সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
২ চৈত্র ১৪৩২

মানুষের জন্য কাজ করুন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ৪ এপ্রিল, ২০২৪ ২১:২৪

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের সেবা করাকে একটি বড় কাজ হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরকে জনগণের সেবা করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এটি তাদের ভবিষ্যৎ ভোট নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। জনগণের সেবা যদি আপনারা নিশ্চিত করতে পারেন, ভবিষ্যতে আপনাদের ভোটের কোনো চিন্তা থাকবে না। মানুষই আপনাদের ওপর আস্থা রাখবে, বিশ্বাস রাখবে।’

প্রধানমন্ত্রী আজ তার কার্যালয়ের শাপলা হলে দুই সিটি করপোরেশন কুমিল্লা ও ময়মনসিংহের নবনির্বাচিত মেয়র এবং পাঁচ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধিদের জনকল্যাণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস কোনোভাবেই হারাবেন না। তাই তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সে অনুযায়ী মানুষের জন্য কাজ করুন।’

তার সরকার দেশের প্রতিটি এলাকার উন্নয়ন করেছে এবং তৃণমূলের মানুষকে ঘিরেই এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে কাজ করার এবং বর্তমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘ইতোমধ্যে দেশের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। যেটা আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন। এ পরিবর্তন ধরে রেখে আরও উন্নতি করতে জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা আপনাদের রক্ষা করতে হবে।’

‘জনগণকে উন্নত সেবা প্রদান, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলা তার সরকারের লক্ষ্য’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা ঘোষণা দিয়েছি ‘আমার গ্রাম, ‘আমার শহর।’ অর্থাৎ গ্রামের মানুষ সব নাগরিক সুবিধা পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদেরকে আন্তরিকতার সঙ্গে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর, তাদের সেবা করার এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’

দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিদের সজাগ থাকার নির্দেশনা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্নীতি, মাদক, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের পথ থেকে সবাই যেন দূরে থাকে, সেদিকে আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত প্রথম নারী মেয়র তাহসিন বাহার সুচনা এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র একরামুল হক টিটুকে শপথবাক্য পাঠ করান।

একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ- এই পাঁচ জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের শপথবাক্য পাঠ করান।

পাঁচটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা হলেন: কুড়িগ্রামের এ এন এম ওবায়দুর রহমান, ঠাকুরগাঁওয়ের আবদুল মজিদ, সিরাজগঞ্জের শামীম তালুকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিল্লাল মিয়া ও হবিগঞ্জের আলেয়া আক্তার।

পরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সাধারণ ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত ৪৪ জন কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলররাও একই স্থানে শপথ নেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম কাউন্সিলরদের শপথবাক্য পাঠ করান।

শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইব্রাহিম।

গত ৯ মার্চ সিটি করপোরেশনের উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের মেয়ে তাহসিন বাহার সুচনা। তিনিই কুমিল্লার প্রথম নির্বাচিত নারী মেয়র হলেন।

একই দিনে অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন একরামুল হক টিটু।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে। সবার আগে যেটা দরকার, তা হচ্ছে জনগণের ভোটের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা। একমাত্র আওয়ামী লীগ যখনই সরকার গঠন করেছে, তখনই এ দেশের মানুষ অন্ততপক্ষে এইটুকু পেয়েছে- সরকার জনগণের শোষক নয়, সেবক হিসেবেই কাজ করে। যার কারণে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে আমি অন্তত এইটুকু দাবি করতে পারি, বাংলাদেশ এখন বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। যার বয়স ১৫ বছর, সে হয়তো ভাবতেও পারবে না যে, ১৫ বছর আগে অর্থাৎ ২০০৯ সালের আগের বাংলাদেশ কী অবস্থায় ছিল? বাংলাদেশে সেখান থেকে অনেক পরিবর্তন এসেছে।

সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা পাঁচ গুণ বৃদ্ধি করেছি। সবচেয়ে বড় কথা দারিদ্র্যের হার আমরা পেয়েছিলাম ৪১ দশমিক ৫১ শতাংশ। সেখান থেকে কমিয়ে আমরা ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল, অন্তত আমরা ১৬ বা ১৭ শতাংশের নামিয়ে আনব। যেটা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা তা-ও করতে পারতাম, যদি কোভিড-১৯ এর মহামারি না দেখা দিত। আবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যদি না হতো, নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞা, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির কারণে প্রত্যেকটা খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে গেছে, জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, গ্যাসের দাম বেড়েছে, পরিবহন খরচ বেড়েছে। এগুলো যদি না হতো, আমরা কিন্তু আরও দ্রুত এগিয়ে যেতে পারতাম। আমাদের দারিদ্র্যের হার আরও কমাতে পারতাম।

অতি দরিদ্র প্রায় ২৫ ভাগের ওপরে ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেটা আমরা ৫ দশমিক ৬ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এত দ্রুত অতি দরিদ্রের হার কমানো, আমার মনে হয় বিশ্বের অন্য কোনো দেশ এটা পারেনি। আমরা লক্ষ্য স্থির করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছি বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, বাংলাদেশে কেউ আর ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না, অতি দরিদ্র বলে কেউ থাকবে না।

কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে তার সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখান থেকে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি ৩০ প্রকারের ওষুধ বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে।

কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে জনগণ যাতে সঠিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে, সেদিকে তিনি জনপ্রতিনিধিদের লক্ষ্য রাখতে বলেন।

পাশাপাশি তিনি বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার এবং প্রতি ইঞ্চি অনাবাদি জমিকে চাষের আওতায় আনার মাধ্যমে খাদ্যোৎপাদন বাড়াতে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার জন্যও জনপ্রতিপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সতর্কতার অংশ হিসেবে তিনি দেশের নদী-নালা, খাল-বিলসহ বিভিন্ন জলাশয় সংরক্ষণ করা এবং পানির প্রবাহকে অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন।

শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, তার সরকার স্থানীয় সরকার খাতে বাজেট বরাদ্দ ৮ গুণের বেশি বাড়িয়েছে। কারণ, বিএনপির শাসনামলে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৫,৭৯৯.৩৬ কোটি টাকা, যা বর্তমানে ৪৬,৭০৪ কোটি টাকা।

সরকারপ্রধান বলেন, প্রতিটি এলাকায় উন্নয়ন হয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থারও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।

‘কাজেই, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং কাজের মান বজায় রাখার জন্য আপনাদের কাজ করা উচিত,’ বলেন তিনি।


ঈদযাত্রায় জ্বালানি তেলের ভোগান্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদে ঘরমুখী মানুষের চাপ পুরোপুরি শুরু হয়নি। তাই রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে এখনো স্বাভাবিক রয়েছে বাস চলাচল। তবে তেলের জন্য ভোগান্তি এখনো শেষ হয়নি। দীর্ঘ সময় পাম্পে অপেক্ষা করার অভিযোগ করেছেন পরিবহনকর্মীরা।

সোমবার বিকেলেও মহাখালী বাস টার্মিনালে তেমন ভিড় নেই। এখনো ঈদের চাপ পড়েনি। কাউন্টার থেকে সহজেই টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। সড়কে যানজট না থাকায় বাস পেতেও সমস্যা হচ্ছে না।

এসি বাসের অপেক্ষায় থাকা এক যাত্রী বলেন, ‘আজকে ঝামেলা কম। আমি এসির জন্য চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু এখনো এসি বাস আসেনি। তাই নন-এসির টিকিট কাটলাম। আমার খুব বেশি সময় লাগেনি। আমি দুই-তিন মিনিট দাঁড়িয়েছিলাম। গাড়ি থাকলেই সিট পাওয়া যাচ্ছে।’

