২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ওই বছরের ১১ অক্টোবর সব রাজনৈতিক সংগঠন এবং এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গোপনে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে দেশবিরোধী কিছু মৌলবাদী সংগঠন।
আর তাদের মতের সঙ্গে না মিললেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা বুলিং-র্যাগিংয়ের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি গত ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন হলে ইফতার বিতরণ করার কারণে কিছু শিক্ষার্থীর এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে। শনিবার (৩০ মার্চ) বিকেলে বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা এমন উদ্বেগজনক অভিযোগের কথা জানালেন।
তারা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তি বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেই বা পরিচয় থাকলে তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়; পরিবার নিয়েও অশালীন মন্তব্য করা হয় অনলাইন ও অফলাইনে। বিষয়গুলো নিয়ে কেউ সামান্যতম প্রতিবাদ করতে চাইলে ‘ছাত্রলীগ’ ট্যাগ দিয়ে তাকে বুয়েট থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়।
এমন পরিস্থিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের লাভের গুড় যাচ্ছে কার ঘরে? দেশের অন্যতম মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের এই বিদ্যাপীঠে রাজনীতি বন্ধের সুযোগে তবে কি মৌলবাদের আখড়ায় পরিণত হবে!
আবরার হত্যাকাণ্ডের মতো দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পর ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নসহ প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ করে। তবে ক্যাম্পাসে গোপনে কার্যক্রম চালায় ইসলামী ছাত্রশিবির ও হিজবুত তাহরিরসহ মৌলবাদী ছাত্রসংগঠনগুলো। মসজিদ কিংবা বিভিন্ন আড্ডায় সাংগঠনিক সভায়ও মিলিত হন এসব সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
সুনামগঞ্জের হাওরে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার অভিযোগে বুয়েটের প্রাক্তন এবং বর্তমান ৩৪ জন শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তাররা সবাই শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। শিবিরের বুয়েট শাখার বায়তুল মাল সম্পাদক আফিফ আনোয়ারও ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। বর্তমানে তারা সবাই জামিনে রয়েছেন। কিন্তু থেমে নেই তাদের তৎপরতা। হাতেনাতে ধরা পড়ায় এই ঘটনা প্রকাশ্যে এলেও ভেতরে ভেতরে রাষ্ট্রবিরোধী মৌলবাদী, জঙ্গিবাদভাবাপন্ন সংগঠন বুয়েটে বহু কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
তাদের মৌলবাদী ছাত্র সংগঠনগুলোর অনুসারী ও নেতা-কর্মীরা মুখে মুখে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা বললেও আদতে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে চলেছেন সন্তর্পণে। তারা তাদের স্বার্থে আবরার হত্যার আবেগকে কাজে লাগাচ্ছে।
গত ২৭ মার্চ বুয়েট ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার চত্বরে আসেন ছাত্রলীগের সভাপতি ও দপ্তর সম্পাদকসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। এর দুই দিন পর শুক্রবার বিকেলে বুয়েটের শহীদ মিনারের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালকের (ডিএসডব্লিউ) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা লঙ্ঘন করে পুরকৌশল বিভাগের ২১তম ব্যাচের ছাত্র ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন রাহিম ছাত্রলীগ নেতাদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। ওই দিন রাতেই হলের সিট বাতিল করা হয় ইমতিয়াজের। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এর সঙ্গে নতুন করে তারা আরও চারটি দাবি যুক্ত করেন। মোট পাঁচ দফা দাবিতে তারা এখন আন্দোলন করছেন।
ক্রিয়াশীল ছাত্ররাজনীতির স্বর্ণালী ইতিহাস সবার জানা। দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, রক্ষা ও বাস্তবায়নে ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা অপরিসীম। শুধু তাই নয়, দেশের সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িকতা, সমতার সমাজ গঠনে দেশকে বারবার পথ দেখিয়েছে এই ছাত্ররাজনীতি। বুয়েটের ভূমিকাও সেখানে উল্লেখযোগ্য। তবে বারবার বুয়েটে সেই পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। দেশের অন্যতম মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিরাজনীতিকীকরণের নামে মৌলবাদ নিজেদের ঘাঁটি গড়েছে সেখানে। যার মধ্য দিয়ে ছাত্রশিবিরের মতো সহিংস সংগঠনের শীর্ষপর্যায়ে উঠে এসেছেন বুয়েটের ছাত্ররা। প্রশ্ন হলো- কীভাবে এটি সম্ভব হয়েছে? দেখা গেছে, বুয়েটে রাজনীতি বন্ধের পক্ষে যারা বারবার বক্তব্য রাখছেন তারাও কোনো না কোনোভাবে মৌলবাদী রাজনীতিরই ধারক-বাহক।
বুয়েটে বর্তমানে মৌলবাদী ছাত্র সংগঠনগুলো বাধার শিকার না হলেও বাধা পাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তিগুলো।
