খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছিল ৫৩ শতাংশ, ৮ ফেব্রুয়ারি ১০ শতাংশ কমিয়ে করা হয়েছে ৪৩ শতাংশ। শুল্ক কমানোর পরও দাম কমেনি খেজুরের। উল্টো দাম বেড়েছে। যদিও বন্দর থেকে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। গত কয়েক দিনে ৬০৫ কনটেইনার খেজুর খালাসের কার্যক্রম চলছে এবং প্রতিদিনই খালাস অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, আগামী ১২ মার্চ পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনা করেন। দিনভর রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে খেজুর। খেজুর ছাড়া এখন আর ইফতারের কথা ভাবা যায় না। প্রায় সব রোজাদারই খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করেন। এ কারণে রমজান মাসে চাহিদা বেশি থাকা পণ্যগুলোর একটি খেজুর। পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে চলতি মাসে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি বাজারে তদারকি ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা কোনো কাজেই আসছে না। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের বাজারে খেজুরের দাম প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়েছে।
৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি আদেশে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনার ঘোষণা দেয়। এর আগে খেজুর আমদানিতে সর্বমোট ৫৩ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে খেজুরের শুল্কায়ন মূল্য প্রতি টন ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৭৫০ ডলার। এর সঙ্গে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ, রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ ও ভ্যাট ১৫ শতাংশ। পাশাপাশি অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর ৫ শতাংশ হারে দিতে হচ্ছে। এতে বর্তমানে সর্বমোট ৪৩ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত রোজার আগে মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরে শুল্ক দিতে হতো ৫ দশমিক ৪৫ থেকে ২১ দশমিক ৮৪ টাকা। তবে এবার খেজুরকে ‘বিলাসীপণ্যের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে খেজুরের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫৩ শতাংশ করা হয়। ফলে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বেড়ে গেছে। এবার শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫৪ থেকে ২০৮ টাকা। মূলত শুল্কের প্রভাব পড়েছে খেজুরের দামে। গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি খেজুরে জাতভেদে দাম বেড়েছে ১০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত। দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া খেজুরের মধ্যে রয়েছে দাবাস, জাহিদি, বরই ও গলা খেজুর।
চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গলা বা বাংলা খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, জাহিদি খেজুর ২৪০-২৬০ ও মানভেদে দাবাস খেজুর ৪৫০-৫৫০ টাকায়। এ ছাড়া বরই খেজুর মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৪০-৫৪০ টাকায়। গত বছর এসব খেজুরের দাম ছিল বর্তমান দরের অর্ধেকেরও কম।
এদিকে অভিজাত শ্রেণির কাছে পছন্দের খেজুরের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের মেডজুল, মাবরুম, আজওয়া ও মরিয়ম। গত এক মাসের ব্যবধানে এসব খেজুরের দাম কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে। জাম্বো মেডজুল মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, সাধারণ মেডজুল ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০, মাবরুম খেজুর ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, আজওয়া খেজুর মানভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো জাতের মরিয়ম বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এ ছাড়া কালমি মরিয়ম ৮০০-৯০০ টাকা, সুফরি মরিয়ম ৭৫০-৮০০, আম্বার ও সাফাভি ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ ও সুক্কারি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে রোজার আগে জাহিদি জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি (১০ কেজি) ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। শুল্ক আরোপের কারণে দাম বাড়ার পর গত বছরের শেষ সপ্তাহেও একই জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা। তবে এখন ১০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েও এই জাতের খেজুরের কার্টন হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা।
পাইকারি ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি ৫ কেজির এক কার্টন মেডজুল খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার টাকায়। গত বছর এ খেজুর বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়। অন্যদিকে সাধারণ খোলা খেজুর প্রতি কেজি ফেব্রুয়ারির শুরুতে কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ছিল ১২৮-১৩০ টাকা। বর্তমানে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকায়।
