২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ওই বছরের ১১ অক্টোবর সব রাজনৈতিক সংগঠন এবং এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গোপনে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে দেশবিরোধী কিছু মৌলবাদী সংগঠন।
আর তাদের মতের সঙ্গে না মিললেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা বুলিং-র্যাগিংয়ের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি গত ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন হলে ইফতার বিতরণ করার কারণে কিছু শিক্ষার্থীর এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে। শনিবার (৩০ মার্চ) বিকেলে বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা এমন উদ্বেগজনক অভিযোগের কথা জানালেন।
তারা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তি বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেই বা পরিচয় থাকলে তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়; পরিবার নিয়েও অশালীন মন্তব্য করা হয় অনলাইন ও অফলাইনে। বিষয়গুলো নিয়ে কেউ সামান্যতম প্রতিবাদ করতে চাইলে ‘ছাত্রলীগ’ ট্যাগ দিয়ে তাকে বুয়েট থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়।
এমন পরিস্থিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের লাভের গুড় যাচ্ছে কার ঘরে? দেশের অন্যতম মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের এই বিদ্যাপীঠে রাজনীতি বন্ধের সুযোগে তবে কি মৌলবাদের আখড়ায় পরিণত হবে!
আবরার হত্যাকাণ্ডের মতো দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পর ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নসহ প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ করে। তবে ক্যাম্পাসে গোপনে কার্যক্রম চালায় ইসলামী ছাত্রশিবির ও হিজবুত তাহরিরসহ মৌলবাদী ছাত্রসংগঠনগুলো। মসজিদ কিংবা বিভিন্ন আড্ডায় সাংগঠনিক সভায়ও মিলিত হন এসব সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
সুনামগঞ্জের হাওরে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার অভিযোগে বুয়েটের প্রাক্তন এবং বর্তমান ৩৪ জন শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তাররা সবাই শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। শিবিরের বুয়েট শাখার বায়তুল মাল সম্পাদক আফিফ আনোয়ারও ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। বর্তমানে তারা সবাই জামিনে রয়েছেন। কিন্তু থেমে নেই তাদের তৎপরতা। হাতেনাতে ধরা পড়ায় এই ঘটনা প্রকাশ্যে এলেও ভেতরে ভেতরে রাষ্ট্রবিরোধী মৌলবাদী, জঙ্গিবাদভাবাপন্ন সংগঠন বুয়েটে বহু কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
তাদের মৌলবাদী ছাত্র সংগঠনগুলোর অনুসারী ও নেতা-কর্মীরা মুখে মুখে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা বললেও আদতে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে চলেছেন সন্তর্পণে। তারা তাদের স্বার্থে আবরার হত্যার আবেগকে কাজে লাগাচ্ছে।
গত ২৭ মার্চ বুয়েট ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার চত্বরে আসেন ছাত্রলীগের সভাপতি ও দপ্তর সম্পাদকসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। এর দুই দিন পর শুক্রবার বিকেলে বুয়েটের শহীদ মিনারের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালকের (ডিএসডব্লিউ) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা লঙ্ঘন করে পুরকৌশল বিভাগের ২১তম ব্যাচের ছাত্র ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন রাহিম ছাত্রলীগ নেতাদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। ওই দিন রাতেই হলের সিট বাতিল করা হয় ইমতিয়াজের। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এর সঙ্গে নতুন করে তারা আরও চারটি দাবি যুক্ত করেন। মোট পাঁচ দফা দাবিতে তারা এখন আন্দোলন করছেন।
ক্রিয়াশীল ছাত্ররাজনীতির স্বর্ণালী ইতিহাস সবার জানা। দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, রক্ষা ও বাস্তবায়নে ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা অপরিসীম। শুধু তাই নয়, দেশের সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িকতা, সমতার সমাজ গঠনে দেশকে বারবার পথ দেখিয়েছে এই ছাত্ররাজনীতি। বুয়েটের ভূমিকাও সেখানে উল্লেখযোগ্য। তবে বারবার বুয়েটে সেই পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। দেশের অন্যতম মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিরাজনীতিকীকরণের নামে মৌলবাদ নিজেদের ঘাঁটি গড়েছে সেখানে। যার মধ্য দিয়ে ছাত্রশিবিরের মতো সহিংস সংগঠনের শীর্ষপর্যায়ে উঠে এসেছেন বুয়েটের ছাত্ররা। প্রশ্ন হলো- কীভাবে এটি সম্ভব হয়েছে? দেখা গেছে, বুয়েটে রাজনীতি বন্ধের পক্ষে যারা বারবার বক্তব্য রাখছেন তারাও কোনো না কোনোভাবে মৌলবাদী রাজনীতিরই ধারক-বাহক।
বুয়েটে বর্তমানে মৌলবাদী ছাত্র সংগঠনগুলো বাধার শিকার না হলেও বাধা পাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তিগুলো।
সাম্প্রতিক আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থী নামধারীরা ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে উচ্চকিত হলেও বুয়েটে শিবিরের তৎপরতার বিষয়ে তারা নিশ্চুপ। এমনকি এই বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেও, তারা এটি দেখার দায় চাপিয়ে দিয়েছেন প্রশাসনের ওপর; কিন্তু সমালোচনার মুখে শেষপর্যন্ত তারা শিবির ও হিজবুতের নাম নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানালেও এই দুই সংগঠনের নেতা-কর্মী কারা সেটি তারা জানে না বলে জানায়।
বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এই আন্দোলনের পুরো ইন্ধন জোগাচ্ছে ইসলামী ছাত্রশিবির ও হিজবুত তাহ্রীরসহ মৌলবাদী ছাত্র সংগঠনগুলো এবং এক শ্রেণির শিক্ষক।
কিন্তু ছাত্রলীগ বা ছাত্র ইউনিয়নসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত রাজনৈতিক দলগুলো যেকোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলেই তার বিরোধিতা করেছে এই গোষ্ঠী।
সাম্প্রতিক তথ্য না পাওয়া গেলেও ২০১৩ সালের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছিল, বুয়েট নিয়ে মৌলবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতার তথ্য। ওই বছরের নভেম্বরে বুয়েটের নজরুল ইসলাম হলের ২২৩, ৩০২, ৩২৪, ৩৩০ ও ৪১০ নম্বর রুম এবং আহসানউল্লাহ হলসহ বিভিন্ন হল থেকে বিপুল পরিমাণ জেহাদি বই ও শিবিরের সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিবরণ-সংবলিত বেশ কিছু গোপন নথি পাওয়া যায়। গোপন কাগজপত্র থেকে জানা যায়, বুয়েটে সেবা নামের একটি সংগঠনের আড়ালে শিবির তাদের কর্মকাণ্ড সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে প্রচার ও প্রসার করত। এ রকম ‘মেধাবীদের খোঁজে’ নামক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন নামে বেনামে সংগঠন দাঁড় করিয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের তাদের দলে ভেড়ায় তারা। ওই সময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের অংশ হিসেবে রাজপথে পুলিশের ওপর অতর্কিতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আলোচিত ছিল ছাত্রশিবির।
বুয়েট ছাত্রশিবিরের গোপন নথি থেকে জানা গিয়েছিল, বুয়েটে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে শিবির বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পেছনে। ২০১০ সালে বুয়েটে শিবির অর্থ ব্যয় করেছে ৮ লাখ ৭০ হাজার ৩১৪ টাকা এবং ২০১১ সালে খরচ করে ১৩ লাখ ২৩ হাজার ২০০ টাকা। এই তৎপরতা চলমান। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, ছাত্ররাজনীতিমুক্ত বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রগতিশীল রাজনীতিতে বিশ্বাসীদের দমিয়ে রেখে অন্ধকার রাজনীতি শিক্ষার্থীদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বুয়েটে শিবিরের কার্যক্রম চলছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি ড. শফিকুল ইসলাম। এটি জানার পরও সব শেষ সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। উল্টো কোনো প্রমাণ ছাড়াই শিবিরের সাবেক সভাপতির বক্তব্য দেওয়ায় এর প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে এক শিক্ষার্থীকে। অর্থাৎ শিবিরের সাবেক সভাপতির বক্তব্যও তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না বা আমলে নিতে চাইছেন না।
সম্প্রতি বুয়েট শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক আউটলুক ই-মেইলে পাঠানো হয়েছে হিজবুত তাহরিরের ই-মেইল। প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইলে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়ার বার্তা পাঠানো হলেও সর্বশেষ তথ্য অনুসারে সব শিক্ষার্থীর রোল নম্বর ধরে একাধারে প্রেরণ করা হয় এসব ই-মেইল। কিন্তু বর্তমান আন্দোলনকারীরা এর কোনো প্রতিবাদ করেননি।
এদিকে এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গত ১ এপ্রিল বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে ২০১৯ সালে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের আদেশের পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘বুয়েটে এখন থেকে ছাত্ররাজনীতি করায় আর কোনো বাধা থাকল না।’
এদিকে বুয়েটের উপাচার্য ড. সত্যপ্রসাদ মজুমদার বলেছেন, ‘আদালত যা বলবেন, তা আমাদের মানতে হবে। আদালতের আদেশ শিরোধার্য।’ তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনকে পারস্পরিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে এবং এ জন্য আলোচনা জরুরি। জাতি এখন ইতিবাচক ফলাফল দেখার অপেক্ষায়।
আসন্ন জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে অন্তত ১ শতাংশ বরাদ্দ বৃদ্ধির চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। একই সঙ্গে পর্যায়ক্রমে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার অংশ হিসেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার।
তিনি বলেন, আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে অন্তত ১ শতাংশ বরাদ্দ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যখাতে জনবল সংকট মোকাবিলায় ধাপে ধাপে প্রায় ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হবে।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসাকেন্দ্রিক স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা থেকে ধীরে ধীরে প্রিভেনশনকেন্দ্রিক স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার দিকে এগোনোর প্রচেষ্টা চলছে, যাতে রোগ প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এছাড়া জরুরি টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে ধীরে ধীরে হামের প্রকোপ কমে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন করা হবে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
বৃহস্পতিবার (৩০এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা বলেন। সংসদের অধিবেশনের সভাপতিত্ব করছেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার প্রশ্ন রেখে বলেন, বর্তমানে গাইবান্ধা জেলায় খাল খনন কর্মসূচির আওতায় কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে কি না; হলে, তা কী?
জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলায় খাল খনন/পুনঃখনন কার্যক্রম চলমান আছে।
তিনি বলেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় চলমান প্রকল্পের মাধ্যমে জুন ২০২৬ পর্যন্ত পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয় সারা দেশে ১২০৪ কিলোমিটার এবং আগামি ৫ বছরে নতুন ও চলমান প্রকল্পের মাধ্যমে ২০,০০০ কি.মি. খাল খনন/পুনঃখনন করবে।
এছাড়াও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জুন ২০২৬ পর্যন্ত কাবিখা-কাবিটা-টিআর এর মাধ্যমে ১৫০০ কি.মি. খাল পুনঃখনন/সংস্কার করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় গাইবান্ধা জেলায় ৩টি খাল পুনঃখননের কাজ চলমান আছে এবং বৃহৎ পরিসরে খাল খননের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. শাওগাতুল আলম। তিনি অতিরিক্ত সচিবের পদমর্যাদা পাবেন।
গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম স্বাক্ষরিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে ঢাকা নভোথিয়েটারের মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন মো. শাওগাতুল আলম।
প্রতিশোধ-প্রতিহিংসা আর আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে ইউনূস সরকারের আমলে কারামুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও অপরাধীদের সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য না থাকার সুযোগ নিচ্ছে তারা। তাদের অনেকেই এখন অপরাধ জগতে পুরো মাত্রায় সক্রিয়। তাদের কেউ কেউ সন্দেহ আর অবিশ্বাসের জগতে পুরনো হিসাব মেলাতে খাটাচ্ছেন মাথা। এতেই অস্থির হয়ে উঠেছে অপরাধ জগৎ। রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এই তথ্য সামনে এসেছে।
পুলিশ বলছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে হত্যা করা হয়েছে। তেবে যারা টিটনের হত্যায় জড়িত তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া, বিদেশে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে ইন্টারপোলের সহায়তা নেয়া হবে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দেন ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।
পুলিশ ও গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ৫২ বছর বয়সী টিটন ২০০১ সালে তৎকালীন সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর একজন ছিলেন। তিনি ২০ বছরেরও বেশি সময় কারাগারে কাটিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কারামুক্ত হন। মুক্তির পর তিনি ঢাকার রায়েরবাজার ও হাজারীবাগ এলাকায় পুনরায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে নিউমার্কেট ১ নম্বর গেট ও শহিদ শাহ নেওয়াজ হল সংলগ্ন রাস্তায় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে সে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা দুর্বৃত্তদের ধাওয়া করলে তারা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে টিটনকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্থানীয়রা। সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় শীর্ষ ২৩ সন্ত্রাসীকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করে। এতে অপরাধীদের অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল। এরপর একই সরকারের আমলে ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট র্যাবের তৎপরতায় অনেকে গ্রেপ্তার হয়েছিল, কেউ কেউ পালিয়েও গিয়েছিল। আবার সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অনেক সন্ত্রাসী প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ ঠিকানা হিসেবে কারাগারকেই বেছে নিয়েছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কারামুক্ত হয়ে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে তারা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কারামুক্ত হয় ৯০ দশকে তেজগাঁও এলাকার ত্রাস সুইডেন আসলাম, মিরপুরের আব্বাস আলী ওরফে কিলার আব্বাস, মোহাম্মদপুরের ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, হাজারীবাগ এলাকার খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন ও খোরশেদ আলম রাসু ওরফে ফ্রিডম রাসু। এ ছাড়া কারামুক্ত হয়ে হাজারীবাগ ও ধানমন্ডি এলাকার আতঙ্ক সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন পাড়ি জমান বিদেশে। তাদের মধ্যে সুইডেন আসলাম নিষ্ক্রিয় থাকলেও অন্য সবাই সক্রিয়।
এর আগে শীর্ষ সন্ত্রাসীর তকমা মুছে কারামুক্ত হয় জোসেফ আহমেদ। দীর্ঘদিন তিনি ঢাকার অপরাধ জগতের একচ্ছত্র অধিপতি সেজে ছিলেন।
এসব সন্ত্রাসীর বেশিরভাগই এক থেকে দেড় যুগের বেশি সময় ধরে ছিল কারাগারে। এখনো কারাগারে আছে— এমন সন্ত্রাসীর কেউ কেউ মুক্তির জন্য জোর তদবির চালাচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরনো ও নতুন গজিয়ে ওঠা অপরাধীদের হালনাগাদ তথ্য নেই তাদের কাছে। কাজ চলছে নতুন তালিকা তৈরির।
