কৃষক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে খালি হাতে ফেরেননি নেতারা। তাদের সবার হাতে গণভবনে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি উপহার দিয়েছেন শেখ হাসিনা।
দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কৃষক লীগ সভাপতি সমীর চন্দ্র চন্দের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আজ শুক্রবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তাদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ প্রধান। অনুষ্ঠান শেষে বাসায় ফেরার সময় সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে তাদের প্রত্যেকের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তদারকিতে গণভবনে উৎপাদিত ব্যাগ ভর্তি সবজি উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়। উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদেরও এসব উপহার দেওয়া হয়।
সবজির ব্যাগে ছিল গণভবনে উৎপাদিত পালং শাক, পাট শাক, ডাটা শাক, পুঁইশাক, লাউ, করলা, বরবটিসহ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে শাকসবজি পেয়ে কৃষক লীগ নেতাদের বেশ উৎফুল্ল হতে দেখা যায়। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এ প্রসঙ্গে কৃষক লীগ সভাপতি সমীর চন্দ্র চন্দ বলেন, গণভবনে উৎপাদিত লাউ, চিচিঙ্গা, করলা, বরবটি, ঢেঁড়স, বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার নিজস্ব তত্ত্বাবধানে তার বাসভবনে উৎপাদিত শাকসবজি কৃষক লীগ নেতা-কর্মীদের উপহার দেওয়ায় যেমন উৎফুল্ল হয়েছি, তেমনি নিজেরাও প্রধানমন্ত্রীর মতো একজন ভালো খামারি হওয়ার জন্য প্রেরণা পেয়েছি।
সমীর চন্দ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এক ইঞ্চি জায়গাও ফাঁকা না রেখে উৎপাদনের আওতায় আনতে হবে। তাইলে খাদ্যের জন্য আমাদের কারো মুখাপেক্ষী হতে হবে না। আমাদের নিয়ে কেউ ষড়যন্ত্র করতে পারবে না।
এর আগে গণভবনের ব্যাংকুয়েট হলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানান সংগঠনের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ সরকার বিটু।
উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের এ দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষক লীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
শারদীয় দুর্গোৎসবের সময় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে গোটা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় দশ হাজার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আসন্ন আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এই বিশেষ দায়িত্ব পালন করবেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা। বিজিবি সদর দপ্তরের অপারেশন ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান যে, এই ধর্মীয় উৎসবটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই কৌশলের আওতায় নিয়মিত যাতায়াত বা টহল বৃদ্ধি, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখা হবে।
যেকোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও সাম্প্রদায়িক প্ররোচনার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক দৃষ্টি রাখা এবং উদ্ভূত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান আরও জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখার আট কিলোমিটারের মধ্যে এবং ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টারের কাছাকাছি এলাকার মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপে সরাসরি নিরাপত্তা সহায়তা দেবে বিজিবি। এর পাশাপাশি তুলনামূলক দূরবর্তী ও দুর্গম অঞ্চলে দ্রুত গতিতে টহল এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার স্বার্থে পর্যাপ্তসংখ্যক অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকায় বিজিবি মোতায়েন ও তাদের কার্যক্রমের পরিধি সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে তা নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজন সাপেক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে টহল দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা এবং যেকোনো জরুরি মুহূর্তে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সদা প্রস্তুত থাকবে বিজিবি।
তিনি আরও যোগ করেন যে, দুর্গাপূজা হলো আমাদের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ। সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকরা যাতে কোনো ধরনের ভীতি ছাড়াই সম্পূর্ণ নিরাপদে ও আনন্দের সঙ্গে তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বদা বদ্ধপরিকর থাকবে।