মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০২৪

মানুষের জন্য কাজ করুন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ৪ এপ্রিল, ২০২৪ ২১:২৪

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের সেবা করাকে একটি বড় কাজ হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরকে জনগণের সেবা করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এটি তাদের ভবিষ্যৎ ভোট নিশ্চিত করবে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। জনগণের সেবা যদি আপনারা নিশ্চিত করতে পারেন, ভবিষ্যতে আপনাদের ভোটের কোনো চিন্তা থাকবে না। মানুষই আপনাদের ওপর আস্থা রাখবে, বিশ্বাস রাখবে।’

প্রধানমন্ত্রী আজ তার কার্যালয়ের শাপলা হলে দুই সিটি করপোরেশন কুমিল্লা ও ময়মনসিংহের নবনির্বাচিত মেয়র এবং পাঁচ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধিদের জনকল্যাণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস কোনোভাবেই হারাবেন না। তাই তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সে অনুযায়ী মানুষের জন্য কাজ করুন।’

তার সরকার দেশের প্রতিটি এলাকার উন্নয়ন করেছে এবং তৃণমূলের মানুষকে ঘিরেই এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে কাজ করার এবং বর্তমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘ইতোমধ্যে দেশের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। যেটা আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন। এ পরিবর্তন ধরে রেখে আরও উন্নতি করতে জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা আপনাদের রক্ষা করতে হবে।’

‘জনগণকে উন্নত সেবা প্রদান, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলা তার সরকারের লক্ষ্য’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা ঘোষণা দিয়েছি ‘আমার গ্রাম, ‘আমার শহর।’ অর্থাৎ গ্রামের মানুষ সব নাগরিক সুবিধা পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদেরকে আন্তরিকতার সঙ্গে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর, তাদের সেবা করার এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’

দুর্নীতি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনপ্রতিনিধিদের সজাগ থাকার নির্দেশনা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দুর্নীতি, মাদক, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের পথ থেকে সবাই যেন দূরে থাকে, সেদিকে আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত প্রথম নারী মেয়র তাহসিন বাহার সুচনা এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র একরামুল হক টিটুকে শপথবাক্য পাঠ করান।

একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ- এই পাঁচ জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের শপথবাক্য পাঠ করান।

পাঁচটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানরা হলেন: কুড়িগ্রামের এ এন এম ওবায়দুর রহমান, ঠাকুরগাঁওয়ের আবদুল মজিদ, সিরাজগঞ্জের শামীম তালুকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিল্লাল মিয়া ও হবিগঞ্জের আলেয়া আক্তার।

পরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সাধারণ ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত ৪৪ জন কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলররাও একই স্থানে শপথ নেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম কাউন্সিলরদের শপথবাক্য পাঠ করান।

শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইব্রাহিম।

গত ৯ মার্চ সিটি করপোরেশনের উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের মেয়ে তাহসিন বাহার সুচনা। তিনিই কুমিল্লার প্রথম নির্বাচিত নারী মেয়র হলেন।

একই দিনে অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন একরামুল হক টিটু।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে। সবার আগে যেটা দরকার, তা হচ্ছে জনগণের ভোটের অধিকার জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েম করা। একমাত্র আওয়ামী লীগ যখনই সরকার গঠন করেছে, তখনই এ দেশের মানুষ অন্ততপক্ষে এইটুকু পেয়েছে- সরকার জনগণের শোষক নয়, সেবক হিসেবেই কাজ করে। যার কারণে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে আমি অন্তত এইটুকু দাবি করতে পারি, বাংলাদেশ এখন বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। যার বয়স ১৫ বছর, সে হয়তো ভাবতেও পারবে না যে, ১৫ বছর আগে অর্থাৎ ২০০৯ সালের আগের বাংলাদেশ কী অবস্থায় ছিল? বাংলাদেশে সেখান থেকে অনেক পরিবর্তন এসেছে।

সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা পাঁচ গুণ বৃদ্ধি করেছি। সবচেয়ে বড় কথা দারিদ্র্যের হার আমরা পেয়েছিলাম ৪১ দশমিক ৫১ শতাংশ। সেখান থেকে কমিয়ে আমরা ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল, অন্তত আমরা ১৬ বা ১৭ শতাংশের নামিয়ে আনব। যেটা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা তা-ও করতে পারতাম, যদি কোভিড-১৯ এর মহামারি না দেখা দিত। আবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যদি না হতো, নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞা, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির কারণে প্রত্যেকটা খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে গেছে, জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, গ্যাসের দাম বেড়েছে, পরিবহন খরচ বেড়েছে। এগুলো যদি না হতো, আমরা কিন্তু আরও দ্রুত এগিয়ে যেতে পারতাম। আমাদের দারিদ্র্যের হার আরও কমাতে পারতাম।

