বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত দায়ের করা কোন মামলা রাজনৈতিক নয় বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, অগ্নিসংযোগ, গ্রেনেড হামলা, আগ্নেয়াস্ত্র চোরাচালান ও দুর্নীতির মতো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্তরাই এ সংক্রান্ত মামলার আসামী হয়েছেন।
আজ শুক্রবার সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে বাংলাদেশ কৃষক লীগের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আজকে বিএনপি সব জায়গায় কান্নাকাটি করে বলছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা। তাদের জিজ্ঞেস করতে হবে মামলাগুলো কিসের মামলা? অগ্নিসন্ত্রাস, অস্ত্রপাচার, গ্রেনেড হামলাসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলা। তারা অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেটাই তো বাস্তবতা।’
মামলাগুলো দ্রুত শেষ করে এগুলোর শাস্তি দিয়ে দেওয়া উচিত উল্লেক করে তিনি বলেন, বিএনপি ৩ হাজার ৮০০ গাড়ি পুড়িয়েছে, বাস, লঞ্চ ও রেল পুড়িয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে না তো কি হবে?
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ওদের বিরুদ্ধে কোন মামলাইতো পলিটিক্যাল মামলা না, প্রত্যেকটা মামলা হচ্ছে অগ্নিসন্ত্রাসের মামলা। তারা মানুষ হত্যা করেছে আগুন দিয়ে। নির্বাচন ঠেকাতে যেয়ে তারা রেলে আগুন দিয়ে মা-শিশুকে পুড়িয়ে মেরেছে, যারা এগুলো করলো তাদের বিরুদ্ধে কি মামলা হবে না?
বিএনপির নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কান্নাকাটি করে তারা সব জায়গায় বলছে তাদের এত লক্ষ লোক তাদের গ্রেপ্তার হয়েছে। সারা দেশে যত জেলখানা আছে সেগুলোর একটা ধারণ ক্ষমতা রয়েছে, তারা যত লক্ষ গ্রেপ্তার হয়েছে বলছে জেলখানাগুলোর ততো ধারণক্ষমতা নেই।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘তারা (বিএনপি) যেভাবে বলছে তাদের ৬০ লাখ লোক গ্রেপ্তার হয়েছ, ৬০ লাখ লোক ধারণ করার ক্ষমতাও নাই এসব জেলে। তারপরও যতটুকু ধারণ ক্ষমতা আছে সবই বিএনপির লোক এটাই তো তারা বলতে চাচ্ছে। তার মানে বাংলাদেশে যত অপরাধ সব অপরাধ করে বিএনপি’।
শেখ হাসিনা বলেন, তাদের ভাগ্য ভালো আমরা ক্ষমতায় আছি, আমরা তাদের মতো প্রতিশোধপরায়ণ না, তাই তারা এখনো কথা বলার সুযোগ পায়। তারা সারাদিন কথা বলে মাইক লাগিয়ে, তারপর বলবে কথা বলার সুযোগ পায় না।
বিরোধীদলে থাকার সময়কার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ অফিসেতো আমরা ঢুকতেই পারতাম না। কিভাবে তারা অত্যাচার করেছে আমাদের ওপর, আমরা তো তার কিছুই করি নাই। আমরা প্রতিশোধ নিতে ব্যস্ত থাকিনি। আমরা আমাদের সব শক্তি-মেধা কাজে লাগিয়েছি দেশের উন্নয়নে, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে।
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাংক অনুসরণ করে সমবায় ভিত্তিক কৃষি নিশ্চিত করে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি দেশের প্রতি ইঞ্চি অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনার মাধ্যমে সার্বিক উৎপাদন বাড়ানোর জন্য তাঁর আহবান পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমবায় ভিত্তিক কৃষি চালু করে জমির আইল দূর করে বিপুল পরিমাণ আবাদি জমি রক্ষা করা যেতে পারে। কৃষিতে গবেষণার পাশাপাশি কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের উদ্যোগে কৃষিখাতের উন্নয়ন এবং খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থানার পদক্ষেপ সমূহের চুম্বকাংশ তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষি উন্নত হয়েছে, কারণ সরকার কৃষিখাতের গবেষণাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার কৃষি খাতে ২৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে দেশের খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে।
তিনি বলেন, ‘একসময় যারা নুন-ভাত বা ডাল-ভাতের কথা ভাবতেন, তারা এখন মাছ-মাংস-ডিমের কথা ভাবেন। তাই যারা সরকারের সমালোচনা করেন, তাদের বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত যে, বাংলাদেশ উন্নত হয়েছে কি না।’
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানান সংগঠনের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু।
মর্যাদাপূর্ণ এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফি হকিতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় দল। শুক্রবার সকালে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে দেশ ছাড়েন খেলোয়াড় ও দলের অন্যান্য সদস্যরা।
মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের এই আসরকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন যাবৎ নিবিড় অনুশীলন শিবিরে ঘাম ঝরিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। প্রস্তুতি পর্বে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত দক্ষতার ওপর সর্বোচ্চ নজর দিয়েছেন কোচিং স্টাফরা। অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে সাজানো এ দল মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সেরাটা প্রদর্শন করতে পারবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
দেশ ছাড়ার প্রাক্কালে দলের প্রত্যয় তুলে ধরে বাংলাদেশ হকি দলের অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এই টুর্নামেন্টের জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছি। এশিয়ার সেরা দলগুলোর বিপক্ষে খেলাটা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং, তবে আমাদের লক্ষ্য থাকবে প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়া এবং দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা।’
ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের জলন্ধর ও মোহালিতে আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত এ মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা মাঠে গড়াবে।
টুর্নামেন্টের লিগ পর্বে বাংলাদেশ দল মোট পাঁচটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশ নেবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর উদ্বোধনী দিনে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শক্তিশালী স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। পরবর্তীতে ২৯ অক্টোবর বিকেল সোয়া ৫টায় জাপান, ৩০ অক্টোবর বিকেল ৩টায় মালয়েশিয়া, ১ নভেম্বর বিকেল ৩টায় দক্ষিণ কোরিয়া এবং ২ নভেম্বর একই সময়ে চীনের বিপক্ষে মাঠে নামবে দল। লিগ পর্বের খেলা শেষে আগামী ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সেমিফাইনাল ও স্থান নির্ধারণী লড়াই এবং ৫ নভেম্বর ফাইনালের মধ্য দিয়ে আসরের সমাপ্তি ঘটবে।
ইউরোপের তিন দেশ ইতালি, গ্রিস ও সাইপ্রাস থেকে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা ৩৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তাঁরা রাজধানী ঢাকায় অবতরণ করেন।
প্রত্যাবাসন করা নাগরিকদের মধ্যে ইতালি থেকে এসেছেন সর্বোচ্চ ১৯ জন, গ্রিস থেকে পাঠানো হয়েছে ১০ জনকে এবং বাকি ছয়জন এসেছেন সাইপ্রাস থেকে।
ঢাকাস্থ ইতালি দূতাবাসের এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় জানানো হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংস্থা ‘ফ্রন্টেক্স’-এর সার্বিক সমন্বয়ে এই বিশেষ প্রত্যাবাসন ফ্লাইটটি পরিচালনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট তিন দেশের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে সংস্থাটির সহায়তায় এসব বাংলাদেশি নাগরিককে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে গিয়েছেন।
আজ শুক্রবার সকালে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে যান।
এ সময় রাষ্ট্রপতি মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং এই তথ্য জানিয়েছে।
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিকের বিষয়ে রিয়াদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো তথ্য মেলেনি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। শুক্রবার সৌদি আরবে হুথি হামলায় নিহত বাংলাদেশি শ্রমিক শাহেদ আহম্মদের মরদেহ হস্তান্তরের সময় সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দণ্ড কার্যকর হওয়া দুই নাগরিকের বিষয়ে সৌদি সরকার এখনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাঠায়নি। তবে বিস্তারিত পরিস্থিতি জানতে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি চেয়ে পাঠানো হয়েছে এবং সেটি হাতে পাওয়ার পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও প্রেক্ষাপট স্পষ্টভাবে জানা যাবে।
উল্লেখ্য, মক্কার এক মসজিদে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট জানতে চেয়ে গত ১৫ অক্টোবর জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেয়। সেখানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিবরণ ও বিচারিক রায়ের তথ্য চাওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৮ অক্টোবর ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকেও এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছিল।
