সোমবার, ২৭ মে ২০২৪
মন্তব্য প্রতিবেদন

ছাত্ররাজনীতি বন্ধের সুযোগে বুয়েটে মৌলবাদের উত্থান!

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৪ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:০৮
ফারাজী আজমল হোসেন
প্রকাশিত
ফারাজী আজমল হোসেন
প্রকাশিত : ৪ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:০৮

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ওই বছরের ১১ অক্টোবর সব রাজনৈতিক সংগঠন এবং এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গোপনে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে দেশবিরোধী কিছু মৌলবাদী সংগঠন।

আর তাদের মতের সঙ্গে না মিললেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা বুলিং-র‍্যাগিংয়ের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি গত ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন হলে ইফতার বিতরণ করার কারণে কিছু শিক্ষার্থীর এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে। শনিবার (৩০ মার্চ) বিকেলে বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা এমন উদ্বেগজনক অভিযোগের কথা জানালেন।

তারা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তি বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেই বা পরিচয় থাকলে তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়; পরিবার নিয়েও অশালীন মন্তব্য করা হয় অনলাইন ও অফলাইনে। বিষয়গুলো নিয়ে কেউ সামান্যতম প্রতিবাদ করতে চাইলে ‘ছাত্রলীগ’ ট্যাগ দিয়ে তাকে বুয়েট থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়।

এমন পরিস্থিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের লাভের গুড় যাচ্ছে কার ঘরে? দেশের অন্যতম মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের এই বিদ্যাপীঠে রাজনীতি বন্ধের সুযোগে তবে কি মৌলবাদের আখড়ায় পরিণত হবে!

আবরার হত্যাকাণ্ডের মতো দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পর ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নসহ প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ করে। তবে ক্যাম্পাসে গোপনে কার্যক্রম চালায় ইসলামী ছাত্রশিবির ও হিজবুত তাহরিরসহ মৌলবাদী ছাত্রসংগঠনগুলো। মসজিদ কিংবা বিভিন্ন আড্ডায় সাংগঠনিক সভায়ও মিলিত হন এসব সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

সুনামগঞ্জের হাওরে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার অভিযোগে বুয়েটের প্রাক্তন এবং বর্তমান ৩৪ জন শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তাররা সবাই শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। শিবিরের বুয়েট শাখার বায়তুল মাল সম্পাদক আফিফ আনোয়ারও ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। বর্তমানে তারা সবাই জামিনে রয়েছেন। কিন্তু থেমে নেই তাদের তৎপরতা। হাতেনাতে ধরা পড়ায় এই ঘটনা প্রকাশ্যে এলেও ভেতরে ভেতরে রাষ্ট্রবিরোধী মৌলবাদী, জঙ্গিবাদভাবাপন্ন সংগঠন বুয়েটে বহু কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

তাদের মৌলবাদী ছাত্র সংগঠনগুলোর অনুসারী ও নেতা-কর্মীরা মুখে মুখে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা বললেও আদতে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে চলেছেন সন্তর্পণে। তারা তাদের স্বার্থে আবরার হত্যার আবেগকে কাজে লাগাচ্ছে।

গত ২৭ মার্চ বুয়েট ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার চত্বরে আসেন ছাত্রলীগের সভাপতি ও দপ্তর সম্পাদকসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। এর দুই দিন পর শুক্রবার বিকেলে বুয়েটের শহীদ মিনারের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালকের (ডিএসডব্লিউ) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা লঙ্ঘন করে পুরকৌশল বিভাগের ২১তম ব্যাচের ছাত্র ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন রাহিম ছাত্রলীগ নেতাদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। ওই দিন রাতেই হলের সিট বাতিল করা হয় ইমতিয়াজের। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এর সঙ্গে নতুন করে তারা আরও চারটি দাবি যুক্ত করেন। মোট পাঁচ দফা দাবিতে তারা এখন আন্দোলন করছেন।

ক্রিয়াশীল ছাত্ররাজনীতির স্বর্ণালী ইতিহাস সবার জানা। দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, রক্ষা ও বাস্তবায়নে ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা অপরিসীম। শুধু তাই নয়, দেশের সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িকতা, সমতার সমাজ গঠনে দেশকে বারবার পথ দেখিয়েছে এই ছাত্ররাজনীতি। বুয়েটের ভূমিকাও সেখানে উল্লেখযোগ্য। তবে বারবার বুয়েটে সেই পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। দেশের অন্যতম মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিরাজনীতিকীকরণের নামে মৌলবাদ নিজেদের ঘাঁটি গড়েছে সেখানে। যার মধ্য দিয়ে ছাত্রশিবিরের মতো সহিংস সংগঠনের শীর্ষপর্যায়ে উঠে এসেছেন বুয়েটের ছাত্ররা। প্রশ্ন হলো- কীভাবে এটি সম্ভব হয়েছে? দেখা গেছে, বুয়েটে রাজনীতি বন্ধের পক্ষে যারা বারবার বক্তব্য রাখছেন তারাও কোনো না কোনোভাবে মৌলবাদী রাজনীতিরই ধারক-বাহক।

