শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
২০ আষাঢ় ১৪৩৩

আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১৭ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:৪৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:৪৬

আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সুদীর্ঘ ইতিহাসের এক চিরভাস্বর অবিস্মরণীয় দিন।

১৯৭১ সালের এই দিনে কুষ্টিয়া জেলার তদানীন্তন মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন-সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। এ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রণীত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। এ দিন থেকে স্থানটি মুজিবনগর নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনা ও স্বদেশ ভূমি থেকে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ও নির্দেশিত পথে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়।

১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার স্বাধীনতা সূর্য অস্ত যায়। এর ২১৪ বছর পর ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগর আম্রকাননে স্বগর্বে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূর্য। এর পর ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অনেক ত্যাগের বিনিময়ে ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ লাভ করে। এরপর সাক্ষী হিসেবে স্বাধীন বাংলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ধরে রাখতে গড়ে তোলা হয় মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে দেশবাসীকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত উন্নত-সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদ্যাপনের মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারবে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক ‘মুজিবনগর দিবস’, বাঙালি জাতির পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন।

তিনি বলেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতা-শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম, শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ, শহীদ মোহাম্মদ মনসুর আলী এবং শহীদ আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে। শ্রদ্ধা জানাই মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ অকুতোভয় বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি এবং ২ লাখ সম্ভ্রমহারা নির্যাতিত মা-বোনদের প্রতি।’

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর তৎকালীন পাকিস্তানের শাসকচক্র নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বেআইনিভাবে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ন্যায়-নীতিবহির্ভূত এবং গণহত্যা শুরু করলে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওয়্যারলেসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকার মুক্তাঞ্চলে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এক বিশেষ অধিবেশনে মিলিত হন এবং স্বাধীন-সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করেন। এই অধিবেশনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুমোদন ও বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকারী উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এবং এ এইচ এম কামারুজাজামানকে স্বরাষ্ট্র এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে গঠিত হয় বাংলাদেশ সরকার। মেহেরপুর হয়ে ওঠে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাজধানী। মুজিবনগর সরকারের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান বিমান বাহিনী বোমাবর্ষণ ও আক্রমণ চালিয়ে মেহেরপুর দখল করে। ফলে সরকারের প্রতিনিধিরা ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় এবং সেখান থেকে কার্যক্রম চালাতে থাকে। দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

নবজাত রাষ্ট্রের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জনগণকে তাদের বীরত্ব, সাহসিকতা ও বিপ্লবী কার্যক্রমের মাধ্যমে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা লাভের লক্ষ্যে অদম্য স্পৃহায় মরণপণ যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত সৃষ্টি ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার পরিচালনায় নবগঠিত এই সরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এই সরকারের যোগ্য নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় মুক্তিযুদ্ধ দ্রুততম সময়ে সফল সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যায়। এই সরকার গঠনের ফলে বিশ্ববাসী স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামরত বাঙালিদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেন। অবশেষে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব ও অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে,

এই ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত দিনটিকে বরাবরের ন্যায় স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী সবার সঙ্গে একত্রিত হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো যথাযথ মর্যাদা এবং গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ ও পালন করবে।

কর্মসূচির মধ্য রয়েছে ভোর ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং সারা দেশে সংগঠনের সকল কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন।

এদিকে মুজিবনগরের কর্মসূচির মধ্য রয়েছে ভোর ৬টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল সাড়ে ৯টায় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে গার্ড অব অনার। সকাল ১০টায় শেখ হাসিনা মঞ্চে মুজিবনগর দিবসের জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন রিমি এমপি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল-আলম হানিফ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন এমপি, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি। জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি। সঞ্চালনা করবেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক। এ ছাড়া বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আমিরুল আলম মিলন, পারভীন জামান কল্পনা এমপি, অ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া সরকার ঝর্ণা, নির্মল কুমার চ্যাটার্জি, মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি, সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক এবং মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক।

দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ঘোষিত কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য সংগঠনের সকল স্তরের নেতা-কর্মী এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহসহ সর্বস্তরের জনগণ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।


বাংলাদেশ কী পাবে, তার ওপর ঠিক হবে অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, চীন, ভারত, রাশিয়াসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্ক জাতীয় স্বার্থ ও পারস্পরিক লাভের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে। কোনো দেশের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নয়, বরং ‘কৌশলগত ভারসাম্য’ বজায় রেখেই বর্তমান সরকার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছে।

শনিবার (৪ জুলাই) গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (ব্রেন) আয়োজিত ‘পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘প্রত্যেকটা দেশের সঙ্গে আমাদের কৌশলগত সম্পর্ক নির্ধারণ করবে পারস্পরিকভাবে আমরা কী পাচ্ছি, বাংলাদেশের মানুষ কী পাচ্ছে—সম্পূর্ণ ওই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে।’

তিনি বলেন, ‘প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অন্ধভাবে কোনো দেশের পক্ষে বা বিপক্ষে না গিয়ে সম্পূর্ণ কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখেই পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মতো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও জোরদার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রথমবারের মতো সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং সৃজনশীল অর্থনীতিকে ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার’, ‘মাইগ্রেশন’ এবং ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স’ নামে তিনটি নতুন অনুবিভাগ চালু করা হয়েছে।’

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সীমান্ত হত্যা, বাণিজ্য ঘাটতি ও পানিবণ্টনসহ বিদ্যমান সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে বাংলাদেশ বিশ্বাসী। এজন্য প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে কার্যকর কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা জরুরি।’

গোলটেবিল আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ বহুপক্ষীয় সহযোগিতায় বিশ্বাসী।’ তিনি বলেন, ‘আমরা মাল্টিল্যাটারালিজমকে ধারণ করি। সে কারণেই ব্রিকস, আসিয়ান, এসসিও ও আরসিইপির সদস্য হতে চাই। ক্ষয়প্রাপ্ত বহুপক্ষীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন এবং জনগণের স্বার্থে কাজ করাই আমাদের লক্ষ্য।’

শিক্ষক ও গবেষক আসিফ বিন আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান), চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মহসিন, অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান, সহযোগী অধ্যাপক ওবায়দুল হক এবং ব্রেনের নির্বাহী পরিচালক সফিকুর রহমান।


মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান মাহদী আমিনের

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে আরও বেশি বিনিয়োগ করতে মার্কিন উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার সমান সুযোগ নিশ্চিত, নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে।