অতি দরিদ্র প্রায় ২৫ ভাগের ওপরে ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেটা আমরা ৫ দশমিক ৬ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। এত দ্রুত অতি দরিদ্রের হার কমানো, আমার মনে হয় বিশ্বের অন্য কোনো দেশ এটা পারেনি। আমরা লক্ষ্য স্থির করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করেছি বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, বাংলাদেশে কেউ আর ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না, অতি দরিদ্র বলে কেউ থাকবে না।

কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে তার সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখান থেকে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি ৩০ প্রকারের ওষুধ বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে।

কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে জনগণ যাতে সঠিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে, সেদিকে তিনি জনপ্রতিনিধিদের লক্ষ্য রাখতে বলেন।

পাশাপাশি তিনি বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার এবং প্রতি ইঞ্চি অনাবাদি জমিকে চাষের আওতায় আনার মাধ্যমে খাদ্যোৎপাদন বাড়াতে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার জন্যও জনপ্রতিপ্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সতর্কতার অংশ হিসেবে তিনি দেশের নদী-নালা, খাল-বিলসহ বিভিন্ন জলাশয় সংরক্ষণ করা এবং পানির প্রবাহকে অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন।

শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, তার সরকার স্থানীয় সরকার খাতে বাজেট বরাদ্দ ৮ গুণের বেশি বাড়িয়েছে। কারণ, বিএনপির শাসনামলে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল মাত্র ৫,৭৯৯.৩৬ কোটি টাকা, যা বর্তমানে ৪৬,৭০৪ কোটি টাকা।

সরকারপ্রধান বলেন, প্রতিটি এলাকায় উন্নয়ন হয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থারও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।

‘কাজেই, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং কাজের মান বজায় রাখার জন্য আপনাদের কাজ করা উচিত,’ বলেন তিনি।


দেশে ফিরলেন লিবিয়ায় আটকে পড়া ১৪৪ বাংলাদেশি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার প্রচেষ্টায় লিবিয়ার বেনগাজী শহরে আটক ১৪৪ অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। বুরাক এয়ারের একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে আজ বৃহস্পতিবার তারা ঢাকায় পৌঁছান।

আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের অভ্যর্থনা জানান।

এ সময় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসনকৃত প্রত্যেককে নগদ ছয় হাজার টাকা ও কিছু খাদ্যসমগ্রী উপহার হিসেবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়।

ভবিষ্যতে আর কেউ যেন দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি না জমান, সে বিষয়ে আত্মীয়-পরিচিতজনদের সচেতন করতে প্রত্যাবাসনকৃতরা অনুরোধ করা হয়।


পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কূটনৈতিক প্রতিবেদক

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীর সদ্যসমাপ্ত চীন সফরের ওপর আলোকপাত করেন।

তিনি চীনের সঙ্গে কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক কো-অপারেশন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন, কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র‍্যাটেজিক কো-অপারেশন এগিয়ে নেওয়াসহ দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ এবং চট্টগ্রামে আরেকটি রোড-টানেল তৈরিতে চীনকে আহ্বান জানান। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতার বিষয় উত্থাপন করলে চীনের এশিয়া-বিষয়ক বিশেষ দূত শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন বলে জানান চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

বৈঠক শেষে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সাংবাদিকদের জানান, কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক কো-অপারেশনের আওতায় চীন শিগগিরই দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ ছাড় করার লক্ষ্যে কাজ করছে। বাংলাদেশে কোটা আন্দোলন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং চীন বিশ্বাস করে, এ দেশের জনগণ ও সরকার শান্তি প্রতিষ্ঠা ও রক্ষায় পূর্ণভাবে সক্ষম।


কোটা নিয়ে আপিল শুনানি রোববার

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানির জন্য আগামী রোববার (২১ জুলাই) দিন ঠিক করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে ওইদিন এ বিষয়ে শুনানি হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের বিশেষ চেম্বার জজ আদালত শুনানির জন্য এদিন ঠিক করেন। যদিও এর আগে গত ১০ জুলাই এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৭ আগস্ট দিন ঠিক করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

