সম্প্রতি দেশজুড়ে বেড়েছে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। নগর পরিকল্পনাবিদ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা বলছেন, ঝুঁকি অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস বলছে, জনসাধারণের অসেচতনতা এবং প্রতিষ্ঠানগুলো আগুনসহ অন্যান্য ঝুঁকির বিষয়ে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, কিন্তু মানা হচ্ছে না অগ্নিনিরাপত্তা আইন।
এ ছাড়া মৌসুমি আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াও একটি কারণ। পাশাপাশি দেশ দ্রুত শিল্পায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাড়ছে কেমিক্যাল জাতীয় নানা দাহ্য পদার্থের ব্যবহার।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের এক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে সারা দেশে মোট ২৭ হাজার ৬২৪টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। গড়ে প্রতিদিন ৭৭টি আগুন লেগেছে। এসব ঘটনায় সারা দেশে মোট ২৮১ জন আহত এবং ১০২ জন নিহত হয়েছেন। এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ৭৯২ কোটি ৩৬ লাখ ৮২ হাজার ১৪ টাকা মূল্যের সম্পদ।
চলতি বছর জানুয়ারিতে সারা দেশে অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৩৭২টি। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজারটি। গত বছর জানুয়ারিতে অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬৪৬টি। ফেব্রুয়ারিতে ছিল ২ হাজার ৭১৩টি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৩ সালের চেয়ে চলতি বছর অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা বেড়েছে।
২০২৩ সালে সারা দেশে ৫ হাজার ৩৭৪টি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। এর মধ্যে ৩১ দশমিক ৫২ শতাংশ (১৬৯৪টি) ঝুঁকিপূর্ণ, ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ (৪২৪টি) অতি ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ মোট ঝুকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ৩৯ দশকি ৪১। আর সন্তোষজনক প্রতিষ্ঠান ৫৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ (৩২৫৬টি)।
চলতি মাসের প্রথম দিন রাজধানীর ডেমরার কোনাপাড়া এলাকার ধার্মিকপাড়ায় একটি গ্যারেজে আগুন লেগে পুড়ে যায় লন্ডন এক্সপ্রেসের ১৪টি বাস। ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষতি হয় কোটি কোটি টাকার সম্পদ। এর দুদিন পর খুলনার রূপসা এলাকার সালমা জুট মিলে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে গতকাল শুক্রবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শিশু হাসপাতালের ৫ম তলার কার্ডিয়াক বিভাগের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট অনেক চেষ্টার পর আগুন নির্বাপণ করে। এ ছাড়া, গত ১২ এপ্রিল সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকার ঝাউচর মোড়ে একটি টিনশেড বস্তিতে আগুন লেগে পুড়ে যায় প্রায় ২০টি ঘর। ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট প্রায় ১ ঘণ্টার চেস্টার পর দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে গত ২৪ মার্চ ভোর থেকে পরদিন বিকেল পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে পাঁচটি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তি, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতার গাউছিয়া কাঁচাবাজার, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার একটি সুপারবোর্ড কারখানা এবং পাবনার সাঁথিয়ার বনগ্রামে দুটি পাটের গুদাম ও একটি তেলের মিলে আগুন লাগে।
এর আগে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কোজি কটেজ নামের বহুতল ভবনে আগুন লাগে। মারা যান ৪৬ জন। ঠিক পরের দিন ১ মার্চ রাতে ওয়ারীর পেশওয়ারাইন রেস্তোরাঁয় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
অতীতেও দেখা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে তপ্ত আবহাওয়ার প্রভাবে ২০২৩ সালে ভোররাতের দিকে বঙ্গবাজার মার্কেট, নিউমার্কেট, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে আগুন লেগে পুড়ে যায়।
ঘস ঘন আগুন লাগার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান দৈনিক বাংলাকে বলেন, আবহাওয়ার কারণে শুষ্ক মৌসুমে আগুন লাগে। এর বাইরে নগরগুলো আমরা এনভাবে সাজিয়েছি, যা মৃত্যুকূপের মতো। ভবনগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। অসংখ্য ইলেক্ট্রিক ও গ্যাস লাইন ঠিক নেই। রেগুলার মেইটেন্যান্স নেই। ঘরে ঘরে ঢুকে যাচ্ছে মানহীন গ্যাস সিলিন্ডার। মেইন্টেন্যান্স নেই, সার্ভিস লাইন ঠিক নেই, মৃতুকূপটা সব জায়গাতেই আছে।
