সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
৯ ভাদ্র ১৪৩৩

বিএনপির বিরুদ্ধে যা মামলা আছে কোনটাই রাজনৈতিক নয়: প্রধানমন্ত্রী

শুক্রবার গণভবনে বাংলাদেশ কৃষক লীগের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মতবিনিময় করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি
আপডেটেড
১৯ এপ্রিল, ২০২৪ ১৮:২৮
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১৯ এপ্রিল, ২০২৪ ১৮:২৫

বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত দায়ের করা কোন মামলা রাজনৈতিক নয় বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, অগ্নিসংযোগ, গ্রেনেড হামলা, আগ্নেয়াস্ত্র চোরাচালান ও দুর্নীতির মতো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্তরাই এ সংক্রান্ত মামলার আসামী হয়েছেন।

আজ শুক্রবার সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে বাংলাদেশ কৃষক লীগের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আজকে বিএনপি সব জায়গায় কান্নাকাটি করে বলছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা। তাদের জিজ্ঞেস করতে হবে মামলাগুলো কিসের মামলা? অগ্নিসন্ত্রাস, অস্ত্রপাচার, গ্রেনেড হামলাসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলা। তারা অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেটাই তো বাস্তবতা।’

মামলাগুলো দ্রুত শেষ করে এগুলোর শাস্তি দিয়ে দেওয়া উচিত উল্লেক করে তিনি বলেন, বিএনপি ৩ হাজার ৮০০ গাড়ি পুড়িয়েছে, বাস, লঞ্চ ও রেল পুড়িয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে না তো কি হবে?

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ওদের বিরুদ্ধে কোন মামলাইতো পলিটিক্যাল মামলা না, প্রত্যেকটা মামলা হচ্ছে অগ্নিসন্ত্রাসের মামলা। তারা মানুষ হত্যা করেছে আগুন দিয়ে। নির্বাচন ঠেকাতে যেয়ে তারা রেলে আগুন দিয়ে মা-শিশুকে পুড়িয়ে মেরেছে, যারা এগুলো করলো তাদের বিরুদ্ধে কি মামলা হবে না?

বিএনপির নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কান্নাকাটি করে তারা সব জায়গায় বলছে তাদের এত লক্ষ লোক তাদের গ্রেপ্তার হয়েছে। সারা দেশে যত জেলখানা আছে সেগুলোর একটা ধারণ ক্ষমতা রয়েছে, তারা যত লক্ষ গ্রেপ্তার হয়েছে বলছে জেলখানাগুলোর ততো ধারণক্ষমতা নেই।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘তারা (বিএনপি) যেভাবে বলছে তাদের ৬০ লাখ লোক গ্রেপ্তার হয়েছ, ৬০ লাখ লোক ধারণ করার ক্ষমতাও নাই এসব জেলে। তারপরও যতটুকু ধারণ ক্ষমতা আছে সবই বিএনপির লোক এটাই তো তারা বলতে চাচ্ছে। তার মানে বাংলাদেশে যত অপরাধ সব অপরাধ করে বিএনপি’।

শেখ হাসিনা বলেন, তাদের ভাগ্য ভালো আমরা ক্ষমতায় আছি, আমরা তাদের মতো প্রতিশোধপরায়ণ না, তাই তারা এখনো কথা বলার সুযোগ পায়। তারা সারাদিন কথা বলে মাইক লাগিয়ে, তারপর বলবে কথা বলার সুযোগ পায় না।

বিরোধীদলে থাকার সময়কার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অফিসেতো আমরা ঢুকতেই পারতাম না। কিভাবে তারা অত্যাচার করেছে আমাদের ওপর, আমরা তো তার কিছুই করি নাই। আমরা প্রতিশোধ নিতে ব্যস্ত থাকিনি। আমরা আমাদের সব শক্তি-মেধা কাজে লাগিয়েছি দেশের উন্নয়নে, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাংক অনুসরণ করে সমবায় ভিত্তিক কৃষি নিশ্চিত করে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি দেশের প্রতি ইঞ্চি অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনার মাধ্যমে সার্বিক উৎপাদন বাড়ানোর জন্য তাঁর আহবান পুনর্ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমবায় ভিত্তিক কৃষি চালু করে জমির আইল দূর করে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি রক্ষা করা যেতে পারে। কৃষিতে গবেষণার পাশাপাশি কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের উদ্যোগে কৃষিখাতের উন্নয়ন এবং খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থানার পদক্ষেপ সমূহের চুম্বকাংশ তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষি উন্নত হয়েছে, কারণ সরকার কৃষিখাতের গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার কৃষি খাতে ২৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে দেশের খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে।

