২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ওই বছরের ১১ অক্টোবর সব রাজনৈতিক সংগঠন এবং এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গোপনে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে দেশবিরোধী কিছু মৌলবাদী সংগঠন।
আর তাদের মতের সঙ্গে না মিললেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা বুলিং-র্যাগিংয়ের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি গত ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন হলে ইফতার বিতরণ করার কারণে কিছু শিক্ষার্থীর এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে। শনিবার (৩০ মার্চ) বিকেলে বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা এমন উদ্বেগজনক অভিযোগের কথা জানালেন।
তারা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তি বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেই বা পরিচয় থাকলে তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়; পরিবার নিয়েও অশালীন মন্তব্য করা হয় অনলাইন ও অফলাইনে। বিষয়গুলো নিয়ে কেউ সামান্যতম প্রতিবাদ করতে চাইলে ‘ছাত্রলীগ’ ট্যাগ দিয়ে তাকে বুয়েট থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়।
এমন পরিস্থিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের লাভের গুড় যাচ্ছে কার ঘরে? দেশের অন্যতম মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের এই বিদ্যাপীঠে রাজনীতি বন্ধের সুযোগে তবে কি মৌলবাদের আখড়ায় পরিণত হবে!
আবরার হত্যাকাণ্ডের মতো দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পর ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নসহ প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ করে। তবে ক্যাম্পাসে গোপনে কার্যক্রম চালায় ইসলামী ছাত্রশিবির ও হিজবুত তাহরিরসহ মৌলবাদী ছাত্রসংগঠনগুলো। মসজিদ কিংবা বিভিন্ন আড্ডায় সাংগঠনিক সভায়ও মিলিত হন এসব সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
সুনামগঞ্জের হাওরে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার অভিযোগে বুয়েটের প্রাক্তন এবং বর্তমান ৩৪ জন শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তাররা সবাই শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। শিবিরের বুয়েট শাখার বায়তুল মাল সম্পাদক আফিফ আনোয়ারও ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। বর্তমানে তারা সবাই জামিনে রয়েছেন। কিন্তু থেমে নেই তাদের তৎপরতা। হাতেনাতে ধরা পড়ায় এই ঘটনা প্রকাশ্যে এলেও ভেতরে ভেতরে রাষ্ট্রবিরোধী মৌলবাদী, জঙ্গিবাদভাবাপন্ন সংগঠন বুয়েটে বহু কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
তাদের মৌলবাদী ছাত্র সংগঠনগুলোর অনুসারী ও নেতা-কর্মীরা মুখে মুখে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা বললেও আদতে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে চলেছেন সন্তর্পণে। তারা তাদের স্বার্থে আবরার হত্যার আবেগকে কাজে লাগাচ্ছে।
গত ২৭ মার্চ বুয়েট ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার চত্বরে আসেন ছাত্রলীগের সভাপতি ও দপ্তর সম্পাদকসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। এর দুই দিন পর শুক্রবার বিকেলে বুয়েটের শহীদ মিনারের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালকের (ডিএসডব্লিউ) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা লঙ্ঘন করে পুরকৌশল বিভাগের ২১তম ব্যাচের ছাত্র ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন রাহিম ছাত্রলীগ নেতাদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। ওই দিন রাতেই হলের সিট বাতিল করা হয় ইমতিয়াজের। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এর সঙ্গে নতুন করে তারা আরও চারটি দাবি যুক্ত করেন। মোট পাঁচ দফা দাবিতে তারা এখন আন্দোলন করছেন।
ক্রিয়াশীল ছাত্ররাজনীতির স্বর্ণালী ইতিহাস সবার জানা। দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, রক্ষা ও বাস্তবায়নে ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা অপরিসীম। শুধু তাই নয়, দেশের সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িকতা, সমতার সমাজ গঠনে দেশকে বারবার পথ দেখিয়েছে এই ছাত্ররাজনীতি। বুয়েটের ভূমিকাও সেখানে উল্লেখযোগ্য। তবে বারবার বুয়েটে সেই পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। দেশের অন্যতম মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিরাজনীতিকীকরণের নামে মৌলবাদ নিজেদের ঘাঁটি গড়েছে সেখানে। যার মধ্য দিয়ে ছাত্রশিবিরের মতো সহিংস সংগঠনের শীর্ষপর্যায়ে উঠে এসেছেন বুয়েটের ছাত্ররা। প্রশ্ন হলো- কীভাবে এটি সম্ভব হয়েছে? দেখা গেছে, বুয়েটে রাজনীতি বন্ধের পক্ষে যারা বারবার বক্তব্য রাখছেন তারাও কোনো না কোনোভাবে মৌলবাদী রাজনীতিরই ধারক-বাহক।