তবে জ্বালানি তেলের ভোগান্তি অসহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান পরিবহনকর্মীরা। বেতন-ভাতা নিয়েও অসন্তুষ্ট তাঁরা। এক বাসচালক বলেন, ‘আসার রাস্তা পুরোই যানজটমুক্ত ছিল। তবে বনানী থেকে মহাখালী আসতেই বেশি সময় লেগেছে। এটুকু রাস্তা এসেছি দুই ঘণ্টায়। রাস্তায় যতগুলো তেলের পাম্প আছে, সবাই বলছে তেল শেষ। আমরা যে ঈদের যাত্রীদের নিয়ে যাব, সেই সুযোগটা পাচ্ছি না।’

গাবতলীর চিত্রও প্রায় একই রকম। এই বাস টার্মিনালে কোনো অনিয়ম না পাওয়ার দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, ‘বিআরটিএ চার্টের বাইরে কোনো ভাড়া নেওয়া যাবে না। এই জিনিসটা আমরা সবার কাছে অনুরোধ করেছি। আমরা আশা করি, সবাই এটা মেনে চলবে। কাউকে জরিমানা করা বা জেলে পাঠানো আমাদের উদ্দেশ্য না।’

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, ‘ছোটখাটো কয়েকটি অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। আমরা কাউন্টারগুলোকে সতর্ক করছি। তারাও এটি প্রতিপালন করছে।’

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ও বাড়তি ভাড়া রোধে মঙ্গলবার থেকে নজরদারি বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


ঢাকা থেকে ১৭ দিনে মধ্যপ্রাচ্যগামী ৫২৮ ফ্লাইট বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় এসব দেশের গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনায় বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত মোট ৫২৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ ফেব্রুয়ারি বাতিল হয় ২৩টি ফ্লাইট। ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চ ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এ ছাড়া ৪ মার্চ ৩২টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি এবং ৭ মার্চ ২৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়। ৮ মার্চ ২৮টি, ৯ মার্চ ৩৩টি এবং ১০ মার্চ ৩২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এরপর ১১ মার্চ ২৭টি, ১২ মার্চ ২৮টি, ১৩ মার্চ ২৫টি, ১৪ মার্চ ২৬টি এবং ১৫ মার্চ ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

গত রোববার (১৫ মার্চ) রাত ১২টার পরও ফ্লাইট বাতিলের ধারা অব্যাহত রয়েছে। এদিন কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৮টি, গালফ এয়ারের ২টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের ২টি, জাজিরা এয়ারওয়েজের ৪টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৪টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সব মিলিয়ে এদিন বাতিল হয়েছে ২৮টি ফ্লাইট।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট পরিচালনা পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়া কঠিন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


দুই দেশের বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে কানেক্টিভিটি অব্যাহত থাকবে: প্রণয় ভার্মা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কানেক্টিভিটি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাত নিয়েও উপদেষ্টার সঙ্গে কথা হয়েছে।

গতকাল সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বরেছেন।

ক্রস-বর্ডার এনার্জি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি একটি বড় পরিসরের এবং চলমান আলোচনা। এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু জানানো সম্ভব নয়।

ভিসা প্রক্রিয়া কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ভারতের ভিসা চালুর বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে তা জানানো হবে।


মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল পরিদর্শন করলেন ডিএসসিসি প্রশাসক; বর্জ্য থেকে সম্পদ উৎপাদন ও ইকো-পার্ক নির্মাণের ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম আজ সোমবার দুপুরে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সেখানে স্থাপিত একটি নতুন কম্পোস্ট প্ল্যান্টের শুভ উদ্বোধন করেন। পরিদর্শনকালে তার সাথে সাবেক ডেপুটি মেয়র আলহাজ্ব নবীউল্লাহ নবীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে প্রশাসক উপস্থিত এলাকাবাসী ও গণমাধ্যম কর্মীদের জানান যে, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে একটি দৃষ্টিনন্দন ইকো-পার্ক ও খেলার মাঠে রূপান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ল্যান্ডফিল এলাকার চিরচেনা দুর্গন্ধ ও দূষণ দূর করে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একে নাগরিক বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত করা হবে।