বুয়েটে বর্তমানে মৌলবাদী ছাত্র সংগঠনগুলো বাধার শিকার না হলেও বাধা পাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তিগুলো।

সাম্প্রতিক আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থী নামধারীরা ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে উচ্চকিত হলেও বুয়েটে শিবিরের তৎপরতার বিষয়ে তারা নিশ্চুপ। এমনকি এই বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেও, তারা এটি দেখার দায় চাপিয়ে দিয়েছেন প্রশাসনের ওপর; কিন্তু সমালোচনার মুখে শেষপর্যন্ত তারা শিবির ও হিজবুতের নাম নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানালেও এই দুই সংগঠনের নেতা-কর্মী কারা সেটি তারা জানে না বলে জানায়।

বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এই আন্দোলনের পুরো ইন্ধন জোগাচ্ছে ইসলামী ছাত্রশিবির ও হিজবুত তাহ্‌রীরসহ মৌলবাদী ছাত্র সংগঠনগুলো এবং এক শ্রেণির শিক্ষক।

কিন্তু ছাত্রলীগ বা ছাত্র ইউনিয়নসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত রাজনৈতিক দলগুলো যেকোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলেই তার বিরোধিতা করেছে এই গোষ্ঠী।

সাম্প্রতিক তথ্য না পাওয়া গেলেও ২০১৩ সালের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছিল, বুয়েট নিয়ে মৌলবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতার তথ্য। ওই বছরের নভেম্বরে বুয়েটের নজরুল ইসলাম হলের ২২৩, ৩০২, ৩২৪, ৩৩০ ও ৪১০ নম্বর রুম এবং আহসানউল্লাহ হলসহ বিভিন্ন হল থেকে বিপুল পরিমাণ জেহাদি বই ও শিবিরের সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিবরণ-সংবলিত বেশ কিছু গোপন নথি পাওয়া যায়। গোপন কাগজপত্র থেকে জানা যায়, বুয়েটে সেবা নামের একটি সংগঠনের আড়ালে শিবির তাদের কর্মকাণ্ড সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে প্রচার ও প্রসার করত। এ রকম ‘মেধাবীদের খোঁজে’ নামক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন নামে বেনামে সংগঠন দাঁড় করিয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের তাদের দলে ভেড়ায় তারা। ওই সময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের অংশ হিসেবে রাজপথে পুলিশের ওপর অতর্কিতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আলোচিত ছিল ছাত্রশিবির।

বুয়েট ছাত্রশিবিরের গোপন নথি থেকে জানা গিয়েছিল, বুয়েটে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে শিবির বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পেছনে। ২০১০ সালে বুয়েটে শিবির অর্থ ব্যয় করেছে ৮ লাখ ৭০ হাজার ৩১৪ টাকা এবং ২০১১ সালে খরচ করে ১৩ লাখ ২৩ হাজার ২০০ টাকা। এই তৎপরতা চলমান। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, ছাত্ররাজনীতিমুক্ত বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রগতিশীল রাজনীতিতে বিশ্বাসীদের দমিয়ে রেখে অন্ধকার রাজনীতি শিক্ষার্থীদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বুয়েটে শিবিরের কার্যক্রম চলছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি ড. শফিকুল ইসলাম। এটি জানার পরও সব শেষ সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। উল্টো কোনো প্রমাণ ছাড়াই শিবিরের সাবেক সভাপতির বক্তব্য দেওয়ায় এর প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে এক শিক্ষার্থীকে। অর্থাৎ শিবিরের সাবেক সভাপতির বক্তব্যও তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না বা আমলে নিতে চাইছেন না।

সম্প্রতি বুয়েট শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক আউটলুক ই-মেইলে পাঠানো হয়েছে হিজবুত তাহরিরের ই-মেইল। প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইলে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়ার বার্তা পাঠানো হলেও সর্বশেষ তথ্য অনুসারে সব শিক্ষার্থীর রোল নম্বর ধরে একাধারে প্রেরণ করা হয় এসব ই-মেইল। কিন্তু বর্তমান আন্দোলনকারীরা এর কোনো প্রতিবাদ করেননি।

এদিকে এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গত ১ এপ্রিল বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে ২০১৯ সালে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের আদেশের পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘বুয়েটে এখন থেকে ছাত্ররাজনীতি করায় আর কোনো বাধা থাকল না।’

এদিকে বুয়েটের উপাচার্য ড. সত্যপ্রসাদ মজুমদার বলেছেন, ‘আদালত যা বলবেন, তা আমাদের মানতে হবে। আদালতের আদেশ শিরোধার্য।’ তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনকে পারস্পরিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে এবং এ জন্য আলোচনা জরুরি। জাতি এখন ইতিবাচক ফলাফল দেখার অপেক্ষায়।


ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তার দেখলে দ্রুত বিদ্যুৎ অফিসকে জানানোর পরামর্শ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঘূর্ণিঝড় বা অন্য কোনো কারণে বিচ্ছিন্ন বৈদ্যুতিক লাইন যাতে কেউ স্পর্শ না করে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা এবং ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তার দেখলে দ্রুত নিকটবর্তী বিদ্যুৎ অফিসকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি প্রতিটি জেলায় কন্ট্রোলরুম খুলেছে বলেও জানানো হয়েছে।

এ ছাড়াও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত যে কোনো প্রয়োজনে ১৬৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সেন্ট্রাল কন্ট্রোলরুমের নম্বর ০১৭৯২-৬২৩৪৬৭, ০২-৮৯০০৫৭৫, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির বরিশাল অঞ্চলের ০১৭১৩-৮৫০২১৮, খুলনা অঞ্চলের ০১৭১৩-৮৫০২১১, পটুয়াখালী অঞ্চলের ০১৭১৩-৮৫০২১৯-এ নম্বরগুলো সার্বক্ষণিক খোলা থাকবে।

বিষয়:

ঘূর্ণিঝড় রেমাল: ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে উপকূল ছাড়বে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বঙ্গোবসাগরের গভীর নিম্নচাপ থেকে সৃষ্টি হওয়া প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ উত্তর দিকে ধীরগতিতে অগ্রসর হয়ে মোংলার দক্ষিণপশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম অব্যাহত রেখেছে। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে পরবর্তী ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

গতকাল রোববার রাতে আবহাওয়া অফিসের ১৫ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক।

বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমাল সামান্য উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি ২৬মে রাত ৯টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৩০০ কিলোমিটার পশ্চিম, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩০৫ কিলোমিটার পশ্চিম, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ১১৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিম এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।

রেমালের প্রভাবে পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

অন্যদিকে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার নদী বন্দরগুলোকে ৪ নম্বর নৌ-মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮-১২ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ু তাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪-৮৮ মিমি/২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারী (১৮৯ মিমি/২৪ ঘণ্টা) বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।


ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ২ জন নিহত: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

শক্তিশালি ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে এখন পর্যন্ত দুইজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান। গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৯টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালের অগ্রভাগ অতিক্রম করেছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রটি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে উপকূল অতিক্রম করবে। কেন্দ্রটি অতিক্রম করার পর ঘূর্ণিঝড়ের শেষ ভাগটি ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর বাংলাদেশ অতিক্রম করবে।

‘সব উপকূল এলাকায় বর্তমানে বাতাস বয়ে যাচ্ছে। উপকূলীয় এলাকাগুলো ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার অনেক জায়গায় বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ভেতরে ঢুকেছে। এই মুহূর্তে উপকূলীয় এলাকার মানুষজন বিপদের মধ্যে আছেন। লাখ লাখ মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয় কেন্দ্রে মানুষজন যেন সঠিকভাবে খাবার পায় সে বিষয়গুলো আমরা মনিটরিং করছি’- বললেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, ‘জোয়ার ভাটার সম্ভাবনা আছে। আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। আমাদের আতঙ্ক কাটেনি, সামনে আতঙ্ক বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা আছে। ঘূর্ণিঝড় অতিক্রম করার পরও সারা দেশে প্রবল বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এটাও একটি দুর্যোগের মধ্যে পড়ে। এর ফলে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। এসব দুর্যোগকে লক্ষ্য করে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডসহ আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করছি।‌ দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে মানুষের প্রয়োজনে ইতোমধ্যে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।’

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে নিহতের খবর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা জেনেছি এখন পর্যন্ত দুইজন মারা গেছে। এর মধ্যে একজন মারা গেছে আমার পটুয়াখালি এলাকায়।


উপকূলে আঘাত হেনেছে রেমাল

কাঁপছে উপকূল, জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে সুন্দরবন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ মে, ২০২৪ ০১:৪১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রবল শক্তি সৃষ্টি করে উপকূলে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’। গতকাল রোববার রাত আটটার দিকে ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র মোংলার দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম শুরু করে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র আরও উত্তর দিকে সরে রাতেই উপকূল অতিক্রম করে আজ স্থল নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গতকাল ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র আঘাত হানার সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়াসহ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত ওঠার কথা জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপপরিচালক মো. শামীম আহসান গতকাল রাতে এক ব্রিফিংয়ে জানান, প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে গতকাল ঢাকার আবহাওয়ায় তেমন প্রভাব পড়েনি।

গতকাল রোববার সকালে ঘূর্ণিঝড়টি আরও প্রবল হওয়ায় আগের দিনের ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের বদলে পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখানোর নির্দেশনা জারি করে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার সকালে ঘূর্ণিঝড় রেমাল নিয়ে দেওয়া ১০ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে নতুন করে ৯ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে হবে। এর ফলে সারা দেশেই দিনভর বৃষ্টিপাত হয়েছে, আকাশ মেঘলা ছিল। রাজধানী ঢাকায় গতকাল বিকালে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়েছে।

