অনুমোদন না থাকলেও রাজধানীজুড়েই নিয়ম ভঙ্গ করে বহু আবাসিক কিংবা বাণিজ্যিক ভবনে চলছে রমরমা রেস্টুরেন্টের ব্যবসা। প্রতিটি রেস্টুরেন্টে ঝুঁকিপূর্ণভাবে একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার পাশাপাশি রেখে দিনভর চলে রান্না।
অনেক আবাসিক ভবনের সব তলাতেই রয়েছে নামীদামি রেস্টুরেন্ট। প্রায় সব জায়গাতেই একটির সঙ্গে আরেকটি ভবন লাগোয়া।
অনেক ৭-৮ তোলা ভবনে দেখা গেছে ওঠানামার জন্য একটি সরু সিঁড়ি। তার পাশেই একটা চার কিংবা ছয়জনের ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটা লিফ্ট। সিঁড়ি দিয়ে একসঙ্গে দুজন আসা-যাওয়াও কষ্টকর। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কী হবে তা সহজেই অনুমেয়।
রাজধানীর নামীদামি- গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, উত্তরা, বসুন্ধরা এলাকাতেও রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ এমন অসংখ্য রেস্টুরেন্ট। বাইরে চাকচিক্য হলেও ভেতরে মৃত্যুফাঁদ।
কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে নড়েচড়ে বসে কর্তৃপক্ষ। কিছুদিন গেলেই সবাই চুপসে যায়। নগর পরিকল্পনাবিদরা বারবার অননুমোদিত রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিলেও তা কোনো কাজে আসছে না।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বেইলি রোডের দুর্ঘটনার পর নগরবাসী শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তাদের এখন একটাই দাবি যত্রতত্র রেস্টুরেন্টের ব্যবসা বন্ধ করা।
আবাসিক ভবনের রেস্তোরাঁ বন্ধের দাবিতে রিট
বেইলি রোডসহ ঢাকার আবাসিক ভবনের সব রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। গতকাল রোববার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ এ রিট করেন।
রিটে বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এদিকে বেইলি রোডের ‘গ্রিন কোজি কটেজ’ বিল্ডিংয়ে ভয়াবহ আগুনে ৪৬ জন নিহতের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে আরেকটি রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইসরাত জাহান সান্ত্বনা।
বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটি করা হয়।
রিটে গণপূর্ত সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রদের বিবাদী করা হয়েছে।
বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।
গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ‘গ্রিন কোজি কটেজ’ ভবনে লাগা আগুনে এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০ জন পুরুষ, ১৮ জন নারী ও আটজন শিশু।
পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৩৫
এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার রেস্টুরেন্টগুলোতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। যেসব রেস্টুরেন্টে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা বা যথাযথ অনুমোদন নেই সেসব রেস্টুরেন্টের মালিক বা ম্যানেজারকে আটক করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে উত্তরা, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ধানমন্ডি, খিলগাঁও, পুরান ঢাকায় এই অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
গতকাল রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ৩০-৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত বেশির ভাগই রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার। তাদের কাছে রেস্টুরেন্ট পরিচালনার বৈধ সব ডকুমেন্টস চাওয়া হয়েছে। এসব ডকুমেন্টস দেখে যাচাই-বাছাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, যেসব রেস্টুরেন্ট যথাযথ নিয়ম-কানুন না মেনে ও আইন ভঙ্গ করে পরিচালিত হচ্ছে সেসব রেস্টুরেন্টে অভিযান চালানো হচ্ছে। আইন অনুযায়ী এসব রেস্টুরেন্ট মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কেউ দায় এড়াতে পারে না
রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কোজি কটেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার দায় কেউ এড়াতে পারে না। ভবন মালিক, রেস্তোরাঁ মালিক কিংবা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি বা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর সবারই দায় রয়েছে। বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব মো. ইমরান হাসান রোববার (৩ মার্চ) বেইলি রোডে পুড়ে যাওয়া ভবন পরিদর্শনে এসে এসব কথা বলেন।
ইমরান হাসান বলেন, ‘আমরা এ ঘটনা থেকে দূরে সরে যেতে চাই না। আর এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকারের কাছে আহ্বান জানাব- বাংলাদেশের সব রেস্তোরাঁ মনিটরিং করা রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির একার পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা সবার সঙ্গে কাজ করতে চাই। সে জন্য আমরা বিভিন্ন দপ্তরে এক হাজারের বেশি চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কোনো সুরাহা পাইনি। আমাদের কেউ সহযোগিতা করেনি।’
৪৮ জন নাগরিকের বিবৃতি
একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু সেসব দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার বা প্রতিকার মানুষ আজও পাননি। এমন অব্যবস্থা, বিচারহীনতা, প্রতিকারবিহীন অবস্থা অব্যাহতভাবে চলতে পারে না। বেইলি রোডে আগুনের ঘটনায় প্রাণহানিতে শোক জানিয়ে এবং এর পুনরাবৃত্তি রোধে ব্যবস্থা দাবি করে দেশের ৪৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছেন।
গতকাল বিবৃতিতে এই নাগরিকরা বলেছেন, অগ্নিকাণ্ডে ২০১০ সালে নিমতলীতে ১২৪ জন, ২০১৯ সালে চকবাজারে ৭১ জন ও বনানীর এফআর টাওয়ারে ২৭ জন প্রাণ হারান। এ ছাড়া হাসেম ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ, তাজরীন ফ্যাশনসহ এর আগে যেসব ঘটনা ঘটেছে, তা থেকে বেইলি রোডের দুর্ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ভাবার উপায় নেই। আগের দুর্ঘটনাগুলোরই ধারাবাহিকতা।