বুয়েটে বর্তমানে মৌলবাদী ছাত্র সংগঠনগুলো বাধার শিকার না হলেও বাধা পাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তিগুলো।
সাম্প্রতিক আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থী নামধারীরা ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে উচ্চকিত হলেও বুয়েটে শিবিরের তৎপরতার বিষয়ে তারা নিশ্চুপ। এমনকি এই বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেও, তারা এটি দেখার দায় চাপিয়ে দিয়েছেন প্রশাসনের ওপর; কিন্তু সমালোচনার মুখে শেষপর্যন্ত তারা শিবির ও হিজবুতের নাম নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানালেও এই দুই সংগঠনের নেতা-কর্মী কারা সেটি তারা জানে না বলে জানায়।
বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এই আন্দোলনের পুরো ইন্ধন জোগাচ্ছে ইসলামী ছাত্রশিবির ও হিজবুত তাহ্রীরসহ মৌলবাদী ছাত্র সংগঠনগুলো এবং এক শ্রেণির শিক্ষক।
কিন্তু ছাত্রলীগ বা ছাত্র ইউনিয়নসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত রাজনৈতিক দলগুলো যেকোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলেই তার বিরোধিতা করেছে এই গোষ্ঠী।
সাম্প্রতিক তথ্য না পাওয়া গেলেও ২০১৩ সালের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছিল, বুয়েট নিয়ে মৌলবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতার তথ্য। ওই বছরের নভেম্বরে বুয়েটের নজরুল ইসলাম হলের ২২৩, ৩০২, ৩২৪, ৩৩০ ও ৪১০ নম্বর রুম এবং আহসানউল্লাহ হলসহ বিভিন্ন হল থেকে বিপুল পরিমাণ জেহাদি বই ও শিবিরের সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিবরণ-সংবলিত বেশ কিছু গোপন নথি পাওয়া যায়। গোপন কাগজপত্র থেকে জানা যায়, বুয়েটে সেবা নামের একটি সংগঠনের আড়ালে শিবির তাদের কর্মকাণ্ড সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে প্রচার ও প্রসার করত। এ রকম ‘মেধাবীদের খোঁজে’ নামক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন নামে বেনামে সংগঠন দাঁড় করিয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের তাদের দলে ভেড়ায় তারা। ওই সময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের অংশ হিসেবে রাজপথে পুলিশের ওপর অতর্কিতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আলোচিত ছিল ছাত্রশিবির।
বুয়েট ছাত্রশিবিরের গোপন নথি থেকে জানা গিয়েছিল, বুয়েটে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে শিবির বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পেছনে। ২০১০ সালে বুয়েটে শিবির অর্থ ব্যয় করেছে ৮ লাখ ৭০ হাজার ৩১৪ টাকা এবং ২০১১ সালে খরচ করে ১৩ লাখ ২৩ হাজার ২০০ টাকা। এই তৎপরতা চলমান। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, ছাত্ররাজনীতিমুক্ত বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রগতিশীল রাজনীতিতে বিশ্বাসীদের দমিয়ে রেখে অন্ধকার রাজনীতি শিক্ষার্থীদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বুয়েটে শিবিরের কার্যক্রম চলছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি ড. শফিকুল ইসলাম। এটি জানার পরও সব শেষ সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। উল্টো কোনো প্রমাণ ছাড়াই শিবিরের সাবেক সভাপতির বক্তব্য দেওয়ায় এর প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে এক শিক্ষার্থীকে। অর্থাৎ শিবিরের সাবেক সভাপতির বক্তব্যও তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না বা আমলে নিতে চাইছেন না।
সম্প্রতি বুয়েট শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক আউটলুক ই-মেইলে পাঠানো হয়েছে হিজবুত তাহরিরের ই-মেইল। প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইলে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়ার বার্তা পাঠানো হলেও সর্বশেষ তথ্য অনুসারে সব শিক্ষার্থীর রোল নম্বর ধরে একাধারে প্রেরণ করা হয় এসব ই-মেইল। কিন্তু বর্তমান আন্দোলনকারীরা এর কোনো প্রতিবাদ করেননি।
এদিকে এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গত ১ এপ্রিল বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে ২০১৯ সালে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের আদেশের পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘বুয়েটে এখন থেকে ছাত্ররাজনীতি করায় আর কোনো বাধা থাকল না।’
