মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘১৯৭৫ সালের পর ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করা হয়েছে’

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৬ মার্চ, ২০২৪ ১৯:০৪

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘১৯৭৫ সালের পর মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃত ও পরিবর্তন করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। নতুন প্রজন্মের সবাইকে প্রকৃত ইতিহাস জানাতে হবে। আমরা বীরের জাতি, আমরা মাথা উঁচু করে থাকব। আমাদের অদম্য অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।’

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে মঙ্গলবার ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে। ১৯৫২ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলনের প্রেরণা ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যারা সম্মুখ সমরে অংশ নিয়েছি তাদের সবার প্রেরণার উৎস ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আধুনিক স্মার্ট বাংলাদেশে রূপান্তরিত হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা সামনের দিনেও অব্যাহত থাকবে।’

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য বেনজীর আহমদ। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করেছেন। দেশের অদম্য অগ্রযাত্রায় সহযাত্রী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের পরবর্তী প্রজন্ম সফলভাবে অংশ নিয়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলার প্রশাসক আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, বাঙালি ও বঙ্গবন্ধু অনিবার্যভাবে একে অপরের পরিপূরক। বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও একটি স্বতন্ত্র ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে। পরবর্তী সময়ে তার নেতৃত্ব ও ঘোষণায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ তৈরি হয়েছিল।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. সাবিরুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ঢাকা মহানগর ইউনিট কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শফিকুর রহমান শহীদ এবং সাবেক সহকারী কমান্ডার ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী।

পুলিশ বঙ্গবন্ধুর ডাকে প্রথম প্রতিরোধ এনেছিল

এর আগে সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ স্মৃতিস্তম্ভে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা ঘোষণার আগেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের মাধ্যমে নির্মম হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল। সেই অভিযানের একটি অংশ এসে রাজারবাগে অবস্থান করেছিল।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চে ঘোষণা দিয়েছিলেন- ‘তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়েই শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে।’ যথার্থভাবেই এই রাজারবাগের পুলিশ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ডাকে সাড়া দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। প্রথম প্রতিরোধ এনেছিল। এ জন্যই আমরা তাদের গভীরভাবে স্মরণ করি। আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি সে দিন রাজারবাগে যারা শাহাদত বরণ করেছিলেন।’

বিষয়:

নির্বাচিত

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলতে প্রতিটি পাড়া ও মহল্লায় নিয়মিত মাইকিংয়ের পাশাপাশি জুমার নামাজের খুতবায় সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়া রোধে সব সরকারি সংস্থাকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিশেষ বৈঠকে এই নির্দেশনা প্রদান করেন সরকারপ্রধান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, সেসব এলাকায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

মশা নিধনে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জুমার খুতবায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করতে হবে।

এ ছাড়া সরকারি আবাসিক কোয়ার্টার ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণ সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কাজের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে।

উক্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।


নির্বাচিত

নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় ব্যবস্থা নেবে সরকার: ডা. জাহেদ উর রহমান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের জন এফ কেনেডি বা জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অবমাননা ও হেনস্তা করার যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার। সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এই কথা স্পষ্ট করেছেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায় যে, বিমানবন্দরের ভেতরের অংশে হুইলচেয়ারে বসে থাকা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঠিক কাছাকাছি গিয়ে কিছু লোক অত্যন্ত উগ্র ও উচ্চস্বরে নানা স্লোগান দিচ্ছেন। সেই সময় বিক্ষোভকারীরা তাকে লক্ষ্য করে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করে চিৎকার করছিলেন। এছাড়া ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়ার ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার সঙ্গে থাকা একজন সহযোগীর তাৎক্ষণিক সহায়তায় তিনি সেখান থেকে সামনের দিকে এগিয়ে যান।