বর্জ্য থেকে সম্পদ ও আধুনিক ব্যবস্থাপনাঃ

প্রশাসক উল্লেখ করেন যে, ল্যান্ডফিলে প্রতিদিন সংগৃহীত ৩২০০-৩৫০০ টন বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি কোরিয়ান বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ আগামী ঈদুল আযহার পর শুরু হবে। এর মাধ্যমে বর্জ্য ডাম্পিং করার পরিবর্তে তা প্রক্রিয়াকরণ করে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এছাড়া আজ উদ্বোধন হওয়া কম্পোস্ট প্ল্যান্টে প্রতিদিন ১০০ টন গৃহস্থালী পচনশীল বর্জ্য থেকে ২০ টন জৈব সার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি সফল হলে এর পরিসর আরও বৃদ্ধি করা হবে, যা গ্রিন হাউস গ্যাস কমাতে এবং সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

অগ্নিনির্বাপণ ও পরিবেশ সুরক্ষাঃ

ল্যান্ডফিলে প্রায়ই ঘটা অগ্নিকাণ্ড রোধে ১৮১ একর জায়গাজুড়ে ৪০টি পয়েন্টে পানির হাইড্রেন্ট স্থাপন এবং পানির লাইনসহ স্থায়ী জলাধার নির্মাণের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে আগুন নেভানোর জন্য নতুন ৬টি পোর্টেবল পাম্প কেনা হয়েছে। প্রশাসক জানান, ময়লার স্তূপ থেকে উৎপন্ন মিথেন গ্যাসের কারণেই মূলত এখানে আগুন লাগে। বর্তমানে ময়লার উপরে মাটির আচ্ছাদন দেওয়ার কাজ প্রায় ৪০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে, যা দুর্গন্ধ ও অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

জনগণের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রশাসক বলেন, "মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকাকে 'ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি' হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। খুব দ্রুতই এই এলাকা একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে রূপান্তরিত করার কাজ শুরু হবে।"


উত্তরায় শপিংমলে ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরায় এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার গুজব ছড়িয়ে বিপণিবিতানে ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত রোববার রাত ১১টার দিকে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ সড়কে অবস্থিত স্কয়ার শপিং মলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কথা–কাটাকাটির জেরে ওই বিপণিবিতানের নিরাপত্তাকর্মীরা এক রিকশাচালককে ভেতরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছেন এমন গুজব ছড়িয়ে রিকশাচালকেরা এ ভাঙচুর চালান। এমনকি তারা বিপণিবিতানের সামনের সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক দফা চেষ্টা চালায়। পরে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে যান।

রাতেই সেখানে যান ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে রিকশাচালকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। গতকাল সকালেও ঘটনাস্থলে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মো. রফিক আহমেদ বলেন, একটি বিপণিবিতানের সামনে রিকশা দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাকর্মী ও রিকশাচালকদের মধ্যে গত সোমবার রাতে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, একজন রিকশাচালকের সঙ্গে বিপণিবিতানের নিরাপত্তাকর্মীদের কথা–কাটাকাটি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে ওই রিকশাচালক চলে যান।

ওসি বলেন, পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছে। বিপণিবিতানের মালিকেরা আরেকটি মামলা করবেন। এখনো সেখানে পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।

ক্ষুব্ধ রিকশাচালকদের অভিযোগ, বিপণিবিতানের নিরাপত্তাকর্মীরা ভেতরে এক রিকশাচালককে আটকে রেখে পিটিয়ে হত্যা করেছেন। তবে ওই রিকশাচালকের পরিচয় কেউ নিশ্চিত করে জানাতে পারেননি।


ভারতের আধার কার্ডের অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে চালু হতে পারে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নাগরিকদের সব ধরনের তথ্য ও সুযোগকে একটি কার্ডের মাধ্যমে নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

