শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩০ মাঘ ১৪৩২

ঈদযাত্রাকালে বিমানবন্দরে থামবে না উত্তরাঞ্চলের ট্রেন

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২ এপ্রিল, ২০২৪ ২০:৫৬

রেলে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে ঢাকামুখী উত্তরাঞ্চলের নয়টি আন্তনগর ট্রেনের বিমানবন্দর স্টেশনের যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এসব ট্রেন বিমানবন্দরে না থেমে সরাসরি কমলাপুর চলে যাবে। ঈদকে কেন্দ্র করে রেলওয়ের কর্মপরিকল্পনার কার্যবিবরণীতে এমন তথ্যের উল্লেখ আছে।

ট্রেনগুলো হলো একতা, দ্রুতযান, পঞ্চগড়, নীলসাগর, কুড়িগ্রাম, লালমনি, রংপুর, চিলাহাটি ও বুড়িমারী এক্সপ্রেস। অন্যদিকে সুন্দরবন, মধুমতি, বেনাপোল এক্সপ্রেস ও নকশীকাঁথা কমিউটার ট্রেন ঢাকা (কমলাপুর) রেলওয়ে স্টেশনের শহরতলি প্ল্যাটফর্ম থেকে যাত্রা শুরু করবে।

এদিকে আগামীকাল বুধবার থেকে জয়দেবপুর স্টেশন থেকে ঢাকামুখী এবং ঢাকা (কমলাপুর) স্টেশন থেকে জয়দেবপুরমুখী আন্তনগর কোনো ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হবে না। আবার বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ঢাকাগামী এবং ঢাকা স্টেশন থেকে বিমানবন্দরগামী আন্তনগর ট্রেনে কোনো টিকিট বিক্রি করা হবে না।


কোনো কেন্দ্র দখলের খবর আমাদের কাছে আসেনি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও কোনো ভোটকেন্দ্র দখলের খবর পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকায় স্কলার্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোট প্রদান শেষে তিনি গণমাধ্যমের সামনে দেশের সার্বিক নির্বাচনি পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান ও তাঁর ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আজকের দিনটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে বদ্ধপরিকর। আল্লাহর রহমতে এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ অত্যন্ত ইতিবাচক রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ভোটাররা যাতে কোনো প্রকার ভয়ভীতি ছাড়াই কেন্দ্রে আসতে পারেন, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কেন্দ্র দখলের মতো কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত তথ্য এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পৌঁছায়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

নির্বাচনে একজনের ভোট অন্যজন দিয়ে দেওয়ার মতো অনিয়ম বা ‘ভুয়া ভোট’ প্রদানের অভিযোগ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এবারের কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারির মধ্যে এমন কারচুপির সম্ভাবনা খুবই কম। তবে এ ধরনের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা ভিডিও প্রমাণ যদি কারো কাছে থাকে, তবে তা প্রশাসনকে সরবরাহ করার অনুরোধ জানান তিনি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, যেকোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটা ছোটখাটো কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার কথা স্বীকার করলেও সামগ্রিকভাবে নির্বাচনি পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাংবাদিকরা দেশবাসীকে প্রকৃত চিত্র জানাতে পারেন। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সত্য সংবাদ প্রচারের আহ্বান জানান যাতে কোনো প্রকার গুজব বা অপপ্রচার নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে। দিনের বাকি সময়টুকু আরও শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে অতিবাহিত হবে এবং জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। নির্বাচন ঘিরে গৃহীত তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মাঠ পর্যায়ে অত্যন্ত কার্যকর রয়েছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।


দেশে ভোট উৎসব শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর নানামুখী রাজনৈতিক সমীকরণের অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় সনদ বিষয়ক ঐতিহাসিক গণভোট। সাতসকালেই দেশের প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামগুলোতেও ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বিশেষ করে অনেক ভোটারকে ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই কেন্দ্রের সামনে উপস্থিত হতে দেখা যায়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনারই প্রতিফলন। এবারের নির্বাচনে ভোটাররা দুটি ভিন্ন রঙের ব্যালট পেপারে তাঁদের রায় প্রদান করছেন—সাদা ব্যালটটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং গোলাপি ব্যালটটি ব্যবহৃত হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ‘জুলাই সনদ’ বিষয়ক গণভোটের জন্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন মোড়। বিশেষ করে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর দেশে একটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াই করছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট। এই শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল নেতৃত্ব এবং প্রস্তাবিত রাষ্ট্রীয় সংস্কারগুলোর ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি। আওয়ামী লীগের গত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনের পর একটি অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য দেশবাসীর যে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল, আজ তার চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট সম্পন্ন করতে দেশজুড়ে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ ১৯ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যারা মাঠ পর্যায়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশের মোট ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর একজন প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। ফলে অবশিষ্ট ২৯৯টি আসনে আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। এবারের নির্বাচনি ময়দানে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী লড়াই করছেন, যার মধ্যে রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থীর পাশাপাশি ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজারের বেশি ভোটার আজ তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, যার মধ্যে নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান। সারাদেশে স্থাপিত ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ২১ হাজার ৫০৬টি কেন্দ্রকে অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে বিশেষ নজরদারি ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে এবার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রায় সাড়ে পাঁচশ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক এই ঐতিহাসিক ভোট প্রত্যক্ষ করতে বাংলাদেশে এসেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কমনওয়েলথ ছাড়াও তুরস্ক, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া এবং ভারতসহ বিভিন্ন দেশের নির্বাচন কমিশনার ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করছেন। এ ছাড়া আলজাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স এবং এপির মতো শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো সরাসরি নির্বাচনি সংবাদ কভার করছে। নির্বাচন কমিশনও স্বচ্ছতার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ৯ মাস ধরে লজিস্টিক ও কারিগরি প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে এবং প্রায় ৮ লাখ নির্বাচনি কর্মকর্তাকে আধুনিক ভোট ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