রেমাল আঘাত হানার আগেই গতকাল দুপুর থেকে দেশের উপকূল অঞ্চলসহ সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় প্রচণ্ড বাতাসসহ বৃষ্টিপাত হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে সেসব অঞ্চলগুলো। শুধু তাই নয়- দেশের এসব অঞ্চলের মানুষজন নিরাপদ আশ্রয় শেল্টারে অবস্থান নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

গতকাল সন্ধ্যা ৬টার পর পরবর্তী ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম করার কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি তখন বলেছিলেন, ‘উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমাল উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি গতকাল দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।’

এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলা এবং দুর্গত মানুষের পাশে থাকার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান। রোববার সচিবালয়ে আন্তমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার পর প্রতিমন্ত্রী ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘৮ লাখের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছেন। বাকিদের আসার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে আপাতত স্কুল খোলা থাকবে, তবে ক্লাস বন্ধ থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘আগেই আমরা বলেছিলাম আজকে (গতকাল) ভোর থেকে এটা শুরু হতে পারে। ঝড়ের গতি কম ছিল বলে গতকাল ভোরে আসেনি। ঝড়ের কারণে উপকূলীয় এলাকায় ১০ থেকে ১২ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত প্লাবিত হতে পারে। যদি জোয়ার থাকে এটা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রেমালের প্রভাবে সাতক্ষীরা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত পুরো এলাকাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ জন্য আমরা সবাইকে নিয়ে আজ সভা করেছি। সেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মেডিকেল টিমগুলো প্রস্তুত রয়েছে। সেনাবাহিনী যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসও প্রস্তুত রয়েছে। পেছনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এই ঘূর্ণিঝড়কে আরও শক্তভাবে মোকাবিলা করার জন্য আমরা সমস্ত প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।’

অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্ট্যান্ডিং অর্ডার অনুসারে, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি যে সমস্ত অবকাঠামো আছে সেগুলো ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেবেন। সেভাবে তারা সে সমস্ত ব্যবস্থা নেবেন।

তিনি আরও বলেন, অনেকগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করায় সে সময় অর্থাৎ দুর্যোগ চলাকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে সে প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান কার্যক্রম জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্দেশনায় হবে। অর্থাৎ সে সময় স্থগিত থাকবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত।’

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলার প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমাল মোকাবিলায় সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা প্রস্তুত। আমাদের প্রতিটি নিরাপত্তা বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। কোস্টগার্ড গত তিন দিন ধরে উপকূলের ৫৭টি স্থানে মাইকিং করছে। একই সঙ্গে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ বোটের সঙ্গে কিছু রিলিফও তারা জোগাড় করে রেখেছে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও অদূরবর্তী দ্বীপ-চরের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮ থেকে ১২ ফুট অধিক জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছে।

রেমালের কারণে দেশের সব সমুদ্র বন্দরে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকার পাশাপাশি সব ধরনের নৌযান বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়াও দেশের সব রুটে লঞ্চ চলাচলও বন্ধ আছে। নৌপথ উত্তাল হওয়ায় রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি খেয়া নৌকাগুলোকেও নদী পারাপারে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা ছিল। ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটে দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিএর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন দৈনিক বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ ছাড়া রেমালের প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার রাজবাড়ির দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে রোববার সকাল পৌনে ১০টা থেকে সকল ধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। নদী উত্তাল থাকায় যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর আগেই লঞ্চ বন্ধ ঘোষণা করে।

অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে রোববার কক্সবাজারের সারা দিনের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। শনিবার এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম। তিনি জানান, রেমালের কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৬ মে কক্সবাজারগামী সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া, আগামী ২৬ মে কলকাতাগামী বিজি-৩৯৫ ও ২৭ মে কলকাতাগামী বিজি-৩৯১ ফ্লাইটটিও বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়াও বরিশাল বিমানবন্দরেও সব ধরনের ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ রাখার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে গতকাল ঘূর্ণিঝড় রেমাল দেখতে কক্সবাজারে পর্যটক-দর্শনার্থীর ভিড় দেখা গেছে। বেলাভূমির লাবণী, সি-গাল, সুগন্ধা, ওশান বিচ ও কলাতলী পয়েন্টে শত-শত পর্যটক আবাল-বৃদ্ধ-বণিতার উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে উপচেপড়া ঢেউয়ের সাথে মিতালি গড়ে গোসলে নামছে। সমানে তাদের উপরে নিরাপদ স্থানে উঠে আসতে তাগাদা দিচ্ছেন জেলা প্রশাসনের বিচকর্মী ও সৈকতে কাজ করা লাইফগার্ড কর্মীরা।

এদিকে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের পানির ঝুঁকি থেকে বোন ও ফুফুকে বাঁচাতে গিয়ে মো. শরীফ (২৭) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। রোববার (২৬ মে) দুপুরে ধূলাসর ইউনিয়নের কাউয়ারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শরীফ অনন্তপাড়া এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে। সমুদ্রের পানিতে কাউয়ারচর এলাকা ৫ থেকে ৭ ফুট পানিতে প্লাবিত ছিল। সাঁতার কেটে ফুফুর ঘরে যাওয়ার সময় ঢেউয়ের তোড়ে শরীফ হারিয়ে যান। পরে একঘণ্টা পর ওই স্থান থেকে শরীফের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা।