তিনি আরও বলেন, এ বছর বড় বড় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান, শিল্প কারখানায় আগুন লেগেছে। এসব আগুন শুধু মৌসুমি কারণে নরমাল আগুন নাকি এর বাইরে কোনো এলিমেন্ট আছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। অবশ্যই অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়গুলো অত্যন্ত বিশদভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন, রাজউকসহ অন্যান্য সার্ভিস প্রোভাইডার যারা আছে, সবাইকে দেখতে হবে। সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ক্রস চেক করে দেখতে হবে এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কোনো নাশকতা আছে কি না। থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে। কিন্তু এটা দেখা দরকার যে অস্বাভাবিক না স্বাভাবিক। নগর নিরাপত্তা, এটাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই এদিকেও মনোযোগ দেওয়া উচিত।
আগুন লাগার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের গণমাধ্যম কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার বলেন, আগুনের ঘটনা ঘটে মানুষের অসাবধানতার কারণে। দেখা গেছে আগুন লাগার কারণগুলোর মধ্যে কোথাও প্রয়োজনের অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক লোড ব্যবহার করা এবং মানহীন বা নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা অন্যতম। এ ছাড়া আমাদের দেশ শিল্পায়নের দিকে যাচ্ছে। উন্নতমানের নান্দনিক সামগ্রী তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে কেমিক্যাল এজেন্ট ব্যবহার বেশি হচ্ছে। এর ফলে অগ্নিঝুঁকি বাড়ছে। এ ছাড়া ঈদের আগে ব্যবসার প্রয়োজনে অতিরিক্ত পণ্য মজুত করা হয়। এতেও রিক্সফ্যাক্টর বেড়ে যায়। ফলে অগ্নিদুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, শীতকাল পার হওয়ার পর বসন্তে বৃষ্টির প্রবণতা শুরু হলেও প্রকৃতিতে একটা পরিবর্তন হয়। আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে যায়, টেম্পারেচার (তাপমাত্রা) বাড়ে। গাছের পাতা ঝরে যায়, অনেক সময় জীবন্ত গাছও শুকিয়ে যায়। আর যেসব দাহ্য বস্তু রয়েছে সেসব আরও শুকিয়ে যায়। যেমন আমাদের শরীরেও আবহাওয়ার এই প্রভাব পড়ে, ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। আমরা লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করি।
অপরদিকে শীতকালে আবহাওয়া ঠাণ্ডা থাকে। দাহ্য বস্তুর জ্বলে ওঠার প্রবণতা ভেতরে থাকলেও বাইরে তেমন থাকে না। শীতের পর বৃষ্টি শুরু হলেও টেম্পারেচার বেড়ে যাওয়ায় দাহ্যবস্তু ভেতর থেকে শুকিয়ে থাকে এবং বাইরে টেম্পারেচার বেড়ে যাওয়ার ফলে দাহ্য বস্তুর জ্বলে ওঠার প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে থাকে।
এ জন্য করণীয় কী জানতে চাইলে শাহজাহান শিকদার বলেন, এ জন্য সাবধান ও সতর্ক থাকতে হবে। প্রত্যেককে অগ্নিনিরাপত্তা আইন মেনে চলতে হবে। অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থা্পন করতে হবে। যথাযথভাবে বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মূলত ৪টি ধাপে ভবনকে নিরাপদ করতে হবে। প্রথমত, ভবন নির্মাণের সময় বিএমডিসি এবং ফায়ার সেপটি প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপন করতে হবে। তৃতীয়ত, এসব ব্যবস্থা গ্রহণের পর সেগুলো ব্যবহার করার জন্য উপযুক্ত জনবল থাকতে হবে। এ জন্য ভবনের ১৮ শতাংশ লোককে প্রশিক্ষিত করতে হবে ফায়ার সার্ভিস থেকে। আর চতুর্থটি হলো, মাঝে মাঝে এসব প্রশিক্ষণের মহড়া করতে হবে। কিন্তু সে অনুযায়ী অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেউ মনোযোগী না, কম্পলায়েন্স ইস্যুতে মনোযোগী না।
অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সরঞ্জাম বিষয়ে এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম শুধু ফায়ার এক্সটিংগুইশার বুঝায় না। যে ভবনে যে ধরনোর রিক্সফ্যাক্টর থাকবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। যেমন একটি ভবনে ২টি সিঁড়ি প্রয়োজন হলে তা রাখতে হবে। কোনো ভবনে স্প্রিঙ্কলার (কক্ষের সিলিংয়ে লাগানো স্বয়ংক্রিয় পানি ছিটানোর যন্ত্র), কোনো ভবনে হোজরিল (প্রতি তলায় সুবিধাজনক স্থানে পানি সরবরাহ কলের সঙ্গে যুক্ত লম্বা নল) স্থাপন করতে হবে। যেখানে হাইড্রেন্ট সিস্টেম প্রয়োজন, সেখানে হাইড্রেন্ট সিসটেম স্থাপন করতে হবে। তা হলেই আমরা নিরাপদ থাকতে পারব বলে আমি মনে করি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাম্য ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই হোক আমাদের এবারের ঈদের অঙ্গীকার।
তিনি ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুক্রবার নিজ নির্বাচনী এলাকা কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনসহ সমগ্র দেশবাসীকে শুভেচ্ছা বার্তায় এ আহ্বান জানান।
তিনি দেশবাসীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা করেন এবং সবাই যেন নিরাপদে ও আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারে- সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
শুভেচ্ছা বার্তায় মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর আনন্দ ও উৎসবের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য শিক্ষা দেয়।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ঈদের এই আনন্দ ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জীবনে অনাবিল সুখ ও শান্তি বয়ে আনবে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (২০ মার্চ) দেওয়া এক বাণীতে ঈদের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবিক, উন্নত ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদুল ফিতর মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুটি ধর্মীয় উৎসবের একটি। মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা ও সংযমের পর পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের জীবনে আনন্দ, শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে।’
