রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬
২৮ আষাঢ় ১৪৩৩

স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
২৬ মার্চ, ২০২৪ ১০:৫০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৬ মার্চ, ২০২৪ ১০:৫০

মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগেল ওয়াংচুকও বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে ভোর ৫টা ৫৬ মিনিটে স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তাঁরা।

প্রথমে রাষ্ট্রপতি ও ভুটানের রাজা জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল এ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। এ সময় বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। শেখ হাসিনা পরে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দলীয় নেতাদের সঙ্গে আরও একবার জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

এ সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে সই করেন ভুটানের রাজা ও তার স্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।


নির্বাচিত

মুজিববর্ষ উদযাপনে ব্যয় ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ টাকা: সংসদে অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ জুলাই, ২০২৬ ২৩:০৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘মুজিব বর্ষ’ পালন উপলক্ষে প্রতিটি জেলা-উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নে এবং শেখ মুজিবের ছবি ও বেদি তৈরি, বিভিন্ন সরকারি অফিসে ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের মূর্তি বানাতে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড তৈরিতে সব মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মোট ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (রংপুর-৩) মাহবুবুর রহমান বেলালের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব চলে।

মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে এই অর্থ ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সর্বোচ্চ ২৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয় ২০৬ কোটি ৭৩ লাখ ৭১ হাজার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১৪০ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ১৩৩ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪৭ কোটি ৬৬ লাখ ৫৬ হাজার, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ২৬ কোটি ২৬ লাখ ৪১ হাজার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২৪ কোটি ৩০ লাখ ৪৩ হাজার, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ২৩ কোটি ২০ হাজার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২০ কোটি ৪৯ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় করেছে।

সম্পূরক প্রশ্নে মাহবুবুর রহমান জানতে চান, এই বিপুল সরকারি ব্যয়ের কোনো নিরীক্ষা বা তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না। সরকারি অর্থের অপচয় বা অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনের আওতায় আনা হবে কি না এবং ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির প্রচারে এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় বন্ধে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, তা-ও জানতে চান তিনি।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, মুজিব বর্ষের ব্যয় নিরীক্ষা বা তদন্তের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মুজিব বর্ষ ছাড়াও আগের সরকারের সময় বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের আরও অনেক বিষয় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে সেগুলোর হিসাব যাচাই করছে। এই যাচাইয়ের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা তো শুধু মুজিব বর্ষ। এ ছাড়া সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রীর এক বছরে খাওয়া-দাওয়ার খরচ হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ব্যয়ের সঙ্গে আগের প্রধানমন্ত্রীর ব্যয়ের তুলনা টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি শুধু একটি খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এ ধরনের আরও অনেক ব্যয় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সবগুলোর বিষয়ে ক্রমান্বয়ে স্টক চেকিং করছি।’

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, জনগণের অর্থ লুট করে বিদেশে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অভিযুক্ত অনেকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা করা হয়েছে এবং তদন্তও চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে সংসদকে এ বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানিয়েছি। অনেক মামলা হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্ত অনেকের সম্পত্তি জব্দের প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।’

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকার তার কঠোর অবস্থানে অনড়। তিনি বলেন, দেশের টাকা লুট করে যারা বিদেশে পালিয়ে গেছেন, তাদের সঙ্গে বিএনপি কোনো আপস করবে না। এই সরকারও কোনো আপস করবে না। এই অভিযান চলতেই থাকবে।

আমির খসরু জানান, সরকার এ পর্যন্ত যেসব আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি একাধিকবার সংসদকে বিস্তারিত অবহিত করেছেন। অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলালের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সার্কভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত তিনটি লাইন অব ক্রেডিট ঋণচুক্তির আওতায় বর্তমানে সাতটি প্রকল্প চলমান রয়েছে।


নির্বাচিত

শেখ হাসিনার দেশে ফিরে সরাসরি আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই: চিফ প্রসিকিউটর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে সরাসরি আত্মসমর্পণের কোনো আইনি সুযোগ নেই।

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করেন যে, শেখ হাসিনা চাইলেই সাধারণ নাগরিকদের মতো স্বাধীনভাবে দেশে ফিরতে পারবেন না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে নির্বাসনে রয়েছেন। তিনি যদি দেশে ফিরতে চান, তবে অবশ্যই বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও কূটনৈতিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে হবে। তিনি যখনই দেশের মাটিতে পা রাখবেন, তখনই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং সরাসরি কারাগারে পাঠানো হবে।

