বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

নিরাপদ সমুদ্রপথ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে বাংলাদেশ: নৌপ্রতিমন্ত্রী

সোমবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
১৫ এপ্রিল, ২০২৪ ২২:৩২
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৫ এপ্রিল, ২০২৪ ২২:৩১

নিরাপদ সমুদ্রপথ তৈরি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ একটি প্রস্তাবনা তৈরির কাজ করছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। আজ সোমবার ঈদ-উল-ফিতরের পর প্রথম কর্মদিবসে প্রতিমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক নৌসংস্থার (আইএমও) নির্বাচিত “সি” ক্যাটাগরির সদস্য। ১৭৪টি দেশ আইএমওর সদস্য। কিভাবে সমুদ্রপথ নিরাপদ করা যায় সেলক্ষ্যে বাংলাদেশ একটি প্রস্তাবনা তৈরির কাজ করছে। বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যাতে বিভিন্ন ধরনের সংকটের সময়ে সমুদ্রপথে চলাচল করতে পারে সেলক্ষ্যে একটি প্রস্তাবনা তৈরির কাজ চলছে। শীঘ্রই সেটি আইএমওতে পাঠানো হবে। কারণ বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যদি সংকটের সময়ে চলাচল করতে না পারে তাহলে বিশ্ববাজারে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়, অস্থিরতা বেড়ে যায়। মার্চেন্টশিপগুলো যাতে বিভিন্ন সংকটের সময়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারে সে ধরনের প্রস্তাবনা তৈরির জন্য নৌপরিবহন অধিদপ্তর কাজ করছে। এটি একটু সময় সাপেক্ষ বিষয়। তবে আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত প্রস্তাবনাটি তৈরি করার।’

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল ২৩জন নাবিককে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং সেটা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় এ বিষয়ে সজাগ ছিলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, আন্তর্জাতিক নৌ-উইংগুলো কাজ করেছে। দ্রুত আমরা নাবিকদের মুক্ত করতে পেরেছি। এ ক্রেডিট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।’

ব্যাগে করে সোমালি জলদস্যুদের মুক্তিপণ দেয়ার ছবি বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটা এখন কোন সিনেমার ছবি আমি তো জানি না। ‌এমন ছবি তো আমরা অনেক চলচ্চিত্রে দেখি। কোন ছবি কোথায় গিয়ে কিভাবে যুক্ত হয়েছে, কোনটার সঙ্গে কোনটা এডিট হয়েছে আমি জানি না। জানতাম পরিত্যক্ত জিনিস পানিতে ফেলে। এত দামি জিনিস পানিতে ফেলে জানা ছিল না।’

জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া জাহাজটি এখন দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে যাচ্ছে জানিয়ে নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সেটি ১৯ বা ২০ এপ্রিল দুবাইয়ে পৌঁছাবে। এরপরের পুরো বিষয়টি জাহাজ এবং নাবিকদের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়। নাবিকরা কত দিনের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে গেছে, সেই চুক্তি তারা বহাল রাখবে, নাকি তারা ফিরে আসবে।’

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, ‘তবে মালিকরা গতকালকে খুব ভালো একটি কথা বলেছে, গতকালকে আমি শুনেছি তারা যদি চায় বাংলাদেশে ফিরে আসবে তাদেরকে বিমানযোগে বাংলাদেশের নিয়ে আসা হবে। সেখানে তাদের রিপ্লেস যারা হবে, সেটা নিয়েও হয়তো তারা কাজ করতেছে।’

একই অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদের দিন ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে লঞ্চের রশি ছিঁড়ে পাঁচজন নিহত হওয়ার ঘটনায় সার্ভেয়ারদের দুর্বলতা থাকলে তাদেরও শাস্তির আওতায় আনা হবে। অভ্যন্তরীণ নৌপথে যতগুলো ঘটনা ঘটেছে, সেটা সদরঘাট হোক, ভোলায় হোক, চাঁদপুরে হোক, বরিশালে হোক, মাঝ নদীতেই হোক না কেন প্রত্যেকটার আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। বিভিন্ন ধরনের পানিশমেন্টগুলো হয়।’

তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন আমরা উৎসবমুখর মুডে ছিলাম। ‌সেখানে এই ধরনের একটি ঘটনা ঈদের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছে। জাহাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল অনেকে কিন্তু পালিয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। একটা মামলা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা এই জায়গাটায় খুবই শক্ত আছি। যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক লঞ্চ গতি ও শক্তি নিয়ে সেখানে ঢোকার চেষ্টা করে। এটা সব লঞ্চ করে, ব্যাপারটা তা নয়। বিশেষ বিশেষ কিছু লঞ্চ করে, শক্তিশালী কোন মালিক থাকলে তাহলে এটা করে। আমরা সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। এই জায়গাটায় আমাদের জিরো টলারেন্স।’

সংশ্লিষ্ট খবর


নির্বাচিত

মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ল মূল্যস্ফীতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি হারে বৃদ্ধি পেয়েছে দেশটির মূল্যস্ফীতি। সরকারি হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিগত এক বছরে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে, যা ঠিক তার আগের মাসে অর্থাৎ আগস্টে ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণাকে ছাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি এভাবে বেড়ে যাওয়ার নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা রেখেছে জ্বালানি তেলের চড়া দর। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পেট্রলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন সময়ে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় যখন আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে, তখন মূল্যস্ফীতির এই আকস্মিক উল্লম্ফন স্বাভাবিকভাবেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ ও অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের তথ্যানুযায়ী, বিগত এক বছরে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে মোটরযানের জ্বালানি খরচ বেড়েছে ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ। শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই জ্বালানির দর বেড়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির অর্ধেকেরও বেশি দায় বহন করছে। সব মিলিয়ে এক বছরে সামগ্রিক জ্বালানি মূল্যস্ফীতি পৌঁছেছে ২০ দশমিক ৪ শতাংশে। এর মাঝে চরম আঘাত এসেছে ঘর উষ্ণ রাখার জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে, যার দাম এক লাফে বেড়েছে ৭৪ দশমিক ২ শতাংশ।

