সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
১৬ চৈত্র ১৪৩২

আজ পহেলা বৈশাখ: বাঙালির সর্বজনীন উৎসবের দিন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
১৪ এপ্রিল, ২০২৪ ১০:১৬
সৈয়দ আফজাল হোসেন
প্রকাশিত
সৈয়দ আফজাল হোসেন
প্রকাশিত : ১৪ এপ্রিল, ২০২৪ ০৪:৫২

আজ পহেলা বৈশাখ- শুভ নববর্ষ! বাঙালির সর্বজনীন উৎসবের দিন। পুরোনো বছরের যা কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি, যা কিছু ব্যর্থতা, যা কিছু গ্লানি সব ভুলে গিয়ে মনে স্পন্দনজাগানিয়া নতুন আশা ও নতুন সম্ভাবনার রঙিন স্বপ্নকে আলিঙ্গনের নব প্রত্যয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত পুরো জাতি।

গতকাল সন্ধ্যায় গেল বছরের শেষ সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর এ ধরায় যে আঁধার নেমে এসেছিল, তা কাটিয়ে আজ ভোরে নতুন বছরের নতুন সূর্য নব নব আশার আলো নিয়ে পুবাকাশে উঁকি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আনন্দে উদ্বেলিত বাঙালি জাতি যেন সমবেত কণ্ঠে গেয়ে উঠলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই গান, ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো/ তাপস নিঃশ্বাস বায়ে, মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে/ বছরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক’।

কবিগুরুর কালজয়ী এ গানের কথার মতোই নতুন বছরের আগমনে শান্তি ও সাফল্যের প্রত্যাশা জাগ্রত হয় সবার মনে, নতুন আলোর ঝিলিক দ্যুতি ছড়ায় সকল প্রাণে। বুকভরা আশা, চোখভরা স্বপ্ন আর বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে তারা নতুন বছরকে বরণ করে নেয়।

নতুন বছরে সকল শান্তিপ্রিয় মানুষের চাওয়া- মানবমনের আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে সমাজের সব অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য, শঠতা-অসততা, ঘুষ-দূর্নীতি, সম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার অবসান হোক। সুনীতি, সুশিক্ষা, সুশাসন, সুচিন্তা ও সুবুদ্ধি বিকশিত ও প্রতিষ্ঠিত হোক সর্বত্র। নতুন সূর্যের স্নিগ্ধ আলোয় স্নাত হয়ে সবার হৃদয়ে মানবপ্রেম ও দেশপ্রেম জাগ্রত হোক। বিশ্বব্যাপী দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার বন্ধ হোক, বন্ধ হোক প্রাণঘাতী যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা, মানবাত্মা মুক্তি পাক, বিশ্বমানবতার জয় হোক!

আমরা জানি, সময় ও স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না। কেননা ঘড়ির কাঁটা তার আপন নিয়মেই অনবরত ঘুরতে থাকে এবং সেই সঙ্গে কালের আবর্তে বিলীন হয়ে যায় একেকটি সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টা। এমনি করেই দিন-মাস-বছর চলে যায়। আবার এই অতীতকে ছাপিয়ে ফিরে আসে নতুন দিন-মাস-বছর। এভাবে প্রকৃতির চিরায়ত নিয়মেই মানুষ একসময় পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে বরণ করে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিদায় নিচ্ছে একটি বছর, শুভাগমন ঘটছে আরেকটি নতুন বছরের। বিদায় বাংলা ১৪৩০, সু-স্বাগতম ১৪৩১!

ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি জাতীয় জীবনেও বিদায়ী বছরে রয়েছে যেমন অনেক অর্জন আর প্রাপ্তির সুখ, তেমনি আবার রয়েছে কিছু কিছু ব্যর্থতা-হতাশা আর অপ্রাপ্তির বেদনা। আর এই অতীতে ঘটে যাওয়া নানা অম্ল-মধুর ঘটনা মানুষের মনে বেদনাবিধুর কিংবা সুখজাগানিয়া স্মৃতি হয়ে রয়ে যায়। বিদায়ী বছরের সব দুঃখ-বেদনা, হতাশা-গ্লানি ভুলে প্রাণে নতুন নতুন স্বপ্ন-আশা নিয়ে শুরু হয় নতুন বছরে নতুন করে পথ চলা। অতীতকে মুছে ফেলে নয়, অতীত স্মৃতিকে বুকে ধারণ করে নতুন দিন-ক্ষণ-সময়ের সঙ্গে পথ চলাই জীবনের নিয়ম।

পহেলা বৈশাখের উৎসবের উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা বাঙালি জাতি আজ নতুন সূর্যের বিশুদ্ধ আলোয় আমোদে মেতে উঠেছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বয়সের মানুষেরা নানা আনন্দ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মহাআড়ম্বরের সাথে নতুন বছরকে বরণ করে নিচ্ছে।

পহেলা বৈশাখ হচ্ছে বাঙালির সর্ববৃহৎ সর্বজনীন উৎসব। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ এ উৎসবে শামিল হয়ে এক সুরে গেয়ে ওঠে জীবনের জয়গান। যেখানে নেই কোনো ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ কিংবা ধনী-গরিবের বৈষম্য।

শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, আসাম, ত্রিপুরাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রত্যেকটি বাঙালির কাছেই নববর্ষ একটি বিশেষ উদযাপনের দিন।

মোগল সম্রাট আকবরের শাসনামলে খাজনা বা রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে জমিতে ফসল উৎপাদনের ঋতুচক্রের উপর ভিত্তি করে ইংরেজি ১৫৫৬ সনে বাংলা সনের প্রবর্তন করা হয়। তবে এর গণনাটা ১ সাল থেকে শুরু হয়নি। তৎকালীন ভারতবর্ষে হিজরি সনের ব্যাপক প্রচলন ছিল। ওই বছর ছিল হিজরি ৯৬৩ সাল। তাই হিজরি বছরটিকে ঠিক রেখেই অর্থাৎ হিজরি ৯৬৩ সালকে বাংলা ৯৬৩ সাল ধরেই প্রথমবারের মতো বাংলা বর্ষপঞ্জি চালু করা হয়। আর বৈশাখ নামটি নেওয়া হয় নক্ষত্র 'বিশাখা' থেকে। সম্রাটের নির্দেশে এ কাজটি সম্পন্ন করেন সেসময়কার বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ ও গণিতজ্ঞ ফতেহউল্লাহ সিরাজী।

পহেলা বৈশাখের দিনে উৎসবের শুরুটাও হয় সম্রাট আকবরের আমলেই। তার পৃষ্ঠপোষকতায় খুবই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হতো। ইতিহাস থেকে জানা যায়, এ দিন তিনি প্রজাদের সঙ্গে মিলিত হতেন। সবার শুভ কামনা করে চারদিকে মিষ্টি বিতরণ করা হতো।

দিবসটি উপলক্ষে এক সময়ে দেশের ব্যবসায়ী মহলে ‘হালখাতা’ অনুষ্ঠানের ব্যাপক প্রচলন ছিল। নতুন বছরের প্রথম দিনটিতে নতুন একটি ‘লাল কভারের’ খাতায় হিসাব খুলে তারা নতুন উদ্যমে ব্যবসা শুরু করতেন। সেখানে অতীতের সব হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে হালখাতা থেকে নেওয়া হতো নতুন পরিকল্পনা।

বছরের শেষ দিনে বাকি/বকেয়া আদায় করে হালখাতা হালনাগাদ করা হতো। হালখাতার দিনে দোকানদাররা তাদের কাস্টমারদের মিষ্টান্ন দিয়ে আপ্যায়ন করতেন। এই প্রথাটি কমে গেলেও একেবারে বিলীন হয়ে যায়নি। বিশেষ করে মুদি ও স্বর্ণের দোকানে আজও এটি প্রচলিত আছে।