ভোটগ্রহণের আগের দিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে পূর্ণ প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি জয়-পরাজয়কে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। ভোটগ্রহণ শেষে আজ সন্ধ্যায় কেন্দ্রেই বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত ফলাফল সংকলন করবেন। নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুক্রবার সকালের মধ্যে জাতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ও পূর্ণাঙ্গ ফলাফল জানতে পারবে। সব মিলিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক গন্তব্যের পথে দেশ আজ ব্যালট যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে।


প্রত্যাশার ভোট আজ

* সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়, মাঠে ৯ লাখ সদস্যের বিশাল বাহিনী * ২৯৯টি আসনে অংশ নিচ্ছে ৫০টি দল * প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২ হাজার ২৮ প্রার্থী * মূল লড়াই সীমাবদ্ধ থাকছে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে * নজর সবার ঢাকা-১৭ ও ঢাকা-১৫ আসনের দিকে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আজ। এবার এক ভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রথমবারের মতো একই দিনে ব্যালটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের পক্ষে-বিপক্ষে রায় দেবেন ভোটাররা। এ নির্বাচন ঘিরে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে; মাঠে নেমেছে ৯ লাখ সদস্যের বিশাল বাহিনী। দীর্ঘদিন পর একটি মুক্ত ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ নাড়ির টানে গ্রামে গেছেন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে।

সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীন সর্বশেষ তিনটি নির্বাচনই ছিল বিতর্কিত। এর মধ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচন ‘একতরফা’, ২০১৮ সালে নির্বাচন ‘রাতের ভোট’ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন ‘আমি–ডামির নির্বাচন’ হিসেবে পরিচিতি পায়। ভোটারদের একটি বড় অংশই বিগত নির্বাচনগুলোতে ভোট দিতে পারেননি। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনার পতন হয়। ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছরের মাথায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, দুটি ভোট একই দিনে হওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় এবার এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সংসদ নির্বাচনের জন্য সাদা ব্যালট এবং গণভোটের জন্য গোলাপী ব্যালট ব্যবহার করা হবে। এবার নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নিচ্ছে। ২৯৯টি আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী। ইতোমধ্যে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন সাড়ে ১১ লাখের বেশি ভোটার। গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, দেশের ভেতরে ও বাইরে মিলিয়ে ১১ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারেনি। ফলে মূল লড়াইটা সীমাবদ্ধ থাকছে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মধ্যে। বিএনপি ২৯১টি আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছে। জামায়াতের প্রার্থী রয়েছেন ২২৮ জন, পাশাপাশি জোটের শরিক এনসিপি, এবি পার্টি এবং খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরাও মাঠে রয়েছেন।

তবে রাজধানীর আসনগুলোর দিকে নজর সবার। বিশেষ করে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিপরীতে লড়ছেন জামায়াতের স. ম. খালিদুজ্জামান। অন্যদিকে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং বিএনপির শফিকুল ইসলাম খানের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছে।

ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন আর হিজড়া পরিচয়ে ভোটার আছেন ১ হাজার ২৩২ জন।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, এবার ভোটাররা সশরীর ভোট দেবেন, এমন ভোটকেন্দ্র আছে ৪২ হাজার ৬৫৯টি। আর ২৯৯টি কেন্দ্রে পোস্টাল ভোটের গণনা করা হবে। মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৯৫৮টি। তিনি জানান, নির্বাচনে মোট ৪৫ হাজার ৩৩০ জন পর্যবেক্ষক থাকছেন। এর মধ্যে ৩৫০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক। বিদেশি পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও কিছু বাড়তে পারে।

এই নির্বাচন কমিশনার জানান, ভোটকেন্দ্রগুলোতে নজরদারি নিশ্চিত করার জন্য ৯০ ভাগের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নির্বাচনে মোট ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৯৫৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৪৩ হাজার ৭৮ জন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৬২ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও ৫ লাখের বেশি পোলিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন ২ হাজার ৯৮ জন আর বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আছেন ৬৫৭ জন।

