প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের সেবা করাকে একটি বড় কাজ হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরকে জনগণের সেবা করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এটি তাদের ভবিষ্যৎ ভোট নিশ্চিত করবে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। জনগণের সেবা যদি আপনারা নিশ্চিত করতে পারেন, ভবিষ্যতে আপনাদের ভোটের কোনো চিন্তা থাকবে না। মানুষই আপনাদের ওপর আস্থা রাখবে, বিশ্বাস রাখবে।’
প্রধানমন্ত্রী আজ তার কার্যালয়ের শাপলা হলে দুই সিটি করপোরেশন কুমিল্লা ও ময়মনসিংহের নবনির্বাচিত মেয়র এবং পাঁচ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধিদের জনকল্যাণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস কোনোভাবেই হারাবেন না। তাই তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সে অনুযায়ী মানুষের জন্য কাজ করুন।’
তার সরকার দেশের প্রতিটি এলাকার উন্নয়ন করেছে এবং তৃণমূলের মানুষকে ঘিরেই এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে কাজ করার এবং বর্তমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘ইতোমধ্যে দেশের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। যেটা আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন। এ পরিবর্তন ধরে রেখে আরও উন্নতি করতে জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা আপনাদের রক্ষা করতে হবে।’
‘জনগণকে উন্নত সেবা প্রদান, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলা তার সরকারের লক্ষ্য’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা ঘোষণা দিয়েছি ‘আমার গ্রাম, ‘আমার শহর।’ অর্থাৎ গ্রামের মানুষ সব নাগরিক সুবিধা পাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদেরকে আন্তরিকতার সঙ্গে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর, তাদের সেবা করার এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’
দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিদের সজাগ থাকার নির্দেশনা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্নীতি, মাদক, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের পথ থেকে সবাই যেন দূরে থাকে, সেদিকে আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত প্রথম নারী মেয়র তাহসিন বাহার সুচনা এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র একরামুল হক টিটুকে শপথবাক্য পাঠ করান।
একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ- এই পাঁচ জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের শপথবাক্য পাঠ করান।
পাঁচটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা হলেন: কুড়িগ্রামের এ এন এম ওবায়দুর রহমান, ঠাকুরগাঁওয়ের আবদুল মজিদ, সিরাজগঞ্জের শামীম তালুকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিল্লাল মিয়া ও হবিগঞ্জের আলেয়া আক্তার।
পরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সাধারণ ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত ৪৪ জন কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলররাও একই স্থানে শপথ নেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম কাউন্সিলরদের শপথবাক্য পাঠ করান।
শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইব্রাহিম।
গত ৯ মার্চ সিটি করপোরেশনের উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের মেয়ে তাহসিন বাহার সুচনা। তিনিই কুমিল্লার প্রথম নির্বাচিত নারী মেয়র হলেন।
একই দিনে অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন একরামুল হক টিটু।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে। সবার আগে যেটা দরকার, তা হচ্ছে জনগণের ভোটের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা। একমাত্র আওয়ামী লীগ যখনই সরকার গঠন করেছে, তখনই এ দেশের মানুষ অন্ততপক্ষে এইটুকু পেয়েছে- সরকার জনগণের শোষক নয়, সেবক হিসেবেই কাজ করে। যার কারণে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে আমি অন্তত এইটুকু দাবি করতে পারি, বাংলাদেশ এখন বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। যার বয়স ১৫ বছর, সে হয়তো ভাবতেও পারবে না যে, ১৫ বছর আগে অর্থাৎ ২০০৯ সালের আগের বাংলাদেশ কী অবস্থায় ছিল? বাংলাদেশে সেখান থেকে অনেক পরিবর্তন এসেছে।
সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা পাঁচ গুণ বৃদ্ধি করেছি। সবচেয়ে বড় কথা দারিদ্র্যের হার আমরা পেয়েছিলাম ৪১ দশমিক ৫১ শতাংশ। সেখান থেকে কমিয়ে আমরা ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল, অন্তত আমরা ১৬ বা ১৭ শতাংশের নামিয়ে আনব। যেটা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা তা-ও করতে পারতাম, যদি কোভিড-১৯ এর মহামারি না দেখা দিত। আবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যদি না হতো, নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞা, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির কারণে প্রত্যেকটা খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে গেছে, জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, গ্যাসের দাম বেড়েছে, পরিবহন খরচ বেড়েছে। এগুলো যদি না হতো, আমরা কিন্তু আরও দ্রুত এগিয়ে যেতে পারতাম। আমাদের দারিদ্র্যের হার আরও কমাতে পারতাম।