জ্বালানির তুলনায় অবশ্য খাদ্যপণ্যের বাজার অনেকটাই স্থিতিশীল রয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে খাদ্যের দাম অপরিবর্তিত ছিল এবং বছরওয়ারি হিসাবে খাদ্য মূল্যস্ফীতি সীমাবদ্ধ ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশে। অন্যদিকে, খাদ্য ও জ্বালানির মতো অস্থিতিশীল খাতগুলোকে বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল বা কোর মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে ২ শতাংশে। জ্বালানি তেলের বাড়তি খরচ অর্থনীতির অন্যান্য খাতে, বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের বাজারে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে কি না, সে বিষয়ে ফেডের নীতিনির্ধারকরা গভীর নজর রাখবেন বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বাজারে জ্বালানির জোগান হ্রাস পেলে এবং চাহিদা আগের মতোই অটুট থাকলে স্বভাবতই দাম বাড়ে। এছাড়া অপরিশোধিত তেল ডিজেল ও পেট্রল উৎপাদনের প্রাথমিক কাঁচামাল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থিরতা সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ের খরচে প্রতিফলিত হয়।

মূল্যস্ফীতির এই বৃদ্ধির পেছনে ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কনীতির বড় প্রভাব রয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের অধিকাংশ বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর শুল্কের বোঝা চাপিয়ে দেন। সুপ্রিম কোর্ট ফেব্রুয়ারিতে অধিকাংশ বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করে দিলেও ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প হিসেবে ঢালাওভাবে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক কার্যকর করেন। ট্রাম্পের দাবি ছিল, শুল্কের ফলে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন গতিশীল হবে এবং ক্রেতারা স্থানীয় পণ্য ক্রয়ে উৎসাহিত হবেন। তবে নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই শুল্ক নীতিই দেশটির মূল্যস্ফীতিকে নতুন করে উসকে দিচ্ছে।

আমদানিকৃত পণ্যের ওপর চড়া শুল্ক আরোপিত হলে বিদেশি রপ্তানিকারকরা যদি দাম কমিয়ে তার ভাগ না নেন, তবে মার্কিন ব্যবসায়ীদেরই সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের দায় মেটাতে হয়। নিউইয়র্ক ফেডের তথ্যানুযায়ী, নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর বিদেশি রপ্তানিকারকরা তাদের পণ্যের দাম নামমাত্র কমিয়েছে। যার ফলে বাড়তি শুল্কের প্রায় ৯০ শতাংশ আর্থিক চাপই বহন করতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে। গবেষণায় আরও সতর্ক করা হয়েছে, গড় শুল্কের হার ১ শতাংশ বাড়লে পরবর্তী এক বছরে ভোক্তা পণ্যের দাম প্রায় ০ দশমিক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

বর্তমান মূল্যস্ফীতি ফেডারেল রিজার্ভের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে অবস্থান করলেও সাম্প্রতিক ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেকর্ডের তুলনায় তা এখনও যথেষ্ট কম। বৈশ্বিক মহামারির সময় সরবরাহ শৃঙ্খলের বিপর্যয় এবং ২০২২ সালের শুরুতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের জেরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সেসব বৈশ্বিক সংকটের জেরে একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি গিয়ে ঠেকেছিল।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যস্ফীতি হ্রাসের মানে বাজারে পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়; বরং এর অর্থ হলো আগের তুলনায় ধীরগতিতে দাম বাড়ছে। একটি সচল অর্থনীতিতে পরিমিত মাত্রার মূল্যস্ফীতিকে সাধারণত আর্থিক স্থিতিশীলতার পরিচায়ক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার প্রতিফলন দেখা যায় ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রায়। পক্ষান্তরে মূল্যস্ফীতি মাত্রাতিরিক্ত কমে গেলে ভবিষ্যতে আরও কম দামে পাওয়ার আশায় সাধারণ ক্রেতারা ব্যয় স্থগিত রাখতে পারেন, যার ফলে বাজারে সামগ্রিক চাহিদা সংকুচিত হয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীদের মজুরি হ্রাস বা ছাঁটাইয়ের মতো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।


নির্বাচিত

কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের কৃষিকে একটি লাভজনক খাতে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষি এখন আর লাভজনক কোনো খাত নয়। কৃষিকাজ করে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় শ্রমিকরা এ পেশা ছেড়ে যাচ্ছেন। এ কারণে এখন মাঠে কাজ করার জন্য কৃষক পাওয়া যায় না। তাই এই খাতকে লাভজনক করতে করতে হবে।

আজ সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) পরিদর্শনকালে এক মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, কৃষকদের প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, ‘কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কৃষিপণ্য সংরক্ষণ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলে প্রচুর আলু উৎপাদিত হলেও ঐ অঞ্চলের কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান না। অনেক সময় তারা আলু রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হন। অথচ পরবর্তী সময়ে বীজ আলুর দাম বেড়ে যায়। একইভাবে উৎপাদনস্থল থেকে ঢাকায় পৌঁছানোর পর আলুর দাম অনেক বেড়ে যায়। অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও এ সমস্যা রয়েছে।’

তিনি বলেন, শুধু আলু নয়, টমেটোসহ অন্যান্য সবজি ও ফলমূল দীর্ঘদিন সংরক্ষণের উপযোগী কোল্ড স্টোরেজ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণ প্রয়োজন।’

এ সময় রাষ্ট্রপতি পেঁয়াজ উৎপাদনে গবেষকদের সাফল্যের ভূয়সী প্রসংশা করে বলেন, একসময় পেঁয়াজ আমদানিতে বিপুল অর্থ ব্যয় হতো। বর্তমানে আমদানির প্রয়োজন না হওয়ার বিষয়টি ইতিবাচক।

তিনি ফলের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

কৃষিজমিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অতিরিক্ত সার মাটির ক্ষতি ও ফসলের গুণগত মান নষ্ট করছে। এ ক্ষেত্রে কৃষকদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি টেকসই কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

কৃষি গবেষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষি বিজ্ঞানীরা যথাযথ সুযোগ-সুবিধা না পেলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ পেশায় আকৃষ্ট করা কঠিন হবে। কৃষি বিজ্ঞানীদের পেনশন-সংক্রান্ত বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে তিনি কৃষিমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কৃষি উন্নয়নে অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, খাল খনন কর্মসূচি ও উচ্চফলনশীল ধানের বীজ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি দেশের কৃষিখাতে পরিবর্তন এনেছিলেন।

তিনি মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, কৃষিবিদ ও কৃষি বিজ্ঞানীদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করেন।

এ সময় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, গাজিপুর-২ এর সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিম রনি, মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সেলিম খান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল কাদির, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এর মহাপরিচালক ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বারির মহাপরিচালক স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন এবং বারির কার্যক্রম তুলে ধরেন।

