বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

বিএনপির বিরুদ্ধে যা মামলা আছে কোনটাই রাজনৈতিক নয়: প্রধানমন্ত্রী

শুক্রবার গণভবনে বাংলাদেশ কৃষক লীগের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মতবিনিময় করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি
আপডেটেড
১৯ এপ্রিল, ২০২৪ ১৮:২৮
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল, ২০২৪ ১৮:২৫

বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত দায়ের করা কোন মামলা রাজনৈতিক নয় বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, অগ্নিসংযোগ, গ্রেনেড হামলা, আগ্নেয়াস্ত্র চোরাচালান ও দুর্নীতির মতো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্তরাই এ সংক্রান্ত মামলার আসামী হয়েছেন।

আজ শুক্রবার সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে বাংলাদেশ কৃষক লীগের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আজকে বিএনপি সব জায়গায় কান্নাকাটি করে বলছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা। তাদের জিজ্ঞেস করতে হবে মামলাগুলো কিসের মামলা? অগ্নিসন্ত্রাস, অস্ত্রপাচার, গ্রেনেড হামলাসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলা। তারা অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেটাই তো বাস্তবতা।’

মামলাগুলো দ্রুত শেষ করে এগুলোর শাস্তি দিয়ে দেওয়া উচিত উল্লেক করে তিনি বলেন, বিএনপি ৩ হাজার ৮০০ গাড়ি পুড়িয়েছে, বাস, লঞ্চ ও রেল পুড়িয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে না তো কি হবে?

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ওদের বিরুদ্ধে কোন মামলাইতো পলিটিক্যাল মামলা না, প্রত্যেকটা মামলা হচ্ছে অগ্নিসন্ত্রাসের মামলা। তারা মানুষ হত্যা করেছে আগুন দিয়ে। নির্বাচন ঠেকাতে যেয়ে তারা রেলে আগুন দিয়ে মা-শিশুকে পুড়িয়ে মেরেছে, যারা এগুলো করলো তাদের বিরুদ্ধে কি মামলা হবে না?

বিএনপির নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কান্নাকাটি করে তারা সব জায়গায় বলছে তাদের এত লক্ষ লোক তাদের গ্রেপ্তার হয়েছে। সারা দেশে যত জেলখানা আছে সেগুলোর একটা ধারণ ক্ষমতা রয়েছে, তারা যত লক্ষ গ্রেপ্তার হয়েছে বলছে জেলখানাগুলোর ততো ধারণক্ষমতা নেই।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘তারা (বিএনপি) যেভাবে বলছে তাদের ৬০ লাখ লোক গ্রেপ্তার হয়েছ, ৬০ লাখ লোক ধারণ করার ক্ষমতাও নাই এসব জেলে। তারপরও যতটুকু ধারণ ক্ষমতা আছে সবই বিএনপির লোক এটাই তো তারা বলতে চাচ্ছে। তার মানে বাংলাদেশে যত অপরাধ সব অপরাধ করে বিএনপি’।

শেখ হাসিনা বলেন, তাদের ভাগ্য ভালো আমরা ক্ষমতায় আছি, আমরা তাদের মতো প্রতিশোধপরায়ণ না, তাই তারা এখনো কথা বলার সুযোগ পায়। তারা সারাদিন কথা বলে মাইক লাগিয়ে, তারপর বলবে কথা বলার সুযোগ পায় না।

বিরোধীদলে থাকার সময়কার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অফিসেতো আমরা ঢুকতেই পারতাম না। কিভাবে তারা অত্যাচার করেছে আমাদের ওপর, আমরা তো তার কিছুই করি নাই। আমরা প্রতিশোধ নিতে ব্যস্ত থাকিনি। আমরা আমাদের সব শক্তি-মেধা কাজে লাগিয়েছি দেশের উন্নয়নে, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাংক অনুসরণ করে সমবায় ভিত্তিক কৃষি নিশ্চিত করে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি দেশের প্রতি ইঞ্চি অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনার মাধ্যমে সার্বিক উৎপাদন বাড়ানোর জন্য তাঁর আহবান পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমবায় ভিত্তিক কৃষি চালু করে জমির আইল দূর করে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি রক্ষা করা যেতে পারে। কৃষিতে গবেষণার পাশাপাশি কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের উদ্যোগে কৃষিখাতের উন্নয়ন এবং খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থানার পদক্ষেপ সমূহের চুম্বকাংশ তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষি উন্নত হয়েছে, কারণ সরকার কৃষিখাতের গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার কৃষি খাতে ২৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে দেশের খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে।