তিনি বলেন, ‘একসময় যারা নুন-ভাত বা ডাল-ভাতের কথা ভাবতেন, তারা এখন মাছ-মাংস-ডিমের কথা ভাবেন। তাই যারা সরকারের সমালোচনা করেন, তাদের বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত যে, বাংলাদেশ উন্নত হয়েছে কি না।’

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানান সংগঠনের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু।


নির্বাচিত

অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী: এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৪১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারকে বিশ্ব মানচিত্রের সাথে সরাসরি যুক্ত করতে বড় ধরনের সুখবর দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের শুভ উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পর থেকে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সও এই বিমানবন্দর থেকে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে।

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) সদস্যদের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী এই তথ্য নিশ্চিত করেন। মিল্লাত জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইন্স কক্সবাজার থেকে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং সরকার তাদের সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আগামী ডিসেম্বর মাসেই টার্মিনালটি পুরোপুরি চালুর লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। যাত্রীসেবার মান আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করতে এবং বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে এই টার্মিনালটি একটি গেম চেঞ্জার হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রী আরও জানান, এই বিশাল প্রকল্পের নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে আগামী মাসে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সাথে একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।

সাক্ষাৎকারকালে এটিজেএফবি সভাপতি তানজিম আনোয়ার এবং সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লবসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা পর্যটন খাতের উন্নয়নে নতুন মন্ত্রীর গৃহীত এসব উদ্যোগকে স্বাগত জানান। কক্সবাজার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে দেশের পর্যটন শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করছে। মূলত অবকাঠামো উন্নয়ন ও সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে পর্যটন ও এভিয়েশন খাতকে বিশ্বমানের করে তোলাই সরকারের বর্তমান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।


নির্বাচিত

স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। আজ সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব এবং স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাতে সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান পানি ব্যবস্থাপনা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং কৃষি খাতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কোল্ড স্টোরেজ বা হিমাগার স্থাপনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, এই ক্ষেত্রগুলোতে প্রযুক্তিগত বিনিময় বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও টেকসই ও কার্যকর করবে।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী ও কার্যকর করা এবং নগর পরিবেশ সুরক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক লক্ষ্য।

সাক্ষাতের শুরুতে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন মন্ত্রীকে তাঁর নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি মন্তব্য করেন যে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনের সাথে জড়িত এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রদূত এ খাতের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আলোচনায় জানান যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি। বৈঠকে উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দুই দেশের এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থানীয় সরকার খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করবে।

উক্ত সৌজন্য সাক্ষাতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব রফিকুল ই মোহামেদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মূলত টেকসই উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আগামীতে আরও গভীর হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।


নির্বাচিত

বাহাত্তরের সংবিধান সামনে রেখেই সংস্কার হবে : আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবিধানের যেকোনো ধরনের সংস্কার কার্যক্রম বাহাত্তরের মূল সংবিধানকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়ায় যেসব পরামর্শ বা মতামত আসবে, তার মধ্যে বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য বিষয়গুলো অবশ্যই সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে।

আজ সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেন।

সংবিধান সংস্কারের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন, "অনেকে বলেছিলেন বাহাত্তরের সংবিধান ছুড়ে ফেলে দিতে হবে। তবে সংবিধান সংস্কার বিষয়ে যা কিছুই করা হোক না কেন, বাহাত্তরের সংবিধান সামনে রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। কারণ বাহাত্তরের সংবিধান এখনো বলবৎ আছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংস্কারের ক্ষেত্রে কোনো আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত নয়, বরং বাস্তবভিত্তিক চিন্তার প্রতিফলন ঘটানো প্রয়োজন।

মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, "সংবিধান সংস্কারে যারা মতামত দেবেন, সেসব বিবেচনায় নিয়ে গ্রহণযোগ্য হলে তা গ্রহণ করা হবে। সংবিধান ও সংস্কার নিয়ে বাস্তবসম্মত চিন্তা করতে হবে।"

অনুষ্ঠানে সরকারের জবাবদিহিতা ও গঠনমূলক সমালোচনার গুরুত্ব নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি মনে করেন, শাসনব্যবস্থাকে ত্রুটিমুক্ত রাখতে সমালোচনা অপরিহার্য। মন্ত্রীদের কাজের তদারকি ও সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "মন্ত্রীদের তোপের মুখে না রাখলে সরকার সঠিক পথে চলতে পারবে না।" সরকারের স্তুতি গাওয়ার চেয়ে ভুল ধরিয়ে দেওয়াকে তিনি অধিক গুরুত্ব প্রদান করেন।

মন্ত্রীর মতে, গঠনমূলক সমালোচনা সরকারকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, "সরকারের স্তুতি করা উচিত নয়। তোপের মুখে রাখা বা সরকারের সমালোচনা করাকে সরকার ইতিবাচকভাবে দেখে। তবে এ ক্ষেত্রে ভাষা প্রয়োগে সচেতনতা কাম্য।"

উক্ত সংলাপে দেশের নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। আইনমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে এটি পরিষ্কার করেছেন যে, সংবিধানের আধুনিকায়ন বা সংস্কার যা-ই হোক না কেন, তার মূল ভিত্তি হবে বাহাত্তরের সংবিধান। সংলাপে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ডাক বিভাগে ১৪ ফুলফিলমেন্ট সেন্টারসহ নতুন সেবা শুরু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ ডাক বিভাগ সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্যোক্তাভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিসের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে ।

পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি ৩১২ টনের বেশি মৌসুমি ফল সরবরাহ, ডিজিটাল সেবা সংযুক্তি এবং ই-কমার্স খাতে লজিস্টিক সহায়তায় ১৪টি ফুলফিলমেন্ট সেন্টার চালুর প্রস্তুতি নিয়েছে।

ডাক অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সমন্বয় করে নেওয়া এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি ধাপে ধাপে রূপ নিচ্ছে আধুনিক লজিস্টিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে। ডাক অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সেবার মান উন্নয়ন ও ডিজিটাল রূপান্তর-এই তিন লক্ষ্য সামনে রেখে একযোগে এগোচ্ছে সাতটি খাতভিত্তিক কার্যক্রম।

কর্মকর্তারা আরও জানান, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নেওয়া উদ্যোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস মডেল। ডাক অধিদপ্তরের তথ্যমতে, উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে পিকআপ ও ডেলিভারি সেবার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

এ উদ্যোগের সামগ্রিক উদ্দেশ্য ও রূপরেখা তুলে ধরে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, ‘চিঠির যুগ পার হলেও সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগকে সম্পূর্ণ আধুনিক ও জনবান্ধব লজিস্টিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল চালু হলে ডাক সেবার সময়সীমা ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা দূর হবে। আমাদের পোস্ট অফিসগুলোর নেটওয়ার্কের বাইরে বেসরকারি উদ্যোক্তারা যুক্ত হলে একদিকে বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে নাগরিকরা কোনো সময়ের বাধা ছাড়াই ডাকসেবা পাবেন।’

এ মডেলের পরিচালন পদ্ধতি ব্যাখ্যা করে ডাক অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান বাসস’কে বলেন, ‘ডাক বিভাগের নিয়ম-কানুন মেনে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করা হবে, যার আওতায় তারা নির্ধারিত বিধিবিধান মেনে মূলত পণ্য সংগ্রহ ও বিলির (পিকআপ ও ডেলিভারি) কাজ পরিচালনা করবেন। এই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো সার্বক্ষণিকভাবে ডাক বিভাগের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। এগুলোর সেবার গুণগত মান ক্ষুণ্ন হলে বা কোনো নিয়ম ভঙ্গ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হবে।’

