আজ পহেলা বৈশাখ- শুভ নববর্ষ! বাঙালির সর্বজনীন উৎসবের দিন। পুরোনো বছরের যা কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি, যা কিছু ব্যর্থতা, যা কিছু গ্লানি সব ভুলে গিয়ে মনে স্পন্দনজাগানিয়া নতুন আশা ও নতুন সম্ভাবনার রঙিন স্বপ্নকে আলিঙ্গনের নব প্রত্যয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত পুরো জাতি।
গতকাল সন্ধ্যায় গেল বছরের শেষ সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর এ ধরায় যে আঁধার নেমে এসেছিল, তা কাটিয়ে আজ ভোরে নতুন বছরের নতুন সূর্য নব নব আশার আলো নিয়ে পুবাকাশে উঁকি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আনন্দে উদ্বেলিত বাঙালি জাতি যেন সমবেত কণ্ঠে গেয়ে উঠলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই গান, ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো/ তাপস নিঃশ্বাস বায়ে, মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে/ বছরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক যাক’।
কবিগুরুর কালজয়ী এ গানের কথার মতোই নতুন বছরের আগমনে শান্তি ও সাফল্যের প্রত্যাশা জাগ্রত হয় সবার মনে, নতুন আলোর ঝিলিক দ্যুতি ছড়ায় সকল প্রাণে। বুকভরা আশা, চোখভরা স্বপ্ন আর বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে তারা নতুন বছরকে বরণ করে নেয়।
নতুন বছরে সকল শান্তিপ্রিয় মানুষের চাওয়া- মানবমনের আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে সমাজের সব অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য, শঠতা-অসততা, ঘুষ-দূর্নীতি, সম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতার অবসান হোক। সুনীতি, সুশিক্ষা, সুশাসন, সুচিন্তা ও সুবুদ্ধি বিকশিত ও প্রতিষ্ঠিত হোক সর্বত্র। নতুন সূর্যের স্নিগ্ধ আলোয় স্নাত হয়ে সবার হৃদয়ে মানবপ্রেম ও দেশপ্রেম জাগ্রত হোক। বিশ্বব্যাপী দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার বন্ধ হোক, বন্ধ হোক প্রাণঘাতী যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা, মানবাত্মা মুক্তি পাক, বিশ্বমানবতার জয় হোক!
আমরা জানি, সময় ও স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না। কেননা ঘড়ির কাঁটা তার আপন নিয়মেই অনবরত ঘুরতে থাকে এবং সেই সঙ্গে কালের আবর্তে বিলীন হয়ে যায় একেকটি সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টা। এমনি করেই দিন-মাস-বছর চলে যায়। আবার এই অতীতকে ছাপিয়ে ফিরে আসে নতুন দিন-মাস-বছর। এভাবে প্রকৃতির চিরায়ত নিয়মেই মানুষ একসময় পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে বরণ করে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিদায় নিচ্ছে একটি বছর, শুভাগমন ঘটছে আরেকটি নতুন বছরের। বিদায় বাংলা ১৪৩০, সু-স্বাগতম ১৪৩১!
ব্যক্তিজীবনের পাশাপাশি জাতীয় জীবনেও বিদায়ী বছরে রয়েছে যেমন অনেক অর্জন আর প্রাপ্তির সুখ, তেমনি আবার রয়েছে কিছু কিছু ব্যর্থতা-হতাশা আর অপ্রাপ্তির বেদনা। আর এই অতীতে ঘটে যাওয়া নানা অম্ল-মধুর ঘটনা মানুষের মনে বেদনাবিধুর কিংবা সুখজাগানিয়া স্মৃতি হয়ে রয়ে যায়। বিদায়ী বছরের সব দুঃখ-বেদনা, হতাশা-গ্লানি ভুলে প্রাণে নতুন নতুন স্বপ্ন-আশা নিয়ে শুরু হয় নতুন বছরে নতুন করে পথ চলা। অতীতকে মুছে ফেলে নয়, অতীত স্মৃতিকে বুকে ধারণ করে নতুন দিন-ক্ষণ-সময়ের সঙ্গে পথ চলাই জীবনের নিয়ম।
পহেলা বৈশাখের উৎসবের উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা বাঙালি জাতি আজ নতুন সূর্যের বিশুদ্ধ আলোয় আমোদে মেতে উঠেছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বয়সের মানুষেরা নানা আনন্দ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মহাআড়ম্বরের সাথে নতুন বছরকে বরণ করে নিচ্ছে।
পহেলা বৈশাখ হচ্ছে বাঙালির সর্ববৃহৎ সর্বজনীন উৎসব। হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ এ উৎসবে শামিল হয়ে এক সুরে গেয়ে ওঠে জীবনের জয়গান। যেখানে নেই কোনো ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ কিংবা ধনী-গরিবের বৈষম্য।
শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, আসাম, ত্রিপুরাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রত্যেকটি বাঙালির কাছেই নববর্ষ একটি বিশেষ উদযাপনের দিন।
মোগল সম্রাট আকবরের শাসনামলে খাজনা বা রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে জমিতে ফসল উৎপাদনের ঋতুচক্রের উপর ভিত্তি করে ইংরেজি ১৫৫৬ সনে বাংলা সনের প্রবর্তন করা হয়। তবে এর গণনাটা ১ সাল থেকে শুরু হয়নি। তৎকালীন ভারতবর্ষে হিজরি সনের ব্যাপক প্রচলন ছিল। ওই বছর ছিল হিজরি ৯৬৩ সাল। তাই হিজরি বছরটিকে ঠিক রেখেই অর্থাৎ হিজরি ৯৬৩ সালকে বাংলা ৯৬৩ সাল ধরেই প্রথমবারের মতো বাংলা বর্ষপঞ্জি চালু করা হয়। আর বৈশাখ নামটি নেওয়া হয় নক্ষত্র 'বিশাখা' থেকে। সম্রাটের নির্দেশে এ কাজটি সম্পন্ন করেন সেসময়কার বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ ও গণিতজ্ঞ ফতেহউল্লাহ সিরাজী।
পহেলা বৈশাখের দিনে উৎসবের শুরুটাও হয় সম্রাট আকবরের আমলেই। তার পৃষ্ঠপোষকতায় খুবই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হতো। ইতিহাস থেকে জানা যায়, এ দিন তিনি প্রজাদের সঙ্গে মিলিত হতেন। সবার শুভ কামনা করে চারদিকে মিষ্টি বিতরণ করা হতো।