পাইকারি বাজার সূত্রে জানা গেছে, বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় জাহিদি জাতের খেজুর। এক বছর আগে প্রতি কেজি খেজুর খুচরা পর্যায়ে ১৫০ টাকায় পাওয়া যেত। শুল্ক কমানোর পর বর্তমানে এ খেজুর খুচরায় বিক্রি করতে হবে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য আমদানি করা খোলা (বস্তায় বিক্রি হওয়া ভেজা খেজুর) রোজা আসার আগেই কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ১৫৫ টাকায় উঠে গেছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে এ মানের খেজুর বিক্রি করতে হবে কমপক্ষে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। অবশ্য গতকাল বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল হক টিটু ঘোষণা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে খেজুর পৌঁছে দিতে বস্তায় আসা জাহিদি খেজুরের দাম কমানো হবে। আজ রোববার (৩ মার্চ) এই খেজুরের দাম কমানোর ঘোষণা আসার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিনে সবচেয়ে বেশি খেজুর বন্দর থেকে খালাস নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগে বন্দর থেকে দিনে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলেও এখন সেটা ৭০ কনটেইনারে গিয়ে টেকেছে। কিন্তু দাম কমছে না।
ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকার শুল্ক কমানোর পর ব্যবসায়ীরা খেজুর খালাসে তোড়জোড় শুরু করেছে। শুল্ক কমানোর পরও ভোক্তারা কম দামে খেজুর কিনতে পারছেন না। শুল্ক কমানোর পর পর্যাপ্ত আমদানি হলেও দাম কেন কমছে না বিষয়টি তদারকি করতে হবে। তদারকি না করলে রোজায় খেজুর কিনতে পারবে না ভোক্তারা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৬৩ টন খেজুর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস করেছেন আমদানিকারকরা। ১৪৫ দিনের মধ্যে গত ১৫ দিনেই বেশি খেজুরের চালান খালাস হয়েছে। ২৮ ধরনের খেজুর দেশের ৮২টি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্দান, মিসর, আলজেরিয়া, নামিবিয়া, তিউনিশিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আমদানি করেছে।
জানা গেছে, চার মাস আগে খেজুর আমদানি করলেও শুল্ক কমবে এ আশায় ব্যবসায়ীরা পণ্যটি চট্টগ্রাম বন্দরে গুদাম করে রেখেছিলেন। ফলে বেসরকারি ১৯টি ডিপোতে ১ হাজার কনটেইনার (প্রতি কনটেইনারে ২২-২৪ হাজার কেজি খেজুর থাকে) খেজুর পড়ে ছিল। এখন খেজুরভর্তি ৬০৫টি কনটেইনার খালাস চলছে। এখনো খেজুরভর্তি ৩৯৫টি কনটেইনার খালাসের উদ্যোগ নেয়নি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার কাজী ইরাজ ইশতিয়াক বলেন, প্রচুর পরিমাণে খেজুর খালাস হচ্ছে। প্রতিদিনই খালাস করছেন আমদানিকারকরা। তিনি বলেন, খেজুরের শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
তিনি জানান, খেজুরের চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। একেকটি ক্যাটাগরির একেক রকম শুল্কহার হয়। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির প্রবণতাও রয়েছে। অনেক সময় উচ্চ শুল্কহারে খেজুর এনে কম শুল্কহারে ঘোষণা দেওয়া হয়। এমন বেশ কিছু ঘটনাও ঘটেছে। এ জন্য আমরাও সতর্ক আছি, যেন সরকার রাজস্ব বঞ্চিত না হয়।
উচ্চ শুল্কহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা এনবিআর নির্ধারিত, এ ব্যাপারে আমাদের বলার বা করার কিছু নেই। আমরা নির্ধারিত শুল্ক নিয়ে খালাসের ব্যবস্থা করি। খেজুর বিলাসী পণ্য কি না, এ বিষয়েও তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
খাতুনগঞ্জের ডেটস অ্যান্ড ড্রাই ফ্রুটস আমদানিকারক মো. ওমর ফারুক বলেন, খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ট্যাক্স ১০ শতাংশ কমালেও অন্যান্য শুল্ক ঠিক রেখেছে এনবিআর। ফলে উচ্চমাত্রায় ট্যাক্স দিয়েই আনতে হচ্ছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সামান্য এ শুল্ক কমানোয় খেজুরের দামে প্রভাব পড়বে না।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সুলতান আরেফিন বলেন, শুল্ক কমানোর পর থেকে আমদানিকারকরা খেজুর খালাস নিতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। আগে প্রতিদিন গড়ে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলে এখন সেটি ৭০ কনটেইনার খালাস হচ্ছে।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতি কেজি খেজুর ১১০ টাকায় কিনলে ১৪০-১৫০ টাকা শুল্ক দিতে হয়। ১২০ টাকায় কিনলে ২০৮ টাকা শুল্ক দিতে হয়। গত বছর ৯০ টাকায় ডলার কিনতে পারতাম। এ বছর ১২০-১২২ টাকা দিতে হচ্ছে। কাস্টমস থেকে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ইচ্ছেমতো করা হচ্ছে। এলসি যে মূল্যে খুলছি সে অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ করা হলে খেজুরের দাম অর্ধেকে নেমে আসে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না।
বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, পণ্য বন্দরে আসার পর শুল্ক পরিশোধ করে খালাস করতে হয়। এসব কাস্টমসের বিষয়।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমেদ বলেন, ডলারের দাম বাড়াতে পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে যায়। এর পরও ব্যবসায়ীরা সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ছিল সার্বভৌমত্বকে নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস। সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ এর একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সেনানিবাসের মাল্টি পারপাস হলে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রাধানমন্ত্রী বলেন, মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি- তিনি যেন শহীদদের আত্মাকে শান্তিতে রাখেন, তাদের পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দান করেন এবং আমাদের রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে ন্যায়, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের পথে পরিচালিত করেন।
