শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
৬ ভাদ্র ১৪৩৩

দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হতে পারে

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড
২০ মার্চ, ২০২৪ ১৪:৫১
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২০ মার্চ, ২০২৪ ১৪:৫০

রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ী দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে একথা বলা হয়েছে।

সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে।

আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮০ শতাংশ। আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। আর ঢাকায় এ সময়ে ১৩ মিলিমিটার, টাঙ্গাইলে ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সৈয়দপুর ও তেঁতুলিয়ায় ১৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে এবং আগামীকাল ঢাকায় সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ১ মিনিটে।


নির্বাচিত

মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন আরও ৪ সদস্য, রাতে শপথ

আবদুল মঈন খান, আন্দালিভ রহমান পার্থ (উপরে), সাচিং প্রু জেরী ও শামীম কায়সার লিংকন (নিচে)। ছবি: কোলাজ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভার পরিধি আরও বড় হচ্ছে। দলীয় ও জোটগত সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন আরও চারজন সংসদ সদস্য মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন। এর মধ্যে তিনজনকে পূর্ণ মন্ত্রী এবং একজনকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পরপরই নতুন এই মন্ত্রীরা শপথ নেবেন। রাষ্ট্রপতি নিজেই তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরি। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন।

ইতিমধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য এই মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ে বঙ্গভবনে উপস্থিত থাকার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।


নির্বাচিত

শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করার কয়েক ঘণ্টা আগে রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে জিয়া উদ্যানে পৌঁছে তিনি উভয়ের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর সেখানে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তিনি। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির এই শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

উল্লেখ্য, আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে এই শীর্ষ পদের লড়াই সম্পন্ন হয়েছে।

নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাঁর বিপরীতে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মাঠে ছিলেন কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৪০ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫টি ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেন, অন্যদিকে অলি আহমদ পান ৮৮টি ভোট।

ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জয়ী ঘোষণা করেন এবং গতকাল সন্ধ্যায় এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশিত হয়।


নির্বাচিত

আজ সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির শপথ, পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় শপথ গ্রহণ করবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বঙ্গভবনের দরবার হলে সন্ধ্যা ৭টায় নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে তিনি লাভ করেন ২৫৫টি ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮টি ভোট। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোটের এই ফলাফল ঘোষণা করেন।

ফলাফল ঘোষণার পরপরই নির্বাচন কমিশন (ইসি) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, "রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ২৭ নম্বর আইন) এর ধারা ১১ অনুসারে নির্বাচনী কর্তা ও নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণা মোতাবেক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পিতা- মির্জা রুহুল আমিন, গ্রাম-কালিবাড়ী, ডাকঘর-ঠাকুরগাঁও ৫১০০, ঠাকুরগাঁও সদর, ঠাকুরগাঁও পৌরসভা, ঠাকুরগাঁওকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা, ১৯৯১-এর বিধি ১২ (৬) অনুযায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মর্মে ঘোষণা করা হলো।"

শপথের বিষয়ে আইনি ব্যাখ্যার প্রেক্ষিতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (মতামত) এ এ আউয়াল জানিয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন। উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর রাষ্ট্রপতি পদটি শূন্য হয় এবং সেই সময় থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এবং ৬ জন সদস্য ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তনের পর এটিই ছিল সংসদ কক্ষে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দ্বিতীয় ঘটনা।

নির্বাচনে মির্জা ফখরুল জয়ী হওয়ার ঘোষণা আসার সাথে সাথেই সংসদ নেতা তারেক রহমান তাঁকে গোলাপ ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা করতালির মাধ্যমে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানান। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ মির্জা ফখরুলের আসনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কোলাকুলি ও সৌজন্য বিনিময় করেন। পরে সংসদ নেতা তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকেও পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করতে দেখা যায়।

গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী সরকারি দলের বিপুল সংখ্যাধিক্য থাকায় বিএনপির প্রার্থীর জয় আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল, তবুও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকায় নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণের আয়োজন করে। আজ শুক্রবার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হবেন।


