রোববার, ২১ জুন ২০২৬
৭ আষাঢ় ১৪৩৩

নিভৃতে মানুষের কল্যাণে কাজ করা ব্যক্তিদের খুঁজে পুরস্কৃত করুন: প্রধানমন্ত্রী

বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৫ মার্চ, ২০২৪ ১৪:৩৪

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নীরবে নিভৃতে থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়া নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে পুরস্কারে সম্মানিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন, যাতে অন্যরা অনুপ্রাণিত হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদেরকে আহ্বান জানাচ্ছি যারা বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে ও অন্যান্য এলাকায় নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করে চলেছেন, তাদের খুঁজে বের করে পুরষ্কার দিয়ে সম্মানিত করার জন্য। তাদের জন্য নয়, বরং জনগণের কল্যাণের জন্য। কারণ, তারা কখনই সামনে আসেন না বা আসতে চান না। নিজস্ব উদ্যোগে বা স্ব-প্রণোদিত হয়ে যারা মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন অবদান রেখে যাচ্ছেন তাদেরকে পুরস্কৃত করতে পারাটাই সবচেয়ে বড় কথা।’

প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে জাতীয় পর্যায়ে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় বেসামরিক পুরস্কার ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৪’ প্রদানকালে প্রধান অতিথি’র ভাষণে একথা বলেন।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য যারা স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন তাদের সবাইকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এই পুরস্কার প্রাপ্তির ফলে মানুষের জন্য কাজ করা ও দেশের জন্য কাজ করার ক্ষেত্রে আরও অনেকে অনুপ্রাণিত হবেন এবং দেশের কল্যাণে কাজ করবেন, সেটাই আমরা আশা করি।’

সরকারপ্রধান তাঁর ভাষণে বিগত ১৫ বছর দেশ শাসনে আওয়ামী লীগ সরকারের সাফল্য তুলে ধরে বলেন, “অন্তত এইটুকু দাবি করতে পারি বাংলাদেশের সেই হারানো গৌরব আমরা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর যে মর্যাদা বাংলাদেশ অর্জন করেছিল এবং ‘৭৫-এ জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর যা হারিয়ে যায়।”

তিনি বলেন, “জাতির পিতা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে দেশকে স্বল্পোন্নত দেশের পর্যায় রেখে যান। সেখান থেকে আমরা আরো এক ধাপ উত্তরণ ঘটিয়ে দেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা এনে দিতে পেরেছি। ২০২৬ সাল থেকে যা কার্যকর হবে। আজ জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিলে স্থান পেয়েছে। ‘জয় বাংলা’ আবার ফিরে এসে এখন আমাদের জাতীয় স্লোগানে পরিণত হয়েছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতিহাস বিকৃতির যত চক্রান্তই হোক না কেন আজকের নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে চায়, বুঝতে চায়। সেই প্রেরণা নিয়েই সামনের দিকে চলতে চায় এবং জীবনকে গড়ে তুলতে চায়। আর এটাই আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় আশার বাণী।’

এর আগে গত ১৫ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বছরের স্বাধীনতা পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।

পুরস্কারপ্রাপ্তরা হচ্ছেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে কাজী আব্দুস সাত্তার বীর প্রতীক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফ্লাইট সার্জেন্ট মো. ফজলুল হক (মরণোত্তর) ও বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবু নঈম মো. নজিব উদ্দীন খাঁন (খুররম) (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ড. মোবারক আহমদ খান, চিকিৎসা বিদ্যায় ডা. হরিশংকর দাশ, সংস্কৃতিতে মোহাম্মদ রফিক উজ জামান, ক্রীড়ায় ফিরোজা খাতুন, সমাজ বা জনসেবায় অরন্য চিরান, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মোল্লা ওবায়েদুল্লাহ বাকী ও এসএম আব্রাহাম লিংকন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন পুরস্কার বিতরণী পর্বটি সঞ্চালনা করেন এবং পুরস্কার বিজয়ীদের সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্ত তুলে ধরেন। স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৪ বিজয়ীদের পক্ষে মোহাম্মদ রফিক উজ জামান অনুষ্ঠানে নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, উর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে দেশবরেণ্য কবি-সাহিত্যিক লেখকসহ দেশের বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিশেষ আমন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় সফরে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমান সরকার গঠনের পর এটিই তাঁর প্রথম কোনো বৈদেশিক সফর। আজ রবিবার দুপুর আড়াইটায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