মাঠে ৯ লাখ সদস্যের বিশাল বাহিনী: গণতন্ত্রের মহোৎসব উদযাপনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবার দেশে আট বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গত রোববার থেকে পুলিশ সদস্যরা মাঠে নেমেছেন। এর মধ্যে পুলিশ বাহিনীর এক লাখ ৮৭ হাজার সদস্য নির্বাচনি দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া এক লাখ ৫৮ হাজার সদস্য সরাসরি ভোটকেন্দ্র ও স্ট্রাইকিং ফোর্সে থাকছেন। বাকি ২৯ হাজার সাপোর্ট সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। তারা আজ ভোটের দিন এবং আগামী দুদিন টানা দায়িত্ব পালন করবেন।

গত ২০ জানুয়ারি থেকেই এক লাখ সেনাসদস্য মাঠে কাজ করছেন। এছাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। বরাবরের মতো সবচেয়ে বড় জনবল জোগান দিচ্ছে আনসার বাহিনী। পাঁচ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ সদস্যের মধ্যে পাঁচ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন সরাসরি কেন্দ্র পাহারায় থাকছেন। এছাড়া র‍্যাবের সাত হাজার ৭০০ সদস্যও রয়েছেন। দেশজুড়ে ৭০০টির বেশি টহল টিম থাকছে। নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার, বিমান বাহিনীর তিন হাজার ৭৩০, কোস্ট গার্ডের তিন হাজার ৫৮৫ সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। বিজিবি ও কোস্ট গার্ড উপকূলীয় এবং দুর্গম এলাকাগুলোতে ১৮ জানুয়ারি থেকেই দায়িত্ব পালন শুরু করেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ১৩ হাজার ৩৯০ সদস্য থাকছেন।

এদিকে, কোস্ট গার্ডের ১০০ প্লাটুন উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী দুর্গম এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ভোটকেন্দ্রে থাকছে। চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, কক্সবাজার, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও খুলনা জেলার ৬৯ ইউনিয়নের ৩৩২ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনে মাঠে রয়েছে তারা।

বডিক্যাম ও ড্রোন : প্রযুক্তির নতুন ‘ডিজিটাল প্রহরী’: এবার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ও স্বচ্ছতার রক্ষাকবচ হলো ‘বডিক্যাম’ বা বডিওর্ন ক্যামেরা।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ২৫ হাজার ৫০০ বডি ওর্ন ক্যামেরা রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৫ হাজার ক্যামেরায় সিমকার্ড যুক্ত থাকছে, অর্থাৎ অনলাইনে থাকছে। আর অফলাইনে থাকছে ১০ হাজার। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টার থেকে সরাসরি লাইভ দেখা যাবে। এতে রয়েছে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এবং ফেস রিকগনিশন সিস্টেম। কোনো কেন্দ্রে গণ্ডগোল শুরু হলে ‘এসওএস’ বার্তার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সতর্ক সংকেত বেজে উঠবে থানা ও এসপি অফিসে। রাতের অন্ধকারেও স্পষ্ট ভিডিও ধারণে সক্ষম নাইট ভিশন ক্যামেরাগুলো জিপিএসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকায় ডিউটিরত ফোর্সের অবস্থান নিশ্চিত করবে এবং নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে গেলে স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম বেজে উঠবে।

এছাড়া আকাশপথে নজরদারির জন্য এক হাজার ড্রোন এবং বিস্ফোরক শনাক্তকরণে ৫০টি ডগ স্কোয়াড ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, উসকানি বা ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে সাইবার মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। সন্দেহজনক কনটেন্ট শনাক্ত হলে দ্রুত অপসারণ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোট গণনা যেভাবে: ভোট গণনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল বলেন, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই কেন্দ্রে গণনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রথমে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করা হবে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট যুগপৎভাবে একই সময়ে গণনা করা হবে। দুটি ভোটের ফলাফলও একসঙ্গে ঘোষণা করা হবে। ভোটকেন্দ্রে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, বেশির ভাগ কেন্দ্রের ফলাফল ভোটের দিন মাঝরাতের মধ্যে চলে আসবে বলে তারা আশা করছেন। পরদিন সকালে সব ভোটকেন্দ্রের ফলাফল একীভূত করে ফরম–১৮–তে লিপিবদ্ধ করে প্রার্থী বা এজেন্টের উপস্থিতিতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা সই করবেন। এটার ভিত্তিতে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।


সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ নিজ ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করতে দেশের সব শ্রেণি ও পেশার ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

১২ ফেব্রুয়ারি ‘গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ উপলক্ষ্যে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক বাণীতে এ আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ‘এ যুগান্তকারী গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি শুধু একটি নির্বাচন বা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়; বরং দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক ধারা ও জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিফলনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ।’