এদিকে বুয়েটের উপাচার্য ড. সত্যপ্রসাদ মজুমদার বলেছেন, ‘আদালত যা বলবেন, তা আমাদের মানতে হবে। আদালতের আদেশ শিরোধার্য।’ তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনকে পারস্পরিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে এবং এ জন্য আলোচনা জরুরি। জাতি এখন ইতিবাচক ফলাফল দেখার অপেক্ষায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানায় প্রাকৃতিক জ্বালানি বাষ্পের তীব্র সংকটের কারণে প্রায় এক বছর ধরে সার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। দেশের পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে থাকায় রাষ্ট্র প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। কারখানা সূত্র অনুযায়ী, উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার সমমূল্যের সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে প্রতি মাসে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় একশত পঁয়ষট্টি কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই যাবতীয় উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, দীর্ঘ সময় ধরে কারখানাটি অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় এর কোটি কোটি টাকা মূল্যের মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সচল অবস্থায় না থাকলে এই ব্যয়বহুল যন্ত্রাংশগুলো স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করে অবিলম্বে উৎপাদন শুরু করার দাবিতে কারখানার শ্রমিক ও কর্মচারীরা দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করলেও এখন পর্যন্ত কারখানা চালুর বিষয়ে দায়িত্বশীল মহলের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, বিদেশ থেকে সার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি অসাধু চক্র পরিকল্পিতভাবে দেশের ভেতরের সার উৎপাদন ব্যাহত করছে। তাঁদের দাবি, কারখানার পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও স্রেফ অবহেলার কারণে এটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
আশুগঞ্জ সার কারখানাটির দৈনিক বিপুল পরিমাণ সার উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে এই কারখানাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ পার্শ্ববর্তী সাতটি জেলার কৃষকদের সারের চাহিদা মিটিয়ে আসছিল। কিন্তু কারখানাটি পুরনো হওয়ার কারণ দেখিয়ে বর্তমানে সরকার এখানে জ্বালানি সরবরাহে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে কারখানার কারিগরি কর্মকর্তাদের মতে, প্রয়োজনীয় জ্বালানি বাষ্পের সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে মাত্র পনেরো থেকে কুড়ি দিনের মধ্যেই পুনরায় পুরোদমে উৎপাদনে ফেরা সম্ভব।
সার কারখানাটি দ্রুত সচল করা না হলে রাষ্ট্রকে কেবল বিশাল অংকের অর্থই হারাতে হবে না, বরং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক কৃষি খাতেও। স্থানীয় পর্যায়ে সারের সরবরাহ কমে গেলে কৃষকদের চাষাবাদের ব্যয় যেমন বাড়বে, তেমনি সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় এবং দেশের কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।
পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি পবিত্র এই রাতের তাৎপর্য অনুধাবন করে সবাইকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করি এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
সোমবার (১৬ মার্চ) দিবাগত রাতের পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রোববার এ শুভেচ্ছা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে আমি দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ।’
তিনি বলেন, ‘লাইলাতুল কদর মহিমামন্ডিত ও বরকতময় এক রাত। পবিত্র কুরআনুল কারিম রমজান মাসের এই মহিমান্বিত রাতেই অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা এ রাতকে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করেছেন। এ রাত মানবজাতির জন্য কল্যাণ, ক্ষমা ও রহমতের বার্তা নিয়ে আসে।’
বাণীতে তিনি আরও বলেন, ‘এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি, তওবা ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়। রমজান মাস সংযম, আত্মশুদ্ধি, সহনশীলতা ও মানবিক গুণাবলির জাগরণের মাস। পবিত্র লাইলাতুল কদরের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করে।
আসুন, আমরা সবাই এই রাতের তাৎপর্য অনুধাবন করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করি এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে প্রার্থনা করি-তিনি যেন পবিত্র লাইলাতুল কদরের অসীম রহমত ও বরকত আমাদের সবার ওপর বর্ষিত করেন। আমাদের দেশ ও জাতিকে অগ্রগতি, শান্তি, সম্প্রীতি এবং কল্যাণের পথে পরিচালিত করেন।’
তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘পবিত্র লাইলাতুল কদরের মহিমা আমাদের জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ বয়ে আনুক-এই কামনা করি।’
সরকারের উপদেষ্টাদের দপ্তর পুনর্বণ্টনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে দুটি নতুন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তিনি এখন থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
এ দায়িত্ব পালনে ডা. জাহেদ উর রহমান সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করে নিজের ফেসবুক পোস্টে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত হয়েছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো ডা. জাহেদ উর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় দায়িত্ব পালনের মধ্যেই সম্প্রতি তাকে নতুন করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলো।
দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার (১৫ মার্চ) তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
সরকারের এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জেলা পরিষদগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন
পঞ্চগড়ে মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, দিনাজপুরে মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, রংপুরে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, কুড়িগ্রামে মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, গাইবান্ধায় অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, জয়পুরহাটে মো. মাসুদ রানা প্রধান, বগুড়ায় এ.কে.এম. আহাসানুল তৈয়ব জাকির, চাঁপাইনবাবগঞ্জে মো. হারুনুর রশিদ, নওগাঁয় মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, রাজশাহীতে মো. এরশাদ আলী, নাটোরে মো. রহিম নেওয়াজ, মেহেরপুরে মো. জাভেদ মাসুদ, কুষ্টিয়ায় সোহরাব উদ্দিন, ঝিনাইদহে মো. আবুল মজিদ, যশোরে দেলোয়ার হোসেন খান খোকন, মাগুরায় আলী আহমেদ, বাগেরহাটে শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
খুলনায় এস এম মনিরুল হাসান (বাপ্পী), পটুয়াখালীতে স্নেহাংশু সরকার, ভোলায় গোলাম নবী আলমগীর, বরিশালে আকন কুদ্দুসর রহমান, ঝালকাঠিতে মো. শাহাদাৎ হোসেন, পিরোজপুরে আলমগীর হোসেন, টাঙ্গাইলে এস এম ওবায়দুল হক, শেরপুরে এ.বি.এম. মামুনুর রশিদ, ময়মনসিংহে সৈয়দ এমরান সালেহ, নেত্রকোনায় মো. নূরুজ্জামান (অ্যাড.), কিশোরগঞ্জে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, মুন্সীগঞ্জে এ. কে. এম. ইরাদত, নারায়ণগঞ্জে মো. মামুন মাহমুদ, রাজবাড়ীতে আব্দুস সালাম মিয়া, গোপালগঞ্জে শরিফ রফিক উজ্জামান, মাদারীপুরে খোন্দকার মাশুকুর রহমান, শরীয়তপুরে সরদার এ. কে. এম. নাসির উদ্দিন, সুনামগঞ্জে মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিলেটে আবুল কাহের চৌধুরী, মৌলভীবাজারে মিজানুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিরাজুল ইসলাম, কুমিল্লায় মো. মোশতাক মিয়া, নোয়াখালীতে মো. হারুনুর রশিদ আজাদ, লক্ষ্মীপুরে সাহাব উদ্দিন এবং কক্সবাজারে এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী।
সরকার নারীদের শিক্ষা অবৈতনিক করার পদক্ষেপ নেবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী পত্নী ডাক্তার জুবাইদা রহমান।
নারী দিবস উপলক্ষে রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।
জুবাইদা রহমান বলেন, ‘যে জাতির নারীরা এগিয়ে যায়, সেই জাতি এগিয়ে যায়। বর্তমান সরকার কন্যাশিশুর অধিকার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। নারীদের শিক্ষা অবৈতনিক করার পদক্ষেপও নেবে সরকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের প্রতিটি শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যত আমাদের প্রয়াস। এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলব যেখানে নারী নেতৃত্বে গড়ে উঠবে ভবিষ্যত বাংলাদেশ।’
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রথম নারী বিষয়ক অধিদফতর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। আনসার ভিডিপিতেও প্রথম নারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন তিনি। নারীদের প্রথম কোটা দিয়েছিলেন ২০ শতাংশ। এর ফলেই আজকে মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের ৬২ শতাংশ নারী।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অবৈতনিক পড়াশোনা ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অধিকার সবার। গণতন্ত্রের লেবাসেও স্বৈরাচার হয়। যা আমরা বিগত সরকারের আমলে দেখেছি। আমরা এতদিন অধিকার হারা হয়েছিলাম। তাই এখনও কথা বলতে হয় নারী অধিকার নিয়ে।’নরসিংদীর ধর্ষণের মতো ঘটনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি অন্যান্য দেশের দিকে তাকাই, সভ্য সমাজের কালো দিকটা আমরা দেখি না।