এর আগে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের সার্টিফাইড কপি পেয়ে ১৬ জুলাই আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিলের অনুমতি চেয়ে রাষ্ট্র লিভ টু আপিল করেছেন বলে সাংবদিকদের জানান অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মুহাম্মদ (এ এম) আমিন উদ্দিন।

গত রোববার (১৪ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ২৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। সে রায়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নাতি, নাতনিদের জন্য কোটা পুনর্বহাল করতে বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি জেলা, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, উপজাতি–ক্ষুদ্র নৃ জাতিগোষ্ঠীর জন্য কোটাসহ (যদি অন্যান্য থাকে) সব কোটা বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে হাইকোর্ট রায়ে বলেছেন, ‘প্রয়োজনে উল্লেখিত শ্রেণির ক্ষেত্রে কোটা পরিবর্তন ও হার কমানো বা বাড়ানোর বিষয়ে এ রায় বিবাদীদের জন্য কোনো বাধা তৈরি করবে না। যেকোনো পাবলিক পরীক্ষায় কোটাপূরণ না হলে সাধারণ মেধাতালিকা থেকে শূন্য পদ পূরণ করায় বিবাদীদের স্বাধীনতা রয়েছে।’

এদিকে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া এই রায় স্থগিত চেয়ে ঢাবির দুই শিক্ষার্থী ও রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বিভাগ কোটা নিয়ে আইনি বিরোধের বিষয়বস্তুর ওপর চার সপ্তাহের স্থিতাবস্থা (স্ট্যাটাসকো) দেন। সেই সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল (সিপি) করেতে বলা হয় এবং পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৭ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়।

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের আন্দোলনের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করে। সেখানে বলা হয়েছিল, ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেড (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাতালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। ওই পদসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হলো। যেখানে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং জেলা কোটা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৫ ও প্রতিবন্ধীর ১ শতাংশ কোটা বাতিল করা হয়।

এই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম তুষারসহ সাতজন হাইকোর্টে রিট করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। সে রুল যথাযথ ঘোষণা করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ বলে গত ৫ জুন রায় দেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের এই রায়ের পর সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে গত ১ জুলাই থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছে সরকার। অন্যদিকে চলমান আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।


সামুদ্রিক সম্পদ আহরণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্লু ইকোনমিকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য বিস্তীর্ণ সমুদ্র এলাকায় সামুদ্রিক সম্পদ আহরণে বিনিয়োগের জন্য বিদেশি ও স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকুয়াকালচার অ্যান্ড সিফুড শো-২০২৪’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় মাছের রপ্তানি বাড়াতে মাছ সংগ্রহ, বিতরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে যথাযথ মান বজায় রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে তিনি নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বিনিয়োগকারী তাদেরকেও আমরা আহবান জানাব, কারণ আমাদের যে সমুদ্র সম্পদকে ব্যবহার করে আমাদের ব্লু ইকোনমিকে আরও সমৃদ্ধশালী আমরা করতে পারব। সিউইড, শামুক, ঝিনুক, মুক্তা প্রভৃতি আহরণ এবং সমুদ্রের পানি থেকে লবন উৎপাদন হচ্ছে। পাশাপাশি সমুদ্রের পানি থেকে বিদ্যুৎ হাইড্রো-ইলেকট্রিসিটি উৎপাদনেও গবেষণা চলছে। ইনশাল্লাহ আমরা সেটাও করতে পারব।

সরকারপ্রধান বলেন, সেক্ষেত্রে আমি আশা করি যারা বিনিয়োগকারী, যারা বাংলাদেশে এসেছেন বা যারা আমাদের দেশি বিনিয়োগকারী, আপনারা যৌথভাবে এই বিনিয়োগের ক্ষেত্র আবিস্কার করে এখানে আরও বিনিয়োগ করতে পারেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিডা একটা বিরাট ভূমিকা রাখে। আপনারা তাদের কাছ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পেতে পারেন এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা অনেক বেশি সুবিধা দিয়ে থাকি। সেখানে যে কেউ বিনিয়োগ করতে পারেন। তার যে লভ্যাংশ সেটা খুব সহজেই তারা নিয়ে যেতে পারেন। পাশাপাশি ব্যাংকের লেনদেনটাও আমরা অনেক বেশি সহজ করে দিয়েছি। সেখানে আপনি অর্থ জমা করে প্রয়োজনে সেটাও নিয়ে যেতে পারেন।