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠা, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন রূপরেখা বাস্তবায়নে বর্তমান প্রশাসনের নেওয়া নীতিগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক সম্পূর্ণ একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করার পর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত নাজুক ও সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিল। বিগত আমলের বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার আর্থিক দায়ভার বর্তমান প্রশাসনকে বহন করতে হচ্ছে, যার সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাবও যুক্ত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার অর্থনীতিকে সঠিক ট্র্যাকে ফেরাতে যেসব কার্যকর সংস্কারমূলক পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে, বিশ্বব্যাংক তা গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের পাশে থেকে সার্বিক সহায়তা প্রদানে বিশ্বব্যাংক অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার পর আগামী দিনের অগ্রগতির জন্য যে সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও পথনকশা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার সঙ্গে সংস্থাটির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। সম্মিলিতভাবে এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে দুই পক্ষই একসঙ্গে কাজ করবে।
বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চাওয়ার গুঞ্জন প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত বা পাকা সিদ্ধান্ত হয়নি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক আলোচনা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যা চূড়ান্ত হতে আগামী আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোকে তিনি ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।
মূল্যস্ফীতি এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক সংস্থার প্রাক্কলন সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাসকে খাটো বা বিতর্কিত করতে চায় না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব গবেষণালব্ধ পদ্ধতি ও হিসাবের ভিত্তিতে এই প্রাক্কলন করে থাকে। সরকার নিজের মতো করে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সময়ের ব্যবধানে অর্থনৈতিক সূচকগুলোর প্রকৃত চিত্র সবার সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি ট্যাক্সি ও ট্রাক ড্রাইভারসহ দক্ষ শ্রমিকদের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে এক ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও আরব আমিরাতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং মুসলিম ভ্রাতৃত্বের গভীর বন্ধন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিশেষ করে দুই দেশের এই ঐতিহাসিক কূটনৈতিক ভিত্তি যা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী নেতৃত্বে সুসংহত হয়েছিল, তা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।
বৈঠকে সম্প্রতি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকের ধারাবাহিক আলোচনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
এ সময় দুই দেশের ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া, জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার আরও প্রসারিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
বিশেষ করে আমিরাতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য ট্যাক্সি ড্রাইভার ও ট্রাক ড্রাইভারের পেশায় কাজের সুযোগ সৃষ্টি এবং অধিক সংখ্যক দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বের সাথে কথা বলেন উভয় প্রতিনিধি।
এছাড়া দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, বাংলাদেশে ইউএই’র বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা জোরদার এবং কৌশলগত অবকাঠামো ও শিল্প খাতে নতুন অংশীদারিত্ব সৃষ্টির সুযোগ নিয়ে বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়। সূত্র: বাসস
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মন্তব্য করেছেন যে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য সরকার প্রণোদনা দিলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্যের কারণে তা সঠিক উপায়ে বণ্টন হয় না।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শরৎ উৎসব ও নবীন বরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি সেবা ও সহায়তা জনগণের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছাতে প্রশাসনিক ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে শুধু রাজনৈতিক সংস্কারেই মুক্তি নেই, বরং এর পাশাপাশি আমলাতন্ত্র, সিভিল প্রশাসন এবং প্রকৌশল বিভাগের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও কাঠামোগত পরিবর্তন আনা জরুরি।
নবগঠিত বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে সুগম করতে দেশের রাজনৈতিক শক্তি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সাধারণ নাগরিকদের একযোগে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি যোগ করেন যে দেশ গঠনের এই মহৎ যাত্রায় কেবল সরকারদলীয় নয়, বরং বিরোধী দলগুলোকেও অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্থ-সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের যেকোনো আইনি জটিলতা দ্রুত নিরসনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সরকার। মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বেসরকারি সংস্থা রামরু আয়োজিত ‘সোনার মানুষ সম্মিলন-২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি উল্লেখ করেন, প্রবাসীদের মামলা পরিচালনা ও অধিকার সুরক্ষায় প্রস্তাবিত এই বিশেষ আদালত গঠনের বিষয়টি বর্তমানে নীতিগত খসড়া পর্যায়ে রয়েছে এবং অচিরেই তা চূড়ান্ত রূপ নিয়ে বাস্তবায়িত হবে।