তিনি বলেন, ‘একসময় যারা নুন-ভাত বা ডাল-ভাতের কথা ভাবতেন, তারা এখন মাছ-মাংস-ডিমের কথা ভাবেন। তাই যারা সরকারের সমালোচনা করেন, তাদের বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত যে, বাংলাদেশ উন্নত হয়েছে কি না।’

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানান সংগঠনের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু।


প্রাথমিকের স্থগিত বৃত্তি পরীক্ষা চলতি বছরে নেওয়ার ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইনি জটিলতার কারণে গত বছর স্থগিত হয়ে যাওয়া প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা চলতি বছরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুধবার জুনিয়র ও ইবতেদায়ি স্তরের বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশকালে তিনি জানান, সরকার বছরের মাঝামাঝি সময়ে এই পরীক্ষাটি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এবং আসন্ন পবিত্র কোরবানির ঈদের আগেই প্রশ্নপত্র তৈরির প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এবারের বৃত্তি পরীক্ষার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হচ্ছে এর অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি। গত বছর শুধুমাত্র সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ রেখে নিয়ম করায় তা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল এবং আইনি জটিলতায় পরীক্ষাটি স্থগিত হয়ে যায়। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, একই দেশের নাগরিক হিসেবে সব শিক্ষার্থীর এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সমান অধিকার রয়েছে, তাই এবার কোনো বৈষম্য রাখা হবে না।

বৃত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট অনুপাত নির্ধারণ করেছে সরকার। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ বরাদ্দ থাকবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং বাকি ২০ শতাংশ পাবেন বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থীরা। বৃত্তির আর্থিক সুবিধার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, ট্যালেন্টপুলে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা মাসিক ৩০০ টাকা এবং এককালীন ২২৫ টাকা করে পাবে। অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসিক ২২৫ টাকা এবং এককালীন ২২৫ টাকা হারে অর্থ পাবে। সরকারের পক্ষ থেকে আগামী বছর থেকে বৃত্তির এই অর্থের পরিমাণ আরও বাড়ানোর বিষয়টিও সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, গত বছর বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি স্কুলের জন্য বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রিট করা হয়েছিল। এর ফলে হাইকোর্ট পরীক্ষাটির ওপর স্থগিতাদেশ দেন। এবারের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই আইনি জটিলতার অবসান ঘটবে এবং প্রাথমিক স্তরের সব শিক্ষার্থী নিজেদের মেধা যাচাইয়ের সমান সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, পরীক্ষা আয়োজনে সরকার কঠোর নজরদারি করবে যাতে কোনো ধরনের বৈষম্য বা অনিয়ম না ঘটে।


সরানোর খবরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ত্যাগ করলেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে—এমন গুঞ্জন তীব্র হওয়ার পর তিনি কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ছাড়াই কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যালয় ত্যাগ করেছেন। বুধবার সকালে তিনি তাঁর নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের অংশ হিসেবে কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। তবে দিনের মাঝামাঝি সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর অপসারণ এবং নতুন গভর্নর নিয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়লে তিনি আকস্মিকভাবে অফিস ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় তিনি সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার সঙ্গেই প্রকাশ্যে কোনো কথা বলেননি। তাঁর এই আকস্মিক প্রস্থান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অভ্যন্তরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করেছে।

ব্যাংক থেকে বের হওয়ার সময় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী তাঁকে নতুন গভর্নর নিয়োগ এবং তাঁর পদত্যাগের গুঞ্জন সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। এর জবাবে তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে জানান, "আমি পদত্যাগ করিনি, তবে খবরটি শুনেছি।" এর বাইরে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাঁর এই সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া পরিস্থিতিকে আরও ধোঁয়াশাচ্ছন্ন করে তুলেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, ড. আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মোস্তাকুর রহমান কেবল একজন শিক্ষাবিদই নন, বরং তিনি বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সদস্য এবং হিরা সোয়েটারের মালিক হিসেবেও পরিচিত। তাঁর এই সম্ভাব্য নিয়োগের একটি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে এখন পর্যন্ত সরকারের উচ্চপর্যায় কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই অপসারণ বা নতুন নিয়োগ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি। ফলে দেশের ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ এই পদটি নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ঘনীভূত হয়েছে। সদ্য বিদায়ী বা বর্তমান গভর্নরের ঘনিষ্ঠ মহল থেকেও এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দেশের আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও অর্থনীতিবিদরা এখন সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের দিকে গভীরভাবে নজর রাখছেন, কারণ এই পদের রদবদল দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও মুদ্রানীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।