ট্রাইব্যুনালের চলমান মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রধান ১০টি মামলার তদন্ত কাজ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব দ্রুতই এই প্রতিবেদনগুলো আদালতে পেশ করা হবে।

অর্থাৎ, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং আত্মসমর্পণ—উভয় ক্ষেত্রেই আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতা রয়েছে এবং দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের এই শীর্ষ আইন কর্মকর্তা।


নির্বাচিত

প্রাথমিকে বৃত্তি পেল ৭৯২৪৬ শিক্ষার্থী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। ২০২৫ সালের পরীক্ষায় মোট ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। রোববার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪৩ হাজার ৩৫৪ জন বা ৫৪ দশমিক ৭১ শতাংশ ছাত্রী এবং ৩৫ হাজার ৮৯২ জন বা ৪৫ দশমিক ২৯ শতাংশ ছাত্র।

এবার ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ৩২ হাজার ৯৬৫ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ২৬ হাজার ৩৭৫ শিক্ষার্থী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। আর বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৬ হাজার ৫৯০ জন।

সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে ৪৬ হাজার ২৮১ জন। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ৪২০ জন সরকারি এবং ৯ হাজার ৮৬১ জন বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা ২০২৬ অনুযায়ী, এবার মোট ৮২ হাজার ৫০০টি বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। যার মধ্যে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি ৩৩ হাজারটি এবং সাধারণ বৃত্তি ৪৯ হাজার ৫০০টি।

এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে সরকারি বিদ্যালয়ে ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ে ২০ শতাংশ বৃত্তি দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

শিক্ষা বিভাগের তথ্য মতে, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে হলেও বৃত্তির টাকা দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। কারণ, পঞ্চম শ্রেণি শেষ করা শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। যখন বৃত্তি পায়, তখন তারা মাধ্যমিকে পড়া শুরু করে। নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত এই বৃত্তির টাকা পায়। এরপর অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে হয় জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা। ওই বৃত্তি পরীক্ষার ভিত্তিতে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বৃত্তির টাকা দেওয়া হয়।

বর্তমানে প্রাথমিকে মেধাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকা করে পাবে। আর সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসে ২২৫ টাকা করে দেওয়া হবে। অর্থাৎ এবার যারা বৃত্তি পেয়েছে, তারা এই টাকা পাবে।

তবে ২০২৬ সালের বৃত্তি পরীক্ষা থেকে এই টাকা বাড়ানো হবে। অর্থাৎ এ বছরের শেষে যে বৃত্তি পরীক্ষা হবে, তাতে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা বর্ধিত হারে টাকা পাবে।

এ বিষয়ে বৃত্তি পরীক্ষার ফল উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ–সংক্রান্ত প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী। তিনি বলেন, বৃত্তির সংখ্যা একই আছে (৮২ হাজার ৫০০টি)। তবে মেধাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকার জায়গায় ৪৫০ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকার জায়গায় ৬০০ টাকা করা হয়েছে। মানে দ্বিগুণ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া সাধারণ বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের এককালীন ২২৫ টাকার পরিবর্তে ৪৫০ টাকা ও মাসে ২২৫ টাকার পরিবর্তে ৪৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মেধাবৃত্তি দেওয়া হয় উপজেলা বা থানা অনুযায়ী। আর সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হয় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক পাঁচটি করে (দুজন বালক ও দুজন বালিকা এবং একটি মেধার ভিত্তিতে)।

একসময় নির্ধারিতসংখ্যক শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে আলাদা বৃত্তি পরীক্ষা হতো। পরে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা চালু হয়, যেখানে সব শিক্ষার্থী অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের মহামারির সময় তা বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০২২ সালের শেষ দিকে প্রাথমিকে হঠাৎ বৃত্তি পরীক্ষা চালু হলেও ফলাফলে ভুল ও অসংগতি দেখা দেয়। পরে তা আবারও চালুর সিদ্ধান্ত হয়। গত বছরের শেষে এ পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও মামলার কারণে প্রাথমিকের বৃত্তি আটকে যায়। গত এপ্রিলে জটিলতা কাটিয়ে এ পরীক্ষা হয়। তার ফল প্রকাশ করা হলো।


নির্বাচিত

বন্যাকবলিত ১১ জেলায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বিজিবি মোতায়েন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