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আরও জানান, প্রবাসী নাগরিকদের সার্বক্ষণিক আইনি সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকারি লিগ্যাল এইড কাঠামোর মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা আইনি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে, যা দ্রুতই চালু করা সম্ভব হবে। রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জাতীয় অর্থনীতির মূল সোপান আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে জনশক্তি রপ্তানিই দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের অভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় বাংলাদেশের কর্মীরা এখনও তুলনামূলক কম পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। অভিবাসন প্রক্রিয়ায় যুক্ত অসাধু ব্যবসায়ীদের অপতৎপরতাই এই সংকটের অন্যতম কারণ উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, এই অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার সময় এসেছে এবং তাদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে কর্মীদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নদীপথে সাধারণ যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। জরুরি উদ্ধারকারী জাহাজ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা, ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল কঠোরভাবে বন্ধ করা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধ এবং রাতে স্পিডবোট চলাচল স্থগিত করাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জন্য ১৬ দফা নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। গত ৮ অক্টোবর মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ছন্দা পালের স্বাক্ষরে জারি করা এই আদেশটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে অবিলম্বে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, টার্মিনালের নির্ধারিত পন্টুন ছাড়া অন্য কোনো স্থান থেকে যাত্রী ওঠানামা করানো যাবে না এবং সদরঘাটসহ বিভিন্ন পয়েন্টে নদীর মাঝপথে ছোট নৌকা বা ট্রলারের মাধ্যমে ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে যাত্রী তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। একই সাথে প্রতিটি নৌযানে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করা যায়। যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে ত্রুটিযুক্ত ও ফিটনেসবিহীন লঞ্চ, নৌযান ও ফেরি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাতের বেলা স্পিডবোট চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে এবং দিনের বেলায় চলাচলের সময় নদীর মাঝপথ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি যাত্রীদের জন্য লাইফ জ্যাকেট পরিধান নিশ্চিত করতে হবে।
জরুরি উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনার সুবিধার্থে উদ্ধারকারী জাহাজ সবসময় প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ সক্ষমতা জোরদার এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা কঠোরভাবে অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সদরঘাট নৌ টার্মিনাল ও পন্টুন চত্বরে হকার ও ক্যানভাসারদের অবস্থান নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি টার্মিনালের প্রবেশপথে নৌযানের রুট ও পন্টুনের তথ্য প্রদর্শন এবং অবৈধ পার্কিং বন্ধের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া ফেরিঘাটে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যানবাহনের সারিবদ্ধ প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং ফেরিতে ওঠার আগে চালক ছাড়া গণপরিবহনের অন্যান্য যাত্রীদের গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার নিয়ম কার্যকরে ঘাটে দিকনির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড স্থাপনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে টার্মিনালগুলোতে নারী, শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সুবিধার জন্য নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা, বিশ্রামাগার ও মোবাইল ফোন চার্জিংয়ের ব্যবস্থা উন্নত করার নির্দেশ রয়েছে।
নৌযাত্রায় জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যোগাযোগের জন্য প্রতিটি লঞ্চে চারটি জরুরি হটলাইন নম্বর প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, ফায়ার সার্ভিস ১০২, বিআইডব্লিউটিএর যাত্রীসেবা ১৬১১৩ এবং কোস্ট গার্ডের ১৬১১১। এর পাশাপাশি নদীপথের আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য জানতে ১০৯০ অথবা ৪১০২৫৭৩০ ও ৪১০২৫৭৩১ নম্বরে যোগাযোগের জন্য যাত্রীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে বিভিন্ন রুটের মোট ৬১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। শনিবার থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত এসব ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যগামী ৯ হাজার ২৬৯ জন যাত্রী চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ২২টি সরাসরি এবং ৩৯টি বিভিন্ন ট্রানজিট রুটের ফ্লাইট। সরাসরি যাত্রার ক্ষেত্রে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯টি, রিয়াদ এয়ারের ৭টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৪টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে ট্রানজিট সুবিধায় রিয়াদগামী যাত্রীদের বহন করার কথা থাকলেও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি, সালামএয়ারের ৩টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর রিয়াদমুখী সংযোগ স্থগিত থাকায় ঢাকা থেকেও এসব যাত্রীকে গন্তব্যে পাঠানো সম্ভব হয়নি।