গণমাধ্যমের কারণে সেগুলো আমাদের সামনে আসে। আমরা এমন একটি দেশ চাই যেখানে নারীর অধিকার নিয়ে আলাদা করে কথা বলতে হবে না।’
আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের জাতীয় সংসদের নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে নির্বাচন কমিশন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুই আসনের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্থাপিত সিসি ক্যামেরাগুলো নির্বাচনের তিনদিন আগে থেকেই সচল রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এই বিশেষ নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভোটগ্রহণের অন্তত তিনদিন আগে থেকে প্রতিটি কেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা সচল রাখতে হবে। বিশেষ করে যে কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, ভোট গণনা কার্যক্রমও সেই কক্ষেই সম্পন্ন করার জন্য বলা হয়েছে। এ ছাড়াও নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নজরদারি ক্যামেরার সমস্ত তথ্য বা ভিডিও ফুটেজ পরবর্তী ব্যবহারের জন্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা গেছে, সেখানে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবুল তালেব মো. সাইফুদ্দিন নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বর্তমানে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. মাসুদুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম, বিএনপির মো. মাহমুদুল হক রুবেল এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মো. মিজানুর রহমান। উল্লেখ্য যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এই আসনের একজন বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নতুন তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে বর্তমানে এই নির্বাচনের আয়োজন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আবিদুর রহমান, বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মো. আল আলিম তালুকদার। গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে এই আসন থেকে জয়লাভ করেছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে দেশের আইন অনুযায়ী একই সঙ্গে সংসদ সদস্য হিসেবে দুটি আসন ধরে রাখার সুযোগ না থাকায় তিনি ঢাকা-১৭ আসনটি নিজের অনুকূলে রেখে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন। ফলে আসনটি শূন্য হয়ে পড়ায় নতুন করে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আগামী ৯ এপ্রিল নির্ধারিত দিনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এই দুই আসনের ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন কমিশন এই দুই আসনের ভোটগ্রহণ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরদারি ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে পুরো নির্বাচনী পরিবেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
বরিবার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শেষে এ মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের বৈঠক আগামী ২৯ মার্চ বিকাল ৩টা পর্যন্ত মুলতবি করা হলো। সহযোগিতা করার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।
এর আগে এদিন বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। অধিবেশন শুরু হয় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্যদিয়ে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)।
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
রোববার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরুর পর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে উত্থাপিত অধ্যাদেশগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন। পরে তা কণ্ঠ ভোটে পাস হয়।
সংসদ কার্যকর না থাকায় সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদের অধীনে এই অধ্যাদেশগুলো জারি করা হয়েছিল।
সংবিধান অনুযায়ী, যে কোনো অধ্যাদেশ নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপন করতে হয় এবং অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে সেগুলো পাস হতে হয়। আর তা না হলে সেগুলোর আইনি বৈধতা থাকে না।