পবিত্র রমজান মাস সংযম, ত্যাগ, খেদমত ও আত্মশুদ্ধির অনন্য শিক্ষা দেয় জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এই এক মাসের সাধনা আমাদের আত্মসংযমী হতে এবং অন্যের কষ্ট অনুভব করতে শেখায়। এর মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব জাগ্রত হয়। রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে প্রতিফলিত করাই ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদ আমাদের ধনী-গরিব, ছোট-বড় সব ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই আনন্দের দিনে আমরা যেন সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াই এবং সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিই এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। পবিত্র ঈদুল ফিতর আমাদের জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করুক এই প্রত্যাশা করি। আসুন, আমরা ঈদের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি মানবিক, উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিতভাবে কাজ করি।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা ঈদের মহান আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি মানবিক, উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সম্মিলিতভাবে কাজ করি। আমি মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে প্রার্থনা করি- তিনি যেন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ, রহমত ও বরকত আমাদের সবার জীবনে বর্ষিত করেন।মহান আল্লাহ আমাদের দেশ ও জাতিকে শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যান এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ নিশ্চিত করুন।’
চলতি বছর হজ উপলক্ষে সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সেবায় ৬৬ সদস্যের প্রশাসনিক সহায়তাকারী দল গঠন করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২২’(সংশোধিত)-এর বিধি ২৫ অনুযায়ী এ দল গঠন করে তাদের সৌদি আরব গমনাগমনে সরকারের সম্মতি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছে মন্ত্রণালয়।
হজযাত্রীদের সেবায় গঠিত এ দলে গাড়িচালক, অফিস সহায়ক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, গানম্যান, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, কম্পিউটার অপারেটর ও ফটোকপি অপারেটরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দলে মোট ৯ জন গাড়িচালক রয়েছেন। তারা হলেন—মন্ত্রীর দপ্তরের মো. আলমগীর ও আক্তারুজ্জামান সরকার, সচিবের দপ্তরের মো. সাইদুল ইসলাম ও মো. টিটু মিয়া বেপারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (প্রেষণে হজ অনুবিভাগ) মো. মাসুদুর রহমান ও গোলাম মাওলা, হজ অফিসের মো. সালাহ উদ্দিন, বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়ের মো. হাসান আলী এবং প্রশাসন শাখার মো. আবদুস সবুর বিশ্বাস।
এছাড়া দলে ২৫ জন অফিস সহায়ক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে আইন শাখার সম্রাট, সচিবের দপ্তরের মো. আনোয়ার হোসেন ও মো. সোহাগ, হজ-২ শাখার মো. রাশেদুল ইসলাম, সমন্বয় শাখার ইলিয়াছ আহমেদ ও মোছা. হাফিজা আক্তার, বাজেট ও অনুদান অনুবিভাগের মো. কামরুল হোসেন, প্রশাসন অনুবিভাগের তানিয়া আক্তার ও সাইয়্যিদা মারজিয়া রুবিনা, অনুদান শাখার পারুলী আক্তারী ও মনিরুল ইসলাম, উন্নয়ন অধিশাখার মো. নুরুল হুদা, হজ-১ শাখার মো. আশরাফুল ইসলাম, উপদেষ্টার দপ্তরের মো. অলিউল্লাহ, মো. আরমান হোসেন ও মাসুম বিল্লাল, হজ অনুবিভাগের কাজী জুয়েল মিয়া, পরিকল্পনা-১ শাখার সাদ্দাম বিশ্বাস, প্রশাসন-১ শাখার মনির হোসেন, আইসিটি শাখার মুহাম্মদ রাশেদ মিয়াজি, হজ অধিশাখার সারোয়ার মাহমুদ, বাজেট শাখার শারমিন সুলতানা, হজ-৩ শাখার মো. আলমগীর হোসেন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংযুক্ত মো. টিপু সুলতান ও হজ অফিস ঢাকার হাবিবুর রহমান রয়েছেন।
দলে দুইজন গানম্যান (বন্দুকধারী) রয়েছেন। তারা হলেন— সচিবের দপ্তরের মো. আব্দুল হাকিম এবং মন্ত্রীর দপ্তরের মো. আবুল কাশেম।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতি বছর হজযাত্রীদের সেবায় প্রশাসনিক দল, প্রশাসনিক সহায়তাকারী দল ও কারিগরি দল গঠন করে সরকারি ব্যয়ে সদস্যদের সৌদি আরবে পাঠিয়ে থাকে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এ বছরের হজ ফ্লাইট শুরু হবে ১৮ এপ্রিল থেকে।
তবে প্রতি বছরই বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ে এ ধরনের দল পাঠানো হলেও অনেক সময় সদস্যদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ হজযাত্রীদের সেবার পরিবর্তে ব্যক্তিগত কাজে বা ভ্রমণে ব্যস্ত থাকেন।