দিবসটি উপলক্ষে এক সময়ে দেশের ব্যবসায়ী মহলে ‘হালখাতা’ অনুষ্ঠানের ব্যাপক প্রচলন ছিল। নতুন বছরের প্রথম দিনটিতে নতুন একটি ‘লাল কভারের’ খাতায় হিসাব খুলে তারা নতুন উদ্যমে ব্যবসা শুরু করতেন। সেখানে অতীতের সব হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে হালখাতা থেকে নেওয়া হতো নতুন পরিকল্পনা।
বছরের শেষ দিনে বাকি/বকেয়া আদায় করে হালখাতা হালনাগাদ করা হতো। হালখাতার দিনে দোকানদাররা তাদের কাস্টমারদের মিষ্টান্ন দিয়ে আপ্যায়ন করতেন। এই প্রথাটি কমে গেলেও একেবারে বিলীন হয়ে যায়নি। বিশেষ করে মুদি ও স্বর্ণের দোকানে আজও এটি প্রচলিত আছে।
রাজধানীতে নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে রমনার বটমূলে ছায়ানটের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। দেশের এই শীর্ষ সাংস্কৃতিক সংগঠনটির শিল্পীরা সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে গান, কবিতাসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়।
উল্লেখ্য, তদনীন্তন পাকিস্তান সরকার ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র-জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনে বিধিনিষেধ আরোপ এবং বেতার ও টেলিভিশনে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন নিষিদ্ধ করলে তার প্রতিবাদে বাঙালি সংস্কৃতিকে ধারণ, লালন ও চর্চা করার দৃপ্ত প্রত্যয়ে গড়ে ওঠা ‘ছায়ানট’ ১৯৬৭ সাল থেকে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে আসছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হওয়া ‘মঙ্গল শোভাযাত্রাও’ নববর্ষের একটি বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
ছায়ানটের প্রভাতী অনুষ্ঠান যেমন পরাধীনতার কালে এক দ্রোহ থেকে জন্ম নিয়েছিল, তেমনি ১৯৮৯ সালে শুরু হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রাও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রতিবাদ জানিয়ে শুরু হয়েছিল। ২০১৬ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা বা ইউনেসকো এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়।
এ দিন রমনার বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বাংলা একাডেমি, ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবর এলাকাসহ রাজধানীজুড়েই সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। গান-কবিতায় মুখর হয়ে ওঠে এসব প্রাঙ্গণ।
এ ছাড়াও প্রায় চার দশক ধরে পান্তা-ইলিশ পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষ উদযাপনের একটি বিশেষ অনুষঙ্গ হিসেবে যুক্ত হয়ে গিয়েছে। এর সঙ্গে বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্যগত কোনো যোগসূত্র না থাকলেও সমসাময়িক সময়ে শহরের অধিকাংশ উচ্চবিত্ত/মধ্যবিত্ত মানুষ এটি বেশ সানন্দেই উপভোগ করছে।
প্রাণের টানে, নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির টানে বর্ষবরণে সর্বস্তরের মানুষ এমনকি বিলাসী নগর জীবনে অভ্যস্ত মানুষেরাও বৈশাখের তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে। নারীরা লাল-সাদা শাড়ি পরে বৈশাখী সাজে সেজে, পুরুষেরা রং-বেরঙের পাঞ্জাবি-ফতুয়া পরে দল বেঁধে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করে। সমগ্র শহরময় মনে হয় প্রাণের জোয়ার নেমেছে। চারদিকে যেন উত্তাল-তরঙ্গের মতো তারুণ্যের উচ্ছ্বসিত বিচরণ।
রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি সব জেলা, উপজেলা এমনকি গ্রামপর্যায় পর্যন্ত বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবেই নববর্ষ উদ্যাপন করা হয়। এক সময়ে গ্রামে গ্রামে মোরগ লড়াই, ষাঁড়ের লড়াই, ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজনও করা হতো। যুগের পরিবর্তনে এগুলো এখন নেই বললেই চলে।
তবে গ্রামবাংলার মাঠে-ঘাটে-হাটে এখনো মেলার আয়োজন করা হয়। এসব গ্রাম্য মেলায় শিশু-কিশোররা নাগরদোলায় দোল খেয়ে, চরকিতে ঘুরে আনন্দ উপভোগ করে। এ ছাড়া বাঁশি বিক্রেতাদের বাঁশির সুরের মূর্ছনায় মুখরিত থাকে মেলা প্রাঙ্গণ।
দিনটি উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, লোকগীতি, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া ও বাউল গান পরিবেশিত হয়। এ ছাড়াও শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, গান, আবৃত্তি, সেমিনার, নাটক প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফের সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর বর্তমান মূল্যে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) হিসাবে বাংলাদেশ ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ৯১১ ডলার, যেখানে ভারতের ক্ষেত্রে তা হতে পারে ২ হাজার ৮১২ ডলার। পার্থক্য তুলনামূলক কম হলেও এর প্রতীকী গুরুত্ব বড় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অর্থনীতির আকারের বিচারে ভারত এখনো অনেক এগিয়ে। ২০২৫ সালের হিসাবে ভারতের অর্থনীতির আকার প্রায় ৩ হাজার ৯১৬ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশের ৪৫৮ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় আট গুণ বড়। তবে মাথাপিছু আয়ের সূচকে ছোট অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু এই প্রবণতাকে ‘বিস্ময়কর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও কিছু ভারতীয় বিশ্লেষকের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—এটি বাংলাদেশের প্রকৃত অগ্রগতি, নাকি কেবল বিনিময় হারভিত্তিক পরিসংখ্যানের প্রতিফলন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পার্থক্যের অন্যতম কারণ মুদ্রার বিনিময় হার। ২০১৮ সালের পর কয়েক বছর ডলারের হিসাবে বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়ে ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিল। তবে ২০২৫ সালে টাকার অবমূল্যায়নের ফলে সেই অবস্থান কিছুটা পরিবর্তিত হয়।