এর আগে রাষ্ট্রপতি সকাল ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ বারি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

সবশেষে রাষ্ট্রপতি বারির জিন ব্যাংক ও বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। তিনি উদ্ভিদ কৌলিসম্পদ কেন্দ্র (পিজিআরসি) প্রাঙ্গণে বারি কাঁঠাল-৬ জাতের একটি চারা রোপণ করেন। সূত্র: বাসস

facebook sharing button
messenger sharing button
twitter sharing button
whatsapp sharing button


নির্বাচিত

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে : অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সংস্কার কার্যক্রম ও সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আইএমএফ সন্তুষ্ট। দুই সংস্থার সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে আজ আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদল গত কয়েক দিনে তথ্য আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। এসব আলোচনার ভিত্তিতে আজকের বৈঠকেও বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে এবং বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে, তা বিবেচনায় নিয়ে দেশের অগ্রগতিতে আইএমএফ সন্তুষ্ট।

অর্থমন্ত্রী বলেন, তবে ব্যাংকিং খাত, কর-জিডিপি অনুপাতসহ কিছু বিষয়ে সংস্থাটির যে পর্যবেক্ষণ রয়েছে, সেটা থাকা স্বাভাবিক। বাংলাদেশেরও কিছু বিষয়ে নিজস্ব পর্যবেক্ষণ রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে এবং বেশ কিছু বিষয় সমাধান হয়েছে। বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আগামী কয়েক মাস ধরে এ প্রক্রিয়া চলতে পারে।

আইএমএফের সঙ্গে নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, এ নিয়ে আলোচনা ভালো হয়েছে এবং তা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে আলোচনা অব্যাহত রেখে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে ব্যাংকিং খাতের পুনঃমূলধনীকরণ, কর-জিডিপি অনুপাত এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। অংশীদারত্বের ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আগ্রহী।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের বিষয়ে আমির খসরু বলেন, এ লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সরকারের নিজস্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করা হবে।

কর্মসূচির শর্ত ও মতপার্থক্যের বিষয়ে তিনি বলেন, শর্ত থাকবে। কোনো কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলে তা ধৈর্য ধরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের একটি বিশ্বাসযোগ্য কৌশল রয়েছে বলেই আলোচনা এত দূর এগিয়েছে। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংকসহ বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার।

উল্লেখ্য, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা ১২ অক্টোবর ব্যাংককে শুরু হয়েছে। আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত এ সভা চলবে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, নীতিনির্ধারক ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেছেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে : সাখাওয়াত হোসেন

রাজধানীতে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ : নকশা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে যে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, তা দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শতভাগ উপযোগী হলেও একসাথে সব বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। তাই সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে ধাপে ধাপে পাইলট স্কিম হিসেবে এই কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন ও এর কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। এই আইনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন করার জন্য বিভিন্ন দেশের আইন পর্যালোচনা ও সমন্বয় করে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হেলথ ইন্স্যুরেন্সের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের পকেট থেকে চিকিৎসা খরচ চলে যাওয়ার কারণে মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

নারীদের স্বাস্থ্যে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে গর্ভকালীন সময়ে মা ও নারীরা যেভাবে বিব্রত ও হেয় প্রতিপন্ন হন, তা থেকে তাদের রক্ষা করতে হবে। হেলথ সেন্টারগুলোকে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসে রূপান্তর করে স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে ব্রেস্ট ক্যানসার ও সার্ভিকাল ক্যানসারের টেস্ট এআই মেশিনের মাধ্যমে করা হবে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনে সফলভাবে চলছে। এটি খুব কম খরচে সব উপজেলায় পর্যায়ে চালু করা হবে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও চ্যালেঞ্জগুলো দূর করতে সততা ও নিষ্ঠার সাথে একযোগে কাজ করতে হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি স্তরে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুক হকসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে কাল শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আগামীকাল শুক্রবার শুরু হচ্ছে।

এই দিন অর্থাৎ ‘মহা ষষ্ঠী’তে দেবী দুর্গার আনুষ্ঠানিক জাগরণ বা ‘বোধন’ অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে এ উৎসব।

বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী শনিবার ও রোববার, এই দুই দিন জুড়ে ‘মহা সপ্তমী’ তিথি থাকায় পরদিন থেকেই দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

মহাসপ্তমীতে ‘নবপত্রিকা’র আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে। এতে দেবীর বিভিন্ন রূপের প্রতীক হিসেবে নয়টি উদ্ভিদকে স্নান করিয়ে পূজা করা হয়।

সোমবার উদযাপিত হবে ‘মহাঅষ্টমী’। যার বিশেষ আকর্ষণ হলো ‘সন্ধিপূজা’, যা অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হয়।

পরদিন ‘মহানবমী’তে পূজার শেষ ধাপের প্রধান আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে এবং দেবীকে ‘ভোগ’ নিবেদন করা হবে।

উৎসবের শেষ দিনে ভক্তরা দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন এবং প্রতিমা বিসর্জনের জন্য শোভাযাত্রা সহকারে নির্ধারিত নদী, পুকুর বা জলাশয়ে নিয়ে যাবেন।

পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় এবার দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যে আগমন করবেন।
অন্যদিকে, দেবী নৌকায় চড়ে স্বর্গলোকে গমন করবেন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এ বছর নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দুর্গাপূজার ছুটি তিন দিন পর্যন্ত বর্ধিত করেছে।

শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির সাথে এই বর্ধিত ছুটি যুক্ত হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট পাঁচ দিনের ছুটি পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর বাসস’কে বলেন, ‘এটি সত্যিই একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। এমন সিদ্ধান্তের জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’

দেশজুড়ে পূজা কমিটি, মন্দির ও মন্ডপগুলো পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এর মধ্যে রয়েছে প্যান্ডেল নির্মাণ ও সাজসজ্জা, প্রতিমা স্থাপন, আলোকসজ্জার ব্যবস্থা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি।

রাজধানীর পূজামন্ডপগুলোতে প্রতিমা, মন্ডপ তৈরি ও আলোকসজ্জা থেকে শুরু করে নানা আয়োজন প্রায় শেষ হয়েছে।

দেবী দুর্গা বাধাবিঘ্ন, ভয়, দুঃখ, শোক, জ্বালা ও যন্ত্রণা এসব থেকে ভক্তকে রক্ষা করেন।