নাগরিকরা বলেন, আগের দুর্ঘটনাগুলো থেকে জানা যায়, এসব দুর্ঘটনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্তব্যে চরম অবহেলাই মূলত দায়ী।
বেইলি রোডে দুর্ঘটনার শিকার ভবনটিকে রাজউক শুধু বাণিজ্যিক ব্যবহারের শর্তে অনুমোদন দিয়েছিল। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ ভবনটিকে অগ্নিকাণ্ডের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনবার নোটিশ পাঠিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, নোটিশ পাঠানোর পরও কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। নাগরিকদের প্রশ্ন, শুধু নোটিশ দিয়েই কি ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? তাদের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও ক্ষমতা রয়েছে, তা তারা কেন করল না?
নাগরিকরা আরও বলেন, নকশা অনুযায়ী ভবন হয়েছে কি না, তা রাজউকের তদারক করার কথা। কিন্তু লোকবল নেই, এই অজুহাতে রাজউক কোনো অবস্থায় দায় এড়াতে পারে না। দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল, তা মানুষকে জানানো, জবাবদিহি করা এখন সময়ের দাবি।
বেইলি রোডের ঘটনাসহ সব দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিবৃতিদাতারা। তারা আরও কিছু দাবি জানিয়েছেন, ভবনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা খতিয়ে দেখা এবং সিটি করপোরেশন, রাজউকসহ বিভিন্ন সরকারি কর্তৃপক্ষের অবহেলা, ব্যর্থতা শনাক্ত করা, উচ্চ আদালতের নির্দেশনার বাস্তবায়ন তদারকি, দায়ীদের শাস্তি প্রদান, অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধ নীতিমালা প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন, ভুক্তভোগীদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
বিবৃতিদাতারা হলেন মানবাধিকারকর্মী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশী কবির, মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন, সাবেক মন্ত্রিপরিষদের সচিব আলী ইমাম মজুমদার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত, বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, সেন্ট্রাল উইমেন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য পারভীন হাসান, বিএনডব্লিউএলএর নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ফারুখ ফয়সাল, আলোকচিত্রী ও সমাজকর্মী শহিদুল আলম, অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, মানবাধিকারকর্মী মো. নুর খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, নারীপক্ষের সদস্য শিরিন হক, ব্লাস্টের অনারারি নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম, সাংস্কৃতিক কর্মী অরূপ রাহী প্রমুখ।
জ্বালানি সাশ্রয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবেলায় সরকার কৃচ্ছ্রসাধন ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে একগুচ্ছ নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং সন্ধ্যার পর বিপণিবিতান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ ভবন-এ অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বিশেষ পরিস্থিতির কারণে সংসদ ভবনেই বৈঠকটি আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা কাজ করছেন এবং যাতায়াতের সময় সাশ্রয় ও যানজট এড়াতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী কার্যদিবস থেকে সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে, অর্থাৎ অফিস সময় এক ঘণ্টা কমানো হয়েছে।
এছাড়া ব্যাংকের সময়সূচিও পরিবর্তন করা হয়েছে। ব্যাংকগুলো সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত লেনদেন করবে, তবে আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করতে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
একই সঙ্গে নির্দেশনা অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টার পর দেশের সব বিপণিবিতান ও মার্কেট বন্ধ রাখতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার কারণে ত্রিমুখী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশ। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ডলার সংকটের কারণে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতি চাপের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার কর ফাঁকি বন্ধ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নজর দিচ্ছে। পাশাপাশি ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের চেষ্টা করছে। সরকারের লক্ষ্য অর্থনীতিকে উদ্ধার করা এবং একই সাথে নির্বাচনি ইশতেহারে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো রক্ষা করা। তবে সরকার টাকা সরকার নতুন করে টাকা ছাপিয়ে বাজার সচল করার পক্ষে নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
জ্বালানি ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বাংলাদেশ তেলশূন্যতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এতে উৎপাদন খরচ ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে গিয়ে মূল্যস্ফীতি আরও উসকে দিতে পারে।
অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও ডলার সংকট: বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট, যেমন—ডলার সংকট ও টাকার অবমূল্যায়ন, অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বাড়ছে।
