প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫৪তম ‘স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৪’ উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
শেখ হাসিনা আজ সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি এবং স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
এ সময় বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র ছোট বোন শেখ রেহানা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে।
পরে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁর দলের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরেকবার পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী ৫৪তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর উপকণ্ঠে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী পরে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে একটি স্মারক ডাক টিকিট, উদ্বোধনী খাম ও একটি ডাটা কার্ড অবমুক্ত করেন।
প্রতি বছর ২৬ মার্চ ইতিহাসের কালোতম পর্বের সবচেয়ে করুণ স্মৃতি নিয়ে আসে যা ২৫ মার্চ, ১৯৭১ এর রাত থেকে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী অগ্নিপরীক্ষার সূচনা করেছিল এবং একই বছর ১৬ ডিসেম্বর এক সাগর রক্তের বিনিময়ে দীর্ঘ লালিত স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল।
তৎকালীন পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর সামরিক দমন-পীড়নের পরিপ্রেক্ষিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাড়িতে ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ (২৫ মার্চের পরের রাতে) ০০-৩০টায় তৎকালীন ইপিআর (ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস) এর ওয়ারলেসের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন।
বাঙালি জাতির কাছে দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান।
দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার নতুন ও বিকল্প উৎসের অনুসন্ধান চালাচ্ছে এবং প্রয়োজনে আফ্রিকা থেকেও জ্বালানি আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। শনিবার সকালে ‘আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলন ও বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিং’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে সরকার বর্তমানে পোশাক খাতের পাশাপাশি পাটজাত পণ্য নিয়েও নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশ একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরে এসেছে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবার পরে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এই প্রথম জাতিসংঘের সাধারণ সভায় অংশগ্রহণ করবেন।” তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার এটি একটি অনন্য সুযোগ।
আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট করে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—এই মূলনীতিকে সামনে রেখেই বিশ্ব দরবারে দেশের জাতীয় স্বার্থকে তুলে ধরা হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভবিষ্যৎ রূপরেখা বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে, যা দেশের সার্বিক উন্নতিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
শুধু চিঠি কিংবা প্যাকেট নয়; ডাকযোগে এখন গ্রাহকের কাছে যাচ্ছে ফ্রিজ, মোটরসাইকেলের মতো ভারী পণ্যও। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবায় গত দুই মাসে পরিবহন হয়েছে প্রায় ৪০০ টন পণ্য। প্রথম কেজিতে ১০ টাকা, এরপর প্রতি কেজিতে আরও ৫ টাকা-এই মাশুলেই চলছে স্পিড পোস্ট।
সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।
মহাপরিচালক বলেন, দেশের আইনে অবৈধ নয়, এমন যেকোনো পণ্যই এখন ডাকের গাড়িতে তোলা, নামানো এবং পোস্টম্যানের মাধ্যমে বিলি করা যায়। সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলও ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। সঙ্গে গেছে ফ্রিজ, আলমারি ও ওয়ারড্রবের মতো বড় আসবাবপত্র। শিক্ষার্থীদের কাঁথা-বালিশ ও বিছানাপত্রও পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া রান্নাঘরের দা-বঁটি-ছুরি, হাঁড়ি-পাতিল, প্রেসার কুকার, ইন্ডাকশন চুলা থেকে শুরু করে এলইডি টিভি, এয়ার কন্ডিশনার, বাইসাইকেল এমনকি কীটনাশক স্প্রে মেশিনও এখন ডাকযোগে পাঠানো যাচ্ছে।
তিনি বলেন, মৌসুমি ফলসহ স্পিড পোস্টের মাধ্যমে গত দুই মাসে মোট প্রায় ৪০০ টন পণ্য পরিবহন হয়েছে, যা এর আগে ডাক বিভাগের মাধ্যমে কখনো পরিবহন হয়নি। এসব পণ্য যেন সহজে ও সুন্দরভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়, সেজন্য সেবাটিকে গ্রাহকবান্ধব করতে বাড়তি কিছু ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহকদের সুবিধার জন্য চালু হয়েছে অনলাইন মাশুল ক্যালকুলেটর। এর মাধ্যমে আগে থেকেই পণ্য পরিবহনের খরচ জেনে নেওয়া যায়।
বর্তমানে রাজধানীর জিপিওসহ গুলশান, বনানী, মিরপুর ও উত্তরার মতো বেশ কয়েকটি সাব-পোস্ট অফিস থেকে সরাসরি পণ্য পরিবহন করা যাচ্ছে। দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পার্সেলের জন্য রয়েছে বৈদেশিক ইএমএস সেবাও।
তিনি বলেন, সেবাটি যেন সুশৃঙ্খলভাবে চলে, সেজন্য এর কার্যপ্রণালী সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে ডাক অধিদপ্তর। স্পিড পোস্টে ইস্যুকৃত পণ্য জেলা শহর থেকে ঢাকায় সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা আর প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে বিলির জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে সংশ্লিষ্ট পোস্ট অফিসকে। তবে, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছু দ্রব্য এই সেবার আওতার বাইরেও রাখা হয়েছে। বিস্ফোরক ও দাহ্য পদার্থ, ক্ষতিকর বা বিপজ্জনক রাসায়নিক দ্রব্য, মাদকদ্রব্য, জীবন্ত প্রাণী, আগ্নেয়াস্ত্র এবং ভরা বা খালি গ্যাস সিলিন্ডার স্পিড পোস্টে পাঠানো যাবে না।