এদিকে হুথি হামলায় নিহত শাহেদ আহম্মদের মরদেহ হস্তান্তর প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ জানান, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহতের স্বজনদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। শাহেদের মরদেহসহ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক সংঘাতে এ পর্যন্ত নিহত ১১ জন বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে প্রবাসীদের উদ্ভূত সংকট নিরসনে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, যুদ্ধের ফলে বহু বাংলাদেশি কর্মী সেখানে আটকা পড়েছেন এবং অনেকের ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাঁদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সরকার তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে যারা আর কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন না, তাঁদের দেশে পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়েও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া উচিত এবং প্রয়োজন। গত ১৭ বছর নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। তাই আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
আজ বৃহস্পতিবার ভোলা সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, একজন মানুষ অর্থশালী বা বিত্তবান নয়, কিন্তু তার জনপ্রিয়তা আছে এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতা আছে, তাদেরকে নির্বাচন করার মত সুযোগ দেওয়া উচিত। এ জন্য নির্বাচন কমিশনকে এমন একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করতে হবে, যাতে করে সাধারণ মানুষের নির্বাচন করার সুযোগ হয়।
তিনি বলেন, আমার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বলছে- আগামী ১০ বছরেও শেখ হাসিনা ফেরার সম্ভাবনা নেই। আওয়ামী লীগ তাদের ক্ষমতার সময় এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়েছিল, তখন সমাজের সৎ, ভালো ও নিরপেক্ষ মানুষের পক্ষে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সম্ভব ছিল না। তাই এখন নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন।
ভোলার খনিজ গ্যাসের সম্ভাবনা তুলে ধরে স্পিকার আরো বলেন, এ জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস আছে। এ গ্যাস সারাদেশের বর্তমানের রির্জাভ সমান দেখা যাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে ভোলায় আরো গ্যাস ভান্ডার রয়েছে। ভোলার সাধারণ মানুষের গ্যাস প্রয়োজন। ভোলাবাসী অনেক দিন ধরে কষ্ট করছে। গ্যাসতো ভোলাবাসীর ন্যায্য অধিকার। তাদের র্দীঘদিনের দাবি। এই বিষয়ে আমি জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো।
নিজ নির্বাচনী এলাকা লালমোহন-তজুমদ্দিনে তিনদিনের সফর শেষে স্পিকার আজ বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ভোলা ত্যাগ করেন। সূত্র: বাসস
ক্ষুধা ও অপুষ্টি মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ধারাবাহিক অগ্রগতির বিপরীতে পাকিস্তানের পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নারীদের কর্মসংস্থান, কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং মেয়েদের শিক্ষার উন্নতিকে বাংলাদেশের অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে পাকিস্তানে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, শিশু অপুষ্টি, নারীদের সীমিত কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং জলবায়ুজনিত বিপর্যয় ক্ষুধার সংকটকে আরও গভীর করছে।
গত সপ্তাহে প্রকাশিত ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক (গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স—জিএইচআই) প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০০ সালের পর থেকে ভারত, বাংলাদেশ ও নেপাল ধারাবাহিকভাবে ক্ষুধা সূচকে উন্নতি করলেও পাকিস্তানের অগ্রগতির ধারা থেমে গেছে এবং পরিস্থিতি আবার অবনতির দিকে যাচ্ছে।
জার্মানির বনভিত্তিক ক্ষুধা মোকাবিলায় কাজ করা সংস্থা ওয়েলথাঙ্গারহিলফে, সুইজারল্যান্ডের জুরিখভিত্তিক সহায়তা সংস্থা হেলভেটাস এবং জার্মানির রুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন ইনস্টিটিউট যৌথভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ক্ষুধা সূচকের স্কোর ১৯ দশমিক ২, যা মডারেট বা সহনীয় পর্যায়ের স্কোর। এই সূচকে ভারতের স্কোর ২৪ দশমিক ১, যা সিরিয়াস বা গুরুতর বলে বিবেচিত। এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে আছে শ্রীলঙ্কা ও নেপাল।
