২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ওই বছরের ১১ অক্টোবর সব রাজনৈতিক সংগঠন এবং এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গোপনে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে দেশবিরোধী কিছু মৌলবাদী সংগঠন।
আর তাদের মতের সঙ্গে না মিললেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা বুলিং-র্যাগিংয়ের শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি গত ১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন হলে ইফতার বিতরণ করার কারণে কিছু শিক্ষার্থীর এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে। শনিবার (৩০ মার্চ) বিকেলে বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা এমন উদ্বেগজনক অভিযোগের কথা জানালেন।
তারা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তি বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেই বা পরিচয় থাকলে তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয়; পরিবার নিয়েও অশালীন মন্তব্য করা হয় অনলাইন ও অফলাইনে। বিষয়গুলো নিয়ে কেউ সামান্যতম প্রতিবাদ করতে চাইলে ‘ছাত্রলীগ’ ট্যাগ দিয়ে তাকে বুয়েট থেকে বহিষ্কারের দাবি জানানো হয়।
এমন পরিস্থিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের লাভের গুড় যাচ্ছে কার ঘরে? দেশের অন্যতম মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের এই বিদ্যাপীঠে রাজনীতি বন্ধের সুযোগে তবে কি মৌলবাদের আখড়ায় পরিণত হবে!
আবরার হত্যাকাণ্ডের মতো দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পর ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নসহ প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম বন্ধ করে। তবে ক্যাম্পাসে গোপনে কার্যক্রম চালায় ইসলামী ছাত্রশিবির ও হিজবুত তাহরিরসহ মৌলবাদী ছাত্রসংগঠনগুলো। মসজিদ কিংবা বিভিন্ন আড্ডায় সাংগঠনিক সভায়ও মিলিত হন এসব সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
সুনামগঞ্জের হাওরে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার অভিযোগে বুয়েটের প্রাক্তন এবং বর্তমান ৩৪ জন শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তাররা সবাই শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। শিবিরের বুয়েট শাখার বায়তুল মাল সম্পাদক আফিফ আনোয়ারও ছিলেন তাদের মধ্যে একজন। বর্তমানে তারা সবাই জামিনে রয়েছেন। কিন্তু থেমে নেই তাদের তৎপরতা। হাতেনাতে ধরা পড়ায় এই ঘটনা প্রকাশ্যে এলেও ভেতরে ভেতরে রাষ্ট্রবিরোধী মৌলবাদী, জঙ্গিবাদভাবাপন্ন সংগঠন বুয়েটে বহু কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
তাদের মৌলবাদী ছাত্র সংগঠনগুলোর অনুসারী ও নেতা-কর্মীরা মুখে মুখে ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা বললেও আদতে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে চলেছেন সন্তর্পণে। তারা তাদের স্বার্থে আবরার হত্যার আবেগকে কাজে লাগাচ্ছে।
গত ২৭ মার্চ বুয়েট ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার চত্বরে আসেন ছাত্রলীগের সভাপতি ও দপ্তর সম্পাদকসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। এর দুই দিন পর শুক্রবার বিকেলে বুয়েটের শহীদ মিনারের সামনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালকের (ডিএসডব্লিউ) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা লঙ্ঘন করে পুরকৌশল বিভাগের ২১তম ব্যাচের ছাত্র ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইমতিয়াজ হোসেন রাহিম ছাত্রলীগ নেতাদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন। ওই দিন রাতেই হলের সিট বাতিল করা হয় ইমতিয়াজের। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এর সঙ্গে নতুন করে তারা আরও চারটি দাবি যুক্ত করেন। মোট পাঁচ দফা দাবিতে তারা এখন আন্দোলন করছেন।
ক্রিয়াশীল ছাত্ররাজনীতির স্বর্ণালী ইতিহাস সবার জানা। দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, রক্ষা ও বাস্তবায়নে ছাত্ররাজনীতির ভূমিকা অপরিসীম। শুধু তাই নয়, দেশের সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িকতা, সমতার সমাজ গঠনে দেশকে বারবার পথ দেখিয়েছে এই ছাত্ররাজনীতি। বুয়েটের ভূমিকাও সেখানে উল্লেখযোগ্য। তবে বারবার বুয়েটে সেই পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। দেশের অন্যতম মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিরাজনীতিকীকরণের নামে মৌলবাদ নিজেদের ঘাঁটি গড়েছে সেখানে। যার মধ্য দিয়ে ছাত্রশিবিরের মতো সহিংস সংগঠনের শীর্ষপর্যায়ে উঠে এসেছেন বুয়েটের ছাত্ররা। প্রশ্ন হলো- কীভাবে এটি সম্ভব হয়েছে? দেখা গেছে, বুয়েটে রাজনীতি বন্ধের পক্ষে যারা বারবার বক্তব্য রাখছেন তারাও কোনো না কোনোভাবে মৌলবাদী রাজনীতিরই ধারক-বাহক।
বুয়েটে বর্তমানে মৌলবাদী ছাত্র সংগঠনগুলো বাধার শিকার না হলেও বাধা পাচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের শক্তিগুলো।
সাম্প্রতিক আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থী নামধারীরা ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে উচ্চকিত হলেও বুয়েটে শিবিরের তৎপরতার বিষয়ে তারা নিশ্চুপ। এমনকি এই বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেও, তারা এটি দেখার দায় চাপিয়ে দিয়েছেন প্রশাসনের ওপর; কিন্তু সমালোচনার মুখে শেষপর্যন্ত তারা শিবির ও হিজবুতের নাম নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার দাবি জানালেও এই দুই সংগঠনের নেতা-কর্মী কারা সেটি তারা জানে না বলে জানায়।
বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এই আন্দোলনের পুরো ইন্ধন জোগাচ্ছে ইসলামী ছাত্রশিবির ও হিজবুত তাহ্রীরসহ মৌলবাদী ছাত্র সংগঠনগুলো এবং এক শ্রেণির শিক্ষক।
কিন্তু ছাত্রলীগ বা ছাত্র ইউনিয়নসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত রাজনৈতিক দলগুলো যেকোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলেই তার বিরোধিতা করেছে এই গোষ্ঠী।