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত একটি জাতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও আত্মমর্যাদার ঘোষণা দিয়েছে, এই নির্বাচন সেই আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ।

প্রধান উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের সুস্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করবেন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য, দায়বদ্ধ ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। এভাবে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণে অংশীদার হবেন।

তিনি বলেন, ‘এ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে যে, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ নাগরিক এবারই প্রথম তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে পূর্ণবয়স্ক অনেক নাগরিকও দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত অর্থে ভোট প্রদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তাই এ গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন প্রতিটি ভোটারের কাছে একটি আনন্দময়, শঙ্কামুক্ত, বিশ্বাসযোগ্য ও উৎসবমুখর গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি, চাপ বা প্রভাব ছাড়াই স্বাধীনভাবে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সকল বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ কর্তব্য পালন করতে হবে। একই সঙ্গে আমি রাজনৈতিক দলসমূহ, প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সংযম, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানাই।’

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের এ ঐতিহাসিক অভিযাত্রায় আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথে আমাদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।’


নির্বাচনী মাঠে তৎপর আনসার বাহিনীর ১,১৯১টি স্ট্রাইকিং টিম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে আনসার বাহিনীর ১ হাজার ১৯১টি স্ট্রাইকিং টিম। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে জানানো হয় যে, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়াকে শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে সম্পন্ন করতে সারাদেশব্যাপী সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে আনসার বাহিনীর ১,১৯১টি স্ট্রাইকিং টিম, যা নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদারে একটি সুদৃঢ় কাঠামো হিসেবে কাজ করছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সারাদেশের মোট ৪২,৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে জরুরি মুহূর্তে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১,১৯১টি সশস্ত্র টিম স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরবচ্ছিন্ন ও সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রত্যন্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ভোটকেন্দ্রসমূহের নিরাপত্তাকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় ২টি করে এবং প্রতিটি জেলায় ১টি করে আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং টিম মোতায়েন করা হয়েছে। এসব টিমের কার্যক্রম আনসার ভিডিপি জেলা কার্যালয়, রেঞ্জ কার্যালয় এবং সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিকভাবে নিবিড়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে বিশ্বাসযোগ্য, গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। এই ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ‘নির্বাচনী সুরক্ষা অ্যাপ’-এ প্রতিটি আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং টিমের একজন করে সদস্য রেসপন্ডার (Responder) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা দ্রুত প্রতিক্রিয়া, তথ্য আদান-প্রদান এবং কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করছে।

আনসার ভিডিপি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী দায়িত্বের তিনটি ধাপ—নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে—আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং টিমের সদস্যরা মাঠে সক্রিয় থাকবেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা, বিশৃঙ্খলা কিংবা অপশক্তির অপচেষ্টা প্রতিহত করতে তারা সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।

সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং টিম জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র‍্যাব এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে।

সার্বিকভাবে, সুপরিকল্পিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি এবং বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হওয়ার একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছে। মাঠপর্যায়ে আনসার বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি শুধু নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নয়, বরং জনগণের আস্থা পুনর্গঠন, ভোটার অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও সুদৃঢ় ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে আনসার-ভিডিপির প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অবাধ, নিরপেক্ষ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশব্যাপী সুপরিকল্পিত ও প্রযুক্তিনির্ভর সদস্য মোতায়েন সম্পন্ন করেছে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাহিনীটি জানায় যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ আয়োজনের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। জাতির এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সারাদেশে সুপরিকল্পিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে সদস্য মোতায়েন সম্পন্ন করেছে। নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাহিনী ধারাবাহিক ও কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে; বিশেষত দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও প্রথাগত দুর্বলতাগুলো দূর করে একটি জবাবদিহিতামূলক ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গৃহীত প্রশাসনিক সংস্কার, প্রশিক্ষণ কাঠামোর আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার বাস্তব প্রয়োগের ফলেই সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত ও প্রতিরোধ সম্ভব হয়েছে। অতীতে বিশেষ করে ভিডিপি/টিডিপি দলনেতা ও দলনেত্রীদের নির্বাচনী দায়িত্ব প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ আত্মসাতের যে অনভিপ্রেত প্রথা বিদ্যমান ছিল, বর্তমান ডিজিটাল ডাটাবেজভিত্তিক ও স্বয়ংক্রিয় যাচাই পদ্ধতির মাধ্যমে সেই অপসংস্কৃতির কার্যকর অবসান ঘটানো সম্ভব হয়েছে। এবার প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ ডিজিটাল ডাটাবেজভিত্তিক পদ্ধতিতে ভোটকেন্দ্রে সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রভিত্তিক ডিজিটাল তালিকা প্রণয়ন, স্বয়ংক্রিয় যাচাই-বাছাই এবং কেবলমাত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য নির্বাচন—পুরো প্রক্রিয়াটি কঠোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মানদণ্ডে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো প্রকার প্রভাব, সুপারিশ বা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ রাখা হয়নি।

চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৩ জন সদস্যের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত ডেটা যাচাই ও ডিজিটাল রেকর্ড বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষণবিহীন থাকার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হয়। AVMIS সফটওয়্যারের তথ্যভিত্তিক যাচাইয়ের ফলাফল হিসেবে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। এ ঘটনা বাহিনীর পূর্বপ্রস্তুত তদারকি ও প্রযুক্তিনির্ভর যাচাই ব্যবস্থার কার্যকারিতার একটি বাস্তব দৃষ্টান্ত।

রাজধানীর গুলশান থানাধীন ১৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং ভাটারা থানাধীন ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুইজন দলনেত্রীর বিষয়ে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা যাচাই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রশাসনিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়। পূর্বনির্ধারিত নীতিমালার আলোকে উভয়কেই তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে—যা বাহিনীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তব প্রয়োগের সুস্পষ্ট প্রতিফলন।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় ভিডিপি সদস্য পরিচয়ে নির্বাচনী ডিউটির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ গ্রহণের অভিযোগটি স্থানীয় পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত হয়। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নজরে আসার পর তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ৩৬টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল সদস্যকে পূর্বেই বহুমাত্রিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়েছে, ফলে অনিয়মটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রতারণা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় আনসার সদস্য পরিচয়ে প্রতারণার ঘটনাটিও ডিজিটাল পরিচয় যাচাই ব্যবস্থার ফলেই দ্রুত উদ্ঘাটিত হয় এবং তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি বাহিনীর কোনো সদস্য নন।

উল্লেখ্য, এসব ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্বলতার প্রতিফলন নয়; বরং প্রশিক্ষণ নীতিমালার সংস্কার, প্রযুক্তিনির্ভর যাচাই ব্যবস্থা এবং কঠোর তদারকির প্রত্যক্ষ ফলাফল। AVMIS সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রকৃত সনদধারীদের শনাক্তকরণ, কিউআর কোডসংযুক্ত পরিচয়পত্রের প্রবর্তন এবং STDMS সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্বাচনী ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা সরাসরি বিতরণের ব্যবস্থা নেয়ার ফলে ভুয়া পরিচয়, দায়িত্ব প্রদানের নামে অর্থ আত্মসাৎ কিংবা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ কার্যত রুদ্ধ হয়েছে। মূল ডিউটি শুরুর আগেই খাবার বাবদ অর্থ প্রদান সদস্যদের পেশাগত স্বচ্ছতা ও নৈতিক দৃঢ়তা আরও সুসংহত করেছে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে—স্বচ্ছ প্রক্রিয়া, ধারাবাহিক সংস্কার এবং প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমেই একটি নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব। নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম দূরীকরণ ও ডিজিটাল স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার এই পদক্ষেপ কেবল তাৎক্ষণিক নির্বাচনী পরিবেশকে সুরক্ষিত করবে না; বরং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর প্রতি জনআস্থা পুনর্গঠনে তা কাঠামোগত ভূমিকা রাখবে। এই পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যতে একটি টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার মানদণ্ড হিসেবে কাজ করবে বলে বাহিনী আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।


জামায়াত নেতাকে যারা আটক করেছে তারা সিদ্ধান্ত নেবে: ইসি সচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৭৪ লাখ টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানের আটকের ঘটনায় পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আটককারী সংস্থাগুলোই নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। আটককৃত নেতার বিষয়ে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “যারা আটক করেছে, তারা এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেবেন। আপনারা (সাংবাদিক) যদি আমার কাছে আইনি ব্যাখ্যা চান, তাহলে তো এটা আমার প্রতি অবিচার করা হচ্ছে।” ভোটের মাত্র ১৩ ঘণ্টা বাকি থাকা অবস্থায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “দয়া করে এই অপতথ্য সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসেন। আমাকে মিসকোট করার আগে যাচাই-বাছাই করে নেবেন। নির্বাচনের আর ১৩ ঘণ্টা বাকি, একটা ভালো দিকে আমরা এগোচ্ছি। সবাই সচেষ্ট থাকি, যেন নির্বাচন সুন্দরভাবে আয়োজন করতে পারি।”

নির্বাচনী সময়ে টাকা বহনের সীমা নিয়ে সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া একটি বিভ্রান্তিকর তথ্যের কড়া সমালোচনা করে ইসি সচিব দাবি করেন যে, তাঁকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ৫ কোটি টাকা বহন সংক্রান্ত ভাইরাল হওয়া খবরটি মিথ্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি নাকি বলেছি, ৫ কোটি টাকা নিয়ে গেলেও কোনো অসুবিধা নেই, এটা বলার এখতিয়ার, অধিকার, ক্ষমতা আমার নেই। এটা বলিনি। এটা আমাকে মিসকোট করা হয়েছে। আমার জন্য অত্যন্ত অপমানজনক এবং আমি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।” তিনি গণমাধ্যমকে যেকোনো তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে সত্যতা যাচাইয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।