তাদের দাবি, তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীর মধ্যে বড় অংশই এখন দেশের বাইরে। মারা গেছে কেউ কেউ। তাদের বাইরে যারা কারাগারে রয়েছে, তাদের বেশিরভাগই দুয়েকটি মামলা ছাড়া অন্যগুলোয় খালাস পেয়ে কিংবা জামিন নিয়ে কারাগারে অবস্থান করছিল। পরিবর্তিত পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এখন তারা জামিনে বের হয়ে আসছে।
২০০১ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম প্রকাশ করে। তাতে নাম ছিল আব্বাস, হেলাল, টিটন ও রাসুর। এই চারজনসহ জামিনে বের হওয়া প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই হত্যা, হত্যাচেষ্টাসহ আরও মামলা রয়েছে। কোনো কোনো মামলায় তাদের সাজাও হয়। আবার কোনো কোনো মামলায় উচ্চ আদালত থেকে অব্যাহতিও পায় কেউ কেউ।
ঢাকার অপরাধ জগৎ নিয়ে কাজ করা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, বড় অপরাধীদের মামলা, জামিন, গ্রেপ্তার ও সামগ্রিক কার্যক্রমের ওপর পুলিশের বিশেষ শাখাসহ অন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সবসময় করত নজরদারি। তবে ২০২৪ সালে সরকার পতনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর কাঠামোয় ভঙ্গুর অবস্থা তৈরি হয়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা খুব সহজেই বের হয়ে আসে। তাদের ওপর কোনো নজরদারি ছিল না।
যদিও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলামের দাবি, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কেউ যাতে নতুন করে অপরাধে জড়াতে না পারে, তা নিশ্চিতে সক্রিয় তারা। তিনি বলেন, জামিনে বের হয়ে কেউ যেন নতুন করে অপরাধমূলক কাজে জড়াতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী, গডফাদার বা যেকোনো পরিচয়েই হোক, অপরাধ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
কোনো অপরাধী কারামুক্ত হলে তাতে অপরাধের মাত্রা বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয় বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হকের মত, ‘শীর্ষ সন্ত্রাসীরা কারাগারে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করত বাইরের অপরাধ। তাই জামিনে মুক্ত হলে তাদের অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়।’
বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট ক্রমেই বাড়ছে। আগে যেখানে খুচরা দোকানগুলোতে থরে থরে সাজনো থাকতো বোতলজাত সয়াবিন তেল, সেখানে এখন হাতেগোনা কয়েকটি বোতল দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ডিলার পর্যায়ে অন্য পণ্য গ্রহণের শর্তে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে খোলা তেল নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়ায় ভোক্তাদের অতিরিক্ত মূল্য গুনতে হচ্ছে। এই অবস্থার মধ্যেই বাড়ল দাম। প্রতি লিটারে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৯৫ টাকা থেকে ১৯৯ টাকা করা হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে ভোজ্যতেলের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১ হাজার ৪০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ভোজ্যতেলের মূ ল্য পর্যালোচনা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও জানান, ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। নতুন এই মূল্য গতকাল বুধবার থেকেই কার্যকর হয়েছে।
এদিকে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সয়াবিন তেলের আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৪৮ হাজার টন, সেখানে এ বছর তা নেমে এসেছে ২ লাখ ৬১ হাজার টনে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী মাসে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশে ভোজ্য তেলের চাহিদা আরো বাড়বে। তাই এখনই সয়াবিন তেলের সরবরাহ সমস্যা দ্রুত সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও দেশে তা সমন্বয়ের জন্য সরকারকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র আমদানি পরিস্থিতি সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে সয়াবিন তেলের আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত বছরের একই সময়ে যেখানে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৪৮ হাজার টন, সেখানে এ বছর তা নেমে এসেছে ২ লাখ ৬১ হাজার টনে। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তবে একই সময়ে পাম অয়েলের আমদানি প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত পাম অয়েল আমদানি হয়েছিল ৪ লাখ ৫৯ হাজার টন, যা এ বছর একই সময়ে ৪ লাখ ৫৭ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। ফলে সয়াবিন তেলের ঘাটতি পাম অয়েল দিয়ে পূরণ হচ্ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৪ লাখ টন, যার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। এই বাস্তবতায় আমদানি কমে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও সয়াবিন তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম ছিল ১ হাজার ১৫৪ ডলার, যা ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে ১ হাজার ২৮২ ডলার এবং মার্চে ১ হাজার ৪৮২ ডলারে পৌঁছায়। ফলে আমদানিকারকদের ব্যয় আরো বেড়েছে।
সংবিধান সংশোধনে ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে বলে সংসদকে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বিশেষ কমিটিতে সরকারি দলের ৭ জন এবং স্বতন্ত্র ও অন্য দল থেকে থাকবেন ৫ জন সদস্য। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, সংসদের রুল ২৬৬ অনুযায়ী ঠিক করা হয়েছে ১২ সদস্যের একটি প্রাথমিক তালিকা। এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের। এই ১২ জনের মধ্যে বিএনপি থেকে সাতজন এবং অন্য দল থেকে রাখা হয়েছে পাঁচজনকে।
বিরোধী দলের অনুপাত প্রায় ২৬ শতাংশ হওয়ায় তাদের পক্ষ থেকে চাওয়া হয়েছে পাঁচজনের নাম। বিরোধী দল যদি এই পাঁচজনের নাম দেয়, তাহলে মোট ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা সম্ভব হবে,’ বলছিলেন মন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিরোধী দল নাম দিলে পরদিনই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা যাবে এবং সংবিধান সংশোধন ও ‘জুলাই সনদ’-এর আলোকে কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
এ সময় স্পিকার বলছিলেন, ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে ১২ সদস্যের একটি তালিকা প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং বিরোধী দলের কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে পাঁচজনের নাম। এভাবে গঠন করা হবে ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি। বিরোধী দল দ্রুত তালিকা দিলে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগোবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশে হাম প্রতিরোধে ১ লাখ ৭৫ হাজার ইউরো সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। যা বাংলাদেশি অর্থে প্রায় আড়াই কোটি টাকার সমান। এই অর্থ প্রদান করা হবে রেডক্রসের কাছে। যেসব পরিবারের সদস্য হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং চিকিৎসা চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাদের নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ইইউ এ তথ্য জানিয়েছে।
তারা বলেছে, এ সহায়তা বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর এবং ময়মনসিংহের মানুষের উপকারে কাজে লাগবে।
রেডক্রস এই অর্থ দিয়ে চলমান ভ্যাকসিন কার্যক্রম আরও দৃঢ় করবে। এছাড়া হাম প্রতিরোধেও এগুলো ব্যয় করা হবে। যারমধ্যে থাকবে স্বাস্থ্য সরঞ্জাম সরবরাহ করা।
মূলত নগদ অর্থ দেওয়া হবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাতায়াত এবং অসুস্থের সেবা করতে গিয়ে যাদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে তাদের।
বিবৃতিতে ইইউ আরও জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশের অন্যতম দাতা সংস্থা। এরমধ্যে শুধুমাত্র ২০২৬ সালেই মানবিক সহায়তা হিসেবে ২৩ মিলিয়ন ইউরো বাংলাদেশের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থাকে দিয়েছে তারা। যারমধ্যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন ইউরো এবং ৭ মিলিয়ন ইউরো দেওয়া হয়েছে দুর্যোগ সংক্রান্ত প্রস্তুতি, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং স্থিতিস্থাপকতা অর্জনে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের কৃষিমন্ত্রী ও দেশটির সরকারের বিশেষ দূত সুজুকি নরিকাজুর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য জাপান সরকারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান জাপানের কৃষিমন্ত্রী।
একইসঙ্গে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। দু’দেশের মধ্যে ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সুজুকি নরিকাজু।
বিশেষ দূত বাংলাদেশে জাপানি খাদ্যপণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি এবং কৃষি ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও জাপান দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এ লক্ষ্যে কৃষি খাত, ইলেকট্রনিকস ও অটোমোবাইল খাতে জাপানের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী জাপানে বাংলাদেশি জনশক্তি রপ্তানির বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি খাতে দক্ষ জনবল পাঠানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। জাপানি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর এসব প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে নেন।
বৈঠকে জাপানের সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর, মেট্রোরেল প্রকল্প এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
জাপানি প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ১৭ দশমিক পাঁচ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দেওয়ার কথা জানায়। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের ওপর জোর দেন।
এছাড়া জাপানের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দেশটিতে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীও সুবিধাজনক সময়ে জাপানে সরকারি সফরের আশা ব্যক্ত করেন।
দেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারি তথ্য ও সেবা পাওয়ার প্রধান ভরসা জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩ গভীর সংকটে রয়েছে। একদিকে তীব্র জনবল সংকট, অন্যদিকে অপ্রাসঙ্গিক বা ‘উটকো’ ফোনের বিড়ম্বনায় বিঘ্নিত হচ্ছে জরুরি সেবা কার্যক্রম। চালুর সময় ৬৫ জন কর্মী থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৩০ জন নিয়ে তিন শিফটে ধুঁকছে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ। আগামী ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে চলায় এর ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
সম্প্রতি সচিবালয় ও ৩৩৩-এর কনটাক্ট সেন্টার (কল সেন্টার) ঘুরে এই চিত্র পাওয়া গেছে।
জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩-এর পরিসংখ্যান (এপ্রিল ২০১৮ থেকে মার্চ ২০২৬) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মোট ১২ কোটি ছয় লাখ কলের মধ্যে রিসিভ করা হয়েছে পাঁচ কোটি ৩৪ লাখ। এর মধ্যে বড়ো একটি অংশই অপ্রয়োজনীয় কল। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মোট কলের ২১ শতাংশই কৌতুকপূর্ণ বা প্রাঙ্ক কল এবং ১৩ শতাংশ নীরব কল।
সেবাপ্রদানকারীরা জানান, সাহায্যপ্রার্থীদের ভিড়ে অনেক সময় প্রেমের আবদার, মোবাইল রিচার্জ চাওয়া কিংবা বান্ধবীর বিয়ে ঠেকানোর মতো বিচিত্র সব উটকো ফোন কল আসে, যা প্রকৃত অভাবী মানুষকে অপেক্ষমাণ রাখছে।
সিনেসিস আইটি পিএলসির চিফ সলিউশন অফিসার আমিনুল বারী শুভ্র জানালেন বৈজ্ঞানিক নিয়ম অনুযায়ী একজন কল টেকার আট ঘণ্টায় ১০০ বেশি কল রিসিভ করা কঠিন হলেও বর্তমানে ৩৩৩-এর একেকজন কর্মীকে ২০০-এর বেশি কল সামলাতে হচ্ছে। যা অমানবিক। এর ফলে সব সাহায্য প্রার্থীকে সেবা দেয়া সম্ভব হয় না। শুরুতে ৬৫ জন কল টেকার থাকলেও এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩০ জনে। এতে সেবার মান ও গতি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি সরকারকে গুরুত্বের সাথে ভেবে দেখার আহ্বান তাদের।
ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল হিসেবে ৩৩৩-এর ৮০ শতাংশ কলই আসে গ্রাম থেকে। কৃষক, জেলে ও দিনমজুররা সরাসরি বাটন ফোনের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য, বাল্যবিয়ে রোধ এবং দুর্যোগের পূর্বাভাস পান। তবে শহরের মানুষের কাছে এটি এখনো ততোটা পরিচিতি পায়নি।
‘তথ্য ও সেবা সবসময়’ কোভিড-১৯ মহামারির সময় টেলিমেডিসিন ও স্বাস্থ্যসেবা এবং ২০২৪ বন্যা পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও সরকারি ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ত্রিপল থ্রি হটলাইন। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের সময়ও তাদের ভূমিকা ছিলো বেশ। আর প্রতিদিনই বাড়ছে কলের সংখ্যা।
এটুআই কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত এই প্রকল্পটি দুই দফা মেয়াদ বাড়ার পর আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। লোকবল কমা এবং প্রকল্প সমাপ্তির শঙ্কায় কর্মীদের মধ্যেও অস্থিরতা বিরাজ করছে।
এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আব্দুর রফিক বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেবা বন্ধ হবে না। কার্যক্রম চলবে তিনিও স্বীকার করেন লোকবল বাড়ানো প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে ৩৩৩-এর মতো প্ল্যাটফর্মকে স্থায়ী রূপ দেওয়া এবং প্রাঙ্ক কলের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশে বছরে সড়কে ৩১ হাজার ৫৭৮ জন নিহত হয়। আর প্রতি এক হাজার কিলোমিটার সড়কে মৃত্যু ঘটে ৬৭ জনের। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের সভাকক্ষে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের আয়োজনে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা বিষয়ক এক সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
‘গতি নিয়ন্ত্রণে গতিসীমা নির্দেশিকা ম্যানুয়াল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের রোড সেফটি প্রকল্প সমন্বয়কারী শারমিন রহমান।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী রোডক্র্যাশে মৃত্যুর প্রায় ৫৪ শতাংশের জন্য অতিরিক্ত গতি দায়ী। বাংলাদেশে অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া যান চালানো দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।
১৯৯৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৮২ শতাংশ রোডক্র্যাশ অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া চালানোর কারণে ঘটে। রোডক্র্যাশে নিহতদের ৫০ শতাংশের বেশি হচ্ছেন পথচারী, সাইকেল আরোহী এবং মোটরসাইকেল চালক, যারা উচ্চগতির দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
দৈনিক মানবজমিনের সিনিয়র রিপোর্টার শুভ্র দেবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, দৈনিক ভোরের আওয়াজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, দৈনিক ইত্তেফাকের সিনিয়র রিপোর্টার জামিউল আহছান শিপু, দৈনিক যুগান্তরের ক্রাইম ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম, দৈনিক যায়যায়দিনের সিনিয়র রিপোর্টার আব্দুল গফ্ফার, ঢাকা পোস্টের চিফ অব ক্রাইম এন্ড আরবান এ্যাফেয়ার্স জসিম উদ্দীন ও দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের বিশেষ প্রতিনিধি মো. তোফাজ্জল হোসাইন কামাল। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের উপপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান।
রোডক্র্যাশের বিশ্ব পরিস্থিতি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অন রোড সেফটি ২০২১ অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিশ্বে রোডক্র্যাশে প্রায় ১১ লাখ ৯০ হাজার (১.১৯ মিলিয়ন) মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে ৯২ শতাংশ মৃত্যু ঘটেছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। এছাড়াও মোট মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ঘটেছে ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে। রোডক্র্যাশ সব বয়সি মানুষের মৃত্যুর ক্ষেত্রে ১২তম প্রধান কারণ। ৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী শিশু ও তরুণদের মৃত্যুর প্রধান কারণ এখন রোডক্র্যাশ।
সভা থেকে রোডক্র্যাশ ও প্রাণহানি কমাতে যেসব সুপারিশ তুলে ধরেন। ১. যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর গাইডলাইন/ম্যানুয়াল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
২. আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. যানবাহনে বাধ্যতামূলকভাবে ‘স্পিড গভর্নর সিল’ স্থাপন করতে হবে, যাতে চালক অতিরিক্ত গতিতে যান চালাতে না পারেন।
৪. পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক ও যানবাহন নিশ্চিত করতে সড়ক নিরাপত্তা আইন দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
মাত্র দুই-তিন দিনের ব্যবধানে বদলে গেছে রাজধানী ঢাকার ফিলিং স্টেশনগুলোর চিত্র। গত প্রায় দেড় মাস ধরে জ্বালানি তেল পেতে পাম্পগুলোতে যেখানে গ্রাহকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে, সেখানে এখন বিরাজ করছে সুনসান নীরবতা। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় মাত্র কয়েক দিনেই সেই উপচেপড়া ভিড় উধাও হয়ে গেছে। অনেক স্টেশনে দীর্ঘ সময় কোনো গাড়ি না আসায় কর্মীদের জিরিয়ে নিতে দেখা গেছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টার পর রাজধানীর মুগদা, রাজারবাগ, আরামবাগ, মৎস্য ভবন ও মতিঝিল এলাকার অন্তত আটটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
দুপুর ১২টার দিকে মুগদা শান্ত সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল নেওয়ার জন্য মাত্র দুটি মোটরসাইকেল অপেক্ষায় আছে। ওই সময় মেঘনা পেট্রোলিয়ামের একটি গাড়ি থেকে স্টেশনটিতে অকটেন তেল নামানো হচ্ছিল। স্টেশনটির কর্মীরা জানান, গত রোববার থেকেই তারা গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করছেন। সোমবার সকালে কিছুটা ভিড় থাকলেও বিকেল থেকে তা কমতে শুরু করে। গত মঙ্গলবার ও বুধবার এই স্টেশনে বড় কোনো জটলা দেখা যায়নি; সর্বোচ্চ ১০-১২টি গাড়ির বেশি লাইন দীর্ঘ হয়নি।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মতিঝিলের মেসার্স পূবালী ফিলিং স্টেশন ও করিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, দুটি স্টেশনেই কোনো মোটরসাইকেল নেই। কিছু সময় পরপর দু-একটি গাড়ি এলেও পরক্ষণেই আবার ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে পাম্প। এই সুযোগে স্টেশনের কর্মীরা আশপাশে ঘোরাঘুরি ও বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। কাউকে কাউকে ফুয়েল ডিসপেনসার বা পাম্প মেশিনের পাশে বসে থাকতে দেখা গেছে।
দৈনিক বাংলার নাভানা সিএনজি স্টেশনে দুপুর পৌনে ১টার দিকে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের কোনো লাইন নেই। তবে স্টেশনটিতে বেশ কিছু ব্যক্তিগত গাড়ি (প্রাইভেটকার) তেল নিতে অপেক্ষায় ছিল। কর্মীরা জানান, এখানে মোটরসাইকেলের তেল দেওয়া হলেও এখন চাপ না থাকায় অনেকক্ষণ পরপর দু-একটি মোটরসাইকেল আসছে।
ফিলিং স্টেশনগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মীরা জানান, ডিপো থেকে এখন পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তেলের দাম বাড়ায় গ্রাহকরা এখন আর বাড়তি তেল কিনে বাসায় মজুত করছেন না। গত কয়েক দিন ধরে গ্রাহকরা চাহিদামতো জ্বালানি নিতে পারছেন। ফলে অধিকাংশ যানবাহনেই এখন পর্যাপ্ত তেল রয়েছে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন ফিলিং স্টেশনগুলো বেশি ফাঁকা থাকছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে দুদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারসহ শিক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বহুমাত্রিক উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের ও সুদৃঢ়। বিশেষ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে দুদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিল বলেও তিনি স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, চীন বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করছে। বাংলাদেশে ‘চাইনিজ ইপিজেড’ স্থাপনের সম্ভাব্যতা নিয়ে আলোচনা ছাড়াও হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রি, সোলার পাওয়ার, আইসিটি, ই-ভেহিকলস, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং কৃষি খাতে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
বিশেষ করে টেক্সটাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস খাতে চীন বাংলাদেশে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বাড়াতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান রাষ্ট্রদূত। বৈঠকে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়ন নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রদূত জানান, চীন বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক (ভোকেশনাল) শিক্ষার প্রসারে কাজ করতে আগ্রহী। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে তৃতীয় ভাষা হিসেবে চীনা ভাষা অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা আরও বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন।
বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ, বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদানের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রদূত। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
বৈঠকে পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ইলেকট্রিক-বাস (ই-বাস) চালু এবং সোলার পাওয়ার ও আইসিটি খাতের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার বিষয়ে দুপক্ষ একমত পোষণ করে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন দুদেশের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় চীনের অব্যাহত সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।
পুলিশ ও সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ নিয়ে ইউনেস্কোর চলমান প্রকল্প রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ সুসান ভাইজ। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে পুলিশের প্রশিক্ষণ নিয়ে আইজিপির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি মিললে আগামী জুনের মধ্যেই তারা প্রশিক্ষণ শুরু করতে চান।’
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সুসান ভাইজের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাতকারে এ কথা জানান তিনি।
প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন— ইউনেস্কো বাংলাদেশের হেড অব কমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশন ফারহানা শাহনাজ এবং মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন প্রজেক্ট লিড শাকিল এম ফয়সাল।
সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষের মধ্যে পুলিশ প্রশিক্ষণ ও সংস্কার, মিডিয়া ও পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায়, মত প্রকাশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখা, সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সাক্ষাতের শুরুতে মন্ত্রী ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ সুসান ভাইজকে স্বাগত জানান। ভাইজ নতুন পোর্টফলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।
ইউনেস্কোর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ বলেন, ‘পুলিশ ও সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ নিয়ে ইউনেস্কোর চলমান প্রকল্প রয়েছে। পুলিশের প্রশিক্ষণ নিয়ে আইজিপির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি মিললে আগামী জুনের মধ্যেই তারা প্রশিক্ষণ শুরু করতে চান।’
মন্ত্রী এ বিষয়ে সম্মতি জানিয়ে দ্রুত প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। সুসান ভাইজ জানান, জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এসপি ও ওসি পদমর্যাদার ৭ শত পুলিশ অফিসারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী ইউনেস্কোর সহযোগিতায় প্রতিটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে ডিআইজি ও এসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানের পরামর্শ প্রদান করেন। তিনি এতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের মিডিয়া শাখায় কর্মরত অফিসারদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে প্রশিক্ষণটি ফলপ্রসূ হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
সুসান ভাইজ জানান, মিডিয়ার সাংবাদিকদের জন্য অনুরূপ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করছে ইউনেস্কো।
মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তবে এর সঙ্গে জবাবদিহির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি পুলিশ ও সাংবাদিকদের পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে ইউনেস্কো প্রতিনিধিরা ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, রাজনৈতিক-১ শাখার উপ-সচিব বেগম মিনারা নাজমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।