতিতে এমন বড় কোনো টিকাদান অভিযান পরিচালিত হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে আগামী শুক্র ও শনিবারের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রয়োজনীয় টিকা ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহের বিষয়ে মন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ থেকে টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং বর্তমানে টিকার যে ঘাটতি রয়েছে তা দ্রুত পূরণ করা হচ্ছে। জরুরি এই পরিস্থিতিতে সরকারি সকল বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিশুদের দ্রুত নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এই আকস্মিক জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের এই তড়িৎ পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সেই সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী সমসাময়িক বিভিন্ন স্বাস্থ্য ইস্যু নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যদিও এই মহামারিটি হঠাৎ করে এসেছে, তবুও সরকার তার সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
আগামী রোববারের মধ্যে ফিল্ড লেভেলে ভ্যাকসিন পুশ বা টিকা প্রদান কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করার মাধ্যমে এই ভাইরাসের বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ আশা প্রকাশ করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সরকারের নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দেশের সব দোকান, বাণিজ্য বিতান এবং শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংগঠনটি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা চলমান থাকায় দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় প্রচেষ্টায় সরকারকে সহযোগিতা করতে বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির যৌথ সভায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারকে সহযোগিতার লক্ষ্যে ঢাকাসহ বাংলাদেশের সব দোকান, বাণিজ্য বিতান এবং শপিংমল রাত ৮টা মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে হোটেল, ফার্মেসি এবং জরুরি প্রয়োজনীয় সেবার দোকান, কাঁচাবাজার এর আওতা বহির্ভূত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বুধবার (১ এপ্রিল) সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
এ সময় তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান-এর কাছে পাঠানো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর একটি ব্যক্তিগত পত্র হস্তান্তর করেন।
পত্রে প্রধানমন্ত্রী চলমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্ব, সরকার এবং ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় সংহতি ব্যক্ত করেন।
তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাম্প্রতিক হামলা, প্রাণহানি, আহতের ঘটনা এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
একইসঙ্গে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসীকে নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
এ ছাড়া, প্রধানমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠককালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই যুদ্ধে তাদের দেশে ইরানের আক্রমনে দুইজন বাংলাদেশি নিহত হওয়ায় তার সরকারের গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাদের সরকার সেদেশে অবস্থিত সকল মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বদ্ধ পরিকর। তিনি এই যুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশের সমর্থনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ সময়ে পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং সংলাপ ও কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আলোচনায় বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বিদ্যমান চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্ব পায় এবং উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হিসেবে পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ সফর করছেন, যার লক্ষ্য সংশ্লিষ্ট দেশের নেতৃত্বের কাছে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং এ অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা আরও সুদৃঢ় করা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তার নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৭ আসনের ৪টি মন্দিরে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে তার সহকারী একান্ত সচিব-২ এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রহমান সানি চারটি মন্দিরে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, চেক বিতরণ করা মন্দিরগুলো হলো- ভাষানটেক বিআরপি সার্বজনীন মন্দির, শ্রী শ্রী রক্ষা কালী মন্দির (মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতাল সংলগ্ন), আইডি হাসপাতাল সার্বজনীন পূজা মন্দির এবং শ্রী শ্রী শিবকালী পূজা মন্দির (টেম্পো মোড়, মহাখালী)।