রাজধানীতে নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে রমনার বটমূলে ছায়ানটের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। দেশের এই শীর্ষ সাংস্কৃতিক সংগঠনটির শিল্পীরা সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে গান, কবিতাসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়।

উল্লেখ্য, তদনীন্তন পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র-জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপনে বিধিনিষেধ আরোপ এবং বেতার ও টেলিভিশনে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন নিষিদ্ধ করলে তার প্রতিবাদে বাঙালি সংস্কৃতিকে ধারণ, লালন ও চর্চা করার দৃপ্ত প্রত্যয়ে গড়ে ওঠা ‘ছায়ানট’ ১৯৬৭ সাল থেকে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হওয়া ‘মঙ্গল শোভাযাত্রাও’ নববর্ষের একটি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

ছায়ানটের প্রভাতী অনুষ্ঠান যেমন পরাধীনতার কালে এক দ্রোহ থেকে জন্ম নিয়েছিল, তেমনি ১৯৮৯ সালে শুরু হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রাও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রতিবাদ জানিয়ে শুরু হয়েছিল। ২০১৬ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা বা ইউনেসকো এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়।

এ দিন রমনার বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বাংলা একাডেমি, ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবর এলাকাসহ রাজধানীজুড়েই সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। গান-কবিতায় মুখর হয়ে ওঠে এসব প্রাঙ্গণ।

এ ছাড়াও প্রায় চার দশক ধরে পান্তা-ইলিশ পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষ উদযাপনের একটি বিশেষ অনুষঙ্গ হিসেবে যুক্ত হয়ে গিয়েছে। এর সঙ্গে বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যগত কোনো যোগসূত্র না থাকলেও সমসাময়িক সময়ে শহরের অধিকাংশ উচ্চবিত্ত/মধ্যবিত্ত মানুষ এটি বেশ সানন্দেই উপভোগ করছে।

প্রাণের টানে, নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির টানে বর্ষবরণে সর্বস্তরের মানুষ এমনকি বিলাসী নগর জীবনে অভ্যস্ত মানুষেরাও বৈশাখের তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে। নারীরা লাল-সাদা শাড়ি পরে বৈশাখী সাজে সেজে, পুরুষেরা রং-বেরঙের পাঞ্জাবি-ফতুয়া পরে দল বেঁধে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করে। সমগ্র শহরময় মনে হয় প্রাণের জোয়ার নেমেছে। চারদিকে যেন উত্তাল-তরঙ্গের মতো তারুণ্যের উচ্ছ্বসিত বিচরণ।

রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি সব জেলা, উপজেলা এমনকি গ্রামপর্যায় পর্যন্ত বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবেই নববর্ষ উদ্‌যাপন করা হয়। এক সময়ে গ্রামে গ্রামে মোরগ লড়াই, ষাঁড়ের লড়াই, ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজনও করা হতো। যুগের পরিবর্তনে এগুলো এখন নেই বললেই চলে।
তবে গ্রামবাংলার মাঠে-ঘাটে-হাটে এখনো মেলার আয়োজন করা হয়। এসব গ্রাম্য মেলায় শিশু-কিশোররা নাগরদোলায় দোল খেয়ে, চরকিতে ঘুরে আনন্দ উপভোগ করে। এ ছাড়া বাঁশি বিক্রেতাদের বাঁশির সুরের মূর্ছনায় মুখরিত থাকে মেলা প্রাঙ্গণ।

দিনটি উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, লোকগীতি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া ও বাউল গান পরিবেশিত হয়। এ ছাড়াও শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, গান, আবৃত্তি, সেমিনার, নাটক প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেওয়া হয়।


পল্লী বিদ্যুতের কর্মচারীদের সঙ্গে জ্বালানি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মতবিনিময়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার দুপুরে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ব্রিগেডিয়ার সবিহউদ্দীন আহমেদ অডিটোরিয়ামে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্থার চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল এস এম জিয়া-উল-আজিম।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ।