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় রবিবার রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। বিগত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচ দফা আক্রমণ চালানো হয়। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবারের হামলায় টার্মিনালের অবকাঠামো ও সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এক বৈমানিকসহ তিন সৌদি নাগরিকের প্রাণহানি ঘটে।
বিগত দুই মাস ধরে সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী এবং হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে রিয়াদ বিমানবন্দর। এর আগে সৌদির আকাশসীমা ব্যবহারকারী যেকোনো এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে কঠোর পরিণতির হুমকি দিয়েছিল হুথি গোষ্ঠী, যার ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের হামলা সংঘটিত হয় এবং ফলশ্রুতিতে আন্তর্জাতিক আকাশপথে বড় আকারের এই বিপর্যয় নেমে আসে।
নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ। প্রস্তাবিত ঋণ কর্মসূচির বেশিরভাগ শর্তের সঙ্গেই একমত হয়েছে বাংলাদেশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) থাইল্যান্ডে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলন, ‘ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাথে তো আমরা একটা ফ্রেমওয়ার্ক, পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টে তো যাচ্ছি, ওটা আন্ডার প্রসেস। এর মাধ্যমে আমরা ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সাথে আগামী দিনে কোঅপারেশনগুলো কী হবে, ওই পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টের মধ্যে ওটা থাকবে। এবং ইন দ্য মিন টাইম ওয়ার্ল্ড ব্যাংক সাপোর্ট তো দিয়ে যাচ্ছে আমাদের, সমস্যা নাই। আই থিংক উই উইল হ্যাভ এ প্রোগ্রাম হুইচ উইল বি প্রিটি গুড।’
তিনি বলেন, জনগণের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতি ও এজেন্ডার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
আইএমএফের সাথে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘হ্যাঁ, এটার অগ্রগতি হচ্ছে। ওদের সাথে অলরেডি ডায়ালগ চলছে। এর মধ্যে অনেকগুলো মিটিং হয়েছে এবং এটা চলছে। তাদের সাথে কালকে পরশু আবার মিটিং আছে। সুতরাং আইএমএফের সাথে প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনা চলছে।’
আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আইএমএফের কিছু কন্ডিশন আছে, এগুলো আমরা আলাপ করছি, এগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যাবে। আর কিছু বিষয়ে আমরা বলছি যে সিকোয়েন্সিং করতে হবে... আইএমএফের সাথে আমাদের যে ডিফারেন্সগুলো আছে, এগুলো সমাধান করা যাবে। এটা আলোচনা চলছে।
বিশ্ব অর্থনীতির নীতি-নির্ধারণী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এ সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, অর্থমন্ত্রী ও উন্নয়ন সহযোগীসহ ১৯১ দেশের ১৫ হাজারেরও বেশি প্রতিনিধি।
সৌদি আরবে নিরাপত্তা সংকটের কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী ও সৌদিগামী যাত্রীরা। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এখন পর্যন্ত ২৮টি ফ্লাইটের ৪ হাজার ৮৫১ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সরাসরি সৌদিগামী ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট ফ্লাইটের যাত্রীরাও এ দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের কারণে কেউ বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন, কেউ ফিরে গেছেন গ্রামের বাড়িতে। নতুন ফ্লাইটের অপেক্ষার পাশাপাশি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া, চাকরিতে যোগ দিতে না পারা এবং অতিরিক্ত খরচের দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
সোমবার (১২ অক্টোবর) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট শাখার স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর এ তথ্য জানান। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চারটি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুটি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের তিনটি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের তিনটি এবং ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ১৬টি ট্রানজিট ফ্লাইট রয়েছে।
এদিকে, সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সময় ও তারিখ অনুযায়ী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে।
স্থগিত ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন যাত্রাসূচি সম্পর্কে যথাসময়ে হালনাগাদ তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে বিমান।