শাস্ত্রকাররা দুর্গার নামের অন্য একটি অর্থ করেছেন, দুঃখের দ্বারা যাকে লাভ করা যায় তিনিই দুর্গা।

দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্য ক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাকে ডাকলেই তিনি তার কষ্ট দূর করেন।

‘মহা চন্ডীতে’ উল্লেখ আছে, ত্রেতা যুগে ভগবান রাজা রামচন্দ্র দশানন রাবণের সঙ্গে যুদ্ধে রত হন। পাপের বিনাশের লক্ষ্যে দেবী আদ্যাশক্তি মহামায়ার কাছে শক্তি বৃদ্ধির আশায় শরৎকালে তার পূজা করেছিলেন এবং যুদ্ধে জয়লাভ করে দেবী সীতাকে উদ্ধার ও রাবণকে হত্যা করতে সক্ষম হন রামচন্দ্র।

সেই থেকে পৃথিবীতে প্রতি বছর শরৎকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দুর্গোৎসব পালন করে আসছেন।

পূজাকে আনন্দমুখর করে তুলতে দেশজুড়ে বর্ণাঢ্য প্রস্তুতি প্রায়ই শেষ হয়েছে।

সারাদেশে এখন বইছে উৎসবের আমেজ। ঢাক-ঢোল কাঁসা ও শঙ্খের আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিভিন্ন মন্ডপ।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের প্রতিটি পূজামন্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মন্ডপে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গনে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হবে।

রাজধানীতে কেন্দ্রীয় পূজা উৎসব হিসেবে পরিচিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মন্ডপে পূজার পাশাপাশি ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান, বস্ত্র বিতরণ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আরতি প্রতিযোগিতা ও বিজয়া শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, তাঁতীবাজার ও শাঁখারী বাজারসহ বিভিন্ন মন্দিরে মন্দিরে দূর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যাপক আয়োজন চলছে।

দুর্গোৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ হিন্দু সম্প্রদায়সহ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিককে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

গত ১০ অক্টোবর হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহালয়া উদযাপন করেছেন, যা দেবী দুর্গার আগমনের বার্তা বয়ে আনে।

উৎসব যতই ঘনিয়ে আসছে, ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানের মন্ডপগুলো জমকালো সাজসজ্জা, বর্ণিল আলোকসজ্জা ও শৈল্পিক থিমের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছে।

উৎসব চলাকালে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা মন্ডপগুলোতে সমবেত হয়ে প্রার্থনা করবেন, প্রসাদ গ্রহণ করবেন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব হিসেবেই নয়, বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও উদযাপিত হয়।

এই উৎসব হিন্দু সম্প্রদায় ও অন্যান্য ধর্মের মানুষকে একত্রিত করে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকেই তুলে ধরে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দুর্গাপূজার মন্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে।

গত বছরের তুলনায় এবার পূজামন্ডপের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৮৫১ তে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পূজামন্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।

মন্ডপ আয়োজকদের সার্বক্ষণিক জেনারেটর প্রস্তুত রাখার এবং বিদ্যুৎ বা জেনারেটর বিকল হওয়ার মতো পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে রিচার্জেবল লাইট বা বাতি রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীতে কেন্দ্রীয় পূজা উৎসব হিসেবে পরিচিত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মন্ডপে পূজার পাশাপাশি ভক্তিমূলক সঙ্গীতানুষ্ঠান, বস্ত্র বিতরণ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আরতি প্রতিযোগিতা ও বিজয়া শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, তাঁতীবাজার ও শাঁখারী বাজারসহ বিভিন্ন মন্দিরে দূর্গাপূজা উপলক্ষে ব্যাপক আয়োজন চলছে। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দুদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ডেঙ্গু মশার বিপজ্জনক বংশবিস্তার রোধে দেশের প্রতিটি নাগরিক ও পরিবারকে প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন, কমপক্ষে আধা ঘণ্টা করে নিজেদের ঘরবাড়ি এবং চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একটি নির্বাচিত সরকার তখনই প্রকৃত অর্থে সফল হয়, যখন তারা সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশের যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কাজ করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার সর্বদাই জনতা ও সরকারের যৌথ অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে বদ্ধপরিকর।

বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এই বিশেষ আহ্বান জানান। রাত সাড়ে আটটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত চার মিনিট একান্ন সেকেন্ড দীর্ঘ এই ভিডিও বার্তায় তিনি ডেঙ্গুর ভয়াবহতা মোকাবিলায় দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করার অনুরোধ জানান।

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা প্রত্যেক ব্যক্তি ও পরিবার সপ্তাহে অন্তত দুই দিন আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় দিয়ে আমাদের ঘরবাড়ি, আশপাশের এলাকা এবং প্রতিদিন চলাচলের পথে যেসব স্থানে ডেঙ্গু মশার বংশবিস্তার হতে পারে, সেসব জায়গা পরিষ্কার করি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রধান প্রজননস্থলগুলো ধ্বংস করা, বিশেষ করে বিভিন্ন পাত্রে বা স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানি এবং যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা সাফ করাই হলো সবচেয়ে কার্যকারী উপায়।

তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের ঘরবাড়ির অন্দরমহল থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট কিংবা জনবহুল বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা stagnant পানিতেই ডেঙ্গু মশা নির্বিঘ্নে বংশ বিস্তার করে থাকে। তাই আমরা যদি নিজ দায়িত্বে এই প্রজননস্থলগুলো সময়মতো ধ্বংস করতে পারি, তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের সফলতা বহুগুণ বেড়ে যাবে।

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হচ্ছেন এবং অনেকেই প্রাণ হারাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের সামান্য সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বহু পরিবারকে তাদের প্রিয়জন হারানোর নির্মম বেদনা থেকে রক্ষা করা সম্পূর্ণ সম্ভব।

ইতিহাসের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ অনেক বড় বড় ঐতিহাসিক অর্জন তুলে এনেছে স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে বীরের মতো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছে, ১৯৯০ সালে ঐতিহাসিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করেছে এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার অদম্য প্রচেষ্টায় সফল করেছে ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান।

এ সময় দেশবাসীর উদ্দেশে একটি যৌক্তিক প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি সবাই মিলে অতীতে এত বড় বড় ঐতিহাসিক অর্জন সফল করতে পারি, তবে দেশের সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষাকারী অন্যান্য জনস্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে কেন আমরা সম্মিলিতভাবে অবদান রাখতে পারব না?