তারেক রহমান বলেন, মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, ৯০’র গণআন্দোলন এবং ২৪’র গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী সকল ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদাতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারবর্গের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
২৫ ফেব্রুয়ারি জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধূর দিন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান। ঘটনার দীর্ঘ ১৭ বছর পরে শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভীষিকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধূর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।
তারেক রহমান বলেন, আমি দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমি উপলব্ধি করেছি- গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা। আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।
তিনি বলেন, আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত। ১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন সেদিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যবৃন্দ বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছে। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন। সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংসমূহকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়। দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করব। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে।
পিলখানা ট্র্যাজেডিকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক নজিরবিহীন ও কলঙ্কজনক ঘটনা হিসেবে অভিহিত করে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদস্যদের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারানো নির্দোষ সেনা কর্মকর্তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে একটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ‘শহীদ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আবেগঘন কণ্ঠে সেনাপ্রধান বলেন, ‘পিলখানা ট্র্যাজেডির পর শহীদ পরিবারগুলোর যে সংগ্রামী জীবন শুরু হয়েছিল, তা ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শহীদ সেনা সদস্যদের সন্তানরা বড় হওয়ার পথে মা-বাবার স্নেহ-মমতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে তারা একা নয়; শহীদদের প্রতিটি সন্তান আমাদেরই সন্তান।’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় এসব পরিবারের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি দৃঢ় আশ্বাস দেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা স্মরণ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সেই মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মধ্যে এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দুই বাহিনী আজও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আর কখনো না হয়, সে বিষয়ে সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিকে ‘ঐতিহাসিক’ উল্লেখ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘শত ব্যস্ততার মধ্যেও দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মাথায় প্রধানমন্ত্রী শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন। তার এই উপস্থিতি শোকাতুর পরিবারগুলোর মাঝে নতুন করে আস্থা ও আশার সঞ্চার করেছে।’ এ সময় তিনি সরকারপ্রধানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
পরিশেষে সেনাপ্রধান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কাজে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে আয়োজনের জন্য তিনি সেনা সদরের এজি শাখা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।
নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির-কে র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে তাকে র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
এর আগে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অতিরিক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি পদে নিয়োগ দিয়ে মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা।
জানা গেছে, তিনি বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে প্রথমে চাকরিচ্যুত এবং পরে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় তাকে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি এসপি পদমর্যাদায় চাকরিতে পুনর্বহাল হন। পরবর্তীতে সুপার নিউমারারি পদে ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পান এবং সর্বশেষ আইজিপি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গঠিত স্বাধীন জাতীয় তদন্ত কমিশনের সুপারিশ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় শহীদ সেনা দিবসে বনানী সামরিক কবরস্থানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ সরকারের এই প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্বাধীন জাতীয় কমিশন গঠন করা হয় সেই কমিশনের রিপোর্ট এসেছে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা ক্ষমতায় এসেছি। তার আগেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সে রিপোর্ট পেয়েছে। কিন্তু রিপোর্ট বাস্তবায়নে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
