বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

মুজিবনগর দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল, ২০২৪ ১০:৫৮

ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার সকালে তিনি রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। খবর ইউএনবির।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরেকটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার অন্তর্গত মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পরবর্তীতে স্থানটির নাম পরিবর্তন করে মুজিবনগর রাখা হয়। প্রথম সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

তাজউদ্দীন আহমদকে প্রথম প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করা হয়, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানকে মন্ত্রিসভার সদস্য করা হয়। মূল মন্ত্রিসভার সফল নেতৃত্ব সেই বছরের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধকে বিজয়ের দিকে নিয়ে যায়।


নির্বাচিত

বাল্যবিবাহ ও জালিয়াতি রোধে আসছে নতুন ব্যবস্থা, যা বললেন আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিবাহ ও বিচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বন্ধের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও তথ্য জালিয়াতি প্রতিহত করতে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এদিন আইন ও বিচার বিভাগের সঙ্গে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।

আইনমন্ত্রী জানান, নতুন এই কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থাটি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য জাতীয় সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, যার ফলে এক ক্লিকেই যে কারও বৈবাহিক সংক্রান্ত সঠিক তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে। এ উদ্যোগের কার্যকারিতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সার্ভারের সঙ্গে তথ্যব্যবস্থা সংযুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রয়োজনীয় তথ্য সহজেই পাওয়া যাবে। বাল্যবিবাহ রোধ হবে, বহুবিবাহ রোধ হবে, পাশাপাশি জালিয়াতিও রোধ হবে।’ এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভিসা আবেদনের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈবাহিক তথ্যাদি দ্রুত ও নির্ভুলভাবে যাচাইয়েও এই প্ল্যাটফর্ম কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে জানানো হয়, প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১০টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম হিসেবে এই ডিজিটাল নিবন্ধন চালু করা হবে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ের ফলাফল ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে তা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে এ প্রকল্পে ব্র্যাককে অংশীদার করার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, সরকারের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার জন্য নয়, বরং মাঠপর্যায়ে সংস্থাটির দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতেই এ যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ব্র্যাক তাদের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কাজ করছে। গত ৫৫ বছর ধরে প্রায় সারা বাংলাদেশের গ্রাসরুট পর্যায় পর্যন্ত নারীদের বৈবাহিক অবস্থান নিয়ে তারা কাজ করছে। তাদের একটি অভিজ্ঞতা আছে। আমরা তাদের কাছ থেকে আমাদের কাজিদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা সরকারের দুর্বলতার বিষয় নয়। আমরা শুধু তাদের দক্ষতা কাজে লাগাচ্ছি।’


নির্বাচিত

ডিএমপির ক্রাইম বিভাগে নতুন ডিসি পদায়ন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্রাইম বিভাগে নতুন উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাবকে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়।

মঙ্গলবার জারি করা ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাবকে ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। জনস্বার্থে গৃহীত এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্বোধনে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ ব্যবহার না করার নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’সহ কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির পূর্বে সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে যথাক্রমে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এর অধীন সব দপ্তরের দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ প্রেরণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নির্দেশনাটি অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত পরিপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব ও সচিব, সব বিভাগীয় কমিশনার, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তা, সব জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

পরিপত্রে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সচিব ও সচিবদের তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

সরকারের দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে অভিন্ন রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় ও সময় বৃদ্ধি রোধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:২৯
সংসদ প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বারবার বৃদ্ধির প্রবণতা বন্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয় বাড়ার অন্তর্নিহিত কারণগুলো ব্যাখ্যা করেন এবং এসব সংকট নিরসনে সরকারের নেওয়া বহুমুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কালক্ষেপণ ও অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে একক কোনো বিষয় দায়ী নয়। মূলত সঠিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষার দুর্বলতা, ত্রুটিপূর্ণ ব্যয় প্রাক্কলন, জমি অধিগ্রহণ ও সেবা সংযোগ (ইউটিলিটি) স্থানান্তরে বিলম্ব, জটিল ক্রয় প্রক্রিয়া, সময়মতো প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ না দেওয়া, মাঠপর্যায়ে দুর্বল তদারকি এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাবের কারণে এসব জটিলতার সৃষ্টি হয়।