নির্বাচিত

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত

* শপথ আজ
জাতীয় সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। ভোটগ্রহণ শুরু হয় দুপুর ২টায় এবং শেষ হয় বিকেল ৫টায়। পরে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার মাধ্যমে সংসদীয় ভোটে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হলো।

নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন দুইজন— বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট সমর্থিত এলডিপি প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তাদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট এবং কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ৮৮ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন, যাদের প্রত্যেকেই সংসদ সদস্য। তাদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩৪৩ জন।

এর আগে সবশেষ ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফেরার পর আয়োজন হয়েছিল এ নির্বাচন। এরপর আরও আটবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলেও ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নে একক প্রার্থী থাকায় সেগুলোতে ভোট হয়নি।

ফলে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হতে ৭৮ বছর বয়সি মির্জা ফখরুলের আর কোনো বাধা রইল না। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।

রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার আগে বিএনপি মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন মির্জা ফখরুল। এছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব তিনি পালন করছিলেন। তবে এরই মধ্যে তিনি এই পদ দুটি ছেড়েছেন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট দিতে মির্জা ফখরুল নিজে সংসদে উপস্থিত হন।

ভোটগ্রহণ শুরুর পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ব্যালট বাক্সের সামনে উপস্থিত হন মির্জা ফখরুল। তারেক রহমানের পর নিজের ভোট দেন তিনি।

তারপর একে একে ভোট দেন অন্য সংসদ সদস্যরা। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেবল সংসদ সদস্যরাই ভোট দিতে পারেন।

ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় রাষ্ট্রপতি পদে এই দলের প্রার্থীর বিজয়ী হওয়াটা প্রায় নিশ্চিতই ছিল।

চট্টগ্রাম-৪ আসন শূন্য থাকায় ৩৫০ আসনের সংসদে বর্তমানে সদস্য রয়েছেন ৩৪৯ জন। এর মধ্যে বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলোর সংসদ সদস্য ২৫০ জন। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদ সদস্য মোট ৯০ জন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রয়েছেন আটজন, ইসলামী আন্দোলনের একজন।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, মোট ৩৪৩ জন সংসদ সদস্য ভোট দেন। ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ সংসদ সদস্য না হওয়ায় ভোট দেওয়ার সুযোগ তিনি পাননি। বিএনপির হয়ে বেশ কয়েকটি সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী এই রাজনীতিক বর্তমানে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন হলো।

১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। সেবার বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

এরপর বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ, ইয়াজউদ্দীন আহম্মেদ, জিল্লুর রহমান, মো. আবদুল হামিদ, মো. সাহাবুদ্দিনের বেলায় বিরোধী দলের কোনো প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তারা।

সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল শপথ নিয়েছিলেন। সেই হিসাবে তার মেয়াদ ছিল ২০২৮ সালের ২৩ পর্যন্ত।

কিন্তু ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পরিস্থিতি যায় পাল্টে। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে সাহাবুদ্দিন এই পদে অধিষ্ঠিত থাকলেও ছিলেন ব্যাপক চাপে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পাঁচ মাসের মাথায় গত ২৪ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজন পড়ে।

এক নজরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলায় জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

ছাত্রাবস্থায় ১৯৬০-এর দশকে পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টির ছাত্র সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে (ইপিএসইউ) যোগ দেন এবং সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এসএম হল ইউনিটের মহাসচিব নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। ১৯৬৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানকালে তিনি সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি হন। রাজনৈতিক কারণে তাকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানো হয়।

মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (শিক্ষা ক্যাডার) সদস্য হিসেবে ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর বেশ কয়েকটি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেছেন।

১৯৮৬ সালে তিনি সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯০-এর দশকের গোড়ার দিকে দেশব্যাপী এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় মির্জা ফখরুল বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়।