প্রায় প্রতিবছরই হজের সময় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সহায়তাকারী দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে।
পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার হিসেবে আজ সারাদেশে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পবিত্র জুমাতুল বিদা পালিত হচ্ছে।
মাহে রমজানের শেষ জুমার দিনটি মুসলিম বিশ্বে জুমাতুল বিদা নামে পরিচিত। এই দিনের মধ্য দিয়েই বিদায়ের প্রহর গুনছে ১৪৪৭ হিজরি সনের মহিমান্বিত মাস রমজান।
শুক্রবার (২০ মার্চ) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ সারাদেশের বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা জুমার নামাজে অংশ নিচ্ছেন। নামাজের আগে খতিব ও আলেমগণ জুমাতুল বিদার তাৎপর্য তুলে ধরে খুতবা দিচ্ছেন।
জুমার নামাজ শেষে মসজিদগুলোতে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একইসঙ্গে পবিত্র রমজান মাসকে বিদায় জানিয়ে মুসল্লিরা বিশেষ দোয়া করছেন।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জুমাতুল বিদার সবচেয়ে বড় জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
মুসলমানদের কাছে সারা বছরের মধ্যে রমজান মাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জুমাতুল বিদার মাধ্যমে কার্যত রোজাকে বিদায় জানানো হয়। এ ছাড়া আজ শুক্রবার রমজানের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে।
এর পরদিন শনিবার সারা দেশে একযোগে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন দেশবাসী।
ঈদের আনন্দ পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরেছেন কয়েক কোটি মানুষ। আগামীকাল শনিবার সারা দেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর।
গত কয়েকদিন ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনাসেতু মহাসড়কে যানবাহনের অনেক চাপ ছিল। ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার রাস্তা পর্যন্ত যানজট ছিল। গাড়ি চলেছে থেমে থেমে, দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরেফেরা মানুষেরা।
কিন্তু আজ শুক্রবার ঈদুল ফিতরের ঠিক আগের দিনে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে নেই কোনো যানজট, গতি ফিরেছে রাস্তায়। স্বস্তিতে ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ।
গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে ৪৫ হাজার ৬১০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ২৭ লাখ ৪৬ হাজার ৮৫০ টাকা।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ হাজার ৬১০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকাগামী ১৩ হাজার ৭১৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ ২১ হাজার ৬৫০ টাকা। অপরদিকে উত্তরবঙ্গগামী ৩১ হাজার ৮৯৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ২০ লাখ ২৫ হাজার ২শ টাকা।
সেতু কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, গত ৫ দিনে সেতুর ওপর দিয়ে মোট ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১৫ কোটি ৩২ লাখ ৯০ হাজার ৭০০ টাকা।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, গতকাল সেতুর ওপর বারবার গাড়ি বিকল হয়েছে। বিকল হওয়া গাড়িগুলো সরিয়ে নিতে একটু সময় লাগায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। গতকাল রাত সাড়ে ৮ টার পর থেকে যানবাহনের চাপ কমে যায়। আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত মহাসড়কে স্বাভাবিক গতিতেই যানবাহন চলাচল করছে।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুহাম্মদ শরীফ বলেন, গতকাল রাত থেকেই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কমে যায়। এতে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে মানুষ। আজ সকাল পর্যন্ত মহাসড়কে স্বাভাবিক গতিতেই যানবাহন চলাচল করেছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান থেকে ১৮৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে স্বদেশে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে সীমান্ত দিয়ে আজারবাইজানে নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার তারা আজারবাইজানে পৌঁছেছেন এবং আজ শুক্রবারের মধ্যেই তাদের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বাকুর হায়দার আলিয়েভ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে করে আটকে পড়া এই নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। এই পুরো কার্যক্রম তদারকি করতে তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হক বর্তমানে বাকুতে অবস্থান করছেন এবং তাকে সহায়তা করার জন্য ঢাকা থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই জন কর্মকর্তাও সেখানে গিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, গত বছরের জুনেও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির সময় একইভাবে ইরান সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তান হয়ে অনেক বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু দিয়ে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক যানবাহন পারাপার এবং সর্বোচ্চ টোল আদায়ের নতুন মাইলফলক অতিক্রম করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে এ বছর যাতায়াতের প্রথম তিন দিনে ১ লাখ ৯ হাজার ২৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮০২টি। ২০২৬ সালের প্রথম তিন দিনে মোট টোল আদায় হয়েছে ১২ কোটি ৫ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ১২ কোটি ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা।