অপর দিক পাকিস্তানের ক্ষুধা সূচকের স্কোর ২৫ দশমিক ৫, যা ২০১৮ সালের ২৪ দশমিক ০ স্কোরের চেয়ে খারাপ। সূচকে অন্তর্ভুক্ত ১২২টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১০৬তম। দেশটির চেয়ে বেশি স্কোর পাওয়া দেশের সংখ্যা প্রায় এক ডজন। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, সিয়েরা লিওন ও সিরিয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের অগ্রগতির অন্যতম কারণ নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার সম্প্রসারণ। লন্ডনভিত্তিক আর্থিক বিশ্লেষক জাভেদ হাসান জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়াকে বলেন, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়েছেন। পাশাপাশি পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি এবং মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণও অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখেছে।
ইসলামাবাদভিত্তিক স্বাধীন অর্থনীতিবিদ নিয়াজ মুর্তাজাও মনে করেন, নারীদের কর্মসংস্থানের ধারাবাহিক উন্নতি বাংলাদেশের ক্ষুধা মোকাবিলায় অগ্রগতিকে সহায়তা করেছে। ভারতের পরিস্থিতিও পাকিস্তানের তুলনায় খুব বেশি আলাদা নয় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, ভারতের ক্ষুধা সূচকের স্কোর পাকিস্তানের প্রায় সমান হলেও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক চারটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। এগুলো হলো অপুষ্টি বা পর্যাপ্ত খাদ্য না পাওয়া, শিশুমৃত্যু, শিশুদের বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম হওয়া এবং উচ্চতার তুলনায় শরীরের ওজন কম হওয়া। সূচকটির মোট গুরুত্বের ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ করে নির্ধারিত হয়েছে অপুষ্টি ও শিশুমৃত্যুর জন্য। অবশিষ্ট ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ করে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শিশুদের বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম হওয়া এবং উচ্চতার তুলনায় ওজন কম হওয়ার সূচককে।
স্কোর নির্ধারণ করা হয় শূন্য থেকে ১০০-এর মধ্যে। স্কোর ১০-এর নিচে হলে ক্ষুধার মাত্রা কম, ১০ থেকে ১৯ দশমিক ৯ হলে মাঝারি, ২০ থেকে ৩৪ দশমিক ৯ হলে গুরুতর, ৩৫ থেকে ৪৯ দশমিক ৯ হলে আশঙ্কাজনক এবং ৫০ বা তার বেশি হলে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হিসেবে বিবেচিত হয়।
পাকিস্তানের ২৫ দশমিক ৫ স্কোর দেশটিতে গুরুতর ক্ষুধার পরিস্থিতি নির্দেশ করে। ২০১৮ সালের ২৪ দশমিক ০ স্কোরের তুলনায় এ অবনতি দেশটির খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্বিমুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একদিকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির অর্থসংস্থান সহজ করতে বিশ্বব্যাংকের কাছে ৩৫ কোটি ডলারের গ্যারান্টি সহায়তা চাওয়া হয়েছে, অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে নতুন দুটি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ৫৯২ কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্যোগ দুটি কার্যকর হলে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সামলানো এবং শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের কাছে ২৭৭ কোটি ডলারের প্রকল্প অর্থায়ন এবং ১০০ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি প্রস্তাবিত ‘রেজিলিয়েন্স, রিফর্ম অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পার্টনারশিপ’ (আরআরআইপি) কাঠামোর আওতায় আগামী তিন বছরে নিয়মিত বরাদ্দের বাইরে অতিরিক্ত ১ হাজার কোটি ডলারের অর্থায়ন চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এলএনজি আমদানির জন্য বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) কাছে ৩৫ কোটি ডলারের গ্যারান্টি সহায়তা চেয়েছে সরকার। এ ধরনের গ্যারান্টি ঋণদাতা ও সরবরাহকারীর কাছে অর্থ পরিশোধের ঝুঁকি কমিয়ে আমদানির অর্থায়ন সহজ করতে পারে। তবে এটি সরাসরি নগদ অর্থ পাওয়ার সমান নয়; প্রকৃত সুবিধা নির্ভর করবে গ্যারান্টির শর্ত ও অর্থায়ন কাঠামোর ওপর।
প্রস্তাবিত আরআরআইপি কাঠামোয় ৪০০ কোটি ডলার জ্বালানি তেল, সারসহ জরুরি পণ্য আমদানিতে ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য ১৫০ কোটি, ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে ৩০০ কোটি এবং আপৎকালীন সহায়তা ও যৌথ অর্থায়নের জন্য ১৫০ কোটি ডলার রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে কারিগরি দল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত করা।