অতি দরিদ্র প্রায় ২৫ ভাগের ওপরে ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেটা আমরা ৫ দশমিক ৬ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এত দ্রুত অতি দরিদ্রের হার কমানো, আমার মনে হয় বিশ্বের অন্য কোনো দেশ এটা পারেনি। আমরা লক্ষ্য স্থির করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছি বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, বাংলাদেশে কেউ আর ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না, অতি দরিদ্র বলে কেউ থাকবে না।
কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে তার সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখান থেকে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি ৩০ প্রকারের ওষুধ বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে।
কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে জনগণ যাতে সঠিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে, সেদিকে তিনি জনপ্রতিনিধিদের লক্ষ্য রাখতে বলেন।
পাশাপাশি তিনি বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার এবং প্রতি ইঞ্চি অনাবাদি জমিকে চাষের আওতায় আনার মাধ্যমে খাদ্যোৎপাদন বাড়াতে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার জন্যও জনপ্রতিপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সতর্কতার অংশ হিসেবে তিনি দেশের নদী-নালা, খাল-বিলসহ বিভিন্ন জলাশয় সংরক্ষণ করা এবং পানির প্রবাহকে অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন।
শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, তার সরকার স্থানীয় সরকার খাতে বাজেট বরাদ্দ ৮ গুণের বেশি বাড়িয়েছে। কারণ, বিএনপির শাসনামলে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৫,৭৯৯.৩৬ কোটি টাকা, যা বর্তমানে ৪৬,৭০৪ কোটি টাকা।
সরকারপ্রধান বলেন, প্রতিটি এলাকায় উন্নয়ন হয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থারও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।
‘কাজেই, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং কাজের মান বজায় রাখার জন্য আপনাদের কাজ করা উচিত,’ বলেন তিনি।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোট ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের প্রাপ্যতা বাড়াতে দেশীয় উৎসের উৎপাদনের সঙ্গে এলএনজি সরবরাহের কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সরবরাহকৃত মোট গ্যাসের বড় অংশ অর্থাৎ ১৬১ দশমিক ৫ কোটি ঘনফুট এসেছে দেশীয় বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে এবং ঘাটতি পূরণে অবশিষ্ট ৯৯ দশমিক ১ কোটি ঘনফুট গ্যাস এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের সামগ্রিক চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩৫০ থেকে ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এই চাহিদার বিপরীতে গত রবিবার জাতীয় গ্রিডে মোট সরবরাহ ছিল ২৩৩ দশমিক ১৯ কোটি ঘনফুট এবং সোমবার সরবরাহ করা হয়েছিল ২৩৪ দশমিক ৫৩ কোটি ঘনফুট। ফলে মঙ্গলবার ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে গ্রিডে সরবরাহ বেড়েছে ২৭ দশমিক ৪১ কোটি ঘনফুট এবং আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে ২৬ দশমিক শূন্য ৭ কোটি ঘনফুট।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের এই ইতিবাচক সরবরাহ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সার কারখানা এবং বৃহৎ শিল্প খাতসহ অন্যান্য জরুরি সেবা খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখার পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবিলা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষতা বাড়াতে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ (পিএসসি)-এর পরিচালনা পর্ষদের ২১তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পুলিশ বাহিনীতে বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও বিভিন্ন প্রকৌশল বিদ্যায় পারদর্শী বিপুলসংখ্যক সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের বিশেষায়িত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সাইবার সুরক্ষায় একটি সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা দাঁড় করানোর কাজ চলছে। বর্তমানে খণ্ডকালীন ও পৃথকভাবে পুলিশ সদর দপ্তর, সিআইডি এবং ডিএমপির সাইবার টিমের মাধ্যমে অনলাইন অপরাধের তদন্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও সামগ্রিক চ্যালেঞ্জ সামাল দিতে একটি কেন্দ্রীয় ও স্থায়ী ইউনিটের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
পুলিশের তদন্ত সক্ষমতা ও পেশাগত মনোবল বাড়াতে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাস্টার ট্রেইনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ করতে অভ্যন্তরীণ কোর্সের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। সাইবার স্পেসের নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে প্রয়োজনে বিদেশি অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক এনে কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করে পুলিশ সদস্যদের বৈশ্বিক মানে গড়ে তোলা হবে।
