দুই দিনের সফরে ঢাকা আসছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। আগামী ২২ এপ্রিল সোমবার তিনি ঢাকায় পৌঁছবেন।
ঢাকায় এটি তাঁর প্রথম সফর। সফরে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি খাতে সহযোগিতার পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয় গুরুত্ব পাবে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, কাতারের আমিরের এই সফরে ১০টি চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক সই হবে। এই চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বন্দি বিনিময়, দ্বৈত কর প্রত্যাহার ও শুল্ক বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা।
সমঝোতা স্মারকের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ থেকে কাতারে জনশক্তি রপ্তানি, ধর্মীয় বিষয়ে সহযোগিতা, বন্দর ব্যবস্থাপনায় কাতারের প্রতিষ্ঠান মাওয়ানির যুক্ত হওয়া, উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা ও কূটনীতিকদের প্রশিক্ষণ।
জানা গেছে, ইরান-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাতের এই সময়ে কাতারের আমিরের এই সফরে আলোচনায় গুরুত্ব পাবে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি।
প্রসঙ্গত, ২০০৫ সালে কাতারের তৎকালীন আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি বাংলাদেশে এসেছিলেন। এর প্রায় দুই দশক পর তার ছেলে ও বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বাংলাদেশে আসছেন। নাম প্রকাশ না করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কূটনীতিক জানান, ২০১৭ সালে আরব লিগ, বিশেষ করে সৌদি আরবের নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্য ও আরব দেশগুলোর সঙ্গে কাতারের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছিল। ওই সময় কাতারের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ওপর সৌদি আরবের প্রবল চাপ ছিল। তখন বাংলাদেশ নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছিল। কারণ, বাংলাদেশের জনশক্তির প্রধান বাজার সৌদি আরব হলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী কাতারে কাজ করেন। ফলে
২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ওই সংকটে বাংলাদেশ কাতারের পাশে ছিল। ফলে দেশটি বাংলাদেশের ওপর সন্তুষ্ট।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির আসন্ন সফর উপলক্ষে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে দুই পক্ষের কূটনীতিকরা কাজ করছেন। তার আসন্ন সফরকে সামনে রেখে গত সোমবার দোহা থেকে একটি অগ্রবর্তী দল ঢাকায় এসেছে। তারা আমিরের সফর উপলক্ষে নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন এবং গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠক করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, কাতারের বন্দর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান মাওয়ানি কাতার চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনায় আগ্রহী। এখন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের প্রস্তাবে রাজি হলে কাতারের আমিরের ঢাকা সফরের সময় এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মার্চে কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। এটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। দেশটির আমিরের ঢাকা সফরে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে। ওই সমঝোতা স্মারকের আলোকে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের কাতারে কাজ করার কথা রয়েছে। এই মুহূর্তে কাতারের নৌবাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের একটি সমঝোতা স্মারক রয়েছে। এর আওতায় কোস্টগার্ডের লোকজন কাতারে কাজ করছেন।
ঢাকায় সড়ক ও পার্কের নামকরণ হবে কাতারের আমিরের নামে
এদিকে বাসস জানিয়েছে, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির নামে রাজধানী ঢাকায় একটি সড়ক ও পার্কের নামকরণ করা হচ্ছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন মিরপুরের কালশী এলাকায় বালুর মাঠে নির্মিতব্য পার্ক ও মিরপুর ইসিবি চত্বর থেকে কালশী উড়াল সেতু পর্যন্ত সড়কটি কাতারের আমিরের নামে নামকরণ করা হবে। আগামী মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির এই দুটি স্থাপনা উদ্বোধনের কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, কাতার বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে দু-দেশের মধ্যে চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের এই সম্পর্ক এবং আমিরের এই সফরকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে তাঁর নামে এই পার্ক ও রাস্তার নামকরণ করা হচ্ছে।
এ সময় তিনি তুরস্কের জাতির পিতা কামাল আতাতুর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, দুই দেশের বন্ধুত্বের নিদর্শন স্বরূপ কামাল আতাতুর্কের নামে রাজধানীর বনানীতে একটি সড়ক রয়েছে। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামেও তুরস্কে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে।
মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক জনসভায় কালশী এলাকার বালুর মাঠে বিনোদন পার্ক ও খেলার মাঠ করার ঘোষণা দেন। তিনি ওই এলাকার মানুষের জন্য উপহার হিসেবে ১৬ বিঘা জমি খেলার মাঠ ও পার্কের জন্য বরাদ্দ দেন।
সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর খায়রুল আলম জানান, মাঠ ও বিনোদন পার্কটিতে যুবকদের জন্য ক্রিকেট ও ফুটবল খেলার ব্যবস্থা এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। প্রবীণদের জন্য হাঁটার ব্যবস্থা এবং শিশুদের খেলাধুলার জায়গা থাকবে।
দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর ধারাবাহিক উদ্যোগে জাতীয় গ্রিডে নতুন করে গ্যাস সরবরাহের পথ খুলছে। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে আজ শনিবার জাতীয় গ্রিডে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হচ্ছে। এর পরবর্তী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে তিতাস ও বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের আরও চারটি কূপ উৎপাদনে এলে মোট প্রায় ৬৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর এই উদ্যোগকে জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প, সার ও অন্যান্য খাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি সক্ষমতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতার চাপও কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
