আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে কৃষি খাতের গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তিন বছরে কৃষি উন্নয়নে ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে বাংলাদেশ সরকার।
‘মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতি (২০২৩-২৪ থেকে ২০২৫-২৬)’ অনুসারে, এই বিনিয়োগ খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন এবং ন্যায়সঙ্গত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে কৃষির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর জোর দেয়।
জিডিপিতে একটি হ্রাস প্রবণতা থাকা সত্ত্বেও এটি বিশেষত গ্রামীণ অঞ্চলে কৃষিনির্ভর সংখ্যাগরিষ্ঠদের জীবিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য উৎপাদন ও প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে সরকারের গৃহীত কৌশলগুলোর মধ্যে রয়েছে- উচ্চফলনশীল ও প্রতিকূলতা সহিষ্ণু ফসলের জাত উদ্ভাবন, যান্ত্রিকীকরণ-সেচ সম্প্রসারণ এবং বীজ ও সারের মতো সাশ্রয়ী মূল্যের উপকরণের প্রাপ্যতা বাড়ানো।
নীতি নথিতে প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষির আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- সম্পদ সংরক্ষণের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর সেচের জন্য ভূপৃষ্ঠের পানির ব্যবহার বাড়ানো, নবায়ণযোগ্য জ্বালানি সমাধানগুলো অন্তর্ভুক্ত করা এবং ফসল পরিচর্যার জন্য রিমোট সেন্সিং নিয়োগ করা।
সরকার একটি টেকসই ও স্বনির্ভর কৃষি কাঠামো গড়ে তুলতে ভর্তুকি, আর্থিক প্রণোদনা এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের মাধ্যমে এই খাতকে সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের উপখাত থেকেও উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। এটি কেবল জিডিপি যথাক্রমে ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ এবং ১ দশমিক ৯১ শতাংশই বৃদ্ধি করে না, বরং জনসংখ্যার ১২ শতাংশেরও বেশি মানুষের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের উৎস হিসেবে কাজ করে এবং জীবিকার সংস্থান করে। এই ক্ষেত্রগুলোর অর্জনসমূহের মধ্যে রয়েছে মাছ, মাংস এবং ডিম ও দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের আশা করা হচ্ছে। তাছাড়া রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের জন্য এসব খাত অত্যাবশ্যক।
ভবিষ্যতে এসব খাতের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, উন্নত ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি গ্রহণ এবং সংরক্ষণ প্রক্রিয়া উন্নত করার জন্য বিশেষ করে ছোট ইলিশ মাছের ('জাটকা') জন্য উন্নয়ন প্রকল্প চালু করতে প্রস্তুত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
টেকসই কৃষির গুরুত্ব বিবেচনায় পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা আরেকটি মৌলিক ক্ষেত্র। আন্তঃসীমান্ত নদী থেকে ন্যায়সঙ্গত পানির হিস্যা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জলাশয় খনন ও উপকূলীয় বনায়ন বৃদ্ধির মাধ্যমে ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা উন্নয়নের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ক্ষতির হুমকির মধ্যে - ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপিতে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাসের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সরকার এই প্রভাবগুলো হ্রাস করার বিস্তৃত কৌশলগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনাটি জলবায়ু সম্পর্কিত বাধাগুলোর বিরুদ্ধে সহনশীলতা এবং স্থিতিশীলতা বাড়ানোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ খাত এবং সম্প্রদায়গুলোকে সরঞ্জাম দিয়ে প্রস্তুত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই বহুমুখী প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের কৃষি ঐতিহ্যকে কেবল সুরক্ষাই নয়, বরং এগিয়ে নিতেও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক বিশেষ মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন ব্যক্ত করেছেন। আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলার মির্জাপুর এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করার সময় তিনি দেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আজকে এখানে যে মাছ অবমুক্ত করা হলো, এই মাছগুলো যখন বড় হবে, ডিম পাড়বে, বিভিন্ন খালে-বিলে ঢুকবে, তখন উপকার কাদের হবে? লন্ডনের মানুষের উপকার হবে নাকি জাপানের মানুষের উপকার হবে? উপকার হবে বাংলাদেশের মানুষের।’
সরকারপ্রধান তাঁর বক্তৃতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনৈতিক দর্শনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে উল্লেখ করেন যে, গ্রামীণ জনপদ ও সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নই তাঁর দলের মূল চালিকাশক্তি। তাঁর মতে, ‘বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের মানুষ ও গ্রামের মানুষের কল্যাণ।’ বিগত নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বিজয়ী হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতিটাই হচ্ছে এমন একটি রাজনীতি, যেই রাজনীতি বাস্তবায়ন করলে দেশের মানুষ উপকৃত হবে, গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।’ এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমেই তিনি বাংলাদেশকে একটি পূর্ণাঙ্গ কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে রূপান্তর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