টানা কয়েকদিনের ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে উদ্ধার তৎপরতা, আশ্রয়ের ব্যবস্থা ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও চিকিৎসা সহায়তায় ১১ জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো, বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর। রোববার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রদান ও ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই ১১ জেলায় মোট ৯০টি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিজিবি। সেই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বান্দরবানের বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ইতোমধ্যে ১১৬ জন পর্যটকসহ ১২২টি পরিবারের ছয় শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ও ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে উপরে পড়া গাছ ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে তারা। এছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়িতে ভূমিক্ষয়ের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া স্টিলের সেতু রক্ষায় জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করছে বিজিবি।


নির্বাচিত

সাবেক স্পীকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে ডেপুটি স্পীকারের শোক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি সাবেক স্পীকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১২ জুলাই, ২০২৬ খ্রি: ভোর ৪:১৯ মিনিট রাজধানী শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ, এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৬১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে গিয়ে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে তিনি আইন পেশায় যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।

তিনি ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পীকারের দায়িত্ব পালন করেন ।

তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এক শোক বার্তায় জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি দুঃখ প্রকাশ ও গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।


নির্বাচিত

সাবেক স্পীকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে চীফ হুইপের গভীর শোক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম, এমপি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার, বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও বরেণ্য রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার-এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এক শোকবার্তায় চীফ হুইপ বলেন, "ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন একজন প্রজ্ঞাবান সংসদীয় ব্যক্তিত্ব, খ্যাতিমান আইনজ্ঞ এবং দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ। রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বিকাশে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জাতীয় সংসদের স্পীকার হিসেবে তিনি দক্ষতা, প্রজ্ঞা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সংসদীয় গণতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক ও সংসদীয় অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।"

চীফ হুইপ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করার প্রার্থনা জানান। একই সঙ্গে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহানুভূতি জ্ঞাপন করেন।

উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জনের পর যুক্তরাজ্যের লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন খ্যাতিমান আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।

তিনি ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পীকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।


নির্বাচিত

সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা নিয়ে সরকার বন্যার্ত মানুষের পাশে আছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সারাদেশে চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে বন্যাকবলিত মানুষের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং সরকারের এই সমন্বিত প্রচেষ্টায় দুর্গতরা অচিরেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। আশাবাদের এই কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

গতকাল শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশব্যাপী চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া নানা উদ্যোগ ও দিকনির্দেশনা তুলে ধরে তিনি এ কথা জানান।

দেশজুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাতের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন স্থানে বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান-এই পাঁচটি জেলায় জনমানুষের অবর্ণনীয় কষ্টের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক এই পরিস্থিতি নিজে এবং তাঁর টিম মেম্বারদের মাধ্যমে মনিটরিং করছেন।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এই পাঁচ জেলার স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, ডিসি, এসপি, সিভিল সার্জন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। রবিবারও (আজ) প্রধানমন্ত্রী দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। উদ্ধার তৎপরতায় ডিসি, এসপি, ইউএনও থেকে শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতিটি পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে দুই কোটি টাকারও বেশি অর্থনৈতিক অনুদান নিশ্চিত করেছেন, যা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের কাছে চাল ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার বিরামহীন প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, ‘বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এরই মধ্যে চট্টগ্রামে অবস্থান করে পরিস্থিতি সরাসরি মনিটর করছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতারা তৃণমূল পর্যায়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পুরো দল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে উদ্ধার ও ত্রাণ কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হওয়ার আহবান জানিয়েছেন এবং তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত গৃহস্থালি, কৃষি, মৎস্য ও গবাদি পশু খামারিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। দ্রুতই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করা হবে। বর্তমানে সচল থাকা এক হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কিছু জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হলেও সংযোগ পুনঃস্থাপনে স্থানীয় প্রশাসন ও নেতাকর্মীরা কাজ করছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা ও শাহাদত হোসেন স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব মো. নাজমুল হক খান ও আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর গভীর শোক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১২ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৫১
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও ভাষা আন্দোলনের অকুতোভয় সৈনিক ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক প্রজ্ঞাবান, অভিজ্ঞ, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, প্রজ্ঞা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।” প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন থাকাকালীন তাঁর নিষ্ঠা ও প্রজ্ঞার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত করা, সংসদীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের অবদান জাতি চিরকাল গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় আরও উল্লেখ করেন যে, জমির উদ্দিন সরকার আজীবন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং গণতন্ত্রের সুরক্ষায় অবিচল ছিলেন। “তিনি দলের দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রতিকূলতা ও দুঃসময়ের কোনো পর্যায়েই, কোনো পরিস্থিতিতেই আদর্শচ্যুত হননি। রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দলীয় জাতীয়তাবাদী আদর্শকে সমুন্নত রেখেছেন।” বিগত দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অবিস্মরণীয় অবদান বিএনপির ইতিহাসে যেমন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তেমনি দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায়ও এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।”