কেউ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিতে ‘হেজিটেট’ করব না: র‌্যাব ডিজি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা বা নাশকতার চেষ্টা করা হলে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন র‍্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান যে, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর তা মেনে না নিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যারা ভোটকেন্দ্রে নাশকতার চেষ্টা করবে, জালভোট, ব্যালট বক্স ছিনতাই বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে ঝুঁকি তাদেরই।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো ঝুঁকি নেই, কারণ তারা আইন অনুযায়ী কাজ করবেন। আমরা কোনো ধরনের হেজিটেশন করবো না। ঝুঁকি যদি কারও থাকে, তা আইন ভঙ্গকারীদেরই।” নির্বাচনী পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে তিনি আরও বলেন, “এবার নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন ঝুঁকি নেই। তবে নির্বাচনে যারা বিশৃংখলার চেষ্টা করবে, যারা আইন অমান্য করবে, ভোট চুরি, ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টা করবে তারা এবার ঝুঁকিতে পড়বেন। আমরা এবার শক্ত অবস্থানে আছি। আমরা প্রতিটি বাহিনী সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করছি। আশা করছি দেশবাসীকে আমরা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারব।”

র‍্যাব মহাপরিচালক জানান যে, নির্বাচনী তফশিল ঘোষণার আগে থেকেই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের দমনে তারা জোরালো অভিযান পরিচালনা করে আসছেন এবং এরই মধ্যে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। নির্বাচনকে তিনটি স্তরে ভাগ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে যার প্রথম ধাপ তথা নির্বাচন-পূর্ব সময়টি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন ভোটের দিন এবং ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে র‍্যাব স্ট্রাইকিং ও মোবাইল ফোর্স হিসেবে ৬৪টি জেলাতেই সক্রিয় থাকবে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সাথে সমন্বিতভাবে র‍্যাব দায়িত্ব পালন করবে এবং প্রতিটি রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পুলিশের প্রায় ২৫ হাজার ৭০০ বডি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে এবং আকাশপথে ড্রোন ও হেলিকপ্টারের পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটও সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকবে। বহিরাগতদের উপস্থিতি ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে সতর্ক নজরদারির পাশাপাশি অবৈধ অর্থ লেনদেনের অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি জানান যে, বর্তমানে জঙ্গি হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকি না থাকলেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে।


ভোট কিনতে গিয়ে ধাওয়া খেয়ে দৌড়ে পালালেন জামায়াত নেতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিরাজগঞ্জ-২ (সিরাজগঞ্জ-কামারখন্দ) আসনের কামারখন্দ উপজেলায় ভোট কেনার উদ্দেশ্যে টাকা বিলি করার সময় স্থানীয় জনতার ধাওয়া খেয়ে এক জামায়াত নেতার দৌড়ে পালানোর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের ময়নাকান্দি গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত ওই নেতার নাম মোস্তাক সরকার, যিনি কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দায়িত্বে রয়েছেন। ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, জামায়াত নেতা মোস্তাক সরকার গ্রামের এক ব্যক্তির হাতে নগদ টাকা তুলে দিচ্ছেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই স্থানীয় কয়েকজন যুবক সেখানে উপস্থিত হয়ে মোবাইলে ভিডিও ধারণ শুরু করেন এবং তাঁকে টাকার উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। ক্যামেরার সামনে ধরা পড়ে যাওয়ায় এবং পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মোস্তাক সরকার কোনো উত্তর না দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালাতে শুরু করেন। এ সময় উপস্থিত জনতাও তাঁকে ধরার জন্য পিছু ধাওয়া করে। দীর্ঘ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ওই জামায়াত নেতা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন করতে সক্ষম হন। নির্বাচনের ঠিক আগের দিন এমন প্রকাশ্য অর্থ বিতরণের ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।

এই ঘটনার বিষয়ে সিরাজগঞ্জ-২ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট ও জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের আগে প্রতিটি কেন্দ্রের নির্বাচনি খরচ এবং কর্মীদের নাস্তার জন্য কিছু টাকা বরাদ্দ থাকে। মোস্তাক সরকারের কাছে থাকা অর্থটি হয়তো সেই কেন্দ্র খরচের টাকা ছিল। তবে জনসমাগম দেখে এবং ভিডিও করতে আসায় হয়তো ভয় পেয়ে তিনি সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়েছেন। এটি কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু। তিনি বলেন, টাকা দিয়ে ভোট কিনতে গিয়ে জামায়াত নেতার প্রাণভয়ে দৌড়ে পালানোর দৃশ্যটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। তিনি অভিযোগ করেন যে, শুধু কামারখন্দেই নয়, জেলার বিভিন্ন স্থানে জামায়াত চক্র একইভাবে ভোটারদের অর্থ দিয়ে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ ছাড়া তাঁরা সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কেন্দ্রে যেতে বাধা দিচ্ছে বলেও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তিনি অবিলম্বে এই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রশাসনের কাছে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

