প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশে দারিদ্র্য হারের পাশাপাশি শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সুবিধাগুলো নিশ্চিত করার জন্য আমরা সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেছি। এর ফলে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে।’
শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল অ্যান্ড নার্সিং কলেজের ব্যবস্থাপনা টিম আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
কেপিজে হেলথকেয়ার বেরহাদ সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক চিন কিট চুয়ান দলের নেতৃত্ব দেন। এ সময় যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিল্পাঞ্চলে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে যাতে এলাকার শ্রমিক ও মানুষ সহজে মেডিকেয়ার সুবিধা পেতে পারে।
হাসপাতালটি বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত হয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি এবং আমার বোন শেখ রেহানা জনগণের স্বার্থে আমাদের সব সম্পত্তি ট্রাস্টকে দান করে দিয়েছি। আমাদের কেউ নেই এবং আমরা জনগণের কল্যাণে আমাদের সম্পত্তি দান করেছি।’
এক সময় বাংলাদেশের মানুষ দরিদ্র এবং স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত ছিল বলেও তিনি স্মরণ করে বলেন, আমরা দারিদ্র্যের হার কমাতে সক্ষম হয়েছি।
২৫০ শয্যার হাসপাতালটি কেপিজে হেলথকেয়ার বেরহাদ দ্বারা পরিচালিত হয়, যেটি মালয়েশিয়ার একটি বিখ্যাত বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা সংস্থা। কেপিজে হেলথকেয়ার বেরহাদের বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ২৯টি হাসপাতালের একটি চেইন রয়েছে।
বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে নামকরণ করা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট কর্তৃক গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠিত ২৫০ শয্যার বিশ্বমানের এই হাসপাতালটি ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মানুষের সেবা করে আসছে।
এটি বাংলাদেশে প্রথম ইন্টিগ্রেটেড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আইএমএস) প্রত্যায়িত হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজে পরিণত হয়েছে, যা রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা লাভের আস্থা সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ব্যুরো ভেরিটাস ২০১৭ সালে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে অবদানের জন্য এটিকে পুরস্কৃত করে।
বাংলাদেশ সংবাদপত্র প্রতিনিধি পরিষদ (বিএসপিপি)-এর আগামী মেয়াদের জন্য একটি শক্তিশালী কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি আয়োজিত সংগঠনের এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই নতুন নেতৃত্বের তালিকা চূড়ান্ত ও ঘোষণা করা হয়। ন
বগঠিত এই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ‘বাংলাদেশের খবর’-এর মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক পদের দায়িত্ব পেয়েছেন ‘মানবজমিন’-এর সেলিম রেজা। এছাড়া সহ-সভাপতি হিসেবে ‘দৈনিক আমাদের সময়’-এর কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ‘দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ’-এর আতিয়ার রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ‘দৈনিক করতোয়া’-এর মনসুর রহমান মনোনীত হয়েছেন।
সাংগঠনিক এই কাঠামোতে ‘দৈনিক আজকালের খবর’-এর মোঃ সাইদ হাসান খান হিসাব রক্ষক এবং ‘দৈনিক বাংলা’-এর মোঃ ইব্রাহীম হোসেন দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ‘দৈনিক ইত্তেফাক’-এর মোঃ বরকত উল্লাহ, ‘দৈনিক জনতা’-এর বিষ্ণু কুমার দাস, ‘দৈনিক পূর্বদেশ’-এর মোঃ নজরুল ইসলাম, ‘দৈনিক স্বদেশ সংবাদ’-এর মোঃ মফিজুর রহমান এবং ‘দৈনিক কালবেলা’-এর আবিদা সুলতানা। সংবাদপত্রের প্রতিনিধিদের এই নতুন পর্ষদ সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
গাজীপুরের সমন্বিত কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় নির্মিত দুটি আধুনিক এসি বাসের উদ্বোধন হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুটি অত্যাধুনিক এসি বাসের শুভ উদ্বোধন করা হয়। রাষ্ট্রীয় এই পরিবহন সংস্থার কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির অনন্য নজির হিসেবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়) জনাব শেখ মইনউদ্দিন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক।
বিআরটিসি চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল লতিফ মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব শেখ মইনউদ্দিন বিআরটিসির এই উদ্ভাবনী প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “বিআরটিসি’র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাস তৈরির সক্ষমতা আমাদের জন্য গর্বের ও অহঙ্কারের।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এটি কেবল দুটি নতুন বাসের উদ্বোধন নয়, বরং এটি সংস্থার স্বনির্ভরতার এক বলিষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের বহরের বাসগুলো যাতে এখানে সংযোজন করতে পারি- সেই সক্ষমতায় যেতে হবে। সক্ষমতা এতোটা বাড়াতে হবে যাতে বাইরের গাড়িও এখানে সংযোজন করা যায়।” বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এই অর্জনকে বিআরটিসির উত্তরোত্তর উন্নতির পথে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “বিআরটিসি'র নিজস্ব কারখানায় এই দুইটি এসি বাস তৈরি করা শুধু সূচনা মাত্র। আমরা যেন আমাদের মেধার সর্বোচ্চ উৎকর্ষ সাধন করি।”