এদিকে, আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিতাস-৩২ ও তিতাস-৩৩ নামে দুটি অনুসন্ধানমূলক ও উন্নয়ন কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯২ কোটি টাকা। অনুমোদনের জন্য এটি ২৫ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পেট্রোবাংলার কোম্পানি বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে ৪১৪ কোটি ৪০ লাখ এবং কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে ১৭৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৬৩২ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও পরে তা ৪০ কোটি টাকা কমানো হয়।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, কূপ দুটি থেকে দৈনিক প্রায় ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এবং ১৮ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ বছরে প্রায় ১০০ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ও ৬০ হাজার ৪৪৪ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজিএফসিএল বর্তমানে পাঁচটি উৎপাদনশীল গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ৪৮০ থেকে ৪৮৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করছে। এর মধ্যে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে।
২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রে পরিচালিত ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে নতুন কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় কূপ খননের পাশাপাশি গ্যাস সংগ্রহের পাইপলাইন স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শক সেবা নেওয়া হবে।
সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি এবং ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে আরও ১৫০টি কূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে নতুন কূপ থেকে প্রত্যাশিত উৎপাদন নিশ্চিত করতে ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি ও মজুতের পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ।
এলএনজি আমদানির অর্থায়ন সহজ হলে গ্যাস সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানার উৎপাদন পরিকল্পনা উন্নত করা সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে, তিতাসের নতুন কূপ থেকে গ্যাস পাওয়া গেলে আমদানির ওপর চাপ কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
তবে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আমদানি অর্থায়নের পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, বিদ্যমান কূপের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ জরুরি। একই সঙ্গে ঋণের সুদ, পরিশোধের মেয়াদ ও মুদ্রার ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্বব্যাংকের সম্ভাব্য সহায়তা এবং তিতাসে নতুন কূপ খননের উদ্যোগ সমন্বিতভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি সরবরাহ, শিল্পোৎপাদন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার গুরুতর দুটি নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলার ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সতর্কতার অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিবিদ ও প্রকৌশলীরা ঝুঁকির মাত্রা পর্যালোচনা করছেন এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওয়েবসাইটটি পুনরায় সচল করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, এটি শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের সমস্যা নয়, বিশ্বব্যাপী সতর্কতামূলক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝুঁকি বিশ্লেষণ শেষে এটি চালু করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, এটি কেবল বাংলাদেশের একক কোনো সমস্যা নয়, বরং বিশ্বজুড়ে একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির তথ্য অনুযায়ী, পিএইচপির এই নির্দিষ্ট ত্রুটিকে কাজে লাগিয়ে সাইবার হামলাকারীরা কোনো পাসওয়ার্ড ছাড়াই দূর থেকে সার্ভারে অননুমোদিত নির্দেশ কার্যকর করতে পারে। এর ফলে সার্ভারের গোপনীয় ফাইল, ডেটাবেজ ও স্পর্শকাতর তথ্য চুরি বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে যায়।
এই আশঙ্কায় বাংলাদেশ ছাড়াও ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামের মতো বিভিন্ন দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল সেবা সাময়িকভাবে সুরক্ষিত করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রের পাশাপাশি জানা গেছে, যেসব ব্যাংকের ওয়েবসাইট পিএইচপি প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, সেগুলোর কয়েকটিও নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।