এসব সমস্যা দূর করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে জানানো হয়, নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি অনুমোদনের পরপরই বাস্তবায়ন প্রস্তুতি দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যমান প্রকল্প নির্দেশিকা যুগোপযোগী করার কাজ চলছে। কাজের অগ্রগতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড স্থাপন, নিয়মিত পর্যালোচনা সভা এবং মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি নিশ্চিতের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব প্রকল্প যথাসময়ে শেষ হয়নি, সেগুলোর বিলম্বের কারণ ও অনিয়ম চিহ্নিত করে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে যেগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের নিচে, সেগুলোর প্রায়োগিক উপযোগিতা বিবেচনা করে পুনর্বিন্যাস বা নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াতে ই-জিপি (e-GP) ব্যবস্থার পরিধি সম্প্রসারণ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫ হালনাগাদ করার উদ্যোগ চলমান রয়েছে। সেই সঙ্গে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, সমন্বিত গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলে জোর দিয়ে উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।


নির্বাচিত

হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনায় ২ সেনাসদস্য নিহত, আহত ১

আইএসপিআর লোগো। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই জন সৈনিক নিহত এবং এক কর্মকর্তা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আইএসপিআর।

আইএসপিআর জানায়, আজ চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই জন সৈনিক নিহত এবং এক জন কর্মকর্তা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।

আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ঢাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


নির্বাচিত

পলিথিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে এ নিয়ে যথাযথ দায়িত্ব পালনের নির্দেশনাও দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

আজ বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান।

সভায় পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক) ড. সাইমুম পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ ও পারস্পরিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলামের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের সূচনাপর্বে উভয় প্রতিনিধি পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সামরিক ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এতে উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামরিক কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সমুদ্রসীমার নিরাপত্তার মতো কৌশলগত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।

আলোচনাকালে বাংলাদেশ সরকারের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, "ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গভীর সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।"

ভবিষ্যতেও উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে একযোগে কাজ করে যাওয়ার বিষয়ে নয়াদিল্লির ধারাবাহিক অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন হাইকমিশনার। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব সুসংহত রাখা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় প্রতিবেশী দুই দেশের সমন্বিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করা হয়।


নির্বাচিত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে একগুচ্ছ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ডেঙ্গু সংক্রমণের হার কমাতে তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক বিশেষ কর্মসূচিসহ একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দেশের সব জেলার সিভিল সার্জনদের নিয়ে বৈঠক করে নির্দেশনা দিয়েছেন।

চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষে অথবা অক্টোবর মাসের শুরুতে দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকে সরকার তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১২ সেপ্টেম্বর এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধের ওপর জোর দিয়েছে। সেই থেকে প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান বা বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন করে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করার জন্য সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করেছে।

উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। বেশি রোগীর চাপ সামাল দেওয়ার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠে একটি ‘ফিল্ড হসপিটাল’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এছাড়াও ডেঙ্গুরোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে সারা দেশে প্রায় ৩০০ চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ১০ শতাংশ শয্যায় বিনামূল্যে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা এবং রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোকে ডেঙ্গু ও ডেঙ্গু রোগ সংক্রান্ত পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সহায়তায় ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার সমন্বিত গাইডলাইন হালনাগাদ করা হয়েছে।

একইসাথে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এ বিশেষ কর্মসূচিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গুর কারণে প্রতিদিন মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সকল সিভিল সার্জনকে হাসপাতালের প্রস্তুতি জোরদার রাখতে এবং জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম বাড়াতে জুম মিটিং করে নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া নির্দেশনার বিষয়ে সিভিল সার্জনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার দিতে এবং সক্ষমতা অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা সংখ্যা বাড়াতে তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও সংক্রমণ বিস্তার রোধে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য এবং পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের রোগীদের জন্যও মশারির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্যালাইন, ওষুধ এবং ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিটের কোনো ঘাটতি দেখা দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বাসস’কে জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা সারা দেশের সিভিল সার্জনদের সাথে জুম মিটিং করেছি। ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তি করা এবং হাসপাতালগুলোতে যেখানে সম্ভব ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে শয্যা সংকটের মুখে পড়তে না হয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন মজুত রয়েছে। তবে ঘাটতি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালের নিজস্ব বাজেট থেকে সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।