ঐতিহাসিকভাবে, ১৯৮৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সময়েও বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়ে ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিল। পরবর্তীতে প্রায় দেড় দশক ভারত এগিয়ে থাকলেও ২০১৮ সালে আবারও বাংলাদেশ শীর্ষে উঠে আসে।
তবে আইএমএফের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ভারত পুনরায় এগিয়ে যেতে পারে এবং অন্তত ২০৩১ সাল পর্যন্ত সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ডলার মূল্যে মাথাপিছু জিডিপি একটি পরিবর্তনশীল সূচক, যা বিনিময় হারের ওঠানামার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। কোনও দেশের মুদ্রার মান কমে গেলে উৎপাদন অপরিবর্তিত থাকলেও ডলারে তার মূল্য কমে যায়।
অপরদিকে ক্রয়ক্ষমতার সমতা (পিপিপি)-ভিত্তিক হিসাব ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। এই পদ্ধতিতে দেশীয় মুদ্রার প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া হয়। সেখানে ভারত এখনো স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। ২০২৫ সালে ভারতের পিপিপিভিত্তিক মাথাপিছু আয় ছিল ১১ হাজার ৭৮৯ ডলার, যা বাংলাদেশের ১০ হাজার ২৭১ ডলারের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।
আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩১ সাল নাগাদ এই ব্যবধান আরও বাড়তে পারে। তখন ভারতের পিপিপি-ভিত্তিক মাথাপিছু আয় দাঁড়াতে পারে ১৮ হাজার ৪৮৫ ডলার, বিপরীতে বাংলাদেশের হতে পারে ১৪ হাজার ৮৫৭ ডলার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডলারভিত্তিক মাথাপিছু আয়ের এই সাময়িক অগ্রগতি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও তা এককভাবে জনগণের জীবনমানের পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না। এজন্য পিপিপি, আয়বৈষম্য ও জীবনযাত্রার মানসহ অন্যান্য সূচক সমানভাবে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল এনেছে সরকার। একদিনেই ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. নুর-এ আলম স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ, খাদ্য অধিদপ্তর, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা), পরিবেশ অধিদপ্তর, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন), ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এবং পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রাজা মো. আব্দুল হাইকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার চাকরি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হয়েছেন অতিরিক্ত সচিব মো. শফিকুল ইসলাম। শফিকুল ইসলাম বর্তমানে গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক। তার চাকরি খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে তার চাকরি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. জসীম উদ্দিন খানকে খাদ্য অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাকে এই নিয়োগ দিয়ে তার চাকরি খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরে নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. লুৎফর রহমান। তার চাকরি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরে মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম এম আরিফ পাশা। তার চাকরি কৃষি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দিল আফরোজকে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক করা হয়েছে। তার চাকরি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
পেটেন্ট, শিল্প নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হয়েছেন বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এ এস এম মুস্তাফিজুর রহমান। তার চাকরি শিল্প মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে নতুন মহাপরিচালক হয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের পরিচালক খোন্দকার আনোয়ার হোসেন। তার চাকরি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) মহাপরিচালক হয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন। এজন্য তার চাকরি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তার চাকরি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামানকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক করে তার চাকরি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবুল হাসনাত মুহম্মদ আনোয়ার পাশা।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ার হোসেনকে গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) মহাপরিচালক নিয়োগ দিয়ে তার চাকরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