সভাপতির বক্তব্যে বিআরটিসি চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল লতিফ মোল্লা সংস্থার সমন্বিত কাঠামো ও সেবার পরিধি ব্যাখ্যা করে বলেন, “বিআরটিসি কেবল একটি পরিবহন সংস্থা নয় এটি একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠান।” তিনি জানান যে, দীর্ঘদিন বহরে নতুন যানবাহন যুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ও অপব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে সংস্থার আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করা হয়েছে। বর্তমানে ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম (VTS) ব্যবহারের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সারা দেশের যানবাহন রিয়েল টাইম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চেয়ারম্যান আরও তথ্য প্রদান করেন যে, চলতি বছরের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩৪০টি অত্যাধুনিক বাস আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে নতুন ট্রাক ও কোস্টার বাস যুক্ত করার মাধ্যমে বিআরটিসি বহরকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিআরটিসির বিভিন্ন বিভাগের পরিচালকগণসহ সংস্থার মাঠ পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নতুন যুগের এই সূচনালগ্নকে স্বাগত জানান।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
শনিবার গাজীপুরে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন, যেখানে জায়ান্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরাও ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন। মহাপরিচালক তার বক্তব্যে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে সকল সদস্যকে অটল পাহাড়ের ন্যায় দৃঢ় অবস্থানে থেকে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম, ব্যালট বক্স ছিনতাই, জাল ভোট কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানান। তিনি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, “নির্বাচনী সুরক্ষা অ্যাপসহ আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করতে হবে, যাতে দ্রুত টহল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে।”
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর আধুনিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে মহাপরিচালক জানান যে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৩ জন সদস্যের মধ্যে দুইজন সদস্য সরাসরি অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন দাখিল করবেন এবং সদর দপ্তর পর্যন্ত একটি শক্তিশালী অবজারভার টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখবে। এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ফলে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচন প্রভাবিত করার সুযোগ থাকবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সদস্য নির্বাচনের মানদণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বিবেচনায় শারীরিকভাবে সুস্থ, প্রশিক্ষিত ও স্মার্ট সদস্যদেরই এবারের নির্বাচনী দায়িত্বে বাছাই করা হয়েছে।” তিনি আরও জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, “দেশ ও বাহিনীর পতাকাকে সমুন্নত রেখে রাষ্ট্রের অর্পিত এই পবিত্র দায়িত্ব এবং জনগণের আমানত সঠিকভাবে রক্ষা করাই সকল সদস্যের প্রধান কর্তব্য।”
মহাপরিচালক তার বক্তব্যে আনসার-ভিডিপিকে একটি বৃহৎ ও সম্ভাবনাময় স্বেচ্ছাসেবী শক্তি হিসেবে অভিহিত করেন যা জাতীয় প্রয়োজনে সদা প্রস্তুত থাকে। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, পেশাদারিত্ব ও সততার দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যরা আগামীতেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনআস্থা সুদৃঢ় করতে সক্ষম হবে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং বাহিনীর সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই প্রস্তুতিমূলক সমাবেশটি নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সংহত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় আনসার-ভিডিপির অপরিহার্য ভূমিকাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। মূলত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সদস্যদের দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা বলয় তৈরি করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের সুবিধার্থে অফিসের নতুন সময়সূচি চূড়ান্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রমজান মাসে সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সব সরকারি ও আধা-সরকারি অফিস চলবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, অফিস চলাকালীন দুপুর সোয়া ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ১৫ মিনিটের জন্য জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে।