কৃষি ও মৎস্য খাতের সমন্বিত উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের গৃহীত ‘খাল খনন’ কর্মসূচির ব্যাপক অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইতোমধ্যে সারা দেশে এই কার্যক্রম জোরালোভাবে শুরু হয়েছে, যার সুফল কৃষকরা পেতে শুরু করেছেন। খাল খননের পর এর পানি যেন বহুমুখী কাজে ব্যবহার করা যায়, সেদিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষি সেচের পাশাপাশি মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতেও এসব জলাশয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের মতো পর্যায়ক্রমে দেশের সকল প্রধান নদী ও বড় বড় খালে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
দেশের নারী সমাজকে উন্নয়নের মূল স্রোতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যার অর্ধেক অংশকে পিছিয়ে রেখে একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নতি সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গৃহীত দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নারী শিক্ষা অবৈতনিক করার যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। তিনি মনে করেন, নারীদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তোলার মাধ্যমেই তাঁদের দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার প্রকৃত অংশীদার করা সম্ভব। নারী-পুরুষের সম-অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই একটি সমৃদ্ধ ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ার চূড়ান্ত লক্ষ্য স্থির করেছে তাঁর সরকার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজারো মানুষ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে করতালি ও হর্ষধ্বনির মাধ্যমে স্বাগত জানান, যার ফলে পুরো পাকুন্দিয়া এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এই কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য, কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু। এছাড়াও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি মো. ফজলুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পৌঁছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা থেকে সড়কপথে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।
পাকুন্দিয়ার কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী কটিয়াদীর আচমিতা এলাকায় কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শনে যান। সেখান থেকে তিনি দুপুরে আচমিতা জর্জ ইন্সটিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং জাতীয় মৎস্যপদক বিতরণ করবেন।
মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন শেষে দুপুর আড়াইটার দিকে প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে যাবেন। সেখানে মাঠের উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
পরে সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ ও কিছুক্ষণ বিশ্রাম শেষে বিকেল ৪টার দিকে জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়ামে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
এর আগে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের পথে পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেখতে সড়কের দুই পাশে দলীয় নেতাকর্মী, শিশু-কিশোর ও নারীরাসহ শত শত মানুষ জড়ো হন। তারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে হাত নেড়ে তাদের জবাব দিয়েছেন।’
ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ সময় পর দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে সুশাসন ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিতে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের গণমুখী ও সংস্কারধর্মী নানা উদ্যোগে দ্রুত বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেড় দশকের ভাঙাচোরা রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠন, জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে পথ চলছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার।’
বাংলাদেশ সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নিজ দফতরে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের ১৮০ দিনের গতিশীল পথচলা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অর্জন, বৈদেশিক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
এছাড়া সারা দেশে কৃষি ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো গণমুখী উদ্যোগ এবং বন্ধ শ্রমবাজারগুলো পুনরায় চালুর বিষয়গুলো উঠে আসে। একই সঙ্গে বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বাস্তবসম্মত রূপরেখা নিয়ে তিনি বিস্তারিত কথা বলেন।
বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, ‘২০১৪ সালের বিনা ভোটে প্রহসনের নির্বাচন, ২০১৮ সালের নিশি রাতের ভোট কিংবা ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনের মতো অন্ধকার অধ্যায় দেখেছে এ দেশের মানুষ। সেই সময়ে একটি অনির্বাচিত সরকার ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করে জনগণের মৌলিক স্বাধীনতা ও অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। তাদের ক্ষমতার মূল ভিত্তি ছিল নতজানু পররাষ্ট্রনীতি। তবে সেই ফ্যাসিবাদের শৃঙ্খল ভেঙে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজ যে গণমুখী ও নির্বাচিত সরকার গঠিত হয়েছে, তার ক্ষমতার একমাত্র উৎস এ দেশের জনগণ। জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসাকে সম্বল করে সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