বিজিএফসিএলের কর্মকর্তারা জানান, তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রায় ১৩ হাজার ফুট গভীর এই কূপটি শনিবার (আজ) উদ্বোধনের পরপরই জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। কূপটি থেকে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম জানান, কূপটি উৎপাদনে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে নতুন গ্যাস যুক্ত হবে। দেশীয় উৎস থেকে সরবরাহ বাড়ানোর ফলে গ্যাসের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
একে একে আসছে আরও তিন কূপ: শুধু তিতাস-২৮ নয়, গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে আরও কয়েকটি কূপের কাজ এগিয়ে চলছে। প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিতাস-২৮, ২৯, ৩০ ও কামতা-২ নম্বর কূপ খননের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে তিতাস-২৯ নম্বর কূপের মূল খননকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে লগিংসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম চলছে। এসব কাজ শেষ করে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে কূপটি উৎপাদনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কূপটি থেকে দৈনিক প্রায় ১০-১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।
তিতাস-৩০ নম্বর কূপের কাজও এগিয়ে চলছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এর কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই কূপ থেকেও দৈনিক প্রায় ১০-১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার প্রত্যাশা করছে বিজিএফসিএল।
অনুসন্ধান কূপ তিতাস-৩১ ঘিরে বড় প্রত্যাশা: গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন মজুত অনুসন্ধানের দিক থেকেও তিতাস-৩১ নম্বর কূপটি গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল কূপটির খননকাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৯২০ মিটার গভীরতায় পৌঁছেছে খননকাজ। কূপটির লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা ৫ হাজার ৬০০ মিটার, যা প্রায় ১০০ মিটার কমবেশি হতে পারে।
ভূতাত্ত্বিক কোনো জটিলতা না হলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে তিতাস-৩১ এর কাজ শেষ করার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কূপটি সফল হলে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। তবে তিতাস-৩১ এর গুরুত্ব শুধু সম্ভাব্য উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি একটি অনুসন্ধানমূলক কূপ হওয়ায় নতুন গ্যাস মজুত আবিষ্কারের সম্ভাবনাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক ধারণা, কূপটির মাধ্যমে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট নতুন গ্যাস মজুতের সন্ধান মিলতে পারে। তবে এই পরিমাণ এখনো অনুমাননির্ভর। কূপের খনন শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন স্তরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই মজুতের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে।
এরপর বাখরাবাদ-১১: তিতাস-৩১ এর কাজ শেষ হলে বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ১১ নম্বর গভীর কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। কূপটির লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মিটার। সফলভাবে খনন ও পরীক্ষা সম্পন্ন হলে বাখরাবাদ-১১ থেকে দৈনিক প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, তিতাস-২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং বাখরাবাদ-১১ থেকে প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। এর সঙ্গে তিতাস-২৮ এর সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট যোগ হলে পাঁচটি কূপ থেকে মোট সম্ভাব্য সরবরাহ দাঁড়াবে প্রায় ৬৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট।
জ্বালানি নিরাপত্তায় বাড়ছে দেশীয় উৎসের গুরুত্ব: বাংলাদেশের শিল্প, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে গ্যাসের চাহিদা দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। এই চাহিদা পূরণে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিকৃত এলএনজিও ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে নতুন দেশীয় কূপ থেকে অতিরিক্ত গ্যাস উৎপাদন হলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি সক্ষমতা তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হিসাবে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে বর্তমানে আনুমানিক দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত রয়েছে। তিতাস-৩১ এর অনুসন্ধান সফল হলে সেখানে নতুন মজুত যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে তিতাস ও বাখরাবাদের নতুন কূপগুলো বাংলাদেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় একটি নতুন সংযোজন হতে যাচ্ছে। আজ শনিবার তিতাস-২৮ থেকে যে সরবরাহ শুরু হবে, তা আগামী কয়েক মাসে আরও কয়েকটি কূপের উৎপাদনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। ফলে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন ও অনুসন্ধান—দুই ক্ষেত্রেই নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলছে।
দেশের বাড়তে থাকা পরিবহন চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রধান মহাসড়ক বা ট্রাঙ্ক হাইওয়ে নেটওয়ার্কের নতুন মহাপরিকল্পনা তৈরি করছে সরকার। চীনের অনুদানে এই পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।
প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনায় দেশের প্রধান অর্থনৈতিক কেন্দ্র, শিল্পাঞ্চল, বন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর মধ্যে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতে জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি বড় নদী পারাপারের সেতুগুলোকে একটি সমন্বিত যোগাযোগ নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে পরিকল্পনায় যুক্ত করা হবে।