সরকারের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের কর্মকর্তারা অবশ্য স্পষ্ট করেছেন যে ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে থাকা প্রায় সাড়ে ছত্রিশ হাজার সরকারি ওয়েবসাইট পিএইচপিতে তৈরি নয়। ফলে সেগুলো সরাসরি এই নির্দিষ্ট ঝুঁকিতে পড়ছে না, তবে নিরাপত্তার খাতিরে অন্যান্য সরকারি ওয়েবসাইটের প্রযুক্তিগত সুরক্ষাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সচেতনতামূলক রোড শো ও প্রচারাভিজান চালিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১, ২, ৩ ও ৪ (মিরপুর, ইকুরিয়া, উত্তরা ও পূর্বাচল) এর উদ্যোগে রোড শো, লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাসটার্মিনাল, বিমানবন্দরসংলগ্ন সড়ক এবং কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচে চালক, যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে সচেতনতামূলক হ্যান্ডবিল ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ সময় মাইকিংয়ের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন মেনে চলা, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি না চালানো এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিমানবন্দরসংলগ্ন সড়কের কর্মসূচিতে বিআরটিএ’র ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাসুদ আলমসহ সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। এ ছাড়া পরিবহন মালিক-শ্রমিক, রোভার স্কাউট, ড্রাইভারস ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, চালক, যাত্রী, পথচারী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট সবার সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমেই সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।
রোড শোতে চালকদের নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, সিটবেল্ট ব্যবহার, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা এবং বৈধ লাইসেন্স ও ফিটনেস ছাড়া যানবাহন না চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। মোটরসাইকেল আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার এবং পথচারীদের জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভারব্রিজ দিয়ে রাস্তা পারাপারের বিষয়ে সচেতন করা হয়। পাশাপাশি পরিবহন মালিকদের দক্ষ চালক নিয়োগ ও যানবাহনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
একটি জাতীয় দৈনিকে ২১ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত ‘তিন কোটি টাকার মাছ ছাড়তে খরচ ৪৫ কোটি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিল নার্সারি কার্যক্রমের ব্যয়কে পোনা কেনার সম্পূর্ণ ব্যয় হিসেবে উল্লেখ এবং প্রকল্পের অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রমের ব্যয়কে পোনা ছাড়ার ব্যয় হিসেবে উপস্থাপন করায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও ব্যয়কাঠামো সম্পর্কে বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ড. মো. খালেদ কনক, মৎস্য অধিদপ্তর, মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান, যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার ২৯টি বাঁওড়ের জন্য প্রস্তাবিত ‘নির্বাচিত বাঁওড় এলাকায় সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পটি প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অংশগ্রহণে সমাজভিত্তিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। নব্বইয়ের দশকে গঠিত সমিতিগুলোর সদস্য তালিকা হালনাগাদ, প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অন্তর্ভুক্তি এবং স্বচ্ছ হিসাব ও সুফল বণ্টনের মাধ্যমে সমাজভিত্তিক ব্যবস্থাপনা সুসংগঠিত করা এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ায় গভীরতা ও পানি ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে শুষ্ক মৌসুমসহ সারা বছর পানি ধরে রাখার উপযোগী মাছের আবাসস্থল গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রকল্পে বাঁওড়ের নির্বাচিত অংশ খননে ১১ কোটি ২১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছের সংরক্ষণ ও প্রজনন অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে ২৯টি অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠায় ২ কোটি ৩২ লাখ টাকার সংস্থান রয়েছে। বিদ্যমান ৩৫টি পোনা উৎপাদন পুকুর সংস্কারে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, যান্ত্রিকীকরণে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং ছয়টি গভীর নলকূপ স্থাপনে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের উদ্দেশ্য পোনা উৎপাদনের অবকাঠামো ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নয়ন করা। জরাজীর্ণ ছয়টি বাঁওড় ব্যবস্থাপকের অফিস ভবন পুনর্নির্মাণে প্রস্তাবিত ৭ কোটি ৩১ লাখ ৮ হাজার টাকা প্রশিক্ষণ, পোনা সরবরাহ ও সম্প্রসারণ সেবার অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ।