শনিবার (৪ জুলাই) ঢাকায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) এবং ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে সরকার বেসরকারি খাতকে গুরুত্ব দেয়। বিনিয়োগ সহজ করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সুশাসন ও আইনের শাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার কাজ করছে। বৃহৎ অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ কর্মশক্তি ও ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণির কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে মুনাফা দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ সহজ করা, উদার অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল, শিল্পপার্ক ও হাইটেক পার্কে কর–সুবিধাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অতীতে অসম প্রতিযোগিতা নিয়ে যে উদ্বেগ ছিল, তা দূর করে দেশি-বিদেশি সব বিনিয়োগকারীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রতি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রযুক্তি ও দক্ষতা স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় শিল্পের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নে তারা আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘উড়োজাহাজ, জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), বস্ত্র, ওষুধ, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি এবং ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে দুই দেশের সহযোগিতা ও বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।’

মাহদী আমিন আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীদের দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে ‘ব্রেইন ড্রেইন’কে ‘ব্রেইন সার্কুলেশনে’ রূপান্তর করা প্রয়োজন।’

তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগসংক্রান্ত রোডশো আয়োজন এবং নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা খুঁজে বের করতে সরকারি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে মাহদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগের সফলতা বিশ্বের অন্যান্য বিনিয়োগকারীদেরও এ দেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।’

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখায় অ্যামচেম ও ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান তিনি।


জুলাই অভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, গণতন্ত্রকামী মানুষের অর্জন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়, বরং এটি দেশের গণতন্ত্রকামী ও শান্তিকামী সাধারণ মানুষের সম্মিলিত বিজয়। জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের আত্মত্যাগকে সরকার সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করবে এবং এই অর্জনকে বৃথা যেতে দেওয়া হবে না।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র) আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঐতিহাসিক ‘৩৬ জুলাই’ অর্থাৎ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ ও ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ যৌথভাবে এই স্মরণসভার আয়োজন করে।

বিচারের নামে যেন অবিচার না হয়
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যারা জুলাই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত, আইন অনুযায়ী তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। তবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন বিচারের নামে কারও প্রতি কোনো অবিচার না হয়। সময় নিয়ে হলেও প্রকৃত হত্যাকারীদের সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করে আমি দেশ এগিয়ে নিতে চাই না। আমাদের মূল লক্ষ্য দেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করা। আর কোনো অপশক্তি যেন এই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।”

প্রতিহিংসা বর্জনের আহ্বান
বিগত ১৭ বছরের জুলুম-নির্যাতনের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান এক আবেগঘন স্মৃতিচারণা করেন। তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছর আমার ওপর, আমার পরিবারের ওপর এবং দেশের মানুষের ওপর যে ভয়াবহ অবিচার করা হয়েছে—আল্লাহ আমাকে এখন তার প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা দিয়েছেন। কিন্তু আমি প্রতিহিংসায় বিশ্বাসী নই। যদি আজ আমার মাকে (বেগম খালেদা জিয়া) জিজ্ঞেস করতাম— মা, আপনার ওপর যে অন্যায়-জুলুম হয়েছে, সেগুলোর প্রতিশোধ কি নেব? মা বলতেন, প্রতিহিংসা নয়, তোমার দায়িত্ব সবাইকে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমার ছাত্রদলের ও দলের অনেক সহকর্মীকে আমি হারিয়েছি, যারা আমার সাথে দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখত। তাদের অভাব আমি প্রতিটি মুহূর্তে অনুভব করি।”

শহীদ জননীর স্মৃতিচারণ ও অশ্রুসিক্ত প্রধানমন্ত্রী
অনুষ্ঠানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যখন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শহীদদের পরিবারের সদস্যরা মঞ্চে এসে স্মৃতিচারণ শুরু করেন। একজন শহীদ জননী তার সন্তানকে হারানোর লড়াকু দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লে মিলনায়তনের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। এ সময় দর্শক সারিতে বসা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেকে সামলাতে পারেননি। শহীদ জননীর সেই আকুতি শুনে প্রধানমন্ত্রীর দুই চোখ অশ্রুতে টলমল করতে দেখা যায় এবং তিনি জনসমক্ষেই অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্য ছাড়াও মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শহীদদের রক্তে ভেজা এই ইতিহাসকে আগামীর বাংলাদেশের অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য শেষ করেন।


জুলাই অবমাননার অভিযোগে শাওন, মাহি ও ফারজানার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় জিডি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলন নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ও অপপ্রচারের অভিযোগে অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি এবং শান্তা ফারজানা নামের এক নারীর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ নামের একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে এই অভিযোগ দাখিল করা হয়, যা পুলিশ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করেছে।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগটি সাইবার সংক্রান্ত হওয়ায় এটি অধিকতর তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযোগপত্রে যা বলা হয়েছে:
রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের পক্ষ থেকে দেওয়া অভিযোগপত্রে তিনজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে:

১. শান্তা ফারজানা: তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ বা আঘাত করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, যা শহীদদের স্মৃতির প্রতি চরম অবমাননাকর।
২. মেহের আফরোজ শাওন: অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, শাওন বিভিন্ন ভিডিও বার্তায় জুলাই আন্দোলনকে ‘পরিকল্পিত’ বা ‘সাজানো নাটক’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন এবং রাষ্ট্র ও আন্দোলন সম্পর্কে নেতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন।
৩. মাহিয়া মাহি: মাহির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন সংগঠনকে কটাক্ষ করেছেন এবং তাদের কর্মকাণ্ডকে ‘অভিনয়’ বলে তুলনা করে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আনম আয়াস ও তুহিন ফরাজী এবং কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক মুহাম্মদ শাহ্ আলম বাদশা স্বাক্ষরিত এই আবেদনে বলা হয়েছে, ১ হাজার ৪০০-এর বেশি শহীদ ও ৩০ হাজারের অধিক আহত মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই বিপ্লবকে নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগের বিষয়টি তারা জেনেছেন। সাইবার ইউনিটের কাছে নথি পৌঁছানোর পর তদন্ত শুরু হবে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের মতো কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে এ ধরনের অবমাননাকর প্রচারণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক সংগঠন। পুলিশের সাইবার বিভাগ এখন ভিডিও ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে খতিয়ে দেখছে।


