ভোরের প্রথম সূর্য উদয়ের মধ্যে দিয়ে শুরু হবে বাংলা ক্যালেন্ডারের নতুন আরেকটি বছর। কালের আবর্তে হারিয়ে যাবে একটি বছর। প্রতিবছরই বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন রমনার বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনে চলে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়ার নানান যজ্ঞ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালিরা মেতে ওঠে নব আনন্দে নতুনকে বরণ করে নেওয়ার এক উৎসবে। রমনার বটমূল থেকে গান-কবিতায় বরণ করা হবে বাংলা নতুন বছর ১৪৩১।
গতকাল শনিবার সকাল ১০টা থেকে রমনার বটমূলে অনুশীলন করেন সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র ছায়ানটের শিল্পীরা। ১৭০ জন শিল্পী মঞ্চে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অনুশীলন করেছেন। মূলত শব্দ ব্যবস্থাপনা, কারিগরি ব্যবস্থা ও মঞ্চের সঙ্গে শিল্পীদের অভ্যস্ত করাই ছিল গতকালকের এ মহড়ার মূল উদ্দেশ্য। তৈরি করা হয়েছে একসঙ্গে সব শিল্পীর বসার মতো করে মঞ্চ। বসানো হয়েছে পাটাতন। বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে নির্দিষ্ট সীমানাও।
বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে ছায়ানটের পক্ষ থেকে যাদের প্রবেশের বিশেষ কার্ড দেওয়া হয়েছে, তারাই শুধু সীমানার ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন। অন্য সবাই বর্ষবরণের এ আয়োজন উপভোগ করতে পারবেন নিরাপত্তাবেষ্টনীর বাইরে বসেই।
আজ রোববার ভোরে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ৩০টি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানাবেন ছায়ানটের শিল্পীরা। তাদের সঙ্গে নগরবাসীও নতুন বছরে বরণ করে নিবেন সুরে সুরে। ভোরের আলো ফুটতেই আহীর ভৈরব রাগে বাঁশির সুরে এবারের নতুন বছর আবাহনের শুরু হবে। পুরো অনুষ্ঠান সাজানো হয়েছে নতুন স্নিগ্ধ আলোয় স্নাত প্রকৃতির গান, মানবপ্রেম-দেশপ্রেম আর আত্মবোধন-জাগরণের সুরবাণী দিয়ে। এবারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও বেশ ভালোভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা যায়। রমনার বটমূলে মূল আয়োজনটি হলেও পুরো রমনায় শব্দযন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। একটু পরপর বসানো হয়েছে মাইক। যাতে দূর থেকেও শোনা যায় বর্ষবরণের আহ্বান। এদিকে রমনার বটমূলের নিরাপত্তার দিকটি নিশ্চিত করতে সেখানে আছেন র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা। পুরো এলাকাজুড়ে বসানো হয়েছে সিসিটিভি। আছে ডগ স্কোয়াডও।
দেশের অন্যতম প্রধান সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র ও সংগীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছায়ানটের আয়োজনে বর্ষবরণের সংগীতানুষ্ঠান হয়ে আসছে ১৯৬৭ সাল থেকে। এরপর কেবল ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় এ অনুষ্ঠান হয়নি। করোনা মহামারির সময় দুই বছর হয়েছে অনলাইনে। তাছাড়া কখনও রমনার বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন বাদ পড়েনি।
বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ প্রত্যাহার করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
রোববার (২৯ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রিপেইড মিটারে চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ ছিল। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছি। গ্রাহকবান্ধব বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে আমরা দ্রুতই এই মিটার চার্জ পদ্ধতি তুলে দিচ্ছি।
বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা মিটার ভাড়া হিসেবে দিতে হয়। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করে আসছিলেন, মিটারের দাম উঠে যাওয়ার পরও বছরের পর বছর এই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও এই চার্জ প্রত্যাহারের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছিল।
বর্তমানে প্রিপেইড মিটারে প্রতি কিলোওয়াটে মাসিক ডিমান্ড চার্জ ৪২ টাকা এবং সিঙ্গেল ফেজে মিটার ভাড়া ৪০ টাকা। এই চার্জের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়।
দেশের ১১ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বর্তমানে দায়িত্বরত ১১ জেলা প্রশাসককে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসকরা হলেন, রাজশাহীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব কাজী শহিদুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লুৎফুন নাহার, খুলনায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের হুরে জান্নাত, মাদারীপুরে অর্থ বিভাগের উপসচিব মর্জিনা আক্তার, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারি প্রিন্টিং প্রেসের উপপরিচালক আবু সাঈদ, চাঁদপুরে জ্বালানি ও খানিজ সম্পদ বিভাগের আহেমদ জিয়াউর রহমান, হবিগঞ্জে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জি এম সরফরাজ, নরসিংদীতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ইসরাত জাহান কেয়া, মেহেরপুরে সংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের শিল্পী রানী রায়, লালমনিরহাটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বিভাগের রাশেদুল হক প্রধান, বান্দরবানে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের সানিউল ফেরদৌস।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু হয়েছে। রোববার বেলা ৩টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। গত ১৫ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন ২৯ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছিল।
এই অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন’ এবং ‘গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫’ নিয়ে। বিরোধী দল জামায়াতসহ তাদের জোটের সদস্যরা এ বিষয়ে আলোচনার দাবি করেছেন। ইতোমধ্যে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে একাধিক নোটিশ জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ছাড়া দিনের কর্মসূচিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন কার্যালয় এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রশ্নোত্তর পর্ব রয়েছে। জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণের (বিধি-৭১) আওতায় প্রাপ্ত নোটিশগুলোর নিষ্পত্তি হয়েছে। এবারের অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল ১২ মার্চ। প্রথম দিনে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যদের মধ্যে ১১ জন বিএনপি, ৩ জন জামায়াতের। ১৩৩টির মধ্যে ১১৩টি অধ্যাদেশে ইতোমধ্যে একমত হয়েছে সরকারি ও বিরোধী দল। বাকি ২০টি অধ্যাদেশ নিয়ে কমিটির তৃতীয় বৈঠক আজ রাতে অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান অনুযায়ী, অধ্যাদেশ পাস না হলে ৩০ দিনের মধ্যে তা বাতিল হয়ে যাবে। তাই আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো পাস হতে হবে।
সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঠিক সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিতে ঝটিকা সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৯ টা ৫ মিনিটে নিজ কার্যালয়ের নিচে এসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তখন সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবন থেকে পায়ে হেঁটে ৬ নম্বর ভবনে যান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী সেখানে জ্বালানি মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। যথাসময়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিত নিশ্চিতের বিষয়ে খোঁজ খবর নেন তিনি।
পরে ৫ নম্বর ভবনের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং ৩ নম্বর ভবনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করেন। এরপর সকাল ১০টার দিকে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন সরকার প্রধান। কৃষক কার্ডের ডেমো প্রদর্শন বৈঠকে অংশ নেন তিনি।
সরকারি সফরে শনিবার (২৮ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
রোববার আইএসপিআরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সফরে সেনাবাহিনী প্রধান জর্জিয়া স্টেট ক্যাপিটলের উদ্যোগে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রশংসনীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি সম্মাননা প্রস্তাব গ্রহণ এবং সিনেট চেম্বারে বিশেষ লেকচার অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সেনপ্রধানের অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাতে দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি ৩৪৮-এর কার্গো কম্পার্টমেন্টের টয়লেট প্যানেলের ভেতর থেকে ১৫৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এগুলোর মোট ওজন ১৭ কেজি ৯০১ গ্রাম এবং বাজার মূল্য প্রায় ৩৮ কোটি টাকা।
বিমানবন্দর কাস্টমস সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ফ্লাইটটিকে অবতরণের পর থেকেই নজরদারিতে রাখেন। অবতরণের পর এভসেকের সহায়তায় কার্গো কম্পার্টমেন্ট তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে টয়লেট প্যানেলের ভেতর সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় স্বর্ণের বারগুলো উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত স্বর্ণ বিমানবন্দর কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান আছে।
জাতীয় সংসদের চলমান প্রথম অধিবেশন মুলতবির পর আজ থেকে পুনরায় শুরু হচ্ছে। বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এই বৈঠক শুরু হবে।
এর আগে গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশন ঈদুল ফিতর ও অন্যান্য ছুটির কারণে ১৫ মার্চ মূলতবি করা হয়। সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের তৃতীয় দিনে মূলত প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা এই আলোচনায় অংশ নেবেন। এছাড়া মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব ও জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন ও সেই নোটিশের ওপর আলোচনার আলোচনার কর্মসূচি রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনা হবে। সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা এতে অংশ নেবেন। সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অধিবেশন চলবে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আইসিইউ ভেন্টিলেটরের অভাবে ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, ‘এতগুলো শিশুর মৃত্যু হয়েছে, অথচ আমাদের জানানো হয়নি যে ভেন্টিলেটর নেই। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত।’
শনিবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে চিকিৎসার নৈতিকতাবিষয়ক এক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘এতগুলো শিশুর মৃত্যু হয়েছে, অথচ আমাদের জানানো হয়নি যে ভেন্টিলেটর নেই- এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাকে ফাঁসির কাষ্ঠে চড়ানো উচিত। ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে তিনি পরিচালকের বিরুদ্ধে এমন মন্তব্যও করেন।
মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি সরাসরি হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে কথা বললেও প্রথমে তা অস্বীকার করা হয়। তবে পরবর্তীতে পাওয়া প্রতিবেদনে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যই সঠিক প্রমাণিত হয়। সরকারি প্রক্রিয়ায় সময় লাগায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভেন্টিলেটর সংগ্রহের কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
হাসপাতালের পরিচালক ভেন্টিলেটর সংকটের বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেননি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কয়েকজন ওষুধ প্রস্তুতকারকের সহায়তায় ইতোমধ্যে তিনটি ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আরও দুটি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। এসব ভেন্টিলেটর সরকারি অর্থে নয়, বেসরকারি সহায়তায় আনা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসকদের পেশাগত আচরণ ও নৈতিকতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, রোগীরা চিকিৎসকদের ওপর গভীর আস্থা রাখেন। তাই, তাদের আচরণ ও সেবায় আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। অতিরিক্ত কাজের চাপ ও ক্লান্তির কারণে চিকিৎসায় ভুল হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক আচরণের অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে হালনাগাদ জ্ঞান অর্জন এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। নিজের চিকিৎসাসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার এড়ানো সম্ভব, যদি সঠিক পরামর্শ ও বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।
সামগ্রিকভাবে, স্বাস্থ্য খাতে সেবার মান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। শনিবার দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বার্তায় এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়েছে, একটি ইউএস ভিসা থাকা মানেই যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের নিশ্চয়তা শতভাগ নয়। একজন ভ্রমণকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন কি না এবং কতদিন সেখানে অবস্থান করতে পারবেন, তার শর্তাবলি নির্ধারণ করেন সংশ্লিষ্ট প্রবেশস্থলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা। অর্থাৎ, ভিসা থাকা সত্ত্বেও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা চাইলে যে কাউকে প্রবেশে বাধা দিতে পারেন।
দূতাবাস আরও সতর্ক করে জানায়, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করা বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে কাজ করা (যেমন পর্যটক ভিসায় চাকরি করা) গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বার্তায় বলা হয়, ভিসার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্পূর্ণভাবে ভ্রমণকারীর দায়িত্ব। নিয়ম মেনে অবস্থান এবং সময়মতো দেশে ফিরে আসার ওপরই ভবিষ্যতে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করে।
সম্প্রতি অতিরিক্ত সময় অবস্থান ও ভিসা জালিয়াতি ঠেকাতে সচেতনতা বাড়ানোর অংশ হিসেবে দূতাবাস নিয়মিত এমন বার্তা দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) ১২তম মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ। শনিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। তিনি র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
র্যাব সদরদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মো. আহসান হাবীব পলাশ ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। তিনি রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি থেকে এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তার দীর্ঘ ও বর্ণিল কর্মজীবনে পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
কর্মজীবনে আহসান হাবীব পলাশ ৪ এপিবিএন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) ছাড়াও রাঙামাটি, শরীয়তপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হেডকোয়ার্টার্সে প্রশাসনিক ও তদন্ত কার্যক্রমে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন তিনি। পদোন্নতি সূত্রে তিনি চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তার কাজের ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় কসোভো, লাইবেরিয়া, সুদান ও দক্ষিণ সুদানে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ পুলিশে অনন্য সেবাদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল’ (বিপিএম-সেবা) পদকে ভূষিত হন।
শিক্ষাজীবনে মো. আহসান হাবীব পলাশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসএস (সম্মান) এবং এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়া থেকে বিভিন্ন উচ্চতর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশু রোগী বাড়ছে। এই দুই হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী মেডিকেলের শিশু ওয়ার্ড থেকে হামে আক্রান্ত যে চার শিশুকে গত বৃহস্পতিবার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল, তাদের তিনজনই মারা গেছে। বেঁচে থাকা শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে শনিবার বিকেলে আইসিইউয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও তিন শিশুকে আইসিইউয়ে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ দিনে ১০৫ জন হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে তিন শিশুর।
রাজশাহী: রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হাম রাজশাহী অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় ১৮ মার্চ রাজশাহী বিভাগের ১৫৩ রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪ জনের হাম পজিটিভ পাওয়া গেছে। আক্রান্তের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। তার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনায় সংক্রমণ বেশি হয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র শঙ্কর কে বিশ্বাস বলেন, শনিবার থেকে ২৪ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে আইসোলেশন কর্নার করা হয়েছে। সেই কর্নারে রেখে হামের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাবিবুর রহমান বলেন, তিনি পরিস্থিতি দেখতে পাবনায় গিয়েছিলেন। পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের অবস্থা বেশি খারাপ। পাবনা সদর হাসপাতালে ২৬ জন হামের রোগী ভর্তি ছিল। আলাদা ওয়ার্ডে রেখে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাবিবুর রহমান আরও বলেন, বিভাগের সব জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা হাসপাতালগুলোয় তিনি আগেই নির্দেশনা দিয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনায় আক্রান্ত রোগীদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি সামলাতে গত ২৪ মার্চ হাম আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাসপাতাল প্রশাসন। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের তিনটি পৃথক কক্ষ করা হয় হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য। ‘হাম/মিসেলস কর্নার’ নামে ১০ শয্যাবিশিষ্ট কক্ষগুলোতে একটি মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে শিশুদের। তবে কক্ষগুলোতেও রোগী সংকুলান হচ্ছে না।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩০ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডকে তিনটি ভাগে ভাগ করে শিশু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। দুটি ওয়ার্ডকেই শিশু ওয়ার্ড বলা হয়। এই শিশু ওয়ার্ডে সব ধরনের শিশু রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। বেলা তিনটার দিকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে শিশু রোগীদের ভিড় দেখা যায়। শয্যা, মেঝে ও বরান্দা—সর্বত্র রোগী। ৬০ রোগীর শয্যার বিপরীতে এখানে তিনশ–চারশর বেশি রোগী ভর্তি থাকে সব সময়, এমনটি জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এই হাসপাতালে ময়মনসিংহ জেলা ছাড়াও শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, টাঙ্গাইল, কুড়িগ্রাম, কিশোরগঞ্জ ও গাজীপুরের কিছু অংশ থেকে রোগী ভর্তি করা হয়। বিকেল চারটা পর্যন্ত হাসপাতালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ৪৬ জন, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দুটি ইউনিটে ২৩ জন চিকিৎসাধীন। চলতি মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ১০৫ জন শিশু।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৪৬ জন শিশু রোগী হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। নির্ধারিত একটি কক্ষে ১০ জন হাম আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার কথা থাকলেও তাতে ধরছে না রোগী। এক বিছানায় দুই রোগীর চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, ধারণক্ষমতার বেশি রোগী থাকায় অন্য রোগীদের সঙ্গেই হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে।
শিশু বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার মাজহারুল আমিন বলেন, ‘হামের টিকা নিয়েছে এবং নেয়নি, দুই ধরনের রোগীই আমরা পাচ্ছি। এখন পর্যন্ত কোনো রোগীকে আইসিইউতে পাঠানোর মতো পরিস্থিতি হয়নি। কয়েক মাস ধরে দুয়েকজন রোগী পাওয়া গেলেও এ মাসেই বেশি রোগী পাওয়া যাচ্ছে। তিনটি পৃথক কর্নার করা হলেও সেখানে রোগী না ধরায় হাম আক্রান্ত রোগীদের শতভাগ আইসোলেশনে রাখা যাচ্ছে না। এ ছাড়া অন্য রোগীদেরও চাপ রয়েছে।’
শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান জানান, হাসপাতাল প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ রোগী থেকে হাম আক্রান্ত রোগীদের আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাম আক্রান্ত রোগী সাধারণ রোগীদের মধ্যে আছে, এমন সংখ্যা কম। খোঁজ করে পেলে সেই রোগীকে নির্ধারিত স্থানে পাঠানো হয়। আপাতত তিনটি কক্ষে রোগীদের রাখা হচ্ছে এবং কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে আর কী করা যায়।
তিনি বলেন, সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) লোকজন এই হাসপাতালে এসে নিয়মিত নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করছেন। কিন্তু কী কারণে হঠাৎ হাম আক্রান্ত বেড়ে গেল, তা বোঝা যাচ্ছে না। তবে শিশুদের টিকাদানে সমস্যা হওয়ার কারণে এমনটি হতে পারে। আক্রান্ত রোগী থেকে অন্যদের দূরে রাখতে হবে ও সাবধানে থাকতে হবে। এই রোগটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে।
হাম আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ১৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি করে আলাদা বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানান ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ফয়সল আহ্মেদ। তিনি বলেন, হাসপাতালের বহির্বিভাগে শিশুদের জন্য ‘ডেডিকেটেড ফিবার ক্লিনিক’ চালুর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ভাষাসৈনিক ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আমেনা আহমেদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আমেনা আহমেদ মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা প্রয়াত অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের সহধর্মিণী। মৃত্যুকালে একমাত্র কন্যা আইভি রহমান, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও শুভানুধ্যায়ীদের রেখে গেছেন তিনি।
জানা যায়, ভাষাসৈনিক আমেনা আহমেদের মৃত্যুতে ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন এবং ব্যক্তি পর্যায়ে অনেকে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ন্যাপের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, আজ বাদ মাগরিব স্বামীর বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মান প্রদর্শন শেষে স্বামী মোজাফফর আহমেদের কবরের পাশে আমেনা আহমেদকে সমাহিত করা হবে।
প্রসঙ্গত, ভাষাসৈনিক আমেনা আহমেদ ইডেন কলেজে অধ্যয়নকালে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে রাজপথের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী ও ইডেন কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভাপতি ছিলেন তিনি। তিনি ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়াও আমেনা আহমেদ ন্যাপ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও বর্তমান কার্যকরী কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন।
জাতীয় সংসদ ভবনের মেডিক্যাল সেন্টারের আধুনিকায়ন ও চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়াতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট কমিটি।
শনিবার (২৮ মার্চ) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম। সভায় কমিটির সদস্যবৃন্দ-রকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ অপু, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মো. শহিদুল ইসলাম, নায়ার ইউসুফ আহমেদ, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. সাইফুল আলম এবং মো. আবুল হাসনাত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে বিশেষ করে কার্ডিয়াক চিকিৎসা জোরদারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুল্যান্স সংযোজন, লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ি ক্রয় এবং মানসম্মত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ সময় জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী-বিধির ২৫০ ও ২৫১ ধারা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও নাখালপাড়ায় অবস্থিত সংসদ সদস্যদের আবাসিক ভবনের সংস্কার কাজের অগ্রগতি, শেরেবাংলানগরের এমপি হোস্টেলের ১৫৬টি অফিস কক্ষ সংস্কার এবং সিভিল, ই/এম ও কাঠের কারখানা বিভাগের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। সংসদ সদস্যদের জন্য ২৪ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মেডিক্যাল সেন্টারে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও মেডিক্যাল অফিসার নিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আবাসন এলাকায় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা জোরদার এবং নির্ধারিত জনবল পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী পদায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) এমপির সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এছাড়া সংসদ সদস্যদের আবাসন ভবনের আসবাবপত্র দ্রুত প্রস্তুত ও সংস্কারের নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং প্রতিটি আসবাবের মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। সভায় সংসদ অধিবেশন কক্ষের সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যা নির্ণয়ে গঠিত কমিটিকে আগামী ৩ এপ্রিলের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।