শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
১৮ মাঘ ১৪৩২

মানুষের জন্য কাজ করুন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ৪ এপ্রিল, ২০২৪ ২১:২৪

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের সেবা করাকে একটি বড় কাজ হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরকে জনগণের সেবা করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এটি তাদের ভবিষ্যৎ ভোট নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। জনগণের সেবা যদি আপনারা নিশ্চিত করতে পারেন, ভবিষ্যতে আপনাদের ভোটের কোনো চিন্তা থাকবে না। মানুষই আপনাদের ওপর আস্থা রাখবে, বিশ্বাস রাখবে।’

প্রধানমন্ত্রী আজ তার কার্যালয়ের শাপলা হলে দুই সিটি করপোরেশন কুমিল্লা ও ময়মনসিংহের নবনির্বাচিত মেয়র এবং পাঁচ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধিদের জনকল্যাণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস কোনোভাবেই হারাবেন না। তাই তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সে অনুযায়ী মানুষের জন্য কাজ করুন।’

তার সরকার দেশের প্রতিটি এলাকার উন্নয়ন করেছে এবং তৃণমূলের মানুষকে ঘিরেই এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে কাজ করার এবং বর্তমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘ইতোমধ্যে দেশের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। যেটা আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন। এ পরিবর্তন ধরে রেখে আরও উন্নতি করতে জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা আপনাদের রক্ষা করতে হবে।’

‘জনগণকে উন্নত সেবা প্রদান, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলা তার সরকারের লক্ষ্য’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা ঘোষণা দিয়েছি ‘আমার গ্রাম, ‘আমার শহর।’ অর্থাৎ গ্রামের মানুষ সব নাগরিক সুবিধা পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদেরকে আন্তরিকতার সঙ্গে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর, তাদের সেবা করার এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’

দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিদের সজাগ থাকার নির্দেশনা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্নীতি, মাদক, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের পথ থেকে সবাই যেন দূরে থাকে, সেদিকে আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত প্রথম নারী মেয়র তাহসিন বাহার সুচনা এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র একরামুল হক টিটুকে শপথবাক্য পাঠ করান।

একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ- এই পাঁচ জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের শপথবাক্য পাঠ করান।

পাঁচটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা হলেন: কুড়িগ্রামের এ এন এম ওবায়দুর রহমান, ঠাকুরগাঁওয়ের আবদুল মজিদ, সিরাজগঞ্জের শামীম তালুকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিল্লাল মিয়া ও হবিগঞ্জের আলেয়া আক্তার।

পরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সাধারণ ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত ৪৪ জন কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলররাও একই স্থানে শপথ নেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম কাউন্সিলরদের শপথবাক্য পাঠ করান।

শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইব্রাহিম।

গত ৯ মার্চ সিটি করপোরেশনের উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের মেয়ে তাহসিন বাহার সুচনা। তিনিই কুমিল্লার প্রথম নির্বাচিত নারী মেয়র হলেন।

একই দিনে অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন একরামুল হক টিটু।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে। সবার আগে যেটা দরকার, তা হচ্ছে জনগণের ভোটের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা। একমাত্র আওয়ামী লীগ যখনই সরকার গঠন করেছে, তখনই এ দেশের মানুষ অন্ততপক্ষে এইটুকু পেয়েছে- সরকার জনগণের শোষক নয়, সেবক হিসেবেই কাজ করে। যার কারণে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে আমি অন্তত এইটুকু দাবি করতে পারি, বাংলাদেশ এখন বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। যার বয়স ১৫ বছর, সে হয়তো ভাবতেও পারবে না যে, ১৫ বছর আগে অর্থাৎ ২০০৯ সালের আগের বাংলাদেশ কী অবস্থায় ছিল? বাংলাদেশে সেখান থেকে অনেক পরিবর্তন এসেছে।

সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা পাঁচ গুণ বৃদ্ধি করেছি। সবচেয়ে বড় কথা দারিদ্র্যের হার আমরা পেয়েছিলাম ৪১ দশমিক ৫১ শতাংশ। সেখান থেকে কমিয়ে আমরা ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল, অন্তত আমরা ১৬ বা ১৭ শতাংশের নামিয়ে আনব। যেটা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা তা-ও করতে পারতাম, যদি কোভিড-১৯ এর মহামারি না দেখা দিত। আবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যদি না হতো, নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞা, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির কারণে প্রত্যেকটা খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে গেছে, জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, গ্যাসের দাম বেড়েছে, পরিবহন খরচ বেড়েছে। এগুলো যদি না হতো, আমরা কিন্তু আরও দ্রুত এগিয়ে যেতে পারতাম। আমাদের দারিদ্র্যের হার আরও কমাতে পারতাম।