তিনি তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় আড়াই কোটি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), স্কাউটস, গার্ল গাইডস এবং রেড ক্রিসেন্টের মতো স্বনামধন্য বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে আরও প্রায় ৪০ লাখ তরুণ সদস্য।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের এসব প্রাণবন্ত শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা গত প্রায় এক মাস ধরে প্রতি শনিবারে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সাধ্যমতো ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের প্রশংসনীয় উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধের বৈজ্ঞানিক ও কার্যকরী পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোকপাত করে তিনি বলেন, কেবল টিকার ওপর নির্ভর করে বসে থাকার চেয়ে জমে থাকা ক্ষতিকর পানি ও আবর্জনা নিজে হাতে পরিষ্কার করে মশার নিরাপদ প্রজননস্থল ধ্বংস করা অনেক বেশি ফলপ্রসূ। বিভিন্ন পরীক্ষামূলক গবেষণায়ও ডেঙ্গুর টিকার কার্যকারিতা যথেষ্ট সীমিত বলে প্রমাণিত হয়েছে।

পরিশেষে, ডেঙ্গুর এই ভয়াল থাবা থেকে দেশকে বাঁচাতে সবাইকে সর্বোচ্চ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ রোগে আক্রান্ত বহু রোগীর প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব। তাই আসুন, সবাই মিলে চেষ্টা করি। সবাই চেষ্টা করলে আগামী দিনে ডেঙ্গুর অভিশাপ থেকে বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করতে পারব।’


নির্বাচিত

৪৫তম বিসিএসে নিয়োগ পেলেন ১৭০২ জন, গেজেট প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৭০২ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগ দিতে বলা হয়েছে।

বুধবার রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষা-২০২২-এর ফলাফলের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তরা জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী নবম গ্রেডে ৪৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা বেতনক্রমে চাকরি করবেন।

৪৫তম বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের নভেম্বরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে।

২০২৩ সালের মে মাসে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০২৫ সালের ৮ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।

সবশেষে ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে, যেখানে ১ হাজার ৮০৭ জন প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। চূড়ান্ত সুপারিশের ১০ মাসেরও বেশি সময় পর বুধবার চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট প্রকাশ করা হলো।

৪৫তম বিসিএসে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী ও ডেন্টাল সার্জন মিলিয়ে ৫৩৯ জন। এরপর সবচেয়ে বেশি শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছেন ৪৩৭ জন। এরপর পুলিশে ৮০, কাস্টমসে ৫৪ ও প্রশাসনে ২৭৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল পিএসসি।


নির্বাচিত

সৌদির ফ্লাইট সংকটে বিপাকে ১৫ হাজারের বেশি যাত্রী

* ঢাকা থেকে ১০০ ফ্লাইট স্থগিত * বিকল্প পথে কর্মীদের পাঠানোর চেষ্টা * কূটনৈতিক তৎপরতায় সরকার
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবে কর্মস্থলে যোগ দিতে কিংবা ছুটি শেষে কাজে ফিরতে গিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি কর্মী। ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ঢাকা থেকে ১০০ ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৫ হাজারেরও বেশি যাত্রী। তাদের বড় একটি অংশ প্রবাসী কর্মী। কারও ভিসার মেয়াদ কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হবে, কারও আবার নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেদ্দা ও মদিনা হয়ে কর্মীদের পাঠানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সংকট নিরসনে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করেছে সরকার।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বুধবার (১৪ অক্টোবর) এক বার্তায় জানায়, বাতিল বা স্থগিত হওয়া ১০০টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪১টি সরাসরি এবং ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট। এসব ফ্লাইটের যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরবে কর্মী পাঠানো নিয়ে। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ ও ঢাকা-দাম্মাম রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। অন্যদিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ঢাকা-রিয়াদ রুটের ফ্লাইট চলাচল ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা রয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন সময়সূচি যাত্রীদের জানানো হবে বলে জানিয়েছে বিমান।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরামর্শ, জরুরি প্রয়োজনে সৌদি আরবে যেতে হলে যাত্রীরা জেদ্দা কিংবা মদিনাগামী ফ্লাইটের বিকল্প বিবেচনা করতে পারেন। এ জন্য বিমানের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে, অনিশ্চয়তায় কর্মীরা: কাজের জন্য সৌদি আরবের দাম্মাম যাওয়ার কথা ছিল হৃদয়ের। কিন্তু ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় তার যাত্রা আটকে গেছে। আগামী ১৭ অক্টোবর তার ভিসার মেয়াদ শেষ হবে। মঙ্গলবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে দেখা যায়। বিকল্প কোনো ফ্লাইটে যাওয়ার ব্যবস্থা হবে কি না, সেই আশায় অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন মোহাম্মদ নাসির। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে তাঁর রিয়াদ যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর ভিসার মেয়াদ ২০ অক্টোবর শেষ হলেও রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত। বিমানবন্দরের কাউন্টারে যোগাযোগ করলে তাকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। আসন খালি পাওয়া গেলে অন্য কোনো ফ্লাইটে পাঠানোর চেষ্টা করা হবে বলে তাকে জানানো হয়েছে।

মোহাম্মদ রুহুল আমিনের ১১ অক্টোবর রিয়াদ যাওয়ার কথা ছিল। পরে তার রিক্রুটিং এজেন্সি বিকল্প হিসেবে জেদ্দার একটি টিকিটের ব্যবস্থা করে। অন্যদিকে মোহাম্মদ রেজাউল করিমকে আরও দু-এক দিন ঢাকায় অপেক্ষা করতে বলেছে তার এজেন্সি। এর মধ্যে সৌদিগামী অন্য কোনো ফ্লাইটে আসন পাওয়ার চেষ্টা চলছে।

মোহাম্মদ শাহিনের ভিসার মেয়াদ আরও কয়েক মাস থাকায় তিনি ছুটির সময় এক মাস বাড়িয়ে নিয়েছেন। প্রয়োজনে জেদ্দা কিংবা মদিনা হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।

বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে হিমশিম এজেন্সিগুলো: ফ্লাইট সংকটে কর্মীদের ভিসা ও চাকরি রক্ষায় বিকল্প পথ খুঁজছেন রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা। তবে বিকল্প রুটে টিকিট পাওয়া, যাত্রার সময় মেলানো এবং কর্মীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে পৌঁছানো সহজ হচ্ছে না।