প্রেস সচিব আরও জানান, সকল সরকারি দপ্তরের জন্য এই সময়সূচি অভিন্ন হলেও ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ডাক ও রেলওয়ের মতো জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব বিধিবিধান অনুযায়ী সময় নির্ধারণ করতে পারবে। এছাড়া দেশের উচ্চ আদালত তথা সুপ্রিম কোর্ট এবং অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো জনস্বার্থ বিবেচনায় রেখে নিজেদের কাজের ধরণ অনুযায়ী সুবিধামতো অফিস সূচি ঠিক করার এখতিয়ার রাখবে। মূলত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সিয়াম সাধনার বিষয়টি মাথায় রেখে এবং ইফতারের আগে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজতর করতেই প্রতি বছরের মতো এবারও কাজের সময় কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর পবিত্র রমজান মাস আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার একটি সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি বছর রমজান মাসে যানজট নিরসন এবং কর্মজীবীদের সময়মতো ইফতারে শরিক হওয়ার সুযোগ করে দিতে সরকার অফিস সময় কমিয়ে আনে। উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদিত এই নতুন সময়সূচি রমজানের প্রথম দিন থেকেই সারা দেশে কার্যকর হবে। এর ফলে সরকারি সেবাগ্রহীতারাও নির্ধারিত নতুন সময়সীমার মধ্যে তাদের প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হওয়া ৯ বছরের শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান না ফেরার দেশে চলে গেছে। আজ শনিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হার মানল এই নিষ্পাপ শিশুটি। হুজাইফার মামা মাহফুজুর রহমান অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন।
গত ১১ জানুয়ারি সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় নিজ বাড়ির আঙিনায় থাকাকালীন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া একটি গুলি এসে হুজাইফার মাথায় বিদ্ধ হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। সেখানে দীর্ঘ সময় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শিশুটি মারা যায়।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সরকারি জান্তা বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। মংডু টাউনশিপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলা এই যুদ্ধে জান্তা বাহিনী নিয়মিত বিমান হামলা, ড্রোন হামলা এবং মর্টার শেল নিক্ষেপ করছে, যার ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনপদগুলোতে। প্রায়শই ওপার থেকে ছোড়া মর্টার শেল ও গুলি এসে পড়ছে বাংলাদেশের সীমানায়, যা সাধারণ মানুষের জানমালের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশু হুজাইফার এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ও শোকের ছায়া ফেলে দিয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতির এমন অবনতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। এলাকাবাসী এই ধরণের প্রাণহানি রোধে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণসহ সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশে তিন বছরের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মোট বিদেশি ঋণ ৯২ শতাংশ বেড়ে ৯ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালের জুনে এই ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় অর্ধেক। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য।
কোভিড-পরবর্তী সময়ে বাজেটের জন্য অর্থ সংস্থান এবং টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়নই এর মূল কারণ। রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতা এবং বাজেট ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় সরকার প্রকল্প ঋণের চেয়ে বাজেট সহায়তা ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কারণ এই ঋণ দ্রুত পাওয়া যায়।
২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ ৯ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পেয়েছে। এর মধ্যে শুধু গত অর্থবছরেই (২০২৪-২৫) এসেছে ৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেট সহায়তা ঋণ আগের বছরের তুলনায় ৬৯ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে প্রকল্প ঋণ কমেছে ২৯ শতাংশেরও বেশি।
পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ার কারণেও ঋণের বোঝা বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সরকারের মোট ঋণ ১ শতাংশ বেড়ে ২১ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এতে জিডিপির তুলনায় ঋণের অনুপাত প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশে পৌঁছেছে। মোট ঋণের মধ্যে ১১ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া হয়েছে, বাকিটা বিদেশি ঋণ।
ঋণের বোঝা বাড়ার কারণে সরকারের সুদ পরিশোধের চাপও বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে সুদ বাবদ সরকারের ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেড়ে ৩১ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা হয়েছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধ ১৯ শতাংশ বাড়লেও বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ বেড়েছে ৮০ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধের ক্ষেত্রে ট্রেজারি সিকিউরিটিজ খাতে ব্যয় ২১ শতাংশ এবং জাতীয় সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে ১৬ শতাংশ বেড়েছে।
রাজধানীর শাহবাগে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক নতুন ও জরুরি বার্তা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে রাত ৯টা ১৩ মিনিটে তাদের দাপ্তরিক ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে জানানো হয় যে, চলমান আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা এবং আসন্ন নির্বাচন বানচালের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে এমন আশঙ্কায় সংগঠনটি তাদের কর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। পোস্টে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সতর্ক করে বলা হয়, ‘লীগ অ্যাক্টিভ হয়েছে। তারা সাধারণ জনতার সঙ্গে মিশে পরিস্থিতি অন্য দিকে প্রবাহের চেষ্টা করছে। শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে। আপনাদের সবাইকে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।’