পিএসসির পরিচালনা পর্ষদের এই সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএটিসির রেক্টর সাঈদ মাহবুব খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
একদিনের সরকারি সফরে সিলেটে পৌঁছে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছালে মাজারের পরিচালনা কর্তৃপক্ষ তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সেখানে কিছু সময় অবস্থান করে তিনি দেশ ও সমগ্র জাতির সার্বিক মঙ্গল, সমৃদ্ধি এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত সম্পন্ন করে রাষ্ট্রপতি অপর প্রখ্যাত ওলি হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারের উদ্দেশে যাত্রা করেন। রাষ্ট্রপতির মাজার এলাকায় আগমন ও প্রস্থানকালে সড়কের উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে সাধারণ জনতা তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। এ ছাড়া সিলেট নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নিয়ে মহানগর বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীও রাষ্ট্রপ্রধানকে স্বাগত জানান।
এর আগে সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল ৩টায় নগর ভবনের সম্মুখভাগে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত বিশাল নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন রাষ্ট্রপতি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ঘোষিত সম্ভাব্য তারিখগুলো এখনো চূড়ান্ত রূপ নেয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করে তিনি উল্লেখ করেন, আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ে অনুষ্ঠেয় এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বিস্তারিত পর্যালোচনার পরই নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।
এর আগে একই দিনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মন্তব্য করেছিলেন যে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের পূর্বালোচনা করেনি এবং সরকার এ বিষয়ে কিছুই জানে না। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন সাংবিধানিক কর্তৃত্বের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও ঐতিহ্যগত নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে বাজেট, মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সমন্বিত বৈঠকের মাধ্যমেই চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণার প্রতিষ্ঠিত রীতি রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সাত ধাপের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা বা পূর্বাবগতি নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের এই স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তারিখ প্রকাশের প্রেক্ষাপটে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পত্রিকা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনগুলোতে দেখেছি নির্বাচন কমিশন কয়েক ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। আমি দেশবাসীকে জানাতে চাই, এ ব্যাপারে সরকার কিছু জানে না এবং সরকারের সঙ্গে কোনো পত্র যোগাযোগ বা অন্য কোনোভাবে আলোচনা হয়নি।’
নির্বাচন আয়োজনে কমিশনের স্বাধীন এখতিয়ারের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, স্থানীয় নির্বাচনগুলোর ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ের একটি প্রতিষ্ঠিত রীতি রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম উল্লেখ করেন, ‘নির্বাচন কমিশন স্বাধীন এবং নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তুতিমূলক সভা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো বৃহৎ কর্মযজ্ঞে মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা ও বাজেট বরাদ্দের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখানে বাজেটসহ বিভিন্ন বিষয় থাকে। নির্বাচন কমিশন যে তারিখগুলো ঘোষণা করেছে, সে বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বা সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। সরকার এ ব্যাপারে কিছু জানে না।’
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সামরিক মহড়ায় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত বিস্ফোরণে প্রাণ হারানো দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই আবেগঘন সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রী শোকসন্তপ্ত স্বজনদের খোঁজখবর নেন এবং তাঁদের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন।
প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি মোস্তফা জুলফিকার হাসান জানান, অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নিহত সৈনিকদের আত্মত্যাগের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জন্য দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের সেনাসদস্যরা প্রাণ দিয়েছেন। তারা দেশের জন্য শহীদ হয়েছেন। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’ শোকাহত পরিবারগুলোকে আশ্বস্ত করে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘এই শোকের সময়ে আমরা আপনাদের পাশে আছি এবং পাশে থাকব। সরকার ও সেনাবাহিনী সব সময় আপনাদের পরিবারের পাশে থাকবে। প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার পাশাপাশি শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারের দেখভালেও সরকার তার দায়িত্ব পালন করবে।’
সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নিহত সেনাসদস্যদের স্থায়ী ঠিকানায় তাঁদের পরিবারের জন্য একটি করে পাকা বাড়ি নির্মাণ, তাঁদের স্ত্রীদের উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং সন্তানদের জন্য নিয়মিত মাসিক ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর হাটহাজারী ফায়ারিং রেঞ্জে কর্তব্যরত অবস্থায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় শহীদ হন সৈনিক (অপারেটর) আবু বকর সিদ্দিক এবং সৈনিক (গানার) মো. তাসনিম রিফায়াত। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাতে আবু বকর সিদ্দিকের বাবা আব্দুল ওহাব, মা পারভীন আক্তার, স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার জুতি ও কন্যাসন্তান ফাতেমা সিদ্দিকা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া তাসনিম রিফায়াতের পক্ষে তাঁর বাবা মো. আসাদুল হক, স্ত্রী ফাহমিদা আফরিন এবং শিশুকন্যা রাফসা তাসনিম ইফরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স সার্জারি বিভাগে সোমবার প্রথমবারের মতো হাঁটু প্রতিস্থাপন অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। রোগীর নাম বিবিজান (৬০)। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা।
চিকিৎসকরা জানান, বিবিজান দীর্ঘদিন ধরে অস্টিও আর্থ্রাইটিস রোগে ভুগছিলেন। তার হাঁটু ক্ষয়ের মাত্রা খুব তীব্র ছিল। এরকম হাঁটু অনেকটা জ্যাম হয়ে যায়, বেঁকে যায় এবং তীব্র ব্যাথা থাকে। এই পর্যায়ে গেলে হাঁটু প্রতিস্থাপন করতে হয়।
এই অপারেশনে অংশ নেন রামেক হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. আলমগীর হোসেন, ডা. মনোয়ার তারিক সাবু, ডা. সফিকুল ইসলাম, ডা. সাইদ আহমেদ, ডা. মাতিউল ইসলাম, ডা. সালেহীনসহ আরও কয়েকজন চিকিৎসক।
প্রফেসর ডা. আলমগীর হোসেন জানান, এই অপারেশনের ফলে রোগীর হাঁটু আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবেন। শুধু নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।
তিনি আরও জানান, এখন থেকে সরকারি হাসপাতালে এই অপারেশনের ধারা চলমান থাকবে। এর ফলে উত্তরবঙ্গের মানুষ ভীষণ উপকৃত হবে এবং ঢাকা বা বিদেশ যাওয়ার কষ্ট লাঘব হবে।
ডা. মনোয়ার তারিক সাবু জানান, ঢাকায় এই অপারেশন অনেক হয়। তবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এটাই প্রথম। হাসপাতালে অপারেশন করতে দুই ঘণ্টা সময় লেগেছে। ছয়জনের টিম মিলে এই অপারেশন করা হয়েছে। দেশে বিদেশে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর চিকিৎসকরা এই অপারেশন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এখন থেকে নিয়মিত এই অপারেশন করা হবে। অপারেশনের পর রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন।
খেলাপি ঋণ, সুশাসনের ঘাটতি ও পুরোনো প্রযুক্তি ব্যবস্থার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের আর্থিক খাতকে আরও স্থিতিশীল করতে ১ হাজার ২৭৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার একটি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
আর্থিক খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং চলমান ব্যাংক সংস্কারে সহায়তা দেওয়াই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
‘ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২’ (এফএসএসপি-২) নামের প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ে একনেকের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একনেকের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এতে সভাপতিত্ব করবেন। সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ বছর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ১ হাজার ২৬১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ) থেকে বৈদেশিক অর্থায়ন হিসেবে আসবে। বাকি ১৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, আর্থিক খাতের ‘সেফটি নেট’ বা নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংয়ের সক্ষমতা বাড়ানো এবং চলমান ব্যাংক খাতের সংস্কার কার্যক্রমে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) অবকাঠামো ও তদারকি সক্ষমতা আধুনিকায়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আইসিটি অবকাঠামোসংক্রান্ত ক্রয়প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শক সেবা নেওয়া হবে।