রেমিট্যান্স ও রপ্তানিতে ঝুঁকি: মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় সেখানকার প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এবং রপ্তানিবাণিজ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এ বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট বলেছেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতির চেয়ে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতির কথা ভাবছে। তবে সরকার নতুন করে টাকা ছাপাতে আগ্রহী নয়। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। উত্তরণের সময়সীমা আরও ৩ বছর পেছানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী একটি চিঠি পাঠাবেন, যা পরবর্তীতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে (জেনারেল অ্যাসেমবলি) যাবে। এই বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনাধীন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
সাংবাদিকদের মন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেটে রাজস্ব আহরণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাজেটে মূলত নারী উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি জনবান্ধব বাজেট প্রণয়নের কাজ চলছে। আসন্ন বাজেটে রাজস্ব আহরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এবারের বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো- বঞ্চিত মানুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া।
বিনিয়োগ ও নীতিমালার স্থিতিশীলতা নিয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সরকার নীতিমালার স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিচ্ছে। সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা স্বস্তির সাথে বিনিয়োগ করতে পারেন। এ ছাড়া পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বড় ধরনের ডিরেগুলেশন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সামাজিক নিরাপত্তা ও বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার বিষয়ে বলেন, বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে এই বঞ্চিত মানুষদের সুরক্ষা দেওয়ার কাজ চলছে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, রপ্তানি খাতে শুধু তৈরি পোশাক বা গার্মেন্টসের ওপর নির্ভরশীল না থেকে খাতটিকে বহুমুখী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতকেও গার্মেন্টসের মতো বন্ডেড ওয়্যারহাউস এবং ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে জাপান ও জার্মানির রাষ্ট্রদূতের সাথে আলোচনা চলছে, বিশেষ করে এই সংকটের সময়ে তাদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
পুঁজিবাজার সম্পর্কে তিনি বলেন, আগে ঘন ঘন নীতিমালা পরিবর্তনের ফলে বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল বার্তা যেত। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং আর্থিক ও পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার সিরিয়াস ডিরেগুলেশন বা নিয়মকানুন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বঞ্চিতদের দিয়ে বাজেট শুরু করা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগে অনেক সময় শিল্প বা উৎপাদন খাতের ওপর বেশি জোর দিতে গিয়ে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা বাজেটের সুফল থেকে বাদ পড়ে যেত। এবার সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বঞ্চিত মানুষের পাওনা ও প্রয়োজনীয়তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট প্রণয়ন শুরু করা হবে। বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং আর্থিক ও পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার সিরিয়াস ডিরেগুলেশন বা নিয়মকানুন শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে নির্বাচনের অপেক্ষায় থাকা বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ দেশে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সারাদেশের সব দোকান, বাণিজ্যবিতান ও শপিং মল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) থেকেই সব শপিং মল ও দোকানে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে দোকান মালিক সমিতি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি ও ঢাকা মহানগর দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির যৌথ সভায় জ্বালানি–সংকটের কারণে দেশের সব দোকান, বাণিজ্যবিতান এবং শপিং মল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এতে বলা হয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারকে সহযোগিতার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে হোটেল, ফার্মেসি, জরুরি প্রয়োজনীয় সেবার দোকান এবং কাঁচাবাজার এর আওতাবহির্ভূত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি নাজমুল হাসান মাহমুদ বলেন, বৃহস্পতিবারই (২ এপ্রিল) এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে এবং অবিলম্বে এটি কার্যকর হবে। তবে হয়তো কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখনও এ বিষয়ে অবগত নয়। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) থেকে প্রায় সব শপিং মল ও দোকানে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে।
হরমুজ প্রণালির জটিলতা এড়াতে বাংলাদেশ এবার বিকল্প পথে সৌদি আরব থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি করছে। লোহিত সাগরের কাছাকাছি অবস্থিত সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে এই তেল লোহিত সাগর হয়ে সরাসরি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আনা হবে। তেলবাহী ট্যাংকারটি আগামী ২০ এপ্রিল লোড করার কথা রয়েছে।