এত কম মূল্যে সেবা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কাজী আসাদুল বলেন, টাকার অঙ্কের চেয়ে মানুষে-মানুষে সংযোগ স্থাপনকে আমি বড় অর্জন বলে মনে করি। একজন মা যেমন কষ্ট করে সন্তান লালন-পালন করেন, বিনিময়ে কিছুই চান না; সন্তানের ভালো থাকাতেই যার তৃপ্তি- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাক বিভাগও তেমনি জনগণকে সেবা দিতে পারার মধ্যেই সার্থকতা খুঁজে পায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডাক বিভাগের এ সেবার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ভোট দিতে নিবন্ধন করেন। এরপর ভোট দেওয়া থেকে শুরু করে সেই ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে মুহূর্তে মুহূর্তে বার্তা পেয়ে ভোটের অগ্রগতি জানতে পেরেছেন প্রবাসীরা। এতে করে ডাক বিভাগের প্রতি তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়েছে।
ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, এই অভিজ্ঞতাই পরে বিনা প্রচারণায় মুখে মুখে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররাই এই সেবা থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন। তারাই নিজ উদ্যোগে তারা সেবাটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছেন।
এই জনপ্রিয়তা ডাক বিভাগের সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি একজন গ্রাহক বদলি হয়ে অন্য জেলায় বাসা পরিবর্তনের সময় পুরো বাসার আসবাবপত্রই ডাকযোগে নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। বিশ্বের অনেক দেশের ডাক বিভাগ এমন আন্তঃজেলা বাসাবদল সেবা দিয়ে থাকে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এমন সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সে লক্ষ্যে ধাপে ধাপে প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সক্ষমতা গড়ে তোলা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পরিবেশবান্ধব একটি প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে ৫০টি বৈদ্যুতিক বাইক, যা চলবে গ্রিন এনার্জিতে।
সক্ষমতা বাড়ানোর এই ধারাবাহিকতায় বদলেছে ডাক বিভাগের অভ্যন্তরীণ কর্মপরিকল্পনাও। মহাপরিচালক বলেন, সহকর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী এক কর্মশালার পর সম্প্রতি সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকার তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মেইল প্রসেসিং সেন্টারকে শতভাগ কাজে লাগানো হবে। এর মধ্য দিয়ে সারা দেশ থেকে ঢাকামুখী মেইল, ঢাকা থেকে সারা দেশে যাওয়া মেইল আর ঢাকা শহরের ভেতরকার মেইল- সবই প্রক্রিয়াজাত হবে একটি জায়গা থেকে। এই উদ্যোগ ইতোমধ্যে কার্যকরও হয়েছে বলে জানান তিনি।
কমলাপুরের রেলওয়ে মেইল সার্ভিসের বর্তমান সক্ষমতা এখন সীমিত হয়ে পড়েছে জানিয়ে আসাদুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার খাতা কিংবা গাছের চারার মতো নানা রকম পণ্য একসঙ্গে সামলানো ক্রমেই তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। তাই ঢাকা জিপিও ক্যাম্পাসকে সম্প্রসারিত করে সেখানে শুধু বিদেশগামী ও বিদেশ থেকে আসা রপ্তানি-আমদানি পার্সেলের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এভাবে তেজগাঁও ও কমলাপুরসহ মোট তিনটি হাব মিলিয়ে সমন্বিতভাবে চলবে ডাক বিভাগের মেইল ব্যবস্থাপনা।
মহাপরিচালক বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাভের অঙ্ক আমাদের কাছে মুখ্য নয়। সাশ্রয়ী মূল্যে নিরাপদ সেবা দিয়ে দেশের প্রতিটি প্রান্তের মানুষকে একসূত্রে যুক্ত করাই হবে স্পিড পোস্টের প্রকৃত সাফল্য।
উল্লেখ্য, বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে চালু হয় স্পিড পোস্ট সেবা। প্রথমে মৌসুমি ফল পরিবহনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই সেবা এখন সম্প্রসারিত হয়েছে নিত্যব্যবহার্য বড় বড় পণ্যসামগ্রী পরিবহনেও।
সুত্রঃ বাসস
মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বীর সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর)। ১৯৭১ সালের এই দিনে যশোরের শার্শা উপজেলার গোয়ালহাটি ও ছুটিপুর সীমান্তে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে এক রক্তক্ষয়ী সম্মুখযুদ্ধে তিনি দেশের জন্য আত্মোৎসর্গ করেন। বীরত্বের এই অমর উপাখ্যানে তিনি নিজের জীবনের বিনিময়ে সহযোদ্ধাদের রক্ষা করেছিলেন।
পাকিস্তানি সেনাদের গোলার আঘাতে সহযোদ্ধা নান্নু মিয়া গুরুতর আহত হলে নূর মোহাম্মদ একহাতে লাইট মেশিনগান (এলএমজি) চালিয়ে শত্রুকে প্রতিহত করতে থাকেন এবং অন্য কাঁধে নান্নুকে নিয়ে নিরাপদে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে মর্টারের আঘাতে তাঁর হাঁটু ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেলেও তিনি রণক্ষেত্র ছেড়ে যাননি। প্রচণ্ড কষ্টের মাঝেও গুলি চালিয়ে শত্রুবাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত রেখেছিলেন, যাতে তাঁর দলের অন্য সদস্যরা নিরাপদে পিছিয়ে যেতে পারেন। এভাবেই বীরদর্পে লড়াই করতে করতে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। পরবর্তীতে তাঁকে যশোরের কাশিপুর গ্রামে দাফন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর এই অসামান্য ত্যাগের জন্য তাঁকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।