অব্যাহতি চাইলেন ডিএমপি কমিশনার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন করেছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। আজ বুধবার দুপুরে তিনি অব্যাহতির এই আনুষ্ঠানিক চিঠিটি পুলিশ সদর দপ্তরে প্রেরণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। তাঁর এই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনে চলমান রদবদলের মধ্যেই ঘটল, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, গতকালই পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদে পরিবর্তন এসেছে এবং নতুন আইজিপি হিসেবে আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

শেখ মো. সাজ্জাত আলীর বর্তমান চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের ২১ নভেম্বর। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ৯ মাস আগেই তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়গুলোকে সামনে আনলেও, নতুন সরকার গঠনের পর পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তনের যে গুঞ্জন চলছিল, এটি তারই ধারাবাহিকতা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আইজিপি বাহারুল আলমও পদত্যাগ করেছিলেন।

শেখ মো. সাজ্জাত আলী ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর ডিএমপির ৩৮তম কমিশনার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৯৮৪ ব্যাচের এই কর্মকর্তা তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি চট্টগ্রাম ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি এবং পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবেও কাজ করেছেন। এছাড়া জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনেও তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

বর্তমানে তাঁর পদত্যাগপত্রটি পুলিশ সদর দপ্তরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর তাঁর এই অব্যাহতি কার্যকর হবে। ঢাকা মহানগরীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য হলে সরকার খুব শীঘ্রই নতুন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সাজ্জাত আলীর এই সরে দাঁড়ানোর ফলে ডিএমপির নেতৃত্বে নতুন মুখ আসার পথ প্রশস্ত হলো।


বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান

আপডেটেড ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত মোস্তাকুর রহমান বর্তমান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

এর আগে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দায়িত্ব নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়।

ড. মনসুর তৎকালীন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন।


বাংলাদেশের ডিম-মুরগিতে নিষেধাজ্ঞা দিলো সৌদি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবের খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৪০টি দেশ থেকে ডিম এবং মুরগির মাংস আমদানির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আজ বুধবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। একই সাথে আরও ১৬টি দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের ওপর আংশিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পোল্ট্রি পণ্যের মাধ্যমে রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দেশটি।

সৌদি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, মূলত ‘এভিয়েন ইনফ্লুয়েঞ্জা’ (বার্ড ফ্লু) এবং ‘নিউ ক্যাসল’ রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে এই নিষেধাজ্ঞা মূলত কাঁচা মুরগির মাংস এবং কাঁচা ডিমের ওপর কার্যকর থাকবে। তবে যেসব পোল্ট্রি পণ্য তাপের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে, সেগুলো আমদানিতে কোনো বাধা নেই। আমদানিকারক ও উৎপাদনকারী দেশগুলো যদি অনুমোদিত আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করে, তবে প্রক্রিয়াজাত পণ্যগুলো সৌদি আরবে প্রবেশ করতে পারবে।

নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি রয়েছে ভারত, নেপাল, আফগানিস্তান, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, মিসর, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মিয়ানমারের মতো রাষ্ট্র। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি এবং মালয়েশিয়াসহ ১৬টি দেশের ওপর আংশিক বিধিনিষেধ বলবৎ করা হয়েছে। এসব দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল থেকে পোল্ট্রি পণ্য আমদানিতে বিশেষ নজরদারি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে।

সৌদি আরবের এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পোল্ট্রি বাণিজ্যে বড় ধরণের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রপ্তানিকারকদের এখন আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্য সনদ নিশ্চিত করার বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সৌদি খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে এই নিষেধাজ্ঞাটি অস্থায়ী এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে এটি পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। বিশ্বব্যাপী পোল্ট্রি খাতের নিরাপত্তা ও মান বজায় রাখতে এমন উদ্যোগ অপরিহার্য বলে মনে করছে সৌদি সরকার। সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রতিষেধক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


ওআইসির জরুরি বৈঠকে যোগ দিতে সৌদি আরব গেলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠেয় ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) এক বিশেষ জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। আজ বুধবার ভোরে তারা সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ড. খলিলুর রহমানের এটিই প্রথম বিদেশ সফর। এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরও দুইজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।