সাম্প্রতিক তথ্য না পাওয়া গেলেও ২০১৩ সালের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গিয়েছিল, বুয়েট নিয়ে মৌলবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতার তথ্য। ওই বছরের নভেম্বরে বুয়েটের নজরুল ইসলাম হলের ২২৩, ৩০২, ৩২৪, ৩৩০ ও ৪১০ নম্বর রুম এবং আহসানউল্লাহ হলসহ বিভিন্ন হল থেকে বিপুল পরিমাণ জেহাদি বই ও শিবিরের সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিবরণ-সংবলিত বেশ কিছু গোপন নথি পাওয়া যায়। গোপন কাগজপত্র থেকে জানা যায়, বুয়েটে সেবা নামের একটি সংগঠনের আড়ালে শিবির তাদের কর্মকাণ্ড সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে প্রচার ও প্রসার করত। এ রকম ‘মেধাবীদের খোঁজে’ নামক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন নামে বেনামে সংগঠন দাঁড় করিয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের তাদের দলে ভেড়ায় তারা। ওই সময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালের অংশ হিসেবে রাজপথে পুলিশের ওপর অতর্কিতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আলোচিত ছিল ছাত্রশিবির।
বুয়েট ছাত্রশিবিরের গোপন নথি থেকে জানা গিয়েছিল, বুয়েটে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে শিবির বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছে বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পেছনে। ২০১০ সালে বুয়েটে শিবির অর্থ ব্যয় করেছে ৮ লাখ ৭০ হাজার ৩১৪ টাকা এবং ২০১১ সালে খরচ করে ১৩ লাখ ২৩ হাজার ২০০ টাকা। এই তৎপরতা চলমান। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, ছাত্ররাজনীতিমুক্ত বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রগতিশীল রাজনীতিতে বিশ্বাসীদের দমিয়ে রেখে অন্ধকার রাজনীতি শিক্ষার্থীদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
বুয়েটে শিবিরের কার্যক্রম চলছে তা স্বীকার করে নিয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি ড. শফিকুল ইসলাম। এটি জানার পরও সব শেষ সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। উল্টো কোনো প্রমাণ ছাড়াই শিবিরের সাবেক সভাপতির বক্তব্য দেওয়ায় এর প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে এক শিক্ষার্থীকে। অর্থাৎ শিবিরের সাবেক সভাপতির বক্তব্যও তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না বা আমলে নিতে চাইছেন না।
সম্প্রতি বুয়েট শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক আউটলুক ই-মেইলে পাঠানো হয়েছে হিজবুত তাহরিরের ই-মেইল। প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষার্থীর প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইলে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়ার বার্তা পাঠানো হলেও সর্বশেষ তথ্য অনুসারে সব শিক্ষার্থীর রোল নম্বর ধরে একাধারে প্রেরণ করা হয় এসব ই-মেইল। কিন্তু বর্তমান আন্দোলনকারীরা এর কোনো প্রতিবাদ করেননি।
এদিকে এক রিট আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গত ১ এপ্রিল বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে ২০১৯ সালে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের আদেশের পর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘বুয়েটে এখন থেকে ছাত্ররাজনীতি করায় আর কোনো বাধা থাকল না।’
এদিকে বুয়েটের উপাচার্য ড. সত্যপ্রসাদ মজুমদার বলেছেন, ‘আদালত যা বলবেন, তা আমাদের মানতে হবে। আদালতের আদেশ শিরোধার্য।’ তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনকে পারস্পরিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে এবং এ জন্য আলোচনা জরুরি। জাতি এখন ইতিবাচক ফলাফল দেখার অপেক্ষায়।
পুলিশের পাঁচজন উপমহাপরিদর্শককে (ডিআইজি) পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের দুই অতিরিক্ত আইজিপিকে গ্রেড-১ পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পদোন্নতি পাওয়া পাঁচ কর্মকর্তা হলেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) পরিচালক (ডিআইজি) ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অ্যাডমিন) ফারুক আহমেদ এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী গ্রেড-২ প্রদান করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ তাদের যোগদানের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।
এদিকে পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা এবং পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম আওলাদ হোসেনকে গ্রেড-১ পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে এ পদোন্নতি ও পদমর্যাদা প্রদান বাহিনীর নেতৃত্ব কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এক ধাপ পিছিয়ে এখন ৯৬তম স্থানে নেমেছে, যা আগের তালিকায় ছিল ৯৫তম। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স-এর মে মাসে প্রকাশিত সর্বশেষ পাসপোর্ট সূচক অনুযায়ী, এই অবস্থান পরিবর্তন সত্ত্বেও বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে বিশ্বের ৩৬টি দেশে কোনো ধরনের আগাম ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন।
এই তালিকায় ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলের বার্বাডোজ, ভুটান, কম্বোডিয়া, ফিজি, জ্যামাইকা, কেনিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, সেশেলস, বাহামাস, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, ভানুয়াতু, সামোয়া, ডমিনিকা, গ্রেনাডা, হাইতি, জিবুতি ও মাদাগাস্কারসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ ও দ্বীপ রাষ্ট্র রয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের জন্য সব দেশে ভ্রমণের নিয়ম এক নয়। কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার থাকলেও অনেক দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দর থেকে অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিতে হয়, আবার কিছু দেশের ক্ষেত্রে ভ্রমণের পূর্বে অনলাইনে ই-ভিসা সংগ্রহের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এদিকে মে মাসের এই বৈশ্বিক পাসপোর্ট শক্তির তালিকায় এককভাবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সিঙ্গাপুর। সূচকে দ্বিতীয় স্থানে যৌথভাবে অবস্থান করছে এশিয়ার দুই দেশ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংযুক্ত আরব আমিরাত।