ঢাকার সিভিল সার্জন ডা. জাকারিয়া মাহমুদ বাসস’কে বলেন, ইতোমধ্যে হাসপাতালগুলোতে স্যালাইন ও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট বিতরণ করা হয়েছে। এসব উপকরণের কোনো ঘাটতি নেই।

তিনি বলেন, বৈঠকে আমাদের সব সময় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো সংকট তৈরি না হয়।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ডেঙ্গুর সম্ভাব্য মহামারি ঠেকাতে এখন থেকেই সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থল ও বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি দেশজুড়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে সিভিল সার্জনদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে এবং স্কুল হেলথ কর্মসূচির আওতায় স্কুলগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের সমন্বয় করা হবে।

চলতি বছরের ২৩ জুন ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে জাতীয় কমিটির প্রথম সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। টাস্কফোর্সের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

টাস্কফোর্সের প্রধান কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে, জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করা এবং মাঠ পর্যায়ের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে জাতীয় কমিটিকে অবহিত করা। বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এই কমিটি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন এবং এ সময়ে ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা (সিডিসি), রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর), এমআইএস ও হাসপাতাল শাখার পরিচালকদের নিয়ে একটি সেল গঠন করা হয়েছে।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডেঙ্গুর সর্বোচ্চ প্রকোপের আশঙ্কা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি মাসের শেষ দিক থেকে আগামী মাসের শুরুর মধ্যে দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ চূড়ান্ত রূপ নিতে পারে বলে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আঁচল ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, "দেশব্যাপী গতকাল থেকেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। আমরা আশঙ্কা করছি চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ এবং অক্টোবরের শুরুর দিকে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।"

রোগের বিস্তার রোধে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সচেতনতা ও সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, "ডেঙ্গু মোকাবিলায় তিন মাসব্যাপী জনসচেতনতামূলক অভিযান শুরু করা হবে। এতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জনসচেতনতা ও লার্ভা ধ্বংসের কার্যক্রম চালাবে।"

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রাণহানি কমিয়ে আনার কৌশল তুলে ধরে ডা. এম এ মুহিত বলেন, "ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের দুটি লক্ষ্য— আক্রান্তের সংখ্যা কমানো এবং মৃত্যুর হার কমানো। এ জন্য ইতোমধ্যে প্রায় তিন হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"

চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও হাসপাতালে জরুরি সামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, "ডেঙ্গুর পিক সময়ে হাসপাতালগুলোতে শয্যা, স্যালাইন ও পরীক্ষার কিটের সংকট এড়াতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বর্তমান রোগীর হার অনুযায়ী পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন মজুত রয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গুর জন্য নির্ধারিত শয্যাও চালু করা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লে প্রয়োজনে অন্যান্য শয্যা পুনর্বিন্যাস করে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে।"

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাতের সার্বিক প্রস্তুতি ও মানবিক দায়িত্বের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, "প্রয়োজন হলে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে এ সময়ে অযৌক্তিকভাবে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ানো যাবে না এবং হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা রাখতে হবে।"


নির্বাচিত

বৈশ্বিক সব সমস্যার সমাধান হয়তো হবে না, তবে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে: খলিলুর রহমান

ড. খলিলুর রহমান
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদভার গ্রহণ করে বাংলাদেশ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এই কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি তাকে সমর্থন জানানো অন্য সকল সদস্যদেশের প্রতিনিধিদেরও আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন সভাপতি বিশ্বসংস্থায় পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনা, সদস্যদেশসমূহের মধ্যে যৌথ সহযোগিতা ও সংলাপের বিস্তার ঘটানো এবং ভবিষ্যতের বহুবিধ সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘকে আরও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলাকে নিজের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেন।