২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির ৫ম জাতীয় কাউন্সিলে মির্জা ফখরুলকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মনোনীত করা হয়। এরপর ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে পাঁচ বছর দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-০১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০১ ও ২০২৬ সালের নির্বাচনেও একই আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি বগুড়া-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও শপথ গ্রহণ করেননি।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মির্জা ফখরুল। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। এই দম্পতির দুই মেয়ে মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। তিনি ঠাকুরগাঁও নির্বাচনী এলাকা থেকে বেশ কয়েকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং বাংলাদেশ সরকারের কৃষিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।


নির্বাচিত

রাজস্ব গোয়েন্দা সেলে প্রথম নারী প্রধান, এনবিআরে বড় রদবদল

সেলিনা সুলতানা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল আনা হয়েছে। সংস্থাটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন নারী কর্মকর্তাকে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। নবনিযুক্ত এই কর্মকর্তা হলেন কর অঞ্চল-৪-এর কমিশনার সেলিনা সুলতানা। একই সঙ্গে পরিবর্তন আনা হয়েছে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পদেও।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক প্রজ্ঞাপনে এনবিআরের মোট ২২ জন কর কমিশনারের দপ্তর বদল করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষায়িত ইউনিটের আদলে গঠিত এই সিআইসি ও এনবিআরের বিশেষায়িত গোয়েন্দা শাখা মূলত আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস সংক্রান্ত নানা অপরাধ এবং ফাঁকির ঘটনা তদন্ত করে থাকে।

নতুন বদলির আদেশ অনুযায়ী, সিআইসির বিদায়ী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রকিবকে কর অঞ্চল-৮-এ পদায়ন করা হয়েছে।

কর অঞ্চল-৪-এর কমিশনার সেলিনা সুলতানাকে সিআইসির প্রধান করা হয়েছে। আয়কর গোয়েন্দার মহাপরিচালক ড. লুৎফুন্নাহার বেগমকে পাঠানো হয়েছে কর অঞ্চল-১১-এ।

কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মহিদুল হাসানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আয়কর গোয়েন্দার মহাপরিচালক হিসেবে। অন্যান্য রদবদলের মধ্যে কবির উদ্দিন মোল্লাকে কর অঞ্চল-৪, শহিদুল ইসলামকে কর আপিল অঞ্চল-৩ এবং নাজমা পারভীনকে কেন্দ্রীয় কর জরিপ অঞ্চলে পদায়ন করা হয়েছে।

দপ্তর বদলের পাশাপাশি পৃথক একটি আদেশের মাধ্যমে ১২ জন অতিরিক্ত কর কমিশনারকে চলতি দায়িত্বে পদোন্নতি দিয়ে কর কমিশনার পদে উন্নীত করা হয়েছে।

পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন— ড. নুরুল আমিন, মাহবুবুল মোর্শেদ, মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ নাঈমুর রসুল, এজেডএম নূরুজ্জামান, মো. মনিরুজ্জামান, আশরাফুল ইসলাম, সালেহীন সিরাজ, মোহাম্মদ শাহ আলম, মোসাদ্দেক হুসেন, মির্জা মোহাম্মদ মামুন সাদাত এবং দুলাল চন্দ্র পান্ডে। আদেশের পরপরই পদোন্নতিপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তার অনুকূলে স্ব-স্ব দপ্তর বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

‘পারস্পরিক আস্থা’ অর্জনের পর প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর: উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির । ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, তাড়াহুড়ো করে নয়; বরং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, কূটনৈতিক আলাপ-আলোচনা এবং সম্মানজনক আমন্ত্রণ প্রস্তাবের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে।

তিনি জানান, ‘আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে গুঞ্জন থাকলেও সুনির্দিষ্ট জাতীয় স্বার্থ ও ঐকমত্য ছাড়া বাংলাদেশ এই মুহূর্তে কোনো তাড়াহুড়ো না করার নীতি গ্রহণ করেছে।’

গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবনে গণমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) হুমায়ুন কবির এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, নতুন আন্তর্জাতিক জোটের সমীকরণ, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক, মালয়েশিয়ায় বন্ধ থাকা শ্রমবাজার চালু, পররাষ্ট্রনীতির মূল অগ্রাধিকারগুলোর অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রধানমন্ত্রীর সফর সংক্রান্ত খবরগুলোকে জল্পনা-কল্পনা আখ্যা দিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরগুলো ভিত্তিহীন ও অনুমাননির্ভর। দু’দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের শীর্ষ পর্যায়ের সফরের বিষয়টি ভারতের বর্তমান নেতৃত্বের মাইন্ডসেট (মানসিকতা) বা দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করছে। দেড় হাজারের বেশি মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে সংঘটিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বাস্তবতাকে প্রতিবেশী দেশকে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত সরকারের সাথে ভারত কী ধরনের সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করতে চায়— তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করে শীর্ষ সফর করার কোনো যুক্তি নেই। সুনির্দিষ্ট বিষয়ে উভয় দেশের ঐকমত্য এবং সম্মানজনক আমন্ত্রণ প্রস্তাবের ভিত্তিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হওয়া ছাড়া আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা অনেকটা ক্ষীণ।’

বাংলাদেশের আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামিদের ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বা প্রচারমাধ্যমে স্পেস দেওয়ার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে দেড় হাজারের বেশি মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর অপরাধী হিসেবে ভারতে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নেওয়া, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনাকে সেখানে রাজনৈতিক কিংবা মিডিয়াতে কথা বলার সুযোগ দেওয়া ভারতের গণতান্ত্রিক শিষ্টাচার পরিপন্থি।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, ‘ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যেকোনো অস্থিতিশীল তৎপরতা চালানো কিংবা দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, সন্ত্রাসী বা খুনিকে স্পেস দেওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী দিল্লি এটিকে কোনোভাবেই যৌক্তিক প্রমাণ করতে পারে না। সেইসাথে তা কোনো অবস্থাতেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অজুহাতে জাস্টিফাই করা যায় না। এ বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় ও আন্তর্জাতিক আইনি দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকার ইতোমধ্যে নয়াদিল্লির কাছে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভবিষ্যতে যেকোনো বাংলাদেশ বিরোধী অপতৎপরতা বন্ধে কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে।’


নির্বাচিত

গ্যাস সংকটে স্তব্ধ শিল্পাঞ্চল, থমকে গেছে অর্থনীতি ও কৃষি

* এলএনজি ও গ্যাস সরবরাহে বিপর্যয় * শিল্পাঞ্চলগুলোতে উৎপাদনে ধস, বিকল্প ব্যয়ের চাপ * শ্রমখাতে অচলাবস্থা, ওভারটাইম বন্ধ, ছাঁটাইয়ের শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

জ্বালানি কাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি ভঙ্গুরতা, আমদানি করা এলএনজি সরবরাহে নজিরবিহীন বিপর্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল পৌঁছাতে ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এক গভীর সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ থেকে মাধবদী এবং ভালুকা থেকে সাভার-আশুলিয়া—দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে উৎপাদনের চাকা কার্যত থমকে গেছে। প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও কাঁচামালের অভাবে দেশের ৭টি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানার ৬টিরই উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া কৃষি অর্থনীতিকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। সামনে রোপা আমন ও আসন্ন রবি মৌসুমে সারের তীব্র ঘাটতির শঙ্কায় কৃষক যখন দিগ্বিদিক শূন্য, তখন শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিকদের সাময়িক ছুটি (লে-অফ), কারখানা বন্ধ ও ছাঁটাইয়ের খাঁড়া ঝুলছে। বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদামতো অর্ডারের সময়সীমা (লিড টাইম) ভঙ্গ হওয়ায় বাংলাদেশের পোশাক খাতের ওপর আন্তর্জাতিক আস্থা বিনষ্ট হচ্ছে, যা জাতীয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও মূল্যস্ফীতিতে এক নতুন ধাক্কা দিতে যাচ্ছে।