এ ছাড়া শক্তিশালী পাসপোর্টের দিক থেকে এককভাবে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে সুইডেন। তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইউরোপের একাধিক ক্ষমতাধর দেশ, যার মধ্যে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন ও সুইজারল্যান্ডসহ আরও বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র যৌথভাবে অবস্থান করছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) শুনানির মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলেও সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্তের কারণে দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ গ্রাহকের ক্ষেত্রে কোনো দাম বাড়েনি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি জানান, শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের আগের দামই বহাল থাকবে, যার ফলে দেশের নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির গ্রাহকেরা সরাসরি উপকৃত হবেন।
শনিবার (৬ জুন) সচিবালয়ে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংসহ বিগত সরকারের আমলের নানা অপরাধের বোঝা বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
মন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির চক্র থেকে দেশকে বের করে আনার পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় নিরলস কাজ করছে বর্তমান সরকার।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আগের সরকারগুলো উৎপাদনমুখী নীতির চেয়ে আমদানি-নির্ভর নীতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। তৎকালীন সময়ে যদি আমদানি-নির্ভরতার চেয়ে উৎপাদনমুখী নীতি গ্রহণ করা হতো, তাহলে আজ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
তবে বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সারা দেশে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের সরকারি কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছেন।
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জলবায়ু বার্তা ও বিশ্ব পরিবেশ দিবসের কর্মসূচি-সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে জানানো হয়, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ২৫ কোটি গাছ রোপণ করা হবে।
আগামী সপ্তাহে চট্টগ্রাম থেকে এই বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তুতি, চলমান বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধির নানামুখী উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় বন ও পরিবেশমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে দেশীয় প্রযুক্তিতে অ্যাম্বুলেন্স উৎপাদন সংক্রান্ত আরেকটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় স্থানীয় প্রযুক্তি, মেধা ও উপকরণ ব্যবহার করে কীভাবে অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে এবং কম খরচে মানসম্মত অ্যাম্বুলেন্স তৈরি করা যায়, তার সম্ভাবনা ও এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বিশেষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।
বৈঠকে উভয় দেশের মধ্যকার পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় পৌঁছান হাকান ফিদান। সফরের প্রথম দিকে শুক্রবার তিনি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। ওই দিনই তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণে কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করেন এবং রাতেই পুনরায় রাজধানীতে ফিরে আসেন। তিন দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সফর শেষে আজ বিকেলেই তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগের কথা রয়েছে।
ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আগামী দুই থেকে তিন দিন পর পর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু মশার লার্ভা পাওয়া যাবে, সেই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে জরিমানা করা হবে। শনিবার সকালে ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের একটি বিশেষ অভিযানের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবারের ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, চিকিৎসকদের আশঙ্কা অনুযায়ী এবারের ডেঙ্গুর ধরণ হতে পারে অত্যন্ত বিপজ্জনক, যাকে ‘হেমোরেজিক’ বলা হচ্ছে। এই ধরণের ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের শরীরে দ্রুত রক্তক্ষরণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে সাধারণ মানুষকে আগেভাগেই সচেতন হওয়ার জন্য তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন। এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে ডেঙ্গু মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস এবং নগরবাসীকে সতর্ক করার কাজ জোরদার করা হবে।
একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, সিটি করপোরেশনের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী দক্ষিণ সিটি এলাকার ৬৩টি ওয়ার্ড বর্তমানে ডেঙ্গুর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যার মধ্যে ২৮টি ওয়ার্ডকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে যদি জনগণ ও সিটি করপোরেশন প্রত্যেকে তাদের নিজ নিজ ৫০ শতাংশ দায়িত্ব পালন করে, তবেই এই বিপর্যয় মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশনের এই সমন্বিত উদ্যোগ মূলত আগামী বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
সুদানের কাদুগলিতে জাতিসংঘের আবেই অঞ্চলের অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা বাহিনীতে (ইউএনআইএসএফএ) দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মর্যাদাপূর্ণ মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড’ পদকে ভূষিত করা হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