এ লক্ষ্যে ১২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘প্রিপারেশন অব বাংলাদেশ ট্রাঙ্ক হাইওয়ে নেটওয়ার্ক প্ল্যান ফোকাসিং অন দ্য এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক অ্যান্ড মেজর রিভার ক্রসিং ব্রিজেস’ শীর্ষক কারিগরি সহায়তা প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের পুরো অর্থ চীন সরকার অনুদান হিসেবে দেবে। প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের অক্টোবরের মধ্যে মহাপরিকল্পনা তৈরির কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
অর্থনৈতিক করিডোরে জোর: সওজ কর্মকর্তারা জানান, নতুন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে দেশের কৌশলগত অর্থনৈতিক করিডোরগুলোকে শক্তিশালী করা। বন্দর, শিল্পাঞ্চল, বড় শহর ও আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রগুলোর মধ্যে উন্নত সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলার মাধ্যমে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াতের সক্ষমতা বাড়ানো হবে।
জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য রুট ও কাঠামো নির্ধারণের পাশাপাশি কোন কোন বড় নদীতে সেতু প্রয়োজন, সেগুলোও চিহ্নিত করা হবে। জাতীয় ও আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে এসব সেতুর পরিকল্পনা করা হবে। একই সঙ্গে সড়ক ও সেতু উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের একটি রূপরেখা তৈরি করা হবে। এতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সময়ে কোন প্রকল্প আগে নেওয়া প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
আগের মাস্টারপ্ল্যান থেকে ভিন্নতা: সওজ এর আগেও জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্ক নিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহায়তায় তৈরি ওই পরিকল্পনায় জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সার্বিক উন্নয়ন, বিভিন্ন শ্রেণির সড়কের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছিল।
নতুন ট্রাঙ্ক হাইওয়ে নেটওয়ার্ক পরিকল্পনার লক্ষ্য তুলনামূলকভাবে আরও কৌশলগত। এতে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক করিডোর, বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রগুলোর মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিশেষ গুরুত্ব পাবে নিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকারসম্পন্ন এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্ক। এর মাধ্যমে দীর্ঘ দূরত্বে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করার কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।
বড় নদী পারাপারের সেতুগুলোকেও এবার বিচ্ছিন্ন প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং জাতীয় ট্রাঙ্ক হাইওয়ে নেটওয়ার্কের সমন্বিত অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
সমন্বিত পরিকল্পনায় গুরুত্ব: প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেশে একটি সমন্বিত পরিবহন তথ্যভাণ্ডার ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতির কারণে বিভিন্ন সময়ে মহাসড়ক উন্নয়ন হয়েছে অনেকটা বিচ্ছিন্নভাবে। এর ফলে কোথাও কোথাও সড়কের প্রযুক্তিগত মান ও সক্ষমতার মধ্যেও পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নগরায়ন ও যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সওজ ইতোমধ্যে বিভিন্ন সড়ক সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। তবে জাতীয় পর্যায়ে প্রধান সড়ক নেটওয়ার্কের জন্য একটি সমন্বিত ও তথ্যভিত্তিক কৌশল প্রয়োজন বলে প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে এক্সপ্রেসওয়ে, বড় নদীর সেতু এবং কৌশলগত অর্থনৈতিক করিডোরকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতের সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগের অগ্রাধিকার নির্ধারণ আরও সুসংগঠিত হবে।
চীনের কারিগরি সহায়তা: পরিকল্পনাটি তৈরিতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেবে চীন। প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালের নভেম্বর ও ২০২১ সালের জুনে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ধারাবাহিকতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরে ২০২৫ সালের ২৬ জুন ট্রাঙ্ক হাইওয়ে নেটওয়ার্ক পরিকল্পনায় চীনের সহায়তার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
সওজ কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের সড়ক যোগাযোগ কাঠামো আরও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনের সময় ও ব্যয় কমানো, বন্দর ও শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সংযোগ শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরো জোরদারে চিকিৎসক প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যকর্মী বিনিময়, যৌথ গবেষণা এবং উন্নত স্বাস্থ্য প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্ককে আরো কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে দুই দেশের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
আজ চীনের হাইনান প্রদেশের হাইকো সিটিতে হাইনান জেনারেল পিপলস হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন মন্ত্রী।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী চীনের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং আধুনিক ও মানসম্মত হাসপাতাল নির্মাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার চীনা বিনিয়োগকারী ও স্বাস্থ্য খাতের যৌথ প্রকল্পে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেবে।
বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসাসেবা সহজ করতে হাইনান জেনারেল পিপলস হাসপাতালে বিশেষ চিকিৎসাসুবিধা ও ছাড় দেওয়ারও অনুরোধ জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বিশেষ গ্রিন মেডিক্যাল চ্যানেল এবং চিকিৎসায় বিশেষ ছাড় চালুর বিষয়ে সম্মতি জানায়।
হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট ঝাং জুন বাংলাদেশি পক্ষের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে জনবল প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যশিল্পের উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরো জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন। সূত্র: বাসস
দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) আবার সক্রিয় করতে ভুটানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
আজ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগের হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বল্প সময়ের যাত্রাবিরতিকালে এ অঞ্চল ও এর জনগণের যৌথ কল্যাণে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে দেশটির সমর্থন চেয়েছে বাংলাদেশ।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতিকালে বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুুল মঈন খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
এ সময় মন্ত্রীদ্বয় একটি সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার জন্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
সংক্ষিপ্ত আলাপকালে বাংলাদেশের মন্ত্রীদ্বয় ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান।
মন্ত্রীদ্বয় ভুটানের ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ (জিএমসি) উন্নয়নে বিশেষ করে পেশাজীবী এবং দক্ষ ও আধা-দক্ষ জনশক্তি জোগান দিয়ে অবদান রাখার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে গড়ে ওঠা দুদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্কের ভূয়সী প্রশংসাও করেন তাঁরা।
বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে জার্মানির উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ভিভিআইপি লাউঞ্জে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। সূত্র: বাসস
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা ও অবস্থান সঠিক ছিল না—সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে দলটি প্রকারান্তরে তা মেনে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের লেখা বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক পূর্বে জাতির সামনে একটি সুস্পষ্ট বিবৃতি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে প্রণীত সেই বিবৃতিটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হলে দলটির মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত বহু বিতর্কের সুরাহা হতো। এ প্রসঙ্গে উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইনের সংশোধনীতে বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞার আওতায় ‘তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও পরিচালিত যুদ্ধ’ শব্দগুলো অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবে জামায়াতদলীয় প্রতিনিধিরা কোনো ‘না’ ভোট দেননি।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের দূরদর্শিতার ভূয়সী প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৬ সালে ব্যারিস্টার রাজ্জাক রাজনৈতিক দর্শন ও নীতি অনুসরণ করে একটি স্টেটমেন্ট ড্রাফট করেছিলেন একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকাকে জাতির সামনে আনার জন্য। সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে জামায়াত পরোক্ষভাবে না ভোট না দেওয়ার মধ্য দিয়ে একাত্তরের সেই ভূমিকাকে কনসিড (স্বীকার) করল। এখানেই রাজ্জাক সাহেবের দূরদর্শিতা প্রকাশ পায়। এখানেই রাজ্জাক সাহেব অনন্য। এখানে রাজ্জাক সাহেব একটি জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এক ধাপ এগিয়ে দিয়ে গেছেন।’ এ সময় প্রখ্যাত এই আইনজীবীর গ্রন্থ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে জামায়াত ঘরানার আইনজীবীদের অনুপস্থিতির সমালোচনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী। তিনি নিজের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সময়ের প্রয়োজনে জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ পরিমণ্ডলে এখনও অনেক মৌলিক সংস্কার সাধনের অবকাশ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপহার দেওয়া নতুন বাড়িতে উঠেছেন শাহবাগের ফুটপাতে বসবাস করা গোলাপি বেগম।
আজ শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের রতনপুর গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাছে বাড়িটি হস্তান্তর করা হয়।
‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ২০২৫ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক সমাবেশের সময় শাহবাগের ফুটপাতে বসবাসকারী গোলাপি বেগমের অসহায় জীবনযাপনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে।
মানবিক বিবেচনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য তিনি তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরপর গোলাপি বেগমের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় এক বছর তার চিকিৎসার পাশাপাশি ঢাকায় একটি বাসায় থাকার ব্যবস্থাও করা হয়।
পরে তার স্থায়ী পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নতুন একটি বাড়ি নির্মাণের নির্দেশ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামে গোলাপি বেগমের জন্য একটি নতুন বাড়ি নির্মাণ করা হয়।
আজ শুক্রবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাছে বাড়িটি হস্তান্তর করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে গোলাপি বেগমের হাতে নতুন বাড়ির চাবি তুলে দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ সময় গোলাপি বেগমকে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, শাকিল আহমেদ ও শাহাদত হোসেন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান, কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজু, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, হাসানুর রহমান, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ গণমাধ্যমকে বলেন, সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর অন্যতম লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সংগঠনটি মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সূত্র: বাসস