মতবিনিময় সভার উপস্থাপনায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার চলমান কার্যক্রম ও সাফল্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। এখানে উল্লেখ করা হয় যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক ১৯৭৭ সালে দেশের নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবনযাত্রার মানের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষি বিপ্লবের বিকাশ, কুটিরশিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ, শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা ও জনস্বার্থের উন্নয়নের জন্য গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিকরণের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড গঠন করা হয়। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড কর্তৃক গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতায়নের ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র শিল্প গড়াসহ নানা কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।

সভায় জ্বালানিমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আবেগে গড়া পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মধ্যে বর্তমানে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তা সমাধানের জন্য চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা প্রদান করেন। এ ছাড়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আবেগ ও স্বপ্নে গড়া পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে কোনো অশুভ শক্তির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে না মর্মে মতামত ব্যক্ত করেন।

পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক গঠিত মূল প্রতিষ্ঠান পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে কোনোক্রমে দুর্বল করা যাবে না। মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎসেবা প্রদানের লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করা হবে বলেও আশ্বাস প্রদান করেন জ্বালানিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘একটি মহল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান নষ্ট করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যা মোটেই কাম্য নয়। আরইবি এবং আরইবির অধীনস্থ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো সৃষ্টির শুরু থেকে যেভাবে পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত রয়েছে ঠিক সেভাবেই ভবিষ্যতেও কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ ঝড়-বৃষ্টির পর প্রান্তিক জনগণের দ্বারপ্রান্তে দ্রুত মানসম্মত বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে লাইন ফল্ট দ্রুত নিরসনের জন্য বিদ্যুৎ লাইনে ফল্ট লোকেটর স্থাপনের পাশাপাশি সিস্টেম লস কমানোর লক্ষ্যে বিতরণ লাইনের দৈর্ঘ্য কমানোর পরামর্শ প্রদান করেন। সেই সাথে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ডিজেল চালিত পাম্পের পরিবর্তে সোলার পাম্প স্থাপনের জন্যও পরামর্শ প্রদান করেন।

এ ছাড়া গ্রাহকসেবার গুণগত মানবৃদ্ধি এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎসেবা প্রদানের লক্ষ্যে যুগোপযোগী আধুনিক ও টেকসই বিদ্যুৎ বিতরণের লক্ষ্যে প্রকল্প অনুমোদনের প্রস্তাব বিদ্যুৎ বিভাগে প্রেরণের নির্দেশনা প্রদান করেন।


অনুমোদনহীন দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা-স্টাডি সেন্টার বন্ধের নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদনহীন দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী ২৫ এপ্রিলের মধ্যে অনুমোদন ব্যতীত পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে বলা হয়েছে।

সোমবার ইউজিসির ইন্টারন্যাশনাল কোলাবোরেশন বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোছা. জেসমিন পারভীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন ব্যতীত বেশ কয়েকটি দেশি-বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস এবং স্টাডিসেন্টার/টিউটোরিয়াল সেন্টার পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন ব্যতীত স্থাপিত ও পরিচালিত প্রতিষ্ঠানসমূহের একটি তালিকা ইতোমধ্যে কমিশন কর্তৃপক্ষের হস্তগত হয়েছে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনা বিধিমালা, ২০১৪ এর অধীনে দেশে-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস এবং স্টাডি সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনার বিধান রয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, অননুমোদিতভাবে পরিচালিত সকল প্রতিষ্ঠানকে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনা বিধিমালা, ২০১৪ এর ধারা ৪(৩) এর দফা (ঝ) অনুযায়ী অনুমোদন পাওয়ার লক্ষ্যে আগামী ২৫ এপ্রিলের মধ্যে আবেদন কমিশনে দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো। একইসাথে, ঐ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাসহ সকল কার্যক্রম স্থগিত করা হলো। অন্যথায়, অননুমোদিতভাবে পরিচালিত ঐ সমস্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আইজিপির সঙ্গে মাল্টার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে মাল্টার রাষ্ট্রদূত (বাংলাদেশ ও ভারত) রিউবেন গাউচির নেতৃত্বে তিন সদস্যের এক প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার পুলিশ সদরদপ্তরে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ সাক্ষাতে মাল্টার রাষ্ট্রদূত নবনিযুক্ত আইজিপিকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