কক্সবাজারের মহেশখালীতে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি এবং দেশীয় সামিট গ্রুপের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩০ শতাংশ জোগান দিয়ে থাকে। এর মধ্যে জুলাইয়ের ২১ তারিখে অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে সামিটের টার্মিনাল মেরামত করে চালু করার পাশাপাশি এক্সিলারেট আংশিক সরবরাহ শুরু করলেও, নতুন কার্গোর চরম সংকট দেখা দেয়। পেট্রোবাংলা এবং তাদের অধীনস্থ রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) কম খরচে এলএনজি ক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত দরপত্রের বদলে ‘সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে’ ৪টি কার্গোর বুকিং দিয়েছিল। তবে চুক্তিগত ও অর্থায়ন সংক্রান্ত জটিলতায় এই আগস্ট মাসে নির্ধারিত কার্গোগুলোর একটিও বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়নি। ফলে মজুত খালি হয়ে গত বুধবার বিকেল ৩টায় এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শতভাগ শূন্যে নেমে আসে।

পরিসংখ্যান বলছে, গ্যাসের দৈনিক জাতীয় চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট আর স্বাভাবিক গড় সরবরাহ ২৭০ কোটি ঘনফুট। কিন্তু বর্তমানে মোট সরবরাহ কমে মাত্র ২১৮ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। এছাড়া আমদানি এলএনজির জোগান স্বাভাবিক ১০৫ কোটি ঘনফুট থেকে কমে ৫৫ কোটি ঘনফুটে ঠেকেছে। এই ১৫২ কোটি ঘনফুটের বিশাল ঘাটতি সামাল দিতে পেট্রোবাংলা বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনকে ‘অগ্রাধিকার’ হিসেবে ঘোষণা করে বরাদ্দ পুনর্বিন্যাস করে। কিন্তু তাতেও কোনো খাতই পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছে না, অন্যদিকে শিল্পকারখানায় সরবরাহ শূন্যের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি খাতের মূল চালিকাশক্তি হলো তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, ডাইং-প্রিন্টিং, স্পিনিং, সিরামিক, মেলামাইন, ইস্পাত ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য খাত। এই খাতগুলো পরিচালনার জন্য গ্যাসে ন্যূনতম ৭ থেকে ১৫ পিএসআই চাপের প্রয়োজন হলেও গত এক সপ্তাহে অধিকাংশ শিল্পাঞ্চলে তা ০ থেকে ২.৫ পিএসআই-এর মধ্যে ওঠানামা করছে।

গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক, গাছা, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, সফিপুর ও চন্দ্রা এলাকায় চার শতাধিক গ্যাসনির্ভর কারখানা রয়েছে। বিজিএমইএর তথ্যমতে, এ অঞ্চলে টেক্সটাইল, ডাইং ও ওভেন ইউনিটগুলোর প্রায় শতভাগ উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্প্যারো অ্যাপারেলসের মতো বৃহৎ কারখানায় প্রেসিং মেশিন চালানোর মতো গ্যাসের চাপ না থাকায় কর্মীরা হাতে ডেনিম প্রেসিং করছেন, যাতে ফিনিishing প্রক্রিয়ার গতি চারগুণ কমে গেছে। সাদমা গ্রুপ ও ডিভাইন গ্রুপের বৃহৎ ডাইং ইউনিটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারখানা সচল রাখতে আমদানি করা ডিজেল দিয়ে জেনারেটর চালানোয় ডাইং ও কেমিক্যাল ট্রিটমেন্টে ইউনিটপ্রতি উৎপাদন ব্যয় প্রায় ৩০-৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের কেন্দ্রবিন্দু কাঠগড়া, জামগড়া এবং ডিইপিজেড সংলগ্ন কারখানাগুলোতেও উৎপাদন বিপর্যয় নেমে এসেছে। এ আর ওয়েট প্রসেসিং কারখানার ড্রাই প্রসেস, ওয়াশিং ও ফিনিশিং সেকশনের ৮০-৯০টি মেশিনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই বন্ধ। দিনে ৫০ হাজার পিস ক্যাপাসিটির স্থানে বাইরে থেকে বাসে করে আনা সিএনজি দিয়ে মাত্র ১৫-২০ হাজার পিস কাজ চালানো হচ্ছে, যা বাবদ প্রতি ঘণ্টায় অতিরিক্ত ৩০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। পাকিজা গ্রুপের বৃহৎ টেক্সটাইল মিল গ্যাসের অভাবে অর্ধমাসের বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ। রিং শাইন টেক্সটাইলের প্রতিদিন ১১ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে, কারণ তাদের ৯০ টন ক্ষমতার কারখানা মাত্র ২ টন সুতা উৎপাদনে সক্ষম হচ্ছে। অন্যদিকে স্টার স্পিনিং বিকল্প ব্যাটারি ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরও সক্ষমতার মাত্র ৪০ শতাংশ উৎপাদন করতে পারছে, যাতে প্রতি পাউন্ড সুতায় ১৪-১৫ টাকা লোকসান হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের বিকেএমইএর প্রধান কার্যালয় সংলগ্ন বিসিক এবং ফতুল্লার ডাইং শিল্পগুলো মারাত্মক সংকটে পড়েছে। প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ থাকায় বুনন করা কাপড়ে রঙ ও ফিনিশিং ছোঁয়া দেওয়া যাচ্ছে না। ফতুল্লার অন্তত দেড় শতাধিক ডাইং ও ফিনিশিং ইউনিট পুরোপুরি বন্ধ থাকায় পোশাক কারখানাগুলোতে ট্রিমস ও কাপড়ের জোগান বন্ধ হয়ে পড়েছে।

‘কাপড়ের রাজধানী’ খ্যাত নরসিংদীর চৌয়ালা, পলাশ ও মাধবদীতে স্থানীয় বস্ত্র চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ উৎপাদনকারী টেক্সটাইল ও ডাইং মিল অবস্থিত। জেলাটির ১৭টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ১৩টিই পুরোপুরি বন্ধ। গ্যাস সরবরাহ শূন্যে নামায় প্রায় ৩০০টি ছোট ও মাঝারি টেক্সটাইল মিল উৎপাদন স্থগিত করেছে। তাসফিয়া ডাইংয়ের মতো কারখানায় প্রসেসিং চলাকালীন হঠাৎ গ্যাস চলে যাওয়ায় ভিজানো শত শত শাড়ি ও থান কাপড় মেশিনে পচে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যেখানে কেবল এক ব্যাচ কাপড় নষ্ট হয়েই ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে।

ময়মনসিংহের ভালুকা ও ত্রিশালের সিরামিক ও টেক্সটাইল বেল্টে তিতাসের সরবরাহ লাইনে গ্যাসের চাপ ১৪০ পিএসআই-এর জায়গায় নেমে এসেছে ৩০ পিএসআই-এ। দুপুরের দিকে গ্যাসের চাপ সম্পূর্ণ শূন্যে নেমে আসায় মাহাদি সোয়েটার্স, সুলতানা সোয়েটার্স, লিজ ফ্যাশন, বিএসপি স্পিনিং এবং ত্রিশাল টেক্সটাইলসহ অন্তত ২০টি কারখানা মাঝপথেই শ্রমিকদের ছুটি দিতে বাধ্য হয়। এক্সিলেন্ট সিরামিকসের ফার্নেস ঠান্ডা হয়ে যাওয়ায় কোটি কোটি টাকার কাঁচামাল নষ্ট হয়েছে। সিরামিকের চুল্লি একবার বন্ধ হলে তা পুনরায় কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রায় নিতে বিপুল জ্বালানি ও সময়ের অপচয় হয়।

শিল্পখাতের এই অচলাবস্থার সরাসরি শিকার হচ্ছেন লক্ষ লক্ষ শ্রমিক। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কারখানা মালিকদের মাসের নির্দিষ্ট সময়ে শ্রমিকদের বেতন, ওভারটাইম এবং বোনাসের টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। পোশাক ও টেক্সটাইল শ্রমিকদের আয়ের একটি বড় অংশ আসে ওভারটাইম থেকে। গত এক মাস ধরে ওভারটাইম পুরোপুরি বন্ধ থাকায় এবং বাজারে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় তারা জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। লিটল স্টার স্পিনিংয়ের উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি আর ১০-১৫ দিন চললে তারা অন্তত ৩০ শতাংশ শ্রমিক ছাঁটাই করতে বাধ্য হবেন। আশুলিয়া ও গাজীপুরের অনেক অনিবন্ধিত সাব-কনট্রাক্টিং কারখানা ইতোমধ্যেই নোটিশ ছাড়া শ্রমিকদের অব্যাহতি দিয়েছে। শিল্প পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী, নরসিংদী, গাজীপুর ও আশুলিয়ায় শ্রম অসন্তোষের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বেতন না মিললে শিল্পাঞ্চলগুলোতে ব্যাপক সড়ক অবরোধ ও আন্দোলনের আলামত স্পষ্ট।

শিল্পের পাশাপাশি এই সংকট দেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর বড় আঘাত হেনেছে। বিসিআইসির কারখানাগুলোর মোট উৎপাদন ক্ষমতা দৈনিক ৭,১০০ টন হলেও বর্তমানে কেবল ঘোড়াশাল পলাশ কারখানা থেকে ২,৮০০ টন ইউরিয়া উৎপাদিত হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবমতে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে মোট সারের চাহিদা ৬৭ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ টন, যার সিংহভাগ প্রয়োজন হবে আসন্ন রবি ও আমন মৌসুমে। উত্তরাঞ্চলে আমন ধানের রোপণ শেষ পর্যায়ে এবং জমিতে সার দেওয়ার উপযুক্ত সময় হলেও কৃষকেরা ইউরিয়া, এমওপি ও টিএসপি সারের সুষম সরবরাহ পাচ্ছেন না। খুচরা বাজারে দ্বিগুণ দামে সার বিক্রি হওয়ার অভিযোগ উঠছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম মনে করেন, নিজস্ব কারখানাগুলো বন্ধ রেখে শত শত কোটি ডলার খরচ করে সার আমদানি করা চূড়ান্ত অদূরদর্শিতা। বিসিআইসি একসময় চাহিদার ৮০ শতাংশ ইউরিয়া তৈরি করলেও তা এখন ২০ শতাংশে নেমেছে। বৈশ্বিক সংকটকালে বিশ্ববাজারের ওপর শতভাগ ভরসা না রেখে জ্বালানির যৌক্তিক বিতরণ করে অবিলম্বে নিজস্ব সার কারখানাগুলো চালুর ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশ সিরামিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ) সভাপতি মঈনুল ইসলামও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, হবিগঞ্জ ও ভোলা ছাড়া সারা দেশের সিরামিক খাত স্তব্ধ হয়ে আছে। এভাবে চললে ব্যাংক ঋণ বা শ্রমিকের বেতন দেওয়া দূরে থাক, কোম্পানিগুলো দেউলিয়া হয়ে যাবে।


নির্বাচিত

বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিদ্যমান সংবিধানকে স্বীকৃতি জানিয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যমান সংবিধান মেনে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় বিরোধী দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন বলেন, বিদ্যমান সংবিধান মেনে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় বিরোধী দলকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিরোধী দল বিদ্যমান সংবিধানকে স্বীকৃতি জানিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অলি আহমেদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এ সময় ৭০ অনুচ্ছেদ মেনে নিয়ে বিরোধী দলের নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তারা যেহেতু নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তাহলে বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী তারা যে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে শপথ নিয়েছেন, সেটি আর টেকে না।

দলের মহাসচিব কে হবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি দলের স্থায়ী কমিটি দেখবে। এটি দলীয় প্রধানের এখতিয়ার।


নির্বাচিত

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে অ্যাটর্নি জেনারেলের অভিনন্দন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক অভিনন্দন বার্তায় অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও দেশপ্রেম রাষ্ট্রপতির মহান দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে দেশের সংবিধান, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার আরও সুদৃঢ় ও সমুন্নত হবে, এটাই প্রত্যাশা।

বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে তিনি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের কল্যাণে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রতি আন্তরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সংসদ সদস্যদের ভোটে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। আর ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।