সফরসূচি অনুযায়ী, মালয়েশিয়া সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি চীন ভ্রমণে যাবেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর আমন্ত্রণে তিনি সেখানে অবস্থান করবেন। দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে আগামী শুক্রবার রাতে তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ দুই দেশ সফরের প্রাক্কালে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে সফরের খুঁটিনাটি ও লক্ষ্য নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।


নির্বাচিত

দেশজুড়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ‘প্রাইমারি হেলথ নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলার বিশাল এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই পরিকল্পনার আওতায় আগামী চার বছরের মধ্যে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী এবং ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে। রোববার (২১ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ড. হায়দার জানান, নতুন এই ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে দুইজন করে মিডওয়াইফ নিযুক্ত করা হবে। এছাড়া বর্তমানে পরিচালিত ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিককে আধুনিক ‘স্বাস্থ্য হাবে’ রূপান্তর করে এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে কমিউনিটি ক্লিনিক নামে আলাদা কোনো ব্যবস্থা থাকবে না। এই পুরো কার্যক্রমের পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রথম পর্যায়ে খুলনা, নরসিংদী, সিরাজগঞ্জ, নোয়াখালী ও বগুড়া জেলাকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আর্থিক দিক নিয়ে তিনি জানান, আগামী একনেক সভায় ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক’ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ১৫ মিলিয়ন ডলার এডিবি প্রদান করবে এবং অবশিষ্ট ৩০ মিলিয়ন ডলার সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশের সকল নাগরিককে ‘ই-হেলথ কার্ড’-এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যার প্রাথমিক কার্যক্রমও ওই পাঁচটি জেলা থেকেই শুরু হবে।

সংবাদ সম্মেলনে হামের টিকা কার্যক্রম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “‘অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতির জন্যই হামের টিকা দেওয়া হয়নি। এটা সত্যি এবং পরিষ্কার। এর জন্য আলাদা করে তদন্ত করার প্রয়োজন নেই’।” প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবাকে আরও গণমুখী ও আধুনিক করতেই সরকার এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

খুলছে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দ্বার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ২১ জুন, ২০২৬ ১২:০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে আজ রোববার বিকেলে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি আগামীকাল সোমবার চীন সফরে যাবেন। আওয়ামী সরকার ক্ষমতাচ্যুতের পর নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশর জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীনে এ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ সফরে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দ্বার উন্মোচনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিএনপির সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়ায় দুদিনের সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে শ্রমবাজার, আসিয়ানে যোগদান ও রোহিঙ্গা ইস্যু। চার দিনের চীন সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও বিনিয়োগসহ বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, জ্বালানি খাতের উন্নয়ন, মোংলা বন্দরের সুবিধা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন, যৌথ মানবসম্পদ উন্নয়ন সহযোগিতা পরিকল্পনা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা সহযোগিতা ও বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন।

দুই দেশে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে অন্তত দুই ডজন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গতকাল শনিবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে সফরের বিস্তারিত জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মালয়েশিয়া সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে শ্রমবাজার, রোহিঙ্গা ও আসিয়ানে যোগদান ইস্যু: মালয়েশিয়া সফরের সময় ২২ জুন তারেক রহমান দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন। পরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় বিষয় আলোচনা হবে। আলোচনার ইস্যু হবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং কৃষি, শিক্ষা ও জনযোগাযোগ। এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপন নিয়ে আলোচনা হবে।

পররাষ্ট্রসচিব আরও বলেন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া, আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হবে। এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিবিনিময় আর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে দেশটিতে শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা, প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ, সুনীল অর্থনীতি ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক এবং দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ সই হতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির তালিকায় চতুর্থ দেশ মালয়েশিয়া। দেশটিতে এখন প্রায় আট লাখ বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। কিন্তু নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের পর ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে দেশটির শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করছেন।

মালয়েশিয়ায় পৌঁছে কুয়ালালামপুরে সাংগ্রিলা হোটেলে উঠবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২২ জুন সকাল ৯টায় পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং প্রধান প্রশাসনিক ভবন পেরদানা পুত্রতে যাবেন তিনি। সেখানে দুই দেশের প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক শেষে সমঝোতা স্মারক সই হবে। এরপর দুই দেশের যৌথ সংবাদ সম্মেলন শেষে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন সেরি পেরদানায় যাবেন তারেক রহমান।