বাজারে বৈধ সিগারেটের পাশাপাশি অবাধে বিক্রি হচ্ছে নকল ও চোরাই সিগারেট। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব অবৈধ পণ্যের সরবরাহ ও বিক্রি বাড়ায় একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে তামাকজাত পণ্য ছড়িয়ে পড়ায় বাড়ছে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি। কম দামে পাওয়া এবং সহজলভ্য হওয়ায় নকল ও চোরাই সিগারেটের প্রতি বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ আকৃষ্ট হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবৈধ বাজারের বিস্তার ঠেকাতে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ জোরদার করা না হলে এর আর্থিক ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু অবৈধ সিগারেট বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে রাজস্ব ফাঁকি, চোরাচালান, নকল পণ্য উৎপাদন এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও চলতি বছর তামাকজাত পণ্যের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, সম্পূরক শুল্ক ও ব্যান্ডরোল ব্যবহারের বিধিতে একাধিক পরিবর্তন এনেছে।
ভার্গো টোব্যাকোতে সাড়ে ৭২ কোটি টাকার ফাঁকি: সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সামনে আসে সিগারেটের অবৈধ উৎপাদনের আরেক চিত্র। ২ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের কাওলতিয়া এলাকায় ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেডের কারখানা ও পাশের একটি গুদামে অভিযান চালায় ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের দল। কারখানার গেট বাইরে থেকে বন্ধ থাকলেও ভেতরে উৎপাদন চলছিল বলে এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। পরে কর্মকর্তারা দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে ব্যবহৃত ও নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে ফেলার দৃশ্য দেখতে পান তারা।
প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজারের লিখিত বিবৃতি অনুযায়ী, আনুমানিক ৫০ লাখ শলাকা নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। গোয়েন্দা দল পোড়া ব্যান্ডরোলের অবশিষ্টাংশসহ ব্যবহৃত স্ট্যাম্প-ব্যান্ডরোল, সিগারেট তৈরির কাঁচামাল ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করে।
এরপর জব্দ করা মোবাইল ফোনের চ্যাট হিস্ট্রি, বিক্রয়সংক্রান্ত গোপন বার্তা ও হিসাবের ছবি বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা উৎপাদিত সিগারেটের একটি বড় অংশ ভ্যাট চালান ছাড়াই বাজারে সরবরাহের প্রাথমিক তথ্য পান। এনবিআরের হিসাবে, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ প্রায় সাড়ে ৭২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ১৪ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। অর্থাৎ, একটি কারখানার ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে কীভাবে বৈধ উৎপাদনের আড়ালেও অবৈধ উৎপাদন, ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল এবং হিসাবের বাইরে পণ্য বাজারজাতের অভিযোগ উঠতে পারে।
শাহ আমানতে একের পর এক চালান: গাজীপুরে নকল সিগারেটের উৎপাদনের অভিযোগের পাশাপাশি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে বিদেশি সিগারেট প্রবেশের ঘটনাও থামছে না।
গত ১৭ আগস্ট দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে একবারে ১ হাজার ৮০২ কার্টন বিদেশি সিগারেট ও ১৩টি আইফোন জব্দ করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এর মধ্যে তিন যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে পাওয়া যায় ৭৮২ কার্টন এবং লাগেজ বেল্ট এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় আরও ১ হাজার ২০ কার্টন সিগারেট। আটক পণ্য ও আইফোনের মোট শুল্ক-করসহ মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এর আগেও চলতি বছর শাহ আমানতে ধারাবাহিকভাবে বিদেশি সিগারেট আটকের ঘটনা ঘটেছে। ১ জানুয়ারি ৪৪০ কার্টন, মার্চে ৩০০ কার্টন, মে মাসে ১ হাজার ৩৪৫ কার্টন এবং জুনে এক ঘটনায় ১ হাজার ২ কার্টন যাত্রীর ব্যাগেজ ও ৬৯৬ কার্টন মালিকবিহীন অবস্থায় জব্দের তথ্য পাওয়া যায়।
এপ্রিলেও আবুধাবি থেকে আসা ফ্লাইটের যাত্রীদের কাছ থেকে বিদেশি সিগারেট জব্দ হয়েছিল। এসব ঘটনা থেকে অন্তত এটুকু স্পষ্ট যে দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও মাসকাট থেকে আসা যাত্রীবাহী ফ্লাইটগুলোতে বিদেশি সিগারেট পাচারের চেষ্টা নিয়মিত নজরে আসছে।
লাগেজেই ভাগ হয়ে আসে বড় চালান: চোরাচালানের একটি কৌশল হলো বড় চালানকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে যাত্রীদের লাগেজে বহন করা। ফলে বড় বাণিজ্যিক চালান হিসেবে কাস্টমসের নজরে পড়ার ঝুঁকি কমে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের লাগেজ বেল্টে পণ্য ফেলে রেখে সরে যাওয়ার ঘটনাও দেখা যাচ্ছে।
১৭ আগস্টের ঘটনাটিই এর উদাহরণ। তিন যাত্রীর ব্যাগে ৭৮২ কার্টন পাওয়ার পাশাপাশি ১ হাজার ২০ কার্টন ছিল মালিকবিহীন। এমন পরিস্থিতিতে শুধু পণ্য জব্দ করলেই পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, পরিত্যক্ত লাগেজের প্রকৃত মালিক, অর্থদাতা ও দেশে পণ্য গ্রহণকারীর পরিচয় বের করতে লাগেজ ট্যাগ, যাত্রীর তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, প্যাসেঞ্জার ম্যানিফেস্ট ও সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের কর্মকর্তারাও সতর্ক করেছেন, অনেক সময় সাধারণ প্রবাসীরা না বুঝে অন্যের দেওয়া প্যাকেট বা পণ্য লাগেজে বহন করেন। এসব পণ্য বহন আইনগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বছরের পর বছর একই চিত্র: প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে গত কয়েক বছর ধরেই শাহ আমানত বিমানবন্দরে বিদেশি সিগারেট আটকের ধারাবাহিকতা দেখা যায়। কখনো একক যাত্রীর লাগেজ, কখনো কয়েকজন যাত্রীর ব্যাগেজ, আবার কখনো মালিকবিহীন লাগেজ থেকে পাওয়া গেছে শত শত কার্টন সিগারেট।
চলতি বছরের ঘটনাগুলোও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। মে মাসে ১ হাজার ৩৪৫ কার্টন সিগারেট আটকের সময় বাজারমূল্য প্রায় ২৭ লাখ টাকা বলে জানানো হয়েছিল। জুনের ঘটনায় তিন যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে ১ হাজার ২ কার্টন এবং লাগেজ বেল্ট থেকে ৬৯৬ কার্টন জব্দ হয়।
ফলে প্রশ্ন উঠছে—এত বিপুল চালান বারবার ধরা পড়লেও এর পেছনে থাকা সরবরাহকারী ও অর্থদাতাদের কতটা শনাক্ত করা যাচ্ছে?
