সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান জি.এম. কাদের বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত বাংলা ভাষাভাষীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
আজ এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, সার্বজনীন উৎসব বাংলা নববর্ষ ১৪৩১ সমাগত। বাংলা নতুন বছরে দেশবাসীর প্রতি আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। পহেলা বৈশাখ মানেই হচ্ছে, পুরনো, জরাজীর্ণ এবং অশুভকে পেছনে ফেলে নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে চলা। ব্যর্থতার সকল গ্লানী মুছে দিতেই প্রতি বছর নতুন আঙ্গিকে আসে পহেলা বৈশাখ।
তিনি বলেন, সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে বিজয় রথে এগিয়ে চলতে উল্লাসে অনুপ্রেরণা যোগায় আমাদের বাংলা নববর্ষ। পহেলা বৈশাখ বাঙালীর মহা ঐক্যের দিন। এমন উৎসবমূখর দিন ধর্ম, বর্ণ, জাত বা গোত্রের সীমারেখা ভেঙ্গে একসাথে একই পথে চলতে আমাদের অনুপ্রেরণা। সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সুন্দরের জয়গানে পহেলা বৈশাখ সংহতি অনুষঙ্গ।
জি.এম. কাদের বলেন, মুঘল সম্্রাট আকবরের আমলে কর বা রাজস্ব আদায়ের জন্য বাংলা সন গণনা শুরু হয়। কিন্তু, এখন পহেলা বৈশাখ বাঙালীর সংস্কৃতি লালন ও বিকাশের অসাধারণ অধ্যায়। বাংলা নববর্ষে সবার উন্নতি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করছি।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পি কে হালদারের ভাই প্রিতিশ কুমার হালদারের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার বিরুদ্ধে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গতকাল রোববার দুদকের জনসংযোগ শাখার উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম চার্জশিট অনুমোদনের বিষয়টি জানান।
দুদক জানায়, আনান কেমিক্যাল লিমিটেডের পরিচালক প্রিতিশ কুমার হালদারের নামে ক্রয় ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ৪ কোটি ৮৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এসব সম্পদের বিপরীতে তিনি আগের ব্যবসার পুঁজি এবং ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিবিধ ব্যবসা ও ব্যক্তিগত ঋণ খাতে মোট ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা আয় দেখিয়েছেন।
তবে দুদকের তদন্তে তার ব্যবসা ও ব্যক্তিগত ঋণ হিসেবে দেখানো ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার পক্ষে কোনো রেকর্ডপত্র বা গ্রহণযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ওই অর্থকে বৈধ আয় হিসেবে গ্রহণ করেনি দুদক। দুদক মনে করে, অবৈধ আয়কে বৈধ দেখানোর উদ্দেশ্যেই অর্থের উৎস হিসেবে ব্যবসা ও ব্যক্তিগত ঋণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে প্রিতিশ কুমার হালদার ও তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে-বেনামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা এবং আয়ের উৎসের বিবরণী চেয়েছিল দুদক। ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হয়। নির্ধারিত ঠিকানায় তাকে পাওয়া না যাওয়ায় একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর সম্পদবিবরণীর মূল ফরমসহ নোটিশ তার ঠিকানায় লটকে (বাড়ির দেয়াল বা ফটকে নোটিশ ঝোলানো) জারি করা হয়। এরপরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী জমা দেননি। এতে দুদক আইনের ২৬(২) ধারায় অপরাধ হয়েছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।
দুদক আরও জানায়, প্রিতিশের নামে ব্যাংক এশিয়ার করপোরেট শাখায় থাকা একটি হিসাবেও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত ওই হিসাবে মুনাফাসহ ৪ কোটি ১৩ লাখ ১৯ হাজার ৬৩০ টাকা ৮৫ পয়সা জমা হয়। একই সময়ে বিভিন্ন কর্তনসহ উত্তোলন করা হয় ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৭৩ হাজার ৭৩৫ টাকা ৪৩ পয়সা। সব মিলিয়ে হিসাবে ৭ কোটি ৭১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬৬ টাকা ২৮ পয়সার লেনদেন হয়েছে।
এর মধ্যে ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে ওই হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তে এসব লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে অবৈধ আয় বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলা করা হয়। মামলার বাদী ছিলেন দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান। মামলাটি তদন্ত করেন দুদকের উপপরিচালক মো. শহীদুল আলম সরকার। কমিশনের তদন্ত শেষে প্রিতিশ কুমার হালদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় আদালতে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
দেশে চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন মূল্য অনুযায়ী ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে নতুন দাম নির্ধারণের তথ্য জানানো হয়।
নতুন মূল্য কার্যকরের ফলে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোল—চার ধরনের জ্বালানি তেলের দামই এক ধাপে ২০ টাকা করে বেড়েছে।
নতুন নির্ধারিত মূল্যে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হবে।
এর আগে সেপ্টেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল। তখন প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল।
অর্থাৎ নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চার ধরনের জ্বালানি তেলের প্রতিটির দাম আগের তুলনায় ২০ টাকা বেড়েছে।
সর্বশেষ বড় ধরনের জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল চলতি বছরের এপ্রিলে। তখন ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়। একই সময়ে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম যথাক্রমে ২০, ১৯ ও ১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।