এর আগে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বহুপাক্ষিক কূটনীতি বর্তমানে এমন এক নজিরবিহীন প্রতিকূলতার মুখোমুখি, যা তার দীর্ঘ চার দশকের কর্মজীবনে আগে কখনো দেখা যায়নি। তবে এ সংকটের সমান্তরালে আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ সংস্থাটির জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও নতুন সুযোগের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও আলোচনাকেই তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, সব সংকটের তাৎক্ষণিক কিংবা সহজ সমাধান সম্ভব নয়; কিছু জটিলতায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তবে যেসব ক্ষেত্রে সদস্যদেশগুলোর অভিন্ন স্বার্থ জড়িত, সেসব ক্ষেত্র চিহ্নিত করে সম্মিলিতভাবে সমাধানের পথ অনুসন্ধান অব্যাহত রাখতে হবে। নিজের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সনদ এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর দেওয়া ম্যান্ডেটের প্রতি অবিচল থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো বৈশ্বিক সংকট আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব।

একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘের সার্বিক সংস্কার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, ব্যবসা ও শিল্প খাতের নেতৃত্ব, প্রযুক্তি উদ্ভাবক এবং শিক্ষাবিদদের কার্যক্রমে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। জাতিসংঘ সনদের প্রারম্ভিক বাক্য ‘উই দ্য পিপলস অব দ্য ইউনাইটেড নেশনস’-এর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই প্রতিষ্ঠান কেবল সরকারগুলোর মঞ্চ নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষেরও বিশ্বমঞ্চ। কিন্তু সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের কণ্ঠস্বর যুক্ত করার ক্ষেত্রে এখনো ঘাটতি রয়ে গেছে।

সভাপতি পদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তার ঘোষিত অঙ্গীকার ছিল ‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা’। দায়িত্ব গ্রহণের পর এর সঙ্গে তিনি জাতিসংঘকে ‘ভবিষ্যতের উপযোগী’ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যও যুক্ত করেছেন। তিনি এমন একটি বিশ্বমঞ্চ প্রতিষ্ঠা করতে চান, যার প্রতি সদস্যরাষ্ট্রগুলো পূর্ণ আস্থা ও স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন বজায় রাখতে পারে।

নাগরিকত্বহীন জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ টেনে ড. খলিলুর রহমান স্পষ্ট করেন যে, জাতিসংঘের ‘পিপলস’ ধারণার পরিধিতে বিশ্বের প্রতিটি মানুষই অন্তর্ভুক্ত। অতীতে বাংলাদেশ সরকারের রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের অবর্ণনীয় দুর্দশা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বিগত বছর এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন এবং জাতিসংঘের মহাসচিবের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। রোহিঙ্গাদের প্রধানতম চাওয়া নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং জাতিসংঘে তাদের এই দাবি তুলে ধরার প্রয়াস অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

সাধারণ পরিষদের আসন্ন উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বনেতৃবৃন্দের জন্য অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সমবেত হয়ে আলোচনার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করাই মূল বিষয়। শীর্ষ নেতাদের প্রতি তিনি সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার আহ্বান জানাবেন। বিশ্বনেতাদের বক্তব্য থেকে অভিন্ন বিষয়গুলো চিহ্নিত করে একটি ‘কমন এজেন্ডা’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি অবহিত করেন।

পরবর্তী জাতিসংঘ মহাসচিব পদে কোনো নারী দায়িত্ব পাবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মহাসচিব নির্বাচনের এখতিয়ার সাধারণ পরিষদ সভাপতির একক কর্তৃত্বাধীন নয়, বরং তা সদস্যরাষ্ট্রগুলোর যৌথ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। সনদের বিধানমতে নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশক্রমে সাধারণ পরিষদ এ নিয়োগ চূড়ান্ত করে; ফলে তিনি সনদের বিধিমালার প্রতি সম্পূর্ণরূপে বিশ্বস্ত থাকবেন। পাশাপাশি সদস্যদেশসমূহ ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতায় ড. খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। শপথে তিনি অর্পিত দায়িত্বভার সম্পূর্ণ নিষ্ঠা, বিচক্ষণতা ও বিবেকের সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার করেন। দায়িত্ব পালনে জাতিসংঘের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সংস্থাটির সনদ ও সভাপতির জন্য নির্ধারিত আচরণবিধি অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণের প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে জাতিসংঘের বাইরে কোনো সরকার বা অন্য কোনো উৎস থেকে কোনো ধরনের নির্দেশনা গ্রহণ করবেন না বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