উপজেলা বাজারেও নকল ব্র্যান্ড: শুধু বিমানবন্দর দিয়ে আসা বিদেশি সিগারেটই নয়, দেশের অভ্যন্তরে অনুমোদনহীন ও নকল ব্র্যান্ডের সিগারেটের বাজারও বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।
জামালপুরের ইসলামপুরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভিন্ন স্থান থেকে আনা ‘সিটি’, ‘ম্যানশন’, ‘ওসাকাসহ’ বিভিন্ন নামের সিগারেট উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহ করা হচ্ছে। পৌর এলাকার কয়েকটি স্থানে এসব সিগারেট মজুত রেখে লোক নিয়োগের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজার ও দোকানে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় কয়েকজন দোকানদারের ভাষ্য, আসল ব্র্যান্ডের তুলনায় কম দামে এসব সিগারেট বিক্রি হওয়ায় ক্রেতা বাড়ছে। কম আয়ের মানুষও দামের কারণে এসব পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন বলে জানান তারা।
এক রিকশাচালক বলেন, কম দামে পাওয়ায় তিনি এসব সিগারেট খান। আরেক দিনমজুর জানান, সিগারেটের দাম বাড়ায় কম দামের পণ্যই কিনছেন।
স্থানীয় এসব বক্তব্য অবশ্য সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের অনুমোদন, উৎপাদনস্থল ও সরবরাহ চক্র সম্পর্কে সরকারি তদন্তের বিকল্প নয়। তবে মাঠপর্যায়ের বাজারে কম দামের অজ্ঞাত উৎসের সিগারেটের উপস্থিতির বিষয়টি নজরদারির প্রয়োজনীয়তা সামনে আনে।
স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে রাজস্ব ক্ষতিও: ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এ এ এম আবু তাহের বলেন, সিগারেট সেবনে ফুসফুস ও মুখের ক্যান্সার, হৃদ্রোগ, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ে। ফলে নকল বা অবৈধভাবে উৎপাদিত সিগারেট বাজারে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি শুধু রাজস্বের প্রশ্ন নয়, জনস্বাস্থ্যেরও বিষয়।
বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনও সাম্প্রতিক সময়ে আরও কঠোর হয়েছে। ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক ও তামাকজাত পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সিগারেটের ওপর সরকারের কর কাঠামোও উল্লেখযোগ্য। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তামাকজাত সিগারেটের ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাটসহ একাধিক কর প্রযোজ্য। ফলে কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা পণ্য রাষ্ট্রের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি বৈধ উৎপাদক ও ব্যবসার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
দেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা ও ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে জোর দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বাসাবাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে স্বল্প সুদে ঋণ দিতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হচ্ছে। এই তহবিলের মাধ্যমে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, সোলার হোম সিস্টেম, সৌরচালিত সেচ পাম্প এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনায় অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, তহবিলের অর্থ থেকে দেওয়া ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১০ বছর। এর মধ্যে এক বছর গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। সুবিধাভোগী পর্যায়ে সব ধরনের ফি ও চার্জসহ কার্যকর বার্ষিক সুদের হার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে অর্থায়নের সহজ সুযোগ তৈরি হলে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিধি বাড়লে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারও কমানো সম্ভব হতে পারে।
কোথায় ব্যবহার হবে ১,৫০০ কোটি টাকা: সরকারের গঠিত তহবিল থেকে গৃহস্থালি, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্প পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি স্থাপন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে ঋণ দেওয়া হবে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও নেট মিটারিং সংযোগের পাশাপাশি সোলার হোম সিস্টেম, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং সৌরচালিত সেচ পাম্পেও এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে।
এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইনভার্টার, মিটার ও ব্যাটারি কেনার ক্ষেত্রেও ঋণ নেওয়া যাবে। ফলে শুধু নতুন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নয়, বিদ্যমান ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নেও এ তহবিল কাজে লাগানোর সুযোগ থাকবে।
পরিপত্র অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) খাতের জন্য সংরক্ষিত ২ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা এ তহবিলে দেওয়া হবে। বাকি ৫০০ কোটি টাকা সরকারের অপারেটিং লোন থেকে সংস্থান করা হবে।
তহবিলের ৫০০ কোটি টাকা করে পাবে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। এসব প্রতিষ্ঠান সরাসরি অথবা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের মধ্যে ঋণ বিতরণ করবে।
ঋণ ব্যবস্থাপনায় থাকবে নজরদারি: সরকারি অর্থায়নের এ কর্মসূচিতে ঋণের অর্থ কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি ত্রৈমাসিক শেষে ঋণের অর্থে কত মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা স্থাপন হয়েছে, কতজন সুবিধাভোগী ঋণ পেয়েছেন এবং ঋণ আদায়ের পরিস্থিতি—এসব তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।
অর্থবছর শেষে ৯০ দিনের মধ্যে নিরীক্ষিত হিসাবসহ বার্ষিক প্রতিবেদনও দাখিল করতে হবে। তবে এ তহবিলের অর্থ ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। বিদ্যমান ঋণ পরিশোধ, ঋণ এভারগ্রিনিং, জমি বা শেয়ার কেনা, ব্যক্তিগত ভোগ, সাধারণ প্রশাসনিক ব্যয় কিংবা অন্য কোনো তহবিলে অর্থ স্থানান্তরের জন্য এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।
অর্থ বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ মনে করেন, তহবিলের সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর। তার মতে, ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সারাদেশে বিতরণ করা হলেও এর আওতায় কত মানুষ ও প্রতিষ্ঠান আসবে, তা নির্ভর করবে ঋণের সীমা, সুবিধাভোগী নির্বাচন ও মনিটরিংয়ের ওপর।