একইভাবে যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ এক দিনে সর্বোচ্চ ৫১ হাজার ৩৮৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার ৩৬৮টি। ২০২৬ সালে এক দিনে সর্বোচ্চ টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ৩ কোটি ৪৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০ টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের তুলনায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও এ বছর বড় কোনো দুর্ঘটনা বা বড় ধরনের যানজট পরিলক্ষিত হয়নি। এই পরিসংখ্যান দেশের সড়ক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় সেতু কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা ও দক্ষতার প্রতিফলন।
এবার ঈদ উপলক্ষে সেতু বিভাগের পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু এলাকায় নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে টোল কালেক্টরদের প্রশিক্ষণ, দক্ষ জনবল নিয়োগ, সার্বক্ষণিক টোল লেন চালু রাখা, মোটরসাইকেল লেন বৃদ্ধি, নন-স্টপ ইটিসি চালু, মাওয়া বাস-বে উন্মুক্তকরণ, সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক মনিটরিং জোরদার, উচ্চপর্যায়ের সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম গঠন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, যাত্রীদের জরুরি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, এলেঙ্গা বাস-বে উন্মুক্তকরণ, সেতুর প্রতি ৫০০ মিটার পরপর নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, কর্ণফুলী টানেল থেকে আনা একটি ভারী রেকারসহ মোট তিনটি রেকারের মাধ্যমে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, ইমার্জেন্সি টোল লেন চালু এবং ইফতার সামগ্রী বিতরণ।
দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনা শেষে শনিবার সারাদেশে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে যাচ্ছে, তবে উৎসবের এই দিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শুক্রবার সকালে আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক এই আশঙ্কার কথা জানিয়ে বলেন, "ঈদের দিন সারাদেশে বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে। কোথাও হয়তো কম হবে আবার কোথায় বেশি তবে সারাদেশেই বৃষ্টির সম্ভবনা আছে। এছাড়াও এই বৃষ্টির সাধারণত ১ ঘণ্টার বেশি সময় স্থায়ী হবে না।" আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের দিন সকালে ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে এবং বেলা বাড়ার সাথে সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এর বিস্তার ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে ড. ওমর ফারুক আরও বলেন, "দেশের ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে সকালে বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে। তবে একটু বেলা বাড়ার সাথে সাথে চট্টগ্রাম, বরিশাল এবং সিলেটের দিকে বৃষ্টি হবে।" বৃষ্টির পাশাপাশি দেশের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতসহ বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
এছাড়া পরবর্তী ৫ দিনের পূর্বাভাসে ২১ মার্চ দেশের আটটি বিভাগের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে উপকূলীয় ও উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিশেষ সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বঙ্গভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানা। মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হবে।
বঙ্গভবনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করবেন। তিনি বেলা ১১টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বঙ্গভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল হলে গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসীর প্রতি ঈদের শুভেচ্ছা জানাবেন।’
রাষ্ট্রপ্রধান বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, বিচারক, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
এই আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বঙ্গভবনে প্রায় ৮ হাজার ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আগত অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবার পরিবেশন করে আপ্যায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাবেন।
সূত্র: বাসস