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, সকল বাধা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পূর্বনির্ধারিত তারিখেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে, বিকেল ৫টা থেকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে এবং আন্দোলনরতদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করে ছাত্র-জনতা।
এই অবরোধের ফলে শাহবাগ ও এর চারপাশের রাস্তায় যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতাকে এসময় ‘ব্লকেড, ব্লকেড, শাহবাগ ব্লকেড’; ‘হাদি তোমায় দেখা যায়, ইনকিলাবের পতাকায়’; ‘কে বলেরে হাদি নাই, হাদি সারা বাংলায়’ এবং ‘এক হাদি লোকান্তরে, লক্ষ হাদি ঘরে ঘরে’ সহ বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত রাখতে দেখা যায়। মূলত পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কায় ইনকিলাব মঞ্চ এখন তাদের কৌশল পরিবর্তন করে সবাইকে নিরাপদ অবস্থানে ফেরার ডাক দিয়েছে।
শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার এবং এই ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবিতে আন্দোলনরত ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সঙ্গে রাজধানীর শাহবাগে পুলিশের নতুন করে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করলে একপর্যায়ে পুলিশ তাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এই ঘটনায় ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনিসহ সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে একই দিন বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে যাত্রার সময় ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়েও পুলিশের সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের বড় ধরনের সংঘাত হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয় যে, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে সংগঠনের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং রাকসুর জিএস আম্মারসহ অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সেই পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, “জাবের ভাই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। জুমা-শান্তাকে বুট দিয়ে পাড়ানো হয়েছে। আপাতত কোন জমায়েত করবেন না। আমরা আহতদের চিকিৎসা দিয়ে আবার রাজপথে আসব।”
রাজধানীর জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেশ কিছু দাবি-দাওয়া নিয়ে একাধিক গোষ্ঠী পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে যমুনার দিকে যাওয়ার এই প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে এক পর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এমন অবস্থায় পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তবে এই অভিযানে কোনো প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতি ও পরবর্তী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া নিয়ে মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান যে, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে কিছু অসাধু ব্যক্তি অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। তিনি পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, “সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং এতে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করা হয়নি।” পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান যে, দায়িত্ব পালনকালে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় কয়েকজন বিক্ষোভকারীও সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হন। কোনো ধরনের প্রোপাগান্ডায় কান না দিয়ে এবং ভিত্তিহীন অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে সর্বসাধারণকে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।
শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ইনকিলাব মঞ্চের আন্দোলনকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয় যে, বিক্ষোভকারীরা যমুনা ও সংলগ্ন নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করে একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে জনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সরকার দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছে যে, ‘এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি।’
এই সংঘাতের ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ মোট ২৩ জন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে সরকার নিশ্চিত করেছে যে, আহতদের কারো শরীরেই আগ্নেয়াস্ত্রের আঘাত পাওয়া যায়নি। সরকার পুনরায় পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচারে তারা সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ। এই লক্ষ্যে জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার বিষয়টি বর্তমানে আইনি পর্যালোচনায় রয়েছে এবং এ বিষয়ে আগামী রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়।’