এছাড়া আমানত বিমা ট্রাস্ট ফান্ডের (ডিআইটিএফ) আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো, অর্থ পরিশোধের সময় কমানো এবং ব্যাংক রেজল্যুশন ও পুনর্গঠন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সহায়তা করা হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সুশাসন ও আর্থিক স্থিতিশীলতা বাড়ানোও প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রকল্প নথিতে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং দেশের অভ্যন্তরে আর্থিক সেবার চাহিদা বাড়ায় বাংলাদেশের আর্থিক খাতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। তবে উচ্চ খেলাপি ঋণ, সুশাসনের দুর্বলতা, পুরোনো আইসিটি ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, আর্থিক খাতের তদারকিতে ব্যবহৃত আইসিটি অবকাঠামোর দুর্বলতা এবং সমন্বিত তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার অভাবের কারণে সাইবার হামলা ও আন্তঃসীমান্ত আর্থিকসহ উদীয়মান ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সমস্যা আমানতকারীদের আস্থা এবং দেশের আর্থিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলছে।
বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংক আগে যে ফাইন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করেছিল, তার ধারাবাহিকতায় এফএসএসপি-২ নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রকল্পটির তিনটি প্রধান উপাদান রয়েছে। এগুলো হলো—তদারকি সক্ষমতা ও ব্যবস্থার উন্নয়ন, আর্থিক খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং ব্যাংক রেজল্যুশন ও পুনর্গঠনে সহায়তা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা প্রদান।
এর দ্বিতীয় উপাদানের আওতায় আর্থিক খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা, ব্যাংক রেজল্যুশন ও পুনর্গঠন এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সংস্কারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তি আধুনিকায়নে প্রকল্পের বড় একটি অংশ ব্যয় হবে। প্রস্তাবিত ব্যয়ের মধ্যে আইসিটি সরঞ্জাম কেনায় ৭১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা, কম্পিউটার সফটওয়্যারে ৩৫৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং ডেটাবেজে ৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য আইসিটি ও অফিস সরঞ্জাম কেনার জন্যও অর্থ বরাদ্দ থাকবে।
পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি একনেকের অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে। কমিশনের মতে, এটি আর্থিক খাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং, ব্যাংক সংস্কার, ব্যাংক রেজল্যুশন ও পুনর্গঠন কার্যক্রম শক্তিশালী করবে। এর ফলে শেষ পর্যন্ত ব্যাংক খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হবে।
প্রকল্প প্রস্তাবটি ২০২৫ সালের অক্টোবরে পরিকল্পনা কমিশনে জমা পড়ে। এরপর একই বছরের ২৩ নভেম্বর বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (এসপিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে সংশোধিত টিএপিপি চলতি বছরের মে মাসে পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়।
দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বালানি খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধানের পথে এগিয়ে যেতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।
সোমবার সকালে রাজধানীর নভোথিয়েটার অডিটোরিয়ামে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প জ্বালানি উৎসের উদ্ভাবন’ বিষয়ক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সবাইকে সচেতনভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে দেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। আলোচনা সভায় জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা তুলে ধরেন। বিশেষ করে সোলার সিস্টেমের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশগত ক্ষতি কমাতে বিভিন্ন কার্যকর পরামর্শ দেন তারা।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবেশের ওপর এর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
ব্যাংকিং খাতের মতো বিমা খাতেও অনিয়ম-লুটপাট হয়েছে। এ খাতের গ্রাহকরাও তাদের কষ্টের টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। তবে টাকা ফেরত দিতে কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় শেষে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ৫৭ শতাংশ বিমার দাবি এখনো অপরিশোধিত রয়েছে। দাবি পরিশোধ না করে বিমা কোম্পানিগুলো তাদের নিজেদের সম্পদ বাড়িয়েছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি পরিশোধ করেতে তাদের সময় বেঁধে দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে দাবি পরিশোধ করতে না পারলে কোম্পানির সম্পত্তি বিক্রি করে জনগণের টাকা দেয়া হবে। এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা গেলে গ্রাহকের আস্থা ফিরে আসবে বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।
এখন ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি করা হবে জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সব কোম্পানিকে অটোমেশনের আওতায় আসতে হবে। সকল লেনদেন হবে অনলাইনে। সেজন্য সকল বিমা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা হবে।
ভুয়া পরোয়ানার মাধ্যমে গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধে পুলিশকে সেন্ট্রাল ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে পরোয়ানার সত্যতা যাচাই করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সে সঙ্গে পুলিশের আইজিকে এই মর্মে সার্কুলার ইস্যু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ এ মাওলা সোহেলের বেঞ্চ শুনানি শেষে রুল নিষ্পত্তি করে এ রায় দেন।
হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। ওই রুল নিষ্পত্তি করে এ রায় দেওয়া হয়। রায়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে নিম্ন আদালতের সব বিচারকের কাছে এই নির্দেশনা পাঠাতে। যাতে যেকোনো নালিশি মামলা করার সময় বাদী ও আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য আইনজীবীর প্রফেশনাল কার্ড এবং বাদীর এনআইডির কপি মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
হাইকোর্ট রায়ে বলেন, ‘যেকোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার করতে হলে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। ভুয়া পরোয়ানার মাধ্যমে গ্রেপ্তার হলে একজন নাগরিকের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন হয়। আদালতের মাধ্যমে মানুষ যাতে হয়রানি না হয়, তাই কোনো মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন অত্যন্ত প্রয়োজন। নতুবা নাগরিকের যে ক্ষতি হয়, তা পূরণ করা সম্ভব হয় না।’
শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন।
পরে মনজিল মোরসেদ জানান, গুলশানের বাসিন্দা আরিফ নিয়াজীকে ২০১২ সালে তার গুলশানের বাসা থেকে ভুয়া পরোয়ানা দেখিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি জানতে পারেন, তার বিরুদ্ধে ভুয়া মামলা ও পরোয়ানা হয়েছে। যে আদালতে তাকে উপস্থাপন করা হয়, ওই আদালতের নির্দেশে তদন্ত কমিটি হলে সেখানেও প্রমাণিত হয় ভুয়া মামলায় পরোয়ানা ইস্যুর বিষয়টি। গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত আরও প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ রিট করে।
অনুমোদন ছাড়া স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও তৎকালীন ছাত্রসংঘ নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শন এবং শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য পৃথক ওয়েবসাইট চালুসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাম্প্রতিক কয়েকটি কর্মকাণ্ড নিয়ে কড়া আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি-বিধান, একাডেমিক নীতিমালা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে স্পষ্টতই অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও সাংঘর্ষিক।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উল্লেখ করে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডার, ১৯৭৩-এর ২৪(এ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় সম্পত্তির তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ এখতিয়ার সিন্ডিকেটের ওপর ন্যস্ত এবং অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী ছাত্র সংসদকে উপাচার্যের নির্দেশনায় পরিচালিত হতে হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রশাসন ইতোমধ্যেই গত ৫ আগস্ট শহীদ পরিবারের উপস্থিতিতে মল চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। অথচ ডাকসু কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা উপাচার্যের অনুমোদন ছাড়াই কলাভবনের পশ্চিম পাশ এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে দুটি পৃথক স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করেছে, যা প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের এখতিয়ারবহির্ভূত।
ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘ নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন এবং বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক চেতনার পরিপন্থী কোনো ব্যক্তির ছবি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণকারী এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুমোদনহীনভাবে ডাকসুর পক্ষ থেকে শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য ওয়েবসাইট চালুর উদ্যোগকেও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়নের জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদিত নিজস্ব ‘টিচিং ইভালুয়েশন’ নীতিমালা বিদ্যমান রয়েছে, যার বাইরে পৃথক কোনো ব্যবস্থার সুযোগ নেই। এছাড়া ডাকসুর খোলা ওই ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্টের শামিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো অবস্থাতেই সমান্তরাল বা ‘দ্বৈত প্রশাসন’ কায়েম করার সুযোগ নেই বলে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ডাকসু একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও এর যাবতীয় কার্যক্রম বিদ্যমান আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে থেকেই পরিচালিত হতে হবে। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা রক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো ধরনের আপস করা হবে না এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্ব অমান্য করে সমান্তরাল কাঠামো তৈরির চেষ্টা হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ কাল থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি থেকে বিরত থেকে সরকারের মেয়াদে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।