অতি দরিদ্র প্রায় ২৫ ভাগের ওপরে ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেটা আমরা ৫ দশমিক ৬ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এত দ্রুত অতি দরিদ্রের হার কমানো, আমার মনে হয় বিশ্বের অন্য কোনো দেশ এটা পারেনি। আমরা লক্ষ্য স্থির করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছি বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, বাংলাদেশে কেউ আর ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না, অতি দরিদ্র বলে কেউ থাকবে না।

কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে তার সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখান থেকে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি ৩০ প্রকারের ওষুধ বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে।

কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে জনগণ যাতে সঠিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে, সেদিকে তিনি জনপ্রতিনিধিদের লক্ষ্য রাখতে বলেন।

পাশাপাশি তিনি বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার এবং প্রতি ইঞ্চি অনাবাদি জমিকে চাষের আওতায় আনার মাধ্যমে খাদ্যোৎপাদন বাড়াতে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার জন্যও জনপ্রতিপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সতর্কতার অংশ হিসেবে তিনি দেশের নদী-নালা, খাল-বিলসহ বিভিন্ন জলাশয় সংরক্ষণ করা এবং পানির প্রবাহকে অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন।

শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, তার সরকার স্থানীয় সরকার খাতে বাজেট বরাদ্দ ৮ গুণের বেশি বাড়িয়েছে। কারণ, বিএনপির শাসনামলে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৫,৭৯৯.৩৬ কোটি টাকা, যা বর্তমানে ৪৬,৭০৪ কোটি টাকা।

সরকারপ্রধান বলেন, প্রতিটি এলাকায় উন্নয়ন হয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থারও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।

‘কাজেই, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং কাজের মান বজায় রাখার জন্য আপনাদের কাজ করা উচিত,’ বলেন তিনি।


এক মাস পর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে উৎপাদন শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে (৬৬০ মেগাওয়াট) আবারও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে।

পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহকারী ব্যবস্থাপক (তদন্ত) শাহ মনি জিকো গতকাল শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর শুক্রবার বিকেল থেকে প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় চালু করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ১ জানুয়ারি থেকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রথম ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। বর্তমানে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকেই পূর্ণ সক্ষমতায় মোট ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।


বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের চিঠি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দুইজন মার্কিন সিনিয়র কংগ্রেসম্যান জো উইলসন ও নাইল পাও বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ হওয়া নিশ্চিত করতে মার্কিন ককাসের ডেপুটি প্রধান মার্ক রুবিওকে চিঠি দিয়েছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছেন।

গত মঙ্গলবার লিখিত এ চিঠিতে তারা বলেন, এ নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিঠিতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ভোটাররা ব্যালটের মাধ্যমে নিজেদের মত প্রকাশ এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পাবেন। অন্তর্বর্তী সরকারের নেয়া সংস্কারের ধারাবাহিকতায় এই নির্বাচন একটি ইতিবাচক অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

কংগ্রেস সদস্যরা পররাষ্ট্র দপ্তরকে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার অনুরোধ জানান। চিঠিতে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানের প্রথমবার ভোট হতে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে এক হাজার চারশর বেশি মানুষ নিহত হন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ২০১৮ ও ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না-বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ নাজুক অবস্থা ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কংগ্রেস সদস্যরা। তাদের মতে, এই প্রেক্ষাপট লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের এক নেতার হত্যাকাণ্ড এবং এক শ্রমিককে জনতার হাতে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাও তারা উল্লেখ করেন।

চিঠিতে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচন সহিংসতা ও প্রতিশোধের চক্র থেকে বেরিয়ে আসার একটি বড় সুযোগ। আইনের শাসন ও মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সরকার গঠনের পথ সুগম করতে এ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনে তা সহায়ক হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে সম্পর্কে কংগ্রেস সদস্যদের দপ্তরগুলোকে অবহিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে। পাশাপাশি ১২ ফেব্রুয়ারির আগেই এ বিষয়ে একটি ব্রিফিং দেয়ারও অনুরোধ করা হয়েছে।


