সম্প্রতি দেশজুড়ে বেড়েছে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। নগর পরিকল্পনাবিদ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা বলছেন, ঝুঁকি অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস বলছে, জনসাধারণের অসেচতনতা এবং প্রতিষ্ঠানগুলো আগুনসহ অন্যান্য ঝুঁকির বিষয়ে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, কিন্তু মানা হচ্ছে না অগ্নিনিরাপত্তা আইন।
এ ছাড়া মৌসুমি আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াও একটি কারণ। পাশাপাশি দেশ দ্রুত শিল্পায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাড়ছে কেমিক্যাল জাতীয় নানা দাহ্য পদার্থের ব্যবহার।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের এক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালে সারা দেশে মোট ২৭ হাজার ৬২৪টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। গড়ে প্রতিদিন ৭৭টি আগুন লেগেছে। এসব ঘটনায় সারা দেশে মোট ২৮১ জন আহত এবং ১০২ জন নিহত হয়েছেন। এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ৭৯২ কোটি ৩৬ লাখ ৮২ হাজার ১৪ টাকা মূল্যের সম্পদ।
চলতি বছর জানুয়ারিতে সারা দেশে অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৩৭২টি। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজারটি। গত বছর জানুয়ারিতে অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৬৪৬টি। ফেব্রুয়ারিতে ছিল ২ হাজার ৭১৩টি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৩ সালের চেয়ে চলতি বছর অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা বেড়েছে।
২০২৩ সালে সারা দেশে ৫ হাজার ৩৭৪টি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। এর মধ্যে ৩১ দশমিক ৫২ শতাংশ (১৬৯৪টি) ঝুঁকিপূর্ণ, ৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ (৪২৪টি) অতি ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ মোট ঝুকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ৩৯ দশকি ৪১। আর সন্তোষজনক প্রতিষ্ঠান ৫৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ (৩২৫৬টি)।
চলতি মাসের প্রথম দিন রাজধানীর ডেমরার কোনাপাড়া এলাকার ধার্মিকপাড়ায় একটি গ্যারেজে আগুন লেগে পুড়ে যায় লন্ডন এক্সপ্রেসের ১৪টি বাস। ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষতি হয় কোটি কোটি টাকার সম্পদ। এর দুদিন পর খুলনার রূপসা এলাকার সালমা জুট মিলে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে গতকাল শুক্রবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শিশু হাসপাতালের ৫ম তলার কার্ডিয়াক বিভাগের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট অনেক চেষ্টার পর আগুন নির্বাপণ করে। এ ছাড়া, গত ১২ এপ্রিল সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকার ঝাউচর মোড়ে একটি টিনশেড বস্তিতে আগুন লেগে পুড়ে যায় প্রায় ২০টি ঘর। ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট প্রায় ১ ঘণ্টার চেস্টার পর দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে গত ২৪ মার্চ ভোর থেকে পরদিন বিকেল পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে পাঁচটি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তি, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতার গাউছিয়া কাঁচাবাজার, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার একটি সুপারবোর্ড কারখানা এবং পাবনার সাঁথিয়ার বনগ্রামে দুটি পাটের গুদাম ও একটি তেলের মিলে আগুন লাগে।
এর আগে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বেইলি রোডে গ্রিন কোজি কটেজ নামের বহুতল ভবনে আগুন লাগে। মারা যান ৪৬ জন। ঠিক পরের দিন ১ মার্চ রাতে ওয়ারীর পেশওয়ারাইন রেস্তোরাঁয় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
অতীতেও দেখা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে তপ্ত আবহাওয়ার প্রভাবে ২০২৩ সালে ভোররাতের দিকে বঙ্গবাজার মার্কেট, নিউমার্কেট, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে আগুন লেগে পুড়ে যায়।
ঘস ঘন আগুন লাগার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান দৈনিক বাংলাকে বলেন, আবহাওয়ার কারণে শুষ্ক মৌসুমে আগুন লাগে। এর বাইরে নগরগুলো আমরা এনভাবে সাজিয়েছি, যা মৃত্যুকূপের মতো। ভবনগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। অসংখ্য ইলেক্ট্রিক ও গ্যাস লাইন ঠিক নেই। রেগুলার মেইটেন্যান্স নেই। ঘরে ঘরে ঢুকে যাচ্ছে মানহীন গ্যাস সিলিন্ডার। মেইন্টেন্যান্স নেই, সার্ভিস লাইন ঠিক নেই, মৃতুকূপটা সব জায়গাতেই আছে।
তিনি আরও বলেন, এ বছর বড় বড় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান, শিল্প কারখানায় আগুন লেগেছে। এসব আগুন শুধু মৌসুমি কারণে নরমাল আগুন নাকি এর বাইরে কোনো এলিমেন্ট আছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। অবশ্যই অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়গুলো অত্যন্ত বিশদভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন, রাজউকসহ অন্যান্য সার্ভিস প্রোভাইডার যারা আছে, সবাইকে দেখতে হবে। সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ক্রস চেক করে দেখতে হবে এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কোনো নাশকতা আছে কি না। থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে। কিন্তু এটা দেখা দরকার যে অস্বাভাবিক না স্বাভাবিক। নগর নিরাপত্তা, এটাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই এদিকেও মনোযোগ দেওয়া উচিত।
আগুন লাগার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের গণমাধ্যম কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার বলেন, আগুনের ঘটনা ঘটে মানুষের অসাবধানতার কারণে। দেখা গেছে আগুন লাগার কারণগুলোর মধ্যে কোথাও প্রয়োজনের অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক লোড ব্যবহার করা এবং মানহীন বা নিম্নমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা অন্যতম। এ ছাড়া আমাদের দেশ শিল্পায়নের দিকে যাচ্ছে। উন্নতমানের নান্দনিক সামগ্রী তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে কেমিক্যাল এজেন্ট ব্যবহার বেশি হচ্ছে। এর ফলে অগ্নিঝুঁকি বাড়ছে। এ ছাড়া ঈদের আগে ব্যবসার প্রয়োজনে অতিরিক্ত পণ্য মজুত করা হয়। এতেও রিক্সফ্যাক্টর বেড়ে যায়। ফলে অগ্নিদুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, শীতকাল পার হওয়ার পর বসন্তে বৃষ্টির প্রবণতা শুরু হলেও প্রকৃতিতে একটা পরিবর্তন হয়। আবহাওয়া শুষ্ক হয়ে যায়, টেম্পারেচার (তাপমাত্রা) বাড়ে। গাছের পাতা ঝরে যায়, অনেক সময় জীবন্ত গাছও শুকিয়ে যায়। আর যেসব দাহ্য বস্তু রয়েছে সেসব আরও শুকিয়ে যায়। যেমন আমাদের শরীরেও আবহাওয়ার এই প্রভাব পড়ে, ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। আমরা লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করি।