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের প্রয়াণে দেশ এক অভিজ্ঞ দেশপ্রেমিককে হারাল, যা পূরণ হবার নয়। তাঁর সততা ও কর্মময় জীবন আগামী দিনের রাজনীতিকদের জন্য পাথেয় হয়ে থাকবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। প্রধানমন্ত্রী মহান সৃষ্টিকর্তার নিকট মরহুমের জান্নাত নসিবের প্রার্থনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার ও অসংখ্য গুণগ্রাহীর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।


নির্বাচিত

সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের জীবনাবসান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই। রবিবার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন প্রখ্যাত এই আইনজ্ঞ। বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী জমির উদ্দিন সরকার ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে অধ্যাপক এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে উচ্চশিক্ষা শেষে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে রাজনীতিতে আসা এই নেতা ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্নের অন্যতম স্তম্ভ।

সংসদীয় গণতন্ত্র ও আইনি অঙ্গনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। মন্ত্রী হিসেবে তিনি আইন, বিচার, সংসদ বিষয়ক, শিক্ষা ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো পরিচালনা করেছেন। আইনি গবেষণাতেও তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল এবং আন্তর্জাতিক আইন ও সমুদ্র আইন নিয়ে তাঁর লেখা বইগুলো উচ্চ প্রশংসিত। ব্যক্তিগত জীবনে তিন সন্তানের জনক জমির উদ্দিন সরকারের দুই পুত্রই বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের স্বনামধন্য আইনজীবী।


নির্বাচিত

বাংলাদেশিদের জন্য অভিবাসী ভিসা স্থগিতের কারণ জানাল মার্কিন দূতাবাস

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অভিবাসী (ইমিগ্র্যান্ট) ভিসা স্থগিতের কারণ ব্যাখ্যা করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাসের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা ব্যবহারের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) এক বিবৃতিতে মার্কিন দূতাবাস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের প্রতি তাদের দায়িত্ব হলো, অভিবাসীরা যেন অবৈধভাবে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ না করেন এবং সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা।

দূতাবাস আরও জানায়, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই স্থগিতাদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা যাচাই-বাছাই নীতিমালা ও প্রক্রিয়াগুলোর পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে, যাতে সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়।

তবে এ স্থগিতাদেশ কেবল অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অনভিবাসী (নন-ইমিগ্র্যান্ট) ভিসা, যেমন পর্যটন, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য অস্থায়ী ভিসার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের কোনো প্রভাব পড়বে না।


নির্বাচিত

নিম্ন ও মধ্যম আয়ের চাকরিজীবীদের জন্য চালু হচ্ছে রেশন

* কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে কাজ শুরু * আর্থিক চাপ কমিয়ে কাজে মনোযোগ বাড়ানেই লক্ষ্য * স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বিতরণ কাঠামো গড়াই চ্যালেঞ্জ
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক 

সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নিম্ন ও মধ্যম আয়ের চাকরিজীবীদের (১২ থেকে ২০তম গ্রেড) জন্য রেশন সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কমাতে এবং কাজে মনোযোগ বাড়াতে এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ বিভাগ এই প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।

সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংবাদ সংস্থা বাসস জানিয়েছে, মে মাসে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক প্রথম এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।

প্রস্তাবে বলা হয়, বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীরা চরম অর্থ-সংকটে ভুগছেন। অনেকে ধার-দেনা ও ঋণের জালে জড়িয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন, যা তাদের দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কর্মচারীদের এই মানসিক চাপ কমাতে এবং জীবনযাত্রা সহজ করতে রেশন সুবিধা চালু করা জরুরি।

ডিসিদের এই প্রস্তাবের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে এবং অর্থ বিভাগের কাছে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করে। গত জুন মাসে অর্থ সচিবকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী, অর্থ বিভাগকে প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের অগ্রগতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানাতে হবে। এ ছাড়া তিন মাস পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপ-সচিব মো. মামুন বাসসকে জানান, ডিসি সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য ইতোমধ্যে সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের করণীয় জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কারা পাবেন এই সুবিধা এবং বর্তমানে কারা পাচ্ছেন: ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের আওতায় মূলত সরকারি চাকরির নিম্ন ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা রয়েছেন।