চেক বিতরণের সময় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীসহ সংশ্লিষ্ট মন্দিরের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, পুরোহিত ও পূজারিরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশে চলমান জ্বালানি তেল সংকট সামাল দিতে সিএনজি ও এলপিজি কনভারশনের দিকে ঝুঁকছেন ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকরা। আমদানিকৃত অকটেন ও ডিজেলের দামের বিপরীতে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে গাড়ির পরিচালন খরচ প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসছে। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের বিচারে বর্তমানে সিএনজির চেয়ে এলপিজিই (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) গ্রাহকদের প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এক সময় সিএনজি কনভারশন জনপ্রিয় থাকলেও এখন ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ এলপিজি বেছে নিচ্ছেন। এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ইঞ্জিনের সুরক্ষা। সিএনজির তুলনায় এলপিজিতে ইঞ্জিনের ক্ষতি কম হয়, সিলিন্ডারের ওজন হালকা এবং গাড়ি চালানোর অনুভূতি প্রায় অকটেনের মতোই আরামদায়ক। এছাড়া সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইনের বিড়ম্বনা না থাকা এবং দেশজুড়ে এলপিজি স্টেশনের সহজলভ্যতা এই চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে ১ লিটার অকটেনের দাম ১২০ টাকা হলেও সমপরিমাণ এলপিজি মিলছে মাত্র ৬২ টাকায়। সাউদার্ন অটোমোবাইলসের তথ্যমতে, অকটেনের তুলনায় সিএনজিতে খরচ ৭০ শতাংশ এবং এলপিজিতে প্রায় ৪০ শতাংশ সাশ্রয় হয়। দীর্ঘ মেয়াদে ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ ক্ষয়ের ঝুঁকি থাকলেও যারা দৈনিক ৫০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গাড়ি চালান, তাদের জন্য এই কনভারশন পদ্ধতি অত্যন্ত লাভজনক।
রাজধানীর তেজগাঁও ও এর আশপাশের মাল্টিব্র্যান্ড ওয়ার্কশপ, এইচএনএস অটো সলিউশন এবং সাউদার্ন অটোমোবাইলসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো কনভারশন সেবা দিচ্ছে। জানা যায়, এলপিজি কনভারশনে মানভেদে খরচ পড়ছে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। অপরদিকে সিএনজি কনভারশনে ধরনভেদে ৭০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠান আরপিজিসিএল-এর মাধ্যমে ২৯ হাজার থেকে ৬৯ হাজার টাকায় এই সেবা পাওয়া সম্ভব। কনভারশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লাগে মাত্র ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা।
এইচএনএস অটো সলিউশনের অপারেশন ম্যানেজার দীপক কুমার সরকার বলেন, দেশে চলমান গাড়ির প্রায় ৭০ শতাংশই টয়োটা ব্র্যান্ডের, যা এলপিজি ও সিএনজি উভয় মাধ্যমেই সহজে রূপান্তরযোগ্য। বর্তমানে জ্বালানি সাশ্রয়ের এই প্রবণতা পূর্বের তুলনায় ১০-১৫ শতাংশ বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শত শত ছোট-বড় কনভারশন সেন্টার গড়ে উঠলেও নিরাপত্তার স্বার্থে মানহীন সিলিন্ডার এড়িয়ে ব্র্যান্ডের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ। দীর্ঘমেয়াদী লাভের আশায় স্বল্পমেয়াদী সাশ্রয় যেন বড় কোনো দুর্ঘটনার কারণ না হয়, সেদিকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এদেশের জনগণই সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজ বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
স্পিকার এবং সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিশ্বাস করে— এদেশের জনগণই সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের প্রাথমিক কাজ বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে শুরু করে দিয়েছে।’
সংসদে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সারা দেশের মানুষ যাদের নির্বাচিত করেছেন, সেই নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সকল কর্মসূচি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।’
অতীতের রাজনৈতিক দলগুলোর ফাঁকা প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, ‘অতীতে অনেক রাজনৈতিক দল বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কেউ কেউ তো টিকিটও বিলি করেছিল। তবে গত নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেটের মাধ্যমে এটিই প্রমাণিত হয়েছে যে, মানুষ বিএনপির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’সহ অন্যান্য কল্যাণমুখী পরিকল্পনার প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন জানিয়েছে।’
শেষে দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার জনগণের এই আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দেবে। তাদের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে পালন করার ব্যাপারে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’
সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বছরে গড় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা)।
পাচার হওয়া এ অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।
সংসদ নেতা তারেক রহমান জানান, অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীন) চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩টি দেশের (মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত) সঙ্গে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ (এমএলএটি) স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। অপর ৭টি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স কর্তৃক চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলাগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে এবং পুলিশের সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল ও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল (জেআইটি) গঠন করা হয়েছে।