এই প্রসঙ্গ টেনে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং সেখানে বিমানবন্দর চত্বরে তাকে সুপরিকল্পিতভাবে হেনস্তা করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি যেভাবে রাষ্ট্রের গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন, সেটির ক্ষোভ থেকেই তার ওপর এই ধরনের অনভিপ্রেত হামলা বা হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। ড. ইউনূস সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বা আদর্শিক যৌক্তিক সমালোচনা যে কেউ করতেই পারেন, কিন্তু এ ধরনের অপমানজনক হেনস্তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের কোনো কোনো মন্ত্রীর ক্ষেত্রেও অতীতে এই ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি জানান, বিগত জুলাই মাসের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে সংহতি প্রকাশ করা দেশের একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীও একইভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছেন। তাছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা ব্যক্তিবর্গকেও মাঝেমধ্যেই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরনের বিচ্ছিন্ন ও উগ্র কর্মকাণ্ডগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে সন্ত্রাস হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

উপদেষ্টা আরও স্পষ্ট করে বলেন, এর আগে ঘটে যাওয়া ওই অভিনেত্রীর হেনস্তার ঘটনায় ইতোমধ্যে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। ঠিক একইভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুযায়ী ড. ইউনূসের যে ভিভিআইপি মর্যাদা পাওয়ার কথা, মার্কিন ভূমিতে তার প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় কোথাও কোনো ঘাটতি বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ব্যত্যয় ঘটেছিল কি না, তা সরকার খতিয়ে দেখবে।

বিদেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক বা রাষ্ট্রীয় ব্যক্তির ওপর এ ধরনের হামলা বা অপমানের চেষ্টা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উচ্চারণ করেন যে, বিদেশে অবস্থানরত বা পলায়নপর মহলের কেউ এ ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে তার বিরুদ্ধে সরকার সবসময় কঠোর ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।


নির্বাচিত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসন কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না: মীর শাহে আলম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত, অবাধ ও নিরপেক্ষ রাখতে সরকার কিংবা প্রশাসন কোনো অবস্থাতেই বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করবে না বলে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সচিবালয়ে গ্রাম পুলিশের সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই কঠোর অবস্থান পরিষ্কার করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের একদম অবস্থান যেটি, সেটি হচ্ছে যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার এবং প্রশাসন হস্তক্ষেপ করবে না। নির্বাচন কমিশন মাঠপর্যায়ে যাদের দায়িত্ব অর্পণ করবে, আমাদের সেই সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনকে আমরা পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছি এবং প্রয়োজনে আবারও দেব, যাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা সমঅধিকার নিশ্চিত করার স্বার্থে যা যা করা দরকার তারা যেন ঠিক তাই করে। তিনি আরও যোগ করেন, এই নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিন্দুমাত্র কোনো কলঙ্ক এই সরকার কাঁধে নিতে রাজি নয়।

অতীতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বিতর্কিত নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে একটি অনন্য রোল মডেলে রূপ দেওয়া সম্ভব কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান যে, রোল মডেলের কথা আমি বলব না, আমরা বলব যে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য চেষ্টা করব। তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, এ দেশে তো অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকারের ক্ষেত্রে সেভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব যাতে সাধারণ মানুষ একটি উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে এবং আনন্দের আমেজে একটি নিরপেক্ষ ভোট উৎসব উপভোগ করতে পারে। এই লক্ষ্য অর্জনে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি ইনশাআল্লাহ ব্যক্ত করেন।

চলমান অর্থবছরের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সব ধরনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের পক্ষ থেকে আরও একবার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এই সমস্ত নির্বাচন সফলভাবে আয়োজনের উদ্দেশ্যে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার একটি উল্লেখযোগ্য বাজেট বরাদ্দ করে রাখা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারের এই সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে এবং আমরা নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছি যে এর মধ্যে যদি তাদের নতুন কোনো তারিখ নির্ধারণ করার প্রয়োজন পড়ে, তবে তা চূড়ান্ত করে এই সমস্ত নির্বাচন যেন তারা আগামী জুনের মধ্যে অবশ্যই শেষ করে দেন।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন মে মাস পর্যন্ত গড়ালে বাকি নির্বাচনগুলো জুনের মধ্যে আয়োজন করা কি আদৌ সম্ভব হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান যে, এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আপনাদের সুনির্দিষ্ট জবাব দেবে, কারণ আমরা তাদের বারবার অনুরোধ করেছি যেন বর্তমান এই অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করা হয়। তিনি বলেন, আমরা প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ রেখেছি। এখন উনারা নির্বাচন শেষ করতে না পারলে বাজেট আমাদের রয়ে যাবে, পরের অর্থবছরে চলে যাবে। এই সিদ্ধান্তটা উনাদেরই নিতে হবে। সরকারের মূল নীতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সরকারের পরিষ্কার অবস্থান হলো জুনের মধ্যে সমস্ত নির্বাচন যেন তারা শেষ করে দেয়, তা সে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ যেটাই হোক না কেন।

নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান যে, এটি তো মূলত সচিব পর্যায়ের একটি নিয়মিত সভার মাধ্যমে হয়ে থাকে, যেখানে সরাসরি সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন কোনো রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে না; বরং নির্বাচন কমিশন নিজস্ব উদ্যোগে একটি সভা করে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের আমন্ত্রণ জানায় এবং সেখানে ক্যাবিনেট সচিবের নেতৃত্বে সচিবরা উপস্থিত থাকেন। সচিবদের সঙ্গে সেই বৈঠকের পরই তারা স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোর প্রাথমিক তারিখগুলো সম্ভবত নির্ধারণ করে থাকে এবং পরবর্তী নির্বাচনগুলোর কর্মপরিকল্পনা কবে ও কীভাবে সম্পন্ন হবে তা ওই সচিব পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমেই ঠিক করা হয়।

নির্ধারিত জুনের মধ্যে সমস্ত নির্বাচন শেষ করা আদৌ সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি আপনাদের নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে। কারণ নির্বাচন সফলভাবে পরিচালনা করার মূল দায়িত্ব তো সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনেরই। এখন তারা কতটুকু সক্ষমতা দেখাতে পারবেন বা পারবেন না, তার জবাব তারাই প্রদান করবেন, কারণ নির্বাচন তো আর আমরা পরিচালনা করব না, নির্বাচন তো নির্বাচন কমিশনকেই করতে হবে। পরিশেষে তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে আবারও আপনাদের মাধ্যমে আজকে বলছি যে এই অর্থবছরের মধ্যে যাতে নির্বাচনগুলো তারা শেষ করে দেন, এ ব্যাপারে আপনাদের মাধ্যমে আমি নির্বাচন কমিশনকে আজকে আবারও বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করছি।


নির্বাচিত

সচিবালয়ে কড়াকড়ি, সংসদ সদস্যের গাড়িতে অতিরিক্ত যাত্রী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৪০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার ও কড়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার স্বার্থে সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন ও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে সম্মানিত সংসদ সদস্যরা তাদের নিজস্ব গাড়িতে যাতায়াতের সময় কেবল নিজ চালক এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কোনো অতিরিক্ত ব্যক্তিকে ভেতরের চত্বরে প্রবেশের সুযোগ দিতে পারবেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে সচিবালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে সংশ্লিষ্ট একাধিক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় যে, এমপিদের ব্যক্তিগত গাড়িতে যাতায়াতের সময় নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বাইরে অন্য কাউকে সঙ্গে রাখা যাবে না এবং প্রবেশকালে তাদের সঠিক পরিচয় ও বৈধ অনুমোদন কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে দেখা গেছে অনেক সংসদ সদস্য তাদের ব্যক্তিগত গাড়িতে একবারে চার থেকে পাঁচজন বা তারও বেশি অতিরিক্ত ব্যক্তিকে নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করতেন। গাড়িতে থাকা এই অতিরিক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় ও তারা যথাযথ অনুমোদিত কি না, তা সবসময় যাচাই করা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াত। বিশেষ করে অতীতে বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যদের গাড়িতে থাকা বাড়তি লোকজনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনকারী সদস্যরা অনেক সময় যথাযথ কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারতেন না বলে নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে।