১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা (বর্তমান নূর মোহাম্মদ নগর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই মহানায়ক। ১৯৫৯ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর) যোগদানের মাধ্যমে তাঁর সৈনিক জীবন শুরু হয়। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে ১৯৭১ সালে তিনি যশোর অঞ্চলের ৮ নম্বর সেক্টরে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নেন। ল্যান্স নায়েক পদে থাকাকালীন তাঁর এই বীরত্বগাথা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে আছে।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘শুধু মাধবীর জন্য’ গ্রন্থে তার লেখনীর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও গণতন্ত্র রক্ষার যে আকুতি প্রকাশ করেছেন, তা অব্যাহত থাকুক।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের ‘শুধু মাধবীর জন্য’ শীর্ষক গ্রন্থের অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, লেখক তার গ্রন্থে বিষয়গুলো যথার্থভাবে তুলে ধরেছেন। গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়া দেশকে বাঁচাতে গিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দুই সন্তানকে নিয়ে দেশ ত্যাগ করেননি। তিনি এই দেশকেই তাঁর একমাত্র ঠিকানা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
‘শুধু মাধবীর জন্য’ গ্রন্থের লেখক আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি লিখি লেখক হওয়ার জন্য নয়। মাধবীর (কাল্পনিক নাম) কাছে আমি লিখি আমার নিত্যদিনের অন্তর্জ্বালা, দুঃখ, ভালো লাগা, উপেক্ষার দহন ও অবহেলা—এসব কিছু যখন আমাকে পোড়ায়, তখন আমি লিখি।’
অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, একজন রাজনীতিবিদ হয়েও এই বই পাঠক সমাজে যতটা সাড়া তৈরি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো লেখকের বই এতটা সাড়া ফেলতে পারেনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং শিরীন সুলতানা।
অনুষ্ঠানে অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং দুর্বা গ্রুপের চেয়ারম্যান এ কিউ এম ডি আহমেদ সুমন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে ছিলেন কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন। সভাপতিত্ব করেন প্রতিধ্বনির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট শিমুল পারভীন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, পুঁথি পাঠ, কবিতা পাঠ, গান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়। এতে দেশের বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
সূত্র: বাসস
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট লুট হওয়া পুলিশের অস্ত্র এখন অপরাধীদের হাতে। তদন্তে উদ্ধার হওয়া কয়েকটি অস্ত্রের ব্যবহার মিলেছে হত্যা, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে। অথচ ঘটনার দুই বছর পরও ১ হাজার ৩০৯টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২ লাখ ৫৭ হাজার ১১৩টি গোলাবারুদের কোনো হদিস নেই। এসব অস্ত্র কোথায়, কার হাতে এবং কতগুলো অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে—তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো পুলিশের কাছে নেই। ফলে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি এখন সরাসরি জননিরাপত্তার ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত লুট হওয়া ৪ হাজার ৪৫৪টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু এখনো উদ্ধার হয়নি ১ হাজার ৩০৯টি অস্ত্র। একই সময়ে উদ্ধার হয়েছে ৩ লাখ ৯৪ হাজার ৮৯৫টি গোলাবারুদ। তবে ২ লাখ ৫৭ হাজার ১১৩টি গোলাবারুদের এখনো কোনো হদিস নেই।
অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ এখনো পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এগুলোর কতগুলো অপরাধীদের হাতে রয়েছে, কতগুলো কোথাও লুকিয়ে রাখা হয়েছে কিংবা কতগুলো সীমান্ত পেরিয়ে গেছে—এর পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো পুলিশের কাছে নেই।
ধীরগতিতে উদ্ধার, বাড়ছে উদ্বেগ: লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ। অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ধীরগতিতে হলেও মাঝেমধ্যে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে।
তবে দুই বছর পরও ১ হাজার ৩০৯টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে উদ্ধার হওয়া কয়েকটি অস্ত্র অপরাধে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ার পর বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
এ অবস্থায় গত শনিবার লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নতুন করে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইউনিটটি ইতোমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছে।
অস্ত্রের সন্ধান দিতে উৎসাহিত করতে তথ্যদাতাদের জন্য আর্থিক পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে। ভারী অস্ত্রের তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা, পিস্তল, রিভলবার ও শটগানের তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্র, টিয়ার গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের তথ্য দিলে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের অস্ত্র, অপরাধীর হাতে: লুট হওয়া অস্ত্রের কিছু যে শেষ পর্যন্ত অপরাধীদের হাতে পৌঁছেছে, তার প্রমাণ মিলেছে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায়।
এর সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ চট্টগ্রামের সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ‘গলাকাটা মোবারক’। গত ২৬ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তারের অভিযান চলার সময় পুলিশের দিকে যে পিস্তল দিয়ে গুলি ছোড়া হয়েছিল, সেটি পরীক্ষা করে পুলিশ নিশ্চিত হয়—অস্ত্রটি পুলিশেরই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হয়েছিল ৯ মিমি পিস্তলটি।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোবারক পুলিশকে জানান, অন্য এক সন্ত্রাসীর মাধ্যমে তিনি অস্ত্রটি পেয়েছিলেন। অর্থাৎ থানা থেকে লুট হওয়ার পর অস্ত্রটি একপর্যায়ে চলে যায় অপরাধীদের নেটওয়ার্কে।