অপরদিকে শীতকালে আবহাওয়া ঠাণ্ডা থাকে। দাহ্য বস্তুর জ্বলে ওঠার প্রবণতা ভেতরে থাকলেও বাইরে তেমন থাকে না। শীতের পর বৃষ্টি শুরু হলেও টেম্পারেচার বেড়ে যাওয়ায় দাহ্যবস্তু ভেতর থেকে শুকিয়ে থাকে এবং বাইরে টেম্পারেচার বেড়ে যাওয়ার ফলে দাহ্য বস্তুর জ্বলে ওঠার প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে থাকে।
এ জন্য করণীয় কী জানতে চাইলে শাহজাহান শিকদার বলেন, এ জন্য সাবধান ও সতর্ক থাকতে হবে। প্রত্যেককে অগ্নিনিরাপত্তা আইন মেনে চলতে হবে। অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থা্পন করতে হবে। যথাযথভাবে বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মূলত ৪টি ধাপে ভবনকে নিরাপদ করতে হবে। প্রথমত, ভবন নির্মাণের সময় বিএমডিসি এবং ফায়ার সেপটি প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম স্থাপন করতে হবে। তৃতীয়ত, এসব ব্যবস্থা গ্রহণের পর সেগুলো ব্যবহার করার জন্য উপযুক্ত জনবল থাকতে হবে। এ জন্য ভবনের ১৮ শতাংশ লোককে প্রশিক্ষিত করতে হবে ফায়ার সার্ভিস থেকে। আর চতুর্থটি হলো, মাঝে মাঝে এসব প্রশিক্ষণের মহড়া করতে হবে। কিন্তু সে অনুযায়ী অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেউ মনোযোগী না, কম্পলায়েন্স ইস্যুতে মনোযোগী না।
অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সরঞ্জাম বিষয়ে এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম শুধু ফায়ার এক্সটিংগুইশার বুঝায় না। যে ভবনে যে ধরনোর রিক্সফ্যাক্টর থাকবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। যেমন একটি ভবনে ২টি সিঁড়ি প্রয়োজন হলে তা রাখতে হবে। কোনো ভবনে স্প্রিঙ্কলার (কক্ষের সিলিংয়ে লাগানো স্বয়ংক্রিয় পানি ছিটানোর যন্ত্র), কোনো ভবনে হোজরিল (প্রতি তলায় সুবিধাজনক স্থানে পানি সরবরাহ কলের সঙ্গে যুক্ত লম্বা নল) স্থাপন করতে হবে। যেখানে হাইড্রেন্ট সিস্টেম প্রয়োজন, সেখানে হাইড্রেন্ট সিসটেম স্থাপন করতে হবে। তা হলেই আমরা নিরাপদ থাকতে পারব বলে আমি মনে করি।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম দফার ১৮০ দিনের কর্মসূচিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। এ সময়ে নেওয়া ৩৫টি কার্যক্রমের অধিকাংশই শতভাগ বাস্তবায়ন করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়নের হার ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ। গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘জাল যার, জলা তার’ নীতি বাস্তবায়নে জলমহাল, উপকূলীয় খাল ও হাওরের ইজারা বাতিলের উদ্যোগের পাশাপাশি ২০০ মৎস্যজীবী সংগঠনের নিবন্ধন ও হালনাগাদ করা হয়েছে। তৈরি করা হয়েছে ২৭ হাজার ৯৬৯টি জলমহালের তালিকা। মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধকাল এবং ইলিশ জেলেদের ৫৮ দিনের সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময়ে শতভাগ জেলের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। কাপ্তাই লেকের জেলেদের খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, সবজি বাগান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় অর্থায়ন করা হয়েছে।
নিরাপদ মৎস্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে তিন শতাধিক মৎস্য খাদ্য কারখানা পরিদর্শন, ২৫০টি খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছে। ন্যাশনাল রেজিডিউ কন্ট্রোল প্ল্যানের আওতায় সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছে আরও ৬০টি নমুনা। বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পাঙাশের জন্য স্বল্পমূল্যের খাদ্য তৈরির ফর্মুলাও উদ্ভাবন করা হয়েছে। ৬০টি পশুখাদ্য ফিডমিল পরিদর্শনের পাশাপাশি তিন শতাধিক নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছে।
সরকারি হ্যাচারিগুলোতে ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরিতে ১১৪টি পরিকল্পনা নেওয়া ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। উপকূলের লবণাক্ততা ও খরাপ্রবণ এলাকায় কৈ, শিং, পাবদা ও পাঙাশ চাষে স্থাপন করা হয়েছে ১০০টি খামার। উদ্ভাবন করা হয়েছে পাঙাশের টিকাও। চিংড়ি উৎপাদন, ভ্যালু এডিশন ও বাজার সম্প্রসারণে গলদা ও বাগদা চিংড়ি নিয়ে একটি সমীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত চাষি ও খামারিদের সুরক্ষায় মৎস্য খাতে তিনটি পাইলটিং স্কিম এবং প্রাণিসম্পদ খাতে ৩ হাজার ৬০০ প্রাণীকে বীমার আওতায় আনা হয়েছে।
গভীর সমুদ্রে নতুন দৃষ্টি :
ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গভীর সমুদ্রে টুনা ও সমজাতীয় পেলাজিক মাছ আহরণে দুটি লং-লাইনার টুনা ভেসেল ভাড়া নেওয়া হয়েছে। গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণের জন্য পাঁচটিসহ মোট সাতটি জাহাজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কুয়াকাটা ও সলিমপুরকে সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৫টি সি-উইড চাষ প্রদর্শনী, ২৪টি সি-উইড ড্রাইং র্যাক বিতরণ এবং ১০০ জন চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মাছের উৎপাদন বাড়াতে ২২০ দশমিক ২৪ মেট্রিক টন পোনা অবমুক্ত, ৪০০টি বিল নার্সারি ও ৪৫টি অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ খাতে মাঠপর্যায়ে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সরবরাহ করা হয়েছে ১৮ কোটি ডোজ টিকা। জারি হয়েছে জাতীয় পোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালা ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন। উন্নত জাতের ২২ লাখ ডোজ সিমেন সরবরাহের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের মধ্যে ২০ হাজার ছাগল-ভেড়া এবং ৬০ হাজার হাঁস-মুরগি বিতরণ করা হয়েছে। ৪ হাজার ৯৪১টি শূন্যপদের বিপরীতে ১১-২০ গ্রেডে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৪৮৩ জনকে।
বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি দাম কমানো। উৎপাদন বাড়লেই সবার কাছে মাছ-মাংস পৌঁছাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। উৎপাদন খরচ কমাতে প্রয়োজনে কৃষির মতো ফিডেও ভর্তুকি দেওয়া দরকার।
১৮০ দিনের কার্যক্রমকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় ভালোভাবেই কর্মসূচি শেষ করেছে। এ সাফল্য ধরে রেখে বাকি কাজগুলোতে মনোযোগ দিতে হবে। মাছ চাষি ও খামারিদের স্বল্প সুদে ঋণ, উন্নত বাজারব্যবস্থা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে অভিজ্ঞদের নিয়ে কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন রিয়ার এডমিরাল মোঃ মঈনুল হাসান। বৃহস্পতিবার বাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি বিদায়ী মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মোঃ জিয়াউল হকের স্থলাভিষিক্ত হন। আনুষ্ঠানিক নথিতে স্বাক্ষরের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, যেখানে কোস্ট গার্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাহিনীর জনসংযোগ শাখা থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য সামরিক জীবনের অধিকারী রিয়ার এডমিরাল মোঃ মঈনুল হাসান ১৯৮৯ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন এবং ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তিনি মিরপুর ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি), ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি), ভারতের ওয়েলিংটন ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডে অবস্থিত নেভাল ওয়ার কলেজ থেকে নেভাল কমান্ড কোর্স সম্পন্ন করেন। শিক্ষাজীবনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিফেন্স স্টাডিজে ও ভারতের তামিলনাড়ু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) থেকে সিনিয়র স্টাফ কোর্স শেষ করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এ পিএইচডি গবেষণায় রত আছেন।
দক্ষ নেভিগেটর হিসেবে নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল ও স্টাফ পদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন এই কর্মকর্তা। তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল এবং কমান্ডার বাংলাদেশ নেভাল ফ্লিট হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। এ ছাড়া তিনি নেভি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের প্রথম কমান্ড্যান্ট এবং কমোডর নেভাল এভিয়েশনের মতো শীর্ষ পদে ছিলেন। সমুদ্রগামী জাহাজের অধিনায়ক হিসেবে তিনি একটি করভেট, দুটি অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল, তিনটি ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট এবং একটি মিসাইল বোট পরিচালনা করেন। একইসঙ্গে তিনি ফ্লাইং উইংয়ের অধিনায়ক, নৌবাহিনীর নেভিগেশন স্কুলের প্রশিক্ষক এবং ডিএসসিএসসির নেভাল উইংয়ে ডাইরেক্টিং স্টাফ হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন।
নৌ সদর দপ্তরে পরিকল্পনা পরিচালক, এভিয়েশন পরিচালক ও নেভাল সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ইতিপূর্বেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের উপমহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তিনি আইভরি কোস্টে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সামরিক পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সামরিক মহড়া ও সেমিনারে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। পেশাগত অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ শান্তিকালীন ‘নৌবাহিনী পদক’ (এনবিপি), ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’ (বিএসপি) এবং ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক’ (বিসিজিএম) অর্জন করেন। তাঁর গতিশীল নেতৃত্বে কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের মাধ্যমে দেশের সমুদ্রসীমা, উপকূল ও নদী অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে সংসদ নেতার অনুমতিক্রমে তাঁর পক্ষে সরকারি দলের চিফ হুইপ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম মনি (বরগুনা-২) এই কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পুনর্গঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম মনিকে। দশ সদস্যের এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে স্থান পেয়েছেন শরিয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দীন আহমেদ অপু, দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ তাহসিনা রুশদি, ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কায়সার আহমেদ, নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. নাজিবুর রহমান এবং ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামাল হোসেন।
সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ২৪০, ২৪৭ ও ২৪৮ বিধিতে উল্লিখিত বিধান অনুযায়ী কমিটির নিয়োগ, অভ্যন্তরীণ গঠনকাঠামো, কর্মপরিধি ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে উল্লিখিত আইনপ্রণেতাদের সমন্বয়ে এই স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন সম্পন্ন হয়।
জাতীয় সংসদ সদস্যদের মুঠোফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আইডি হ্যাকিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে কণ্ঠস্বর নকল (ভয়েস ক্লোনিং) এবং স্বাক্ষর জাল করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই স্পর্শকাতর সাইবার অপরাধের বিষয়টি তুলে ধরেন এবং এ ধরনের প্রতারণা প্রতিরোধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করে চিফ হুইপ জানান, সংসদ সদস্যদের ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বর বেআইনিভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সহকর্মী অন্য সদস্যদের নিকট জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে ২৫ হাজার, ৩০ হাজার এমনকি ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, আধুনিক এআই প্রযুক্তির অপপ্রয়োগের মাধ্যমে কারও কারও কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করা হচ্ছে এবং জাল স্বাক্ষরযুক্ত ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের অপচেষ্টা চলছে। সরকারি ও বিরোধী উভয় দলের একাধিক সংসদ সদস্য ইতিমধ্যে এই পরিকল্পিত সাইবার প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে তিনি অবহিত করেন।