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান জানিয়েছেন, নৌকা থেকে লঞ্চে যাত্রী ওঠা সম্পূর্ণ বন্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় যাত্রী নিরাপত্তা, সেবা ও সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী ওঠা রোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে নৌকা থেকে লঞ্চে যাত্রী ওঠার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে।
লঞ্চে নৌকা থেকে কোনো যাত্রী উঠতে দেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তে আমরা খুবই কঠোর।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর মাধ্যমে কঠোর নজরদারি করা হবে। সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করব, আপনারা নিয়ম মেনে চলুন এবং নিজেদের জীবনের নিরাপত্তার প্রতি যত্ন নিন।
তিনি আরো বলেন, ভবিষ্যতে পারাপারের ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে ঘাট থেকে দূরে একটি স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে নৌকা-লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা যায়।
অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। একজন যাত্রীও আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি যে তার কাছ থেকে বেশি ভাড়া নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সরকার এরই মধ্যে ভাড়া ১০ শতাংশ কমিয়ে নির্ধারণ করেছে এবং তা কার্যকর রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় না উঠে রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে নিজের বাসায় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুলশানে নিজের বাসায় থাকবেন। সরকারি বাসভবন যমুনায় উঠছেন না। তারেক রহমান গুলশানের নিজের যে ছোট বাসাটি, তাতে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। সে জন্য তিনি দেশে ফেরার পর এই বাসায় উঠেছেন। সেভাবেই বাসাটি সাজানো-গোছানো হয়েছে।
রুমন আরও জানান, পবিত্র ঈদের দিন সকাল আটটায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আসবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিয়ে নামাজ আদায় করবেন।
নামাজ শেষে সকাল ১০টা থেকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তিনি পবিত্র ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ দেশের সব ঈদগাহ, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জনসমাগম হয় এমন প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাদা পোশাকে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাবের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক কর্নেল ইফতেখার আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ইফতেখার আহমেদ বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে র্যাবের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আমাদের অতিরিক্ত র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ সব ঈদগাহ ময়দান, বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন, লঞ্চঘাটসহ যেসব জায়গায় জনসমাগম হয় এসব জায়গায় র্যাবের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের মোবাইল পেট্রোলিং এবং ফুট স্টার্টিং টহল ও চেকপোস্ট কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। ডগ স্কোয়াড, বোম ডিস্পোজাল ইউনিট এবং সাদা পোশাকে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি চলমান আছে এবং এই কার্যক্রমটা এবার অনেক জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি আমাদের যে সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধীসহ অন্যান্য যে কোনো অপরাধের বিষয়ে অভিযান আমাদের অব্যাহত আছে।
র্যাবের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক আরও বলেন, আমাদের সাইবার ক্রাইম গুজব ও উসকানি প্রতিরোধের জন্য যত ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায় সাইবার মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক মনিটর করছে। যে কোনো অভিযোগ পেলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। এবারের ঈদ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে হবে বলে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি।
বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আগামী শনিবার (২১ মার্চ) সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসেন কায়কোবাদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে কমিটি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে কোথাও শাওয়ালের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর শনিবার (২১ মার্চ) পবিত্র ঈদের নামাজ আদায় করা হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সকল ঈদগাহ ও মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মুসল্লিরা যেন যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও শৃঙ্খলা মেনে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আরও একদিন রোজা পালন করে শনিবার (২১ মার্চ) আনন্দঘন পরিবেশে ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন বলে ধর্মমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।