এমআরজে গ্লোবালের বেলাল হোসেন জানান, কর্মীদের ভিসা ও চাকরি বাঁচাতে বিকল্প ফ্লাইটে পাঠানোর চেষ্টা চলছে। নিরাপদ ও সচল বিমানবন্দরগুলোর বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

উদয়ন ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস এবং জিএম ওভারসিজের প্রতিনিধিরা কর্মীদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তা নবায়ন করা কঠিন হতে পারে। ফলে ফ্লাইটের অনিশ্চয়তা শুধু যাত্রা বিলম্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে কর্মীদের বিদেশে কাজের সুযোগ ধরে রাখার প্রশ্নও জড়িয়ে পড়েছে।

হামলার পর ব্যাহত সৌদির বিমান চলাচল: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে বিমান চলাচলে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ঢাকা-রিয়াদ ও ঢাকা-দাম্মাম রুটেও প্রভাব পড়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন এয়ারলাইনস ফ্লাইট স্থগিত বা পুনর্বিন্যাস করেছে। তবে হামলা, হতাহত ও বিমানবন্দর বন্ধ থাকার বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট কোনো হামলায় হতাহতের সংখ্যা কিংবা সব বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না করে চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।

যাত্রীদের তথ্য দিতে এয়ারলাইনসকে নির্দেশ: ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাত্রীদের অনিশ্চয়তা কমাতে গত ১২ অক্টোবর বেবিচক সৌদিগামী এয়ারলাইন্সগুলোকে একাধিক নির্দেশনা দেয়। ফ্লাইট বাতিল বা সময় পরিবর্তনের তথ্য এসএমএস, ফোনকল কিংবা ইমেইলের মাধ্যমে দ্রুত জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি টিকিটের অর্থ ফেরত, বিকল্প ফ্লাইটে আসন এবং নতুন সময়সূচি সম্পর্কে যাত্রীদের স্পষ্ট তথ্য দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভিসা ও ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত জটিলতায় পড়া যাত্রীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া, বিমানবন্দরে আটকে পড়া ব্যক্তিদের সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য এয়ারলাইন্সগুলোকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করতেও বলা হয়েছে। কিন্তু যাত্রীদের ব্যক্তিগতভাবে ফ্লাইট বাতিলের তথ্য জানানো হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কূটনৈতিক আলোচনায় কর্মীদের চাকরি রক্ষার চেষ্টা: ফ্লাইট সংকটে আটকে পড়া কর্মীদের নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে সরকার। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানিয়েছেন, বিশেষ করে যাদের ছুটি শেষ হয়ে আসছে কিংবা ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাচ্ছে, তাদের পরিস্থিতি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা চলছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। কর্মীদের চাকরি ও জীবিকার ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। কোনো কর্মীকে বাধ্য হয়ে দেশে ফিরতে হলে তার পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

শ্রমবাজারের নির্ভরতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন: সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার। দেশটিতে ফ্লাইট চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে নতুন কর্মী পাঠানো, ছুটি শেষে কর্মীদের কাজে ফেরা এবং প্রবাসী আয়ের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এই সংকটের কারণে রেমিট্যান্স বা কর্মসংস্থানে সামগ্রিক প্রভাব কতটা হবে, তা পরিস্থিতির স্থায়িত্ব ও বিকল্প ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার ওপর নির্ভর করবে।

প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে জনশক্তি রপ্তানির পরিকল্পনা কিছুটা ধীর হতে পারে। এ কারণে এশিয়া-প্যাসিফিক ও ইউরোপের দেশগুলোতে বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান মনে করেন, শুধু নতুন দেশে অদক্ষ শ্রমিক পাঠিয়ে এ ধরনের সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী তৈরির পাশাপাশি আগামী এক থেকে দুই বছরের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু হৃদয় ও নাসিরের মতো কর্মীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার চেয়ে এখন জরুরি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সৌদি আরবে পৌঁছানো। তাদের মতো হাজারো কর্মীর ভাগ্য নির্ভর করছে বিকল্প ফ্লাইটে আসন পাওয়া, নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ওপর। ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের অনিশ্চয়তা কাটার সম্ভাবনা কম।


নির্বাচিত

পিছু হটলেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা, ধর্মঘট প্রত্যাহার

* ২৯ অক্টোবর বিইআরসির গণশুনানিতে উঠবে দাবি * এলপিজি সরবরাহে সংকট সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া হবে না-বাণিজ্যমন্ত্রী  
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে আলোচনার পর দুই দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা। ফলে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ও শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডারের দোকান বন্ধ রাখার কর্মসূচি আর থাকছে না। ব্যবসায়ীদের দাবি নিয়ে আগামী ২৯ অক্টোবর গণশুনানি করবে বিইআরসি। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের নেতা আবু তাহের। তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে দাবি বিবেচনার আশ্বাস পাওয়ায় তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। গণশুনানির পর বিইআরসি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করেন সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কর্মসূচি অব্যাহত রাখলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, সরকার এলপিজির দাম ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে ধর্মঘট করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়। ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের পথে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ডিলার পর্যায়ে ধর্মঘটের হুমকির পর সরকার স্পষ্ট বার্তা দিতে চায়। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ে কারসাজি কিংবা জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে সরকার প্রস্তুত থাকলেও দেশকে জিম্মি করার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।

সাত দফা দাবিতে ধর্মঘটের ঘোষণা: এর আগে গত ১২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারাদেশে এলপিজির দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি সেলিম খান এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দাবি পূরণ না হলে দুই দিনের কর্মসূচির পর অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি।

ব্যবসায়ীদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে পরিবেশকদের কমিশন বৃদ্ধি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের জরিমানা এবং হয়রানি বন্ধসহ ব্যবসা পরিচালনায় বিভিন্ন সমস্যা সমাধান।

নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগ: এলপিজির দাম নির্ধারণ ও বাজারে বিক্রির পরিস্থিতি নিয়েও ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। গত ৪ অক্টোবর বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত দামে অনেক স্থানে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও ক্রেতাদের কাছ থেকে সিলিন্ডারপ্রতি অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, এলপিজি অপারেটরদের দাবি, তারা সরকার নির্ধারিত দামেই পরিবেশকদের কাছে গ্যাস বিক্রি করছেন। অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছেন।