সোমবার (১৬ মার্চ) ঢাকা নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে উন্নয়ন ও বিনিয়োগ নিয়ে কথা বলার পর তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ভারতের আধার কার্ডের অভিজ্ঞতা নিয়ে, দেশেও ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ চালুর বিষয়ে চিন্তা করছে সরকার।

এছাড়া ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগ ও ব্যবসা বাড়াতেও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, চীন ও ভারতের সঙ্গে ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের সংস্কৃতি চালু করতে চাই। ঋণ নয়, এখন থেকে বিনিয়োগে জোর দেবে সরকার।

জ্বালানি বিষয়ে হওয়া চুক্তি বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতের সরকার জ্বালানি বিষয়ে যেসব চুক্তি করেছিল সেগুলো অসম চুক্তি ছিল। ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানি বিষয়ে কী ধরনের চুক্তি করলে সেটি লাভজনক হয়, এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

আগের সরকারের চুক্তিগুলোর পুনরাবৃত্তি না করে, বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষিত হয় এমনভাবেই চুক্তি করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।


ঈদের পর আসছে আইএমএফের প্রতিনিধিদল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে ঈদের পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসছে। জানা গেছে, আগামী ২৪ বা ২৫ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের বৈঠক হতে পারে।

আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।

প্রতিনিধিদলের ঢাকায় আসার আগে রোববার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করেন সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি ম্যাক্সিম ক্রিশকো। এর আগে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গেও সৌজন্য বৈঠক করেন।

আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঋণ কর্মসূচির আকার বেড়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়।

সংস্থাটি থেকে এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ ঋণসহায়তা পেয়েছে ৩৬৪ কোটি ডলার। ডিসেম্বরে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ পাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি।


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে লাগবে স্নাতক পাস: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি বা চেয়ারম্যান হতে হলে স্নাতক পাস হতে হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার (১৬ মার্চ) সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ডিগ্রি কলেজ ছাড়া ইন্টারমিডিয়েট কলেজ, প্রাইমারি স্কুলসহ সব স্কুল মাদরাসায় ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতিকে স্নাতক পাস হতে হবে।’

লটারিতে ভর্তির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সামনের বছর থেকে ভর্তিতে লটারি তুলে দেয়া হলো। খুবই সাধারণ উপায়ে পরীক্ষা হবে। কোনো প্রতিযোগিতা থাকবে না। লটারি কোনো শিক্ষাব্যবস্থায় থাকতে পারে না। বহুদিন ধরে গবেষণা করে এ সিদ্ধান্ত। অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে, সামনেও আলোচনা করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে লটারি অনেকটা জুয়া খেলা, ভর্তিতে লটারি কোনো ব্যবস্থা হতে পারে না। ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কেউ কোচিং বাণিজ্য করতে চাইলে সরকার বসে থাকবে না। সরকার ইনহাউজ কোচিংয়ের ব্যবস্থা করবে।


প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে দিন-রাত কাজ করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে দিন-রাত কাজ করবে সরকার, তাই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের সার্কিট হাউস মাঠে সুধীসমাজের সম্মানে ইফতারে অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গেল ১৭ বছরের ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশ গঠনে সময়ের প্রয়োজন। সমস্যা সমাধানে সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে, সোমবার দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরে ‘সাহাপাড়া খাল’ খননের মাধ্যমে ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধন শেষে তিনি খালের পাড়ে একটি বৃক্ষ রোপণ করেন।

উদ্বোধন শেষে এক জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আমরা এমন একটা দল করি, যে দলের কাজ হচ্ছে মানুষের উপকার করা। সেই কাজ করা, যেগুলো করলে মানুষের উপকার হবে। তাই আজকে আমরা এখানে এসেছি। সাহাপাড়ায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাহাপাড়ায় খাল খনন শেষ হলে এ এলাকার ৩১ হাজার কৃষক পানি পাবে এবং ১২শ হেক্টর জমি সেচের সুবিধা হবে। প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ সরাসরি এই খাল থেকে সুবিধা পাবে।