অন্যদিকে রেমালের কারণে সুন্দরবন জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র ও পর্যটন কেন্দ্রের মো. আজাদ কবির জানান, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে ৮ ফুট পানি বেড়ে সুন্দরবন তলিয়ে গেছে। মোংলা নদীতে যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, ঝুঁকি এড়াতে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।


উপকূল অতিক্রম করছে ‘রেমালের’ কেন্দ্র, দুর্গত অঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’-এর কেন্দ্র উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করেছে। রোববার (২৬ মে) সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে এটি বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম শুরু করে। এর আগে বিকেল থেকেই রেমালের অগ্রভাগ উপকূল তীরবর্তী অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। এদিকে রেমালের প্রভাবে কাল সোমবার দুর্গত এলাকায় সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান।

রোববার রাত সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামীকাল সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করা হয়েছে। তবে, কর্মচারী যারা আছেন, তাদের সার্বক্ষণিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে করে আশ্রয়ের জন্য কোনও লোক আসলে তারা যেন সহযোগিতা পায়। তবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লাস আগামীকাল বন্ধ থাকবে।

অন্যদিকে সন্ধ্যায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহনাজ বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের মূল অংশ বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। পুরোপুরি অতিক্রম হতে রাত ১০টার পর হতে পারে। এরপর এর পেছনের অংশ অতিক্রম করবে। এর প্রভাবে তীব্র বাতাস, জলোচ্ছ্বাস, ঝোড়ো হাওয়াসহ ভারী ও অতিভারী বৃষ্টি এবং বন্যা পরিস্থিতি তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।


রেমালের ক্ষতি বাড়লে উপজেলা নির্বাচন বাদ: ইসি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব মো. জাহাংগীর আলম বলেছেন, প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার উপজেলা নির্বাচন বাতিল করা হবে। রোববার দুপুরে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। ইসি সচিব বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রার ক্ষতির ওপর নির্ভর করবে ভোট বাতিলের সিদ্ধান্ত। মাঠপর্যায়ে যোগাযোগ রাখছি। ঝড় এখনো আঘাত হানেনি। আঘাত হানার পর সিদ্ধান্ত হবে। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেন ঝড়টা মারাত্মক আঘাত না হানে।

এদিন সকালে শুনানি করে দুই চেয়ারম্যানপ্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। মো. জাহাংগীর আলম বলেন, আজকে দুজন চেয়ারম্যানপ্রার্থীকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের চান্দনাইশ উপজেলা নির্বাচনের চেয়ারম্যানপ্রার্থী আবু আহমেদ চৌধুরী (ঘোড়া প্রতীক) তিনি উপস্থিত হয়েছিলেন। তিনি অভিযোগের দফা অনুযায়ী জবাব দিয়েছেন। কমিশনও তা শুনেছে। শেষে তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত দিয়েছে কমিশন। অন্যদিকে মো. এমদাদুল হক পাবনার ঈশ্বরদীর চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। তিনি প্রতীক বরাদ্দের দিন আচরণবিধি ভঙ্গ করেন। তার জবাবে সন্তুষ্ট না হওয়ায় তারও প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত দিয়েছে কমিশন। উল্লেখ্য, আগামী বুধবার ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের তৃতীয় ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।


চিকিৎসায় বিদেশমুখিতা কমাতে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

রোগীরা যাতে বিদেশমুখী না হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মতো সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে উৎসাহী হয় সে লক্ষ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রোববার দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ড. দীন মোহাম্মদ নুরুল হকের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ নির্দেশ দেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিদেশমুখিতা কমাতে দেশের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসায় উৎসাহ বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন।’

পরে, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন ব্রিফিংয়ে জানান, সাক্ষাৎকালে উপাচার্য চিকিৎসাসহ বিএসএমএমইউর সার্বিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য সাহাবুদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। এখানে রোগীদের উন্নত চিকিৎসা ও সেবার বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। রোগীদের চিকিৎসা ও সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি বিএসএমএমইউর সার্বিক কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রেস সচিব জানান, পরে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আব্দুর রশীদ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় উপাচার্য ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যৎ কর্ম পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য প্রমাণ করতে পারে; কারিকুলাম উন্নয়নের ক্ষেত্রে সে বিষয়ে প্রাধান্য দিতে হবে।

শিক্ষার্থীরা যাতে তথ্য প্রযুক্তিসহ ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে পারে সে ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব মো. ওয়াহিদুল ইসলাম খান এবং সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আদিল চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।