এ ঘটনা শুধু একটি অস্ত্রের নয়; লুট হওয়া অস্ত্রের অপব্যবহারের সম্ভাব্য চিত্রও সামনে এনেছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনে এক নারীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যবহৃত পিস্তলের সন্ধান করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে, সেটিও ঢাকার ওয়ারী থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র।
অর্থাৎ পুলিশের অস্ত্রাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্র শুধু হারিয়ে যায়নি; এর কিছু পরবর্তী সময়ে অপরাধের হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে।
নিখোঁজ অস্ত্রের বড় অংশ পিস্তল-শটগান: পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ছিল ১ হাজার ১১৪টি চায়না রাইফেল, ২৫৩টি চায়না এসএমজি, ৩৪টি এলএমজি, ৫৩৯টি ৭.৬২ মিমি পিস্তল, ১ হাজার ৯২টি ৯ মিমি পিস্তল এবং ২ হাজার ৭৯টি ১২-বোর শটগান। এর মধ্যে এখনো উদ্ধার হয়নি ১০৯টি চায়না রাইফেল, ৩০টি চায়না এসএমজি, তিনটি এলএমজি, ২০৩টি ৭.৬২ মিমি পিস্তল, ৪৪২টি ৯ মিমি পিস্তল এবং ৩৮৪টি ১২-বোর শটগান। এ ছাড়া রয়েছে ১২৮টি গ্যাস গান, সাতটি ৩৮ মিমি টিয়ার-গ্যাস লঞ্চার ও দুটি সিগন্যাল পিস্তল।
নিখোঁজ অস্ত্রের তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে ৯ মিমি পিস্তল ও ১২-বোর শটগান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য ব্যবহৃত এসব অস্ত্রের একটি অংশ যদি অপরাধীদের হাতে থেকে থাকে, তাহলে তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
চট্টগ্রামে এখনো নিখোঁজ ১৪৭ অস্ত্র: চট্টগ্রামের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। মহানগরের আট থানাসহ ২৯টি পুলিশ স্থাপনা থেকে লুট হয়েছিল ৯৪৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৮৬ হাজার ৪৭৮ রাউন্ড গোলাবারুদ। এর মধ্যে ৭৯৭টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এখনো সন্ধান মেলেনি ১৪৭টির।
সাম্প্রতিক উদ্ধার অভিযানের ঘটনাগুলোও দেখাচ্ছে, লুট হওয়া অস্ত্র দীর্ঘ সময় ধরে কোথাও লুকিয়ে থাকতে পারে।
২০২৬ সালের জুলাইয়ে চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা থেকে লুট হওয়া দুটি ৯ মিমি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। গত আগস্টে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মাছ ধরার সময় এক জেলের জালে উঠে আসে একটি শটগান। পরে রেজিস্টার যাচাই করে পুলিশ নিশ্চিত হয়, অস্ত্রটি আড়াইহাজার থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের একটি।
অর্থাৎ লুটের দুই বছর পরও এমন অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে, যেগুলো এতদিন কোথায় ছিল সে প্রশ্নও সামনে আসছে।
ফেরত দেওয়ার সময় পেরিয়েছে বহু আগে: লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেরত দেওয়ার জন্য ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব অস্ত্র ফেরত না আসায় পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় যৌথ অভিযান।
মাত্র নয় দিনের অভিযানে ১৪৪টি অস্ত্র উদ্ধার এবং ৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও বিপুলসংখ্যক অস্ত্র রয়ে গেছে নিখোঁজ।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ধারণা, লুট হওয়া কিছু অস্ত্র অপরাধীদের হাতে চলে গেছে। আবার কিছু অস্ত্র আতঙ্কিত বা উত্তেজিত মানুষ নিয়ে যাওয়ার পর কোথাও ফেলে দিতে পারে কিংবা পরে জমা দিয়ে থাকতে পারে। কিছু অস্ত্র সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশেও চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু কোনটি কোন পথে গেছে, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র নেই পুলিশের কাছে।
অস্ত্র বিক্রিতেও পুলিশের সদস্য: লুট হওয়া অস্ত্রের অপব্যবহারের পাশাপাশি এগুলো কেনাবেচার অভিযোগও উঠেছে। পুলিশ তদন্তে লুট হওয়া অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে কনস্টেবল মো. রিয়াদের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চে তাকে আরও পাঁচজনের সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রিয়াদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ধরনের ঘটনা শুধু অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টিকে নয়, পুলিশের অস্ত্র ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
কোথায় কত অস্ত্র, পূর্ণ হিসাবই নেই: সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, লুট হওয়া অস্ত্রের স্থাপনাভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো প্রকাশিত হয়নি। কোন স্থাপনা থেকে কোন ধরনের কত অস্ত্র লুট হয়েছিল, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর কোনটি পুলিশের কোন ইউনিট বা সদস্যের নামে বরাদ্দ ছিল—এসব তথ্যও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ফলে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সংখ্যা জানা গেলেও নিখোঁজ অস্ত্রের গতিপথ অনুসন্ধান করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব অস্ত্র জমা দেওয়া হয়নি, সেগুলো অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে চলে যাওয়া অস্ত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অন্য দেশের ভূখণ্ডে গিয়ে অভিযান চালাতে পারে না। তবে দেশের ভেতরে যেসব অস্ত্র পাওয়া যাবে, সেগুলো উদ্ধার করা হবে।’
ঝুঁকি শুধু অস্ত্র হারানোর নয়: পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, অবশিষ্ট অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান চলছে। লুট হওয়া অস্ত্র ব্যবহার করে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে বিষয়েও পুলিশ সতর্ক রয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—দুই বছর পরও ১ হাজার ৩০৯টি আগ্নেয়াস্ত্র কোথায়?