এর পর সেপ্টেম্বরে দাম অপরিবর্তিত রাখার পর রোববার নতুন করে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হলো।
২০২৪ সাল থেকে দেশে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় খুচরা জ্বালানি তেলের দাম পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম, আমদানি ব্যয়, কর ও শুল্ক, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে নির্দিষ্ট সময় পরপর দাম সমন্বয় করা হয়।
নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এবারও এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি তেলের খুচরা মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে হার্টের রিং বা করোনারি স্টেন্ট বিক্রি এবং রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও খতিয়ে দেখেছে সংস্থাটি।
রোববার দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের একটি দল জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এ অভিযান পরিচালনা করে। দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদক সূত্র জানায়, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নির্ধারিত নতুন মূল্য কার্যকর না করে হাসপাতালে হার্টের রিং বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ কমিশনের কাছে আসে। অভিযোগে বলা হয়, নির্ধারিত মূল্যের বাইরে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসা ও সেবা নিতে গিয়ে রোগীদের হয়রানির অভিযোগও পাওয়া যায়।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অভিযানের সময় সম্প্রতি হাসপাতালে যেসব রোগীর হার্টের রিং পরানো হয়েছে, তাঁদের চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করে দুদকের দল। নির্ধারিত নতুন মূল্যে স্টেন্টের দাম নেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে দৈবচয়ন বা র্যান্ডম ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রোগীদের নথি সংগ্রহ করা হয়।
দুদকের কর্মকর্তারা রোগীদের কাছ থেকেও তথ্য নেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকা হার্টের রিং পরানো রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত কোনো অর্থ নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়।
একই সঙ্গে চিকিৎসা ও অন্যান্য সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে রোগীদের কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করে এনফোর্সমেন্ট টিম।
দুদক জানিয়েছে, অভিযানকালে পাওয়া তথ্য ও সংগৃহীত নথিপত্র এখন বিশদভাবে যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ করা হবে। স্টেন্টের নির্ধারিত মূল্য, রোগীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ এবং সংশ্লিষ্ট নথির মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে এনফোর্সমেন্ট টিম।
সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের পর দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে। ওই প্রতিবেদনে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হবে।
দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এনফোর্সমেন্ট টিমের প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ৩৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিউইয়র্ক যাচ্ছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।
পররাষ্ট্রসচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী থাকবেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও নিউইয়র্কে জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি সেখান থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগ দেবেন। এ ছাড়া সান ফ্রান্সিসকোতে একটি অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পর্যায়ের একজন প্রতিনিধি অংশ নেবেন।
সফরসঙ্গীদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত রয়েছেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরামও রয়েছেন বলে পররাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান নিউইয়র্ক থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগ দেবেন। সফর ও প্রতিনিধিদলের নিরাপত্তা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্রসচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটি বর্তমান সরকারের প্রথম অংশগ্রহণ। সফরের মধ্য দিয়ে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সফরসূচি অনুযায়ী ২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন। এরপর ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেনের আয়োজনে বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলাবিষয়ক একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেবেন।
একই দিন বিকেলে জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘Climate Action and the Just Transition’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক বৈষম্য ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো এবারের সফরে গুরুত্ব পাবে।
২৪ সেপ্টেম্বর অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সংকট, জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্ব পাওয়ার কথা রয়েছে।
জাতিসংঘের কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রীর দেশের উদ্দেশে নিউইয়র্ক ছাড়ার কথা রয়েছে।