নির্বাচনি এলাকার এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে স্থানীয় ভোটাররা অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনি এলাকায় যেকোনো ধরণের অনৈতিক অর্থ লেনদেন বা ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার জন্য পুনরায় সতর্ক করা হয়েছে।


গণনা শেষে জেলা জামায়াতের আমিরের কাছে মিলল ৭৪ লাখ টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বেলাল উদ্দিন প্রধানের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ গণনা শেষে ৭৪ লাখ টাকা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে তাঁকে আটকের সময় প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ টাকা উদ্ধারের কথা জানানো হলেও বিকেলে চূড়ান্ত গণনা শেষে টাকার সঠিক অংক প্রকাশ করা হয়। নির্বাচনের ঠিক আগের দিন বিপুল পরিমাণ এই নগদ অর্থ বহনের ঘটনাটি কেন্দ্র করে বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও বাদানুবাদ শুরু হয়েছে।

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা আজ বিকেলে গণমাধ্যমকে জানান, বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরকে আটক করা হয়েছে এবং গণনা শেষে সেখানে মোট ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। তবে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানে ভ্রমণের সময় নগদ অর্থ বহনের আইনি বাধ্যবাধকতা নিয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগিব সামাদ। তিনি জানান, দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে আকাশপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যেকোনো পরিমাণ নগদ অর্থ বহনে কোনো আইনি সীমাবদ্ধতা নেই। সৈয়দপুরে আটক জামায়াত নেতার সঙ্গে থাকা অর্থের বিষয়ে তিনি ঢাকা থেকে রওনা হওয়ার আগে শাহজালাল বিমানবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিলেন এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে কর্তৃপক্ষ তাঁকে ‘অনাপত্তিপত্র’ প্রদান করেছিল।

এদিকে, ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরের এই আটকের ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত নাটক’ এবং ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে দাবি করেন, মাওলানা বেলাল উদ্দিন প্রধান তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবসার টাকা বহন করছিলেন এবং তাঁর কাছে ঢাকার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া বৈধ অনাপত্তিপত্র ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও তাঁকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। টাকার সঠিক উৎস সম্পর্কে যথা সময়ে যাবতীয় প্রমাণসহ বিস্তারিত তথ্য জাতির সামনে তুলে ধরা হবে বলেও তিনি জানান।

বর্তমানে মাওলানা বেলাল উদ্দিন প্রধান সৈয়দপুর থানা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নির্বাচনি পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে অধিকতর নিশ্চিত হতে তারা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, বিমানবন্দরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ বহনে কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানানোর ফলে এই আটকের বিষয়টি এখন আইনি ও প্রশাসনিক তর্কের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উদ্ধারকৃত অর্থের বৈধতা এবং নির্বাচনি আচরণবিধির কোনো লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনার পরেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সব বাধা কাটিয়ে নির্বাচনের আগের এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে টানটান উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।


ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দেশব্যাপী গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও পুলিশ সদর দপ্তর পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, যদি কোনো কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই, জাল ভোট প্রদান কিংবা অন্য কোনো নির্বাচনি অপরাধ সংঘটিত হয়, তবে শুধুমাত্র জড়িত ব্যক্তিরাই নয়, বরং ওই কেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে তিনি এই মুহূর্তে প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বুধবার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরের অপারেশন কন্ট্রোল রুম পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সারাদেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন। নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশের নেওয়া আধুনিক বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং কৌশল সম্পর্কে তাকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরার কার্যক্রম তিনি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে নির্বাচনি ডিউটিতে থাকা কর্মকর্তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পরিদর্শনকালে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপদেষ্টাকে নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিভিন্ন কারিগরি দিক বুঝিয়ে দেন।

এরপর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা রাজধানীর নিউমার্কেট এবং মোহাম্মদপুর থানা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। সেখানে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের শৈথিল্য না দেখানোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে পুলিশ বাহিনীকে তাদের সততা, পেশাদারিত্ব এবং দেশপ্রেমের মাধ্যমে জনগণের আস্থা জয় করতে হবে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যাতায়াত করতে পারেন এবং কোনো ধরনের ভয়ভীতির মুখে না পড়েন, সেটি নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান কাজ। যেকোনো উসকানিমূলক পরিস্থিতি মোকাবিলায় শান্ত থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি পুলিশ সদস্যদের পরামর্শ দেন।

বিকেলের দিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা রাজধানীর টিচার্স ট্রেনিং কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন, যেখান থেকে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন সংসদীয় আসনের নির্বাচনি সরঞ্জাম ও সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। সেখানে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স ও অন্যান্য নির্বাচনি সামগ্রী বিতরণের সুশৃঙ্খল পরিবেশ দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন যে, নির্বাচনের দিন সারা দেশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় থাকবে এবং ভোটারদের পূর্ণ অধিকার রক্ষায় সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সব বাধা কাটিয়ে একটি সফল নির্বাচন সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে বদ্ধপরিকর বলে তিনি মন্তব্য করেন।