চীনে সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে বিনিয়োগ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা, হচ্ছে ১৬ এমওইউ, ৩ চুক্তি: ২২ জুন বেলা ৩টায় মালয়েশিয়া থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চীনের উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। দেশটিতে তার চার দিনের সফরে দুই দেশের মধ্যে ১৬টি সমঝোতা স্মারক এবং ৩টি চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি, চীনে উচ্চমানের বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, জ্বালানি খাতের উন্নয়ন, দুই দেশের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতা, মোংলা বন্দরের সুবিধা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন, যৌথ মানবসম্পদ উন্নয়ন সহযোগিতা পরিকল্পনা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা সহযোগিতা, বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নকে সমর্থন এবং তাজা কাঁঠাল রপ্তানি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হতে যাচ্ছে।

এছাড়া চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা শিনহুয়ার সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাসসের সমঝোতা স্মারক। চায়না মিডিয়া গ্রুপের সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে দেশটির সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা-সংক্রান্ত, মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন-সংক্রান্ত এবং চীনা ভাষা সহযোগিতা-সংক্রান্ত তিনটি চুক্তি হচ্ছে।

চীন থেকে বছরে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নেও চীন অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরে বিনিয়োগ ও অর্থায়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।

২২ জুন বিকেলে কুয়ালালামপুর থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ৯টায় চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের ডালিয়ান ঝুশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে চীনের ডালিয়ান শহরের সাংগ্রিলা হোটেলে উঠবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

২৩ জুন সাংগ্রিলা হোটেলে সকালে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। বিকেলে ডালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ সেশনে অংশ নেবেন তিনি। এরপর চীনের স্টেট কাউন্সিল প্রধানের নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।

২৪ জুন সকাল ১০টায় ডালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ‘সামার দাভোস’ নামে পরিচিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের একটি সভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান। এরপর বেইজিংয়ে ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় যাবেন তিনি।

২৫ জুন সকালে দিয়াওউতাই হোটেলে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তারেক রহমান। সেখানে চেরি গ্রুপের সভাপতি, হান্ডা গ্রুপ ও চীনাটেক্সট করপোরেশনের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিকেলে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানানো হবে। এখানে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি‌।

২৬ জুন রাতে চীনের আইনসভা গ্রেট হল অব দ্য পিপলে যাবেন তারেক রহমান। এরপর বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত ‘পিপলস হিরোজ’ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন তিনি। সেখানে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে বৈঠক করবেন।

শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম সফরের বিস্তারিত সূচি ও লক্ষ্য তুলে ধরেন। সেখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (কূটনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়) এ কে এম শহিদুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধি দলে থাকছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ আরও কয়েকজন।

পররাষ্ট্রসচিব জানান, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া ও চীনের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে। সফরসঙ্গী প্রতিনিধি দল তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে, যার সদস্য সংখ্যা ২৭ থেকে ২৮ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি সই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুইটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হলেও এ সফরে এ সংক্রান্ত কোনো সমঝোতা স্মারক সই হবে না।

সফরের সূচি অনুযায়ী, চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৩ থেকে ২৫ জুন লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নিউ চ্যাম্পিয়নসের ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে (সামার দাভোস ফোরাম) অংশ নেবেন।

চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠেয় ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে (সামার দাভোস ফোরাম) অংশ নেবেন। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ ফোরামে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন। সেখানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হবে।

চীন সফর পর্যালোচনায় থাকবে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র: মালয়েশিয়া ও চীনকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ। এই দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর হলে বেশি বিনিয়োগ আসবে বলে মনে করছেন তিনি।

ফয়েজ আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি যদি চীনে যেতেন, তাহলে নানাজনে নানান কথা বলতে পারতেন। এখন চীনকে আলাদা করে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, চীনের যে গুরুত্ব পাওয়া উচিত, সেটিই দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা যেহেতু এখন একটি ভিন্ন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে আছি, সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী কোন দেশ সফর করছেন, সেটি কারও কারও কাছে একটি ইস্যু। প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের মধ্যে বাংলাদেশের কূটনীতিতে ভারসাম্য এবং স্বকীয়তা বজায় রাখার চেষ্টার কূটনৈতিক বার্তা রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে ভারত বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক ধরনের পর্যালোচনা থাকবে জানিয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কূটনীতিতে বা পররাষ্ট্রনীতিতে আমরা যদি দেখি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যখন ভারত সফর করেন, তখন অন্যান্য দেশও তা পর্যালোচনা করে।’