‘কলকাতায় মুজিব’ তথ্যচিত্রের খসড়া অবলোকন প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীভিত্তিক ডকুমেন্টারি ‘কলকাতায় মুজিব’-এর খসড়া কপি অবলোকন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার সকালে গণভবনে তথ্যচিত্রটির খসড়া কপি অবলোকন করেন তিনি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনে কলকাতা মহানগরীর বড় ভূমিকা রয়েছে। সেই বিষয়টিকে উপজীব্য করেই ‘কলকাতায় মুজিব’ শীর্ষক তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন ভারতের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ ।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব কে এম শাখাওয়াত মুন জানান, প্রধানমন্ত্রী ‘কলকাতায় মুজিব’ তথ্যচিত্রটি অবলোকন করেন এবং এর নির্মাণ-সংশ্লিষ্টদের এ সম্পর্কে তার মতামত ও নির্দেশনা দেন।

বঙ্গবন্ধুর কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে পড়া, বেকার হোস্টেলে থাকা, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলনে জড়িয়ে পড়া, আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে রাত কাটানো, পার্ক সার্কাসে ঘুরে বেড়ানো, ব্রিগেডের ময়দানে তার আগুন ঝরানো ভাষণ-এমন আরও অনেক কিছু বঙ্গবন্ধুর প্রিয় এই শহরের অলিগলি থেকে তুলে এনে তথ্যচিত্রটিতে ক্যামেরাবন্দি করছেন চলচ্চিত্র পরিচালক গৌতম ঘোষ।


ফায়ার সার্ভিসের সাফল্য ও সুনাম সমুন্নত রাখতে হবে: মহাপরিচালক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর চলমান সাফল্য ও সুনাম ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মাইন উদ্দিন, বিএসপি (বার), এনডিসি, পিএসি, জি, এম ফিল।

আজ রোববার সকালে অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে আয়োজিত দরবার অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি এই আহ্বান জানান। মহাপরিচালক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের ২ বছর পূর্তির দিন এ দরবার অনুষ্ঠানে অধিদপ্তরের পরিচালকগণ, উপপরিচালকগণসহ বিভন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

সকলকে সঙ্গে নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক হিসেবে ২ বছর উত্তীর্ণ হওয়ায় তিনি বক্তব্যের শুরুতেই মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তিনি জাতির পিতাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

এসময় তিনি ১৫ আগস্ট শাহাদৎ বরণকারী জাতির পিতার পরিবারের সকল সদস্যের প্রতি; মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মাহুতি দেয়া ৩০ লক্ষ শহিদ ও ২ লক্ষ মা-বোনসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজে অংশ নিয়ে মৃত্যুবরণকারী শহিদ ফায়ারফাইটারদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

নতুন নতুন ফায়ার স্টেশন চালু করাসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন, বিশেষ করে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৩ এবং কর্মীদের আজীবন রেশন প্রদান করায় তিনি প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিবদের সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মাইন উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা যেমন দেশের জন্য জীবন দিচ্ছেন, সরকার তেমনি আমাদের প্রত্যাশিত সকল ন্যায্য দাবি পূরণ করছে।’

একটি আধুনিক ফায়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের সকলের উচিত হবে সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আন্তরিকভাবে কাজ করা।’

তিনি সকলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনাদেরকে ফায়ার সার্ভিসের অর্জিত সুনাম ও সাফল্য ধরে রাখতে হবে। এজন্য সকলকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে যত্নবান থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, সকলের সম্মিলিত চেষ্টার মাধ্যমেই একটি প্রতিষ্ঠানে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়।

দরবারের একপর্যায়ে মহাপরিচালক মহোদয় উপস্থিত বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতামত শুনতে চান। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আলোচনায় মহাপরিচালক মহোদয়ের ২ বছর সময়কালে বিভিন্ন সাফল্য অর্জনের তথ্য উঠে আসে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৩ অর্জন, শহিদ ১৩ জন ফায়ারফাইটারকে সরকারিভাবে ‘অগ্নি বীর’ খেতাব প্রদান, সকল কর্মীর জন্য আজীবন রেশন প্রদান, ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টে প্রধানমন্ত্রীর আরও ২০ কোটি টাকার অনুদান, প্রথমবারের মতো তুরস্কের ভূমিকম্পে উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের অংশগ্রহণ ইত্যাদি।


রাত ১০টার মধ্যে আঘাত হানবে শক্তিশালি ‘রেমাল’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত শক্তিশালি ঘূর্ণিঝড় 'রেমাল' আরও উত্তরে অগ্রসর হয়েছে, এটি রাত ১০টার মধ্যে উপকূলে আঘাত হানার সম্ভাবনা রয়েছে বলে রোববার বিকেলে আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত ১৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশের উপকূলের আরও কাছে চলে এসেছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’।

প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিসহ দমকা ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত আছে। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে মোংলার কাছ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাগর আইল্যান্ড-খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র অতিক্রমের পর এর নিম্নভাগ অতিক্রম অব্যাহত থাকবে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

এ অবস্থায় পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও, উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ১০ দশ নম্বর মহাবিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে।

কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ৯ নম্বর মহাবিপৎসংকেতের আওতায় থাকবে।

খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার নদীবন্দরগুলোকে ৪ নম্বর নৌ-মহাবিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের অন্তর্বর্তী অংশ ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং অদূরবর্তী দ্বীপ, চর, নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮-১২ ফুট বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে দমকা, ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪-৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী বর্ষণ (৮৯ মিলিমিটারের বেশি) হতে পারে। ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।


আগামী কয়েক মাস বাংলাদেশের রিজার্ভ স্থিতিশীল থাকবে: মুডিস

গভর্নরের দক্ষ নেতৃত্বের সুফল বলছে সংশ্লিষ্টরা
আপডেটেড ২৬ মে, ২০২৪ ২১:২৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য স্বস্তির খবর দিল আন্তর্জাতিক রেটিং এজেন্সি মুডিস। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি বলছে, আগামী কয়েক মাস দেশের রিজার্ভ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে। এমন খবরে গেল কয়েক মাসে কমতে থাকা রিজার্ভ নিয়ে দুশ্চিন্তা ‍কিছুটা হলেও কাটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মুডিসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশকে ঋণ দেওয়া চলমান রাখায় রিজার্ভ নিয়ে দুশ্চিন্তার বড় কারণ নেই। বিদেশি ঋণগুলো মার্কিন ডলারে দেওয়া হয় বলে রিজার্ভ পরিস্থিতি ইতিবাচক হওয়া সময়ের ব্যাপার।

প্রতিষ্ঠানটি আরও বলছে, গত জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার পর ব্যবসায় অনিশ্চয়তা ধীরে ধীরে কমে আসতে শুরু করেছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় আমদানির ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নজরদারি থাকায় চলতি অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স ইতিবাচক হয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমান গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই অপ্রয়োজনীয় আমদানি বন্ধ করতে পর পর কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেন। যা বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকেও দেয়া হয়েছিল বিশেষ নির্দেশনা। এতে বিশ্ববাজারে অনেক পণ্যের দাম বাড়লেও বৈদিশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান গভর্নরের বিচক্ষণ নেতৃত্বে আমদানি ব্যয় কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

তার অব্যাহত প্রচেষ্টা, সার্বক্ষণিক তৎপরতা ও সুদক্ষ নেতৃত্বেই ধীরে ধীরে ডলার সংকট কমে আসতে শুরু করেছে। মুডিসের এই প্রতিবেদন যেনো সেই সাক্ষী দিচ্ছে।

মার্কিন এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের রেটিং নিয়ে পর্যায়ক্রমে গবেষণা করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। এতে জানানো হয়, বাংলাদেশের জন্য ‘বি ওয়ান’ রেটিং অপরিবর্তিত রেখেছে তারা। আরও বলছে, স্থিতিশীল আর্থিক পরিস্থিতি বজায় থাকায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ঋণ সহায়তা পাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেছে মুডিস।

তবে মুডিস বলছে, বাংলাদেশের আর্থিক পরিস্থিতি করোনা মহামারির আগের তুলনায় দুর্বল হয়েছে। তবে এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। ঘুরে দাঁড়াতে তৈরি পোশাক খাতের বড় অঙ্কের রপ্তানি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নানা বাস্তবতা মোকাবিলা করেও পোশাক রপ্তানিতে বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। করোনা মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশ থেকে আশানুরূপ পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা রিজার্ভকে শক্তিশালী রাখতে ভূমিকা রাখছে।

মুডিসের গবেষণায় প্রশংসা পেয়েছে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধিও। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নানা বাস্তবতা মোকাবিলা করেও ভালো প্রবৃদ্ধি পাচ্ছে বাংলাদেশ, যা আন্তর্জাতিক ঋণ পেতে দেশটিকে সহায়তা করছে। তবে ঋণের তুলনায় রাজস্ব আহরণ কমে যাওয়াকে দুশ্চিন্তার কারণ বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা আর্থিক খাতের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করে মুডিস।

প্রতিবেদনে আরও কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করেছে মুডিস। যার মধ্যে পোশাকের বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়া, এ খাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করতে না পারা, কম রাজস্ব আদায়, সুদ মেটাতে বেশি খরচ ও আর্থিক হিসাবের ঘাটতি রেটিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে দুর্বল করে তুলতে পারে বলে মনে করে মুডিস। এসব পরিস্থিতিকে দুই-তিন বছর আগের তুলনায় নাজুক বলেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ভোক্তা মূল্যস্ফীতিকে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে মুডিস। এটি অব্যাহত থাকলে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে ‍যাওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সীমিত হবে বলেও শঙ্কা তাদের। উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি নয় দশমিক ৭৪ শতাংশ ছিল- যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফের চলমান চার দশমিক সাত বিলিয়ন ডলার ঋণের পরের কিস্তি পেতে মুডিসের এমন প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এ ছাড়া গেল কয়েক মাস ধরে কমতে থাকা রিজার্ভ নিয়ে মিলবে স্বস্তি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী রিজার্ভ রয়েছে ১৮ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২২ সালের জুনে ৪০ বিলিয়ন ডলারের চেয়েও বেশি ছিল।