রেলে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে যাত্রীসাধারণ, ট্রেন ও রেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

শনিবার রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাতেমা তুজ জোহরা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল নাশকতা কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে গণপরিবহন হিসেবে রেলকে লক্ষ্য করে নাশকতামূলক কার্যক্রমের আশঙ্কা রয়েছে।

এ কারণে রেলের যাত্রীসাধারণ, ট্রেন ও রেল অবকাঠামোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ, তা বাস্তবায়ন এবং অগ্রগতি প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের নাশকতা, কিংবা রেল যাত্রী, ট্রেন ও রেল অবকাঠামোর ক্ষতিসাধনের চেষ্টা চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ রেলস্টেশনে দায়িত্বরত কর্মচারী, সংশ্লিষ্ট গেটকিপার অথবা রেল পুলিশকে অবহিত করার জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের হটলাইন ১৩১ নম্বরে কল করেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা যাবে বলে অফিস আদেশে জানানো হয়েছে।


এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বকেয়া উৎসবভাতা পরিশোধে মাউশির জরুরি নির্দেশনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) শনিবার স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বকেয়া উৎসবভাতা ও বেতন সংক্রান্ত এক জরুরি নির্দেশনা প্রদান করেছে। অধিদপ্তরের ইএমআইএস সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর তথ্যের ত্রুটিজনিত কারণে যেসব শিক্ষকের ঈদ বা নববর্ষের উৎসবভাতা বকেয়া রয়ে গিয়েছিল, তাদের বিল সাবমিটের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ইএফটি বিল সাবমিট অপশন ব্যবহার করে বকেয়া ভাতার আবেদন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ইএফটি প্রক্রিয়ায় জটিলতার ফলে যদি কোনো শিক্ষকের এক বা একাধিক মাসের নিয়মিত বেতনও বকেয়া থেকে থাকে, তবে তাদের ক্ষেত্রেও মাসভিত্তিক বকেয়া বিল দাখিল করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইএমআইএস সেলের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, তথ্যের সঠিকতা যাচাই সাপেক্ষে দ্রুত এই পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।


সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা যাকাত দেয় না তাদের ঈমান নেই: ধর্ম উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে শনিবার (৩১ জানুয়ারি) আয়োজিত ১৪তম যাকাত ফেয়ারে ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন দেশের আর্থ-সামাজিক সংকট উত্তরণে যাকাত ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি দেশের এক শ্রেণির মানুষের যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, যাকাত ব্যবস্থার সঠিক প্রয়োগ থাকলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।

সামাজিক এই দুঃখজনক বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমাদের দেশে যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে নেওয়া একটি দুঃখজনক বিষয়। যাকাত যদি সঠিকভাবে আদায় করা হতো তাহলে এই পেশা তাঁদের বেছে নিতে হতো না বা এ ধরনের সমস্যাও হতো না।’ উপদেষ্টা আরও জানান যে, ইসলামে এক হাজার বছর ধরে যাকাত রাষ্ট্রীয়ভাবে আদায়ের বিধান থাকলেও ব্রিটিশ ও মুঘল আমলে তা ব্যক্তি পর্যায়ে চলে আসায় এর কার্যকারিতা ও গুরুত্ব বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যাকাত পরিচালনার ক্ষেত্রে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট-এর ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘যাকাতকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট-এর অবদান অনেক। ইসলামে এক হাজার বছর ধরে যাকাত রাষ্ট্রীয়ভাবে আদায় করা হতো। ব্রিটিশ এবং মুঘল আমলে এসে সেটা ব্যক্তি পর্যায়ে পরিণত হয়। এতে যাকাতের গুরুত্ব অনেক কমে যায়।’

যাকাত প্রদানকে নিছক করুণা নয় বরং ধর্মীয় অলঙ্ঘনীয় বিধান হিসেবে উল্লেখ করে খালিদ হোসেন বিত্তবানদের দায়িত্বহীনতার সমালোচনা করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, ‘সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা যাকাত দেয় না তাদের ঈমান নেই। আমাদের দেশে অনেক ধনী সঠিকভাবে যাকাত দেন না। যাকাত কোনো ধরনের দান-দক্ষিণা নয় বরং এটা গরিবের হক। এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় আমাদের সমাজে উপেক্ষিত হচ্ছে। সুতরাং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।’ উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বর্তমান বিশ্বের সামগ্রিক দার্শনিক সংকট ও যাকাতের বৈশ্বিক গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন।

বিশ্বের বিদ্যমান সংকট নিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকের পৃথিবীতে আমরা গভীর এক দার্শনিক সংকটে পড়েছি। এই সংকট বিশ্বব্যাপী। এর তিনটি দিক আছে। প্রথমত- আমরা কোথায় যেতে চাই। এটা নিয়ে চিন্তার আরও প্রয়োজন রয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত- গন্তব্যে যাওয়ার পথ নিয়েও সংকট রয়ে গেছে। এই বিষয়টাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই পথটা সঠিক না হলে সবকিছুই বৃথা যায়। তৃতীয় দার্শনিক সংকটের আরেকটা বিষয় হচ্ছে ইনস্ট্রুমেন্ট। জাতিসংঘও এই গন্তব্য নিয়ে গভীর সংকটে আছে।’

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান যাকাতকে কেবল আর্থিক লেনদেন হিসেবে না দেখে একে একটি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, যাকাত প্রদানের পরবর্তী তদারকিও দাতার দায়িত্বের অংশ। সিজেডএম-এর উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘সিজেডএম (সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট) যে উদ্যোগ নিয়েছে এটার একটা বৈশ্বিক গুরুত্ব আছে। যাকাতের যে বিষয়টো আজ সামনে এসেছে এটার একটি আর্থিক দিক আছে। অবশ্যই এটা আরও সঠিকভাবে দেওয়া দরকার। আমার কাছে যাকাত একই সঙ্গে আর্থিক দায়িত্বের সঙ্গে নৈতিক দায়িত্ব হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে- যাকাত দিয়েই আমার দায়িত্ব শেষ নয়। কারণ এই অর্থ কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে সেটা তদারকি করাও প্রয়োজন।’

সর্বশেষে তিনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে উল্লেখ করেন যে, ‘সুতরাং যাকাত দেওয়ার শুরু থেকে অর্থ ব্যবহারের সবকিছুই দায়িত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।’


দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হচ্ছে সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ, জীবিকা সংকটে ব্যবসায়ীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিবেশগত ঝুঁকি হ্রাসে সরকারি সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে দীর্ঘ সময়ের জন্য পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ হতে যাচ্ছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) চলতি মৌসুমের শেষ দিন হিসেবে পর্যটকরা সেখানে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে পরবর্তী টানা নয় মাসের জন্য দ্বীপটিতে পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থাকবে। প্রতিবছর সাধারণত ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত পর্যটন মৌসুম চললেও বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এবার সময়সীমা কমিয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, শনিবারই শেষবারের মতো পর্যটকবাহী জাহাজগুলো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং রোববার থেকে কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি থাকবে না। তিনি আরও জানান, সরকার পরবর্তী সময় সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার ফলে দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সেন্টমার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান অনেক ব্যবসায়ীর বিনিয়োগকৃত অর্থ তুলে আনতে না পারা এবং লোকসানের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন। দ্বীপের মানুষের জীবন-জীবিকা পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জনদুর্ভোগের আশঙ্কা ব্যক্ত করে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দ্বীপের অধিকাংশ মানুষই পর্যটননির্ভর। হঠাৎ করে দীর্ঘ সময়ের জন্য ভ্রমণ বন্ধ হওয়ায় সবাই হতাশ।’


আমরা সবার সাধ্যমতো চেষ্টায় একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে চাই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শনিবার সকালে ভোলা জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে বলেন, ‘নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রের সীমানার মধ্যে কোনো ধরনের জটলা সহ্য করা হবে না।’ তিনি নির্বাচনের উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপস্থিত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যে, ‘ভোট হবে উৎসবমুখর। কোনটা ভোটের উৎসব আর কোনটা ভোট ঠেকানোর জটলা—তা আপনাদের বুঝতে হবে। তা বুঝেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।’

নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিবান্ধব করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে ইসি বলেন, ‘নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য ভোটকেন্দ্রে শতভাগ সিসি ক্যামেরায় আওতায় আনার চেষ্টা করতে হবে। এতে করে ভোটকেন্দ্র নিরাপদ থাকবে। কেন্দ্রে কেউ অসৎ কাজ করার সুযোগ পাবে না।’ জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা সবার সাধ্যমতো চেষ্টায় একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে চাই।’ এছাড়া তিনি নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব পালনকারী সকল সংস্থাকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।


উপদেষ্টা পরিষদের সভা: যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ ১১ গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব অনুমোদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধসহ ১১টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিগত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে তাঁর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বৈঠকের অন্যতম প্রধান সিদ্ধান্ত হিসেবে ‘কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬’-এর খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই অধ্যাদেশটি বাস্তবায়িত হলে নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় এক নতুন আইনি কাঠামোর সৃষ্টি হবে। একই সভায় পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশের খসড়াও নীতিগত অনুমোদন পায়। এ ছাড়া ক্রীড়াঙ্গনে শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অধ্যাদেশ-২০২৬’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ খাতের সুরক্ষা ও মান নিয়ন্ত্রণে ‘বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণীজাত পণ্য সংঘনিরোধ অধ্যাদেশ-২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়।

কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের ক্ষেত্রেও বৈঠকে বেশ কিছু সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জাতিসংঘের ‘নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তিবিরোধী কনভেনশন’-এর ৭০(১) ধারার আওতায় বাংলাদেশ কর্তৃক অতীতে দেওয়া ঘোষণা প্রত্যাহারের প্রস্তাব। এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ডে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিকে আরও দৃঢ় করবে। এ ছাড়া ক্যারিবীয় দেশ গায়ানায় বাংলাদেশের একটি নতুন কূটনৈতিক মিশন খোলার সিদ্ধান্ত এবং নেদারল্যান্ডসের হেগভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ড অ্যাবডাকশন-১৯৮০’ কনভেনশনে বাংলাদেশের পক্ষভুক্ত হওয়ার প্রস্তাবও বৈঠকে অনুমোদিত হয়।

অর্থনৈতিক ও নগর উন্নয়নের দিকে নজর রেখে উপদেষ্টা পরিষদ ২০২৫-২৮ সময়কালের জন্য ‘আমদানি নীতি আদেশ’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে। আঞ্চলিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের লক্ষ্যে পৃথক দুটি অধ্যাদেশের খসড়াও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবছর ২৩ মার্চকে জাতীয়ভাবে ‘বিএনসিসি ডে’ হিসেবে উদযাপনের প্রস্তাবটিও সরকার অনুমোদন করেছে। উপদেষ্টা পরিষদের এসব সিদ্ধান্ত দেশের মানবাধিকার রক্ষা, প্রশাসনিক সংস্কার, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং নারীদের সুরক্ষায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বৈঠক শেষে জানানো হয়, গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত অধ্যাদেশ ও প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।


আরও ১২ জন ‘জুলাই যোদ্ধা’র গেজেট বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অসামান্য অবদান রাখা ছাত্র-জনতার তালিকায় অনিয়ম রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে গেজেটভুক্ত আরও ১২ জনের নাম তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই ব্যক্তিরা ভুল ও অসত্য তথ্য প্রদানের মাধ্যমে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যা অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে ধরা পড়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করার পর তা সরকারি গেজেট আকারেও প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় যে, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর ১১(৪) ধারা এবং ‘রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬’-এর শিডিউল-১ অনুযায়ী প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে এই ১২ জনের গেজেট বাতিল করা হয়েছে। তারা সবাই জুলাই যোদ্ধাদের ‘গ’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। মূলত গেজেটভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তথ্যের অসঙ্গতি পাওয়ায় সরকার এই কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মন্ত্রণালয় এই বার্তাই দিতে চেয়েছে যে, জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত ইতিহাস ও যোদ্ধাদের সম্মানের প্রশ্নে কোনো প্রকার জালিয়াতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।

বাতিল হওয়া এই ১২ জনের মধ্যে রংপুর বিভাগের দিনাজপুর জেলার পাঁচজন এবং চট্টগ্রাম বিভাগের চাঁদপুর জেলার সাতজন রয়েছেন। দিনাজপুরের যারা এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন তারা হলেন তাসফিয়াহ রিফা, মো. আসাদুজ্জামান নূর, মো. সুরুজ মিয়া, মোছা. কহিনুর এবং মোছা. সখিনা। অন্যদিকে, চাঁদপুরের বাতিল হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মো. কামরুল হাসান রাব্বি, মো. রায়হান, মো. ইউছুব আলী, নাহিদুল ইসলাম রাতুল, শাহজালাল এবং মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। প্রজ্ঞাপনে প্রত্যেকের গেজেট নম্বর, মেডিকেল কেস আইডি এবং স্থায়ী ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, এটিই জুলাই যোদ্ধাদের তালিকা থেকে নাম বাতিলের প্রথম ঘটনা নয়। এর আগেও গত বছরের ২৯ অক্টোবর একইভাবে মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং একই নাম দুইবার অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে ১২৮ জন জুলাই যোদ্ধার গেজেট বাতিল করেছিল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত শহীদ ও যোদ্ধাদের একটি নির্ভুল ও স্বচ্ছ তালিকা তৈরির লক্ষ্যে এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। মূলত প্রকৃত যোদ্ধাদের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষার্থেই এই ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকৃত যোদ্ধাদের সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় প্রত্যয় প্রতিফলিত হয়েছে।


নির্বাচনে মারণাস্ত্র ব্যবহার করবে না বিজিবি

আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৩:৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কোনো ধরনের মারণাস্ত্র বা ‘লেথাল ওয়েপন’ ব্যবহার করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর মিরপুরে জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির ঢাকা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম আবুল এহসান এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সীমান্ত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেই নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে সারা দেশে ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা সেক্টর কমান্ডার বিজিবির প্রস্তুতি ও কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, ঢাকা সেক্টরের অধীনে ৯টি জেলা এবং ৪টি সিটি করপোরেশনের মোট ৫১টি আসনে ১৩৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনী কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য ৪২টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ভোটাররা যেন কোনো প্রকার ভয় বা শঙ্কামুক্ত পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এবং সকল প্রার্থীর জন্য একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত হয়, সে লক্ষ্যেই বিজিবি কাজ করছে। এছাড়া বিশেষ তল্লাশি কার্যক্রমের জন্য বিজিবির বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিটও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় থাকবে।

নির্বাচনী ডিউটিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবার বিজিবি আধুনিক প্রযুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কর্নেল এস এম আবুল এহসান জানান, সদস্যরা দায়িত্ব পালনের সময় বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, মেটাল ডিটেক্টর এবং আধুনিক সিগন্যাল ও যোগাযোগ সরঞ্জাম ব্যবহার করবেন। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যাটালিয়ন এবং সেক্টর সদর দপ্তরে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। বিজিবি মূলত মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে টহল পরিচালনা করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চালাবে যাতে কোনো অশুভ শক্তি নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে।

যেকোনো ধরনের আকস্মিক বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির বিশেষ সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিজিবির র‍্যাপিড অ্যাকশন টিম (র‍্যাট), কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) এবং হেলিকপ্টার ইউনিট সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। যেকোনো স্থানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সক্ষমতা বিজিবির রয়েছে। সেক্টর কমান্ডার স্পষ্ট করেন যে, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বড় কোনো শঙ্কার কারণ দেখা যায়নি এবং মারণাস্ত্র ব্যবহার না করার বিষয়টি বিজিবি মহাপরিচালকের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অংশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে বিজিবির নিবিড় সমন্বয় থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। বিজিবির প্রতিটি বেইজ ক্যাম্পের মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে যাতে প্রয়োজনে তারা দ্রুত যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের ‘সুরক্ষা’ অ্যাপের মাধ্যমেও তথ্য আদান-প্রদান করা হবে। বিজিবি আশা প্রকাশ করছে যে, সংবিধান ও আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থেকে এবং জনগণের আস্থাকে সমুন্নত রেখে একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে তারা বদ্ধপরিকর। মূলত একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থেই বিজিবি তাদের পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ স্তর নিশ্চিত করবে।


হজযাত্রীদের ভিসার আবেদন শুরু ৮ ফেব্রুয়ারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের পবিত্র হজ পালনে ইচ্ছুক যাত্রীদের জন্য ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, আগামী ২০ মার্চ পর্যন্ত এই আবেদন কার্যক্রম চলবে। সৌদি আরবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং এর প্রস্তুতি হিসেবেই এই সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের হজের জন্য সরকারি ও বেসরকারি—উভয় মাধ্যমে যারা এরই মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, তাদের জন্য সরকারি হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক। বর্তমানে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে এই স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি হজযাত্রীকে নির্ধারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ শেষ করে দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অনলাইন সনদ বা ফিটনেস সনদ সংগ্রহ করতে হবে। এই ফিটনেস সনদ ছাড়া কোনো হজযাত্রী এবার সৌদি আরবে যাওয়ার অনুমতি পাবেন না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নিবন্ধিত বাংলাদেশি হজযাত্রী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সৌদি আরবের ‘নুসুক মাসার’ (Nusuk Masar) ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মার্চের মধ্যে ভিসার জন্য আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। নির্দিষ্ট এই সময়ের পর আবেদনের আর কোনো সুযোগ থাকবে না। তাই সকল নিবন্ধিত হজযাত্রীকে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে সরকারি হাসপাতাল থেকে টিকা গ্রহণ এবং ফিটনেস সনদ নিয়ে ভিসার আবেদন নিশ্চিত করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

উল্লেখ্য, এ বছর ১৮ এপ্রিল থেকে হজযাত্রীদের নিয়ে সৌদি আরবের উদ্দেশে প্রথম হজ ফ্লাইট ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে। সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে হজ ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সময়মতো ভিসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যারা এখনও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেননি, তাদের দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত যাত্রী নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধিমালা কঠোরভাবে প্রতিপালনের লক্ষ্যেই সৌদি কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।


নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন না হলে ৬ ফেব্রুয়ারি যমুনা অভিমুখে পদযাত্রার হুমকি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নসহ সাত দফা দাবি আদায়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। দাবি মানা না হলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে ভুখা মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এর আগে ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিন নিজ নিজ দপ্তরের সামনে দুই ঘণ্টা করে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন সরকারি কর্মচারীরা। ঢাকায় শুক্রবার সকালে এক প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচির ডাক দেন তারা।

পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী বলেন, ‘গত সাত বছর ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরও সরকারি কর্মচারীদের দাবি আমলে নেওয়া হচ্ছে না। গত ৫ ডিসেম্বর লক্ষাধিক কর্মচারীর উপস্থিতিতে মহাসমাবেশের পর আশা করা হয়েছিল, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশ হবে, কিন্তু তা হয়নি। দাবি আদায়ে তাই আগামী ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নিজ নিজ দপ্তরের সামনে দুই ঘণ্টা করে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। এ সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে ৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে যমুনা অভিমুখে ভুখা মিছিল করা হবে।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ সমাবেশে সরকারি কর্মচারীরা তাদের ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন। গুলো হচ্ছে—সর্বনিম্ন পে-স্কেল ৩৫ হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নবম পে-স্কেলের গেজেট জারি করতে হবে।

২০১৫ সালে পে-স্কেলের গেজেটে হরণ করা তিনটি টাইম ফেল, সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহালসহ বেতন জ্যেষ্ঠতা পুনর্বহাল ও সকল স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্র্যাচুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তনসহ বিদ্যমান গ্র্যাচুইটি/আনুতোষিকের হার ৯০ শতাংশের স্থলে ১০০ শতাংশ নির্ধারণ ও পেনশন গ্র্যাচুইটি ১ টাকার সমান ৫০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

ব্লক পোস্টে কর্মরত কর্মচারীসহ সব পদে কর্মরতদের পদোন্নতি বা পাঁচ বছর পরপর উচ্চতর গ্রেড প্রদান করতে হবে। এ ছাড়া টেকনিক্যাল কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের টেকনিক্যাল পদের মর্যাদা দিতে হবে।

কর্মরত কর্মচারীদের বেতন স্কেল শেষ ধাপে উন্নীত হওয়ায় বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি হচ্ছে না বিধায় চাকরিরতদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি অব্যাহতভাবে রাখতে হবে।

উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত পদের পদধারীদের প্রকল্পের চাকরিকাল গণনা করে টাইম ফেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদান করার অবকাশ নেই মর্মে নং-অম/অবি (বাস্ত-৪) /বিবিধ-২০ (উঃক্ষেঃ/ ০৭ / ৪৭, তারিখ-২৪-০৩-২০০৮ খ্রি. যোগে অর্থ মন্ত্রণালয় হতে জারিকৃত বৈষম্যমূলক জারিকৃত আদেশ বাতিল করতে হবে।

বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সংগতি রেখে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করে বিদ্যমান ভাতাদি পুনর্নির্ধারণ ও সামরিক/আধা সামরিক বাহিনীর মতো (১০-২০ গ্রেডের) কর্মচারীদের রেশনিং পদ্ধতি চালু করতে হবে।

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে বেতন ও পদবৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে সচিবালয়ের মতো সকল সরকারি, আধা সরকারি দপ্তর, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন করে কর্মচারীদের মধ্যে সৃষ্ট বৈষম্য দূর করতে হবে।


বাংলাদেশের পক্ষে লড়বে ব্রিটিশ আইনি প্রতিষ্ঠান

আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০০:৩০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কয়লার দাম ও বিদ্যুৎ শুল্ক নিয়ে ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক সালিশ প্রক্রিয়ার জন্য যুক্তরাজ্যের একটি আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) পক্ষে সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারে (এসআইএসি) মধ্যস্থতা ও সালিশ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিষ্ঠান থ্রি ভিপি চেম্বার্স নামের লন্ডনভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের বরাতে দ্য হিন্দু জানিয়েছে, বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক ও আর্থিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে অভিজ্ঞ থ্রি ভিপি চেম্বার্স বাংলাদেশের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্ব করবে। গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, কিংস কাউন্সেল ফারহাজ খান নেতৃত্বাধীন এই চেম্বার্সটি গত কয়েক মাস ধরে আদানির সঙ্গে চুক্তি পর্যালোচনাকারী জাতীয় কমিটিকে পরামর্শ দিয়ে আসছিল।

হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ খাতের চুক্তিগুলো নিয়ে গঠিত জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পাঁচ দিনের মধ্যেই এই আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলো। বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, গত বছর আদানি পাওয়ার সিঙ্গাপুরে সালিশ প্রক্রিয়া শুরু করায় বাংলাদেশকেও আইনি প্রস্তুতি নিতে হয়েছে।

আদানি পাওয়ারের দাবি, বিতর্কিত কয়লা শুল্ক সংক্রান্ত বকেয়া বাবদ বাংলাদেশ তাদের প্রায় ৪৮৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেনি। চুক্তি অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ সালিশে যাওয়ার আগে মধ্যস্থতা বাধ্যতামূলক হলেও তা চূড়ান্তভাবে বাধ্যতামূলক নয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আদানি বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত কয়লার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেশি নির্ধারণ করছে, যার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কৃত্রিমভাবে বাড়ছে। চব্বিশের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিপিডিবি আদানির সঙ্গে চুক্তি পুনরায় পর্যালোচনার উদ্যোগ জোরদার করে।

জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি বৃহস্পতিবার জানায়, আদানি পাওয়ার লিমিটেডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ নেয়ার মতো শক্ত প্রমাণ তারা সংগ্রহ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, আদানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের কিছু কর্মকর্তার অর্থ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে এসব প্রমাণ আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, এসব প্রমাণ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে পর্যালোচনা কমিটির অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেছিলেন, চুক্তি যদি দুর্নীতির মাধ্যমে হয়ে থাকে, তবে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আদানির সঙ্গে বিদ্যমান বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি বাতিল করতে পারে।

হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন কমিটি আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে আলাদা প্রতিবেদনও তৈরি করেছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এক কমিটি সদস্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দেশে ও বিদেশে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে আদানি ও তাদের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির শক্ত প্রমাণ সামনে আসবে।

তবে বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিলের ঝুঁকি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তার মতে, আইনি ভিত্তি থাকলেও আন্তর্জাতিক আদালতে গেলে সর্বোচ্চ ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দাবি আসতে পারে।

বর্তমানে আদানি ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। বকেয়া পরিশোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ২০২৫ সালের জুনে এককালীন ৪৩৭ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করে ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সকল পাওনা মিটিয়েছে। এর আগে অর্থ পরিশোধে জটিলতার কারণে আদানি বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছিল, তবে বকেয়া পরিশোধের পর পূর্ণ সরবরাহ আবার চালু হয়েছে।


banner close