মূলত অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক অবৈধ ভূমি দখল এবং সেখানে নতুন করে ইহুদি বসতি স্থাপনের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ওআইসি এই জরুরি সভার ডাক দিয়েছে। বৃহস্পতিবার জেদ্দায় মন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠকে ইসরায়েলি আগ্রাসন মোকাবিলা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় মুসলিম উম্মাহর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ইসরায়েল সরকার পশ্চিম তীরকে নিজেদের সার্বভৌম এলাকা হিসেবে ঘোষণা করার যে বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়েছে, তার তীব্র নিন্দা জানানো ও কার্যকর প্রতিরোধের উপায় খুঁজবে এই সম্মেলন। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা বন্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়ের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশলও এই বৈঠকে নির্ধারিত হওয়ার কথা রয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই সফরের ফাঁকে ওআইসিভুক্ত বেশ কয়েকটি বন্ধুপ্রতিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের বৈদেশিক নীতির গতিপ্রকৃতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক ইস্যু গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই সফরকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন। ওআইসির অধিবেশন এবং নির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শেষে আগামী শনিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের দেশে ফেরার কথা রয়েছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বাংলাদেশের সক্রিয় অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


জঘন্য হত্যাকাণ্ডে দায়ীদের সাজার ব্যবস্থা করা হবে: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দিতেই ৫৭ জন কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে সাজার ব্যবস্থা করা হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনের কলঙ্কময় দিন। বিএনপি সরকার গঠনের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার সুযোগ পেয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শেষে তিনি একথা বলেন। জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষ্যে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০০৯ সালের এই দিনে বিডিআরের চৌকস ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ প্রায় ৭২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হত্যা করা হয়। এই দিনটি আমাদের জাতির জন্যে অত্যন্ত লজ্জার ও কলঙ্কজনক একটি অধ্যায় বলে আমরা মনে করি। বাংলাদেশের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার গভীর চক্রান্ত করা হয়েছিল এই দিনে। একইসঙ্গে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য ঘুরে দাঁড়িয়েছেন দেশের জনগণ।

মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্বকে সুসংহত ও গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার বড় সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। অতীতের মতো দেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য বলে বিশ্বাস করি। একইসঙ্গে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করাও দায়িত্ব।

সবশেষ শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও তাদের পরিবার-পরিজনদের সমবেদনা জানান তিনি।


জয়নুল আবদিন ফারুকের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা আর নেই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের সহধর্মিণী কানিজ ফাতেমা ইন্তেকাল করেছেন। আজ বুধবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৭৩ বছর বয়সী এই নারী। জয়নুল আবদিন ফারুক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি বার্তার মাধ্যমে তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেন। দীর্ঘ কয়েকদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে কানিজ ফাতেমাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেছিলেন চিকিৎসকরা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে থাকলেও আজ সকালে না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। তাঁর এই আকস্মিক প্রস্থানে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মরহুমার শেষ বিদায়ে দুই পর্যায়ে জানাজা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর পরিবার। আজ বাদ জোহর রাজধানীর নিকুঞ্জ-১ এলাকার লেক রোডে ৪৩ নম্বর বাসার সামনে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর মরদেহ নিয়ে স্বজনরা গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর উদ্দেশে যাত্রা করবেন। আগামীকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নোয়াখালীর সেনবাগের ইয়ারপুরস্থ নিজ বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

কানিজ ফাতেমার মৃত্যুতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীসহ তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে শোকের আবহ বিরাজ করছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ। ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ ও পরোপকারী এই নারী দীর্ঘকাল তাঁর স্বামীর রাজনৈতিক জীবনের চড়াই-উতরাইয়ে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন। তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।


আগের তদন্ত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৩৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে গঠিত তদন্ত কমিশনের সুপারিশগুলোই সরকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

আজ বুধবার বনানী কবরস্থানে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পুরো রিপোর্টটি না দেখে এর আগে দেওয়া তার একটি বক্তব্য তিনি সংশোধন করতে চান।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, ২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্তের জন্য সরকার একটি নতুন কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আজ তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন আগে এ (অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া) রিপোর্টটি না পড়েই আমি কিছু কথা বলেছি, যেগুলো আজকে সংশোধন করতে চাই।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আগে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠিত হয়েছে। সেদিন কথা বলার প্রয়োজনে তিনি সেই প্রতিবেদনের ওপর কেবল চোখ বুলিয়েছিলেন।

