বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬
১ মাঘ ১৪৩২

যে কারণে স্টেশনে বেশি বিরতি নিচ্ছে ট্রেন

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড
৫ এপ্রিল, ২০২৪ ২০:৪৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৫ এপ্রিল, ২০২৪ ২০:৪৭

আন্তঃনগর ট্রেন স্টেশনগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তার জন্য ২ মিনিটের বেশি সময় বিরতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার। শুক্রবার স্টেশনের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বেশিরভাগ ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে দুই মিনিটের জায়গায় চার মিনিট পর্যন্ত যাত্রা বিরতি দিচ্ছে। এতে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে নামতে পারছেন। এখন প্রতিটি ট্রেন ওভারলোড হয়ে যাচ্ছে। ওভারলোড মানে শতভাগ যাত্রী যাচ্ছে প্রতিটি ট্রেনে। এই যাত্রীদের সঙ্গে বাচ্চা, লাগেজ আবার অনেক বৃদ্ধ মানুষ যাতায়াত করছে। আগে যেখানে প্রতি স্টেশনে দুই মিনিট বিরতি দিত এখন সেটা লাগে চার মিনিট। যাতে মানুষ নিরাপদে যেতে পারে। এভাবে দুই মিনিট করে ১০টা স্টপেজে বিরতি দিলে ২০ মিনিট হয়ে যাবে।

ঢাকা থেকে ট্রেন ছাড়তে ১০-১৫ মিনিট বিলম্ব হচ্ছে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঈদযাত্রায় এখন পর্যন্ত কোনো ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়নি। গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া অগ্রিম টিকিটের যাত্রায় সব ট্রেন মোটামুটি সময়মতো কমলাপুর স্টেশন ছেড়েছে। ঈদে সার্বিক বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতে একটু সময় লাগবেই। এতে যাত্রীরাই সুবিধা পাবেন।

তিনি আরও বলেন, অনেকেই বিলম্বকে শিডিউল বিপর্যয় বলে থাকে। তবে এটা শিডিউল বিপর্যয় না। একটি ২৪ ঘণ্টা অতিবাহিত না হলে কোনো ট্রেনকে শিডিউল বিপর্যয় বলা যায় না। সাধারণত এক থেকে দুই ঘণ্টা ছাড়তে দেরি হলে সেটাকে বিলম্ব বলা হয়। যেমন দুই ঘণ্টা বিলম্বে ট্রেনটি ছেড়ে গেল। এখন ঈদযাত্রায় আধাঘণ্টা বা এক ঘণ্টাকে মার্জিনাল ডিলে বলা হয়।

এদিকে আজ রেলমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিল্লুল হাকিম বলেছেন, `আসন্ন ঈদুল ফিতরের ট্রেনযাত্রীদের কোনো ভোগান্তির কথা শোনা যায়নি। ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। শান্তিতেই মানুষ বাড়িতে যাচ্ছেন। সীমিত সম্পদ দিয়ে আমরা ভালো ব্যবস্থাপনা রেখেছি। এর থেকে আর ভালো ব্যবস্থাপনা হতে পারে না। এবারের ট্রেনে ঈদযাত্রা নিয়ে যাত্রীদের কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি। ইনশাআল্লাহ ট্রেন যাত্রীরা ভোগান্তি ছাড়াই গন্তব্য পৌঁছাবে।’

বিষয়:

মিয়ানমার সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফার চিকিৎসায় প্রস্তুত রাজধানীর নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মিয়ানমার সীমান্তে সংঘটিত ঘটনায় গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফার উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস (নিনস) হাসপাতালকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শিশুটিকে ভর্তির জন্য ইতোমধ্যেই হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ রুমে একটি বিশেষ শয্যা সংরক্ষণ করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই কালক্ষেপণ না করে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হুজাইফাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং সেখানে তার মাথায় জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুলির আঘাতের কারণে শিশুটির মস্তিষ্কের একপাশে প্রচণ্ড চাপ বা ইন্ট্রাক্রেনিয়াল প্রেসার বেড়ে গিয়েছিল। এই চাপ নিয়ন্ত্রণ ও জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে তার মাথার খুলির ডান পাশ অপারেশন করে খুলে রাখার সিদ্ধান্ত নেন, যা বর্তমানে সেভাবেই রাখা হয়েছে।