১২তম গ্রেড: এই স্তরে রয়েছেন অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, হিসাব সহকারী, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক, গুদামরক্ষক, নিরাপত্তা পরিদর্শক এবং ডাটা এন্ট্রি সুপারভাইজারের মতো কর্মীরা।

২০তম গ্রেড: এটি সরকারি চাকরির সর্বনিম্ন স্তর, যা সাধারণত চতুর্থ শ্রেণি হিসেবে পরিচিত। সাধারণত এসএসসি বা সমমান শিক্ষাগত যোগ্যতায় এসব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পদে রয়েছেন অফিস সহায়ক (পিয়ন), নিরাপত্তা প্রহরী, মালি এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

বর্তমানে বাংলাদেশে ১০টি বিশেষায়িত সরকারি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নির্ধারিত মূল্যে রেশন সুবিধা পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে-সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী), বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, কারা অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

উদাহরণস্বরূপ, পুলিশ বাহিনীতে চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য বর্তমানে মাসে ২০ কেজি চাল, ২০ কেজি আটা, ২ কেজি ডাল, সাড়ে ৪ লিটার সয়াবিন তেল এবং ২ কেজি চিনি সাশ্রয়ী মূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়। নতুন উদ্যোগ সফল হলে ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের সাধারণ কর্মচারীরাও একই ধরনের সুবিধা পেতে পারেন।

এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও সরকারি কর্মচারীরা রেশন সুবিধাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন। তৎকালীন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমামও কর্মচারীদের রেশন দেওয়ার পক্ষে মত দিয়ে অর্থ বিভাগে ডিও লেটার পাঠিয়েছিলেন। এরপর থেকেই বিষয়টি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনাধীন ছিল।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফিরোজ মিয়া সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও সুশাসন নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে রেশন সুবিধা চালুর প্রস্তাবটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী। অনেক সময় সরকারি কর্মচারীরা তাদের আর্থিক অসচ্ছলতা বা সুযোগ-সুবিধার অভাবকে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অজুহাত হিসেবে দাঁড় করান। এই রেশন-সুবিধা চালু হলে তাদের জীবনযাত্রার মান কিছুটা উন্নত হবে এবং অনৈতিক চর্চা নিয়ন্ত্রণে এটি সাহায্য করবে।’

তবে ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘রেশন বিতরণ ব্যবস্থা সরকারকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম হলে কিংবা প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যদি এই সহায়তা না পান, তবে এই ভালো উদ্যোগটিই হিতে বিপরীত হতে পারে।’

বিশ্লেষকদের মতে, নিম্ন আয়ের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এই রেশন ব্যবস্থা চালু করা গেলে তা বেসরকারি খাতের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্যও ইতিবাচক সুফল বয়ে আনার একটি রাষ্ট্রীয় তাগিদ তৈরি করবে। তবে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য রেশন নিশ্চিত করতে সরকারের সঠিক পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বিতরণ কাঠামো গড়ে তোলাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।


নির্বাচিত

ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিরোধ যুদ্ধ না করলে দেশ এখনো পাকিস্তান থাকত: স্পিকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯৭১ সালে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে প্রতিরোধ যুদ্ধ না ‌করলে বাংলাদেশ এখনো পাকিস্তান থাকতো বলে মন্তব্য করেছেন করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ নয়, ‘বাঙালির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার যুদ্ধ। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের পাঁচটি ব্যাটালিয়ন আলাদাভাবে ‘বিদ্রোহ করে জনগণকে সংগঠিত করেছিল’। শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে ঢাকার মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে ‘মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

স্বাধীনতার এবং সার্বভৌম্যত্যর ক্ষেত্রে কোনো প্রকার আপস মেনে নেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার কথা শুধু রাজনৈতিক নেতারা চিন্তা ও করে নাই।‌ এ যুদ্ধ ছিলো জনতার যুদ্ধ। স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। তবে এ কথা ইতিহাসে নেই।‌’

তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক দুর্যোগ,‌ সকল প্রকার দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত থাকবে‌।’

মেজর জিয়াউর রহমানই সর্বপ্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ‘ক্র্যাকডাউনের আগে অনুরোধ করা সত্ত্বেও স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে রাজি হননি শেখ মুজিবুর রহমান। এ সময় স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন মেজর জিয়াউর রহমান। এটি হল প্রকৃত সত্য। যে ঘোষণায় জাতি উদ্দীপ্ত হয়েছে, অনুপ্রাণিত হয়েছে। হাজার হাজার ছাত্র-যুবক ঘরবাড়ি ছেড়ে দৌড়ে এসেছে যে যুদ্ধ করবে।’