অফশোর অ্যাকাউন্ট খোলারও সুযোগ আছে। সেই সুবিধাও সরকার করে দিয়েছে। সেখানে উচ্চহারে সুদও পেতে পারেন। আবার এখানে বিনিয়োগও করতে পারেন। কাজেই আমি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সবাইকে আহবান করব আপনারা আসেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন। এই সম্পদ আমাদের আরও কাজে লাগান। এটাকে যাতে আমরা আরও বেশি কাজে লাগাতে পারি সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

সরকারপ্রধান বলেন, আজকের এই অ্যাকুয়া কালচার ও ‍সিফুড শো নীতি নির্ধারক, রপ্তানিকারক, স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারষ্পরিক ব্যবসায়ী সংলাপ এবং নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার একটি প্রাণবন্ত প্লাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। যা পারষ্পরিক বোঝাপড়া, অংশীদারিত্ব, জ্ঞান প্রভৃতি আদান প্রদানের ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখবে বলেই আমি মনেকরি এবং আশা করি আমাদের যুব সমাজও আরও বেশি এগিয়ে আসবে।

প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মাছ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সঙ্গে আমাদের যুব সমাজ যতবেশি যুক্ত হবে ততই এই খাতটি আরও এগিয়ে যাবে। এক্ষেত্রে এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে সহজ শর্তে ঋণ প্রদানেরও উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অ্যাকুয়াকালচার ও সিফুড রপ্তানির সম্ভাবনার আলোকে একটি প্রামান্য চিত্রও প্রদর্শিত হয়। মৎসও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শ ম রেজাউল করিম ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব সৈয়দ মাহমুদ বেলাল হায়দার স্বাগত বক্তৃতা করেন। জার্মান ভিত্তিক প্লানকোয়াডর‌্যাট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মার্টিন গেসকেস এবং বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোটার্স এসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সভাপতি কাজী বেলায়েত হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

আলোচনা পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী ‘অ্যাকুয়া কালচার ও সিফুড শো’ এর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। ১৭জুলাই থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত ঢাকার বঙ্গবন্ধু আর্ন্তজাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকুয়াকালচার অ্যান্ড সিফুড শো শুরু হয়েছে।

তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে অ্যাকুয়াকালচার ও সিফুড সম্পর্কিত বিভিন্ন সেশন অনুষ্ঠিত হবে যেখানে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে। এই আয়োজনে ১২টি দেশের ৫৪ টি স্টল রয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা), মৎস্য অধিদপ্তর, সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকুয়াকালচার অ্যান্ড সীফুড শো-২০২৪’ এর আয়োজন করেছে। এই আয়োজনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোটার্স এসোসিয়েশন সহযোগিতা করছে।


ধৈর্যকে যারা দুর্বলতা মনে করে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে: হারুন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার প্রধান (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, আমাদের সব ধরনের ব্যবস্থা আছে। তবে আমরা ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছি, এটা দুর্বলতা নয়।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে যাত্রাবাড়ী এলাকা পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের ধৈর্যকে যারা দুর্বলতা মনে করছেন তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। আমি অনুরোধ করছি আপনারা ঘরে ফিরে যান।

ডিএমপি ডিবিপ্রধান বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের মধ্যে মাদরাসার ছাত্র, ছাত্রদল, যুবদল, জামায়াত-শিবিরের লোক ঢুকে গেছে। তারা পুলিশের গায়ে হাত দিচ্ছে, ভাঙচুর করছে। আমরা কাউকে ছাড় দেবো না।

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরতদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে সকাল থেকে উত্তপ্ত ঢাকা। পুলিশ-আন্দোলনকারীদের মধ্যে বেধেছে দফায় দফায় সংঘর্ষ। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে একাধিক পুলিশ বক্স। আগুন দেওয়া হয়েছে বিটিভির ক্যানটিনে। টোল প্লাজায়ও ফের দেওয়া হয়েছে আগুন। অফিস-আদালতও থমথমে। রাস্তায় গণপরিবহন নেই বললেই চলে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হচ্ছেন না। সব মিলিয়ে উত্তাল ঢাকায় জনমনে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।