হুজাইফার শারীরিক অবস্থার জটিলতা বিবেচনায় মঙ্গলবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। এই বোর্ডে নিউরোসার্জন, নিউরোলজিস্ট, শিশু বিশেষজ্ঞ, ভাস্কুলার সার্জন, আইসিইউ স্পেশালিস্ট ও অ্যানেস্থেসিওলজিস্টসহ একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন। শিশুটির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনার পর মেডিকেল বোর্ডের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই তাকে উন্নততর ব্যবস্থাপনার জন্য ঢাকায় নিনসে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বর্তমানে শিশু হুজাইফার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তার গ্লাসগো কোমা স্কেল (GCS) বা জ্ঞানের মাত্রা ১৫-এর মধ্যে মাত্র ৭-এ নেমে এসেছে, যা গভীর অচেতন অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। তার শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশন বা কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যবস্থার সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে যে, হুজাইফার চিকিৎসায় তাদের বিশেষজ্ঞ দল সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করছে এবং তার জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণে তারা প্রস্তুত।


আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহ বিস্তারের পূর্বাভাস: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার শঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের উত্তরাঞ্চলে চলমান শৈত্যপ্রবাহের বিস্তার আগামীকাল থেকে আবারও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গত দশ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা শৈত্যপ্রবাহটি বুধবার কিছুটা সীমিত পরিসরে থাকলেও আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন যে, বৃহস্পতিবার থেকে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে শীতের প্রকোপ নতুন করে শুরু হতে পারে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে আগামী শনিবার পর্যন্ত উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে পঞ্চগড় জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বুধবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগরের তেঁতুলিয়ায়, যা ছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর মাধ্যমে টানা সাত দিন ধরে তেঁতুলিয়াতেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। এর আগে মঙ্গলবার সেখানে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি, সোমবার ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি এবং রবিবার ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। এদিকে রাজধানী ঢাকাতেও তাপমাত্রার পারদ কিছুটা নিম্নমুখী। মঙ্গলবার তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও বুধবার সকালে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, গত প্রায় চার দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা কিছুটা কমতির দিকে ছিল। তবে আগামীকাল থেকে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার প্রবণতা শুরু হবে এবং তা আগামী শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর তাপমাত্রা পুনরায় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মানদণ্ড অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি এবং ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। আর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রির নিচে নামলে তা অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে গণ্য হয়।

উল্লেখ্য, আবহাওয়া অধিদপ্তর চলতি মাসের শুরুতেই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানিয়েছিল যে জানুয়ারি মাসে দেশে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যার মধ্যে একটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, তেঁতুলিয়া ও এর আশেপাশের এলাকায় বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বিরাজমান রয়েছে, যা আগামী কয়েক দিনে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।


নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভুয়া তথ্য ও গুজব মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তি মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের সহায়তা চেয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি এই সহায়তার আহ্বান জানান। প্রধান উপদেষ্টা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা সংবাদ, গুজব ও অনুমানের যে বন্যা দেখা যাচ্ছে, তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

টেলিফোন আলাপে প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, কেবল স্থানীয় সূত্র নয়, বিদেশি গণমাধ্যম থেকেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই অপপ্রচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এর জবাবে ভলকার তুর্ক জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যে তার নজরে এসেছে এবং ভুয়া তথ্যের এই ব্যাপকতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আশ্বাস দেন যে, এই সমস্যা মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে। তিনি জানান, ভুয়া তথ্য রোধে তার সংস্থা বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

উভয় পক্ষের আলোচনায় আসন্ন গণভোট, রাষ্ট্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, গুম সংক্রান্ত কমিশনের কার্যক্রম এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) গঠনের বিষয়গুলো উঠে আসে। ভলকার তুর্ক গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর সঠিক অনুসন্ধানের স্বার্থে একটি ‘বাস্তব অর্থে স্বাধীন’ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের ওপর জোর দেন। এ প্রসঙ্গে ড. ইউনূস তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ইতিমধ্যে জারি করা হয়েছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগেই নতুন করে কমিশন পুনর্গঠন করা হবে। সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এছাড়াও ফোনালাপে গুম-সংক্রান্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গটি আলোচিত হয়। প্রধান উপদেষ্টা জানান, তিনি ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসনামলে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলোর ওপর তৈরি কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই প্রতিবেদনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভলকার তুর্ক গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টার নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে তার দপ্তর গুম-সংক্রান্ত কমিশনের কাজে সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে জানান। আলাপচারিতার সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।


তরুণদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেটেড ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:৪৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুবসমাজের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে আঞ্চলিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা বাড়াতে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর জোর দেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী ‘দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা’ শীর্ষক আঞ্চলিক সম্মেলন (সার্চে-২০২৬)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অধ্যাপক ইউনূস।

তিনি বলেন, ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের শিক্ষাবিদদের একত্র হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত কয়েক মাসে ঢাকায় যা ঘটেছে, তা পর্যালোচনার একটি সুযোগ এই সম্মেলন তৈরি করেছে। এসব ঘটনা পর্যালোচনা করলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও সামগ্রিকভাবে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য আরও স্পষ্ট হবে।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অধীনে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হায়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই তরুণদের নিজেদের চিন্তা ও মনন আছে। তারা ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জীবন দিয়ে প্রতিবাদ করেছে। তিনি বলেন, কয়েক মাস আগেই এই শহরে তরুণরা কেন অস্ত্রের মুখে দাঁড়িয়ে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিল— তাদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা কী ছিল তা বোঝার চেষ্টা না করলে একটি বড় সুযোগ নষ্ট হবে।

শিক্ষার্থীদের প্রেরণার উদাহরণ হিসেবে তিনি শহীদ স্কুলছাত্র শাহরিয়ার খান আনাসের মায়ের কাছে লেখা চিঠির কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বন্ধুদের সঙ্গে রাজপথে নামাকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছিল সে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এসব ঘটনা হঠাৎ কোনো বিস্ফোরণ নয়। শ্রীলঙ্কা ও নেপালেও এমন ঘটনা ঘটেছে, তবে ঢাকায় তা ঘটেছে আরও ব্যাপকভাবে। তিনি সম্মেলন আয়োজনের জন্য বিশ্বব্যাংককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতার এমন আয়োজন সার্কের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সার্ককে আজ প্রায় ভুলে যাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সার্কের মূল ধারণাই ছিল পারস্পরিক বিনিময় ও একে অন্যের কাছ থেকে শেখা। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি সার্ক পুনরুজ্জীবনের আহ্বান জানিয়ে আসছেন এবং এ দাবি তিনি বারবার জানিয়ে যাবেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গণঅভ্যুত্থান দেশের পুরোনো কাঠামোকে ভেঙে দিয়েছে। তরুণরা নিজেদের জুলাই সনদ তৈরি করেছে এবং তারা মনে করে, দেশের সমস্যার মূল নিহিত রয়েছে সংবিধানে। সে কারণেই ভবিষ্যৎ সংবিধান নির্ধারণে গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই বাস্তবতায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এসব বিষয় শ্রেণিকক্ষে পড়ানো হয় না। অথচ তরুণরা ইতোমধ্যে নিজেদের রাজনৈতিক দল গঠন করেছে; ভবিষ্যতে তাদের কেউ কেউ সংসদে নির্বাচিতও হতে পারে, এমনকি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও পেতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা মৌলিকভাবে চাকরিকেন্দ্রিক, যা তিনি ভুল বলে মনে করেন। শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল চাকরির জন্য মানুষ তৈরি করা— এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, মানুষ জন্মগতভাবেই সৃজনশীল; সৃজনশীলতাই মানবসভ্যতার মূল শক্তি। চাকরিনির্ভর শিক্ষা সেই সৃজনশীল মানুষকে দাসে পরিণত করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য হওয়া উচিত তরুণদের উদ্যোক্তা ও পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে গড়ে তোলা, চাকরিপ্রার্থী নয়। কল্পনাশক্তিই মানুষের মূল শক্তি, আর সেই কল্পনাশক্তির জোরেই তরুণরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নে জীবন দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে। স্বাগত বক্তব্য দেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমউদ্দিন খান।


অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় চীনের ৫ নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম

আপডেটেড ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:৪৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা এবং উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় সপ্তাহব্যাপী অভিযানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার সাইবার ইউনিট পাঁচ চীনা নাগরিকসহ একটি অনলাইন প্রতারক চক্রের আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে সাইবার অপরাধে ব্যবহৃত ৫১ হাজারেরও বেশি সিম কার্ড, ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন চেন লিং ফেং, জেং কং, জেং চ্যাংকিয়াং, ওয়েন জিয়ান কিউ, হুয়াং ঝেং জিয়াং, মো. জাকারিয়া, নিয়াজ মাসুম ও কামরুল হাসান ওরফে হাসান জয়। মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিসি (সাইবার উত্তর) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের ওয়েব-ভিত্তিক অপরাধ তদন্ত দল ডিবি সাইবার সাপোর্ট সেন্টারে করা অভিযোগ তদন্ত করার সময় ঢাকায় সক্রিয় একাধিক দেশি-বিদেশি প্রতারক চক্র চিহ্নিত করেছে।

গত ৭ জানুয়ারি বসুন্ধরায় অভিযানে নিয়াজ মাসুম ও হাসান জয় গ্রেপ্তার হন। তাদের কাছ থেকে ১৪টি ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, ৫১ হাজার ৬৭টি সিম কার্ড, চারটি মোবাইল ফোন, দুটি সিপিইউ ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

পরে গত সোমবার উত্তরায় পাঁচজন চীনা নাগরিক এবং একজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে সাতটি অবৈধ ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, ৪৭টি মোবাইল ফোন, ১৮৪টি সিম কার্ড ও পাঁচটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

ডিসি জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, এই চক্র টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ ব্যবহার করে ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন, লাভজনক বিনিয়োগ, কম দামের পণ্য এবং ঘরে বসে কাজ বিজ্ঞাপন দিয়ে লোকেদের প্রলুব্ধ করত।

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ পরে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তরিত করা হতো এবং ভিওআইপি গেটওয়ে মেশিনের মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তর করা হতো।

চীনা নাগরিকদের আগমন এবং ভিসার অবস্থা নিয়ে ডিসি বলেন, যে তাদের পাসপোর্ট যাচাই করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা ডিজিটাল ডিভাইসগুলোতে চীনা সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবাদার আরও বলেন, নিয়াজ ও হাসান জয়কে এরইমধ্যে আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং বাকি গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।


খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট

আপডেটেড ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু নির্যাতন সহ্য করলেও কখনো কোনো অভিযোগ করেননি। ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি মন্তব্য করেন যে, হৃদ্যতাপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে খালেদা জিয়া সবাইকে মুগ্ধ করতেন এবং দক্ষিণ এশিয়ায় নারী হিসেবে তার নেতৃত্ব এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর উদ্যোগে সোমবার (১২ জানুয়ারি) এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মার্শা বার্নিকাট বলেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার বহুবার সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছে। চরম বিপদ ও সংকটকালীন মুহূর্তেও তিনি ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল এবং আন্তরিক। বার্নিকাট উল্লেখ করেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক প্রকৃতির মানুষ যিনি সর্বদা বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন। সাবেক এই মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন মানুষ খালেদা জিয়ার এই অবিস্মরণীয় লিগ্যাসি বা ঐতিহ্যকে স্মরণে রাখবে।

স্মরণসভায় স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, যখন দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং বিরোধী মতের কণ্ঠ রুদ্ধ ছিল, তখন খালেদা জিয়া নির্ভীক চিত্তে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মানবাধিকার রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি খালেদা জিয়ার বিগত দিনের রাজনৈতিক বন্দিত্বকে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে আরেক সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজেনাও খালেদা জিয়ার অমায়িক ব্যক্তিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, অসুস্থ শরীর নিয়ে এবং অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যেও খালেদা জিয়া তার সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। বিরোধী দলে থাকাকালেও তিনি সবার সঙ্গে যোগাযোগের পথ উন্মুক্ত ও সহজ রেখেছিলেন। মজেনা মনে করেন, খালেদা জিয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে। এছাড়া ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি মার্ক শেফ, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা এবং এপির সাবেক সম্পাদক ম্যারন বিলকাইন্ডসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এবং খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।


চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়োগ পেলেন গেজেটভুক্ত ৯ জুলাইযোদ্ধা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন গেজেটভুক্ত ৯ জন জুলাইযোদ্ধা। বন্দর কর্তৃপক্ষের বিশেষ সিদ্ধান্তের আওতায় তাদের চুক্তিভিত্তিতে এই নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সম্পাদনের মধ্য দিয়ে তাদের নিয়োগ কার্যকর হয় এবং মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ পারসোনেল অফিসারের কার্যালয় থেকে জারি করা এক দপ্তরাদেশে জানানো হয়েছে যে, বন্দরের দাপ্তরিক কাজের স্বার্থে গেজেটভুক্ত এই জুলাইযোদ্ধাদের বিভিন্ন বিভাগে ‘প্রশিক্ষণ সেবা সহযোগী’ বা ‘সহকারী’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন—আরবী মোহাম্মদ আল মিরাজ, মোহাম্মদ সাকিল, মো. মেহেরাজ হোসেন, মাহবুবুল আলম, মো. শেফাতুল কাদের, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ তারেক, মো. আমির হোসেন ও মো. ইব্রাহীম। তারা এখন থেকে চট্টগ্রাম বন্দর প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, প্রশাসন বিভাগ, নৌ-বিভাগ, নৌ-প্রকৌশল বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, হাইড্রোগ্রাফি বিভাগ, অর্থ ও হিসাব বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ এবং বন্দর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় দায়িত্ব পালন করবেন।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়াদি সম্পর্কে আদেশে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো প্রতি মাসে কর্মীদের হাজিরা শিট প্রশাসন বিভাগে প্রেরণ করবে। এর ভিত্তিতে প্রশাসন বিভাগ সেবামূল্যের বিল প্রস্তুত করে অর্থ ও হিসাব বিভাগে পাঠাবে। পরবর্তীতে অর্থ ও হিসাব বিভাগ সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মাসিক সেবামূল্য বা পারিশ্রমিক পরিশোধের ব্যবস্থা করবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চুক্তিবদ্ধ কর্মীদের আগামী সাত দিনের মধ্যে নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবের তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক জানান, জুলাইযোদ্ধাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং তাদের অবদানের কথা বিবেচনা করে এই নয়জনকে এক বছরের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রচলিত আউটসোর্সিং নীতিমালা অনুযায়ী তারা তাদের মাসিক পারিশ্রমিক বা সেবামূল্য প্রাপ্য হবেন।


সালমান শাহ হত্যা: সামীরাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২২ ফেব্রুয়ারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রখ্যাত চিত্রনায়ক সালমান শাহকে (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন ঢাকার একটি আদালত। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায়, বিচারক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

এর আগে, গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন— সালমান শাহের স্ত্রী সামীরা হক, শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদ (১৭)। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের মৃত্যুর পর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়। তবে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদী পক্ষের করা রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন।


হাসিনা-কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ৪৫৭ পৃষ্ঠার রায়টি প্রকাশ করা হয়।

১৭ নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায় দেন। রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাইয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগের ভিত্তিতে দুটি সুনির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে অপরাধের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ-১ (উসকানি ও প্ররোচনা)—২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকার’ বলে সম্বোধন করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের ফাঁসি দেওয়ার নির্দেশ ও প্ররোচনা প্রমাণিত হয়েছে, যার চূড়ান্ত ফল হিসেবে রংপুরে আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। এই অভিযোগে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অভিযোগ-২ (সরাসরি হত্যার নির্দেশ)—১৮ জুলাই শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপস ও হাসানুল হক ইনুর কথোপকথনে ড্রোনের মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয় করে হেলিকপ্টার ও মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এর ফলে ৫ আগস্ট চানখারপুলে ছয়জন এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নৃসংস ঘটনা ঘটে। এই অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও কামালকে মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসি) প্রদান করা হয়।

রায়ে আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, দণ্ডিতদের দেশে থাকা ব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সরকার বাজেয়াপ্ত করবে। এই অর্থ ও সম্পদ জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


গানম্যান পেলেন জামায়াত আমির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ব্যক্তিগত ও বাসভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে গানম্যান ও পুলিশি সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয় এবং তার প্রেক্ষিতেই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ডা. শফিকুর রহমানের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা ঝুঁকি বা হুমকি বিদ্যমান রয়েছে। এই ঝুঁকি বিবেচনায় তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একজন গানম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তার বাসভবনের সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য পোশাকধারী সশস্ত্র পুলিশ সদস্য মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই নিরাপত্তা বলয় কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) জামায়াত আমিরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিস্তারিত মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করে। ওই প্রতিবেদনে তার ওপর সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি উঠে আসে এবং এসবি নিরাপত্তা জোরদার করার সুপারিশ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠায়। মূলত সেই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সুপারিশ আমলে নিয়েই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ডা. শফিকুর রহমানের জন্য এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অনুমোদন দিয়েছে। উল্লেখ্য, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর আগেও বেশ কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাকে অনুরূপ নিরাপত্তা সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং বিএনপি নেতা মাসুদ অরুণকেও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান প্রদান করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার জামায়াতে ইসলামীর আমিরের নিরাপত্তাও জোরদার করা হলো।