সিগারেট, ওষুধ, মোবাইল ফোন, ব্যাংকিংসহ গুরুত্বপূর্ণ ১১টি উৎপাদন ও সেবা খাতে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এখন থেকে এসব খাতের নিবন্ধিত ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানকে এনবিআরের নির্ধারিত ই-ভ্যাট পোর্টালের মাধ্যমে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হবে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এনবিআরের ভ্যাট অনুবিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে। আদেশে স্বাক্ষর করেছেন এনবিআরের সদস্য (মূসক নীতি) মো. আজিজুর রহমান।
এনবিআরের আদেশে বলা হয়েছে, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ৬৪(৫) ধারা এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ১১৮ক অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত ১১টি খাতের ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানকে এখন থেকে নির্দিষ্ট ই-ভ্যাট পোর্টাল ব্যবহার করে বাধ্যতামূলকভাবে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
নতুন এ বাধ্যবাধকতা উৎপাদন পর্যায়ের আটটি এবং সেবা পর্যায়ের তিনটি খাতে কার্যকর হবে।
উৎপাদন খাতের আটটি পণ্য হলো—সিগারেট, মোবাইল ফোন, এমএস পণ্য, ওষুধ, পানীয়, সিমেন্ট, টাইলস এবং রং ও বার্নিশ।
সেবা খাতের তিনটি হলো—বীমা, ব্যাংকিং ও নন-ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদানকারী খাত।
এনবিআর বলেছে, তালিকাভুক্ত এসব পণ্য বা সেবা সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত নিবন্ধিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অনলাইন রিটার্ন দাখিলের নিয়ম মানতে হবে।
আদেশে অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তালিকায় থাকা কোনো পণ্য বা সেবা সরবরাহের পাশাপাশি কোনো নিবন্ধিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অন্য কোনো ব্যবসা বা সেবা কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত থাকলে তার ক্ষেত্রেও অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা প্রযোজ্য হবে।
অর্থাৎ, নির্ধারিত ১১টি খাতের কোনো একটি খাতে কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি একই প্রতিষ্ঠান অন্য ব্যবসায় যুক্ত থাকলেও অনলাইন রিটার্ন দাখিলের নিয়ম থেকে তা বাদ যাবে না।
এনবিআরের নতুন আদেশে আরও বলা হয়েছে, অনলাইনে দাখিলপত্র জমা বাধ্যতামূলক করা সংক্রান্ত আগে জারি করা সব আদেশ এ বিজ্ঞপ্তি জারির পর থেকে বাতিল বলে গণ্য হবে।
এর ফলে নতুন আদেশটিই সংশ্লিষ্ট খাতগুলোর অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে কার্যকর নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হবে।
আদেশে এনবিআর তার এখতিয়ারও স্পষ্ট করেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে তালিকায় নতুন কোনো খাত যুক্ত করা অথবা বিদ্যমান কোনো খাত বাদ দেওয়ার ক্ষমতা রাজস্ব বোর্ড সংরক্ষণ করেছে।
এ সিদ্ধান্তের ফলে গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন ও সেবা খাতের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়া আরও বেশি অনলাইননির্ভর হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত খাতের ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে এনবিআরের নির্দিষ্ট ই-ভ্যাট পোর্টালের মাধ্যমে রিটার্ন দাখিলের প্রস্তুতি নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।
এ সফরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তার দেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কয়েকটি দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রথমত, বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আবার, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তাই, এটি আমাদের জন্য একদিকে যেমন বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, অন্যদিকে তেমনি বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন। এসব বৈঠক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
নিউইয়র্কে তারেক রহমানের সফরসঙ্গীর সংখ্যা নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হচ্ছেন ৩৫ জন। তাদের মধ্যে থাকবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। আরও থাকবেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব গোলাম মহিউদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিউইয়র্কে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তার আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু করবেন। সকালে তিনি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্যে জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে স্বাগত প্রাতঃরাশে যোগ দেবেন। এরপর তিনি এবারের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করবেন। সন্ধ্যায় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাঁদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী ২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন। এরপর তিনি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে এবং স্পেন কর্তৃক আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা বিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য রাখবেন। বিকেলে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন।
তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর এবারের অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। এ সভায় তিনি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লস অ্যান্ড ড্যামেজ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান তুলে ধরবেন।
প্রধানমন্ত্রী একইদিন বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন। তিনি ২৩ সেপ্টেম্বরে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক সাইড ইভেন্টে রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন।