আজ শনিবার নিউইয়র্কের জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে জানানো হয়েছে যে, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নিহত এই বীর যোদ্ধাদের সাহসিকতা, আত্মত্যাগ এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ এই পদক প্রদান করেন। নিহত শান্তিরক্ষীদের পক্ষে পদকগুলো গ্রহণ করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী। সম্মাননাপ্রাপ্ত এই শান্তিরক্ষীরা হলেন—কর্পোরাল মো. মাসুদ রানা, প্রাইভেট মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রাইভেট মো. সবুজ মিয়া, প্রাইভেট মো. মোমিনুল ইসলাম, প্রাইভেট শামীম রেজা এবং প্রাইভেট সান্তো মণ্ডল। তারা ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর দায়িত্ব পালনকালে এক আকস্মিক ড্রোন হামলায় শাহাদাত বরণ করেন।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে নিহত প্রায় চার হাজার ৫০০ শান্তিরক্ষীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। তিনি বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশে কর্মরত ৫০ হাজারেরও বেশি শান্তিরক্ষীর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ বছর ৩৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে এই মরণোত্তর পদকে ভূষিত করা হয়েছে।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রদূত সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী শোক বইতে স্বাক্ষর করে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। উল্লেখ্য যে, ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকটি ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক প্রবর্তিত একটি সর্বোচ্চ মরণোত্তর সম্মাননা। এটি মূলত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ বিসর্জনকারী সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের অসামান্য অবদান ও নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করা হয়।
কাগজে-কলমে ‘মৈত্রীর সোনালী অধ্যায়’ আর মুখে সৌহার্দ্যের ফুলঝুরি ছড়ানো হলেও, ভারতের বর্তমান সরকারের নানামুখী সিদ্ধান্ত ও আচরণে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্কে বন্ধুত্বের চেয়ে তিক্ততার ছায়াই আজ বেশি দৃশ্যমান। কারণ, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তজুড়ে হঠাৎ করেই এক নজিরবিহীন উত্তেজনাকর এবং চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি এবং ন্যূনতম মানবিক রীতিনীতির তোয়াক্কা না করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) দেশের উত্তর, পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ সীমান্ত পথ দিয়ে জোরপূর্বক নারী, শিশু ও পুরুষদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) এক ব্যাপক ও সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জটিল সমীকরণ এবং সে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কথিত ‘অবৈধ নাগরিক’ পুশ-ব্যাক করার প্রস্তুতির খবরের পরপরই সীমান্তের এই আকস্মিক রূপবদল জাতীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তবে বিএসএফের ঠেলে দেওয়া ৮৮ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ কঠোরভাবে ঠেকিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এই ৮৮ জনই বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশের শূন্যরেখায় (নো ম্যান্স ল্যান্ড) অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে ঢুকতে পারেননি।
এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির মনে করেন, পুশ-ইন ইস্যুটিকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে তিক্ততা বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে দুই দেশেরই যুক্তি ও মানবিকতা দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও গবেষক ব্রিগেডিয়ার জে. মো. বায়েজিদ সরোয়ারের (অব.) মতে, পুশইনের মতো সংবেদনশীল পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত এক ধরনের চাপ বজায় রাখছে। এসব কর্মকাণ্ড দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সুসম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্থিরতা ও আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে। সম্পর্কোন্নয়নের বদলে তিক্ততা ও অসন্তুষ্টি বাড়তে পারে।
এদিকে, বাংলাদেশ অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া যত দ্রুত করার কথা জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। শুক্রবার (৫ জুন) দিল্লিতে সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ভারতে অবস্থানরত সকল বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে, তারা বাংলাদেশি হোক বা অন্য যে কোনো দেশের নাগরিক হোক, তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমাদের আইন রয়েছে। সেই আইন অনুযায়ীই তাদের সঙ্গে আচরণ করা হবে।
যদিও গত মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, কোনো ব্যক্তি যদি প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের নাগরিক হন এবং অন্য দেশে অবস্থান করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশের কেন্দ্রীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকা পাঠিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও আইনগত নিয়ম মেনে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে বর্তমানে এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন সরকারের কাছে ঝুলে নেই।
বিজিবি সদর দপ্তরের উপমহাপরিচালক (ডিডিজি) ও বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ মাহমুদ আজম বলেন, অবৈধভাবে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া কাউকে বিজিবি গ্রহণ করবে না। কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করা হলে আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে নির্ধারিত চেকপোস্টের মাধ্যমে পরিচয় যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সীমান্তে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি প্রস্তুত রয়েছে। পুশইনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঈদ উপলক্ষে দায়িত্বে থাকা অনেক সদস্যের ছুটিও সীমিত করা হয়েছিল।
পঞ্চগড় : পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাঁড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ী সীমান্ত দিয়ে শুক্রবার ভোরের কুয়াশাচ্ছন্ন আলোতে বিএসএফের সদস্যরা কাঁটাতারের গেট খুলে ১০ জন নারী, শিশু ও পুরুষকে জোর করে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয়। তবে বিজিবির কঠোর ও অনমনীয় অবস্থানের মুখে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১০ জনকে নিয়ে ভারতীয় সীমানার ভেতরে সরে যেতে বাধ্য হয়।