এছাড়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার জেনারেল হয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসান মাহমুদ। তার চাকরি স্থানীয় সরকার বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত এবং হামের উপসর্গ থাকা ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৫৬৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। যা একদিনে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৪৩ জন। বাকিদের শরীরে হামের উপসর্গ আছে। মৃত শিশুদের মধ্যে একজন হামে আক্রান্ত ছিল বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৪৩ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২১৬ শিশু। মৃত্যুর হার বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। এখানে হামের উপসর্গ নিয়ে ১০২ জন এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ২৮ শিশু মারা গেছে।
১৫ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসে ৩২ হাজার ২৮ জন আর হামে আক্রান্ত হয় ৪ হাজার ৬০৩ শিশু।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদকে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গ্রেড-১ পদমর্যাদায় তাকে এক বছর মেয়াদে চুক্তি ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সৈয়দ আবদাল আহমদকে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, সৈয়দ আবদাল আহমদ আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগে তিনি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্য ছিলেন।
দেশে প্রায় ৮০ লাখ ইটিআইএনধারী তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেননি এখনও। ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাদের তালিকা তৈরি করে নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রোববার এনবিআর ভবনে প্রাক বাজেট আলোচনা সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। আলোচনা সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান ছাড়াও বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিজিএপিএমইএ, বিজিবিএ-এর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে ১ কোটি ২৮ লাখ ইটিআইএনধারী আছেন। সেখান থেকে হয়তো ৫০ লাখের মতো রিটার্ন পড়বে। যারা রিটার্ন দেন নাই, ই-টিআইএন ডাটাবেজ এবং ই-রিটার্ন ডাটাবেজ আমাকে অটোমেটিক্যালি লিস্ট তৈরি করে দেবে কারা রিটার্ন দেয়নি অর্থাৎ নন-ফাইলার। আমরা অটোমেটেড বেসিসে এই নন-ফাইলারদের লিস্ট থেকে তাদের কাছে নোটিশ যাবে। এরপরও যদি রিটার্ন না দেন তাহলে ইন্সপেক্টর যাবে, সে তার আয়-ব্যয় হিসাব করে দেখবে।
তিনি বলেন, আমরা অডিট সিস্টেমটাকে স্বচ্ছ করার জন্য আমরা ম্যানুয়াল সিলেকশন পদ্ধতি টোটালি স্টপ করে দিয়েছি। এখন রিস্ক বেসড অটোমেটেড অডিট সিলেকশন পদ্ধতি চালু হয়েছে। ২০২৩-২৪ এর জন্য প্রথম পর্যায়ে আমরা ১৫ হাজারের মতো র্যান্ডম সিলেকশন করেছিলাম। সেকেন্ড ফেজে প্রায় ৬০ হাজারের বেশি সিলেকশন হবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ম্যানুয়াল ইন্টারঅ্যাকশন নেই, এটি টোটালি সিস্টেম জেনারেটেড। ফলে ট্রান্সপারেন্সি এনশিওর হবে।
অন্যদিকে ভ্যাটের অডিট সিস্টেমের বিষয়ে আবদুর রহমান বলেন, ভ্যাটের ক্ষেত্রেও আমরা ২০টি ক্রাইটেরিয়া দিয়ে ৬০০টি প্রতিষ্ঠান সিলেক্ট করেছি। লার্জ ট্যাক্সপেয়ারদের জন্য জয়েন্ট অডিট শুরু করেছি যেখানে ভ্যাট এবং ইনকাম ট্যাক্স টিম একসঙ্গে অডিট করবে। আমাদের দেশে রিটেইল লেভেলে ভ্যাটের আওতা খুবই ছোট। বর্তমানে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন সংখ্যা ৮ লাখেরও কম, যা অগ্রহণযোগ্য। আমরা আইনে কিছু পরিবর্তন এনে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন বাড়ানো এবং প্রক্রিয়া সহজ করার চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, যারা নতুন ভ্যাটে আসবে, তাদের লাইফ ইজি করার জন্য আমরা কাজ করছি। তাদের হয়তো প্রতি মাসে রিটার্নই সাবমিট করতে হবে না; বছরে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাট দিলেই হবে। তারা মোবাইল বা ডেস্কটপ থেকে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ভ্যাট দিতে পারবে। কেউ তাদের কাছে খাতা-পত্র বা কম্পিউটার নিয়ে আসবে না। কর ফাঁকি, ভ্যাট ফাঁকি এবং বন্ডের মিসইউজ রোধ করতে আমাদের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। আমরা প্রত্যেকটি ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটকে ট্র্যাক এবং ট্রেস করতে চাই। কিউআর কোড এবং এআর কোড জেনারেট করে স্ট্যাম্পের মতো লাগিয়ে দেওয়া হবে। প্রথমে টোব্যাকো দিয়ে শুরু করলেও পরে পানির বোতল, ড্রিঙ্কস, সাবান, শ্যাম্পু এমনকি চিপসের প্যাকেটেও এটি চালু হবে।
সাধারণ মানুষকে হুইসেল ব্লোয়ার উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা ১৮ কোটি জনগণের ৩৬ কোটি চোখকে ব্যবহার করবো কর ফাঁকি উদ্ধারে। সাধারণ মানুষ মোবাইল দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করে দেখবে পণ্যটি ট্যাক্স দিয়ে বাজারে এসেছে কি না। তারা যদি হুইসেল ব্লোয়ার হিসেবে তথ্য দেয়, তবে তাদের পুরস্কৃত করা হবে এবং ফাঁকিদাতাদের পেনাল্টি দেওয়া হবে।
একটি ট্রান্সপারেন্ট সিস্টেম তৈরি হলে ট্যাক্সপেয়ারদের হয়রানি কমবে এবং ট্যাক্স নেট বড় হবে, যার ফলে কমপ্লায়েন্ট ট্যাক্সপেয়ারদের ওপর চাপ কমে আসবে বলেও মন্তব্য করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রভাবে দেশে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি ‘বিশেষ কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই কমিটির মেয়াদ হবে প্রজ্ঞাপন বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিন। গতআল রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কমিটি গঠনের প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম।
প্রস্তাব উত্থাপনকালে চিফ হুইপ বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল নিয়ে বৈশ্বিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। যার আঁচ বাংলাদেশে এসে লেগেছে। এরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে সংসদে ঐতিহাসিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিরোধী দলের নেতার প্রস্তাবমতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনে একমত হয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘সংসদে উক্ত কমিটিতে সংসদ নেতা সরকারি দলের ৫ জন সদস্যের নাম প্রস্তাব করেন এবং সংসদ নেতার অনুরোধে বিরোধীদলের নেতাও ৫ জন বিরোধীদলের সদস্যের নাম প্রস্তাব করেছেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে, সংসদ নেতার অনুমতিক্রমে তার পক্ষে আমি মো. নূরুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, সংসদ নেতা ও বিরোধীদলের নেতার প্রস্তাবকৃত সদস্যদের নিয়ে কার্যপ্রণালী-বিধির ২৬৬ বিধি অনুযায়ী একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করছি।’
প্রসঙ্গত, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট সমাধানে গত ২৩ এপ্রিল ১০ সদস্যের এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কমিটিতে সরকারি দলের পক্ষ থেকে মনোনীত ৫ সদস্য হলেন— জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফউদ্দিন, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মইনুল ইসলাম শান্ত এবং শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু। কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জ্বালানি মন্ত্রী৷
অন্যদিকে, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কমিটিতে থাকা ৫ সদস্য হলেন— সাইফুল আলম মিলন (ঢাকা-১২), আবদুল বাতেন (ঢাকা-১৬), মো. নূরুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩), এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত (কুমিল্লা-৪) এবং খেলাফত মজলিশের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসান (সিলেট-৫)।
চিফ হুইপের এই প্রস্তাবটি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভোটের জন্য উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে কণ্ঠভোটে পাস হয়।
জাতীয় সংসদে ‘মেম্বারস অব পার্লামেন্ট রেনুমারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্স বিল-২০২৬’ পাস হয়েছে। এই বিলটি পাসের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের দীর্ঘদিনের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল করা হলো। রোববার দুপুরে সংসদ অধিবেশনে আইনমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটি প্রস্তাব করার পর বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরাও এতে পূর্ণ সম্মতি জানান। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী জানান, পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি কাজে নিয়োজিত যানবাহনের জন্য তেল বিক্রয়ে কোনো ধরনের রেশনিং থাকবে না। জনস্বার্থ ও জরুরি সেবার গুরুত্ব বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, জ্বালানি সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা ও করণীয় নির্ধারণের জন্য সরকারি ও বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিকেলের অধিবেশনে গঠিত ১০ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করবে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রাপাতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গাইবান্ধায় ৫, সিরাজগঞ্জে ২, ঠাকুরগাঁওয়ে ২, জামালপুরে ২, বগুড়ায় ১ এবং পঞ্চগড়ে ১ জন চা শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন।
প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য-
গাইবান্ধা: জেলায় বজ্রপাতে বিকেলে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নে ৩ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো একজন। উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায় একই সময় পৃথক বজ্রপাতে ফুলছড়ির জামিরার চরের ১ যুবক ও সাঘাটায় উপজেলায় ১ বৃদ্ধ নিহত হন।
সুন্দরগঞ্জে নিহতরা হলেন- ধোপাডাঙ্গা এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ওরফে সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ (১৪), ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি (১৫) এবং নবীর হোসেনের ছেলে মিজান (২০)।
এদিকে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বজ্রপাতে নম্বার আলী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামের বাসিন্দা।
অন্যদিকে প্রায় একই সময়ে ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের জামিরা চরে বজ্রপাতে নিহত মানিক হোসেন (২২) ওই এলাকার শুক্কুর আলীর ছেলে।
তিনি একটি ঘোড়া নিয়ে বালু চর ধরে বাড়ি ফিরছিলেন। বজ্রপাতে তিনিসহ ঘোড়াটিও মারা যায়। স্থানীয় একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার মাহফুজা জান্নাতি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিরাজগঞ্জ : জেলার তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় বজ্রাঘাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পৃথক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে কৃষক আব্দুল হামিদ (৫০) ও রায়গঞ্জ উপজেলা ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিক চাঁন গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে কৃষক হাসান আলী (২৪)। মাধাইনগর ইউপির সদস্য শফিকুল ইসলাম শফি বলেন, কৃষক আব্দুল হামিদ বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশে মাঠে কাজ করছিলেন। ওই সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঠাকুরগাঁও: জেলার পীরগঞ্জে বজ্রাঘাতে নারী-পুরুষসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে উপজেলার কোষাডাঙ্গীপাড়া ও নিয়ামতপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের রশিদুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা আক্তার দুপুরে ফসলি মাঠে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলে মারা যান। অপরদিকে কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭) বিকেলে নিজ জমির ফসল দেখতে যান। এসময় বজ্রাঘাতে তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম জানান, পীরগঞ্জে বজ্রাঘাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
জামালপুর : জেলার সদর ও মেলান্দহ উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রাঘাতে এক কৃষক ও গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। রোববারবিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মেলান্দহ উপজেলার কড়ইচড়া গ্রামের মর্জিনা বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার রাজীবের স্ত্রী। আরেকজন সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকার কৃষক হাসমত আলী (৪৫)। তিনি ওই এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায় , মর্জিনা বেগম বাড়ির উঠানে রান্নাঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় কৃষক হাসমত আলী মাঠ থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মারা যান।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
পঞ্চগড়: জেলার আটোয়ারীতে চা-বাগানে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে সোহরাওয়ার্দী (৩৫) নামের এক চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুই চা শ্রমিক। সকালে আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, সোহরাওয়ার্দীসহ কয়েকজন শ্রমিক চা-পাতা তুলতে বাগানে যান। কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে সোহরাওয়ার্দী তিনজন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু হয়।
আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) মতিয়ার রহমান জানান, বজ্রাঘাতে নিহত চা শ্রমিকের সুরতহাল করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বগুড়া: জেলার গাবতলীতে জমি থেকে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন মুচিখালী গ্রামের মো. আবদুল করিমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল পৌনে ৪টার দিকে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বাড়ির পাশের একটি জমিতে থাকা নিজের ছাগল আনতে যান সুমন। কিছুক্ষণ পর বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
গাবতলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু মুসা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে এসআই মো. মাহবুবের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
নাটোর : জেলার সিংড়ায় চলনবিলে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সম্রাট হোসেন (২৬) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে উপজেলার ঠ্যাঙ্গা পাকুরিয়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সম্রাট হোসেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নগরডালা গ্রামের সাজা ফকিরের ছেলে।
খাল খনন কাজের উদ্বোধনসহ পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগামীকাল (২৭ এপ্রিল) যশোর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (২৬ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, আগামীকাল (সোমবার) সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে সড়ক পথে যাত্রা করবেন তিনি। সকাল সাড়ে ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিতি ও যশোর বিমানবন্দরের উদ্দেশে আকাশ পথে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী।
এরপর বেলা ১১টায় ১৫ মিনিটে যশোর শার্শা উপজেলার উলশী খাল খননের উদ্বোধন করবেন। সাড়ে ১১টায় আয়োজিত পথসভা/ সুধী সমাবেশে যোগদান করবেন। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে শার্শা উপজেলা হতে যশোর সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে সড়ক পথে যাত্রা করবেন। দুপুর ১টায় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। বিকেল সাড়ে ৩টায় যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জনসভায় যোগদান।
বিকেল সোয়া ৫টায় জনসভাস্থল হতে যশোর বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শেষে সন্ধ্যা ৭টায় আকাশ পথে ঢাকায় পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকার দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি অধিদপ্তর ও সংস্থায় নতুন প্রধান নিয়োগ দিয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক ১৫টি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার ১৫ জন কর্মকর্তাকে প্রেষণে এসব সরকারি দপ্তর ও সংস্থার শীর্ষ পদে পদায়ন করা হয়েছে। জনস্বার্থে অবিলম্বে এই আদেশ কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. জসীম উদ্দিন খানকে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. লুৎফর রহমানকে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক করা হয়েছে। এ ছাড়া ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম এম আরিফ পাশাকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক অতিরিক্ত সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হয়েছেন খোন্দকার আনোয়ার হোসেন।
সামাজিক ও কারিগরি খাতের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সংস্থায়ও নতুন মুখ আনা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের এবং পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবুল হাসনাত মুহম্মদ আনোয়ার পাশাকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক করা হয়েছে। এ ছাড়া ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে মো. আসাদুজ্জামান, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে দিল আফরোজ এবং পেটেন্ট, শিল্প নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরে এ এস এম মুস্তাফিজুর রহমানকে মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগের এই তালিকায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ার হোসেনকে গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের মহাপরিচালক এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসান মাহমুদকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্টার জেনারেলের কার্যালয়ের রেজিস্টার জেনারেল করা হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে মো. আব্দুল হাই এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে মো. শফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব কর্মকর্তার চাকরি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রশাসন ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে গতিশীলতা আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরের নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে প্রেষণে নিয়োজিত থাকবেন। সরকারি কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এই বিশাল রদবদলকে নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উত্থাপিত ১৭টি প্রকল্পের মধ্যে ১৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১০ম এই সভা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সাংবাদিকদের জানান, অধিকাংশ প্রকল্প পাস হলেও কয়েকটির ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত ও পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া দিকনির্দেশনা উল্লেখ করে জোনায়েদ সাকি জানান, সরকারি ব্যয়ে অত্যন্ত সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিটি প্রকল্পের ব্যয়ের খাতগুলো যৌক্তিক কি না, তা কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রকল্পগুলো সামগ্রিকভাবে জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখবে এবং বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সেগুলোর সামঞ্জস্য আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
সরকারের চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো নতুন করে পর্যালোচনার সিদ্ধান্তের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত সময়ে নেওয়া অনেক প্রকল্প বর্তমানে এমন অবস্থায় রয়েছে যেগুলোর হয়তো আর প্রয়োজন নেই। ফলে জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এসব প্রকল্পের উপযোগিতা পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ছাঁটাই করাই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রকল্পের কারিগরি ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শর্তসাপেক্ষে পাস হওয়া প্রকল্পগুলো পুনরায় প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। সরকারের এই সর্তক অবস্থান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড় করাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জনবান্ধব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনে সচেষ্ট থাকবে সরকার।
চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিতরণে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। রোববার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দৃঢ় অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন। উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, একটি অসাধু চক্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁসের ভুয়া গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা রোধে সাইবার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
মাহদী আমিন জানান, প্রশ্নপত্র দেওয়ার নামে ভুয়া প্রশ্ন সাজিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটিটিসি ইউনিট গত কয়েক দিনে প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এই চক্রটি একটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে কোনো চক্র অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রকাশিত প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে কোনো প্রশ্নফাঁস ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণা। চক্রটি পরীক্ষা শুরুর পর প্রশ্ন সংগ্রহ করে সেটিকে আগের রাতে আপলোড করা হয়েছে বলে দাবি করে শিক্ষার্থীদের ফাঁদে ফেলত। তবে উপযুক্ত তথ্যের অভাব ও প্রতিবেদনে ত্রুটি থাকায় সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলটি ইতোমধ্যে নিজ দায়িত্বেই সেই সংবাদটি সরিয়ে নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিগত ১৬ বছরের শিক্ষা খাতের অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে মাহদী আমিন বলেন, অতীতে পাঠ্যপুস্তকে বিকৃত ইতিহাস ও মেধার চেয়ে দলীয় আনুগত্যকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে ঢেলে সাজাতে সচেষ্ট এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নানাবিধ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকার এমন একটি স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক শিক্ষা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায় যা সব ধরনের প্রতারণামূলক মানসিকতার পরিপন্থী।
পরিশেষে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বিশেষ আহ্বান জানান মাহদী আমিন। তিনি তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো সংবাদ বা দাবি বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেন এবং ডিজিটাল জগতের অপপ্রচার সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ করেন। সরকারের এই কঠোর তদারকি ও ত্বরিত ব্যবস্থা একটি সুন্দর ও নকলমুক্ত পরীক্ষা পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে দেশে পুনর্নির্ধারিত বর্ধিত বাস ভাড়া আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হচ্ছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ইতিমধ্যে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটের নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকার ভাড়ার তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরিবহণ সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং যাত্রীদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক এড়াতে প্রতিটি যানবাহনে হালনাগাদ ভাড়ার তালিকা বা চার্ট টাঙানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মূলত গত ১৮ এপ্রিল সরকার ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই পরিবহণ মালিকরা ভাড়া বাড়ানোর দাবি তুলেছিলেন। নতুন মূল্য অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির প্রভাব সামঞ্জস্য করতেই বাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। বিআরটিএ জানিয়েছে, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করলে বাসে দায়িত্বরত কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
নতুন তালিকা অনুযায়ী, গাবতলী রুটের আওতায় ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে চলাচল করা ৫১ আসনের বাসের ভাড়া ১ হাজার ৫ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসের ভাড়া ১ হাজার ২৮১ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা-রংপুর রুটে বাসের আসনভেদে ভাড়া পড়বে ৭৫১ থেকে ৯১১ টাকা এবং দিনাজপুর রুটে ভাড়া ৯৭৪ থেকে ১ হাজার ২৪১ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া গাবতলী থেকে রাজশাহী ও মেহেরপুর রুটেও ভাড়া আসনভেদে সাতশ থেকে এক হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
সায়েদাবাদ থেকে ছেড়ে যাওয়া চট্টগ্রাম রুটের ৫১ আসনের বাসের ভাড়া এখন ৭০৪ টাকা এবং কক্সবাজার রুটের ভাড়া আসনভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ১৪৭ টাকা পর্যন্ত পড়বে। এ ছাড়া সিলেট রুটে ৭৪০ টাকা, বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকা এবং খুলনা রুটে ৬৯০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের দীর্ঘতম রুট ঢাকা-টেকনাফে চলাচলকারী ৪০ আসনের বাসের ভাড়া এখন ১ হাজার ৩৩৫ টাকা। অন্যদিকে মহাখালী থেকে ময়মনসিংহ ও জামালপুর রুটে বাসের মান অনুযায়ী ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের এই দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেল। পরিবহণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়ায় পরিবহণ খাতে এর বহুমুখী প্রভাব পড়বে। তবে সরকার ও বিআরটিএ-র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মালিকদের দাবির সঙ্গে সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের একটি ভারসাম্য বজায় রেখেই এই নতুন ভাড়া কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। আজ সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসে নতুন এই তালিকা কার্যকর হতে দেখা গেছে।