ওই প্রতিবেদনে প্রায় ৭০ জনের বিষয়ে সুপারিশ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুপারিশের সঙ্গে যুক্ত অনেক বিষয় এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। আমরা এই বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করব। অন্যান্য সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, সরকার শহীদ পরিবার এবং জাতিকে আশ্বস্ত করতে চায় যে, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার হবে এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা হবে। যাতে এই জাতীয় কোনো ঘটনা আমাদেরকে জাতীয় জীবনে আর না দেখতে হয়।

তিনি বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটা চেষ্টা ছিল। এ কাজটা তারাই করতে পারে, যারা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না।’

তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ ব্যাপারে পরে বিস্তারিত জানাবেন।

তবে দলের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তি ও শক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের আমরা তদন্ত দাবি করছি।’

তিনি বলেন, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি দিনটি আমাদের জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার, কলঙ্কজনক একটি অধ্যায় বলে আমরা মনে করি। এই দিনটিকে আমরা সবচেয়ে কলঙ্কজনক এ জন্য মনে করি, এই দিনে চক্রান্ত হয়েছিল, প্রচেষ্টা হয়েছিল বাংলাদেশের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার। চৌকস ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং একইসঙ্গে বাংলাদেশের মনোবল ভেঙে দেওয়ার একটা গভীর চক্রান্ত হয়েছিল।’

‘আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলাদেশের জনগণ তাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং বিগত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আজকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুসংহত ও গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার একটা বড় সুযোগ পেয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।


দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন নবনিযুক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন মো. আলী হোসেন ফকির। আজ বুধবার সকালে তিনি পুলিশ সদরদপ্তরে পৌঁছে তাঁর নতুন পদের কার্যভার বুঝে নেন। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে এই পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত তিনি অতিরিক্ত আইজিপি এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পুলিশ সদরদপ্তর থেকে তাঁর এই দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের এই চৌকস কর্মকর্তার কর্মজীবন অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এবং রাজনৈতিক চড়াই-উতরাইয়ের এক দীর্ঘ চিত্র। বাগেরহাট জেলার এই কৃতি সন্তান তাঁর পেশাদার জীবনে একাধিকবার রাজনৈতিক রোষানলের শিকার হয়েছেন। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি প্রথমবার চাকরিচ্যুত হন। পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর হারানো চাকরি ফিরে পান এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন জেলায় পুলিশ সুপারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ২০০৮ সালে ডিএমপির উত্তরা জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) হিসেবে অত্যন্ত সফল ছিলেন।

জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফেরার পর তিনি আবারও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বিগত সরকারের সময় তাঁকে দীর্ঘদিন গুরুত্বহীন পদে ফেলে রাখা হয় এবং সর্বশেষ ২০২২ সালে তাঁকে রাজশাহী ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন ও পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের প্রশাসনিক সংস্কারের ধারায় তিনি আবারও আইনি প্রক্রিয়ায় চাকরিতে পুনর্বহাল হন। প্রথমে এসপি হিসেবে ফিরলেও মেধার স্বাক্ষর রেখে তিনি ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত আইজিপি পদে উন্নীত হন।

নতুন আইজিপি হিসেবে মো. আলী হোসেন ফকিরের নিয়োগকে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে চেইন অব কমান্ড শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক বৈষম্য দূর করার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পেশাদারিত্ব এবং সাহসিকতার জন্য বাহিনীর ভেতরে তাঁর বিশেষ সুনাম রয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশ বাহিনীকে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ শুরু করবেন বলে জানা গেছে। সদরদপ্তরে দায়িত্ব গ্রহণের সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে অভিবাদন জানান এবং নতুন পুলিশ প্রধানের নেতৃত্বে বাহিনী আরও গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


স্বরাষ্ট্র সচিব হলেন মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পদটি এক সপ্তাহ শূন্য থাকার পর অবশেষে নতুন অভিভাবক পেল মন্ত্রণালয়টি। বিসিএস অষ্টম ব্যাচের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেছে নবনির্বাচিত সরকার। গত মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্বরত নাসিমুল গনি মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়ায় পদটি গত কয়েকদিন ধরে খালি ছিল।

মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর প্রশাসনিক ক্যারিয়ার বেশ বর্ণাঢ্য হলেও তিনি দীর্ঘ সময় পদোন্নতি বঞ্চিত ছিলেন। ২০২৪ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপ-সচিব হিসেবে কর্মরত অবস্থায় তিনি নিয়মিত অবসরে যান। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পদোন্নতিবঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরিতে গঠিত জাকির আহমেদ খান কমিটির সুপারিশে তাঁর ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে। ওই কমিটির বিশেষ সুপারিশের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে তাঁকে সচিব হিসেবে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি প্রদান করেছিল।