সরকারের ডাক বিভাগের তথ্যমতে, বিএনপি সরকার গঠনের প্রথম এই ৬ মাসে কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উৎস জেলাসমূহ থেকে নিরাপদে ৩১২ টনের বেশি মৌসুমি ফল সংগ্রহ করে গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। শুধু আমের রাজধানী রাজশাহী কিংবা নতুন করে গড়ে ওঠা সাতক্ষীরা বা খাগড়াছড়ি নয়, দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা থেকেই এবার এই ফল আহরণ করা হয়েছে, যার ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছেন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক উদ্যোক্তারা।

ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রযুক্তিনির্ভর নতুন দুটি সেবার কারিগরি প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক মামলা সংক্রান্ত ডকুমেন্টস (ভিডিও মামলা, ট্রাফিক নোটিশ ইত্যাদি) সংশ্লিষ্ট প্রাপকের ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি সংযুক্তিকরণ সম্পন্ন হয়েছে, যা ডাক বিভাগের নতুন এক এজেন্সি সার্ভিস হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। একইসঙ্গে ডাক বিভাগের ডিজিটাল আর্থিক সেবা ‘নগদ’-এর মাধ্যমে ডাক জীবন বীমার প্রিমিয়াম সংগ্রহের কারিগরি সংযুক্তিকরণও সম্পন্ন হয়েছে। এতে করে গ্রাহকরা ঘরে বসেই বীমার প্রিমিয়াম পরিশোধ করতে পারবেন। পোস্ট অফিসে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হবে না।

ডাক বিভাগের তথ্য মতে, মেইল প্রসেসিং ও লজিস্টিকস সেবা আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন পোস্ট অফিসে ইতোমধ্যে ৬ হাজার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল,৬ হাজার থার্মাল প্রিন্টার ও পাঁচশ কম্পিউটার সরবরাহ করা হচ্ছে, পাশাপাশি তিনটি মেইল মনিটরিং সফটওয়্যার তৈরির কাজও চলমান রয়েছে। পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা বা ‘গ্রিন লজিস্টিকস’ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ৫০টি ইলেকট্রিক বাইক (ই-বাইক) বহরে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ডাকসেবা উন্নয়নের লক্ষ্যে সর্বজনীন ডাক ইউনিয়ন (ইউপিইউ) থেকে প্রাপ্ত ৩৩টি নতুন ডেলিভারি মেইল ভ্যান ইতোমধ্যে দেশব্যাপী ডাক বিভাগের মেইল লাইনে সংযোজন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ১৮০ দিনের এই কর্মযজ্ঞে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে ফুলফিলমেন্ট সেন্টার উদ্যোগ। দেশব্যাপী ই-কমার্স ও এফ-কমার্স খাতের পণ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রসেসিং, বুকিং, সর্টিং, পরিবহন ও বিলি পরিচালনার লক্ষ্যে ডাক অধিদপ্তরের ১৪টি ফুলফিলমেন্ট সেন্টার চালুর কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ডাক বিভাগের তথ্য মতে, রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও, গোপালগঞ্জ, ঈশ্বরদী, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, দিনাজপুর, হবিগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও যশোরে এই ১৪টি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

এ বিষয়ে ডাক অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের এই ১৪টি স্থানে আধুনিক স্থাপনা নির্মাণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত কিছু ধাপ শেষ হলেই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।

ডাক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় নেওয়া এসব উদ্যোগ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন প্রতিষ্ঠানটির সেবার পরিধি ও মান বাড়বে, তেমনি ডিজিটাল ও ই-কমার্সনির্ভর অর্থনীতিতে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাক বিভাগের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গ্রুপ ছবিতে অংশগ্রহণ করেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ওপর জোর দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করতে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ এর উদ্বোধনকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

দেশের প্রয়োজনে বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনীর ত্যাগের জন্য তিনি নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান থেকে শুরু করে বাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহীদ, ২০২৪ সালে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় বীর ছাত্র-জনতার গণঅভুত্থানের সকল শহীদ এবং ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে যারা দেশে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে হতাহত হয়েছেন প্রত্যেকের অবদান তিনি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী তথা নৌ ও বিমান বাহিনীর শহীদসহ সকল বীর সেনাদের।

পরে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। প্রথমে তিনি ঢাকা সেনানিবাসস্থ আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে স্থাপিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন (এডিএসআই)-এর উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচন করেন। এ সময়, তিনি নব উন্মোচিত এডিএসআই-এর বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