সাম্প্রতিক আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থী নামধারীরা ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে উচ্চকিত হলেও বুয়েটে শিবিরের তৎপরতার বিষয়ে তারা নিশ্চুপ। এমনকি এই বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেও, তারা এটি দেখার দায় চাপিয়ে দিয়েছেন প্রশাসনের ওপর; কিন্তু সমালোচনার মুখে শেষপর্যন্ত তারা শিবির ও হিজবুতের নাম নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানালেও এই দুই সংগঠনের নেতা-কর্মী কারা সেটি তারা জানে না বলে জানায়।
বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এই আন্দোলনের পুরো ইন্ধন জোগাচ্ছে ইসলামী ছাত্রশিবির ও হিজবুত তাহ্রীরসহ মৌলবাদী ছাত্র সংগঠনগুলো এবং এক শ্রেণির শিক্ষক।
কিন্তু ছাত্রলীগ বা ছাত্র ইউনিয়নসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত রাজনৈতিক দলগুলো যেকোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলেই তার বিরোধিতা করেছে এই গোষ্ঠী।
সাম্প্রতিক তথ্য না পাওয়া গেলেও ২০১৩ সালের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছিল, বুয়েট নিয়ে মৌলবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতার তথ্য। ওই বছরের নভেম্বরে বুয়েটের নজরুল ইসলাম হলের ২২৩, ৩০২, ৩২৪, ৩৩০ ও ৪১০ নম্বর রুম এবং আহসানউল্লাহ হলসহ বিভিন্ন হল থেকে বিপুল পরিমাণ জেহাদি বই ও শিবিরের সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিবরণ-সংবলিত বেশ কিছু গোপন নথি পাওয়া যায়। গোপন কাগজপত্র থেকে জানা যায়, বুয়েটে সেবা নামের একটি সংগঠনের আড়ালে শিবির তাদের কর্মকাণ্ড সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে প্রচার ও প্রসার করত। এ রকম ‘মেধাবীদের খোঁজে’ নামক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন নামে বেনামে সংগঠন দাঁড় করিয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের তাদের দলে ভেড়ায় তারা। ওই সময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের অংশ হিসেবে রাজপথে পুলিশের ওপর অতর্কিতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আলোচিত ছিল ছাত্রশিবির।
বুয়েট ছাত্রশিবিরের গোপন নথি থেকে জানা গিয়েছিল, বুয়েটে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে শিবির বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পেছনে। ২০১০ সালে বুয়েটে শিবির অর্থ ব্যয় করেছে ৮ লাখ ৭০ হাজার ৩১৪ টাকা এবং ২০১১ সালে খরচ করে ১৩ লাখ ২৩ হাজার ২০০ টাকা। এই তৎপরতা চলমান। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, ছাত্ররাজনীতিমুক্ত বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রগতিশীল রাজনীতিতে বিশ্বাসীদের দমিয়ে রেখে অন্ধকার রাজনীতি শিক্ষার্থীদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বুয়েটে শিবিরের কার্যক্রম চলছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি ড. শফিকুল ইসলাম। এটি জানার পরও সব শেষ সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। উল্টো কোনো প্রমাণ ছাড়াই শিবিরের সাবেক সভাপতির বক্তব্য দেওয়ায় এর প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে এক শিক্ষার্থীকে। অর্থাৎ শিবিরের সাবেক সভাপতির বক্তব্যও তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না বা আমলে নিতে চাইছেন না।
সম্প্রতি বুয়েট শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক আউটলুক ই-মেইলে পাঠানো হয়েছে হিজবুত তাহরিরের ই-মেইল। প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইলে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়ার বার্তা পাঠানো হলেও সর্বশেষ তথ্য অনুসারে সব শিক্ষার্থীর রোল নম্বর ধরে একাধারে প্রেরণ করা হয় এসব ই-মেইল। কিন্তু বর্তমান আন্দোলনকারীরা এর কোনো প্রতিবাদ করেননি।
এদিকে এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গত ১ এপ্রিল বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে ২০১৯ সালে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের আদেশের পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘বুয়েটে এখন থেকে ছাত্ররাজনীতি করায় আর কোনো বাধা থাকল না।’
এদিকে বুয়েটের উপাচার্য ড. সত্যপ্রসাদ মজুমদার বলেছেন, ‘আদালত যা বলবেন, তা আমাদের মানতে হবে। আদালতের আদেশ শিরোধার্য।’ তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনকে পারস্পরিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে এবং এ জন্য আলোচনা জরুরি। জাতি এখন ইতিবাচক ফলাফল দেখার অপেক্ষায়।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের আওতাধীন মাঠ পর্যায়ের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কার্যবণ্টন করা হয়েছে।
রোববার ইসি সচিবালয়ের উপসচিব (সংস্থাপন) মো. শাহ আলম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।
আদেশে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আওতাধীন মাঠ পর্যায়ের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সহকারী উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যবণ্টন সংযুক্ত তালিকা অনুযায়ী নির্ধারণ করা হলো।
অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সহকারী উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যবণ্টন তালিকায় রয়েছে- প্রশাসনিক কার্যাবলি, আর্থিক কার্যাবলি, ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদকরণসংক্রান্ত, নির্বাচনসংক্রান্ত কার্যাবলি, জাতীয় পরিচয়পত্রসংক্রান্ত, লজিস্টিক সংগ্রহ, বিতরণ ও সংরক্ষণ এবং অন্যান্য।
র্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুবাহী যানবাহন যেন জোরপূর্বক কোনো নির্দিষ্ট হাটে নিতে বাধ্য করা না হয়, সে বিষয়ে র্যাব বিশেষ নজরদারি করছে র্যাব। রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে গাবতলী পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেছেন।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীসহ সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি র্যাবও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করেছে। একই সঙ্গে পশুর হাটগুলোতে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।
তিনি জানান, গবাদি পশু নিরাপদে হাটে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে র্যাবের ব্যাটালিয়নগুলো নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় জোরদার টহল পরিচালনা করছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে চেকপোস্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
র্যাব প্রধান বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে জনসমাগম তুলনামূলক কমে যাওয়ায় পশু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিক্রির টাকা ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বাড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাবের নিরাপত্তা চৌকি ও টহলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতাদের ভোগান্তি কমাতে কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নগদ লেনদেন পরিহার করে ক্যাশলেস বা কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধে উৎসাহিত করা হচ্ছে। জাল টাকা প্রতিরোধ ও শনাক্তে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি জাল টাকা উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঈদ ও কোরবানিকে কেন্দ্র করে গুজব বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অন্যান্য অপরাধ দমনে র্যাবের নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। এর আগে তিনি গাবতলী পশুর হাট ঘুরে দেখেন এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন।
দিনভর দাবদাহের পর বিকাল গড়াতেই রাজধানীতে নামে ঝুম বৃষ্টি। বৃষ্টির ফলে বিপাকে পড়েছেন রাজধানীর বিভিন্ন হাটে গরু নিয়ে আসা বেপারী ও ক্রেতারা। যেসব ক্রেতা বৃষ্টির আগে গরু কিনতে এসেছিলেন, তারাও বৃষ্টি শুরু হতেই চলে গেছেন। ফলে বৃষ্টির পর একপ্রকার ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে হাটগুলো।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরান ঢাকার ধোলাইখাল খোকার মাঠ ও পোস্তগোলা-শ্মশানঘাট হাট ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। বেপারীদের প্রত্যাশা, আজ সোমবার থেকে পুরোদমে কোরবানির পশু বেচাকেনা হবে।
হাট ঘুরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গরু নিয়ে আসা বেপারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার গরুর বাজারে লাখে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম চাওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, গত বছর যে গরু এক লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে এবার সে গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে দেড় লাখ টাকা এবং বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ২০-৩০ হাজার টাকায়।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে ধোলাইখাল হাটে ২৭টি গরু নিয়ে এসেছেন জগদীশ পাল। তিনি জানান, গত পরশু এসেছি এ হাটে। এখন পর্যন্ত দুটি গরু বিক্রি করতে পেরেছি। ক্রেতা কিছু আসে, দাম জিজ্ঞেস করে আবার চলে যায়। কেউ কেউ যে দাম বলে, তাতে গরু বিক্রি করা যায় না। আশা করি, এখন যেহেতু বৃষ্টি কিছুটা থেমেছে, তাই রাতে কিছু ক্রেতা আসবে। না হলে আগামীকাল থেকে পুরোদমে গরু বেচাকেনা হবেই।
পুরান ঢাকার ইসলামপুরের ব্যবসায়ী মো. শাহজালাল জানান, গরু কেনার উদ্দেশ্যেই হাটে এসেছিলাম। কিন্তু আবহাওয়ার যে অবস্থা, তাতে গরু কিনে রাখব কোথায়? এখনো তিন দিন বাকি আছে। তারপরও দেখছি, যদি দরদামে মিলে যায় তাহলে কিনে ফেলব। গরুর দাম কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় একটু বেশি মনে হচ্ছে। বিশেষ করে মাঝারি গরুর দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে।’
মেহেরপুরের গাংনী থেকে গরু নিয়ে আসা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সারা দিন যে আবহাওয়া ছিল, ভেবেছিলাম আজ সন্ধ্যার পর পুরোদমে গরু বেচাকেনা শুরু হবে। কিন্তু দুপুরের পর থেকে বৃষ্টির কারণে ক্রেতারা এখনো হাটে আসেননি। যারা এসেছে, তারাও দরদাম করছে, কিন্তু নেওয়ার মতো না। আগামীকাল থেকে পুরোদমে বেচাকেনা হবে আশা করছি।
পাবনা থেকে ১৩টি মহিষ নিয়ে পোস্তগোলা-শ্মশানঘাট হাটে এসেছেন আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, ‘এখনো কোনো ক্রেতার দেখা পাইনি। আজ ভেবেছিলাম সন্ধ্যার পর কিছু ক্রেতা আসবে, কিন্তু বৃষ্টির কারণে সেটা আজ হচ্ছে না। তবে আশা করি, আগামীকাল থেকে ক্রেতা আসবে এবং পুরোদমে হাট জমে উঠবে।’