নিম্ন আয়ের মানুষের অংশগ্রহণ বড় চ্যালেঞ্জ: কম সুদের ঋণ সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সহায়ক হলেও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য শুধু ঋণ সুবিধা যথেষ্ট নাও হতে পারে। জ্বালানি অর্থনীতিবিদ শফিকুল আলমের মতে, দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা অনেক মানুষের পক্ষে ঋণ নিয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করা কঠিন।
তার মতে, এসব মানুষের জন্য ঋণের পাশাপাশি সরকারি ক্যাপিটাল সাবসিডি বা বিনিয়োগ প্রণোদনা চালু করা হলে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হতে পারে।
অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসারে ইডকল ও পিকেএসএফকে সম্পৃক্ত করাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। এতে শহরের পাশাপাশি পল্লী এলাকার উদ্যোক্তা ও গ্রাহকেরাও অর্থায়নের সুযোগ পেতে পারেন।
আমদানি ব্যয় কমাতেও করছাড়: সৌরবিদ্যুতের প্রসারে শুধু ঋণ নয়, যন্ত্রপাতি আমদানিতেও করছাড় দিচ্ছে সরকার। ১৬ সেপ্টেম্বরের এক আদেশে শিল্পে ব্যবহারের জন্য সোলারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ২ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে এসব যন্ত্রপাতি ১ শতাংশ শুল্কে আমদানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
অন্য বাণিজ্যিক আমদানিকারকরাও দেশে উৎপাদিত কয়েকটি কম্পোনেন্ট ছাড়া সোলারের প্রায় সব যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ ১ শতাংশ শুল্কে আমদানি করতে পারবেন। এর আগে এসব পণ্যে আমদানি করের হার ছিল ২৩ থেকে ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত।
এদিকে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। গৃহস্থালি পর্যায়ে নেট মিটারিং সম্প্রসারণ এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কেনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে স্বল্প সুদের ঋণ, যন্ত্রপাতি আমদানিতে করছাড় ও নেট মিটারিং—এই তিন উদ্যোগ সৌরবিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণে নতুন অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তবে ১,৫০০ কোটি টাকার তহবিল কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে স্বচ্ছ ঋণ বিতরণ, সঠিক সুবিধাভোগী নির্বাচন, অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যকর নজরদারির ওপর।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনেও সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে উপনির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে ঐকমত্য হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে ২৬টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে। সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে বৈঠকে অংশ নেওয়া সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একমত হয়েছে। তবে নির্বাচন শুরুর সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। কমিশনের আগে দেওয়া সময়সূচি ছিল সম্ভাব্য পরিকল্পনা।
তিনি জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে দেশজুড়ে বিভিন্ন পর্যায়ের পরীক্ষা রয়েছে। এরপর জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও পরবর্তী সময়ে পবিত্র রমজান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষা রয়েছে। ফলে এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করতে হবে।
এ ছাড়া বন্যার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে যে ক্ষতি হয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনী কাজে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য শিক্ষকদেরও প্রয়োজন হয়। ফলে পরীক্ষা ও শিক্ষা কার্যক্রম যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেদিকেও নজর রাখছে কমিশন।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত কমিশনের সভায় পর্যালোচনা করা হবে। এ ছাড়া বাজেট পরিকল্পনাসহ আরও কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ বাকি রয়েছে। প্রয়োজনীয় সাইডলাইন ওয়ার্ক শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানানো হবে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৯ অক্টোবর। এ নির্বাচনে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে কমিশন।
ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করবে কমিশন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) চলমান এবং ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক বিলম্ব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এতে সরাসরি প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যায়। প্রতিটি প্রকল্পে সময়ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এডিপির আওতাধীন প্রকল্পগুলোর পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো, দ্রুত কাজ শেষ করা এবং সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর সভায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন ও সংশোধিত প্রকল্পগুলোর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে। প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ এবং অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
কারাগারসংক্রান্ত প্রকল্পের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা ও যাতায়াতসংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে এ ধরনের প্রকল্পের কাজে কিছুটা ধীরগতি হওয়া যুক্তিসংগত। তবে সাধারণ সিভিল ওয়ার্ক বা অবকাঠামোগত প্রকল্পে কোনো ধরনের বিলম্ব মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সদর দপ্তর নির্মাণসহ সব সাধারণ অবকাঠামোগত কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগ ও কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি জেলায় ডগ স্কোয়াড গঠন, ডোপ টেস্টের সুবিধা জোরদার, হাজতখানা ও মালখানা সংস্কার এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক ফরেনসিক ল্যাব ও ডিজিটাল ফরেনসিক অবকাঠামো স্থাপন।
মন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্প সুনির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সুবিধা দ্রুত নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