এছাড়া তিনি বিমান বাহিনীর এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি এসিওসির ডিজিটাল লার্জ ডিসপ্লের সাহায্যে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান কর্তৃক শত্রুবিমানসমূহকে বাধা প্রদান ও চট্টগ্রাম থেকে আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল (ড্রোন)-এর লাইফ ফিডের মাধ্যমে হেলিকপ্টার থেকে সেনা অবতরণ অবলোকন করেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর এ্যারোস্পেস রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স এবং এর বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন।

এসময়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন ধরনের আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল (ড্রোন, কামিকাজি ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এবং ভিটোল) প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কোয়াডকপ্টার এর উড্ডয়ন অবলোকন করেন।

নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় এ ধরনের আধুনিক উড্ডয়ন ব্যবস্থা প্রস্তুতকরণ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রথম কর্মদিবসে আয়োজিত পরিচিতি সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

পরিচিত সভা শুরু হওয়ার আগে সকাল সাড়ে ৯টায় মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এ সময় নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ ফুল দিয়ে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বক্তব্য রাখেন।

তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম হচ্ছে গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। বিগত ১৭ বছর আমাদের মূল লড়াই ছিল দেশে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে গণমাধ্যমের ওপর যে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল, সেই কালচার থেকে বেরিয়ে স্বাধীন ও উন্মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিকদের অবদান খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। জনগণের তথ্য জানার অধিকার রয়েছে এবং আমরা কী কাজ করছি তা সঠিকভাবে তাদের সামনে তুলে ধরা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ওপর আস্থা ব্যক্ত করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনারা প্রশাসনিক কাজে আমার চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ। দেশের স্বার্থে এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করব, যেন আমাদের কোনো সিদ্ধান্তের কারণে কারো প্রতি অন্যায় ও অবিচার না হয়।’

পরিচিতিমূলক সভায় অন্যান্যের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ ও অধীনস্থ অন্যান্য দপ্তর-সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

গুম-খুনের শিকার পরিবার পুনর্বাসনে আলাদা অধিদপ্তর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কল্যাণ, সুচিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন একটি অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে রোববার (২৩ আগস্ট) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আন্ত মন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে সভায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ও মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের জন্য ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ গঠন করা হয়েছে। একইভাবে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে যারা গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, পঙ্গুত্ব বা মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন, তাদের ত্যাগও রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি যেন জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে না পারে এবং কোনো পরিবারকে স্বজন হারানোর মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়, সে জন্য স্থায়ী প্রতিরোধ গড়ে তুলতেই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অধিদপ্তর গঠনের এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার মধ্যে ছিল মানুষের স্বাধীনভাবে জীবনযাপন, মানবাধিকার সুরক্ষা, রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ বন্ধ এবং প্রত্যক্ষ ভোটাধিকারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। তাঁর দাবি, ২০০৯ সালের পর ভোটের অধিকার হরণ, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সেই মৌলিক চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, গুম হয়েছেন বা আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়েছেন, তাদের জন্য রাষ্ট্রের কিছু করার দায়িত্ব রয়েছে।

সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যপ্রণালি বা ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর ‘সিডিউল-১ (অ্যালোকেশন অব বিজনেস)’ সংশোধন করে নতুন দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

জাতিসংঘের ‘বেসিক প্রিন্সিপলস অ্যান্ড গাইডলাইনস অন দ্য রাইট টু আ রেমেডি অ্যান্ড রিপারেশন’ এবং বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে ভুক্তভোগী ও পরিবারের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও সভায় আলোচনা করা হয়।

এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি ও পরিবারের অধিকার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন এবং ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর ‘সিডিউল-১ (অ্যালোকেশন অব বিজনেস)’ সংশোধনের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, পররাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, আইন ও বিচার, সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্য সেবা, যুব ও ক্রীড়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ ও শামা ওবায়েদ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

পরিপত্র অনুযায়ী, হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ এবং শামা ওবায়েদ ইসলাম পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিক-নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কার্য সম্পাদনে সহায়তা করবেন-