সচিবালয় চত্বরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় এটি একটি অতি সংবেদনশীল প্রশাসনিক জোন। যথাযথ যাচাই-বাছাই বা পূর্বানুমতি ছাড়া যেকোনো অতিরিক্ত ব্যক্তির অবাধ প্রবেশ সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে। সেই সার্বিক দিক বিবেচনা করেই প্রবেশাধিকার সীমিত করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই নির্দেশনা পুরোপুরি কার্যকর হলে তা সচিবালয়ের প্রবেশদ্বারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


নির্বাচিত

বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে : অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণসহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। এটা একটা আলোচনা। এই আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এটি একটি প্রক্রিয়া, যা আগামী কয়েক মাস চলবে।’

তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই পক্ষের করণীয় নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে ঢাকায়ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতি, কর্মসূচি এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সমঝোতা রয়েছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের গৃহীত নীতির সঙ্গেও সংস্থাটি একমত।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এসব বিষয় বিশ্বব্যাংক অনুধাবন করছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পাশে থাকতে খুবই আগ্রহী। আমরা যে নীতি গ্রহণ করেছি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পর আগামী দিনের জন্য যে অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও গতিপথ নির্ধারণ করেছি, তার সঙ্গে বিশ্বব্যাংক পুরোপুরি একমত।’

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশও নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরেছে।

মূল্যস্ফীতি ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার অন্য কোনো সংস্থার প্রক্ষেপণকে বিতর্কিত করতে চায় না। সংস্থাগুলো নিজস্ব হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এসব পূর্বাভাস দিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার বাজেটে নির্ধারিত অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে। বাজেটে দেওয়া প্রক্ষেপণগুলো পূরণ করা সম্ভব হবে বলেও সরকার আশা করছে। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও বাস্তবভিত্তিক যথাযথ নগর পরিকল্পনার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা ও ক্ষয়-ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্ততি গ্রহণ এবং যথাযথ নগর পরিকল্পনার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানব সৃষ্ট দুর্যোগও আছে। কিন্তু এটা নিয়ে আমরা খুব কম চিন্তা করি। ঢাকা শহরের দিকে তাকিয়ে আজ যে আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি হয় তা হলো ভূমিকম্প হলে শহরটি একেবারে মিশে যাবে। আমরা দেখেছি বিশ্বের বিভিন্ন শহরে পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থা না থাকার কারণে প্রাণহানির সংখ্যা অনেক বেশি হয়। তাই এই বিষয়গুলোতে আমাদের অনেক বেশি দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ করে বাড়িঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে নগর ব্যবস্থাপনা, নদীর প্রবাহকে ঠিক রাখা এবং নদীকে দূষণমুক্ত রাখার বিষয়গুলোতে অত্যধিক জোর দেওয়া দরকার।

রাষ্ট্রপতি আজ সকালে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলম। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সারাদেশে প্রায় ১০ হাজার বিজিবি মোতায়েন থাকবে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শারদীয় দুর্গোৎসবের সময় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে গোটা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় দশ হাজার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আসন্ন আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এই বিশেষ দায়িত্ব পালন করবেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা। বিজিবি সদর দপ্তরের অপারেশন ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান যে, এই ধর্মীয় উৎসবটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই কৌশলের আওতায় নিয়মিত যাতায়াত বা টহল বৃদ্ধি, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখা হবে।

যেকোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও সাম্প্রদায়িক প্ররোচনার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক দৃষ্টি রাখা এবং উদ্ভূত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান আরও জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখার আট কিলোমিটারের মধ্যে এবং ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টারের কাছাকাছি এলাকার মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপে সরাসরি নিরাপত্তা সহায়তা দেবে বিজিবি। এর পাশাপাশি তুলনামূলক দূরবর্তী ও দুর্গম অঞ্চলে দ্রুত গতিতে টহল এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার স্বার্থে পর্যাপ্তসংখ্যক অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে।