যদিও বিএসএফ তাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে না নিয়ে সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে মাত্র ২০ গজ দূরে ভারতের অংশে অবরুদ্ধ করে রেখে দেয়।
নীলফামারী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বিএসএফ দাবি করে যে এই ১০ জন বাংলাদেশের নাগরিক, কিন্তু এর সপক্ষে তারা কোনো বৈধ প্রমাণ বা নথিপত্র দেখাতে পারেনি।
লমনিরহাট : লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা ও আদিতমারী উপজেলার চারটি ভিন্ন সীমান্ত দিয়ে একযোগে বড় ধরনের পুশ-ইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের কামাতটারী এলাকায় ৫ জন নারী, ৩ জন পুরুষ ও ২ জন শিশুকে মারধর করতে করতে কাঁটাতারের বেড়ার গেট দিয়ে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয় বিএসএফ। ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে আসেন এবং বিজিবির ৬১ ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) পঁয়ছড়াবাড়ি ক্যাম্পকে অবহিত করেন। বিজিবি ও স্থানীয় মানুষ একত্রিত হয়ে পুশ-ইনের শিকার ব্যক্তিদের শূন্যরেখায় ফেরত পাঠায়।
একই সময়ে হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়ন সীমান্তে ১১ জনকে এবং আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ও দিঘলটারী সীমান্তে আরও ১৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। দবে বিজিবির ১৫ ও ৬১ ব্যাটালিয়নের জোয়ানরা স্থানীয়দের সাথে নিয়ে প্রতিটি পয়েন্টে বিএসএফকে রুখে দেয়। ৩৩ জন ভারতীয় শূন্যরেখার ২০ গজের মধ্যে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন।
বিজিবির রংপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম শফিকুর রহমান জানান, বিএসএফের সাথে বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ চলছে।
ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও সীমান্তে সম্ভাব্য পুশইন প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির পামাপাশি স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করছে বিজিবি। রাত্রিকালীন টহল দল বাঁশি ও টর্চ লাইটের মাধ্যমে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত জনসাধারণকে সীমান্ত অতিক্রম না করার জন্য সতর্ক করছে। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষায় জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্ভাব্য পুশ-ইন এবং সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ প্রতিরোধ আরও কার্যকর হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির জোয়ানরা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
দিনাজপুর: প্রতিবেশী দেশে অবস্থানরত কথিত অবৈধ নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশ-ইনের আশঙ্কায় দিনাজপুর সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা (হাই অ্যালার্ট) জারি করা হয়েছে। দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান সীমান্তবর্তী এলাকায় ধারাবাহিক জনসচেতনতামূলক সভা, মাইকিং এবং সরাসরি গণসংযোগ করছেন।
ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত পয়েন্ট ও নদীপথগুলোতে দিবা-রাত্রিকালীন অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করার পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন নাইট ভিশন গগলস এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বাইনোকুলার। সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘবদ্ধ দালালচক্র ও অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় জনগণকে নিয়ে ছোট ছোট ‘সতর্কতামূলক স্কোয়াড’ গঠন করা হয়েছে, যাতে কোনো দালাল চক্র পুশ-ইনে সহায়তা করতে না পারে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী সীমান্তে বিজিবির ১৬ ব্যাটালিয়নের বাঙ্গাবাড়ী ক্যাম্প এবং বিপরীতে ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্প দায়িত্ব পালন করছে। বুধবার রাত তিনটার দিকে সীমান্তের ২০৩/৬-আর পিলারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে গভীর অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও ৬ শিশুসহ ২৮ জনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয় বিএসএফের আশরাফপুর ক্যাম্পের জোয়ানরা। তবে বিজিবির টহল দলের তীক্ষ্ণ নজরদারির কারণে বিএসএফের এই অপারেশন ব্যর্থ হয়। এরপর থেকেই দুই দিন ধরে ২৮ জন সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ভারতের ৫০ গজ ভেতরে নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন।
বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সাদ্দাম হোসেন জানিয়েছেন, শূন্যরেখার ১০০ গজ দূর থেকে কথা বলে জানা গেছে যে বিএসএফ তাদের যে সামান্য খাবার দিচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে শিশুরা ক্ষুধায় কাঁদছে এবং তাদের মধ্যে এক বয়স্ক নারী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
এই ২৮ জনের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি খুলনার কয়রা এলাকায়। তারা দুই বছর আগে জীবিকার তাগিদে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন। কয়রা থেকে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ইতোমধ্যে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র পাঠিয়েছেন।
বিজিবি ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকে বিএসএফ পুশ-ইনের কথা স্বীকার করেছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা অগ্রগতি জানায়নি। ফলে এই ২৮ জনের ভাগ্য এখনো মহাকাশে ঝুলছে।
নওগাঁ : শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তে (২৩৮/এমপি পিলার) বিএসএফ-এর পান্নাছড়া ক্যাম্পের সদস্যরা আকস্মিকভাবে জোরপূর্বক ১৭ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালায়। এই অনুপ্রবেশের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৬ জন নারী এবং ৫ জন শিশু রয়েছে।