৫ মাসে রেকর্ড পরিমাণ বিদেশি ঋণ পরিশোধ করল সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসে রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ (২.০৪৭ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করেছে সরকার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। বিগত সরকারের নেওয়া বিপুল অঙ্কের বিদেশি ঋণের কারণে বাড়তির চাপের মধ্যেও নিয়মিতভাবে এই দায় পরিশোধ করা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট পাঁচ মাসের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এটিই এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৮৯ কোটি ৭১ লাখ ডলার (প্রায় ২৩ হাজার ৩১০ কোটি টাকা)। ফলে বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ১৫ কোটি ৪ লাখ ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা।

ইআরডির তথ্যমতে, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচ মাসে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৪১ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। এর মধ্যে ঋণের আসল বাবদ ১৩৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ ৬৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার দেওয়া হয়েছে।

ইআরডির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছরে ঋণ পরিশোধের চাপ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে যা ছিল ২৬৭ কোটি ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৩৭ কোটি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ৪০৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪৪৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।

ইআরডি কর্মকর্তারা জানান, আগের দেড় দশকে নেওয়া মেগা প্রকল্পগুলোর ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা অবকাশকাল শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে আসল ও সুদ একসঙ্গে পরিশোধের চাপ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আগের সরকারের নেওয়া অনেক ঋণের নীতিগত ও অর্থনৈতিক যুক্তি সঠিক ছিল না। একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পাওয়ার পরও বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে দেশের আর্থিক গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই বিপুল পরিমাণ দায় সামলে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশি বা বিদেশি যেকোনো ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক কৌশল অবলম্বন করছে। এখন থেকে প্রকল্পের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক রিটার্ন নিশ্চিত করা ছাড়া নতুন কোনো ঋণের দায় নেওয়া হবে না।


নির্বাচিত

ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে কর আদায় নয়: অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের অসুবিধা বা হয়রানি না করে করদাতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করে রাজস্ব আদায়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ব্যবসা পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করে কোনো ধরনের কর আরোপ বা রাজস্ব আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে না। করদাতাদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুষ্ঠু, কার্যকর ও ব্যবসাবান্ধব করব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় সরকার।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যালয়ে এনবিআর ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ভ্যাট রিটার্ন মাসিকের পরিবর্তে এক মাস পরপর দাখিলের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘রাজস্বসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। করদাতাদের অনিষ্পন্ন রাজস্ব মামলা ও বিভিন্ন ইস্যুর দ্রুত সমাধানের বিষয়েও আলোচনা করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘করদাতাদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুষ্ঠু ও কার্যকর করব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।’

জুলাই মাসের রাজস্ব আদায় এবং টানা তিন মাসের ভ্যাট রিটার্ন নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার বিষয়ে জানতে চাইলে আমির খসরু বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ব্যবসা পরিচালনায় কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হবে না। ব্যবসায়ীদের ওপর এমন কোনো কর বা রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়া চাপিয়ে দেওয়া হবে না, যাতে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি অনেকাংশে ব্যবসায়ীদের দেওয়া করের ওপর নির্ভরশীল। তাই ব্যবসায়ীদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং হয়রানিমুক্ত পরিবেশে রাজস্ব আদায় করাই সরকারের উদ্দেশ্য।’

এদিকে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ভ্যাট আদায় ২২ শতাংশ কমে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে প্রশ্নটির সরাসরি কোনো উত্তর দেননি অর্থমন্ত্রী।


নির্বাচিত

সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ কাটছাঁট, বাড়ল নজরদারি

# বাজারে দাম ও চাহিদা বৃদ্ধি # ২৭৮ প্রতিষ্ঠানের কোটা অর্ধেক # রপ্তানিতে ১০ শর্ত
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের দাম ও চাহিদা বাড়ার প্রেক্ষাপটে রপ্তানিতে বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে সরকার। আগে অনুমোদিত রপ্তানি কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে রপ্তানিকারকদের ওপর আরোপ করা হয়েছে ১০টি কঠোর শর্ত। সরকারের লক্ষ্য, একদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, অন্যদিকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সম্ভাব্য মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ২৭৮টি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের জন্য আগে নির্ধারিত সুগন্ধি চালের রপ্তানি পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনার কথা জানানো হয়। সংশোধিত বরাদ্দ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে এবং এর মেয়াদ থাকবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে চলতি বছর দুই দফায় মোট ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। প্রথম দফায় ১৩ মে ২১১টি এবং পরবর্তী সময়ে আরও ৬৭টি প্রতিষ্ঠানকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু অনুমোদিত পরিমাণের তুলনায় প্রকৃত রপ্তানি ছিল খুবই কম। ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মোট ২ হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পেরেছে। অর্থাৎ অনুমোদিত মোট পরিমাণের মাত্র প্রায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ রপ্তানি হয়েছে।

এতে অনুমোদিত কোটা ও প্রকৃত রপ্তানির মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়। যেসব প্রতিষ্ঠান পুরো বরাদ্দ ব্যবহার করতে পারেনি, তাদের অব্যবহৃত অংশ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেয় সরকার। আগস্টে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে প্রকৃত রপ্তানির তথ্য চেয়েছিল, যাতে বাস্তবে কতটা কোটা ব্যবহৃত হয়েছে তা নির্ধারণ করা যায়।

হঠাৎ কেন রপ্তানিতে লাগাম: মূল কারণ দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের দাম বেড়ে যাওয়া। আগস্টে রাজধানীর বাজারে চিনি গুড়া বা চিনি গুঁড়া হিসেবে পরিচিত চিনি গুড়া/চিনিগুড়া চালের দাম দুই সপ্তাহে কেজিপ্রতি ১৯০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩০ টাকায় ওঠার তথ্য পাওয়া যায়। অর্থাৎ অল্প সময়েই দাম বেড়েছিল প্রায় ২১ শতাংশ। একই সময়ে ব্রি ধান-৩৪-এর দামও এক মাসে প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়ে কেজিপ্রতি ১৪০ থেকে ২১০ টাকায় উঠেছিল।

আরও বিস্তৃত সময়ে দেখলে বাজারের চাপটি আরও স্পষ্ট হয়। জুলাই-আগস্ট সময়ে বিভিন্ন সুগন্ধি চালের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১৩০ টাকা থেকে বেড়ে ২৩০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল বলে বাজারসংক্রান্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে।

এই পরিস্থিতিতে সরকার আশঙ্কা করছে, দেশের বাজারে চাহিদা বেশি থাকা অবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সুগন্ধি চাল বিদেশে চলে গেলে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য দাম নিয়ন্ত্রণে রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

আগস্টের বৈঠকেই মিলেছিল সংকেত: সুগন্ধি চালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ২ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে চালের উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বাজার পরিস্থিতি এবং রপ্তানির প্রকৃত চিত্র পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠকে দেখা যায়, অনুমোদন পাওয়ার পরও অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী রপ্তানি করতে পারেনি। কেউ কেউ আবার আংশিক রপ্তানি করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিভিত্তিক প্রকৃত রপ্তানির তথ্য হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এরপর ১৩ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে প্রকৃত চালান বা শিপমেন্টের তথ্য চায়। তখনই মন্ত্রণালয় ইঙ্গিত দেয়, অভ্যন্তরীণ বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় আগের অনুমোদিত কোটা কমানো বা সমন্বয় করা হতে পারে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগও আমলে: আগস্টের বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দেশের বড় কয়েকটি চালকলের কাছে বিপুল পরিমাণ সুগন্ধি চাল মজুদের অভিযোগ তোলা হয়। বাজারে প্রয়োজন অনুযায়ী চাল ছাড়া এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির কারণেই দাম বাড়ছে বলে ব্যবসায়ীদের একাংশ দাবি করে।