বর্তমানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার তাঁর মেধা ও অভিজ্ঞতার প্রতি আস্থা রেখে তাঁকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করল। তাঁর এই নিয়োগের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আসবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অভিজ্ঞ এই কর্মকর্তার নেতৃত্ব বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের যোগ্য আসনে বসানোর যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, মনজুর মোর্শেদের এই নিয়োগ তারই একটি প্রতিফলন। নিয়োগপ্রাপ্তির পর তিনি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক মতবিনিময় করেছেন এবং দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গুরুত্বারোপ করেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।


পিলখানা ট্র্যাজেডিতে শহীদ সেনা সদস্যদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আপডেটেড ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:২৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

পিলখানা সদরদপ্তরে সংগঠিত নৃশংস সেনা হত্যাযজ্ঞের ১৭ বছর পূর্তিতে আজ বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাঁরা এই শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেখানে কিছুক্ষণ নিরবতা পালন করা হয় এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় শোকের এই আবহে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

পিলখানা ট্র্যাজেডি বা জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নাগরিক হিসেবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ঘটনা সবার উপলব্ধিতে থাকা একান্ত জরুরি। বর্তমানের ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এই বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের পেছনের ষড়যন্ত্র এখন জনগণের কাছে স্পষ্ট বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, সেই সময়ে নানামুখী মিথ্যা ও অপতথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির একটি গভীর চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তিনি মনে করেন, সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন দেশের মান-মর্যাদা, বীরত্ব এবং গৌরবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান জানান, ভবিষ্যতে আর কেউ যেন সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে, সেই শপথে দেশবাসীকে নতুন করে বলীয়ান হতে হবে। সশস্ত্র বাহিনীর মনোবল বৃদ্ধি এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। বাণীর শেষ অংশে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থবিরোধী যেকোনো অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সরকার ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াবে। এই শোকাবহ দিনটি আমাদের জাতীয় সংহতি ও দেশপ্রেমের নতুন এক শপথের কথা মনে করিয়ে দেয়।


বায়ুদূষণে বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে ঢাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণের তালিকায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা আবারও শীর্ষ স্থানে উঠে এসেছে। আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, আজ বুধবার সাতসকালেই ঢাকার বাতাস অত্যন্ত দূষিত অবস্থায় রেকর্ড করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে মেগাসিটি ঢাকা এই দূষণের কবলে থাকলেও আজকের স্কোর জনস্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইকিউএয়ারের রিয়েল-টাইম সূচকে দেখা যায়, বুধবার সকালে ঢাকার বায়ুমানের স্কোর ছিল ২৯৪, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বায়ুদূষণের তীব্র প্রতিযোগিতা আজ স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। ঢাকার পরপরই ২৪৪ স্কোর নিয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লি বৈশ্বিক তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া ২২০-এর বেশি স্কোর নিয়ে পাকিস্তানের লাহোর তৃতীয় এবং ১৮০ স্কোর নিয়ে করাচি চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। তালিকার পঞ্চম স্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরের বায়ুমানের স্কোর ছিল ১৭৩। ঢাকা ও দিল্লির মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা জনজীবনের ওপর মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

বায়ুমান সূচক বা একিউআই (AQI) অনুযায়ী, বাতাসের মানের বিভিন্ন স্তর নির্ধারণ করা হয়। সাধারণত স্কোর শূন্য থেকে ৫০ থাকলে সেই বাতাসকে ‘ভালো’ বলা হয়। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকা বাতাসকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ঢাকার বর্তমান স্কোর ৩০০ এর ঠিক নিচে অবস্থান করায় তা নগরবাসীর জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগীদের জন্য এই বিষাক্ত বাতাস অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে নিয়ন্ত্রণহীন নির্মাণকাজ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং কলকারখানা থেকে নির্গত ধোঁয়ার কারণে ঢাকার বাতাস এই ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শীতকালীন শুষ্ক আবহাওয়ায় ধূলিকণা বাতাসে দীর্ঘক্ষণ ভেসে থাকায় দূষণের মাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ঢাকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় টেকসই নগর পরিকল্পনা ও কঠোর পরিবেশ আইনের প্রয়োগ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় দীর্ঘস্থায়ী দূষণ নগরবাসীর গড় আয়ু কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ওপর অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।


banner close