তাই সতর্ক করে এই অধ্যাপক বলেন, ‘মাথায় রাখতে হবে, এই সফরের মাধ্যমে এমন কোনো বার্তা যেন তৈরি না হয় যে চীনের ওপর আমরা অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি এবং বৃহৎ কোনো শক্তির তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বৃহৎ শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি আমাদের মাথায় রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর হলে উভয় দেশ থেকে বেশি বিনিয়োগ আসবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তবে এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ চীনের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে এমন বার্তা যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর কোন দেশে হবে, এ নিয়ে বেশ জল্পনা ছিল। গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি সফর ভারতে হবে কি না, সে বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনা ছিল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, কোরবানির ঈদের কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রী চীন সফরের আগে মালয়েশিয়া সফরের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। মালয়েশিয়া দিয়ে শুরু করা প্রধানমন্ত্রীর এই সফর চীন ভ্রমণের মাধ্যমে শেষ হবে ২৬ জুন। সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী শুক্রবার রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে।


নির্বাচিত

খেলার পাশাপাশি পড়াশোনা, সংস্কৃতি চর্চা ও উদ্ভাবনী কাজেও পারদর্শী হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিশুদের শুধু খেলাধুলা করলেই চলবে না, এর পাশাপাশি পড়াশোনা, সংস্কৃতি চর্চা ও উদ্ভাবনী কাজেও পারদর্শী হতে হবে। তোমরাই আগামীর ভবিষ্যৎ, তোমাদের হাতেই আগামীদিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে। শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু খেললে চলবে না, লেখাপড়াও করতে হবে। এর পাশাপাশি গান, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, কবিতা আবৃত্তি, কোরআন-কেরাত থেকে শুরু করে নতুন নতুন ইনোভেটিভ কাজেও নিজেদের যুক্ত করতে হবে। তোমরা যদি সব কিছুতে নিজেদের পারদর্শী করতে পারো, তবেই আমরা একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

ক্ষুদে খেলোয়াড়দের দেশের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তোমরা যারা আজ এখানে খেলছো বা গ্যালারিতে বসে আছো, তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। আমরা যারা বড় আছি, আমরা বুড়ো হয়ে যাচ্ছি। বড় হয়ে তোমাদেরই এই দেশ চালাতে হবে এবং আমাদের চেয়েও ভালোভাবে চালাতে হবে।

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিচিতি তুলে ধরতে শিশুদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ক্রিকেট দিয়ে সারাবিশ্ব বাংলাদেশকে চেনে। আগামীতে ফুটবল, সাঁতার, হকি, টেনিসসহ সব ধরনের খেলা দিয়ে বিশ্ব বাংলাদেশকে চিনবে। তোমরাই হবে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর।

শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন অলিম্পিক— এমনটি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু স্থানীয় পর্যায়ে খেলা নয়, অলিম্পিকেও যেন আমরা ভালো ফলাফল করতে পারি সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। সেজন্য আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

খেলাধুলার প্রসারে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই টুর্নামেন্টে গত দেড় মাসে সারাদেশে প্রায় ২২ লাখ শিশু অংশ নিয়েছে। আগামীতে আমরা মাধ্যমিক (সেকেন্ডারি) স্কুলেও এই গেম শুরু করব। এ ছাড়া এ বছর মাধ্যমিক ও আগামী বছর প্রাথমিক পর্যায় থেকে ‘প্রাইম মিনিস্টারস কাপ’ চালু করা হবে। শিশুদের সবুজ মাঠে খেলার সুযোগ করে দিতে নতুন নতুন মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের অধিনায়ক, খেলোয়াড় ও কোচদের হাতে ট্রফি, মেডেল ও প্রাইজমানি তুলে দেন। একইসঙ্গে টুর্নামেন্ট সফল করতে সহযোগিতা করায় সব শিক্ষক ও অভিভাবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

এবারের টুর্নামেন্টে বালক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রানার্সআপ হয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশালের দড়িররামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অন্যদিকে, বালিকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাবনার সাঁথিয়ার জোড়গাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রানার্সআপ হয়েছে ময়মনসিংহের নান্দাইলের আউচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

টুর্নামেন্টের বালক বিভাগে সর্বোচ্চ গোলদাতা (গোল্ডেন বুট) এবং সেরা খেলোয়াড়ের (গোল্ডেন বল) পুরস্কার জিতেছে বরিশাল বাকেরগঞ্জের যথাক্রমে আবু রেদওয়ান ও শাহাদাত ইসলাম। বালিকা বিভাগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন নান্দাইলের পরশমনি এবং সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন পাবনার সাঁথিয়ার মোসাম্মৎ মারিয়া খাতুন।

অনুষ্ঠানে টুর্নামেন্ট পরিচালনায় যুক্ত রেফারি ও ম্যাচ কমিশনারদের হাতেও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় গ্যালারি ভর্তি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