আলোচনার একপর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল আইনপ্রণেতাদের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও প্রযুক্তিগত প্রতিরোধ জোরদারে নির্বাহী বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতার বিষয়টি সামনে আনেন। এর প্রেক্ষিতে চিফ হুইপ নিশ্চিত করেন যে, সংঘটিত জালিয়াতি প্রতিরোধ ও শনাক্তকরণে বিটিআরসি প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এ ছাড়া সংসদ ভবনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুসংহত করার প্রসঙ্গে চিফ হুইপ উল্লেখ করেন, ভবনের প্রতিটি লবিতে অত্যাধুনিক ফেস রিডিং যন্ত্র স্থাপন করা সত্ত্বেও অনেক সদস্য তা ব্যবহার এড়িয়ে যাচ্ছেন। সংসদের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের স্বার্থে ভবনে প্রবেশের সময় তিনি সকল সংসদ সদস্যকে এই ফেস রিডিং ডিভাইস ব্যবহারের অনুরোধ জানান।
পাবনা-২ (সাঁথিয়া) আসনে সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেছেন, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিলের মূল কাঠামোতে কোথাও পরিবর্তন আনা হয়নি। এর প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির ব্যবস্থা ঠিকমতো না রেখে শুধু ‘পুরোনো বোতলে নতুন মদ’ করলে উদ্দেশ্য পূরণ হবে না।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ এর ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, ২০১৪ সালের মে মাসে নারায়ণগঞ্জে যে ন্যক্কারজনক সাত খুনের ঘটনা ঘটলো, সে ঘটনার পরে র্যাব স্কোয়াডকে কিলিং স্কোয়াড আখ্যায়িত করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। সে সময় তিনি র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানান। সংস্কার নয়, সরাসরি বাহিনীর বিলুপ্তির দাবি করেছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে দেশনেত্রী র্যাবকে ক্যানসার আখ্যায়িত করেছিলেন। তখনো তিনি র্যাব বিলুপ্তির দাবি করেন।
তিনি বলেন, এখানে আমরা কী দেখছি? র্যাবের জনবল, কার্যালয়, ক্ষমতা, নথিপত্র, সম্পদ, চুক্তি, দায়-দায়িত্ব সরাসরি এসআরবি নামের নতুন বাহিনীর কাছে চলে যাবে। অর্থাৎ শুধু সাইনবোর্ডটাই পরিবর্তন হচ্ছে। নতুন বোতলে পুরোনো মদ। র্যাবের নাম ছাড়া আর কোনো কিছুই পরিবর্তন হচ্ছে না, সব ঠিক থাকছে।
এ সংসদ সদস্য বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পুলিশ সংস্কার কমিশনের কাছে র্যাব বিলুপ্তির আনুষ্ঠানিক সুপারিশ করে বিএনপি। এই সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিলেন। রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি জাতিসংঘ, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও গুম কমিশনও র্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল।
বিগত সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতার সমালোচনা করে জাতীয় সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের লোকদেখানো পদক্ষেপের কারণে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান আরও বিলম্বিত ও জটিল আকার ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের টেকসই ও নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘সরকার দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক—সব পর্যায়ে দৃঢ় কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে এই সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধানে কাজ করছে। এই সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারের এবং এর টেকসই সমাধানও নিহিত রয়েছে মিয়ানমারেই। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য—নিজ ভূমিতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসই প্রত্যাবাসন। এ লক্ষ্যে সকল পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা হবে।’ মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটকে বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে আমরা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছি। বন্ধুরাষ্ট্র, দাতা দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।’ তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলার জন্য পৃথক কমিটি কাজ করছে। পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত হতে যাওয়া একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আশা করছি, ওই ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী প্রধান বক্তা হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট ও প্রত্যাবাসনের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন সুসংহত হবে।’
সীমান্তে পুশ ইন ইস্যুতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নেওয়াজ হালিমা আরলীর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, ‘সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশ ইন বা পুশ ইনের প্রচেষ্টাকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশের গভীর উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমাদের সরকার দৃঢ়তার সঙ্গে সীমান্তে পুশ ইন রোধে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছে।’ একই সময়ে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুল খালেকের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, সমমর্যাদার নীতির ওপর ভিত্তি করে ভারতের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা, সীমান্তবাসীর জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং বৈধ বাণিজ্য প্রসারে সরকার দ্বিপক্ষীয় তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
সংসদীয় প্রশ্নোত্তর পর্বে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, অতীতে মিশনগুলোর কার্যক্রমে শিথিলতা থাকলেও বর্তমান সরকার দূতাবাসগুলোকে কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় এনেছে। জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলকে তিনি অবহিত করেন, বর্তমানে বিশ্বের ৬৩টি রাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট ৮৬টি কূটনৈতিক মিশন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার বিষয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, ২০৩০-৩১ অর্থবছরের মধ্যে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সামগ্রিক বিনিয়োগ ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিদেশি মিশনগুলো সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক রোডম্যাপ নিয়ে মাঠে নেমেছে।
এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দীনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাশিয়ার কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কার্যক্রম চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু হতে পারে। একই সঙ্গে পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ প্রয়োগ ও ভবিষ্যৎ জ্বালানি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর) প্রযুক্তি স্থাপনের সম্ভাব্যতা নিয়ে আগ্রহী দেশগুলোর সঙ্গে প্রাথমিক স্তরের যোগাযোগ চলছে, যা এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেনি।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে নতুন একটি বিশেষায়িত এলিট ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কণ্ঠভোটে এই বিলটি গৃহীত হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা সংখ্যাগরিষ্ঠের কণ্ঠভোটে পাস হয়।
সংসদে বিলটির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সময়ের চাহিদা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা কাঠামোর আধুনিকায়ন অপরিহার্য। তিনি বলেন, ‘একটি সংস্থা গঠনের সঙ্গে আরেকটি বিলুপ্তির সম্পর্ক নেই। নতুন বাহিনীটা আমরা এ কারণে করছি যে, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধীনে র্যাব গঠন করা হয়েছিল। সেই আইনটি পূর্ণাঙ্গ ছিল না। একটা সেকশনের অধীনে ইউনিটটি কাজ করছিল।’ তিনি আরও যুক্ত করেন, ‘সেজন্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন থেকে আমরা এটা বের করে নিয়ে এসে বিলুপ্ত করতে চাই। একইসঙ্গে এই আইনে ইংরেজিতে কিছু অস্পষ্টতা ছিল, সেই আইনটাও আমরা অনুবাদ করে নতুন আইন হিসেবে নিয়ে আসছি,’।
পাস হওয়া আইনের বিধান অনুযায়ী, নবগঠিত এসআরবি পুলিশ অধিদপ্তরের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে কাজ করবে। পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এই ইউনিটের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ কর্মকর্তা, শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং নির্ধারিত সশস্ত্র জনবলের সমন্বয়ে প্রেষণ ও সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হবে। নিজস্ব প্রতীক, পোশাক ও পতাকাসমৃদ্ধ এই ইউনিটকে ফৌজদারি অপরাধ তদন্ত, অভিযান পরিচালনা, তল্লাশি, গ্রেপ্তার ও আলামত জব্দের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি এই বাহিনীর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণাধীন হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র থাকবে। সাধারণ নাগরিক ও বাহিনীর অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিভিন্ন পক্ষের সমন্বয়ে একটি পৃথক অভিযোগ নিষ্পত্তি কমিটি গঠিত হবে।
সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনের লক্ষ্যে ২০০১-০৬ মেয়াদে এলিট ফোর্স গঠনের উদ্যোগের পর ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে একই বছরের ২১ জুন থেকে র্যাব আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছিল। ২০০৩ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধন) আইনের ওপর ভিত্তি করে এতদিন পরিচালিত হয়ে এলেও বিগত দুই দশকে নানা সময়ে বাহিনীটির বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। সমালোচক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে 'সরকারি ডেথ স্কোয়াড' হিসেবেও অভিহিত করতে থাকে। নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন ও কক্সবাজারের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যুর মতো ঘটনায় বাহিনীটির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়। মানবাধিকার হরণের প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করা র্যাবের শীর্ষ ছয় কর্মকর্তার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাহিনীটি সংস্কার বা বিলুপ্তির দাবি আরও জোরালো রূপ নেয়। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের গুম তদন্ত কমিশনের কাছে র্যাবের বিরুদ্ধেই দেশের অন্যান্য বাহিনীর তুলনায় সর্বোচ্চ ১৭২টি অভিযোগ জমা পড়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ৩ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। তিনি জানান, নতুন এই সংস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির যাচাই-বাছাই ও সংশোধিত সুপারিশ শেষে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ সংসদে পাস হলো। একই সঙ্গে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল-২০২৬ বিলটিও ইতোমধ্যে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-কে প্রভাব-প্রতিপত্তি বিবেচনা না করে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিবাজ যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’
আজ বঙ্গভবনে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম ব্রিফিংকালে বাসসকে এই তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে দুদক চেয়ারম্যান কমিশনের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান বিভিন্ন উদ্যোগ এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করার পাশাপাশি দুর্নীতি দমনে কমিশনের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘদিনের অপশাসন, অনিয়ম ও জবাবদিহিতার অভাবে দুর্নীতি বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন ও নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভর করছে জাতির অগ্রগতি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। দুদককে সততা ও সাহসের সঙ্গে দুর্নীতি দমনে কাজ করে যেতে হবে।
রাষ্ট্রপতি দীর্ঘদিনের বিপুল সংখ্যক বিচারাধীন মামলাগুলো আইনগতভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি ও দীর্ঘসূত্রিতা কমানোর জন্য দুদকের প্রতি আহ্বান জানান। এসময় তিনি গুরুতর দুর্নীতির ব্যাপারে দ্রুত অনুসন্ধান ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