দেশের গ্রামীণ এলাকার থানাগুলোকে মানসম্মত মডেল থানায় রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট ‘প্রোটোটাইপ ডিজাইন’ অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সভায়। যেসব এলাকায় থানার জন্য জমির সংকট রয়েছে, সেখানে দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ করে একক ও সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লজিস্টিকস ও যানবাহনসংক্রান্ত সংকট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সরকারি প্রকল্পের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত এবং কাজের দ্বৈততা এড়াতে পৃথক প্রকল্পের পরিবর্তে ‘প্রোগ্রামেটিক বা ক্লাস্টার অ্যাপ্রোচ’ গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকারের বর্তমান মেয়াদের বাকি চার থেকে সাড়ে চার বছরের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যে চলমান প্রকল্পগুলোর পুনর্মূল্যায়ন ও ‘রিস্কোপিং’ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ‘জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা’ খাতের উন্নয়নে এডিপিতে মোট ২ হাজার ৬৬২ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ৫৫২ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ বা অনুদান ১০৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
‘সুরক্ষিত ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে সভায় জানানো হয়। এর অংশ হিসেবে বিএনপির ‘নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬’-এর অঙ্গীকারের আলোকে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ২৬টি প্রতিশ্রুতির ম্যাপিং সম্পন্ন হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারের পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশল (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১)-এর ‘থ্রি আর স্ট্র্যাটেজি’ অনুসরণ করে আইনশৃঙ্খলা খাতকে রূপান্তরধর্মী উন্নয়নের মাধ্যমে আরও সুসংহত করার কথা জানানো হয়েছে।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, অধীন ১০টি দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি ও সদ্য অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পাওয়া মো. কামরুল আহসান। একই সঙ্গে অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার আরও পাঁচ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন পদে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ রদবদলের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পাওয়া মো. কামরুল আহসানকে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই গোয়েন্দা সংস্থার নেতৃত্বে নতুন দায়িত্ব পেলেন তিনি।
এদিকে, সারদার প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজিপি) জি এম আজিজুর রহমানকে ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধান হিসেবে বদলি করা হয়েছে। একই আদেশে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এসবির বর্তমান প্রধান সরদার নুরুল আমিনকে পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের বর্তমান প্রধান মাইনুল হাসানকে সারদার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সম্প্রতি অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ইকবাল হোসেনকে পুলিশ সদর দপ্তরে পদায়ন করা হয়েছে।
একই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে এই বদলি ও পদায়নের ফলে এসবি, ট্যুরিস্ট পুলিশ, ঢাকা রেঞ্জ ও পুলিশ সদর দপ্তরের নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। নতুন দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তারা নিজ নিজ পদে দায়িত্ব পালন করবেন।
সাভারে সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলায় নিহত এসবি’র এসআই আলতাফ হোসেনের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রীর সঙ্গে আজ দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আশ্বাস দেন। এসময় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের এসআই আলতাফ হোসেন হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সার্বিক কল্যাণে ইতোমধ্যে পুলিশ অধিদপ্তরের কল্যাণ তহবিল থেকে ৬ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিহতের পারিবারিক ব্যবসা সচল রাখার সুবিধার্থে ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’ থেকে প্রয়োজনীয় ঋণসহ সার্বিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কর্মজীবনে মরহুম আলতাফ হোসেনের নৈতিকতা ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে মরণোত্তর ‘পুলিশ পদক (পিপিএম)’ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
মন্ত্রী এ সময় মরহুমের স্ত্রী শিউলী পারভীনের হাতে অনুদানের টাকা তুলে দেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী পশ্চিমপাড়ায় একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে সৃষ্ট তর্ক-বিতর্ক মেটাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়েন এসআই আলতাফ হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি তার বড় ছেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিলে রাত ৮টা ১০ মিনিটে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে সেখানে বর্বর হামলা চালায়। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে তার ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলামও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মরহুমের স্ত্রী বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক প্রাতিষ্ঠানিক আদেশে এই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।
ডিএমপির আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশাসনিক কারণে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসানকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ওই অডিও রেকর্ডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা সংক্রান্ত বিষয়ে ওসির কথোপকথন প্রকাশ্যে আসে। অডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরলে কোনো সমস্যা হবে না। এছাড়া তিনি মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের দুর্বল দাবি করে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা না করে চলতি মাসেই তাঁর দেশে ফেরা উচিত বলে মন্তব্য করেন।
গত দুই দিন ধরে অডিও রেকর্ডটি অন্তর্জালে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি রক্ষা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে থানা থেকে প্রত্যাহারের এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ডিএমপি কর্তৃপক্ষ।