ক) প্রতিমন্ত্রী-১: দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বিষয়াবলী, অনিবাসী বাংলাদেশি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক নির্ধারিতব্য অন্য যেকোনো বিষয়।

খ) প্রতিমন্ত্রী-২: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, মানবাধিকার, গবেষণা এবং উদ্ভাবন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, সৃজনশীল অর্থনীতি, এল ডি সি উত্তরণ, আই সি টি, সমুদ্র আইন ও সমুদ্র সম্পদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য কূটনীতি, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতি।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, উপর্যুক্ত দায়িত্ব বণ্টণে প্রধানমন্ত্রীর সদয় অনুমোদন রয়েছে।


নির্বাচিত

বিদ্যুৎ আমদানিতে বাংলাদেশের ওপর ভারতের নতুন চার্জ আরোপের প্রক্রিয়া চলছে

ফাইল ছবি
আপডেটেড ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২০:১৬
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে গ্রিড পরিচালনা ও আন্তঃসীমান্ত লেনদেন নিষ্পত্তির খরচ মেটাতে বাংলাদেশের ওপর 'সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি' (এসএনএ) নামে নতুন একটি চার্জ আরোপ হতে যাচ্ছে।

নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে বাংলাদেশকে প্রতি ইউনিটে অতিরিক্ত ০.০০৫ ভারতীয় রুপি (আধা পয়সা) গুণতে হবে, যা বিদ্যুতের মূল দামের (ট্যারিফ) অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হবে।

গ্রিড পরিচালনা, সিডিউলিং, মিটারিং ও বিদ্যুৎ লেনদেন নিষ্পত্তির ব্যয় মেটাতে এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে এসএনএ চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।

ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে অর্থ বিভাগের মতামত চাওয়া হয়েছে। শুরুতে ভারত প্রতি ইউনিটে ১ ভারতীয় পয়সা দাবি করলেও পরবর্তীতে বিপিডিবির দরকষাকষির ফলে তা আধা পয়সায় নির্ধারিত হয়। ভারতীয় আইন অনুযায়ী চুক্তিটি দ্রুত সই না হলে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে নেপাল ও ভুটানকেও একই হারে এসএনএ চার্জ দিতে হয়।

ভারতের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পূর্ণ সক্ষমতায় আমদানি করা হলে বাংলাদেশকে প্রতি ঘণ্টায় ৫ হাজার ৮০০ রুপি চার্জ দিতে হবে। ভারতীয় বিদ্যুৎ বিধিমালার (সিইআরসি) অধীনে আঞ্চলিক গ্রিডে বাংলাদেশকে একটি পৃথক ‘কন্ট্রোল এরিয়া’ হিসেবে গণ্য করা হয়, যার দরুন মূল দামের বাইরে গ্রিড ব্যবহারের এই সমন্বয় ফি প্রযোজ্য হচ্ছে।

বর্তমানে ভারতের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে সর্বমোট ২,৬৫৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানির সুব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে বিভিন্ন ভারতীয় কেন্দ্র থেকে আসা ১,১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্যই মূলত এই চুক্তি কার্যকর হবে।

অন্যদিকে আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ড কেন্দ্র থেকে আসা ১,৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের মূল ক্রয় চুক্তিতে এই চার্জ আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত থাকায় সেটির জন্য নতুন চুক্তির প্রয়োজন পড়ছে না।


নির্বাচিত

বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন নব নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভবনে নিজের দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় তিনি রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন ও কার্যালয়ে এসে পৌঁছালে তাঁকে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

বঙ্গভবনের ২ নম্বর প্রধান ফটকে পৌঁছালে বাংলাদেশ পুলিশের একটি সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল রাষ্ট্রপতিকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানায়। এরপর বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল মাঠে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি চৌকস দল তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মান তথা ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে।

অভ্যর্থনা পর্ব শেষে বঙ্গভবনের অক্টাগনালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জনবিভাগের সচিব এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরী, প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এবং পিজিআর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম আরিকুল আলম সপরিবারে রাষ্ট্রপতিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