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, যখন কোথাও প্রোগ্রাম করা যেত না, তখন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাধাহীনভাবে আমরা প্রোগ্রাম করতে পেরেছি। আমরা চাই, আমাদের সরকারের বিরুদ্ধেও যারা কথা বলতে চান, তাদেরও যেন ডিআরইউ সেই সুযোগটা দেয়। কারণ তারা যদি আমাদের ভুল ধরিয়ে না দেন, তাহলে আমরা কীভাবে আমাদের ভুল শুধরে নেব। কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের জন্য সরকারের ভুলগুলো তুলে ধরার অধিকার সবার রয়েছে। তিনি ডিআরইউ’র ডিবেটিং ক্লাবসহ সব ধরনের কার্যক্রমে সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় স্পন্সরশিপ সহায়তার আশ্বাস দেন।
রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-এর সদস্যদের জন্য প্রথমবারের মতো ‘ডিবেটিং ক্লাব’-এর যাত্রা শুরুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক জাফর ইকবাল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, নারীবিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল, কার্যনির্বাহী সদস্য মাহফুজ সাদী, ডিআরইউ ডিবেটিং ক্লাবের সদস্য সচিব শেখ মো. আরীফ ও সদস্য আসিফ সুমিত প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজান চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনোয়ার হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য মাজাহারুল ইসলাম, ডিবেটিং সোসাইটির সদস্য কাজী শহীদুল আলম এবং সংগঠনের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে ডিআরইউ’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও ডিবেটিং ক্লাবের আহ্বায়ক এমএম জসিম ডিবেটিং ক্লাবের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
রাজধানীর ভাষানটেকে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. হোসেন (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত শনিবার রাত ১২টার দিকে এ ঘটনায় ভাষানটেক থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা।
গ্রেপ্তার মো. হোসেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ডুমুরিয়া এলাকার মৃত সাহেব আলী ফকিরের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার ভাষানটেক এলাকায় বসবাস করছিলেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত দুই থেকে তিন দিন ধরে শিশুটি তার গোপনঅঙ্গে ব্যথার কথা বলে পরিবারের কাছে কান্নাকাটি করছিল। একপর্যায়ে গত শনিবার রাত ৮টার দিকে সে তার পরিবারকে ঘটনার কথা জানায়।
শিশুটি জানায়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সে তাদের ঘরের সামনে খেলা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী হোসেন তাকে কৌশলে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যান। এরপর ঘরের দরজা বন্ধ করে এবং মুখ চেপে ধরে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
ঘটনাটি জানার পরপরই শিশুটির বাবা গত শনিবার রাতে ভাষানটেক থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে আসামি হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
ভাষানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গত শনিবার রাতে ধর্ষণের মামলা দায়েরের পরপরই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সকালে তাকে ঢাকার আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রায় ৩ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীর হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহারের চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। রোববার দুপুরে রাজধানীর গুলশান-২ এ অবস্থিত নগরভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এই উপহারের চেক হস্তান্তর করা হয়। উপহার হিসেবে প্রত্যেক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে।
ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপহারের চেক তুলে দেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কথা ভাবেন এবং তাদের কষ্ট ও শ্রমকে মূল্যায়ন করেন বলেই ধারাবাহিকভাবে ঈদ উপহার প্রদান করছেন। ঈদুল আজহায় কোরবানির কারণে পুরো নগরে অতিরিক্ত বর্জ্যের সৃষ্টি হয়। এই সময় নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করেন। তাদের কষ্টের কথা বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রী তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে কাজ শুরু করেন। অনেক সময় সকালে নাস্তাও করতে পারেন না। ঢাকা শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা আপনাদের। আপনারা যদি কাজ না করেন তাহলে নগর সুন্দর থাকবে না, দুর্গন্ধমুক্ত থাকবে না। আপনারা আমাদের প্রাণ, আপনারা আমাদের শক্তি। আপনারাও সিটি করপোরেশনের অংশীদার। এই নগর আপনাদেরও। নগরকে পরিষ্কার রাখার সর্বোচ্চ দায়িত্ব আপনাদের কাঁধেই।’
সবুজ ও পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রিন ঢাকা ও ক্লিন ঢাকা গড়তে শুধু সিটি করপোরেশনের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। রাস্তাঘাটে যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলে পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।’