তিনি ২৪ সেপ্টেম্বরে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক আরেকটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। এসময় তিনি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন এবং স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করবেন।
সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে ।
এছাড়া, অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে তিনি ওয়াল স্ট্রিট ও মেটাসহ আরো কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পররাষ্ট্র সচিব আশা প্রকাশ করে বলেন, সামগ্রিকভাবে এই সফর বাংলাদেশের নতুন সরকারের নতুন যাত্রাকে বিশ্বপরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আমরা বিশ্বকে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল, শান্তিপ্রিয় ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশের বার্তা দিতে চাই।
সূত্র: বাসস
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাক্ষাৎকালে উপাচার্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমের সার্বিক চিত্র রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর গত দুই বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এর মাধ্যমে যেসব পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে, সেসব বিষয়েও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন তিনি।
এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জেলাভিত্তিক পারফর্মিং আর্টস কলেজ প্রতিষ্ঠা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ, দ্রুততম সময়ে পরীক্ষার ফল প্রকাশ, ইংরেজি ও আইসিটি শিক্ষাকে আরও গুরুত্ব দেওয়া, দেশব্যাপী শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি প্রান্তিক অঞ্চলের কলেজগুলোর শিক্ষার মান উন্নয়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব উদ্যোগের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে চ্যান্সেলর হিসেবে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা প্রদানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকালে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ বাস্তবায়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হয়। কারিকুলাম ও সিলেবাস সংস্কারের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, কর্মমুখী ও সময়োপযোগী করার জন্য ইতিমধ্যে গৃহীত উদ্যোগগুলোর কথাও তুলে ধরেন ভাইস-চ্যান্সেলর।
প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন, স্নাতক পূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. আশেক কবির চৌধুরী, রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক মো. আমিনুল আক্তার এবং অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা দপ্তরের পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে আজ সকালে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. মঈনুল হাসান।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসস-কে এ তথ্য জানান।
রাষ্ট্রপতি এ সময় উপকূলীয় এলাকার আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষা, মাদক, চোরাচালান ও মানবপাচার রোধ, মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা ও পানি দূষণ রোধে কোস্টগার্ডকে আরো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল ও সমুদ্রসীমা রক্ষায় কোস্টগার্ডকে একটি আধুনিক ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ লক্ষ্যে বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সদস্যদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।
তিনি এ সময় দেশের সমুদ্রসীমায় অবৈধ মৎস্য আহরণ রোধে কোস্টগার্ডকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক বাহিনীর সামগ্রিক কার্যক্রম এবং বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন পেট্রোল বোট ও আধুনিক রেসকিউ হেলিকপ্টার সংগ্রহ এবং এভিয়েশন উইং স্থাপনের অগ্রগতির বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক। রাষ্ট্রপতি তাকে বাহিনীর উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে সচিববৃন্দ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নিজের প্রথম ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা এবং প্রধান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই ভাষণে গুরুত্ব পাবে দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকট।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন। সেই সঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর উপলক্ষে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভাষণের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে কথা বলবেন। এছাড়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা, তরুণ ও নারী ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির সমতাভিত্তিক ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এই ভাষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে তারেক রহমানের এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক এই সর্বোচ্চ মঞ্চে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ পথচলা তুলে ধরার প্রথম সুযোগও।
সাধারণ অধিবেশনে ভাষণের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি নতুন করে আকর্ষণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সংকট সমাধানের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী জোরালো সহযোগিতা গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন তিনি।