পররাষ্ট্র সচিবের সাথে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকায় নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আজ মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। আগামী বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তাঁর আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র পেশ করার কথা রয়েছে। মূলত সেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বভার গ্রহণের আগে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা ও প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই তিনি আজ মন্ত্রণালয়ে আসেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় তিনি রাজধানী ঢাকায় পৌঁছান এবং বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মার্কিন দূতাবাস ও বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন চলতি সপ্তাহেই তাঁর ঢাকা মিশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করবেন। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করার আগে তিনি আগামী দুই দিন পররাষ্ট্র সচিব এবং রাষ্ট্রাচার অনুবিভাগের প্রধান নূরুল ইসলামের সাথে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। দেশটির ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে রিগাস তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণের পরই ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক বার্তার মাধ্যমে তাঁকে বাংলাদেশে স্বাগত জানায়।

ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিসের একজন অত্যন্ত জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। বাংলাদেশের সাথে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা বেশ পুরোনো। তিনি ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তাঁর গভীর জানাশোনা রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মনোনীত এই কূটনীতিক বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। তিনি বিদায়ী রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলাদেশে পুনরায় ফিরে আসতে পেরে নিজের বিশেষ অনুভূতি প্রকাশ করে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানিয়েছেন যে, তিনি এ দেশের মাটি ও মানুষের সাথে পূর্বপরিচিত এবং এখানে ফিরতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে আমেরিকান ও স্থানীয় কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী দলটিকে নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে চান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বৈশ্বিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করার পাশাপাশি একটি নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলাই তাঁর আগামীর প্রধান লক্ষ্য হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর এই নিযুক্তি ও আগমনের ফলে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।


সংস্কারের নামে পুরোনো আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই প্রতিষ্ঠার প্রবণতা: টিআইবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংস্কারের নামে পুরোনো আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকেই নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে এবং এটি রাষ্ট্র সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক অধ্যাদেশগুলোতে তার স্পষ্ট প্রতিফলন নেই বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

গতকাল সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব বিষয় জানান।

টিআইবি জানায়, শতাধিক অধ্যাদেশ জারি করে এক ধরনের রেকর্ড গড়া হলেও এসব আইনি কাঠামোর বড় অংশে জুলাই সনদের চেতনা উপেক্ষিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি ৮টি অধ্যাদেশের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

যেখানে দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা ও জবাবদিহির কাঠামো নিশ্চিত করা হয়নি বলে জানানো হয়।

ড. ইফতেখারুজ্জামানের অভিযোগ, সরকার বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ও নিজস্ব বিবেচনায় একের পর এক অধ্যাদেশ জারি করলেও অনেক ক্ষেত্রে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মৌলিক সুপারিশ উপেক্ষা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সংস্কারের নামে এমন আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যা কার্যত দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করছে এবং পুরোনো ব্যবস্থারই পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।’

ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা পালনের অংশ হিসেবে টিআইবি ধারাবাহিকভাবে আইনের খসড়া পর্যালোচনা ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দিয়ে আসছে। কিছু ক্ষেত্রে সেই সুপারিশ বাস্তবায়িত হওয়ায় সরকার ও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানালেও গুরুত্বপূর্ণ অনেক খাতে যৌক্তিক প্রস্তাব উপেক্ষিত থাকার বিষয়টি গভীর উদ্বেগের বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংস্কার অধ্যাদেশ বিশ্লেষণ করে বলেন, ‘দুদক সংস্কারে কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও দুর্নীতির মামলায় জরিমানা বা ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে সাজা মার্জনার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা তিনি ‘‘দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দেওয়ার ফাঁদ’’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।’