ধর্মঘট প্রত্যাহারের ফলে আপাতত এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রিতে বিঘ্নের আশঙ্কা কমেছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, নির্ধারিত দামে গ্যাসের প্রাপ্যতা এবং পরিবেশক পর্যায়ের কমিশনসংক্রান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান হবে কি না, তা নির্ভর করছে আগামী ২৯ অক্টোবরের গণশুনানি ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।


নির্বাচিত

চীনের সঙ্গে ঋণ নয়, যৌথ বিনিয়োগে যেতে চায় বাংলাদেশ: অর্থমন্ত্রী

ছবি: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে ধীরে ধীরে যৌথ ও সরাসরি বিনিয়োগের দিকে যেতে চায় বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার (১৪ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

আলোচনায় চীনের সঙ্গে যে-সব বিনিয়োগ উদ্যোগ নেওয়া হবে, সেগুলোতে ঋণের পরিবর্তে অংশীদারত্বভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে অর্থায়নের কাঠামোয় পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সার্বভৌম ঋণ ও অন্যান্য ঋণভিত্তিক অর্থায়নের ওপর যে নির্ভরতা রয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে ইকুইটি বা মালিকানাভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে যৌথ বিনিয়োগ ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে দু’দেশের অংশীদারত্ব জোরদার করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা ঋণ থেকে সরে এসে ক্রমান্বয়ে বিনিয়োগের দিকে বেশি যাচ্ছি। চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আমরা আশা করি, এক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে।

সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু ঋণ নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে এমন অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে বিনিয়োগকারী ও বাংলাদেশ যৌথভাবে প্রকল্পের অংশীদার হবে। এতে ভবিষ্যতে সরাসরি ও যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে।

চীনের সঙ্গে এ ধরনের অর্থায়ন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোতে ঋণের পাশাপাশি ইকুইটি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কোন প্রকল্পে এ ধরনের বিনিয়োগ হবে, অর্থায়নের অনুপাত কী হবে কিংবা কবে থেকে নতুন কাঠামো কার্যকর হবে—সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

এদিকে, অপর এক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ঋণ ব্যবস্থাপনা, সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং অনুদানভিত্তিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ছে। দেশটি থেকে উড়োজাহাজ, জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্য আমদানির বিষয় তুলে ধরে বাংলাদেশের জন্য আর্থিক সহায়তা ও অনুদানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আমদানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও সহায়তা প্রত্যাশা করছে সরকার। এ বিষয়ে মার্কিন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা একমত হয়েছে। তবে কী পরিমাণ অর্থ বা কোন ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি তিনি।

অন্যদিকে, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বাংলাদেশের কৃষি খাতে সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

গণমাধ্যমের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষি খাতে কী ধরনের সহযোগিতা দেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে কৃষি খাতে সম্ভাব্য সহায়তার পরিমাণ, প্রকল্প বা অর্থায়নের ধরন সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।


নির্বাচিত

রেলের ১৮ কোচের প্রথম চালান পাঠাল ভারত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

নতুন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়েকে ‘এলএইচবি’ ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের প্রথম চালান পাঠিয়েছে ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেড জানায়, ২০০টি কোচ সরবরাহের চুক্তির অংশ হিসেবে প্রথম চালানে ১৮টি ব্রডগেজ কোচ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। সাত ধরনের ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের এই কোচগুলো ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ ফ্যাক্টরিতে (আরসিএফ) নির্মিত হচ্ছে।

রাইটস লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর পাঠানো প্রথম চালানে রয়েছে ১১টি শোভন চেয়ার, তিনটি এসি, দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত স্লিপার কোচ এবং দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পাওয়ার কার।

রাইটস আরও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তাদের সরবরাহ করা রেল ইঞ্জিনের সংখ্যা ২৮০ টির বেশি। এ ছাড়া তারা ১ হাজার ৮৫টির বেশি কোচ এবং ডিজেলচালিত একাধিক ইউনিটের ট্রেনসেট সরবরাহ করেছে।

ভারতের রেল কোচ কারখানা ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মধ্যে সহযোগিতা শুরু হয় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে। সে সময় ভারতের ওই কারখানা থেকে বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি এলএইচবি ধরনের ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ করা হয়েছিল। এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০২৪ সালে রাইটসের মাধ্যমে নতুন একটি আদেশ দেয় যাতে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ তৈরি ও সরবরাহের কথা বলা হয়।

কোচগুলোতে নকশার বেশ কিছু উন্নয়ন ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব পরিবর্তন বিশেষভাবে এলএইচবি কোচের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ট্যও রয়েছে, যা এ ধরনের কোচে প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয়েছে।

স্টেইনলেস স্টিলের আর্মরেস্ট ও ফুটরেস্টসহ বিশেষভাবে ডিজাইন করা ‘রিক্লাইনিং সিট’ও রয়েছে নতুন এই বগিগুলোতে। এর ফলে যাত্রীরা প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের আসনটি কাত করে আরামদায়ক পজিশনে নিতে পারবেন। এ ছাড়া যাত্রীবান্ধব নানা সুবিধাও যোগ করা হয়েছে এসব কোচে। যার মধ্যে রয়েছে— শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) কোচে ফ্যানের ব্যবস্থা, সমন্বিত সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা, প্যাসেঞ্জার অ্যালার্ম সিস্টেম, আংশিক খোলার সুবিধাযুক্ত জানালা, বেবি কেয়ার রুম এবং প্রার্থনাকক্ষ।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের বাস্তবতা বিবেচনা করে এতে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরিবর্তনও আনা হয়েছে। যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড়ের সময় ছাদে ওঠার প্রবণতা মাথায় রেখে কোচের ছাদ অতিরিক্ত ওজন সহ্য করার মতো শক্ত করে তৈরি করা হয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য এর বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাতেও আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন। ভারতীয় রেলওয়ের প্রচলিত ৭৫০ ভোল্টের প্রথার বিপরীতে বাংলাদেশ রেলওয়ের চাহিদা মেনে এসব কোচ ৪১৫ ভোল্ট বৈদ্যুতিক সিস্টেমে চলার উপযুক্ত করে তৈরি করা হয়েছে।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া


নির্বাচিত

বিএসটিআই―এর পরিধি বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে: শিল্পমন্ত্রী

রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে বিএসটিআই আয়োজিত এক আলোচনা সভায় শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, পণ্যের সঠিক মান ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর কর্মপরিধি বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে বিভিন্ন বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে বিএসটিআই আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এ বছর বিশ্ব মান দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘শেয়ার্ড ভিশন ফর আ বেটার ওয়ার্ল্ড-অ্যাফোর্ডেবল অ্যান্ড ক্লিন এনার্জি’, যার ভাবার্থ ‘অভিন্ন লক্ষ্য উন্নত বিশ্ব: সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি’।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, জনসাধারণ যে পণ্য টাকা খরচ করে ব্যবহার করবেন, সেটির ন্যূনতম সন্তুষ্টি ও গুণগত মান নিশ্চিত করা যেকোনো দায়িত্বশীল সরকারের প্রধান দায়িত্ব। যে ভবন বা পরিবেশে মানুষ থাকবে কিংবা যে খাদ্য ও জ্বালানি ব্যবহার করবে, তার মান নিয়ে সংশয় থাকলে সার্বক্ষণিক আতঙ্ক বিরাজ করে। সেই নিরাপত্তাবোধ নিশ্চিত করতেই বিএসটিআই-এর জনবল ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সারাদেশে এর পরিধি বিস্তৃত করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, একজন নাগরিক যখন পেট্রোল পাম্প থেকে তেল বা এলপিজি গ্যাস নেবেন, তখন তিনি যেন নিশ্চিন্ত থাকেন যে পরিমাপ সঠিক আছে। বাজারে যে দুধ বা জিলাপি বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোর বিশুদ্ধতা ও মান যেন নিশ্চিত হয়— যেমন জিলাপিতে ক্ষতিকর হাইড্রোজ বা অন্য কিছু নেই। একই সাথে যে ভবনে মানুষ বসবাস করছে, তার নির্মাণসামগ্রী যেন মানসম্মত হয়।

তিনি বলেন, এই ধরনের একটি নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করতেই বিএসটিআই-এর কাজের পরিধি ক্রমাগত বাড়ানো হচ্ছে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, মানুষের মনে এই নিরাপত্তাবোধ ও সন্তুষ্টি এনে দেওয়া যেকোনো দায়িত্বশীল সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

বিএসটিআই-এর চলমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী আরও জানান, সংস্থাটির সক্ষমতা বাড়াতে তিনটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে বিএসটিআই কমপ্লেক্সের মধ্যে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ১৩ তলা ভবন নির্মাণ ও ৬৩টি নতুন আধুনিক ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া ১০টি জেলায় নতুন পরীক্ষাগার স্থাপন ও প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মেট্রোলজি ল্যাব তৈরির প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মাননিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর সাথে বিএসটিআই যেন ‘মিউচুয়াল রিকগনিশন’ (পারস্পরিক স্বীকৃতি) চুক্তি করতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। হালাল সার্টিফিকেশনের মতো অন্যান্য ক্ষেত্রেও বৈশ্বিক মান অর্জনে বিএসটিআই উদ্যোগ জোরদার করছে।

এ সময় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও জানান, সম্প্রতি সয়াবিন তেলে ভারী ধাতু ও সিসা থাকার একটি খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিএসটিআই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের ১৯৩টি নমুনা পরীক্ষা করেছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে বাজারে থাকা সয়াবিন তেল বিশুদ্ধ এবং এতে কোনো ক্ষতিকর উপাদান নেই।

খাদ্যের পূর্ণ বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিএসটিআই’র মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল। অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক।


নির্বাচিত

অপরাধ তদন্তে দেশের আট বিভাগে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:২৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের যথাযথ তদন্ত নিশ্চিত করতে দেশের আটটি বিভাগীয় সদরে খুব দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগার স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ শনাক্তকরণ, ডিজিটাল আলামত সঠিকভাব বিশ্লেষণ এবং অপরাধ দমনে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যন্ত পুলিশের তদন্ত সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বুধবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ লাইনসের দামপাড়ায় নবনির্মিত সাইবার পুলিশ কেন্দ্র ও ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগারের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা জানান। কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই আধুনিক ভবন ও ল্যাব পুলিশের প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ তদন্তের সক্ষমতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকার এবং দেশটির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা ‘কোইকা’র সহযোগিতায় পুরো প্রকল্পের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই সহযোগিতার জন্য তিনি কোরিয়ার সরকার, দেশটির রাষ্ট্রদূত, কোইকার প্রতিনিধি এবং সফররত সকল প্রতিনিধিদলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শুরু থেকেই একটি বিশেষায়িত পুলিশ সাইবার ইউনিট প্রতিষ্ঠার কথা চিন্তা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ অক্টোবর থেকে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে এই ইউনিটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। নতুন এই ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগারটি মূলত অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। তবে ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ ও সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে পারস্পরিক কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখা হবে।

আধুনিক ও পরিবর্তনশীল অপরাধ দমনে প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অপরাধের ধরন প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। ডিজিটাল দুনিয়ায় সাইবার স্পেসের অপব্যবহার করে নানা ধরনের অপরাধ ও প্রতারণা করা হচ্ছে, এমনকি শেয়ারবাজারে কারসাজির মতো ঘটনাও এর মাধ্যমে সংঘটিত হচ্ছে। এসব ডিজিটাল অপরাধ কঠোর হাতে প্রতিরোধ ও দমন করার জন্য এ ধরনের আধুনিক ফরেনসিক ল্যাবের কোনো বিকল্প নেই।

বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও দ্রুততর ও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিচারব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে এ ধরনের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণের অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে। অপরাধের নতুন রূপের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক পরীক্ষাগারের সুবিধা, উন্নত প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণে সমৃদ্ধ করে তোলা হচ্ছে।

সিআইডির বিদ্যমান পরীক্ষাগারের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সিআইডি সূলগ্ন থেকেই রাসায়নিক পরীক্ষাগার সফলভাবে পরিচালনা করে আসছে। বর্তমান বাস্তবতায় সেখানে বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষা এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রতিবেদন তৈরির কার্যক্রম আরও বেশি সম্প্রসারণ করা অত্যন্ত জরুরি।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য নাশকতা, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে, তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কোনো চ্যালেঞ্জ বা শঙ্কা নেই।

এ সময় পুলিশের ওপর হামলা এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অপরাধ দমনে পুলিশ অনেক সময় হামলার শিকার হয়, এটি নতুন কিছু নয়। তবে যেকোনো মূল্যে অপরাধীদের কঠোরহস্তে দমনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ দায়িত্ব পালনকালে আসামিকে গ্রেফতারে কেউ যদি অযাচিত বাধা বা সহায়তা প্রদান করে, তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নির্বাচিত

banner close