সম্পদ জব্দের পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংসদ নেতা বলেন, আদালত কর্তৃক দেশে মোট ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। অপরদিকে, আদালতের নির্দেশে বিদেশে মোট ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ হাজার ১৩ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে সর্বমোট প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
মামলার হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাচার অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৪১টি মামলা রুজু করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায় প্রদান করা হয়েছে।
বর্তমান সরকার দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং এবং আর্থিক অপরাধ দমনে বৃহত্তর কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং এতে চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য আকতার হোসেনের (রংপুর ৪) এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য যে প্রশ্নটি করেছেন-কতজন মানুষের কাছে আমরা কার্ড পৌঁছে দেব, মূল্যস্ফীতি হবে কি না, বাজেট কত, স্বাভাবিকভাবে বাজেট কত, এটি আমরা এখনই বলছি না। অর্থাৎ আমরা পর্যায়ক্রমিকভাবে বিষয়গুলো সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব।
আমরা যেহেতু প্রতি মাসে এটি সম্প্রসারণ করতে থাকব, অর্থাৎ অধিক সংখ্যক নারী ফ্যামিলি কার্ড পাবেন এবং অধিক সংখ্যক পুরুষ কৃষক কার্ড পাবেন-একবারে সবাইকে দেওয়া সম্ভব নয়। পৃথিবীর কোনো দেশের পক্ষেই একবারে এটি করা সম্ভব নয়। সেজন্য প্রতি বছর আমরা বাজেটের পরিমাণ বাড়াব এবং প্রতি বাজেটে বরাদ্দ রাখা হবে।
তিনি বলেন, এভাবে পর্যায়ক্রমিকভাবে ধীরে ধীরে আমরা এগোব এবং অবশ্যই এটি বাজেটে প্রাধান্য পাবে। আর আপনি যেটা বলেছেন মূল্যস্ফীতি হবে কিনা-আমরা তো টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না। কাজেই মূল্যস্ফীতি হওয়ার প্রশ্নই আসে না।
বরং আমরা মনে করি, এই টাকাগুলো যখন বাজারে যাবে, তখন প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক ও নারীরা তা দেশের ভেতরেই ব্যয় করবেন। তারা এই টাকা বিদেশে পাচার করবেন না; বরং স্থানীয় অর্থনীতিতে খরচ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন নারী এই টাকা দিয়ে সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারের খাদ্যব্যবস্থা বা ছোট কোনো ব্যবসা শুরু করতে পারেন। ফলে সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে এবং অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।’
উদাহরণ হিসেবে তারেক রহমান বলেন, ‘কোনো নারী যদি এই টাকা দিয়ে স্থানীয় মুদির দোকান থেকে পণ্য কেনেন, তাহলে ওই দোকানের বিক্রি বাড়বে। এতে দোকানির আয় বাড়বে এবং প্রয়োজনে তিনি নতুন কর্মচারী নিয়োগ দিতে পারবেন। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় অর্থনীতি ধীরে ধীরে শক্তিশালী হবে। দেশের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ স্থানীয় শিল্পের পণ্য ব্যবহার করে। ফলে এসব উদ্যোগ স্থানীয় শিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।’
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি না যে এতে মূল্যস্ফীতি হবে। বরং অর্থনীতি আরও সচল ও শক্তিশালী হবে। হয়তো আগামী ছয় মাসে বড় পরিবর্তন দেখা যাবে না, তবে তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।
দেশে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় আগামী রোববার থেকে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ ঘোষণা দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে অধিক সংক্রমণপ্রবণ উপজেলাগুলোতে এই বিশেষ কর্মসূচি শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে ছয় মাস থেকে ১০ বছর বয়সি সব শিশুকে এই টিকাদানের আওতায় আনা হবে।
টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে সংশ্লিষ্ট সব স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে গ্যাভির (ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনার বৈশ্বিক জোট গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভ) কাছ থেকে ২১ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডোজ হামের টিকা ধার হিসেবে নিচ্ছে সরকার। পরে তাদের এই টিকা ফেরত দেওয়া হবে। প্রায় শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য সংক্রামক হাম রোগের প্রাদুর্ভাবে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে অর্ধশতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের আট বিভাগেই হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে। সরকারিভাবে এখনো মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামে অর্ধশতাধিক শিশু মারা গেছে।
এর মধ্যে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ২৫ শিশু; বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ৬; ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫; চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪; রাজশাহী, পাবনা ও গোপালগঞ্জে একজন করে এবং বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ৮ শিশু মারা গেছে। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি হামের রোগী (৩৬ দশমিক ২৪ শতাংশ) শনাক্ত হয়েছে। এরপর রয়েছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, সিলেট ও রংপুর বিভাগ।
ইপিআই সারা বছর যে ১২টি রোগের জন্য ১০টি টিকা দেয়, সেগুলোর মধ্যে হাম ও রুবেলা রোগ প্রতিরোধে এমআর টিকাও রয়েছে। হাম প্রতিরোধে ইপিআইয়ের অধীনে ৯-১৫ মাস বয়সি শিশুদের নিয়মিত টিকা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশ শিশু টিকা পায়।