ঈদ ও বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির সময় যাতে দ্রুত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রম পরিচালনা করা যায় সে লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন প্রস্তুত রয়েছে।’ এ সময় তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য পূর্বে দেওয়া রেইনকোট ব্যবহার করারও আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার আসন্ন কোরবানির ঈদে যারা নগর পরিচ্ছন্নতার কাজ করবেন তাদের উদ্যম আরও বাড়িয়ে দেবে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা আরও মনোযোগ দিয়ে কাজ করবেন এবং নগরবাসী যাতে কোরবানির বর্জ্যে ভোগান্তিতে না পড়েন সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসানসহ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঈদুল আজহা এবং গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি কলেজসহ দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির তালিকায় সংশোধনী আনা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংশোধিত ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে।
সংশোধিত নতুন তালিকা অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোতে ঈদুল আজহার ছুটি গত শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে এবং এই ছুটি আগামী ৬ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো বাদ দিয়ে এই তালিকায় মোট ১০ দিনকে দাপ্তরিক বা একাডেমিক ছুটি হিসেবে গণনা করা হয়েছে। তবে সাপ্তাহিক ছুটিসহ কলেজগুলোতে মোট ১৬ দিন ছুটি থাকবে। উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত আগের তালিকায় ছুটির সময়কাল ছিল ২৪ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত।
অন্যদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ২৪ মে থেকে ছুটি শুরুর কথা থাকলেও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে গত ২১ মে বৃহস্পতিবার ছিল শেষ কর্মদিবস। এসব প্রতিষ্ঠানে আগামী ৪ জুন পর্যন্ত ছুটি চলবে এবং ৫ ও ৬ জুনের সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ৭ জুন রোববার থেকে নিয়মিত পাঠদান শুরু হবে। এই পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ১৬ দিনের অবকাশ পাচ্ছে।
মাদ্রাসা পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে দীর্ঘ ছুটি। আলিয়া, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল স্তরের মাদ্রাসাগুলোতে গত ২৪ মে থেকে শুরু হওয়া এই ছুটি আগামী ১১ জুন পর্যন্ত চলবে। ১২ ও ১৩ জুনের সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ১৪ জুন রোববার থেকে এসব মাদ্রাসায় ক্লাস শুরু হবে। ফলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা এবার প্রায় ২৩ দিনের ছুটি উপভোগ করতে পারবে।
সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহার টানা সাত দিনের ছুটি। তবে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনেকেই রোববার অফিস শেষ করেই বাড়ির পথে রওনা হবেন।
প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা দুর্ঘটনা ও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে ভোগান্তিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এসব দুর্ভোগ কমাতে পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীদের জন্য একগুচ্ছ বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল রোববার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
গণবিজ্ঞপ্তিতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, বাসযাত্রার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টার্মিনাল থেকে বাস ছাড়তে হবে। যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না। যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বা হয়রানি করা যাবে না। একই আসন একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি করা যাবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিটের অতিরিক্ত যাত্রী বা বাসের ছাদে যাত্রী বহন করা যাবে না। পণ্য ও পশুবাহী যানবাহনে, বিশেষ করে ফেরার পথে যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চালকদের গতিসীমা মেনে গাড়ি চালাতে হবে এবং বেপরোয়া বা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকা, রাস্তার বাঁক ও সরু সেতুতে ওভারটেকিং করা যাবে না। নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে, ঘুমঘুম ভাব নিয়ে কিংবা শারীরিক অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি চালানো যাবে না। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহার করা যাবে না এবং উচ্চস্বরে গান বাজানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উল্টো পথে গাড়ি চালানো যাবে না। চালক নিয়োগের আগে তার ড্রাইভিং লাইসেন্সের বৈধতা যাচাই করতে হবে।
ডিএমপি আরও জানিয়েছে, মালিকপক্ষ কোনো চালককে একটানা পাঁচ ঘণ্টা এবং দিনে আট ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য করতে পারবে না।
যাত্রীদের জন্য দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সড়কের যত্রতত্র দাঁড়িয়ে বাসে না উঠে নির্দিষ্ট টার্মিনাল বা কাউন্টার থেকে বাসে উঠতে হবে। অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নিজেদের মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখতে হবে এবং বাস ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই কাউন্টার বা টার্মিনালে উপস্থিত হতে হবে। এছাড়া চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা করা এবং পণ্যবাহী বা পশুবাহী যানবাহনে যাত্রী হিসেবে ভ্রমণ না করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পথচারীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, জেব্রা ক্রসিং, ফুটওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার করে রাস্তা পারাপার করতে হবে। দৌড়ে বা মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পারাপার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ফুটপাত ব্যবহার করে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জরুরি প্রয়োজনে টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোল রুম বা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডিএমপি।
দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গে আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মারা গেছে ৫২৮ শিশু। আজ রবিবার (২৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গেই ১৬ জন মারা গেছে। ঢাকায় সর্বোচ্চ ১০, ময়মনসিংহে দুই এবং রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল ও সিলেটে একজন করে মারা গেছে। এ সময় নতুন করে ১ হাজার ৪৩৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১২৮ জনের নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। আর হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে ১ হাজার ৩০৬ জনের শরীরে।
এতে আরও বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত এ নিয়ে সন্দেহজনক হামে ৪৪২ জন ও নিশ্চিত হামে ৮৬ জন মারা গেছে। একই সময়ে সারা দেশে হাম সন্দেহে ৫০ হাজার ৫৫৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৪৬ হাজার ২১৪ জন ছাড়পত্র পেয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৬৩ হাজার ৮১৩ শিশুর। আর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৬২২ জন।
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আজ রবিবারই আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, বিশেষ এই আদালতে মাত্র ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে পুরো বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। আজ রবিবার এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রামিসার ঘটনায় চার্জশিট আজই। বিশেষ এই আদালতে ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করা হবে। যদিও আদালতের বিষয় এটি। আশা করছি, আদালত সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করবেন।’ পুলিশ ইতোমধ্যেই চার্জশিটের কারিগরি প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত স্বপ্না আক্তারকে ইতোমধ্যে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে হাজির করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত বুধবার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতের বিচারকের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে সে উল্লেখ করেছে যে, ঘটনার আগে মাদক সেবন করে সে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং এরপরই শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
পুলিশি জেরায় সোহেল রানা আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছে। সে জানায়, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সময় সে তার স্ত্রী স্বপ্নাকে একটি নির্দিষ্ট কক্ষে আটকে রেখেছিল। পরবর্তীতে লাশ টুকরা করে গুম করার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় রামিসার পরিবার ও এলাকাবাসী ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। জনরোষ থেকে বাঁচতে সোহেল ও তার এক সহযোগী জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও স্বপ্নাকে স্থানীয়রা হাতেনাতে ধরে ফেলেন। বর্বরোচিত এই ঘটনার দ্রুত বিচার ও দোষীদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিত করার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় সংসদ ভবনে পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে ‘সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (২৪ মে) সংসদ ভবনের শপথ কক্ষ হলে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুরোধে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই আধুনিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। এই প্রকল্পটি সংসদ ভবনের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ চাহিদার একটি অংশ মেটানোর পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডেও অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের হুইপরা, সংসদ সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা এবং জাতীয় সংসদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সর্বদা শান্তিপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই অভিবাসনে বিশ্বাসী উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে একটি জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এটা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইকের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় মন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট নিরসন ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট নিরসন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ, টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
রোহিঙ্গা সংকটের কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতিসংঘ শুরু থেকেই রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে বিশ্বসম্প্রদায়ের মনোযোগের কেন্দ্রে রেখেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসার যোগ্য এবং আশাব্যঞ্জক।
তিনি বলেন, এই মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ছায়াতলে বাংলাদেশের আরও ব্যাপক ও জোরালো আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং বৈশ্বিক তহবিল প্রয়োজন। বর্তমানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংস্থার মাধ্যমে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য কয়েকটি মানবিক প্রকল্প চলমান রয়েছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত। জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য অত্যন্ত নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন, যা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদাকে উজ্জ্বল করেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সমর্থন ও সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাতিসংঘের দৃশ্যমান ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অদূর ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও গভীর, সুসংহত ও বেগবান হবে।
জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইক বলেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও জনগণের কল্যাণে অংশীদার হিসেবে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের সাথে জাতিসংঘের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার কৌশলগত ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে মন্ত্রীর মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ জানতে চান।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রাসমূহ সময়মতো বাস্তবায়নে জাতিসংঘের সর্বাত্মক ও নিবিড় সহযোগিতা চেয়েছেন।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের অবারিত উদারতা ও অনন্য সংহতির ভূয়সী প্রশংসা করে ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইক বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের এই মানবিক দৃষ্টান্ত অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি বাস্তবসম্মত উপলব্ধি ব্যক্ত করে বলেন, এত বিশাল সংখ্যক শরণার্থীর এই দীর্ঘমেয়াদি বোঝা বাংলাদেশের একার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও বেশি মনোযোগ, কার্যকর চাপ এবং দৃশ্যমান সমর্থন প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষায় জাতিসংঘের যেকোনো আহ্বানে সাড়া দিতে বাংলাদেশ সর্বদা অঙ্গীকারাবদ্ধ বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীকে বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনের জন্য উষ্ণ স্বাগত জানান। আবাসিক সমন্বয়কারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার নতুন পোর্টফলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশে জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের হেড অব অফিস লুইস বারবার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। পুরো জাতি এ ঘটনায় শোকাহত এবং ক্ষুব্ধ।
শনিবার (২৩ মে) শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এ মন্তব্য করেছেন।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রামিসাসহ এ ধরনের নৃশংস ঘটনাগুলো অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। পুরো জাতি এ ঘটনায় শোকাহত এবং ক্ষুব্ধ। জাতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নিহত শিশুর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা, সহানুভূতি ও শোক প্রকাশ করেছেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এ সময় তথ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের ঘটনায় জনগণের মধ্যে যে ক্ষোভ ও সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে, তা গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার ফল। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের তৈরি জনমতের ভিত্তিতেই সরকার আরও কার্যকর আইন ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে, যাতে সমাজ থেকে এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব হয়।
এদিকে, পাড়ায় মহল্লায় গড়ে ওঠা স্কুল কলেজগুলো যেন সরকারি নীতিমালায় চলে সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
পরে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।