এর আগে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা-রিয়াদ রুটের ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এর ফলে রিয়াদগামী যাত্রীদের যাত্রাসূচি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ফ্লাইট স্থগিতের কারণে যাত্রীদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। একই সঙ্গে এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ধৈর্য ও সহযোগিতা কামনা করেছে সংস্থাটি।
এর আগে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছিল, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ থাকায় আটটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ২ হাজার ৯৫১ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন। বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুটি, ইউএস-বাংলার একটি, সৌদিয়ার তিনটি এবং রিয়াদ এয়ারের দুটি রয়েছে। তবে ইন্ডিগো ও হিমালয়া এয়ারলাইন্সের দাম্মামগামী কানেক্টিং ফ্লাইটের তথ্য ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, রোববার ও সোমবারের ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের বিজি৩৩৯ ও বিজি৩৪০ ফ্লাইট স্থগিত ছিল। রিয়াদের বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধের সময়সীমা বাংলাদেশ সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোর ৩টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। যাত্রীদের বিমানবন্দরে না আসার পরামর্শ দিয়ে ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়ে পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-দাম্মাম রুটের বিজি৩৪৯ ফ্লাইটটি প্রায় ৩০ মিনিট বিলম্বের পর সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে যায়।
ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার শঙ্কা: সৌদি আরবে চাকরি পেতে সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করেছেন মোহাম্মদ হাসান। গত রোববার বিকেলে ঢাকার বিমানবন্দরে অপেক্ষার সময় তিনি জানান, সোমবার (১২ অক্টোবর) ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে রিয়াদে পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তার কোম্পানি বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছিল। হাসান বলেন, ব্যবস্থা না হলে কী হবে, তা তিনি জানেন না। চার সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি।
হাসানের মতো অনেক কর্মীর জন্য ফ্লাইট বাতিল শুধু যাত্রা বিলম্বের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাদের চাকরি, ঋণ এবং পরিবারের জীবিকা। প্রথমবার বিদেশে কাজে যেতে চাওয়া কর্মীদের অনেকে জমি বিক্রি, ঋণ কিংবা পরিবারের সঞ্চয় থেকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে ভিসা ও চাকরির ব্যবস্থা করেছেন। নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারলে তাদের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মোহাম্মদ রেজাউল করিম তিন মাসের ছুটি শেষে দাম্মামে কাজে ফিরছিলেন। ইন্ডিগোর কানেক্টিং ফ্লাইট ধরতে দুপুরে বিমানবন্দরে গিয়ে জানতে পারেন, তার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। দীর্ঘ সময় খাবার ও পানি ছাড়াই অপেক্ষা করার কথা জানান তিনি। সন্ধ্যায় ট্রাভেল এজেন্সি তাকে ঢাকায় রাত কাটিয়ে পরদিন ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করতে বলে। একই ধরনের ভোগান্তিতে পড়েন মোহাম্মদ আরিফ ও মোহাম্মদ তামিম ইসলাম।
সাইমন নামের আরেক প্রবাসী কাঠমান্ডু হয়ে হিমালয়া এয়ারলাইন্স দাম্মাম যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাকে ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম রিয়াদের ফ্লাইট ধরতে এসে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন। দুই সন্তান ও বয়স্ক বাবা-মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব তার ওপর। অন্যদিকে, মোহাম্মদ শাহীনকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছাতে হবে। তা না হলে ছুটির মেয়াদ বাড়ানো বা নতুন করে ভ্রমণের অনুমতি নিতে হবে। অনিশ্চয়তার মধ্যে তাকেও গ্রামের বাড়িতে ফিরে এজেন্সির খবরের জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়।
চার মাসের ছুটি শেষে কাজে ফিরতে চাওয়া নড়াইলের শংকর কুমার দাসও বিমানবন্দরে অপেক্ষার পর গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া এবং ঋণ পরিশোধের দায় তাকে কাজে ফিরতে বাধ্য করছে। তার ভাষায়, সংঘাত থাকুক বা না থাকুক, জীবিকার তাগিদে তাকে কাজে ফিরতেই হবে।
দূরদূরান্ত থেকে ঢাকায় আসা কর্মীদের ভোগান্তি আরও বেশি। যাতায়াত, থাকা-খাওয়ার বাড়তি ব্যয় এবং আয়হীন অপেক্ষা তাদের আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে। ফ্লাইট বাতিলের খবর অনেকে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর জানতে পেরেছেন। এরপর তাদের নিজ নিজ রিক্রুটিং এজেন্সি বা নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
বিকল্প ফ্লাইটের চেষ্টা, অনিশ্চয়তা কাটেনি: এমআরজে গ্লোবালের কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, ইন্ডিগোর ফ্লাইটে যাত্রা ব্যাহত হওয়া কর্মীদের জন্য বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। তবে কত দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করা যাবে, অতিরিক্ত খরচ কে বহন করবে এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হতে চলা কর্মীদের নিয়োগকর্তারা ছুটি বাড়াবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
গত শনিবার রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। ওই হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, আহত চার বাংলাদেশি রিয়াদের একটি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন।
শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্সে প্রভাবের শঙ্কা: সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার এবং প্রবাসী আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৯৭৯ জন বাংলাদেশি বিদেশে চাকরির ছাড়পত্র পেয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯২, অর্থাৎ প্রায় ৩২ শতাংশ বেশি। শুধু সেপ্টেম্বরেই সৌদি আরবে গেছেন ৩২ হাজার ৯১৫ জন বাংলাদেশি কর্মী।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে আসা মোট ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সের মধ্যে সৌদি আরব থেকে এসেছে ৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে আসা ৮ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্সের মধ্যে সৌদি আরবের অবদান ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার, যা মোট প্রবাহের ১৯ দশমিক ২ শতাংশ। এখন পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ধাক্কার তথ্য না থাকলেও সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে কর্মীদের কাজে যোগদান ও ছুটি শেষে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হতে পারে। এতে প্রবাসী আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার নির্দিষ্ট সময় এবং যাত্রা পুনরায় শুরুর নিশ্চয়তা না থাকায় হাজারো যাত্রীর অনিশ্চয়তা কাটেনি। সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলো বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ও দ্রুত ফ্লাইট চালু না হলে যাত্রীদের ব্যক্তিগত দুর্ভোগের পাশাপাশি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্স প্রবাহেও চাপ তৈরি হতে পারে।
কন্যাশিশুদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অন্যায়, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হলে নীরব থেকো না। বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে সঙ্গে জানাও; প্রয়োজনে হেল্পলাইনের সহায়তা নাও। তোমাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে এক ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মনে রেখো, তোমাদের সাফল্যের সঙ্গে শুধু তোমাদের পরিবার নয়; সমাজ এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎও জড়িয়ে আছে।
কন্যাশিশুদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হও। শিক্ষাকে আঁকড়ে ধরো, দক্ষতা অর্জন করো এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নাও। স্বপ্ন দেখতে ভয় পেয়ো না। তোমাদের স্বপ্ন বড় হোক, প্রস্তুতি হোক দৃঢ়, আর লক্ষ্য অর্জনে থাকুক অধ্যবসায়।
অভিভাবকদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনাদের প্রতি বিশেষ আহ্বান-কন্যাকে বোঝা নয়, সম্ভাবনা হিসেবে দেখুন। ছেলে ও মেয়েকে সমান মর্যাদা দিন। ছেলে সন্তানকে ছোটবেলা থেকে মেয়েদের সম্মান করতে, তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে শেখান। বিয়ের জন্য সঞ্চয়ের আগে মেয়ের শিক্ষা ও কল্যাণে বিনিয়োগ করুন। সংসারের চাবির পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার চাবিটিও তার হাতে তুলে দিন।
সমান অধিকারের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ছেলের মতো মেয়েকেও নিজের যোগ্যতায় সফল হওয়ার সুযোগ দিন, দক্ষ করে তুলুন এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সামর্থ্য অর্জনে সহযোগিতা করুন।
কন্যাশিশুর বিশ্বজয়ের জন্য পরিবর্তন জরুরি উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আর সেই পরিবর্তন সম্ভব। প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং সর্বোপরি মানসিকতার পরিবর্তন। এসব ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতা ও শিক্ষক, কাজি, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, এক ডানায় ভর করে কোনো পাখি যেমন আকাশে উড়তে পারে না, তেমনি নারী ও কন্যাশিশুকে পেছনে রেখে কোনো সমাজ ও জাতি-উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছাতে পারে না। এ প্রসঙ্গে নারী জাগরণের অগ্রদূত মহীয়সী বেগম রোকেয়ার কথা মনে রাখতে হবে। আমরা সমাজের অর্ধাঙ্গ। আমরা পড়িয়া থাকিলে সমাজ উঠিবে কী রূপে।’
কন্যাশিশুর জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আসুন, আমরা এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে প্রতিটি কন্যা নিরাপদে জন্ম নেবে, নির্ভয়ে বেড়ে উঠবে, স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা করবে, দক্ষতা অর্জন করবে, নিজের পায়ে দাঁড়াবে এবং একদিন গর্বের সঙ্গে বলবে—এই দেশ আমার। এই ভবিষ্যৎও আমার। শিশু বিয়ে আর নয়। বৈষম্য আর নয়। কন্যার স্বপ্ন থামবে না।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং মানবপাচার প্রতিরোধে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ ও ইইউর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইইউর অভ্যন্তরীণ বিষয় ও অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনারের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল।
সাক্ষাৎকালে ভিসা প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। জালিয়াতি প্রতিরোধ ও নথিপত্রের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে শিক্ষাগত সনদ, ব্যাংক স্টেটমেন্টসহ আর্থিক নথিতে কিউআর কোড সংযোজনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
এ ছাড়া ইউরোপে বসবাসরত বাংলাদেশিরা যাতে বৈধ চ্যানেলে সহজে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন এবং বাংলাদেশ থেকে মানসম্মত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ কর্মী পাঠিয়ে ইউরোপের শ্রমবাজারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা করেন তারা।
অভিবাসনের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদার, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ব্রেন ড্রেইনকে ব্রেন সার্কুলেশনে রূপান্তরের বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।
ম্যাগনাস ব্রুনার জানান, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন। অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধের পাশাপাশি বৈধ পথে অভিবাসন নিশ্চিত করতে ইইউ সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার নিয়মতান্ত্রিক, নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
তিনি ইইউ প্রতিনিধিদলকে সরকারের বিভিন্ন নীতিগত সংস্কার ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ এবং ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও প্রবাসী কার্ড চালুর বিষয়ে অবহিত করেন। বাংলাদেশ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ইইউ প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন সংস্থাটির পরিচালক হেনরিক নীলসেন ও ক্যাবিনেট সদস্য গ্রিগোরিওস ডেলাভেকোরাস। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ডেপুটি হেড অব ডেলিগেশন বাইবা জারিনা এবং সংস্থাটির একজন ফার্স্ট কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।
‘শিশুবিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’—এই প্রতিপাদ্যে দেশের নয় জেলায় নানা আয়োজনে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজশাহী, নীলফামারী, মাগুরা, ঝিনাইদহ, বান্দরবানের লামা, সাতক্ষীরার তালা, ময়মনসিংহের গফরগাঁও, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হয়। এসব আয়োজনে কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ পরিবেশে তাদের বেড়ে ওঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
বক্তারা বলেন, কন্যাশিশুকে বোঝা নয়, সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে। বাল্যবিয়ে একটি কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার পথে বড় বাধা। এ বাধা দূর করতে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
রাজশাহী ব্যুরো: জেলা প্রশাসন, মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, কন্যাশিশুর নিরাপদ শৈশব, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিন। উপস্থিত ছিলেন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইসরাত জাহানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা। সভা শেষে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৩০ জনের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির অনুদান হিসেবে ২৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।
নীলফামারী: জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. হুমায়ূন কবির। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নুজহাত তাসনীম আওন ও জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহায়েল পারভেজ। বক্তারা কন্যাশিশুর অধিকার, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
মাগুরা: জেলা প্রশাসন, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর ও শিশু একাডেমির যৌথ উদ্যোগে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল আওয়ালের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মামুনুর রহমান। বক্তব্য দেন শিশু একাডেমির কর্মকর্তা ইকবাল তালুকদার ও মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান। পরে স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির মধ্যে চেক এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
ঝিনাইদহ: জেলা প্রশাসন ও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে র্যালি ও আলোচনা সভা হয়। এতে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নারায়ণ চন্দ্র পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন ও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মুন্সী ফিরোজা সুলতানা। বক্তারা কন্যাশিশুর নিরাপদ বেড়ে ওঠা, শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং বৈষম্য দূর করে অধিকার প্রতিষ্ঠায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর জোর দেন।
লামা (বান্দরবান): বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ ও ইউএনডিপির উদ্যোগে র্যালি এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রভুজ বড়ুয়া। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা গোপাল কৃষ্ণ চক্রবর্তী, লাইনঝিরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজিদা ইয়াসমিন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে কন্যাশিশু ও নারীর ক্ষমতায়নবিষয়ক প্রকল্পের এডুকেশন ফ্যাসিলিটেটর মো. শামীম মিয়া। বক্তারা বলেন, কন্যাশিশুর সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্ব।
তালা (সাতক্ষীরা): উপজেলা প্রশাসন ও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা ও জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালক নাজমুন নাহার। সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মো. ইমান উদ্দীন, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাবিহা নাসরিন, সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান ও তথ্য আপা প্রকল্পের মুক্তি ঘোষ।
গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) : উপজেলা প্রশাসন ও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউসুফের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা খালেদা আক্তার। বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহ আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মো. আহসান হাবীব, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা): উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের উদ্যোগে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি বলেন, কন্যাসন্তানদের অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে না দিয়ে সুশিক্ষিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইফতেখার রহমান, সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির উদ্দিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) : উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মিকাইল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খালেদা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন থানার ওসি আ ফ ম আছাদুজ্জামান, পৌর বিএনপির সভাপতি সাহাদৎ হোসেন সনি, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহাজাত হোসেন পল্টন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম, সাংবাদিক আখতারুজ্জামান ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। বক্তারা বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং কন্যাশিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, একজন নাগরিক হিসেবে যার যে অধিকার তা নিশ্চিত করা সরকার প্রধান হিসেবে আমার দায়িত্ব।
তিনি বলেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে নয়, দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
শারদীয় দুর্গাপূর্জা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকা-১৭ আসনের ৮টি মন্দিরের প্রতিনিধিগণ দেখা করে তাঁকে পূজার আমন্ত্রণ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।
মতবিনিময়কালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর হিন্দুদের কল্যাণে সরকারের নানা উদ্যোগের প্রশংসা করেন নেতৃবৃন্দ। পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়িয়ে দেওয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিজেরাই বলেছেন এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে, আমরা তা করেছি। আরও কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণ হয়, আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে।’
দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।’
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, তাঁর মুসলমান কর্মীরা যেমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তেমনি হিন্দু কর্মীরাও একইভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। সেখানে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহতালা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।’
নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন দেশের নাগরিক হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আপনার যে অধিকার, আপনার যা প্রাপ্য, সরকারপ্রধান হিসেবে আমার যে কর্তব্য, আমি সেটাই পালন করার চেষ্টা করছি।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা থেকে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন বলে জানান।
তাঁরা বলেন, তাঁদের কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। বিএনপিকে ভোট দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন যে ভুল করেনি, তা এই সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপর বারবার প্রমাণ হচ্ছে। সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূর্জা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস, রাজিব কুমার আচার্য উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া মতবিনিময়কালে ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি ও বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতনও উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস