পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশ যুদ্ধ নয়, শান্তির পক্ষে এবং আমরা চাই, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিরসনে যে সব রাষ্ট্রের ভূমিকা রাখার কথা, তারা কার্যকর ভূমিকা নিক এবং গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞ বন্ধ হোক।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকরা সম্প্রতি সিরিয়ার দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে হামলার বদলা হিসেবে শনিবার রাতে তেল আবিব, পশ্চিম জেরুজালেমসহ ইসরায়েল জুড়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি এ কথা বলেন।
একইসঙ্গে মন্ত্রী ড. হাছান বলেন, ইসরায়েল সিরিয়ায় ইরানি দূতাবাসে হামলা করায় ইরান এ আক্রমণের সুযোগ পেয়েছে, অন্যথায় এটি হতো না, ইরান 'রিটালিয়েট' করেছে -ইরানের বক্তব্য তাই। তিনি বলেন, আমরা আশা করবো, যে সব রাষ্ট্রের ভূমিকা রাখার কথা, তারা ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নিরসনে এবং গাজায় যে নির্বিচারে মানুষ হত্যা হচ্ছে, অবিলম্বে সেই হত্যাযজ্ঞ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। আমরা কখনোই যুদ্ধ-বিগ্রহের পক্ষে নই, আমরা শান্তির পক্ষে।
এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তদের আরেক প্রশ্নে অপহৃত বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ উদ্ধার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সর্বাত্মক তৎপরতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে জিম্মি নাবিক ও জাহাজ নিরাপদে উদ্ধার হয়েছে। জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ১০০ নটিক্যাল মাইল এগিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ'র সহযাত্রী হয়েছে। সবার পাশাপাশি কেএসআরঅএম গ্রুপকেও ধন্যবাদ দেই, তারাও অত্যন্ত সক্রিয় ছিল।
এ সময় দক্ষিণ সীমান্তে মিয়ানমারের আরও ৯ বিজিপি সদস্যের দেশে প্রবেশ নিয়ে মন্ত্রী হাছান বলেন পূর্বের ১৮০ জনসহ সবাইকে ফেরত পাঠানো নিয়ে কাজ চলছে, মায়ানমার নৌপথের কথা বলেছে।
হাছান মাহমুদের সঙ্গে এন্টিগা ও বারবুডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাত
রোববার বিকেলে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করেন পাঁচদিনের বাংলাদেশ সফরে আসা এন্টিগা ও বারবুডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ই. পি. শেত গ্রিন (E. P. Chet Greene)।
বৈঠক বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়ন ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাদের পর্যটন খাত অত্যন্ত উন্নত। আমাদের পর্যটন বিভাগের সাথে 'টেকনিকাল কো-অপারেশনে'র মাধ্যমে এ খাতে প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা হয়েছে।
হাছান বলেন, বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য আমেরিকা-কানাডা-ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের ১৪০টি দেশে রপ্তানি হয়, তাদেরকেও তা আমদানির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তৈরি পোষাক, সিরামিকস, চামড়াজাত পণ্য এ দেশ থেকে আমদানির কথা আলোচনা করেছি।
বাংলাদেশিদের জন্য তাদের দেশে ভিসা ফ্রি করলে আমরাও 'রিসিপ্রোসিটি' ভিত্তিতে তাদের জন্যও একই ব্যবস্থা বিবেচনায় নিতে পারি, উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
এন্টিগা ও বারবুডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ই. পি. শেত গ্রিন সাংবাদিকদের কাছে তাদের দেশের বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটার ভিভিয়ান রিচার্ডসের বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনার কথা জানান।
মন্ত্রী গ্রিনের সাথে দেশি শিল্পগ্রুপ পিএইচপি ফ্যামিলির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম এবং এন্টিগা ও বারবুডার কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকা উইংয়ের মহাপরিচালক খন্দকার মাসুদুল আলম, মন্ত্রীর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদসহ পদস্থ কর্মকর্তারা বৈঠকে যোগ দেন।
এন্টিগা ও বারবুডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার ঢাকা ত্যাগের আগে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু ও এফবিসিসিআই প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামে বিভিন্ন শিল্প স্থাপনা পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এই অধিবেশন আয়োজনের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের ১ দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের এই প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন। সোমবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বিশেষ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের পরিচালক (গণসংযোগ) মো. এমাদুল হক স্বাক্ষরিত এক আদেশে রাষ্ট্রপতির এই সিদ্ধান্তের কথা জনসম্মুখে জানানো হয়।
সংসদীয় প্রথা ও আইন অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম দিনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই নির্বাচনের পরপরই নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের শুভ সূচনা হবে। অধিবেশনের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং আগামী দিনের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণ দেবেন। রাষ্ট্রপতির এই ভাষণের পর সংসদ সদস্যরা আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ সাধারণ আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর এরই মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণসহ অন্যান্য প্রাথমিক প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় ১২ মার্চের এই অধিবেশনটি দেশের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে।
পুলিশের এসপি ও ওসিদের নিয়োগ আর লটারির মাধ্যমে হবে না বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হবে।
আজ সোমবার ( ২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধিদপ্তরগুলোর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এসপি ও ওসিদের লটারির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রত্যাশিত সেবা দিতে পারেন না। বড় জেলা ও ছোট জেলার কাজের ধরন আলাদা- সেখানে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও উপযুক্ততা বিবেচনা করা জরুরি। কিন্তু তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। এমনকি লটারির প্রক্রিয়াটিও স্বচ্ছ ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি নিয়োগ এভাবে হওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগ যাদের দক্ষ ও উপযুক্ত মনে করবে, তাদেরই নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পদায়ন করা হবে—এমন নির্দেশনা বৈঠকে দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে গত নভেম্বরের শেষ দিকে অন্তর্বর্তী সরকার লটারির মাধ্যমে এসপি-ওসিদের পদায়ন শুরু করে। ২৪ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় লটারির মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার চূড়ান্ত করা হয়। পরে ডিসেম্বরের শুরুতে একই প্রক্রিয়ায় ৫২৭ থানায় নতুন ওসি পদায়ন করা হয়।
বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ চাইবে না।’
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘গতকাল থেকে আমাদের দেশের বিদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আমরা বৈঠক শুরু করেছি।
আমরা তাদের কাছে আমাদের সরকারের বৈদেশিক নীতির আউটলাইন তুলে ধরেছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা প্রতিটি দেশের সঙ্গে পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই। এখন পর্যন্ত সৌদি আরব, চীন, ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। আমি লক্ষ করেছি যে তারা আমাদের সরকারের প্রতি গভীর আস্থা এবং আমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রবল ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মোটো হচ্ছে বাংলাদেশ ফার্স্ট। সবার ওপরে থাকবে বাংলাদেশ। আমরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবো, পরস্পরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করব না এবং আমাদের নীতিমালা হবে পারস্পরিক স্বার্থ, ন্যাশনাল ডিগনিটি ও জাতীয় মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম নবনির্বাচিত সরকারের প্রশাসনিক রদবদলকে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেন। সোমবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, একটি নতুন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়াটা খুবই সাধারণ ঘটনা। বিচার প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
নিজের দায়িত্বকাল সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তাঁকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে নির্বাচিত সরকার নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন নেতৃত্ব নিয়ে এসেছে এবং একে তিনি ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে তিনি প্রয়োজনে আইনি পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। সাধারণ নাগরিক হিসেবে তাঁর একমাত্র চাওয়া হলো জুলাই অভ্যুত্থানে ভুক্তভোগী মানুষের বিচারের দাবি যেন কোনোভাবেই থমকে না যায়।
পদত্যাগের বিষয়ে ওঠা গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে তাজুল ইসলাম জানান, দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি প্রশাসনিক পরামর্শ মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। শুরুতে তাঁকে বর্তমান ধারা বজায় রাখার কথা বলা হলেও পরবর্তীতে নতুন নিয়োগের বিষয়টি সামনে আসে। সেই সময়ে তিনি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে তাঁকে সরাসরি পদত্যাগ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল নতুন কেউ দায়িত্ব গ্রহণ করলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থলাভিষিক্ত হবেন। জনসাধারণের কাছে কোনো ভুল বার্তা যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই তিনি নিজে থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেননি।
এ পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণাদি সম্পর্কে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ অকাট্য প্রমাণাদি হাজির করেছে, তা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের আদালতে উপস্থাপন করা হলে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। পুরো প্রসিকিউশন টিম কোনো অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং ছাড়াই অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে কাজ করেছে। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন শেষে তিনি পুনরায় সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত আইন পেশায় ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
পুলিশ বাহিনীতে জনবল বাড়াতে দ্রুত ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবল নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ নিয়োগ কার্যক্রম জরুরি ভিত্তিতে শুরু হবে।
আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচালনা করা।’
তিনি জানান, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় যেসব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেগুলো পুনরায় যাচাই করা হবে। লাইসেন্স যথাযথ নিয়মে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আশা করছি এই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা যাবে। যারা লাইসেন্স পেয়েছেন, তারা কি তা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, তা যাচাই করা হবে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সেগুলো বাতিল করা হবে। এছাড়া এই লাইসেন্সের অধীনে থাকা অস্ত্রগুলোও বাতিল হবে।’
তিনি আরও জানান, তার জানা অনুযায়ী ১০ হাজারের বেশি অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র বর্তমানে অবৈধ হিসেবে গণ্য। এগুলো নিয়ে মামলা হতে পারে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রকে আরো নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে প্রথম সৌজন্য বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
পোস্টে ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন।
আমাদের দুই দেশকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পেরে আমি আনন্দিত।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার সকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসেন। শুরুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে ও পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
সশস্ত্র বাহিনীর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরে অবস্থিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে এলে প্রতিরক্ষা সচিব মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টাকে প্রতিরক্ষা সচিব প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড, উল্লেখযোগ্য সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন। পরে উপদেষ্টা উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
পরে উপদেষ্টা উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
উপদেষ্টা বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। বর্তমান সরকার দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করণের জন্য কাজ করবে।
এসময় তিনি সরকারের নির্বাচনী ওয়াদা পূরণকল্পে মন্ত্রণালয়ের সকলে আন্তরিকভাবে কাজ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
একইসঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্বাধীন-সার্বভৌম, আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সরকার ফ্যামিলি কার্ডের মতোই যত দ্রুত সম্ভব কৃষক কার্ড চালু করবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ‘কৃষক কার্ড’ সংক্রান্ত একটি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নীতিগতভাবে অনেক আগেই কৃষক কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি সরকার। বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করার জন্যই আজ এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব ফ্যামিলি কার্ডের মতো পাইলট প্রকল্প আকারে কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু হবে। প্রকৃত কৃষকরা এ কার্ড পাবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই কার্ডের মাধ্যমে উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সুবিধা পাবেন কৃষক। মধ্যস্বত্বভোগীরা যেন সুবিধা নিতে পারে সেজন্যই স্মার্ট কৃষক কার্ড। পর্যায়ক্রমে সব কৃষক এ কার্ড পাবেন।’
সচিবালয়ে আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। এই বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বেইজিং সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে চীনের প্রেসিডেন্ট আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির সাংবাদিকদের ব্রিফিং প্রদান করেন। তিনি জানান চীনের রাষ্ট্রদূতের সাথে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল দুই দেশের বন্ধুত্বকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া সফরের আমন্ত্রণটি প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। এই সম্ভাব্য সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশ সরকারের ঘোষিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি চীনের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রশংসিত হয়েছে।
সচিবালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাতের আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে তাঁর নির্ধারিত দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। সেখানে তিনি তিন বাহিনীর প্রধানদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং নবনিযুক্ত প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের ব্যাজ পরিধান করান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক গতিশীলতা আনছেন। চীনের রাষ্ট্রদূতের এই সফর এবং শীর্ষ পর্যায়ের আমন্ত্রণ বাংলাদেশের বর্তমান আন্তর্জাতিক অবস্থানের গুরুত্বকেই পুনর্ব্যক্ত করছে। আগামীতে দুই দেশের এই উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নতুন সরকারের ঘোষিত ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতিকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অখণ্ডতা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সার্বভৌম অবস্থান রক্ষায় চীন সবসময় বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে পাশে থাকবে। বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে তিনি আশাবাদী হলেও বর্তমান সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান নিয়ে এখনই মন্তব্য করেননি। তবে আঞ্চলিক রাজনীতিতে তৃতীয় কোনো দেশের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি জানান, চীন এই অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের টেকসই উন্নয়নের জন্য কাজ করছে এবং এখানে কোনো প্রতিবন্ধকতা কাম্য নয়। মূলত ওয়াশিংটনের প্রভাব ঠেকানোর কৌশলী বার্তার পাশাপাশি বেইজিংয়ের উন্নয়ন অংশীদারত্বের বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের উপায় নিয়েও গুরুত্বের সাথে আলোচনা হয়। চীন বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় তারা অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে চায়। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রধানমন্ত্রীও চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রশংসা করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নবনিযুক্ত অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মোঃ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে রাষ্ট্র মালিকানাধীন সাধারণ বীমা কর্পোরেশন (এসবিসি)। গত ২১ ফেব্রুয়ারি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এসবিসি পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোঃ হারুন-অর-রশিদ এই অভিনন্দন প্রদান করেন। সাক্ষাৎকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকার চলাকালে কর্পোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ দেশের বীমা খাতের সার্বিক উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় একযোগে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সাথে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে নতুন নেতৃত্বের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন তাঁরা। সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় লক্ষ্য অর্জনে সব ধরনের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। এই বৈঠকের মাধ্যমে দেশের আর্থিক খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বীমা শিল্পের আধুনিকায়ন ও গতিশীলতা বৃদ্ধির নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক কায়সার রশিদ চৌধুরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে মেজর জেনারেল পদমর্যাদার র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই পদোন্নতি সূচক ব্যাজ পরানো হয়। দেশের অন্যতম শীর্ষ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তাঁর দাপ্তরিক পদমর্যাদা বৃদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে নতুন মহাপরিচালককে এই সামরিক সম্মাননা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি উপস্থিত থেকে তিন বাহিনীর প্রধানগণ এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি নবনিযুক্ত মেজর জেনারেলকে ব্যাজ পরিয়ে দিতে সহায়তা করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত থেকে কায়সার রশিদ চৌধুরীকে অভিবাদন জানান। নতুন মহাপরিচালকের অধীনে সংস্থাটির গোয়েন্দা কার্যক্রম ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা তদারকিতে আরও গতিশীলতা আসবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে।
পেশাদার সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে কায়সার রশিদ চৌধুরী তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও স্টাফ পর্যায়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই র্যাংক ব্যাজ পরিধানের মাধ্যমে তাঁর নতুন দাপ্তরিক যাত্রার এক আনুষ্ঠানিক অধ্যায় শুরু হলো। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি অংশগ্রহণ দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্বের প্রতি বিশেষ গুরুত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
আজ সোমবার সকাল ৯টায় ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রথমবারের মতো দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নবনির্বাচিত সরকারপ্রধান তাঁর কার্যালয়ে পৌঁছালে তাঁকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান তিন বাহিনীর প্রধানগণ। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এই সফরটি জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সরাসরি তদারকি এবং প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর সক্রিয় ভূমিকার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অফিসের প্রথম দিনে নির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সশস্ত্র বাহিনীর দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নতুন ‘র্যাঙ্ক ব্যাজ’ পরিয়ে দেন। পদোন্নতিপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের নতুন প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তিন বাহিনীর প্রধানগণ এই র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিধান অনুষ্ঠানে অংশ নেন, যা সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যকার সুদৃঢ় সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটায়।
অনুষ্ঠানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিনসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রশাসনিক ও প্রচার শাখার কর্মকর্তারাও এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলামসহ উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর এই দাপ্তরিক কাজের সূচনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে নতুন গতিশীলতা আনবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সেনানিবাসে দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পরবর্তী রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির উদ্দেশে যাত্রা করেন।