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে সরকার সবাইকে চরম ধৈর্য ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ এবং বহু বিদেশি সংবাদকর্মী ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে দেশে অবস্থান করছেন। আসন্ন নির্বাচনকে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।’ একটি উৎসবমুখর, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের উসকানি বা বিচ্যুতি কাম্য নয় বলে সরকার মনে করে। দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষায় সব নাগরিকের দায়িত্বশীল ও সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি সফল নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব বলে সরকার বিশ্বাস পোষণ করে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে একটি অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে ব্যাপক ও সুসংগঠিত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। পেশাদারিত্বের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের লক্ষ্যে বাহিনীর প্রতিটি স্তরে এখন উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।
এই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বগুড়া জেলায় বাহিনীর এক বিশেষ প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বগুড়ায় সরাসরি উপস্থিতির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় রংপুর, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরাও এই আয়োজনে যুক্ত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। দেশের সার্বভৌমত্ব ও বাহিনীর সম্মান রক্ষায় সদস্যদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জাতীয় পতাকা ও বাহিনীর পতাকার মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতে হবে; পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই দেশের আমানত, জাতীয় পতাকা এবং বাহিনীর সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব।”
নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন মহলের বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারের বিষয়ে সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করে মহাপরিচালক জানান যে, সততা ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞাই হলো যেকোনো প্রোপাগান্ডার মোক্ষম জবাব। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, অতীতের অনিয়মকারী কুশীলবরা বর্তমানে তরুণদের স্বচ্ছ ডিজিটাল কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বৃথা চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে AVMIS ও STDMS সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করায় এবং আড়াই লক্ষ নবপ্রশিক্ষিত সদস্যের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার কারণে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। বিশেষ করে সদস্যদের ভাতা প্রদানে অটোমেশন ব্যবস্থা কার্যকর করার বিষয়টি জানিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সদস্যদের কল্যাণ ও মৌলিক অধিকার সংরক্ষণেও বাহিনী সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।”
সদস্যদের কল্যাণে আনসার-ভিডিপি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টকে শক্তিশালী করা এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মতো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথাও সভায় আলোচনা করা হয়। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিয়ে জনআস্থা বৃদ্ধি এবং জাতীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় আনসার বাহিনী অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। মহাপরিচালক প্রত্যাশা করেন যে, দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বাহিনীর সদস্যরা নিরপেক্ষতার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আগামীর গণতান্ত্রিক পথচলাকে আরও সুদৃঢ় করবেন।
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ইনকিলাব মঞ্চের দাপ্তরিক ফেসবুক পেজে এক বার্তার মাধ্যমে এই অনাকাঙ্ক্ষিত তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের লক্ষ্যে আন্দোলনকারীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মূলত বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা প্রদান করে। এ সময় উত্তেজিত আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ সক্রিয়ভাবে জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকেই ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা যমুনার প্রবেশমুখে অবস্থান নিয়ে কয়েক দফায় আলটিমেটাম প্রদান করেছিলেন এবং আজ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত এই কর্মসূচি ও উত্তেজনা অব্যাহত থাকতে দেখা যায়।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যার তদন্তে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়কে (ওএইচসিএইচআর) প্রস্তাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরকে প্রস্তাব দেওয়া হবে।
হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের চলমান আন্দোলনের মধ্যেই প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের অবহিত করেন। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার তদন্তের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাই কমিশনারের দপ্তরকে প্রস্তাব দেওয়া হবে। অন্তর্বর্তী সরকার এ মামলায় পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অটল রয়েছে এবং এ ধরনের যেকোনো তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে।”
প্রেস সচিব যখন এই ঘোষণা দিচ্ছিলেন, তখন হাদি হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সংগঠনের সদস্যরা যমুনার দিকে অগ্রসর হয়ে হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছিল অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ছয় দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে মারা যান। মূলত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার এখন এই মামলার আন্তর্জাতিক পর্যায়ের তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।