কোটা নিয়ে আনা লিভ টু আপিলের আবেদন আগামী রোববার

অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

কোটা নিয়ে আনা হাইকোর্ট রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দ্রুত শুনানির জন্য আগামী রোববার আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে। আজ বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন গণমাধ্যমকে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, কোটা নিয়ে হাইকোর্ট রায়ের বিরুদ্ধে আনা লিভ টু আপিল দ্রুত শুনানি করতে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা রোববার সকালেই বিষয়টি আপিল বিভাগে মেনশন করব। আশা করছি, জনগুরুত্ব বিবেচনায় সর্বোচ্চ আদালত আমাদের আবেদন গ্রহণ করবেন। শুনানিতে আমরা হাইকোর্ট রায় বাতিল চাইবো। কোটা সংক্রান্ত হাইকোর্ট রায়ের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষে ও শিক্ষার্থীদের পক্ষে পৃথক লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্ট রায়ের বিরুদ্ধে দুই শিক্ষার্থীর পক্ষে আজ লিভ টু আপিল (আপিল দায়েরে আবেদন) করা হয়েছে।

দুই শিক্ষার্থীর আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়েছে। এতে হাইকোর্টের রায় বাতিল বা সংশোধন চাওয়া হয়েছে।

এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, কোন সংক্রান্ত হাইকোর্ট রায়ের বিরুদ্ধে রাস্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল দায়ের করেছে। সর্বোচ্চ আদালত শুনানি শেষে এ বিষয়ে আদেশ দেবেন।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটার বিষয়ে পক্ষগুলোকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে গত ১০ জুলাই আদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ কিছু পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনাসহ এ আদেশ দেয়।

ওইদিন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, আপিল বিভাগ বিষয়টি নিয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলেছেন। অর্থাৎ, যেমন আছে, তেমন থাকবে। কোটা বাতিল-সংক্রান্ত ২০১৮ সালের পরিপত্রের ভিত্তিতে যে সব সার্কুলার দেওয়া হয়েছে, সে ক্ষেত্রে কোটা থাকছে না। আগামী ৭ আগষ্ট বিষয়টি শুনানির জন্য থাকবে।

সরকারি চাকরিতে (নবম থেকে ১৩তম গ্রেড) মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর আনা আবেদনের শুনানি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালত ১০ জুলাই আদেশ দেয়। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যেতে আহ্বান জানানো হয়।

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে ৫ জুন রায় দেয় হাইকোর্ট। ওই রায়ের ফলে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করে।

সেখানে বলা হয়েছিল, নবম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেড (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাতালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। ওই পদসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হলো। যেখানে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং জেলা কোটা ১০ শতাংশ, উপজাতি ৫ ও প্রতিবন্ধীর ১ শতাংশ কোটা বাতিল করা হয়।

এই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম তুষারসহ সাতজন হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। সে রুল যথাযথ ঘোষণা করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ বলে গত ৫ জুন রায় দেয় হাইকোর্ট।

গত সোমবার হাইকোর্টের রায় প্রকাশিত হয়। এরপর সংক্ষুব্ধরা লিভ টু আপিল দায়েরের উদ্যোগ নেন।


প্রয়োজনে সংসদে আইন হতে পারে: জনপ্রশাসনমন্ত্রী

জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। পুরোনো ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, কোটা সংস্কার নিয়ে আদালতের রায়ের পর রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ দেশের স্বার্থে কিছু করার প্রয়োজন হলে তা অবশ্যই করবে। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায় বা সিদ্ধান্তই আইন হিসেবে গণ্য হবে। প্রয়োজন হলে সংসদে আইন পাস করা হতে পারে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে একটি গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য এমন অরাজকতা করেছে গত কয়েকদিন। এআই ব্যবহার করে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে এমন অনেককে খুঁজে পেয়েছে প্রশাসন।

তিনি বলেন, আদালতের আদেশের পর যা প্রয়োজন তা করবে নির্বাহী বিভাগ। আদালতে সিদ্ধান্তের পর নির্বাহী বিভাগ তা দ্রুত কার্যকর করবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় কাজ করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

আরও বলেন, আদালতের নির্দেশ নিশ্চয়ই শিক্ষার্থীদের পক্ষে যাবে। সরকারও চায় কোটা সংস্কার। সেটা কীভাবে কতটুকু হবে তা আদালত সিদ্ধান্ত নেবে। এরপরও যদি কিছু করার প্রয়োজন হয় দেশের স্বার্থে তা অবশ্যই করবে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ।


সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন না আন্দোলনকারীরা

পুরোনো ছবি।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঢাবি প্রতিনিধি

সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব নাকোচ করে দিয়েছেন কোটা আন্দোলনের সমন্বয়েকরা। আজ বৃহস্পতিবার সংসদের টানেলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক একটি সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনকারীদের সংলাপের আহ্বান জানালে তার পরিপ্রেক্ষিতে কোটা আন্দোলনের সমন্বয়করা বলেন, খুন হওয়া তাদের ভাইয়ের রক্ত মাড়িয়ে তারা কোনো সংলাপে বসবেন না।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংবাদমাধ্যমে বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আমাকে এবং শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যখনই সময় দেবে তখনই বৈঠক করা হবে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা ভাইয়ের রক্ত মাড়িয়ে আমরা কোনো সংলাপে বসব না। এই সংলাপ আরও আগে হওয়া উচিত ছিল। এখন আর কোন সংলাপ হবে না।

আরেক সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম বলেন, কাদের সঙ্গে সংলাপে বসব? আমার ভাইদের যারা পাখির মতো গুলি করে মেরেছে তাদের সঙ্গে? তিনি বলেন, শহীদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানী করতে পারব না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ মদদে এই গনহত্যা চলছে।

আরেক সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ বলেন, গুলির সঙ্গে কোনো সংলাপ হয় না। এই রক্তের সঙ্গে বেইমানি করার থেকে আমাদের মৃত্যু শ্রেয়।


সরকার শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগোতে চায়: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সরকার শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগোতে চায় বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কোটা নিয়ে চলমান আন্দোলন বিষয়ে এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বেশ কিছু ইতিবাচক বার্তা পাওয়া গেছে। তারা বলেছে যে, তারা পড়ার টেবিলে ফিরতে চায়। আমরাও চাই তারা পড়ার টেবিলে ফিরুক। তাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তারা সরকারের কাছ থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপের মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজছে। সরকারও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগোতে চায়।’

তিনি আরও বলেন, কোটা নিয়ে আন্দোলনকারীরা আলোচনার পথে যেতে চায়। সরকারের পক্ষ থেকেও আলোচনার দরজা খোলা আছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনকারীরা সবচেয়ে ইতিবাচক যে বক্তব্যটি দিয়েছে, তা হলো- চলমান ভাঙচুর, অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদির সঙ্গে ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ কোনোভাবেই জড়িত নয়। অর্থাৎ, আন্দোলনকারীরা স্বীকার করে নিয়েছে- আন্দোলনের নামে সহিংসতা ও সন্ত্রাস হচ্ছে। এই সহিংসতা ও সন্ত্রাসকে নিন্দা জানানোর জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীও বিশ্বাস করেন শিক্ষার্থীরা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত নয়, এখানে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে পড়েছে। আন্দোলনকারীরা আরও বলেছেন, চলমান আন্দোলনে কেউ সহিংসতা করলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর দায়ভার নিবে না। আমরা মনে করি, যেহেতু আন্দোলনের ভিতরে সন্ত্রাস ও সহিংসতার উপাদানগুলো দৃশ্যমান, কাজেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মধ্যে আছে।’

আলী আরাফাত বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা পরিষ্কার বলেছে, তাদের আন্দোলনকে কেউ যেন ভিন্নখাতে প্রবাহের প্রচেষ্টা না করে। অর্থাৎ, সন্ত্রাস ও সহিংসতার মাধ্যমে তাদের আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহের অপচেষ্টা আছে- যা আমাদেরও অভিমত।’


আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি সরকার: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৮ জুলাই, ২০২৪ ১৫:৩৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে সরকার। তারা (আন্দোলনকারীরা) চাইলে যে কোনো সময় সরকার আলোচনায় বসবে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় সংসদের ট্যানেলে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংকালে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি যারা কোটাবিরোধী আন্দোলন করছেন, তারা বলেছেন আন্দোলনের পাশাপাশি তারা আলাপ-আলোচনা করতেও আগ্রহী। আমরা তাদের এই আলাপ-আলোচনার প্রস্তাবকে স্বাগত জানাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের এই প্রস্তাবকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং তাদের এই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে (আইনমন্ত্রী) ও শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা তাদের সঙ্গে বসব। তারা যদি আজকে বসতে চান, আমরা আজকেই বসতে রাজি আছি।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে ঘোষণা দিতে বলেছেন যে, কোটা সংস্কার নিয়ে ৭ আগস্ট যে মামলার শুনানিটা ছিল, সেই শুনানিটা এগিয়ে আনার জন্য ব্যবস্থা নিতে। আমি সেই মর্মে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছি, তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে আপিল বিভাগে আবেদন করবেন, যাতে মামলার শুনানির তারিখ তারা এগিয়ে আনেন।