সকল বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব এক গভীর ও জটিল সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই একক কোনো আদর্শ, দর্শন বা চিন্তার আধিপত্য মানব সভ্যতার জন্য স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না।

তিনি বলেন, ‘জগতের সব ধরনের বৈচিত্র্য, ভিন্নমত ও আদর্শের অবাধ আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই কেবল শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব; আর সেজন্য প্রয়োজন মুক্ত ও দায়িত্বশীল বুদ্ধিচর্চা।’

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি অভিজাত হোটেলে বৈশ্বিক গবেষণা, সংলাপ ও জ্ঞানচর্চার আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. এ এফ এম খালিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্বখ্যাত তুর্কি লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ইয়াসিন আকতাই।

স্বাগত বক্তব্য দেন আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও জার্নালের সম্পাদক ইন চিফ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যখন বিভ্রান্তি, বিভাজন ও ভাসাভাসা আলোচনা দ্রুত বাড়ছে, তখন জ্ঞান, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বিশ্বাসযোগ্য বুদ্ধিবৃত্তিক উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট জ্ঞানভিত্তিক আলোচনা ও গবেষণামূলক অবদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বস্ত মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।’

তিনি বলেন, ভাষা, ‘জাতিসত্তা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য হল প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম। কোনো সুনির্দিষ্ট পরিচয় বা গোষ্ঠী এককভাবে বিশ্বকে শাসন বা আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না। সব মতাদর্শের স্কলার বা গবেষকদের এমন এক সাধারণ সমাধান খুঁজে বের করতে হবে, যা সভ্যতার কল্যাণ বয়ে আনবে। অতীতের কোনো একক বীর কিংবা সমাজ একা বিশ্ব সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে পারেনি।’

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও সমাদৃত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের সরকার গঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন আমাদের এই সরকার সব ধরনের বৈচিত্র্য এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। আমাদের নীতি হলো- যে যার অবস্থান থেকে নিজের কথা বলবেন এবং সুস্থভাবে সেই মতাদর্শের আদান-প্রদান হবে। এটিই প্রকৃত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি। আল-উম্মাহ জার্নালের ঘোষিত উদ্দেশ্য আমাদের এই রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

তিনি আরও বাংলা, ইংরেজি, আরবি ও তুর্কি- এই চারটি ভাষায় জার্নালটি প্রকাশের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, পারস্পরিক সংস্কৃতির গভীর বোঝাপড়া আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পর্যায়ের সকল ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে সাহায্য করে।

অধ্যাপক ইয়াসিন আকতাই বলেন, ‘মুসলিম বিশ্বের একটি সমৃদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্য রয়েছে। সমসাময়িক বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সেই জ্ঞানচর্চার সংযোগ ঘটানো এখন সময়ের দাবি। আল-উম্মাহ বিশ্বজুড়ে চিন্তাবিদদের সংযুক্ত করার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হবে।’

ড. এ এফ এম খালিদ হোসেন বলেন, এই প্ল্যাটফর্মটি ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত সংযোগ ও সহযোগিতা গড়ে তুলতে এবং মুসলিম উম্মাহর সমসাময়িক চ্যালেঞ্জগুলোর জ্ঞানভিত্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে মুসলিম উম্মাহর বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব, গণমাধ্যম, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সূত্র: বাসস


আ. লীগের দাফন দিল্লিতে হয়ে গেছে, দেশে আর রাজনীতি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে আর কোনোদিন রাজনীতি করার সুযোগ পাবে না বলে কঠোর মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ তিনি এই কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, “আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে, তাদের দাফন হয়েছে দিল্লিতে। তারা আর বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না। শিগগিরই দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হবে।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, আন্দোলনের সেই উত্তাল সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে নিয়মিত আলাপ-আলোচনা এবং নির্ঘুম রাত কাটিয়ে অরাজনৈতিক ব্যানারে আন্দোলনকে চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছিল। তিনি এটিকে ‘পর্দার অন্তরালের সত্য’ হিসেবে অভিহিত করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও সতর্ক করে দেন যে, আওয়ামী লীগের পলাতক নেতারা বিদেশ থেকে বর্তমানে দেশের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়ে খুব শীঘ্রই এই দলটিকে আইনি বিচারের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জনসমক্ষে প্রতিশ্রুতি দেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে কিছুটা ধৈর্যের প্রয়োজন এবং সরকার পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে। জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “জুলাই চেতনা নিয়ে কেউ যেন ব্যবসা না করি, চেতনা বিক্রি ভালো নয়। যারা চেতনা ব্যবসা করবে তাদের পরিণতিও দেশের মানুষ দেখবে।” তিনি মনে করেন, জুলাইয়ের চেতনাকে পুঁজি করে ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধার করা শহীদদের অপমানের শামিল।

‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার’ ও ‘আমরা জুলাইযোদ্ধা’ কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজিত এই বিশাল সম্মেলনে জুলাই আন্দোলনে আহত যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে সরকারের অন্যান্য উর্ধ্বতন মন্ত্রী ও আইনপ্রণেতারা উপস্থিত থেকে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।


শহীদ পরিবার ও আহতদের হাতে জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই আন্দোলনে আহতদের হাতে স্মৃতি স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক বিজয় ও ত্যাগের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ শহীদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে এই স্মৃতি স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গণঅভ্যুত্থানের সেই অকুতোভয় বীরদের অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখতেই সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানে প্রতিনিধি হিসেবে শহীদ মিরাজের পিতা আব্দুর রব মিয়া প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে প্রথম স্মৃতি স্মারকটি গ্রহণ করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেন, আন্দোলনে গুরুতর আহত আল মিরাজ এবং লড়াকু যোদ্ধা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ইমনের হাতেও এই বিশেষ স্মারক তুলে দেওয়া হয়। স্মৃতি স্মারক হস্তান্তরের সময় মিলনায়তনে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা করতালি দিয়ে বীরদের সম্মান জানান।

সম্মেলনে ঘোষণা করা হয় যে, উপস্থিত কয়েকজনকে প্রতীকীভাবে স্মারক প্রদান করা হলেও প্রতিটি শহীদ পরিবার এবং আন্দোলনে আহত সকল যোদ্ধার জন্য এই জুলাই স্মৃতি স্মারক সংরক্ষিত রয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই স্মারকগুলো দেশের প্রতিটি প্রান্তে থাকা সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।


আয়াতুল্লাহ খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে স্পিকারের শ্রদ্ধা