দাপ্তরিক কার্যক্রমের প্রথম দিনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল তাঁর নির্ধারিত অফিস কক্ষে বসে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে স্বাক্ষর করেন। এছাড়া তিনি বঙ্গভবনের পরিদর্শন বইয়েও স্বাক্ষর করেন বলে জানা গেছে। গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোটে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এবং পরদিন ২১ আগস্ট বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শপথ গ্রহণ করেন। আজ দাপ্তরিক কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্বের পূর্ণ সক্রিয়তা প্রকাশ করলেন।


নির্বাচিত

দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাগত দক্ষতা ও সততাকে প্রধান্য দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কর্মকর্তাদের নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, বিশ্বস্ততা এবং আনুগত্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করতে তিনি নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। আজ রবিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ এর উদ্বোধনকালে তিনি এসব দিকনির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ছাড়াও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় নৌ ও বিমান বাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে যেভাবে সহায়তা করছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বাহিনীর সকল স্তরের সদস্যদের এই ত্যাগের জন্য তিনি নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত সকল শহীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে নবস্থাপিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন (এডিএসআই)-এর উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচন করেন এবং এর কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন। এছাড়া তিনি এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) পরিদর্শন করে ড্রোনের মাধ্যমে লাইভ ফিড এবং হেলিকপ্টার থেকে সেনা অবতরণের মহড়া অবলোকন করেন।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর এ্যারোস্পেস রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স এবং সেখানে নিজস্ব সক্ষমতায় তৈরি কামিকাজি ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ও ভিটোলসহ বিভিন্ন ধরনের আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল (ড্রোন) প্রদর্শনী উপভোগ করেন। তিনি কোয়াডকপ্টারের উড্ডয়ন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আশা করেন যে, প্রযুক্তিগত এই আত্মনির্ভরতা বিমান বাহিনীর সক্ষমতাকে আরও সুসংহত করবে।

এর আগে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে ‘নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:০১
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির লক্ষ্যে গঠিত ‘নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন।

আজ রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এর উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান।

এই পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন, কমান্ডার ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এবং বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন, উইং কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার পদবির যোগ্য কর্মকর্তাগণ পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

নির্বাচনী পর্ষদ শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে এডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। র‌্যাংক ব্যাজ পরিধান শেষে প্রধানমন্ত্রী নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে অভিনন্দন জানান।

এ সময় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে এগিয়ে নিতে তার মূল্যবান পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনা ও বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত ১৭ বছর ধরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে সংঘটিত যাবতীয় দুর্নীতি ও অনিয়মের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রথম কার্যদিবসে কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন।

ড. আবদুল মঈন খান তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, বিএনপি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। আমার মূল লক্ষ্য হবে দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন পূরণ এবং তাদের কাছে সরকারি সেবা যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া।” একইসাথে তিনি এই মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত করে এর হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই মন্ত্রণালয় সরাসরি জনগণের সাথে কাজ করে বিধায় এর মাধ্যমে যথাযথ সেবা নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্রব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে। তিনি জনগণের ক্ষমতার উৎসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান। ড. মঈন খান বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, সচ্ছল ব্যক্তিরা নিজেদের প্রয়োজনে পথ খুঁজে নিতে পারলেও দরিদ্র মানুষ সম্পূর্ণভাবে সরকারি সেবার ওপর নির্ভরশীল, তাই তাঁদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করাই হবে তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন যে, সেই সময় এমনকি বিচার বিভাগের স্বাধীনতাও ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল এবং মন্ত্রণালয় থেকে রায় লিখে দেওয়া হতো। বর্তমান সরকার জনগণের জীবনমান উন্নয়নে তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের স্মৃতিচারণ করে বলেন, তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক আদর্শ দেশপ্রেম ও সেবার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।

মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়াকে একটি গুরুদায়িত্ব হিসেবে অভিহিত করে ড. মঈন খান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জনগণের কাতারে দাঁড়িয়ে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। দেশের বিপুল সংখ্যক দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে তিনি তাঁর সর্বোচ্চ সামর্থ্য নিয়োগ করবেন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি মন্ত্রণালয়ের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঐকান্তিক সহযোগিতা কামনা করেন।


নির্বাচিত

banner close