কিছু অস্ত্র যে অপরাধীদের হাতে পৌঁছেছে, তার প্রমাণ ইতোমধ্যে মিলেছে। আবার কোথাও জেলের জালে উঠছে লুট হওয়া শটগান, কোথাও উদ্ধার হচ্ছে থানার অস্ত্রাগার থেকে হারিয়ে যাওয়া পিস্তল। এসব ঘটনা বলছে, লুটের সেই অধ্যায় এখনো শেষ হয়নি।
অস্ত্রগুলো যতদিন উদ্ধার না হচ্ছে, ততদিন সেগুলো সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবেই থেকে যাচ্ছে। বিশেষ করে অপরাধে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ার পর নিখোঁজ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি আর শুধু পুলিশের হারানো সম্পদ উদ্ধারের প্রশ্ন নয়; এটি এখন জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি জাতীয় উদ্বেগ।
দেশে ধর্মের নামে রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি করার কোনো সুযোগ নেই মন্তব্য করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে শেখ হাসিনাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। এই দেশে সবার অধিকার সমান।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সবুজবাগ এলাকার একটি স্থানীয় কালী মন্দিরে আয়োজিত শুভ জন্মাষ্টমীর বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সবুজবাগ এলাকার সার্বিক শান্তি ও সম্প্রীতির কথা স্মরণ করে হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই এলাকার সর্বস্তরের মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন। আমি সাধারণ মানুষের এই ভালোবাসার মর্যাদা রাখব। যতদিন রাজনীতিতে সক্রিয় থাকব, ততদিন নিঃস্বার্থভাবে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাব।’
দেশগঠন ও সমান অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে সেতু প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা এমন কোনো বৈষম্যমূলক বাংলাদেশ দেখতে চাই না, যেখানে নাগরিকদের ‘সংখ্যাগুরু’ বা ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে বিচার করা হবে। রাষ্ট্র সবার জন্য সমান।”
এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের প্রতি শতভাগ সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাস দিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘রাষ্ট্রের কাছ থেকে পূর্ণ নিরাপত্তা পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে এবং সরকার তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।’
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, জাতিকে এগিয়ে নিতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে জ্ঞানভিত্তিক রাজনীতি অপরিহার্য।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা আয়োজিত ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা-২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার(বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী।
মন্ত্রী এ সময় বলেন, শুধু জিন্দাবাদ স্লোগানে আগামীর প্রজন্মকে আমরা যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে পারব না। এর জন্য প্রয়োজন জ্ঞানের বিকাশ। আগামীর বিশ্বে বিএনপিকে এগিয়ে নিতেও প্রয়োজন জ্ঞানের বিকাশ।
জিয়া স্মৃতি বইমেলা আয়োজকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, এই বইমেলাটি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্য নিঃসন্দেহে একটি মাইলফলক হিসেবে থাকবে।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান আরও বলেন, বাংলাদেশের যা কিছু শ্রেষ্ঠ অর্জন তার সবই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের হাত ধরেই এসেছে। ১৯৭১ সালে গোটা জাতি যখন দ্বিধাবিভক্ত ছিল, তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে গড়িমসি করেছিল, গোটা বাংলাদেশের মানুষ যখন স্বাধীনতামুখী ছিল তখন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে এ দেশের মানুষকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর জিয়াউর রহমান যখন ব্যারাকে ফিরে গিয়েছিলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সময়কালে বাংলাদেশে রক্তের হোলিখেলা চলেছে। জাসদের ৩০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। সে সময় কেরানীগঞ্জের সিদ্দিক মাস্টার বাংলাদেশে প্রথম গুমের শিকার হয়েছিলেন। কারণ তিনি শেখ মুজিবের দর্শন পছন্দ করতেন না। বাংলাদেশের প্রথম বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন সিরাজ শিকদার। সে বিষয়ে শেখ মুজিব পার্লামেন্ট উচ্চকণ্ঠে বলেছিলেন, ‘কোথায় আজ সিরাজ শিকদার’। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সময়ে ৩০ হাজার তরতাজা প্রাণকে জীবন দিতে হয়েছিল।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, খন্দকার মোশতাকের ষড়যন্ত্রে শেখ মুজিব নিহত হয়েছিলেন। সে সময় সেনাবাহিনীর মধ্যে ক্যু-পাল্টা ক্যু শুরু হয়। উত্তাল সেই দিনগুলোতে যখন এ দেশের মানুষ আবারও দিশেহারা হয়ে যায় তখন জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষা করেছিলেন। এটাই জিয়াউর রহমানের রাজনীতি।
আইনমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান দায়িত্ব নিয়ে এ দেশের গণতন্ত্রের দ্বার উন্মোচন করেছেন। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমান এসে সকল দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছেন। মানুষের জীবনে শান্তি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিকেরা জীবন দিয়েছেন। বিএনপির ৭০০-এর বেশি নেতাকর্মী গুম হয়েছে। ৬০ লাখের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীর নামে মামলা করা হয়েছিল। গত জুলাই আন্দোলনে এই প্রজন্মের ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে পঙ্গু করা হয়েছে। শহীদ জিয়া যে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন সে স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখতে ছাত্রদলকে গড়ে তোলা দরকার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের জাতিসত্তার রূপকার। জিয়াউর রহমান প্রকৃত অর্থে গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশের একমাত্র স্টেটসম্যান। স্বাধীনতা-উত্তর শ্বাপদসংকুল রাজনৈতিক, সামরিক পথপরিক্রমা, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে দিশাহীন জাতিকে দেখিয়েছিলেন আলোর পথ। জিয়াউর রহমান ছিলেন সত্যিকার অর্থেই আমাদের বাতিঘর। মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন কৃষি, শিল্প, মানবসম্পদ উন্নয়নে স্বনির্ভরতার দিকে। দেশে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।