সদরঘাট থেকে সব রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জবি প্রতিনিধি

ঘূর্ণিঝড় ‘রেমালʼ- এর প্রভাবে নৌপথ উত্তাল হওয়ায় রাজধানীর প্রধান নদীবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সব রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি খেয়া নৌকাগুলোকেও নদী পারাপারে সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটে দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিউটিএ এর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন দৈনিক বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে গতকাল শনিবার রাত ১০টা থেকে সব রুটের ছোট বড় সকল ধরনের লঞ্চ স্টিমার বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে।

সরেজমিনে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, টার্মিনাল এলাকা পুরোপুরি সুনসান। মানুষের চলাচল নেই, নেই হাক ডাক। এদিকে পন্টুনেও কোনো লঞ্চ বাঁধা ছিলো না। অনেকে লঞ্চ বন্ধের খবর পেয়ে বিকল্প হিসেবে বাসে যাতায়াতের পথ খুঁজছেন। অনেকে ঘাট থেকে প্রাইভেটকার যোগে বাড়ির পথে রওনা করছেন।

লঞ্চ সংশ্লিষ্টরা জানান, আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবের কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় না আসা পর্যন্ত ঘাট থেকে লঞ্চ ছাড়া নিরাপদ হবে না। আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বিআইডব্লিউটিএর নির্দেশনা অমান্য করারও কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার নদী বন্দরগুলোকে ৪ নম্বর নৌ-মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ কারণে সকাল ৬টা থেকে সব ধরনের লঞ্চ এবং নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।’

এছাড়াও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, ‘ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যাত্রীসাধারনের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে শনিবার রাত ১০ঘটিকায় ঢাকা নদী বন্দর হতে অভ্যন্তরীণ নৌপথের সকল লঞ্চসমূহ পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’

এদিকে ভয়ংকর রূপ নেয়া ঘূর্ণিঝড় রেমালের কেন্দ্র আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। রোববার বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গতি বাড়িয়েছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমাল। এটি এখন ১৩ কিলোমিটার গতিতে ধেয়ে আসছে।


সন্ধ্যা ৬টার পর খেপুপাড়া অতিক্রম করবে শক্তিশালি রেমাল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভয়ংকর রূপ নেয়া ঘূর্ণিঝড় রেমালের কেন্দ্র সন্ধ্যা ৬টার পর পরবর্তী ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আজ রোববার বিকেলে আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক মো. আজিজুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গতি বাড়িয়েছে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমাল। এটি এখন ১৩ কিলোমিটার গতিতে ধেয়ে আসছে।

তিনি বলেন, ‘উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমাল উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আজ দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাবে বৃষ্টিসহ দমকা বা ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত রয়েছে। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে মোংলার কাছ দিয়ে সাগর আইল্যান্ড (পশ্চিমবঙ্গ) খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম করতে পারে।’

‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র অতিক্রমের পর এর নিম্নভাগ অতিক্রম অব্যাহত থাকবে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে’- বললেন আজিজুর রহমান।

এদিকে রেমালের প্রভাবে পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ১০ (দশ) নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

এদিকে রেমালের প্রভাবে কক্সবাজার ও কোলকাতার সকল ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বন্ধ রয়েছে উপকূলের লঞ্চ চলাচল। দৌলতিয়া-পাটুরিয়ায়ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে দুর্যোগ মোকাবিলা এবং দুর্গত মানুষের পাশে থাকার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়সহ সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান।

আজ রোববার সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার পর প্রতিমন্ত্রী ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘৮ লাখের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছেন। বাকিদের আসার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে আপাতত স্কুল খোলা থাকবে, তবে ক্লাস বন্ধ থাকবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গতকাল আমরা বলেছিলাম আজকে ভোর থেকে এটা শুরু হতে পারে। ঝড়ের গতি কম ছিল বলে আজ ভোরে আসেনি। গতকাল গতিবেগ ছিল ১৬ থেকে ১৭ কিলোমিটার। ভোরে গতি কমে দশের নিচে চলে আসে, পরবর্তীতে ৬ কিলোমিটারে নেমে আসে। যার জন্য এটা সময়মতো এখনো পৌঁছেনি। তবে আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এটা প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে এবং আজ সন্ধ্যা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ের প্রথম ভাগ অতিক্রম শুরু হবে। মধ্যরাতে মূল অংশ বাংলাদেশ অতিক্রম করবে।’

ঝড়ের কারণে উপকূলীয় এলাকায় ১০ থেকে ১২ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত প্লাবিত হতে পারে। যদি জোয়ার থাকে এটা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রেমালের প্রভাবে সাতক্ষীরা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত পুরো এলাকাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এজন্য আমরা সবাইকে নিয়ে আজ সভা করেছি। সেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি’- বললেন প্রতিমন্ত্রী।


banner close