তবে বিজিবির নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) হাঁপানিয়া বিওপির একটি বিশেষ টহল দল গোয়েন্দা সূত্রের খবর পেয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিজিবি সদস্যরা কঠোর অবস্থান নিয়ে তাদের বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পা রাখতে বাধা দেয় এবং ভারতীয় শূন্য লাইনের ভেতরেই তাদের অবরুদ্ধ করে ফেলে। নওগাঁ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম জানান, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি ব্যাপক বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকতে দেওয়া হবে না এবং শূন্য রেখায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের ভারতীয় ভূখণ্ডে পুরোপুরি ফেরত পাঠানোর (পুশ-ব্যাক) আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মেহেরপুর: জেলার ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত জটিল, কারণ এর তিন দিক জুড়েই রয়েছে ভারতীয় সীমান্ত। দীর্ঘ ৯৭ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে সম্ভাব্য অবৈধ অনুপ্রবেশ (পুশ-ইন) ও মাদকসহ সব ধরনের চোরাচালান ঠেকাতে সতর্ক রয়েছে বিজিবি। মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গার ১৯টি বিওপি এবং একটি আইসিপির মাধ্যমে মোট ৮১টি বিশেষ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে।
এই টহলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো স্থানীয় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। সীমান্ত এলাকার কাথুলী গ্রামের বাসিন্দা জামাল ও খাইরুল ইসলামের মতো শত শত যুবক লাঠি, বাঁশি ও টর্চলাইটের মতো দেশীয় সরঞ্জাম নিয়ে দল গঠন করে সারারাত বিজিবির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন। কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ বা বিএসএফের নড়াচড়া দেখামাত্রই তারা বিজিবি ক্যাম্পে তথ্য পৌঁছে দিচ্ছেন।
বিজিবির চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হাসান বলেন, সীমান্তে পুশ-ইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশের ঝুঁকি এবং প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই যৌথ প্রতিরোধ বিএসএফের পুশ-ইনের পরিকল্পনাকে পুরোপুরি রুখে দিয়েছে।
নেত্রকোনা : জেলার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা সীমান্ত এলাকাটি ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চলের সাথে যুক্ত। পাহাড়, জঙ্গল এবং সোমেশ্বরী নদীর চরাঞ্চল ঘেরা এই সীমান্তটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত জটিল ও দুর্গম। চলমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই সীমান্ত দিয়েও পুশ-ইনের চেষ্টা হতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।
নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী জানান, বিজিবি এই পাহাড়ি সীমান্তের প্রতিটি তল্লাশি চৌকিতে জনবল দ্বিগুণ করেছে। মেগাফোন, সার্চলাইট এবং স্থানীয় সোর্সের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাহাড়ি দুর্গমতার সুযোগ নিয়ে বিএসএফ যেন কোনো অন্যায্য সুবিধা না নিতে পারে, সে জন্য বাহিনীটি শতভাগ প্রস্তুত ও জাগ্রত রয়েছে।
প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন দৈনিক বাংলার পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, মেহেরপুর ও নেত্রকোনা প্রতিনিধি।
বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থা ও নানা অস্থিরতায় দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। অনেকটাই নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলছে সামস্টিক অর্থনীতি। অর্থনীতিকে সচল করতে সরকার বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এক্ষেত্রে স্বল্প সুদে মূলধনের যোগান দেওয়া, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে রোডশোসহ নানা কর্মকরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এদিকে, অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরই মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে শিগগিরই রোড শোর আয়োজন: কারখানাগুলোতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে শিগগিরই রোড শোর আয়োজন করবে সরকার। এ লক্ষ্যে চলতি মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক এক সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় বন্ধ ও অলাভজনক কারখানাগুলোর বর্তমান অবস্থা, সমস্যা, সম্ভাবনা এবং করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত চালু এবং অলাভজনক কারখানাগুলো লাভজনক করার কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি এসব কারখানায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সভায় বন্ধ কারখানা চালু এবং অলাভজনক কারখানাগুলো লাভজনক করে তুলতে বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ নেওয়া হচ্ছে।
৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের: গত ২৩ মে অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। নতুন এই ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল সেই উদ্যোগেরই অংশ। ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত-সহায়ক প্রাক্-অর্থায়ন স্কিম’ শীর্ষক নীতিমালা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।
একক প্রতিষ্ঠান ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে:
দেশের বন্ধ ও আংশিক সচল শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবে বড় শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। এর আওতায় কোনো একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, একটি কোম্পানি বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ, যেখানে বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদ ১৪ শতাংশেরও বেশি। চলতি মূলধন নেওয়া কোম্পানিতে প্রতিনিধি বসাতে পারবে ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সেই তহবিল থেকে ৪ শতাংশ সুদে টাকা নিয়ে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। দেশের সব ব্যাংক এই তহবিল থেকে টাকা নিতে পারবে।
এই স্কিমের আওতায় জাতীয় শিল্প নীতিমালা অনুযায়ী বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের এমন প্রতিষ্ঠান ঋণ সুবিধা পাবে, যারা আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও প্রয়োজনীয় কার্যকরী মূলধন পেলে পুনরায় উৎপাদন বা সেবা কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান সচল থাকলেও মূলধনের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হতে পারছে না, তারাও এ সুবিধার আওতায় আসবে।