সে কারণে গত ১৩ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশন শুরুর দিনই অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের জন্য জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
সংসদে অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে উত্থাপনের পর চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সেদিন বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। কমিটি এই বিলগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করবে।
বিশ্বব্যাপী প্রতারণা মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে আলোচনা করতে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল ফ্রড সামিটে অংশ নিতে আজ রোববার ভিয়েনা যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
মাদক ও অপরাধবিষয়ক জাতিসংঘ দপ্তর এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থার যৌথ আয়োজনে ১৬ ও ১৭ মার্চ ভিয়েনা আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই দুই দিনব্যাপী সামিট অনুষ্ঠিত হবে। এতে পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সামিটের উদ্বোধনী ও পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন ছাড়াও ‘গ্লোবাল ফ্রড রেসপন্স মেকানিজম’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক এবং ‘প্রতারণা দমনে জাতীয় অঙ্গীকার’ শীর্ষক বিশেষ অধিবেশনে প্যানেল বক্তা হিসেবে অংশ নেবেন তিনি।
এ ছাড়া সামিটের ফাঁকে মাদক ও অপরাধবিষয়ক জাতিসংঘ দপ্তরের নির্বাহী পরিচালক জন ব্র্যান্ডোলিনো এবং যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী লর্ড হ্যানসনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে তার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ভিয়েনার উদ্দেশে রওনা হবেন। সামিট শেষে তিনি আগামী ২০ মার্চ ভোর ৫টা ৩৫ মিনিটে তুর্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরবেন।
দেশে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। আজ রোববার জাতীয় সংসদে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী।
স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রথমে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘নিয়োগের যোগ্যতা ও সনদ নিয়ে একটি জটিলতা রয়েছে। আশা করছি, এটি কাটিয়ে শিগগিরই আমরা এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সক্ষম হব। এক্ষেত্রে কারিআনা পাশধারীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মকে প্রাধান্য নিয়ে আমরা কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’
এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকার শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি সিস্টেম চালু করেছিল। আমার কাছে এটাকে যুক্তিসংগত মনে হয়নি। আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তির পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য আমরা অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সকলের অভিমত নিয়ে ভর্তির বিষয় চিন্তা করব।’
এহসানুল হক মিলন আরও বলেন, ‘আমরা ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোকে সরকারের আওতায় এনে দেশের নিয়মকানুন মেনে যুগোপযোগী করা যায় কি না সেই বিষয়ে কাজ করছি। ইবতেদায়ী ও কওমী শিক্ষাসহ সব শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমন্বিত শিক্ষা পদ্ধতির আওতায় আনার কাজ করছি। এটা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।’
সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের করা এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এহসানুল হক মিলন বলেন, ‘সরকার নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।’ তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বর্তমান সরকার এগুলোর মানোন্নয়নের বিষয়ে বদ্ধপরিকর। সরকার নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য নতুন করে আবেদন আহ্বান করবে সরকার। পুরাতন আবেদনগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে।
বিরোধী দল অসাংবিধানিকভাবে সংস্কার পরিষদ শপথ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, রাষ্ট্র আবেগ দিয়ে চলে না, আইন দিয়ে চলে।
রোববার (১৫ মার্চ) জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দলের নেতা জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে এ কথা বলেন।
‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ’ উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই সনদ আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। তবে সেটা আইন-কানুন, বিধি-বিধান ও সংবিধানের মধ্য দিয়ে।