সরকারের গত ৬ মাসের উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই কৃষক সমাজের পাশে দাঁড়িয়ে সুদে-আসলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ১৩ লাখের বেশি কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। এর পাশাপাশি দেশে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এবং গৃহস্থালি অর্থনীতিতে গতি আনতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে। একই সাথে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রধানদের জন্য সরকারি ভাতা চালু, খান খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো প্রকল্পগুলো মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান রূপ নিয়েছে।
গ্রামীণ অর্থনীতিতে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের প্রভাব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী আমাদের এই ফ্যামিলি কার্ডের ধারণাকে অত্যন্ত প্রশংসা করেছে। এটি কেবল অর্থ সহায়তা নয়, বরং নারীদের স্বনির্ভর ও মর্যাদাবান করে তোলার একটি নীরব বিপ্লব। নারীরা এই অর্থ সন্তানের পড়াশোনা, পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসার কাজে লাগাচ্ছেন। কার্ড বিতরণে কিছু কারিগরি অসঙ্গতি নজরে এলে দ্রুততম সময়ে ডেটাবেজ হালনাগাদ ও ‘প্রক্সি মিন্স টেস্ট’ সংস্কারের কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে, যেন কেবল প্রকৃত প্রাপ্য ব্যক্তিরাই এর সুবিধা পান।’
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্যপণ্যের বাজার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই পবিত্র রমজান ও দুটি ঈদে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-বোনাস সঠিক সময়ে পরিশোধ নিশ্চিত করা সরকারের একটি বড় সফলতা ছিল। তবে ফ্যাসিবাদ আমলের বিগত দেড় দশকে ধারাবাহিকভাবে গড়ে ওঠা জ্বালানি সংকট ৬ মাসে শতভাগ সমাধান করা দুরূহ কাজ। তদুপরি মার্কিন ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল, মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস এবং চীনা বিনিয়োগকারীদের সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে বিকল্প সোর্স থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে গ্যাস ও জ্বালানি নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
বিভিন্ন দেশের শ্রমবাজারের সম্ভাবনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মাহদী আমিন জানান, মালয়েশিয়ার সাথে নিবিড় আলোচনার মাধ্যমে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার চালু চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ এই জটিলতার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি চালু হলে পরবর্তী চার মাসে অন্তত এক লাখের বেশি কর্মী সেখানে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
তিনি বলেন, কেবল নির্দিষ্ট খাত নয়, বরং রিয়েল এস্টেট, এগ্রিকালচার ও ম্যানুফ্যাকচারিংসহ সবকটি খাতে আমাদের কর্মীরা অংশ নিতে পারবেন। এছাড়া জাপান, ওমান, জর্ডান এবং মধ্যপ্রাচ্য ছাড়া ইউরোপের অন্যান্য দেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে কারিগরি ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও জামানতহীন বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ব ইউরোপের বাজারগুলোতে নতুন করে আমাদের জনশক্তি রপ্তানি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিগত ৬ মাসে দেশে বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা শতভাগ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
দেশ পরিচালনায় চরম সমালোচনা কিংবা উস্কানিমূলক আচরণের মুখোমুখি হয়েও সরকার সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ধৈর্য প্রদর্শন করেছে। আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে পুলিশ ও প্রশাসনকে ফ্যাসিবাদী মানসিকতা থেকে বের করে এনে একটি প্রকৃত সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হচ্ছে। হাতি হত্যা থেকে শুরু করে ছোট-বড় সব অপরাধের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কোনো অপরাধীকেই দলীয় বা রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে না।’
পররাষ্ট্রনীতির সুনির্দিষ্ট অবস্থান স্পষ্ট করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের বৈদেশিক নীতির মূল কথাই হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। ভারতসহ বিশ্বমঞ্চের সকল রাষ্ট্রের সাথে আমরা সমতা, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গভীর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক চাই। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার যে আইনি প্রক্রিয়া, তাতে একটি বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র হিসেবে ভারত পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলে বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।’
অর্থনৈতিক প্রসারে সরকারের নতুন রোডম্যাপ তুলে ধরে সাক্ষাৎকারে মাহদী আমিন বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ভিত সুদৃঢ় করতে ও আগামী দিনে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। ব্যবসা সহজীকরণে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ কার্যকরকরণ, বন্দরে ২৪ ঘণ্টা কার্গো সার্ভিস চালুর সিদ্ধান্ত এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে সরকারের যে সততা, সদিচ্ছা ও দায়বদ্ধতা রয়েছে, তা কাজে লাগিয়েই ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
সূত্র: বাসস
দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। সারাদেশের ৬৪টি জেলা, সকল মহানগর এবং গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই মেগা প্রকল্পের অধীনে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ লাখ এআই ক্যামেরা কেনা হবে, যা আগামী দুই বছরের মধ্যে স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
এআই ক্যামেরার বিশেষত্ব হলো এটি সাধারণ সিসি ক্যামেরার মতো শুধু দৃশ্য ধারণ করবে না, বরং রিয়েল টাইমে অপরাধী শনাক্ত, গাড়ির নম্বর প্লেট রিডিং এবং সন্দেহজনক গতিবিধি বিশ্লেষণ করতে পারবে। জনাকীর্ণ এলাকায় এই ক্যামেরাগুলো নিমিষেই বিপুল সংখ্যক মানুষের মুখ স্ক্যান করে ডেটাবেজে থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামি বা নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে সক্ষম হবে। প্রযুক্তিতে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোর সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
রাজধানীর ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ইতোমধ্যে ৩৭টি এআই ক্যামেরা পরীক্ষামূলকভাবে বসানো হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ঢাকার আরও ২০০টি পয়েন্টে এই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ হবে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, উল্টোপথে গাড়ি চালানো বা হেলমেট না পরার মতো অপরাধগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ির মালিকের ফোনে ‘ই-মামলা’র মেসেজ চলে যাবে। এর সাথে বিআরটিএর সার্ভারও সংযুক্ত করা হয়েছে।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর সাথেও এই ক্যামেরা নেটওয়ার্ককে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে যাতে কোনো অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলের লাইভ দৃশ্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায়। মহাসড়কগুলোর নিরাপত্তায় এই আগস্টের শেষ থেকেই ঢাকা-মাওয়া রুটে ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হবে। পরবর্তীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেটসহ দেশের সকল প্রধান মহাসড়ক এই স্মার্ট নজরদারির অধীনে আসবে। আগামী বুধবার থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালুর মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।
পুলিশ প্রশাসন আরও নিশ্চিত করেছে যে, প্রযুক্তির এই বিশাল ব্যবহারের পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ফায়ারওয়াল ও এনক্রিপশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। একইসাথে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের আধুনিক এই প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপ বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন মাইলফলক যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে প্রথমবার ৯ উইকেটের এক অবিস্মরণীয় টেস্ট জয়ের গৌরব অর্জন করায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে ভিডিও কলের মাধ্যমে সরাসরি অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রবিবার (১৬ আগস্ট) এই স্মরণীয় সাফল্যের পর তিনি খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কথা বলেন এবং সিরিজের পরবর্তী ম্যাচের জন্য শুভকামনা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল ও আন্তরিক পরিবেশে খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে অপেক্ষা করছি আপনাদের ওয়েলকাম করার জন্য। সবার শরীর ভালো আছে তো? আসেন, আপনারা সবাই সুস্থভাবে আসেন। বাংলাদেশের মানুষ অপেক্ষা করছে আপনাদের ওয়েলকাম করার জন্য। আবারও কনগ্রাচুলেশন।’ তাঁর এই বার্তায় খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
কথপোকথনের এক পর্যায়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল এই টেস্টে অসামান্য বোলিং করা হাসান মাহমুদের নৈপুণ্য প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি জানান যে, হাসান প্রথম ইনিংসে পাঁচটি ও দ্বিতীয় ইনিংসে তিনটি উইকেট শিকার করেছেন। এই অসাধারণ অর্জনের খবর শুনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, দেখলাম দেখলাম, নিউজে। এক্সিলেন্ট, এক্সিলেন্ট, ওয়ান্ডারফুল।’
পরবর্তীতে বিসিবি সভাপতি ওই ম্যাচের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিমকে পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে তাঁর জন্মস্থানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘বগুড়ার ছেলে ভাইয়া, বগুড়ার ছেলে।’ তবে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি অত্যন্ত গভীর দেশাত্মবোধের সাথে সংশোধন করে দেন। তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে বলেন, ‘বগুড়ার না, ও বাংলাদেশের ছেলে। বগুড়ার না, বাংলাদেশের ছেলে। হি রিপ্রেজেন্টস বাংলাদেশ, নট বগুড়া।’
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের লক্ষ্যে দাখিলকৃত মনোনয়নপত্রগুলো যাচাই-বাছাই শেষে বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আবেদন বৈধ বলে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ রবিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী এই বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করেন এবং মনোনয়নপত্রটি সঠিক বলে নিশ্চিত করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনীত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিল। একই দিনে নির্বাচন কমিশন থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, ১১ দলীয় জোট সমর্থিত রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী কর্নেল অলি আহমদের মনোনয়নপত্রটিও বৈধ হিসেবে গৃহীত হয়েছে। ফলে এই দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হলো।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ক্যাঙ্গারু বাহিনীকে তাদেরই ডেরায় পরাজিত করে প্রথমবারের মতো টেস্ট জয়ের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রবিবার (১৬ আগস্ট) ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে স্মরণীয় এই জয় তুলে নেয় টাইগাররা। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অজিদের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে নেমেই এই অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হলো।
ম্যাচ শেষ হওয়ার মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জ সফরের পথে থাকলেও তিনি ঐতিহাসিক এই জয়ের খবর পাওয়ামাত্রই বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভিডিওকলে সংযুক্ত হন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি অধিনায়কসহ সকল সদস্যকে অভিনন্দন জানান এবং ১৬ কোটি বাঙালির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। এই অসামান্য নৈপুণ্যে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
এক অভিনন্দন বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্বসেরা ও শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাদের নিজস্ব কন্ডিশনে বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি সোনালি অধ্যায় হয়ে থাকবে। তিনি দলের খেলোয়াড়দের দৃঢ় মানসিকতা, আত্মবিশ্বাস এবং সুশৃঙ্খল দলগত প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মনে করেন, এই জয় দেশের ক্রিকেটকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচিং স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে এই সাফল্যের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, সাফল্যের এই ধারা পরবর্তী টেস্টেও অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশ দল সিরিজ জয়ের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস গড়বে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকালে কিশোরগঞ্জ জেলায় এসে পৌঁছেছেন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে তিনি পাকুন্দিয়া উপজেলায় পৌঁছালে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে পাকুন্দিয়ার প্রতিটি মোড়ে এবং রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ভোর থেকেই উৎসুক জনতা প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার প্রত্যাশায় সমবেত হন।
সফরের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে পোনামাছ অবমুক্ত করার কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। মৎস্য সম্পদ রক্ষা ও উৎপাদনে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বর্ণাঢ্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো জেলা জুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যকে বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। পোনামাছ অবমুক্ত করার পর তাঁর আরও বেশ কিছু স্থানীয় কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সড়কপথে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। আজ রোববার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে প্রধানমন্ত্রী রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর আচমিতা ইউনিয়নে জর্জ ইনস্টিটিউট মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনসহ বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এসব কর্মসূচি শেষ করে সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।‘
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কিশোরগঞ্জে এটি তারেক রহমানের প্রথম সফর।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি : সকাল সাড়ে ১১টায় পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান, দুপুর সাড়ে ১২টায় কটিয়াদী কার্ড হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন, দুপুর ১টায় আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউটের মিনি স্টেডিয়ামে জাতীয় মৎস্য পক্ষ- ২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও জাতীয় মৎস্য পদক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগদান, দুপুর আড়াইটায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে সার্কিট হাউজে মধ্যাহ্নভোজ এবং ৪টায় পুরাতন কিশোরগঞ্জ স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিত-ভিক্ষু-পাদরিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মানি প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সূত্র: বাসস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন দেখতে চায়। তারা দেখতে চায় প্রিয় মাতৃভূমিকে পৃথিবীর বুকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে। কিন্তু সামনে এগিয়ে যেতে এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মীর হাতে রূপান্তর করতে হবে। শ্রমিকের হাতে রূপান্তরিত করতে হবে।
দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুস্থ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়াও করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট সমাধানে অন্য রাজনৈতিক দল সরকারের চেয়ে ভালো পরিকল্পনা দিলে, তাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে এবং বাস্তবায়নও করা হবে। কিন্তু কেবল জনগণকে বিভ্রান্ত করতে অপপ্রচার ছড়ালে, জনগণের কাছেই তাদের ক্ষমা চাইতে হবে।
তিনি বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করা একজন রাজনীতিবিদের কাজ বা দায়িত্ব না। বরং জনগণকে ধৈর্য শেখানো এবং সঠিক পথ দেখানো তার দায়িত্ব।
দেশে বিশৃঙ্খলার রাজনীতির দিন শেষে মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, মিথ্যাচার ও বিশৃঙ্খলার রাজনীতি স্বৈরাচার সরকার করে গেছে। কিন্তু বর্তমান রাজনীতিবিদরা জনগণের কাছে উন্নয়নের প্রতিজ্ঞা করেছেন। তাই হঠকারিতা ও বিভ্রান্তির রাজনীতি বাদ দিয়ে জনমানুষের কল্যাণে পরিকল্পনা উপস্থাপন করুন।
তিনি আরও বলেন, রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাঙচুর করার রাজনীতির দিন এখন নেই। জনগণ আর সেই রাজনীতি সমর্থনও করে না।
তারেক রহমান বলেন, ঢাকা-১৭ আসনে আমাদের প্রতিনিধিরা জনগণের সেবায় কাজ করছেন। পাশের লেকটি পরিষ্কার করতে ছয় মাস সময় লাগে। এসব সহজ কাজ না; কিন্তু সমালোচনা করা সহজ। তাই যারা সমালোচনায় ব্যস্ত আছেন, তারা এখনই মাঠে নামুন। মানুষ এবং দেশের জন্য কাজ করুন; সঠিক কথা বলুন। দেশে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় এমন কথা থেকে বিরত থাকুন।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারের সঙ্গে যুদ্ধ করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা রাজপথে টিকে আছেন। যারা আজ বড় গলায় কথা বলছে এবং মিথ্যাচার করছে, গত ১৭ বছর মানুষ তাদের রাজপথে দেখতে পায়নি। দেশের বড় পত্রিকাগুলোর পাতায় চোখ বুলালেই দেখা যাবে, কিভাবে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন, গুম, হত্যাসহ পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছিল।
তারেক রহমান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা ৭১ সালে ভুল করেছে, ৮৬ সালে ভুল করেছে, ৯৬ সালে ভুল করেছে, আবার ২০২৬ সালেও মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাদের বলবো, এসব উস্কানির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসুন। মানুষের উপকারের পরিকল্পনা থাকলে সংসদে উপস্থাপন করুন। জনগণের সামনে তুলে ধরুন। আমরা সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করব।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ এবং ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধি আবদুর রহমান সানী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
নির্বাচিত বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। কোনো প্রকার ভোগান্তি ও মধ্যস্বত্বভোগীর যন্ত্রণা ছাড়াই যথাসময়ে অনলাইনে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে শিক্ষকদের প্রাপ্য টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ২০২২ সালের পর অর্থাৎ দীর্ঘ চার বছর পর সরকারি দুটি ফান্ডে জমানো ফান্ডের একটি অংশ ফেরত পেয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ থেকে এই অর্থ সরাসরি তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জীবনের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার কিছুটা হলেও অবসান ঘটেছে।
শিক্ষকদের প্রাপ্য টাকা তুলতে হয়রানির তীব্র সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষক সমাজ, যারা নীতি-নৈতিকতা আর আদর্শের বাণী শিখিয়ে লাখো কোটি শিক্ষার্থীকে বড় করে তোলেন, তাদেরকেই যদি ঘুষ দিয়ে টাকা তুলতে হয় বা অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়, সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়; বরং জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা ও হীনতাই প্রকাশ পায়। আজ আমরা কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনে ব্যাংকে শিক্ষকদের পাওনা টাকা পাঠাতে সক্ষম হয়েছি।
অবসরকালীন সুবিধার টাকা বণ্টনের এই পথটি সহজ ছিল না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী সরকার ব্যাংক-বীমাসহ প্রতিটি সেক্টরের মতো শিক্ষকদের এই দুটি তহবিল থেকেও লুটপাট চালিয়ে ছিল। জাল ইনডেক্স তৈরি, লুটপাটের উদ্দেশে শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিলের অর্থ দুর্বল ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংস করার মাধ্যমে তহবিল দুটিকে দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল। যার ফলে ২০২২ সাল থেকে শিক্ষকরা কোনো অর্থ পাচ্ছিলেন না।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দুরবস্থা বিবেচনা করে বিশেষ ব্যবস্থায় আজ তাদের টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এদিন গভীর শ্রদ্ধায় মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ১৯৯১ সালে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ২০০২ সালে ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ তার দূরদর্শী উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি প্রথমে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে পর্যায়ক্রমে ৮৯ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করে এই তহবিলের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেন। মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া প্রবর্তিত 'শিক্ষা উপবৃত্তি ও নারী শিক্ষার জন্য বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ আজ বিশ্বজুড়ে একটি অনুসরণীয় মডেল হিসেবে সমাদৃত।
শিক্ষিত সমাজ গড়তে শিক্ষকদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকতা হলো একমাত্র পেশা, যা অন্য সব পেশার সৃষ্টি করে। আপনারা প্রচলিত নিয়মে অবসরে গেলেও শিক্ষক হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি। সমাজ ও রাষ্ট্রের ধর্মীয়, সামাজিক এবং পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় আপনাদের ভূমিকা সর্বজনগ্রাহ্য। আপনারা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই সমাজে আলোকবর্তিকা হিসেবে ভূমিকা রাখবেন- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এবং শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেক প্রমুখ।
দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। মহেশখালীর সামিট ও অ্যাক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল দুটিই একসঙ্গে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে।
সেই সঙ্গে ভাসমান টার্মিনাল দুটি থেকে আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোর ৪টায় সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সামিট এলএনজি টার্মিনালের উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি এলএনজি বহনকারী জাহাজ বৈরী আবহাওয়া ও অধিক বেগে বাতাস প্রবাহের কারণে গত ১০ আগস্ট সিঙ্গাপুর বন্দরে ফিরে যায়। ফলে টার্মিনালটি থেকে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যায়।
পরে গত ১৪ আগস্ট নতুন একটি এলএনজি বহনকারী জাহাজ টার্মিনালে পৌঁছালে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে আজ ভোর থেকে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়।
বর্তমানে এ টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৪৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে।
অন্যদিকে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া অ্যাক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি আংশিক মেরামতের পর বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গড়ে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
সূত্র বলছে, আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে এ টার্মিনালের মেরামতকাজ সম্পন্ন হলে সেখান থেকে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে দৈনিক প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে।
স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সামিট এলএনজি টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং অ্যাক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনাল থেকে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। অর্থাৎ দুই টার্মিনাল থেকে সম্মিলিতভাবে দৈনিক গড়ে প্রায় ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
বর্তমানে দুই টার্মিনাল থেকে সম্মিলিতভাবে দৈনিক প্রায় ৭৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে সামিট থেকে ৪৬০ এবং অ্যাক্সিলারেট থেকে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
আগামী ১৯ আগস্টের মধ্যে দুই টার্মিনাল থেকেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যার সমাধান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে দুস্থদের সহায়তা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বিদ্যুৎ-গ্যাস নিয়ে বিরোধী দল হঠকারী আন্দোলন করছে উল্লেখ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেছনে ফ্যানের বাতাস খাচ্ছে, হাতে হারিকেন নিয়ে বসে বলছে— ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে’; এগুলো হঠকারিতা। তাদের বন্ধুরাই ক্ষমতায় ছিল, অন্তর্বর্তী সরকার এলএনজি টার্মিনাল বসানো বন্ধ করে দিয়েছে। সরকার দেশে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল বানানোর চেষ্টা করছে, এজন্য সময় লাগবে। সংকট সমাধানে সরকার চীন ও মালয়েশিয়ার সাথে কথা বলেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে যদি সংকট সমাধানের কোনো কার্যকর পরিকল্পনা থাকে, তবে তা সরকারের কাছে পেশ করা হোক, সরকার তা সাদরে গ্রহণ করবে। যদি না পারে, তাহলে বিভ্রান্তির রাজনীতির জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে তাদের। বিভ্রান্তি, হঠকারী রাজনীতি বাদ দেন। জনগণের উপকার হবে সেই রকম পরিকল্পনা থাকলে উপস্থাপন করুন। রাস্তায় বসে ভাঙচুরের রাজনীতির দিন শেষ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র থাকলে জবাবদিহি থাকবে, তখনই দেশের উন্নয়ন হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ড্রেস দেওয়ার কাজ শুরু হবে। উপজেলার সব ৫০ শয্যার হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় রূপান্তর করবে সরকার।’