বাসস সম্পাদক আরও বলেন, জিয়াউর রহমান এ দেশে একটি সাংস্কৃতিক জাগরণ চেয়েছিলেন। সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য এ দেশে যা কিছু প্রয়োজন তার সবই করেছেন তিনি।
কাদের গনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্থপতি। জিয়াউর রহমানকে যে বিশেষণেই বিশেষায়িত করা হোক না কেন, তাতে তাঁর যোগ্যতার পূর্ণ প্রকাশ ঘটে না, কারণ তাঁর কীর্তি বিপুল ও বিশাল। জাতির প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তিনি বারবার দাঁড়িয়েছেন নির্ভয়ে মাথা উঁচু করে। অসীম সাহসিকতা, দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা ও দেশপ্রেম নিয়ে তিনি সময়ের প্রয়োজনে আলোর দ্যুতি নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। বিপর্যস্ত জাতিকে রক্ষা করেছেন সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে। আমাদের অহংকারের অধ্যায়কে তিনি আলোকিত ও সমৃদ্ধ করেছেন। অল্পদিনের জীবনে বিশাল তাঁর অর্জন। মাত্র ৪৫ বছর বয়সে তিনি কর্মগুণে জ্যোতির্ময় হতে পেরেছিলেন; যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
জিয়াউর রহমান এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন উল্লেখ করে কাদের গনি বলেন, ১৯৭১ সালে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেলেও গণতন্ত্র পায়নি। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে দেশের সব রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে গণবিমুখ একদলীয় বাকশালী ব্যবস্থা চালু করেন। সে দিনগুলোতে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কোনো স্বাধীনতা ছিল না। গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। একদল, এক ব্যক্তির শাসনে গোটা দেশ এক বন্দিশালায় পরিণত হয়েছিল। জনগণ গণতন্ত্রের স্বাদ উপভোগ করতে পারেননি। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর গণতন্ত্রের দরজা উন্মুক্ত করে দেন। তিনি উপলব্ধি করেন যে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে অবশ্যই মত ও পথের শত ফুল ফুটতে দিতে হবে। এই লক্ষ্য ও মানসেই তিনি ১৯৭৬ সালে ‘রাজনৈতিক দল বিধি ১৯৭৬’ জারি করেন। এর ফলে আওয়ামী লীগসহ দেশে সব রাজনৈতিক দলের পুনরুজ্জীবনের সুযোগ ঘটে।
কাদের গনি আরও বলেন, জিয়া রাজনীতিকে প্রাসাদে বন্দি না করে সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। জিয়ার প্রতি জনগণের ভালোবাসার কারণে বিএনপি শুরু থেকেই জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তীতে বিএনপির গণমুখী কর্মকাণ্ডের কারণে দলটি মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়। তাই জনগণ যখনই ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছে, তখনই বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে।
জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান মিন্টুর সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ।
সূত্র: বাসস
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট আন্তর্জাতিক যুদ্ধ ও বিগত সরকারের ভুল পরিকল্পনার জন্য হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাজপথে আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে জাতীয় সংসদে পরামর্শ দেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) শিল্পকলা অ্যাকাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, আপনারা গ্যাস, বিদ্যুতের জন্য লংমার্চ করবেন, কর্মসূচি দেবেন ঠিক আছে। কিন্তু আপনারা একটা অল্টারনেটিভ বলুন, আমরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ কীভাবে সরবরাহ করব, কোথা থেকে পাব, কীভাবে পাব।
তিনি বলেন, কী কী পদক্ষেপ নিলে বর্তমান সংকট মোকাবিলা সম্ভব, সে বিষয়ে বিরোধীদলের একটি পরিকল্পনা দেওয়া উচিত। সংসদে বিরোধীদলের সদস্যদের কথা বলার সুযোগ রয়েছে। সরকারের সমালোচনা ও সংসদের বাইরে কর্মসূচি পালন গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা হলেও সংকট মোকাবিলায় পরামর্শ দেওয়াও প্রয়োজন।
রিজভী বলেন, একটা পরিকল্পিত অচলাবস্থা তৈরি করা আমার মনে হয় ঠিক হবে না। বরং কীভাবে এই সংকট নিবারণ করা যায়, সেই বিষয়ে পরিকল্পনা দিতে হবে। অতীতের পুনরাবৃত্তি হলে পরিস্থিতি আরও অন্ধকারের দিকে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে বৈশ্বিক যুদ্ধ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট রয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিতে সংকট দেখা দিয়েছে। এটি সরকারের নিজস্ব কোনো কারণে হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনে গান ও নৃত্যের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আন্দোলনকারীদের মধ্যে উদ্দীপনা ও সাহস তৈরি করেছিল।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি ফারহানা বেবীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন— সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, নায়ক হেলাল খান, জাকির হোসেন রুকন প্রমুখ।
বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’ হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, বরং এ দেশের প্রতিটি মানুষ নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে। আমাদের সবার প্রধান ও প্রথম পরিচিতি হওয়া উচিত ‘আমরা সবাই বাংলাদেশী’।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানী ঢাকার পলাশী মোড়ে অবস্থিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে ‘কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী উৎসব ১৪৩৩’ উপলক্ষ্যে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত ‘ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, "আমাদের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন—‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আর যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তবে আমরা প্রত্যেকেই ‘সবার আগে বাংলাদেশী’। আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এর পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ।"
অতীতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "অতীতে যারা মনে করত এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল যে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’, এ দেশের সচেতন জনগণ সেই ভুল ধারণা ও কৃত্রিম মিথ সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিগত ছয় মাসে দেশের সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আচার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনগণই বিচারক, আপনারা ইতোমধ্যে রায় দিয়েছেন এবং আগামীতেও গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় রাখতে এবং সব ধরনের অসুর শক্তি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আপনাদের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা থাকবে।
সংবিধান ও ধর্মীয় অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। সংবিধানের চেতনা অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো প্রকার বৈষম্য করা যাবে না। তিনি বলেন, সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সরকার কেবল সংবিধানে এটি কিতাবী রূপে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না, বাস্তবেও এই সাম্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
ভাষার ব্যবহারে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, "আমরা সচরাচর ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু আমি মনে করি ‘সাম্প্রদায়িক’ শব্দটির আর প্রয়োজন নেই। আজ থেকে আমাদের বলতে হবে—আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখব। এই ইতিবাচক চর্চাই সমাজকে আরও সুন্দর করবে।"
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ এর সভাপতিত্বে সমাবেশ ও মিছিলে উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার এবং ঢাকা-০৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস (সাধন)।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালকে দালালমুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল এবং শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই ঘোষণা দেন। এ সময় তাঁর সাথে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিলেটের হাসপাতালগুলোর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে। রোগীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে ভাগিয়ে নেওয়া দালাল চক্রের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে মন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে একটি চক্র রোগীদেরকে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যায়৷ এই দালাল চক্রকে ধরার জন্য ডিজিএফআই, র্যাবসহ সব আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী একযোগে কাজ করছে।’ তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন হাসপাতালে চলমান অভিযানের ফলে এই চক্রের দৌরাত্ম্য আগের চেয়ে অনেকটা কমে এসেছে।
অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে দেশজুড়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান ভুয়া চিকিৎসক বা সনদবিহীন টেকনিশিয়ান দিয়ে অপারেশনসহ চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করছে, সেগুলো সিলগালা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা তদারকি করছেন বলে জানান।
হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গত এক মাসে তাঁর পরিদর্শন করা ২৫টিরও বেশি হাসপাতালে চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া চিকিৎসকদের উন্নত আচরণ এবং হাসপাতালের খাবারের মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি জানিয়েছেন যে, বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী এবং সাংবাদিকরা যেন কোনো প্রকার ভয়ভীতি বা বাধা ছাড়াই তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা পাবলিক হলে আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের পেশাগত কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের নির্ধারিত বাজেট বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’ এছাড়া তিনি অপসাংবাদিকতা ও ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ রোধ করে পেশাগত উচ্চমান বজায় রাখতে প্রেস কাউন্সিলের সক্রিয় ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। হাওর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়নের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি জানান যে, বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে এবং শীঘ্রই এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেবল জিপিএ-৫ বা ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয় বরং নৈতিকতা ও মানবিক গুণসম্পন্ন আদর্শ নাগরিক হওয়া জরুরি। দেশ ও শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তরুণ সমাজকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার মাঠ আধুনিকায়ন এবং আধুনিক ভাষা শিক্ষার জন্য বিশেষ টেলিভিশন ও অনলাইন কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী।
কেন্দুয়া-আটপাড়া আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলিলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবুসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এই প্রাণবন্ত আয়োজনে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