তিনি বলেন, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার নীতি গ্রহণ করছে। বন্যা ও খরাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায়ও সরকার কাজ করছে। মৌলিক খাদ্য উৎপাদনে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে খাল খননের পাশাপাশি ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে।

কৃষকদের জন্য আগামী মাস থেকেই চালু করা হবে কৃষক কার্ড উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মতো বর্তমান সরকারও কৃষকবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে। উত্তরাঞ্চল কৃষিনির্ভর হওয়ায় এ অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হবে। এ বিষয়ে ঈদের পর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচির বাস্তবায়ন কাজ শুরু হলো। সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে দেশের ৫৪টি জেলায় এ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।


স্কুলে ভর্তিতে লটারি বাতিল করা হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্কুল ভর্তিতে লটারি চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৭ সাল থেকে স্কুলে ভর্তির বিদ্যমান লটারি প্রথা থাকবে না। বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীরা চায়, সে অনুযায়ী হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে লটারি অনেকটা জুয়া খেলা, ভর্তিতে লটারি কোনো ব্যবস্থা হতে পারে না। ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে কেউ কোচিং বাণিজ্য করতে চাইলে সরকার বসে থাকবে না। সরকার ইনহাউস কোচিংয়ের ব্যবস্থা করবে।

উল্লেখ্য, প্রথমে শুধু প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারির পদ্ধতি চালু করা হয়। ২০১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোয় (যেসব বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি রয়েছে) প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। পরের বছর বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই পদ্ধতি চালু হয়। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি তখনো পরীক্ষার মাধ্যমেই হতো।


৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক রইস উদ্দিন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিদ্দিকুর রহমান খান, ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক নুরুল ইসলাম এবং খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাসুদ ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক মো. আল ফোরকান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য ওবায়দুল ইসলাম, ইউজিসির চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং উচ্চশিক্ষার তদারকি সংস্থা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) শীর্ষ পদে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) বর্তমান উপাচার্য ও ঢাবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। অন্যদিকে, ইউজিসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ।

আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য জানান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রশাসনিক গতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নতুন দায়িত্বে আনা হয়েছে। অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে দীর্ঘকাল শিক্ষকতা করার পাশাপাশি বর্তমানে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর এই প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা দেশের প্রাচীনতম এই বিদ্যাপীঠের শিক্ষা ও প্রশাসনিক পরিবেশ পুনর্গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ইউজিসির শীর্ষ পদে অধ্যাপক মামুন আহমেদের নিয়োগ উচ্চশিক্ষা খাতের তদারকি ও সমন্বয় সাধনে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

এই নিয়োগের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে পূর্ববর্তী শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের মাধ্যমে। ইউজিসির বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করে আজ সোমবারই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। অন্যদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ থেকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি অব্যাহতি চেয়েছিলেন অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান। তিনি তাঁর মূল কর্মস্থল অর্থাৎ উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের গ্রেড-১ অধ্যাপক হিসেবে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন। মূলত ১০ ফেব্রুয়ারি এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের ধারাবাহিকতায় তিনি পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত নেন।


ঢাকা–১৭ আসনে তারেক রহমানের প্রতিনিধি হলেন আবদুর রহমান সানী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসনের জনগণের দৈনন্দিন কার্যক্রমের সুবিধার্থে ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আবদুর রহমান সানী। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রে ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিনিধি নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন তারেক রহমান। পরে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দিয়ে ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি।

আজ প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব স্বাক্ষরিত পত্রে বলা হয়, ‘ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য তারেক রহমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় আসনের (ঢাকা-১৭) জনগণের দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পাদনের সুবিধার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ আবদুর রহমান সানীকে এই আসনের প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া হলো।’


banner close