তিনি দুর্নীতিবিরোধী মূল্যবোধ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং কমিশনকে তার সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন কমিশনার (তদন্ত) ড. জাহাঙ্গীর আলম খান, কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মো.সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া এবং সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
প্রধানমন্ত্রী পদবির আগে সম্মানসূচক ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার না করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিজের দপ্তর থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি নিজেই দিচ্ছেন ডিজিটাল হাজিরা।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সব ধরনের নথি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে তাঁর পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকালে সচিবালয়ে অফিস করেন। নিজের দপ্তরে প্রবেশের আগে তিনি ডিজিটাল হাজির দেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
গতকাল বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই নির্দেশনা কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়েই তা বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। তাঁর কাছে উপস্থাপন করা ফাইল ও অন্যান্য সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ধারাবাহিক ইতিবাচক উদ্যোগের অংশ। এর মাধ্যমে পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের চেয়ে দায়িত্ব, জনসেবা এবং দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে সামনে আনার বার্তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।
একই সাথে দাপ্তরিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও ডিজিটাল হাজিরার প্রথা প্রবর্তন করে নজির তৈরির চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী। কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো প্রধানমন্ত্রীও নিয়মিত ডিজিটাল হাজিরা দিচ্ছেন। দিনের কাজ শেষে কার্যালয় ছাড়ার সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে বের হওয়ার হাজিরা দিয়ে অফিস ত্যাগ করছেন।
সরকার প্রধান হয়ে দাপ্তরিক নিয়ম নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ম মেনে চলার বার্তা দিতে দিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রশাসনে সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ। রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিই যখন সাধারণ দাপ্তরিক নিয়ম মেনে চলেন, তখন প্রশাসনের অন্যদের কাছেও একই নিয়ম অনুসরণের প্রত্যাশা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন বাসসকে বলেন, সরকারি চিঠিপত্রের সম্বোধনের আগে রাষ্ট্রপতির নামের আগে মহামান্য এবং প্রধানমন্ত্রীর নামের আগে মাননীয় লেখা যাবে না মর্মে গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিভাগ থেকে যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে, ইতোমধ্যেই আমরা তা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সবগুলো মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং ইউএনওদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। আজকে থেকেই এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামীতে সরকারি পত্রালাপ বা গুরুত্বপূর্ণ নথিতে এই পরিপত্রের ব্যত্যয় ঘটানো যাবেনা মর্মে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই অতিরিক্ত সচিব আরও বলেন, আমরা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই পরিপত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমস্ত প্রশাসনে জানিয়ে দিয়েছি। আশা করি, সকলেই যার যার অবস্থান থেকে পরিপত্র যথাযথ অনুসরণ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমাতেও ইতোমধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় তাঁর ছবি ব্যবহার না করা, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং তাঁর চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো উদ্যোগ এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী দেশে ও দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার করছেন না। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এমন একটি বার্তা দিচ্ছে যে, রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা বা বিশেষ সম্বোধনের পরিবর্তে নিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি অধিশাখার যুগ্ম সচিব তানভীর আহমেদ বাসসকে বলেন, সার্কুলারটি ইতোমধ্যে মাঠ প্রশাসনের সমস্ত জায়গায় পৌঁছে গেছে। আজ আমরা দুয়েকটি চিঠিপত্র পেয়েছি, সেখানে পরিপত্রের বাস্তবায়ন লক্ষ্য করা গেছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির আগে মহামান্য এবং প্রধানমন্ত্রীর আগে মাননীয় শব্দটি পরিহার করার জন্য মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে যে পরিপত্র জারি করা হয়েছে, সেটি আজ বৃহস্পতিবার থেকেই পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। কোনো অফিস থেকে এর ব্যত্যয় লক্ষ্য করা গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: বাসস
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশৃঙ্খলা থামিয়ে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করা এবং জনপরিসরে নৈতিক অবক্ষয়মূলক কনটেন্ট প্রতিরোধ করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান।
তিনি বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই মুক্তচিন্তা, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা বা সাংবাদিকদের দমনের উদ্দেশে কোনো আইন করা হচ্ছে না।’
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টসহ বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে সংবাদ মাধ্যমকে দমিয়ে রাখা হতো। গণমাধ্যমের ওপর অপব্যবহারের যে প্রবণতা ছিল, বর্তমান সরকার সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক। খসড়া আইনে যেন এমন কোনো দ্ব্যর্থবোধক (ডুয়াল মিনিং) শব্দ না থাকে, যা আগামীতে গণমাধ্যমের ওপর অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে, সে জন্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে খসড়া পরিমার্জন করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাকস্বাধীনতার নামে বিভিন্ন অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে যে অশালীন গালিগালাজ, সাইবার বুলিং ও কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ ও নীতি-নৈতিকতাকে বিনষ্ট করছে। আমাদের প্রধান কাজ হলো এই সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা এবং সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা। এই দুটো বিষয়কে কোনো ধরনের সংঘাত ছাড়া কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা নিয়ে অংশীজনদের সাথে আলোচনা চলছে।’
আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, কেবল কঠিন আইন করে সব অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। সাইবার স্পেসে সত্যতা যাচাই না করে যেকোনো মানহানিকর তথ্য বা পোস্ট শেয়ার দেওয়াও যে অপরাধের আওতায় পড়ে, সে বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
এর আগে সকালে কন্সালটেশন সভার সূচনা বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, সাইবার সুরক্ষা সংশোধন আইন চূড়ান্ত করার আগে তথ্য প্রকাশ, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং মতামত প্রকাশের সুরক্ষার স্বার্থে গণমাধ্যমের সাথে সরাসরি সংলাপ ও মতামত নেওয়া অপরিহার্য। এজন্যই আমরা গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করছি।
তিনি বলেন, ‘আপনারাই সবচেয়ে ভালো জানেন একটি আইনের ভাষা মাঠপর্যায়ে কীভাবে কাজ করে এবং কোথায় অস্পষ্টতা তৈরি হতে পারে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সাইবার সুরক্ষা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা- এই দুটি লক্ষ্য পরস্পরবিরোধী নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক হওয়া উচিত।’
গণমাধ্যম সম্পাদকদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এই আইন সংশোধন করছি না। প্রিন্ট মিডিয়ার এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। আইনের কোথায় অস্পষ্টতা বা জটিলতা আছে, আপনারা মুক্তমনে পরামর্শ দিন। আমরা তা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করব।’
কন্সালটেশন সভায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাইবার সিকিউরিটি আইনের সংশোধন প্রয়োজন। আইনটি যেন অপব্যবহার না হয় সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।
মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী সাইবার অপরাধের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অনেক দেশে মোট অপরাধের ৪৪ শতাংশই এখন সাইবার স্পেসে সংঘটিত হচ্ছে। বাংলাদেশেও অনলাইন জালিয়াতি, সেক্সটোরশন, নারীদের ব্ল্যাকমেইলিং এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের মতো অপরাধ প্রতিরোধে একটি যুগোপযোগী আইনের বিকল্প নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন, অংশীজনদের সাথে মতবিনিময় করে যেন আইনটি পরিমার্জন করা হয়, যাতে এর কোনো অপব্যবহার বা বিতর্ক সৃষ্টি না হয়।’
সভায় অংশ নিয়ে আরও বক্তব্য রাখেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা।
কন্সালটেশন সভায় মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে প্রণীত নিপীড়নমূলক আইনের বিতর্কিত ধারাগুলো বাতিল ও সংশোধন করে বর্তমান সরকার যে সাইবার সুরক্ষা আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে, তা একটি ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক অগ্রগতি। মিথ্যা অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান রাখা এবং জামিন অযোগ্য ধারাগুলো বাদ দেওয়া প্রশংসনীয়।
কাদের গনি চৌধুরী আরও বলেন, ‘বাকস্বাধীনতার নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসভ্যতা, ভুয়া আইডি দিয়ে নারী, শিশু এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনলাইন হয়রানি কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হতে পারে না। এসব প্রশ্রয় দিলে সামাজিক নোংরামি বাড়বে এবং সভ্যতা কলঙ্কিত হবে। তবে আইনের পাশাপাশি সরকারের কোনো সংস্থা যদি নাগরিকদের সাইবার অধিকার লঙ্ঘন করে, তবে তাদের জবাবদিহিতার বিধানও আইনে স্পষ্টভাবে থাকা প্রয়োজন।’
মুক্ত আলোচনায় ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ কন্সালটেশন সভা আরও পর্যাপ্ত সময় দিয়ে আয়োজনের তাগিদ দেন।
তিনি প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি আইনের প্রয়োগ এবং সাজা বাড়ানের চেয়ে অপব্যবহার রোধের কার্যকর মেকানিজম তৈরির প্রতি জোর দেন। একইসাথে, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সরাসরি শাস্তির এখতিয়ার দেওয়ার ক্ষেত্রে যেন আইনের অপপ্রয়োগ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এছাড়া কন্সালটেশন সভায় আরও অংশ নেন অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সদস্য মারুফ কামাল খান সোহেল, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, দৈনিক ওয়াদা সম্পাদক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, দৈনিক নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের সদস্য সচিব জোবায়ের বাবু, বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি এম. আবদুল্লাহ, সাবেক মহাসচিব এম. এ. আজিজ, দৈনিক আমার দেশের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী ও জেষ্ঠ্য সাংবাদিক শাহীন চৌধুরীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সম্পাদকবৃন্দ এবং শিক্ষাবিদেরা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা।
সভায় সাইবার সুরক্ষা (সংশোধিত) আইন, ২০২৬-এর খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করেন জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমান।
আগামী সপ্তাহে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেছেন, যে প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাতে সন্তুষ্ট নয় ঢাকা। তবে ভারতে সরকারপ্রধানের দ্বিপাক্ষিক সফর হতে পারে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির।
আজ (বৃহস্পতিবার) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
হুমায়ুন কবির বলেন, কীভাবে যাবে? বাংলাদেশ সরকারের কাউকে কি আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
দিল্লি সফরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বহুপক্ষীয় ফোরামে অংশগ্রহণের চাইতে দ্বিপাক্ষিক সফরে জোর দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা দ্বিপাক্ষিক সফর ও আলোচনার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছি। যখন পরিবেশ অনুকূল হবে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় থাকবে, তখন দ্বিপাক্ষিক সফর হবে। এখানে তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই।
আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অংশগ্রহণের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে ওই আমন্ত্রণপত্রে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ না করে শুধুমাত্র বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়, যা ভালোভাবে নেয়নি ঢাকা।
গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়ন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতীয় স্বার্থ যেখানেই জড়িত, সেখানেই আমরা গুরুত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করব। আনন্দবাজার পত্রিকা যাই বলুক না কেন, আমি আমার দেশের স্বার্থ ও আনন্দের কথা ভাবব।
বাণিজ্য ইস্যুতে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাণিজ্য নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলাপ-আলোচনা চলছে। তবে এই মুহূর্তে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা নতুন আপডেট দেওয়ার মতো কিছু নেই।
রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান নিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, এই ধরনের জটিল বিষয়ে তো হুট করে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া যায় না। ধৈর্য ধরতে হবে, তবে কূটনৈতিক তৎপরতা দ্রুত গতিতে চালাতে হবে। আমরা আগামীকালই এটা সমাধান করে ফেলব—এমন দাবি হয়তো করা যাবে না, তবে আমরা আশাবাদী যে দ্রুতই একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে আমরা এগিয়ে যেতে পারব।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। বুধবার পদত্যাগপত্র দিয়েছেন তিনি। ওই পদত্যাগপত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।
জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে বাংলাদেশ ও ডব্লিউএইচওর তদন্তের মধ্যে থাকা অবস্থায় পদত্যাগ করলেন সায়মা ওয়াজেদ। তিনি গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে।
২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন সায়মা ওয়াজেদ। তবে গত বছরের শেষ দিকে তাঁকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায় সংস্থাটি। এর আগে ওই বছরের মার্চে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীরা জানান, ডব্লিউএইচও তাঁর বিরুদ্ধে চীন সফরের ক্ষেত্রে আর্থিক জালিয়াতি এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে। সায়মা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুসের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে সায়মা আরও জানান,বাংলাদেশে একটি জমির প্লট অবৈধভাবে অধিগ্রহণের অভিযোগ করেছে ডব্লিউএইচও। তাঁর দাবি, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অর্জন করেন এবং শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য আইনের আওতায় তিনি এর বৈধ মালিকানা পেয়েছেন।
পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলোর সেবা করার লক্ষ্যেই তিনি আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তাঁকে দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালনে ক্রমাগত বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তাঁকে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানোর কারণে প্রায় এক বছর ধরে কোনো পারিশ্রমিক পাননি। এতে তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাসও নষ্ট হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে, এর আগে দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ডব্লিউএইচও। সূত্রগুলো জানায়, আগামী ১২ অক্টোবর এ পদের জন্য মনোনয়ন আহ্বান করা হতে পারে। ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন হতে পারে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের অধীনে বাংলাদেশ ও ভারতসহ এ অঞ্চলের দেশগুলো রয়েছে। আঞ্চলিক পরিচালকরা বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব ও জরুরি পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচওর কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থার নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
জুলাইয়ের চিঠিতে সায়মা তাঁর বিরুদ্ধে ভ্রমণ-সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগও অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, ৯০১ ডলারের একটি অর্থ ফেরত পাওয়ার আবেদন প্রক্রিয়ায় তাঁর এক সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি তৈরি হয়েছে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছেন এবং ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোসের কাছে এ যোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট করেছিলেন।
সায়মা ওয়াজেদ এ বিষয়ে রয়টার্সকে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। মন্তব্যের অনুরোধে ডব্লিউএইচওও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি। গত মাসে সংস্থাটি জানিয়েছিল, সায়মা ছুটিতে রয়েছেন; তবে গোপনীয়তার কারণে তাঁর বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করবে না।
দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’সহ কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির পূর্বে সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে যথাক্রমে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এর অধীন সব দপ্তরের দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ প্রেরণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নির্দেশনাটি অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত পরিপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব ও সচিব, সব বিভাগীয় কমিশনার, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তা, সব জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
পরিপত্রে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সচিব ও সচিবদের তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সরকারের দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে অভিন্ন রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।