এসময় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।


ঢাকাসহ সারা দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৮ জুলাই, ২০২৪ ১২:১৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলমান কোটা আন্দোলনের মধ্যে ঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকাসহ সারা দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, কমপ্লিট শাটডাউনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকাসহ সারা দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

কোটা আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ কমপ্লিট শাটডাউনের ব্যাপারে গতকাল বলেন, শুধুমাত্র হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ব্যতীত কোন প্রতিষ্ঠানের দরজা খুলবে না, এ্যাম্বুলেন্স ব্যতীত সড়কে কোনো গাড়ি চলবে না। সারা দেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাচ্ছি, কর্মসূচি সফল করুন।

হোয়াটসঅ্যাপে তিনি লিখেন, আমাদের অভিভাবকদের বলছি- আমরা আপনাদেরই সন্তান। আমাদের পাশে দাঁড়ান, রক্ষা করুন। এই লড়াইটা শুধু ছাত্রদের না, দলমত নির্বিশেষে এদেশের আপামর জনসাধারণের।


কমপ্লিট শাটডাউনেও চলবে মেট্রোরেল: ডিএমটিসিএল

আপডেটেড ১৮ জুলাই, ২০২৪ ০৩:৪৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ পালন করবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এ কর্মসূচির মধ্যেও যথারীতি মেট্রোরেল চলবে বলে জানিয়েছে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

গকাল বুধবার রাতে ডিএমটিসিএলের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, মেট্রোরেল নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী চলবে। মেট্রোরেল ও যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা দেয়।

এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীতে গত কয়েকদিন ধরে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে নগরবাসীসহ অফিসগামী চাকরিজীবীরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়ছেন। এ পরিস্থিতিতে তাদের একমাত্র ভরসার যানবাহন হয়ে উঠেছে এই মেট্রোরেল।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণত প্রতিদিন মেট্রোরেলে প্রায় তিন লাখ যাত্রী চলাচল করেন। কিন্তু গত কয়েক দিনে প্রতিদিন সাড়ে তিন লাখ থেকে তিন লাখ ৬০ হাজার যাত্রী মেট্রোতে চলাচল করেছেন। এর মধ্যে মতিঝিল, সচিবালয়, কারওয়ান বাজার ও উত্তরা উত্তর স্টেশনে সবচেয়ে বেশি যাত্রী ছিল।


আজ বন্ধ থাকবে মার্কিন দূতাবাস

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১৮ জুলাই, ২০২৪ ০৩:৩৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস বন্ধ থাকবে। গতকাল বুধবার রাতে ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সরকারি চাকরিতে কোটা বিরোধী চলমান ছাত্র বিক্ষোভ গত কয়েকদিন ধরে ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকা শহর, এর পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং অন্যান্য শহরজুড়ে সহিংস সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের জন্য বৃহস্পতিবার ঢাকার মার্কিন দূতাবাস বন্ধ থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকা উচিত এবং তাদের ভ্রমণের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করা উচিত। বিশেষত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশের এলাকায়। কোনো বড় সমাবেশের আশেপাশে আপনাদের বিক্ষোভ এড়িয়ে চলা উচিত এবং সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, সোয়াটের ন্যক্কারজনক হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত ও এক দফা দাবিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত বলেন, ‘যত সকাল থেকে সম্ভব কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু হবে। আর চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত।’

তিনি জানান, ‘শুধুমাত্র হাসপাতাল ও জরুরি সেবা ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের দরজা খুলবে না। অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহন ছাড়া সড়কে কোনো গাড়ি চলবে না।’

রেলপথ ও নৌপথসহ সব ধরনের যোগাযোগ পথ এই কর্মসূচির মধ্যে পড়বে বলে জানান হাসনাত। সারা দেশের প্রতিটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।


banner close