রাজধানী ঢাকায় বিজিবি মোতায়েন ও তাদের কার্যক্রমের পরিধি সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে তা নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজন সাপেক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে টহল দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা এবং যেকোনো জরুরি মুহূর্তে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সদা প্রস্তুত থাকবে বিজিবি।

তিনি আরও যোগ করেন যে, দুর্গাপূজা হলো আমাদের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ। সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকরা যাতে কোনো ধরনের ভীতি ছাড়াই সম্পূর্ণ নিরাপদে ও আনন্দের সঙ্গে তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বদা বদ্ধপরিকর থাকবে।


নির্বাচিত

অর্থনীতির পুনর্গঠনে বাংলাদেশকে পূর্ণ সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংক প্রস্তুত: অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠা, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন রূপরেখা বাস্তবায়নে বর্তমান প্রশাসনের নেওয়া নীতিগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক সম্পূর্ণ একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত নাজুক ও সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিল। বিগত আমলের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার আর্থিক দায়ভার বর্তমান প্রশাসনকে বহন করতে হচ্ছে, যার সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাবও যুক্ত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার অর্থনীতিকে সঠিক ট্র্যাকে ফেরাতে যেসব কার্যকর সংস্কারমূলক পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে, বিশ্বব্যাংক তা গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের পাশে থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদানে বিশ্বব্যাংক অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার পর আগামী দিনের অগ্রগতির জন্য যে সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও পথনকশা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার সঙ্গে সংস্থাটির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। সম্মিলিতভাবে এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে দুই পক্ষই একসঙ্গে কাজ করবে।

বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাওয়ার গুঞ্জন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা পাকা সিদ্ধান্ত হয়নি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক আলোচনা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা চূড়ান্ত হতে আগামী আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোকে তিনি ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।

মূল্যস্ফীতি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক সংস্থার প্রাক্কলন সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাসকে খাটো বা বিতর্কিত করতে চায় না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব গবেষণালব্ধ পদ্ধতি ও হিসাবের ভিত্তিতে এই প্রাক্কলন করে থাকে। সরকার নিজের মতো করে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সময়ের ব্যবধানে অর্থনৈতিক সূচকগুলোর প্রকৃত চিত্র সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।


নির্বাচিত

আরব আমিরাতে শ্রমবাজার ও নতুন সুযোগের সম্ভাবনা নিয়ে মাহ্দী আমিন-রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি ট্যাক্সি ও ট্রাক ড্রাইভারসহ দক্ষ শ্রমিকদের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে এক ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও আরব আমিরাতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং মুসলিম ভ্রাতৃত্বের গভীর বন্ধন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বিশেষ করে দুই দেশের এই ঐতিহাসিক কূটনৈতিক ভিত্তি যা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে সুসংহত হয়েছিল, তা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।

বৈঠকে সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকের ধারাবাহিক আলোচনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।

এ সময় দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া, জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার আরও প্রসারিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

বিশেষ করে আমিরাতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ট্যাক্সি ড্রাইভার ও ট্রাক ড্রাইভারের পেশায় কাজের সুযোগ সৃষ্টি এবং অধিক সংখ্যক দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বের সাথে কথা বলেন উভয় প্রতিনিধি।

এছাড়া দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, বাংলাদেশে ইউএই’র বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা জোরদার এবং কৌশলগত অবকাঠামো ও শিল্প খাতে নতুন অংশীদারিত্ব সৃষ্টির সুযোগ নিয়ে বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

সরকারি প্রণোদনা আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় যথাযথভাবে পৌঁছায় না: ডেপুটি স্পিকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মন্তব্য করেছেন যে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য সরকার প্রণোদনা দিলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কারণে তা সঠিক উপায়ে বণ্টন হয় না।

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শরৎ উৎসব ও নবীন বরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি সেবা ও সহায়তা জনগণের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছাতে প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে শুধু রাজনৈতিক সংস্কারেই মুক্তি নেই, বরং এর পাশাপাশি আমলাতন্ত্র, সিভিল প্রশাসন এবং প্রকৌশল বিভাগের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও কাঠামোগত পরিবর্তন আনা জরুরি।

নবগঠিত বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে সুগম করতে দেশের রাজনৈতিক শক্তি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সাধারণ নাগরিকদের একযোগে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি যোগ করেন যে দেশ গঠনের এই মহৎ যাত্রায় কেবল সরকারদলীয় নয়, বরং বিরোধী দলগুলোকেও অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে।


নির্বাচিত

প্রবাসীদের জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিকল্পনা: আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:৫৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, প্রবাসীরা বিদেশ থেকে টাকা পাঠিয়ে দেশে সম্পত্তি ক্রয় বা পরিবারের কাছে পাঠানো টাকা ফেরত চাওয়া সংক্রান্ত মামলায় বছরের পর বছর হয়রানির শিকার হন। এই ভোগান্তি কমাতে বিভাগীয় সদর দপ্তরে প্রবাসীদের জন্য বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই আদালত শুধু প্রবাসীদের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কাজ করবে। বর্তমানে প্রস্তাবটি খসড়া পর্যায়ে রয়েছে।

আজ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘সোনার মানুষ সম্মিলন-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সোপান হলো অভিবাসী শ্রমিকরা। তৈরি পোশাক, কৃষি, চিংড়ি, পাট ও চা রপ্তানির পাশাপাশি শ্রম রপ্তানিই বর্তমানে অর্থনীতির মূল মেরুদণ্ড। কায়িক শ্রমের পাশাপাশি এখন বুদ্ধিবৃত্তিক অভিবাসনও বিকশিত হচ্ছে। প্রবাসী শ্রমিকরা দেশে কোনো আইনি সমস্যায় পড়লে লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা আইনি সহায়তা পাবেন। এ জন্য একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। সেখানে যুগ্ম জেলা জজ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ লিগ্যাল এইড অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি দুবাই সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, সেখানকার শ্রমিকদের জীবন অত্যন্ত কষ্টের। সকালে বাথরুমে যেতে দীর্ঘ লাইন, কাজের জন্য দুই ঘণ্টা আগে রওনা হওয়া, রাত ৮-৯টায় ফিরে আবার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে রান্না করা— এই অমানবিক পরিশ্রমের পরও অন্যান্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় বাংলাদেশি শ্রমিকরা অনেক কম মজুরি পান। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য তিনি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান।

প্রবাসীদের অন্যতম সংকট হিসেবে অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায়ী করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ইতোমধ্যে ৫ হাজার ভিসা বাতিল করা হয়েছে, আরও অনেক ভিসা বাতিলের অপেক্ষায় রয়েছে।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, অনেক এজেন্সি এমন ভুয়া সার্টিফিকেট ও নথি জমা দিচ্ছে, যার কোনো অস্তিত্বই নেই। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে সহজেই সত্যতা যাচাই করা যায় বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।

রামরুর ৩০ বছরের পথচলার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, রামরু এবং রামরু টিম শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজে এখন পর্যন্ত সম্পৃক্ত হয়নি। রামরুর বিরুদ্ধে শ্রমিকদের নামে টাকা এনে তহবিল তছরুপের কোনো অভিযোগ ওঠেনি। রামরুর চিন্তার স্বচ্ছতার মধ্যে আমরা কোনো দূষণ দেখিনি। রামরুকে কখনো লেজুড়বৃত্তি করতে দেখিনি।’

অনুষ্ঠানে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ৩০ বছরের পথচলা আগামী ১০০ বছরে রূপান্তরিত হবে এবং এমন এক বাংলাদেশ তৈরি হবে যেখানে শ্রমিকরা দেশে ফিরে এসে কাজ করবেন এবং বাংলাদেশ অন্য দেশ থেকে শ্রমিক নেবে। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