সংসদীয় বিষয়াবলি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ-রাশিয়া সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ। প্রথাগত ও সরকারি কূটনীতির পাশাপাশি সংসদীয় কূটনীতি (পার্লামেন্টারি ডিপ্লোমেসি) এবং পেশাদার বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের আইনপ্রণেতাদের মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতেই গঠন করা হয়েছে এই কমিটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনের সঙ্গে বাংলাদেশ-রাশিয়া সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের একটি প্রতিনিধিদল এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়। বৈঠকে কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহুমুখী ক্ষেত্র ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপের সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপি দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধনের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই রাশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও পরীক্ষিত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে। সময়ের পরিক্রমায় দ্বিপাক্ষিক এই ঐতিহাসিক সম্পর্ক আজ সুদৃঢ় ও বিশ্বস্ত অংশীদারিত্বে রূপ নিয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, কৃষি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, পারমাণবিক বিজ্ঞান, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি খাত এবং সর্বোপরি দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বা ‘পিপল-টু-পিপল কানেকশন’ সুসংহত করতে যৌথ ও সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’ বৈদেশিক নীতিতে গভীরভাবে বিশ্বাস করে। নতুন প্রজন্মের সমন্বয় এবং নতুন কাঠামোর অধীনে যৌথ উদ্যোগে আগামী দিনে ঢাকা-মস্কো দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব আরও গভীর ও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে সার্বিক আশ্বস্ত করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক উন্নয়ন, উভয় দেশের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, দুই দেশের সংসদ সদস্যদের এই যৌথ অংশগ্রহণের ফলে বিদ্যমান বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
রাশিয়ান ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি উইথ বাংলাদেশের সভাপতি মিয়া সাত্তার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করেন। তিনি মন্তব্য করেন, পারস্পরিক সুবিধা বা ‘মিউচুয়াল বেনিফিট’ হলো যেকোনো টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আসল ভিত। জনকূটনীতি (পাবলিক ডিপ্লোমেসি) এবং সামাজিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার তাগিদ দেন তিনি। তিনি বলেন, যৌথ স্বার্থ ও সুবিধার ওপর ভিত্তি করে গঠিত বাংলাদেশ-রাশিয়া সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও নির্ভরতা বৃদ্ধি করতে সরাসরি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মৈত্রী গ্রুপের সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপির নেতৃত্বে সংসদ সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খাইরুল কবির খোকন, সাঈদ আল নোমান, সাইফুল আলম, আতিকুর রহমান মুজাহিদ এবং জেবা আমিন খান। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক ও কূটনৈতিক প্রটোকল সমন্বয়ের অংশ হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব ইউরোপ ও সিআইএস অনুবিভাগের মহাপরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকার পাশাপাশি রাশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ 'স্টেট দুমা'-তেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের মানোন্নয়নে একজন মুসলিম সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে 'গ্রুপ অব ডেপুটিস' বা সংসদীয় মৈত্রী দল গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক ও জনকূটনৈতিক পর্যায়ে দুই দেশের সুসম্পর্ক সুসংহত করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ চলছে। সংসদীয় কূটনীতির এই শক্তিশালী বিকাশ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক নানা ফোরামে উভয় দেশের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ভ্রমণের শর্ত আরও কঠোর করেছে মালয়েশিয়া। এখন থেকে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা (এমইভি) সুবিধা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার মোট ৩১টি দেশের নাগরিকদের জন্য সীমিত করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের নতুন এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে যে, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এই দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য ঢালাওভাবে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা আর ইস্যু করা হবে না। ফলে সাধারণ পর্যটন বা সামাজিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের জন্য মূলত সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসাই প্রযোজ্য হবে।
ইমিগ্রেশন বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সাধারণ ভিজিট ভিসায় এক বছরের দীর্ঘ মেয়াদী মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা পাওয়ার সুযোগ কমে গেলেও বিশেষ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রয়োজনে এই সুবিধা বহাল থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে—ব্যবসায়িক ভ্রমণ, উন্নত চিকিৎসা সেবা গ্রহণ, ‘ফ্লাই অ্যান্ড ক্রুজ’ এবং বিয়ের অনুষ্ঠান বা ওয়েডিং ট্যুরিজম। মূলত অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন রোধ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত করতেই মালয়েশিয়া সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নতুন এই ভিসা নীতি মূলত সামাজিক ভ্রমণ বা ট্যুরিস্ট ভিসার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি বা অন্যান্য বিদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান বা ওয়ার্ক পারমিট ভিসার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তের কোনো সরাসরি প্রভাব পড়বে না বলে জানানো হয়েছে। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত তালিকা ও নতুন নীতিমালার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে।