২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ওই বছরের ১১ অক্টোবর সব রাজনৈতিক সংগঠন এবং এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গোপনে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে দেশবিরোধী কিছু মৌলবাদী সংগঠন।
আর তাদের মতের সঙ্গে না মিললেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা বুলিং-র্যাগিংয়ের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি গত ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন হলে ইফতার বিতরণ করার কারণে কিছু শিক্ষার্থীর এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে। শনিবার (৩০ মার্চ) বিকেলে বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা এমন উদ্বেগজনক অভিযোগের কথা জানালেন।
তারা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তি বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেই বা পরিচয় থাকলে তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়; পরিবার নিয়েও অশালীন মন্তব্য করা হয় অনলাইন ও অফলাইনে। বিষয়গুলো নিয়ে কেউ সামান্যতম প্রতিবাদ করতে চাইলে ‘ছাত্রলীগ’ ট্যাগ দিয়ে তাকে বুয়েট থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়।
এমন পরিস্থিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের লাভের গুড় যাচ্ছে কার ঘরে? দেশের অন্যতম মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের এই বিদ্যাপীঠে রাজনীতি বন্ধের সুযোগে তবে কি মৌলবাদের আখড়ায় পরিণত হবে!
আবরার হত্যাকাণ্ডের মতো দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পর ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নসহ প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ করে। তবে ক্যাম্পাসে গোপনে কার্যক্রম চালায় ইসলামী ছাত্রশিবির ও হিজবুত তাহরিরসহ মৌলবাদী ছাত্রসংগঠনগুলো। মসজিদ কিংবা বিভিন্ন আড্ডায় সাংগঠনিক সভায়ও মিলিত হন এসব সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
সুনামগঞ্জের হাওরে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার অভিযোগে বুয়েটের প্রাক্তন এবং বর্তমান ৩৪ জন শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তাররা সবাই শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। শিবিরের বুয়েট শাখার বায়তুল মাল সম্পাদক আফিফ আনোয়ারও ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। বর্তমানে তারা সবাই জামিনে রয়েছেন। কিন্তু থেমে নেই তাদের তৎপরতা। হাতেনাতে ধরা পড়ায় এই ঘটনা প্রকাশ্যে এলেও ভেতরে ভেতরে রাষ্ট্রবিরোধী মৌলবাদী, জঙ্গিবাদভাবাপন্ন সংগঠন বুয়েটে বহু কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
তাদের মৌলবাদী ছাত্র সংগঠনগুলোর অনুসারী ও নেতা-কর্মীরা মুখে মুখে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা বললেও আদতে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে চলেছেন সন্তর্পণে। তারা তাদের স্বার্থে আবরার হত্যার আবেগকে কাজে লাগাচ্ছে।
গত ২৭ মার্চ বুয়েট ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার চত্বরে আসেন ছাত্রলীগের সভাপতি ও দপ্তর সম্পাদকসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। এর দুই দিন পর শুক্রবার বিকেলে বুয়েটের শহীদ মিনারের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালকের (ডিএসডব্লিউ) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা লঙ্ঘন করে পুরকৌশল বিভাগের ২১তম ব্যাচের ছাত্র ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন রাহিম ছাত্রলীগ নেতাদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। ওই দিন রাতেই হলের সিট বাতিল করা হয় ইমতিয়াজের। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এর সঙ্গে নতুন করে তারা আরও চারটি দাবি যুক্ত করেন। মোট পাঁচ দফা দাবিতে তারা এখন আন্দোলন করছেন।
ক্রিয়াশীল ছাত্ররাজনীতির স্বর্ণালী ইতিহাস সবার জানা। দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, রক্ষা ও বাস্তবায়নে ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা অপরিসীম। শুধু তাই নয়, দেশের সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িকতা, সমতার সমাজ গঠনে দেশকে বারবার পথ দেখিয়েছে এই ছাত্ররাজনীতি। বুয়েটের ভূমিকাও সেখানে উল্লেখযোগ্য। তবে বারবার বুয়েটে সেই পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। দেশের অন্যতম মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিরাজনীতিকীকরণের নামে মৌলবাদ নিজেদের ঘাঁটি গড়েছে সেখানে। যার মধ্য দিয়ে ছাত্রশিবিরের মতো সহিংস সংগঠনের শীর্ষপর্যায়ে উঠে এসেছেন বুয়েটের ছাত্ররা। প্রশ্ন হলো- কীভাবে এটি সম্ভব হয়েছে? দেখা গেছে, বুয়েটে রাজনীতি বন্ধের পক্ষে যারা বারবার বক্তব্য রাখছেন তারাও কোনো না কোনোভাবে মৌলবাদী রাজনীতিরই ধারক-বাহক।
বুয়েটে বর্তমানে মৌলবাদী ছাত্র সংগঠনগুলো বাধার শিকার না হলেও বাধা পাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তিগুলো।
সাম্প্রতিক আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থী নামধারীরা ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে উচ্চকিত হলেও বুয়েটে শিবিরের তৎপরতার বিষয়ে তারা নিশ্চুপ। এমনকি এই বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেও, তারা এটি দেখার দায় চাপিয়ে দিয়েছেন প্রশাসনের ওপর; কিন্তু সমালোচনার মুখে শেষপর্যন্ত তারা শিবির ও হিজবুতের নাম নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানালেও এই দুই সংগঠনের নেতা-কর্মী কারা সেটি তারা জানে না বলে জানায়।
বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এই আন্দোলনের পুরো ইন্ধন জোগাচ্ছে ইসলামী ছাত্রশিবির ও হিজবুত তাহ্রীরসহ মৌলবাদী ছাত্র সংগঠনগুলো এবং এক শ্রেণির শিক্ষক।
কিন্তু ছাত্রলীগ বা ছাত্র ইউনিয়নসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত রাজনৈতিক দলগুলো যেকোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলেই তার বিরোধিতা করেছে এই গোষ্ঠী।
সাম্প্রতিক তথ্য না পাওয়া গেলেও ২০১৩ সালের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছিল, বুয়েট নিয়ে মৌলবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতার তথ্য। ওই বছরের নভেম্বরে বুয়েটের নজরুল ইসলাম হলের ২২৩, ৩০২, ৩২৪, ৩৩০ ও ৪১০ নম্বর রুম এবং আহসানউল্লাহ হলসহ বিভিন্ন হল থেকে বিপুল পরিমাণ জেহাদি বই ও শিবিরের সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিবরণ-সংবলিত বেশ কিছু গোপন নথি পাওয়া যায়। গোপন কাগজপত্র থেকে জানা যায়, বুয়েটে সেবা নামের একটি সংগঠনের আড়ালে শিবির তাদের কর্মকাণ্ড সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে প্রচার ও প্রসার করত। এ রকম ‘মেধাবীদের খোঁজে’ নামক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন নামে বেনামে সংগঠন দাঁড় করিয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের তাদের দলে ভেড়ায় তারা। ওই সময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের অংশ হিসেবে রাজপথে পুলিশের ওপর অতর্কিতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আলোচিত ছিল ছাত্রশিবির।
বুয়েট ছাত্রশিবিরের গোপন নথি থেকে জানা গিয়েছিল, বুয়েটে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে শিবির বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পেছনে। ২০১০ সালে বুয়েটে শিবির অর্থ ব্যয় করেছে ৮ লাখ ৭০ হাজার ৩১৪ টাকা এবং ২০১১ সালে খরচ করে ১৩ লাখ ২৩ হাজার ২০০ টাকা। এই তৎপরতা চলমান। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, ছাত্ররাজনীতিমুক্ত বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রগতিশীল রাজনীতিতে বিশ্বাসীদের দমিয়ে রেখে অন্ধকার রাজনীতি শিক্ষার্থীদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বুয়েটে শিবিরের কার্যক্রম চলছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি ড. শফিকুল ইসলাম। এটি জানার পরও সব শেষ সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। উল্টো কোনো প্রমাণ ছাড়াই শিবিরের সাবেক সভাপতির বক্তব্য দেওয়ায় এর প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে এক শিক্ষার্থীকে। অর্থাৎ শিবিরের সাবেক সভাপতির বক্তব্যও তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না বা আমলে নিতে চাইছেন না।
সম্প্রতি বুয়েট শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক আউটলুক ই-মেইলে পাঠানো হয়েছে হিজবুত তাহরিরের ই-মেইল। প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইলে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়ার বার্তা পাঠানো হলেও সর্বশেষ তথ্য অনুসারে সব শিক্ষার্থীর রোল নম্বর ধরে একাধারে প্রেরণ করা হয় এসব ই-মেইল। কিন্তু বর্তমান আন্দোলনকারীরা এর কোনো প্রতিবাদ করেননি।
এদিকে এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গত ১ এপ্রিল বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে ২০১৯ সালে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের আদেশের পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘বুয়েটে এখন থেকে ছাত্ররাজনীতি করায় আর কোনো বাধা থাকল না।’
এদিকে বুয়েটের উপাচার্য ড. সত্যপ্রসাদ মজুমদার বলেছেন, ‘আদালত যা বলবেন, তা আমাদের মানতে হবে। আদালতের আদেশ শিরোধার্য।’ তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনকে পারস্পরিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে এবং এ জন্য আলোচনা জরুরি। জাতি এখন ইতিবাচক ফলাফল দেখার অপেক্ষায়।
শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ, দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রনায়কোচিত অবদান নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শুক্রবার (২৯ মে) শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, জিয়াউর রহমানের সাদাসিধে ও নির্মোহ জীবন, বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, প্রশ্নাতীত সততা এবং বাস্তববাদী ও কর্মোদ্যমী রাষ্ট্রনায়কের ভূমিকা জনগণের হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, জিয়ার কর্মময় জীবন, গভীর দেশপ্রেম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার অটল অঙ্গীকার নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে শহিদ হন জিয়াউর রহমান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সেনানায়ক, স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক এবং আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তি নির্মাণে দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন।
বাণীতে রাষ্ট্রপতি স্মরণ করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান, যা সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করেছিল। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থেকে জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের চেতনায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি তিনি ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে উৎপাদনমুখী ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখা দেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধি এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে জিয়াউর রহমান বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের মাধ্যমে দেশের স্বার্থ রক্ষায় তিনি ভূমিকা রাখেন এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে অবদান রাখেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, স্বল্প সময় রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলেও গভীর দেশপ্রেম, ন্যায়পরায়ণতা ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান দেশের অগ্রগতিতে যে ভূমিকা রেখেছেন, তা ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধান, মহান স্বাধীনতার ঘোষক এবং রণাঙ্গনের বীর সেক্টর কমান্ডার শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হচ্ছে শনিবার (৩০ মে)। তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এক মর্মান্তিক চক্রান্তের শিকার হয়ে একদল পথভ্রষ্ট সেনাসদস্যের হাতে তিনি শাহাদাতবরণ করেন। রণাঙ্গনের এই বীর সেনানী এবং জেড ফোর্সের অধিনায়কের প্রয়াণ দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে বিএনপি বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মরণে বিএনপি গত ২৫ মে থেকে শুরু করে আগামী ১ জুন পর্যন্ত টানা আট দিনের বিশেষ কর্মসূচি পালন করছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে এবং নেতাকর্মীরা শোকের প্রতীক হিসেবে কালো ব্যাজ ধারণ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে এই বীর সেনানীকে নিয়ে বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছে। নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৩০ মে ভোর ৬টায় নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় অফিসগুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং শোকের প্রতীক কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এদিন বেলা ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে ওলামা দলের উদ্যোগে একটি বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
দিবসটি উপলক্ষে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি থানা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তিক অঞ্চলে অসচ্ছল ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে চাল, ডাল, বস্ত্রসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া শাহাদাতবার্ষিকীর কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৩১ মে দুপুর ২টায় রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স (আইইবি) মিলনায়তনে দলের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়গুলোতেও সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল এবং দুস্থদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
শহীদ জিয়াউর রহমান কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)-এর স্বপ্নদ্রষ্টা এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের কালজয়ী দর্শনের প্রবক্তা। বাংলাদেশে একদলীয় শাসনের অবসান ঘটিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের কারণে তাঁকে এ দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের জনক হিসেবে গণ্য করা হয়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দর্শন ও দল আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ এবং শক্তিশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্ভীক নির্মোহ এই রাষ্ট্রনায়কের সততা, দেশপ্রেম এবং উন্নয়নমুখী রাজনীতি আজও জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রধান অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। তাঁর আদর্শকে ধারণ করেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহত করার শপথ গ্রহণ করেছেন জাতীয়তাবাদী শক্তির অনুসারীরা।
সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে শিল্প, বাণিজ্য এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির জানিয়েছেন,চামড়া খাতকে সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা গেলে এ খাত থেকে বছরে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় সম্ভব।
শুক্রবার (২৯ মে) সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি কারখানা স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। কারণ উচ্চমাত্রার বর্জ্য উৎপন্ন হওয়া ট্যানারি শিল্প এমন স্থানে হওয়া প্রয়োজন, যেখানে আধুনিক বর্জ্য শোধনাগারের সুবিধা রয়েছে। তবে স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি ছিল অপরিকল্পিত ও অবহেলাপূর্ণ। ফলে চামড়া খাত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এবং মাঝপথে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান হারিয়ে গেছে।
তিনি জানান, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের কার্যক্রমে ইতালিকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেন, ট্যানারিগুলোর তরল বর্জ্য শোধনের জন্য স্থাপিত সিইটিপির দৈনিক শোধন সক্ষমতা প্রায় ২৫ হাজার ঘনমিটার। অথচ পিক সময়ে উৎপাদিত বর্জ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার ঘনমিটার, যা বিদ্যমান সক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সরকার দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সিইটিপিকে পরিকল্পিত সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা এবং ক্রোমিয়াম পুনরুদ্ধার ব্যবস্থার উন্নয়ন। পাশাপাশি ঋণ সংকটে থাকা ও ঝরে পড়া শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে ঘুরে দাঁড় করানো যায়, সে বিষয়েও কাজ চলছে।
পরে মন্ত্রী শিল্পনগরীর সদর ও বে-ট্যানারি কারখানা পরিদর্শন করেন এবং মালিকদের সঙ্গে শিল্পের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন। এসময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নবগঠিত বিজেপি সরকারের নথিপত্রবিহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও বহিষ্কারের ঘোষণার পর রাজ্যজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান এবং ডিটেনশন সেন্টারে বা আটক কেন্দ্রে বন্দি হওয়ার ভয়ে শত শত মানুষ পরিবারসহ ভারতের হাকিমপুর সীমান্তচৌকিতে এসে জড়ো হয়েছেন।
বিশেষ করে গত সপ্তাহে নথিপত্রহীনদের জন্য বড় আটক কেন্দ্র নির্মাণের সরকারি নির্দেশের পর রাজ্যের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে সামগ্রিক উদ্বেগ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই বিশাল জনগোষ্ঠী বর্তমানে এক চরম প্রশাসনিক ও আইনি দোটানার মধ্যে পড়েছেন। একদিকে স্থানীয় প্রশাসন তাদের দ্রুত ভারত ছাড়ার জন্য মনস্তাত্ত্বিক ও প্রশাসনিক চাপ দিচ্ছে, অন্যদিকে বৈধ আইনি প্রমাণ বা নাগরিকত্বের নথিপত্র ছাড়া বাংলাদেশ সরকার তাদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। উপায়ান্তর না দেখে অনেক পরিবারই এখন রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সীমান্তের নদী পথ ব্যবহার করে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢোকার ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টা চালাচ্ছে। কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে দিশেহারা মানুষ দল বেঁধে সীমান্ত এলাকায় আসছেন, যার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ভারতে বাস করা শ্রমিক ও রাজমিস্ত্রিরাও রয়েছেন।
সীমান্তবর্তী উত্তর ২৪ পরগনা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামের একটি আটক কেন্দ্রে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের সাময়িকভাবে রাখা হচ্ছে, যেখান থেকে যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, কোনো প্রকার আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে কেবল ধর্মীয় ও জাতিগত প্রোফাইলিংয়ের ভিত্তিতে আসাম থেকে শত শত মানুষকে জোরপূর্বক সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের অধিবাসীদের মধ্যে এই আতঙ্ক আরও প্রকট হয়েছে। অনেক তরুণ, যাদের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ভারতেই কিন্তু বৈধ কাগজপত্র নেই, তারা ওপারে গিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করা নিয়ে গভীর সংকটে পড়েছেন।
সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ জানিয়েছে, রাতের আঁধারে দীর্ঘ নদীপথ ব্যবহার করে মানুষের এই পারাপারের চেষ্টা ঠেকানো বর্তমানে তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজধানীর নির্দিষ্ট কিছু এলাকার সড়কে কোরবানির পশুর বর্জ্য ও ময়লা জমে থাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এই দুই কর্মকর্তা হলেন—ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (জোন-৫) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান (উপসচিব) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (জোন-১) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী সালেহ মুস্তানজির (উপসচিব)।
শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী নিজেই চালকের আসনে বসে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বের হন। গুলশানের বাসভবন থেকে শুরু করে তিনি রামপুরা, মালিবাগ ও বাসাবো হয়ে কমলাপুর এলাকার দিকে এগিয়ে যান। এরপর প্রধানমন্ত্রীর গাড়িটি সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ধোলাই খাল ও নারিন্দা হয়ে বংশাল, গুলিস্তান, শাহবাগ ও নিউ মার্কেট এলাকা প্রদক্ষিণ করে। সেখান থেকে তিনি জিগাতলা, ধানমন্ডি, ফার্মগেট ও বিজয় সরণি হয়ে মহাখালী সড়কের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে বেরিয়েছিলেন। পরিদর্শনকালে বেশ কিছু স্থানে বর্জ্য পরিষ্কার না হওয়ায় তিনি গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, ফার্মগেট এবং কারওয়ান বাজার এলাকায় রাস্তায় ময়লার স্তূপ দেখতে পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে গাফিলতির দায়ে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এই পরিদর্শনের বিষয়ে তথ্য দিয়ে জানান যে, ঢাকা পরিভ্রমণের সময় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে গাড়িতে ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ অ্যাডভোকেট মেহেদুল ইসলাম।
পবিত্র ঈদুল আজহা পরবর্তী সময়ে রাজধানী ঢাকার পশুবর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করতে রাজপথে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল ৪টার দিকে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে মহানগরের বিভিন্ন এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এই পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘রাজধানীর কোরবানির বর্জ্য অপসারণ প্রক্রিয়া ঠিকঠাক ও ভালোভাবে হচ্ছে কি না, তা দেখতেই মূলত প্রধানমন্ত্রী আজ রাস্তায় বেরিয়েছেন। তিনি নিজেই নিজের গাড়ি ড্রাইভ করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করছেন।’
পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী সাধারণ নাগরিকের মতো প্রচলিত ট্রাফিক আইন ও সংকেত মেনে গাড়ি চালিয়েছেন বলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফরের পথপরিক্রমা ছিল অত্যন্ত বিস্তৃত। তাঁর গাড়িটি গুলশান এভিনিউয়ের বাসভবন থেকে যাত্রা শুরু করে গুলশান-১ নম্বর মোড় হয়ে হাতিরঝিল, রামপুরা, মালিবাগের আবুল হোটেল এবং তালতলা মার্কেট হয়ে বাসাবো ও কমলাপুর এলাকা অতিক্রম করে। এরপর সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ধোলাইখাল, শহীদ ফারুক সড়ক ও দয়াগঞ্জ হয়ে তিনি পুরান ঢাকার নারিন্দা ও রায়সাহেব বাজার এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
সেখান থেকে আদালত সড়ক, নয়াবাজার ও বংশাল হয়ে তাঁর গাড়িটি গুলিস্তান, শাহবাগ, এলিফ্যান্ট রোড ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দিয়ে নিউ মার্কেট ও সায়েন্স ল্যাবরেটরির দিকে অগ্রসর হয়। যাত্রাপথে তিনি কলাবাগান, মিরপুর রোড, সিটি কলেজের সামনে দিয়ে সীমান্ত স্কয়ার ও জিগাতলা হয়ে ধানমন্ডি সাত মসজিদ রোড ও ২৭ নম্বর সড়কের বর্জ্য অপসারণের কাজও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে পান্থপথ, ফার্মগেট ও বিজয় সরণি দিয়ে মহাখালী এলাকার সার্বিক পরিস্থিতিও প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শন করার কথা রয়েছে। রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমের তদারকি করতেই তাঁর এই আকস্মিক পরিদর্শন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এম. মুনির-উজ-জামান, ১৯৫৮ ব্যাচের প্রাক্তন সিএসপি এবং বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব ও রাষ্ট্রদূত, গতকাল ১০ই জিলহজ, ২৮শে মে, দুপুর ২:০০ ঘটিকায় বার্ধক্যজনিত জটিলতায় নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
তাঁর দুঃখজনক মৃত্যুতে দেশ একজন দেশপ্রেমিক, কৃতি গুণী শীর্ষ আমলা, কূটনীতিক এবং মাটির এক যোগ্য সন্তানকে হারালো। দেশের আমলাতন্ত্র তাঁর জীবনব্যাপী অবদানকে সর্বদা স্মরণ করবে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়ামস কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন। জাতীয় স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর আপসহীন অবদানের জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৯৫৮ ব্যাচের একজন গর্বিত বাঙালি হিসেবে পাকিস্তানের তৎকালীন অভিজাত সিভিল সার্ভিসে তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শুরু করেন। স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশে তিনি কিশোরগঞ্জের এসডিও, কুমিল্লার এডিসি, বগুড়ার ডিসি, পাকিস্তান সরকারের বৈদেশিক অর্থ বিভাগের উপ-সচিব, ইপিএসসিআইসি-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং স্বাধীনতাপরবর্তী বাংলাদেশে তিনি শীর্ষ পর্যায়ে উন্নীত হয়ে বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বৈদেশিক সম্পদ বিভাগ (বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) সহ অন্যান্য জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি বিশ্বব্যাংক গ্রুপে সিনিয়র কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে, তিনি সাবেক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার হোয়াইট পেপার সেলের প্রধান পরামর্শক এবং সবশেষে পূর্ণ অবসরে যাওয়ার আগে ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন ব্রিটিশ বাংলার বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক মরহুম এম. তোফাজ্জল হোসেন এবং যশোরের চৌগাছার কলকাতায় শিক্ষিত এক প্রখ্যাত জমিদারের জ্যেষ্ঠ পুত্র। মৃত্যুকালে তিনি তাঁর স্ত্রী, দুই পুত্র, পাঁচ নাতি-নাতনি এবং পাঁচ প্রপৌত্র -প্রপৌত্রী রেখে গেছেন।
তাঁর প্রথম জানাজার নামাজ আজ শুক্রবার, ২৯শে মে, বাদ জুম্মা গুলশান আজাদ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।
পবিত্র ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা কেবল প্রথম দিনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী উৎসবের দ্বিতীয় দিনেও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে পশু কোরবানি। শুক্রবার (২৯ মে) সকালে রাজধানীর মিরপুর, বাংলামোটর ও হাতিরপুলসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অনেক পরিবার আজ ত্যাগের এই মহান ইবাদতে শরিক হচ্ছেন। ভোর থেকেই পাড়া-মহল্লার নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই এবং মাংস প্রস্তুত করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। যদিও প্রথম দিনের তুলনায় আজ পশু কোরবানির সংখ্যা অনেক কম, তবুও উৎসবের আমেজ এখনো বজায় রয়েছে।
ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখ অর্থাৎ ঈদের দিন ছাড়াও ১১ এবং ১২ তারিখেও পশু কোরবানি করার সুযোগ রয়েছে। এই বিধানকে কেন্দ্র করেই মূলত অনেকে দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দিয়ে থাকেন। আজ যারা পশু জবাই করছেন, তাদের একটি বড় অংশই কসাই সংকটের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ঈদের প্রথম দিন কসাইদের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এবং অতিরিক্ত মজুরি দাবির কারণে অনেক সাধারণ মানুষ বিড়ম্বনা এড়াতে এক দিন পিছিয়ে আজ কোরবানি সম্পন্ন করছেন।
মিরপুর এলাকার এক বাসিন্দা জানান, ঈদের দিন কসাই পাওয়া যেমন দুষ্কর ছিল, তেমনি যারা আসতে চেয়েছিলেন তারা সাধারণ সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি পারিশ্রমিক দাবি করেছিলেন। তাই ঝক্কি এড়াতে তিনি আজ দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়া অনেক সামর্থ্যবান ব্যক্তি যারা একাধিক পশু কোরবানি করেন, তারা প্রথম দিনে বড় পশুর কাজ শেষ করে আজ বাকি কোরবানি সম্পন্ন করছেন। আবার অনেক পরিবারে বংশপরম্পরায় দ্বিতীয় দিনে কোরবানি দেওয়ার একটি পারিবারিক ঐতিহ্যও লক্ষ্য করা গেছে।
সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন অলিগলিতে মাংস কাটার সরঞ্জাম নিয়ে কসাই ও মৌসুমি শ্রমিকদের ব্যস্ততা দেখা গেছে। প্রথম দিনের চেয়ে আজ চাপ কম থাকায় তারা বেশ শান্তিতে কাজ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন। তবে মাংস প্রস্তুতের ক্ষেত্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বর্জ্য দ্রুত অপসারণের জন্য পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন, যাতে কোরবানির পরবর্তী পরিবেশ বিঘ্নিত না হয়।
পরিশেষে বলা যায়, ত্যাগের এই মহিমা ছড়িয়ে পড়ছে সবখানে। কেবল শহর নয়, গ্রামগঞ্জেও আজ উৎসবমুখর পরিবেশে পশু কোরবানি হচ্ছে। যারা আজ কোরবানি দিচ্ছেন, তারা আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মাঝে মাংস বণ্টনের মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। ধর্মীয় বিধানের এই নমনীয়তা সাধারণ মানুষকে একদিকে যেমন ইবাদত পালনে সহজতর সুযোগ করে দিয়েছে, তেমনি মাংস সংরক্ষণ ও বণ্টনের ক্ষেত্রেও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করছে। আগামীকাল শনিবারও কিছু স্থানে পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা শেষে উৎসবের দ্বিতীয় দিনেও নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে বিপুল সংখ্যক মানুষ। শুক্রবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও কাউন্টারে ঘরমুখো মানুষের উল্লেখযোগ্য ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মূলত পরিবারের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে যারা বিশেষ কারণে ঈদের আগে ঢাকা ছাড়তে পারেননি, তারা এখন শেষ মুহূর্তে নিজ গন্তব্যে রওনা দিচ্ছেন। রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালীর মতো প্রধান টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের এই আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মূলত কর্মব্যস্ততা এবং ছুটির সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মানুষ ঈদের আগে ঢাকা ছাড়তে পারেননি। বিশেষ করে জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মী এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ঈদের প্রথম দিনটি কর্মস্থলে কাটিয়ে এখন গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করছেন। তাদের মতে, ঈদের আগে অতিরিক্ত ভিড় ও যাতায়াতের ঝক্কি এড়াতেই অনেকে পরিকল্পিতভাবে উৎসবের দ্বিতীয় দিনে ঢাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আজকের এই বিলম্বিত ঈদযাত্রায় যাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের বিশেষ স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা থেকে বের হওয়ার পথগুলোতে এবং মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম থাকায় কোনো দীর্ঘ যানজটের বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে না। যাত্রীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় জটলায় আটকে থাকার ভয় না থাকায় তারা বেশ আরামদায়কভাবে ভ্রমণ করতে পারছেন। এছাড়া অনেক পরিবার ঈদের প্রথম দিনটি রাজধানীতে নিজেদের মধ্যে সময় কাটিয়ে এখন আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন।
পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত বাস টার্মিনালগুলোর পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের মোড় থেকেও অনেক যাত্রী বাসে উঠছেন। কাউন্টারগুলোতে টিকিটের জন্য আগের মতো দীর্ঘ লাইন না থাকলেও যাত্রীর সংখ্যা ছিল সন্তোষজনক। বাসগুলোও মোটামুটি সময়মতো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। যানজটমুক্ত মহাসড়ক এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবারের দ্বিতীয় দিনের যাত্রা বেশ নির্বিঘ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন যাত্রী ও চালক উভয় পক্ষই।
সামগ্রিকভাবে, কোনো বড় ধরনের জটলা বা বিড়ম্বনা ছাড়াই ঘরমুখো মানুষ উৎসবের দ্বিতীয় দিনে প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। যারা আজ ঢাকা ছাড়ছেন, তারা আশা করছেন অন্তত ঈদের ছুটির বাকি সময়টুকু স্বজনদের সঙ্গে আনন্দময় পরিবেশে কাটাতে পারবেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মহাসড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এখনো বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে, যা এই শেষ মুহূর্তের যাত্রীদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার খুশির দিনে দেশের আটটি জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ জন মানুষের অকাল মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গোপালগঞ্জে বাস ও মোটরসাইকেলের ভয়াবহ সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ মোট ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া নাটোরে চারজন, চট্টগ্রামে তিনজন, দিনাজপুর ও পটুয়াখালীতে দুজন করে এবং টাঙ্গাইল, চাঁদপুর ও ময়মনসিংহে একজন করে নিহতের সংবাদ পাওয়া গেছে।
গোপালগঞ্জের বেদগ্রাম এলাকায় দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় বাসের ভাঙা কাঁচ চারদিকে ছড়িয়ে আছে এবং দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। ঢাকা থেকে পিরোজপুর অভিমুখী একটি যাত্রীবাহী বাস মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লেগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধু এবং একই পরিবারের দুজন মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার কাজ চালায়। পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়া হলে আট বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়। বেপরোয়া গতি ও চালকের অসতর্কতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।
দিনাজপুরে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত চারজনের মধ্যে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়া পটুয়াখালীতে দুজন এবং ময়মনসিংহে আরও একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। শোকাবহ এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে।
ইরাকে যুদ্ধকালীন সময়ে নিক্ষিপ্ত একটি মিসাইলের আঘাতে নিহত বাংলাদেশি রেমিট্যান্সযোদ্ধা মোহাম্মদ শ্রাবনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই মরদেহ গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ইসলাম ওবায়েদ। ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে তার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে নিহতের মরদেহ ঢাকায় পৌঁছালে প্রতিমন্ত্রী তাঁর প্রতি গভীর শোক ও সম্মান জ্ঞাপন করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পাশাপাশি, দাফন-কাফনের আনুমানিক ব্যয় নির্বাহের জন্য নিহতের স্বজনদের হাতে ৩৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তাও তুলে দেওয়া হয়।