আজ সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। তিন ঘণ্টার এই আলোচনায় তারা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।
তিনি আরও জানান, সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক একটি উপস্থাপনা করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
প্রধানমন্ত্রী দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে। তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যাটি এরই মধ্যে সমাধান করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামীকাল সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক থেকে দেড় মাস আগের অবস্থায় ফিরবে।’ ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জিটুজি ভিত্তিতে গত এক মাসে আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুতই কাজ শুরু হবে।
সরকার আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তারেক রহমান। বিদ্যুৎখাতের সমস্যাও দীর্ঘদিনের বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করেছে, সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসেছে এবং সেগুলো সমাধানে পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এখন তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যেকোনো কিছু পরিকল্পনা এবং সেটি বাস্তবায়ন করতে সময় লাগে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের এই সমস্যা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। চাইলেই ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এর সমাধান করা সম্ভব নয়।
সরকার কোন কাজ কখন শেষ করতে চায়, তার একটি সম্ভাব্য সময়সীমাও সভায় ব্যবসায়ী নেতাদের সামনে তুলে ধরা হয়। বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে সরকারের সামনে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা রয়েছে।
ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা ও শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সামগ্রিক প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ে। ফলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান শুধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থের বিষয় নয়; এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
তিনি আরও বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, তা অর্জন করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে।
হতাশ হওয়ার কারণ নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সমস্যার ব্যাপ্তি ও জটিলতা সম্পর্কে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় আগে থেকেই অবগত। সরকার সমস্যাগুলো আড়াল না করে খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে কীভাবে সেগুলোর সমাধান করতে চায়, সেটিও জানিয়েছে। তিনি বলেন, আপনাদের জানাতে চাই যে আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। সে জন্য হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।
সরকারের পরিকল্পনা যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলো বাস্তবায়ন হলে শুধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায় নয়, পুরো দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।
দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কার প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণই সময়মতো ঠিক করবে কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সময় যে সরকার দায়িত্বে থাকে, তাকে তার পরিকল্পিত কাজগুলো সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া উচিত।
আলোচনায় গণমাধ্যমকর্মী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা গণমাধ্যমের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তা না হলে বিচ্ছিন্ন তথ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। গণমাধ্যম সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেলে তা দেশবাসীর কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বড় কোনো কাজ সফলভাবে করতে একটি কার্যকর দল প্রয়োজন। সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন, যাতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়। ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সহযোগিতা করবেন, যাতে আমরা আপনাদের জন্য আরও ভালো কিছু করতে পারি।’
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এবং জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হক।
ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কামাল, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আমিরুল হক, বাংলাদেশ এগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুব আনাম প্রমুখ।
এ ছাড়াও দৈনিক মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ইংরেজি দৈনিক ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, মোস্তাফা ফিরোজ, আব্দুন নূর তুষার, আকবর হোসেন, শাহেদ আলম, রেজাউল করিম রনি, আজিজুর রহমান রিপন, তরিকুল ইসলাম সৌরভ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহরিন ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস