আজ ১৭ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সুদীর্ঘ ইতিহাসের এক চিরভাস্বর অবিস্মরণীয় দিন।
১৯৭১ সালের এই দিনে কুষ্টিয়া জেলার তদানীন্তন মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন-সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। এ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রণীত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। এ দিন থেকে স্থানটি মুজিবনগর নামে পরিচিতি লাভ করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনা ও স্বদেশ ভূমি থেকে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ও নির্দেশিত পথে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়।
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার স্বাধীনতা সূর্য অস্ত যায়। এর ২১৪ বছর পর ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুজিবনগর আম্রকাননে স্বগর্বে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূর্য। এর পর ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অনেক ত্যাগের বিনিময়ে ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ লাভ করে। এরপর সাক্ষী হিসেবে স্বাধীন বাংলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ধরে রাখতে গড়ে তোলা হয় মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে দেশবাসীকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত উন্নত-সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গঠনে নিজ নিজ অবস্থান থেকে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদ্যাপনের মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারবে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক ‘মুজিবনগর দিবস’, বাঙালি জাতির পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন।
তিনি বলেন, ‘আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। কৃতজ্ঞ চিত্তে স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতা-শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম, শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ, শহীদ মোহাম্মদ মনসুর আলী এবং শহীদ আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামানকে। শ্রদ্ধা জানাই মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ অকুতোভয় বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি এবং ২ লাখ সম্ভ্রমহারা নির্যাতিত মা-বোনদের প্রতি।’
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর তৎকালীন পাকিস্তানের শাসকচক্র নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বেআইনিভাবে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ন্যায়-নীতিবহির্ভূত এবং গণহত্যা শুরু করলে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওয়্যারলেসের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১০ এপ্রিল মেহেরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকার মুক্তাঞ্চলে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এক বিশেষ অধিবেশনে মিলিত হন এবং স্বাধীন-সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করেন। এই অধিবেশনে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুমোদন ও বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকারী উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এবং এ এইচ এম কামারুজাজামানকে স্বরাষ্ট্র এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়ে গঠিত হয় বাংলাদেশ সরকার। মেহেরপুর হয়ে ওঠে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাজধানী। মুজিবনগর সরকারের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান বিমান বাহিনী বোমাবর্ষণ ও আক্রমণ চালিয়ে মেহেরপুর দখল করে। ফলে সরকারের প্রতিনিধিরা ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় এবং সেখান থেকে কার্যক্রম চালাতে থাকে। দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
নবজাত রাষ্ট্রের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জনগণকে তাদের বীরত্ব, সাহসিকতা ও বিপ্লবী কার্যক্রমের মাধ্যমে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বাধীনতা লাভের লক্ষ্যে অদম্য স্পৃহায় মরণপণ যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত সৃষ্টি ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার পরিচালনায় নবগঠিত এই সরকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এই সরকারের যোগ্য নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনায় মুক্তিযুদ্ধ দ্রুততম সময়ে সফল সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যায়। এই সরকার গঠনের ফলে বিশ্ববাসী স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামরত বাঙালিদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেন। অবশেষে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকারের গুরুত্ব ও অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে,
এই ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত দিনটিকে বরাবরের ন্যায় স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী সবার সঙ্গে একত্রিত হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো যথাযথ মর্যাদা এবং গুরুত্বের সঙ্গে স্মরণ ও পালন করবে।
কর্মসূচির মধ্য রয়েছে ভোর ৬টায় বঙ্গবন্ধু ভবন, কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং সারা দেশে সংগঠনের সকল কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল ৭টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে রক্ষিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন।
এদিকে মুজিবনগরের কর্মসূচির মধ্য রয়েছে ভোর ৬টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল সাড়ে ৯টায় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে গার্ড অব অনার। সকাল ১০টায় শেখ হাসিনা মঞ্চে মুজিবনগর দিবসের জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন রিমি এমপি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল-আলম হানিফ এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন এমপি, অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি। জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি। সঞ্চালনা করবেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক। এ ছাড়া বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা জাকিয়া নূর লিপি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আমিরুল আলম মিলন, পারভীন জামান কল্পনা এমপি, অ্যাডভোকেট গ্লোরিয়া সরকার ঝর্ণা, নির্মল কুমার চ্যাটার্জি, মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি, সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক এবং মেহেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবু সালেহ মোহাম্মদ নাজমুল হক।
দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক বিবৃতিতে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ঘোষিত কর্মসূচি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য সংগঠনের সকল স্তরের নেতা-কর্মী এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহসহ সর্বস্তরের জনগণ ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
দেশের স্বাস্থ্য খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ চত্বরে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত লোকজ মেলার উদ্বোধনকালে সাংবাদিকদের তিনি এই তথ্য জানান।
নতুন বছরে জাতিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে কৃষক কার্ড প্রদান শুরু হয়েছে এবং আগামী জুন মাসের মধ্যে দেশের সকল নাগরিককে হেলথ কার্ড দেওয়া হবে। এছাড়া বর্তমান সরকারের গৃহীত কৃষিঋণ মওকুফ, দুস্থদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ, টিআর-কাবিখা ও খাল খননসহ বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্যোগের কথাও তিনি এই সময় উল্লেখ করেন।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকারের বিশেষ পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই ৩০টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনগুলোতে হামের ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম চলছে। আগামী ২০ তারিখ থেকে সারাদেশে একযোগে শিশুদের হামের টিকা ও ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে মনোহরদী উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয় যা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এই আয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। মেলা উদ্বোধন শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পহেলা বৈশাখের উৎসবে ধর্ম, বর্ণ বা কোনো প্রকার বিভেদের স্থান নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখ মূলত আনন্দের উৎসব এবং এই আনন্দের মাঝে কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। এটি কেবল তাত্ত্বিক সমাজ বিশ্লেষণের বিষয় নয়, বরং এটি বাঙালির হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক চেতনার একটি অনন্য মিলনমেলা।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে একটি সম্ভাবনাময় বছর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার আগামী বছরজুড়ে বাংলাদেশের কৃষি-নির্ভর অর্থনীতির উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। তিনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানান, হিজরি ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সমন্বয়ে বাংলা নববর্ষ প্রবর্তনের মূল উদ্দেশ্যই ছিল বাংলার কৃষি ও কৃষকের অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করা।
বর্তমান সরকারের কৃষকবান্ধব নীতির উদাহরণ দিয়ে তিনি আরও জানান যে, প্রধানমন্ত্রী এবার টাঙ্গাইলে সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে নববর্ষ উদযাপন করছেন এবং সেখানে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করেছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদও তাদের বক্তব্য প্রদান করেন।
মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিটে টাঙ্গাইলের সন্তোষে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছান তিনি। দেশের প্রখ্যাত এই রাজনৈতিক নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তাঁর টাঙ্গাইল সফরের বিশেষ একটি অংশ সম্পন্ন করেন।
মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে মওলানা ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর তিনি মওলানা ভাসানীর রুহের মাগফিরাত কামনায় সুরা ফাতেহা পাঠ করেন এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় আয়োজিত বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।জিয়ারত শেষে উপস্থিতদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মওলানা ভাসানী ছিলেন এদেশের গণমানুষের নেতা।
তাঁর আপসহীন আদর্শ ও অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বর্তমান সরকার তাঁর দেখানো গণমুখী পথ অনুসরণ করেই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।” প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনের যে স্বপ্ন ভাসানী দেখেছিলেন, সেই লক্ষ্যেই আজ টাঙ্গাইল থেকে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে সন্তোষ মাজার এলাকায় কয়েকদিন আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্তোষ এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং মাজার চত্বরে সাধারণ দর্শনার্থীদের চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত রাখা হয়। উল্লেখ্য যে, মওলানা ভাসানীর এই মাজারটি টাঙ্গাইলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থান, যেখানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে আসেন।
নতুন বাংলা বছর ১৪৩৩-এর প্রথম দিনে কৃষকদের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে সদর উপজেলায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
কৃষক কার্ড ও গাছের চারা বিতরণের সময় উপস্থিত কৃষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলেন, ‘উনাদের গাছের চারা দিচ্ছি। কয়েকজনকে জামগাছ দিয়েছি, আমগাছ দিয়েছি। আমি উনাদের বলেছি, এটি বাসার সামনে রোপণ করতে হবে। যারা আম ও জামগাছ পেয়েছেন, আমি তাদের বলেছি, আম, জাম যখন ধরবে আমি খাবো, আমাকে পাঠাবেন।’
তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং চার কোটি পরিবারের কোনো না কোনো সদস্য এই খাতের সঙ্গে জড়িত। ‘আমাদের পরিবারের কেউ না কেউ কৃষির সঙ্গে জড়িত। দেশের চার কোটি পরিবারের কেউ না কেউ কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত। এ দেশের প্রধান পেশাই হলো কৃষি। ২২ হাজার কৃষককে আমরা প্রথম পর্যায়ে কৃষক কার্ডের সুবিধা পৌঁছে দিতে চাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ অন্যতম ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, যেসব কৃষকের ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০ হাজার টাকা কৃষিঋণ ছিল, তা প্রথম সপ্তাহেই মওকুফ করা হয়েছে এবং এতে প্রায় ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে ২২ হাজার কৃষকের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হলেও আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে সরাসরি কৃষির সঙ্গে যুক্ত ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, কৃষিনির্ভর অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা কোল্ডস্টোরেজ স্থাপনে আগ্রহ দেখিয়েছেন, এ বিষয়ে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে সবসময় কৃষকদের সহায়তায় কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও তাদের আস্থার মূল্যায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। স্বাগত বক্তব্য দেন কৃষি সচিব রফিকুল-ই মোহামেদ।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে ১৫ জন কৃষকের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করেন এবং তাদের মাঝে গাছের চারা তুলে দেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন যে, কৃষক কার্ড বিলি করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি কিংবা দুর্নীতির অবকাশ রাখা হয়নি। মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপার আবাইপুরে বিশেষ এই কার্ড বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী গণমাধ্যমকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, রাষ্ট্র পর্যায়ক্রমে সকল ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের এই আধুনিক সুবিধার আওতায় নিয়ে আসবে। তিনি বলেন, “পর্যায়ক্রমে সারাদেশের মাঝারি ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মাঝে এই কৃষক কার্ড বিতরণ করবে সরকার। এখানে রাজনৈতিক বিবেচনার সুযোগ নেই, এমনকি কোনো প্রকার অনিয়মেরও সুযোগ নেই।”
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন যে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রশাসন প্রতিটি নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে সচেষ্ট রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইতিপূর্বে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারা দেশে বড় ধরনের খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সরকার শপথ নেওয়ার পর থেকে নির্বাচনী প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পালন করে যাচ্ছে। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে সরকার। আজ কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করা হলো। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।”
উল্লেখ্য যে, দুপুর দেড়টার দিকে শৈলকুপার কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইল থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। আইনমন্ত্রী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সশরীরে উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে কার্ড তুলে দেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা উপস্থিত ছিলেন। পাইলট প্রকল্পের আওতায় এই প্রথম ধাপে আবাইপুর ইউনিয়নের ১ হাজার ৬৭৯ জন কৃষক-কৃষাণীকে এই বিশেষ সেবার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশ আর ঢাক-ঢোলের সংমিশ্রণে এক উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাজধানীর পল্টন ময়দানে দিনব্যাপী ‘কিউট বৈশাখী ক্রীড়া উৎসব’ আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ দুই দশক পর এমন আড়ম্বরপূর্ণ এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এই উৎসবে গ্রামীণ জনপদের হারিয়ে যাওয়া মোট ১২টি ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা প্রদর্শিত হয়। প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশীয় লোকজ ক্রীড়াকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে আগামীতে এই ধরণের আয়োজনের ব্যাপ্তি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘‘মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সহযোগীদের সমন্বয়ে আগামী বৈশাখ থেকে দেশের প্রতিটি জেলায় এ ধরণের গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসব আয়োজন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য নতুন প্রজন্মের কাছে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোকে পরিচিত করা।’’ প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নারী ক্রীড়াবিদদের বিকাশে সরকারের বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নারী ক্রীড়া সংস্থার জন্য খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ ঘোষণা বা চমক আসতে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘‘নারী ক্রীড়াবিদদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে, যা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে।’’
সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে আমিনুল হক তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। একটি শৃঙ্খলিত সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘‘খেলাধুলা ও উৎসবের মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্মের মদ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে হবে। সমাজের সব বিশৃঙ্খলা দূর করে একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা মননশীলতা, আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গঠন করে এগিয়ে যাব।’’ এই আনন্দঘন আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম এবং এশিয়ান আর্চারি ফেডারেশনের সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দিন চপলসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে কৃষিপ্রধান অর্থনীতির ওপর বর্তমান সরকারের বিশেষ গুরুত্বারোপের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বছরের প্রথম দিনে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন যে, কৃষকদের অনন্য অবদান ও আত্মত্যাগের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই এবারের নববর্ষটি তাদের জন্য নিবেদিত। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “কৃষকদের সম্মান ও অবদানকে স্বীকৃতি দিতে সরকার নতুন বাংলা বছর ১৪৩৩-কে দেশের কৃষক সমাজ ও কৃষি অর্থনীতিকে উৎসর্গ করছে।”
বাংলা নববর্ষের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন যে, এই উৎসবের মূল শেকড় মূলত গ্রামীণ জনপদ ও কৃষিকাজের সঙ্গে মিশে আছে। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি আরও বলেন, “বাংলা নববর্ষের প্রচলন শুরু হয়েছিল কৃষকদের ফসলের হিসাব রাখার সুবিধার্থে। বাংলা নববর্ষ একদিকে যেমন আমাদের বাংলা সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে, তেমনি কৃষি অর্থনীতির প্রতিনিধিত্ব করে।” আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কৃষি খাতকে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। এছাড়া ভবিষ্যৎ উন্নয়নমূলক রূপরেখা তৈরিতে কৃষিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার কৃষিকে অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।”
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ভার্চ্যুয়ালি ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল সফরকালীন এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঝিনাইদহের এই কর্মসূচির সূচনা করেন। শৈলকুপা উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নের কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা এবং জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে অংশগ্রহণ করেন।
পাইলট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের আওতায় আবাইপুর ইউনিয়নের কৃপালপুর ব্লকের মোট ১,৬৭৯ জন নিবন্ধিত কৃষককে এই বিশেষ কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। কৃষি সেবাকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় মেট্রোরেলের বৈদ্যুতিক লাইনে একটি গ্যাস বেলুন আটকে যাওয়ার কারণে ওই অংশে প্রায় ১৫ মিনিট ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে বেলুনটি সরিয়ে নেওয়ার পর আবার স্বাভাবিক হয় মেট্রোরেল চলাচল।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে বেলুন আটকে পড়ার বিষয়টি এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুমে জানানো হয়। এরপর দ্রুত অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
অবশেষে দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে কন্ট্রোল রুমে জানানো হয় যে বেলুনটি অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে।
এর আগে এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুমের ওয়ারলেস অপারেটর জানান, কারওয়ান বাজার এলাকার মেট্রোরেল লাইনের উচ্চ ভোল্টেজ তারে একটি গ্যাস বেলুন উড়ে এসে আটকে যায়। যেহেতু এটি হাই-ভোল্টেজ লাইন, তাই বেলুনটি সরাতে কিছুটা সময় লাগছে। অপসারণ সম্পন্ন হলে আবার মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক হবে।
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে সাত দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলার যাত্রা শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর বাংলা একাডেমি চত্বরে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মেলার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে উৎসবের সূচনা করেন এবং এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মেলাটি আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এবং প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সকল দর্শনার্থীর জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।
এবারের মেলায় মোট ১৬০টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যেখানে দেশীয় কুটির শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের তৈরি বৈচিত্র্যময় পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। যার মধ্যে জামদানি, শতরঞ্জি, নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, চামড়াজাত দ্রব্য এবং বিভিন্ন লোকজ ও কৃষিজাত পণ্যের বিশাল সমাহার রয়েছে। এছাড়া দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, শিশুদের রাইড ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রান্তিক কারুশিল্পী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় কিছু স্টল বিনামূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং মেলায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির জন্য কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের একটি বুথও সক্রিয় রয়েছে।
সত্তরের দশকের শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া বিসিক ও বাংলা একাডেমির এই যৌথ আয়োজন এখন বাঙালির নববর্ষ উদযাপনের একটি অবিচ্ছেদ্য সাংস্কৃতিক অংশে পরিণত হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় সংস্কৃতি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ এবং বাংলা একাডেমির সভাপতি শিক্ষাবিদ আবুল কাসেম ফজলুল হক বক্তব্য রাখেন।
রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। 'মঙ্গল শোভাযাত্রা': ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম দিনকে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে স্বাগত জানিয়েছে ‘বর্ষবরণ পর্ষদ’। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
বাঙালির ঐতিহ্যবাহী নানা মোটিফ, মুখোশ ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে শত শত নারী-পুরুষ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। রঙিন পোশাকে শিশুদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। বাদ্যের তালে নাচ-গানে নতুন বছরকে বরণ করে নেন অংশগ্রহণকারীরা।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এবার প্রথমবারের মতো দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বর্ষবরণ পর্ষদ। ‘জাগাও পথিকে, ও সে ঘুমে অচেতন’—প্রতিপাদ্য নিয়ে সাজানো এ আয়োজনে সন্ধ্যা পর্যন্ত গান, আবৃত্তি, নৃত্য ও মূকাভিনয়সহ নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা রাখা হয়েছে।
পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানসূচি শুরু হয় সকাল ৯টায় সমবেত কণ্ঠে সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে।
জাতীয় সংগীত, ধনধান্য পুষ্প ভরা এবং এসো হে বৈশাখ—এই তিনটি গান পরিবেশন করা হয়। এরপর সকাল ১০টার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের মীনাবাজারের সামনে থেকে শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। রাপা প্লাজা এলাকা ঘুরে একই সড়কের অন্য প্রান্ত হয়ে আবার অনুষ্ঠানস্থলে ফিরে এসে এটি শেষ হয়। পরে বেলা ১১টা থেকে মীনাবাজার চত্বরে সাংস্কৃতিক আয়োজন শুরু হয়। এতে ব্রতচারী ও ঢালীনৃত্য, মূকাভিনয়, একক আবৃত্তি এবং একক সংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত বিরতির পর আবার শুরু হবে বিকালের পর্ব। এ সময়ে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠনের সমবেত সংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাড়া মুক্তধারা সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র, উদীচী, স্রোত, কথা আবৃত্তি চক্রসহ বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করবেন। একক সংগীতে অংশ নেবেন মকবুল আহমেদ, সুকুমার বিশ্বাস, নারায়ণ চন্দ্র শীল, পীযূষ বড়ুয়া, মনিরা রওনক বুবলি, আখি হালদার, শাওন রায়, অরুনিমা আহমেদ প্রথমা ও শিল্পী সাহা।
অন্যদিকে একক আবৃত্তি পরিবেশন করবেন বেলায়েত হোসেন, লায়লা আফরোজ, নায়লা তারান্নুম কাকলি, মো. মাসুদ উজ জামান, শিখা সেনগুপ্তা, অনিকেত রাজেশ, শাহদাত হোসেন নিপু, ইকবাল খোরশেদ, অলক বসু, শাহীদা ফাল্গুনী, মোস্তাফিজুর রহমান মামুন ও মেহেদী হাসান প্রমুখ। এ ছাড়া তক্ষশীলা বিদ্যালয় পরিবেশন করবে ব্রতচারী নৃত্য এবং রঙ্গন আহমেদ উপস্থাপন করবেন মূকাভিনয়। পুরো আয়োজনের সমাপ্তি হবে সরদার হিরক রাজা ও তাঁর সঙ্গীদের বাউলগানের পরিবেশনার মাধ্যমে।
নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় তিনি এই বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সড়কপথে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে পৌঁছানোর কারণে তিনি পূর্বনির্ধারিত মাজার জিয়ারতের সূচি পরিবর্তন করে সরাসরি সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। জানা গেছে, বিকেলে টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে কৃষি মেলার উদ্বোধন শেষে তিনি মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এই প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “বিজয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তার ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়ন করছেন। এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য কৃষকদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা।” কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, এই বিশাল প্রকল্পটি পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে শুরু করে মোট তিনটি ধাপে দেশব্যাপী সফলভাবে কার্যকর করা হবে।
এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা রাষ্ট্রীয়ভাবে নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন, যার মধ্যে রয়েছে সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষি সরঞ্জাম ও সেচ সুবিধা গ্রহণ এবং অত্যন্ত সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের প্রাপ্যতা। এছাড়া কৃষকরা সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা ও ভর্তুকির পাশাপাশি আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ওপর বিশেষ ছাড় পাবেন। ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে তাদের মোবাইলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজারের হালনাগাদ তথ্য পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কার্ডধারী কৃষকরা ফসলের সুরক্ষা ও উন্নত ফলন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সরকারি প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। বিশেষ এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষি বিমা সুবিধা এবং উৎপাদিত ফসল সরাসরি ন্যায্যমূল্যে বিক্রির অধিকারও সুনিশ্চিত করা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রার বর্ণিল রূপ উপভোগ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকরা। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকেই রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণে বিদেশি অতিথিদের পদচারণা ও উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে দেখা যায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন তাদের সহধর্মিণীদের নিয়ে এই আনন্দ মিছিলে সশরীরে অংশ নেন।
ভারত, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন মিশনের কূটনীতিকরাও এই সাংস্কৃতিক উৎসবে শামিল হয়ে নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অনেক কূটনীতিককে বৈশাখী এই বিশেষ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ও সেলফি তুলতে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি গণমাধ্যমকে অবহিত করেন যে, বিদেশি অতিথিরা সস্ত্রীক উপস্থিত থেকে পুরো আয়োজনটি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে উপভোগ করেছেন। আগত অতিথিদের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক তৎপর ছিল।
এবারের শোভাযাত্রাটি সকাল ৯টার পর “নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান” প্রতিপাদ্য নিয়ে চারুকলা অনুষদের সম্মুখভাগ থেকে শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি শাহবাগ, রাজু ভাস্কর্য ও দোয়েল চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চারুকলায় ফিরে এসে সমাপ্ত হয়। উল্লেখ্য যে, রমনা বটমূলে ভোরের অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই মূলত বঙ্গাব্দ ১৪৩৩-এর বরণ কার্যক্রমের সূচনা হয়েছিল।