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন, এখানে ‘সংস্কার পরিষদ’ নামে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়ন করতে হলে আগে সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন, কোনো ‘সংস্কার পরিষদের’ অধিবেশন আহ্বান করেননি। আমরা এখন সাংবিধানিকভাবে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের আওতায় যে পরিষদের কথা বলা হচ্ছে, তার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে এবং এ বিষয়ে রুল জারি রয়েছে। বিষয়টি এখন বিচার বিভাগের বিবেচনায়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে এমন কোনো পরিষদের অস্তিত্ব নেই। যদি গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে এ ধরনের পরিষদ গঠন করতে হয়, তাহলে আগে সংবিধানে সংশোধনী আনতে হবে। সংসদে আলোচনা শেষে সংবিধান সংশোধন হলে তবেই সেটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং পরে প্রয়োজন হলে পরিষদ গঠন ও শপথ গ্রহণের বিষয়টি আসতে পারে।
সংবিধানে বহুল আলোচিত নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৭৪ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। রায়টি লিখেছেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
গত ২০ নভেম্বর ওই রায় দিয়েছিলেন সর্বোচ্চ আদালত।
স্বৈরাচার সরকারের আমলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রদত্ত ভাতা গ্রহণকারীদের তালিকায় সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন। তিনি বলেছেন, ইতিমধ্যে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম দূর করে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের ভাতা নিশ্চিতে কাজ শুরু হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অবৈধ ও মনগড়া কর্মসূচিগুলো সংশোধন করা হবে।
রবিবার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুক ও শাহাজাহান চৌধুরীর করা প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকাল ১১টায় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। এ অধিবেশন চলবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।
প্রশ্নোত্তর পর্বের শুরুতে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত সব স্বৈরাচারের বিদায় হয়ে একটি সার্বভৌম সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য সংসদ থেকে জনগণকে আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
শেখ হাসিনার সরকারের আমলের বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরে ফারজানা শারমিন বলেন, স্বৈরাচার সরকারের আমলে সমাজকল্যাণ বিভাগ যত অবৈধ এবং মনগড়া কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, সেগুলো অচিরেই সংশোধন করা দরকার। ওই সময়ে দেশে একটি অস্থির সময় বিরাজ করেছে। আমাদের হাতে বর্তমানে যে তালিকাগুলো আছে, সেগুলো আমরা রি-চেক (পুনরায় যাচাই) করছি। কারা সত্যিকার অর্থে এই উপকার পাওয়ার যোগ্য, আমরা তা দেখছি।
ফ্যামিলি কার্ডের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের ইস্যুতে ১৪টি ইউনিটে আমরা কাজ শুরু করার পর সেখান থেকে ফিডব্যাক নিচ্ছি। ভাতার কার্ডগুলোতে যেসব অনিয়ম আছে, সেগুলো চিহ্নিত করে আমরা সমাধানের দিকে যাচ্ছি। এ ছাড়া বিগত সময়ে যেসব আইন ও নীতিমালা করা হয়েছে, সেগুলো যাচাই করে একটি সুষ্ঠু নীতিমালার আওতায় আনা হবে।
দেশে ভাতা কর্মসূচি চালুর কৃতিত্ব সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দিয়ে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই প্রগ্রাম প্রথম চালু করেন আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরবর্তী সময়ে অন্য সরকারগুলো এটি বাস্তবায়ন করে।
তবে বিগত সময়গুলোতে এসব তালিকায় ব্যাপক স্বজনপ্রীতি করা হয়েছিল। আমাদের মূল লক্ষ্য তালিকা নয়, বরং কারা প্রকৃত সুবিধাভোগী হওয়ার যোগ্য, তা চিহ্নিত করা।
মাঠ পর্যায়ে তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা এরই মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই কমিটির মাধ্যমে তালিকাগুলো যাচাই-বাছাই করে সত্যিকার অর্থে যারা বেনিফিশিয়ারি (সুবিধাভোগী), তারাই যেন কার্ড ও সুযোগ-সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করা হবে। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই যাদের প্রকৃত প্রয়োজন, তাদের কাছেই সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলেও সংসদে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।