রাষ্ট্রদূত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ভিসা জালিয়াতি প্রতিরোধ, সাইবার ক্রাইম, মানবপাচার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতামূলক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

আইজিপি রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে পুলিশের ভাবমূর্তি ও সক্ষমতা বাড়াতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি পুলিশের সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মাল্টার সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি হলে কাউকে ছাড় নয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, জনগণের প্রকৃত কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অনিয়ম -দুর্নীতি হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। সোমবার সচিবালয়য়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্বকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।

মন্ত্রী বলেন, যে সব প্রকল্প প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, সেগুলোর কারণ চিহ্নিত করতে হবে এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে জনকল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

কৃষি উৎপাদন টেকসই রাখতে জমির উর্বরতা পুনরুদ্ধার এবং মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ফলে মাটির অম্লতা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মাটির ক্ষতির পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ব্যয়ও বাড়াচ্ছে। মন্ত্রী এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মাটির অম্লতা হ্রাসে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।

সভায় জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অগ্রগতি ৪২ দশমিক ১৮ শতাংশ।

সভায় কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহামেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অধীনস্থ দপ্তর/সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।


ডিএমপির দুই ডিসি ও তিন এসির বদলি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দুই উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) ও তিন সহকারী পুলিশ কমিশনারের (এসি) দায়িত্বে রদবদল করা হয়েছে। সোমবার ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত পৃথক দুই আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের ডিসি মো. শাহরিয়ার আলীকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের ডিসি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তার স্থানে ডিবির উত্তরা বিভাগের ডিসি (ভারপ্রাপ্ত) মির্জা তারেক আহমেদ বেগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের দারুস সালাম জোনের এসি আরিফুল ইসলাম রনিকে ডিএমপির উত্তরা জোনে, ট্রাফিক বিভাগের মিরপুর জোনের এসি মো. শরীফ-উল আলমকে ট্রাফিক বিভাগের দারুস সালাম জোনে এবং ডিএমপির এসি মো. সেলিম রেজাকে ট্রাফিক বিভাগের মিরপুর জোনে বদলি করা হয়।


অবৈধভাবে মজুত ২ লাখ লিটারের বেশি জ্বালানি তেল উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান এবং দেশের সামগ্রিক জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বাড়তি তেল কিনে বাসাবাড়িতে মজুত করছেন, যার কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, চাহিদার তুলনায় দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশে বড় পরিসরে জ্বালানি তেলের মজুতদারি পরিস্থিতিকে অযথা জটিল করে তুলছে।

আমদানি পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, ইন্দোনেশিয়া থেকে আরও দুই কার্গো জ্বালানি তেল দেশে আসছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ৬ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা শিথিল (সাংশন ওয়েভার) চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঈদের পরদিন ওয়াশিংটনে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং এখন এর জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।

আগামী মাসের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এপ্রিলে জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো সংকট হবে না। বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং এপ্রিল মাসে বিভিন্ন জাহাজে করে আরও ১ লাখ ৫৪ হাজার মেট্রিক টন তেল দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ আজ এবং আরেকটি ৩ এপ্রিল আসার কথা রয়েছে।


খেলোয়াড়দের রাজনীতিতে না আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

খেলোয়াড়দের রাজনীতিতে না আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পেশাদার খেলোয়াড়ি জীবনে আপনারা কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর নয়; বরং ক্রীড়ানৈপুণ্য দিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করুন। দেশে-বিদেশে বিজয়মাল্য বরণ করে বিশ্ব ক্রীড়া জগতে বাংলাদেশকে উচ্চতর মর্যাদার আসনে সমাসীন রাখুন।’

তিনি আরো বলেন, ‘দেশপ্রেম, ঐকান্তিক ইচ্ছা আর টিম স্পিরিট থাকলে আপনাদের সাফল্যজনক অগ্রযাত্রায় কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না বলে আমি বিশ্বাস করি।’ সরকারপ্রধান বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন কিংবা শরীর চর্চার বিষয় নয়, বরং সারা বিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না। ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে আমরা দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছিলাম।

আমরা বলেছিলাম, জনরায়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হবে। জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকেই শুরু হলো।’

সরকার খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘যিনি যে খেলায় ভালো করতে পারবেন, যারা যে খেলায় আনন্দ পাবেন, তারা যাতে তাদের পছন্দের খেলাটিকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলা করতে পারেন এবং খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিয়ে একজন খেলোয়াড় যাতে নিজের এবং পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা টানাপড়েনে না ভোগেন, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে।’

তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ইতিমধ্যেই পর্যায়ক্রমিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম, খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানি ভাতা প্রদান এবং সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছে।'

ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সরকার ব্যাপক এবং বিস্তারিত কর্মসূচি হাতে নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ক্রিকেট এবং ফুটবল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় খেলা। তবে এসব খেলার পাশাপাশি আরচারি, বক্সিং, ইয়োগা, জিমন্যাস্টিকস, ক্যারম, ভারোত্তোলন, উশু, সাঁতার, প্যারা সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, প্যারা অ্যাথলেটিকস, কারাতে, সেপাক টাকরো, টেবিল টেনিস, কাবাডি, ভলিবল, হুইলচেয়ার বাস্কেটবল, ব্রিজ, ফুটসাল এবং ব্যাডমিন্টনের মতো আরো অনেক ক্রীড়া রয়েছে, যেসব খেলা সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে সক্ষম। আপনারা দেখেছেন সম্প্রতি সাফ নারী ফুটসালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।’

দেশব্যাপী নতুন পরিসরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু হতে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ ১৯৭৬ সালে শুরু হয়েছিল।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটি একপর্যায়ে অনেকগুলো বছর বন্ধ থাকলেও বর্তমানে অনুষ্ঠানটি দেশের একটি গণমাধ্যমতে আবার চালু হয়েছে। এবার ভিন্ন আঙ্গিকে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে সিলেট থেকে দেশব্যাপী নতুন পরিসরে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।

এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ক্রীড়াকার্ড ও ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপে বাটন প্রেস করার সঙ্গে সঙ্গেই সোনালী ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যেক ক্রীড়াবিদের মোবাইলে এক লাখ টাকা পৌঁছে যায়।

এ সময় ১২৯ জন ক্রীড়াবিদের হাতে ক্রীড়া কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের সম্মাননা প্রদান করেন তিনি।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শাপলা হলের বাইরে খেলোয়াড়দের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন।


এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে পাওয়া যাবে হামের টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে হামের টিকা সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

হামের সংক্রমণ হঠাৎ বাড়লেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

আজ (সোমবার) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের সংক্রমণ হঠাৎ বাড়লেও আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছি। মহাখালীতে একটি শিশুর মৃত্যুর পর বন্ধ থাকা আইসিইউ ইউনিট মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে চালু করা হয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে শিশুদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড, আইসোলেশন সুবিধা ও ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ ও রাজশাহীতেও নতুন ভেন্টিলেটর পাঠানো হয়েছে এবং আরও ২০টি ভেন্টিলেটর সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউ চালু, ভেন্টিলেটর সরবরাহ এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ড প্রস্তুতের মাধ্যমে কাজ চলছে। একইসঙ্গে টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়াও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, গত এক দশকে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম থাকলেও ২০১৮ সালের পর আর বড় কোনো হামের টিকা ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে যেসব শিশু টিকার আওতায় আসেনি বা পরে জন্ম নিয়েছে, তাদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে। যারা টিকা পায়নি, তাদের মধ্যেই হামের প্রকোপ বেশি।

বিভিন্ন টিকা নেওয়ার জন্য সরকার ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং অর্থ আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফকে পরিশোধ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে টিকা সরবরাহ শুরু হতে পারে।

সচেতন হওয়ার জন্য কোন বার্তা দিবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা পরিস্থিতি মোকাবেলা করছি। সবাইকে শান্ত থাকতে হবে এবং শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে হবে।

কবে থেকে টিকা কার্যক্রম চালু হবে এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের টিকা আসবে। আসার সাথে সাথে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করব। আমাদের জনগণকে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই আমাদের সকল চেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং এই মিজলসের আক্রমণের ভিতরে আমরা যে রেপিডলি ভেন্টিলেটর এবং আইসি ইউনিট এবং ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করেছি অতীতে কোনদিন হয়নি।

এ সময় স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমাদের এই টিকার যে পেমেন্টটা এটা কিন্তু আমরা ইউনিসেফকে পেমেন্ট করে ফেলেছি, টাকাটা ইউনিসেফের কাছে আছে। এখন পারচেস কমিটির অনুমোদন পেয়ে গেলে আমরা তাদের শুধু অর্ডার দেব এবং আমাদের চলে আসবে ইনশাল্লাহ। আশা করছি এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে আমরা টিকা নিতে থাকব। টিকা আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

টিকা কমিটি ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে এ সময় জানানো হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার সাক্ষাৎ

আপডেটেড ৩০ মার্চ, ২০২৬ ১৭:১১
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সংসদ সচিবালয় কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে তার কার্যালয়ে স্বাগত জানান।

আলাপ শেষে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে তার সংসদ সচিবালয়ের কার্যালয়ের দিকে খানিকটা পথ এগিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সৌজন্যতা ও শিষ্টাচার দেখে উপস্থিত সবাই প্রশংসা করেন।

বেলা ১২টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী দিলার হাফিজের জানাজা নামাজ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা।

জানাজা শেষে দুই নেতা একসঙ্গে হেঁটে সংসদ ভবনের দিকে এগোচ্ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন বিরোধীদলী নেতা। সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সচিবালয়ের নিজ কার্যালয়ে ডা. শফিকুর রহমানকে আমন্ত্রণ জানান।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সাক্ষাৎটি ছিল সংক্ষিপ্ত। দুই নেতা প্রায় ২০ মিনিট কথা বলেন। সংক্ষিপ্ত আলাচারিতা শেষে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রীর সংসদ সচিবালয়ের কার্যালয় ত্যাগ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে তার কার্যালয়ে দিকে খানিকটা পথ এগিয়ে দেন।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে যথাযথ সম্মান ও সৌজন্যতা দেখান। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্যতা দেখে সাধারণ মানুষ মুগ্ধ হয়েছেন। আজ প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাকে তাঁর কার্যালয়ের দিকে এগিয়ে দিয়ে তার স্বাভাবিক সৌজন্যতার বহিঃপ্রকাশ ঘটালেন।


বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু বিনোদন নয় পেশাও: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিভিন্ন পেশার খেলোয়াড়দের ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হবে। সেই প্রতিশ্রতি রক্ষায় ও বাংলাদেশের বিভিন্ন খেলায় সাফল্য পাওয়া অ্যাথলেটদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা ও ক্রীড়া কার্ড তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু বিনোদন নয় ক্রীড়া একটি পেশাও। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবেনা।’

‘নির্বাচনের আগে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তা পূরণে কাজ শুরু করেছি, আজকের এই অনুষ্ঠান তার প্রমাণ। একজন খেলোয়াড় যেন অর্থনৈতিকভাবে নিরাপত্তা পায়, সে জন্যই আমাদের এ উদ্যোগ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম ক্রীড়াবিদদের সন্মানী ভাতা দেয়া শুরু হলো।’

খেলোয়াড়দের খেলার প্রতি বেশি মনোযোগ দিতে বলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কথা কম কাজ বেশি করতে হবে। কথা কম খেলতে হবে বেশি। দেশ প্রেম, টিম স্পিরিট থাকলে সাফল্য আসবেই। পেশাদারি জীবনে কোন রাজনেতিক দলের হবেন না বরং ক্রীড়া নৈপুণ্য দেখিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’

বাংলাদেশের বিভিন্ন খেলায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে মোট ২ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকার বিশেষ সম্মাননা ও অর্থ পুরস্কার প্রদান করা হয়।


৩০ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী নতুন পরিসরে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ ১৯৭৬ সালে শুরু হয়েছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানটি এক পর্যায়ে অনেকগুলো বছর বন্ধ থাকলেও বর্তমানে অনুষ্ঠানটি বিটিভিতে আবার চালু হয়েছে। এবার ভিন্ন আঙ্গিকে শিশু কিশোরদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করতে আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে সারা দেশব্যাপী নতুন পরিসরে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’।

আজ (সোমবার) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত ক্রীড়াভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পদকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের ক্রীড়া কার্ড ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সময়ে ক্রীড়া শুধু শখ, বিনোদন কিংবা শরীর চর্চার বিষয় নয় বরং সারা বিশ্বে ক্রীড়া এখন পেশা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না। ২০২৬ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে আমরা দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, জনরায়ে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবো। জনগণের কাছে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুটি বাস্তবায়নের পর্ব আনুষ্ঠানিকভাবে আজ থেকেই শুরু হলো।

তারেক রহমান বলেন, যিনি যে খেলায় ভালো করতে পারবেন, যে খেলায় আনন্দ পাবেন, তারা যাতে তাদের পছন্দের খেলাটিকে নিশ্চিন্তে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে মনোযোগ দিয়ে খেলাধুলা করতে পারেন এবং পেশা হিসেবে নিয়ে একজন খেলোয়াড় যাতে নিজের ও পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বা টানাপোড়েনে না ভোগেন, সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দের ধারাবাহিকভাবে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।


জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ঠেকাতে লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা

আপডেটেড ৩০ মার্চ, ২০২৬ ১৪:১৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত এবং পাচার রোধে পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। অবৈধ মজুত ও পাচারকারীদের সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে সহায়তাকারীকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।

সোমবার (৩০ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘোষণা দিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যারা অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে অথবা তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত, তাদের শনাক্ত করতে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই অর্থ পুরস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে পুরস্কারের অর্থ দেওয়া হবে।

আরও বলা হয়, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচারকারীদের সম্পর্কে স্থানীয় প্রশাসনকে সঠিক তথ‍্য দিয়ে সহায়তাকারীর জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।


দিলারা হাফিজের জানাজা সম্পন্ন, শ্রদ্ধা নিবেদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী দিলারা হাফিজের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় মরহুমার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুর ১২টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় অংশ নেন স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। এ সময় মরহুমার বর্ণাঢ্য জীবনের স্মৃতিচারণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা, বিএনপি মহাসচিব ও ডেপুটি স্পিকার। পরে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তার প্রতিনিধি, সংসদের স্পিকার, হুইপ ও বিরোধীদলীয় নেতা।

বাদ জোহর সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বনানীর সামরিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

অধ্যাপক দিলারা হাফিজের বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্বামী, দুই ছেলে এবং এক মেয়ে রেখে গেছেন। শনিবার সকাল ১১টা ২৯ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।


banner close