নির্বাচিত

দুই বছরে বন্ধ ৫০০ পোশাক কারখানা, কর্মহীন দেড় লাখ শ্রমিক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১১ জুলাই, ২০২৬ ২২:৩১
নিজস্ব প্রতিবেদক 

দেশে গত দুই বছরে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে পাঁচ শতাধিক পোশাক ও বস্ত্র কারখানা। এর ফলে কাজ হারিয়ে পুরোপুরি বেকার হয়ে পড়েছেন প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক। শিল্পপুলিশ ও পোশাক খাতের সংগঠনগুলোর দেওয়া তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র।

সংগঠনগুলোর ভাষ্য, গত দুই বছরে পাঁচ শতাধিক শিল্পকারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। আরও অনেক কারখানা রয়েছে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে। এ সময়ে পোশাক খাতেই কাজ হারিয়েছেন প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক। কারখানা বন্ধের প্রধান কারণ ক্রয়াদেশ হ্রাস পাওয়া এবং গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন সক্ষমতা কমে যাওয়া। কিছু কারখানার ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা দুর্বলতা ও সময়মতো শিপমেন্ট করতে না পারাও।

আন্তর্জাতিক কারণের মধ্যে রয়েছে— গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলাকে কেন্দ্র করে জ্বালানিসহ বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপের কারণে বিশ্ববাজারে নিম্নমুখী চাহিদা।

শিল্পপুলিশের হিসাবে, ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দুই বছরে ৪৫৭টি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে ১৭০টি। বাকি ২৮৭টি পোশাকবহির্ভূত।

বন্ধ হওয়ার তালিকায় তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্য কারখানা ১০৮টি, নিট ক্যাটাগরির পণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএর কারখানা ৩৫টি, বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর কারখানা ৮টি। বাকি ১৯টি বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ বা বেপজার অধিভুক্ত কারখানা।

তবে শিল্পপুলিশের তথ্যের সঙ্গে পোশাক ও বস্ত্র খাতের তিন সংগঠনের তথ্যের ফারাক রয়েছে। বিজিএমইএর উপাত্ত বলছে, দুই বছরে সংগঠনের ২২১টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে গত বছর সর্বাধিক বন্ধ হয়েছে ১৪১টি কারখানা। আগের বছর (২০২৪ সাল) বন্ধ হয় ৭৭টি কারখানা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম জোন মিলে বিজিএমইএর সদস্য কারখানা এখন ২ হাজার ১২৭টি।

শাশা ডেনিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস মাহমুদ এই লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তিনি বলেছেন, ‘কভিডের’ সময় যখন সারা বিশ্বে অনেক কিছু থেমে গিয়েছিল, তখন বেশ কিছু নামকরা ব্র্যান্ড বাংলাদেশে আসে এবং পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাড়তে থাকে। কিন্তু তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।

শামস মাহমুদ বলেন, দেশের আর্থিক খাতগুলো কয়েকজনের হাতে চলে যাওয়ায় এমন ধস নেমে আসে। ফলে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি তো দূরে থাক, মালিকদের টিকে থাকার জন্য লড়াই শুরু করতে হয়। বর্তমান সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হতে কমপক্ষে দুই বছর লাগবে। ফলে ওই লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হবে।

স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেছেন, বর্তমানে দেশের পোশাক খাত কিছুটা আস্থার সংকটে ভুগছে। এ কারণে বিশ্বের কয়েকটি নামকরা ব্র্যান্ড বাংলাদেশ থেকে সোর্সিং কমিয়ে দিচ্ছে। তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ও ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পোশাক খাতে নীতিগত সংস্কার এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি জরুরি।

শোভন ইসলামের ভাষ্য, টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতা কমাতে হবে।

এ ছাড়া বৈশ্বিক পোশাক বাণিজ্যে ঘটছে দ্রুত পরিবর্তন। অনলাইন বিক্রয় ও সরাসরি ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ই-কমার্সভিত্তিক বিক্রয় বাড়াতে হলে নিজস্ব ব্র্যান্ড গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিপণন কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন উদ্যোক্তারা।

সরকার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শোভন ইসলাম।

বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা এখনো প্রবৃদ্ধিমুখী। সঠিক নীতি সহায়তা ও উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো গেলে বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্য অর্জন না হলেও সময়ের ব্যবধানে এটা সম্ভব বলে মনে করছেন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল।


নির্বাচিত

banner close