নির্বাচিত

নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ২৩তম নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনে সব আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে আড়ম্বরপূর্ণ এই অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সংবিধানের প্রাসঙ্গিক বিধান এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার শপথ পরিচালনা করতে পারবেন কিনা, সে বিষয়ে স্পষ্ট আইনি ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতামত প্রদানকারী কর্মকর্তা এবং যুগ্ম সচিব (মতামত) এ এ আউয়াল নিশ্চিত করেন, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথ বাক্য পাঠ করালে আইনের কোনো প্রকার ব্যত্যয় বা জটিলতা সৃষ্টি হবে না।

এর আগে গত ২৪ জুলাই সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করায় সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই পদের কার্যভার গ্রহণ করেন। অন্যদিকে সংসদ পরিচালনায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের দায়িত্ব নেন।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদের নির্ধারিত কক্ষে ভোটাভুটি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ফলাফল ঘোষিত হয়। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় শপথ গ্রহণানুষ্ঠান সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন সংক্রান্ত বিস্তারিত ও সরকারি প্রজ্ঞাপনের রূপরেখা পেতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুসরণ করতে পারেন।


নির্বাচিত

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ১১ ধারা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধিমালা, ১৯৯১-এর ১২(৬) বিধি অনুযায়ী নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ঘোষণার ভিত্তিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত ঘোষণা করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা হিসেবে মির্জা রুহুল আমিনের নাম এবং ঠিকানা হিসেবে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঠাকুরগাঁও পৌরসভার কালিবাড়ী গ্রামের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৩৪৩ ভোটের মধ্যে ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম পেয়েছেন ৮৮ ভোট।


নির্বাচিত

নতুন রাষ্ট্রপতিকে চীন ও যুক্তরাজ্যের অভিনন্দন

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাস ও ব্রিটিশ হাই কমিশন। ফলাফল ঘোষণার পরপরই বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুই দেশের পক্ষ থেকে এই শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো হয়।

চীনা দূতাবাসের অভিনন্দন বার্তায় বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মহামান্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে তারা আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। বেইজিং জানিয়েছে, চীন-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে তারা অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং নতুন যুগে দুই দেশের অভিন্ন ভবিষ্যৎ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে তারা প্রস্তুত।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ হাই কমিশনের বার্তায় নতুন রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানিয়ে উল্লেখ করা হয় যে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘস্থায়ী ও ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে তারা রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছে।

উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদে আয়োজিত নির্বাচনের ভোট গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ফলাফল প্রকাশ করেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন সংক্রান্ত অফিসিয়াল আপডেট ও তথ্য জানতে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-এর পোর্টালে চোখ রাখতে পারেন।


নির্বাচিত

জানা গেল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৬ এমপির ভোট না দেওয়ার কারণ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে তিনি ২৫৫টি ভোট পেয়েছেন এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮টি ভোট। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) নির্বাচন কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোট গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।

এই নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে থাকা ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৬ জন এমপি ভোটদানে বিরত ছিলেন। তাঁদের অনুপস্থিতি ও ভোট না দেওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ ছিল বলে জানা যায়।

শারীরিক অসুস্থতা: ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস, চট্টগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা এবং কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ওসমান ফারুক অসুস্থতার কারণে ভোট দিতে আসতে পারেননি এবং এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারকে অবহিত করেছিলেন।

বিদেশে অবস্থান: খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য আবুল হাসান বিদেশে অবস্থান করায় ভোটে অংশ নিতে পারেননি বলে তাঁর দলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

রাজনীতি ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত: সাতক্ষীরা-৪ আসনের বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ভোট দিতে আসেননি। রুমিন ফারহানা গণমাধ্যমকে জানান যে, তাঁর দৃষ্টিতে এই নির্বাচনটি অর্থহীন ও প্রহসনের, তাই তিনি এতে অংশ নেননি।

এছাড়া, বিএনপির আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য পদ আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৩৪৯ জনে। উল্লেখ্য, ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ জুলাই সনদের সিদ্ধান্ত বিচ্যুতি নিয়ে অসন্তোষ জানালেও তবে পরে ইসলামী আন্দোলনের এই সংসদ সদস্য তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বলে জানা গেছে।


নির্বাচিত

banner close