২২ হাজার প্রবাসীর এনআইডি আবেদন বাতিল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিভিন্ন দেশ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পেতে ২২ হাজার প্রবাসীর আবেদন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যথাযথ না হওয়ায় তাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শনিবার (২০ জুন) এনআইডি শাখার কর্মকর্তারা বিষয়টি জানিয়েছেন।

প্রবাসীদের আবেদন সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০২৩ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিবন্ধন আবেদন পড়েছে ৮৯ হাজার ৮৯৭টি।

বায়োমেট্রিক প্রদান করেছেন ৫৩ হাজার ২২৯ জন। তদন্তের পর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে এমন আবেদনের সংখ্যা ২ হাজার ৯৭৮টি। তদন্তের পর অনুমোদন হয়েছে ৪৭ হাজার ১৩২টি আবেদন। বাতিল হয়েছে ২২ হাজার ৩৫২টি আবেদন। সার্ভারে তথ্য আপলোডের অপেক্ষায় রয়েছে ১০ হাজার ১৪১ জনের আবেদন। আপলোড করা হয়েছে ৩৭ হাজার ১৬ জনের আবেদন। এছাড়া আবেদন অনুমোদনের পর এনআইডি প্রিন্ট করা হয়েছে ২২ হাজার ১৮টি। সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে যা বিতরণ চলছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবী ও দুবাই; সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা; যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেষ্টার ও বার্মিংহাম; ইতালির রোম ও মিলান; কুয়েতের কুয়েত সিটি; কাতারের দোহা; মালয়েশিয়ার কুলালামপুর; অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি; কানাডার অটোয়া ও টরেন্টো; জাপানের টোকিও; আমেরিকার নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লসঅ্যাঞ্জেলস; মালদ্বীপের মালে; ওমানের মাসকাট; দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়াসহ মোট ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে ভোটার তালিকা ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলছে। কর্মকর্তারা বলছেন, আবেদন বাতিল হলেও অসুবিধা নেই। পুনরায় আবেদন করা যাবে।

সবচেয়ে বেশি ভোটার আবেদন এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থেকে, ২৩ হাজার ৯৪০টি। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সবচেয়ে কম আবেদন এসেছে, ১২৬টি আবেদন। সৌদি আরবে আবেদন জমা পড়েছে ৬ হাজার ৩৫২টি। যুক্তরাজ্যে ১৭ হাজার ৩০টি। ইতালিতে ৯ হাজার ৩৮টি। কুয়েতে আবেদন জমা পড়েছে ৫ হাজার ৫৭৩টি। কাতারে ৫ হাজার ৪০৬টি। মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৮৩৩টি আবেদন এসেছে। অস্ট্রেলিয়াতে আবেদন জমা পড়েছে ১ হাজার ২০৬টি। কানাডায় ৩ হাজার ২৯৮টি। জাপানে আবেদন জমা পড়েছে ৩০৯টি। যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ হাজার ৮১২টি। মালদ্বীপে ২৯৮টি ও ওমান থেকে আবেদন এসেছে ২ হাজার ২৪৬টি।

প্রবাসীদের চার তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক: বিদেশে বসে ভোটার হওয়ার জন্য অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্র (ফরম-২(ক), মেয়াদ সম্বলিত বাংলাদেশি পাসপোর্ট/মেয়াদহীন পাসপোর্ট/এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যায়ন, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি বাধ্যতামূলকভাবে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কেন্দ্রে (দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট ডেস্কে) জমা দিতে হবে।


নির্বাচিত

মালয়েশিয়ায় ১১৮ বাংলাদেশি আটক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের (জেআইএম) বিশেষ অভিযানে ১৮৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। গত শুক্রবার (১৯ জুন) দিনগত রাতে রাজধানী কুয়ালালামপুরের পুডু মার্কেট এলাকার আশপাশে বিদেশি নাগরিকদের আবাসস্থল লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়।

‘অপস কুতিপ’ নামের এ অভিযানে বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার এবং বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করেন। তবে কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং পরে সবাইকে আটক করা হয়।

ইমিগ্রেশন বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ১২টা ৫ মিনিটে শুরু হওয়া এ অভিযানে কুয়ালালামপুর ফেডারেল টেরিটরি ইমিগ্রেশন বিভাগ, পুত্রাজায়া ও সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগ, রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ (পিডিআরএম), কুয়ালালামপুর সিটি হল (ডিবিকেএল) এবং জাতীয় নিবন্ধন বিভাগের (জেপিএন) মোট ১৩৭ জন কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন।