ঋণখেলাপি ও অর্থপাচারকারী তহবিলের আওতায় আসবে না: রপ্তানিমুখী ও প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি কোনো দক্ষ প্রতিষ্ঠান যদি বন্ধ কারখানা অধিগ্রহণ বা ইজারা নিয়ে পুনরায় চালু করতে চায়, তারাও এ সুবিধা পাবে। তবে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপি, অর্থ পাচার বা ঋণের অর্থ অপব্যবহারের রেকর্ড থাকলে তারা এ তহবিলের আওতায় আসতে পারবে না।
ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা নবায়নের সুযোগ থাকবে। এছাড়া ঋণগ্রহীতারা প্রথম ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ, ছয় মাস পর থেকে সুদ পরিশোধ শুরু করতে হবে। এই ঋণের অর্থ শ্রমিক-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ চার মাসের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল এবং উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল কেনায় ব্যয় করা যাবে। শ্রমিকদের বেতন সরাসরি ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। নগদ অর্থ লেনদেনের সুযোগ থাকবে না। এছাড়া এই অর্থ ব্যবহার করে পুরনো কোনো ঋণ পরিশোধ বা সমন্বয় করা যাবে না।
ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নিয়মিত তদারকি করবে। প্রতি তিন মাস অন্তর কারখানা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকও যে কোনো সময় সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারবে। নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাব থেকে অর্থ কেটে নেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ২ শতাংশ দণ্ড সুদ আরোপ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এই তহবিলের মূল লক্ষ্য হলো বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করে উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
অর্থনীতিবিদ ও উদ্যোক্তাদের মতে, ২০ হাজার কোটি টাকার এই তহবিল স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পে তারল্য সংকট কাটিয়ে কয়েকশ বন্ধ বা আংশিক বন্ধ কারখানা পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারে। এতে লক্ষাধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার সম্ভব হবে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে প্রকৃত যোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা এবং বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির ওপর।
‘রোড ডিভাইডারে গাছ লাগাই সবুজে সাজাই শহর সবাই’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাজধানীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকালে তেজগাঁওয়ের বিএসটিআই ও আমাদের সময়ের মাঝখানের সড়ক বিভাজকে এই কর্মসূচি পালিত হয়। সংগঠনটি দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান ও দৈনিক আমাদের সময়ের নির্বাহী সম্পাদক নজরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি রণজিৎ সরকার, আমাদের সময়ের অনলাইন ইনচার্জ বিপুল হাসান, সিনিয়র রিপোর্টার আব্দুল্লাহ ক্বাফী, গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের সদস্য গিরীশ গৈরিক, এমিলিয়া খানম, লাবণ্য লিপি, আমাদের সময়ের সিনিয়র রিপোর্টার শাহজাহান মোল্লাসহ সংগঠনের সদস্যরা। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সার্বিক সহযোগিতা করেছে শিকদার এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার আমিনুল ইসলাম।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে দৈনিক আমাদের সময়ের নির্বাহী সম্পাদক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা ও বাসযোগ্য করতে হলে পরিবেশের বিকল্প নেই। যেহেতু এই পৃথিবী দিন দিন উষ্ণ হয়ে ওঠছে। আজ থেকে ১০ বছর আগে এই দেশে গড় তাপমাত্রা কত ছিল? এখন কত? বিষয়গুলো সবাইকে অনুধাবন করতে হবে। বাসযোগ্য দেশ গড়তে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। আমরা আজকে এখানে নিম গাছ রোপণ করলাম। প্রশ্ন আসতে পারে নিম গাছ কেন? কারণ নিম গাছ বেশি অক্সিজেন ত্যাগ করে এবং বেশি করে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটা নাগরিকদের স্বস্তি দেবে। সবুজ পৃথিবী গড়তে প্রত্যেকের অন্তত একটা করে গাছ লাগানো উচিত। বর্তমান সরকার পরিবেশের বিষয়টাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরিকল্পনাজুড়ে পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার।
গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘পৃথিবীব্যাপী উষ্ণায়ন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে।
৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এই দিবসকে ঘিরে আজ গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে তেজগাঁও এলাকায় রোড ডিভাইডারের মাঝখানে গাছ লাগানো হলো। আমরা এখানে অনেকগুলো নিম গাছের চারা রোপণ করেছি। এটা একটা ঔষধিগাছ। আপনারা জানেন নিম গাছ খুবই উপকারী একটি গাছ। এটি মানুষের রূপচর্চা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যচর্যায় বিভিন্ন উপকারী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আসুন সবাই একটি করে হলেও গাছ লাগাই। সবুজে ভরে উঠুক সারা পৃথিবী।’
গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি রণজিৎ সরকার বলেন, ‘আজ আমরা একটি সুন্দর ও মানবিক উদ্যোগ নিয়ে একত্রিত হয়েছি- সড়কের ডিভাইডারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে। একটি গাছ শুধু পরিবেশ সুন্দর করে না, এটি আমাদের জীবন রক্ষা করে, বিশুদ্ধ অক্সিজেন দেয়, তাপমাত্রা কমায় এবং শহরকে বাসযোগ্যও করে তোলে। বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন, তীব্র গরম, বায়ুদূষণ ও পরিবেশ বিপর্যয় আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।
পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; নাগরিক সমাজ, তরুণ প্রজন্ম এবং সচেতন প্রতিটি মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই সবুজ নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। ডিভাইডারে রোপিত প্রতিটি চারা হবে দূষণের বিরুদ্ধে একেকটি প্রতিবাদ, উষ্ণতার বিরুদ্ধে একেকটি প্রতিরোধ এবং জীবনের পক্ষে একেকটি সবুজ ঘোষণা। শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, বৃক্ষ সংরক্ষণেও সমানভাবে দায়িত্বশীল হব। কারণ প্রকৃতিকে রক্ষা করা মানে মানবসভ্যতার অস্তিত্ব রক্ষা করা।’
গ্রিন কনসার্নস ফাউন্ডেশনের সদস্য কবি ও সাংবাদিক গিরীশ গৈরিক বলেন, ‘পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আমরা দেশব্যাপী গাছ লাগাতে চাই। এই প্রত্যাশা নিয়ে আজকে আমাদের যাত্রা শুরু হলো। সরকারের সবুজায়নের উদ্যোগকে শক্তিশালী করতে গ্রিন কনসার্নস সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন (বাজেট অধিবেশন) ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার্থে রাজধানী ঢাকার একটি বড় অংশে সব ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বহন, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা এবং বিক্ষোভ প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
শুক্রবার (৫ জুন) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। আগামী শনিবার (৬ জুন) রাত ১২টা থেকে শুরু হয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই আদেশটি কার্যকর থাকবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী রোববার (৭ জুন) থেকে শুরু হতে যাওয়া সংসদ অধিবেশনটি যেন কোনো ধরনের বিঘ্ন ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হতে পারে, সেজন্য শেরেবাংলা নগরস্থ জাতীয় সংসদ ভবন ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ২৮ ও ২৯ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে নির্দিষ্ট এলাকায় সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, ক্ষতিকারক ও দূষণীয় উপাদান বহন করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের জনসমাবেশ ও বিক্ষোভ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহ রোডের মহাখালী ক্রসিং থেকে পুরাতন বিমানবন্দর হয়ে বাংলামোটর ক্রসিং, বাংলামোটর লিংক রোডের পশ্চিম প্রান্ত থেকে হোটেল সোনারগাঁও রোডের সার্ক ফোয়ারা এবং পান্থপথের পূর্ব প্রান্ত থেকে গ্রীন রোডের সংযোগস্থল হয়ে ফার্মগেট এলাকা।
এছাড়া মিরপুর রোডের শ্যামলী মোড় থেকে ধানমন্ডি-১৬ নম্বর সড়কের সংযোগস্থল, বেগম রোকেয়া সরণির সংযোগস্থল থেকে পুরাতন ৯ম ডিভিশন ক্রসিং হয়ে বিজয় সরণি পর্যটন ক্রসিং এবং ইন্দিরা রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তসহ জাতীয় সংসদ ভবনের সংরক্ষিত এলাকা ও এর সীমানার ভেতরে থাকা সব রাস্তা ও গলিপথে এই আদেশ কঠোরভাবে বলবৎ থাকবে।
বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিধি বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরির লক্ষ্যে তুরস্ককে বাংলাদেশে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। শুক্রবার ঢাকা সফররত তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজীকরণে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক পরবর্তী এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, “আমি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় প্রণোদনা সম্পর্কে অবহিত করেছি এবং তুরস্কের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বেসরকারি ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়েছি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের সুযোগ নিয়ে টেক্সটাইল, জাহাজ নির্মাণ, প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং স্মার্ট প্রযুক্তির মতো খাতগুলোতে তুরস্কের বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার জন্য তুরস্ককে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ড. খলিলুর রহমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, এই সফর দুই দেশের অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করবে। তিনি তুর্কি সহযোগিতা সংস্থার মাধ্যমে বিনিয়োগ প্রচার ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান। এছাড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তুরস্কে বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানোরও আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশি তুরস্কে বসবাস করছেন, যাদের বড় একটি অংশই শিক্ষার্থী। সহযোগিতা, সংস্কৃতি, পর্যটন এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদার করার লক্ষে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পুনরায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় এখনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী এসবি পরিবহনের একটি বাস দৌলতদিয়া ৭নং ফেরিঘাট পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় পড়ে যায়। এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বাস থেকে যাত্রী নামানো অবস্থায় ছিল বলে মনে হচ্ছে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সক্রিয় হয়েছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সম্পর্কে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, “বাস পদ্মায় ডুবে যাওয়ার ঘটনা শুনেছি। আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।” বর্তমানে সেখানে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল কাজ করছে বলে জানা গেছে।
এদিকে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় রেলপথেও সাময়িক বিঘ্ন ঘটার খবর পাওয়া গেছে। প্রায় ৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকার সাথে চট্টগ্রাম ও সিলেটের ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, কারিগরি সমস্যা নিরসনের পর নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী ট্রেনগুলো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পল্টুন থেকে কুষ্টিয়ার কুমারখালি হতে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহনে’র একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। মর্মান্তিক সেই দুর্ঘটনায় নদী থেকে সর্বমোট ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। পুনরায় একই ধরনের ঘটনায় স্থানীয় যাত্রী ও চালকদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।