সংবাদে উল্লিখিত ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা পাঁচ বছরে ২৯০টি বিল নার্সারি স্থাপন কার্যক্রমের ব্যয়। এর বাইরে রুইজাতীয় ও দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণে পৃথকভাবে ৭ কোটি ৬১ লাখ ৯৩ হাজার টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। আবার আট লাখ টাকার সরঞ্জাম খাতে চারটি ডেস্কটপের সঙ্গে দুটি ল্যাপটপ, চারটি প্রিন্টার ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে সম্পূর্ণ অঙ্ককে চারটি ডেস্কটপের মূল্য হিসেবে দেখানো যথাযথ নয়।
প্রকল্পে মাছের উৎপাদন ১০ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্য রয়েছে। এ বৃদ্ধি অর্জিত ও অব্যাহত থাকলে প্রকল্প সমাপ্তির পরও অতিরিক্ত উৎপাদন ও আয়ের সুফল পাওয়া যাবে। উল্লিখিত অঙ্কগুলো প্রস্তাবিত ব্যয়। অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা, সরঞ্জামের স্পেসিফিকেশন ও দর, জনবল যথাযথ মূল্যায়ন ও যৌক্তিকীকরণের বিষয়। উল্লেখ্য যে, প্রস্তাবিত প্রকল্পটির মূল্যায়ন সভা (পিইসি) এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি।
অসম্পূর্ণ ব্যয়চিত্র উপস্থাপনে জনমনে বিভ্রান্তি এবং মৎস্য অধিদপ্তর ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। জনস্বার্থে প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে অনুসন্ধান ও পর্যালোচনাকে গুরুত্ব দিয়ে উল্লিখিত তথ্যগত সংশোধন ও ব্যাখ্যা যথাযথ গুরুত্বসহ প্রতিবাদলিপিটি আগামী সংখ্যায় প্রকাশের অনুরোধ জানাচ্ছি।
হঠাৎ বুকে ব্যথার কারণে এভার কেয়ার হাসপাতালের সিসিইউ-তে ভর্তি করা হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডক্টর আব্দুল মঈন খানকে।
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান ।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ২টায় বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন-এমপি আব্দুল মঈন খানকে দেখতে গিয়েছিলেন। তিনি তাদের পরিবার-দল ও সরকারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর মাধ্যমে আল্লাহর দরবারে দোয়া চেয়েছেন।
দেশে অবৈধ মোবাইল ফোন উৎপাদন, চোরাচালান এবং অনুমোদনহীন বিক্রির মাধ্যমে বার্ষিক প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি রোধে যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে ‘জাতীয় যন্ত্রপাতি শনাক্তকরণ নিবন্ধন ব্যবস্থা (এনইআইআর)’ পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত করা এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় (এমএফএস) জালিয়াতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূল্যায়ন অনুযায়ী, অবৈধ মোবাইল ফোনের কারণে সরকার বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। বিটিআরসির কমিশন সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্রে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে এনইআইআরের মূল কার্যক্রমগুলো চালু করা হবে। তবে এ পর্যায়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে না। বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে সচল থাকা হ্যান্ডসেটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। পাশাপাশি অনুমোদিত আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকদের কাছে অবিক্রিত হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বরের তথ্যও ব্যবস্থাটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিদেশ থেকে আনা অবৈধ, চোরাচালানের মাধ্যমে প্রবেশ করা এবং শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা হ্যান্ডসেট শনাক্ত করে বন্ধ করার ব্যবস্থাও থাকবে।
দ্বিতীয় ধাপে উপযুক্ত সময়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে ফোনের মালিকানা যাচাই, ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত এবং আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিটিআরসির কমিশন সভায় সংস্থাটির স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট (এসএম) বিভাগের মহাপরিচালক এনইআইআর পুনরায় চালুর বিষয়ে বিস্তারিত কার্যপত্র উপস্থাপন করেন। এতে বলা হয়, ২০২১ সালের ১ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে অবৈধভাবে আমদানি করা ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করা এবং ক্লোন হ্যান্ডসেট প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো চালু করা হয়নি। ফলে এনইআইআর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করবে বিটিআরসির এসএম বিভাগ। দুই ধাপে ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সরকারের পূর্বানুমোদন পেতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।
রাজস্ব ফাঁকি রোধ, টেলিযোগাযোগ খাতের শৃঙ্খলা নিশ্চিত এবং নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর তাগিদ দিয়ে আসছে। ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর এনবিআর অবৈধ হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে বিটিআরসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায়। পরে ২০২৫ সালের ২৮ জুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এ ব্যবস্থা পুনরায় চালুর পরিকল্পনায় প্রাথমিক অনুমোদন দেয়।
২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় দেশের সব নেটওয়ার্কে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর নির্দেশনা দেয়া হয়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি থাকলেও জনভোগান্তি এড়ানোর কথা বিবেচনায় নিয়ে ফোন বন্ধ করার গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমগুলো কার্যকর করা হয়নি।
২০২৬ সালের ৯ জুন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আনুষ্ঠানিক চিঠিতে অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয় তুলে ধরে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা জানায়। একই বছরের ২ জুলাই আইএমইআই, সিম নিবন্ধন এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির ঝুঁকি নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায়ও ব্যবস্থাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর সুপারিশ করা হয়।
সর্বশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে এনইআইআর চালুর সুপারিশ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, অনিবন্ধিত, চোরাই ও ক্লোন হ্যান্ডসেট সংঘবদ্ধ অপরাধ, মোবাইল ফোন চুরি এবং মোবাইল আর্থিক সেবায় জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত প্রতিটি যন্ত্রের পরিচয় ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা প্রয়োজন বলে মনে করছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
এদিকে, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শুধু দ্বিতীয় প্রজন্মের (২জি) নেটওয়ার্ক-সমর্থিত মোবাইল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার বন্ধে পর্যায়ক্রমিক রূপরেখাও অনুমোদন করেছে বিটিআরসি। এ পরিকল্পনার আওতায় এ ধরনের ফোনের অনুমোদন, উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।
অবৈধ অভিবাসনবিরোধী অভিযান ও বহিষ্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশিসহ ১৫৭ জন অবৈধ অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। পুনঃপ্রবেশ ঠেকাতে বহিষ্কৃত এই অভিবাসীদের সবাইকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) কেদাহ রাজ্যের বেলান্তিক অভিবাসন আটককেন্দ্রে থাকা এসব অভিবাসীকে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (কেএলআইএ) টার্মিনাল-১ দিয়ে নিজ দেশে পাঠানো হয়। ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশিও রয়েছেন। তবে কতজন বাংলাদেশি রয়েছেন তা জানা যায়নি।
মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম) কেদাহ রাজ্য শাখার তথ্য অনুযায়ী, ফেরত পাঠানো ১৫৭ জনের মধ্যে ১২৮ জন পুরুষ, ২৬ জন নারী এবং তিনজন ছেলে শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে চীন, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ সুদান, অস্ট্রেলিয়া, নাইজেরিয়া, ভিয়েতনাম ও মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন।
এসব অভিবাসীকে কেদাহ রাজ্যের সিক এলাকার বেলান্তিক অভিবাসন আটককেন্দ্রে আটক রাখা হয়েছিল। মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং ১৯৬৩ সালের অভিবাসন বিধিমালার আওতায় তাদের সাজা ভোগ সম্পন্ন হওয়ার পর নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ফেরত পাঠানোর পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করেন কেদাহ অভিবাসন বিভাগের ২১ কর্মকর্তা। তাদের নেতৃত্ব দেন বেলান্তিক অভিবাসন আটককেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, প্রত্যাবাসনের বিমানভাড়া বহন করেছেন সংশ্লিষ্ট আটক ব্যক্তিরা, তাদের পরিবারের সদস্যরা এবং নিজ নিজ দেশের দূতাবাস। অর্থাৎ, এক্ষেত্রে বিমানভাড়ার ব্যয় মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বহন করা হয়নি।
এদিকে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মালয়েশিয়ায় পুনঃপ্রবেশ ঠেকাতে দেশটির অভিবাসন বিভাগের ব্যবস্থায় তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
কেদাহ অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান, নজরদারি, আটক, আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। মালয়েশিয়ার নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।