নিহত মোহাম্মদ শ্রাবন মুন্সিগঞ্জ জেলার মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বকুলতলা গ্রামের মোহাম্মদ নলি মিয়ার সন্তান। প্রায় ১০ বছর পূর্বে জীবিকার সন্ধানে তিনি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সম্প্রতি এক অনাকাঙ্ক্ষিত মিসাইল হামলায় তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এই অকাল মৃত্যুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
বাগদাদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিহতের মরদেহ দেশে আনা হয়। গত ২৭ মে বাগদাদ বিমানবন্দর থেকে তার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট TK0843-এর মাধ্যমে মরদেহটি পাঠানো হয়েছিল। তুরস্কে দীর্ঘ ট্রানজিট শেষে শুক্রবার সকালে ঢাকায় পৌঁছায় এটি। গত ২৫ মে বাগদাদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) পারভেজ আলম চৌধুরী দাপ্তরিকভাবে মোহাম্মদ শ্রাবনের মরদেহ প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।
দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য আবহাওয়া দপ্তরের এক বিশেষ পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, আজ দুপুরের মধ্যে আটটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে বজ্রবৃষ্টিসহ ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
২৯ মে ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সময়ের জন্য দেওয়া এই সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে যে রংপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার এই পূর্বাভাসের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সারা দেশের সার্বিক আবহাওয়া পরিস্থিতির বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে যে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক স্থানে এবং খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও ভারি বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে। তাপমাত্রার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে যে সারা দেশে দিনের বেলা তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে, তবে রাতের দিকে তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার প্রাক্কালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত অ্যালবিনো প্রজাতির সাদা মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন রাজধানীর মিরপুরস্থ বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার স্থায়ী বাসিন্দা। তবে চিড়িয়াখানার ৭ নম্বর শেডে মহিষটিকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার পরপরই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রাট জনসমক্ষে এসেছে। কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্থাপিত তথ্য বোর্ডে মহিষটির ইংরেজি নামের বাংলা প্রতিবর্ণীকরণে একটি অদ্ভুত ও হাস্যকর বানান ভুল ধরা পড়েছে। পরিচিতি ফলকে ‘ট্রাম্প’ বানানে ‘ট্র’ যুক্তবর্ণের পরিবর্তে টাইপিং ত্রুটির কারণে ‘ট্ট’ ব্যবহার করায় নামটি ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’ হিসেবে প্রদর্শিত হচ্ছে, যা পুরো নামের অর্থ ও উচ্চারণগত বিকৃতি ঘটিয়েছে।
বিষয়টি চিড়িয়াখানায় আসা দর্শনার্থীদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর মুহূর্তেই তা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন করে হাস্যরসের খোরাক জোগায়। তথ্য বোর্ডের এই ভুল নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে নানা রসাত্মক মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে যেমন উপহাস করে বলছেন, ‘কোরবানি থেকে বাঁচলেও ট্রাম্পের নামের সম্মান বাঁচল না!’, তেমনি অনেকে বিষয়টিকে কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
উল্লেখ্য, প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই বিরল গোলাপি-সাদা বর্ণের অ্যালবিনো মহিষটির মাথায় সোনালি রঙের চুল এবং চোখের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে খামারিরা শখ করে এর নাম রেখেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামানুসারে। এমনকি এই মহিষটির শারীরিক গঠন ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে জনৈক মার্কিন নির্মাতা একে ‘হ্যান্ডসাম বিস্ট’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন।
প্রাথমিকভাবে মহিষটি কোরবানির উদ্দেশ্যে বিক্রয় হলেও সেটিকে একনজর দেখার জন্য উৎসুক মানুষের অত্যধিক ভিড় এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় সরকারের উচ্চপর্যায় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রাণীটিকে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ক্রেতাকে তাঁর প্রাপ্য অর্থ বুঝিয়ে দিয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের মাধ্যমে গত বুধবার (২৭ মে) রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে মহিষটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মহিষটি সুস্থ থাকলেও এর পরিচিতি ফলকের ভুল বানানটিই এখন সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।