নির্বাচনী সহিংসতা ও নাশকতা প্রতিহতে বিজিবি মহাপরিচালকের কঠোর সতর্কবার্তা ও মাঠপর্যায় পরিদর্শন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার বিভিন্ন নির্বাচনী বেইজ ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি রাজধানীর মুগদা আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, উত্তরা হাজী ক্যাম্প এবং গাজীপুরের টঙ্গীতে স্থাপিত ক্যাম্পগুলোতে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং যেকোনো প্রকার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা দৃঢ়তার সাথে প্রতিহত করার নির্দেশ দেন। নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যালোচনা করে তিনি বিজিবির অপারেশনাল সক্ষমতা যাচাই করেন এবং নিরাপত্তা পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের তাগিদ দিয়ে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন যে, “আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের শৈথিল্য বা গাফিলতি গ্রহণযোগ্য হবে না।” তিনি বিজিবি সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি নির্বাচনকালীন যেকোনো সংঘাত মোকাবিলায় দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। ভোটারগণ যাতে নির্বিঘ্নে ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সংখ্যক টহল পরিচালনা এবং চেকপোস্টের মাধ্যমে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। একই সাথে জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুরক্ষায় বিজিবি সদস্যদের সাধারণ মানুষের সাথে ভদ্র, মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রতিটি সদস্য সততা ও নিষ্ঠার সাথে তাদের অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে।


নতুন মন্ত্রিসভার শপথ পর্যন্ত বহাল থাকছেন বর্তমান উপদেষ্টারা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় সনদের ওপর গণভোট। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হলেও নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ না করা পর্যন্ত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা নিজ নিজ পদে বহাল থাকবেন। প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে বলে সরকারের নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন। আইন অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠিত হওয়ার আগপর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার দৈনন্দিন ও অপরিহার্য কাজগুলো বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদই তদারকি করবে।

বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করবে এবং নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নামে গেজেট প্রকাশ করা হবে। এরপর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা স্পিকারের কাছে শপথ গ্রহণ করবেন, যার মাধ্যমে নতুন সংসদ গঠিত হবে। সংসদে নিরঙ্কুশ বা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দল বা জোট তাদের সংসদ নেতা নির্বাচন করার পর রাষ্ট্রপতি তাঁকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাবেন। বঙ্গভবনে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন। এই শপথ গ্রহণের মুহূর্ত থেকেই নতুন সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করবে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা তাঁদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাবেন।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন এ বিষয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, মন্ত্রিসভা যেদিন গঠিত হবে, সেদিনই উপদেষ্টাদের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটবে। তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে জানিয়েছেন, নতুন সংসদ সদস্যদের গেজেট আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি নাগাদ প্রকাশিত হতে পারে। সেই সময় পর্যন্ত উপদেষ্টারা দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাবেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক শূন্যতা এড়াতে তাঁরা দপ্তরে উপস্থিত থাকবেন। প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রাক-নির্দেশনা না থাকলেও প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী সরকার গঠন পর্যন্ত উপদেষ্টারা স্বপদেই বহাল থাকেন।

অন্যদিকে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন এক ভিন্নধর্মী নৈতিক অবস্থানের কথা। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গত মঙ্গলবার তিনি উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর শেষ নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যদিবস অতিবাহিত করেছেন। আইনত নতুন মন্ত্রিসভার শপথ পর্যন্ত তিনি পদে থাকলেও নির্বাচনের পর নৈতিক বিবেচনায় তিনি আর কোনো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করবেন না। তাঁর মতে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পর নতুন সরকারের আগমনের পথ প্রশস্ত করাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, যে দল বা জোটই বিজয়ী হোক না কেন, জাতি হিসেবে সবাই তাঁদের পেছনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির হাত ধরে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আগপর্যন্ত আগের প্রশাসন দায়িত্ব পালন করে থাকে। যেহেতু এটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, তাই নির্বাচনের পর ফল ঘোষণা থেকে শুরু করে শপথ গ্রহণ পর্যন্ত কয়েক দিনের এই অন্তর্বর্তী সময়ে প্রশাসনিক স্থবিরতা রোধে উপদেষ্টাদের পদে থাকা অপরিহার্য। বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ নতুন সরকারের জন্য লজিস্টিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে, যার মধ্যে হবু মন্ত্রীদের ব্যবহারের জন্য পরিবহন পুলের ৫০টি গাড়ি প্রস্তুত রাখার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সব মিলিয়ে একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশ এক নতুন রাজনৈতিক গন্তব্যের দিকে যাত্রা শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


banner close
ad-close 20260212090517.jpg
ad-close 20260212090004.jpg