এদিকে, বর্তমানে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের একটি জাহাজে থাকা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছে। জাহাজটি বর্তমানে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করলেও ইরানের বিশেষ ছাড়পত্র না পাওয়ায় এটি বাংলাদেশে আসতে পারছে না। যদিও ইরান সম্প্রতি বাংলাদেশের ছয়টি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে, তবে এই তেলের জাহাজটি সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) এর তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২০ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন তেল জাহাজে লোড করা হবে। আরও ১ লাখ টন তেল নিয়ে হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের জাহাজ। মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দুই জাহাজ মিলিয়ে মোট ২ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পরে এসব তেল রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করে বাজারজাত করা হবে। এতে চলমান সংকট অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করছে বিএসসি।
ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্র জানায়, পরিশোধনের পর এই ২ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হবে। এর মধ্যে রয়েছে ৫২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৩২ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল, ১৬ হাজার মেট্রিক টন অকটেন, ৪৮ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল এবং ৪২ হাজার মেট্রিক টন কেরোসিন।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানিয়েছেন, জটিলতা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চলছে। অনুমতি মিললেই ‘এমটি নরডিক পলুকস’ জাহাজটি সরাসরি চট্টগ্রামে পৌঁছাবে।
তিনি জানান, হরমুজ প্রণালির এই জটিলতা এড়াতে এবার ভিন্ন কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন করে কেনা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল লোহিত সাগরের তীরবর্তী সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই বন্দরটি হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় তেল পরিবহনে সামরিক বা রাজনৈতিক বাধার আশঙ্কা কম।
বিএসসি সূত্র জানায়, চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত ক্রুড অয়েল, এলপিজি, এলএনজি সহ বিভিন্ন জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে অন্তত ৩৩টি জাহাজ এসেছে।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালকে সভাপতি করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের লাইব্রেরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন—আশরাফ উদ্দিন নিজান, ডা. মো. মাহাবুবুর রহমান, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মীর আহমাদ বিন কাসেম, সাঈদ আল নোমান, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, মো. নাজিবুর রহমান, আখতার হোসেন।
আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার কারণে সিনিয়র সহকারী সচিব রুম্পা সিকদারকে শাস্তি দিয়েছে সরকার। শাস্তি হিসেবে তার বেতন ২ বছর বাড়বে না। রুম্পা সিকদার নলছিটির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থাকার সময় এ অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বুধবার তাকে শাস্তি দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রুম্পা সিকদার ২০১৯ সালের ৮ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরের তৃতীয় পর্যায়ে ৩০২টি ঘর নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ পান। এর মধ্যে মাটিভাঙ্গা (চর ষাটপাকিয়া) এলাকায় ১২৮টি ঘর নির্মাণের কথা ছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও মো. নজরুল ইসলামের সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ওই ১২৮টি ঘরের মধ্যে ৫৫টি ঘর নির্মাণই করা হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজন কৃষ্ণ খরাতীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ঘরগুলো নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।
পরে ঘর প্রতি ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা হারে এবং পরিবহন ব্যয়সহ মোট ১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার তাকে নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী বিজন কৃষ্ণ খরাতী টাকা জমা দেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, রুম্পা সিকদার তার দায়িত্বকালীন অনির্মিত ৫৫টি ঘর নির্মাণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। বরং বিজন কৃষ্ণ খরাতীর প্রস্তাবে পুরো অর্থের চেকে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া ‘গৃহ প্রদান নীতিমালা, ২০২০’ অনুযায়ী ঘর নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করতেও ব্যর্থ হন, যা দায়িত্বে চরম অবহেলা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
এ ঘটনায় ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। অভিযোগের জবাব দাখিলের পর গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ব্যক্তিগত শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও তার বক্তব্য সন্তোষজনক হয়নি। পরে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রুম্পা সিকদার ও বিজন কৃষ্ণ খরাতীর যৌথ স্বাক্ষরে ঘর নির্মাণের টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। কিন্তু ৫৫টি ঘর নির্মাণ না হলেও নলছিটি থেকে বদলির সময় তিনি এ অর্থের কোনো বিবরণ দাপ্তরিক নথিতে লিপিবদ্ধ করেননি। একজন ইউএনও হিসেবে কত টাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং তা কী উদ্দেশে ব্যবহার হয়েছে, তার যথাযথ নথিপত্র সংরক্ষণ করা তার দায়িত্ব ছিল।