তবে সরকারের বর্তমান সিদ্ধান্তে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ বাজারে সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রপ্তানির মাধ্যমে দেশের বাইরে চলে যাওয়া চালের পরিমাণ সীমিত রাখার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় ১০ শর্ত: কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানিতে নজরদারি ও জবাবদিহি বাড়াতে ১০টি শর্ত দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রপ্তানিকারকদের রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭-এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। সংশোধিত অনুমোদনের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। প্রতিটি চালান রপ্তানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চালের মান ও সত্যতা যাচাই করবে। চালান জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে। ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের বরাদ্দের বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে। কোনো রপ্তানিকারক সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল রপ্তানি করতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি সুগন্ধি চালের সর্বনিম্ন এফওবি রপ্তানিমূল্য ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদন অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা যাবে না এবং সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানিও করা যাবে না। জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে। রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে পিআরসি বা প্রসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে।

রপ্তানিকারকদের জন্য বড় পরিবর্তন: নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র রপ্তানিকারক—কেউই আগের অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারবেন না। অর্থাৎ নতুন বরাদ্দই এখন সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে বিবেচিত হবে।

এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রেও আগের বরাদ্দ কতটা বাস্তবে ব্যবহার করা হয়েছে, তার হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ফলে শুধু অনুমোদন নেওয়া নয়, অনুমোদিত পরিমাণের বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানি ও বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনার বিষয়েও রপ্তানিকারকদের জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে।

রপ্তানি নীতিতে পুরোনো অভিজ্ঞতা: বাংলাদেশে সুগন্ধি চাল রপ্তানির ইতিহাস দীর্ঘ হলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম ও সরবরাহের চাপ তৈরি হলে সরকার অতীতেও রপ্তানি সীমিত করেছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে বাংলাদেশ সুগন্ধি চাল রপ্তানি শুরু করে। ২০১৩ সালের অক্টোবরে স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ার পর রপ্তানি স্থগিত করা হয়েছিল। পরে ২০২২ সালেও অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কারণে সুগন্ধি চাল রপ্তানি বন্ধ করা হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার পুরোপুরি রপ্তানি বন্ধ না করে অনুমোদিত কোটা অর্ধেকে নামিয়ে দিয়েছে। এতে একদিকে রপ্তানি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহের ওপর সম্ভাব্য চাপ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

খাদ্য নিরাপত্তা বনাম বৈদেশিক মুদ্রা: সরকারের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ দুটি—একদিকে সুগন্ধি চাল রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, অন্যদিকে দেশের ভোক্তাদের জন্য পর্যাপ্ত সরবরাহ ও সহনীয় দাম নিশ্চিত করা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বর্তমান সিদ্ধান্ত থেকে স্পষ্ট, খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিষয়টিকেই আপাতত বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যখন অনুমোদিত ৪৫ হাজার ২৭০ টনের বিপরীতে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত রপ্তানি হয়েছে মাত্র ২ হাজার ৪১৯ টন, তখন অব্যবহৃত কোটা ধরে রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় তাই কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানির প্রতিটি ধাপে নজরদারি, পণ্যের মান যাচাই, নথিপত্র সংরক্ষণ, রপ্তানি আয়ের প্রত্যাবাসন এবং ভবিষ্যৎ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের কার্যক্রমের হিসাব দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে সরকারের এই পদক্ষেপ শুধু রপ্তানি কমানোর সিদ্ধান্ত নয়; বরং সুগন্ধি চালের বাজারে সরবরাহ, মূল্য, রপ্তানি পরিমাণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন—চারটি বিষয়কে একই কাঠামোর মধ্যে এনে নিয়ন্ত্রণের একটি নতুন ব্যবস্থা। এখন এর কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করবে বাজারে মজুদ থাকা চাল কতটা দ্রুত সরবরাহ করা হচ্ছে এবং রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের সুফল ভোক্তা পর্যায়ে দামের ক্ষেত্রে কতটা প্রতিফলিত হয় তার ওপর।


নির্বাচিত

banner close