অভিযান চলাকালে ৩২০ জন বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ১৮৬ জনকে বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে।

আটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন বাংলাদেশি নাগরিক। মোট ১১৮ জন বাংলাদেশি পুরুষকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ২৮ জন ইন্দোনেশীয় (৭ পুরুষ ও ২১ নারী), ২৬ জন মিয়ানমার নাগরিক (১৩ পুরুষ ও ১৩ নারী), ৫ জন ভিয়েতনামি (৩ পুরুষ ও ২ নারী), ৪ জন নেপালি, দুজন ভারতীয়, একজন পাকিস্তানি এবং দুজন চীনা নাগরিককে (১ পুরুষ ও ১ নারী) আটক করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের কেউ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন, আবার কেউ বৈধ ভ্রমণ নথি বা অনুমতিপত্র ছাড়াই দেশটিতে বসবাস করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ধারা ১৫(১)(সি) (অতিরিক্ত সময় অবস্থান) এবং ধারা ৬(১)(সি) (বৈধ নথিপত্র ছাড়া অবস্থান)-এর আওতায় তদন্ত চলছে।

ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আটক ব্যক্তিদের ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।


নির্বাচিত

দেশে খাদ্যশস্যের মজুত ছাড়াল ২০ লাখ ৬০ হাজার টন

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারি গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের মজুত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফ্লোটিং (ভাসমান) মজুতসহ দেশে খাদ্যশস্যের মোট সরকারি মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টন। খাদ্য অধিদপ্তরের দৈনন্দিন খাদ্যশস্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, সরকারি গুদামগুলোতে বর্তমানে প্রধান খাদ্যশস্য চালের মজুত রয়েছে ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৯ মেট্রিক টন। এছাড়া গমের মজুত রয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩১ মেট্রিক টন এবং ধানের মজুত রয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৪ মেট্রিক টন। এর ফলে ফ্লোটিং বা ভাসমান মজুত বাদে মোট মজুতের পরিমাণ ২০ লাখ ৩৮ হাজার ১১৪ মেট্রিক টন। এর সাথে গমের ২০ হাজার ৪৩২ মেট্রিক টন এবং চালের ১ হাজার ৯৬২ মেট্রিক টনের ফ্লোটিং মজুত যুক্ত হয়ে সর্বমোট মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টনে।

উল্লেখ্য, ধানের এই পরিমাণকে চালের আকারে রূপান্তর করেই মোট মজুতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে। চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে দেশব্যাপী বোরো সংগ্রহ অভিযান পুরোদমে চলছে। ১৭ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত সর্বমোট ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন বোরো খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন, সিদ্ধ চাল ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৭ মেট্রিক টন, আতপ চাল ৩১ হাজার ৯৬৮ মেট্রিক টন এবং গম সংগ্রহ করা হয়েছে ৪৯৪ মেট্রিক টন। এক্ষেত্রেও ধানকে চালের আকারে (১০০:৬৫ অনুপাতে) মোট সংগ্রহের হিসাবভুক্ত করা হয়েছে।

১ জুলাই ২০২৫ থেকে ১৭ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে মোট ৮৫ লাখ ৮৩ হাজার ৫১ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে চাল আমদানি হয়েছে ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ১৯৪ টন এবং গম আমদানি হয়েছে ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৭ টন।

আমদানির খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় (জিটুজি ও আন্তর্জাতিক টেন্ডার) মোট ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৮০ টন চাল এবং ৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৮ টন গম রয়েছে।

অন্যদিকে, বেসরকারি খাতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মোট ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ৫৩ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে; যার মধ্যে সিংহভাগই চাল (৬৫ লাখ ৮১ হাজার ৭৬ টন) এবং গম ৭ লাখ ৩৪ হাজার ৭৭ টন। চলতি অর্থবছরে খাদ্য সাহায্য হিসেবে কোনো চাল বা গম আমদানি করা হয়নি।

শুধু গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে দৈনিক আমদানির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১২০ টন (৫.১২ হাজার মে. টন)। যার মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৯০ টন চাল এবং ৩ হাজার ৩০ টন গম ইতোমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানের এই মজুতের পরিমাণ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ এবং আমদানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকায় বাজারে চাল ও গমের সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের এই মজুত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মামুন মিয়া।

তিনি বলেন, ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য মজুত থাকলে তা নিরাপদ মজুত হিসেবে গণ্য হয়। সে হিসেবে এখন দেশে যা মজুত আছে তা খুবই নিরাপদ।

খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জামাল হোসেন বলেন, সরকার যেসব লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে, তা বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। খাদ্য মজুত এখন খুবই সন্তোষজনক পর্যায়ে আছে।

অন্যদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে নতুন ধান ও চাল সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আগামী দিনগুলোতে এই মজুতের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গত ৩ মে থেকে খাদ্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে, চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এসময় ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ মেট্রিক টন চাল, ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল, ৫০ হাজার মেট্রিক টন গমসহ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

খাদ্য সচিব জানান, আমদানিসহ সরকারের নানা পদক্ষেপের কারণে খাদ্য মজুত আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে থাকবে।


নির্বাচিত

বন্ধ ও লোকসানি কারখানায় বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত রোড শো অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বন্ধ এবং অলাভজনক শিল্পকারখানাগুলোতে নতুন করে বিনিয়োগের গতি ফেরাতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২০ জুন) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ রোড শোতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্প খাতের দীর্ঘমেয়াদি বিকাশ এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতিকে আরও গতিশীল রাখতে বন্ধ ও লোকসানি কারখানাগুলোকে নতুন পুঁজিতে পুনরায় চালু করা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশে বিদ্যমান চমৎকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও সরকারি সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগানোর জন্য বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক অংশীজনদের প্রতি আহ্বান জানান।

উচ্চপর্যায়ের এই বিশেষ রোড শোতে সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারক, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং দেশি-বিদেশি শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের মধ্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই বিশেষ আয়োজনে অংশ নেন।

বিনিয়োগের এই বড় মেলবন্ধনে দেশের প্রথম সারির শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রাণ-আরএফএল, এসিআই লিমিটেড, ওয়ালটন, মেঘনা গ্রুপ, রানার, টি কে গ্রুপ, ব্র্যাক, নাবিল, স্কয়ার, ট্রান্সকম, আকিজ এবং লাল তীর। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিশ্বখ্যাত জাপানি প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশন, টয়োটা সুশো করপোরেশন, সুমিতোমো করপোরেশন, এমইউএফজি ব্যাংক লিমিটেড, মিতসুই অ্যান্ড কোং, সোজিৎস এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড এবং জেট্রো বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

একই সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপান দূতাবাসের শীর্ষ কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সরকারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। সংশ্লিষ্ট মহলের জোর আশা, এই রোড শোর মাধ্যমে দেশের ঝিমিয়ে পড়া ও লোকসানি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জাপানি ও দেশীয় বড় বিনিয়োগের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে, যা দেশের বেকার সমস্যার সমাধান, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।


নির্বাচিত

বেনজীরকে ফেরাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠানো হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২০ জুন, ২০২৬ ২০:৪২
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে (দুবাই) আটক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে মামলার নথিপত্রসহ প্রত্যর্পণ আবেদন সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দুবাইয়ে আটকের পরপরই ১৪৪ পৃষ্ঠার মামলার নথিপত্র আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিগগিরই বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দেশে বর্তমানে ছয়টি মামলা চলমান। এর মধ্যে একটি মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে, আর বাকি মামলাগুলো তদন্তাধীন। এ বিষয়ে রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে অগ্রগতির তথ্য জানানো হবে।

প্রত্যর্পণ চুক্তি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (এমএলএ) ব্যবস্থার মাধ্যমে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভিন্নভাবে কাজ করছে।

প্রসঙ্গত, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির পর ১২ জুন দুবাইয়ে আটক হন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ। পরদিন জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বেনজীরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর এজাহার, অভিযোগপত্র এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংযুক্ত করে প্রত্যর্পণ আবেদন আরব আমিরাতের কাছে পাঠানো হয়েছে।

দেশটির আদালত বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রত্যর্পণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগও থাকবে বেনজীর আহমেদের।


নির্বাচিত

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ‘বাজি’ ধরলে কখনো পস্তাতে হবে না: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বহুল আলোচিত চীন সফরে ঠিক কী হতে পারে বা কী ধরনের কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, তা গভীরভাবে জানতে তৎপর হয়ে উঠেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশ।

চলমান এই কূটনৈতিক তৎপরতারই একটি অংশ হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে তাঁর দপ্তরে গিয়ে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে যখন তিনি মন্ত্রণালয় থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা তাঁর কাছে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চান। তবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন কোনো সরাসরি রাজনৈতিক মন্তব্য বা চীন সফর নিয়ে কথা না বলে, ফুটবল বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ টেনে অত্যন্ত চতুর, বুদ্ধিমত্তা ও কূটনৈতিক পন্থায় সাংবাদিকদের জবাব দেন।

উল্লেখ্য, গত রাতে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক দুর্দান্ত ও স্মরণীয় জয় পেয়ে বিশ্বমঞ্চের নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র দল।

সেই রোমাঞ্চকর জয়ের সূত্র ধরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বেশ হাস্যোজ্জ্বল মুখে গণমাধ্যমকে বলেন, গত রাতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক দুর্দান্ত জয় পেয়ে বিশ্বকাপ নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দল, তাই তিনি মূলত এখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সমস্ত বাংলাদেশিকে বিশেষভাবে অনুরোধ করতে এসেছিলেন যেন তাঁরা সামনের ম্যাচগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র দলকে প্রাণভরে সমর্থন করেন।

বাংলাদেশিদের ফুটবলপ্রেমের ভূয়সী প্রশংসা করে রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যের শেষে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে যোগ করেন, দীর্ঘ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে কখনোই ভুল হওয়ার বা পস্তানোর কোনো সম্ভাবনা নেই।


নির্বাচিত

ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে যেসব কাজ করা যাবে

ফাইল ছবি
আপডেটেড ২০ জুন, ২০২৬ ১৯:২৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মার্কিন ভিসার সঠিক ও বৈধ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সব ভ্রমণকারীর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস।

শনিবার (২০ জুন) দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে এই আহ্বান জানানো হয়।

এক ফেসবুক পোস্টে দূতাবাসের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিজের ভিসার সঠিক ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা মূলত সংশ্লিষ্ট ভ্রমণকারীর নিজেরই আইনি দায়িত্ব।

ভিসার শ্রেণীবিভাগ অনুযায়ী কোন ভিসায় কী ধরনের সুযোগ রয়েছে, তা স্পষ্ট করে ওই পোস্টে আরও বলা হয়েছে, বি১ কিংবা বি২ (B1/B2) ক্যাটাগরির ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মূলত পর্যটন, ছুটি কাটানো, কেনাকাটা করা, সে দেশে অবস্থানরত বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি রয়েছে।

এর পাশাপাশি এই নির্দিষ্ট ভিসার আওতাভুক্ত ব্যক্তিরা সে দেশের ব্যবসায়িক সহযোগীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক করা এবং যেকোনো ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সভা বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও যোগ দিতে পারবেন।


নির্বাচিত

আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি ‘মাফিয়া পার্টি’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের পরিবর্তে ‘মাফিয়া পার্টি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করার এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দল মনে করি না; একটা মাফিয়া পার্টি। তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে।” নিষিদ্ধ এই দলটির আসন্ন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

আগামী ২৩ জুন দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “আগামী ২৩ জুন তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে যেকোনো কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ এই দলটি উক্ত দিনটিকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করতে পারে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দলটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে মিছিল বা কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে তা অন্য রাজনৈতিক দল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। এই ধরনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিদেশে পলাতক সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান যে, তাকে ইতিমধ্যে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, “সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ইতিমধ্যে দুবাই সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত তাকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে।” আইনি সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে শিগগিরই বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু এলাকার অপরাধ দমন প্রসঙ্গেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “মোহাম্মদপুর এলাকা বহু বছর ধরেই অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়ে রয়েছে। এ মোহাম্মদপুরকেও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হবে। এখানকার অপরাধীদের নির্মূল করা হবে।” পুলিশ সদস্যরা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, তাদের ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নিয়মিতভাবে পুরস্কৃত করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কোনো ধরনের আপস করবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।


নির্বাচিত

জাতিসংঘে বাংলাদেশ: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনই একমাত্র টেকসই সমাধান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

জাতিসংঘ মহাসচিবের মায়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, "রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো তাদের নিজ দেশ মায়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসন।" তিনি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেন, দীর্ঘ এক দশক ধরে বিশাল এক শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে আর সম্ভব নয়, বিশেষ করে যখন রোহিঙ্গারা নিজেরাও নিজ দেশে ফিরে যেতে উদগ্রীব।

শনিবার (২০ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

ওই সভায় রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী স্পষ্টভাবে বলেন, "রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মায়ানমারে এবং এর স্থায়ী সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে।"

তিনি আরও জানান, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে দীর্ঘকাল আশ্রয় দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ তৈরি হয়েছে। এই সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনক সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি কূটনৈতিক উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততা আরও জোরদারের আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সক্রিয় প্রচেষ্টাই কেবল রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সক্ষম।


নির্বাচিত

banner close