শোক বইতে স্বাক্ষর করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম। শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে আয়োজিত অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ এই অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে স্পিকার মরহুম আয়াতুল্লাহ খামেনির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন। পরে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির উচ্চপদস্থ নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত ইরানি জাতির প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্পিকার সেখানে রক্ষিত শোক বইতেও স্বাক্ষর করেন।

এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে স্পিকার ইরানের সর্বোচ্চ নেতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্প্রতি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নে স্পিকার গালিবাফের ভূমিকার প্রশংসা করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “এই চুক্তি সমগ্র অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে বলে আমরা আশাবাদী। বাংলাদেশ সবসময়ই সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে।” এ সময় তিনি ইরানি স্পিকারকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

একই দিনে স্পিকার ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দুনিয়ামালীর সাথেও বৈঠক করেন। বৈঠকে ইরানি মন্ত্রী নিজ দেশে ক্রিকেট খেলার প্রসারে বাংলাদেশের কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা কামনা করেন। দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়া ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। স্পিকার এই বার্তা বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

সফরের শেষ পর্যায়ে স্পিকার ইরান রেডিও’র বাংলা বিভাগের সাথে এক সাক্ষাৎকারে অংশ নেন। সেখানে তিনি দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক নানা বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি ইরানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দূতাবাসের সেবা আরও উন্নত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানাবেন বলে উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে যোগ দিতে শুক্রবার তেহরান পৌঁছালে স্পিকারকে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দেশটির ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাই।


জুলাই জাতীয় সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (৪ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

বিক্ষুব্ধ ও রক্তাক্ত ‘৩৬ জুলাই’-এর দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ ও ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ সংগঠন দুটি যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সম্মেলনের মূলমন্ত্র নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চের ব্যানারে শহীদদের আত্মত্যাগের মহিমা তুলে ধরে লেখা ছিল— ‘গর্বিত ইতিহাস, অদম্য চেতনা; ৪ জুলাইয়ের এই দিনে হোক সবার অনুপ্রেরণা, যে আত্মত্যাগ ইতিহাসকে বদলে দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখতেই এই বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও এতে অংশ নেন। স্মৃতিচারণা আর শ্রদ্ধার এই অনুষ্ঠানের শুরুতেই শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ৯ দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। আগামী ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে আলোচনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি শেষ হবে ৩ আগস্ট। কর্মসূচির শেষ দিনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত ছাত্র সমাবেশেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।


দালালের থাবায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, বিপাকে অসহায় রোগীরা

* ‘বেড খালি নেই’, ‘ডাক্তার নেই’ বা ‘অনেক দেরি হবে’- এসব মিথ্যা ভীতি দেখিয়ে রোগীদের বাধ্য করা হয় পাশের অনুমোদনহীন বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে * রক্ত সংগ্রহেও গড়ে উঠছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট * চক্রে বন্দি অ্যাম্বুলেন্স সেবাও
প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

সরকারি হাসপাতালগুলো সাধারণ মানুষের আশার শেষ আশ্রয়স্থল। বিশেষ করে ঢাকার বড় বড় সরকারি মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী আসেন জীবন বাঁচানোর প্রত্যাশায়। কিন্তু সেই হাসপাতালে পা রাখতেই তাদের মুখোমুখি হতে হয় এক অদৃশ্য দেয়ালের-যার নাম ‘দালালচক্র’। এটি কেবল কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও অশুভ সিন্ডিকেট, যা বছরের পর বছর ধরে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে ভেতর থেকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। সাধারণ রোগীর পকেট থেকে টাকা হাতানো থেকে শুরু করে ভুল চিকিৎসার ঝুঁকিতে ঠেলে দেওয়া-সবই এই চক্রের প্রতিদিনের রুটিন।

রাজধানীর শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক), স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, পঙ্গু হাসপাতাল বা বক্ষব্যাধি হাসপাতাল-প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের আঙিনায় দালালদের বিচরণক্ষেত্র। ভোর ৬টা থেকেই এদের তৎপরতা শুরু হয়। এদের কাজের ধরন বেশ বৈচিত্র্যময়।

প্রথমত, তারা সহজ-সরল ও গ্রাম থেকে আসা রোগীদের টার্গেট করে। অনেক রোগী জানেন না কোন বিভাগে ডাক্তার দেখানো হয়, কোথায় ভর্তি হতে হয় বা পরীক্ষার প্রক্রিয়া কী। এই অজ্ঞতাকে পুঁজি করে দালালরা তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ভান করে। কিন্তু সাহায্য নয়, বরং এটি হয় শোষণের শুরু।

দ্বিতীয়ত, ‘বেড নেই’ কিংবা ‘ডাক্তার নেই’—এই ভীতি প্রদর্শন। জরুরি বিভাগে কোনো রোগী আসার পর তাকে বলা হয়, সরকারি হাসপাতালে সিট খালি নেই বা ডাক্তার এখন দেখবে না, ২-৩ দিন সময় লাগবে। এই ভীতি শুনে আতঙ্কিত স্বজনরা যখন দিশেহারা, তখন দালালরা তাদের প্রস্তাব দেয় পাশের কোনো বেসরকারি ক্লিনিকে দ্রুত ভর্তির। সেখানে দালালদের কমিশন নিশ্চিত।

তৃতীয়ত, রক্ত ও পরীক্ষার বাণিজ্য। হাসপাতালে বিনামূল্যে পরীক্ষার সুবিধা থাকলেও দালালরা রোগীদের বুঝিয়ে নিয়ে যায় বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সেখানে পরীক্ষার খরচ দ্বিগুণ বা তিনগুণ। রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন হলে টাকার বিনিময়ে দালালরা রক্তদাতা সরবরাহ করে, যেখানে অনেক সময় রক্তদাতার শারীরিক অবস্থা বা রোগের ইতিহাস পরীক্ষা করার কোনো বালাই থাকে না।

সিন্ডিকেটের মূলে কারা’ দালালরা একা এই অপকর্ম করতে পারে না। তাদের পেছনে রয়েছে এক বিশাল নেটওয়ার্ক। হাসপাতালের ভেতরে অসাধু কর্মচারী, ওয়ার্ড বয়, এমনকি কিছু নিরাপত্তা কর্মী বা আনসার সদস্যের সঙ্গে তাদের সখ্যতা ওপেন সিক্রেট। অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের অনেক কর্মচারী মাসিক বেতনের বাইরে দালালদের কাছ থেকে বড় অংকের কমিশন পায়।

উদাহরণস্বরূপ, ঢামেক বা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, টাকা ছাড়া হুইলচেয়ার বা ট্রলি মেলে না। যেখানে সরকার প্রতিটি সেবার জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা করেছে, সেখানে এই কর্মচারীরা ট্রলিকে নিজেদের সম্পদ বানিয়ে ফেলেছে। যে পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা ওয়ার্ড বয় হাসপাতালের সেবা দেওয়ার কথা, তারাই এখন রোগীর কাছ থেকে বখশিশ বা উৎকোচ আদায়ের প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বেসরকারি হাসপাতালের দায় ও অশুভ আঁতাত: ঢাকার শ্যামলী, মহাখালী বা মিরপুরের মতো এলাকায় সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে শত শত বেসরকারি ক্লিনিক। এদের অনেকেরই নেই কোনো বৈধ অনুমোদন। এই ক্লিনিকগুলোর ব্যবসা টিকে আছে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার ওপর ভিত্তি করে।

এ অবস্থায় সাধারণ রোগীরা বলেছেন, দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে শুধু নির্দেশনার কালি নয়, প্রয়োজন কঠোর হাতের প্রয়োগ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক হাসপাতালের করিডোরগুলোতে, আর দালালের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হোক মানুষের জীবন।

পরীক্ষা ও রক্তের বাণিজ্য: হাসপাতালে বিনামূল্যে পরীক্ষার সুযোগ থাকলেও দালালদের মাধ্যমে রোগীদের নিয়ে যাওয়া হয় বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে, যেখানে পরীক্ষার খরচ কয়েক গুণ বেশি। এমনকি রক্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রেও তারা গড়ে তুলেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অসাধু চিকিৎসক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সিন্ডিকেট কমিশনের লোভে রোগীদের অপ্রয়োজনীয় টেস্ট দিয়ে থাকে, যা চিকিৎসা ব্যয় আকাশচুম্বী করে দেয়।

‘অ্যাম্বুলেন্স চক্র’ : অ্যাম্বুলেন্স সেবাx দালাল, হাসপাতাল সিন্ডিকেট এবং অনিয়ন্ত্রিত ভাড়ার চক্রে বন্দি। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ‘অ্যাম্বুলেন্স চক্র’ বা সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে রোগী ও তাদের স্বজনরা মারাত্মকভাবে জিম্মি। এই সিন্ডিকেটের আওতাভুক্ত না হলে কোনো চালক রোগী আনা-নেওয়া করতে পারে না। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে থেকে জরুরি ভিত্তিতে রোগী বহনকারী অনেক অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে রোগী আনতে পারলেও নিয়ে যেতে পারে না। এতে চরম বিপদে পড়েন রোগী ও তাদের স্বজনরা। সিন্ডিকেটের কারণে রোগীকে বাড়তি টাকাও গুনতে হয়।

দেশের উত্তরাঞ্চলের একটি জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মুমূর্ষু এক রোগীকে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে ঢাকায় আসেন স্বজনরা। উদ্দেশ্য রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান-পঙ্গু হাসপাতাল। অ্যাম্বুলেন্স থামল। চালক রোগীকে জরুরি বিভাগে নামিয়ে দেন। পরে তিনি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার জন্য অপেক্ষমাণ রোগীর খোঁজ করছিলেন। রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে দরকষাকষিও করছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন তরুণ ‘হাসপাতাল আঙিনা থেকে কোনো রোগী নিতে পারবেন না’ বলে তাকে বাধা দেন। এমনকি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করতেও চাপ দিতে থাকেন তারা। চালক যেতে দেরি করলে উত্তেজিত তরুণরা তার সঙ্গে মারমুখী আচরণ করতে থাকেন। দ্রুত চলে না গেলে অক্ষত অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যেতে পারবে না বলে শাসান।

জানতে চাইলে ঢাকার বাইরে থেকে আসা চালক অভিযোগ করেন, প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূর থেকে তুলনামূলক কম ভাড়ায় একজন গরিব রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তিনি। ইচ্ছা ছিল ফিরতি ট্রিপে কোনো রোগী পেলে গন্তব্যে পৌঁছে দেবেন। তাতে আগের কম ভাড়াও সমন্বয় হবে। কিন্তু এখানকার (হাসপাতাল আঙিনা) অ্যাম্বুলেন্স মালিক-চালক সিন্ডিকেটের বাধায় সম্ভব হচ্ছে না। এখন আমাকে খালি অ্যাম্বুলেন্স নিয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে। রাস্তায় তো আর রোগী দাঁড়িয়ে থাকে না যে তাকে তুলে নেব।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু পঙ্গু হাসপাতালই নয়, রাজধানীতে নামিদামি সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল কেন্দ্র করেই এমন সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। বাইরে থেকে আসা কোনো অ্যাম্বুলেন্স ফিরতি ট্রিপে হাসপাতালের রোগী নিতে দেন না ঢাকার চালকরা। এমনকি হাসপাতাল আঙিনায় দাঁড়াতেও দেন না। নিজেদের অ্যাম্বুলেন্সে যেতে রোগীদের বাধ্য করেন। ইচ্ছামতো ভাড়া নেন। বাইরে থেকে আসা কোনো অ্যাম্বুলেন্স রোগী নিতে চাইলে অন্য পরিবহনে হাসপাতাল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে গিয়ে লুকিয়ে উঠতে হয়। ঢাকা মেডিকেল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল, মিটফোর্ড, মুগদা মেডিকেলসহ একাধিক হাসপাতাল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

চালক-মালিকদের কথা:

রাজধানীকেন্দ্রিক অ্যাম্বুলেন্সচালকরা বলছেন আবার ভিন্নকথা। তারা জানান, বর্তমানে এক লিটার অকটেন ১২৫, প্রতি লিটার ডিজেল ১২০, সিএনজি ৪৩, এলপিজি ৬৫ এবং ৫ লিটার মবিল ২৪০০ থেকে ৩৪০০ টাকা। এক জোড়া নতুন চাকার দাম ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। চাকা মেরামত, এয়ার, মোবিল, এসি, অক্সিজেন ফিল্টারসহ আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ মাসে ২০ হাজার। এর বাইরে চালক-সহকারীর থাকাখাওয়া, মাসিক বেতন ও ওভারটাইম দিতে হয়। ফলে বাইরের অ্যাম্বুলেন্সকে হাসপাতালের রোগী নিতে দেওয়া না।

অন্যদিকে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্সচালকরা অভিযোগ করেন, ঢাকায় রোগী নিয়ে এলেও খালি হাতে ফিরতে হয়। অ্যাম্বুলেন্সে রোগী না থাকলেও সড়ক-মহাসড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, টানেল ও এক্সপ্রেসওয়েতে টোল (পথশুল্ক) দিতে হয়। ফলে তারা চাইলেও ভাড়ার অঙ্ক কমাতে পারেন না। দিনশেষে রোগীদের পকেট থেকেই এই টাকা যায়। বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিআরটিএ-এর নিবন্ধনভুক্ত অ্যাম্বুলেন্স ৮ হাজারের মতো। এর মধ্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে আছে প্রায় ২ হাজার। ঢাকা মহানগরীতে আছে আড়াই হাজার।

অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস খসড়া নীতিমালা-২০২৩ অনুযায়ী কোম্পানির মাধ্যমে ব্যাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত অ্যাম্বুলেন্সে মহানগরীর মধ্যে প্রথম দুই কিলোমিটারের ভাড়া সর্বোচ্চ ৬০০ টাকার কথা উল্লেখ আছে। মহানগরীর বাইরে প্রথম দুই কিলোমিটারে ভাড়া সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা। পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ৬০ টাকা। কিন্তু এই খসরা নীতিমালার কথা কেউ মানছে না।

ঢাকা মহানগর অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, বাইরের অ্যাম্বুলেন্স যেমন ঢাকার হাসপাতালে রোগী আনবে, তেমনিভাবে হাসপাতাল থেকে রোগী পরিবহনেরও অধিকার রাখে। কিন্তু একটি সিন্ডিকেটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া উচিত। দেশে প্রয়োজনের দশভাগের একভাগ অ্যাম্বুলেন্স আছে জানিয়ে তিনি বলেন, যেগুলো আছে সেগুলোর অর্ধেকই অকেজো বা অন্য কাজে ব্যবহার হচ্ছে। সিন্ডিকেট যার সুযোগ নিচ্ছে। তাই রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্মত ও আইসিইউ সংবলিত অ্যাম্বুলেন্স বাড়ানো দরকার। অ্যাম্বুলেন্সে টোল ফ্রি করা, বিএআরটিএ কর্তৃক আট সিট অনুমোদন এবং অকটেন, সিএনজির দাম কমানো জরুরি। তাতে ভাড়ার অঙ্ক কমবে।

ঢাকা মহানগর অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমবায় সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. লিটন মিয়া বলেন, ঢাকার অ্যাম্বুলেন্স জেলা-উপজেলায় গেলে স্থানীয় চালকদের বাধায় ফিরতি ট্রিপে রোগী আনতে পারে না। ফলে ঢাকার চালকদের একটি অংশ বাইরের চালকদের বাধা দেয়। আমাদের কমিটির মেয়াদে অনেকবার বিষয়টা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। এর আগে অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা ধর্মঘটে যায়। ওই সময় বিআরটিএ, ঢাকা মেট্রোপলিটন (ট্রাফিক), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিসসংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নীতিমালা-২০২৩ খসড়া তৈরি হলেও গেজেট হয়নি। খসড়ায় নির্ধারিত ভাড়ায় রোগী পরিবহণ নিশ্চিতের কথা বলা আছে।

চক্রের দৌরাত্ম্য: সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের সামনে সক্রিয় দালালরা নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স নিতে বাধ্য করে। তারা বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক বা হাসপাতালের সাথে কমিশন বাণিজ্যে জড়িত।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়: নির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় চালকরা মনগড়া ভাড়া আদায় করে। বিশেষ করে আইসিইউ বা লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া রোগীদের নাগালের বাইরে থাকে।

নিম্নমানের সেবা: অনেক অ্যাম্বুলেন্সে জীবন রক্ষাকারী পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষিত কর্মী থাকে না।

কৃত্রিম সংকট তৈরি: প্রায়ই রোগীকে সময়মতো অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের সময় দেরি করিয়ে দিয়ে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এই চক্রের মূল কারসাজি: নির্ধারিত ভাড়ার হারের তোয়াক্কা না করে মনগড়া ও কয়েকগুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হয়। অনেক সময় চিকিৎসার খরচের বড় একটি অংশই চলে যায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ায়।

বাইরের অ্যাম্বুলেন্সে নিষেধাজ্ঞা: হাসপাতাল চত্বরে অন্য কোনো জেলার বা বাইরের সাশ্রয়ী অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে দেওয়া হয় না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে কোনো অ্যাম্বুলেন্স আনলে সিন্ডিকেটের সদস্যরা রোগী ও চালককে লাঞ্ছিত বা মারধর পর্যন্ত করে।

কর্মচারী ও দালালদের যোগসাজশ: হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মচারী ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে এই চক্রটি পরিচালিত হয়। এমনকি মর্গ থেকে মরদেহ ছাড়ানোর ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়।

ফিটনেসবিহীন গাড়ি: অনেক সময় সাধারণ মাইক্রোবাস বা পুরোনো গাড়ি মেরামত করে ‘অ্যাম্বুলেন্স’ স্টিকার লাগিয়ে রাস্তায় নামানো হয়, যা যাত্রাপথে প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ে।

কমিশন বাণিজ্য: প্রতিটি অপারেশন বা রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার বিনিময়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলো থেকে দালালরা খরচ বাবদ ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন পায়।

অশুভ আঁতাত: নেপথ্যে কারা: অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। দালালরা একা এই অপকর্ম করতে পারে না। তাদের পেছনে রয়েছে এক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। হাসপাতালের ভেতরেই অসাধু কর্মচারী, ওয়ার্ড বয়, এমনকি কিছু নিরাপত্তা কর্মী বা আনসার সদস্যের সঙ্গে তাদের সখ্যতা ওপেন সিক্রেট। অনেক ক্ষেত্রে সরকারি ট্রলি বা হুইলচেয়ারকে নিজেদের সম্পদ বানিয়ে এই চক্রটি রোগীকে সেবা দেওয়ার নামে উৎকোচ আদায় করে। ঢাকার শ্যামলী, মহাখালী বা মিরপুরের মতো এলাকাগুলো যেন এই দালালদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান অ্যাম্বুলেন্স। যেটি সরকারি এবং বেসরকারিভাবে রয়েছে। দুঃখজনক হলো, সরকারি-বেসরকারি চালক ও মালিকদের মধ্যে সমন্বয় নেই। সরকারের উচিত সামর্থ্য অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল ও জায়গায় অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা রাখা। যাতে রোগীরা সহজে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতাল বা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারে। এছাড়া বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সুষ্ঠু নীতিমাল করতে হবে। দেশের মানুষের সেবা দেওয়ার জন্য কী পরিমাণ অ্যাম্বুলেন্স দরকার, তার বেজলাইন সার্ভে করতে হবে। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা বৃদ্ধি ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। না হলে রোগীদের সরকারি-বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের কাছে জিম্মি থাকতে হবে।

অভিযানের সীমাবদ্ধতা ও আইনের ফাঁকফোকর: র‍্যাব ও পুলিশের নিয়মিত অভিযানে নিয়মিত দালাল আটক হলেও, অবস্থার তেমন পরিবর্তন হচ্ছে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের স্বল্পমেয়াদি দণ্ড বা জরিমানা কোনোভাবেই যেন তাদের নিবৃত্ত করতে পারছে না। জেল থেকে বের হয়েই তারা পুনরায় একই পেশায় ফিরে আসছে। আইনের এই সীমাবদ্ধতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দালালদের মনে ভয়ের পরিবর্তে তৈরি হয়েছে এক ধরণের স্পর্ধা।

রাজধানীর ৩ হাসপাতালে র‍্যাবের অভিযান, দালাল চক্রের ১১ সদস্য আটক: রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল, হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে দালালদের তৎপরতা বন্ধ, রোগীদের হয়রানি রোধ এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে অভিযান চালিয়েছে র‍্যাব-২। গত ২৯ জুন এই তিন হাসপাতালে অভিযানে দালাল চক্রের ১১ সদস্যকে আটক করা হয়। এর আগে ঢাকা মেডিকেল ও বক্ষব্যাধি হাসপাতালে সাঁড়াশি অভিযানে একসাথে ৪৯ দালাল আটক হয়।

র‌্যাব বলছে, গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সহজ-সরল রোগী ও তাদের স্বজনদের দীর্ঘদিন ধরে টার্গেট করে আসছিল দালাল চক্র। তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিলো সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল।

র‍্যাব-২ উপঅধিনায়ক নিফাজ রহমান জানান, এই তিন প্রতিষ্ঠান থেকে রোগী ভাগিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়ে কমিশনভিত্তিক বাণিজ্য করে আসছিল চক্রটি। শুধু তাই নয়, রোগী ও তাদের স্বজনদের বিভ্রান্ত করে হাতিয়ে নিতো মোটা অঙ্কের অর্থ।

শুধু দালাল চক্র নয়, রোগীদের ভাগিয়ে যেসব ভুঁইফোড় ক্লিনিক ও হাসপাতালে পাঠানো হয়, সেগুলোর বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়েছেন অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজীদ আহমদ।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নন্দদুলাল সাহা জানান, হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধেও নেওয়া হবে আইনানুগ ব্যবস্থা।

সমাধানের পথরেখা: নির্দেশনার বাইরেও যা প্রয়োজন: স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ গত ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে দালাল নির্মূলে ৭ দফা নির্দেশনা জারি করেছে। এর মধ্যে হুইলচেয়ার ও ট্রলি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ইউনিফর্মধারী কর্মী ছাড়া অন্যদের হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ করার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু নির্দেশনার কালিতেই কি এই সমস্যার সমাধান সম্ভব? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সমস্যার মূল উৎপাটনে প্রয়োজন কাঠামোগত পরিবর্তন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য মূলত ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, জনবল সংকট এবং সুশাসনের অভাবের লক্ষণ।

তাদের মতে, দালাল চক্র নির্মূল করতে কেবল অভিযান বা ধরপাকড় যথেষ্ট নয়; এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগ এবং রোগীদের কাউন্সেলিংয়ের ওপর জোর দিতে হবে। সরকার, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অভিশাপের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। এটি কেবল একজন মন্ত্রী বা একজন ম্যাজিস্ট্রেটের কাজ নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলনের দাবি রাখে। দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল হোক দালালমুক্ত, প্রতিটি দরিদ্র রোগী পাক তার প্রাপ্য স্বাস্থ্যসেবা—এটিই আমাদের আগামীর বাংলাদেশের প্রত্যাশা।


জন্মের পরই শিশুর নামে হবে আইডি, মৃত্যু পর্যন্ত মিলবে সব সেবা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

একটি শিশু জন্ম নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার নামে তৈরি হবে একটি ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি’ নম্বর। ওই একটি মাত্র আইডির আওতায় জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একজন নাগরিকের সব ধরনের সরকারি তথ্য ও সেবা থাকবে। ফলে আলাদা আলাদা আইডি ব্যবহার বা বিভিন্ন দপ্তরে বারবার তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের চিন্তার ফসল ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগের আওতায় এটি বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তারা।

সরকারের পরিকল্পনায় থাকা এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নাগরিকদের জন্য একটি সিঙ্গেল ইউনিফায়েড আইডি চালু করা, যার মাধ্যমে ডিজিটাল ও ফিজিক্যাল উভয় ধরনের সরকারি সেবা সহজে ও ভোগান্তিহীনভাবে গ্রহণ করা যাবে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার এমন একটি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, যেখানে একজন মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব তথ্য একটি নির্দিষ্ট ডিজিটাল আইডির অধীনে থাকবে, যা দিয়ে সব ধরনের সরকারি সুবিধা ভোগ করা যাবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বর্তমানে ড্রাফট বা ধারণাপত্র (কনসেপ্ট পেপার) পর্যায়ে রয়েছে। ধারণাপত্র অনুমোদনের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রকল্পের ধারণাপত্র তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রধান ও আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ওয়ান আইডি, ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ উদ্যোগটি এখন প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। একটি কনসেপ্ট পেপার তৈরি হয়েছে এবং এটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

তিনি বলেন, জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি, পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য তথ্যসহ সবকিছুকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একজন নাগরিক একটিমাত্র আইডির মাধ্যমেই সব ধরনের সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

আইসিটি বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগের জন্য তৈরি কনসেপ্ট পেপার অনুমোদন হলে, সে অনুযায়ী বাস্তবায়ন শুরু হবে। বর্তমানে এটি ড্রাফট স্টেজে রয়েছে।

তিনি বলেন, জুলাই থেকে প্রকল্পের কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রকল্প অনুমোদন, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই বাস্তবায়নের মূল কাজ শুরু হবে।

তার ভাষ্য, কনসেপ্ট পেপারে আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পটির রোলআউট শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এটি আরও দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।

জন্মের পরই তৈরি হবে ডিজিটাল আইডি: পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসপাতালে কোনো শিশুর জন্ম হলে তার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থায় যুক্ত হবে। বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে নবজাতকের জন্য একটি স্থায়ী ডিজিটাল আইডি তৈরি হবে। আর যদি কোনো শিশু বাসায় জন্ম নেয় তার জন্য আইডি তৈরির আলাদা ব্যবস্থা থাকবে। পরে ওই একটিমাত্র আইডিই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্টসহ সব ধরনের সরকারি সেবার জন্য ব্যবহৃত হবে।

এক প্ল্যাটফর্মে সব তথ্য: প্রকল্পের আওতায় জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য তথ্য, শিক্ষা, ভূমি সেবা, বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি ডাটাবেজকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন, বিটিআরসি এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

কনসেন্ট ছাড়া তথ্য শেয়ার হবে না: প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে থাকলেও নাগরিকের অনুমতি (কনসেন্ট) ছাড়া কোনো তথ্য অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেয়ার করা হবে না। এটি ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন (পার্সোনাল ডেটা প্রটেকশন অ্যাক্ট) এবং জাতীয় ডেটা গভর্নেন্স আইনের নীতিমালা অনুসরণ করে বাস্তবায়ন করা হবে। উদাহরণ হিসেবে তারা বলেন, কোথাও শুধু বয়স যাচাই প্রয়োজন হলে পুরো ব্যক্তিগত তথ্য নয়, নাগরিকের সম্মতির ভিত্তিতে শুধু বয়স সংক্রান্ত তথ্যই শেয়ার করা যাবে।

থাকবে ডিজিটাল আইডি ওয়ালেট: পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি স্মার্টফোনভিত্তিক ডিজিটাল ওয়ালেট থাকবে। এই ওয়ালেটে ব্যক্তির পরিচয়পত্র, প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল ও সরকারি ডকুমেন্ট সংরক্ষিত থাকবে। সরকারি বিভিন্ন ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনে লগইন, পরিচয় যাচাই কিংবা প্রয়োজন হলে ফিজিক্যাল আইডির বিকল্প হিসেবেও এটি ব্যবহার করা যাবে। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি আপাতত পেমেন্ট ওয়ালেট নয়, বরং আইডি ও ডকুমেন্ট ওয়ালেট হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) বা আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হবে।

এস্তোনিয়া ও সিঙ্গাপুরের মডেল অনুসরণ: সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্পটির নিরাপত্তা কাঠামো নিয়েও কাজ চলছে। এস্তোনিয়া ও সিঙ্গাপুরের ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি মডেল পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী কাঠামো তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

ডি-স্টার প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন: সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উদ্যোগটি আপাতত ‘ডি-স্টার’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাক্সেস অ্যান্ড রিজিলিয়ান্স (ডি-স্টার, D-STAR) বিশ্বব্যাংক সমর্থিত একটি প্রকল্প, যার আওতায় দেশের সরকারি ডিজিটাল সেবাগুলো আধুনিকায়নের কাজ চলছে।

তারা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একজন নাগরিকের সব সরকারি পরিচয়, সনদ ও ডিজিটাল সেবাকে একটি একক ডিজিটাল পরিচয়ের আওতায় আনা সম্ভব হবে। ফলে সরকারি সেবা গ্রহণ হবে আরও সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত।

প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ সম্প্রতি জানিয়েছেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে সংযোগ (কানেক্টিভিটি), ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই), ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ইলেকট্রনিকস উৎপাদন শিল্প– এই চারটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেছেন, আগামী মাস থেকেই দেশের প্রথম ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হবে। এর আওতায় ‘এক নাগরিক, এক ডিজিটাল আইডি, এক ডিজিটাল ওয়ালেট’ কাঠামো গড়ে তোলা হবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রত্যেক নাগরিক একটি ডিজিটাল পরিচয় পাবেন এবং ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে সরাসরি ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।


নতুন ভোটার হওয়ার সময় বাড়াল ইসি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন ভোটার হওয়ার সময়সীমা বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগে নতুন ভোটার হওয়ার শেষ সময় ছিল ৩০ জুন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ সময়সীমা বাড়িয়ে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত করা হয়েছে। চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন—স্থানীয় সরকারের এই চার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের জন্য আলাদা চারটি রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছে নির্বাচন কমিশন।

চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই এসব রোডম্যাপ চূড়ান্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

নির্বাচন কমিশনার জানান, ইসির কর্মকর্তারা একটি সুনির্দিষ্ট চার্ট বা রোডম্যাপ প্রস্তুত করেছেন। সেখানে কোন কাজ কখন সম্পন্ন করতে হবে, তা উল্লেখ রয়েছে। কোন সময় পর্যন্ত ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা যাবে, সেটিও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

৩১ জুলাই পর্যন্ত যারা নতুন ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন, তাদের সবাইকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যুক্ত করা হবে। এর ফলে তারা আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নতুন ভোটার হওয়ার সময়সীমা আগে ৩০ জুন পর্যন্ত ছিল। সেটি বাড়িয়ে ৩১ জুলাই পর্যন্ত করা হয়েছে। যদি অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়, তাহলে সময়সীমা কিছুটা বাড়াতে কোনো অসুবিধা নেই। বর্ধিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকার ভিত্তিতে প্রয়োজন হলে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যাও বাড়াতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।


ঢাবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফ্রান্সের শুভেচ্ছা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে ঢাকার ফ্রান্স দূতাবাস। শুক্রবার (৩ জুলাই) দূতাবাসের এক বার্তায় উল্লেখ করা হয়, এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

এ প্রতিষ্ঠান প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষার্থী গড়ে তুলেছে এবং বাংলাদেশের শিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

এ উপলক্ষে ১৯৭৩ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ সফরকালে ফরাসি লেখক এবং ফ্রান্সের প্রথম সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আন্দ্রে মালরোর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফরের কথাও স্মরণ করা হচ্ছে।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের একজন দৃঢ় আন্তর্জাতিক সমর্থক হিসেবে মালরোর সেই সফর আজও ফ্রান্স ও বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতীক হয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সহযোগিতাকে ফ্রান্স অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং দুই দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে।


banner close