এ উদ্দেশ্যে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সাইড ইভেন্টে যোগ দেবেন তিনি। সেখানে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের যত দ্রুত সম্ভব মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইবেন তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব রোহিঙ্গা সংকটকে একটি ‘চলমান সমস্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বিশ্বনেতাদের এই সম্মেলনে সংকটের ভয়াবহতা ও নানা চ্যালেঞ্জ আবারও তুলে ধরবে বাংলাদেশ।
সিয়াম বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের ব্যাপকতা, এর ফলে তৈরি হওয়া চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশের কী ধরনের আন্তর্জাতিক সাহায্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন, তা আমরা বিশ্ব দরবারে আবারও পেশ করব।’
বাংলাদেশ সবসময় বলে আসছে, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই উপায়ে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোই এই সমস্যার একমাত্র স্থায়ী সমাধান।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বড় অগ্রাধিকার পাবে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও। এই ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায় বাংলাদেশ।
আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
পরের দিন তিনি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে তৈরি হওয়া অস্তিত্বের ঝুঁকি সংক্রান্ত আরেকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন।
জলবায়ুসংক্রান্ত এসব বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর উদ্বেগ তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি পূরণ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের ওপর তিনি জোর দেবেন।
সাধারণ পরিষদের ভাষণে বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার স্পষ্ট করবেন তিনি। পাশাপাশি তরুণ ও নারী ক্ষমতায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানাবেন।
বর্তমানে বিদ্যমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোর কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধানের জন্য বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারকেও গুরুত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বরে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক আরেকটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। এসময় তিনি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন এবং স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করবেন।
আসাদ আলম সিয়াম জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে জাতিসংঘের মূল কর্মসূচিগুলোকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর বাইরে দ্বিপক্ষীয় ও অন্যান্য বৈঠকের সময়সূচি পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারিত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে কুয়েতের ক্রাউনপ্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান।
এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে মেটা ও ওয়াল স্ট্রিটসহ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। আগামীকাল নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সব কর্মসূচি শেষ করে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
সূত্র: বাসস
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ, সংসদীয় কূটনীতি এবং জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্পিকার উল্লেখ করেন, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে অকৃত্রিম বন্ধুত্বের সূচনা হয়েছিল, তা সময়ের পরিক্রমায় আরও সুসংহত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইতালি বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের অন্যতম প্রধান গন্তব্য এবং দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি ইতালি সরকার সর্বদা আন্তরিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছে। স্পিকার বলেন, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন করেছে, যা বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ককে গভীরতর করেছে। তিনি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ায় ইতালির প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সাথে দেশের সামরিক আধুনিকায়নে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন শিল্প যন্ত্রপাতি সরবরাহে ইতালিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে অভিহিত করে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন স্পিকার।
ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বাংলাদেশকে দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বন্ধু উল্লেখ করে জানান, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় রোমের অবিচল সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, সংসদীয় কূটনীতি জোরদারের লক্ষ্যে উভয় দেশের সংসদের মধ্যে ‘সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ’ গঠন এবং সংসদীয় প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফর বিনিময়ে ইতালি সরকার অত্যন্ত আগ্রহী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত সামগ্রী ও সিরামিক পণ্য ইতালিতে রপ্তানি হচ্ছে।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও খননকাজে সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। স্পিকার এ সময় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মজুত থাকা হাইড্রোকার্বন ও জ্বালানি সম্পদ আহরণে ইতালির বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের আহ্বান জানান।
উক্ত বৈঠকে ঢাকাস্থ ইতালি দূতাবাসের কূটনৈতিক প্রতিনিধিবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন।
আজ রোববার বেলা ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি সস্ত্রীক সৌদি আরব থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৩৬ ফ্লাইটযোগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।
উল্লেখ্য, পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে গত ১৪ সেপ্টেম্বর চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি সস্ত্রীক ঢাকা ত্যাগ করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বৈশ্বিক এই সর্বোচ্চ সম্মেলনে তিনি মাতৃভাষা বাংলায় ভাষণ দেবেন। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। সফর উপলক্ষে আগামীকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে বক্তব্য রাখতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে তাঁর পিতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ভাষণ দিয়েছিলেন। ফলে এবারের অংশগ্রহণটিকে জিয়া পরিবারের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া বর্তমান সরকারের এটিই প্রথম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেওয়া এবং একই সঙ্গে এবারের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, যা এই সফরকে বিশেষ কূটনৈতিক তাৎপর্য এনে দিয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রী তাঁর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ওই দিন তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত বিশ্বনেতাদের স্বাগত প্রাতঃরাশ ও অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্ব ছাড়াও মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনায় উপস্থিত থাকবেন। ২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা ও মানবিক সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেন কর্তৃক আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য দূরীকরণ বিষয়ক এক বিশেষ সভায় তিনি বক্তব্য দেবেন। এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিবের উচ্চপর্যায়ের সংলাপ ‘Climate Action and the Just Transition’-এ যোগ দেওয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এক পার্শ্ববৈঠকে অংশ নিয়ে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা আহ্বান করবেন তিনি।
পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাবৃদ্ধিজনিত হুমকি মোকাবিলা শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, অভিযোজন এবং ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ নিশ্চিতের মাধ্যমে জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরবেন। এদিন বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মূল সাধারণ বিতর্কে তিনি বাংলায় জাতীয় বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। যেখানে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, জলবায়ু সংকট, আন্তর্জাতিক শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো প্রাধান্য পাবে। এর বাইরে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক অপর একটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানেও তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
অধিবেশনের ফাঁকে বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির অংশ হিসেবে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সসহ ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সূচি রয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারে তিনি ওয়াল স্ট্রিট ও মেটাসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করে বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদন ও অবকাঠামো খাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের আহ্বান জানাবেন। সফর শেষে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিনিধিদলসহ আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।
আলোচিত রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতোই কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়াও দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে দেশের সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রামিসা হত্যার বিচারের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচার দ্রুত করতে পারবো। বিচার করবে আদালত, আমরা সব সহযোগিতা করবো।”
তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি আরও জানান যে, ঘটনার পর নিহতের মায়ের ব্যবহৃত যে মোবাইল ফোনটি নিখোঁজ ছিল, তা সন্দেহভাজন অভিযুক্ত তুহিনের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামের তিন তরুণকে ইতোমধ্যে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের ১৩ বছর বয়সী সন্তান অপ্রতীম। নিখোঁজের এক দিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের গভীর এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে রবিবার সকাল সোয়া ১১টায় কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে অপ্রতীমকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এর আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নিয়ে কিশোর অপ্রতীমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অনতিবিলম্বে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।