গেল ২৩ ফেব্রুয়ারি সালাহউদ্দিন বলেছিলেন, পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্তের জন্য সরকার একটি নতুন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সেই বক্তব্যের সংশোধনী এনে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) তিনি বলেন, আমি দুয়েকদিনে দেখেছি (প্রতিবেদন)। কয়েকদিন আগে এই রিপোর্ট পুরো না দেখে কিছু কথা বলেছি, এগুলো আজকে সংশোধন করতে চাই। আমরা নতুন করে কোনো তদন্ত কমিশন করব না, যেহেতু জাতীয় একটা স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠিত হয়েছে। তারা যথোপযুক্ত... পেয়েছে। আমি এক নজরে যা দেখেছি. তাতে যে সমস্ত সুপারিশমালা এসেছে, ৭০টির মত, আরো দেখবে। এই সুপারিশমালার অনেকগুলো বাস্তবায়ধীন।
তিনি আরও বলেন, ‘আর বিচারিক যে মামলাগুলো আছে, কিছু আপিল পর্যায়ে আছে, কিছু অ্যাপিলেট ডিভিশনে। এই জুডিশিয়াল প্রসেসগুলো সময়মত করা হবে। আর অন্যান্য যে সমস্ত সুপারিশ আছে সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করব ইনশাল্লাহ।’
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন সরকার হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী উদ্দেশে ছিল তা খুঁজে বের করার জন্য যে কমিটি করেছিল, তার রিপোর্টগুলো শেষ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।
ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার হবে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে, যাতে এই জাতীয় কোনো ঘটনা আমরা যেন আর না দেখতে পাই। সেজন্য যে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটা লক্ষ্য ছিল। সেটা তাদেরই থাকতে পারে, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সর্বভৌমত্বকে বিশ্বাস করে না, দুর্বল রাষ্ট্র হিসেবে দেশকে দেখতে চায়।’
সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দিতেই ৫৭ জন কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষ্যে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২০০৯ সালের এই দিনে বিডিআরের চৌকস ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ প্রায় ৭২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হত্যা করা হয়। এই দিনটি আমাদের জাতির জন্যে অত্যন্ত লজ্জার ও কলঙ্কজনক একটি অধ্যায় বলে আমরা মনে করি। বাংলাদেশের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার গভীর চক্রান্ত করা হয়েছিল এই দিনে। একসঙ্গে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য ঘুরে দাঁড়িয়েছেন দেশের জনগণ।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুসংহত এবং গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার বড় সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। অতীতের মতো দেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য বলে বিশ্বাস করি। একইসঙ্গে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করাও আমাদের দায়িত্ব।
এ সময় শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও তাদের পরিবার-পরিজনদের প্রতি সমবেদনা জানান মির্জা ফখরুল।
বইমেলা ঘিরে নিরাপত্তার কোনো হুমকি নেই জানিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেছেন, অমর একুশে বইমেলা উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। বইমেলায় নিরাপত্তার কোনো হুমকি নেই। তিন স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। গোয়েন্দা সদস্যরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা নিয়োজিত থাকবেন।
সিসিটিভি ক্যামেরা ছাড়াও প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে আর্চওয়ে ব্যবস্থা থাকবে। মেলা আগের মতোই বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলা প্রাঙ্গণে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’ উপলক্ষে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সংক্রান্ত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেছেন।
সরওয়ার বলেন, উসকানিমূলক কোনো বইও মেলায় থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবারের বইমেলায় কোনো ধরনের নাশকতার তথ্য নেই। মব সৃষ্টি করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করবে। বইমেলার ভেতরে ও বাইরে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সাদা পোশাকে ও ইউনিফর্মে নিয়োজিত থাকবে।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, মাজার রোড, হাকিম চত্বর, দোয়েল চত্বর, টিএসসিতে মেলা চলাকালে যানজট কমাতে ডাইভারশন চলবে। ধারালো ও বিস্কোরক দ্রব্য নিয়ে মেলায় প্রবেশ করা যাবে না।
মেলায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে বোম্ব ডিসপোজাল (বোমা নিষ্ক্রিয়করণ) ইউনিট, সোয়াটসহ ডগ স্কোয়াড থাকবে এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও রাখা হবে।
মহান ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হতে যাচ্ছে এবারের বইমেলা।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় চীনের বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গঠিতব্য ‘ইন্টারন্যাশনাল এ্যালায়েন্স কমব্যাটিং টেলিকম অ্যান্ড সাইবার ফ্রড’ জোটে বাংলাদেশের যোগদানের অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত প্রস্তাব যথাযথ চ্যানেলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। আঞ্চলিক, কৌশলগত ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে চাই।’ তিনি উল্লেখ করেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বড় উন্নয়ন অংশীদার এবং বিভিন্ন বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে। ভবিষ্যতে এই বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূত জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে প্রায় ১০ হাজার চীনা নাগরিক কর্মরত রয়েছেন। উন্নয়ন ও নিরাপত্তা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত উল্লেখ করে তিনি বিনিয়োগ বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। জবাবে মন্ত্রী বলেন, জনগণের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।
দু’দেশের মধ্যে ‘প্লান অব এ্যাকশন অন ল এনফোর্সমেন্ট ট্রেইনিং কো-অপারেশন’ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ২০২৩ সালে শেষ হওয়ায় সেটি পুনরায় পর্যালোচনার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি সুবিধাজনক সময়ে চীন সফরের কথাও রাষ্ট্রদূতকে জানান।
বৈঠকে নিরাপত্তা সহযোগিতা, সাইবার অপরাধ দমন, পুলিশ প্রশিক্ষণ, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান এবং চীনের জননিরাপত্তা মন্ত্রীর শুভেচ্ছাবার্তা পৌঁছে দেন। তিনি চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে চীন সফরের আমন্ত্রণও জানান। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)-এর নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী।
মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী ২৯তম বিএমএ লং কোর্সের দ্বিতীয় সেরা ক্যাডেট হিসেবে কমিশন লাভ করেন। বর্তমানে তিনি তার কোর্সের প্রথম কর্মকর্তা। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য থেকে মোট দুইবার স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া তিনি তুরস্ক থেকে আর্টিলারি বেসিক কোর্স এবং পাকিস্তান থেকে গানারি স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন।
দীর্ঘ সামরিক জীবনে তিনি নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনি আর্টিলারি ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর (বিএম) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া, তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে (ডিএসসিএসসি) তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রশিক্ষক (ডিরেক্টিং স্টাফ) এবং প্রধান প্রশিক্ষক (চিফ ইনস্ট্রাক্টর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্কুল অব আর্টিলারিতেও তিনি ৩ মেয়াদে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন।
২০১৯ সালে কায়ছার রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সদর দপ্তরে যোগ দেন। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে সম্মান অর্জন করে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকাকে একটি আধুনিক ‘গ্রিন সিটি ও ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) নগর ভবনে করপোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাথে আয়োজিত পৃথক মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় ঢাকাকে বাসযোগ্য ও সুন্দর নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে চারটি অগ্রাধিকার কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে: ১. বৃক্ষরোপণ ও ব্যাপক সবুজায়ন ২. খালের প্রবাহ পুনরুদ্ধার ও খনন ৩. আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ৪. কার্যকর মশক নিধন।
উক্ত কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিএসসিসির বিভিন্ন ওয়ার্ডকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মশক নিধন কার্যক্রম শতভাগ নিশ্চিত করতে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ‘মনিটরিং টিম’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া, এই কার্যক্রমে স্থানীয় সিভিল সোসাইটিকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সভায় সতর্ক করে জানানো হয় যে, সচেতন করার পরেও কারো অবহেলায় মশার লার্ভা পাওয়া গেলে বা পরিবেশ দূষিত হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘সিটি করপোরেশন একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাই হবে প্রধান কাজ। ভালো কাজের জন্য যেমন পুরস্কার নিশ্চিত করা হবে, তেমনি অবহেলার জন্য তিরস্কার ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর ‘গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি’র স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে হবে।’ তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, আজ থেকে ডিএসসিসির সকল নাগরিক সেবা সম্পূর্ণভাবে সচল ও নিরবচ্ছিন্ন থাকবে।
এদিকে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক পৃথক কর্মসূচিতে মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ধলপুরে ডিএসসিসির কেন্দ্রীয় মশার ঔষধ সংরক্ষণাগার পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম তার সাথে ছিলেন। মন্ত্রী সংরক্ষণাগারের সামগ্রিক পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং মশক নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের গুণগত মান বজায় রাখার তাগিদ দেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরবের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম বিদেশ সফর। তিনি জেদ্দায় অনুষ্ঠেয় অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিস্থিতি নিয়ে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) জেদ্দায় ওআইসি সাধারণ সচিবালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ওপেন-এন্ডেড এক্সিকিউটিভ কমিটির জরুরি বৈঠক আয়োজন করছে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)।
বৈঠকে ইসরায়েলি দখলদার কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। তাদের এসব সিদ্ধান্ত বসতি সম্প্রসারণ, সংযুক্তকরণ এবং দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাকে উৎসাহিত করছে।
ওআইসি জানিয়েছে, জরুরি অধিবেশনে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অবস্থান সমন্বয় করা হবে এবং ইসরায়েলের অবৈধ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া হিসেবে সম্ভাব্য কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হবে।
সম্প্রতি ইসরায়েল দখলকৃত পশ্চিম তীরের জমিকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে ঘোষণা করে বসতি স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই পদক্ষেপকে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের আইনগত, রাজনৈতিক ও জনসংখ্যাগত অবস্থান পরিবর্তনের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এটি দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ন করছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতদের তালিকা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
ইশরাক হোসেন বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে হতাহতদের পরিবারকে পুর্নবাসন করার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, তালিকা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেকে বাদ পড়েছেন। তাদেরকে যাচাই-বাছাই করে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কাউকে রাজনৈতিক বিবেচনায় বাদ দেয়া হবে না।
খাল খনন কর্মসূচি একটি বিপ্লব বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ।
আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর কেরানীগঞ্জ এলাকায় ‘খাল-পুকুর-জলাশয় খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শুভাঢ্যা খাল পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘খাল খনন একটি আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার। খাল খনন কর্মসূচি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি একটি বিপ্লব ও আন্দোলন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে মহাবিপ্লব ঘটিয়েছিলেন, বর্তমান সরকারের খাল খনন উদ্যোগ তারই ধারাবাহিকতা।’
মন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘদিন খাল খনন না হওয়ায় শুধু কেরানীগঞ্জ নয়, সারা দেশে সেচ ব্যবস্থায় ঘাটতি ও জলাবদ্ধতা বেড়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন ও জনজীবনে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার; জনকল্যাণে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
খাল খনন কার্যক্রম টেকসই করা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কেরানীগঞ্জবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী।
এ সময় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
শুভাঢ্যা ও আটিবাজার খাল খনন বাস্তবায়নে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী কংগ্রেস সদস্য গ্রেস মেং।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন এবং নতুন সরকার গঠন নিয়ে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এই অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। গ্রেস মেং তার বিবৃতিতে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং এদেশের সাধারণ মানুষকে সফলভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে গ্রেস মেং বলেন, বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আমি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশের জনগণকে তাদের সাম্প্রতিক নির্বাচনের জন্য অভিনন্দন জানাই। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি এই নির্বাচন প্রক্রিয়া অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সুসংহত রূপ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, মানবাধিকার রক্ষা এবং দেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী।
অফিস করতে প্রথমবারের মতো তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও অর্থবহ করতে তিনি কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।
গ্রেস মেং মতে, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো প্রসারিত হলে তা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় দুই দেশ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
পাশাপাশি তার নিজ নির্বাচনি এলাকায় বসবাসরত বিশাল সংখ্যক বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সদস্যদের অধিকার রক্ষা ও তাদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই কংগ্রেস সদস্য।
তিনি জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের মাতৃভূমির অগ্রগতি নিয়ে সব সময়ই ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চান এবং মার্কিন আইনপ্রণেতা হিসেবে তিনি সেই সেতুবন্ধন আরও মজবুত করবেন।