পূজায় নৌপথে যাতায়াতে যাত্রী সুরক্ষায় ১৬ নির্দেশনা জারি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নদীপথে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। জরুরি উদ্ধারকারী জাহাজ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা, ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল কঠোরভাবে বন্ধ করা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধ এবং রাতে স্পিডবোট চলাচল স্থগিত করাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জন্য ১৬ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ছন্দা পালের স্বাক্ষরে জারি করা এই আদেশটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে অবিলম্বে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, টার্মিনালের নির্ধারিত পন্টুন ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে যাত্রী ওঠানামা করানো যাবে না এবং সদরঘাটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে নদীর মাঝপথে ছোট নৌকা বা ট্রলারের মাধ্যমে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে যাত্রী তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একই সাথে প্রতিটি নৌযানে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা যায়। যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে ত্রুটিযুক্ত ও ফিটনেসবিহীন লঞ্চ, নৌযান ও ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাতের বেলা স্পিডবোট চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে এবং দিনের বেলায় চলাচলের সময় নদীর মাঝপথ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য লাইফ জ্যাকেট পরিধান নিশ্চিত করতে হবে।

জরুরি উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার সুবিধার্থে উদ্ধারকারী জাহাজ সবসময় প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা জোরদার এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সদরঘাট নৌ টার্মিনাল ও পন্টুন চত্বরে হকার ও ক্যানভাসারদের অবস্থান নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি টার্মিনালের প্রবেশপথে নৌযানের রুট ও পন্টুনের তথ্য প্রদর্শন এবং অবৈধ পার্কিং বন্ধের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ফেরিঘাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যানবাহনের সারিবদ্ধ প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং ফেরিতে ওঠার আগে চালক ছাড়া গণপরিবহনের অন্যান্য যাত্রীদের গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার নিয়ম কার্যকরে ঘাটে দিকনির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে টার্মিনালগুলোতে নারী, শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সুবিধার জন্য নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা, বিশ্রামাগার ও মোবাইল ফোন চার্জিংয়ের ব্যবস্থা উন্নত করার নির্দেশ রয়েছে।

নৌযাত্রায় জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগের জন্য প্রতিটি লঞ্চে চারটি জরুরি হটলাইন নম্বর প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, ফায়ার সার্ভিস ১০২, বিআইডব্লিউটিএর যাত্রীসেবা ১৬১১৩ এবং কোস্ট গার্ডের ১৬১১১। এর পাশাপাশি নদীপথের আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য জানতে ১০৯০ অথবা ৪১০২৫৭৩০ ও ৪১০২৫৭৩১ নম্বরে যোগাযোগের জন্য যাত্রীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।


নির্বাচিত

ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৬১ ফ্লাইট স্থগিত, ভোগান্তিতে ৯ হাজার যাত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে বিভিন্ন রুটের মোট ৬১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। শনিবার থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত এসব ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যগামী ৯ হাজার ২৬৯ জন যাত্রী চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ২২টি সরাসরি এবং ৩৯টি বিভিন্ন ট্রানজিট রুটের ফ্লাইট। সরাসরি যাত্রার ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯টি, রিয়াদ এয়ারের ৭টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৪টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে ট্রানজিট সুবিধায় রিয়াদগামী যাত্রীদের বহন করার কথা থাকলেও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি, সালামএয়ারের ৩টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর রিয়াদমুখী সংযোগ স্থগিত থাকায় ঢাকা থেকেও এসব যাত্রীকে গন্তব্যে পাঠানো সম্ভব হয়নি।

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় রবিবার রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। বিগত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচ দফা আক্রমণ চালানো হয়। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবারের হামলায় টার্মিনালের অবকাঠামো ও সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এক বৈমানিকসহ তিন সৌদি নাগরিকের প্রাণহানি ঘটে।

বিগত দুই মাস ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী এবং হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে রিয়াদ বিমানবন্দর। এর আগে সৌদির আকাশসীমা ব্যবহারকারী যেকোনো এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে কঠোর পরিণতির হুমকি দিয়েছিল হুথি গোষ্ঠী, যার ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের হামলা সংঘটিত হয় এবং ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক আকাশপথে বড় আকারের এই বিপর্যয় নেমে আসে।


নির্বাচিত

banner close