এ ছাড়া দুদক সংস্কার অধ্যাদেশে কমিশনার সংখ্যা বৃদ্ধি, নারী কমিশনার ও আইসিটি বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্তি এবং সরাসরি এফআইআর করার ক্ষমতাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করলেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি, অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি রোধে প্রস্তাবিত ইন্টিগ্রিটি ইউনিট বাতিল এবং পূর্ণ আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত না হওয়ার বিষয়গুলোকে গুরুতর দুর্বলতা হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এই অধ্যাদেশ একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুলিশ কমিশন গঠনের উদ্দেশ্য পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে।’ সাবেক আমলা ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাধান্য, ‘সদস্য সচিব’ পদ সৃষ্টি এবং প্রথম তিন বছরে অনির্দিষ্ট সংখ্যক সরকারি কর্মকর্তাকে প্রেষণে নিয়োগের সুযোগ দেওয়াকে তিনি সিভিল ও পুলিশি আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্ব বজায় রাখার কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেন।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংস্কার অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক খসড়াটি আন্তর্জাতিক মানের হলেও সংশোধিত সংস্করণে এসে সেই সম্ভাবনা খর্ব হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে কমিশনের আওতায় আনার উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে অন্তর্ভুক্ত করায় কমিশনের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সার্বিকভাবে টিআইবি মনে করে, সংস্কার কমিশনগুলোর বহু গুরুত্বপূর্ণ ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশ উপেক্ষা করে যে অধ্যাদেশগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে, তা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার বদলে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণকে আরও শক্তিশালী করবে। জুলাই সনদের চেতনা অনুযায়ী যদি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রকৃত সংস্কার নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে এই উদ্যোগগুলো রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হবে বলে টিআইবির আশঙ্কা।


২ লাখ কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি অনুমোদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি অর্থবছরের জন্য সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। গতকাল সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মূল এডিপির তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বরাদ্দ কমিয়ে মোট ২ লাখ কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম কয়েক মাসে প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি এবং মন্ত্রণালয়গুলোর চাহিদার তুলনায় সক্ষমতা কম থাকাই এই বড় ধরণের অর্থ সাশ্রয় বা কাটছাঁটের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংশোধিত এই উন্নয়ন বাজেটে সরকারের নিজস্ব তহবিল এবং বৈদেশিক ঋণ—উভয় খাতেই বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সরকারি অর্থায়নের অংশ থেকে প্রায় ১১ শতাংশ বা ১৬ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা। একইভাবে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ক্ষেত্রে ১৬ শতাংশেরও বেশি বা ১৪ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট করে ৭২ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও সংশোধনের সময় মন্ত্রণালয়গুলো থেকে মাত্র ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার চাহিদা জানানো হয়েছিল, তবে সরকার সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ২ লাখ কোটি টাকার একটি কাঠামো তৈরি করেছে। এতে করে সরকারি কোষাগারের ওপর চাপের ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছে অর্থ বিভাগ।

খাতভিত্তিক বরাদ্দ বিশ্লেষণে দেখা যায়, পরিবহন ও যোগাযোগ খাত বরাদ্দের দিক থেকে সবার ওপরে থাকলেও এখানেও ৩৫ শতাংশ অর্থ কমানো হয়েছে। এই খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা। এর পরেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৬ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা মূল বরাদ্দের চেয়ে ১৯ শতাংশ কম। তবে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটেছে স্বাস্থ্য খাতে; বাস্তবায়ন সক্ষমতার অভাবে এই খাতের বরাদ্দ অবিশ্বাস্যভাবে ৭৪ শতাংশ কমিয়ে মাত্র ৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। শিক্ষা খাতেও প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং কৃষি খাতে ২১ শতাংশ বরাদ্দ কমানো হয়েছে। তবে এই নেতিবাচক ধারার বিপরীতে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ খাতে বরাদ্দ প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা বর্তমান সরকারের পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকারকে ফুটিয়ে তোলে।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। সড়ক পরিবহন ও বিদ্যুৎ বিভাগও তালিকায় প্রথম দিকে রয়েছে। মোট ১ হাজার ৩৩০টি প্রকল্পের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মধ্যে বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে বিনিয়োগ প্রকল্প। পরিকল্পনা কমিশন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে যে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই অন্তত ২৮৬টি প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ করা হবে। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন যুক্ত করলে সংশোধিত এডিপির মোট আকার দাঁড়াবে ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার উপরে। সামগ্রিকভাবে, এই সংশোধিত উন্নয়ন বাজেট দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


banner close