তদন্তে তার প্রশাসনিক দক্ষতার অভাব ও দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, সবশেষে অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সরকার মনে করে, তার বিরুদ্ধে আনা ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে ২ বছরের জন্য ‘বেতন বৃদ্ধি স্থগিত’ করার লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরীক্ষার পাশাপাশি বিসিএসসহ সব ধরনের নিয়োগ পরীক্ষাকেও এখন থেকে পাবলিক পরীক্ষা বলা হবে। পরীক্ষাসংক্রান্ত কাগজপত্রে ঘষামাজা অথবা টেম্পারিংয়ের পাশাপাশি যেকোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস (মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ, ব্লুটুথ, হেডফোন ইত্যাদি) ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অন্তর্ভুক্ত করে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
সংশোধিত খসড়ায় যেকোনো পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে ঘষামাজা ও জালিয়াতি করলে এক কোটি টাকা জরিমানা ও ১০ বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে নিষিদ্ধ ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস বহন বা ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়ায় ‘রিকগনাইজড অথরিটি’ বা ‘স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ’ নামে নতুন ধারণা যুক্ত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়, বোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থা-এর অন্তর্ভুক্ত হবে। পরীক্ষার ফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং বা অবৈধভাবে পরিবর্তন করার বিষয়টিকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ নামে নতুন অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধ করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
আর পরীক্ষাকেন্দ্রে নিষিদ্ধ ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস বহন বা ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
সংগঠিতভাবে পরীক্ষা জালিয়াতি বা চক্র গঠন করলে কঠোর শাস্তি এবং অপরাধীর অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিধানও রয়েছে।
প্রস্তাবিত খসড়ার সারসংক্ষেপে বলা হয়, দেশে পাবলিক পরীক্ষায় নকল, প্রশ্নফাঁস, জাল সনদ তৈরি এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রায় ৪৫ বছর আগে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ প্রণীত হয়। তবে বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যমান আইনের বিভিন্ন ধারা সময়োপযোগী নয়। এ ছাড়া বিদ্যমান আইনে ‘ইউনিভার্সিটি বোর্ড’ পরিচালিত পরীক্ষাকে পাবলিক পরীক্ষা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এতে বিসিএস পরীক্ষাসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত পরীক্ষা আইনের আওতার বাইরে থেকে যায়।
সারসংক্ষেপে আরো বলা হয়, আগামী ২১ এপ্রিল হতে দেশব্যাপী মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পাবলিক পরীক্ষার সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং ডিজিটাল পদ্ধতি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরীক্ষাসংক্রান্ত অপরাধ এবং এর দণ্ড আইনের আওতায় আনার উদ্দেশে বিদ্যমান আইনের সংশোধন জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন। এ জন্য বিদ্যমান আইনটি সংশোধনের উদ্দেশে খসড়া আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে আন্ত মন্ত্রণালয় সভা হয়েছে।
এ ছাড়া জনমত যাচাইয়ের জন্য খসড়া আইনটি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটেও সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে আইনের খসড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মতামত দানসংক্রান্ত আন্ত মন্ত্রণালয় কমিটিতে প্রস্তাবিত খসড়া উপস্থাপন করা হয়নি।
দেশে হঠাৎই বাড়ছে হামের সংক্রমণ। ফলে জনমনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা না দেওয়ার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। টিকা না দেওয়ার পেছনে রয়েছে টিকার স্বল্পতা, বিশেষ ক্যাম্পেইন না হওয়া ও টিকাকেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে অনীহা। এদিকে, হামে আক্রান্ত হয়ে ৪৭ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। একই সঙ্গে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত দেশের সব স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনাও চাওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী লুৎেফে জাহান পূর্ণিমা এ রিট করেন। রিটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করে আদালতের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। যে প্রতিবেদনে মৃত্যুর সংখ্যা, সংক্রমণের পরিমাণ, টিকাদানের হার, টিকার প্রাপ্যতা, গৃহীত পদক্ষেপসমূহ উল্লেখ থাকবে। পাশাপাশি টিকাদান কাভারেজ নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা, টিকার ঘাটতি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় বিলম্বের কারণ নির্ধারণের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত পরিচালনা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়।
এছাড়াও টিকাদানে কেন সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি তার ব্যাখ্যা এবং সেই তদন্তের ফলাফল আদালতের সামনে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।
রিট আবেদনে আরও বলা হয়, সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করতে ব্যর্থতা, টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত না করা, স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা ও জরুরি সাড়া প্রদানে ঘাটতি—এসবই সংবিধানের ২৭, ৩১ এবং ৩২ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন। বিবাদীরা যেন শিগগিরই দেশব্যাপী একটি জরুরি হাম টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করে এবং টিকা, সিরিঞ্জ ও প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সরবরাহ পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্নভাবে নিশ্চিত করে সে বিষেয়েও আদেশ চাওয়া হয়।
রিটে চলমান প্রাদুর্ভাব থাকা সত্ত্বেও স্কুলে সংস্পর্শ নিয়ন্ত্রণসহ তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতা জননিরাপত্তার প্রতি বেপরোয়া অবহেলা এবং জীবনের জন্য আসন্ন ঝুঁকি সৃষ্টি করে উল্লেখ করে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।
হাম কী, কীভাবে ছড়ায়: মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবু সাঈদ শিমুল বলেন, হাম মারাত্মক ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত একটি রোগ, যা মূলত ‘মিজেলস’ ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। রোগটি বায়ুবাহিত, যা শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমিত কারো সর্দি, হাঁচি, কাশি, কথা বলা বা শ্বাস নেওয়ার সময় হামের জীবাণু বা ভাইরাসযুক্ত কণা বাতাসে ছড়ায় এবং অন্যদের সংক্রমিত করে।
সাধারণত মিজেলস ভাইরাস শরীরে ঢোকার ১০ থেকে ১৪ দিন পর লক্ষণ প্রকাশ পায়। র্যাশ বের হওয়ার ৪ দিন আগে থেকে পরবর্তী ৪ থেকে ৫ দিন পর পর্যন্ত ভাইরাস ছড়াতে পারে। এ ছাড়া আক্রান্তের হাঁচি, কাশি, শ্বাস নেওয়া ও কথা বলার মাধ্যমে ছড়ানো জীবাণু বাতাসে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
কোন বয়সীরা আক্রান্ত হয়: যেকোনো বয়সেই হাম হতে পারে। তবে ৫ বছর বয়সের নিচে শিশু এবং ২০ বছরের বেশি যাদের বয়স তাদের বেশি হয়।
লক্ষণ: মিজেলস ভাইরাস সংক্রমণে জ্বর হয়। জ্বর ১০০ থেকে ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। এর সঙ্গে খুব ছোট ছোট র্যাশ দেখা দেয় মুখে, কানের পেছন থেকে, গলা ও বুকের দিকে। নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দেয় এবং কাশি হয়।
হাম হলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে অন্যান্য জটিলতা তৈরি হয়। এই রোগ হলে শিশু নিউমোনিয়া, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়, কানে সংক্রমণ, অপুষ্টি দেখা দেয়। অর্থাৎ হামের পাশাপাশি এসব রোগের লক্ষণও প্রকাশ পায়, যা শিশুর জন্য জটিল পরিস্থিতির কারণ হয়ে হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এসময় হামের রোগী বাড়ছে কেন: ডা. আবু সাঈদ শিমুল বলেন, টিকা না দেওয়ার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। টিকা না দেওয়ার পেছনে রয়েছে টিকার স্বল্পতা, বিশেষ ক্যাম্পেইন না হওয়া ও টিকাকেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে অনীহা।
দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৫ বছর বয়সি শিশুদের দুই বার এমএমআর, এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়। শিশুর ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয় ১৫ মাস বয়সে।
শিশুর ৯ মাস বয়সে টিকা দেওয়ার কথা অনেক অভিভাবকই ভুলে যান। শিশুর জ্বর, সর্দি-কাশি বা অসুস্থতা থাকলে টিকা দেওয়া যায় না। সে কারণেও অনেক সময় দেরি হয়। আবার অনেকে ৯ মাস বয়সের টিকা শিশুকে দিলেও ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কথা ভুলে যান। যে কারণে শিশু হামে আক্রান্ত হয়। এ ছাড়া গত একবছরে দেশের কিছু কিছু জায়গায় টিকার অপ্রতুলতা থাকার কারণেও অনেক শিশু টিকাবঞ্চিত হয়েছে।
করণীয়: হাম আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে ঘরে অবস্থান করতে হবে। হাম যেহেতু ভাইরাসজনিত রোগ, তা নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে, জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল ও সর্দির জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ দিতে হবে। শিশুকে অন্যদের কাছ থেকে আলাদা রাখতে হবে। লোক সমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। হাম হলে শিশুকে স্কুলে পাঠানো যাবে না। যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, বারবার বমি হয়, শিশু যদি নেতিয়ে পড়ে, জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি থাকে—তাহলে দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বিতরণব্যবস্থার আধুনিকায়নে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। বর্তমানে দেশে বিভিন্ন বিতরণ সংস্থার অধীনে মোট ১ হাজার ৮৩৪টি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র সচল রয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ২০৩১ সালের মধ্যে এই সক্ষমতা আরো ৬ হাজার ২৫৫ এমভিএ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ফেনী-২ আসনের এমপি জয়নাল আবেদিনের লিখিত এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এ তথ্য তুলে ধরেন।
এছাড়া চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী জানান, ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে সম্পাদিত আলোচিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য ও অসম শর্তের তথ্য সামনে আসায় এখন আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত অথবা দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিটি পুনর্বিবেচনার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী সংসদকে জানান, ২০১৭ সালে ভারতের আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিটেডের সঙ্গে হওয়া এই চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের সমন্বয়ে গঠিত ওই কমিটি চুক্তিটির প্রতিটি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছে।
কমিটির পর্যালোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সম্পাদিত এই চুক্তিতে বিদ্যুতের দাম তৎকালীন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি ধরা হয়েছে। পর্যালোচনার প্রয়োজনে কমিটি আন্তর্দেশীয় চুক্তি বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতও গ্রহণ করেছে।
জাতীয় কমিটিকে উদ্ধৃত করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, অস্বাভাবিক শর্ত ও উচ্চমূল্যের কারণে এই চুক্তিটি এখন ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সরকার এখন এই সংকট সমাধানে দুটি পথ বিবেচনা করছে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে চুক্তির বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে দ্বারস্থ হওয়া। দ্বিতীয়ত, আদানি পাওয়ারের সাথে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির শর্তসমূহ সংশোধন ও বিদ্যুতের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া।
জ্বালানি মন্ত্রী আরও জানান, জাতীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের স্বার্থ রক্ষায় যা যা প্রয়োজন, সরকার সেই কার্যকর পদক্ষেপই গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে করা ২৫ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানির কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে শুরু থেকেই এই চুক্তির স্বচ্ছতা ও উচ্চমূল্য নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক ছিল।
দেশজুড়ে চলছে অবৈধ জ্বালানি তেল মজুত ও চুরির মহোৎসব। মধ্যপ্রাচ্য যুধের কারণে সরকার তেল ব্যবহারে ভোক্তাদের সাশ্রয়ী হতে আহ্বান জানানোর পর থেকেই গত এক মাসে বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ আকারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত। খোদ রাজধানীর থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় পেট্রোল পাম্পের জ্বালানি কিনে চড়া দামে খোলা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। কেউ কেউ বেশি মূল্য পাওয়ার আশায় অবৈধভাবে বাসাবাড়ি, গ্যারেজ এবং গুদামে তেল সংরক্ষণ করছেন। এই অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে সারা দেশে অভিযান চালাচ্ছে সরকার। ৩ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত ৬৪ জেলায় মোট ৪ হাজার ৮২৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য উপস্থাপন করেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র (যুগ্মসচিব) মনির হোসেন চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত বুধবার ৩৮১টি অভিযান চালানো হয়। মামলা হয় ১৬৯টি। মোট ৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২৫ হাজার ১৩২ লিটার ডিজেল, ১০ লিটার অকটেন ও ৩৯৫ লিটার পেট্রল জব্দ করা হয়েছে এসব অভিযানে।
জ্বালানি বিভাগ বলছে, এখন পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৯টি মামলা হয়েছে। জরিমানা আদায় হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৪৩৫ টাকা। কারাদণ্ড পেয়েছেন ২৪ জন। এ পর্যন্ত মোট ডিজেল উদ্ধার হয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৭৪ লিটার। অকটেন ৩০ হাজার ৯৬০ লিটার। পেট্রল ৭০ হাজার ৫৪ লিটার।
জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুতের হিসাব দিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এতে বলা হয়, দেশে বর্তমানে ডিজেলের মজুত আছে ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ টন। অকটেন রয়েছে ৯ হাজার ২১ টন। পেট্রোল ১২ হাজার ১৯৪ টন। জেট ফুয়েল ৪১ হাজার ৮৭৬ টন।
আগারগাঁওয়ে ২৯৬ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ: রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় তেল বিক্রির দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার ১৫৮ লিটার অকটেন ও ১৩৮ লিটার ডিজেলসহ মোট ২৯৬ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রতিষ্ঠানদুটিতে এসব জ্বালানি তেল মজুত করে রাখা হয়েছিল।
র্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠান দুটির মালিক তেল মজুত রাখার কথা স্বীকার করেন। তাদের দোষী সাব্যস্ত করে প্রতিষ্ঠান দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন। তাদের মৌখিকভাবে সতর্ক করেন।
তেলের অবৈধ মজুতদারি রোধে গত ৩০ মার্চ দেশের ৬৪টি জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মোট ৩৯১টি অভিযান পরিচালিত হয়। এ ব্যাপারে ১৯১টি মামলা করা হয়। তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযানে অবৈধভাবে মজুতকৃত ৮৭ হাজার ৭০০ লিটার তেল জব্দ করা হয়।
এছাড়া গত ৩ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য পরিচালিত হয় ৩ হাজার ৫৫৯টি অভিযান। এতে ১ হাজার ২৪৪টি মামলা করা হয়। ৮৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। ১৯ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২ লাখ ৯৬ হাজার ৩০৫ লিটার অবৈধভাবে মজুত জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী জানান, উল্লিখিত পরিসংখ্যানে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ জ্বালানি মজুতের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, যারা অবৈধ মজুতদারির তথ্য দিচ্ছে, তাদের ১ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বলেন, সরকার যদি পাম্পগুলোতে যথাযথভাবে তেল সরবরাহ করেই থাকে তাহলে তো কোনোরকম তেল সংকট হওয়ার কথা না। তাহলে পাম্পগুলোতে তেল নিয়ে কোনো কারসাজি হচ্ছে কি না এবং তেলের সরবরাহরে মধ্যে কোনো সমস্যা আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো কোনো চিঠি পাননি বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, এমন চিঠি আদালত অবমাননাকর। এ রকম চিঠি দেওয়ার আইনগত কোনো সুযোগ নেই, এটা ভিত্তিহীন। বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমাদের কাছে এ রকম কোনো চিঠি আসেনি। গণমাধ্যম থেকে আমরা জানতে পেরেছি, এ রকম একটা চিঠি দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে যখন অনেক শক্তিশালী মানুষের বিচার চলছে, তখন এ রকম কিংসলে ফিংসলে নাম দিয়ে আমাদের সংবাদমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা, আমার মনে হয় এটা ভিত্তিহীন বিষয়।’
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এসব করা হচ্ছে। আমরা এগুলো আমলে নিচ্ছি না। আমরা এসব নিয়ে উদ্বিগ্ন নই। ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক গতিতে চলবে। আমরা যারা প্রসিকিউশনে কাজ করছি, এগুলো নিয়ে কথা বলা বা চিন্তা করার সময় নেই।’ তবে ওই ল ফার্মের কোনো অস্তিত্ব বাংলাদেশে খুঁজে পাওয়া গেলে, কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার অস্তিত্ব পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
জানা যায়, শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে গত ৩০ মার্চ ই-মেইলে ট্রাইব্যুনালে চিঠি পাঠায় লন্ডনের কিংসলে ন্যাপলি এলএলপি নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। প্রতিবেদনে গণভোটসহ ১১টি অধ্যাদেশ বাতিল করার সুপারিশ করেছেন বিশেষ কমিটির সরকার পক্ষের সংসদ সদস্যরা। তবে এই কমিটির বিরোধী দলীয় তিনজন সদস্য এসব অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে তাদের নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে অধ্যাদেশ বহাল রাখার প্রস্তাব করেছেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এই বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়।
প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে।
এছাড়া, ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংসদে বিল উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করেছে। বাকি ২০টির মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে এবং ৪টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য এখনই সংসদে বিল আনার সুপারিশ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে গঠিত জাতীয় সংসদ এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে রিপোর্ট পেশ করার জন্য বরিশাল -৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীনের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে, যেখানে বিরোধী দলের ৩ জন সংসদ সদস্য ছিলেন।
এই কমিটি তিনটি বৈঠক করে যাচাই-বাছাই করেছে। এক্ষেত্রে অধ্যাদেশগুলো কী প্রয়োজনে প্রণয়ন ও জারি করা হয়েছে তা জানার জন্য কমিটি অধ্যাদেশগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের মতামত নিয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে কমিটির সরকার দলের সদস্য ও বিরোধী দলের সদস্যরা ১৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে একমত হতে পারেননি। ফলে বিরোধী দলের সদস্য অধ্যাপক মজিবুর রহমান, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং গাজী নজরুল ইসলাম এই ১৩ টি অধ্যাদেশে তাদের নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ সরকার পক্ষ বাতিল করার প্রস্তাব করেছে।
এসব অধ্যাদেশে বিরোধী দলের সদস্যরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে অধ্যাদেশ বহাল রাখার কথা বলেছেন।
অন্যদিকে, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫ পাশের বিষয়ে সরকার পক্ষ ভিন্ন নীতি অনুসরণ করতে চাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিরোধীদলীয় তিনজন সংসদ সদস্য এই নীতি অপরিবর্তিত অবস্থায় পাশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সরকার পক্ষ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫ পাশ করার প্রস্তাব করেছে।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) র্যালি, সেমিনার ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজনে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ‘অটিজম ও মানবতা-প্রতিটি জীবনেরই মূল্য আছে’এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এসব কর্মসূচি পালিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিএমইউর প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ এবং প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদারসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ইপনা (IPNA) ও শিশু নিউরোলজি বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী এবং অটিজম স্কুলের শিক্ষকরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সেমিনারে বক্তারা জানান, বিশ্বে অটিজমে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। আগে যেখানে শতকরা ১.৭ জন শিশু আক্রান্ত ছিল, বর্তমানে তা তিনজনে উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশে ২০১৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি ১০ হাজারে ১৭ জন শিশু অটিজমে আক্রান্ত। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গর্ভবতী মায়ের যত্ন ও শিশুর মানসিক বিকাশে সহায়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, বরং এটি একটি ভিন্ন সক্ষমতা। সঠিক রোগ নির্ণয়, উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক ও শিক্ষাগত পুনর্বাসনের মাধ্যমে অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তাদের একাকিত্ব দূর করতে অভিভাবকদের সচেতনতা এবং গণমাধ্যমের জোরালো প্রচারণার তাগিদ দেন বিশেষজ্ঞরা।
এবারের দিবসের মূল বার্তা হলো অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সম্মান, অধিকার এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। ২০২৬ সালের এই প্রতিপাদ্যে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে সবার জন্য গ্রহণযোগ্য (নিউরো-ইনক্লুসিভ) পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সঠিক ভালোবাসা ও সহায়তা পেলে অটিজম আক্রান্তরা সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে অবদান রাখতে পারে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।